১০ বছরে ঐতিহাসিক পরিবর্তন’, ভারতের মেরিটাইম কনক্লেভে আশাবাদী মোদী
ভারতের মেরিটাইম সেক্টরে কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার আনা হয়েছে, তা এদিন বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের যে কোনও সমুদ্রতটে গেলেই ভারতের জাহাজ দেখতে পাবেন। ভারত আজ স্থানীয় স্তরে সাপ্লাই চেন আরও পোক্ত করতে চায়। বিশ্বমানের বন্দর তৈরি করা হচ্ছে ভারতে।"
ভারতের মেরিটাইম সেক্টর যে কতটা উন্নয়নশীল, সে কথাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পুরনো আইন সরিয়ে আধুনিক মেরিটাইম আইন কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে মেরিটাইম বোর্ডের খুব সুবিধা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদেরও ভরসা বেড়েছে। মোদী আরও উল্লেখ করেন, “ভারতের দীর্ঘ কোস্ট লাইনে ব্যাপক উন্নতি হবে। মেরিটাইম সেক্টরে গত ১০ বছরে যে পরিবর্তন এসেছে, তা ঐতিহাসিক।” ১৫০-র বেশি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রুজ ট্যুরিজমে নতুন গতি আনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের এই উদ্যোগে সামিল হয়েছিল বিশ্বের ৮৫টি দেশ। প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তাই এই অনুষ্ঠানকে আদতেই বিশ্বমানের বলে মনে করেছেন মোদী। তাঁর কথায়, এই অনুষ্ঠান পুরো বিশ্বের কাছে এক বার্তা পৌঁছে দেবে।
ভারতের মেরিটাইম সেক্টরে কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার আনা হয়েছে, তা এদিন বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের যে কোনও সমুদ্রতটে গেলেই ভারতের জাহাজ দেখতে পাবেন। ভারত আজ স্থানীয় স্তরে সাপ্লাই চেন আরও পোক্ত করতে চায়। বিশ্বমানের বন্দর তৈরি করা হচ্ছে ভারতে।”
গ্লোবাল মেরিটাইম সিইও ফোরামে উপস্থিত ছিলেন একাধিক গ্লোবাল মেরিটাইম সিইও, বিনিয়োগকারী, পলিসিমেকার, ইনোভেটর ও ইন্টারন্যাশনাল পার্টনাররা।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ওই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কথা আগামী ৩১ অক্টোবর। গ্লোবাল মেরিটাইম হাবের পথে ভারত যেভাবে এগোচ্ছে এদিন সেই বর্ণনাও দিয়েছেন মোদী।
জাস্টিস ফর প্রদীপ কর’, আগরপাড়ায় গিয়ে সুর চড়ালেন অভিষেক
এলাকাবাসীকে অভয় বার্তা দেন অভিষেক। এক জন ভোটারের নামও বাদ গেলে, এক লক্ষ ভোটার নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করার ডাক দেন তিনি। কলোনি এলাকার বাসিন্দাদেরও নিশ্চিন্তে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
উত্তর ২৪ পরগনা: ‘সারা বাংলায় একটাই স্বর, জাস্টিস ফর প্রদীপ কর’, আগরপাড়ায় মৃত প্রদীপ করের বাড়িতে গিয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক
সামাজিক মাধ্যমে নিজের ডিপিও বদল করেছেন অভিষেক। প্রদীপ করের মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন দায়ী বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বঙ্গবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন, “SIR শুরুর পর থেকে আমি রাস্তায় থাকব, আপনারা ভয় পাবেন না।” প্রদীপের মৃত্যুর পরও কেন বিজেপির কেউ তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন না, সে প্রশ্নও তোলেন।
অভিষেক এদিন দুপুর তিনটে নাগাদ প্রদীপ করের বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর সামনে এসে খোলা মঞ্চে এলাকাবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। অভিষেক বলেন, “খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। গত পরশু জাতীয় নির্বাচন কমিশন SIR ঘোষণা করেছে। আর তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই খবর পাই। SIR এর ভয়ে নিজেই নিজের প্রাণ নিয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। একটা প্রাণ চলে গেলে তো কেউ ফিরিয়ে আনতে পারে না।”
প্রদীপ কর অবিবাহিত। বাড়ির পাশেই একটা দোকান চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। ভাইয়েরও ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি হয়েছে। অভিষেক বলেন, “পরিবারের লোকেদের কাছ থেকে শুনেছিল, তিনি দানধ্যান করতেন, এলাকার তাঁর পরিচিত রয়েছে। নিপাট ভদ্রলোক। প্রদীপবাবুর পরিবার এই এলাকায় ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছেন। এই বাড়িতে হয়তো কিছুদিন এসেছেন। তার আগে এখানেই অন্য বাড়িতে থাকতেন।”
এলাকাবাসীকে অভয় বার্তা দেন অভিষেক। এক জন ভোটারের নামও বাদ গেলে, এক লক্ষ ভোটার নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করার ডাক দেন তিনি। কলোনি এলাকার বাসিন্দাদেরও নিশ্চিন্তে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। উল্লেখ্য়, অভিষেক যখন আগরপাড়ায়, তখনই খবর সামনে আসে দিনহাটায় আরও এক জন SIRএর ভয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। সে প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি।
মঙ্গলবার ঘর থেকে প্রদীপ করের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। আর পুলিশের দাবি, তাঁর পাশ থেকে উদ্ধার হয় একটি নোট। সেই নোট নিয়ে রহস্য জোরাল হচ্ছে। পুলিশের দাবি, নোটে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য NRC দায়ী।’ কিন্তু পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, প্রদীপ করেন ডান হাতের চারটে আঙুল ছিল না। ‘৮০ সালের আগে একটি দুর্ঘটনায় ডান হাতের চারটে আঙুল কাটা যায় প্রদীপ করেন। ডান হাতেই খেতেন, কাজ করতেন, তবে লিখতে পারতেন কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
সে প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অভিষেক বলেন, “আমি সত্যিই লজ্জিত, একটা রাজনৈতিক দল এতটা নিচে নামতে পারে। প্রদীপবাবুকে ব্যক্তি আক্রমণ করা হচ্ছে, তিনি লিখতে পারেন নাকি পারেন না, সে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তিনি পরিস্কারভাবে লিখে দিয়ে গিয়েছেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী NRC’, তারপরও এটা নিয়ে রাজনীতি করবেন?” কেন এখনও পর্যন্ত বিজেপির কেউ পরিবারের সদস্যদের কাছে গিয়ে দেখা করেননি, সে প্রশ্নও তোলেন। অভিষেক বলেন, ” যারা নিজেদের হিন্দু ধর্ম, হিন্দুদের রক্ষাকর্তা, ধারকবাহক বলে দাবি করেন, তাঁদের কেউ এসে পরিবারটার খোঁজ নিয়েছেন।”
এদিনই অবশ্য রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওটা ফলস কেস। ২০০২ সালে ওনার নাম ভোটার লিস্টে ছিল। ওনার পরিবারের সদস্যরা সব তৃণমূল করেন। ওনার কাছে তো CAA, NRC-র কোনও ব্যাপার নেই তো, আমার কাছে ওনার সিরিয়াল নম্বর, পার্ট নম্বর সব রয়েছে। আমি নিজে দেখেছি।”
ভোটার লিস্টে নামের বানান ভুল আসায় আত্মহত্যার চেষ্টা, উদয়নকে দ্রুত দেখতে যাওয়ার নির্দেশ মমতার
জানা যাচ্ছে, কোচবিহারের দিনহাটায় থাকেন ওই ব্যক্তি। তিনিও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তির নামের বানান ২০০২ -এর তালিকার সঙ্গে ২০২৫ এর তালিকার গড়মিল রয়েছে। একটি অক্ষর নেই। তার জেরেই তৈরি হয়েছিল আতঙ্ক।
কলকাতা: SIR ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রদীপ কর নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, NRC আতঙ্কে এই মর্মান্তিক পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তরবঙ্গ থেকেও বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা একজনের। আজ বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জানা যাচ্ছে, কোচবিহারের দিনহাটায় থাকেন ওই ব্যক্তি। তিনিও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ওই ব্যক্তির নামের বানান ২০০২ -এর তালিকার সঙ্গে ২০২৫ এর তালিকার গড়মিল রয়েছে। একটি অক্ষর নেই। তার জেরেই তৈরি হয়েছিল আতঙ্ক। পরিবারের দাবি অন্তত তেমনটাই। জানা যায়, আজ ওই ব্যক্তি নামাজও পড়তে যাননি। এলাকাবাসীর দাবি, তিনিও SIR আতঙ্কে এই কাজ করেছেন। হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, “আমার ভোটার লিস্টে নামের বানান ভুল এসেছে। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। জানি না তো কিছু। ভেবেছি এর থেকে মরে যাওয়া ভাল।”
আজ ভার্চুয়ালি গোটা রাজ্যের একাধিক জগদ্ধাত্রী পুজো উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় দিনহাটার পুজো উদ্বোধন করার আগেই তিনি সেখানকার বিধায়ক উদয়ন গুহকে নির্দেশ দেন। বলেন, “দিনহাটায় একজন বিষ খেয়েছে। আমি জানতে পেরেছি। তুমি ফিরে গিয়ে ওঁর বাড়ি যাবে।”
প্রসঙ্গত, এ দিকে, আজ আবার আগরপাড়ায় মৃত প্রদীপ করের বাড়ি গিয়ে জাস্টিস ফর প্রদীপ কর বলে সুর চড়ান তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার লোকজনের উদ্দেশে বার্তা দেন, “SIR শুরুর পর থেকে আমি রাস্তায় থাকব, আপনারা ভয় পাবেন না।”
