WEATHER

Top News



ওই ক্রুজ শিপে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে হান্টাভাইরাসের অ্যানডেস স্ট্রেইনের হদিস মিলেছে। বহু যাত্রীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে গিয়েছে, সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।


করোনা এসেছিল বিমানে করে, Hantavirus কি জাহাজে করে আসছে?
কীভাবে ছড়ায় হান্টাভাইরাস?


যত কাণ্ড ক্রুজ শিপে। প্রমোদতরীতে আরামে কটা দিন কাটাবেন, বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখবেন বলেই উঠেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু সেখানে যা হল, তাতে এখন গোটা বিশ্বই আতঙ্কে। ফের লকডাউন হবে না তো? আবার ঘরবন্দি জীবনে ফিরতে হবে? এই আতঙ্কের নাম হান্টাভাইরাস (Hantavirus)। ইতিমধ্যেই একটি ক্রুজ শিপে, যেখানে বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা রয়েছেন, ভারতীয়রাও রয়েছেন, সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে হান্টাভাইরাস। মৃত্যু হচ্ছে আক্রান্ত যাত্রীদের। করোনার মতো এই ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়বে না তো?

নেদারল্যান্ডের জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস (MV Hondius)। ওসানওয়াইড এক্সপেডিশন এই প্রমোদতরী পরিচালন করে। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া (Ushuaia) থেকে সাউথ আটলান্টিক সাগর ভ্রমণে বেরিয়েছিল ক্রুজ শিপটি। দক্ষিণ আটলান্টিকের আন্টার্কটিকা, সাউথ জর্জিয়া, সেন্ট হেলেনা, নাইটেঙ্গেল আইল্যান্ড ঘুরছিল জাহাজটি, আচমকাই গত ৬ এপ্রিল এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর পেটের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। মে মাস শুরু হতে হতে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ক্রুজ শিপে, অন্তত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার যেমন মৃত্যু হয়েছে, তেমনই তাঁর স্ত্রী মৃতদেহের সংস্পর্শে আসার পর তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। আরেক জার্মান নাগরিকের মৃত্য়ুও হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত কমপক্ষে আটজন। সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে।



কী এই হান্টাভাইরাস?
হান্টাভাইরাস হল ইঁদুর বাহিত ভাইরাস, যা থেকে গুরুতর সংক্রমণ হয়। সাধারণত ইঁদুরের মল,মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এছাড়া সংক্রমিত জায়গার সংস্পর্শে এলেও, বা ওই জায়গা পরিষ্কার করতে গিয়ে হান্টাভাইরাস ছড়াতে পারে। জঙ্গল, মাঠ বা ক্ষেত থেকেও মানবদেহে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ থাকলে এক মানবদেহ থেকে আরেক মানবদেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।

 কত দিন শরীরে থাকে হান্টা ভাইরাস?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, মানবদেহে এক থেকে ছয় সপ্তাহ থাকে এই সংক্রমণ। তার থেকে বেশি সময়ও থাকতে পারে হান্টা ভাইরাস। সাধারণত আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়।

উপসর্গ কী কী?
হান্টাভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গ হল জ্বর, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শরীরে কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, পেটে যন্ত্রণা, বমি, ডায়ারিয়া, তলপেটে ব্যথা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রবল শ্বাসকষ্ট ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা যায়।

ওই ক্রুজ শিপে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে হান্টাভাইরাসের অ্যানডেস স্ট্রেইনের হদিস মিলেছে। বহু যাত্রীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে গিয়েছে, সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

হান্টাভাইরাস নিয়ে চিন্তা কেন?
হান্টাভাইরাস নিয়ে চিন্তার সবথেকে বড় কারণ হল এই ভাইরাসের কোনও চিকিৎসা নেই। কোনও টিকাও আবিষ্কার হয়নি হান্টাভাইরাস প্রতিরোধের। তাই পর্যবেক্ষণ, সাধারণ চিকিৎসা বা সেবা ছাড়া কোনও আলাদা চিকিৎসা করা যায় না। এশিয়া ও ইউরোপে হান্টাভাইরাসে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম হলেও, আমেরিকায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যু হার রয়েছে এই হান্টাভাইরাসের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস অ্যাধানম গ্রেবিয়াসিল জানিয়েছেন, এই ভাইরাস বিরল। ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মানবদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে এই ভাইরাস। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ছয় সপ্তাহ থাকতে পারে এই ভাইরাস। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি হেলথ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ডঃ এ মাহামুদ বলেছেন, “২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় এমন পরিস্থিতি দেখেছিলাম যেখানে একজন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন এবং তারপরে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন। এখনও একই পরিস্থিতি। সীমাবদ্ধ জায়গায় নিকটবর্তী কনট্যাক্টের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। যদি কনট্যাক্ট ট্রেসিং ও আইসোলেশনের মতো পদক্ষেপ করা হয়, তাহলে সংক্রমণের চেইন ভাঙা যাবে।”

এই ক্রুজ শিপে আক্রান্তরা বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা। আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইৎজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও সেন্ট হেলেনার বাসিন্দা। আবার এই ক্রুজ শিপে দুইজন ভারতীয় ক্রু সদস্যও রয়েছেন। এরপরই আরও শঙ্কা বেড়েছে, ভারতেও ছড়িয়ে পড়বে না তো এই মারণ ভাইরাস?

চন্দ্রনাথের মাও তৃণমূলকেই দায়ী করেছিলেন। খুনের পরই তিনি বলেছিলেন, "গরম গরম বক্তব্য রেখেছিল, শাসকদলে যারা ছিল, ৪ তারিখের পর কোনও দিল্লির বাবাও রক্ষা করতে পারবে না। তার পরিণতি এটা। জীবন বলি দিতে হল আমার ছেলেকে। ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ অনেকগুলো বিধানসভার দায়িত্বে ছিল আমার ছেলে।"

 'চন্দ্রনাথ খুনে অভিষেকের হাত, গ্রেফতার হবেই', বিস্ফোরক অর্জুন সিং
চন্দ্রনাথ রথ


শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের নেপথ্যে কার হাত? এবার বিস্ফোরক নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। তাঁর অভিযোগ, চন্দ্রনাথ রথকে খুন করিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলায় মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবেই। অভিষেক যে কোনও দিন গ্রেফতার হবেন।


অর্জুন বলেন, “সিমেন্ট-বালি-পাথর বিক্রি করেছে। যে পরিমাণে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে, সরকার যখন পড়বে, তার মাথা তো খারাপ হবেই। ২০০০ পুলিশ হাত থেকে চলে যাবে। চোরকে তো গ্রেফতার করবেই। প্রধানমন্ত্রী তো ইঙ্গিত দিয়েই দিয়েছেন। মহাজঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। অভিষেক তো যে কোনও দিনই গ্রেফতার হতে পারে। এই তো সেদিনই খুন করিয়ে দিল চন্দ্রনাথকে। চন্দ্র খুনে অভিষেক দায়ী। হতাশা থেকে করিয়েছে।”



চন্দ্রনাথের মাও তৃণমূলকেই দায়ী করেছিলেন। খুনের পরই তিনি বলেছিলেন, “গরম গরম বক্তব্য রেখেছিল, শাসকদলে যারা ছিল, ৪ তারিখের পর কোনও দিল্লির বাবাও রক্ষা করতে পারবে না। তার পরিণতি এটা। জীবন বলি দিতে হল আমার ছেলেকে। ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ অনেকগুলো বিধানসভার দায়িত্বে ছিল আমার ছেলে। তবে পর্দার আড়ালেই কাজ করত। রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় যোগ ছিল না।” উল্লেখ্য, এই ‘৪ তারিখের পর দিল্লির বাবা রক্ষা করতে পারবে না’ এহেন হুমকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দিতে শোনা গিয়েছিল।


প্রচারের সময়ে হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক বলেছিলেন, “আমি সবসময় উদারতায় বিশ্বাস করি না। যারা ৫ বছর ধরে বাংলার মানুষকে অত্যাচার করেছ। আইন সবার জন্য এক। যেখানে যেখানে এরা বেশি লাফালাফি করবে, শান্তি সম্প্রীতি বজায় রেখে এবার রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে একটু ডিজেও বাজবে। কেউ শালীনতার গণ্ডি পেরোবেন না। ” যদিও অর্জুন সিংয়ের এই বিস্ফোরক দাবির প্রেক্ষিতে তৃণমূলের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। এরপর একাধিক কর্মসূচি সেরে রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে তিনি পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রীতে বাড়িতে আসার পর এদিন সকালে শান্তিকুঞ্জের সামনে মানুষের ঢল নামে। ভিড় সামাল দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
 

দুপুরে কব্জি ডুবিয়ে খেলেন শুভেন্দু, পাতে কী কী ছিল জানেন
মধ্যাহ্নভোজে কী কী খেলেন শুভেন্দু অধিকারী?


বাড়ির মেজো ছেলে আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েকমাস রাজ্যজুড়ে দৌড়ে বেড়িয়েছেন। ফলে পরিবারের সঙ্গে তেমন সময় দিতে পারেননি। আর শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বিকেল পর্যন্ত বাড়িতেই কাটালেন। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরের দিন শান্তিকুঞ্জের সামনে মানুষের ভিড়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দিন বাড়িতে কীভাবে কাটালেন শুভেন্দু?

শান্তিকুঞ্জের বাইরে জনতার ঢল-



শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। এরপর একাধিক কর্মসূচি সেরে রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে তিনি পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রীতে বাড়িতে আসার পর এদিন সকালে শান্তিকুঞ্জের সামনে মানুষের ঢল নামে। শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় সামাল দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।


শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী এবং দুই ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারী শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে দেখা করলেন দফায় দফায়। বিভিন্ন সরকারি অধিকারিকরাও মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে আসেন। ফুল, মিষ্টি-সহ কচি কাঁচাদের আনা উপহার গ্রহণ করলেন দিব্যেন্দু, সৌমেন্দুরা। সারা শান্তিকুঞ্জ পদ্মফুলের উপহারে ভর্তি হওয়ার অবস্থা।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সকাল থেকে কোনও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে দেখা করেননি। বিগত এতদিনের শারীরিক ধকলের জন্যই তিনি এদিন সকাল থেকে বিশ্রাম নেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে মা গায়ত্রী দেবী, বাবা শিশির অধিকারী ও মাসি মুক্তি ভট্টাচার্যকে প্রণাম করেন বাড়ির মেজো ছেলে শুভেন্দু। আজ বিশ্ব মাতৃ দিবস উপলক্ষে আলাদাভাবে উদযাপন হয়নি অধিকারী বাড়িতে।

দুপুরে কী খেলেন শুভেন্দু?

শুভেন্দুর জন্য এদিন মা ও মাসি মিলে একাধিক পদের আয়োজন করেন। জানা গিয়েছে, এদিন মধ্যাহ্নভোজে মুখ্যমন্ত্রীর পাতে ছিল মোচার তরকারি, সর্ষে ইলিশ ভাপা, পোনা কালিয়া, করলা সেদ্ধ, মুরগির মাংস। শেষ পাতে ছিল টক দই। বিকেলে শান্তিকুঞ্জ থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।



ব্রোঞ্জের চিতা নিয়ে হাজির তৃণমূল কর্মীএদিন শান্তিকুঞ্জের সামনে এক বিজেপি কর্মী ব্রোঞ্জের তৈরি চিতা নিয়ে হাজির হন। উত্তম দাস নামে ওই বিজেপি কর্মী দমদমের বাসিন্দা। তিনি মনে করেন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার বাঘ। তাই এই মূর্তিটি মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার স্বরূপ দেবেন। আবার কেউ শঙ্খ নিয়ে হাজির হন শুভেন্দুর বাড়ির সামনে।

কোহিনূর, ঋজুরা যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তোপ দেগে চলেছেন, তখন দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতাদের এই তোপ দাগাদাগির চ্যাট প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। এখন এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার। 


 তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ ফাঁস, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে 'কুত্তা' শব্দ, চ্যাটে আর কী লেখা?
সামনে এল তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট

ভোটে ভরাডুবি হতেই কোন্দল প্রকট হচ্ছে তৃণমূলে। টিকিট পেতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কেউ। আবার ভোটে হারের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন কেউ। ঋজু দত্ত, কোহিনূর মজুমদারদের মতো মুখপাত্রদের সাসপেন্ড করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু, কোন্দল যে থামানো যাচ্ছে না, আরও একবার স্পষ্ট হল। এবার তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কাউন্সিলর, নেতারা বাদানুবাদে জড়ালেন। আর সেই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন সাংসদ তথা তৃণমূলের উত্তর কলকাতার চেয়ারপার্সন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সামনে চলে এসেছে। আর তাতেই অস্বস্তি বাড়ল ঘাসফুল শিবিরের। 

তৃণমূলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাদানুবাদ-


বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে মুখ খুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। কলকাতাতেও একাধিক আসনে হেরেছে তারা। ভোটে হারার পর একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। আবার ভোটে হারার জন্য অভিষেকের বিরুদ্ধেও অনেকে মুখ খুলছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন কলকাতা পৌরনিগমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের উত্তর কলকাতার চেয়ারপার্সন সুদীপকে নিশানা করে তিনি বলেন, “সুদীপদা, আপনি উত্তর কলকাতার অঘোষিত সম্রাট। আপনার তো উচিত ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকানো। সেই জায়গায় আপনি তো নিজেই ঘরে ঢুকে আছেন। অনেক দিন ধরে পদ আঁকড়ে বসে আছে‌ন। অনেক হয়েছে, এ বার ছাড়ুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।’’

১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের এই মেসেজের পর পাল্টা আসরে নামের সুদীপ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলররা। বিধানসভা ভোটে শ্যামপুকুরের পরাজিত প্রার্থী শশী পাঁজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার জবাব দেন কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই তোপ দাগাদাগির মধ্যেই একটি মেসেজ লেখেন স্বয়ং সুদীপ। একজনকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘‘এদের একটাই উত্তর। হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার। জবাব দিও না। আমি দিয়ে দেব।’’ তখন সুব্রত পাল্টা লেখেন, ‘‘দাদা, আমি দলের সৈনিক। ‘কুত্তা’ নই। আমরা দলের সৈনিক আর আপনি আমারই চেয়ারম্যান। আমি তো আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করেছি।’’ এরই মধ্যে কেউ একজন লেখেন, দলের মধ্যে এখন এই দলাদলি ঠিক নয়।

কোহিনূর, ঋজুরা যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তোপ দেগে চলেছেন, তখন দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতাদের এই তোপ দাগাদাগির চ্যাট প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। এখন এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।

বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছিলেন, এইভাবে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প মমতা সরকার বাংলায় চালু হতে দেননি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়েই। সেক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন রাজ্যের বাসিন্দারাও। মমতা সরকারের পত্তনের পর থেকেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা প্রায় অবলুপ্তির পথে।


মহিলারা ৩০০০ টাকা করে পাবেন? শুরু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে আলোচনা
মহিলা টাকা প্রদানে সিদ্ধান্ত হতে পারে নবান্নে


সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাবিনেট বৈঠক। স্থান নবান্নের সভাঘর। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম বৈঠকে শুভেন্দু। সেখানে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হবে। তারপর পাঁচ জন শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের নিয়ে ক্যাবিনেট বৈঠক করবেন। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের প্রকল্পের যেগুলো আগের সরকার গ্রহণ করেনি,তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আয়ুষ্মান ভারত এখানে গ্রহণ করা হয়নি। নির্বাচনী প্রচারেও এসে বারবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই নিয়ে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।


বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছিলেন, এইভাবে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প মমতা সরকার বাংলায় চালু হতে দেননি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়েই। সেক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন রাজ্যের বাসিন্দারাও। মমতা সরকারের পত্তনের পর থেকেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা প্রায় অবলুপ্তির পথে। কারণ সেই কার্ড অনেক বেসরকারি হাসপাতালই নেওয়া বন্ধ করে গিয়েছে। প্রশ্নের মুখে পড়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারও।



সেই বিষয়টি নিয়েও শুভেন্দুর বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। মহিলারা যাতে আর্থিক সুবিধা পান, তার জন্য এই প্রকল্পে অন্য নাম দিয়ে চালু করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।

আগেই বিজেপি ঘোষণা করেছিল, বলা ভালো তাঁদের সংকল্প পত্রেও উল্লেখিত ছিল, অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করা হবে বাংলায়। তাতে মহিলারা মাথা পিছু ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। সেই বিষয়েই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নাকি এদিনের বৈঠকে, সেটাই দেখার।

*শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে কি সাগরের সুমন্ত? সোশ্যালে ভাইরাল ‘মৎস্য ও সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী’র নাম; আশায় বুক বাঁধছেন মা ও সাগরবাসী*


বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। শুক্রবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাঁচজন পূর্ণ মন্ত্রীর নাম ঘোষণা হলেও, সাগরের মানুষের নজর এখন আটকে রয়েছে তাঁদের ঘরের ছেলে সুমন্ত মণ্ডলের দিকে। যদিও প্রথম দফায় তাঁর নাম ঘোষণা হয়নি, তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক অলিন্দে জোরালো খবর— সুন্দরবন উন্নয়ন ও মৎস্য দপ্তরের দায়িত্ব পেতে চলেছেন এই উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক-বিধায়ক।
শুক্রবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন ফ্রেজারগঞ্জের বাড়িতে টিভির পর্দার সামনে এক মুহূর্তের জন্যও সরেননি সুমন্ত মণ্ডলের মা ও পরিবারের সদস্যরা। প্রথম দফার পাঁচ মন্ত্রীর তালিকায় ছেলের নাম না থাকলেও আশা ছাড়েননি তাঁরা। সাগরের মানুষের বিশ্বাস, শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত এবং শিক্ষিত ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে সুমন্ত মণ্ডলের জায়গা মন্ত্রিসভায় পাকা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুমন্ত মণ্ডল কেবল একজন বিধায়ক নন, তিনি একজন পেশাদার শিক্ষক এবং দীর্ঘদিনের সমাজসেবী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো কঠিন জমিতে বিজেপির সংগঠনকে ধরে রাখা এবং উপকূলীয় মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট জ্ঞানই তাঁকে মন্ত্রিসভার দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। বিশেষ করে সুন্দরবন উন্নয়ন এবং মৎস্য দপ্তরের জন্য তাঁর মতো স্থানীয় ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে দলের অন্দরমহল।
প্রাথমিক পাঁচ মন্ত্রীর নাম ঘোষণার পর এখন জল্পনা তুঙ্গে পরবর্তী তালিকা নিয়ে। সাগরবাসীর প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় সুমন্ত মণ্ডলের নাম ঘোষণা হবেই।


গঙ্গাসাগর থেকে কাকদ্বীপ ডট কম নিউজ টিম

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শপথ গ্রহণের পর এই কাকদ্বীপ বিধানসভায় বিজেপির তরফ থেকে দেখা গেল এক অভিনব উদ্যোগ। 


এই দিন সমাজের কাকদ্বীপ বিধানসভায় সকল ব্যবসায়ী বৃন্দদের কাছে গিয়ে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার পক্ষ থেকে যুব মোর্চার নেতৃত্ব ও সদস্যরা প্রত্যেকের কাছে কাকদ্বীপ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক শ্রী দীপঙ্কর জানার পক্ষ থেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ রূপে ও অভিনন্দন জানায়। 
এর সাথে সকল ব্যবসায়ীদের কাকদ্বীপ বাজারের ভয়ে আউট, ভরসা ইনের স্লোগানের মধ্য দিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। 
আজও জনতা পার্টির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন মজুমদার জানান আমাদের কাকদ্বীপ বিধানসভার শ্রদ্ধেয় সম্মানীয় দীপঙ্কর জানা মহাশয়ের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি যদি কেউ নষ্ট করতে চায় তাহলে তারা এখনো মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। 
কোন ব্যবসায়িক আছে যদি কোন অসাধু ব্যক্তি গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি তথা কাকদ্বীপ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক শ্রী দীপঙ্কর জানা মহাশয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আইনা নৌক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই দিন একই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির কাকদ্বীপ বিধানসভার মন্ডল এর সভাপতি রাজিব দাস ও অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। 
কাকদ্বীপ বাজার ব্যবসায়ীরা এই রূপ কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানায়।

মমতার ফেসবুক খুললে দেখা যাবে তাঁর বায়ো সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। লেখা,অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন। তারপরই লেখা চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। ব্র্যাকেটে লেখা ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম বিধানসভা। কিন্তু, বায়োতে প্রাক্তন শব্দটা জুড়তে পারলেন না।


প্রাক্তন' হয়েও মমতা 'মুখ্যমন্ত্রী'! সোশ্যাল মিডিয়ার বায়োতে কী লিখলেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


ভাঙলেন, তবু মচকালেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জন্য এই প্রবাদটাই হয়তো এখন প্রযোজ্য। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা। দুই দিন আগেও জোর গলায় বলেছিলেন তিনি হারেননি। ইস্তফা কেন দেবেন? এখনও পর্যন্ত যা খবর তিনি ইস্তফা দেননি। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্তও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে প্রাক্তন শব্দটাও ছিল না। জ্বলজ্বল করছিল চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল (Chief Minister Of West Bengal)। আজ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। কিন্তু তারপরেও তাঁর প্রোফাইলের বায়োতে যুক্ত হল না ‘প্রাক্তন’ শব্দটা। তাহলে কী লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


বায়োতে কী লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
মমতার ফেসবুক খুললে দেখা যাবে তাঁর বায়ো সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। লেখা,অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন। তারপরই লেখা চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। ব্র্যাকেটে লেখা ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম বিধানসভা। কিন্তু, বায়োতে প্রাক্তন শব্দটা জুড়তে পারলেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলের বায়োতেও একইভাবে লেখা পরিবর্তন করেছেন। এখনও নিজেকে প্রাক্তন মানতে নারাজ মমতা।



20 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া বায়ো

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী, ৭ মে পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু, প্রথা অনুযায়ী, সব রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কথা ভোটের রেজাল্টের দিনই। ২০১১ সালে ঠিক সেই ছবিই দেখা গিয়েছিল। তখনও ভোটের ফল ঘোষণা হয়নি। কিন্তু, ট্রেন্ড দেখেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেখানে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করলেন না। এমনকী, নতুন সরকার গঠনের পরও প্রাক্তন শব্দটা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে জুড়তে পারছেন না। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বদলে গেল শুভেন্দুর বায়ো   
আজ ব্রিগেড মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী তিনি। গতকালই বিধানসভার পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় শুভেন্দুকে। আর আজ ব্রিগেড মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। কিছুক্ষণ আগেও যখন শুভেন্দুর সোশ্যাল মিডিয়ার বায়োতে লেখা ছিল বিরোধী দলনেতা। আর এখন বায়োতে তিনি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী।

জঙ্গলমহলেই পড়েছে একের পর এক লাশ। এই এলাকা একটা সময়ে পুরোপুরিই সিপিএমের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই এলাকায় বহুদিন ধরেই সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ক্ষুদিরাম টুডু। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন প্রত্যেক বিধানসভা নির্বাচনেও। কিন্তু হেরে যেতেন। তারপরও তিনি তাঁর লড়াই ছাড়েননি। 

সমাজ গড়ার কারিগর তিনি, একের পর এক হারেও দাঁত কামড়ে লড়াই করেছেন, জঙ্গলমহলের সেই ক্ষুদিরাম টুডুকেই মন্ত্রী করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার বিজেপির
শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু

আজ, ব্রিগেডে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু! জঙ্গলমহলে আজ উৎসবের আমেজ। জঙ্গলমহলে ক্ষুদিরাম টুডু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ একেবারেই আদিবাসী অধ্যুষিত বিধানসভা এলাকা। এই জঙ্গলমহলে একসময়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে মাওবাদীরা। এই জঙ্গলমহলেই পড়েছে একের পর এক লাশ। এই এলাকা একটা সময়ে পুরোপুরিই সিপিএমের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই এলাকায় বহুদিন ধরেই সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ক্ষুদিরাম টুডু। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন প্রত্যেক বিধানসভা নির্বাচনেও। কিন্তু হেরে যেতেন। তারপরও তিনি তাঁর লড়াই ছাড়েননি।

মূলত ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল (BJMPM) নামক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং আদিবাসী সমাজের অধিকার ও সাঁওতালি ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। আদিবাসী সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। তিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষকও। আদিবাসী মহলে সমাজ গড়ার কারিগর তিনি। সেই ক্ষুদিরাম টুডু আজ মঞ্চে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন। অর্থাৎ জঙ্গলমহলে বার্তা গেল, পিছিয়ে পড়া জনসমাজের কাছে বার্তা গেল, যে তাঁদের ওপরেও নজর রেখেছে বিজেপি। তাঁদের উন্নয়নের ওপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। তাই আপাতত যে পাঁচ জন আজ মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ক্ষুদিরাম টুডু। এদিন ব্রিগেডে জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি হিসাবে অলচিকি ভাষাতেই শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম।


মমতাকে ‘আনফলো’, মোদীকে 'ফলো' করা শুরু করল কলকাতা পুলিশ
20 

এবারের নির্বাচনে ক্ষুদিরামের বিপরীতে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন তনুশ্রী হাঁসদা। ক্ষুদিরাম টুডু পেয়েছেন ১,৩১,১৪৫ ভোট। তিনি এই নির্বাচনে ৫২,২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে এসে কিন্তু নিজেকে 'গ্ল্যামার' দুনিয়াতেই আটকে রাখেননি। তিনি তখন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। গ্ল্যামার ছেড়ে বেরিয়ে একেবারে আমপোশাকে, এক্কেবারেই পাশের বাড়ির 'দিদির' ভূমিকায় নেমে মাটি চষে বেরিয়েছিলেন।

ফ্যাশন জগৎ থেকে কীভাবে রাজনীতির আঙিনায় এলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল?
অগ্নিমিত্রা পাল


একটা সময়ে শো স্টপারের সঙ্গে র‌্যাম্পে হেঁটেছেন। তাঁর প্রিয় রঙ ছিল সাদা। তাঁর ডিজাইন করা পোশাকে সাদার ছোঁয়া থাকতই। তা সে ইন্ডিয়ান হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন! সেই রঙে লাগল গেরুয়ার ছোঁয়া। রেড কার্পেট থেকে সোজা রাস্তায় তিনি। মিশেছেন মাটির সঙ্গে। দাঁত কামড়ে লড়াই করেছেন। ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল আজ রাজ্যের মন্ত্রী। শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পর যে পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, তাঁদের এক জন অগ্নিমিত্রা পাল। তবে তিনি কোন দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 


২০১৯ সালের মার্চ মাসে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে এসে কিন্তু নিজেকে ‘গ্ল্যামার’ দুনিয়াতেই আটকে রাখেননি। তিনি তখন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। গ্ল্যামার ছেড়ে বেরিয়ে একেবারে আমপোশাকে, এক্কেবারেই পাশের বাড়ির ‘দিদির’ ভূমিকায় নেমে মাটি চষে বেরিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ২০২৬ সালেও নিজের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।



যে মানুষটা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় ডিপ্লোমা করেছেন এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁকে এরপর থেকে দেখা যায় রাস্তাতেই। যে কোনও আন্দোলনে-প্রতিবাদে রাস্তায় ছিলেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার যে মানুষটি ছিলেন নিতান্ত গ্রামের বাসিন্দাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, তিনি বারংবার পৌঁছে গিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামের নির্যাতনের শিকার যে কোনও তরুণীর বাড়ি। মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন বিচার আনতে। আজ অগ্নিমিত্রাকে মন্ত্রী করে তারই স্বীকৃতি দিল বিজেপি।

প্রসঙ্গত, এবারের ভোটে একাধিকবার উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী প্রচারে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তুলেছিল বিজেপি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও হয়। এবার বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস।

মতুয়া ভোট এককাট্টা করে ধরাশায়ী করেছেন তৃণমূলকে, নতুন সরকারে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেলেন অশোক কীর্তনিয়া
উচ্ছ্বসিত অশোক

জিতেছিলেন ২০২১ সালেও। জিতেছেন ছাব্বিশেও। মতুয়াগড়ে ফের ফুটিয়েছেন পদ্ম। এসআইআর ইস্যু উঠলেই বারবার ফিরে ফিরে আসে তাঁর নাম। তিনি বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক। তিনি এবার শপথ নিলেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী হিসাবে। প্রসঙ্গত, এসআইআরের সময় অশোক কীর্তনিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর চাপানউতোর হয়। কিন্তু মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে যে বিজেপির নজর শুরু থেকেই ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়েছে শান্তনু ঠাকুরের। এবার মতুয়াদের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা অশোক কীর্তনিয়াকে মন্ত্রী করা অবশ্যই যে মতুয়াদের জন্য একটা বড় প্রাপ্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  


প্রসঙ্গত, এবারের ভোটে একাধিকবার উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী প্রচারে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তুলেছিল বিজেপি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও হয়। এবার বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। সিপিএমের হয়ে লড়েছিলেন পীযূষকান্তি সাহা। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন অশোক কীর্তনিয়াই। তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩১৭ ভোট। তাঁর ভোট শেয়ার ৫৬.৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূলের বিশ্বজিৎ দাস পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৪৭ ভোট। তাঁর প্রাপ্ত ভোট শেয়ার ৩৭.২১ শতাংশ। অন্যদিকে সিপিএম পেয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৫৫৪ ভোট। 



এদিন ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই এক এক করে শপথ নেন ৫ মন্ত্রী। তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল। তখনই রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অশোক কীর্তনিয়া। তবে এখনও বণ্টন হয়নি দফতর। 

মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাছতে বিশেষ দেরী হয়নি বিজেপির। শুভেন্দু অধিকারীর নাম বেছে নিয়েছেন অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই আজ, শনিবার শপথ নিলেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রীরও শপথ গ্রহণও সম্পন্ন হল এদিন।

সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়নে তৈরি হচ্ছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা
মন্ত্রী হিসেবে কে কে শপথ নিলেন



বাংলায় তৈরি হচ্ছে নতুন সরকার। তৈরি হবে নতুন মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে মন্ত্রীদের নামও বিশেষ বিবেচনা করেই বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো একাধিক তাবড় নেতা উপস্থিত রয়েছেন। এদিন সেই বৃহত্তর মঞ্চে একাধিক মন্ত্রীও শপথ নিলেন।

দিলীপ ঘোষ
শুভেন্দু অধিকারীর পরই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই দিলীপ ঘোষ, যিনি বঙ্গ বিজেপির নতুন করে উত্থানের অন্যতম কাণ্ডারী বলেই মনে করা হয়। আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এহেন গ্রাফ হঠাৎ করেই থেমে গিয়েছিল একপ্রকার।


বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদীর মঞ্চে দেখা যায় সেই দিলীপ ঘোষকে। ফিরিয়ে দেওয়া হয় পুরনো মাটি। খড়গপুর সদর থেকে নিজেকে প্রমাণ করে এবার দিলীপের স্থান হতে চলেছে বাংলার মন্ত্রিসভায়। এক্ষেত্রে সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দিলীপকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অগ্নিমিত্রা পাল
বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই দিন শেষ। নতুন মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা মুখ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হয়ে গেল মহিলা মন্ত্রীর নাম। শুভেন্দু ও দিলীপের পরই তৃতীয় নাম অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক।

একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বাংলার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অগ্নিমিত্রা। পরে বিজেপির হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবন শুরু। নিজের কেন্দ্র থেকে বিধানসভা, মিটিং-মিছিল-প্রতিবাদে দিনে দিনে নিজের রাজনৈতিক-সত্ত্বাকে চিনিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এবার তিনি মন্ত্রী।

ক্ষুদিরাম টুডু
প্রথম দিন যে কজন মন্ত্রী শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য-রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ নয়, দাপুটে নেতাও নয়। দিলীপ-অগ্নিমিত্রার পরই তাঁর নাম ঘোষণা হয়। গোটা দেশের তাবড় নেতাদের সামনে শপথ নিলেন আদিবাসী নেতা। শপথ নিলেন অলচিকি ভাষায়। জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি, রানিবাঁধের বিধায়ককে পূর্ণমন্ত্রী করল বিজেপি। ক্ষুদিরামের শপথ যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অশোক কীর্তনিয়া
মন্ত্রিসভায় চমকের পর চমক। রানিবাঁধের পরই বনগাঁ উত্তর। মন্ত্রী হচ্ছেন অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই অশোকই শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসেবে। এর পিছনেও বিজেপির বিশেষ বিবেচনা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তৃণমূল থেকে বিজেপি, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সবার কাছেই বরাবর আলাদা গুরুত্ব রেখেছে। ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকে আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে মতুয়াগড়ের মন পেয়েছে বিজেপি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় সেই এলাকারই প্রতিনিধি অশোক।

নিশীথ প্রামাণিক
শুভেন্দু অধিকারীর মতোই নিশীথও তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা। তবে উত্থান উল্কাগতিতে। উত্তর গড় ধরে রাখতে নিশীথের উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল। ভরসা রেখেছেনও তিনি। তাই উত্তরের প্রতিনিধি হিসেবেই নিশীথকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল? বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এ ক্ষেত্রে মর্যাদা দেওয়া হল রাজবংশী সমাজকেও। রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের জনপ্রিয়তা বিজেপির শক্তি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এর আগে অমিত শাহের ডেপুটি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, দক্ষিণে যেমন মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বরাবরের নজর ছিল বিজেপির, তেমনই উত্তরে রাজবংশী ভোট। বিগত কয়ের বছরে রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উত্তরে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির পথে অনেকটাই সহায়ক হয়েছে।

ছিলেন শাহের ডেপুটি, পুরনো অভিজ্ঞতার কাঁধে ভর করেই এবার শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় নিশীথ
বাংলার মন্ত্রী হলেন নিশীথ

আগে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ডেপুটি ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের। এবার বাংলায় বিজেপির সরকার তৈরি হতেই বড় দায়িত্ব সেই নিশীথ প্রামাণিকের কাঁধে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরপরই ৫ মন্ত্রী শপথ নেন। সেই তালিকাতেই রয়েছেন মাথাভাঙার বিধায়ক। যদিও এখনও দফতর বণ্টন হয়নি। অনেকেই বলছেন শীঘ্রই বড় কোনও দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।   

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, দক্ষিণে যেমন মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বরাবরের নজর ছিল বিজেপির, তেমনই উত্তরে রাজবংশী ভোট। বিগত কয়ের বছরে রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উত্তরে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির পথে অনেকটাই সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ বলছেন, তাঁরই পুরষ্কার পেলেন নিশীথ। কেউ আবার বলেছেন, অতীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে তরুণ বিধায়কের। সে ক্ষেত্রে রাজ্যপাট সামলানোর ক্ষেত্রেও তা কাজে লাগতে পারে। 



যদিও নিশীথের রাজনীতির শুরুটা তৃণমূলের হাত ধরে। পরে ফুল বদল। ২০১৯ সালে বিজেপির টিকিটে সাংসদ হন কোচবিহারের এই তরুণ। তারপর শুধুই উত্থান। এবার মাথাভাঙায় নিশীথ পান ১ লক্ষ ৪৩ হাজারের বেশি ভোট। ভোট শেয়ার ৫৯.২৭ শতাংশ। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী পান ৮৬ হাজারের কিছু বেশি ভোট। আর বামেদের খাতায় মাত্র ৪ হাজার ৩০ ভোট।