covid 19 Update

Top News

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আক্রান্তদের হদিশ পেতে পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে।
#বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনার সংক্রমণ দেড় হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ৫০ জন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার সংক্রমণে রাশ টানা না যাওয়ায় চিন্তিত বাসিন্দারা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আক্রান্তদের হদিশ পেতে পরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার জনের নমুনা পরীক্ষা করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। জেলাজুড়ে সেই নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে বাসিন্দাদের সচেতন করতে ব্লকে ব্লকে মাইকে প্রচার চালানো হচ্ছে। সবাই যাতে মাস্ক পড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় রবিবার আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৩ জন করোনাআক্রান্ত হয়েছেন।এই নিয়ে জেলায় ১ হাজার ৪৪৪ জন পুরুষ মহিলা করোনা আক্রান্ত হলেন। তবে তার মধ্যে হাজার জনেরও বেশি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদিন পর্যন্ত এক হাজার ৪৬ জন আক্রান্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখন জেলায় ৩৬৫ জন করোনা আক্রান্ত বর্ধমানের কোভিড হাসপাতাল , সেফ হাউস, সেফ হোম বা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। এদিন পর্যন্ত পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনা আক্রান্ত হয় ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় নতুন করে আক্রান্ত ৪৩ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে কেতুগ্রাম এক নম্বর ব্লকে। এই ব্লকে নতুন করে দশ জন করোনা আক্রান্তের হদিশ মেলায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও জেলায় নতুন করে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একজন বর্ধমান শহরে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আর একজন মৃত ব্যক্তি কালনার সাতগেছিয়ার বাসিন্দা। এরা দু’জনেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে। বর্ধমান শহরে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলায় উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা।
আক্রান্তদের মধ্যে বর্ধমান শহর এলাকায় রয়েছেন ১১ জন। এছাড়া কাটোয়া ও কালনা শহরে একজন করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন। বর্ধমান এক নম্বর ব্লকে আক্রান্ত হয়েছে তিনজন।বর্ধমান দু'নম্বর ব্লকে আক্রান্ত হয়েছেন একজন। ভাতার ব্লকে নতুন করে তিনজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মেমারি এক নম্বর ব্লকে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ জন। এছাড়া খণ্ডঘোষ, গলসি এক নম্বর ব্লক, গলসি দু'নম্বর ব্লক, কাটোয়া এক নম্বর ব্লক, মঙ্গলকোট, মন্তেশ্বর একজন করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছে।  কালনা দু'নম্বর ব্লকে আক্রান্ত হয়েছেন দু’জন।
ফের জেগে উঠল ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবুং আগ্নেয়গিরি। সোমবার জেগে ওঠার পর সেখান থেকে নিঃসৃত ধোঁয়া ও ছাই ঢেকে ফেলেছে আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উঁচুতে ওঠা সেই ছাই ও ধোঁয়া আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে আগ্নেয়গিরির আশেপাশের এলাকায়। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের বিশাল একটি অংশ ওই আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ঢেকে গিয়েছে।   
২০১০ থেকেই ওই আগ্নেয়গিরি জেগে উঠেছে। তবে ২০১৬-তে সব থেকে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল তা। সে বার আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসা লাভা প্রাণহানিও ঘটিয়েছিল। সেই অবস্থা ফের ফিরল। গত সপ্তাহেও বার দুয়েক অগ্নুৎপাত হয়েছে সেখানে। কিন্তু সোমবার থেকে সেই অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে। আগামী দিনে সেখান থেকে লাভা বেরিয়ে আসতে পারে, এই আশঙ্কায় সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত বেরিয়ে আসা ছাই কোনও প্রাণহানি ঘটায়নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই সেখানে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ইন্দোনেশিয়ার ভলক্যানোলজি অ্যান্ড জিওলজিক্যাল হ্যাজার্ড। ওই আগ্নেয়গিরির আশেপাশের এলাকায় যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
আগ্নেয়গিরির আশপাশের এলাকাকে আগেই নো-গো জোন হিসেবে ঘোষণা  করা হয়েছিল। সেখানে এখন কেউ বসবাস করে না। তবে কাছেই বসবাসকারী ছোট উপজাতি সম্প্রদায়ের গ্রাম সোমবারের অগ্ন্যুত্‍‌‌পাতের জেরে ছাইয়ের মোটা আস্তরণে ঢেকে গিয়েছে।
মৌরি ভেজানো জল খেলে দূর হয় হজমের সমস্যা। রাতে এক গ্লাস জলে এক চামচ মৌরি ভিজিয়ে রাখুন।
মৌরি। এমন একটি উপাদান যা আপনি শুধু চিবিয়েও খেতে পারেন, ভিজিয়ে জল খেতে পারেন, চায়ের সঙ্গেও খেতে পারেন। এতে রয়েছে নানা উপকারিতা।
চায়ের সঙ্গে মৌরি মিশিয়ে খেলে দূর হয় প্রস্রাবের জ্বালা যন্ত্রণা ! চা তৈরি করার সময় এক চামচ মৌরি ফেলে দিন। পরে চা ছেঁকে নিন। 
মৌরিতে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট আছে, তা সাইনাসের সমস্যা দূর করতে পারে। ব্রঙ্কাইটিস ও কফের সমস্যা দূর হয়।
মৌরি নিয়মিত খেলে শ্বাসকষ্টে আরাম মেলে
মৌরি ভেজানো জল খেলে দূর হয় হজমের সমস্যা। রাতে এক গ্লাস জলে এক চামচ মৌরি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে ওই জল খান। 
রুশ প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অন্তত ৬০ শতাংশ রুশ নাগরিকের শরীরে করোনা টিকা দিতে হবে। রাশিয়ার পরিকল্পনা এই বছর অন্তত চার কোটি টিকা বাজারে আনার।
#মস্কো:করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বাজিমাত করে ফেলল রাশিয়া! মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করলেন, তাঁর স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত ভ্যাকসিনটি প্রথম প্রয়োগ করা হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের মেয়ের দেহেই। নতুন তৈরি এই ভ্যাকসিন নিয়ে চাহিদা বিপুল ৷ ইতিমধ্যেই ২০টি দেশ থেকে কোটি কোটি ভ্যাকসিনের প্রি-অর্ডার এসে গিয়েছে তাদের কাছে ৷ এমনটাই দাবি রাশিয়ার ৷
করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যাকসিন বাজারে আনার প্রস্তুতি চালাচ্ছিল রাশিয়া। একদিকে যখন তুমুল উত্তেজনা অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন নিয়ে, তখনই রাশিয়া জানিয়ে দেয় সে দেশে Gamaleya Research Institute ও Russian Defence Ministry যৌথভাবে এই করোনার টিকা তৈরি করে ফেলেছে। রুশ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ওলেগ গ্রিদনেভ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তৃতীয় পরীক্ষাটির শেষধাপ চলছে। এই ধাপ সম্পূর্ণ হলেই বাজারে আসবে রাশিয়ার করোনা টিকা।
মস্কোর গামালেয়া ইনস্টিটিউটের এই ভ্যাকসিনের নাম- গাম-কোভিড-ভ্যাক লিও ভ্যাকসিন (Gam-COVID-Vac Lyo vaccine)। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল না করেই কীভাবে এই ভ্যাকসিন দেশের জনগণের জন্য উপলব্ধ করছে তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও সেই জল্পনায় জল ঢেলেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন স্বয়ং।
সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে খবর এদিন পুতিন ঘোষণা করেন, "আজ সকালে পৃথিবীর প্রথম করোনা টিকা রেজিস্টার করল রাশিয়া।" স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাস্কোকে তিনি ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ আপডেট দিতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি আত্মবিশ্বাসী, প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে এই ভ্যাকসিনের ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। এই ভ্যাকসিন প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত সমস্ত কর্মীদেরও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পুতিন। পুতিনের বিশ্বাস, খুব শিগগিরই গণহারে এই ভ্যাকসিন উৎপাদন করে ফেলতে পারবে রাশিয়া।
রুশ প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অন্তত ৬০ শতাংশ রুশ নাগরিকের শরীরে করোনা টিকা দিতে হবে। রাশিয়ার পরিকল্পনা এই বছর অন্তত চার কোটি টিকা বাজারে আনার। এই মুহূর্তে রুশ প্রশাসন চাইছে, রিস্ক ওয়ার্কার বলয়ে যারা রয়েছেন অর্থাৎ স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবাকর্মীদের এ মাসেই টীকাকরণ করতে। অক্টোবর থেকে টিকাকরণ হবে গণহারে।
প্রাথমিক ভাবে যারা করোনার বিরুদ্ধে সামনের সারি থেকে লড়াই করছেন তাদের প্রথমে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে রাশিয়ার এই করোনা ভ্যাকসিন এখনও মানব ট্রায়ালের সমস্ত ধাপ উত্তীর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন গোটা বিশ্বের বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে।
কিডনি রোগীদের সংক্রমণ বেশি হয়। বেশি হয় জটিলতাও। কারণ কিডনি আমাদের শরীরে ছাঁকনির কাজ করে। বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের ফলে রক্তে যে সমস্ত দূষিত পদার্থ জমা হয়, সে সব ছেঁকে বার করে শরীরকে সুস্থ রাখে সে। শরীরে জল ও উপকারী লবণের ভারসাম্য বজায় রাখাও তার কাজ।
কোনও কারণে কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে দূষিত পদার্থ জমতে থাকে শরীরে। জল জমে। ফলে শরীর এতই অসুস্থ হয়ে পড়ে যে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। বাড়ে সংক্রমণজনিত অসুখ-বিসুখের আশঙ্কা। কাজেই কোভিডের এই পরিস্থিতিতে তাঁদের বিশেষ ভাবে সাবধান থাকা দরকার।
বিপদ আছে আরও। জটিল কোভিডে কিডনির ক্ষতি হয়। চিন, নিউইয়র্ক, ইটালি, ফ্রান্সে সমীক্ষা করে দেখা গেছে কোভিডের জটিলতা নিয়ে যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশের কিডনির ক্ষতি হয়েছে।
ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ সৌতিক পাণ্ডা জানিয়েছেন, "কোভিডের জটিল পর্যায়ে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা খুব বেড়ে যায় বলে সবচেয়ে ক্ষতি হয় কিডনি ও লিভারের। বহু রোগীকেই তখন ডায়ালিসিস করতে হয়। অর্থাৎ যন্ত্রের সাহায্যে রক্ত ছেঁকে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করতে হয়। তারপর সুস্থ হওয়ার পরও কিডনির কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক হতে সময় লাগে কম করে ৩-৪ সপ্তাহ। কখনও আবার পুরো স্বাভাবিকও হয় না। বিশেষ করে যদি আগে থেকে সমস্যা থাকে।"
কাজেই কিডনির সমস্যা থাকলে বিশেষভাবে সাবধান থাকা দরকার।

বিশেষ সাবধানতা

•      রোগের চিকিৎসায় কোনও রকম ঢিলেমি চলবে না। চিকিৎসক যেভাবে চলতে বলেছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। কোনও ভাবে যাতে রোগের বাড়াবাড়ি না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

•      জল ও খাবারের ব্যাপারে ডাক্তার যা নির্দেশ দিয়েছেন, তার অন্যথা করবেন না। প্রোটিন জাতীয় খাবারের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবেন।

•      নিয়মিত চেক-আপ করাবেন।

•      ব্যথা-বেদনা হলে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনও ব্যথার ওষুধ খাবেন না। কারণ ওই সব ওষুধে শরীরে জল জমার প্রবণতা বাড়ে।

•      চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বেরবেন না। বেরনোর সময় মাস্ক ও শিল্ড পরবেন। যাঁদের ডায়ালিসিস চলে, তাঁরা ঘরেও পরে থাকবেন।

•      কোভিড ঠেকানোর সাধারণ নিয়ম মেনে চলুন। হাত ধোওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি।

•      বেশি ঠান্ডা ঘরে না শোয়াই ভালো। কারণ নিয়মিত সার্ভিসিং না হলে এসি-র ডাক্টে জীবাণুর রমরমা হয়, দুর্বল প্রতিরোধশক্তির মানুষ চট করে সেখান থেকে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারেন।

•      জ্বর-সর্দি-কাশি হলে আলাদা ঘরে থাকুন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডায়ালিসিস করান নিয়মিত

"সময়মতো ডায়ালিসিস না হলে শরীরে দূষিত পদার্থ জমে সংক্রমণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা আরও কমে যায়। শরীরে জলের পরিমাণ বাড়ে। সারা শরীরের সঙ্গে সে তখন জমতে থাকে গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে। জমে ফুসফুসে। এই অবস্থায় করোনা সংক্রমণ হলে বিরাট বিপদ। সেজন্য পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সপ্তাহে দু-তিন দিন, যাঁর যেমন দরকার ডায়ালিসিস চালিয়ে যান।" জানিয়েছেন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ সুব্রত ভৌমিক।


১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট। ভোর প্রায় ছটা। মুজফফরপুর জেলে জোরকদমে চলছে আয়োজন। ভয়ংকর সেই ‘অপরাধী’র ফাঁসি হবে আজ। এবার বাঙালি এবং ভারত দেখবে, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কিছু করতে গেলে কীরকম পরিণতি হয়। আয়োজনও প্রায় শেষ। ১৫ ফুট উঁচু ফাঁসির মঞ্চ; দুই দিকে খুঁটি, আড়াআড়ি রডের ঠিক মাঝখানে ঝুলছে মারণ ফাঁস। কিছুক্ষণ পর আসামি এলেন; হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। ঘরে দাঁড়িয়ে আইনজীবী এবং ব্রিটিশ পুলিশরা। তাঁদের দিকে তাকিয়ে একবার প্রাণ ভরে হেসে নেন ক্ষুদিরাম বসু। তারপর একটু একটু করে এগিয়ে যান মঞ্চের দিকে…

মেদিনীপুরের এক দামাল কিশোর কী করে যেন জড়িয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে। তবে এই নেশা একবার যার রক্তে ঢোকে, তার কাছে সাধনার বস্তু হয়ে দাঁড়ায়। ক্ষুদিরামেরও তাই হয়েছিল। কিশোর বয়সের নানা ঘটনা পেরিয়ে এল বড়ো কাজ। অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যা করতে হবে। এই কাজের জন্য প্রথমে অবশ্য বাছা হয়েছিল প্রফুল্ল চাকী এবং সুশীল সেনকে। শেষমুহূর্তে বিশেষ কারণে সুশীল সেন যেতে পারেননি। তার জায়গায় দলে ঢোকেন ক্ষুদিরাম। ভয়? সেই শব্দটি তাঁর অভিধানে কোনদিনও ছিল না। শুধু পরিকল্পনাটা যাতে ঠিকঠাকভাবে হয়, সেই দিকেই ছিল নজর। 

এরপরের ঘটনা আমাদের সবার জানা। সামান্য ভুলের জন্য বেঁচে যান কিংসফোর্ড। শুরু হয় প্রফুল্ল আর ক্ষুদিরামের আত্মগোপনের জীবন। পুলিশের হাতে ধরা দেবেন না কিছুতেই। কিন্তু শেষরক্ষা হয় না। কথায় বলে ঘরের শত্রু বিভীষণ। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দেখলে এমন অনেক ভারতীয় ও বাঙালিদেরই দেখা যাবে যারা ব্রিটিশদের হয়ে কাজ করেছে অথবা পুরস্কারের লোভে বিপ্লবীদের ধরিয়ে দিয়েছে। মুজফফরপুর থেকে রওনা দেওয়া একটি ট্রেনে প্রফুল্ল চাকীর ওপর সন্দেহ হয় সিংভূমের পুলিশ সাব-ইন্সপেকটর নন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরে গ্রেফতার করতে গেলে নিজের বন্দুক দিয়েই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন প্রফুল্ল। পরে ধরা পড়েন ক্ষুদিরামও। 
গোটা মামলা চলাকালীন অভাব ছিল না সাক্ষীরও। সব মিলিয়ে প্রায় তিরিশের কাছাকাছি। বোমা বিস্ফোরণে মৃত মিসেস ও মিস কেনেডির সহিস লুরফাতও ছিলেন তাঁদের মধ্যে। ঘটনায় তিনিও আহত হয়েছিলেন। তবে এর থেকে বেশি কিছু বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। এছাড়াও ইন্সপেকটর লতিফুল হোসেন, ডেপুটি সুপার বাচ্চু নারায়ণলাল, পোস্টাল পিওন ত্যাগেশ্বর তেওয়ারি-সহ আরও অনেকে। এই সাক্ষীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বয়ান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যেমন বাচ্চু নারায়ণলাল। ঘটনাটা যেখানে ঘটেছিল, সেই ক্লাবের কাছেই তাঁর বাড়ি। বোমার আওয়াজ শোনার পর নিজের উদ্যোগেই সমস্ত জায়গায় তল্লাশির কাজ শুরু করেন। এছাড়া তিনিই দীনেশ ওরফে প্রফুল্ল চাকীর মরদেহ মুজফফরপুরে নিয়ে এসেছিলেন। প্রসঙ্গত, এই পুরো ঘটনায় ক্ষুদিরাম-প্রফুল্লকে সাহায্য করেছিলেন কিশোরীমোহন বলে এক ব্যক্তি। তাঁকে গ্রেফতার করার ব্যাপারেও এঁর ভূমিকা ছিল। 

তবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে উঠে এসেছিলেন একজন পিওন, ধর্মশালার দপ্তরী এবং একজন এক্কাচালক। দুজন বাঙালি যুবক যে ধর্মশালায় উঠেছে, আর কিশোরীবাবু যে তাঁদের চেনেন এই ব্যাপারটায় শিলমোহর দেন তিনি। তবে চিহ্নিতকরণের কাজটি করতে পারেননি। সেটি করেছিল এক্কাচালক। এইভাবেই এগোতে থাকে বিচারপর্ব। একজনের বিচার তো আগেই হয়ে গেছে; আরেকজনের যে কী হবে সেটা জানতে বাকি ছিল না কারোর। ক্ষুদিরামের ফাঁসির আদেশ শুনে গোটা বাংলা ফেটে পড়েছিল। রাস্তায় নেমে পড়েছিল মানুষ। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি কেউ। 

আর ক্ষুদিরাম? তাঁকে যতই লোকে দেখে, অবাক হয়ে যায়। মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে, অথচ তিনি গান গাইছেন স্বাধীনতার। বলে যাচ্ছেন, যদি একবার সুযোগ পাই, বাংলার ছেলেদের বোমা বাঁধানো শিখিয়ে যাব। একটা নয়, হাজার হাজার ক্ষুদিরাম তৈরি হবে এবার। আইনজীবী সতীশচন্দ্র চক্রবর্তী বারবার করে বলছেন, রংপুর থেকে উকিলরা তোমাকে বাঁচাতে আসছে; আর তুমি তোমার কৃতকর্ম স্বীকার করে নিচ্ছ? অকপট ক্ষুদিরাম, ‘স্বীকার না করার কী আছে?’ গায়ে তখনও রক্ত ফুটছে। ব্রিটিশ পুলিশরাও অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সদ্য আঠেরো পেরনো ছেলেটির দিকে… 

১১ আগস্টের মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। বীরদর্পে এগিয়ে গেলেন ক্ষুদিরাম। চারপাশের মানুষদের যেন কটাক্ষ ছুঁড়ে দিল তরুণটি। ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে জল্লাদ দড়ি পরাতে যাবে, এমন সময় ক্ষুদিরাম জল্লাদকে প্রশ্ন করে বসল। ‘আচ্ছা, ফাঁসির দড়িতে মোম দেওয়া হয় কেন?’ জল্লাদ থ! মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে এমন আচরণ ক্ষুদিরামই করতে পারেন। গলায় পরানো হল কাপড়। ফাঁস আঁটল মোম-লাগা দড়ির। ভোর ঠিক ছটা। রুমাল উড়ল। তারপর...

তথ্যসূত্র- ‘মূল নথি থেকে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকী’/ দে’জ পাবলিশিং 


গত পাঁচদিনের সবচেয়ে আশাপ্রদ ছবিটা তুলে ধরল এদিনের স্বাস্থ্য বুলেটিন। চোখ বোলানো যাক বুলেটিনে।
১৩৩ কোটির জন্যে একগুচ্ছ সুখবর স্বাস্থ্যমন্ত্রকের করোনা বুলেটিনে। গত পাঁচদিনের সবচেয়ে আশাপ্রদ ছবিটা তুলে ধরল এদিনের স্বাস্থ্য বুলেটিন। চোখ বোলানো যাক বুলেটিনে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ হাজার ৬০১ জন। উল্লেখ্য, আগস্টে প্রথম থেকেই যখন ৬০ হাজার ছাড়াচ্ছিল করোনা গ্রাফ, তখন আজকের পরিসংখ্যান আশা জোগাচ্ছে।
একই সঙ্গে কমেছে করোনা পজিটিভিটি রেটও। সোমবার যেখানে পজিভিটি রেট ছিল ১৩ শতাংশ, মঙ্গলবারের পরিসংখ্যানে প্রকাশ পজিটিভিটি রেট পৌঁছেছে ৭.৬৮ শতাংশে।অর্থাৎ মোট পরীক্ষার মধ্যে আত্রান্তের হার এই।
দারুণ সুখবর দিচ্ছে রাজধানী দিল্লিও। আরোগ্যের হার রাজধানীতে নব্বই শতাংশেরও বেশি। তবে আশঙ্কা রয়েছে তামিলনাড়ুকে নিয়ে। শুধু এই রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লক্ষ ছাড়িয়েছে।
চব্বিশ ঘণ্টায় দেশজুড়ে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮৭১ জনের।
সারা বিশ্বে যখন করোনায় মৃত্যুহার তুল্যমূল্য ৩.৬৫ শতাংশ। ভারতে তখন গড় ১.৯৯ শতাংশ।
আর মাত্র কয়েকটা দিনের পরেই ১৫ অগস্ট। হুহু করে খবর ছড়িয়েছিল ১৫ অগস্ট দেশের করোনা প্রতিষেধক "কোভ্যাকসিন" আসছে। সে জল্পনায় আগেই ইতি পড়েছে। নির্মাণকারী সংস্থা সাফ জানিয়ে দিয়েছে ১৫ অগস্টই প্রতিষেধক নিয়ে আসার শেষ দিন নয়। দেশের মানুষের স্বাস্থ্য় নিরাপত্তাই আগে।

 সেই সুরেই ভারত বায়োটেকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৃষ্ণ এলা জানিয়ে দিলেন, বিশ্বমারীর দরুন তড়িঘড়ি ভ্যাকসিন নিয়ে আসার চাপে পড়েছে সংস্থা। তবে গুণমান ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে এড়িয়ে যাওয়া চলবে না।

এলা চেন্নাই জাতীয় কেন্দ্রে শনিবার বলেছেন, "আমরা ভুল প্রতিষেধক এনে অধিক মানুষ মারতে চাই না।" সারা বিশ্বের আন্তর্জাতিক এজেন্সির নজরে রয়েছে ভারত বায়োটেক। এটা দেশের সম্মানের প্রশ্ন, তাই গবেষণায় কোনও খামতি না রেখেই ভাল গুণমানের ভ্যাকসিন নিয়ে আসার পক্ষে এলা। ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ হয়েছে "কোভ্য়াকসিনের।"

যেখানে রোটাভাইরাসের প্রথম পর্বের ট্রায়ালে সময় লেগেছিল ৬ মাস সেখানে করোনাভাইরাসের প্রথম পর্বের ট্রায়ালে সময় লেগেছে মাত্র ১ মাস। ভারতের প্রতিষেধক সংস্থাগুলি কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই। অনেকের ভারতের সংস্থা নিয়ে সংশয় ছিল যা রোটাভাইরাসের সময় ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সারা বিশ্বের থেকে অনেক কম দামে রোটাভাইরাসের কার্যকরী প্রতিষেধক এনেছিল ভারত। এমনটাও জানিয়েছেন এলা।
এই ভাইরাস নিয়ে এত কথা হচ্ছে তার কারণ কখনই করোনায় মৃত্যু নয়। এর থেকে বেশি মৃত্যু গাড়ি দুর্ঘটনায় হয়। যেহেতু অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে তাই রাজনীতিবিদদের এতও সক্রিয় দেখাচ্ছে। এভাবেও কটাক্ষের সুরে বার্তা দিলেন দেশের অন্যতম বৃহৎ সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

  ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে প্রণব মুখোপাধ্যায়কে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সোমবারই করোনা আক্রান্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ব্রেন সার্জারি হয়। তারপরই তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

৮৪ বছর বয়স হয়েছে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের। সোমবার নিজেই টুইট করে করোনা আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান তিনি। টুইটে প্রণব মুখোপাধ্যায় লেখেন, অন্য একটি দরকারে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তখনই তাঁর করোনা পরীক্ষা হয়। তাতে দেখা যায় তিনি কোভিড পজিটিভ। করোনায় আক্রান্ত তিনি। নিজে করোনা আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত এক সপ্তাহে যে বা যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, সবাইকে সাবধানতা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি। সবাই যাতে সেল্ফ আইসোলেশনে চলে যায় ও নিজেদের কোভিড পরীক্ষা করিয়ে নেয়, সেজন্য অনুরোধ করেন তিনি।এরপরই দুপুরে তাঁকে দিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর মস্তিষ্কে এক জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে ছিল। সোমবার রাতেই তাঁর ব্রেন সার্জারি হয়। অস্ত্রোপচার করে সেই জমাট বাঁধা রক্ত বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হওয়ায় তারপরই তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে। 

২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা।  প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসতেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় শুভেচ্ছো জানান একাধিক রাজনৈতিক নেতৃত্ববৃন্দ। 'প্রণবদা'র সুস্বাস্থ্য ও আরোগ্য কামনা করে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির জন্য প্রার্থনা করতে দেখা যায় বিজেপি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদেরও।

প্রোফাইলে জ্বলজ্বল করছে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর নাম। সঙ্গে তাঁর ছবি। পাশে দেখা যাচ্ছে ব্লু-টিক। অর্থাৎ কি না, প্রোফাইল ভেরিফায়েড। সেখান থেকেই বিভিন্ন বয়সি মহিলাদের কাছে যাচ্ছে নানা ধরনের অশালীন প্রস্তাব, নোংরা মেসেজ। অথচ এ সবের বিন্দু বিসর্গও জানেন না রাজ। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত তিনি। ‘এ সব কী?'

দিন কয়েক আগের ঘটনা। এক মহিলা অনুরাগী সত্যিকারের রাজ চক্রবর্তী ভেবে ‘টানটান’ নামক ওই ডেটিং অ্যাপে মেসেজ করেন ভুয়ো ‘রাজ’কে। দু’একটি বাক্যালাপের পরেই সেই অনুরাগীর বুঝতে অসুবিধে হয় না, এই প্রোফাইলের মালিক রাজ চক্রবর্তী নন। ততক্ষণে অবশ্য অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। ওই ব্যক্তি রাজের নাম নিয়ে আরও বেশ কয়েক জন মহিলাকে পাঠিয়ে দিয়েছেন নোংরা প্রস্তাব, মেসেজ।

রাজের নজর পড়ে শনিবার। আনন্দবাজার ডিজিটালকে রাজ বললেন, “এর আগে অনেক বার আমার নামে ফেক প্রোফাইল খোলা হয়েছে। ছবিতে কাজ দেওয়ার নামে টাকা চাওয়া হয়েছে। আমি লাইভে এসে বহু বার সতর্ক করেছি। পুলিশে অভিযোগও জানিয়েছি আমি। গ্রেফতারও করা হয়েছে অপরাধীদের। কিন্তু এই বার আমি সত্যিই অবাক। ওই ব্যক্তি শুধু আমার নামে ফেক প্রোফাইলই খোলেনি। রীতিমতো তাতে ব্লু টিক ম্যানেজ করেছে।” রাজ স্পষ্ট ভাষায় জানান, চেনা-পরিচিত না হলে কারও সঙ্গে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কথা বলেন না তিনি।

রাজের পোস্ট 

সাইবার সেলে কি অভিযোগ জানিয়েছেন রাজ? রাজ বললেন, “না এখনও জানাইনি। তবে খুব শীঘ্রই জানাব। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার। প্রতিনিয়ত এমনটা হয়ে আসছে। যারা এ সব করছে, তারা কি জানে না সাইবার সেল যদি একবার তাদের ধরতে পারে তবে ভয়ানক শাস্তি অপেক্ষা করছে।" পাশপাশি অপরাধীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া জবাব, “নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে মেয়েদের প্রোফাইলে ঢুকে যেভাবে দিন দিন এদের নোংরামি বেড়ে চলেছে, তা কিন্তু আর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।”

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও গোটা বিষয়টি জানিয়ে ভক্তদের সাবধান করেছেন পরিচালক। একজন ভক্ত কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, “তোমার সঙ্গে শুভশ্রীদি’র সম্পর্ক খারাপ করার জন্যই এই সব ইচ্ছে করে করা হচ্ছে।" অবশ্য এক ভুয়ো, নামহীন মানুষের অপরাধ রাজ-শুভশ্রীর জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, এতটাও ঠুনকো সম্পর্ক তাঁদের নয়। চক্রবর্তী পরিবারে এখন খুশির আমেজ। আর মাত্র দেড় মাস পরেই মা হবেন ‘শুভ’। নতুন অতিথির আগমনের অপেক্ষায় আপাতত দিন কাটছে তাঁদের। 


সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৯৮ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এই ভাইরাসে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৪৮ জনের। ভারতেও করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হচ্ছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বড় খবর শোনালেন রুশ বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়ে দিলেন, আগামী সপ্তাহেই বাজারে ছাড়া হবে বিশ্বের প্রথম করোনার প্রতিষেধক।


রাশিয়ার গামালেই ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজি (Gamalei Institute of Epidemiology and Microbiology) তৈরি করেছে এই প্রতিষেধক। শনিবার রুশ সংবাদ মাধ্যম জানায়, আগামী ১২ অগাস্ট বাজারে চলে আসবে বিশ্বের প্রথম করোনার প্রতিষেধক। ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে করোনা প্রতিষেধকের হিউম্যান ট্রায়াল পর্ব শেষ করে ফেলেছে রাশিয়া!


রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ১,৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই টিকা প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে। ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, এই টিকা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সক্ষম হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরেও এই টিকার প্রয়োগে কোনও রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা সমস্যা দেখা দেয়নি। রুশ সংবাদমাধ্য TASS-কে সে দেশের শিল্পমন্ত্রী ডেনিস মন্তুরভ (Denis Manturov) জানান, সেপ্টেম্বর থেকেই এই টিকার উৎপাদনের গতি আরও বাড়ানো হবে।


গত সপ্তাহে রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরশকো জানান, সামনের মাসেই বাজারে টিকা ছাড়ার আদেশ ইতিমধ্যে জারি হয়ে গিয়েছে। দ্রত গতিতে চলছে টিকা উৎপাদনের কাজ। এ বছরের মধ্যেই সাড়ে ৪ কোটিরও বেশি পরিমাণ প্রতিষেধকের ডোজ তৈরি করতে পারবে রাশিয়া। তবে প্রতিষেধক উৎপাদনের পাশাপাশি চলবে এটির তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালও।


গত মঙ্গলবারই WHO-এর মুখপাত্র খ্রিশ্চিয়ান লিন্ডমিয়ার বৃহত্তর ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রাশিয়াকে টিকা তৈরির ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি, প্রতিষ্ঠিত সুরক্ষা বিষয়ক সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলার অনুরোধ জানান। মার্কিন অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ অ্যান্থনি ফৌসি রাশিয়ার তৈরি করোনা প্রতিষেধকের সুরক্ষা, কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে সমস্ত জল্পনা, বিতর্ক উড়িয়ে গামালেই ইনস্টিটিউটের তৈরি করোনার টিকা আগামী ১২ অগাস্টই বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় রাশিয়া।



আমিরশাহিতে হবে ২০২০ সালের আইপিএল। যা আগেই ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে এবারের আইপিএল। ফাইনাল হবে ১০ নভেম্বর। তবে করোনা উদ্বেগের মধ্যে আরব আমিরশাহিতে আইপিএল আয়োজনের জন্য  কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ছাড়পত্র পাওয়া বাকি ছিল বিসিসিআই-এর। অবশেষে সরকারি সেই ছাড়পত্র মিলেছে, বলেই জানিয়েছেন আইপিএল চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল।

আইপিএল চেয়ারম্যান জানান, করোনা ভাইরাসের আবহে আইপিএল সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে আবেদন কেন্দ্রীয় সরকারকে করা হয়েছিল তা মঞ্জুর হয়েছে।

এদিকে  চিনা মোবাইল প্রস্তুতকারি সংস্থা ভিভো IPL-এর টাইটেল স্পনসর থেকে সরে যাওয়ার পর নতুন টাইটেল স্পনসর খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ১৮ আগাস্টের মধ্যেই আইপিএল-এর নতুন টাইটেল স্পনসরের নামও জানা যাবে বলে জানান ব্রিজেশ প্যাটেল।
১৪ জুন মুম্বই পুলিশ জানায়, বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ । খবরে প্রকাশিত হয়, সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল সুশান্তের দেহ! কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স চালক জানান, সুশান্তের ঘরে কোনও সিলিং ফ্যান-ই ছিল না!
ক্রমশ জটিল হচ্ছে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু তদন্ত! প্রতিদিন সামনে আসছে নয়া তথ্য! তদন্তের কিনারা করতে সুশান্তের সংস্পর্শে আসা নানা মানুষজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী দল! এবার মুখ খুললেন সেই অ্যাম্বুল্যান্স চালক যিনি সুশান্তের মৃতদেহ তাঁর বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে কুপার হাসপাতালে নিয়ে যান।
অক্ষয় ভান্ডগর নামে সেই অ্যাম্বুল্যান্স চালক ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন, আত্মহত্যায় মৃত্যু হয়েছে এমন বহু দেহ তিনি দেখেছেন! সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর বদ্ধমূল ধারনা, আত্মহত্যা নয়, খুন করা হয়েছে সুশান্তকে। এবার তিনি যা বললেন তা চমকে দেওয়ার মত! ১৪ জুন মুম্বই পুলিশ জানায়, বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ । খবরে প্রকাশিত হয়, সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল সুশান্তের দেহ! কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্স চালক জানান, সুশান্তের ঘরে কোনও সিলিং ফ্যান-ই ছিল না!
অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগর জানান, যখন অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছায়, সুশান্তের দেহ সাদা কাপড়ে মোড়া হয়ে গিয়েছিল। ঘটনাস্থলে ছিল মুম্বই পুলিশ। অ্যাম্বুল্যান্সের কর্মীরা অভিনেতার ঘর থেকে দেহ স্ট্রেচারে করে নামিয়ে গাড়িতে তোলেন। উল্লেখ্য, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সুশান্ত অনুরাগীরা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছেন! তাঁদের বক্তব্য, '' আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করতে পারেন। এক্ষেত্রে তা হয়নি। কাজেই, মুম্বই পুলিশ যে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা করেনি, সেটা কে হলফ করে বলতে পারে?''
অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগর জানান, সুশান্ত সিং রাজপুতের গোটা দেহ হলুদ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, সাধারণত কেউ আত্মহত্যা করলে, শরীর হলদে হয় না। যদিও বা হয়, আগাগোড়া দেহ কখনওই হলদে হয় না।
সুশান্তের হাঁটু মোড়া ছিল। তাঁর ভাষায়, '' আত্মরক্ষার জন্য যখন কেউ হাত-পা চালান, লাথি মারার চেষ্টা করেন, তখন তাঁর পা যেভাবে মোড়া থাকে, সেভাবে মোড়া ছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের পা।'' তিনি প্রশ্ন তোলেন, '' যে মানুষ সিলিং থেকে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন, তাঁর পা মোড়া থাকবে কেন? কীভাবেই বা তা সম্ভব ?''
অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগর জানান, সুশান্তের পায়ের নানা জায়গা থেঁতলে গিয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, '' গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুললে গোটা শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার দাগ থাকে। সুশান্তের ক্ষেত্রে তেমনটা ছিল না। শুধুমাত্র পায়ের নানা স্থানে দগদগে ক্ষত ছিল! এ'টা কীভাবে সম্ভব ? দেখে মনে হচ্ছিল কেউ খুব জোরে পায়ে আগাত করেছে।'' থাকতে পারে না! মনে হচ্ছিল কেউ যেন পায়ে মেরেছে।
অ্যাম্বুল্যান্স চালক অক্ষয় ভান্ডগর জানান, সুশান্তের গলায় একটা ইংরেজি হরফ '0'-এর মত দাগ ছিল। কিন্তু কেউ যদি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন, তবে গোটা গলাজুড়ে দাগ থাকে। হতে পারে হয়তো গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে সুশান্তের, তারপর হয়তো তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুললে মুখ দিয়ে গেঁজলা বের হবে, সুশান্তের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি।