WEATHER

Top News


বাংলা টেলিভিশনের এক যুগের অবসান! দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিকেল সাড়ে চারটের সঙ্গে যার নাম একাকার হয়ে গিয়েছিল, সেই 'দিদি নম্বর ১'-এর মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াতে হল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই খবরে যেমন অবাক দর্শকরা, তেমনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন স্বয়ং রচনাও।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রচনা জানান, 'দিদি নম্বর ১' শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ। তিনি বলেন, যখন তাঁর ছেলে মাত্র তিন বছরের, তখন থেকেই এই শো-এর সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। নিজের সন্তানের মতোই যত্ন, ভালোবাসা আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানকে বড় করেছেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রচনা বলেন, এমনও দিন গেছে যখন ছেলেকে সময় দেওয়া এবং শুটিং—দুটোই একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। কখনও মেট্রো চেপে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরেছেন, আবার কখনও রাতের শুটিং শেষে পরিচয় গোপন রাখতে বোরখা পরে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। তাঁর কথায়, দিদি নম্বর ১' শুধু একটি শো নয়, অসংখ্য স্মৃতি আর আবেগের নাম।

তাঁর এই বিদায়ের পিছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে রচনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন না এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ রয়েছে। তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।

রচনা আরও বলেন, পরিবর্তন জীবনের নিয়ম। একজন আসবেন, একজন যাবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বছরের সম্পর্কের ইতি টানার ক্ষেত্রেও একটি সম্মানজনক ও সুন্দর সমাপ্তি থাকা উচিত ছিল। তাঁর আক্ষেপ, যেভাবে তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে সরানো হয়েছে, তা তিনি একেবারেই আশা করেননি। 

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিকেল সাড়ে চারটার সময়স্লটটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল তাঁর হাত ধরেই। তাঁর মতে, সেই জায়গায় নতুন করে লড়াইয়ের বদলে চ্যানেল হয়তো দর্শক ও সময়স্লট—দুটোই বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, 'দিদি নম্বর ১' থেকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি বলেই মনে করছেন দর্শকরা।



দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম দ্বারিকাপুর আদিবাসী কলোনির ১১৭ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের বেহাল চিত্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে সরকারি পরিষেবার মান। খাতা-কলমে এই কেন্দ্রে প্রায় ৯০ জন শিশু ও একাধিক প্রসূতি ও গর্ভবতী মা নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ দিন কেন্দ্রে দেখা যায় মাত্র দু-একজন শিশুকে। তবে মিড-ডে মিলের খাবার নিতে মায়েদের উপস্থিতিই চোখে পড়ে বেশি।



স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত আইসিডিএস ভবন না থাকায় অভিভাবকেরা ছোট শিশুদের কেন্দ্রে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।কারণ উনানের ধোঁয়ায় পড়াশোনার বদলে চোখে জল ঝরে শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের। বর্তমানে মাত্র ১৬ ফুট × ১২ ফুটের একটি দরমার ঘরে চলছে কেন্দ্রের সমস্ত কার্যক্রম। মাথার উপর রয়েছে ত্রিপলের ছাউনি। সেই ঘরের মধ্যেই জ্বলছে রান্নার উনুন, একপাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে জ্বালানি কাঠ। রান্না শুরু হলেই শিশুদের বসার মতো জায়গা থাকে না। উনুনের ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ঘর, ফলে ছোট ছোট শিশুদের সেখানে পড়াশোনা করানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কেন্দ্রের সহায়িকার দাবি, স্থায়ী আইসিডিএস ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই এই প্রতিকূল পরিবেশে পরিষেবা চালাতে হচ্ছে। রান্নার ধোঁয়া, সংকীর্ণ পরিসর ও অনুপযুক্ত পরিবেশের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি—দুইয়েরই সঠিক ব্যবস্থা হওয়া উচিত। বর্তমানে পড়াশোনার চেয়ে খাবার পাওয়াই যেন এই কেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন একটাই—পশ্চিম দ্বারিকাপুর আদিবাসী কলোনির ১১৭ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের জন্য কবে তৈরি হবে একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত ভবন? সেই উত্তরই এখন অপেক্ষায় এলাকার মানুষ।


আজ সকাল প্রায় ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের নারায়ণপুর ফেরিঘাটের কাছে একটি ফিশিং ট্রলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি খালি যাত্রীবাহী নৌকায় ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে তিনটি নৌকাই ভেঙে নদীতে ডুবে যায়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রলারটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে স্বস্তির বিষয়, দুর্ঘটনার সময় নৌকাগুলিতে কোনও যাত্রী বা মাঝি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা নিখোঁজের খবর মেলেনি।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তীতে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খোলা হয়। তারপরও দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের মোসারফ হোসেন, বীরভূম জেলা থেকে নির্বাচিত বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস, পান্নালাল হালদার, মুরারইয়ের মুসারফ হোসেন - যাঁরা প্রত্যেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। তাঁরা সকলেই বিধানসভা অন্দরে বসে থাকলেন।


ঋতব্রত শিবিরেই ফাটল? বিধানসভার নজিরবিহীন দৃশ্যে জোর জল্পনা
বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বিধায়করা


OBC বিলের সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটিতে ঋতব্রত-শিবিরের মধ্যে বিভ্রান্তি। বেশিরভাগ বিধায়ক ওয়াক-আউট করলেও অধিবেশন কক্ষেই রয়ে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন। সোমবার বিধানসভায় এই বিল পাশ হওয়া নিয়ে বেশ কয়েকটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেখা যায়, বিল পাশের সময়ে ঋতব্রত শিবিরের প্রায় সকলেই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তারপরই দেখা যায়, বেশ কয়েকজন আটকে পড়েন। কারণ ভোটাভুটির সময়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে কারণে বেরোতে পারছিলেন না শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহার মতো বেশ কয়েকজন। GeographicReference


পরবর্তীতে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খোলা হয়। তারপরও দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের মোসারফ হোসেন, বীরভূম জেলা থেকে নির্বাচিত বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস, পান্নালাল হালদার, মুরারইয়ের মুসারফ হোসেন – যাঁরা প্রত্যেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। তাঁরা সকলেই বিধানসভা অন্দরে বসে থাকলেন। দেখা যায়, কুণাল ঘোষ তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বেরোবেন না, আপনারা এটাই ঠিক করেছেন।” এরপরই দেখা গেল, বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাসরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের বিধায়করা অর্থাৎ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা সেখানে থাকেন। বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, কেবল দরজা বন্ধ ছিল বলেই কি বেরোতে পারলেন না? নাকি বেরোতে চাননি বলে দরজা খোলা হলেও বেরোলেন না? তাহলে কি ঋতব্রত শিবিরেই ধরল ফাটল, এদিনের দৃশ্যে সে প্রশ্নই ঘোরপাক খাচ্ছে। এই বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৮৬ টি। বিপক্ষে ১৭ টা। ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন ৬ জন।


 প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, "এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন।"


 'এনাফ ইজ় এনাফ!' আর ১ সপ্তাহ! ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কোন বিধায়ককে 'ডেডলাইন' দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী


সবক শেখানোর সময় এসেছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি দিলেন হুঁশিয়ারিও। বললেন, ‘এনাফ ইজ় এনাফ’। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ যোগাযোগ করেছিলেন।


‘এনাফ ইজ় এনাফ’

প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, “এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন।”


হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা? 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ টো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেজিনগরে কেস নম্বর ২১৯, ২২৬। BNS, 152, 192, 196,197, 224, 299, 351 (2), 352, 353 ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাতেও শক্তিপুর থানায় BNS ১৭৬/২২৬ এ মামলা রুজু রয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের এজেন্ডা কী?

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি।” কেন হুমায়ুন কবীর এই ধরনের কথা বলছেন? তাঁর এজেন্ডা কী, সেটাও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনি কেন এসব করছেন আমি জানি। আপনার প্রথম এজেন্ডা ছিল ভরতপুর-রেজিনগর-নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত ভেঙে আপনার পার্টিতে নিয়ে যাওয়া। আপনি সেটা করতে পারছেন না। দ্বিতীয়, ২টো সিটে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগরে রিজাইন করেছেন। ২-৩ মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে, আপনি আপনার ছেলেকে জিতাতে চাইছেন। ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। আর সেটাকে টানতেই এই খেলাটা খেলছেন।”

‘এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন’

হুমায়ুনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না—দেব না—দেব না।” আর এক্ষেত্রে তিনি তিনটে উদাহরণও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সন্দেশখালিতে একজন ছিল, জীবনতলার গুন্ডা,আরেকজন পুষ্পা- এমন ঝুঁকেছেন, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে ওঠবোস করতে করতে যাচ্ছেন।”

আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। তিনি জানিয়ে রাখলেন, আগে তিনি যাঁরা হুমায়ুনকে ওই সভায় ডেকেছিলেন, তাঁদের কাছে যাবেন। পরে হুমায়ুনের কাছে যাবেন। তিনি আবারও বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গুন্ডাদের নয়।” শুভেন্দু বলেন, “এই ধরনের কথা বলার আগে এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন।”

কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর? 

২৬ জুন দুপুরে হুমায়ুন কবীর কাশীপুরের রেজিনগরে তাঁর দলীয় কর্মসূচিতে বলছেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে, আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোক রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটা ভাঙা মার দেব আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন?”

শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে গত ২৮ তারিখে কথা বলার সময়ে বেশ কয়েকটি শব্দও প্রয়োগ করেছেন হুমায়ুন কবীর, যা অশ্রাব্য। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ।

মুখ্য়মন্ত্রীর বিবৃতি প্রসঙ্গে হুমায়ুন বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী কে কিছু বলিনি । কিছু তৃণমূলের গুণ্ডা এখন বিজেপি হয়েছে । ওদের নিয়ে বলেছি । জাহাঙ্গির, শওকত, শাহজাহানদের সঙ্গে আমার তুলনা হয় না । আমি ৪৫ বছর রাজনীতি করছি।” 

 বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, "তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় সংরক্ষণ বাড়ানো হয়। সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন সংক্রান্ত ভাবনা ছিল না বিলে। আগের সরকার বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করেনি। সামাজিক সমীক্ষা না করেই বিলে সংশোধনী এনেছিল তৃণমূল সরকার। অনগ্রসর শ্রেণী যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিল আনা হয়েছে।"

 'তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় OBC সংরক্ষণ বাড়ানো হয়', আক্রমণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্করের
গৌরীশঙ্কর ঘোষ

বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল OBC সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। আজ বিধানসভায় বিল দু’টি পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিল দু’টি হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। আরেকটা হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি (তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ব্যতীত) (সরকারি চাকরি ও পদে সংরক্ষণ) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। বিল নিয়ে আলোচনার সময় পূর্বতন সরকারে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর। 


বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় সংরক্ষণ বাড়ানো হয়। সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন সংক্রান্ত ভাবনা ছিল না বিলে। আগের সরকার বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করেনি। সামাজিক সমীক্ষা না করেই বিলে সংশোধনী এনেছিল তৃণমূল সরকার। অনগ্রসর শ্রেণী যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিল আনা হয়েছে।”

জবাবি ভাষণে মন্ত্রী আরও বলেন, “আগের সরকার অতিরিক্ত যে জাতি তালিকা ভুক্ত করেছিল, সেটা শুধু রাজনৈতিক লাভের জন্য করেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এই আইন। আগের সরকার ১১৩ জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। শুধুমাত্র রাজনীতির জন্য কমিশন মনে করলে তারা সুপারিশ করতে পারবে। সেই অনুসারে পদক্ষেপ করা হবে। যাঁরা বলছেন একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, যখন নিয়ম না মেনে একটি সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? তখন বলেননি কেন?হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে এই বিল এনেছি।”


ওবিসি চিহ্নিতকরণে কমিশন গঠন
এদিন বিলের পক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বলেন, “সময় মাত্র ১৩ মিনিট। কিন্তু ১৪ বছরের যুদ্ধের ইতিহাস। বুদ্ধিজীবী সুলভ মিথ্যাচারের দুর্দান্ত উদাহরণ হতে পারে আইনজগতের ও সংসদের সামনে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিরও কালো অধ্যায়, যাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী লড়াই শুরু করেছেন।” ওবিসি চিহ্নিতকরণের ইতিহাস উল্লেখ করে বিধায়ক বলেন, ” সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যেকটা রাজ্যে অনগ্রসর শ্রেণির চিহ্নিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস। এই কমিশন গঠিত হওয়ার পর ১৯৯৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্তর যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যার মধ্যে ৫৪টি জনগোষ্ঠী হিন্দু ও ১২টি মুসলিম।”

বাম সরকারকে তুলোধনা
বাম সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণের তথ্যকে তুলে ধরে অরিজিৎ বলেন, “২০১১ বিধানসভা নির্বাচন হয়। ঠিক তার আগে, ২০১০ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, সরকারি চাকরিতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা দেবে। এটা হওয়ার পর আচমকা দেখা যায়, যে কমিশন মাত্র ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে পেরেছিল, সেই কমিশন ৮ মার্চ ২০১০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০ পর্যন্ত আরও ৪২টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে। কী পদ্ধতিতে হল, তা নিয়ে বিস্ময়ের অবকাশ রয়েছে। সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, কোন জাদুবলে ৪২টার মধ্যে ৪১টি মুসলিম, মাত্র একটি হিন্দু জনগোষ্ঠী ওবিসি তালিকাভুক্ত করার যোগ্যতা অর্জন করল?”

বিধানসভায় এই বিলের বিরোধিতা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর মতে, “এই বিল পাশ হলে জাতিগত বৈষম্য বাড়বে। রঙ্গনাথ কমিশনের সুপারিশ মেনে সংরক্ষণ দেওয়া হোক। বিল পাশ হলে উচ্চশিক্ষায় বঞ্চিত হবেন মুসলিমরা। সামাজিক ন্যায়বিচারের কাঠামো ধ্বংস হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী: বিগত দিনের সরকার যদি ব্যবস্থা নিত, সংবিধানের শপথ নেওয়ার পর কোনটা মুখ্যমন্ত্রী কর্তব্য আর কোনটা ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি এই দুয়ের মধ্যে ভাগ থাকলে বাংলার এই অবস্থা হত না।"


বিধানসভায় বিল নিয়ে সওয়াল মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গুণ্ডা দমন বিল নিয়ে জবাবি ভাষণ তাঁর। সোমবার সকালেই বিল পেশ করলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। এই বিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ এক নজরে।

সর্বশেষ তথ্য উপরে

  1. মুখ্যমন্ত্রী: ভিক্টোরিয়ার সামনে ফিতা নিয়ে চলে যাবেন। এবারে চলুন ব্রিগ্রেডে যাই। যাকে তোলার তুলেছি। আপনারা ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গেলেন। কে দিলো অনুমতি । আপনাদের তো অনেক লোক। চলুন না ব্রিগেডে। যাকে তোলার তুলেছি। আর একজন বলছেন- কালী তো গেছে,দোয়াত আর পেন নেয়নি গেছে। আরে পেন ফিরহাদ হাকিম হয় তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে পেন যায় তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না। NIA তোলার আগে চার বার মেসেজ করেছে। আমি বলেছি ক্ষমা করার কেউ নই। অতএব একই পরিণতি নওদার এমএলএ-র হবে। ও মমতাকে ডিল করেছে, আমায় করেনি। এমন অ্যাকশন নেব বুঝবে আইনের শাসন কাকে বলে। সবাই মিলে গুণ্ডা মুক্ত বাংলা পাশকরুন।
  2. মুখ্যমন্ত্রী: অনুমতি চেয়ে রাজনৈতিক সভা করবেন। আমাকে 104 বার হাইকোর্ট এ যেতে হয়েছিল।
  3. মুখ্যমন্ত্রী: এই আইন না মানতে চাইলে, ইন্ডি জোটের রাজ্যে বিরোধিতা করুন। এখানে নয়। হরগোবিন্দ দাসের পরিবারের গেছিল সেলিম আর মীনাক্ষী বোন গেলেন। বলেন আমাদের পরিবার। সিপিএম বলল দাঙ্গা আটকাতে গেছিল মারা গেছে। আরে ভোট কাকে দেন? কাস্তে-হাতুড়িতে। বলল-আমরা হিন্দু বলে মেরেছে। আমি বিজেপির চেক নিয়ে গেলাম-আমাদের চেক নিল। এই লোকগুলো জেল থেকে আবার বেরবে, আবার বুক ফুলিয়ে ঘুরবে, পঞ্চায়েতে লড়বে। কাজ করবে। তাই আইন। ভিটা-মাটি ছাড়া করব। কোনও দাঙ্গাবাজের স্থান নেই। যার পাস্ট রেকর্ড খারাপ থাকবে, এক বছর প্রিভেন্টিং অ্যারেস্ট।
  4. মুখ্যমন্ত্রী: নওদার এমএলএ-র নিদির্ষ্ট এজেন্ডা আছে। মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের হবে, উনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন এখন যেটা বলেছেন, ছেলেকে জেতাবার জন্য এসব বলছেন। এগুলো জানি ওনার মনের কথা না। দরিদ্র সব থেকে বেশি মুসলিম
  5. মুখ্যমন্ত্রী: আতঙ্কের জায়গা প্রিভেন্টিং অ্যারেস্ট তাই তো? সন্দেশখালি আর না। এই প্রথম ভোট। ভাঙড়ে তো কোনও মৃত্যু নেই। বিজেপির ওইখানে ৭০ হাজার ভোট আছে। আমরা ভাঙড়টাকে ছেড়ে দিতে পারতাম। ছেড়ে দিলে যিনি জেলে ছিলেন তিনি এখানে আসতেন। আর বিলের যিনি বিরোধিতা করেছেন তিনি এখানে আসতে পারতেন না।
  6. মুখ্যমন্ত্রী: বিচার দেবো , সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করব। আগের আইনে ফাঁক ফোকর ছিল। বর্তমান আইনে ফাঁক-ফোকড় রাখা হল না। এই আইন গুণ্ডা দের জন্য প্রযোজ্য।
  7. মুখ্যমন্ত্রী: যা হয়ে গেছে অতীত । আর কিছু করতে দেবো না । এই আইনের কঠোর কঠোর কঠোর পদক্ষেপ হবে। শুধু জেল খাটাব না। পার্ক-সার্কাসে পুলিশকে ঢিল মারা বের করব। আমার দায়িত্ব পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া। সরকারি বেসরকারি যাই ভাঙুন এগোতে দেব না।
  8. মুখ্যমন্ত্রী:আমি জয়নাল আবেদিন, গনি খান চৌধুরী, নরুল ইসলামকে খারাপ বলি না। এই আইন কেন প্রয়োজন। সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
  9. মুখ্যমন্ত্রী: ধুলিয়ানে বড় বড় দোকান শো রুম সব নষ্ট করেছে। দেড়-দুকোটির সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। কতবার ভুল পথে পরিচালিত করছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে। আপনাদের ফারাক্কার প্রাক্তন এমএলএ , প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তদন্তে বাধা দিয়েছিল। আপনারা কেন সিভিলের লোককে রাজ্য সভায় পাঠান। কেন সিদ্দিকুল্লা খাগড়াগড় বিস্ফোরণে বাধা কেন দেয়?
  10. মুখ্যমন্ত্রী: ২০২৪ সালের পর ওয়াকফ বিল। এখানে এখানে যিনি বসতেন দুবার হেরেছেন আমার কাছে । ( মমতার নাম না করে মন্তব্য )। উনি বলেছিলেন, প্রাণ থাকতে এই বিল কার্যকর করতে দেব না। উনি ১৭০০ হাজার কমিটিকে পোর্টালে আপলোডের সুযোগ দেননি। তিনটে হিন্দুর দোকান লুট। মুসলমানের দোকান ছাড়লেন। এটা রাজনীতি? শক্ত হাতে ধরতেন, আধা সেনা চাইতেন। গুণ্ডারা এই সব করতে পারতেন না। এই যে নওদার এমএলএ যে ভাষায় কথায় বলে-আপনাদের পাপের পর। আপনাকে কেমন সবক শেখাকে হয় এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শেখাবে। ভাষা সংযত করুন। আচরণ সংযত করুন। সামশেরগঞ্জের এমএলএ আছেন? আরে নুন রাখার বাটি রাখেননি। এরা কারা? কী করেছেন?
  11. মুখ্যমন্ত্রী: গোটা ভারতে কোথাও অশান্তি নেই। উনি প্রথম মিছিল করলেন। উনি আগুন লাগালেন। বাংলা জ্বলল। একটু আগেই প্রসূণ বাবু বললেন, রেললাইন উপড়ে দিয়েছিল। রেললাইনে কি হিন্দুরা শুধু চড়েন, মুসলমানরা চড়ে না? সামসির রেল লাইন উপড়ালেন। রেজি নগরের আগুন। সাঁতরাগাছি তে বাস পুড়ল। ফোন করলাম আমি পরিবহন মন্ত্রী। সরকারি সম্পত্তি পুড়ছে। বলল , পুলিশকে বলেছি কথা বলতে, ওদের সঙ্গে। এরপর নন স্টপ নুপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্য। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল রাজনৈতিক দল। গোটা হাওড়া জেলা অবরুদ্ধ করলেন ৩৬ ঘণ্টা। একজন প্রসূতিকে সেবা দিল গ্রামের লোক। ৩৬ ঘণ্টা জাতীয় সড়ক বন্ধ। বিজেপির পার্টি অফিস জ্বলল। বেথুয়াডহরি, নাকাশিপাড়ার রেললাইন পুড়িয়ে দিলেন। করমণ্ডল এক্সপ্রেস-রোগী
  12. মুখ্যমন্ত্রী: ২০১৯ সালে CAA আইন লাগু, আইন কার্যকর, ১৯ হাজার নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট। আগের সরকারের একজন মন্ত্রী ছিল যিনি মন্তেশ্বরে হেরেছেন ( সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী)। উনি একজন ধর্মীয় নেতা। তাঁর অনেক মাদ্রাসা আছে। প্রথমে ধর্মীয় পোশাক পরিয়ে বাচ্চাগুলো নামালেন। বললেন এটা এটা সিএএ নয়, এনআরসি। এটা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বললেন ক্যা ক্যা ছি ছি।
  13. মুখ্যমন্ত্রী: কিন্তু গোষ্ঠী সংঘর্ষ, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ভুল বুঝিয়ে একটি সম্প্রদায়কে রাস্তায় নামিয়ে এই রাজ্যে ২০১৯ সাল থেকে যে ঘটনা গুলো পরপর ঘটেছে। তার ফলে এক সময় কাস্তে হাতুড়িতে ভোট দেওয়া  হরগোবিন্ড দাসের পরিবারকে পোহাতে হয়েছে।
  14. মুখ্যমন্ত্রী: রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন কখনও কেউ দেখেছেন ? এই অধঃপতন আমরা দেখিনি। পলিটিক্সে ক্রিমিনালদের আমদানি হলো সিপিএম-এর হাত ধরে। ১৯৯৯ এর আগে এগুলো ছিল না। ২০০০ সালে পাশকুড়া লোকসভা ছিল সেখানে গুরুদাস দাসগুপ্ত হারে বিক্রম সরকারের কাছে। তারপর গেল গেল রব। সরকার পরিবর্তন হবে ২০০১। সেই হাওয়াকে আটকাতে তৈরি করা হল সংগঠিত হার্মাদ বাহিনী। একে নেতৃত্ব দিলেন গোঘাটের অভয় বাবু, আরামবাগের মোজাম্মেল বাবু, হলদিয়ার লক্ষ্মণবাবু। আর বলতে চাই না। ক্যালেন্ডারে পরিণত এখন। যদিও, ডোমকল থেকে ভদ্রলোক জিতে এসেছেন।
  15. মুখ্যমন্ত্রী: তৃণমূলকে জনতা বর্জন করেছে। এর জন্য আপনারা বিরোধী। কেউ বেরচ্ছে কেউ জামা ধরে টানছে। কেউ বলেছে আমি তৃণমূল, কেউ বলছে ওরা ল্যাম্পপোস্ট। তাই এই অবস্থা।
  16. মুখ্যমন্ত্রী: ডায়মন্ড হারবারের রাজু সামন্তকে খুন করা হয়েছিল, মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাসের পরিবার গ্যালারিতে। আমায় ভোট দেওয়ার অপরাধে রথীবালা আড়ির পরিবার পক্ষে-বিপক্ষের কথা শুনলেন।
  17. মুখ্যমন্ত্রী: বিগত দিনের সরকার যদি ব্যবস্থা নিত, সংবিধানের শপথ নেওয়ার পর কোনটা মুখ্যমন্ত্রী কর্তব্য আর কোনটা ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি এই দুয়ের মধ্যে ভাগ থাকলে বাংলার এই অবস্থা হত না।

 ‘এখানে উল্লেখ্য, শওকত বর্তমানে গ্রেফতার হয়েছেন। ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) গ্রেফতার করেছে তাঁকে। শওকতের সেই প্রসঙ্গ তুলেই শুভেন্দু বলেন,"ওর অবস্থাও শওকতের মতো হবে। এমন ব্যবস্থা নেব। ও মমতাকে ডিল করেছে,আমায় করেনি। এমন অ্যাকশন নেব বুঝবে আইনের শাসন কাকে বলে।"


ও মমতাকে দেখেছে আমায় দেখেনি', স্যাটাভাঙা মারবেন বলেছিলেন হুমায়ুন,'সবক শেখানোর' বার্তা শুভেন্দুর
হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ


বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন মুর্শিদাবাদের নওদাঁর বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য় ছিল, “এমন স্যাটাভাঙা মার দেব, বিজেপির পতাকা বইবার লোক থাকবে না।” সেই নিয়েই এবার হুমায়ুনকে চাচাছোলা ভাষায় আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। City& Local Guides


এ দিন গুণ্ডাদমন বিল নিয়ে বিধানসভায় মন্তব্য করতে গিয়ে বারেবারে হুমায়ুনের প্রসঙ্গে তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “এই যে নওদার এমএলএ যে ভাষায় কথায় বলেন…।” তৃণমূলের পাপের ফল বলে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “আপনাকে কেমন সবক শেখাতে হয় এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শেখাবে। ভাষা সংযত করুন। আচরণ সংযত করুন।”


বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে হবে রাস্তা? যা জানালেন কার্তিক মহারাজ...
হুমায়ুনের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন কিছু নয়। তাঁর করা মন্তব্য এর আগেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পালা বদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার একবার নয় বারেবারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইনের শাসন কেউ যদি ভঙ্গ করেন, তাহলে তার ফল ভাল হবে না। সেই মর্মেই এই গুণ্ডা দমন বিল পাশ হল বিধানসভায়।


এ দিন, এই বিল কেন জরুরি সেই নিয়ে জবাবি ভাষণ দিচ্ছিলেন শুভেন্দু। সেই সময়ই প্রসঙ্গ তোলেন হুমায়ুনের। বুঝিয়ে দেন অশান্তি তৈরির চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত কোনওভাবেই করা হবে না। তিনি বলেন, “আসলে নওদার বিধায়কের নিদির্ষ্ট এজেন্ডা আছে। উনি ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের হবে,উনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এখন যেটা বলেছেন, ছেলেকে জেতানোর জন্য এসব বলছেন। এগুলো জানি ওঁর মনের কথা না।”

এই বক্তব্যের পর ফের বিল প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেই সময়ই আবারও হুমায়ুনকে বুঝিয়ে দেন,না শুধরোলে তাঁর অবস্থা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার মতো হবে। এখানে উল্লেখ্য, শওকত বর্তমানে গ্রেফতার হয়েছেন। ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) গ্রেফতার করেছে তাঁকে। শওকতের সেই প্রসঙ্গ তুলেই শুভেন্দু বলেন,”ওর অবস্থাও শওকতের মতো হবে। এমন ব্যবস্থা নেব। ও মমতাকে ডিল করেছে,আমায় করেনি। এমন অ্যাকশন নেব বুঝবে আইনের শাসন কাকে বলে।“

 অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "আমরা চাই, ইউসিসি কার্যকর হোক। দ্রুত কার্যকর হোক। এবং সর্বসম্মতিক্রমে কার্যকর হোক। কারণ, ইউসিসি-র দাবি শুধু বিজেপির নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ইউসিসি-র জন্য লড়াই করেছেন।"


 কারা UCC-র বাইরে থাকবে? বিধানসভায় স্পষ্ট করে জানালেন শুভেন্দু
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?


ক্ষমতায় এলে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু হবে। বিধানসভা নির্বাচনের সংকল্পপত্রে জানিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই তা নিয়ে উদ্যোগী হয় শুভেন্দু-সরকার। সোমবার বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হতে পারে বলে জল্পনা বেড়েছিল। তবে এদিন একাধিক বিল পেশ হলেও ইউসিসি বিল পেশ করেনি শাসকদল। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানালেন, বিলটি নিয়ে সুপারিশের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবেই। এই বিলের আওতার বাইরে কারা থাকবেন, তাও এদিন জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। GeographicReference


ইউসিসি নিয়ে বিধানসভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?


বজরংবলী নিকাল দো ইহাঁসে...', তারাতলার হাড়হিম করা ভিডিয়ো প্রকাশ্যে, হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যা বললেন মানিকচাঁদ
এদিন অধিবেশনের শেষ লগ্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা এই বিল আনব। আমরা সংকল্পপত্রে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সবসময় বলেছেন, এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান। আমরা পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনব। আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভায় এই বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য আনব। উত্তরাখণ্ড, অসম এবং গুজরাটের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনা হবে। এই রাজ্যে একটা আইন চলবে। ধর্মের ভিত্তিতে দুটো বিল চলবে না।”


এরপরই তিনি জানান, “এক্ষেত্রে মূলবাসী, আদিবাসী এবং কুড়মি-সহ আরও যাঁরা আমাদের প্রাচীন জনজাতি, তাঁরা এই প্রস্তাবিত বিলের আওতার বাইরে থাকবে। আমি উত্তরাখণ্ড, গুজরাটকে অনুসরণ করে একটি কমিটি গঠন প্রস্তাব করেছি। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন হবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনাপ্রকাশ দেশাই। এর সঙ্গে সদস্য হিসেবে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, একজন আইনি বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং একজন অতিরিক্তি সচিব থাকবেন। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব, দত্তক-সহ মোট ৯টি বিষয় এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। এই কমিটিকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। অগস্টে এই কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে আমরা ইউসিসি বিল আনব। এবং এই বিল পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হবে। আপনাদের কিছু বলার থাকবে, কমিটির কাছে বক্তব্য রাখবেন। তবে শুনে রাখুন, আমরা এই ইউসিসি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।”

ইউসিসি নিয়ে কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা চাই, ইউসিসি কার্যকর হোক। দ্রুত কার্যকর হোক। এবং সর্বসম্মতিক্রমে কার্যকর হোক। কারণ, ইউসিসি-র দাবি শুধু বিজেপির নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ইউসিসি-র জন্য লড়াই করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে সমাজের একজন স্কুলশিক্ষক পর্যন্ত ইউসিসি-র পক্ষে রয়েছেন। যেটা মানুষ চাইছেন, জনমনে যে দাবি প্রতিষ্ঠিত, সেটাকে মর্যাদা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।”

পরক্ষণেই আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। জোগাড় করছি প্রমাণ থাকলে কাউকে ছাড়ব না। আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না।" শুভেন্দুর এই কালী-দোয়াতের মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে জল্পনা।

কালীর পর 'দোয়াত' মমতাও জেলে যাবেন? বিধানসভায় বড় কথা বলে দিলেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী

আগেই তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। আর তারপর একুশে জুলাই কারা পালন করবে, সেই নিয়ে দুই তৃণমূলের মধ্যেই তরজা অব্যাহত। এর মধ্যে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আগেভাগেই চলে গিয়েছিল ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের সভার জন্য। উপস্থিত ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ছিলেন দোলা সেনরা। কার অনুমতি নিয়ে সেখানে তাঁরা গিয়েছিলেন এই নিয়ে সোমবার বিধানসভা অধিবেশেনে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও দিলেন বার্তা। ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন 


এ দিন, তারাতলায় কারখানা বিপর্যয়ে নাম জড়ায় ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বর্তমানে তিনি জেলে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। এই নিয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষ আবার ববি হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন। সোমবার কটাক্ষের সুরে অধিবেশন চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী সেই কুণালকেই বলেন, “একজন আবার বলছে বিকেল পাঁচটার মধ্যে ববিকে গ্রেফতার করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী তখন কুণালের দিকে তাকিয়ে বলেন যে তাহলে কুণাল এসে শুভেন্দুর চেয়ারে বসুন।


৫কোটির গাড়ি চড়েন, তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে সফর! তৃণমূলের এই কাউন্সিলর কোথা থেকে উঠে এসেছেন জানেন?
এরপরই কথায়-কথায় তিনি বলতে শুরু করেন, “আর একজন বলছেন- কালী তো গেছে, দোয়াত আর পেন যায়নি কেন? আরে পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হয়, তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে যদি পেনও যায়, তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। এক সঙ্গে সবাইকে যেতে হবে।”


পরক্ষণেই আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। জোগাড় করছি প্রমাণ। থাকলে কাউকে ছাড়ব না। আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না।” শুভেন্দুর এই কালী-দোয়াতের মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে জল্পনা।

 মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছেন পুরাতন ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কদমতলি গ্রামের বাসিন্দা সারিফ শেখ (৩০)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধা বাবা-মা ও এক ভাই ।



পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবিকার তাগিদে গত মাসে মহারাষ্ট্রে কাজে গিয়েছিলেন সারিফ। কয়েকদিন আগে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাঁকে মহারাষ্ট্র স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
 শেষ পর্যন্ত তাঁরা ইংলিশবাজার থানার পাশাপাশি জিআরপি-তে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছেন। পরিবারের আবেদন, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সারিফ শেখকে খুঁজে বের করুক।ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সদস্য পিন্টু শেখ। তিনি জানান, প্রশাসনের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান দেবে বলেই আশা করছেন।


বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য রাজু মণ্ডলকে মারধরের একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গঙ্গাসাগর। 


অভিযোগ, চার নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পিনাক্ষী মণ্ডল ও তাঁর লোকজন রাজু মণ্ডলকে মারধর করেছেন। রাজুর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পিনাক্ষী এলাকায় তোলাবাজি চালাচ্ছিলেন, যার প্রতিবাদ করায় তাঁকে নিগ্রহের শিকার হতে হয়।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি বার্তা দেন, যারা এলাকায় তোলাবাজি ও মারপিট করছে, তাদের বরদাস্ত করা হবে না। বিধায়ক বলেন, “যারা এলাকা থেকে টাকা তুলছে, মারপিট করছে, তাদের ধোলাই দিতে হবে।”
বিধায়ক আরও বলেন, “মায়েরা একসঙ্গে জোট বাঁধুন। যে বেশি দাদাগিরি করবে, তাকে মহিলা মোর্চার হাতে দায়িত্ব দেব। আপনারা নাম বলবেন, আমরাই তাদের ধোলাই দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দেব।” গঙ্গাসাগরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ডাক দিয়ে বিধায়ক সাফ জানিয়ে দেন, এলাকায় কোনোভাবেই অস্থির পরিবেশ তৈরি করা যাবে না। বিধায়কের এই মন্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে গঙ্গাসাগরবাসী। কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ কমাতে অবশেষে তৈরি হতে চলেছে মাথার উপরে স্থায়ী ছাউনি বা যাত্রী শেড। এই যাত্রী শেড নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।


সাগরদ্বীপের বাসিন্দা ও গঙ্গাসাগরে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য এই শেড অত্যন্ত জরুরি ছিল। ভাটায় জল কমে যাওয়ায় টানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ভেসেল পরিষেবা বন্ধ থাকে। এছাড়া স্বাভাবিক সময়েও প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অন্তর ভেসেল পাওয়া যায়। এই দীর্ঘ সময় যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, যা চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।


 বিজেপি বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সুমন্ত মণ্ডল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই যাত্রী শেডটি নির্মাণ করা হবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, সাগর থানার ওসি অর্পণ নায়েক সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। যাত্রী শেড তৈরির খবরে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের আশা, খুব শীঘ্রই এর নির্মাণকাজ শেষ হলে রোদ-বৃষ্টির দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।