ডায়মন্ড হারবার:আঁকা শেখানোর নাম করে দুই নাবালিকার যৌন হেনস্থার অভিযোগ, গ্রেফতার বিজেপি নেতা অঙ্কন শিক্ষক
ডায়মন্ড হারবার: আঁকা শেখানোর নাম করে দুই নাবালিকা ছাত্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল এক অঙ্কন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে। ধৃত অঙ্কন শিক্ষক প্রবীর হালদার। এলাকায় তিনি বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত বলে জানা গিয়েছে। শনিবার নাবালিকাদের পরিবারের তরফে ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রবীর হালদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার ধৃতকে আদালতে পেশ করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের বাড়িতেই ছবি আঁকা শেখানোর স্কুল খুলেছিলেন প্রবীর হালদার। এলাকার বেশ কয়েকজন পড়ুয়া তাঁর কাছে ছবি আঁকা শিখতে যেত। প্রতি রবিবার দুই নাবালিকাও তাঁর বাড়িতে আঁকা শিখতে যেত বলে পরিবারের দাবি। অভিযোগ, আঁকা শেখানোর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই দুই নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্থা করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরিবারের দাবি, প্রথম দিকে ভয়ে এবং আতঙ্কে কাউকে কিছু জানাতে পারেনি দুই নাবালিকা। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আনতে পারেনি তারা। পরে সাহস করে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায় দুই নাবালিকা। তাদের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পেরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন পরিবারের সদস্যরা। এরপরই অভিযুক্ত অঙ্কন শিক্ষক প্রবীর হালদারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
শনিবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বাড়িতে পৌঁছে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রবীর হালদারকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। দুই নাবালিকার বয়ান, পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও কোনও তথ্য বা প্রমাণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও বিজয় যাদব জানিয়েছেন, প্রবীর হালদার নিজের বাড়িতেই ছবি আঁকা শেখাতেন। প্রতি রবিবার দুই নাবালিকা তাঁর কাছে ছবি আঁকা শিখতে যেত। পরিবারের তরফে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রবীর হালদার বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতারের পরেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের তদন্তের মূল বিষয় হল নাবালিকাদের করা অভিযোগ এবং তার সত্যতা যাচাই। অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে, তা তদন্তের বিষয় নয় বলেই পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত।
অভিযোগ সামনে আসার পর এলাকার অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যে বাড়িতে পড়ুয়ারা ছবি আঁকা শিখতে যেত, সেখানে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে শিশু ও নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ভয় এবং আতঙ্কের কারণে এতদিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি। পরে নাবালিকারা পরিবারের কাছে বিষয়টি জানালে পুরো ঘটনা সামনে আসে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযোগের সময়কাল কতদিনের এবং দীর্ঘদিন ধরে এমন কোনও ঘটনা ঘটেছিল কি না। পাশাপাশি ওই অঙ্কন শিক্ষকের কাছে অন্য কোনও পড়ুয়া একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে।