WEATHER

Top News


 এ বারের আইপিএলে দুটো ম্যাচ খেলার পরই মায়াঙ্ককে নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে লখনউ শিবিরের। শুভমন গিলের গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ১ ওভার বল করে মাঠ ছেড়েছিলেন মায়াঙ্ক। তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে একটা আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। এ বার তাঁর হেলথ আপডেট জানিয়েছেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। চলতি আইপিএলে মায়াঙ্কের আর খেলা হবে তো?


 মায়াঙ্ক যাদবকে চলতি IPL এ আর পাওয়া যাবে? উত্তর দিলেন LSG কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার
মায়াঙ্ক যাদবকে চলতি IPL এ আর পাওয়া যাবে? উত্তর দিলেন LSG কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার


কলকাতা: রাজধানী এক্সপ্রেস কি থেমে গেল? এই রাজধানী এক্সপ্রেস অবশ্য ট্রেন নয়। এ বারের আইপিএলে (IPL) রাজধানী এক্সপ্রেস বলে পরিচিতি পেয়েছেন গতির ঝড় তোলা লখনউ সুপার জায়ান্টসের তরুণ বোলার মায়াঙ্ক যাদব (Mayank Yadav)। আইপিএল কেরিয়ারের প্রথম ম্যাচ থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে মায়াঙ্ক। অবশ্য এ বারের আইপিএলে দুটো ম্যাচ খেলার পরই মায়াঙ্ককে নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে লখনউ শিবিরের। শুভমন গিলের গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ১ ওভার বল করে মাঠ ছেড়েছিলেন মায়াঙ্ক। তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে একটা আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। এ বার তাঁর হেলথ আপডেট জানিয়েছেন লখনউ সুপার জায়ান্টসের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। চলতি আইপিএলে মায়াঙ্কের আর খেলা হবে তো?

দিল্লির বিরুদ্ধে আগামিকাল রয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের ম্যাচ। তার আগে লখনউয়ের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছেন, ‘গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে প্রথম ওভার বোলিং করার পর মায়াঙ্কের তলপেটে ব্যাথা অনুভব হয়েছিল। যে কারণে ওর গতিও কিছুটা কমে গিয়েছিল। এরপর মায়াঙ্কের এমআরআই করা হয়েছে। যা রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে, তাতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ওকে পাওয়া যাবে না। ওর এমআরআই স্ক্যানে একটা খুব ছোট ফোলাভাব দেখা গিয়েছে। আমরা আশা করছি শীঘ্রই ও আবার বোলিং করবে। ওকে হয়তো চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে পাওয়া যাবে।’

জাস্টিন ল্যাঙ্গারের কথা থেকে পরিষ্কার মায়াঙ্ককে নিয়ে তাঁরা কোনও ঝুঁকি নিতে চান না। যে কারণে দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচের ২ দিন পর ইডেনে কেকেআরের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ রয়েছে সেখানে মায়াঙ্ককে খেলানোর কথা ভাবছে না লখনউ টিম ম্যানেজমেন্ট। মায়াঙ্কের তলপেটে ব্যাথা হওয়ায় তাঁকে সফর করাতে চাইছেন না লোকেশ রাহুলরা। এই প্রসঙ্গে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার জানিয়েছেন, লখনউ শিবির চায় এ বারের আইপিএলে মায়াঙ্ক প্রতিটি ম্যাচ খেলুক। কিন্তু আপাতত চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ১৯ এপ্রিলের আগে মায়াঙ্ককে ফিট করে তোলাই লক্ষ্য লখনউয়ের।

জানা যাচ্ছে, প্রাক্তন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা রয়েছে। বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কলেজ বিল্ডিংয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ, আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ, নতুন কোর্স-সহ একাধিক বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

 এবার প্রাক্তন উপাচার্যের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গড়ল রাজ্য, সঙ্গে সঙ্গে আদালতে ছুটছে বিশ্ববিদ্যালয়
বিএড বিশ্ববিদ্যালয়


কলকাতা: বাংলার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতে একের পর এক টুইস্ট। এবার রাজ্যের বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গড়ল শিক্ষা দফতর। জানা যাচ্ছে, প্রাক্তন উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা রয়েছে। বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কলেজ বিল্ডিংয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ, আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ, নতুন কোর্স-সহ একাধিক বিষয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।


যদিও শিক্ষা দফতরের এই তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিএড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে বেশ বিস্মিত। শিক্ষ দফতরের এই তদন্তের নির্দেশ কার্যত ভিত্তিহীন বলেই মনে করছে বিশ্ববিদ্য়ালয় কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচাপ্য সোমা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি বুঝতে পারছি না। কারণ, যেগুলি কলেজের ব্যাপার ছিল, সেগুলি তো সব মিটে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশে সমস্ত কিছু তো মিটে গিয়েছে। উচ্চ শিক্ষা দফতরও তো নো অবজেকশন দিয়েছে। সমস্ত অ্যাফিলিয়েশন ও অ্যাডমিশন হয়ে গিয়েছে। এমন অবস্থায় এই চিঠি পেয়ে আমরাও বিস্মিত।’

উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানাচ্ছেন, সেই কারণেই বিএড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশকে চ্য়ালেঞ্জ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি না এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কি, সেই কারণেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’


উল্লেখ্য, রাজ্য়ের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজভবন সংঘাতের বাতাবরণ লেগেই রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য সিভি আনন্দ বোস রাজ্যের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেছেন। রাজ্যপাল বোসের এই সিদ্ধান্তে বেজায় বিকক্ত সরকার পক্ষ। রাজ্যপালের কাজকর্মকে আদালত অবমাননার তুল্য বলে দাবি করেছে রাজ্য এবং তিনি যাতে এই ধরনের নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেন, সে কথাও বলেছে রাজ্য সরকার।

শুঙ্কুদেব পণ্ডা সাংবাদিক বৈঠর করে দাবি করেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজ শিশুর পরিবারের কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয়, এক নাবালককে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, উপযুক্ত পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাকে নিয়ে যেতে।


তিনটে কাকু ঘুরতে নিয়ে যাবে বলে আনে, ঝুপড়িতে রাখে, টোস্ট খাওয়ায়', ডায়মন্ড হারবারে বিজেপি কর্মীর নিখোঁজ ছেলে উদ্ধার পুরীতে
খোঁজ মিলল ডায়মন্ড হারবারের শিশুর


কলকাতা: ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যর নিখোঁজ ছেলের খোঁজ মিল পুরীতে। ১০ দিন ধরে নিখোঁজ ছিল ডায়মন্ড হারবারে লোকসভা কেন্দ্রের সাতগাছিয়ায় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য কৌশিক খাঁড়ার নাবালক ছেলে। নিখোঁজ শিশুর বাবা-মাকে নিয়ে বুধবারই সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা। হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হন তিনি। অভিযোগ, নাবালককে অপহরণ করেছে তৃণমূল। আর তৃণমূলে যোগ না দিলে তাকে ছাড়াও হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এবার সেই ছেলেরই খোঁজ মিলল পুরীতে।


শুঙ্কুদেব পণ্ডা সাংবাদিক বৈঠর করে দাবি করেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজ শিশুর পরিবারের কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয়, এক নাবালককে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে, উপযুক্ত পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাকে নিয়ে যেতে। সেই ফোন পেয়েই বিজেপির-এক প্রতিনিধি শিশুর বাবা-মাকে নিয়ে গাড়িতে পুরীর উদ্দেশে রওনা দেন। শঙ্কুদেব পণ্ডা জানিয়েছেন, ছেলেকে খুঁজে পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কীভাবে ওই নাবালক পৌঁছল পুরীতে?

প্রথম থেকেই শুঙ্কুদেব ও পরিবার অভিযোগ করছিলেন, তৃণমূল অপহরণ করছে ওই শিশুকে। এমনকি সে বিষয়ে নোদাখালি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ ‘বুচাং’ ও ‘জাহাঙ্গির’ নামে দুজনের নাম করে। বলা হয়, যাতে পরিবার তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আসে। শঙ্কু এহেন দাবি করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খোঁজ মিলল শিশুর। ওই শিশুর বক্তব্য, “তিনটে কাকু ঘুরতে যাবি বলে নিয়ে চলে এসেছিল। ঝুপড়িতে রেখেছিল। পাউরুটি টোস্ট খেয়েছি।”


শঙ্কুর অভিযোগ, “বাচ্চাটি এখন ট্রমায় আছে। তৃণমূল চাপ দিয়ে বাচ্চাটিকে হাতে নিতে চাইছে। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, পুরোটা তৃণমূল করেছে।” বিষয়টি জাতীয় শিশু সুরক্ষা কমিশনে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন শঙ্কু। পাশাপাশি শুক্রবারই এই মামলার শুনানি রয়েছে হাইকোর্টে। শিশুটি কীভাবে পুরীতে পৌঁছল? আদৌ এর পিছনে কী রহস্য, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন শঙ্কু।

বাংলায় প্রথমেই ১৭৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। এরপর আরও ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। প্রথম দফায় কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।

অভিজ্ঞতা থেকে 'শিক্ষা' নিয়ে প্রথম দফায় নিশীথের গড়েই সবথেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী!
কেন্দ্রীয় বাহিনী।


কলকাতা: ১৯ এপ্রিল লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা। নির্বাচন হবে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে। প্রথম থেকে বাংলার প্রতিটি বুথেই অর্থাৎ মোট ৮০ হাজার ৫৩০ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন নির্বাচন কমিশনের মুখ্য আধিকারিক রাজীব কুমার। বাংলায় প্রথমেই ১৭৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। এরপর আরও ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। প্রথম দফায় কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। কোচবিহারে সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়ন করছে কমিশন। ১১২ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে কোচবিহারে। আলিপুরদুয়ার ৬৩ কোম্পানি, জলপাইগুড়িতে ৭৫ কোম্পানি, শিলিগুড়িতে ১৩ কোম্পানি বাহিনী থাকবে।


প্রথম দফায় এত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের যুক্তি, রাজ্যের একশো শতাংশ বুথকেই স্পর্শকাতর হিসাবে গণ্য করে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে চাইছে কমিশন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনই লক্ষ্য। এবারের লোকসভা নির্বাচনে মোট ৯২০ কোম্পানি বাহিনী দিয়ে ভোট করাতে চাইছে কমিশন। বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে প্রয়োজন বুঝে। প্রথম দফায় বেশি পরিমাণ বাহিনী মোতায়েন নিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে সমস্যা মেটাতে ভিন্ রাজ্য থেকে সশস্ত্র পুলিশ এনে কেন্দ্রীয় বাহিনী হিসাবে গণ্য করা হত। যদিও বাহিনীর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।


এরপর দফা যত এগোবে, সমস্যা কমবে। কারণ ভোট এগোতে থাকলে, বাহিনীও মোতায়েন করা সহজ হতে থাকবে। প্রথম দফাতে কোচবিহারে সব থেকে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। কারণ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোচবিহারেই ফলিমারিতে বুথের মধ্যে ঢুকে বিজেপি এজেন্টকে বোমা ছুড়ে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। এই কোচবিহারেই আবার শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র। গত একুশের নির্বাচনে সেখানেও রক্ত ঝরে। কোচবিহারে রয়েছে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর হিসাবে গণ্য করছে নির্বাচন কমিশন।

বুধবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, "সব কিছু দেখে আমাদের কোন সন্দেহ নেই যে এক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সব সহযোগিতা করবে তদন্তকারী সংস্থাকে।"

HC On Sandeshkhali: সন্দেশখালি মামলায় CBI-কে সিট গঠনের নির্দেশ, সাহায্য করবে রাজ্য পুলিশ
সন্দেশখালি মামলায় CBI

কলকাতা: সন্দেশখালি মামলার তদন্ত করতে সিবিআই। জনস্বার্থ ও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, দুটো ক্ষেত্রেই সিবিআই-কে সিট গঠন করার নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিবিআই-কে পোর্টাল তৈরি করতে হবে। জমি দখল , ধর্ষণ, চাষের জমিতে ভেড়িতে পরিবর্তন করা-সহ সমস্ত অভিযোগের তদন্ত করবে সিবিআই। আদালতের নজরদারিতে হবে তদন্ত। স্পর্শকাতর এলাকায় ১৫ দিনের মধ্যে সিসিটিভি বসাতে হবে, বসাতে হবে LED আলোও। মামলাকারীদের আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল, প্রাক্তন বিচারপতিকে দিয়ে কমিশন গড়ার আর্জি জানিয়েছিলেন।


বুধবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “সব কিছু দেখে আমাদের কোন সন্দেহ নেই যে এক্ষেত্রে স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার প্রয়োজন রয়েছে। রাজ্য সব সহযোগিতা করবে তদন্তকারী সংস্থাকে।”

প্রাক্তন বিচারপতিকে দিয়ে কমিশন করার আর্জির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আমাদের মনে হয় এক্ষেত্রে সিবিআই তদন্ত করুক। সিবিআই এই মামলায় ইতিমধ্যেই যুক্ত, তাই তারাই তদন্ত করতে পারবে। সিবিআইকে সাহায্য করবে রাজ্য।” সিবিআই-কে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।


কাদের জমি নেওয়া হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, তাও জানাবে সিবিআই। সিবিআই-কে যে কেউ এক্ষেত্রে তথ্য দিতে পারে। সিবিআই এই জমি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর রিপোর্ট দেবে। তারপর আদালত এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তবে বিচারপতির আরও নির্দেশ, তদন্তের পাশাপাশি, সিবিআই-কে সাক্ষীদেরও নিরাপত্তার বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করতে হবে। সন্দেশখালির উপদ্রুত এলাকায় বসাতে হবে CCTV।

রেশন দুর্নীতি মামলায় গত ৫ জানুয়ারি এক মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা, সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে গিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। সেদিন থেকে সন্দেশখালি খবরের শিরোনামে। শাহজাহান অনুগামীদের হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছিল ইডি আধিকারিকদের। প্রথম শাহজাহানকে ‘মাসিহা’ প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছিল। সেই ঘটনার কয়েকদিন পর থেকে সন্দেশখালির বেড়মজুর, পাত্রপাড়া-সহ একাধিক এলাকার মহিলারা রাস্তা নেমে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। উঠে আসে নারী নির্যাতনের একের পর এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ, সঙ্গে জমি, সম্পত্তি দখলের অভিযোগ। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালি, জারি হয় ১৪৪ ধারা। বারবার সেখানে যেতে গিয়ে বাধা পান বিজেপির প্রতিনিধি দল। ৫৫ দিন পর শাহজাহান গ্রেফতার হন। পরে আদালতের নির্দেশ আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল সন্দেশখালিতে ক্যাম্প করে নারীদের নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করেন। পরে সেগুলি হলফনামা আকারে আদালতে জমা দেন। অভিযোগের ভয়াবহতা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন প্রধান বিচারপতি। তদন্ত যে স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার হাতেই যেতে চলেছে তার আভাস মেলে গত শুনানিতেই।

মামলাকারী আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল বলেন, “আমরা যে অভিযোগ করছিলাম, ওখান থেকে সব অভিযোগ নিয়ে হলফনামা জমা দিয়েছিলাম। অনেক শাহজাহান রয়েছে। ১৫০ জনের নাম রয়েছে। আমি সেই তালিকা সিবিআই-কে দেব। গ্রেফতার হবে।” সন্দেশখালিকাণ্ডে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতও প্রকাশ্যে এসেছে। বঙ্গে এসে সন্দেশখালি ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে গিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা আগে বারাসতের সভা শেষে সন্দেশখালির মহিলাদের সঙ্গে দেখাও করেন। ভোট প্রচারে এসেও সন্দেশখালি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বারবার বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, ‘সব অভিযুক্তকে জেলে ঢোকানো হবে। প্রত্যেকে সাজা পাবে।’ বুধবারও বঙ্গে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে যান, ‘কোনও দুষ্কৃতীকে রেয়াত করা হবে না।’

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বলেন, ” সিবিআই কনভিকশন রেট কটা? প্রত্যেকটা কেসই তো তারা রবি ঠাকুরের নোবেল প্রাইজ খুঁজে পাওয়ার মতো করে তদন্ত করছে। বিগত দু’বছরে বাংলায় ২৭-২৮ কেসে সিবিআই তদন্ত করছে। কটা কেসের সুরাহা হয়েছে?”
ডায়মন্ড হারবার থেকে লোকসভা ভোটে নওশাদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিস্তর চর্চা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটে দাঁড়াননি তিনি। আর এরপরই বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। নাম না করে 'মুরোদ' নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এবার তার জবাব দিলেন নওশাদ।

 কার 'মুরোদ' কত দূর? নাম না করে সেলিমকে বুঝিয়ে দিলেন নওশাদ
নওশাদ সিদ্দিকী ও মহম্মদ সেলিম


কলকাতা: দফায় দফায় বৈঠক, আলোচনার পরও বামেদের আসন সমঝোতা হয়নি। নিজের নিজের মতো করে লড়ছে আইএসএফ। যে ডায়মন্ড হারবার নিয়ে এত চর্চা, সেই ডায়মন্ড হারবার থেকেও ভোটে লড়ছেন না আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। এসবের মধ্যেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম নাম না করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন নওশাদের ‘মুরোদ’ নিয়ে। এবার তার জবাব দিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক তথা আইএসফ চেয়ারম্যান। নওশাদের সোজা সাপ্টা বক্তব্য, তিনি সিপিএমের হোলটাইমার নন। তিনি নিজের দলের গাইডলাইন অনুযায়ীই চলছেন। একইসঙ্গে নাম না করে সেলিমের উদ্দেশে নওশাদের পাল্টা প্রশ্ন, কেন ডায়মন্ড হারবারের বদলে তিনি মুর্শিদাবাদ বেছে নিলেন ভোটে দাঁড়ানোর জন্য।


উল্লেখ্য, নওশাদ ডায়মন্ড হারবার থেকে ভোটে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতেই নাম না করে নিশানা করেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। কটাক্ষের সুরে সেলিম বলেছিলেন, ‘আমি তো লড়াইয়ের ময়দানে আছি। সবার মুরোদ হয় না লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত থাকার।’ সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই এদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ককে। প্রশ্ন শুনে প্রথমেই সেলিমের ব্যবহার করা শব্দবন্ধ নিয়ে আপত্তি তোলেন নওশাদ। বললেন, ‘আমি এই ধরনের শব্দ কোনওদিন রাজনীতিতে ব্যবহার করিনি। ওই শব্দটা টেনেই বলছি, আমি তো সিপিএমের হোলটাইমার নই। আমি আমার পার্টির গাইডলাইনের বাইরে যেতে পারি না।’


নওশাদের স্পষ্ট কথা, তাঁর দল আইএসএফ বামফ্রন্টের শরিক নয়। সেক্ষেত্রে সিপিএম বা বামফ্রন্ট কী বলছে, তাতে গুরুত্ব দিতে একেবারেই নারাজ তিনি। উল্টে নাম না করে সেলিমের দিকেই প্রশ্ন তুলে দিলেন, মুর্শিদাবাদ আসন থেকে ভোটে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে। বললেন, ‘আমার পার্টি বামফ্রন্টের মধ্যে নেই, যে চোখ রাঙিয়ে বলবে… এটা করো, সেটা করো। তাহলে ওঁরা মুর্শিদাবাদ ছেড়ে ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে দাঁড়াক না। তাঁদের আরও বড় বড় নেতা-নেত্রী আছে। তাঁদের দাঁড় করাক না। মীনাক্ষীদি আছেন, ওঁরা তো সিপিএমের হোলটাইমার, আমি তো নই। আমি কী করব, না করব, সেটা আমার দল ঠিক করবে।’

আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বারবার এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন তিনি। এবার আইন কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর মমতা ভোট প্রচারেও এই ইস্যুতে কথা বলেছেন একাধিকবার।

নাগরিকত্ব চলে যাবে বলছেন... নাগরিকত্বই তো নেই', বালুরঘাটে মমতাকে জবাব শাহের
সিএএ নিয়ে মমতাকে জবাব শাহের


বালুরঘাট: লোকসভা ভোট ঘোষণা হওয়ার কয়েকদিন আগেই দেশ জুড়ে কার্যকর করা হয়েছে সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন। আর ভোট প্রচারের শুরু থেকেই সেই আইনের বিরোধিতায় সুর চড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তিনি বারবার বলছেন, কোনও পোর্টালে আবেদন করবেন না, তাহলে নাগরিকত্ব চলে যেতে পারে। বুধবার বাংলায় এসে মমতাকে সেই ইস্যুতেই জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন বালুরঘাটে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের প্রচারে এসেছিলেন শাহ। সভামঞ্চ থেকেই সিএএ নিয়ে বার্তা দিলেন তিনি। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর বুধবারই প্রথম রাজ্যে প্রচারে এলেন অমিত শাহ।


সিএএ সম্পর্কে এদিন অমিত শাহ বলেন, “আমরা আইন কার্যকর করেছি। আর মমতা দিদি বাংলার মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। বলছেন, আবেদন করলে নাগরিকত্বই চলে যাবে। আরে নাগরিকত্বই তো নেই। আপনি কী জানেন?” সাধারণ মানুষের উদ্দেশে শাহ বলেন, “যত শরণার্থী আছেন, আবেদন করুন। কারও বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে না। এটা মোদী সরকারের আইন। এতে কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। মমতা যতই বিরোধিতা করুন, সব হিন্দু-শিখ শরণার্থীদের আমরা নাগরিকত্ব দেব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে অমিত শাহ আরও বলেন, “আপনার কী অসুবিধা হচ্ছে? অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানান, হোরিঙ্গাদের স্বাগাত জানান, আর শরণার্থীদের ভুল বোঝাচ্ছেন? ভয় না পেয়ে সবাই আবেদন করুন। আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটাই অধিকার।”


২০১৯ সালে সংসদে পাশ হয় সিএএ। পাঁচ বছর বাদে সেই আইন কার্যকর করা হয়েছে। তারপর থেকে মমতা একাধিক সভায় গিয়ে বলেছেন, আবেদন করলেই নাগরিকত্ব চলে যাবে। বিষয়টা আদৌ বৈধ কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা।


NRS হাসপাতালের SNCU ওয়ার্ডে ভর্তি ওই এক রত্তি। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে এক রত্তির প্রাণ। ইঞ্জেকশনের গায়ে যে ছত্রাক ছিল, তার প্রামাণ্য এসেছে  হাতেও। তবে NRS সূত্রের খবর, ইঞ্জেকশনের গায়ে ২০২৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ওষুধের মেয়াদ লেখা ছিল। 

NRS-এ সদ্যোজাতর ইঞ্জেকশনে 'ছত্রাক'! বিপন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা
ইঞ্জেকশনে ছত্রাক!


কলকাতা: ফের কাঠগড়ায় NRS। সরকারি হাসপাতালে এক রত্তির জীবন নিয়েই ছেলেখেলা করার অভিযোগ। শ্বাসকষ্টের নিরাময়ে ব্যবহৃত ইঞ্জেকশনেই ‘ছত্রাক’! অভিযোগ তেমনই। NRS হাসপাতালের SNCU ওয়ার্ডে ভর্তি ওই এক রত্তি। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে এক রত্তির প্রাণ। ইঞ্জেকশনের গায়ে যে ছত্রাক ছিল, তার প্রামাণ্য এসেছে  হাতেও। তবে NRS সূত্রের খবর, ইঞ্জেকশনের গায়ে ২০২৫ সালের ৩০ মে পর্যন্ত ওষুধের মেয়াদ লেখা ছিল।


হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই সদ্যোজাত জন্মানোর পর তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। তখন হাসপাতালের তরফ থেকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মেয়াদের মধ্যেই ছিল সেই ওষুধ। কিন্তু ইঞ্জেকশনের ভাওয়ালের মধ্যে ছত্রাক দেখা যায়। কিন্তু কীভাবে স্টোর থেকেই সেই ছত্রাক যুক্ত ওষুধ চলে গেল ওয়ার্ডে? SNCU ওয়ার্ডে অনেক সদ্যোজাতকেই একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানে এই নজরদারি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, সরকারি হাসপাতালে যে ধরনের ব্যস্ততা থাকে, তাতে ছত্রাক চোখে নাই পড়তে পারত। সেক্ষেত্রে বড় অঘটনক ঘটতেই পারত।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ দিব্যেন্দু রায়চৌধুরী বলেন, “সদ্যোজাতর ক্রমাগত পালমোনারি উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে সিনডেনাফিল ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয়। যাতে হৃদরোগে আক্রান্ত না হয়। যে কোনও ইঞ্জেকশনেই ছত্রাক থাকা উচিত নয়।”


কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি অঞ্জন অধিকারী বলেন, “আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে গোটা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে আমাদের সামনে চলে আসবে। যদি এরকম কিছু ঘটে থাকে, যা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

অন্যদিকে, এএইচএসডি চিকিৎসক নেতা মানস গুমটা বলেন, “এটা তো একটা ভয়ঙ্কর ঘটনা। বাচ্চাদের চিকিৎসায় এত বড় গাফিলতি। বাংলায় তো এখন সবই মনে হচ্ছে সম্ভব!”



সামনে বসে থাকা প্রতিযোগীকে প্রশ্ন করেছিলেন এমন কোন অভিনেত্রী যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা অর্থাৎ বর্তমানে মায়ানমার ছেরে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। উত্তরটা কে জানে? তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন বলিউডের অন্যতম ডান্সিং স্টার হেলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে ভারতে এসেছিলেন হেলেন, বর্তমানে কত কোটির মালিক তিনি?


বলিউডের অন্দরমহলে বহু জানা অজানা কাহিনি ছড়িয়ে রয়েছে। কিছু সেলিব্রিটিদের জীবন নিয়ে, কিছু আবার বলিউডের ভাঙা গড়ার গল্প। এমন অনেক গল্প যা আজও হয়তো দর্শকদের অজানা। মাঝেমধ্যে সেলিবদের আত্মজীবনী যখন মুক্তি পায়, তখন বহু অজানা কথা সামনে উঠে আসতে দেখা যায়। তবে এবার আর কারও আত্মজীবনী নির্ভর গল্প নয় বরং কৌন বনেগা ক্রোড়পতি মঞ্চের সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চন বলিউডের এক জনপ্রিয় স্টার-এর অতীতে ফিরলেন। সামনে বসে থাকা প্রতিযোগীকে প্রশ্ন করেছিলেন এমন কোন অভিনেত্রী যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা অর্থাৎ বর্তমানে মায়ানমার ছেরে ভারতে পালিয়ে এসেছিলেন। উত্তরটা কে জানে? তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন বলিউডের অন্যতম ডান্সিং স্টার হেলেন।


মায়ানমারের উপর যখন আক্রমণ শুরু হয় তখন পরিবারের সকলের সঙ্গে নদী-নালা জঙ্গল পাহাড় পেরিয়ে ভারতে পৌঁছেছিলেন তিনি। সেই থেকে লড়াই শুরু তারপর ভারতের বুকে একটা সময় রাজত্ব করা। পর্দায় তাঁর নাচ মানেই পরীক্ষার গৃহে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। আজও বলিউডে এমন পর্যায়ে কোনও ডান্সার নাম করতে পারেননি। সেলিম খানকে বিয়ে করে সংসার বেঁধেছেন হেলেন। দুই মাকে একসঙ্গে নিয়েই থাকেন সলমন খান। সলমনের সঙ্গে হেলেনের সম্পর্ক বেশ মজবুত। বলিউডে রাজত্ব করা সেই হেলেন একটা সময় মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুই চেয়েছিলেন। সেখান থেকে শুরু তাঁর লড়াই। নিজেকে টিকিয়ে রাখার লড়াই, পরিচিতি তৈরি করার লড়াই। সেই হেলেন বর্তমানে ২১৪.৫৩ কোটি টাকার মালিক। বলিউডে একটা সময় তাঁর আইটেম ডান্স ছাড়া সিনেমা যেন হয় উঠেছিল অচল।


প্রসঙ্গত, যখন সেলিম হেলেনকে বিয়ে করেন তিনি কখনও চাননি তাঁর পরিবার ও তাঁর সন্তানদের নতুন মা হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নেবেন হেলেন। আরবাজের কথায়, “আমার বাবা হেলেন আন্টিকে আমাদের উপর চাপিয়ে দেননি। তিনি জানতেন, সন্তানদের তাঁদের মা’কে চাই। হেলেন আন্টিও কখনওই বাবার থেকে আমাদের আলাদা করার চেষ্টা করেননি। তিনি খুশি ছিলেন এটা ভেবেই জীবনে এমন কেউ আছেন যিনি তাঁর পাশে থাকবেন।”

শো সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে জানান তিনি কেন আজও সিঙ্গল। পায়েলের কথায় তিনি এখনও কোনও সম্পর্কে যেতে পারেননি কারণ তাঁর মা-বাবা। তাঁর নিজের পাশাপাশি পরিবারের সকলের সম্মতি প্রয়োজন।

মা-বাবার জন্য আজও জীবন সঙ্গী পাননি পায়েল? দাদার কাছে অভিযোগ...


পায়েল সরকার, টলিপাড়ার অন্যতম চর্চিত অভিনেত্রী। আই লাভ ইউ ছবি দিয়ে যিনি পর্দায় প্রথম আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, সেই অভিনেত্রীকে নিয়ে এবার নয়া জল্পনা তুঙ্গে। কেরিয়ারে একাধিক স্টারের সঙ্গে সম্পর্কের কথা সামনে এলও পায়েল আজও নিজেকে সিঙ্গল বলেই দাবি করেন। আর কেন তাণর জীবনে কোনও প্রেমিকের স্থায়ী জায়গা হয়নি, সেই প্রসঙ্গে এবার নিজেই মুখ খুললেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি তিনি দাদাগিরিতে এসেছিলেন। সেখানেই শো সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে জানান তিনি কেন আজও সিঙ্গল। পায়েলের কথায় তিনি এখনও কোনও সম্পর্কে যেতে পারেননি কারণ তাঁর মা-বাবা। তাঁর নিজের পাশাপাশি পরিবারের সকলের সম্মতি প্রয়োজন। সাধারণ মেয়েদের ক্ষেত্রে জীবনে কোনও পুরুষের জায়গা করে নেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই মেনে নিতে পারেন না পরিবার। যদিও তা সন্তানের ভালর জন্যই বলে ব্যখ্য়া করেন পায়েল। তাঁর কথায়, তাঁর মা বাবার মনের মতো মানুষ খুঁজতে গিয়েই তিনি সিঙ্গল থেকে যাচ্ছেন।


যদিও বিষয়টা সম্পর্কে একেবারে সহমত পোষণ করেননি সৌরভ। তাঁর কথায়, সানা যদি কোনও একদিন তাঁকে এসে বলে, সে প্রেম করছে, তাতে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। বরং তিনি বিষয়টা নিয়ে সামান্য যে টুকু জানার প্রয়োজন, সে টুকু জেনেই ছেড়ে দেবেন। এরবেশি তিনি বিষয়টার মধ্য়েই ঢুকবেন না। পায়েল উত্তরে জানান, এক্ষেত্রে তবে সানা অনেক বেশি লাকি। তিনি কখনই এই বিষয় তাঁর পরিবারের কাছ থেকে এমন ব্যবহারটা পাননি। ফলে দাদাগিরির মঞ্চে দাঁড়িয়ে একপ্রকার তাঁকে আক্ষেপ করতে দেখা যায়। বর্তমানে একাধিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন পায়েল। রাজনীতি থেকে খানিকটা গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। বরং ফোকাস করেছেন নিজের কাজকেই।



মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল, ২০২৪) বাবা বনি কাপুর প্রযোজিত অজয় দেবগণ অভিনীত 'ময়দান'-এর স্ক্রিনিং ছিল মুম্বইয়ে। সেই স্ক্রিনিংয়ে এসেছিলেন জাহ্নবী। তখনই তাঁর গলায় ঝুলতে দেখা যায় তাঁর নামাঙ্কিত লকেটটি।

প্রেম করলেন অনেকের সঙ্গে, তবে শ্রীদেবীকন্যা জাহ্নবীর গলায় লকেট হয়ে ঝুলতে পারলেন একমাত্র তিনিই
জাহ্নবী কাপুর।


পড়েছেন প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবীর কন্যা জাহ্নবী কাপুর। তাঁর সঙ্গে অতীতে প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায় অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানের। দক্ষিণের তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডার প্রতি ক্রাশ ছিল জাহ্নবীর। কিন্তু এঁরা কেউই জাহ্নবীর গলার লকেট হয়ে ঝুলতে পারেননি। পেরেছেন একজনই। তিনি মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সুশীলকুমার শিণ্ডের নাতি শিখর পাহাড়িয়া।


ছোটবেলা থেকেই শিখরের সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল জাহ্নবীর। তাঁরা ছিলেন বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই সুবাদেই শিখরকে আদর করে’শিখু’ নামে ডাকেন জাহ্নবী। সেই শিখু নামটি লকেট করে নিজের গলায় ঝুলিয়েছেন জাহ্নবী। পরোক্ষভাবে হলেও, এই প্রথম সকলের সামনে শিখকের প্রতি তাঁর প্রেম জাহির করেছেন জাহ্নবী।

জীবনে যখন দ্বিতীয়বার কলকাতায় এসেছিলেন শাহরুখ তখন তিনি খুব ছোট। পড়াশুনা চলছে পুরোদমে। তবে মনে মনে চাইতেন তিনি কলকাতায় আসতে। বারে বারে শাহরুখের মুখে শোনা গিয়েছে তাঁর কলকাতার প্রতি ঠিক কতটা অমোঘ টান। তাই বলে টাকা ধার করে কলকাতায়…!

শাহরুখের কলকাতা প্রেম, মায়ের থেকে টাকা ধার 

 ও কলকাতা, এই দুইয়ের মধ্যে যে একটি যোগ বরাবরের রয়েছে, কম বেশি তা সকলের জানা। তবে জানেন কী শাহরুখের মনে কলকাতা কতটা জায়গা জুড়ে রয়েছে? কলকাতা নাইট রাইডারের কর্ণধারের কলকাতার প্রতি তাঁর বরাবরই ভীষণ টান। জীবনে যখন দ্বিতীয়বার কলকাতায় এসেছিলেন শাহরুখ তখন তিনি খুব ছোট। পড়াশুনা চলছে পুরোদমে। তবে মনে মনে চাইতেন তিনি কলকাতায় আসতে। বারে বারে শাহরুখের মুখে শোনা গিয়েছে তাঁর কলকাতার প্রতি ঠিক কতটা অমোঘ টান। তাই বলে টাকা ধার করে কলকাতায়…!


কলকাতা দেখে তাঁর ভীষণ ভাল লেগেছিল। এখানের আর্কিটেক, পরিবেশ সমস্তটাই তাঁর নজর কেড়েছিল। তাই তিনি স্থির করেছিলেন এখানে এসে শর্ট ফিল্ম তৈরি করবেন। যেমন কথায় ঠিক তেমনই কাজ। তবে আর্থিকভাবে শাহরুখ খান তখন বেশ কষ্টের মধ্যের দিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে স্বপ্নপূরণ করার জন্য মায়ের থেকে টাকা ধার করেছিলেন কিং খান। কিনে ছিলেন ভিডিয়ো ক্যামেরা। সেই ক্যামেরা নিয়ে কল কলকাতায় এসে শুট করেছিলেন।


কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে ডাক পেয়ে নিজেই এই স্মৃতি একবার শেয়ার করে নিয়েছিলেন শাহরুখ খান। জানিয়েছিলেন, তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য কলকাতা এসেছিলেন। তাঁর কলকাতা বেশ পছন্দের জায়গা। স্থির করেছিলেন এখানে একটি শর্ট ফিল্ম বানাবেন। মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভিডিয়ো ক্যামেরা কিনে বানিয়েছিলেন এই ছবি। তাঁর সেই ছবি দেখে প্রফেসরেরা খুব প্রশংসা করেছিলেন। তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি বারে বারে কলকাতা আসতে চাইতেন কলকাতার পরিবেশ, কলকাতার কালচারের প্রতি টান অনুভব করতেন। ফলে কলকাতাকে ভাল লাগা কলকাতার ওপর আকর্ষণ কিং খানের ছোট থেকেই।



ঐশ্বর্য রাই বচ্চন ও জয়ার মধ্যে নাকি সম্পর্ক মোটেও সুখকর নয়, এমনই ধারণা ছিল একশ্রেণির মনে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি কী সেই রহস্য সামনে না এলেও, একবার নিজে মুখে ঐশ্বর্যের প্রশংসা করেছিলেন জয়া বচ্চন। তখন আরাধ্যার জন্ম দিয়েছেন ঐশ্বর্য।

ঐশ্বর্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জয়া? খোলা মনে 

ঐশ্বর্য রাই বচ্চন ও জয়া বচ্চন, বলিউডে যে দুইয়ের সমীকরণ নিয়ে সর্বদাই জল্পনা থাকে তুঙ্গে। একের পর এর গসিপ তাঁদের সম্পর্কে ঘিরে নিত্য সোশ্যাল মিডিয়ায় জায়গা করে নিতে দেখা যায়। ঐশ্বর্য রাই বচ্চন ও জয়ার মধ্যে নাকি সম্পর্ক মোটেও সুখকর নয়, এমনই ধারণা ছিল একশ্রেণির মনে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি কী সেই রহস্য সামনে না এলেও, একবার নিজে মুখে ঐশ্বর্যের প্রশংসা করেছিলেন জয়া বচ্চন। তখন আরাধ্যার জন্ম দিয়েছেন ঐশ্বর্য। যখন তাকে প্রথম দেখতে গিয়েছিলেন জয়া বচ্চন, তিনি জানান, তাঁর দেখেই মনে হয়েছিল একটা স্ট্রবেরি। একটাই গোলাপি হয়েছিল সে। আরাধ্যাকে তিনি স্ট্রবেরি বলেই ডাকেন তবে থেকে। জয়ার কথায়, ”একটুকরো ঐশ্বর্য, একটুকরো অভিষেক নিয়ে তৈরি। লম্বা। দেখেই স্ট্রবেরির কথা মনে পড়ে গিয়েছিল আমার।”


এখানেই শেষ নয়, বউমা সম্পর্কে তিনি আরও বলেছিলেন, ধীরে ধীরে এখন ঐশ্বর্য বেরচ্ছে, এটা ভাল। তবে ঐশ্বর্য কখনই তাঁর সন্তানের জন্যে কারও ওপর নির্ভর করেন না। সবটা নিজে হাতে সামলে থাকেন। সন্তান প্রসবের পর বেশ কিছুটা মেদ জমিয়ে ফেলেছিলেন ঐশ্বর্য। যা নিয়ে তাঁকে নিত্য কটাক্ষের শিকারও হতে হয়। তবে কোথাও গিয়ে ঐশ্বর্য রাই বচ্চন তা নিয়ে আক্ষেপ করতে না। বরং এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, কিছুদিন তিনি চেয়েছিলেন সেলেব বিষয়টা থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ জীবন যাপন করবেন। তার থেকে বেশি কিছু নয়। তাই ডায়েট ভুলে তাঁর যা মন চেয়েছিল, তিনি তাই খেয়েছিলেন, খুব স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন। তবে পরবর্তীতে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় তাঁকে। যা নিয়ে নাকি বচ্চন পরিবারে অনেক জল ঘোলা হয়েছিল বলেই খবর।