April 2026

​ভোটের শেষ মুহূর্তে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল সাগরের ধবলাট শিবপুর এলাকা। ভোট দিতে যাওয়ার পথে এক বিজেপি কর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আহত কর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ​স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৬৫ নম্বর বুথের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব মণ্ডল পেশায় বিজেপি কর্মী। 


অভিযোগ, ভোটের সময় শেষ হওয়ার ঠিক কিছুক্ষণ আগে তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বুথের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তৃণমূল আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী বিপ্লববাবুর পথ আটকায়।​তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে জোরপূর্বক তৃণমূল কংগ্রেসে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ​বিপ্লব মণ্ডল তাতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় তীব্র কথা কাটাকাটি। ​বিতর্ক চলাকালীন উক্ত দুষ্কৃতীরা বিপ্লব মণ্ডলের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।


 ​আহত বিজেপি কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই এই মারধরের ঘটনায় গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানায় তৃণমূল আশ্রিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 ডোমজুড়ে আবার ইভিএম বিকল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় শয়ে শয়ে ভোটার। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ডাঁসপাড়া এলাকার কনভার্টে জুনিয়র বেসিক স্কুলের ৫৬ নম্বর বুথে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে ভোট প্রক্রিয়া দীর্ঘক্ষণ থমকে যায়। ঘটনার সূত্রপাত দুপুর ৩টে নাগাদ।


বর্ধমান ও হাওড়া: সর্বকালের সেরা রেকর্ড তৈরি হয়েছিল প্রথম দফায়। দ্বিতীয় দফাতেও যেন ভোটের জোয়ার অব্যাহত। ফের আরও এক রেকর্ড। যার ফলে, স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির গড়ে ফেলল বাংলা। বিকেল ৫টার মধ্যে ছাপিয়ে গিয়েছিল ৯০ শতাংশের গণ্ডি। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯১.৬৬ শতাংশ। যদিও সন্ধ্যাতেও ভোটদানের জন্য লম্বা লাইন দেখা গেল একাধিক জায়গায়। বর্ধমান দক্ষিণেই তো সন্ধ্যা নামলেও ফুরোয়নি লাইন, সঙ্গী আবার ঝড়-বৃষ্টি। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বাণীপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের ২৯৮ ও ২৯৯ নম্বর বুথে ধরা পড়ল সেই ছবি। 

ঘড়ির কাঁটায় সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেলেও কয়েক’শ ভোটার তখনও লাইনে দাঁড়িয়ে। এরই মধ্যে কালবৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেকেই আবার ক্ষোভ উগরে দেন। ভোটারদের অভিযোগ, ভোটগ্রহণের গতি অত্যন্ত ধীর। তাঁরা বলছেন, এক একজন ভোটারকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তারপরেই মিলছে ভোটদানের সুযোগ। 



অন্যদিকে ডোমজুড়ে আবার ইভিএম বিকল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় শয়ে শয়ে ভোটার। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ডাঁসপাড়া এলাকার কনভার্টে জুনিয়র বেসিক স্কুলের ৫৬ নম্বর বুথে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে ভোট প্রক্রিয়া দীর্ঘক্ষণ থমকে যায়। ঘটনার সূত্রপাত দুপুর ৩টে নাগাদ। ওই সময় আচমকাই বুথের ইভিএমটি বিকল হয়ে যায় বলে খবর। শুরু হয় ভোগান্তি। নতুন ইভিএম এসে পৌঁছাতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যায়। সন্ধ্যা নামলেও বুথের বাইরে দেখা যায় কয়েক’শ মানুষের লম্বা লাইন। ভোটারদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ মেশিন বন্ধ থাকায় লাইনের দৈর্ঘ্য বাড়তেই থাকল। কেউ দু’ঘণ্টা, কেউ বা তারও বেশি সময় ধরে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় থাকলেন।

 প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাতের জেরে কয়েকটি ক্যামেরা সাময়িকভাবে বিকল হয়ে যায়। তবে তৃণমূলের দাবি, ওই সময় কোনও ফুটেজ রেকর্ড না হওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক।


 স্ট্রং রুমে চার বিধানসভার EVM, মধ্যরাতে আচমকা বন্ধ সিসিটিভি! জোর শোরগোল
চাপানউতোর রাজনৈতিক আঙিনায়


 বালুরঘাট কলেজের স্ট্রং রুমে মধ্যরাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ঘিরে বিতর্ক। অভিযোগ, গতকাল রাত ৩টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত বালুরঘাট বিধানসভার স্ট্রং রুমের সামনের ক্যামেরাগুলি কাজ করেনি। এই ঘটনায় ইতিমধ্য়েই তৃণমূল কংগ্রেস জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। বুধবার বিকেলে বালুরঘাটের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের ইলেকশন এজেন্ট দেবাশীষ কর্মকার জেলা শাসক ও বালুরঘাটের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ পেয়ে সন্ধ্যায় বালুরঘাট কলেজের স্ট্রং রুম পরিদর্শন করেন জেলা শাসক বালা সুব্রমানিয়ান টি সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। খতিয়ে দেখেন সিসিটিভি ক্যামেরা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঝড়-বৃষ্টি-বজ্রপাতের জেরে কয়েকটি ক্যামেরা সাময়িকভাবে বিকল হয়ে যায়। তবে তৃণমূলের দাবি, ওই সময় কোনও ফুটেজ রেকর্ড না হওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। এর পেছনে ষড়যন্ত্রেরও গন্ধ পাচ্ছে তারা। প্রায় ৪ ঘন্টা ক্যামেরা বন্ধ ছিল। যা নিয়েই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল-কংগ্রেস। 



এদিকে বালুরঘাট কলেজে বালুরঘাট, তপন, কুমারগঞ্জ ও গঙ্গারামপুর এই চার বিধানসভার স্ট্রং রুম রয়েছে। সেখানেই চার বিধানসভার ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে। স্ট্রং রুমের সামনেই রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। কলেজের মূল গেটের পাশেই রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর। যেখানে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা নজরদারি চালাচ্ছেন। স্ট্রং রুমে কড়া নিরাপত্তা ও ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। 

যদিও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। এনিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক ও জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বালা সুব্রমানিয়ান টি বলেন, রাতে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়েছিল। বাজ পড়ে ২-৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ হওয়ায় সাময়িকভাবে সমস্যা দেখা দেয়। পরে দ্রুত সেই ক্যামেরাগুলি বদলে ফেলা হয়েছে। এখন সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। 

CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন, "যেখানে যেখানে টেপ পাওয়া গিয়েছে, ওয়েব কাস্টিংয়ে দেখেছি, যা অবজারভার রিপোর্ট এসেছে, ওখান জিরো টলারেন্সে পদক্ষেপ করা হবে। আমরা আগাম বললাম, এই জায়গা ছাড়াও যেখানে যেখানে পাওয়া যাবে রিপোল হবে।" যেখানে আতর পাওয়া গিয়েছে, সেখানেও রিপোল হবে। 

দরকার হলে গোটা বিধানসভা জুড়ে হবে...', কোথায় কোথায় রিপোল হবে, জানালেন CEO


ফলতায় একাধিক বুথে EVM কারচুপির অভিযোগে কড়া কমিশন। CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন, দরকার হলে গোটা ফলতা বিধানসভাতেই রিপোল হবে। অবজারভারদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখছে কমিশন। বহু বুথে অনিয়মের অভিযোগ এলে, গোটা বিধানসভাতেই রিপোল হবে বলে জানিয়েছেন CEO।

CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন, “যেখানে যেখানে টেপ পাওয়া গিয়েছে, ওয়েব কাস্টিংয়ে দেখেছি, যা অবজারভার রিপোর্ট এসেছে, ওখান জিরো টলারেন্সে পদক্ষেপ করা হবে। আমরা আগাম বললাম, এই জায়গা ছাড়াও যেখানে যেখানে পাওয়া যাবে রিপোল হবে।” যেখানে আতর পাওয়া গিয়েছে, সেখানেও রিপোল হবে।


৬০ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি, তবে এবার খুব দুঃখের ভোট',কেন বললেন রঞ্জিত মল্লিক, কী অভিজ্ঞতা হল?
20 सुंदर जगहें जहाँ ज़िंदगी में एक बार जाना चाहिए
জানা যাচ্ছে, ফলতার ২৫২, ২৩৫,২২৬, ১৮৬, ২৪১ বুথে আতর লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে রিপোর্ট চেয়েছেন কমিশন। CEO জানিয়েছেন, ডিটেল রিপোর্ট এলে সত্যি প্রমাণিত হলে রিপোল হবে। মগরাহাট থেকেও একই অভিযোগ উঠেছে। কমিশন সূত্রে খবর, রিপোল হলে আগামিকাল বা পরশু।

উল্লেখ্য, সকালে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও বেলা ১০টা পর থেকে ফলতার একাধিক বুক থেকে অশান্তির খবর আসতে শুরু করে। তার মধ্যে কয়েকটি বুথে EVM-এ টেপ লাগিয়ে রাখারও অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি ক্ষেত্রে বিক্ষোভ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জও করতেও দেখা যায়। সেবিষয়ে CEO বলেন, “লাঠিচার্জ হবে না তো কী হবে? সেন্ট্রাল ফোর্স যেখানে চাইবে, সেখানেই লাঠিচার্জ হবে। EVM এ যা ভোট পড়েছে, সেগুলি কিছু করা যাবে না। তাই রিপোল হবে।”

ছাব্বিশের নির্বাচনে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপি প্রার্থী করেছে বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে। সারা দেশের নজর রয়েছে এই কেন্দ্রের দিকে।

সবাই অবাক, ভবানীপুরে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে শুভেন্দু অধিকারী, খেলেন ঠান্ডা পানীয়
ভবানীপুরে তৃণমূলের ক্যাম্পে শুভেন্দু অধিকারী


ভোটের দিনে ভবানীপুরে বড় চমক। তৃণমূলের ক্যাম্পে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার বুথে বুথে ঘোরার সময় আচমকা তৃণমূলের একটি ক্যাম্প অফিসে ঢুকে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে হেসে কথা বলেন। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান। সেই সময় তৃণমূলের এক কর্মী শুভেন্দুর দিকে ঠান্ডা পানীয় এগিয়ে দেন। সেই ঠান্ডা পানীয় খেয়ে হাসিমুখে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস থেকে বেরিয়ে যান ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী।

ছাব্বিশের নির্বাচনে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই কেন্দ্রে একদিকে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপি প্রার্থী করেছে বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুকে। সারা দেশের নজর রয়েছে এই কেন্দ্রের দিকে।



এদিন সকাল থেকে ভবানীপুরের বুথে বুথে ঘুরছেন শুভেন্দু। বুথে বুথে ঘোরার সময় কালীঘাট চত্বরে তাঁকে ঘিরে ধরেছিলেন তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। সেইসময় ফোনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন বিজেপি প্রার্থী। সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগত ঢুকিয়েছে তৃণমূল।

একদিকে যখন কালীঘাট চত্বরে শুভেন্দুকে ঘিরে বিক্ষোভের ছবি দেখা গিয়েছিল, অন্য জায়গায় দেখা গেল তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে বিজেপি প্রার্থীকে। রাস্তার ধারেই তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে বসেছিলেন ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু। তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের দেখে শাসকদলের ক্যাম্প অফিসের দিকে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। প্রথমে কিছুটা হতচকিত হয়ে যান তৃণমূল কর্মীরা। পরে তাঁরাও শুভেন্দুর সঙ্গে হেসে কথা বলেন। বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে হাত মেলান। এক মহিলা তৃণমূল কর্মীকে শুভেন্দু বলেন, “একসঙ্গে থাকা দরকার।” ওই মহিলা তৃণমূল কর্মী বলেন, “অবশ্যই।” এক তৃণমূল কর্মী একটি বোতলের ঠান্ডা পানীয় শুভেন্দুর দিকে এগিয়ে দেন। হাসিমুখে ঠান্ডা পানীয় খেয়ে তৃণমূলের ক্যাম্প থেকে আবার এগিয়ে যান শুভেন্দু।

রিপোর্টে মূলত বেশ কয়েকটি বিশেষ ইস্যুকে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঙালিদের 'বাংলাদেশি' তকমা দেওয়ার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ভোটাররা ব্যালট বাক্সে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন বলে মনে করছে দল।


ভোটদানের হারে সর্বকালের সেরা ভোট দেখল বাংলা। সেরা ভোট দেখল দেশ। তৃণমূল থেকে বিজেপি, জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যুযুধান দুই শিবিরই। এবার দ্বিতীয় দফা শেষ হতে না হতেই সামনে এসে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট। সূত্রের খবর, তাঁদের তরফে যে পর্যালোচনা রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তাতে ঘাসফুল শিবিরের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সোজা কথায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুকে হাতিয়ার করে ঘাসফুল শিবির পুরো দস্তুর আত্মবিশ্বাসী। অর্থাৎ ফের তারা বড় ব্যবধানে ক্ষমতায় ফিরছে।

কী বলছে রিপোর্ট? 
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট বলছে, দল এই নির্বাচনে ২৩০টি আসন পেতে চলেছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু বড় দাবি করা হয়েছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, উভয় কেন্দ্রেই শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় নিশ্চিত। জয়ের আনন্দে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরের সঙ্গে ডিজে বাজিয়ে বর্ণাঢ্য উদযাপনও করতে চলেছে ঘাসফুল শিবির।



রিপোর্টে মূলত বেশ কয়েকটি বিশেষ ইস্যুকে তৃণমূলের জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ভোটাররা ব্যালট বাক্সে তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন বলে মনে করছে দল। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের অজয় পাল শর্মার মতো ‘বহিরাগতদের’ বাঙালি মহিলাদের প্রতি অপমানজনক মন্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাট থেকে বিজেপি নেতারা এসে বাঙালির উপর যে ভাবে ‘ধমক-চমক’ বা ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, সাধারণ মানুষ তাকে ভালোভাবে নেয়নি। একে বাঙালির আত্মমর্যাদায় আঘাত হিসেবেই দেখেছেন ভোটাররা। এমনটাই মনে করছে তৃণমূল।

পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের প্রভাবে রাজ্যের নারীশক্তি তৃণমূলের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। যা ভোটের ফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে চলেছে। একইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা এবং তাঁদের প্রতি রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তৃণমূলের ভোটের বাক্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি এনআরসি এবং সিএএ নিয়ে মানুষের মনে যে আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার জেরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ভোটের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে বলে তৃণমূলের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে বলে খবর। 

 ভবানীপুরের ভোটার সিইও মনোজ কুমার আগারওয়াল। সেখানেই ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়।"


স্বাধীনতার পর প্রথম রেকর্ড ভোট বাংলায়, খুশি জ্ঞানেশ কুমার, টিভি৯ বাংলাকে কী বললেন CEO মনোজ?
জ্ঞানেশ কুমার-মনোজ আগারওয়াল


দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ। এবারও রেকর্ড ভোট পড়েছে বাংলায় (Wets Bengal Assembly Election 2026)। প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৯৩ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফাতেও ৯১ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে ভোটের হার। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। দুই দফা মিলিয়ে ভোটের হার ৯২.৪৭ শতাংশ। ভোটের হার দেখে খুশি নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) টিভি ৯ বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে দুই দফাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়। অন্যদিকে, দুই দফায় রেকর্ড ভোটদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর এত ভোট পড়েছে বাংলায়।

একদফা নির্বাচনের পক্ষে মত মনোজ কুমারের


 আগারওয়াল। সেখানেই ভোট দেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়। তবে, এবার পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে।” অন্যদিকে, একদফা নির্বাচনের পক্ষেও মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন,” একদফা নির্বাচন অবশ্যই হতে পারে। আমি তো আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে এবারও এক দফা হতে পারত, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। কেরলে হতে পারে, তামিলনাড়ুতে হতে পারে তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেন হবে না?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ নিয়ে কী বলছেন?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মমতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আমি শুধু এটা বলছি, আমাদের কাছে যা অভিযোগ রয়েছে, তা যে কোনও ব্যক্তির তরফে হোক, সেখানে আমরা কোনও পোস্ট বা ব়্যাঙ্ক, কোনও রং বা কোনও ধর্ম আমরা দেখি না। আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করি। তদন্ত করার পর যদি কোনও কিছু সামনে আসে, অভিযোগের যদি সারবত্তা থাকে, তাহলে আমরা আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করি। আর সারবত্তা না থাকলে অভিযোগ ফাইলেই পরে থাকবে।”

জ্ঞানেশ কুমারের বক্তব্য

অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় দফা, দুই পর্যায়েই সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।” তাঁর মতে,’চুনাভ কা পরব , পশ্চিমবঙ্গ কা গরব’। বাংলা তর্জমা করলে হয় “ভোটের উৎসব, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব।”
ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, অনেক সময় বুথ ফেরত সমীক্ষা মেলে এবং অনেক সময় মেলে না। ফলে বুথ ফেরত সমীক্ষা শুধু নির্বাচনের ফলাফলের আভাস দেয় মাত্র। দেখে নেওয়া যাক, বুথ ফেরত সমীক্ষা কোন রাজ্যে কী বলছে?


কার হাওয়া কাড়বে কে? কী বলছে অসম, তামিলনাড়ু, কেরলম, পুদুচেরির বুথ ফেরত সমীক্ষা?
কী বলছে বুথ ফেরত সমীক্ষা?


শুধু বাংলা নয়। আগামী ৪ মে আরও ৪ জায়গায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলে বেরবে। ৩টি রাজ্য অসম, তামিলনাড়ু ও কেরলম এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ফলাফল ঘোষণা হবে। বুধবার বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের শেষে বুথ ফেরত সমীক্ষা সামনে এসেছে। বাংলার পাশাপাশি অসম, তামিলনাড়ু, কেরলম ও পুদুচেরিতে বুথ ফেরত সমীক্ষা কী বলছে? কোন রাজ্যে কারা সরকার গঠন করতে পারে? জেনে নিন বুথ ফেরত সমীক্ষা কী বলছে…

বুথ ফেরত সমীক্ষা-



ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, অনেক সময় বুথ ফেরত সমীক্ষা মেলে এবং অনেক সময় মেলে না। ফলে বুথ ফেরত সমীক্ষা শুধু নির্বাচনের ফলাফলের আভাস দেয় মাত্র। দেখে নেওয়া যাক, বুথ ফেরত সমীক্ষা কোন রাজ্যে কী বলছে?

অসম-

অসমে বিধানসভা আসন সংখ্যা ১২৬। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬৪ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, অসমে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি ৮৮ থেকে ১০০টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস পেতে পারে ২৪ থেকে ৩৬টি আসন। AIUDF-কে একটিও আসন দেয়নি তারা। অন্যরা পেতে পারে শূন্য থেকে ৩টি আসন।

জনমত পোলসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৭ থেকে ৯৮টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৯ থেকে ৩০টি আসন। অন্যরা কোনও আসন পাবে না বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

জেভিসি তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৮ থেকে ১০১টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৩ থেকে ৩৩টি আসন। AIUDF পেতে পারে ২ থেকে ৫টি আসন।

কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বিজেপি পেতে পারে ৮৫ থেকে ৯৫ আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ২৬ থেকে ৩৯ আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ ৩টি আসন পেতে পারে।

কেরলম-

কেরলমে বিধানসভা আসন সংখ্যা ১৪০। সরকার গড়তে প্রয়োজন ৭১ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, কেরলমে এবার সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে। বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গড়তে পারে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UDF । অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, LDF ৪৯ থেকে ৬২টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UDF পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯০টি আসন। বিজেপি সর্বোচ্চ ৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদের কোনও আসন দেয়নি অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া।

পিপলস ইনসাইটের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, বামেদের জোট LDF পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮টি আসন। UDF পেতে পারে ৬৬ থেকে ৭৬টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ১০ থেকে ১৪টি আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ একটি আসন পাবে বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

পিপলস পালস তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, LDF পেতে পারে ৫৫ থেকে ৬৫টি আসন। UDF পেতে পারে ৭৫ থেকে ৮৫টি আসন। বিজেপি পেতে পারে সর্বোচ্চ ৩টি আসন।

ভোট ভাইবের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, LDF পেতে পারে ৫৮ থেকে ৬৮ আসন। UDF পেতে পারে ৭০ থেকে ৮০ আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ ৪টি আসন পেতে পারে। বিজেপিকে তারা কোনও আসন দেয়নি।

তামিলনাড়ু-

তামিলনাড়ুতে বিধানসভা আসন সংখ্যা ২৩৪। সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, তামিলনাড়ুতে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা। বর্তমান শাসকদল ডিএমকে যেমন লড়াইয়ে রয়েছে, তেমনই অভিনেতা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক দল টিভিকে-ও এবার সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এডিএমকে-ও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, DMK ৯২ থেকে ১১০টি আসন পেতে পারে। ADMK পেতে পারে ২২ থেকে ২৩টি আসন। TVK ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। অন্যদের কোনও আসন দেয়নি অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া।

জেভিসি-র বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, DMK পেতে পারে ৭৫ থেকে ৯৫টি আসন। ADMK পেতে পারে ১২৮ থেকে ১৪৭টি আসন। TVK পেতে পারে ৮ থেকে ১৫টি আসন। অন্যরা কোনও আসন পাবে না বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

কামাক্ষ্যা অ্যানালেটিকস তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, DMK পেতে পারে ৭৮ থেকে ৯৫টি আসন। ADMK পেতে পারে ৬৮ থেকে ৮৪টি আসন। TVK পেতে পারে ৬৭ থেকে ৮১টি আসন।

ম্যাট্রিজের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, DMK পেতে পারে ১২২ থেকে ১৩২ আসন। ADMK পেতে পারে ৮৭ থেকে ১০০ আসন। TVK পেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ ৬টি আসন পেতে পারে বলে তারা জানিয়েছে।

পুদুচেরি-

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা আসন সংখ্যা ৩০। সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৬ আসন। বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC-র নেতৃত্বাধীন শাসকদল এবার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে। অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC ১৬ থেকে ২০টি আসন পেতে পারে। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ৮টি আসন। অভিনেতা বিজয়ের TVK ২ থেকে ৪টি আসন পেতে পারে। অন্যরা এক থেকে তিনটি আসন পেতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষা।

কামাক্ষ্যা অ্যানালিটিকসের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ১৭ থেকে ২৪টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ৪ থেকে ৭টি আসন। TVK পেতে পারে ১ থেকে ২টি আসন। অন্যরা সর্বোচ্চ একটি আসন পাবে বলে তারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় জানিয়েছে।

পিপলস পালস তাদের বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলছে, NRC পেতে পারে ১৬ থেকে ১৯টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ১০ থেকে ১২টি আসন। TVK কোনও আসন পাবে না। অন্যরা ১ থেকে ২টি আসন পাবে বলে পিপলস পালস তাদের সমীক্ষায় জানিয়েছে।

প্রাইয়া পোলের বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, NRC ও তাদের সহযোগীরা পেতে পারে ১৯ থেকে ২৫ আসন। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা পেতে পারে ৬ থেকে ১০ আসন। TVK কোনও আসন পাবে না। অন্যদেরও কোনও আসন পাবে না বলে তারা জানিয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষেই আবহাওয়ার ভোল বদল, গরম থেকে মিলতে পারে স্বস্তি। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা। 


আজ রাত ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে ঘন্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সাথে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কলকাতা ও পাশ্ববর্তী অঞ্চল গুলিতে। 



বৃষ্টিপাত হতে পারে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, হাওড়া, কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম সহ প্রায় সমস্ত দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা। সেই সঙ্গে প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কা।





রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের অন্তিম লগ্নে বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ১৩২ সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। এদিন বিকেলের দিকে রুদ্রনগর এলাকার ১০৪ নম্বর বুথে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।


বুধবার সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। দিনভর বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনের আগে সকালে নিজের বাড়িতে বিশেষ পূজা সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর এলাকার বেশ কয়েকটি মন্দিরে আশীর্বাদ প্রার্থনা করে সরাসরি পৌঁছে যান বুথে বুথে। সকাল থেকে কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভোট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। 
বিকেল ৪টে নাগাদ রুদ্রনগর খাসমহল অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের ভোটটি দেন বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। ভোটদান শেষে তিনি বলেন, "মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দিচ্ছেন। প্রতিটি বুথে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তারা মা-মাটি-মানুষের সরকারের পাশেই আছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চতুর্থবারের মতো রাজ্যে তৃণমূল সরকার গঠন হবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।"


নিজের জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এই হেভিওয়েট প্রার্থী জানান, তিনি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যে সাগরের মানুষ তাকেই ফের বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সাগর দ্বীপের সর্বত্রই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইন এবং ভোটারদের উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কড়া নিরাপত্তায় মোড়া সাগরে শেষ পর্যন্ত কোনো অশান্তি ছাড়াই মিটেছে গণতন্ত্রের এই মহোৎসব।

নির্বাচন কমিশনের শত প্রচার সত্ত্বেও সাগর বিধানসভার গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩৫ নম্বর বুথে দেখা গেল প্রশাসনের চূড়ান্ত উদাসীনতা। তবে সরকারি সহায়তার অভাব দমাতে পারেনি সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জেদকে।


শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের কাঁধে দোলনায় চেপেই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছালেন অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ভোটাররা। নির্বাচন কমিশন প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য একাধিক সুযোগ-সুবিধার দাবি করলেও, গঙ্গাসাগরের এই বুথে ভোটগ্রহণের দিন তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে বয়সের ভারে হাঁটাচলায় অক্ষম ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরাই। মোটা দড়ি দিয়ে তৈরি করা হয় দেশীয় প্রযুক্তির ‘দোলনা’। সেই দোলনায় বসিয়ে কাঁধে করে ভোটারদের বুথে নিয়ে যাওয়ার এক বিরল ও মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল এলাকা।

গ্রামবাসীদের এই তৎপরতায় আপ্লুত নির্বাচন কর্মীরাও। স্থানীয়দের কথায়, “গণতন্ত্রের উৎসবে কেউ যেন বাদ না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।” প্রশাসনের সহায়তা ছাড়াই নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে খুশি ভোটাররা। গ্রামবাসীদের এই অনন্য উদ্যোগ এলাকায় এক উজ্জ্বল নজির সৃষ্টি করেছে।

সাগর বিধানসভার মুড়িগঙ্গা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্গত একটি ভোটকেন্দ্রে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে দীর্ঘক্ষণ ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।


আজ সকাল থেকেই কোম্পানীছাড় মহেশ্বরী হাইস্কুলের ২১ নম্বর বুথে স্বাভাবিক ছন্দেই ভোট গ্রহণ চলছিল। তবে বেলা ১২টা নাগাদ হঠাৎ করেই ভোটদানের প্রধান যন্ত্র অর্থাৎ ইভিএম (EVM) মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে থমকে যায়।

ঘটনার এক ঘণ্টার বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন করে ভোট গ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বিরক্তি দেখা দিয়েছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে ভোট দিতে এসে এই বিলম্ব নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত মেশিনটি মেরামত করার বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরায় ভোট প্রক্রিয়া চালু করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুথ চত্বরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

​পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফায় আজ সকাল থেকেই সাগর দ্বীপের বুথে বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। চড়ক গাছ থেকে গঙ্গাসাগর উপকূল—সর্বত্রই উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 


প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সকাল সাতটা থেকেই পুরুষ ও মহিলা ভোটাররা বুথমুখী হয়েছেন।
​বিশেষ করে নতুন ভোটার এবং বয়স্কদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। নিরাপত্তার খাতিরে প্রতিটি বুথে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। 


ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। দুর্গম দ্বীপ এলাকার ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত এই ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সকাল থেকে হলের দরজা না খোলায় সোহমের বন্ধুদের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। তাঁরাই খবর দেন সিকিউরিটিকে। শেষ পর্যন্ত খবর চলে যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ এসে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে। দ্রুত বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

১৮ তারিখের পর ২৮, এক মাসেই দুই ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধারে শোরগোল খড়গপুরে
শোকের ছায়া ক্য়াম্পাসে


ঠিক ১০ দিনের মাথায় ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। খড়গপুর আইআইটিতে আবারও এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম সোহম হালদার। ২২ বছরের ওই ছাত্রের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের শালবাগান এলাকায়। খড়গপুর আইআইটির মদন মোহন মালব্য হলে থাকছিল ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এম টেকের ওই ছাত্র। 

সকাল থেকে হলের দরজা না খোলায় সোহমের বন্ধুদের মধ্যে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। তাঁরাই খবর দেন সিকিউরিটিকে। শেষ পর্যন্ত খবর চলে যায় পুলিশের কাছে। পুলিশ এসে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে। দ্রুত বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে দেন। 



 ভুলভাল খেয়ে পেটের ১২টা বেজেছে? কোলোন পরিষ্কার করুন ৮ উপায়ে
20 सुंदर जगहें जहाँ ज़िंदगी में एक बार जाना चाहिए
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৮ তারিখ অটল বিহারি বাজপেয়ী হল থেকে এক ছাত্রের ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তাঁকেও উদ্ধার করে বিসি রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাঁর নাম জয়বীর সিং ডোডিয়া। তাঁর বয়স মাত্র ২১ বছর। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। আহমেদাবাদের বাসিন্দা ওই ছাত্র থাকছিল নেহেরু হলে। এদিকে ২০২৫ সালের শুরু থেকেই খড়গপুরে একের পর এক ছাত্রের মৃত্যুর খবরে শোরগোল পড়ে যায় শিক্ষা মহলে। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতজন ছাত্র প্রাণ হারিয়েছেন। তা নিয়েও বিস্তর চাপানউতোর হয়। এবার নতুন করে আরও এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় চাপানউতোর। 


মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, "প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় আইপিএস অফিসার ছিলেন। অবসরের পর তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। তবে আইপিএসদের একটা সৌজন্যতা রয়েছে। এটাকে সৌজন্যতা হিসেবেই দেখা ঠিক হবে। জুনিয়র ছিলেন। তাই, সৌজন্য দেখিয়েছেন। এটা থাকা ভালো। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, প্রাক্তন সিনিয়র হিসেবেই স্যালুট করেছেন বলে আমার মনে হয়।"


 গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীকে দেখেই স্যালুট অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের, বিজেপি বলল...
তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্যালুট অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের


তিনি প্রাক্তন আইপিএস অফিসার। এবার তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চাঁচলের সেই তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে (TMC candidate Prasun Banerjee) গণনাকেন্দ্রে দেখে স্যালুট করলেন মালদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

প্রথম দফার নির্বাচনের পর থেকে মালদহ জেলার দুই গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে বন্দি রয়েছে ইভিএম। মালদহ কলেজে রয়েছে পাঁচটি বিধানসভা এলাকার স্ট্রংরুম। মালদহ পলিটেকনিক কলেজে রয়েছে সাতটি বিধানসভা এলাকার ইভিএম। মঙ্গলবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নিয়ে গণনাকেন্দ্রের নিয়মাবলী নিয়ে বৈঠক করেন।



একে একে প্রার্থীরা মালদহ কলেজে আসতে শুরু করেন। এক সময় মালদহ কলেজে এসে পৌঁছন চাঁচল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মালদহ কলেজে প্রবেশ করে পুলিশ সুপার অনুপম সিংয়ের সঙ্গে হাত মেলান। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দিকে এগিয়ে যেতেই প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্যাল্যুট করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক রায়। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

কী বলছে তৃণমূল ও বিজেপি?

বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদল কীভাবে পুলিশ আধিকারিকদের দলদাসে পরিণত করে রেখেছে, এটাই তার উদাহরণ। বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এখন কর্মরত নন। তা সত্ত্বেও তাঁকে দেখামাত্র স্যালুট করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সৌজন্যতা ঠিক আছে। কিন্তু, যখন আপনি সংবিধানের শপথ নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন সংবিধান মানতে হবে। তৃণমূলের দলদাস হয়ে কাজ করার যে প্রবণতা, সেটা বন্ধ করতে হবে। সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করুন।”

যদিও পালটা শাসকদলের দাবি, আইপিএস-দের একটা সৌজন্যতা থাকে। যেহেতু তিনি একটা সময় আইপিএস অফিসার ছিলেন। সেই কারণেই জুনিয়র অফিসার তাঁকে স্যাল্যুট করেছেন। মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, “প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় আইপিএস অফিসার ছিলেন। অবসরের পর তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন। তবে আইপিএসদের একটা সৌজন্যতা রয়েছে। এটাকে সৌজন্যতা হিসেবেই দেখা ঠিক হবে। জুনিয়র ছিলেন। তাই, সৌজন্য দেখিয়েছেন। এটা থাকা ভালো। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, প্রাক্তন সিনিয়র হিসেবেই স্যালুট করেছেন বলে আমার মনে হয়। ঠিক হয়েছে কি না, এটা কমিশন ও নিয়ম বলবে।”

 অজয় পাল শর্মার পরিচিতি আবার দেশ জোড়া। এমনিতে যোগী রাজ্যের পুলিশ অফিসার। এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট হিসাবেই পরিচিত ২০১১ সালের এই আইপিএস অফিসার। বর্তমানে প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে আছেন।


 ‘ও সিঙ্ঘম হলে আমরা পুষ্পা রাজ, ঝুকেগা নেহি’, ভোটের মুখে অজয়কে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন জাহাঙ্গির
জোর চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়


 একজন যদি সিঙ্ঘম হয়ে থাকেন তাহলে আর একজন বলছেন তিনি পুষ্পা, ঝুঁকেগা নেহি। পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে এ ভাষাতেই হুঙ্কার দিয়েছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তাঁর সাফ কথা, কে কোন এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট আমরা জানি না। আমরা ওয়ান্টেড বই দেখেছি সলমন খানের, কিক দেখেছি, জনতার আদালত দেখেছি। আমাদের ধমকে চমকে ভয় দেখিয়ে চুপ করাতে পারবে না।”


এরপরই হুঙ্কারের ধার আরও বাড়িয়ে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী আরও বলেন, “আমরা পুষ্পা রাজ। ঝুকেগা নেহি। মৃত্যু মেনে নেব না। কিন্তু দিল্লির পুলিশের চমকানোতে আমরা ভয় পাই না। ওনার চমকানো কতটা বাড়তে থাকে দেখা যাক। তারপর আমরা দেখছি। আমাদের এলাকার মা-বোনেরা উত্তেজিত হচ্ছে। ওরা যখন এক হয়ে ঝাঁটাপেটা করবে তখন বুঝতে পারবে।” জাহাঙ্গিরের দাবি, দেশের পয়সা খরচ করে দিল্লি থেকে অফিসারদের নিয়ে এসে ডায়লগ দিচ্ছে আর চমকাচ্ছে। এতে কোনও কাজ হবে না। ফলতার গণদেবতা ২৯ তারিখে জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে বিজেপির জমানত জব্দ করবে। 



প্রসঙ্গত, অজয় পাল শর্মার পরিচিতি আবার দেশ জোড়া। এমনিতে যোগী রাজ্যের পুলিশ অফিসার। এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট হিসাবেই পরিচিত ২০১১ সালের এই আইপিএস অফিসার। বর্তমানে প্রয়াগরাজে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্বে আছেন। ২০২৪ সালের মহাকুম্ভ মেলায় তিনি নোডাল অফিসার ছিলেন। ২০২৫ সালে পেয়েছেন স্বর্ণপদক। পেশায় পুলিশ কিন্তু দাঁতের ডাক্তারও বটে। পাতিয়ালা কলেজ থেকে ডেন্টাল সার্জেনের ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। এখন ভোটের আবহে দুষ্কৃতীদের বিষদাঁত কতটা ভাঙতে পারেন এই আইপিএস সেটাই দেখার। 

 তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বলেছেন বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ, অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের পোস্টিং দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অজয় পাল শর্মার।


 একাধিক মহিলাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, সঙ্গে 'সহবাস', স্বল্পবাসনাদের সঙ্গে ছন্দে গা ভাসানো! 'সিঙ্ঘম' IPS অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ


‘সিঙ্ঘম Vs পুষ্পা’, দ্বিতীয় দফার আগে এই শব্দবন্ধ এখন ভাইরাল। নেপথ্যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হওয়া উত্তরপ্রদেশের ‘সিঙ্ঘম’ অজয় পাল শর্মা। তৃণমূলের প্রার্থীর বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি দেওয়ার ভিডিয়ো এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। তারপরই অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বলেছেন বিস্ফোরক অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ, অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের পোস্টিং দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অজয় পাল শর্মার।তাঁর কথায়, “উত্তর প্রদেশের পুলিশ, যাঁর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ। যার বিরুদ্ধে পুলিশ পোস্টিং দেওয়ার নাম করে টাকা খাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যার সঙ্গে একাধিক মহিলার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে এখানে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করা হল! বাংলার মাটি আলাদা, সেটা বুঝতে হবে। বাংলা এসব মেনে নেওয়া হবে না।”



প্রসঙ্গত, অজয় পাল শর্মার একটি ভিডিয়ো নিজের এক্স হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে, স্বল্পবাসনা নর্তকীদের সঙ্গে ছন্দে নাচছেন অজয় পাল শর্মা। সেই ভিডিয়ো সামনে আসতেই মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।

ভিডিয়ো পোস্ট করে মহুয়া লেখেন, “আশা করি আপনার পুলিশি দক্ষতা, নাচের দক্ষতার চেয়ে ভালো।” তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “ওনার নাচের কী ইচ্ছা আছে জানি না! তবে এখানে এসে এসব চলবে না। পুলিশ অবজারভার হয়ে এখানে যে নাচগুলো করছেন, এগুলো এখানে চলবে না। এটা বাংলার মাটি।” তিনি আরও বলেন, “যাদের অঙ্গুলিহেলনে এসেছেন, তাঁরা তো রয়েছেন কেন্দ্রে বসে। এখানে যাদের বিরুদ্ধে এসেছেন, এখানে তো পুষ্পা রয়েছে।”

অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তুলে আদালতে মামলাও হয়েছে। তবে সেই মামলা ধোপে টেকেনি। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট করে দেন, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনের কাজে যুক্ত থাকা কোনও আধিকারিকের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।

এখানে উল্লেখ্য, আফরিন বেগম সিপিএম অন্যতম নতুন যুব মুখ। তিনি বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও ততটা পরিচিতি পাননি। তবে, এবারের ভোটে প্রার্থী হওয়ার আগেই মহম্মদ সেলিম ও শমীক লাহিড়ীর সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি হয়ে নজর কাড়েন।

আফরিন সুন্দরী যুবতী...বিয়ে দিয়ে দিন',মাইক হাতে এইসব বলছেন তৃণমূল নেতা, কমিশনে গেল CPM
আফরিন বেগম ও ওয়াকর আজম


রাত পোহালে দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ। তার আগের দিনও ভোট প্রচারের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে বালিগঞ্জের ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট প্রচারের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম। এমনকী, সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগমের নামে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।


কী কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে আফরিনকে?





আফরিন বলেন, “ওয়াকার আজম নামে তৃণমূল কর্মী আমার নামে ব্যক্তি কুৎসা রটাচ্ছে সংখ্যালঘু ওয়ার্ডগুলিতে। আমার বয়সকে কেন্দ্র করে একাধিক আক্রমণ করছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী গতকালই ৫টার পর থেকে প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূল মাইক নিয়ে এই প্রচার চালাতে পারে ? পুলিশ কেন কোনও কথা বলছে না? আমি মনে করি এটার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হোক।”

মাইক হাতে ঠিক কী বলছিলেন ওই তৃণমূল কর্মী?

দেখা যাচ্ছে একটি সংখ্যালঘু অঞ্চলে মাইক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ওয়াকার আজম। তিনি বলছেন, “ওরা বলছে আফরিনের কম বয়স, নতুন প্রজন্ম ভোট দিন। কিন্তু নির্বাচনে লড়াই করার জন্য কাজ দেখতে হয়,বয়স নয়। আর যদি সুন্দরী যুবতী হয় তাহলে বিয়ে দিয়ে দিন। নির্বাচনে লড়াই করতে পাঠাবেন না। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্রে দাঁড় করিয়েছেন। যার অভিজ্ঞতা প্রচুর।” ঠিক এই ধরনের মন্তব্যের জন্যই ক্ষুব্ধ সিপিএম প্রার্থী। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ করেছে তারা।

এখানে উল্লেখ্য, আফরিন বেগম সিপিএম অন্যতম নতুন যুব মুখ। তিনি বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকলেও ততটা পরিচিতি পাননি। তবে, এবারের ভোটে প্রার্থী হওয়ার আগেই মহম্মদ সেলিম ও শমীক লাহিড়ীর সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি হয়ে নজর কাড়েন। এসআইআরে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি । তখন থেকেই শুরু হয়েছিল আফরিনকে নিয়ে গুঞ্জন। কে তিনি, কী করেন, কী পরিচয় ইত্যাদি ইত্যাদি। পরে দেখা গেল, তৃণমূলের প্রবীণ তথা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যুব মুখ আফরিনের উপরই ভরসা রেখেছেন বাম নেতৃত্ব।


মঙ্গলবার সকালে প্রথমে ফলতার খানপাড়ায় প্রবেশ করেন অজয় পাল শর্মা। সেখান থেকে স্থানীয় লোককে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মূলত যাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের খোঁজার চেষ্টা করছেন তাঁরা।


 জাহাঙ্গীরের পার্টি অফিসের পাশ দিয়ে এগোতেই আটকে দেওয়া হল অজয় শর্মার কনভয়

দ্বিতীয় দফার আগেই সব নজর ঘুরে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার দিকে। সকাল থেকে দাগিদের তালিকা হাতে নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে এলাকায় ঘুরছেন আইপিএস অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma)। সঙ্গে রয়েছে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সোমবার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে পৌঁছে গ গিয়েছিলেন এই পুলিশ অবজারভার। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই মেজাজেই ফের দেখা গেল তাঁকে। তবে এদিন জাহাঙ্গীরের অনুগামীরা রীতিমতো স্লোগান দিতে শুরু করেন।

ফলতায় ঠিক কী ঘটল?
মঙ্গলবার সকালে প্রথমে ফলতার খানপাড়ায় প্রবেশ করেন অজয় পাল শর্মা। সেখান থেকে স্থানীয় লোককে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মূলত যাঁদের বিরুদ্ধে এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের খোঁজার চেষ্টা করছেন তাঁরা। সেই গ্রাম থেকে বেরনো সময় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় আইপিএসের কনভয়কে।


একাধিক মহিলাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি, সঙ্গে 'সহবাস', স্বল্পবাসনাদের সঙ্গে ছন্দে গা ভাসানো! 'সিঙ্ঘম' IPS অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ
20 सुंदर जगहें जहाँ ज़िंदगी में एक बार जाना चाहिए
অদূরেই ছিল জাহাঙ্গীর খানের কার্যালয়। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন অনুগামীরা। অজয় পাল শর্মার গাড়ি এগিয়ে গেলেও, কনভয়ের পিছনে থাকা সিআরপিএফের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কেউ কেউ সন্দেশখালির ঘটনার সঙ্গেও মিল খুঁজে পান এদিন।

সিংহম বনাম পুষ্পা
সোমবার দেখা যায়, জাহাঙ্গীরের খোঁজ করতে করতে তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে আসেন অজয় শর্মা। বলেন, ‘বাড়ির লোককে বলে দেবেন, সবাইকে যেভাবে ধমক দিচ্ছে, তাতে পরে যেন পস্তাতে না হয়।’ আর আজ মঙ্গলবার জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা পুষ্পা রাজ। ঝুকেগা নেহি। মৃত্যু মেনে নেব না। কিন্তু দিল্লির পুলিশের চমকানোতে আমরা ভয় পাই না। ওঁর চমকানো কতটা বাড়তে থাকে দেখা যাক। তারপর আমরা দেখছি। আমাদের এলাকার মা-বোনেরা উত্তেজিত হচ্ছে। ওরা যখন এক হয়ে ঝাঁটাপেটা করবে তখন বুঝতে পারবে।”

তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, "ওনার নাচের কী ইচ্ছা আছে জানি না! তবে এখানে এসে এসব চলবে না। পুলিশ অবজারভার হয়ে এখানে যে নাচগুলো করছেন, এগুলো এখানে চলবে না। এটা বাংলার মাটি।" তিনি আরও বলেন, "যাদের অঙ্গুলিহেলনে এসেছেন, তাঁরা তো রয়েছেন কেন্দ্রে বসে। এখানে যাদের বিরুদ্ধে এসেছেন, এখানে তো পুষ্পা রয়েছে।"

 'আশা করি আপনার পুলিশি দক্ষতা, নাচের দক্ষতার চেয়ে ভাল', এবার IPS অজয় পাল শর্মাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ TMC-র
এই ভিডিয়ো ফুটেজ ঘিরেই বিতর্ক!

 অভিষেকের গড়ে দুঁদে উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ অজয় পাল শর্মা। ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই চর্চিত। এবার এই IPS অজয় পাল শর্মাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ তৃণমূল কংগ্রেসের। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বেশ কিছু ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন। সেই ভিডিয়ো IPS-কে ট্যাগ করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, “আশা করি আপনার পুলিশি দক্ষতা, নাচের দক্ষতার চেয়ে ভালো।”



তৃণমূল প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “ওনার নাচের কী ইচ্ছা আছে জানি না! তবে এখানে এসে এসব চলবে না। পুলিশ অবজারভার হয়ে এখানে যে নাচগুলো করছেন, এগুলো এখানে চলবে না। এটা বাংলার মাটি।” তিনি আরও বলেন, “যাদের অঙ্গুলিহেলনে এসেছেন, তাঁরা তো রয়েছেন কেন্দ্রে বসে। এখানে যাদের বিরুদ্ধে এসেছেন, এখানে তো পুষ্পা রয়েছে।”

তবে এই নিয়ে কী বলছে বিজেপি? বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “যে রুচি প্রদর্শন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতানেত্রীরা, ওই মহিলা বিশেষত, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোনওরকমের প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ইচ্ছা বা প্রতিভা বিজেপির কোনও প্রান্তিক কর্মীরও নেই। আমরা এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।”

মুখ খুলেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “পুলিশ অবজারভার এমন রোল প্লে করছেন, যেন কোনও বিশেষ দলের নেতা হয়ে এসেছেন। এগুলো আমরা বাংলায় দেখতে অভ্যস্ত। বাংলার পুলিশ, পুলিশের অফিসার, তারা তো তৃণমূল পার্টিটাই করে।

 সোমবার থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন আইপিএস অজয় পাল শর্মা। যাঁদের বিরুদ্ধে এলাকার ত্রাস তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে, মূলত তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন এই পুলিশ পর্যবেক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল অভিযোগ।


কলকাতা হাইকোর্টে 'সিংহম' অফিসারের বিরুদ্ধে মামলা, কী বললেন বিচারপতি
অজয়পাল শর্মার বিরুদ্ধে মামলা


কেউ বলছেন ‘দাবাং’, কেউ বলছেন ‘সিংহম’। আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে (IPS Ajay Pal Sharma) ভোটের আগে ফলতা, ডায়মন্ড হারবারের অলি গলিতে যে মেজাজে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাতে এমন সব উপমাই দেওয়া হচ্ছে পুলিশ পর্যবেক্ষককে। এরই মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হল সেই অজয় কুমার শর্মার বিরুদ্ধে।


কী অভিযোগে মামলা হল আদালতে?
সোমবার ফলতার তৃণমূল নেতা তথা প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়ির সামনে গিয়ে কার্যত সতর্ক করতে শোনা যায় অজয় পাল শর্মাকে। জাহাঙ্গীর যেন ভোটারদের ধমক না দেয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয় তাঁর পরিবারকে। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীর জানিয়ে দেন, তিনিও ভয় পাওয়ার ছেলে নন। এরপর আজ, মঙ্গলবার হাইকোর্টে ওঠে মামলা।


 খাটের তলায় লুকিয়ে জগদ্দলের অভিযুক্ত, পুলিশ বাড়িতে ঢুকেই যা করল...
20 सुंदर जगहें जहाँ ज़िंदगी में एक बार जाना चाहिए
আদালতে অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভোটার ও প্রার্থীকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁকে আটকানোর আর্জি জানিয়ে মামলা হয়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে ওঠে সেই মামলা।

ধোপে টেকেনি মামলা
শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি সেই মামলা। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন পর্যন্ত কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। যারা নির্বাচনের দ্বায়িত্বে আছে, তাদের কারও কাজে হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে জানিয়ে দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয। এছাড়া মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় শুনানি হয়নি এদিন।

অজয় পাল শর্মার কনভয় ঘিরে চলে বিক্ষোভ
মঙ্গলবার সকাল থেকেও দাবাং মেজাজে দেখা যায় এই আইপিএসকে। তাঁকে দেখে, জাহাঙ্গীর খানের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন অনুগামীরা। অজয় পাল শর্মার গাড়ি এগিয়ে গেলেও, কনভয়ের পিছনে থাকা সিআরপিএফের কয়েকটি গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কেউ কেউ সন্দেশখালির ঘটনার সঙ্গেও মিল খুঁজে পান এদিন।

গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাঁর বাড়িতে আসা নিয়ে ফিরহাদ বলেন, "নকশাল আমলে যেভাবে রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি হত, একই ধরনের ছবি দেখা যাচ্ছে। রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে এলাকায় অশান্তি নেই, সেখানেও ঝামেলা তৈরি করা হচ্ছে।"

 কাকপক্ষীও টের পায়নি, গভীর রাতে ববি হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তারপর...
কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?


 ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় শর্মা পালের ‘হুঁশিয়ারি’ নিয়ে শোরগোল পড়েছে রাজ্যে। এবার কলকাতার মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বাড়িতে পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষক। তাও গভীর রাতে। আর এই নিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন ফিরহাদ।


কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?


রাত পোহালেই কলকাতা-সহ ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। প্রচার শেষ। ভোটের আগের দিন কিছুটা খোশমেজাজেই দেখা গেল কলকাতা বন্দরের প্রার্থী ববি হাকিমকে। টিভি৯ বাংলাকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আসার কথা জানালেন। ববি বলেন, “গতকাল রাত পৌনে একটার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষক চেতলায় আমার বাড়িতে আসে।” নির্বাচনের সময় যাতে কোনও অশান্তি না হয়, সেই বিষয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী রীতিমতো সতর্ক করে ফিরহাদকে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথে বাধা দেওয়া হলে ভালো হবে না বলেও রীতিমতো কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে যান পুলিশ পর্যবেক্ষক।

ফিরহাদ হাকিম তাঁদের বলেন, “চেতলায় কোনওদিন কোনও অশান্তি হয় না। এবারেও হবে না।” সেই সময় পুলিশ পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমান্ডার কলকাতার মেয়রকে বলেন, যদি কোনও সমস্যা না হয়, তাহলে ভালো হবে। কিন্তু যদি কোনওরকম অভিযোগ এই এলাকা থেকে আসে, তাহলে ভালো হবে না বলেও রীতিমতো কড়া ভাষায় সতর্ক করে যান পর্যবেক্ষক।

গতকাল গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাঁর বাড়িতে আসা নিয়ে ফিরহাদ বলেন, “নকশাল আমলে যেভাবে রাতের অন্ধকারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি হত, একই ধরনের ছবি দেখা যাচ্ছে। রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে এলাকায় অশান্তি নেই, সেখানেও ঝামেলা তৈরি করা হচ্ছে।”

ফিরহাদ আরও বলেন, “চেতলায় বোমা-গুলি তো দূরের কথা, একটা ইটও কোনওদিন পড়েনি। এই কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা বিজেপির পক্ষে ক্ষতিকর হচ্ছে। কারণ, মানুষকে ভয় দেখিয়ে মন জয় করা যায় না। আর শান্তিপূর্ণ এলাকায় এই অতিসক্রিয়তা মানুষের মনে ভয় তৈরি করছে। ভাবছেন, যদি সত্যি সত্যি আসে, তাহলে কি মিলিটারি রুল হবে?”

বিজেপিকে নিশানা করে কলকাতার মেয়র বলেন, “যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী দাপট দেখাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে, মানুষ কিন্তু, খুব রেগে আছেন। ভালোভাবে নিচ্ছেন না। আমার পাড়ার লোকেরা যারা হয়তো অন্য রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী, তাঁরাও এটা ভালোভাবে নিচ্ছেন না।”
সাংবাদিক বৈঠক থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, "এখানে তৃণমূলের যাঁরা-যাঁরা হারবে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে লাইন করতে লেগে গিয়েছে। হাত-পা ধরে যদি আগামী দিনে টিকে থাকা যায়। বহরমপুরের তৃণমূল নেতারা বিজেপি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। পৌরসভায় আলোচনা হয়ে গিয়েছে। মালকড়ি কামানো পার্মানেন্ট করতে তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে।"


 '...বিজেপির সঙ্গে লাইন করা শুরু হয়ে গেছে', রেজাল্টের আগেই বড় কথা অধীরের
অধীর চৌধুরী, কংগ্রেস প্রার্থী

ভোটের ফলপ্রকাশের আগে বিস্ফোরক দাবি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর। এখানে যাঁরা হারবেন তাঁরা যোগসাজশ শুরু করেছেন। বিজেপির হাত-পা ধরে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন তৃণমূল নেতারা। বহরমপুরের তৃণমূলের নেতারা বিজেপিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। পুরসভায় আলোচনা হয়ে গিয়েছে দাবি বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

কী বলছেন অধীর?


সাংবাদিক বৈঠক থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, “এখানে তৃণমূলের যাঁরা-যাঁরা হারবে তাঁরা বিজেপির সঙ্গে লাইন করতে লেগে গিয়েছে। হাত-পা ধরে যদি আগামী দিনে টিকে থাকা যায়। বহরমপুরের তৃণমূল নেতারা বিজেপি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। পৌরসভায় আলোচনা হয়ে গিয়েছে। মালকড়ি কামানো পার্মানেন্ট করতে তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে।”

তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “হারবেন তো অধীর চৌধুরী। হারবেন তো বিজেপির এজেন্টরা। তৃণমূল বহরমপুর লোকসভা জিতেছে, বহরমপুর বিধানসভাও জিতবে। কারা সেটিং করছে তা অধীরবাবুর বক্তব্যেই পরিষ্কার। ঠিকই বলেছেন, যাঁরা হারবেন মানে অধীর চৌধুরীই সেটিং করছেন। কারণ বাংলার বুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করার ক্ষমতা কারও নেই। সেটা অধীরবাবু বুঝে গিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের বিপরীতে লড়াই করেছিলেন। তবে, পরাজিত হন তিনি। এরপর ছাব্বিশের ভোটে তিনি বিধায়ক পদের জন্য লড়াই করছেন। প্রচারের সময় একাধিকবার তৃণমূলের বাধার মুখ পড়তে হয়েছে অধীর চৌধুরীকে বলে অভিযোগ। সেই সময় থেকেই কংগ্রেস নেতা দাবি করেছিলেন যে, তৃণমূল পরাস্ত হবে বলেই তাঁর প্রচারে বাধা দিচ্ছে। অথচ বহরমপুর বিধানসভায় একুশের ভোটে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। অধীরের প্রশ্ন ছিল, তাহলে কেন বিজেপি নয়, শুধু তাঁরই প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে? তবে কি তৃণমূল ভয় পাচ্ছে? এই সবের মধ্যেই এবার বড় মন্তব্য করে বসলেন অধীর।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে অভিযান চালান নির্বাচন কমিশনের পুলিশ অবজারভার, আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। 

ভোটারদের হুমকি ও ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয় বলে ভাইরাল ভিডিও মারফত জানা যায় এবং সেই ভিডিওতে আরও দেখা যায় জাহাঙ্গীরের খোঁজ না পেয়ে পরিবারকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। দেখুন সেই ভিডিও 



এই বিষয়ে কি বলছেন জাহাঙ্গীর খাঁন নিজেই শুনে নিন 



অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে এসে হুমকি দেওয়া পুলিশকর্তাকে ট্যাগ করে ভিডিয়ো প্রকাশ মহুয়ার। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি কাকদ্বীপ ডট কম। তিনি তার নিজের এক্স  হ্যান্ডেলে স্পষ্ট লিখেছেন 
"ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া আপনাকে 'ফ্যান্টাকপ' (FantaCop) স্টাইলে বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখে ভালো লাগল। একদম 'ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল' থাকুন। বাংলা মানেই সর্বদা তৃণমূল" 

এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি কাকদ্বীপ ডট কম)


দ্বিতীয় দফা নির্বাচনকে ঘিরে চরম উত্তেজনা দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায়। নির্বাচন কমিশন অজয় পাল শর্মাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে কি বলছেন তৃণমূল কংগ্রেস 




শেখ শাহজাহান-কাণ্ডের পর সন্দেশখালিতে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল, সেখান থেকেই উঠে আসেন রেখা পাত্র। লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। আর এবার বিধানসভাত ভোটে লড়ছেন। বুলডোজার মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও রেখা পাত্র নিজের বক্তব্যে অনড় থাকলেন।

রেখা পাত্রের মুখে 'বুলডোজার', দ্বিতীয় দফার আগেই বিতর্ক
রেখা পাত্র

বুলডোজার চালিয়ে রক্তাক্ত করার হুঁশিয়ারি শোনা গেল বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রের মুখে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র। টিকিট পাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গায় ভোটের প্রচার করছেন তিনি। সেই প্রচার করতে গিয়েই রেখার মুখে শোনা গেল ‘বুলডোজার’।

কী বলেছেন রেখা পাত্র?
হিঙ্গলগঞ্জের যোগেশগঞ্জ এলাকায় ভোটের প্রচারে গিয়ে জনসভায় রেখা বলেন, “আমরা বুলডোজার চালিয়ে রক্তাক্ত করব। কিন্তু সেই রক্ত বাইরে বেরবে না। আমরা এই তৃণমূল সরকারকে বুঝিয়ে দেব যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খুলে খুলে বিক্রি করে দেওয়ার সাজা কী হয়।”


শেখ শাহজাহান-কাণ্ডের পর সন্দেশখালিতে যে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল, সেখান থেকেই উঠে আসেন রেখা পাত্র। লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। আর এবার বিধানসভাত ভোটে লড়ছেন। বুলডোজার মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও রেখা পাত্র নিজের বক্তব্যে অনড় থাকলেন, সুর আরও চড়িয়ে রেখা পাত্র বলেন, “যেভাবে অত্যাচার করছে, তাতে বুলডোজার চালাবে নারীবাহিনী। আর এই বুলডোজার মানে ঝাঁটা লাঠি নিয়ে বুলডোজার চালানো। সন্দেশখালিতে দেখেছেন? তেমনই বুলডোজার চলবে।”

সমালোচনা তৃণমূলের
এই মন্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূল। তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক বুলবুল রহমান বলেন, “একজন বিধানসভার প্রার্থী এমন ধরনের কথা কীভাবে বলেন? আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছি। মহিলাদের আমরা মায়ের মতো দেখি। তাদের মধ্যে কত নমনীয়তা থাকে। কিন্তু এখানে তার উল্টো দেখতে পাচ্ছি। একজন মহিলা জনপ্রতিনিধি হতে যাচ্ছে, তার মুখের ভাষা এরকম! শান্ত এলাকাকে কি তিনি অশান্ত করতে চাইছেন?”

সোমবার সকালে হাসপাতালের সামনে ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। অসুস্থ হয়ে পড়েন সাংসদ। কোনও ক্রমে সরিয়ে নিয়ে তাঁকে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাংসদ বলেন, বড় বড় পাথর দিয়ে হামলা করা হয়েছে।


কোনওরকমে আমার প্রাণটা বেঁচেছে', হাউহাউ করে কাঁদছেন মিতালি বাগ, ভর্তি করা হল হাসপাতালে
মিতালি বাগের উপর হামলা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ঠিক আগেই সাংসদের উপর হামলার অভিযোগ। উত্তপ্ত আরামবাগ। আজ সোমবার সকাল থেকে চলছে শেষবেলার প্রচার। সেই প্রচার চলাকালীনই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। সাংসদ মিতালি বাগের গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ। তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হল সাংসদকে।

আরামবাগে ঠিক কী হল
সোমবার সকাল থেকে চলছে শেষবেলার প্রচার। এদিনই শেষ হয়ে যাচ্ছে দ্বিতীয় দফার প্রচার। আরামবাগে এদিন সভা করার কথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই সভার আগেই সাংসদের উপর হামলার ঘটনা ঘটল এদিন।




ক্যামেরার সামনে হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন মিতালি। বলেন, “আমার গাড়ির অবস্থা দেখুন। ওরা বড়বড় পাথর ছুড়েছে। আমি কোনও রকমে প্রাণে বেঁচেছি।”

কী বলছে বিজেপি?
বিজেপি বলছে পুরোটাই নাটক। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “পরাজয় নিশ্চিত জেনে এই ধরনের সিনেমা মঞ্চস্থ করা চেষ্টা চলছে। চিত্রনাট্য খুবই দুর্বল। মানুষ এগুলো মানবে না।”

গোঘাটে আক্রান্ত বিজেপিও
এদিকে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। গোঘাটে বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগারের গাড়িতে হামলা করে কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা বিজেপিও প্রতিবাদ শুরু করে। দু পক্ষের হাতেই লাঠি, বাঁশ, কাচ দেখা যায়। পরিস্থিতি সামলাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামানো হয়।

প্রথম দফার ভোটের ঠিক দু'দিন আগে বাইক নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয় কমিশনের তরফে। এর আগে কখনও নির্বাচনে এভাবে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। নির্দেশিকায় বলা হয়, ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও বাইক র‌্যালি করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরনো যাবে না।

কতক্ষণ বাইক চালাতে পারবেন না, দ্বিতীয় দফার আগে ফের নতুন নির্দেশ হাইকোর্টের
বাইক চলাচল নিয়ে নির্দেশ

বাইকের বিধিনিষেধ নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশে সামান্য পরিবর্তন করল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ, সোমবার থেকেই বাইক মিছিল ও একাধিক বাইক নিয়ে চলাফেরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। আগামী বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ রয়েছে। তার আগেই বিচারপতি শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ নয়া নির্দেশ দিল।

কী ছিল কমিশনের নির্দেশ?
প্রথম দফার ভোটের ঠিক দু’দিন আগে বাইক নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা দেওয়া হয় কমিশনের তরফে। এর আগে কখনও নির্বাচনে এভাবে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। নির্দেশিকায় বলা হয়, ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও বাইক র‌্যালি করা যাবে না। সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক নিয়ে রাস্তায় বেরনো যাবে না। শুধুমাত্র হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন, সন্তানকে স্কুল থেকে আনার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া বাইকের পিছনের আসনেও কাউকে বসানো যাবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করে কমিশন।



নির্দেশ খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট
কমিশনের নির্দেশে ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও হাইকোর্টে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে ১২ ঘণ্টা ধার্য করে দেয়। অর্থাৎ নির্দেশ ছিল, ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে মোটরবাইকে পিছনে যাত্রী বলা নিষিদ্ধ করা যাবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কমিশন ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়।

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ
বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজত কুমার গুপ্ত ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, দ্বিতীয় দফার বিধানসভা ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে বিচারপতি বলেছেন, ‘কেউ যদি বাইক নিয়ে হাওয়া খেতে বেরোতে চান, সে ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না।’

 গত ২১ এপ্রিল ও ২৪ এপ্রিল ভোট ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ, সোমবার সেই ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। আগামী বুধবার বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ রয়েছে। যাদবপুর কেন্দ্রেও ভোট আছে ওই দিন। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।


ভোটের মুখে যাদবপুরে বড় জয় বামেদের, সব বিভাগেই জয়জয়কার
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (ফাইল ছবি)


বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার আগেই সামনে এল যাদবপুর বিশ্ববিদ‍্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনের ফলাফল। বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থীদেরই জয়জয়কার। কলা বিভাগ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, সর্বত্রই বামেদের জয়। বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি কোথাও জায়গা করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিসি-তে ছাত্র প্রতিনিধি পাঠানোর জন্যই এই নির্বাচন হয়েছিল।

গত ২১ এপ্রিল ও ২৪ এপ্রিল ভোট ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আজ, সোমবার সেই ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। আগামী বুধবার বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ রয়েছে। যাদবপুর কেন্দ্রেও ভোট আছে ওই দিন। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।



প্রায় ১৩০০ ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক বিভাগে জয়ী হয়েছে ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট ফেডারেশন। ১০০ ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকোত্তর বিভাগও নিজেদের দখলে রেখেছে ডিএসএফ। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর দুটি ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় হয়েছে এসএফআই। অন‍্যদিকে আর্টস বা কলা বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটোই নিজেদের হাতে রাখল এসএফআই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কলা বিভাগের স্নাতকোত্তরে দ্বিতীয় স্থানে এই প্রথমবার তৃণমূল। অন‍্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগ হাতে রাখল উই দ‍্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।



অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলকর্মীরা বিজেপির ৬টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ইটবৃষ্টি করা হয়। তারপরই পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপি। গোঘাটে মিতালি বাগের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যাঁকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়, তিনি নিজেকে তৃণমূলকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন।

মিতালির উপর হামলা 'সাজানো ঘটনা'! পুলিশ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি
মিতালির উপর আক্রমণের ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট

মিতালি বাগের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রচারের শেষ দিনে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আরামবাগ। গাড়ির সামনের সিটে বসে রীতিমতো কান্নাকাটি করতে দেখা যায় তৃণমূল সাংসদকে। তাঁর গাড়ির কাচ কীভাবে ভেঙেচুরে দেওয়া হয়েছে, সেই ছবিও সামনে এসেছে। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মিতালি বাগকে। এই পরিস্থিতির পর পুলিশ যে রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে দিয়েছে, তা বলছে অন্য কথা। গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূলেরই এক কর্মীকে।

কমিশনের তরফে জানতে চাওয়া হয়, এদিন ঠিক কী হয়েছিল মিতালির সঙ্গে। পুলিশ সুপার প্রাথমিক রিপোর্টে জানান, এটা গোষ্ঠীকোন্দলের ঘটনা। আসলে তৃণমূলেরই লোক এই কাজ করেছে। এসপি রিপোর্টে ওই ঘটনাকে ‘সাজানো ঘটনা’ বলে উল্লেখ করা হয়। মিতালির উপর হামলার জন্য কোনও পরিকল্পনা করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশ রিপোর্টে। আগেই এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার।



জানা গিয়েছে, সোমবার শেষদিনের প্রচারে কাঁটালি থেকে কামারপুকুরের দিকে যাচ্ছিলেন বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলকর্মীরা বিজেপির ৬টি গাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ইটবৃষ্টি করা হয়। তারপরই পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপি। গোঘাটে মিতালি বাগের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। যাঁকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়, তিনি নিজেকে তৃণমূলকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন।

​ভোটের নির্ঘণ্ট যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এরই মাঝে আজ সকালে গঙ্গাসাগরে এসে কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ২৯ তারিখ রাজ্যের শেষ দফার নির্বাচন, আর তার ঠিক আগেই শাহের এই গঙ্গাসাগর সফর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। 


আজ সকাল ঠিক ন’টা নাগাদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হেলিকপ্টার গঙ্গাসাগরের হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে অবতরণ করে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তিনি সোজা চলে যান গঙ্গাসাগরের সমুদ্র সৈকতে। সেখানে পবিত্র সাগরে স্নান সেরে তিনি সোজা চলে যান ঐতিহাসিক কপিল মুনির আশ্রমে। তিনি সেখানে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং পুজো দেন।​ অমিত শাহের আগমনকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই দ্বীপ অঞ্চলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড থেকে শুরু করে কপিল মুনির আশ্রম চত্বর—সমগ্র এলাকা গেরুয়া পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল।


 তাঁকে একনজর দেখার জন্য রাস্তার দু’পাশে কয়েক হাজার মানুষের ভিড় জমে যায়। ভিড় সামলাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।২৯ তারিখের অন্তিম দফার ভোটের আগে অমিত শাহের এই সফর কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি এই সফরের মাধ্যমে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন। আশ্রম থেকে বেরিয়ে তিনি উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের জনসংযোগের একটি বড় অংশ।
​পুজো শেষে তিনি আবারও হেলিকপ্টারে করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন, যেখানে তাঁর পরবর্তী নির্বাচনী কর্মসূচি রয়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে এসে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার লক্ষ্মীপুর এলাকা। সোমবার প্রচারের শেষ দিনে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিলি করাকে কেন্দ্র করে বচসায় জড়িয়ে পড়ল তৃণমূল ও বিজেপি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রুট মার্চ করে এলাকা ফাঁকা করতে হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর গ্রামে বিজেপি কর্মীরা দলীয় ইস্তাহার ও লিফলেট বিলি করছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ, সাধারণ লিফলেটের আড়ালে বিজেপি কর্মীরা ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ নামক একটি বিশেষ কার্ড বিলি করছিলেন, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বেকার যুবকদের মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।


 স্থানীয় তৃণমূল নেতা শ্রীদাম মণ্ডল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "কেউ প্রচার করতেই পারে, কিন্তু লিফলেটে টাকার অঙ্ক লিখে কার্ড বিলি করে ভোটারদের সরাসরি প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ। আমরা খবর পেয়ে প্রতিবাদ করেছি।"সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বিজেপি নেতা বিশ্বেশ্বর প্রামাণিক বলেন, "আমরা শুধুমাত্র আমাদের নির্বাচনী ইস্তাহার নিয়ে প্রচার করছিলাম। তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত জেনে আমাদের প্রচারে বাধা দিতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ওরা আমাদের আটকে রেখেছিল।"ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ। দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন আধিকারিকরা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি টহলদারি টিম। জওয়ানরা এলাকায় রুট মার্চ শুরু করতেই কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভিড় সরে যায়।



রবিবার সকালে ঠাকুরনগরে প্রচারে যান মোদী। মঞ্চে তাঁর এক পাশে শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুর। এসআইআর-এ মতুয়াদের অনেকের নাম বাদ গিয়েছে, ঠিক এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি, তাঁদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেওয়া, মতুয়াদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সকালে মতুয়াগড়ে, সন্ধ্যায় পুজো দিলেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে! শেষবেলায় বাঙালি আবেগে শান মোদীর
বাঁদিকে ঠাকুরবাড়িতে মোদী (২০১৯ সালের পুরনো ছবি, মোদী পোস্ট করেছেন), ডান দিকে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মোদী

 ভোটবঙ্গে শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শেষ বেলায় কার্পেট বম্বিংয়ে মতুয়াদের গড়ে মোদী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মতুয়াদের ‘বড় মা’ বীনাপাণি দেবীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। পুজো দেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতেও তারপর করেন রোড শো। এসআইআর নিয়ে যখন বিজেপির বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজিয়েছে তৃণমূল, সেই আবহে দাঁড়িয়ে মোদীর সেখানে যাওয়া ও মতুয়াদের নাগরিকত্বের আশ্বাস দেওয়া রাজনৈতিক দিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


আজ, মতুয়া ঠাকুর মন্দিরে থাকার সময়, এই মন্দিরে আমার কয়েক বছর আগের সফরের কথা মনে পড়ল, যখন আমি বড়মা বীণাপাণি ঠাকুরের আশীর্বাদ পেয়েছিলাম। সেই সফরের একটি ছবিও এখানে রইল… 





রবিবার সকালে ঠাকুরনগরে প্রচারে যান মোদী। মঞ্চে তাঁর এক পাশে শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুর। এসআইআর-এ মতুয়াদের অনেকের নাম বাদ গিয়েছে, ঠিক এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি, তাঁদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেওয়া, মতুয়াদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আজ মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে প্রার্থনা করলাম। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর জি এবং শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর জি-র আদর্শ আমাদের সমাজকে ক্রমাগত আলোকিত করে চলেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘মতুয়া ভোট’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক শক্তি। মতুয়া রাজনীতির বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু হলো নাগরিকত্ব। মতুয়া সম্প্রদায়ের বড় অংশের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়া। উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, এবং সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলোতে মতুয়াদের প্রভাব বিরাট। মোদীর এই সংযোগ একদিকে যেমন মতুয়াদের সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অন্যদিকে এটা তৃণমূলকেও চ্যালেঞ্জ।

‘আমিষ’ মন্দিরে মোদীর পুজো

এদিকে এদিন বিকালেই আবার কলকাতার বুকে ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেন মোদী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা অনেকটাই তাৎপর্যপূর্ণ। কলকাতার অত্যন্ত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মোদীর পরিদর্শন রাজ্যের শাসকদলকে এই বার্তা দিচ্ছে, কীভাবে বাংলার সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আবেগ সম্পর্কে সচেতন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এই মন্দিরের ভৌগোলিক অবস্থান দেখলে বোঝা যায়, কেবল সেখানে বাঙালিরাই হয়, হিন্দিভাষীদেরও বাস। ফলে তাঁদের কাছে এই একটা বড় বার্তা।

পাশাপাশি ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজোর দেওয়ার নেপথ্যে একটা বড় বার্তাও দিলেন মোদী। ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে সাধারণত আমিষ প্রসাদ দেওয়া হয়। সেখানে পুজো দেওয়াও ‘মাছে-ভাতে’ বাঙালির উদ্দেশে বড় বার্তা। প্যারা মিষ্টি দিয়ে মন্দিরে পুজো দেন মোদী।
সালমোনেল্লা বা ই-কোলাইয়ের মত ব্যাকটেরিয়ার দাপটে টাটকা খাবারও কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। জানেন বাড়ির খাবার কখন বিপজ্জনক হতে পারে? অনেকেই মনে করেন ফ্রিজে খাবার রাখলেই তা দীর্ঘদিন ভালো থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই অভ্যাসই সবচেয়ে বড় ভুল।


গরমে ঘরে বানানো এই খাবারও হতে পারে বিষ! 'স্টমাক ফ্লু'-র শিকার হচ্ছেন না তো?
কেন এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?


বাইরে তাপমাত্রা চরচর করে বাড়ছে। আর এই গরমে বেশিরভাগ মানুষের মুখেই একটাই কথা, ‘পেটটা ঠিক নেই’! কেউ বলছেন গ্যাস, আবার কেউ বলছেন বদহজম। কিন্তু জানেন কি চিকিৎসকরা বলছেন একেবারে অন্য কথা। গরমের এই পেটের সমস্যার জন্য দায়ী কি শুধু বাইরের খাবার? একদমই তা নয়, আপনার অতি পছন্দের বাড়ির খাবার থেকেই হতে পারে বিষক্রিয়া। বাসি খাবার, ফ্রিজে রাখা খাবার ভয়ঙ্কর ক্ষতি করছে পেটের। আর একেই ডাক্তারি পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘স্টমাক ফ্লু’।


কেন এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?



গরম বাড়লে মানুষের কষ্ট হলেও ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াদের জন্য এটা আরামদায়ক সময়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ভ্যাপসা গরমে জীবানুরা মাত্র ২০ মিনিটে সংখ্যায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে বলা হয় ‘বাইনারি ফিশন’। ভাবুন তো একবার যে খাবারটা সকালেই বানিয়ে ফ্রিজে রাখলেন, তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কয়েক হাজার হাজার জীবাণু বংশবৃদ্ধি করে ফেলেছে!


সালমোনেল্লা বা ই-কোলাইয়ের মত ব্যাকটেরিয়ার দাপটে টাটকা খাবারও কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। জানেন বাড়ির খাবার কখন বিপজ্জনক হতে পারে? অনেকেই মনে করেন ফ্রিজে খাবার রাখলেই তা দীর্ঘদিন ভালো থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই অভ্যাসই সবচেয়ে বড় ভুল।

কী কী করবেন না?

দু-তিন দিনের বাসি খাবার গরম করে খেলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি।

ফল কেটে অনেকক্ষণ রেখে দিলে তাতে দ্রুত সংক্রমণ ছড়ায়। এমনকী কাঁচা সবজি বা শাকপাতাতেও জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে।

অনেকেই ফুটন্ত খাবার সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। এতে ফ্রিজের ভিতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যা ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।

পেটের এই সমস্যাকে জয় করে সুস্থ থাকতে কী কী করবেন?

১. রান্না করা খাবার দু’ঘন্টার বেশি ফ্রিজের বাইরে রাখবেন না। খাবার ঢাকা দিয়ে তবে ফ্রিজে ঢোকান।

২. খাবার বারবার গরম করলে পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি টক্সিন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩.সপ্তাহে অন্তত একদিন ভিনিগার জল দিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করুন। বিশেষত যে জায়গায় কাঁচা মাছ, মাংস রাখছেন সেই জায়গা বিশেষভাবে পরিষ্কার রাখা জরুরি।

৪.বাজার থেকে আনা সবজি, মাংস নুন গরম জলে ধুয়ে নিন। মনে রাখবেন তাপে জীবাণু মরার সম্ভাবনা প্রবল।

৫. স্টিল এবং প্লাস্টিকের পাত্রের পরিবর্তে কাচ, সেরামিকের পাত্রে খাবার ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন।

অন্নপূর্ণা ভান্ডারে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। তা নিয়ে কটাক্ষ করে কেজরীবাল বলেন, "গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে নির্বাচনের সময় বলেছিল, ৮ মার্চ থেকে প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। আরও একটা মার্চ চলে গেল। এক বছর পেরিয়ে গেলেও মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। আর মোদীজি এখানে এসে বলছেন, মহিলাদের অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা দেবেন। উনি দেবেন না। বরং নিয়ে নেবেন। তাই বিজেপিকে ভুল করেও ভোট দেবেন না।"

বাম, কংগ্রেসকে ভোট দেবেন না', বাংলায় এসে আবেদন কেজরীর, কারণও জানালেন
তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে বেলেঘাটায় প্রচারে অরবিন্দ কেজরীবাল


 তৃণমূলের হয়ে প্রচারে বাংলায় এসেছেন তিনি। রবিবার বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের সমর্থনে প্রচার করতে গিয়ে বাম ও কংগ্রেসকে নিশানা করলেন আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল। বাম ও কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার আবেদন জানালেন তিনি। এর কারণও ব্যাখ্যা করলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করলেন কেজরীবাল।


কী বললেন কেজরীবাল?



এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষকে পাশে নিয়ে বাম ও কংগ্রেসকে নিশানা করে কেজরীবাল বলেন, “ভোট ভাগ হতে দেবেন না। কংগ্রেসকে ভোট দেবেন না। বামেদের ভোট দেবেন না। ভোট নষ্ট হবে। ওরা জিততে চায় না। ওরা ভোট কাটতে চায়। তাই, তৃণমূল প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জেতান।” একসময় ইন্ডি জোটে বাম, কংগ্রেস, তৃণমূলের সঙ্গে ছিল আপ। তবে এখন কেজরীর দল ইন্ডি জোটের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছে। এই অবস্থায় এদিন তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচারে এসে বাম ও কংগ্রেসকে এক হাত নেন আপ সুপ্রিমো।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পোলিং পার্সোনালের ঘাটতি দেখা দেওয়াতেই কমিশন এই বিকল্প ব্যবস্থার পথে হেঁটেছে বলে খবর। এই ঘাটতি পূরণ করতে যেসব জেলায় ইতিমধ্যেই ভোট পর্ব মিটে গিয়েছে, সেখান থেকেই মূলত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন বুথে নিয়ে আসা হচ্ছে।

ভোট করাতে ময়দানে এবার ১৬ হাজার কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী, শুরু চাপানউতোর
চলছে চর্চা


পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ফের এরবার আরও এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটকর্মী সঙ্কটের মোকাবিলা করতে নির্বাচন কমিশন প্রায় ১৬,০০০ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীকে প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করছে। বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে বুথ পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্তরের এত বিপুল সংখ্যক কর্মীর সরাসরি অংশগ্রহণ শেষ কবে দেখা গিয়েছিল তা কেউই মনে করতে পারছেন না। ফলে গোটা ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও বিস্তর চর্চা শুরু হয়েছে। 


দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পোলিং পার্সোনালের ঘাটতি দেখা দেওয়াতেই কমিশন এই বিকল্প ব্যবস্থার পথে হেঁটেছে বলে খবর। এই ঘাটতি পূরণ করতে যেসব জেলায় ইতিমধ্যেই ভোট পর্ব মিটে গিয়েছে, সেখান থেকেই মূলত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন বুথে নিয়ে আসা হচ্ছে। অন্য জেলা থেকে কয়েক হাজার কর্মীকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে ভোট করানোর এই কৌশল প্রশাসনিকভাবেও যে একটা বড় চ্যালেঞ্জের সামিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।



সূত্রের খবর, ১৬ হাজার ভোটকর্মীর প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের স্থায়ী কর্মচারী। নির্বাচন কমিশন সাধারণত রাজ্য সরকারি কর্মীদের দিয়েই ভোট পরিচালনা করলেও, এবার প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রতিটি পোলিং অফিসারের মতো জায়গায় কেন্দ্রীয় কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। যা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মত রাজনীতির কারবারিদেরও। 


তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জোর বিতর্কও শুরু হয়েছে। ‘ভোটকর্মী ঐক্যমঞ্চ’-এর দাবি, রাজ্যে এখনও এমন বহু সরকারি কর্মচারী রয়েছেন যাদের কোনও নির্বাচনী দায়িত্বই দেওয়া হয়নি। যোগ্য রাজ্য সরকারি কর্মীদের বসিয়ে রেখে অন্য জেলা থেকে কেন্দ্রীয় কর্মীদের উড়িয়ে আনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। যা নিয়েও চাপানউতোর চলছে পুরোদমে। 

 সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে নিতিন রাই জানিয়েছেন, দুই বছর আগে বাবার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছিল। পরে তিনি সুস্থও হয়ে যান। কিন্তু, সেই ক্যানসার পরে পেটে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটাও সেরে যায়। সম্প্রতি তা আবার মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বয়সজনিত সমস্যাও ছিল। অর্থাৎ ক্যানসার বারবার শরীরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন বেশ কয়েকদিন। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

ক্যামেরার লেন্সে তুলে ধরেছিলেন দেশের 'আত্মা', প্রয়াত কিংবদন্তি চিত্র সাংবাদিক রঘু রাই
রঘু রাই প্রয়াত


প্রখ্যাত চিত্র সাংবাদিক রঘু রাই প্রয়াত। ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। বেশ কয়েকদিন ধরে একটি বেসরকারি হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। আজ ভোরে তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন তাঁর পরিবার। রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ নয়াদিল্লির লোধি শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানিয়েছেন চিত্র সাংবাদিকের পরিবার। ছবির দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রায় ৫০ বছরের বেশি। স্বাভাবিকভাবেই রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শিল্পমহল ও সংবাদজগত।


ক্যানসারে ভুগছিলেন রঘু রাই



সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে নিতিন রাই জানিয়েছেন, দুই বছর আগে বাবার প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়েছিল। পরে তিনি সুস্থও হয়ে যান। কিন্তু, সেই ক্যানসার পরে পেটে ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটাও সেরে যায়। সম্প্রতি তা আবার মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে বয়সজনিত সমস্যাও ছিল। অর্থাৎ ক্যানসার বারবার শরীরে ছড়িয়ে পড়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন বেশ কয়েকদিন। বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।


রঘুর লেন্সে ভারতের ছবি

রঘু রাই একজন প্রখ্যাত চিত্রসাংবাদিক। ভারতের বহুবিধ রূপ ধরা পড়েছে তাঁর ক্যামেরায়। অনেকে বলেন, তাঁর ছবিতে একটা প্রাণ আছে। তাঁর প্রত্যেকটা ছবি যেন কথা বলে। তাঁর ক্যামেরায় বন্দী হয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, দলাই লামা থেকে মাদার টেরেসা-সহ আরও অনেকে। তাঁর তোলা ১৯৮৪ সালে ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের ছবিও সমাদৃত। শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশকেও লেন্সবন্দী করেছেন রঘু রাই।

১৯৬৫ সাল থেকে তিনি ছবির জগতের সঙ্গে যুক্ত। রঘু রাইয়ের বয়স তখন ২৩ বছর। ছবি তোলা শুরু সেই থেকেই। এক বছর পর অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে ‘স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় প্রধান চিত্রসাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন। প্রায় এক দশক ধরে সেই প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন। এরপর তিনি কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক নিউজ ম্যাগাজিনে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে কিংবদন্তি চিত্রগ্রাহক অঁরি কার্তিয়ে ব্রেসোঁর নজরে আসে তাঁর কাজ। বিশেষভাবে সমাদৃত হয় তাঁর কাজ। পেশাগত জীবনে একাধিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭২ সালে তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পদ্মশ্রীও দেওয়া হয়।