covid 19 Update

Top News

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় সবচেয়ে খারাপ পর্ব পেরিয়ে ক্রমেই সুস্থতার পথে এগোচ্ছে বাংলা। জেলায় জেলায় দ্রুতগতিতে কমছে সংক্রমণ। একটি বা দু'টি জেলা বাদ দিলে বাকি সব জেলায় কার্যত সক্রিয় রোগীর সংখ্যা কমছে দ্রুতগতিতে। রাজ্যে সব জেলায় সংক্রমণের গ্রাফ এক কথায় নিম্নমুখী। রাজ্যের শুক্রবার করোনা বুলেটিনে দেখা যাচ্ছে, দৈনিক আক্রান্ত নেমেছে ৩ হাজারের নীচে। গত ৮ এপ্রিলের পর প্রথমবার রাজ্যের দৈনিক আক্রান্ত ৩ হাজারের নীচে নামল। স্বতি দিয়ে মৃত্যুও কমছে। যত সংখ্যক টেস্ট হয়েছে তার মধ্যে পজিটিভিটির হার ৫ শতাংশের সামান্য বেশি।

শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে কোভিড বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮৮ জন।

গতকাল আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ১৮জন। শেষ একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের। গতকাল এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৬৪। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় একলাফে রাজ্যের সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা আরও ৬১৮ জন বেড়েছে। রাজ্যের বর্তমান সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৬৯১ জন। রাজ্যে বর্তমান সুস্থতার হার ৯৭.৩০ শতাংশ। একদিনে সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১১২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৫ হাজার ৩৬৭ টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।


আলিপুরদুয়ার- গতকাল আক্রান্ত ৯। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত জন ৭৪ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৪১ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-০।

কোচবিহার- গতকাল আক্রান্ত ৯৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৪ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৯৭ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-২।

দার্জিলিং- গতকাল আক্রান্ত ২৭৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২৭০ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১২৫ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-৩, শুক্রবার মৃত-২।

কালিম্পং- গতকাল আক্রান্ত ৩৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ২১ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-০।

জলপাইগুড়ি- গতকাল আক্রান্ত ১৯৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৮৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১২৭। বৃহস্পতিবার মৃত-২, শুক্রবার মৃত-৬।

উত্তর দিনাজপুর- গতকাল আক্রান্ত ২৪ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৫২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৩১ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-৫, শুক্রবার মৃত-২।

দক্ষিণ দিনাজপুর- গতকাল আক্রান্ত ৪০ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৭ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ২১ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-১।

মালদহ- গতকাল আক্রান্ত ১৩ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩০ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ২১ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-০।

মুর্শিদাবাদ- গতকাল আক্রান্ত ১৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২৭ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১৯ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-১।


নদিয়া- গতকাল আক্রান্ত ১০৫ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১০৯ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-৪, শুক্রবার মৃত-৬।

বীরভূম- গতকাল আক্রান্ত ২৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রা২৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১৯ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-১, শুক্রবার মৃত-১।

পুরুলিয়া- গতকাল আক্রান্ত ৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১১ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-০।

বাঁকুড়া- গতকাল আক্রান্ত ৮৪ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৭৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৬৭ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-০।

ঝাড়গ্রাম- গতকাল আক্রান্ত ৬১ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৫৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৪৯ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-০।

পশ্চিম মেদিনীপুর- গতকাল আক্রান্ত ১৩৩ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১২৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১০৯ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-২, শুক্রবার মৃত-১।

পূর্ব মেদিনীপুর- গতকাল আক্রান্ত ৪২৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২৬৫ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১৯৩ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-০, শুক্রবার মৃত-১।

পূর্ব বর্ধমান- গতকাল আক্রান্ত ৭২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৫৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৬৭ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-২, শুক্রবার মৃত-০।

পশ্চিম বর্ধমান- গতকাল আক্রান্ত ৪৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৮৫ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৪৭ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-১, শুক্রবার মৃত-০।

হাওড়া- গতকাল আক্রান্ত ১৭৭ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৭৫ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১৩৯ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-২, শুক্রবার মৃত-২।

হুগলি- গতকাল আক্রান্ত ১৭৭ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৭২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১১৯ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-৬, শুক্রবার মৃত-৩।

উত্তর ২৪ পরগনা- গতকাল আক্রান্ত ৪৩১ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৩৮৮ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৩১৮ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-১৭, শুক্রবার মৃত-১৫।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা- গতকাল আক্রান্ত ১৯২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৮৯ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ১৪৭ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-৮, শুক্রবার মৃত-৪।

কলকাতা- গতকাল আক্রান্ত ৩৬৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২৮৭ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ২১৫ জন। বৃহস্পতিবার মৃত-১১, শুক্রবার মৃত-১১।
উড়ন্ত শিখ' নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। রোম অলিম্পিকে মাত্র ০.১ সেকেন্ডের জন্য ব্রোঞ্জ পদক জিততে পারেননি। সেই মিলখা সিং (Milkha Singh) আর নেই। শরীরে কোভিড থাবা বসানোর ৩০ দিনের মাথায় প্রয়াত হলেন 'পদ্মশ্রী' মিলখা।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১। বাবার চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ছেলে জিভ মিলখা সিং। কিংবদন্তি অ্যাথলিটের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রীড়াজগত। শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

গত ২০ মে কোভিড (CoronaVirus) আক্রান্ত হয়েছিলেন মিলখা। তাঁর বাড়ির দুই পরিচারক করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন। বাড়ির অন্যান্যদের করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও, মিলখার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে এসেছিলেন।করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন মিলখা। এর মধ্যেই দিন পাঁচেক আগে স্ত্রী নির্মল কৌর প্রয়াত হন।তিনিও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন মিলখা। রক্তে কমে যায় অক্সিজেনের মাত্রা। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে ছিল জ্বর। চণ্ডীগড়ের একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে রাখা হয় তাঁকে। শুক্রবার সন্ধে থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। শেষপর্যন্ত আর যুঝতে পারেনি তাঁর শরীর।

পাঞ্জাবের গোবিন্দপুর গ্রামে হতদরিদ্র এক পরিবারে মিলখার জন্ম। দারিদ্র্য এতটাই যে অন্য কিছু ভাবার অবকাশ কারও ছিল না। কোনওভাবে বেঁচে থাকাটাই ছিল বড় ব্যাপার। ১৯৫৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দেশকে সোনার পদক এনে দেন মিলখা। রোম অলিম্পিকের (১৯৬০) ফাইনালে উঠেছিলেন। ফোটো ফিনিশে অল্পের জন্য অলিম্পিক পদক হাতছাড়া হয় তাঁর। কিন্তু ৪০০ মিটারে তাঁর সেই দৌড় ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সকে পৌঁছে দিয়েছিল এক অন্য উচ্চতায়। এশিয়ান গেমস থেকে জেতেন চার-চারটি সোনা।

মিলখার জীবন নিয়ে পরবর্তীকালে তৈরি হয় বায়োপিক 'ভাগ মিলখা ভাগ' । মিলখার ভূমিকায় অভিনয় করেন ফারহান আখতার। সেই ছবিতে দেখানো হয়, দেশভাগের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কিশোর মিলখার চোখের সামনেই মেরে ফেলা হচ্ছে মা-বাবা এবং ভাইবোনদের। জীবনের শেষ মুহূর্তের ঠিক আগে মিলখার বাবা চিত্‍কার করে বলেন, 'ভাগ মিলখা ভাগ'। জীবন বাঁচাতে দৌড় শুরু করেন মিলখা। সেই দৌড় থেমে গেল শুক্রবার।
আজ অর্থাৎ ১৮.০৬.২০২১ তারিখে সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, শ্রী ভাস্কর মুখার্জি, আইপিএস এর নেতৃত্বে কাকদ্বীপ থানার অধীনে কাকদ্বীপ চৌরাস্তায় নতুন উদ্যমের সাথে কোভিড সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়েছিল, যেখানে পুলিশ সুপারের সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর), এসডিপিও কাকদ্বীপ সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একইসাথে মন্দিরবাজার থানার অধীনে বিজয়গঞ্জ বাজার এবং নামখানা থানার অধীন নামখানা বাজারেও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে যথাক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল), ডিএসপি মন্দিরবাজার এবং এসডিপিও সাগরের নেতৃত্বে এই প্রচারকার্য
 চালানো হয়েছিল। মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান ইত্যাদি মহিলা ও শিশু সহ প্রায় ১৫০০ জন ব্যক্তির মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। ব্যবসায়ী সমিতি / বাজার কমিটির বিশিষ্ট সদস্যবৃন্দ সহ সর্বস্তরের অংশগ্রহীতা সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন এবং কোভিড প্রোটোকল ও সরকারের নির্দেশিকা অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী দিনগুলিতে সুন্দরবন পুলিশ জেলার তরফ থেকে এ ধরণের প্রচারগুলি জারি থাকবে। কর্মসূচির কিছু ঝলক নিম্নরূপ: 


আম্রপালী ছিলেন এমন একজন অনিন্দ্য সুন্দরী ; প্রায় ২,৫০০ বছর আগে রাষ্ট্র যাকে বানিয়েছিল নগরবধূ বা পতিতা-
স্বাদের দিক থেকে অনেকের কাছেই 'আম্রপালী' আম খুবই প্রিয় । আকারে ছোট কিন্তু মিষ্টির দিক থেকে যেন সকল আমকে পিছনে ফেলে দিয়েছে 'আম্রপালী' । কিন্তু  এই আমটার নামকরণ কোথা থেকে হল জানেন ?

আম্রপালী জন্মেছিলেন আজ থেকে ২,৫০০ বছর আগে ভারতে । তিনি ছিলেন সে সময়ের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী এবং নর্তকী । তার রুপে পাগল ছিল পুরো পৃথিবী আর এই রুপই তার জন্য কাল হয়ে ওঠে । যার কারণে তিনি ছিলেন ইতিহাসের এমন একজন নারী, যাকে রাষ্ট্রীয় আদেশে পতিতা বানানো হয়েছিল !

আম্রপালী বাস করতেন বৈশালী শহরে । বৈশালী ছিল প্রাচীন ভারতের গণতান্ত্রিক একটি শহর, যেটি বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যের অর্ন্তগত । 
মাহানামন নামে এক ব্যক্তি শিশুকালে আম্রপালীকে আম গাছের নিচে খুঁজে পান । তার আসল বাবা-মা কে ইতিহাস ঘেঁটেও তা জানা যায়নি । যেহেতু তাকে আম গাছের নিচে পাওয়া যায় তাই তার নাম রাখা হয় আম্রপালী । সংস্কৃতে আম্র মানে আম এবং পল্লব হল পাতা । অর্থাৎ, আমগাছের নবীন পাতা ।

কিন্তু শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা দিতেই আম্রপালীকে নিয়ে হইচই পড়ে যায় । তার রুপে চারপাশের সব মানুষ পাগল হয়ে যান । দেশ-বিদেশের রাজপুত্রসহ রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে যান । নানা জায়গায় থেকে তাকে নিয়ে দ্বন্দ, ঝগড়া আর বিবাদের খবরও আসতে থাকে । সবাই তাকে একনজর দেখতে চান, বিয়ে করতে চান । এ নিয়ে আম্রপালীর মা-বাবা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন । তারা তখন বৈশালীতে সকল গণমান্য ব্যক্তিকে এর একটি সমাধান করার জন্য বলেন । কারণ, সবাই আম্রপালীকে বিয়ে করতে চান । তখন বৈশালীর সকল ক্ষমতাবান ও ধনবান ব্যক্তি মিলে বৈঠকে বসে নানা আলোচনার পর যে সিদ্ধান্ত নেন তা হল, আম্রপালীকে কেউ বিয়ে করতে পারবেন না । কারণ তার রুপ । সে একা কারো হতে পারে না । আম্রপালী হবে সবার । সে হবে একজন নগরবধু, মানে সোজা বাংলায় পতিতা ।
 
এটা ছিল একটা ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত । ইতিহাসে এভাবে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কাউকে পতিতা বানানো হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত খুবই বিরল ! আম্রপালী সে সভায় পাঁচটি শর্ত রাখেন-

(১) নগরের সবচেয়ে সুন্দর জায়গায় তার ঘর হবে ।
(২) তার মুল্য হবে প্রতি রাত্রির জন্য পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা ।
(৩) একবারে মাত্র একজন তার গৃহে প্রবেশ করতে পারবেন ।
(৪ ) শক্র বা কোন অপরাধীর সন্ধানে প্রয়োজনে সপ্তাহে সর্বোচ্চ একবার তার গৃহে প্রবেশ করা যাবে ।
(৫) তার গৃহে কে এলেন আর কে গেলেন- এ নিয়ে কোন অনুসন্ধান করা যাবে না ।

সবাই তার এসব শর্ত মেনে নেন । এভাবে দিনে দিনে আম্রপালী বিপুল ধন-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন । তার রুপের কথাও দেশ-বিদেশে আরও বেশী করে ছড়িয়ে পড়তে থাকে । 

প্রাচীন ভারতের মগধ রাজ্যের রাজা ছিলেন বিম্বিসার । শোনা যায়, তার স্ত্রীর সংখ্যা নাকি ৫০০ ছিল ! নর্তকীদের নাচের এক অনুষ্ঠানে তিনি এক নর্তকীর নাচ দেখে বলেছিলেন, এ নর্তকী বিশ্বসেরা । 
তখন তার একজন সভাসদ বলেন- মহারাজ, এই নর্তকী আম্রপালীর নখের যোগ্য নয় ! 
বিম্বিসারের এই কথাটি নজর এড়ায়নি । তিনি তার সেই সভাসদের থেকে আম্রপালী সম্পর্কে বিস্তারিত শুনে তাকে কাছে পাবার বাসনা করেন । 
কিন্তু তার সভাসদ বলেন, সেটা সম্ভব নয় । কারণ, তাহলে আমাদের যুদ্ধ করে বৈশালী রাজ্য জয় করতে হবে আর আম্রপালীর দেখা পাওয়াও এত সহজ নয় । দেশ-বিদেশের বহু রাজাসহ রাজপুত্ররা আম্রপালীর প্রাসাদের সামনে তার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন । কিন্তু মন না চাইলে তিনি কাউকে দেখা দেন না ।
 
এত কথা শুনে বিম্বিসারের আগ্রহ আরও বেড়ে গেল । তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ছদ্মবেশে বৈশালী রাজ্যে গিয়ে আম্রপালীকে দেখে আসবেন । কি এমন আছে সেই নারীর মাঝে, যার জন্য পুরো পৃথিবী পাগল হয়ে আছে ! 
তারপর বহু চড়াই উৎরাই শেষে তার আম্রপালীর সাথে দেখা করার সুযোগ আসে । আম্রপালীর প্রাসাদ আম্রকুঞ্জে । কিন্তু দেখা করতে গিয়ে রাজা চমকে উঠেন, এত কোন নারী নয় ; যেন সাক্ষাৎ পরী ! এ কোনভাবেই মানুষ হতে পারেন না । এত রুপ মানুষের কিভাবে হতে পারে !
কিন্তু অবাক রাজার জন্য আরও অবাক কিছু অপেক্ষা করছিল । কারণ, আম্রপালী প্রথম দেখাতেই তাকে মগধ রাজ্যের রাজা বলে চিনে ফেলেন এবং জানান- তিনি তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন বহু আগে থেকেই । 
এই কথা শুনে রাজার বিস্ময়ের সীমা থাকে না ।
রাজা সাথে সাথে তাকে তার রাজ্যের রাজরাণী বানানোর প্রস্তাব দেন । কিন্তু আম্রপালী জানান, তার রাজ্যের মানুষ এটা কখনোই মেনে নেবেন না । উল্টো বহু মানুষের জীবন যাবে । রক্তপাত হবে । তাই রাজাকে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেন । 
কিন্তু বিম্বিসার বৈশালী আক্রমন করে আম্রপালীকে পেতে চান । ওদিকে আম্রপালী তার নিজের রাজ্যের কোন ক্ষতি চান না । তাই তিনি রাজাকে তার নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠান এবং বৈশালীতে কোন আক্রমণ হলে তিনি তা মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন । 

এদিকে বিম্বিসারের সন্তান অজাতশত্রুও আম্রপালীর প্রেমে মগ্ন ছিলেন । তিনি বিম্বিসারকে আটক করে নিজে সিংহাসন দখল করে বসেন এবং আম্রপালীকে পাওয়ার জন্য বৈশালী রাজ্য আক্রমণ করে বসেন । কিন্তু দখল করতে সক্ষম হননি এবং খুব বাজেভাবে আহত হন । পরবর্তীতে আম্রপালীর সেবায় সুস্থ হয়ে গোপনে তার নিজের রাজ্যে ফেরত যান । সেদিনও আম্রপালী অজাতশত্রুর বিয়ের প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেন ।

এত নাটকীয়তার পর শেষের দিকে এসে কি হল ? গৌতম বুদ্ধর সময়কাল তখন । গৌতম বুদ্ধ তার কয়েকশ সঙ্গী নিয়ে বৈশালী রাজ্যে এলেন । একদিন বৈশালী রাজ্যের রাবান্দা থেকে এক বৌদ্ধ তরুণ সন্ন্যাসীকে দেখে আম্রপালীর মনে ধরে গেল ।  তিনি ভাবলেন, দেশ-বিদেশের রাজারা আমার পায়ের কাছে এসে বসে থাকেন আর এত সামান্য একজন মানুষ । তিনি সেই সন্ন্যাসীকে চার মাস তার কাছে রাখার জন্য গৌতম বুদ্ধকে অনুরোধ করলেন । সবাই ভাবলেন, বুদ্ধ কখনই রাজি হবেন না । কারণ, একজন সন্ন্যাসী এমন একজন পতিতার কাছে থাকবেন ; এটা হতেই পারে না । কিন্তু গৌতম বুদ্ধ তাকে রাখতে রাজি হলেন এবং এটাও বললেন, আমি শ্রমণের (তরুণ সে সন্ন্যাসীর নাম ছিল) চোখে কোন কামনা-বাসনা দেখছি না । সে চার মাস থাকলেও নিষ্পাপ হয়েই ফিরে আসবে- এটা আমি নিশ্চিত !

চার মাস শেষ হল । গৌতম বুদ্ধ তার সঙ্গীদের নিয়ে চলে যাবেন । তরুণ শ্রমণের কোন খবর নেই । তবে কি আম্রপালীর রুপের কাছেই হেরে গেলেন শ্রমণ ? সেদিন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তরুণ শ্রমণ ফিরে আসেন । তার পিছনে পিছনে আসেন একজন নারী । সেই নারীই ছিলেন আম্রপালী । আম্রপালী তখন বুদ্ধকে বলেন, তরুণ শ্রমণকে প্রলুব্ধ করতে কোনও চেষ্টা বাকি রাখেননি তিনি । কিন্তু এই প্রথম কোন পুরুষকে বশ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বৈশালীর নগরবধূ আম্রপালী । তাই আজ সর্বস্ব ত্যাগ করে বুদ্ধের চরণে আশ্রয় চান তিনি ।

পরে সব কিছু দান করে বাকী জীবন গৌতম বুদ্ধের চরণেই কাটিয়ে দেন ইতিহাস বিখ্যাত সেই রমণী আম্রপালী !



 অনুমতি ছাড়াই ওয়েবসাইটে কিছু মহিলার পর্ন ভিডিয়ো প্রকাশ করে তা থেকে মুনাফা করছে 'পর্নহাব'। তার মধ্যে ধর্ষণ এবং শিশু যৌনতার ক্লিপিংও রয়েছে। এমন অভিযোগ এনে পর্নহাব ওয়েবসাইটের মূল সংস্থা মাইন্ডগিকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে মামলা দায়ের করলেন ৩৪ জন অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা। আদালতে তাঁরা জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়াই তাঁদের নগ্ন ভিডিয়ো ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছে। তাঁদের ১৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং আরও ১৪ জন যৌন অপরাধীদের দ্বারা নিগৃহীতা। আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা, কলোম্বিয়া এবং তাইল্যান্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন ওই ৩৪ জন মহিলা। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেই তাঁরা নিজেদের নাম প্রকাশ করেননি বলে জানিয়েছেন আদালতকে।

শুধু তাই নয়, মাইন্ডগিক সংস্থার বিরুদ্ধে মানুষ পাচার, হ্যাকিং, পিছু নেওয়া, হুমকি, তোলাবাজি, অর্থ তছরুপের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে। দায়ের হওয়া মামলায় বলা হয়েছে, ''মানুষ পাচারের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার মধ্যে অন্যতম হল এই মাইন্ডগিক। সম্ভবত উত্তর আমেরিকায় শিশু পর্নগ্রাফির সবচেয়ে বড় ভান্ডার রয়েছে এই সংস্থার হাতে, যা একেবারেই অনিয়ন্ত্রিত। এটা পর্নগ্রাফির বিষয়ই নয়, ধর্ষণ। শিশুদের যৌন হেনস্থার বিষয়, যা আইনের চোখে অপরাধ।''

পাল্টা বিবৃতিতে পর্নহাবের তরফে জানানো হয়েছে, হেনস্থার বিষয় অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে সংস্থা। মহিলাদের অনুমতি না নেওয়ার প্রশ্নে সংস্থার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মহিলা পাচার নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন।


 লক্ষ্য, ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের বাজার ধরা। আর সেই লক্ষ্য পূরণের তাগিদে গত মাসে হার্লে ডেভিডসন (Harley Davidson) একটি পৃথক এবং স্বাধীন সংস্থার ঘোষণা করে। নিজের প্রথম বৈদ্যুতিন মোটরসাইকেলের লাইভওয়্যার (Livewire)-এর নামে হার্লে ডেভিডসন নতুন ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ব্র্যান্ডের নামকরণ হয়। শীঘ্রই লাইভওয়্যার ব্র্যান্ডেড প্রথম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল জনসমক্ষে আনা হবে বলে হার্লে ডেভিডসন সেই সময় জানিয়েছিল।

লাইভওয়্যার ব্র্যান্ডের আপকামিং ইলেকট্রিক বাইক কী নামে আসবে, তা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের NHTSA (The National Highway Traffic Safety Administration) ওয়েবসাইট থেকে এবার জানা গেল। এছাড়াও, নথিপত্র থেকে বাইকটির বিষয়ে কিছু তথ্য সামনে এসেছে। ফলে খুব বাইটিকে তাড়াতাড়িই জনসমক্ষে আনার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হল।

হার্লে ডেভিডসনের লাইভওয়্যার ব্র্যান্ডের প্রথম ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের নাম হবে লাইভওয়্যার ওয়ান (LiveWire One)। আবার অরিজিনাল মডেলের তুলনায় লাইভওয়্যার ওয়ানের পাওয়ার আউটপুট ব্যাপক পরিমাণে বাড়বে। ২০১৮ সালে বাজারে পা রাখা অরিজিনাল লাইভওয়্যার ইলেকট্রিক মোটরসাইকেল ৭০ বিএইপি পাওয়ার উত্‍পাদন করতে সক্ষম ছিল। সেখানে লাইভওয়্যার ওয়ানের পাওয়ার আউটপুট হবে ১০১ বিএইচপি।

NHTSA এর ওয়েবসাইটে LiveWire One কে ২০২১ মডেল হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে এই বছরেই এই ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলের গ্লোবাল লঞ্চ ও বিক্রি শুরু হয়ে যাবে বলেই আমাদের বিশ্বো



 জেনেভা, ১৮ জুন : করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। সাম্প্রতিক অতীতে সবথেকে বেশি ভয় ধরিয়েছে করোনার ভারতীয় প্রজাতি ডেল্টা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই প্রজাতির সংক্রমণ বাড়তেই দেখেই ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট থেকে ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্নে বদলে গেছে ডেল্টা। এর মধ্যেই ভয় ধরাতে শুরু করেছে আর এক প্রজাতি ল্যাম্বডা (Lambda)। বিশ্বের ২৯টি দেশে এখনও পর্যন্ত এই প্রজাতির সন্ধান মিলেছে। ল্যাম্বডা ভাইরাসের প্রথম খোঁজ মিলেছিল দক্ষিণ আমেরিকায় সময়কাল ২০২০-র আগস্ট। বছর ঘুরলেও প্রথমে বিপদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি এই ল্যাম্বডা। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য জানাচ্ছে, ল্যাম্বডা প্রজাতিকে যতটা নিরীহ মনে করা হয়েছিল তার থেকে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।

জানা গেছে, ল্যাম্বডা প্রজাতির শক্তির কাছে তুচ্ছ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সম্প্রতি এমনই তথ্য চিকিত্‍সা বিজ্ঞানীদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এদিকে চিন্তা বাড়িয়ে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ল্যাম্বডা প্রজাতি। গত ৬০ দিনে চিলিতে করোনা আক্রান্ত ৩২ শতাংশের শরীরে মিলেছে ল্যাম্বডার উপস্থিতি। একইভাবে আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডরেও গণহারে ছড়াচ্ছে ল্যাম্বডা। গত এপ্রিল থেকে ল্যাম্বডার দাপটে বিধ্বস্ত পেরু। সেখানে করোনা আক্রান্তের ৮২ শতাংশের শরীরে এই নতুন প্রজাতির উপস্থিত মিলেছে। 

ডেল্টা প্রজাতির ভীতি এখনও বিশ্বকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তাই ল্যাম্বডা নিয়ে চুপ করে বসে থাকতে নারাজ বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে খোজখবর। নতুন প্রজাতির নাড়ি নক্ষত্র জানতে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। নতুন বিপদ হিসেবে ল্যাম্বডা প্রজাতিকে চিহ্নিত করতে হলে আরও পড়াশোনার প্রয়োজন রয়েছেন। তাই এখনও ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্টেই আটকে রয়েছে ল্যাম্বডা। ডেল্টার মতো ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্নে আসতে হলে তাঁকে অপেক্ষা করতে হবে।


  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) হস্তক্ষেপে কেটেছে জট। আজ অর্থাত্‍ শুক্রবার থেকেই শুটিং শুরু টালিগঞ্জে। কোনওভাবেই শুটিং বন্ধ রাখা যাবে না। একথাই জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নির্দেশ মেনেই চেনা ছন্দে ফিরছে স্টুডিওপাড়া।

কিছুদিন আগেই শর্ত সাপেক্ষে শুটিং শুরুর অনুমতি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। বলা হয়েছিল, ইউনিটে সর্বোচ্চ ৫০জন সদস্য নিয়ে শুটিং করা যাবে। ফ্লোরের স্যানিটাইজেশনের খেয়াল রাখতে হবে এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পাশাপাশি প্রত্যেক ইউনিট মেম্বারকে ভ্যাকসিনেটেড হতে হবে। সেই নির্দেশমতো গত বুধবারই শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই আবার ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কাস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (FCTWEI) অভিযোগ করে, ২০টি ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে শুটিং করার নিয়ম মানা হয়নি। কোভিড বিধি লঙ্ঘন করে হোটেল, গুদামের মতো জায়গায় শুটিং করা হয়েছে। এমনকী ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংও করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ টেলিভিশন প্রোডিউসারস অফ ওয়েস্টবেঙ্গল (WATP) সংগঠনের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়।






কিন্তু তারপরও জটিলতা কাটেনি। শুটিং শুরুর জন্য স্টুডিওপাড়ার দরজা খুললেও অনেক টেকনিশিয়ান ফ্লোরে যাননি। ফলে শুটিং শুরু করা যায়নি। এই জটিলতা কাটাতে সক্রিয় হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দেন, শুক্রবার থেকে শুটিং শুরু করতেই হবে। সেই মতো সপ্তাহান্তে ফের লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন শোনা যাবে টলিপাড়ার চার দেওয়ালের মাঝে। এর জন্য আর্টিস্টস ফোরামের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে লেখা হয়েছে, 'মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এই সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি। আবার আমরা সবাই মিলে আগামীদিনে নিয়মিত শ্যুটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দর্শকদের মনোরঞ্জন করব। অন্ধকার সরিয়ে আমাদের পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে আলোয় ভরিয়ে তোলার জন্য মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আর্টিস্টস ফোরাম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছে।' তারকাদের পাশাপাশি চেনা ফ্লোরে ফিরে খুশি কলাকুশলীরাও।

 


 নন্দীগ্রামে ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে। কোনদিন এই অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন মমতা। ব্যক্তিগতভাবে শুভেন্দুর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলেও, গরমে কারচুপি ইস্যুতে অবশ্য মমতাকে কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, 'নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী হেরেছেন, এটাই শেষ কথা।' পাশাপাশি তাঁর আরও দাবি, শুধুমাত্র রাজ্যপালকে ইস্যু করে বিরোধীদের আক্রমণ করলে, মানুষকে বোকা বানানো যায় না।


একুশের বিধানসভা নির্বাচনে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল নন্দীগ্রাম। শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে নিয়ে ওই কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যজুড়ে বিজেপির ভরাডুবি হলেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও শুভেন্দুর কথামতো ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তো দূর, ব্যবধান ছিল অতি সামান্য। অবশ্য তার আগেই একবার মমতাকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা কারচুপির নমুনাস্বরূপ একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছিলেন। এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেন মমতা। আজ হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর মনে হয়েছে, তিনি আদলতে গিয়েছেন। আমরাও একাধিক বিষয়ে আদালতে যেতে পারি। কারচুপির অভিযোগ আনলেও এটাই সত্যি যে উনি হেরেছেন। তাই অন্য জায়গা থেকে ভোটে লড়াই করার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছেন।'

অন্যদিকে, জল থই থই কলকাতা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না দিলীপ। নাম না করে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমকে টার্গেট করেন তিনি। এদিন দিলীপ বলেন, 'যারা দশ বছরে কাজ পারে না, তারা এক বছরে পারবে কেউ বিশ্বাস করবে? যখন গতবছর আমফান এল, সাতদিন ধরে লোডশেডিং ছিল। আজকে যারা রাজ্যপালের সমালোচনা করছেন, সেচমন্ত্রীর দোষ ধরছেন, তাঁরা ক্ষমতায় থাকাকালীন, মেয়র থাকাকালীন কাজ করতে পারেননি কেন?' করোনার ভ্যাকসিন নিয়েও রাজ্য সরকারের তুলোধোনা করেন তিনি। দিলীপের দাবি, কেন্দ্র ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছে অথচ বাংলার মানুষ ভ্যাকসিন পাচ্ছে না। শুধু রাজ্যপালকে ইস্যু করে এবং বিরোধীদের আক্রমণ করে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করাহচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি



PROHOR. 


  মাত্র ১০ বছর আগেই একটি খবর কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। হরশদ মেহতা ধরা পড়েছেন স্টক মার্কেট স্ক্যামে। সব মিলিয়ে টাকার অঙ্কের সংখ্যা হাজার কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। সারা দেশের অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে গিয়েছিল সেই সময়। এই ঘটনার ১০ বছর পর, আরও এক ব্যক্তি ধরা পড়লেন কলকাতায়। এবার অভিযোগ, কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জ তছরুপ করেছেন ইনি। না, হরশদ মেহতার ঘটনার মতো টাকার অঙ্ক ছিল না এখানে। তবে নিছক কমও নয়, প্রায় ১২০ কোটি টাকা! কে এই ব্যক্তি?

সেটা জানার আগে একবার ফিরে দেখা যাক অতীতের দিকে। নবাবের হাত থেকে তখ ক্ষমতা চলে গেছে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে। রাজা-বাদশাহরা তখন তাঁদের হাতের পুতুলমাত্র। এমন সোনার রাজহাঁসের ওপর যখন উপনিবেশ তৈরি করা হবে, তখন সব দিক থেকেই আয়োজন করা ভালো। আর কলকাতা তখন ইংরেজদের স্বপ্নের শহর। এমন সময় ১৮৩০ সালে কলকাতার ভেতরেই একটি নিমগাছের তলায় জড়ো হলেন কয়েকজন। লক্ষ্য লেনদেনের। ইতিহাস বলে, কলকাতা এবং সম্ভবত ভারতেও স্টক এক্সচেঞ্জের ধারণার সূত্রপাত সেই দিনটি থেকেই, সেই নিমগাছের তলায়… 

কিন্তু স্টক মার্কেটের সেরকম কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান তখনও তৈরি হয়নি। এদিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরও ব্যবসা বাড়ছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কলকাতার জৌলুসও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতেই ১৯০৮ সালে ১৫০ জন মেম্বার নিয়ে শহরের ডালহৌসি অঞ্চলের লায়ন্স রোডে তৈরি হল ‘ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ’। ভবনটি অবশ্য বড়ো করে তৈরি হয়েছিল ১৯২৮ সালে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশিয়ায় এর আগে মাত্র একটিই স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একরকম ইতিহাসেরই সূত্রপাত হয়েছিল সেই সময়। ধীরে ধীরে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জও নিজের জায়গা বজায় রাখে। একটি নামী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এটি। 

এবার আসা যাক আসল প্রসঙ্গে। এবং এই পর্যায়ে উপস্থিত হবেন সেই ব্যক্তিটি, যার কথা লেখার শুরুতেই বলা হয়েছিল। তিনি কেতন পারেখ। চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্টটেন্ট হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। আশির দশকের শেষের দিকে নিজের পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হয়েই ব্রোকারদের জগতে প্রবেশ করেন। আর এই সময়ই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় হরশদ মেহতার। এর কয়েক বছর পরই মেহতা ধরা পড়েন স্টক মার্কেট স্ক্যামে। বিশাল অঙ্কের টাকা তছরুপের তথ্য উঠে আসে খবরে। জড়িয়ে পড়ে মেহতার নিজস্ব কোম্পানিও। পরিচিত লোকেদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, এই পুরো কর্মকাণ্ড থেকে বেঁচে যান কেতন পারেখ। তাঁর চেহারা, ভাবভঙ্গি আগে থেকেই ছিল বেশ নরম, ভদ্র ধাঁচের। যাকে বলে মাটিতে পা দিয়ে চলা একজন মানুষ। তার ওপর সিএ; এমন মানুষের ওপর সন্দেহ যে তেমন উঠবে না বলাই বাহুল্য। আর ঠিক এটাই চাইছিলেন কেতন নিজেও…     মেহতার পথ ধরে ততদিনে নিজের ঘুঁটিও সাজানোর পরিকল্পনা শুরু করেছেন তিনি। নব্বইয়ের শেষের দিকে এসে কেতন পারেখের দহরম মহরম বাড়ে। যেখানে হাত দিচ্ছেন, সেখানেই সোনা! স্টক মূল্য নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা শুরু করেছেন কেতন। আর তাঁর সেই বুদ্ধির ক্যারিশমায় মজে রইল বাকি ব্রোকার ও বিনিয়োগকারীরা। প্রচুর টাকা আসতে লাগল সেই সূত্র থেকে। আর এমন পরিস্থিতিতেই কেতনের যোগাযোগ দৃঢ় হল বলিউডের সঙ্গে। দামি গাড়ি, বাড়ি, বড়ো বড়ো মানুষদের সঙ্গে ওঠাবসা— সবই চলতে লাগল। সবাই অবাক হয়ে দেখল, কেতন পারেখ যাই অনুমান করে তা-ই ঠিক। তিনি তখন স্টক মার্কেটের রাজা! 

আর একবার রাজা হয়ে গেলে, হাতে চলে আসে ক্ষমতা। ভেতরে ভেতরে সেই ক্ষমতা অপব্যবহারের ইচ্ছাও চলে আসে। এক্ষেত্রেও অন্যথা হয়নি। মুম্বই থেকে কেতন পারেখের নজর ঘুরল ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের দিকে। এখানে স্টক এক্সচেঞ্জের সেরকম কঠিন নিয়ম নেই, বেড়াজাল নেই। ব্যস, বেশ কিছু এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে শুরু হল নিয়ম ভাঙার খেলা। যত ভাঙবে, ততই বাড়তি টাকা। কেতনের সঙ্গে জুড়ে গেল আরও কিছু ব্রোকার। কমিশনের বিনিময়ে চলতে লাগল পুরো কাজ। এর মধ্যে আরও একটা কাজ শুরু করলেন কেতন। পকেটে যখন প্রচুর টাকা আছে, তখন ছোটো ছোটো, অপরিচিত কোম্পানিগুলোর শেয়ার কিনে নাও। রাতারাতি সেই কোম্পানিগুলোর শেয়ার রেটও বেড়ে গেল। একটা জায়গায় পৌঁছনোর পর সব বেচে বেরিয়ে এলেন কেতন পারেখ। নিট ফল? আরও আরও লাভ… তবে এই কাণ্ডের জেরে কলকাতার অর্থনীতির আঙিনায় এক বিরাট ধস নামল। বড়ো কোম্পানিগুলোর বদলে একেবারে অপরিচিত কোম্পানির শেয়ার মূল্য বেড়ে গেল অনেকটা। ফলে মার্কেটে একটা অদ্ভুত অচলাবস্থা তৈরি হল। যার জের পড়ল শহরবাসীর পকেটে। তবে সবচেয়ে বড়ো ঘটনা এখনও বাকি আছে। ২০০১ সালের মার্চ মাস। সবেমাত্র কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে। এরপরেই অনেকের নজর থাকে শেয়ার বাজারে। সেই সেনসেক্সেই নামল বিশাল ধস। কেন এমন হল? তদন্তে নামল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। এবং তখনই সন্দেহের তালিকায় এল কেতন পারেখের নাম। যখন তদন্ত শুরু করেছে আরবিআই, তখন মুম্বইতে চলছে আরও একটি নাটক। সেখানকার বেশ কিছু ব্রোকার পারেখের বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। কে-১০ নামের একটি বিশেষ স্টক পারেখের অধীনে ছিল। সেই সঙ্গে ছিল গ্লোবাল ট্রাস্ট ব্যাঙ্ক আর মাধবপুর মারসেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠান। বিপদ বুঝে সেই বিশাল অঙ্কের শেয়ার বেচে দেন তিনি; তাও নির্ধারিত ট্রেডিং সময়ের পর। ফলাফল? পরেরদিনই স্টক মার্কেট পুরোপুরি ভেঙে পড়ে… 

এরপর কেতন পারেখের ধরা পড়া ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। ২০০২ সালে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টিম তাঁকে গ্রেফতার করে। তখনই সামনে আসে ২০০১ সালে প্রায় ১২০ কোটি টাকা তছরুপের অঙ্ক। গোটা ভারতে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে যায়। স্রেফ নিজের বুদ্ধিকে অদ্ভুতভাবে, ভুল পথে কাজে লাগালেন কেতন পারেখ। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েছিলেন আরও বহু ব্রোকার ও বিনিয়োগকারী। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে গোটা দেশের স্টক মার্কেটকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ব্যাঙ্কিং সিস্টেমকেও ছাড়েননি পারেখ। ঐতিহাসিক ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকেও নিজের পথের হাতিয়ার করেছিলেন। হাতিয়ার, না রঙ্গমঞ্চ? গ্রেফতারির সময় সবার নিশ্চয়ই ১০ বছর আগের কাহিনিটাও মনে পড়েছিল। মনে পড়েছিল হরশদ মেহতার কথা। কেতন পারেখের যাত্রাও তো সেই সময় থেকেই… 


করোনাভাইরাস দ্বিতীয় ঢেউ অনেকটাই সামলে উঠেছে ভারত। অন্তত বিগত কয়েক দিনের পরিসংখ্যান তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এদিন কিছুটা বেড়েছে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা। তবে দেশের অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা স্বস্তি দিচ্ছে সকলকে কারণ ৭১ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন অ্যাক্টিভ কেস রয়েছে দেশে।

শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭ হাজার ২০৮ জন। এই একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ জনের। সব মিলিয়ে দেশে মোট ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৩১৩, এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৯০৩ জন। একই সময়ে ভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৫৭০ জন মানুষ।


একই সময়ে ভাইরাসকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লক্ষ ৩ হাজার ৫৭০ জন মানুষ। মোট সুস্থের সংখ্যা ২ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৬৭০ জন। এই মুহূর্তে দেশের অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৮ লক্ষ ২৬ হাজার ৭৪০ জন, যা ৭১ দিনের তুলনায় সবথেকে কম।

তবে এখনো পর্যন্ত দেশের কয়েকটি রাজ্যে ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্বেগ বজায় রেখেছে। তবে পুরোদমে টিকাকরণ কর্মসূচি চলছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এখনো পর্যন্ত ২৬ কোটি ৫৫ লক্ষ ১৯ হাজার ২৫১ জন ভ্যাকসিন পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৮৭ জন। এই একই সময়ে করোনাকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ২ হাজার ১২ জন। গত একদিনে রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ৬৯। মৃতদের মধ্যে ১৭ জন উত্তর ২৪ পরগনার এবং ১৩ জন কলকাতার। তথ্য বলছে, রাজ্যের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে এখনও সবথেকে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। কারণ সেখানে একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন সর্বাধিক ৪৩৫ জন, এর পরেই রয়েছে কলকাতা। শহরের আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭৭-এ। এর পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই মেদিনীপুর কিছুটা হলেও উদ্বেগ বাড়িয়ে রেখেছে।
ট্রলারের মধ্যে মত্‍স্যজীবীর রহস্য মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল কাকদ্বীপে। বৃ্হস্পতিবার স্থানীয় ময়নাপাড়ার খালে থাকা একটি ট্রলার থেকে উদ্ধার হয় এক মত্‍স্যজীবীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে মৃত মত্‍স্যজীবীর নাম পাঁচু মণ্ডল(২৪)। কাকদ্বীপের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা তিনি।

এ বছর ১৫ জুন নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এরপরই 'এফবি গোবিন্দ' নামে একটি ট্রলারে করে পাঁচু-সহ ১৮ জন মত্‍স্যজীবী গভীর সমুদ্রে ইলিশ ধরতে পাড়ি দিয়েছিলেন। পাথরপ্রতিমার সীতারামপুরের কাছে গিয়ে মত্‍স্যজীবীরা দেখতে পান ট্রলারটি ফুটো হয়ে ক্রমাগত জল ঢুকছে।

তড়িঘড়ি ট্রলারটি নিয়ে কাকদ্বীপ বন্দরের কাছে ময়নাপাড়ার কালনাগিনী খালের মধ্যে নিয়ে আসা হয়। দ্রুত ট্রলারটি মেরামতির কাজ চালাচ্ছিলেন মত্‍স্যজীবীরা।

বুধবার রাতে ট্রলারের মত্‍স্যজীবীরা ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর পর বৃহস্পতিবার সকালে মত্‍স্যজীবীরা ট্রলারের মধ্যে পাঁচুর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান। খবর দেওয়া হয় হারুউড পয়েন্ট উপকূল থানায়। বৃহস্পতিবার মৃতদেহটির ময়নাতদন্ত হয় কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে। মৃতের পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ, ট্রলারের মধ্যে বচসার জেরে পাঁচুকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হত দরিদ্র পরিবারে একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন পাঁচু। পরিবারে অভাব ঘোচাতে গত কয়েক বছর ধরে মাছ ধরতে যেতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর অসহায় হয়ে পড়ল গোটা পরিবার। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নেওয়া ,
প্রহর:- সোহম দাস

ছয় দশকের সামান্য বেশি সময়। একজন অভিনেতার কাছে সময়টা সততই দীর্ঘ। বিশেষত, পেশার অনিশ্চয়তা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করলে টানা ছয় দশক ধরে কাজের প্রতি একনিষ্ঠতা স্বাভাবিক নিয়মেই এক বিরল দৃষ্টান্তের দাবি রাখে। মাত্র চার বছর বয়সে স্বনামখ্যাত ডিজি ওরফে ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘হাল বাংলা’ ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে মাস্টার সত্যেন দাসের এই যে দীর্ঘ যাত্রার শুরু, তা চলেছিল আমৃত্যু। কেবল মাঝের পথটা অনুপকুমার নামক পাড়ার স্নেহশীল কাকু-মার্কা (কাকা নয়, কাকু) মুখভঙ্গির মালিক একপ্রকার আক্ষেপ নিয়েই রাজ করেছেন পর্দায়।

যে আক্ষেপের কথা বললাম, সে আক্ষেপ অভিনয় জগতের এক তীব্র অবিচারের পরিচায়ক। শিল্পীর সঠিক মূল্যায়ণ না করতে পারার এই চিরাচরিত ধারাটির জন্ম এক ও একমাত্র কারণ হল, পপুলার সেন্টিমেন্টকে অতি-মান্যতা দেওয়ার সীমাবদ্ধতা। এ এক অসুস্থ অভ্যাস, নতুন ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। আর আমাদের দেশে, অন্ততপক্ষে বাংলা ছবির জগতে এই দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে দুর্ভাগা হলেন কমেডিয়ানরা। তুলসী চক্রবর্তী থেকে শুরু করে নৃপতি চট্টোপাধ্যায়, নবদ্বীপ হালদার, কি পরবর্তীকালে ভানু-জহর কিংবা অনুপ-রবি-চিন্ময়ের, ট্র্যাডিশন সমানেই চলিয়াছে। অবশ্য কমিকের খোলস ছেড়ে বেরোনোর ফলে খোদ চ্যাপলিনকেই যেভাবে একের পর এক ছবিকে বক্স অফিসে ফ্লপ করতে দেখতে হয়েছিল, তাতে আর এদেশের দর্শককে শুধু ‘বোধহীন’ আখ্যা দিয়ে লাভ কী!

অনুপকুমারের বাবা ধীরেন দাস ছিলেন থিয়েটারের সুরস্রষ্টা। তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। দুই পরিবারের মধ্যে আড্ডা থেকে শুরু করে ক্রিকেট খেলা, সবই চলত নিয়মিত। গানের মানুষ হলেও ধীরেন দাসের মূল আগ্রহ ছিল অভিনয়ে। তাই একেবারে শিশু বয়সেই মেজ ছেলে সত্যেনের অভিনয়ে প্রবেশকে তিনি সানন্দে স্বাগত জানিয়েছিলেন। মনে রাখতে হবে, সেই সময়ে থিয়েটার বা চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ জন্য পরবর্তীকালের বহু নামকরা শিল্পীকেই যেখানে কিনা শুনতে হয়েছিল ‘কুলাঙ্গার’ বদনাম, সেখানে স্কুলপড়ুয়া পুত্রের অভিনয়-গ্রহণকে এমন সাদরে অভ্যর্থনা জানানো বিস্ময়কর তো বটেই, সেইসঙ্গে মানুষটির শিল্প-অনুরাগকেও পরিষ্কার ফুটিয়ে তোলে। 

১৯৪৬ সালের আগস্ট মাস। কলকাতার রাজপথ সেদিন দাঙ্গার রক্তে লাল। কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘সংগ্রাম’। সেই থেকে নিয়মিতভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো শুরু অনুপকুমারের। তার দু’বছর পরেই পেলেন নায়কের ভূমিকা। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাহিনি নিয়ে তৈরি কালীপ্রসাদ ঘোষ-পরিচালিত ‘ধাত্রীদেবতা’ ছবিতে। আদ্যন্ত সিরিয়াস চরিত্র। আবার অগ্রদূতের ‘সঙ্কল্প’-এ একটি ট্র্যাজিক চরিত্র। কিন্তু পঞ্চাশের দশকের শুরুর দিক থেকে পরপর ছবিতে আস্তে আস্তে তাঁকে দিয়ে যে কমেডি অ্যাক্টিং করানো শুরু করলেন পরিচালকরা, সেই টাইপকাস্ট আবর্ত থেকে বেরোতে না পারার আক্ষেপই সারাজীবন তাড়া করে ফিরেছিল তাঁকে। 



বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া মিলিয়ে যে তিনশো ষাটখানা ছবি তিনি করেছেন, তার মধ্যে প্রথম দিকের ছবিগুলির পরে ‘অন্য ধরনের’ চরিত্র তিনি পেয়েছেন খুব কম ছবিতেই। যাত্রিকের (তরুণ মজুমদার, শচীন মুখোপাধ্যায় ও দিলীপ মুখোপাধ্যায়ের ত্রয়ী পরিচালনা) ‘পলাতক’-এর জীবনপুরের পথিকের নামই এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে আসবে। সে লোকটা স্বভাবগতভাবেই বৈরাগী, সংসারের বাঁধন তাকে বেঁধে রাখতে পারে না। তরুণ মজুমদারের পরের ছবি ‘আলোর পিপাসা’-য় আবার তিনি বেশ্যালয়ের দালাল সুখনলাল। সামান্যই পরিসর, কিন্তু সেখানে নবাবি আমলের পোশাকের সঙ্গে মানানসই সুর্মা টানা চোখ নাচিয়ে ডায়লগ থ্রোয়িং, বিপন্ন রোশনকে (সন্ধ্যা রায়) ‘মুঝে ভুল না যাইয়ো, বিবিজান’ বলতে বলতে ক্রুর হাসি হেসে সে দাঁতের ফাঁকে চুন লাগিয়ে নেয়। রাজেন তরফদারের ‘জীবনকাহিনী’ ছবিতে আবার এক আত্মহত্যাপ্রবণ তরুণ থেকে জীবনমুখী মানুষ। তবে তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনয় ছিল দিলীপ রায় পরিচালিত অনসম্বল কাস্টের ছবি ‘অমৃত কুম্ভের সন্ধানে’-তে। প্রতিবন্ধী বৈষ্ণব পুণ্যার্থীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন তিনি। পা ছোটো হওয়ায় পড়ে যাওয়ার ভয়ে গিয়ে তিনি ট্রেনের সিটে শুতে পারেন না, শুয়ে থাকেন নিচে। স্ত্রীর প্রতি অসম্ভব ভালবাসা। শখ শুধু তীর্থস্নানের পুণ্যলাভ। কিন্তু সেই পুণ্যলাভেই লুকিয়ে থাকা তাঁর নিয়তি। 



কিন্তু একটি ব্যাপার লক্ষণীয়, কমেডিয়ানের ‘অভিশাপ’ থেকে বেরোতে চাইলেও এই চরিত্রগুলিতেও নিজের মতো কমিক এলিমেন্ট তিনি যুক্ত করেছেন। আসলে সফল কমেডিয়ান হতে গেলে সহজাত ক্ষমতা যে একান্ত কাম্য, তা যেকোনো বিশেষজ্ঞই স্বীকার করবেন। পরিশ্রমের দ্বারা অভিনয় সুচারু হতে পারে, কিন্তু হাস্যরসের সৃষ্টির জন্য বোধের প্রয়োজন আবশ্যিক। তাঁকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন, সকলেই বলতেন, আসলে মানুষটি নিজেও ছিলেন সহজাত প্রত্যুৎপন্নমতি রসিক। এই প্রসঙ্গে তাঁর একটি গুণের (অথবা দোষ) কথা উল্লেখ করতেই হয়। 

সেইসময়ের অনেক মঞ্চাভিনেতাদের মতো অনুপকুমারেরও অভ্যাস ছিল, মঞ্চে যথেচ্ছ এক্সটেম্পো করার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা রীতিমতো বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যেত। তবে অনুপকুমারের একেবারে নিজস্ব যে এক্সটেম্পোর স্টাইল ছিল, তাতে অন্যতম ছিল সামাজিক নাটকে চেনা মানুষের নাম হুট করে বলে দেওয়া। দর্শকাসনে হয়তো বসে আছেন চলচ্চিত্র জগতের কোনো ব্যক্তি, তাঁকে দেখতে পেয়ে বলে দিলেন তাঁর নাম। সহ-অভিনেতার এতে অসুবিধা হত ঠিকই, তবে অনুপ সেসবের ধার ধারতেন না। চিত্রগ্রাহক সৌম্যেন্দু রায় থেকে অভিনেত্রী লিলি চক্রবর্তী, সকলেই তাঁর এই এক্সটেম্পোর ‘শিকার’ হয়েছেন। 


তবে এই অভ্যাসের সর্বোৎকৃষ্ট স্ফুরণটি ঘটিয়েছিলেন ‘বেগম মেরি বিশ্বাস’ নাটকে। নাটকটি অভিনীত হত বিশ্বরূপা মঞ্চে। একদিন সেই নাটকে অতিথি হয়ে এসেছেন আরও তিন নাট্যকুশলী নীলিমা দাস, সতীন্দ্র ভট্টাচার্য্য (ডাকনাম ছিল বুলবুল) এবং প্রেমাংশু বসু। সেদিন স্টারে তাঁদের ‘দাবী’ নাটকটি যান্ত্রিক গোলযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা এসেছিলেন ‘বেগম মেরি বিশ্বাস’ দেখতে। দৃশ্য শুরুর আগে প্রেমাংশু হঠাৎ অনুপকুমারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বসেন এই বলে যে, আজ অনুপকুমার কিছুতেই এই তিনজনের নাম দিয়ে ডায়লগ বলতে পারবেন না, কারণ সিরাজদৌলার সময়ের কাহিনির সঙ্গে একালকে কোনোভাবেই মেলানো যাবে না। উমিচাঁদ-বেশী অনুপকুমার চ্যালেঞ্জটা নিলেন এবং মঞ্চে গিয়ে তাঁর প্রথম সংলাপটিই ছিল – ‘আহা আহা, নীলিমায় নীল প্রেমাংশু কিরণে বুলবুল পাখি ডাকিতেছে – আহা!’



হাস্যরসকে যিনি এমনভাবে আত্মিকরণ করেছিলেন, তাঁকে দর্শক পর্দায় কমিক চরিত্রে যে দেখতে চাইবেই, এ আর আশ্চর্যের কী! তিনি আক্ষেপ করতে পারেন, কিন্তু মরবিড সমাজের ক্লান্ত দর্শককেই বা দোষ দেওয়ার জায়গা সেভাবে থাকে কি?