Top News
অভিষেকের বাড়িতে যখন শালবনি থানার পুলিশ আসে, তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এসে তালা ভাঙে। এরপরে শালবনি থানার সাতজনের টিম বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। তল্লাশি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
কলকাতা: কালীঘাটে ও (Abhishek Banerjee) বাড়িতে শালবনী থানার পুলিশ। সকাল থেকে টানটান উত্তেজনা। বাড়ি ঘিরে রাখল কেন্দ্রীয় বাহিনী, কলকাতা পুলিশ। শালবনীর পুলিশ চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ অভিষেক নিজেই বললেন, “তালা ভেঙে পুরো বাড়ি তল্লাশি করেছে পুলিশ“। কিন্তু কীসের জন্য এসেছিল পুলিশ?
কার খোঁজে এল পুলিশ?
এ দিন সকাল থেকেই উত্তেজনা কালীঘাটে। সকাল ৭টা নাগাদ জানা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এসেছে শালবনী থানার পুলিশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জানা গেল, অভিষেক নয়, তাঁর আপ্তসহায়কের খোঁজেই এসেছিল পুলিশ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। অভিষেকের ছায়াসঙ্গী তিনি।
জানা গিয়েছে, আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপর একটি সূত্রে খবর, জমি কেলেঙ্কারিতে নাম রয়েছে সুমিতের। মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। সেই কেসে শালবনি থানা পুলিশ ওয়ারেন্ট নিয়ে আসে।
অভিষেকের বাড়িতেই কেন এল পুলিশ?
সূত্রের খবর, সুমিত রায়ের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল অভিষেকের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতেই। গতকাল রাত আড়াইটে পর্যন্ত সুমিতের লোকেশন এখানে পাওয়া যায়। এরপরই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয় শালবনি পুলিশ।
কী বললেন অভিষেক?
অভিষেকের বাড়িতে যখন শালবনি থানার পুলিশ আসে, তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এসে তালা ভাঙে। এরপরে শালবনি থানার সাতজনের টিম বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। তল্লাশি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এসে জানান যে তদন্তে সবরকমের সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “লুকিয়ে রেখেছি কি না, আমার পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে। উত্তর তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসা করুন।”
সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিবিএস প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন,"আমার কাছে তালিকা রয়েছে। বিজিবিএস করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন। এরও তদন্ত হবে। শুধু তদন্ত নয়, মামলা করব। প্রয়োজনে আর্থিক তছরূপের যাঁরা তদন্ত করে, তাঁদের দায়িত্ব দেব।"
কলকাতা: তৃণমূলের সরকারের (TMC Government) বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS) নিয়ে বিজেপির (BJP) অভিযোগ বহুদিনের। মানুষকে ঠকানোর মঞ্চ তৈরি করেছিল তৃণমূল, এমনও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিল তৎকালীন বিরোধী দল। তবে, এবার বাংলায় সরকার বদল হতেই বিজিবিএস নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দুর সরকারের (Suvendu Adhikari Government)। তৃণমূলের আমলের এই বাণিজ্য সম্মেলনে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির (BGBS Corruption) অভিযোগ তুললেন। বিরোধী দল থাকাকালীনও দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। এবার ক্ষমতায় এসে বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজনে দুর্নীতির তদন্তও হবে বলে ঘোষণা
আজ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর পূর্ণ উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক সাংবাদিক সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কী কী উন্নতি হয়েছে দেশে,তার খতিয়ান তুলে ধরেন। পরে, সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিবিএস প্রসঙ্গে বলেন,”আমার কাছে তালিকা রয়েছে। বিজিবিএস করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন। এরও তদন্ত হবে। শুধু তদন্ত নয়, মামলা করব। প্রয়োজনে আর্থিক তছরূপের যাঁরা তদন্ত করে, তাঁদের দায়িত্ব দেব। আমরা ছাড়ব না। ছাড়ার জন্য তো লোক বসাইনি। পুষ্পাদের পরিস্থিতি তো দেখতেই পাচ্ছেন।” শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই টাকা কোন কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট নিয়ে প্রয়োজনে তদন্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হত। এই মঞ্চ থেকেই শিল্পে বিনিয়োগ এসেছে বলে বহুবার দাবি করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, প্রথম থেকেই বিজিবিএস-এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি। সবটাই তৃণমূলের লোক দেখানো বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বারবার এই নিয়ে সরব হয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি। তবে, সরকার বদলে যেতেই বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল রাজনৈতিক মহলে। এবার সেই সম্মেলনেই এবার আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু।
