WEATHER

Top News

অ্যাপ ক্যাবে উঠে চরম বিপাকে পড়লেন জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক। প্রাণভয়ে মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামতে বাধ্য হন তিনি। চোখের সামনেই ঘটে যেতে পারত বড়সড় দুর্ঘটনা! কলকাতার রাস্তায় এমন কী ঘটল অভিনেত্রীর সঙ্গে?



শুটিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে খাস কলকাতায় চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হলেন জনপ্রিয় টেলি অভিনেত্রী সম্পিতা প্রামাণিক। জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বাঘিনী’তে মহুয়ার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে এক ক্যাব চালকের হাতে তিনি যে পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন, তা মনে পড়লেই এখনও আতঙ্কে কেঁপে উঠছেন। প্রাণভয়ে রাস্তায় চিৎকার, ড্রাইভারের ব্যবহার এবং অ্যাপ ক্যাব সংস্থার চরম উদাসীনতা, সোশাল মিডিয়া লাইভে এসে এমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী।


কী ঘটেছে অভিনেত্রীর সঙ্গে?


মঙ্গলবার রাতে হাজরা মোড়ের বসুশ্রী সিনেমার সামনে থেকে একটি ক্যাব বুক করেছিলেন সম্পিতা। প্রথমে পার্ক স্ট্রিটে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা থাকলেও শুটিংয়ের দেরির কারণে গন্তব্য বদলে দমদম করে দেন তিনি। সেখানেই তাঁর বাড়ি। কিন্তু যাত্রা শুরুর পর থেকেই চালকের আচরণ সন্দেহজনক ঠেকতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সম্পিতা চালককে জানান, দমদম যেতে না চাইলে তাঁকে যেন রবীন্দ্র সরোবরের কাছেই নামিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও চালক গাড়ি থামাতে চাইছিলেন না। শেষমেশ বহু অনুরোধের পর রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়ি থামান চালক।


গাড়ি থেকে নামার সময় শুরু হয় আসল অশান্তি। সম্পিতার পকেটে দুটো ফোন ঢুকিয়ে নিলেও শুটিংয়ের ভারী ব্যাগটি তখনও গাড়ির ভেতরেই ছিল। চালক কিউআর কোড স্ক্যানার এগিয়ে দিয়ে দাবি করেন, দমদম পর্যন্ত যা ভাড়া দেখিয়েছে, তার পুরো টাকাই দিতে হবে। অভিনেত্রী পালটা যুক্তি দেন, যেটুকু রাস্তা তিনি এসেছেন, সেটুকুর ভাড়াই তিনি মেটাবেন; দমদমের সম্পূর্ণ ভাড়া কেন দেবেন? এই নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হতেই মেজাজ হারান চালক।

সম্পিতার অভিযোগ অনুযায়ী, কথা কাটাকাটির মাঝে লাফিয়ে ব্যাগ নিয়ে তিনি গাড়ি থেকে নামেন তিনি এবং বেশ কিছুটা রাস্তা তাঁকে দৌড় করান ক্যাব ড্রাইভার। অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময় বড়সড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারত। এখানেই শেষ নয়, অভিনেত্রীর ব্যাগ ও টাকা-পয়সা নিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে চম্পট দেওয়ার উপক্রম করেন ওই চালক। কোনওরকমে নিজের জিনিস বাঁচিয়ে গাড়ি থেকে সরে আসেন সম্পিতা। কালীঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিনেত্রী।

FIR দায়ের করেছেন অভিনেত্রী
আতঙ্কে তখন অভিনেত্রীর হাত-পা কাঁপছিল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন, তাঁকে জল খাইয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। সম্পিতা জানান, গাড়িতে বসে আতঙ্কের মুহূর্তে ক্যাব সংস্থার সেফটি হেল্পলাইনে বারবার মেসেজ পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনওরকম সাহায্য মেলেনি।



 গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে কী ঘটেছিল, তা স্মরণ করে দন্তচিকিৎসক মুসায়েভ জানান, বিমানের মধ্যে চিৎকার ও চিকিৎসকের জন্য আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। স্মিতের শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। রক্তপাত বন্ধ করতে নিজের কাছে থাকা একাধিক টি-শার্ট দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেন তিনি।


 বিশ্বজুড়ে তাঁকে নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ থেকে রাষ্ট্রনেতারা। তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহকারী পাইলটের ছুরির আঘাতের পরও সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সেই সময় বিমানে থাকা এক দন্তচিকিৎসক তাঁর রক্তপাত বন্ধ করে প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে সেই লড়াই। স্মিতকে বারবার ওই দন্তচিকিৎসক বলেছিলেন, “দয়া করে ঘুমিয়ে পড়বেন না, আমাদের আপনাকে প্রয়োজন।” সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সি দন্তচিকিৎসক শোটা মুসায়েভ। তাঁর কথায়, স্মিতের মাথা ও বাঁ হাতে গভীর ক্ষত ছিল। প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল।


মুসায়েভ বলেন, “আমি ওঁকে বলেছিলাম, দয়া করে ঘুমিয়ে পড়বেন না, আমাদের আপনাকে প্রয়োজন। ওঁর কতগুলি সন্তান রয়েছে, তাদের নাম কী, সেসব জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বারবার বলছিলাম, ভয় পাবেন না। আপনি পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই অবতরণ করব।” ওই দন্তচিকিৎসক আরও জানান, স্মিত তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি ভারত থেকে এসেছেন।


‘নাড়ির গতি অত্যন্ত কমে গিয়েছিল, ঠোঁট নীল হয়ে যাচ্ছিল’


গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে কী ঘটেছিল, তা স্মরণ করে মুসায়েভ জানান, বিমানের মধ্যে চিৎকার ও চিকিৎসকের জন্য আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। স্মিতের শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। রক্তপাত বন্ধ করতে নিজের কাছে থাকা একাধিক টি-শার্ট দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেন তিনি। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বরফ চেয়ে পাঠান।

মুসায়েভের কথায়, “ওঁর ক্ষতগুলি খুব গভীর ছিল। অনেকগুলি বরফের প্যাকেটের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু রক্তপাত কতটা হচ্ছে, তা দেখতে যখনই টি-শার্ট সরাচ্ছিলাম, তখনই আরও রক্ত বেরিয়ে আসছিল। তাই খুব জোরে না চেপে বরফ দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেছিলাম। টানা ৪৫ মিনিট এভাবেই চাপ দিয়ে রেখেছিলাম।”

সেই সময় স্মিতের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। দন্তচিকিৎসক জানান, একসময় তাঁর নাড়ির গতি অত্যন্ত কমে যায়। তখন স্মিতের পা দু’টি উপরে তুলে ধরেন তিনি। তাতে নাড়ির গতি ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মুসায়েভ বলেন, “একসময় দেখলাম, ওঁর ঠোঁট নীল হয়ে যাচ্ছে। তখন বিমানকর্মীকে বলেছিলাম, যত দ্রুত সম্ভব বিমান অবতরণ করাতে হবে। ওঁর হাতে আর বেশি সময় নেই।”

‘আমাকে সাহায্য করুন’, স্মিতের আর্তি মনে রেখেছেন দন্তচিকিৎসক-

এর আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন মুসায়েভ। তাঁর কথায়, ছুরির আঘাতে জখম হওয়ার পর স্মিত তাঁর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। মুসায়েভ বলেন, “আমি ওঁকে বলেছিলাম, সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন উনি আমাকে বলেছিলেন, ‘দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। আমাকে বাঁচান। আমি এখানে মরতে চাই না।’”

ভবিষ্যতে স্মিতের সঙ্গে আবার দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ওই দন্তচিকিৎসক। তাঁর কথায়, স্মিত নিজে আহত হয়েও বিমানের যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হলে কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তিনি। মুসায়েভ বলেন, “আমরা ওঁকে বলব, সবকিছুর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।”



বিসিসিআই-এর কর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর হরমন নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ছিলেন দেশের ক্যাপ্টেন। সম্প্রতি ভারতকে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতিয়েছেন তিনি। এরপরেই দায়িত্ব ছাড়লেন হরমন। শোনা যাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে হরমন ও স্মৃতির মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।


 দিন দুয়েক আগেই ভারতীয় মহিলা দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন হরমনপ্রীত কৌর। সব ফরম্যাট থেকেই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর জায়গায় নতুন ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে স্মৃতি মন্ধানার নাম। তবে বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক লাগলেও, ভিতরে কিন্তু পরিস্থিতি তেমন সহজ ছিল না। শোনা যাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে হরমন ও স্মৃতির মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। ফলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত ছিল।


বিসিসিআই-এর কর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর হরমন নিজেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ছিলেন দেশের ক্যাপ্টেন। সম্প্রতি ভারতকে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতিয়েছেন তিনি। এরপরেই দায়িত্ব ছাড়লেন হরমন। সূত্রের খবর, এই বদলের পিছনে আছে বেশ কিছু কারণ। যেমন, পরপর কয়েকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ভাল ফল করতে পারেনি। এরপরেই ক্যাপ্টেন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়। এমনকি, বেশ কয়েকদিন ধরে স্মৃতি ভারতের অন্যতম সফল ব্যাটার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রান ও করে ফেলেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন ও ক্যাপ্টেন্সি করতে প্রস্তুত ছিলেন।





সূত্রের খবর, স্মৃতি ও হরমনের মধ্যে নাকি মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্মৃতি নাকি নিজেও নাকি অনেকদিন ধরে নেতৃত্ব চাইছিলেন কিন্তু নির্বাচকরা সেই বিষয়ে আমল দেননি। এর ফলেই ক্ষুব্ধ ছিলেন স্মৃতি। যদিও স্মৃতি মন্ধানার ইনস্টাগ্রাম স্টোরি কিন্তু অন্য কথা বলছে। হরমনের একটি ছবি পোস্ট করে স্মৃতি লিখেছেন, “এত বছর ধরে তোমার সঙ্গে খেলা সত্যিই সৌভাগ্যের। তোমার ক্যাপ্টেন্সিতে ১০ বছর খেলে আমি আপ্লুত ও আশা করি, দেশের হয়ে আমরা আরও অনেক সাফল্য পাব।” দিন কয়েক আগে হরমনকে বলা হয় টি-টোয়েন্টি ও ওডিআই ক্যাপ্টেন্সি ছেড়ে দিতে। তিনি রাজি না হয়ে সব ফরম্যাটের দায়িত্বই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে এই মুহূর্তে ভারতের ক্যাপ্টেন হওয়ার জায়গায় এগিয়ে আছেন স্মৃতি মন্ধানা। যদিও হরমন জানিয়েছেন, তিনি অধিনায়কত্ব ছাড়লেও এখনই ক্রিকেট ছাড়বেন না। তিনি আরও ২-৩ বছর খেলা চালিয়ে যাবেন। এখন দেখার বিষয়, দুজনে কীভাবে ভারতীয় দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।



 এদিন বিকেলে তিনি দেখা করতে গেলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবাণীর সঙ্গে। সেখানে গিয়ে তিনি লালকৃষ্ণ আদবাণীর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন। বর্ষীয়াণ নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। 

প্রশাসনিক পদে ২৫ বছর পূর্ণ হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi)। এই উপলক্ষে দেশজুড়েই নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। এ দিন সকালেই প্রধানমন্ত্রী মোদী দিল্লির শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো দেন। বিকেলে তিনি দেখা করতে গেলেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা দেশের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবাণী (Lal Krishna Advani)-র সঙ্গে। সেখানে গিয়ে তিনি লালকৃষ্ণ আদবাণীর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দেন। বর্ষীয়াণ নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। আদবাণীর হাতে হাত রেখে কথা বলার ছবিও সামনে এসেছে।


২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরকারি প্রশাসনের শীর্ষে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় নরেন্দ্র মোদীর। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ২০১৪ সালের মে মাসে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একটানা ১২ বছর ধরে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টানা ২৫ বছরের নেতৃত্বের প্রশংসা করে গতকালই একটি প্রস্তাব পাশ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশাসনিক পদে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে রাষ্ট্রনেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।


২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদী কী বললেন?
প্রশাসনিক পদে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “২০০১ সালের ৭ অক্টোবর যখন আমি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলাম, তখন ভাবিনি যে কখনও এই জায়গায় পৌঁছাতে পারব। আজ টানা ২৫ বছর জনগণের সেবা করার যে সুযোগ পেয়েছি, তা দেশবাসীর অকৃপণ আশীর্বাদেরই ফল।”

বিজেপির ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় নিজের দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা ও জীবনের পাঠ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “যতক্ষণ না ভারত বিকশিত ভারত না হয়,ততক্ষণ আমি থামব না, ক্লান্ত হব না।”



মন্দিরে প্রার্থনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশবাসীর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ঈশ্বরের কাছে তিনি এমন শক্তি চেয়েছেন যাতে আরও বেশি করে মানুষের কাজ করতে পারেন। সাধারণ জনতাকেই 'ঈশ্বরের রূপ' হিসেবে ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোকসভা হোক বা বিধানসভা—মানুষের এই ধারাবাহিক বিশ্বাসই তাঁর এগিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি।


আমি নিজের জন্য ঈশ্বরের কাছে বরাবর একটাই জিনিস চেয়েছি', প্রশাসক হিসাবে ২৫ বছরের বর্ষপূর্তিতে সামনে আনলেন মোদী
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

সরকারের প্রধান হিসেবে দীর্ঘ ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিশেষ উপলক্ষে বুধবার তিনি দিল্লির শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো ও প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে অকৃত্রিম নিষ্ঠার সাথে দেশসেবা চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প নেন তিনি। এরপর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী।


নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে মোদী বলেন, “২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। সেদিন ভাবিনি এই মাইলফলকে পৌঁছাব। আজ শীর্ষ প্রশাসক হিসেবে টানা ২৫ বছর জনগণের সেবা করার যে সুযোগ পেয়েছি, তা দেশবাসীর অকৃপণ আশীর্বাদেরই ফল।” তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP), এনডিএ (NDA) এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আস্থা রাখা সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


নিজে ছিলেন 'মহানায়ক', তবুও ছেলেকে কেন সিনেমা করতে দেননি উত্তম?
মন্দিরে প্রার্থনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশবাসীর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ঈশ্বরের কাছে তিনি এমন শক্তি চেয়েছেন যাতে আরও বেশি করে মানুষের কাজ করতে পারেন। সাধারণ জনতাকেই ‘ঈশ্বরের রূপ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লোকসভা হোক বা বিধানসভা—মানুষের এই ধারাবাহিক বিশ্বাসই তাঁর এগিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি।


মোদী আরও বলেন, “বিধানসভা থেকে লোকসভা-প্রত্যেকটা নির্বাচনের সাক্ষী। সফলতা আমার দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়েছে। আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগনোর সাহস দিয়েছে।” দেশবাসীর কাছে মাথা নত করে প্রণাম জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমার জীবনের কোনও ঘটনাই ব্যর্থ যায়নি। জীবনের প্রত্যেকটা ঘটনা শিক্ষা দিয়েছি। ভুজের ভূমিকম্প আমাকে পুনর্নির্মাণের প্রয়াস শিখিয়েছে। চন্দ্রযান অসফলতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো শিখিয়েছে। করোনা রাষ্ট্রের সাময়িক চেতনা মাহাত্ম্য বুঝিয়েছে। মিডিয়া আমাকে টক-মিষ্টি অনুভূতির মধ্যে এগিয়ে চলার প্রেরণা দিয়েছে।”

মোদীর ভাষণ এদিন জেলায় জেলায় জায়েন্ট স্ক্রিনে শোনা যায়। হয় মশাল যাত্রা। দেশব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’ বিজেপি।




মেসির শেষ ম্যাচে ৩-০ জিতে মাঠ ছাড়ল আর্জেন্টিনা। আর কি চাই? চাই তো অনেক কিছুই। পরীক্ষায় ভাল নম্বর, ভাল স্যালারি, সময়ে ঘুম, সুস্বাস্থ্য - কিন্তু জীবনের গোলমালে অনেক কিছুই পাওয়া যায় না। ঠিক যেমন, আর নীল-সাদা জার্সিকে কোনও কঠিন সময়ে পরিত্রান করতে দেখা যাবে না কোনও লিওনেল মেসিকে।


১৮৫৬ সাল। লখনৌ শহর ছেড়ে শেষবারের মতো বেরিয়ে যাচ্ছেন নবাব ওয়াজেদ আলি শাহ। গন্তব্য? কলকাতা। সেই সময়েই তিনি একটি কবিতা রচনা করেন, যার ভাষ্য খানিকটা এরকম, “যব ছোড় চলে লখনৌ নগরী, কেহতে হ্যায় হাল কে হাম পর কেয়া গুজরি!”। আজকের পর থেকে এই উক্তির নাম বদলে যদি যব ছোড় চলে আর্জেন্টিনা নগরী বলে দেওয়া যায়, খুব একটা ভুল হবে কি? কারণ, আজ ভারতীয় সময় ভোরে ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসিকে শেষবারের মতো নীল-সাদা জার্সিতে দেখে নিলেন ফুটবল সমর্থকরা। আর তিনি আসবেন না। আর তাঁর ম্যাজিকে মুগ্ধ হবে না গোটা বিশ্ব।


বেনিনের বিরুদ্ধে শেষবার মাঠে নামলেন মেসি। গোল করলেন, গোল করালেন, কাঁদলেন, কাঁদালেন। শেষ ম্যাচেও সপ্রতিভ ছন্দই দেখা গেল তাঁর পায়ে। সবাই তো জানত, আজকের দিন একদিন না একদিন আসবে। একদিন সব ঐশ্বর্য, রাজ্যপাট ছেড়ে চলে যাবেন রাজা। তিন পাতার একটি চিঠি দিয়ে জানিয়ে যাবেন নিজের প্রস্থানের খবর। জানাবেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, বাবার মৃত্যু কতটা মানসিক ব্যাঘাতে জর্জরিত করেছে তাঁর মননকে। কিন্তু আজকের দিন এল। তাই আর্জেন্টিনার জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন হাউহাউ করে কাঁদলেন মেসি। শুধু কি তিনি একাই কাঁদলেন? নাকি, তার সঙ্গে কেঁদেছেন তার বিশ্বব্যাপী সমর্থকরা?

মুখ দেখাদেখি বন্ধ স্মৃতির সঙ্গে, কেন ক্যাপ্টেন্সি ছাড়লেন হরমনপ্রীত কৌর?

‘ঘুমিয়ে পড়বেন না, আমাদের আপনাকে প্রয়োজন’, স্মিত মচ্ছরকে বাঁচাতে বিমানে ৪৫ মিনিট ধরে 'লড়াই' দন্তচিকিৎসকের
তাঁর বিদায়ী ম্যাচের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বিদায়ী জার্সি। নীল-সাদা জার্সিতে ছিল সোনালী রং। ম্যাচ শুরুর আগেই দেখানো হল সম্মান। ১০ নম্বর লেখা আর্জেন্টিনার একটি বিশাল জার্সি স্টেডিয়ামে টাঙানো হয়। মেসি মাঠে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজির প্রদর্শনী শুরু হয়ে যায়। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা, তিন ছেলে সিরো, থিয়াগো ও মাতেও। গোটা দেশজুড়েই তো ছিল একপ্রকার উৎসব। উন্মাদনা, আবেগ, ভালবাসা সবকিছুর কেন্দ্রে একজনই – মেসি। বিরুদ্ধে কারা? বেনিন, এমন এক দেশের নাম অতীতে কেউ শুনেছে কিনা সন্দেহ। এমনকি মেসির শেষ ম্যাচ বলে নাকি বিনা পয়সায় ম্যাচ খেলতে রাজি হয়ে গিয়েছে তারা।


ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় মেসির সম্মানার্থে বেশ কিছুক্ষন বন্ধ থাকে ম্যাচ। সবাই স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেন লিওকে। যদিও প্রথমার্ধে কোনও গোল করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিরতির পরেই খোলে গোলমুখের দরজা। মেসির পাস থেকে দলকে এগিয়ে দেন নিকোলাস ওটামেন্ডি। ঘটনাচক্রে, নীল-সাদা জার্সিতে আজ শেষ ম্যাচ খেললেন তিনিও। ৬১ মিনিটের মাথায় মেসির অ্যাসিস্ট, নিকো পাজের গোল। তার মিনিট দশেক পর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ৭১ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি মেরে গোল করলেন মেসি। আর্জেন্টিনা জার্সিতে এল তাঁর ১২৬তম গোল।

মেসির শেষ ম্যাচে ৩-০ জিতে মাঠ ছাড়ল আর্জেন্টিনা। আর কি চাই? চাই তো অনেক কিছুই। পরীক্ষায় ভাল নম্বর, ভাল স্যালারি, সময়ে ঘুম, সুস্বাস্থ্য – কিন্তু জীবনের গোলমালে অনেক কিছুই পাওয়া যায় না। ঠিক যেমন, আর নীল-সাদা জার্সিকে পরিত্রান করতে দেখা যাবে না কোনও লিওনেল মেসিকে। আর কারও বাঁকানো শট গোলকিপারকে স্তব্ধ করে ঢুকবে না গোলে। আর কেউ বল পায়ে পেলেই কমেন্টেটর বলবেন না, ‘আংকারা মেসি’। চলে গিয়েছেন মারাদোনা, আজ চলে গেলেন মেসিও। ভবিষ্যতেও হয়ত আসবেন কেউ একজন, যিনি হয়তো ছাপিয়ে যাবেন মেসিকেও। কিন্তু মহীরুহের পতন ঘটানো কি এতটাই সহজ?



২৫ বছরের দীর্ঘ এই যাত্রার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন কখনওই ভাবেননি যে একদিন এমন এক জায়গায় পৌঁছবেন। দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ, দলীয় কর্মী এবং এনডিএ সহযোগীদের সমর্থনের জন্যই আজ দীর্ঘ ২৫ বছর সরকারপ্রধান হিসাবে সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


 ভুজের ভূমিকম্প, কোভিড ও মিডিয়া- প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছরে কী কী শিখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী? প্রশাসক মোদীকে কী কী শিক্ষা দিল?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী


২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার প্রশাসনিক প্রধান পদে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর দেখতে দেখতে সরকারপ্রধান হিসেবে পূর্ণ হল প্রশাসক হিসাবে তাঁর ২৫ বছর। এই মাইলফলক স্পর্শ করে বিজেপির ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় নিজের দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা ও জীবনের পাঠ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। স্পষ্ট জানান, “সেবাই পরম ধর্ম। আমি কোনও উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বেঁচে থাকি।”


২৫ বছরের দীর্ঘ এই যাত্রার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০০১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন কখনওই ভাবেননি যে একদিন এমন এক জায়গায় পৌঁছবেন। দেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ, দলীয় কর্মী এবং এনডিএ সহযোগীদের সমর্থনের জন্যই আজ দীর্ঘ ২৫ বছর সরকারপ্রধান হিসাবে সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়েছে বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।


ভাটনগরে নিজের শৈশবের কথা মনে করে ৭৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী জানান, স্কুলে তাঁর শেখার প্রতি যে আগ্রহ ছিল, তা আজও অটুট। নিজেকে একজন চিরন্তন ছাত্র মনে করে তিনি প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন।


দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে সমর্থকদের পাশাপাশি সমালোচকদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যাঁরা আমাকে শেখাতে চেয়েছেন, তাঁরা আমাকে বিনয়ী হতে শিখিয়েছেন। আর যাঁরা আমাকে টেনে নিচে নামাতে চেয়েছেন, তাঁরা শিখিয়েছেন কীভাবে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। সমর্থকরা আমাকে উৎসাহিত করেছেন, আর সমালোচকরা শিখিয়েছেন আত্মদর্শন করতে।” প্রতিটি সঙ্কট তাঁর ধৈর্য পরীক্ষা করেছে এবং প্রতিটি অর্জন নতুন উদ্যমে বড় লক্ষ্য অর্জনের সাহস জুগিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমার জীবনের কোনও ঘটনাই ব্যর্থ যায়নি। জীবনের প্রত্যেকটা ঘটনা শিক্ষা দিয়েছে। ভুজের ভূমিকম্প আমাকে পুনর্নির্মাণের প্রয়াস শিখিয়েছে। চন্দ্রযান অসফলতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো শিখিয়েছে। করোনা রাষ্ট্রের সাময়িক চেতনা মাহাত্ম্য বুঝিয়েছে। মিডিয়া আমাকে টক-মিষ্টি অনুভূতির মধ্যে এগিয়ে চলার প্রেরণা দিয়েছে।”



 প্রধান বিচারপতি জানান, এই ধরনের গুরুতর অপরাধের ঘটনায় উপযুক্ত তদন্ত হওয়া উচিত। হাইকোর্টের নির্দেশ, ওই দুর্নীতির তদন্ত সিআইডি (CID) করবে। থানাকে তদন্ত সংক্রান্ত নথি সিআইডিকে দিতে হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে সিআইডি-কে (CID)।


জনগণের করের অর্থ এইভাবে নয়ছয় করা যায় না',স্পষ্ট বললেন প্রধান বিচারপতি
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি

টাকি পুরসভার (Taki Municipality) আর্থিক তছরূপের একটি মামলা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) উঠেছিল। সেই ঘটনায় এবার সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চের মন্তব্য, “জনগণের করের অর্থ এই ভাবে নয়ছয় করা যায় না।”


প্রধান বিচারপতি জানান, এই ধরনের গুরুতর অপরাধের ঘটনায় উপযুক্ত তদন্ত হওয়া উচিত। হাইকোর্টের নির্দেশ, ওই দুর্নীতির তদন্ত সিআইডি (CID) করবে। থানাকে তদন্ত সংক্রান্ত নথি সিআইডিকে দিতে হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে সিআইডি-কে (CID)।


জন্মভূমির 'পিসিমা' অভিনেত্রী মিতা চট্টোপাধ্যায় এখন কী করেন জানেন?
Uttam Kumar: নিজে ছিলেন 'মহানায়ক', তবুও ছেলেকে কেন সিনেমা করতে দেননি উত্তম?
এই মামলার ব্যাকগ্রাউন্ড


টাকি পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস দুর্নীতির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, ওই পুরসভার প্রায় ২০ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অডিট রিপোর্টে সেই তথ্য উঠে এসেছে। অর্থ পুরসভার কয়েক জন কর্মীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এমনকি বেআইনি ভাবে কর্মীও নিয়োগ করা হয়েছে। ওই পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখপাধ্যায় যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর দাস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক শুভ্রকুমার দাসেরও। আজ সেই মামলাই ওঠে কোর্টে। আদালতে রিপোর্ট দিয়ে রাজ্য জানায়, ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েক জনকে গ্রেফতারও করেছে।




 মঙ্গলবার যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার আবহ একেবারেই নষ্ট করতে চায় না কংগ্রেস। সেই কারণেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ অব্যাহত করতে চাইছে কংগ্রেস। সেই পরিকল্পনা মাফিক এদিন মল্লিকার্জুন খাড়্গে দুপুর দেড়টার সময়ে জনপথের একটি রেস্তোরাঁয় ইন্ডি জোটের সাংসদদের উপস্থিত থাকতে বলেছেন। 


ইন্ডি জোটের সাংসদদের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজে রাহুল গান্ধী। বৈঠকে মল্লিকার্জুন খাড়্গেও। সূত্রের খবর, CEC অর্থাৎ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ার আবেদনপত্রে সাংসদদের সই করাতেই এই বৈঠক। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রোটোকল অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দলের সাংসদদের সঙ্গে দেখা করবে কমিশন। বিরোধীদের দাবি, দেখা করতে চান ২৪০ জন সাংসদ।


খ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, ‘ভোটচুরি’ এবং একতরফা ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে মঙ্গলবার দিল্লিজুড়ে নজিরবিহীন মোমেনটাম তৈরি হয়। প্রতিবাদ গড়ে তোলে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে বিরোধী সাংসদদের এই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তপ্ত থাকে রাজধানী।



প্রমোটারের দাদাগিরি! ১৬ লক্ষ টাকা না পেয়ে জমির মালিককে রড দিয়ে বেধড়ক 'মারধর'
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, মঙ্গলবার যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার আবহ একেবারেই নষ্ট করতে চায় না কংগ্রেস। সেই কারণেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ অব্যাহত করতে চাইছে কংগ্রেস। সেই পরিকল্পনা মাফিক এদিন মল্লিকার্জুন খাড়্গে দুপুর দেড়টার সময়ে জনপথের একটি রেস্তোরাঁয় ইন্ডি জোটের সাংসদদের উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকের তৃণমূলের তরফে যোগ দিয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, সামিরুল।


সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে একটি আবেদনপত্রে উপস্থিত সাংসদদের সই নেওয়া হবে। রাহুল গান্ধী মঙ্গলবারই প্রস্তাব দিয়েছিলেন, মোট ২৪০ জন সাংসদ দেখা করতে চান। কমিশন জানান, যে কোনও রাজনৈতিক দলের সুনির্দিষ্ট প্রতিনিধি দলের সঙ্গেই কমিশন দেখা করে। এর থেকে বেশি সংখ্যক সাংসদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। এদিনের মধ্যাহ্ন ভোজের বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটাই দেখার।



পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শহরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকার ঘটনা। বুধবার দুই বন্ধু একটি স্কুটি করে টিফিন করতে যাচ্ছিল। সেই সময় দুই যুবক মুখে মাস্ক পরে আসে। তারাও একটি স্কুটিতে ছিল। এরপর দু'জনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আহত যুবকের নাম অক্ষয় ঝা।

বন্ধুর সঙ্গে টিফিন আনতে যাচ্ছিল নাবালক, স্কুটিতে এসে গুলি করল দুষ্কৃতীরা, হাড়হিম ঘটনা শহরে
খড়গপুরে গুলি

পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে (Kharagpur) শহরে চলল গুলি আহত এক নাবালক (Minor)। জানা যাচ্ছে, বুধবার দুই বন্ধু স্কুটি করে টিফিন করতে যাচ্ছিল। সেই সময় মাস্ক পরা অবস্থায় দুই যুবক এসে গুলি চালিয়ে চলে যায়। পিছনে বসা নাবালকের বুকে গুলি লেগেছে বলে খবর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি সে।


পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শহরের ওল্ড সেটেলমেন্ট এলাকার ঘটনা। বুধবার দুই বন্ধু একটি স্কুটি করে টিফিন করতে যাচ্ছিল। সেই সময় দুই যুবক মুখে মাস্ক পরে আসে। তারাও একটি স্কুটিতে ছিল। এরপর দু’জনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আহত যুবকের নাম অক্ষয় ঝা। সে নবম শ্রেণির ছাত্র। স্কুটির পেছনে অক্ষয়ই বসেছিল। আহত নাবালককে খড়গপুর রেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করে কলকাতা স্থানান্তরিত করা হয়। তবে কী কারণে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ।




এ দিন, কার্যত বিরোধীদের এটিই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়েছেন মোদী। বিগত কয়েকদিন ধরেই একাধিক ইস্যুতে উত্তাল রয়েছে দেশ। বিশেষ করে এসআইআর ইস্যুতে সরব বিরোধীরা। চলছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ আন্দোলন। এমনতাবস্থায় মোদীর এই বক্তব্য নিতান্তই তাৎপর্যপূর্ণ বলার অপেক্ষা রাখে না।


যতক্ষণ না দেশকে বিকশিত ভারত বানাব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি...', মোদী কী বললেন দেখুন
প্রধানমন্ত্রী মোদী

 ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার প্রশাসনিক প্রধান পদে শপথ নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর দেখতে দেখতে সরকারপ্রধান হিসেবে পূর্ণ হল প্রশাসক হিসাবে তাঁর ২৫ বছর। বিজেপির ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় নিজের দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা ও জীবনের পাঠ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে খুবই গুরুত্ব পূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। স্পষ্টত জানান, ভারতকে বিকশিত তিনি করবেনই। যতক্ষণ সেই লক্ষ্য পূরণ হবে, ততক্ষণ কর্তব্যে অবিচল থাকবেন।


প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন?



নিজে ছিলেন 'মহানায়ক', তবুও ছেলেকে কেন সিনেমা করতে দেননি উত্তম?
নরেন্দ্র মোদী বলেন, “যতক্ষণ না ভারত বিকশিত ভারত না হয়,ততক্ষণ আমি থামব না, ক্লান্ত হব না।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য়, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে ভারতকে এই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। ভারতকে একটি উচ্চ-আয়ের অন্যতম শীর্ষ অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। গ্রামে এবং শহরে কর্মসংস্থান তৈরি করা। অর্থনৈতিক উন্নতি, সুশাসনে দেশ যাতে এগিয়ে থাকে সেই চেষ্টাই করছেন প্রধানমন্ত্রী। আর যতক্ষণ না দেশকে তিনি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি পিছু পা হবেন না। এক কথায় তাঁর বক্তৃতা বিজেপি কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করল।




এ দিন, কার্যত বিরোধীদের এটিই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়েছেন মোদী। বিগত কয়েকদিন ধরেই একাধিক ইস্যুতে উত্তাল রয়েছে দেশ। বিশেষ করে এসআইআর ইস্যুতে সরব বিরোধীরা। চলছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ আন্দোলন। এমনতাবস্থায় মোদীর এই বক্তব্য নিতান্তই তাৎপর্যপূর্ণ বলার অপেক্ষা রাখে না।




প্রখ্যাত প্রযোজক ও ভিএফএক্স বিশেষজ্ঞ নামিত মালহোত্রার সংস্থা ‘প্রাইম ফোকাস লিমিটেড’ (Prime Focus Ltd.)-এর মুম্বইয়ের বিভিন্ন অফিসে হঠাৎই হানা দিয়েছে আয়কর বিভাগ (Income Tax Department)। দেশের বাইরে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।


বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত এবং বিগ বাজেট ছবি ‘রামায়ণ’-কে ঘিরে উত্তেজনার শেষ নেই। পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির এই মেগা প্রজেক্টের দিকে নজর রয়েছে গোটা দেশের। তবে এর মাঝেই ছবির প্রযোজনা সংস্থাকে ঘিরে এক বড়সড় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বলিউড ও সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রখ্যাত প্রযোজক ও ভিএফএক্স বিশেষজ্ঞ নামিত মালহোত্রার সংস্থা ‘প্রাইম ফোকাস লিমিটেড’ (Prime Focus Ltd.)-এর মুম্বইয়ের বিভিন্ন অফিসে হঠাৎই হানা দিয়েছে আয়কর বিভাগ (Income Tax Department)। দেশের বাইরে অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।


তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালেই আয়কর দফতরের আধিকারিকরা মুম্বইয়ে অবস্থিত প্রাইম ফোকাসের অফিসে হানা দেন। মূলত সংস্থাটির বৈদেশিক অর্থ লেনদেন (Foreign Remittances) সংক্রান্ত নথিপত্র এবং হিসাব-নিকাশ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই বিষয়ে আয়কর দফতরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


জন্মভূমির 'পিসিমা' অভিনেত্রী মিতা চট্টোপাধ্যায় এখন কী করেন জানেন?
নমিত মালহোত্রার নেতৃত্বে পরিচালিত ‘প্রাইম ফোকাস’ বিশ্বজুড়ে ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (VFX), অ্যানিমেশন, পোস্ট-প্রোডাকশন এবং কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে এক অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিনোদন ও প্রযুক্তি সংস্থা। বিশ্বব্যাপী এই সংস্থার ব্যবসা ছড়িয়ে রয়েছে এবং রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের মোট আয়ের প্রায় ৯২ শতাংশই আসে ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে।


এর আগে চলতি বছরের জুন মাসেই সেবির (SEBI) নজরদারির মুখে পড়েছিল এই সংস্থা। আর্থিক প্রকাশ এবং অ্যাকাউন্টিং প্র্যাকটিস সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া তদন্ত চালালেও, পরবর্তীতে কোনো অনিমমিততা না পাওয়ায় সেই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।




শেরিং তোবগে লিখেছেন, "আমি প্রায় ১৩ বছর ধরে গুজরাটে তাঁর শাসন ব্যবস্থা দেখেছি, কীভাবে সেই রাজ্যটি বৃদ্ধি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের একটি জাতীয় মডেলে পরিণত হয়েছিল। এরপর আমি তাঁকে সেই একই স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমগ্র দেশের স্তরে উন্নীত করতে দেখেছি।"


প্রশাসনিক পদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অভিনন্দন জানালেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। মোদীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। মোদীর জন্য কলম ধরলেন শেরিং তোবগে।








তার ১০ মাস আগে ভুটানের নির্বাচনে আমার দল পরাজিত হয়েছিল এবং সংসদে আমাদের আর কোনও প্রতিনিধি ছিল না। আমি প্রধানমন্ত্রী বা সাংসদ কোনোটাই ছিলাম না। কেবল একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম।

আমার মেয়াদকালে তিনি যে সমর্থন জুগিয়েছিলেন, তার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁকে বলি, তিনি সর্বদা আমার বড় ভাইয়ের মতোই থাকবেন। শুধু বয়সে বড় হওয়ার জন্য নয় বরং একজন বড় ভাই ছোট ভাইয়ের প্রতি যে স্নেহ-ভালোবাসা রাখেন, তিনি আমার সঙ্গে তেমনই আচরণ করেছিলেন।

এরপর আমি তাঁকে আর একটি কথা বলি। আমি তাঁকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখি। আমাদের অঞ্চলের সংস্কৃতিতে, আলোকিত বা প্রজ্ঞাবান শাসকদের চিরকাল সেভাবেই দেখা হয়ে এসেছে।

নিজের কথা শুনে আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম। পরে ভেবেছিলাম, কী ভেবে আমি কথাটা বললাম? আমি কি আবেগে ভেসে গিয়েছিলাম? আমি কি ভুল ছিলাম?

পরবর্তীকালে নিজের বলা কথাগুলো নিয়ে যখন চিন্তাভাবনা করলাম, উত্তরটা স্পষ্ট হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখাটা আমার একেবারেই ভুল ছিল না।

আমি প্রায় ১৩ বছর ধরে গুজরাটে তাঁর শাসন ব্যবস্থা দেখেছি, কীভাবে সেই রাজ্যটি বৃদ্ধি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের একটি জাতীয় মডেলে পরিণত হয়েছিল। এরপর আমি তাঁকে সেই একই স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমগ্র দেশের স্তরে উন্নীত করতে দেখেছি। উৎপাদন খাত, বৈদেশিক বিনিয়োগ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, পরিচ্ছন্নতা, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামো-সবকিছুর মূলেই ছিল সেবা ও বাস্তবায়নের প্রতি তাঁর নিরবচ্ছিন্ন জোর।

আমি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ব্যক্তি মোদীকেও দেখেছি: সুশৃঙ্খল, শক্তিমান এবং অসাধারণ পরিশ্রমী। যা আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল, তা হল নিজের দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার প্রতি তাঁর অবিচল নিষ্ঠা।

তবে তার চেয়েও বড় কথা, তিনি ভারতীয়দের মনে নিজেদের প্রতি এবং নিজেদের দেশের প্রতি এক শক্তিশালী বিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছেন। তাঁরা ভারতকে নিয়ে আরও গর্বিত, সম্ভাবনা নিয়ে আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং বিশ্বে ভারতের অবস্থান নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। আমার কাছে এগুলোই একজন প্রকৃত শাসকের গুণ বলে বিবেচ্য।

ভুটানের বৌদ্ধ ঐতিহ্যে আমরা ‘রিগসুম গোনপো’-কে ভক্তি করি, যিনি সকল জীবের মুক্তির জন্য নিবেদিত বোধিস্তত্ত্বের এক ত্রিমূর্তি। মৈত্রেয় বা মঞ্জুশ্রী প্রজ্ঞার প্রতীক। অবলোকিতেশ্বর করুণার প্রতীক এবং বজ্রপাণি সাহসের প্রতীক।

আমার মতে, আলোকিত নেতৃত্ব হল আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে এই তিনটি গুণের প্রকাশ পায়- প্রজ্ঞা, করুণা ও সাহস।

আজ আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘বিকশিত ভারত’-এর দর্শনে এই গুণগুলোর চূড়ান্ত প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।

প্রজ্ঞার সূচনা হয় একটি সুন্দর ভবিষ্যতের স্পষ্ট রূপরেখা বা ভিশন থেকে। আর তিনি ভারতকে সেটি দিয়েছেন। স্বাধীনতার ঠিক এক শতাব্দী পর, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত জাতিতে পরিণত হওয়া। বিকশিত ভারতের মাধ্যমে তিনি সেই স্বপ্নকে একটি নাম, একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এবং একটি জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছেন।

অন্যদের আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে অনুধাবন করার মধ্যে দিয়েই করুণার জন্ম হয়। আর বিকশিত ভারত ঠিক সেই বিষয়টিরই প্রতিফলন ঘটায়। এক শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের জন্য ১৪০ কোটি ভারতীয়ের যৌথ আকাঙ্ক্ষা। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ ধারণাটি সেই আকাঙ্ক্ষার কথাই বলে।

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দৃঢ়সংকল্প থেকেই সাহস তৈরি হয়। মানবসম্পদ গড়ে তোলা, বিনিয়োগ আনা, অবকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং সর্বোপরি শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন করার জন্য প্রয়োজন কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ও তার বাস্তবায়ন করা। দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা সহজ, কিন্তু রূপান্তর সহজ নয়। নিঃস্বার্থ সেবা এই গুণগুলোকে একসঙ্গে বেঁধে রাখে। বিকশিত ভারত কেবল কোনও একজন নেতা বা একটি নির্বাচনের বিষয় নয়। এটি বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের বিষয়। আর ‘সবকা প্রয়াস’-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতিটি ভারতীয়কে কেবল এই মিশনকে সমর্থন করতেই আহ্বান জানাননি, বরং এটি তৈরিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিঃসন্দেহে এটি তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তিনি কেবল ভারতকে একটি গন্তব্যই দেননি, তিনি ভারতীয়দের সেই স্বপ্নে বিশ্বাস করতে এবং তা অর্জনে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বিকশিত ভারতের গুরুত্ব ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতিতে সর্বদা ভারতের প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থরক্ষায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, ‘ভয়েস অব গ্লোবাল সাউথ’ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন এবং আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি২০-র স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সফল প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ভারত যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি অবদান রাখতে পারবে। একটি উন্নত ভারত বিশ্ববাজারে বড় সুবিধা প্রদান করবে, শেয়ার করার মতো বিপুল মূলধন ও প্রযুক্তি অর্জন করবে এবং বিশ্বমঞ্চের এজেন্ডা গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে, যা এই অঞ্চল ও গ্লোবাল সাউথের স্বার্থকে তুলে ধরবে। তবে আমার জন্য এটি আরও অনেক বেশি ব্যক্তিগত।

বিকশিত ভারত মানেই বিকশিত ভুটান। ২০১৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের জন্য ভুটানকে বেছে নেন। আমি তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলাম এবং তাঁকে অভ্যর্থনা জানানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। সেই সফরকালে তিনি তিনটি শব্দের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।

শব্দগুলো সহজ হলেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। বছরের পর বছর ধরে তিনি এটি বাস্তবে করে দেখিয়েছেন। সেই কারণেই আমাদের একাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভারতের সহায়তা আমার প্রথম সরকারকে একটি উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাহায্য করেছিল।

সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদী আমাদের দ্বাদশ পরিকল্পনার মাধ্যমেও সেই উদার অংশীদারিত্ব বজায় রেখেছিলেন। সেই কারণেই, ২০২৪ সালে যখন আমি আবারও দায়িত্বে ফিরে আসি, তিনি আমাদের ১৩তম পরিকল্পনার জন্য ভারতের সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ১০,০০০ কোটি টাকা করেছেন।

আজ B4B পুরো ভুটান জুড়ে দৃশ্যমান। বিদ্যালয় ও হাসপাতালে, রাস্তা ও সেতুতে, জলবিদ্যুৎ ও প্রযুক্তিতে, কৃষিতে এবং শিল্প উদ্যোগে সব ক্ষেত্রে। তবে মহামান্য রাজার ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (Gelephu Mindfulness City) ভিশনে ভারতের সমর্থনের চেয়ে B4B-র বড় প্রভাব আর কোথাও নেই।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এবং সেই প্রতিশ্রুতি ইতিমধ্যে রেলপথ, সীমান্ত অবকাঠামো এবং বিমান ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে রূপ নিতে শুরু করেছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্পষ্ট সমর্থন থেকে ইঙ্গিত পেয়েছে। টাটা পাওয়ার, আদানি গ্রুপ, জেএসডব্লিউ এনার্জি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ভুটানের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বিনিয়োগ করছে, অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় ব্যবসায়ী ব্যক্তিবর্গ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে GMC-তে যোগ দিয়েছেন।

তাই ভুটানের মহামান্য রাজা যখন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘অর্ডার অব দ্য ড্রুক গ্যালপো’-তে ভূষিত করেন, তখন সমস্ত ভুটানবাসী আনন্দিত হয়েছিল। ভুটানের প্রতি তাঁর অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান দেওয়া হয়। তিনি প্রথম এবং একমাত্র বিদেশি নেতা যিনি এই সম্মান পেলেন।

আমার জন্য তাঁর প্রভাব আরও বেশি ব্যক্তিগত। আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বড় ভাই হিসেবে দেখে এসেছি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে একজন অভিভাবক বা মেন্টর হিসেবে দেখতে শুরু করেছি। তাঁকে কখনও আমাকে নির্দেশ দিতে হয়নি। একজন জনসেবক হিসেবে তাঁর উদাহরণই আমার জন্য যথেষ্ট শিক্ষা ছিল।

আজ, যখন সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ২৫ বছর পূর্ণ করছেন, আমার ২০১৯ সালের সেই আকস্মিক কথোপকথনের কথা মনে পড়ছে। ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ আমাদের পরবর্তী সাক্ষাতের কথাও মনে পড়ছে। ততদিনে আমি আবারও প্রধানমন্ত্রী হয়েছি। আমি তাঁকে বিষ্ণুর অবতার দেখার কথা বলার পাঁচ বছর পর, দিল্লিতে আমার বড় ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।

আমি তাঁকে বলি, পাঁচ বছর আগে যা বলেছিলাম তা নিয়ে আমি দীর্ঘ সময় ধরে অনেক ভেবেছি এবং ভাবছিলাম আমি ভুল ছিলাম কি না। আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আমি ঠিক ছিলাম। শুধু তা-ই নয়। এখন আমি জানি তিনি ঠিক কোন অবতার। বিষ্ণুর শেষ অবতার, যিনি বিশৃঙ্খলা দূর করা, ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং নবযুগের সূচনার সঙ্গে যুক্ত।