WEATHER

Top News


বর্তমান সময়ে চারিদিকে যখন ‘ছেলেধরা’ আতঙ্কে সমাজ উত্তাল, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক মানবিক ও অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের বঙ্কিমনগর গ্রাম। দীর্ঘ ১৫ বছর আগে ঘরছাড়া হওয়া এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিল সাগর থানার পুলিশ ও ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব (হ্যাম রেডিও)। 

গুজব আর সন্দেহের মেঘ কাটিয়ে পনেরো বছর পর মা ও ছেলের পুনর্মিলনে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হলো বঙ্কিমনগরে। গত কয়েকদিন ধরে সাগর থানার অন্তর্গত বঙ্কিমনগর গ্রামে এক অপরিচিত বৃদ্ধাকে ইতস্ততভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজ্যে সাম্প্রতিক ‘ছেলেধরা’ গুজবের আবহে অপরিচিত কাউকে দেখলেই যেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, সেখানে এই বৃদ্ধার উপস্থিতি চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়রা তাঁর নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি সাগর থানায় জানান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং তাঁর সঠিক পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করে। বৃদ্ধার পরিচয় উদ্ধারে সাগর থানা যোগাযোগ করে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব’ বা হ্যাম রেডিও-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে। হ্যাম রেডিওর পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দিবস মণ্ডল বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে তাঁর অসংলগ্ন কথাবার্তার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দ্রুততার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় হুগলি জেলার সিঙ্গুর এলাকায়। সেখান থেকেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ওই বৃদ্ধার নাম ছবি জ্যোতি (৬৮)।

 তিনি প্রায় ১৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর মানসিক অবসাদে ঘর ছেড়েছিলেন। হ্যাম রেডিওর সদস্যরা তাঁর ছেলে সুরজিৎ জ্যোতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে অবাক হয়ে যান। সুরজিৎ জানান, গত ১৫ বছর ধরে তাঁরা মাকে হন্যে হয়ে খুঁজেছেন। এমনকি বছর দুয়েক আগে একবার খবর পেয়েও সেখানে গিয়ে মাকে খুঁজে পাননি। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মায়ের খোঁজ পাওয়ার পর দীর্ঘ তিন দিন কেটে গেলেও সুরজিৎ তাঁকে নিতে আসার ব্যাপারে নানা টালবাহানা শুরু করেন। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস এমনকি সিঙ্গুর থানাতেও জানানো হয়।
ছেলের এই গড়িমসি দেখে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুভব করেন হ্যাম রেডিও প্রতিনিধি দিবস মণ্ডল। তিনি সরাসরি যোগাযোগ করেন রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং হ্যাম রেডিওর লাগাতার চাপের মুখে অবশেষে সুরজিৎ জ্যোতি সাগর থানায় পৌঁছাতে বাধ্য হন। সোমবার যখন সাগর থানায় পনেরো বছর পর মা ও ছেলে মুখোমুখি হন, তখন উপস্থিত পুলিশ কর্মী ও সাধারণ মানুষের চোখেও জল চলে আসে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ভবঘুরে জীবন কাটানো ছবি দেবী তাঁর সন্তানকে চিনতে পারেন। অন্যদিকে, মাকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সুরজিৎ-ও। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মাকে ফিরে পাওয়া তাঁর কাছে এক অলৌকিক ঘটনার মতো। এই মানবিক মিশনের সফল রূপায়ণের জন্য সাগরের এসডিপিও সাগর থানার ওসি এবং বিশেষ করে হ্যাম রেডিও-র প্রতিনিধিদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ছবি দেবীর পরিবার ও বঙ্কিমনগরের বাসিন্দারা। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে সাধারণ মানুষ যদি এভাবেই সচেতনতার পরিচয় দেন, তবে অসহায় মানুষদের সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। এই ঘটনা প্রমাণ করল যে, প্রযুক্তির সাথে যদি মানবিকতার মেলবন্ধন ঘটে, তবে পনেরো বছরের হারানো সম্পর্ককেও আবার জোড়া লাগানো সম্ভব।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালীতে এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব। সোমবার এই সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি মূলত রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন-শৃঙ্খলা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।


তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়ে বিপ্লব দেব বলেন, "বিজেপির কর্মসূচিতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় দেখে শাসকদল ভয় পেয়েছে। সেই আতঙ্ক থেকেই জেসিবি দিয়ে মাটি কাটা দেখার মতো কুরুচিকর তুলনা টানা হচ্ছে।" তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে এবং সেই গণজোয়ার আটকানো সম্ভব নয়। এদিন বিপ্লব দেবের বক্তব্যে উঠে আসা প্রধান বিষয়গুলি হলো: তিনি স্পষ্ট জানান, ভোটার তালিকার বিবেচনাধীন বিষয়গুলি এবং অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব নয়।জ্ঞেনেশ কুমারকে কালো পতাকা দেখানোর ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদের এই ধরণের সংস্কৃতি সুস্থ গণতন্ত্রের পরিচয় দেয় না।

বিরোধীদের তোলা নারী নির্যাতন বা উন্নয়ন নিয়ে অভিযোগ নস্যাৎ করে বিপ্লব দেব দাবি করেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার শাসিত রাজ্যগুলোতেই প্রকৃত নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সুনিশ্চিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী সেই রাজ্যগুলি পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক এগিয়ে। রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। নারী নিরাপত্তা ও অপরাধের হার নিয়ে একযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিপ্লব দেব বলেন, বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য এই অরাজকতার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

রাজ্যসভার সাংসদ পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তাঁর এই নতুন যাত্রাকে সফল করতে এবং যাবতীয় প্রতিকূলতা কাটাতে এবার কপিলমুনির শরণাপন্ন হলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। 



রবিবার গঙ্গাসাগরের পবিত্র কপিলমুনি আশ্রমে রাহুল সিনহার মঙ্গল কামনায় এক বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।
ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন রাহুল সিনহা। বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, তাঁর এই মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিক চক্রান্ত শুরু করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি নেতা অরুণাভ দাসের দাবি, তৃণমূল বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে রাহুল সিনহাকে বিড়ম্বনায় ফেলার চেষ্টা করছে। শাসকদলের এই ‘নোংরা রাজনীতির’ মোকাবিলা করতেই তাঁরা আধ্যাত্মিক শক্তির ওপর আস্থা রাখছেন।

এদিন সকালে গঙ্গাসাগরে পৌঁছে বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় নেতারা কপিলমুনির মন্দিরে ডালি সাজিয়ে পুজো দেন। আরতি ও প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁরা রাহুল সিনহার জয় এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করেন। বিজেপি নেতা অরুনাভ দাস জানান "জননেতা রাহুল সিনহার বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, কপিলমুনির আশীর্বাদ তাঁর সঙ্গে আছে।" এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গঙ্গাসাগর এলাকায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

মথুরাপুরে অভিষেকের পাল্টা সভা: গঙ্গাসাগর থেকে কয়েকশো কর্মী নিয়ে রওনা দিলেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা


মথুরাপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের হাইভোল্টেজ জনসভাকে কেন্দ্র করে আজ সরগরম দক্ষিণ ২৪ পরগনা। গত কয়েকদিন আগেই মথুরাপুরে সভা করে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজনৈতিক মহলের মতে, আজ সেই সভার পাল্টা জনসভা করতে চলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মেগা সভায় যোগ দিতে গঙ্গাসাগর থেকে কয়েকশো তৃণমূল কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মথুরাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।

এদিন সকাল থেকেই সাগরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। মন্ত্রীর নেতৃত্বে কয়েকশো মানুষের এই বিশাল দল বাস ও ছোট গাড়িতে করে মথুরাপুরের সভার দিকে রওনা দেন। বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক বার্তা শুনতে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান বিরোধীদের সব অপপ্রচারের যোগ্য জবাব দেবে। মথুরাপুরের আজকের এই জনসভা মূলত তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের এক বড় মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পাল্টাপাল্টি জনসভাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।

দিনের পর দিন বকখালির জঙ্গল থেকে নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে গাছ, বকখালি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার অন্যতম সমুদ্র সৈকত বকখালি। ছুটির দিনে কাছাকাছি সমুদ্র সৈকত এই বকখালীতে বহু মানুষ ভ্রমণ করেন। কিন্তু দিনের পর দিন বকখালির জঙ্গল থেকে নির্বিচারে কেটে ফেলা হচ্ছে একের পর এক ঝাউ গাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গলের গাছ। বন দপ্তরের নজরদারি এড়িয়ে একের পর গাছে পড়ছে কোপ। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মানুষজন দিনের পর দিন এই কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসনের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জঙ্গলের কাছেই বন দপ্তরের অফিস রয়েছে। তাদের ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে চলছে জঙ্গলের গাছ নিধন।

 একটা সময় ছিল এই ঝাউ জঙ্গল বকখালি পর্যটনের একটি অন্যতম সৌন্দর্য। কিন্তু ২০২০ সালে আমফান ঝড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই বকখালির ঝাউ জঙ্গল। তারপর ধীরে ধীরে সেই জঙ্গল তার পুরানো রূপ ফিরে পাচ্ছে। আর সেই সময় কিছু অসাধু স্থানীয় বাসিন্দা নির্বিচারে এই গাছগুলিকে প্রতিনিয়ত নিধন করে চলেছে। এইভাবে চলতে থাকলে বকখালির ঝাউ জঙ্গলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা এবং বকখালি হারাবে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। 



 ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ চড়ল। সোমবার বকখালি থেকে মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে শুরু হলো ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’।


এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এদিন সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব। সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি নেত্রী শর্বরি মুখার্জি, মথরাপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক পলাশ রানা সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা।সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ পর্যটন কেন্দ্র বকখালি থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই যাত্রার সূচনা হয়। বিজেপি কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। দলীয় সূত্রে খবর, বকখালি থেকে শুরু হওয়া এই সংকল্প যাত্রা নামখানা হয়ে কাকদ্বীপ পৌঁছাবে। যাত্রাপথের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগের মাধ্যমে শাসকদলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গঠনই এই যাত্রার মূল লক্ষ্য।

বকখালি থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষ হবে পাথরপ্রতিমায়। সেখানে একটি বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিপ্লব দেব। সুন্দরবন এলাকার উন্নয়ন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
সামনেই বিধানসভা ভোট, তার আগে মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলায় এই যাত্রা বিজেপির ঘর গোছানোর বড় কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। মিছিলে বিপ্লব দেবের পাশাপাশি জেলা ও স্থানীয় স্তরের একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন।

উদ্ধারের পর দেহটি প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আরজি কর হাসপাতালে পাঠানো হবে। রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে। অসুস্থতাজনিত কারণ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তাঁ খানিকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।


সল্টলেক: ভরদুপুরে পচা গন্ধে ঢেকে গেল সল্টলেকের জিসি ব্লক। বন্ধ বাড়ি থেকে প্রৌঢ়ের পচা-গলা মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য। স্থানীয় সূত্রে খবর, জিসি ব্লকে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ৫৪ নম্বর বাড়ি থেকে উৎকট পচা দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। ক্রমেই যেভাবে তীব্র বাড়তে থাকে তাতেই বাড়তে থাকে রহস্য। খবর যায় পুলিশে। পুলিশ এসেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বাড়ির ভিতর থেকে ৫৭ বছর বয়সী সুজয় দত্তের পচা-গলা দেহ উদ্ধার করে। কিন্তু কীভাবে মৃত্যু, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। 

উদ্ধারের পর দেহটি প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য আরজি কর হাসপাতালে পাঠানো হবে। রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে। অসুস্থতাজনিত কারণ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তাঁ খানিকটা পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে দেহের অবস্থা দেখে পুলিশের অনুমান বেশ কিছুদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে সুজয়বাবুর। সে কারণেই রীতিমতো পচন ধরে গিয়েছে গোটা শরীরে।  


প্রতিবেশীদের দাবি, সুজয় বাবু দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। বিয়ে করেননি। বাড়িতে একাই থাকতেন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর এই পরিণতি কী করে তা ভাবাচ্ছে পুলিশকে। ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে এদিনই আবার নাগেরবাজার সাতগাছি এনএন রোডে বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় মা ও ছেলের। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে নাগেরবাজার থানার পুলিশ।


দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘী বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষের নাম “আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” বা বিবেচনাধীন হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে নামলো যুব তৃণমূল কংগ্রেস।

শুক্রবার মথুরাপুর দু’নম্বর ব্লকের কোম্পানির ঠেক বাজার এলাকায় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ঝাঁটা কুস্তে হাতে মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, বহু বছর ধরে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে এত সংখ্যক মানুষের নাম কেন “আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” হিসেবে দেখানো হচ্ছে, তার সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মথুরাপুর দু’নম্বর ব্লকে মোট ৩২৩২ জন ভোটারের নাম বর্তমানে “আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ৩২৩২ জনের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও ছিল। তারপরও তাদের নাম বিবেচনাধীন দেখানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়, অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম দ্রুত চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন মথুরাপুর দু’নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি উদয় হালদার। তার সঙ্গে কয়েক শতাধিক মহিলা ও যুবক-যুবতী বিক্ষোভে অংশ নেন।

 এই অভিযোগ অস্বীকার করল বিজেপি নেতা পলাশ রানা, তিনি বলেন নির্বাচন কমিশন  নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। তৃণমূল-বিজেপি এ সব দেখছে না,সারা পশ্চিমবাংলায় বহু হিন্দু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ পড়ে আছে।

কাউন্সেলিং না করে সদ্য নিযুক্ত সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার ও মেডিক্যাল অফিসারদের ইচ্ছেমতো পোস্টিং দেওয়ার অভিযোগ, দু'ক্ষেত্রেই ব্যপক বেনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য সচিবের দ্বারস্থ চিকিৎসক সংগঠন। অবিলম্বে এই বেনিয়ম বন্ধ না হলে আগামীদিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের রাজ্য নেতৃত্ব।

চিকিৎসক নিয়োগেও ব্যাপক বেনিয়ম? স্বাস্থ্য সচিবের দ্বারস্থ সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম
চাপানউতোর চলছেই

শিক্ষক নিয়োগের পর এবার রাজ্যে চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগ উঠল। নিয়ম অনুযায়ী কাউন্সেলিং না করে সদ্য নিযুক্ত সিনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার ও মেডিক্যাল অফিসারদের মোতায়েন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে খোদ স্বাস্থ্য সচিবের দ্বারস্থ হল চিকিৎসক সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম। 

রাজ্যে সম্প্রতি ১২০০ জন মেডিক্যাল অফিসার ও ৯৩০ জন রেসিডেন্ট ডাক্তার নিয়োগ করে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। একদিন আগেই সদ্য নিযুক্ত সেই চিকিৎসকদের কর্মস্থলের তালিকা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। সেই তালিকা প্রকাশ হতেই চিকিৎসকদের কর্মস্থল নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে চিকিৎসক সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম। সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের দাবি, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী সিনিয়ার রেসিডেন্ট ডাক্তার নিয়োগের পর তাঁদের নিদেনপক্ষে এক বছর জেলা হাসপাতাল অথবা মেডিক্যাল কলেজে পরিষেবা দিতে হয়। তারপর তাঁদের ব্লক, মহকুমা ও সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা যায়। 


ট্র্যাফিক পুলিশের বুথে উঁকি দিয়েই শিউরে উঠলেন সবাই, কী হল?
অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে সে নিয়ম মানা হয়নি। নিয়োগের পরেই ইচ্ছেমতো সিনিয়ার রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের বিভিন্ন ব্লক ও মহকুমা স্তরের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতদিন সিনিয়ার রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসারদের কর্মস্থল নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রাখার জন্য স্বাস্থ্য দফতর যে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতো এবার তাও করা হয়নি। অবিলম্বে এই বেনিয়ম বন্ধ না হলে আগামীদিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের রাজ্য নেতৃত্ব। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের রাজ্য সম্পাদক সজল বিশ্বাস। 

জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই সূর্যের মা তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর কিছুদিন দিদিমার কাছে থাকলেও দিদিমার মৃত্যুর পর শিশুটির দায়িত্ব পড়ে ঠাকুমার ওপর। পুলিশের দাবি, এরপর থেকেই শিশুটিকে বোঝা মনে করতে শুরু করে বাবা সোনালাল মাণ্ডি। প্রথমে ছেলেকে অনাথ আশ্রমে দেওয়ার চেষ্টাও করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে পুলিশ।

নিজের সন্তান বিশেষভাবে সক্ষম! ছেলেকে খুন করে পুঁতে ফেলার অভিযোগে ধৃত বাবা
এলাকায় চাঞ্চল্য

বিশেষভাবে সক্ষম শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ। গ্রেফতার হল বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি। লিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম সোনালাল মাণ্ডি। বাড়ি মেমারি থানার মণ্ডলগ্রামে। মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্মের পর থেকেই সূর্য মাণ্ডি দৃষ্টিহীন ছিল এবং তার হাত-পা স্বাভাবিকভাবে নাড়াচাড়া করতে পারত না। শিশুটি বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় তাকে দেখাশোনা করতে অসুবিধা হচ্ছিল পরিবারের।

জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই সূর্যের মা তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর কিছুদিন দিদিমার কাছে থাকলেও দিদিমার মৃত্যুর পর শিশুটির দায়িত্ব পড়ে ঠাকুমার ওপর। পুলিশের দাবি, এরপর থেকেই শিশুটিকে বোঝা মনে করতে শুরু করে বাবা সোনালাল মাণ্ডি। প্রথমে ছেলেকে অনাথ আশ্রমে দেওয়ার চেষ্টাও করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে পুলিশ।



অভিযোগ, তা সফল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত খুনের পরিকল্পনা করে সে। গত বুধবার সোনালাল তার ছেলেকে মেমারির বড়পলাশন এলাকার কলাদিঘীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানেই শ্বাসরোধ করে খুন করার পর দেহটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জলাশয়ের ধারে শিশুর দেহ পড়ে থাকতে দেখে মেমারী থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

তদন্তে নেমে পুলিশ সোনালাল মাণ্ডিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি খুনের কথা স্বীকার করে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নেপালের জেনজিদের একটা বড় অংশের পছন্দ ছিলেন প্রাক্তন গায়ক তথা রাজধানীর অধুনা মেয়র বলেন্দ্র শাহ। গত সেপ্টেম্বর মাসে জেনজি আন্দোলনে অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। আর সেই আত্মবিশ্বাসকে সামনে রেখেই বরাবর ঝাপা-৫ কেন্দ্রে জিতে আসা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে ওই কেন্দ্র থেকেই দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বলেন্দ্র।

আবার জেনজি ঝড়ে লন্ডভন্ড 'ওলির স্বপ্ন', দুই-তৃতীয়াংশ আসনে এগিয়ে প্রাক্তন র‌্যাপারের দল
গোল দিচ্ছেন বলেন্দ্র শাহ

সাধারণ নির্বাচন মিটতেই শুরু হয়ে যায় গণনা। বৃহস্পতিবার রাতেই নেপালের ১০টি কেন্দ্রে ব্যালট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তারপর প্রাথমিক গণনাতেই দেখা যায় নজিরবিহীন ছবি। জেনজিদের (তরুণ প্রজন্ম) কাঁধে চড়ে গতি ধরে নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি। আর নেপথ্যে কারিগর হন দলের প্রধান তথা কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। ঝাপা-৫ আসনে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ওই আসনেই এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টির অব নেপালের প্রধান কেপি শর্মা ওলি।


বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য় অনুযায়ী, ১৬৫টি প্রত্যক্ষ আসনের মধ্যে ১০১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলেন্দ্রর দল। অর্থাৎ নেপালে এখনও পর্যন্ত দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আরএসপি। নেপালের সবচেয়ে পুরনোর দল গগন থাপার নেপালি কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে আটটি আসনে। পাশাপাশি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল এগিয়ে রয়েছে সাতটি আসনে।


 দুই বা তিনের বেশি সন্তান হলেই ২৫ হাজার টাকা দেবে এই রাজ্য
বলে রাখা প্রয়োজন, নেপালের জেনজিদের একটা বড় অংশের পছন্দ ছিলেন প্রাক্তন গায়ক তথা রাজধানীর অধুনা মেয়র বলেন্দ্র শাহ। গত সেপ্টেম্বর মাসে জেনজি আন্দোলনে অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। আর সেই আত্মবিশ্বাসকে সামনে রেখেই বরাবর ঝাপা-৫ কেন্দ্রে জিতে আসা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে ওই কেন্দ্র থেকেই দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বলেন্দ্র। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, তাতে বলেন্দ্র যে ওলিকে গোল দিতে পারেন সেই সম্ভবনাই বেশি বলে মনে করছেন একাংশ।

কিন্তু জোড়া ব্য়ালটে ভোট হওয়ার ফলে বলেন্দ্রর রাজনৈতিক জীবনে এখনও চিন্তার অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। ২০১৫ সালের নতুন সংবিধান অনুযায়ী নেপালে একটি মিশ্র নির্বাচনী ব্যবস্থা রয়েছে। যার দু’টি পদ্ধতিতে সেদেশে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে থাকে। একটি প্রত্যক্ষ নির্বাচন। অন্যটি পরোক্ষ নির্বাচন। প্রত্যক্ষ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বলেন্দ্রর দল এগিয়ে থাকলেও, পরোক্ষ নির্বাচনের ফলাফল যে ফেলে দেওয়ার মতো তা নয়। সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময়ই প্রধানমন্ত্রীত্বের পরোক্ষ নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।



 জেলার দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, বেচারাম মান্না ও তাঁর স্ত্রী করবী মান্না শাসকদলের বিধায়ক। সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম। আর তাঁর স্ত্রী হরিপালের বিধায়ক। আবার ২০১১ সাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের বিধায়ক হিসেবে রয়েছেন অখিল গিরি। তাঁর পুত্র সুপ্রকাশ গিরিও শাসকদলের নেতা। কোচবিহারের দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তাঁর পুত্র সায়ন্তন গুহও শাসকদলের নেতা।

 এক পরিবারে একটাই টিকিট? তৃণমূলে বাড়ছে জল্পনা
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

রাজ্যে চতুর্থবার তৃণমূলের ক্ষমতায় আসা নিয়ে আশাবাদী শাসক নেতারা। এই আবহে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়েও বাড়ছে জল্পনা। কাদের টিকিট দেওয়া হবে? নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধনে কীভাবে প্রার্থী তালিকা তৈরি হবে? আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসছে, এবার কি এক পরিবার একটাই টিকিট ফর্মুলা নেবে তৃণমূল নেতৃত্ব? সূত্রের খবর, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন ফর্মুলা অনুসরণ করতে পারে রাজ্যের শাসকদল। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার পরিবারের কারা টিকিট পেতে পারেন, তা নিয়েও বাড়ছে জল্পনা।

রাজ্যজুড়ে তৃণমূলে বহু প্রভাবশালী নেতা এবং তাঁদের ছেলে-মেয়েরা রাজনীতিতে সক্রিয়। আবার কোথাও স্বামী-স্ত্রী তৃণমূলের পদে রয়েছেন। রাজ্যের শাসকদলের এইসব পরিবারগুলিতে টিকিটের দাবিদার একাধিক। কলকাতাতে যেমন এরকম শাসক নেতার পরিবার রয়েছে, তেমন জেলাগুলিতেও রয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে এইসব পরিবারে কারা টিকিট পাবেন, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।


১৪ বছরের পরিচারিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ, উত্তপ্ত সাঁইথিয়া
কলকাতায় যেমন রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অতীন ঘোষ, স্বর্ণকমল সাহা এবং সুপ্তি পাণ্ডেরা। কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র এবং কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিমকেও তৃণমূলের নানা কর্মসূচিতে দেখা যায়। কলকাতা পৌরনিগমের ডেপুটি মেয়র ও কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক অতীন ঘোষ। তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী ঘোষও তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের নেত্রী।

আবার ২০১১ সাল থেকে এন্টালির বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা। তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহা কলকাতা পৌরনিগমের কাউন্সিলর। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না বলে ইতিমধ্যে দলকে বার্তা দিয়েছেন স্বর্ণকমল। তিনি চাইছেন, তাঁর আসনে ছেলে সন্দীপনকে প্রার্থী করা হোক। আবার মানিকতলার বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত। সাধন পাণ্ডের প্রয়াণের পর মানিকতলা আসনে উপনির্বাচনে সুপ্তি না শ্রেয়া কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছিল। শেষপর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্তিকে বেছে নেন। বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাবা দুলাল দাস মহেশতলার বিধায়ক। সূত্রের খবর, আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না বলে দলকে বার্তা দিয়েছেন দুলাল।

জেলার দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, বেচারাম মান্না ও তাঁর স্ত্রী করবী মান্না শাসকদলের বিধায়ক। সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম। আর তাঁর স্ত্রী হরিপালের বিধায়ক। আবার ২০১১ সাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের বিধায়ক হিসেবে রয়েছেন অখিল গিরি। তাঁর পুত্র সুপ্রকাশ গিরিও শাসকদলের নেতা। কোচবিহারের দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তাঁর পুত্র সায়ন্তন গুহও শাসকদলের নেতা। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। এরকম বিভিন্ন জেলাতেই শাসকদলের একাধিক নেতার পরিবারের অনেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। দলের বিভিন্ন পদেও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই সব প্রভাবশালী বাবাদের ছেলেমেয়েদের টিকিট পাওয়া নিয়ে জল্পনা চলে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নবীনদের পক্ষে বারবার সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে। তবে প্রবীণদেরও প্রয়োজন বলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। এই আবহে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে শাসক শিবির এক পরিবার এক টিকিট নীতি নিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তেমনই কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হতে পারে। এখন দেখার, ছাব্বিশের নির্বাচনে কারা টিকিট পান। রাজনীতির কারবারিরা অবশ্য বলছেন, শেষ মুহূর্তে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপরই সব কিছু নির্ভর করবে।

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এর আগেও তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তিনি বৈঠকে আঙুল তুলে কথা বলতে চেয়েছিলেন, তিনি আঙুল নামাতে বলেন। জ্ঞানেশ কুমার যে নির্বাচিত নন, মনোনীত, সেটাও তিনি তাঁকে স্মরণ করিয়ে এসেছিলেন। অন্তত বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তেমনই দাবি করেন অভিষেক। এদিন পোড় খাওয়া, আইন গুলে খাওয়া আইনজীবী কল্যাণের কথাতেও উঠে এল একই বিষয়।

 'আঙুল কেটে বাদ দিতাম', জ্ঞানেশ কুমারকে হুঁশিয়ারি কল্যাণের
জ্ঞানেশ কুমারকে হুঁশিয়ারি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

CEC জ্ঞানেশ কুমারকে হুঁশিয়ারি তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ। আর তার জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে হুঁশিয়ারি দিলেন কল্যাণ। বললেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে না থাকলে আঙুল কেটে বাদ দিতাম।” ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধরনা মঞ্চ থেকে এরকমই ভাষাতে হুঁশিয়ারি দিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কল্যাণ বলেন, “একা, কেবল একা। কোনও ব্র্যান্ড নিয়ে নয়, কোনও ন্যাশনাল পার্টির ব্র্যান্ড নিয়ে নয়। কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে এত নেতা তৈরি হয়েছেন, এত কর্মী তৈরি হয়েছেন। সেই মানুষটা যখন চিফ ইলেকশন কমিশনারের কাছে গেল, আমি তো সেদিন ছিলাম, কী দুর্ব্যবহার মমতাদির সঙ্গে করেছেন, আপনারা কল্পনা করতে পারবেন না। আঙুল তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কথা বলছেন।” এই কথার রেশ টেনেই হুঁশিয়ারি দেন, “আরে আঙুল তুলে তুমি কাকে কথা বলছো? তুমি যদি চিফ ইলেকশন কমিশনার না হতে, আঙুলটা তোমার কেটে বাদ দিয়ে আসতাম।” এখানেই থামেননি কল্যাণ। তিনি বলেন, “আপনি তো এক দেড় বছর এসেছে চিফ ইলেকশন কমিশনার হয়ে। আপনি তো এসেছেন অমিত শাহর দয়ায়। আপনি কোঅপারেটিভ সেক্রেটারি ছিলেন। কমিটিতে আমার সামনে আপনি অ্যাপিয়ার করেছিলেন, আপনার জ্ঞান কত আছে, আমার জানা আছে। আপনি কিচ্ছু জানেন না। আপনি একটা গোয়ার গোবিন্দ লোক!”


নির্ধারিত সময়ে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়, সুপ্রিম কোর্টে সময় চাইল রাজ্য
ভোটবঙ্গে আর এন রবিকেই বাছা হল কেন?
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এর আগেও তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, তিনি বৈঠকে আঙুল তুলে কথা বলতে চেয়েছিলেন, তিনি আঙুল নামাতে বলেন। জ্ঞানেশ কুমার যে নির্বাচিত নন, মনোনীত, সেটাও তিনি তাঁকে স্মরণ করিয়ে এসেছিলেন। অন্তত বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তেমনই দাবি করেন অভিষেক। এদিন পোড় খাওয়া, আইন গুলে খাওয়া আইনজীবী কল্যাণের কথাতেও উঠে এল একই বিষয়। তবে তার সঙ্গে আরও কয়েকটি বিষয় সংযোজিত করলেন, আরও খানিকটা সুর চড়িয়ে, রীতিমতো তীক্ষ্ণ হুঁশিয়ারি দিয়ে।

এর আগেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সতর্ক করেছেন এবং প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন। তিনি বলেছিলেন, প্রয়োজনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (অপসারণ) প্রস্তাব আনার কথাও তৃণমূল ভাবছে।

বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “তৃণমূলের সুপ্রিমো তো ওখানেই বসে রয়েছেন। যিনি বলছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে বসিয়ে বলছেন। এটাই তো গণতান্ত্রিক ভাষা। কল্যাণবাবু আরও যত বলবেন, মানুষ তো বুঝবে। যাঁরা CEC-র আঙুল কাটার কথা বলতে পারেন, তাঁরা সাধারণ ভোটারদের গলা কেটে দেবেন, তাঁদের খুন করবেন, তাঁদের বাড়ির লোকেদের সম্ভ্রমহানি করবেন। যদি নেতারাই এই ধরনের কথা বলেন, তাহলে গ্রামগঞ্জের তাঁদের যাঁরা অনুগামী, তাঁরা কী বলবেন!”