তদন্তকারী অফিসার জানান, রাস্তা ও কিছু বাড়ির সিসিটিভি খতিয়ে দেখা হয়েছে। দেখা গিয়েছে শাকির আলি যে গাড়ি ব্যবহার করতেন, সেই গাড়ি বাদ দিয়ে অন্যান্য গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনার পর ওই গাড়িতেই শাকির আলি বেরিয়ে যান।
'মাথায় অক্সিজেন যায় না', জামিন চেয়ে অপরূপার স্বামীর দাবি, সেদিন শান্তিরক্ষা করতে গিয়েছিলেন
শাকির আলি
তিন বছর আগের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে শাকির আলিকে (Shakir Ali)। প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের (Aparupa Poddar) স্বামীকে রামনবমী সংক্রান্ত মামলার মূলচক্রী হিসেবে গ্রেফতার করেছে এনআইএ (NIA)। তাঁর বাড়ি থেকে একগুচ্ছ গুলিও উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রী এমপি থাকায় প্রভাব খাটিয়েছিলেন কাউন্সিলর শাকির, হামলার পরিকল্পনাও করেন তিনি। আজ, বুধবার আদালতে তোলা হলে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন করেছেন তিনি।
‘কেন হেফাজতে নেওয়া দরকার?’, জানতে চাইলেন বিচারক
আদালতে এনআইএ উল্লেখ করে, রামনবমীতে অশান্তির ঘটনায় ৬টা এফআইআর হয়েছিল। দুই কমিউনিটির মধ্যে অশান্তি হয়। রামনবমীর মিছিলে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এনআইএ-র দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে যে শাকির আলি মূলচক্রী যিনি, উস্কানি দিয়েছিলেন। এছাড়া তাঁর বাড়ি থেকে ৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলেও জানায় এনআইএ। এনআইএ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।
'ঋতুপর্ণ মিথ্যে বলেছিল,অনুপম খের টাকা দিয়ে আমার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন!', কী ঘটেছিল রীতা কয়রালের সঙ্গে?
তবে বিচারক জানতে চেয়েছেন, ২০২৩-এর মে মাসে যে মামলা শুরু হয়েছে, তাতে এতদিন পর গ্রেফতার করা হল কেন? কেন হেফাজতে নেওয়া দরকার?
এনআইএ উত্তরে জানায়, আগে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, কারণ সরকারের তরফে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এখন সবদিক থেকে সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তকারীদের বক্তব্য, “আগে এরকম কাউকে গ্রেফতার করা স্বপ্নের মতো ছিল।”
‘সাদা গাড়িটা ওঁর ছিল’
তদন্তকারী অফিসার আরও জানান, রাস্তা ও কিছু বাড়ির সিসিটিভি খতিয়ে দেখা হয়েছে। দেখা গিয়েছে শাকির আলি যে গাড়ি ব্যবহার করতেন, সেই গাড়ি বাদ দিয়ে অন্যান্য গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। ঘটনার পর ওই গাড়িতেই শাকির আলি বেরিয়ে যান। হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন সাদা গাড়িটি বিক্রি করা হয় বলেও দাবি এনআইএ-র।
‘মাথায় অক্সিজেন যায় না’, জামিন চান শাকির আলি
আদালতে শাকির আলির আইনজীবী জানান, শাকির এই মামলায় দু’বার হাজিরা দিয়েছিলেন। একজন কাউন্সিলর হিসেবে শান্তিরক্ষা করতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। শাকিরের বক্তব্য, “যাঁরা মিছিল করে এল, তাঁদের ষড়যন্ত্র খুঁজে পেলেন না, যারা রক্ষা করতে গিয়েছে তাদের অ্যারেস্ট করছেন? বাকি অভিযুক্তরা সবাই জামিনে আছে।”
শাকির আরও জানান যে তাঁর কাছে লাইসেন্সড বন্দুক ছিল, সেটা তিনি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু গুলি বিক্রি করা যায় না। শাকির আরও বলেন, “মাথায় অক্সিজেন যায় না, সাসপেক্টেড ক্যান্সার পেশেন্ট, যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন করছি।”
শাকির আলিকে দু’দিনের এনআইএ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে। বিচারবিভাগীয় হেফাজত হলেও জেলে গিয়ে জেরায় আপত্তি নেই এনআইএ-র।