WEATHER

Top News


মগরাহাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মগরাহাট রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উচ্ছেদ-আশঙ্কা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, শনিবার রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ)-এর পক্ষ থেকে স্টেশন চত্বরের বিভিন্ন দোকানে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়। 


নোটিশে সরকারি সিল বা স্ট্যাম্প না থাকায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, মগরাহাট স্টেশনের আশপাশে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ও তার অধিক সময় ধরে বহু পরিবার রেলের অব্যবহৃত বা অনাবাদী জমির পাশে ছোট-বড় দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার বহু তরুণ উচ্চশিক্ষিত হলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে পারিবারিক ব্যবসাকেই জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, উচ্ছেদ হলে পরিবারের ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন এবং এখনও সেই ঋণ পরিশোধ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা বড় আর্থিক সংকটে পড়বেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে মগরাহাট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় রেল-অধিকৃত জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা আর্থিক সহায়তার মাসিক অর্থ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যে ব্যবসার ওপর নির্ভর করে পরিবার চলছে, সেটি বন্ধ হয়ে গেলে বহু মানুষ জীবিকা সংকটে পড়বে

উত্তাল সমুদ্রের কারণে মাছ ধরতে গিয়েও বারবার ফিরে আসতে হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। এরই মধ্যে ফের বঙ্গোপসাগরে ট্রলার দুর্ঘটনার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, বকখালি উপকূল থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় 'এফ বি আলফাতে' নামে একটি মাছ ধরার ট্রলারের পাটাতন হঠাৎ ফেটে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ট্রলারের ভিতরে দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করলে সেটি ডুবে যায়।

সেই সময় আশেপাশে মাছ ধরতে থাকা অন্যান্য ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে নামেন। তাঁদের তৎপরতায় ট্রলারে থাকা ১২ জন মৎস্যজীবীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা এড়ানো গেছে।
তবে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে খবর, ট্রলারটিকে উদ্ধারের জন্য জোরকদমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীরা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই এই দুর্ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে উপকূলবর্তী মৎস্যজীবী মহলে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত জনকল্যাণ কর্মসূচি আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমায় অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দীপঙ্কর জানা। 


অনুষ্ঠানে এলাকার বহু সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, জনমুখী প্রকল্প ও নাগরিক সুবিধা সম্পর্কিত তথ্য ও সহায়তা গ্রহণের সুযোগ পান। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে মানুষের অভিযোগ, সমস্যা ও আবেদন শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেন।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিধায়ক দীপঙ্কর জানা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মতবিনিময় করেন। তিনি জানান, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো সরকারি পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা। এলাকার বাসিন্দারাও তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন। জনসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।



দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এক মহিলা বিজেপি সমর্থকের উপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে লাইট পোস্টে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। শুধু তাই নয়, মারধরের পর প্রকাশ্যে তাঁর চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। 

পাশাপাশি গলায় ফাঁস দেওয়া, ব্লেড দিয়ে জিভ কেটে নেওয়ার চেষ্টা এবং শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রথম তাঁদের উপর হামলা হয়। ওই ঘটনায় মহিলা ও তাঁর স্বামীকে মারধর করা হলে আতঙ্কে পরিবার ঘরছাড়া হয়ে পড়ে। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৯ সেপ্টেম্বর তাঁরা বাড়িতে ফিরলেও অভিযোগ, তারপরও দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের উপর অত্যাচার ও হুমকি চলতে থাকে।

পরিবারের অভিযোগ, গতকাল ফের একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে ওই মহিলাকে মারধর করে। অভিযোগ, এই ঘটনায় জড়িতরা প্রত্যেকেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক ফিরদৌসি বেগমের অনুগামী। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিরদৌসি বেগমের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন— তৌফি জুদ্দিন সরদার, তারিফ উদ্দিন সরদার, জয়নাল গাজী, মুনমুন সরদার, মোমেনা সরদার, আমেনা সরদার, ফরজিলা গাজী, রানু গাজী, পিংকি বিবি, সাবেরা বিবি এবং গোলো বিবি।

ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত বলে গণ্য করা উচিত নয়।

সামনে রথযাত্রা, আর এই রথ যাত্রার আগে ফলতা থানার উত্তর বাসুলাট গ্রামের একটি জগন্নাথ দেবের ধর্মীয় আশ্রমের দুটি ঘর দিয়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা।


আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল সনাতনীদের ধর্মীয় গ্রন্থ সহ ওই ঘরের খাট বিছনা,আলমারি  ও যাবতীয় আসবাবপত্র।  কাকতালীয়ভাবে সেদিন ওই আশ্রমের যিনি সেবায়েত সপরিবারে আশ্রমের কাছাকাছি একটি অনুষ্ঠান দেখছিলেন। সেই কারণে ওই সেবায়েত সহ পরিবার প্রাণে বেঁচে গেছেন বলে দাবি। 


অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আশ্রমের সেবায়েতের বিজেপির সমর্থক হওয়া ওই ধর্মপ্রাণ মানুষটির উপর মধ্যের মানানো হুমকি ও অত্যাচার চলছিল,। এই অগ্নিকান্ত তার পরিণাম হতে পারে কিনা নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন ওই সেবায়েত সহ আশ্রমের ভক্তরা। ফলতা থানাতে একটা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এসে তদন্ত করে একজনকে আটক করেছেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

ফলতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার বেলসিংহা অঞ্চলের বনহোগলা গ্রামে কাটমানি ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পলাতক তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গুরুপদ মণ্ডলের স্ত্রী সুচিত্রা মণ্ডল এবং তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ অনুগামী গ্রামবাসীদের হাতে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ায় অনেক গ্রামবাসীর মুখে স্বস্তির হাসি ফুটলেও, ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত গুরুপদ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে বেলসিংহা অঞ্চলের তৃণমূল সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ, জাহাঙ্গীর খানের নির্দেশেই গুরুপদ মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে এলাকায় কাটমানি এবং তোলাবাজির একটি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাস যোজনা, আমপান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিপূরণ, বিভিন্ন সরকারি অনুদান এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। এমনকি স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র ১৮৩ নম্বর একটি বুথ থেকেই ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি কাটমানি তোলা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার বনহোগলা গ্রামে বেলসিংহা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কাকলি মালির উপস্থিতিতে গুরুপদ মণ্ডলের স্ত্রী সুচিত্রা মণ্ডল, সহদেব মালিক এবং দীপঙ্কর মালিক গ্রামবাসীদের হাতে টাকা তুলে দেন। অভিযোগকারীদের তৈরি তালিকা অনুযায়ী যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের একে একে ডেকে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এদিন প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আবাস যোজনার একটি বাড়ির জন্য সরকারিভাবে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেই টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। কারও কাছ থেকে ৪০ হাজার, কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার, কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু আবাস যোজনাই নয়, আমপান ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বহু পরিবার ধার-দেনা করে এই টাকা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সমর্থক হওয়ার অভিযোগে ঘরছাড়া হওয়া বহু মানুষ সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তাঁরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি তোলেন। অভিযোগ, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং গুন্ডা দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কাতেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা দাবি করেন, জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে গুরুপদ মণ্ডল-সহ বহু তৃণমূল নেতা বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মানুষের ক্ষোভ এবং আইনের ভয়ে তাঁরা এখন কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন। দেবাংশু পান্ডার আরও দাবি, ফলতার বিভিন্ন এলাকায় এর আগেও একাধিক তৃণমূল নেতা আবাস যোজনা, আমপান ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে নেওয়া কাটমানির টাকা ফেরত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, "আগে মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না। এখন মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। তাই যাঁরা বেআইনিভাবে টাকা নিয়েছিলেন, তাঁদের সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।"

টাকা ফেরত পাওয়া গ্রামবাসী চন্দনা মণ্ডল বলেন, "আগে এলাকায় এমন পরিস্থিতি ছিল যে কোনও সরকারি সুবিধা পেতে গেলে তৃণমূল নেতাদের টাকা দিতে হতো। কারখানায় কাজ করতে হলেও টাকা দিতে হতো, কোনও কাজের অনুমতি পেতেও টাকা লাগত। আমার কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই টাকা ফেরত পেয়েছি। প্রথমে এক লক্ষ টাকা এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছি। আগে প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না, এখন মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারছেন।"

অন্যদিকে বেলসিংহা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান কাকলি মালি বলেন, যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী ধাপে ধাপে গ্রামবাসীদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা চাই স্বচ্ছতার সঙ্গে এলাকার মানুষের পাশে থাকতে। যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেরাই সেই টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এলাকার মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।"

ঘটনাটি সামনে আসার পর ফলতা জুড়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে সরকারি প্রকল্পে কাটমানির অভিযোগ ভিত্তিহীন ছিল না। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের মাধ্যমে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনও সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাম্প্রতিক সময়ে ফলতা এলাকায় কাটমানি ফেরতের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন গ্রামে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে বিরোধীরা বিষয়টিকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরলেও শাসকদলের একাংশ বলছে, মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে গুরুপদ মণ্ডল, জাহাঙ্গীর খান বা তাঁদের অনুগামীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি। তবুও বনহোগলা গ্রামে গ্রামবাসীদের হাতে সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফলতার রাজনীতি যে নতুন মোড় নিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আগামী দিনে এই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত বা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।


২০২৪-এর অক্টোবর থেকেই দেশে এবং বিদেশে ‘মাই নেম ইজ জান’ চর্চায়। কিংবদন্তি গওহর জানের জীবনকে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে নাটক ‘মাই নেম ইজ জান’। নামভূমিকায় রয়েছেন অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। 

.‘স্টুডিয়ো নাইন’-এর উদ্যোগে ২৫ অক্টোবর, ২০২৪ মুম্বইয়ের বাল গান্ধর্ব রঙ্গ মন্দির অডিটোরিয়ামে এই বছরের প্রথম শো মঞ্চস্থ হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বলিউড তারকা অনুপম খের, টিভিনাইন নেটওয়ার্কের এমডি ও সিইও বরুণ দাস, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

অগাস্টের প্রথম দিনেই শহরে মাই নেম ইজ জান, টিকিট কাটার ভিড়...

 থেকেই দেশে এবং বিদেশে ‘মাই নেম ইজ জান’ চর্চায়। কিংবদন্তি গওহর জানের জীবনকে ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে নাটক ‘মাই নেম ইজ জান’। নামভূমিকায় রয়েছেন অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। ‘স্টুডিয়ো নাইন’-এর উদ্যোগে ২৫ অক্টোবর, ২০২৪ মুম্বইয়ের বাল গান্ধর্ব রঙ্গ মন্দির অডিটোরিয়ামে এই বছরের প্রথম শো মঞ্চস্থ হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বলিউড তারকা অনুপম খের, টিভিনাইন নেটওয়ার্কের এমডি ও সিইও বরুণ দাস, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। এই নাটক ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে দর্শক মহলে। শুধু মুম্বই নয়, কলকাতা-সহ অন্যান্য শহরে একাধিকবার মন কাড়ে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের ‘মাই নেম ইজ জান’। ২০২১ সালে মূলত বাংলাতেই দেখা গিয়েছিল এই নাটকটি। তিন বছর পর নতুন রূপে মঞ্চে ফিরে সকলকে তাক লাগিয়েছেন টিম অর্পিতা। এতদিন যাঁরা এই শো দেখে উঠতে পারেনি বা আবারও দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন, তাঁদের জন্যই এবার রয়েছে সুখবর। ১ অগাস্ট, শনিবার, জি ডি বিড়লা সভাঘরে মঞ্চস্থ হবে ‘গার্ডেন ভরেলি মাই নেম ইজ জান’। এটা ২৪তম শো। 


এই নাটকের উপস্থাপনা অন্যান্য নাটকের থেকে অনেকাংশেই ভিন্ন। ‘মাই নেম ইজ জান’ গোটা বিশ্বের দরবারে দর্শকদের মন জয় করছে। নাচ, গান, অভিনয়, সূত্রধর, সবটাই একা হাতে যেভাবে সামলাচ্ছেন অর্পিতা, তা সত্যি প্রশংসার। নাটকের মিউজিক্যাল যে জার্নি, তাও থিয়েটার দর্শকদের স্বাদ বদল করে চলেছে। ‘মাই নেম ইজ জান’ নাটকটি লিখেছেন অবন্তী চক্রবর্তী এবং টিভিনাইন নেটওয়ার্কের এম ডি ও সিইও বরুণ দাস। অবন্তী চক্রবর্তী রয়েছেন পরিচালকের আসনে। নাটকটির নৃত্য পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন রক্তিম গোস্বামী। নাটকের সঙ্গীত নির্দেশক জয় সরকার।


সরকারি স্কুলে ক্লাস নেবে তিনজন রোবট শিক্ষক। খুব শীঘ্রই তাদের নিয়োগ করা হবে। সরকারের বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাই নয়, পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষাগত সহায়তা, কেরিয়ার গাইডেন্স, দক্ষতা বৃদ্ধি হবে এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমও চালু করা হবে।


রোবট যখন শিক্ষক। কখনও ভেবে দেখেছেন বিষয়টা? অবশ্য ভাবার আগেই কাজ হয়ে যাচ্ছে। এআই এখন সর্বত্র। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অসাধ্য সাধন হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট শিক্ষক। এখানেই শেষ নয়, সেই রোবটই স্কুলে স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিচ্ছে। এবার সরকারি স্কুলে সেরকমই রোবট শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বড় পদক্ষেপ তেলাঙ্গানা সরকারের। সরকারি স্কুলে শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে খবর।


সরকারি স্কুলে রোবোটিক শিক্ষক
রঙ্গা রেড্ডি জেলার জনওয়াড়া (Janwada) জেলা পরিষদ হাইস্কুলে (ZPHS) খুব শীঘ্রই তিনজন রোবোটিক শিক্ষক আনা হচ্ছে। এই স্কুলেই প্রায় ৭৫০ জন পড়ুয়া পড়াশোনা করে। এটাই তেলাঙ্গানার প্রথম সরকারি স্কুল হতে চলেছে, যেখানে নিয়মিত রোবট শিক্ষক ক্লাস নেবে। এই বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য ইন্ডাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, হায়দরাবাদ এবং তেলাঙ্গানা সরকারের মধ্যে একটি মউ সাক্ষর হয়েছে। ৮ জুলাই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্কুল শিক্ষা দফতরের ডিরেক্টর ই. নবীন নিকোলাস এবং ইন্ডাস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষা ফরিদা ফারাজ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।


বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাই নয়, পড়ুয়াদের জন্য শিক্ষাগত সহায়তা, কেরিয়ার গাইডেন্স, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমও চালু করা হবে।

হাওয়া অফিস বলছে, উত্তর বাংলাদেশে এবং উত্তর-পশ্চিম বিহারে রয়েছে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত। বিহার থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমী অক্ষরেখা পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে।


আজ আবার উত্তরবঙ্গে কমলা সতর্কতা। উত্তরের ৫ জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি আবহাওয়া দফতরের। কমলা সতর্কতা দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়িতে। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারেও কমলা সতর্কতা জারি। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে। তবে এবার ধীরে ধীরে বৃষ্টির তীব্রতা কমবে উত্তরবঙ্গে। 


বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে দক্ষিণবঙ্গেও। ভারী বৃষ্টি হতে পারে নদিয়া, মুর্শিদাবাদেও। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস কলকাতা ও শহরতলিতে। বাকি সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা থাকছে। হালকা-মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড়ো বাতাস বইতে পারে।


হাওয়া অফিস বলছে, উত্তর বাংলাদেশে এবং উত্তর-পশ্চিম বিহারে রয়েছে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত। বিহার থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমী অক্ষরেখা পুরোদমে সক্রিয় রয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। রাজস্থান থেকে মৌসুমী অক্ষরেখা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য মনিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি থাকছেই। 


বৃহস্পতিবার রথের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে দক্ষিণবঙ্গে। ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। কলকাতাতেও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। 

শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হলুদ সতর্কতা থাকছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে। এদিন কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ঘোরাফেরা করছে ৭৮ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে। জলীয় বাষ্প বেশি থাকার কারণে প্যাচপ্যাচে গরমের হাত থেকে এখনই রেহাই মিলছে না কলকাতাবাসীর। 

কিন্তু এত তরজা, বিতর্কের মধ্যেও বিশেষ মুখ খুলতে চাননি পশ্চিম মেদিনীপুরের নির্মল ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, যা বলার রাজ্যের নেতারা বলবেন। তবে তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থে বর্তমান সরকারের পাশে থেকে কাজ করতে চান।


ঋতব্রতদের বৈঠকে ঢুকে পড়েছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। যদিও তাঁর উপস্থিতিতে রীতিমতো অস্বস্তিতে ঋত শিবির। তাঁদের দাবি, নির্মল অনাহুত। তাঁকে ডাকাই হয়নি। সোজা কথা, বিনা আমন্ত্রণেই তিনি নাকি চলে এসেছিলেন। এ নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই শোনা যায় গোটা ঘটনার নেপথ্যে নাকি রয়েছে নাম বিভ্রাট। আসলে ডাকা হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষকে, কিন্তু আসরে দেখা যায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ককে। 


কিন্তু এত তরজা, বিতর্কের মধ্যেও বিশেষ মুখ খুলতে চাননি পশ্চিম মেদিনীপুরের নির্মল ঘোষ। তাঁর সাফ কথা, যা বলার রাজ্যের নেতারা বলবেন। তবে তিনি সাধারণ মানুষের স্বার্থে বর্তমান সরকারের পাশে থেকে কাজ করতে চান। আগে দলের অন্দরে তাঁর অবস্থান নিয়ে রীতিমতো আক্ষেপের সুরও শোনা যায় নির্মলের গলায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, আগে তৃণমূলে যতদিন ছিলেন ততদিন কোথাও সঠিক সম্মান পাননি। মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করার স্বার্থেই তিনি ঋতব্রত তৃণমূলে যোগদান করেছেন। কিন্তু আগামীতে গিয়ে তাঁকে পদ্ম শিবিরে দেখা যাবে? উত্তর যদিও সময়ের হাতেই ছাড়ছেন নির্মল। বলছেন, “শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নের সঙ্গে আছি। সরকারি দলের উন্নয়নের সঙ্গে থেকেই মানুষের সেবা করতে চাই।”  



এককালে কংগ্রেসী হিসাবে পরিচিতি ছিল এলাকায়। ছিলেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। ছিলেন তৃণমূলের জেলা কমিটিতেও। পরবর্তী ক্ষেত্রে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি হন এই নির্মল ঘোষ। তাঁরই শনিবার ডাক পড়েছিল ঋতব্রতদের বৈঠকে। আর সেখানেই নাম বিভ্রাটের জেরে রাতারাতি চলে এলেন প্রচারের আলোয়। যদিও তিনি ছিলেন শনিবারের বৈঠকে। 

ঘটনার জেরে শনিবার বিকেলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাঁরা একজোট হয়ে ওই পেট্রোল পাম্পে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের আলোয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে রীতিমতো প্রতারণা করা হচ্ছে।

পেট্রোলে মেশানো হচ্ছে জল? একের পর এক বাইক বন্ধ হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চালকরা
ব্যাপক উত্তেজনা এলাকায়

পেট্রোল পাম্প থেকে দেওয়া হচ্ছে জল মেশানো ভেজাল পেট্রোল! আর সেই জ্বালানি বাইকে ভরতেই মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিন। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর একটি পেট্রোল পাম্পে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। শনিবার বিকেলে বনগাঁর মতিগঞ্জ এলাকার ওই পেট্রোল পাম্পে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনগাঁ থানার পুলিশ।


স্থানীয় ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার বিকেল থেকে। বেশ কয়েকজন বাইক আরোহী মতিগঞ্জ এলাকার ওই নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্পটি থেকে জ্বালানি ভরেছিলেন। কিন্তু পাম্প থেকে কিছুটা দূরে যেতে না যেতেই পরপর বেশ কয়েকটি বাইকের ইঞ্জিন আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে গ্রাহকরা সাধারণ যান্ত্রিক গোলযোগ ভাবলেও, পরে মেকানিকের কাছে নিয়ে গেলে আসল সত্যিটা সামনে আসে। দেখা যায়, বাইকের তেলের ট্যাঙ্কে পেট্রোলের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জল মিশে রয়েছে। এই ভেজাল তেলের কারণেই ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।


প্রতিমাসে বাড়িতে আসতে পারে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা! হিসাব কষে বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
এই ঘটনার জেরে শনিবার বিকেলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তাঁরা একজোট হয়ে ওই পেট্রোল পাম্পে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনের আলোয় সাধারণ মানুষের সঙ্গে রীতিমতো প্রতারণা করা হচ্ছে। জল মেশানো পেট্রোল বিক্রি করে পাম্প কর্তৃপক্ষ মুনাফা লুটছে, অন্যদিকে ক্রেতাদের হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে।


বিক্ষোভের জেরে শনিবার এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বনগাঁ থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পাম্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।


 ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, একাধিক জাহাজ তাদের নির্দেশ অমান্য করে অনুমোদিত পথ ছেড়ে অন্য রুটে চলছিল। সতর্কবার্তা অমান্য করায় একটি জাহাজকে গুলি করে থামানো হয়। পাশাপাশি তেহরানের হুঁশিয়ারি, নতুন করে যদি হামলা করা হয়, তাহলে আরও শত্রু ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেবে তারা।


আবারও হরমুজ বন্ধ করল ইরান, পাল্টা তীব্র প্রতিঘাত আমেরিকার! ফের সংকটে বিশ্ববাণিজ্য?
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ



পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। হামলার প্রতিঘাত বাড়াচ্ছে আমেরিকা (Iran-US Conflict)। ইরানও পাল্টা হামলা করছে। দুই দেশের সংঘর্ষে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। এই আবহে হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) ফের বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আর সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। হরমুজ় ফের বন্ধের ঘোষণা করল তেহরান। সম্প্রতি, হরমুজ়ে একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস। তারপরই ওই প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সেনা। এদিকে, হরমুজ বন্ধ করতেই ইরানের উপর ফের হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)।


কী বলছে আমেরিকা?
মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি কনটেনার জাহাজ ইরানের গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে এক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর। এর আগে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে বারবার হামলা করা হলে বা জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে যুদ্ধ-পরবর্তী আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।

অ্যাকাউন্টে ৭০০ কোটি! অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ মহিলার
Saayoni Ghosh: 'আগে ইগনোর করেছি, এবার... কোর্টে দেখা হবে', নোটিস পাঠালেন সায়নী

 ‘স্বাস্থ্যসাথী তো বাংলার বাইরে কাজে লাগতো না’, মুখ্য়মন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ
পাল্টা ইরানের দাবি
তবে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, একাধিক জাহাজ তাদের নির্দেশ অমান্য করে অনুমোদিত পথ ছেড়ে অন্য রুটে চলছিল। সতর্কবার্তা অমান্য করায় একটি জাহাজকে গুলি করে থামানো হয়। পাশাপাশি তেহরানের হুঁশিয়ারি, নতুন করে যদি হামলা করা হয়, তাহলে আরও শত্রু ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেবে তারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার তার মূল্য দিতে হবে।”


ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা
শনিবার ওমানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ওমান জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতি, দুই স্তরেই আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

মোজতবা খামেনেইয়ের হুঁশিয়ারি
এদিকে, আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। বিবৃতি দিয়ে বলেন, ইরানের উপর হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “এটাই জাতির ইচ্ছা এবং তা অবশ্যই পূরণ করা হবে।”

বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়তে পারে প্রভাব
বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেক্ষেত্রে হরমুজ বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যুদ্ধ চলাকালীন অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপিছু ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। যদিও পরে দাম কিছুটা কমেছে। তবে নতুন করে উত্তেজনা বিশ্ববাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টে একটি মামলা করেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসক। তাঁরা, একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের জম্মু-কাশ্মীর মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল এডুকেশন বিধির আওতায় কাজ করছিলেন। মামলাকারীদের অভিযোগ, তাঁদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হয়নি। এই মামলা ওঠে বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের বেঞ্চে। শনিবার সেই মামলারই শুনানি ছিল।

মাতৃত্বকালীন ছুটি দয়া নয়, মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার', পর্যবেক্ষণ জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের
প্রতীকী ছবি

মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার। সম্প্রতি, একটি মামলায় এমনই মন্তব্য করেছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ হাইকোর্ট (Jammu & Kashmir and Ladakh High Court)। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বেতন (Paid Maternity Leave) বন্ধ রাখা যাবে না। প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করে এই অধিকার কেড়ে নেওয়াও অসাংবিধানিক বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।


মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়ে মামলা
সম্প্রতি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টে একটি মামলা করেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসক। তাঁরা, একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ২০২০ সালের জম্মু-কাশ্মীর মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল এডুকেশন বিধির আওতায় কাজ করছিলেন। মামলাকারীদের অভিযোগ, তাঁদের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হলেও বেতন দেওয়া হয়নি। এই মামলা ওঠে বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়ালের বেঞ্চে। শনিবার সেই মামলারই শুনানি ছিল।


অ্যাকাউন্টে ৭০০ কোটি! অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা তুলতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ মহিলার
মামলাকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজ্য সরকার একটি নির্দেশিকা জারি করে সিনিয়র রেসিডেন্ট ও টিউটরদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দেওয়ার কথা জানায়। পরে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর আরও একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেখানে জানানো হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় তাঁরা ‘আউট অফ অ্যাসাইনমেন্ট’ থাকবেন। সেই কারণ দেখিয়ে তাঁদের বেতন ও ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।


মহিলা চিকিৎসকদের দাবি ছিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলে বেতন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনও তথ্য তাঁদের আগে জানানো হয়নি। তাঁদের আইনজীবীর বক্তব্য, ২০২৪ সালের সরকারি নির্দেশ অনুসারেই মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর সেই বিধিতে বেতন-সহ ছুটির স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবি, আবেদনকারীরা স্থায়ী সরকারি কর্মী নন। তাঁরা মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী। তাই বেতন-সহ মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার তাঁদের নেই। ছুটির পরে চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে শুধুমাত্র তাঁদের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার জন্য।

আদালতের মন্তব্য
তবে প্রশাসনের এই যুক্তি খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। আদালত জানায়, ২০২৪ সালের সরকারি নির্দেশে স্পষ্টভাবে সিনিয়র রেসিডেন্ট ও টিউটরদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে, তাঁরা শুধু ছুটিই নন, সেই সময়ের পূর্ণ বেতন ও ভাতাও পাওয়ার অধিকারী। বিচারপতির মন্তব্য, “মাতৃত্বকালীন ছুটিকে কোনওভাবেই সরকারি দয়ার বিষয় হিসেবে দেখা যায় না। এটি নারীর মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত এক অবিচ্ছেদ্য সাংবিধানিক অধিকার। ছুটির অধিকার থাকলে পূর্ণ বেতনও তার স্বাভাবিক অংশ। প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।”

এরপরই আদালত ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবরের সরকারি নির্দেশ বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, আবেদনকারী মহিলা চিকিৎসকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির পুরো সময়ের বেতন ও সমস্ত ভাতা দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে।