WEATHER

Top News


লকাতার স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সুমিত ও অভিষেক একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়। পরে এমবিএ করতে অভিষেক পাড়ি দেন দিল্লি। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় কলকাতাতেই এমবিএ করেন সুমিত। সহপাঠী হওয়া সত্ত্বেও অভিষেককে 'স্যর' বলেই ডাকেন সুমিত। 

 তদন্তে অসহযোগিতা, PA-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, সংকীর্ণ হচ্ছে অভিষেকের পরিসর
অভিষেকের আপ্ত সহায়কের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

প্রতারণা ও জমি দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ অর্থাৎ আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। খোঁজ না মেলায় এখনও সুমিত অধরা। তল্লাশি অভিযানের পর আরও কড়া পদক্ষেপ আধিকারিকদের। শালবনি থানাতে সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও জমি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করা হয়।


২০২২-এ কয়লা পাচার মামলাতেও উঠে আসে এই সুমিত রায়ের নাম। কয়লা-কাণ্ডের মামলায় মূল সাক্ষী হিসেবে ছিল তাঁর নাম। ওই মামলায় তাঁকে একাধিকবার তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কলকাতার স্কুলে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সুমিত ও অভিষেক একই সঙ্গে পড়াশোনা করেছেন বলে জানা যায়। পরে এমবিএ করতে অভিষেক পাড়ি দেন দিল্লি। আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় কলকাতাতেই এমবিএ করেন সুমিত। সহপাঠী হওয়া সত্ত্বেও অভিষেককে ‘স্যর’ বলেই ডাকেন সুমিত।


পুরোটাই যেন কাঠি, একেবারে মাংস নেই! মাধুরীর শরীর নিয়ে কাটাছেঁড়া, কী ঘটেছিল?
অভিষেকের সমস্ত কাজের দেখভাল করতেন। গত শনিবার সুমিতের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, সুমিতের মোবাইলের শেষ ‘টাওয়ার লোকেশন’ ছিল অভিষেকের বাড়িতেই। সেই সূত্র ধরে রাত ৩টে নাগাদ পুলিশ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় পৌঁছে যায়। ডাকাডাকিতে কেউ সাড়া না দিলে ভাঙা হয় বাড়ির বাইরের দরজার তালা। তবে সুমিতের খোঁজ মেলেনি। সকাল ৮টার পর পুলিশ বেরিয়ে যায় অভিষেকের বাড়ি থেকে।
গত পুরসভা নির্বাচনে টিকিট পেয়ে কাউন্সিলর হন কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন তিনি। এদিন পুরসভার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কাজরী বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সহযোগিতা চান।

শুভেন্দুর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির মমতার ভ্রাতৃবধূ, বসে আছেন দেবাশিস কুমারও
কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়

পালাবদলের পর পুরনিগমের নোটিসে জেরবার অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। দফায় দফায় বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিস যাচ্ছে তাঁর বাড়িতে। আর এবার সেই পুরনিগমের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হলেন কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় (Kajari Banerjee)। তিনি শুধুমাত্র তৃণমূলের একজন কাউন্সিলরই নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভ্রাতৃবধূ। শুধু কাজরী একা নন, জুঁই বিশ্বাস, দেবাশিস কুমার, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক কাউন্সিলর হাজির হয়েছেন সেই অনুষ্ঠানে। আছেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।


কলকাতা পুরনিগমে স্বচ্ছতা অভিযান কর্মসূচি উপলক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সব দলের কাউন্সিলরদের সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে এদিন সকাল থেকে একে একে হাজির হয়েছেন কাউন্সিলররা। উপস্থিত হয়েছেন একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর।


ATM-এ টাকা তুলতে গিয়ে 'লেবানিজ লুপে'র ফাঁদে পা দিচ্ছেন না তো? কীভাবে সাবধান হবেন...
কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাস বলেন, “২০১০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কর্পোরেশনের কাউন্সিলর। আজ পর্যন্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রী কর্পোরেশনে আসেননি। এই প্রথমবার কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসে কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন। এটা নিঃসন্দেহে একটা বড় পদক্ষেপ। সব কাউন্সিলরই সহযোগিতা করবেন।”


শুধু জুঁই নন, উপস্থিত হয়ে সমন্বয় রেখেই কাজ করার বার্তা দিয়েছেন কাজরী বন্দ্যোপাধ্যা। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের কাছে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা চাই। কাজ করতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেটাই চাইব।” কাজরী আরও বলেন, “অন্য দল বলে উনি (মুখ্যমন্ত্রী) কোনও বিভেদ করেননি। বিরোধীদের সমান গুরুত্ব দিয়ে ডেকেছেন। আশা করি আগামিদিনেও মুখ্যমন্ত্রীর টিমের কাছ থেকে সবরকমের সাহায্য পাব।’

মেয়র পদে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পর প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরনিগমে। বর্তমানে পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে সেখানে প্রশাসক হিসেবে আছেন।

ওয়ার্ড অফিসের দুটো তলা। প্রথম তলায় যেতেই পাওয়া যায় টেবিলের ওপরে রাখা গাদা গাদা ডায়েরি। সেই ডায়েরিতেই একেবারে নাম দিয়ে, পাশে টাকার অঙ্কটা লেখা রয়েছে। সেই তালিকাতেই দেখা যায়, বেসরকারি একটি হাসপাতালের নাম, যাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা তোলা হয়েছে।

চোখ ধাঁধানো মেকআপ রুম, টেবিলে কন্ডোম, আর যা যা পাওয়া গেল অনন্যার ওয়ার্ড অফিস থেকে
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিসে 'রেইড'

কলকাতা পৌরনিগমের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে। আর এদিকে, মুকুন্দপুরে অনন্যার অফিস থেকে মিলল রেটচার্ট। সেই রেটচার্টে লেখা এক-এক ক্লায়েন্টের নাম। কোন প্রমোটারের থেকে কত টাকা নিতেন, কোন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছেন, সব নাম-ঠিকানা দিয়ে সাব-সেকশন করে পরপর লেখা সেই ডায়েরিতে। কেবল তাই নয়, বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও টাকা তুলতেন অনন্যা, ভয়ঙ্কর অভিযোগ। সেই চার্টও ধরা পড়ে TV9 বাংলার ক্যামেরায়। এ তো গেল শুধু তোলাবাজির কথা, ওয়ার্ড অফিসে ঢুকে রীতিমতো ভিড়মি খাওয়ার জোগাড়। এক তলায় যখন এসব, দোতলায় উঠতেই ঝাঁ চকচকে মেক আপ রুম। উদ্ধার গাদা গাদা কন্ডোমের প্যাকেট, গর্ভ নিরোধক, রয়েছে পাঞ্জাবিও।


অনন্যার মুকুন্দপুরের ওয়ার্ড অফিসের দুটো তলা। প্রথম তলায় যেতেই পাওয়া যায় টেবিলের ওপরে রাখা গাদা গাদা ডায়েরি। সেই ডায়েরিতেই একেবারে নাম দিয়ে, পাশে টাকার অঙ্কটা লেখা রয়েছে। সেই তালিকাতেই দেখা যায়, বেসরকারি একটি হাসপাতালের নাম, যাদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা তোলা হয়েছে। স্থানীয় একাধিক প্রোমোটারের কাছ থেকে ১০ লক্ষ, ১২-১৫ লক্ষ টাকা করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।


পূর্ব মেদিনীপুরেও 'পুষ্পা'র থাবা! এত বড় কাণ্ড দিঘাতে
বুড়ো বর সুখ দেয়? আরবাজের বউকে প্রশ্ন, কী উত্তর দিলেন সুরা খান?

 ক্যামেরার সামনেই এক বাসিন্দা সেই রেট চার্ট দেখিয়ে বলেন, “এই এলাকার প্রতিটি বিল্ডিং পিছু টাকা তোলা হয়েছে। ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে।” লাইভে থাকতে থাকতেই দেখা যায়, এক যুবক হলুদ রঙা একটা খাতা বের করেন। খাতার প্রথম পাতা উল্টে তিনি দেখাতে থাকেন, এটা চাকরি বিক্রির টাকার খাতা। কার কাছ থেকে চাকরির নামে কত টাকা তোলা হয়েছে, তা নথিভুক্ত রয়েছে এই খাতায়। ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের ক্যাডারদের চাকরি দেওয়া হত বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। SWM, সরকারি দফতর, স্বাস্থ্য দফতর- এভাবে দফতর ভাগ করে পাশে চাকরিপ্রার্থীদের নাম লেখা রয়েছে। শুধু তাই নয়, ভাগ করা রয়েছে এলাকাও। ৬ এর মুকুন্দপুর, বিকাশ গুহ কলোনি, মুকুন্দপুর ৬ বি এই ভাবে এলাকাও ভাগ করে ‘ক্লায়েন্ট’দের নাম লেখা রয়েছে।


এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এত্ত এত্ত কন্ডোম। ডাঁই করে মালপত্র রাখা রয়েছে। এঁরা ব্যবসা করতেন নাকি! ব্যাপারটা বোঝা কঠিন। ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের অফিসে এসব থাকবে কেন?”

বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “এটাই তৃণমূলের পরম্পরা। যাঁরা লুঠে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদেরই বড় বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। মানুষকে কীভাবে লুঠ করা হয়েছে, তা এই বৈভব দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”

যদিও অনন্যার বক্তব্য, “যাক না, দেখুক। কলকাতা কর্পোরেশনের অফিস, সেখানে অফিসিয়ালি যা করার করবে। অফিসের যা কাজ হত, তা দেখতে পারবে। ফাইলপত্র দেখতে পারে। বর্ষা, তাই ত্রাণের সামগ্রী থাকবে। ইদ গিয়েছে, তাই জামাকাপড় থাকবে। আমাকে কেউ জানায়নি তল্লাশি চলছে।”

স্বচ্ছতা অ্যাপ উদ্বোধনে সোমবার কলকাতা পুরনিগমে উপস্থিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল, বিজেপি- সব দলের কাউন্সিলররাই উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে হাজির হয়ে একাধিক প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

দেশের আগে কলকাতায় হবে 'ডিলিমিটেশন', ৬ মাসের মধ্যে ভোট হবে, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
শুভেন্দু অধিকারী

ইস্তফা দিয়েছেন মেয়র। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে কলকাতা পুরনিগমের (Kolkata Municipal Corporation) দায়িত্বে রয়েছেন স্মিতা পাণ্ডে। এবার পুরভোটের অপেক্ষা। আগামী ৬ মাসের মধ্যেই সেই ভোট হবে বলে ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু তাই নয়, ভোটের আগে কলকাতায় ডিলিমিটেশন (Delimitation in Kolkata) বা আসন পুনর্বিন্যাস হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি।


এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদে ইস্তফা দেওয়ার পর নতুন মেয়র নিযুক্ত করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল অর্থাৎ তৃণমূলকে তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। মেয়র পদে তৃণমূল কাউকে নিযুক্ত করতে না পারায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এবার ভোট হলে নির্বাচিত হবেন মেয়র।


ফের বিয়ে করলেন উর্মিলার প্রাক্তন স্বামী মহসিন, নতুন বউকে নিয়ে কী লিখলেন?
বক্তব্যের শেষে শুভেন্দু জানান, কলকাতায় আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। কীভাবে হবে সেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হবে, কেন এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করেননি শুভেন্দু। বর্তমানে কলকাতায় মোট ১৪৪টি ওয়ার্ড আছে। কীভাবে পুনর্বিন্যাস হবে, এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু বলেন, “রাজ্য সরকার প্রস্তাব দেবে। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।” উল্লেখ্য, মাস কয়েক আগেই লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য ডিলিমিটেশন বিল পেশ করে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে, মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাশ করানো যায়নি।


এদিকে, কলকাতা পুরনিগমকে আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হতে পারে। অম্রুত যোজনায় ৬০-৪০ অনুপাতে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া যেতে পারে। ‘নমামী গঙ্গা’ প্রকল্পে ৫০০ কোটি টাকা, স্বচ্ছ ভারতেও আরও সাহায্য করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তৃণমূল যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তখন ফিরহাদ ওরফে ববিকে নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। গত ৮ জুন সন্দীপনের সঙ্গে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। সেইসময় ঘণ্টাখানেক সেখানে ছিলেন তিনি। বেরিয়ে আসার পর ফিরহাদ কিছু বলেননি।

ঋতব্রতর ঘরে ঢোকার মুহূর্তে কুণালের সঙ্গে দেখা, তারপর কী করলেন ফিরহাদ?
বিধানসভার লবিতে কুণাল ঘোষের সঙ্গে কথা বলে ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন ফিরহাদ হাকিম

তৃণমূলের ডামাডোলের মধ্যে কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান কী? তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে রয়েছেন? নাকি বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের দলে? প্রাক্তন পুরমন্ত্রীকে নিয়ে জল্পনা জারি রয়েছে। সোমবার সেই জল্পনা নিজেই আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিলেন ফিরহাদ। বিধানসভার লবিতে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে কথা বলে এদিন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গেলেন কলকাতা বন্দরে বিধায়ক।      


এদিন বিধানসভায় ফিরহাদের গাড়ি ঢোকার পর দেখা গেল পিছনে আরও একটি গাড়ি ঢুকছে। সেই গাড়িতে ছিলেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। গাড়ি থেকে নেমে ফিরহাদের কাছে এগিয়ে গেলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক সন্দীপন। ফিরহাদকে বললেন, ‘চলো’। ফিরহাদও তাঁর সঙ্গে এগিয়ে গেলেন। সেইসময় দেখা গেল, বিধানসভার লবিতে দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার বিধায়ককে দেখে দাঁড়ালেন ফিরহাদ। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন।


'দিদি নম্বর ওয়ান'-কে বিদায় রচনার? প্রস্তাব গিয়েছে, অন্য নায়িকার কাছে
সেইসময় দেখা গেল, তৃণমূলের আর এক বিক্ষুব্ধ বিধায়ক জাভেদ খান সন্দীপনের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরের দিকে গেলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই কুণালের সঙ্গে কথা বলে সেই রাস্তাতেই এগিয়ে গেলেন ফিরহাদ। অর্থাৎ তিনিও গিয়ে ঢুকলেন বিরোধী দলনেতার ঘরে। সেখানে ঋতব্রত, সন্দীপনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ঘরে আরও কয়েকজন বিধায়ক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।


তৃণমূল যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে, তখন ফিরহাদ ওরফে ববিকে নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। গত ৮ জুন সন্দীপনের সঙ্গে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়েছিলেন ফিরহাদ। সেইসময় ঘণ্টাখানেক সেখানে ছিলেন তিনি। বেরিয়ে আসার পর ফিরহাদ কিছু বলেননি।

আবার দিন তিনেক আগে ফিরহাদকে নিয়ে প্রশ্নে ঋতব্রত বলেছিলেন, “আমি ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না। আমি সংখ্যায় যাব। আমি ও সন্দীপন ছাড়া এবং যাঁদের কথা বলেছি, তাঁদের ছাড়া কারও কথা বলব না। যখন বিধানসভার অধিবেশন হবে, তখন দেখা যাবে।” শেষপর্যন্ত ফিরহাদ কী অবস্থান নেন, সেটাই দেখার।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হেয়ার স্ট্রিট থানার মামলার প্রেক্ষিতে তল্লাশি প্রক্রিয়া, পদক্ষেপ নিয়ে ক্রিমিনাল মামলা করেছেন। জুন সিআইডি তল্লাশি অভিযান কালীঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস অফিসে। দুই ঘটনা একই বিষয়ের, হেয়ার স্ট্রিট ক্রিমিনাল মামলার ওপর।

বর্ষীয়ান আইনজীবী আগেই সরেছেন, এবার অভিষেকের মামলা ছাড়লেন বিচারপতিও! কী পরামর্শ হাইকোর্টের?
অভিষেকের মামলায় কী নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের?

বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই এই মামলা ছেড়ে দিয়েছিলেন। মামলা ছাড়ার সময়ে তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হাজারও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এবার সইজাল কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের মামলা ছাড়লেন বিচারপতি। কালীঘাটে তৃণমূলের পার্টি অফিসে সিআইডি তল্লাশি চ্যালেঞ্জ করে মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে মামলা পাঠানো হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট বেঞ্চে মামলা পাঠাবেন প্রধান বিচারপতি।


তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হেয়ার স্ট্রিট থানার মামলার প্রেক্ষিতে তল্লাশি প্রক্রিয়া, পদক্ষেপ নিয়ে ক্রিমিনাল মামলা করেছেন। সিআইডি তল্লাশি অভিযান চালায় কালীঘাটের তৃণমূল কংগ্রেস অফিসে। দুই ঘটনা একই বিষয়ের, হেয়ার স্ট্রিট ক্রিমিনাল মামলার ওপর। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিচারপতি কৌশিক চন্দ বেঞ্চে ক্রিমিনাল মামলার শুনানি হয়েছে, নির্দেশ হয়েছে। ওই আদালতের নজরে রয়েছে পুরো বিষয়টি। তৃণমূলের করা এই মামলার ছেড়ে দিচ্ছে আদালত। সে কারণেই প্রধান বিচারপতির কাছে মামলাটি পাঠানো হল বলে নির্দেশে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।




প্রসঙ্গত, সই-মামলাটি প্রথম থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেছেন। অভিষেকের হয়ে হাইকোর্টে সওয়াল করেছিলেন কল্যাণ-পুত্র শীর্ষণ্যও। কিন্তু শেষ শুনানিতে হঠাৎই নাটকীয় পট পরিবর্তন। শুনানির ঠিক আগের রাতেই কল্যাণের ছেলের ফোনে মেসেজ করে অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছিল, এই মামলাটি তাঁদের আর সওয়াল করার দরকার নেই। অন্তত সংবাদমাধ্যমের সামনে তেমনই দাবি করেন কল্যাণ ও তাঁর ছেলে। কারণ ‘সার্চ’ ইস্যুতে আরও একটি রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে। যেখানে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেছেন আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তাতে ক্ষুব্ধ হওয়ার পাশাপাশি অপমানিত বোধ করেন কল্যাণ। তাঁরও দাবি, সার্চ ইস্যুতে যে রিট পিটিশন ফাইল হয়েছে, সেটি সাবজেক্ট ম্যাটার অফ্ ক্রিমিন্যাল ডিভিশন। তার আগে থেকেই সই মামলা, যেটিও ক্রিমিনাল ডিভিশন। সেই একই বিষয়েই জটিলতা।


সোমবার হাওড়ার সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকে দফায় দফায় বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায় সেখানে। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কুণ্ডু দম্পতি সমাজসেবামূলক কাজ করেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়েছিল এই দল।

এনসিপিআই দলের প্রতিষ্ঠাতাই 'রিজাইন' করেছেন, ২০ সাংসদ মিশে যাওয়ার খবর শুনে বললেন...
শিউলি কুণ্ডু

রবিবার সন্ধ্যা থেকে আচমকা শিরোনামে একটি নতুন দলের নাম। এনসিপিআই (NCPI)। মিশে যাওয়ার জন্য এই দলটাকেই বেছে নিয়েছেন সদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়, মালা রায়ের মতো বর্ষীয়ান সাংসদরা। ২০ জন তৃণমূল সাংসদের এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই দলের প্রতিষ্ঠাতা কে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, মাস খানেক আগে দল ছেড়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতাই।


পেশায় আইনজীবী, হাওড়ার বাসিন্দা শিউলি কুণ্ডু সহ তিনজন ‘এনসিপিআই’ নামে এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে শিউলি জানান, ২০২২ সালে ওই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। হাওড়ার সাঁকরাইলে তৈরি হয় ওই দল। ২০২৩-এ ত্রিপুরার নির্বাচনে লড়ে এই দল। ওই বছরেই বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনেও প্রার্থী দিয়েছিলেন তাঁরা। শিউলি কুণ্ডু ছিলেন ওই দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভানেত্রী। জেনারেল সেক্রেটারির নাম ছিল সৈকত দাস। পরবর্তীতে কমিটি তৈরি হয়, অনেকে সদস্য হিসেবে যোগও দিয়েছিলেন। শিউলির স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও এই দলের সদস্য ছিলেন।

হাওড়ার এই NCPI অফিস ঘিরল কেন্দ্রীয় বাহিনী, কী হয় সেখানে, কারা চালায়?
ভাত করলেই দলা দলা পাকিয়ে যাচ্ছে? ঝরঝরে করতে এই কায়দা জেনে নিন
এক মাস আগে ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন শিউলি। তিনি জানান, তিনি সমাজসেবার কাজ করেন, আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেন, তাই দল ছেড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে মহিলাদের পাশে থেকে কাজ করেন বলে জানিয়েছেন শিউলি।


২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে মিশে যাচ্ছেন শুনে শিউলি বলেন, “পার্টিটা অনেক বড় জায়গায় যাচ্ছে, শুনে ভালো লাগছে।” তবে আগে কোনওদিন কোনও সাংসদ যোগাযোগ করেননি বলেই জানান তিনি।

সোমবার হাওড়ার সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকে দফায় দফায় বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায় সেখানে। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কুণ্ডু দম্পতি সমাজসেবামূলক কাজ করতেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়ে কুণাল বলেন, "এটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। ডিম হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে, কারা কারা বেরবে, আক্রমণ করবে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। আমার চোখ যেত, মাথা যেত, আমার কিছু এসে যায় না। এসব করে কুণাল ঘোষকে বা আমাদের থামিয়ে রাখা যাবে না।"


মমতার বাড়ির সামনেই মাথায় ডিম, কুণালের ভীষণ প্রতিজ্ঞা, 'ডেডবডি পড়ে গেলেও যাব'
কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম


এবার কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেই ডিম হামলার মুখে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। ঝুঁকে পড়ে এড়ানোর চেষ্টা করলেও কুণালের মাথায় লাগে ডিম। আর এই হামলার পরই ক্ষুব্ধ কুণাল বললেন, এভাবে তাঁকে থামানো যাবে না। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে বলেও সরব হন তিনি।


হামলার পর কী বললেন কুণাল?



ফের বিয়ে করলেন উর্মিলার প্রাক্তন স্বামী মহসিন, নতুন বউকে নিয়ে কী লিখলেন?
কাটা নাকি আস্ত ফল, কোনটা ঠাকুরকে দেওয়া উচিত?শাস্ত্র বলছে...
ভরদুপুরে ফাঁকা ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার জনপ্রিয় সিরিয়ালের অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ, চাঞ্চল্য টেলিপাড়ায়
এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার সময় কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। সেই ছবি ধরা পড়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। কুণালের মাথায় ও পিঠে ডিম লাগে। এরপরই ক্ষুব্ধ কুণাল বলেন, “আজকে যদি পাথর মারত, আমার এই চোখটা বারোটা বাজত (বাঁ চোখ দেখিয়ে)। আমি এমনিতে ডিম খেতে প্রচণ্ড ভালোবাসি। ডিমের প্রতি আমার একটা আকর্ষণ রয়েছে। অমলেট, সেদ্ধ, আমি ডিম খাই। সেটা মেরে কেউ বীরত্ব দেখাতে গেছেন। এভাবে আমাকে থামাতে পারবে না। আমাকে রাস্তায় একশো-হাজার ডিম মারবে। গায়ে হাত দিয়ে মারবে। আমি কুণাল ঘোষ যেমন আছি, তেমন থাকব।”


এরপরই তিনি বলেন, “দূর থেকে ডিম ছুড়ে কোথায় গেল? তারা তো সব পালিয়ে গেল। হিন্দিতে বলছে। এদিক থেকে বলছে, এখান থেকে কুণাল ঘোষ বেরচ্ছে। কে কে আছে, ওইদিক থেকে প্রশ্ন আসে। এখান থেকে কিছু একটা জানাল, তারপর হামলা হয়েছে। আমাদের কাছে ছবি এসে গিয়েছে, কারা কারা আছে গুচ্ছ ডিম নিয়ে। আমি বললাম, আমাকেও কটা ডিম দাও না। আমাকে ওদিক থেকে মারলে আমিও কটা ডিম মারি। কিন্তু এইসব করে থামানো যাবে না।”

পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়ে কুণাল বলেন, “এটা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। ডিম হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে, কারা কারা বেরবে, আক্রমণ করবে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। আমার চোখ যেত, মাথা যেত, আমার কিছু এসে যায় না। এসব করে কুণাল ঘোষকে বা আমাদের থামিয়ে রাখা যাবে না। ডেডবডি পড়ে থাকবে কিন্তু, গলা বন্ধ করা যাবে না। হেঁটে এলাম। আমার কাছে ছবি ছিল, এরা এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জেনে এলাম। এটা কী ধরনের বিপ্লব।” রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কুণাল ঘোষকে একসময় ১৫০ পুলিশ সামলাতে পারত না। এই দুটো কুকুর-বেড়াল কী করবে? আমি ওখান দিয়েই যাব। ডেডবডি পড়ে থাকবে, আমি ওখান দিয়েই যাব।”

যাঁরা ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁদের একজন বলেন, “আমরা স্থানীয় বাসিন্দা। অনেক কিছু ভুল কাজ করেছে কুণাল।” প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে একজন বিধায়ককে ডিম ছোড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে সাগর ব্লকে আয়োজিত হলো এক বিশেষ জনকল্যাণ শিবির। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী বুধবার পর্যন্ত। এদিনের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল এবং বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি। 

এদিন ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরে এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী গ্রুপের মহিলাদের হাতে ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়। সরকারি সহায়তায় স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পেয়ে খুশি উপভোক্তারা। বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল জানান, সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে সরকার সব সময় সচেষ্ট। ব্লক স্তরে এই ধরনের শিবির সাধারণ মানুষকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাহায্য করবে।

এদিকে, প্রথম দিনেই শিবিরে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাস্থ্য, কৃষি, আবাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা এদিন সকাল থেকেই ভিড় জমান। বিডিও কানাইয়া কুমার রাও জানান, কোনো আবেদনকারী যেন সরকারি সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই এই শিবিরের মূল লক্ষ্য।
সোমবারের মতো মঙ্গল ও বুধবারও এই শিবির একইভাবে চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। এলাকার মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ব্লক প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখে গঙ্গাসাগরে জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। এবছর জেলাস্তরের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে পবিত্র কপিলমুনির আশ্রমের সামনে। সেই অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ এলাকা পরিদর্শন করেন সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।


প্রস্তুতির খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখতে বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, সাগর থানা ও গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি-সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।

 অনুষ্ঠানের দিন যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয় এবং সমস্ত ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল জানান, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে এবং কপিলমুনির আশ্রমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে সফল করতে সমস্ত রকম প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং সাধারণ মৎস্যজীবীদের চোখে ধুলো দিয়ে ব্যান পিরিয়ডের মাঝেই গভীর সমুদ্র থেকে মাছ লুঠের এক জালিয়াতি ফাঁস হলো নামখানায়।আগামী ১৪ই জুন মাঝরাত থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা। 


কিন্তু তার আগেই শনিবার দুপুরে নামখানার হরিপুর ঘাটে ১৬০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ বোঝাই একটি ট্রলারকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাছেদের প্রজননের জন্য গত দু'মাস ধরে সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর কড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার লোভে গোপনে সমুদ্রে ট্রলার নামাচ্ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। শনিবার দুপুরে নামখানার হরিপুর ঘাটের কাছে কাকদ্বীপ এলাকার ‘এফবি পারমিতা’ নামের একটি ট্রলারকে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ট্রলারে থাকা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাঁদের কথায় অসঙ্গতি মেলে। এরপরই গ্রামবাসীরা ট্রলারের কোল্ড স্টোরেজে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে সবার। দেখা যায়, ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে প্রায় ১৬০০ কেজি সদ্য ধরে আনা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। 
খবর দেওয়া হয় নামখানা থানা এবং মৎস্য দপ্তরে। খবর পেয়েই দ্রুত হরিপুর ঘাটে পৌঁছায় নামখানা থানার পুলিশ ও মেরিন অফিসাররা। সরকারি নিয়ম ভাঙার অপরাধে ‘এফবি পারমিতা’ নামের ওই ট্রলারটিকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে।পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাছ নষ্ট হতে না দিয়ে মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের উপস্থিতিতে সরকারিভাবে নিলাম করা হয়। 
এই চোরাচালান চক্র নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং আইন অমান্য করে বেশ কিছু অসাধু ট্রলার মালিক সমুদ্রে মাছ ধরতে বেরিয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যেই আজ এই ‘পারমিতা’ ট্রলারটিকে মৎস্যজীবীরা হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। আমাদের কাছে খবর আছে, এমন আরও অনেক ট্রলার এখনও লুকিয়ে গভীর সমুদ্রে বেআইনিভাবে ফিশিং করে চলেছে। যারা এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত, তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অমাবস্যার ভরা কোটালের শুরুতেই সুন্দরবনের মৌশুনী দ্বীপে নদী বাঁধে ধস দেখা দিল। রবিবার সকালে মৌশুনী দ্বীপের বালিয়ারার সল্ট ঘেরী গ্রামে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রবাঁধ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। 

কোটালের তীব্র জলের তোড়ে বাঁধের এই বিশাল অংশ নদী ও সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তীব্র আতঙ্ক গ্রাস করেছে মৌশুনী দ্বীপের বাসিন্দাদের। দ্রুত এই বাঁধ মেরামত করা না হলে, আগামী কয়েকদিনের কোটালের নোনা জল ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বালিয়ারার ওই অংশে বেশ কিছুদিন ধরেই অস্থায়ীভাবে মাটির বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতির কাজ চলছিল। কিন্তু রবিবার সকালে অমাবস্যার কোটালের তীব্র জলের চাপ ও জলোচ্ছ্বাস সামলাতে না পেরে সেই নির্মীয়মাণ বাঁধের এক বিরাট অংশ ধসে যায়। 
সকালে চোখের সামনে সমুদ্রবাঁধ ভেঙে পড়তে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সল্ট ঘেরী গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা সায়েদা মণ্ডল ও বাবলু হালদাররা বলেন,“রবিবার সকালে আচমকাই প্রায় ১৫০ ফুট সমুদ্রবাঁধ ধসে নদীগর্ভে চলে গেল। আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সামনে বর্ষাকাল আর ভরা কোটাল রয়েছে।দ্রুত স্থায়ী কংক্রিটের সমুদ্রবাঁধ নির্মাণ না হলে আমাদের গোটা গ্রামটাই সমুদ্রের নোনা জলে তলিয়ে শেষ হয়ে যাবে।”

এই বিপর্যয়ের খবর পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিষয়টি সাগর বিধানসভার নতুন বিধায়কের নজরে আনার পাশাপাশি প্রশাসনের সাথে দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছেন বিজেপি নেতা নারায়ণ পড়্যা। তবে এই ঘটনার জন্য বিগত তৃণমূল সরকারের দুর্নীতিকেই কাঠগড়ায় তুলে তিনি বলেষ“আজ মৌশুনী দ্বীপের যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য পূর্বতন সরকারের সময়ে নদী ও সমুদ্রবাঁধ নির্মাণের কাজে ব্যাপক দুর্নীতিই দায়ী। সেচ দপ্তরের কাজের নামে, বাঁধ মেরামতের নামে বিগত দিনে কোটি কোটি টাকা লুট করে নিজেদের পকেট ভরেছে তৃণমূলের নেতারা। তার মাশুল আজ সুন্দরবনের সাধারণ মানুষকে নিজের ঘরবাড়ি হারিয়ে ভোগ করতে হচ্ছে।”
সামনে বর্ষা, তার ওপর এই মরণ-ফাঁদ সমুদ্রবাঁধ নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বালিয়ারার কয়েকশো পরিবার।

ফলতায় বাংলা আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০ নম্বর বুথ এলাকার। 


অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী সুমিত হালদার ও সুমন্ত মণ্ডল আবাস যোজনার সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, ফলতা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের পরাজয়ের পর ওই দুই কর্মী গা-ঢাকা দেন।


 পরে গ্রামবাসীদের চাপের মুখে এলাকায় ফিরে উপভোক্তাদের হাতে কাটমানির টাকা ফেরত দেন। ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছে ‘জাহাঙ্গির বাহিনী’। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।