WEATHER

Top News


এটি রেজিনগরের ঠাকুর পরিবারের জমি ছিল বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলিলে হুমায়ুনের চার ভাইয়ের সইও আছে। হুমায়ুন বলেন, "বাড়ি তৈরি করে ১৮ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছি। আসলে হুমায়ুন কবীর এখন গলার কাঁটা হয়ে আছে। তাই এসব করা হচ্ছে।"


১৮ বছর ধরে বাস করছেন, সেই বাড়ির জন্য এবার বিপাকে হুমায়ুনের স্ত্রী মীরা


কখনও হুমায়ুনের স্ত্রী, কখনও মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছে নোটিস। ভোটে মুখে জেরবার ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। কিছুদিন আগেই মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগে হুমায়ুনের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। আর এবার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের নোটিস পেলেন হুমায়ুনের স্ত্রী মীরা সুলতানা। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে যে বাড়িতে হুমায়ুন সপরিবারে বসবাস করেন, সেই বাড়ি নিয়েই বিপত্তি।


রেজিনগরে জলাজমির বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে মীরা সুলতানার বিরুদ্ধে। ৭ দিনের মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে। হুমায়ুন কবীরের দাবি, একসময় ওই জমিতে নালা ছিল ঠিকই, তবে তা বোজানোর পরই জমি কিনেছেন তিনি। তাঁর কাছে সব বৈধ নথি আছে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন।


'আদর্শ বদলে ফেলেছেন', ববি খোঁচা দিতেই সজল বললেন, 'আপনিও মমতার বাড়ি চালে ঢিল মেরেছেন, কোন আদর্শের কথা বলছেন?'
জ্বলজ্বল করছে বাংলার বাড়ির হোর্ডিং, 'বঞ্চিত' ১৩টি শবর গ্রাম, শোরগোল বাঁকুড়ায়
হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার ডিড (দলিল) আছে। ওই জমিতে একটি নালা রেকর্ডে ছিল, কিন্তু কেনার সময় নালা ছিল না। ভরাট অবস্থায় ছিল। ২০০৩ সালে কেনার পর ২০০৫ সালে বাড়ি করা শুরু করি, পঞ্চায়েতের পারমিশন নিয়ে শুরু করি কাজ।” এটি রেজিনগরের ঠাকুর পরিবারের জমি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। হুমায়ুন আরও উল্লেখ করেন, দলিলে হুমায়ুনের চার ভাইয়ের সইও আছে। হুমায়ুন বলেন, “বাড়ি তৈরি করে ১৮ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছি। আসলে হুমায়ুন কবীর এখন গলার কাঁটা হয়ে আছে। তাই এসব করা হচ্ছে।”


এদিকে, বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনিক বলে উল্লেখ করেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। জানিয়েছেন, মন্ত্রী হিসাবে সকলে যে সরকারি জমি ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়িতে যাতায়াতের সুবিধা পান, তা তিনি নেবেন না। এবং বিএনপি-র বাকি মন্ত্রীরাও এই সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। তবে বেতন না নেওয়ার কথা বলেননি। 

প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান কত টাকা বেতন পাবেন? বাকি সুযোগ-সুবিধার লিস্ট দেখে মাথা বনবন করে ঘুরবে...
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘ ১৮ মাসের টালমাটাল অবস্থা। অবশেষে ফের গণতন্ত্রে ফিরল বাংলাদেশ। তৈরি হল নির্বাচিত নতুন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হলেন বিএনপির চেয়ারম্য়ান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। খালেদা পুত্র দীর্ঘ ১৭ বছর কাটিয়েছেন নির্বাসনে। তারপরে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে প্রত্য়াবর্তন। দুই মাসের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হলেন। নির্বাচনী হলফনামায় তারেক রহমান পেশা হিসাবে লিখেছিলেন রাজনীতি। এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কত টাকা বেতন পাবেন তারেক? কী কী বিশেষ সুযোগ-সুবিধাই বা পাবেন?


প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। জানিয়েছেন, মন্ত্রী হিসাবে সকলে যে সরকারি জমি ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়িতে যাতায়াতের সুবিধা পান, তা তিনি নেবেন না। এবং বিএনপি-র বাকি মন্ত্রীরাও এই সুযোগ-সুবিধা নেবেন না। তবে বেতন না নেওয়ার কথা বলেননি।




বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও অন্যান্য সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী মাসে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। এর পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া হিসাবে পাবেন ১ লাখ টাকা।
 প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দৈনিক ভাতা পাবেন ৩ হাজার টাকা। নিজের এবং পরিবারের জন্য পরিবহন, বিমান ভ্রমণের জন্য বিমা কভারেজ ২৫ লাখ টাকা এবং দেড় কোটি টাকা তহবিল পাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শে দেশে এবং দেশের বাইরের যেকোনও মেডিক্যাল চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। সঙ্গে পরিবারও চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
শুধু বেতনই নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বিনোদনের খরচও সরকার থেকেই দেওয়া হয়। এছাড়া রোজ বাসভবন থেকে সরকারি অফিসে যাতায়াতের খরচও বহন করে রাষ্ট্র। পরিবারের যাতায়াতের খরচও পাওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকারি বাসভবন পাবেন তারেক রহমান। এমনকী সেই বাসভবন সাজানোর খরচও বহন করবে সরকার। যদি সরকারি বাসভবনে না থেকে, নিজের বাড়িতে থাকেন, তাহলে এর জন্য ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে বাড়ি ভাড়া বাবদ।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বিদ্যুৎ, জল, ফোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচও বহন করে সরকার। নিরাপত্তারক্ষীদের খরচও দেবে সরকার।
দেশের ভিতরে যাতায়াত সম্পূর্ণ ফ্রি। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেশের বাইরে গেলে, তার জন্যও আলাদা ভাতা পাবেন তারেক রহমান।
সাড়ে চার হাজার কিলোমিটারের মধ্যে গৃহস্থালি পণ্য পরিবহনের জন্য গাড়ি, বিমান, ট্রেন, জাহাজের খরচ দেওয়া হবে সরকারি কোষাগার থেকে
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী শক্তির উত্থানের ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নাশকতা ও মৌলবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জামাত কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাই, মালদহ সীমান্তে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে।

বাংলাদেশে জামাতের দাপট বাড়তেই আতঙ্কে মালদহের সীমান্তের বাসিন্দারা, কাঁটাতার বসানোর আর্জি
সীমান্তে কাঁটাতার বসানো নিয়ে কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা?

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছিল। বিশেষ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কাঁটাতারহীন এলাকাগুলিতে। সেখানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দাপট বেড়েছিল। এখন বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে জামাতের দাপট বাড়তেই মালদহের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখন তাঁরা চাইছেন, কাঁটাতারহীন এলাকাগুলিতে ফেন্সিং করা হোক। এর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে আবেদন জানালেন তাঁরা।


বাংলাদেশের নির্বাচনের পর থেকেই উদ্বেগ বাড়ছে মালদহে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনে জামাত-ই ইসলামি ৭৭ টি আসনে জয়লাভ করেছে। যার মধ্যে একটা বড় ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর ঠিক ওপারে। বিশেষ করে মালদহের ওপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবকটি আসনেই জামাত সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা জারি করেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী শক্তির উত্থানের ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নাশকতা ও মৌলবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জামাত কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাই, মালদহ সীমান্তে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে।



মালদহ জেলার ১৭২ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার কাঁটাতার নেই। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য বিবাদে কাঁটাতার দেওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। এর মধ্যে হবিবপুর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বৈদ্যপুর গ্রামপঞ্চায়েতের ডাল্লা, চড়নতলা, ভূতডাঙা,,পার্বতীডাঙা সহ একাধিক গ্রামের গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত। আর শুধু বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতই নয়। আতঙ্কিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন ব্লক যেমন হবিবপুর, বৈষ্ণবনগর, ওল্ড মালদার বহু গ্রামবাসী। অনেকেরই অভিযোগ, ছদ্মবেশে কৃষক সেজে কাঁটাতারহীন এলাকা দিয়ে জামাতরা ঢুকে পড়ছে। বিভিন্ন জঙ্গি হামলা বা অন্যরকম হামলা চালানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা। গত একমাসের মধ্যে হবিবপুর থেকেই ১৫ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ রাজু মণ্ডল ওরফে সুজিত চৌধুরী নামে এক দালালকে গ্রেফতার করে ৫ জন বাংলাদেশি সহ। এই রাজু টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশিদের পারাপার করিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা সুখলাল বিশ্বাস, সুনীল রায়দের বক্তব্য, “আমরা যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারি, তার জন্য সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানো হোক। আমরা জমি দিতে প্রস্তুত।”


অভিষেকের অভিযোগ, মুরুগান সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছেন না। এখনও হোয়াটসঅ্যাপে মাইক্রোঅবজারভারদের নির্দেশ দেওয়া চলছে। তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, "সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য? হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন কি সত্যিই মনে করছে যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এর নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করা যায়?"

কমিশনের 'ইন্টারনাল চ্যাট' অভিষেকের হাতে এল কী করে! উদ্বিগ্ন কমিশন

কমিশনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। এসআইআর চলাকালীন কেন বিভিন্ন রকমের নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর এবার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে এনেছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে সেই চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন তিনি। কীভাবে সেই সব চ্যাট প্রকাশ্যে এল, তা নিয়েই উদ্বিগ্ন কমিশন।


স্পেশাল রোল অবজারভার সি. মুরুগানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এক্স মাধ্যমে পোস্ট করেছেন অভিষেক। অভিষেকের অভিযোগ, মুরুগান সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানছেন না। এখনও হোয়াটসঅ্যাপে মাইক্রোঅবজারভারদের নির্দেশ দেওয়া চলছে। তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য? হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন কি সত্যিই মনে করছে যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এর নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করা যায়?” উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা কেন হোয়াটস্যাপের নির্দেশ দিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক।




অভিষেকের অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনের দাবি, হোয়াটসঅ্যাপে কোনও ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়নি। কিছু প্রশ্নের উত্তর আছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, এসআইআর নিয়ে যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম নিয়ে জিজ্ঞাস্য থাকায় হোয়াটসঅ্যাপে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে কারা এই তথ্য শেয়ার করছে, সে দিকে নজর রাখছে কমিশন।



মঙ্গলবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে কমিশনের এই হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে একই অভিযোগ করেছিলেন। আর এবার অভিষেক স্ক্রিনশট সহ পোস্ট করলেন।

শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এখন চলছে নথি পুনর্যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। আপলোড করা নথির সঙ্গে সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই তালিকা দেখতে গিয়েই চোখ কপালে আধিকারিকদের। মৃত ভোটারের নাম রয়েছে তালিকায়।

আস্ত 'ডেথ সার্টিফিকেট' দেওয়ার পরও নাম উঠে গেল ভোটার লিস্টে, চমকে গেল কমিশন
 প্রায় তিন মাস ধরে চলেছে এনুমারেশন ফর্ম জমা নেওয়া আর শুনানির পর্ব। সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ সামনে এসেছে। অসুস্থ বা বৃদ্ধ ভোটাররাও ভোটাধিকার হারানোর ভয়ে ছুটেছেন শুনানি কেন্দ্রে। কিন্তু এসআইআর পর্বের শেষের দিকে সামনে আসছে একের পর এক অভিযোগ। এবার তালিকায় উঠল মৃত ভোটারের নাম।


শুনানি পর্ব শেষ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এখন চলছে নথি পুনর্যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। আপলোড করা নথির সঙ্গে সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই তালিকা দেখতে গিয়েই চোখ কপালে আধিকারিকদের। মৃত ভোটারের নাম রয়েছে তালিকায়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তার আগেই ধরা পড়ল এই ভুল।



দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের ঘটনা। মৃত ভোটারকে ক্লিনচিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরবাজারের এইআরও (AERO)-র বিরুদ্ধে অভিযোগ। শহিদুল হক গাজী নামে এক ভোটারকে ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানিতে ডাকা হয়। বাড়ির লোকজন শহিদুলের ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ জমা দিয়ে জানিয়ে যান যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু রোল অবজারভারদের সঙ্গে মাইক্রো অবজারভার সুপার চেকিং করে মেলাতে গিয়ে দেখতে পান যে এইআরও (AERO) মৃত ব্যক্তিকেই ভোটার তালিকায় ‘ভোটার’ বলে সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি নজরে আসতেই নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রের খবর।

২০২৬–এর আগে পাথর প্রতিমায় তৃণমূলের ঘাঁটিতে বিজেপির ঝাঁপ, সরব দিলীপ ঘোষ


পাথরপ্রতিমা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। সেই আবহেই বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা বিধানসভা এলাকার রাজরাজেশ্বরপুর ১০৪ নম্বর বুথে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
সকাল থেকেই বুথভিত্তিক কর্মসূচিকে ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন দিলীপ ঘোষ। বিভিন্ন পাড়ায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কারও উঠোনে বসে, কোথাও বা বাড়ির চৌকাঠে দাঁড়িয়ে এলাকার রাস্তা-ঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “২০২৬–এর আগে আমরা প্রতিটি বুথে পৌঁছতে চাই। মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।” তাঁর দাবি, গ্রামীণ এলাকায় এখনও একাধিক মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে, যার সমাধানে প্রয়োজন ধারাবাহিক জনসংযোগ।
কর্মসূচির ফাঁকে একটি স্থানীয় পরিবারের আমন্ত্রণে তাঁদের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজও সারেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, “রাজ্যে তুঘলকি শাসন চলছে। যাঁরা এতদিন জাল ভোটে জিতেছেন, এখন তাঁদের অস্বস্তি হচ্ছে বলেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্মান করা উচিত। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাজারে মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে—এই দাবিকেও তিনি উড়িয়ে দেন।
২০২৬–এর আগে পাথরপ্রতিমার মতো উপকূলবর্তী এলাকায় এই ধরনের জনসংযোগ কর্মসূচি ভবিষ্যতের ভোট রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

পরিযায়ী শ্রমিক শক্তিপদ দাসের মৃত্যুতে শোকাতুর সাগর, পরিবারের পাশে মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা


ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে গঙ্গাসাগরের পরিযায়ী শ্রমিক শক্তিপদ দাসের। সেই শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবার সরাসরি তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তিনি সাগর থানার কমলপুর ২ নম্বর কলোনিতে গিয়ে নিহিত শ্রমিকের পরিজনদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাঁদের শোক ভাগ করে নেন। প্রশাসন ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার টানে তামিলনাড়ুর একটি ইট ভাটায় কাজ করতে গিয়েছিলেন ৪৫ বছর বয়সী শক্তিপদ দাস। গত মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ ইট কাটা মেশিনে কাজ করার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় তাঁর দেহ। ঘোড়ামারার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে কমলপুর কলোনিতে নতুন করে সংসার গড়ার লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু এই অকাল মৃত্যুতে সেই লড়াই এক ধাক্কায় থমকে গেল।
এদিন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি মৃত শ্রমিকের স্ত্রীর হাতে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আগামীদিনেও সর্বতভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী জানান, "এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। সরকার সবসময় পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের কথা ভাবে। আমরা এই দুঃসময়ে পরিবারটির পাশে আছি।"

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর তামিলনাড়ুতেই মৃতদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তের পর প্রশাসনিক সহায়তায় নিথর দেহটি ধর্মীয় রীতি মেনে তাঁর সৎকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মন্ত্রীর এই মানবিক তৎপরতা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সাগরদ্বীপে উৎসবের বোধন: খুঁটিপুজোর মাধ্যমে বর্ণাঢ্য 'গৌরাঙ্গ মহোৎসব'-এর সূচনা


পুণ্যভূমি সাগরদ্বীপে উৎসবের সুর বেজে উঠল। বুধবার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ ঘোলাপাড়া বিনোদ মোড় এলাকায় শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য সেবা সদনের উদ্যোগে আয়োজিত 'গৌরাঙ্গ মহোৎসব'-এর শুভ খুঁটিপুজো সম্পন্ন হলো। এদিন সকাল ১০ ঘটিকায় বৈষ্ণবীয় রীতি মেনে ও নামসংকীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবের এই প্রাথমিক পর্বটি শুরু হয়।
মূল উৎসবটি শুরু হতে চলেছে আগামী ২৩শে ফাল্গুন, যা চলবে ২৫শে ফাল্গুন পর্যন্ত। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনব্যাপী এই মহোৎসবে নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের ব্যাপক আয়োজন থাকছে। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত ও সাধু-সন্তদের সমাগম ঘটবে এই সাগরদ্বীপে।

আজকের এই খুঁটিপুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসব কমিটির সদস্যরা জানান, "খুঁটিপুজোর মাধ্যমেই আমরা উৎসবের মূল প্রস্তুতি শুরু করলাম। আশা করছি, এই মিলনমেলা ভক্তি ও আনন্দের এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করবে।" বর্তমানে দ্বীপজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের জোরকদমে প্রস্তুতি।

সুন্দরবন এলাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ড; সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে পথে নামলেন গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার ওসি

সুন্দরবন এলাকায় পর পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। আগুনের হাত থেকে সাধারণ মানুষের জানমাল বাঁচাতে এবার কোমর বেঁধে পথে নামল পুলিশ। বুধবার গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিভাস সরকার নিজেই মাইক হাতে এলাকায় প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করলেন।
গত কয়েক দিনের মধ্যে সুন্দরবন পুলিশ জেলার এল-প্লট এবং ইন্দ্রপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক আবহাওয়া ও আগুনের জ্বালানি হিসেবে খড়ের গাদার উপস্থিতির কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই এই সচেতনতা কর্মসূচি।

এদিন মাইকিং প্রচারের মাধ্যমে ওসি বিভাস সরকার গ্রামবাসীদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন।
রাস্তার পাশে বা বাড়ির একদম গা ঘেঁষে বড় খড়ের গাদা বা দাহ্য বস্তু না রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগুন লাগলে যাতে সবটা নষ্ট না হয়, তার জন্য বড় বড় গাদা না দিয়ে কম বিচালি দিয়ে ছোট ছোট গাদা তৈরি করার বৈজ্ঞানিক উপদেশ দেন তিনি। বাড়ির আশেপাশে কোথাও ধোঁয়া দেখলে বা আগুনের ফুলকি নজরে এলে দ্রুত পুলিশ ও দমকলকে খবর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা। ওসির এই সরাসরি বার্তা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও এই সচেতনতামূলক প্রচার জারি থাকবে।

রান্না চলাকালীনই বিপত্তি! নামখানায় বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই বসতবাড়ি*


ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল একটি বসতবাড়ি। মঙ্গলবার রাতে নামখানা থানার দক্ষিণ হরিপুর এলাকায় এক বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল একটি বসতবাড়ি। সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়াল রামকৃষ্ণ মণ্ডলের পরিবার।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ রামকৃষ্ণ বাবুর বাড়িতে হঠাৎই আগুন লাগে। সেই সময় তাঁর মেয়ে পাশের রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। হঠাৎই ঘরে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তাঁর আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। 
খবর দেওয়া হয় নামখানা থানা ও দমকল বিভাগে। দমকলের একটি ইঞ্জিন পৌঁছানোর আগেই গ্রামবাসিদের তৎপরতায় আগুনের তীব্রতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তী ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় দমকল বাহিনী আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনের লেলিহান শিখা এতই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে, বাড়ির আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র রক্ষা করা যায়নি। ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।


দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। ঘরের ভেতরে থাকা দাহ্য বস্তুর কারণেই তা দ্রুত বিধ্বংসী রূপ নেয়। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, সহায়-সম্বল হারিয়ে রামকৃষ্ণ বাবুর পরিবার এখন দিশেহারা।


ষ্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার

 সাধারণত শিশু সন্তান থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় মায়ের কাছেই সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব আসে। কিন্তু হাইকোর্ট বিপরীত পথে হেঁটে রায় দিল বাবার পক্ষেই। বর্ধমানের বাসিন্দা সজল ও মৌসূমীর (নাম অপরিবর্তিত) বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। সেখানে তাঁদের সন্তানের দায়িত্ব কে পাবেন সেই বিষয়টিও কোর্টে ওঠে।

নজিরবিহীন রায় হাইকোর্টের! উচ্চ-শিক্ষিতা মা নন, মাছ ব্যবসায়ী বাবার কাছেই গেল সন্তানের কাস্টডি
কলকাতা হাইকোর্ট

মায়ের অপূর্ণতা শিশুর মনে দাগ কাটে। সেই যুক্তিতেই মূলত শিশুর দায়িত্ব মায়ের কাছে দিয়ে থাকে আদালত। তবে এবার কলকাতা হাইকোর্ট একটি মামলায় নজিরবিহীন রায় দিল। নিম্ন আদালত সংশ্লিষ্ট মামলায় শিশুর দায়িত্ব দিয়েছিল মায়ের কাছে। যুক্তি দেখানো হয়েছিল যে, মায়ের অপূর্ণতা দাগ কাটতে পারে শিশুমনে। তবে সেই রায়কে মানতে নারাজ কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের রায়কে স্থগিত করে বাবাকেই শিশুর দেখভালের দায়িত্ব দিল আদালত। কোর্টের রায়, শিক্ষিকা মা নয়, বরং শিশু সন্তান থাকবে মাছ ব্যবসায়ী বাবার কাছেই।


সাধারণত শিশু সন্তান থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় মায়ের কাছেই সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব আসে। কিন্তু হাইকোর্ট বিপরীত পথে হেঁটে রায় দিল বাবার পক্ষেই। বর্ধমানের বাসিন্দা সজল ও মৌসূমীর (নাম অপরিবর্তিত) বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। সেখানে তাঁদের সন্তানের দায়িত্ব কে পাবেন সেই বিষয়টিও কোর্টে ওঠে। এই মামলায় আট বছরের পুত্রসন্তানের দায়িত্ব বাবাকেই দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্য পেশায় গানের শিক্ষক মাকে দেখা করার সুযোগ দিয়েছেন মাত্র একদিন। একই সঙ্গে মামলাটি মীমাংসা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।


বাবরি মসজিদের জন্য কোথা থেকে টাকা পেয়েছেন হুমায়ুন? বিস্ফোরক শুভেন্দু
বিয়ার খেয়ে গার্লফ্রেন্ডের ডেডবডির সঙ্গে যৌনতা! ইউটিউব দেখে ডাকছিল আত্মাকে, তখনই হাজির...
বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, বাবা-মায়ের বয়স বড়োজোর তিরিশের কিছু বেশি। তাই এখন ইগোর লড়াই চলছে। একে অপরের বিরুদ্ধে নতুন-নতুন মামলা আনছেন। ২০২১ সাল থেকেই আলাদা থাকছেন ওই দম্পতি। মায়ের আইনজীবী উদয় শঙ্কর ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ছেলের বয়স যখন তিন তখন উচ্চ শিক্ষিতা মা তাঁর বাপের বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু সেখান থেকে শিশু সন্তানকে তাঁর বাড়িতে তুলে নিয়ে যায় তার বাবা।


এরপরই শুরু হয় ছেলেকে ফেরানোর লড়াই। নিম্ন আদালত সন্তানের সঙ্গে কথা বলে জানতে চায় কার সঙ্গ চায় সে। উত্তরে ছোট্ট শিশু জানায় বাবা-মা দুজনকেই চায়। এরপর মা কেই সন্তানের দায়িত্ব দেয় আদালত। সেই সময় নিম্ন আদালতের যুক্তি ছিল, সন্তানের মা উচ্চ শিক্ষিতা। তাই সেখানে সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো। শিশু মনের উপর দাগ পড়ে মা না থাকলে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বাবা আসেন হাইকোর্টে।

এরপর নিম্ন আদালতের এই পর্যবেক্ষণ খারিজ হাইকোর্টে। কোর্টের যুক্তি, শিশুর পড়াশোনার জন্য গৃহ শিক্ষক আছেন। গত পাঁচ বছর বাবার সঙ্গে সাধারণ জীবন যাপন করছে শিশুটি। তাই আবেগ নয়, বাস্তবতা নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মেলে না।

এদিন হাইকোর্টের রায়ে আপাতত মা শনিবার বিকেলে ছেলেকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। রবিবার সন্ধ্যে সাতটায় বাবার বাড়িতেই ফেরাতে হবে ছেলেকে। অন্যথা হলে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে মায়ের বিরুদ্ধে। অবশ্য মানবিক হয়ে আদালতের পরামর্শ হাইকোর্টের মীমাংসা কমিটির মাধ্যমে তারা যদি আবার এক সঙ্গে থাকেন সেটা বিচার করা যাবে।



এদিকে আবার সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলছেন, “যাদের জল্পনা করার তাঁরা জল্পনা করুক। কেউ দল ছেড়ে কোথাও যায়নি। এ বিষয়ে যা বলার মহম্মদ সেলিম বলবে। আমরা দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করাতেই বিশ্বাসী।” তবে কলকাতান যাই বলুন, দলের অন্দরে যে প্রতীক-উর নিয়ে পুরোদমে চর্চা চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কতটা কষ্টে ছিলেন প্রতীক-উর? কী বললেন সিপিএমের যুবনেত্রী?
প্রতীক-উর রহমান


জোট নিয়ে এখনও কোনও পাকা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বামেরা, তার মধ্যেই অস্বস্তিটা যেন আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিলেন এক সময়ের দলের ‘প্রিয় কমরেড’ প্রতীক-উর রহমান। গত লোকসভা ভোটে তাঁকেই শেষ লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড-হারবারে লড়তে পাঠিয়েছিল সিপিএম। তাও আবার তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শোনা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহেই সেই অভিষেকের হাত ধরেই তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন প্রাক্তন এসএফআই নেতা। ইতিমধ্যেই আবার মগরাহাটে তাঁর ভোটে দাঁড়ানো নিয়েও তুমুল জল্পনা চলছে। 


এদিকে আবার সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলছেন, “যাদের জল্পনা করার তাঁরা জল্পনা করুক। কেউ দল ছেড়ে কোথাও যায়নি। এ বিষয়ে যা বলার মহম্মদ সেলিম বলবে। আমরা দলের অভ্যন্তরে আলোচনা করাতেই বিশ্বাসী।” কলকাতান যাই বলুন, দলের অন্দরে যে প্রতীক-উর নিয়ে পুরোদমে চর্চা চলছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। মানসিক দ্বন্দ্বে ছিলেন। রাজ্য সম্পাদককে লেখা প্রতীক উরের এই লাইনটাই যেন সব থেকে বেশি ভাবাচ্ছে তাঁর সহযোদ্ধাদের। ক্যামেরার সামনে মুখে যদিও সবারই কুলুপ। সকলের একটাই কথা, যা বলার পার্টি বলবে। তবে কেউ যে একদমই কথা বলছেন না তা নয়। 



যুব সাথীর টাকা পাবেন না যদি আপনার এই তালিকায় নাম থাকে
নাম না করে সিপিএমের এক যুব নেত্রী বলছেন, দলের মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কে কোন আসনে লড়বেন এ বিষয়ে দলের কোনও আগাম পরিকল্পনা থাকছে না। ফলে নির্বাচনের সময়ে বা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রার্থীকে এলাকা চিনতেই অনেক সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে ভোটের ময়দানে তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন। দলের এ হেন অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই অনেককে কষ্ট দিচ্ছে। আমার ধারনা প্রতীকূরও এর থেকে বাদ নয়। 


ঠিক দু’দিন পরেই সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক। এখন সেখানে প্রতীক-উর ইস্যুতে নতুন করে কোনও আলো পড়ে কিনা, নাকি জল্পনাই দিনের শেষে সত্যি হয় সেদিকে অবশ্যই নজর থাকছে রাজনৈতিক মহলের। 



ক্ষিতি কন্যা কস্তুরীর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, "বসুন্ধরা গোস্বামী দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। কাজ করছেন। গণতন্ত্রে কে কোথায় যোগদান করবেন, তাঁদের বিষয়। কেউ যদি মনে করেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে থাকবেন, তাই কস্তুরী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।"

বাম নেতা ক্ষিতির এক কন্যা তৃণমূলে, আর এক কন্যা এবার বিজেপিতে
বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রয়াত বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্য়া কস্তুরী গোস্বামী

প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর এক কন্যা বছর পাঁচেক আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এবার ক্ষিতি গোস্বামীর আর এক কন্যা যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে। মঙ্গলবার সল্টলেকে বিজেপির দফতরে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন ক্ষিতি-কন্যা কস্তুরী গোস্বামী। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন কস্তুরী। শুধু কস্তুরী একা নন, এদিন বিজেপিতে যোগ দেন প্রাক্তন এনএসজি কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। অবসরপ্রাপ্ত সিআরপিএফ কর্তা বিপ্লব বিশ্বাসও এদিন বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন।


২০১৯ সালে প্রয়াত হন আরএসপি নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামী। এরপর তাঁর এক মেয়ে বসুন্ধরা গোস্বামীকে তৃণমূলের প্রশংসা করতে শোনা যায়। তাঁর ঘাসফুল শিবিরে যোগদানের জল্পনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনা সত্যি করে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন বসুন্ধরা। ২০২১ সালের শেষে কলকাতা পৌরনিগমের নির্বাচনে ৯৬ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁকে প্রার্থী করে শাসকদল। জয়ীও হন বসুন্ধরা।


বাবরি মসজিদের জন্য কোথা থেকে টাকা পেয়েছেন হুমায়ুন? বিস্ফোরক শুভেন্দু
এবার প্রয়াত বাম নেতার আর এক কন্যা কস্তুরী বিজেপিতে যোগ দিলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির তাঁকে প্রার্থী করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, একজন বাম নেতার দুই কন্যার অন্য দুই রাজনৈতিক শিবিরে যাওয়া নিয়েও। আরএসপি তথা বামেরা কেন একজন প্রয়াত বাম নেতার দুই কন্যাকে তাঁদের সঙ্গে রাখতে পারলেন না, সেই প্রশ্ন উঠছে।


ক্ষিতি কন্যা কস্তুরীর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “বসুন্ধরা গোস্বামী দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। কাজ করছেন। গণতন্ত্রে কে কোথায় যোগদান করবেন, তাঁদের বিষয়। কেউ যদি মনে করেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে থাকবেন, তাই কস্তুরী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।”

কস্তুরীর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে তাঁর দিদি বসুন্ধরা বলেন, “এই নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। হয়ত কোনও রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল, সেটা পূরণ করার জন্য যোগদান করেছে। এটা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি কী বলব? আমার সঙ্গে খুব একটা সদ্ভাব নেই। তাই, আলোচনার কোনও প্রশ্নই নেই। আমার মা-ও জানতেন না।”