WEATHER

Top News


গোটা অনুষ্ঠান নিয়ে সেখানে যেমন বিশদে লিখলেন তেমনই তুলে আনলেন বিজেপির প্রসঙ্গ। ফেসবুক পোস্টে তসলিমা লিখছেন, “আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির কর্ণধার একজন প্রগতিশীল মুসলমান—ওসমান গণি মল্লিক। আমাকে কি বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে? না।”


আমার কলকাতায় যাওয়া নিয়ে এই মিথ্যা প্রচার কেন?’... সিপিএমের তুলোধনা করে কেন এ কথা বললেন তসলিমা?
কী বলছেন তসলিমা?


বদলের বাংলায় বছর কুড়ি পর তিনি ফিরছেন। খবরটা সামনে আসতেই একেবারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক আঙিনায়। শোরগোল নাগরিক মহলেও। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ অগস্ট রবীন্দ্র সদনে শোনা যাবে তসলিমার কন্ঠস্বর। অনুষ্ঠানে থাকার কথা খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। তাঁকে ফেরানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন বিশিষ্টরা। এর আগে তাঁকে ফেরানোর পক্ষে লাগাতার জোরালো সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। উপযুক্ত নিরাপত্তা দিয়ে কলকাতা ফেরানোর দাবি জানিয়ে সাংসদে সওয়ালও করেছিলেন। শমীককে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন তসলিমা। কিন্তু এবার তাঁর ফেরা নিশ্চিত হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চাপানউতোর। চর্চা-তরজার মাঝেই এল তসলিমার নতুন পোস্ট। 


গোটা অনুষ্ঠান নিয়ে সেখানে যেমন বিশদে লিখলেন তেমনই তুলে আনলেন বিজেপির প্রসঙ্গ। ফেসবুক পোস্টে তসলিমা লিখছেন, “আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে ‘সেকুলার মিশন’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটির কর্ণধার একজন প্রগতিশীল মুসলমান—ওসমান গণি মল্লিক। আমাকে কি বিজেপি কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে? না। আমাকে কি পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ে যাচ্ছে? না। সরকার শুধু আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। আমি যে রাজ্যেই যাই, সেখানে যে রাজনৈতিক দলেরই সরকার থাকুক না কেন, সেই সরকারই আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। এটাই স্বাভাবিক প্রশাসনিক দায়িত্ব।” পোস্ট দেখে ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই বলছেন, আসলে তাঁর ফেরা নিয়ে রাজনীতির আঙিনায় যে সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল তাতেই জল ঢালতে চাইলেন তসলিমা। যদিও সেই আগুন নিভল কিনা তা সময়ই বলবে। 


আগে আমি নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে শাস্তি দিয়েছিলাম, আমি ভুলে যাব আমার মা বেঁচে আছে', সিআইডি-র হাতে মা গ্রেফতার হতেই মুখ খুললেন মেয়ে
অনেকের মতে, তসলিমা নাসরিনের আগমনে মুক্ত কণ্ঠের পাশাপাশি, উন্মুক্ত হচ্ছে রাজনীতির আরেকটা দরজাও। বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদ বিরোধী ও হিন্দু নিধন নিয়ে, ভোট প্রচারে সরব হয়েছিল বিজেপি। বাঙালির আবেগে এই দুই ঘটনাই ছাপ ফেলেছে বলে মনে করে বিজেপি। তাই তসলিমার পশ্চিমবঙ্গে থাকা মানে, বাঙালি তথা ভোটারের মনেও, উগ্র মৌলবাদ ও হিন্দু সহানুভূতি থেকে যাওয়া। যা ভবিষ্যতে বিরোধী রাজনীতির ছন্দপতনে বিজেপিকে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিদের অনেকে। তসলিমা যদিও বামেদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে লিখছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের কিছু বাম নেতা আমাকে দোষ দিচ্ছেন—আমি কেন কলকাতায় যাচ্ছি! তাঁরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাড়িয়েছিলেন; এখন আমি সেই রাজ্যে পা রাখলেই নাকি হিন্দুত্ববাদী হয়ে যাব, বিজেপি-আরএসএস হয়ে যাব!’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘আমার কলকাতায় যাওয়া নিয়ে এই মিথ্যা প্রচার কেন? ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর মাত্র দু’দিনের জন্য কলকাতায় যাচ্ছি—তাতেই তাঁদের গায়ে জ্বালা ধরছে!’

একইসঙ্গে এদিন সমবায় সংক্রান্ত পরিষেবা সহজভাবে প্রদানের জন্য নতুন পোর্টালের সূচনা হল অমিত শাহের মাধ্যমে। একইসঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার যেভাবে কাজ করছে তারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তাঁর সাফ কথা, “দুর্নীতি ও অপরাধীদের তৃণমূল সরকারকে বিদায় দিয়েছে বঙ্গবাসী।”

এবার চালকরাই হবেন মালিক, ভারত ট্যাক্সি প্রকল্পে জুড়ছে পশ্চিমবঙ্গ! ঘোষণা শাহের
বড় ঘোষণা অমিত শাহের

ভারত ট্যাক্সি প্রকল্পে জুড়ছেন পশ্চিমবঙ্গের চালকরা। এই প্রকল্পে এবার চালকরাই মালিক হবেন। ট্যাক্সি চালকদের জন্য বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর। কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। সেখানেই ড্রাইভাররা এখন থেকে কীভাবে গাড়ির মালিক হতে পারেন সেই উপায়ও বাতলে দেন। 


নিউটাউনের ওই অনুষ্ঠান থেকে শাহ বলেন, “আমরা ট্যাক্সি ড্রাইভারদের জায়গায় সারথীর ভাবনা নিয়ে এসেছি। সারথীকেই কোম্পানির মালিক বানিয়ে কোঅপারেটিভ ভারত ট্য়াক্সি চালু হয়েছে। বাংলায় যে ট্যাক্সি চলে তার সঙ্গে ভারত ট্যাক্সি জুড়ে যাচ্ছে। আজ এর মউ সাক্ষর হয়েছে বাংলার সরকারের সঙ্গে। কোনও সারথীকে আর ড্রাইভার হতে হবে না। তিনি যেমন গাড়ির মালিক হবেন, তেমনই ভারত ট্যাক্সি কোম্পানিরও মালিক হবেন।”  



শরীরে বাসা বেঁধেছে কোনও বড় অসুখ? কিছু লুকোচ্ছেন সলমন?
একইসঙ্গে এদিন সমবায় সংক্রান্ত পরিষেবা সহজভাবে প্রদানের জন্য নতুন পোর্টালের সূচনা হল অমিত শাহের মাধ্যমে। একইসঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার যেভাবে কাজ করছে তারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তাঁর সাফ কথা, “দুর্নীতি ও অপরাধীদের তৃণমূল সরকারকে বিদায় দিয়েছে বঙ্গবাসী। এবার বিজেপি সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করবে। আগামীতে শিক্ষিত, সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ বাংলা গড়বে বিজেপি। অনুপ্রবেশ মুক্ত বাংলা গড়তে, আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে অনেক পদক্ষেপ এই সরকার দ্রুত নিচ্ছে। শুভেন্দুজির গতি আমি দেখেছি। বাংলার উঠে দাঁড়াতে আর সময় লাগবে না।” 

 পূর্বতন সিপিএম ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিচারধারায় প্রভাবিত কমিউনিস্ট সরকারের অধীনে ছিল বাংলা। তাদের থেকে মুক্ত হওয়ার পর বিচারধারাহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ক্রিমিনাল তৃণমূল সরকারের জালে ফাঁসে। তার ফলে সোনার বাংলার স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়।"

শুভেন্দুজির গতি দেখেছি, বাংলার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না', বলে দিলেন শাহ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ


 বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সরকার গঠনের ২ মাসের মধ্যেই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু-সরকার। রাজ্যে শিল্পের খরা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে। এই নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বললেন, “শুভেন্দু অধিকারীর গতি দেখে মনে হচ্ছে বাংলার ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগবে না।”


হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে কারখানা করছে আমূল। নাম আমূল বাংলা ডেয়ারি। এদিন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে ওই কারখানার ভূমি পুজো অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শাহ। আর সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


সময় চাই', অভিষেকের অফিস ভাঙার মামলায় বলল রাজ্য, শুনানি শুরুই হল না এখনও
গোপন নথি রাখতেই অভিষেকের আমতলার কার্যালয়ে ডিজিটাল লক? স্থানীয় বাসিন্দারা বললেন...
কী বললেন অমিত শাহ?


মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই দু’মাসে শুভেন্দুর কাজের প্রশংসা করে শাহ বলেন, “আমি শুভেন্দুজির গতি দেখেছি। বাংলার ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। দেখতে দেখতে বাংলা ঘুরে দাঁড়াবে। এর জন্যই আমরা ২০১৬ সাল থেকে লড়াই করছি।”

পূর্বতন সিপিএম ও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শাহ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি বিচারধারায় প্রভাবিত কমিউনিস্ট সরকারের অধীনে ছিল বাংলা। তাদের থেকে মুক্ত হওয়ার পর বিচারধারাহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ক্রিমিনাল তৃণমূল সরকারের জালে ফাঁসে। তার ফলে সোনার বাংলার স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়।” এবার বাংলা ঘুরে দাঁড়াবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজ বাংলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় দই প্ল্যান্ট হচ্ছে। গোটা দেশে এখান থেকে দই যাবে। সবাই বাংলাকে আশীর্বাদ করবে।” বিজেপি সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণের কাজ করবে বলে জানান শাহ।

অন্যদিকে, বাংলায় আমূলের বিনিয়োগ নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু বলেন, “যারা বলেছিল গুজরাট হতে দেব না। তারা আজ বাড়িতে বসে দেখছে, আমূল পশ্চিমবঙ্গে ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য।”

পুণ্যস্নানের ভূমি গঙ্গাসাগর এবার সাক্ষী রইল এক অনন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নবজাগরণের। মহামুনি কপিলের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদ্বীপের পুরুষোত্তমপুর এলাকায় নাগ সরোবর সংলগ্ন স্থানে রবিবার এক সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভগবান আদিনাথ, ভগবান পদ্মপ্রভু এবং ভগবান মল্লিনাথের শ্বেত মার্বেল নির্মিত বিগ্রহ সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।


এই মহতী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ, যা গঙ্গাসাগরের বুকে এক অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহ তৈরি করেছে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাগরদ্বীপের গর্ব, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক শ্রী মৃণাল কান্তি দে। উপস্থিত ছিলেন জৈন সমাজের প্রথিতযশা পন্ডিত, গবেষকবৃন্দ এবং পৌন্ড্র জৈন ঐতিহাসিক সম্পর্কের গবেষক ও জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ড. অরূপ কুমার হালদার (ভান্ত জিননাথ)।

উল্লেখ্য যে, এই সমগ্র প্রচেষ্টার নেপথ্যে রয়েছে শ্রী ভারতবর্ষীয় দিগম্বর জৈন (তীর্থ সংরক্ষনী) মহাসভার সর্বভারতীয় মুখ্য অধিকর্তা শ্রদ্ধেয় শ্রী রাজ কুমার শেঠী (জৈন) এবং ঐতিহাসিক পৌন্ড্র জৈন রিলেশন পুনরুদ্ধার সমিতির পশ্চিমবঙ্গ শাখার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। এছাড়াও, এই আধ্যাত্মিক পরিকাঠামো নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ‘মৈত্রী মেডিক্যাল সেন্টারে’র প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ নির্মল কুমার মণ্ডল। ইতিমধ্যেই নাগ সরোবরের এই প্রাঙ্গণে ১১ ফুট উচ্চতা ও ৩ টন ওজনের কষ্টিপাথরের ২৩তম তীর্থঙ্কর ভগবান পরেশনাথের সুবিশাল জীন প্রতিবিম্ব স্থাপিত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসে এই তীর্থক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে গঙ্গাসাগরজুড়ে। ধর্মীয় পর্যটনের মানচিত্রে এটি এক নতুন অধ্যায় হিসেবে সংযোজিত হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

 আমতলায় অফিসে (Amtala Party Office Bulldozer) বুলডোজ়ার-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রবিবার ছুটির দিন জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন। প্রথমে ১২টায় শুনানি শুরুর কথা থাকলেও রাজ্যের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি করা যায়নি। পরে দেড়টা নাগাদ ফের শুনানি শুরু হয় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে।


পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন পদক্ষেপ নয়, অভিষেকের আমতলার অফিস ভাঙায় স্থগিতাদেশ কলকাতা হাইকোর্টের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার পার্টি অফিস ভাঙার উপর স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন করে পদক্ষেপ করা যাবে না। এমনই নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর। শনিবার আমতলার অফিসে (Amtala Party Office Bulldozer) বুলডোজ়ার-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রবিবার ছুটির দিনই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। প্রথমে ১২টায় শুনানি শুরুর কথা থাকলেও রাজ্যের আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি করা যায়নি। পরে দেড়টা নাগাদ ফের শুনানি শুরু হয় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে। এরপরই অভিষেকের অফিস ভাঙায় আপাতত স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।


আমতলার অফিস নিয়ে অভিযোগ
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিস বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলের আগেই সুশান্ত মণ্ডল নামে জনৈক এক ব্যক্তি জেলা পরিষদে অভিযোগ করেন। নকশা ছাড়া এই পাঁচতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের তরফে নোটিস পাঠানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা তথা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সম্পত্তিও লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে রয়েছে। নোটিস পাঠানো হয় সুশান্ত মণ্ডল এবং মতিউর রহমান মল্লিককেও। ১৫ জুলাই দুপুর ২টোর সময় হাজির হতে বলা হয়েছিল অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত সব পক্ষকেই। কিন্তু, নোটিসের নির্দেশ মেনে হাজিরা দেননি অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়।


'স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে', মহিলার অভিযোগ শুনেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, 'এখনই অ্যারেস্ট করুন'

বললে ৭ দিনের মধ্যেই কাজ শুরু...',পুজোর আগেই এক যুগেরও বেশি অপেক্ষার অবসান, রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান
এরপর অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও একটি নোটিস দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। সেখানে বলা হয়, কার্যালয় ভেঙে ফেলা হবে। সেই মতো শনিবার সকাল থেকেই বুলডোজার দিয়ে অভিষেকের পাঁচতলা অফিস ভাঙার কাজ শুরু হয়। শাবল দিয়ে ডিজিটাল লকার ভেঙে ফেলা হয়। আবার রবিবার সকালে ফের অভিষেকের অফিসের সামনে পৌঁছে যায় বুলডোজার। একে একে বের করা আনা হয় খাট, বালিশ ও ত্রাণসামগ্রী।


আদালতে মামলা
শনিবার অফিস ভাঙার পরই রবিবার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেন অভিষেকের আইনজীবী। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের তরফে মামলা করা হয়। বেলা ১২টা নাগাদ বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে শুনানি স্থির হয়। কিন্তু, সময়ে শুনানি শুরু করা যায়নি। রাজ্যের কোনও আইনজীবী প্রথমে উপস্থিত না থাকায় শুনানি শুরু করা যায়নি। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানান, রাজ্যকে আরেকবার নোটিস জারি করা হোক। এর আগে মামলার শুনানির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। কিছু ক্ষণ আগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্যকে আরেক বার মামলার কপি দেওয়া হোক। রাজ্যের বক্তব্য ছাড়া শুনানি সম্ভব নয়।

এরপরই রাজ্যের আইনজীবী নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত হন। তিনি জানান, মামলায় সওয়াল করার জন্য সময় দেওয়া হোক। জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে। বিচারপতি জানান, দুপুর দেড়টায় আবার এজলাস বসবে। ওই সময় শুনানি হবে।

শুনানিতে কী কী হল?
লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডসের আইনজীবী কিশোর দত্ত : গতকাল থেকে ভাঙচুরের কাজ চলছে। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী শুনানির নোটিস দেওয়া হয়েছিল। ওই ভবনের মালিককে শুনানির জন্য কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। কোম্পানির ডিরেক্টরকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল।

সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন। তার ভিত্তিতেই জেলা পরিষদ ভাঙার কাজ শুরু হয়। ১৫ জুলাই শুনানির দিন ধার্য ছিল। গত ৮ জুলাই শুনানির জন্য নোটিস পৌঁছয়। মাত্র সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কোনও নির্মাণ ভাঙার ক্ষেত্রে মালিককে শুনানির নোটিস দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে মালিকের পরিবর্তে ডিরেক্টরকে দেওয়া হয়েছিল। যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া উচিত ছিল। সেই সময় দেওয়া হয়নি।

নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও শুনানি হয়নি। অভিযোগে কী কী ছিল সেই কপি দেওয়া হয়নি। এমনকি ভাঙার অর্ডার কপি আমাকে দেওয়া হয়নি। কোনও নির্মাণ বেআইনি হলে প্রথমে আমাকে ভাঙার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি। আইনে উল্লিখিত কোনও কিছু মানা হয়নি। সাধারণ মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র: হঠাৎ করে শুনানি হওয়ার কারণে কোনও নির্দেশ আনার সুযোগ পাওয়া যায়নি। গত ১৩ জুন জানানো হয়েছিল কোন আইনের ভিত্তিতে ভাঙা হচ্ছে। ওই নির্মাণের কোনও অনুমোদন ছিল না। সম্পূর্ণ বেআইনি নির্মাণ। এ ভাবে চললে বেআইনি নির্মাণকে উৎসাহিত করা হবে। ছুটির দিনে কোর্ট বসিয়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের নোটিস জমির মালিক জানতেন কি? মামলাটি রেগুলার বেঞ্চে না ওঠা পর্যন্ত আপনাদের থেমে থাকা উচিত নয় কি?

জেলা পরিষদের কাছে বিচারপতি: ভাঙার কোনও নির্দেশের কপি কি দেওয়া হয়েছিল?

জেলা পরিষদের আইনজীবী তাপস মণ্ডল: নির্মাণ পরিদর্শনের রিপোর্ট রয়েছে। যাচাই করে দেখা গিয়েছে ৬.৫ মিটার বেশি উঁচু নির্মাণ ছিল। ওই নির্মাণের ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেখান থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি।

কিশোর দত্ত: আমাকে সময় দেওয়া উচিত ছিল ভাঙার জন্য। সেই সময়ের মধ্যে না ভাঙলে আমাকে জরিমানা করে পদক্ষেপ করতে পারত। এখনও ভাঙা চলছে। শনিবার ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। এত তাড়াহুড়োর কী ছিল?

আইনজীবী তাপস মণ্ডল: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সেখানে অনুসন্ধান করেছেন। সেখানে ডায়মন্ড হারবারের এমপি অফিস রয়েছে। ওই ভবনের কোনও অনুমোদন নেই বলে গত ২৫ জুন তিনি রিপোর্ট দেন। এক্সিকিউটিভ অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে হিয়ারিং অফিসার পদক্ষেপ করেন। ওই ভবন ভাঙার নির্দেশ দেন।

এরপর আমতলার অফিস ভাঙার উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে নতুন করে কিছু করা যাবে না। অর্থাৎ, এখন যা অবস্থায় রয়েছে সেটিই বহাল থাকবে। আদালতের নির্দেশের পরই আমতলার অফিস ভাঙার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। মামলার তৃণমূলের আবেদন ছিল, ওই ভবন থেকে কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তাঁরা সেখানে লুটপাট চালিয়েছে। যে সব জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেগুলি ফেরত দেওয়ার আবেদন করা হয়। কিন্তু, আদালত তৃণমূলের ওই আবেদন নাকচ করে দেয়। বিচারপতি জানান, আপাতত পুলিশের ওই পদক্ষেপে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট।

 তাঁদের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শহিদদের পরিবারগুলি থাকবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, "আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি, সবাই আসবেন। সেদিন আমরা যারা শহিদ হতে পারতাম, তাদের বেশিরভাগ মানুষই ওইদিন এখানে থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, একুশে জুলাই শহিদ তর্পণ করে যাব।"


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিস করবেন? প্রশ্ন শুনেই দুটো শব্দ বললেন ফিরহাদ
কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?

তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী। প্রতি বছর একুশে জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের মঞ্চে মমতার আশপাশে দেখা যেত তাঁকে। যেত, কারণ এবার আর দু’জনকে একুশে জুলাইয়ের এক মঞ্চে দেখা যাবে না। মমতা থাকবেন বিড়লা তারামণ্ডলের মঞ্চে। আর তিনি থাকবেন গান্ধী মূর্তির সামনে মঞ্চে। মমতাকে কি একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে মিস করবেন? রবিবার গান্ধী মূর্তির সামনে মঞ্চ পরিদর্শনে এসে এই প্রশ্নের মুখে পড়লেন ফিরহাদ হাকিম। সরাসরি অবশ্য উত্তর দিলেন না কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ। শুধু দুটি শব্দ বললেন। 


কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?


 'সমকামী সম্পর্ক সমাজের কী ভালো করছে?', বিস্ফোরক অনুরাধা পাড়োয়াল
ঋতব্রত শিবিরের চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের সঙ্গে এদিন একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গান্ধী মূর্তির সামনে এসেছিলেন ফিরহাদ। সেখানেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। ওইদিন যুব কংগ্রেসের ১৩ জন শহিদ হয়েছিলেন। তিনিও শহিদ হতে পারতেন জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “আর একটু এগিয়ে গেলে স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। ওখানে আমিও হয়তো গুলি খেতে পারতাম। কেউ একজন ধাক্কা গিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়। আমার সামনে ২ জন পড়ে যান। আমাদের মিছিলটা মদনদার নেতৃত্বে এসেছিল।”


তাঁদের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে শহিদদের পরিবারগুলি থাকবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, “আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি, সবাই আসবেন। সেদিন আমরা যারা শহিদ হতে পারতাম, তাদের বেশিরভাগ মানুষই ওইদিন এখানে থাকব। যতদিন বেঁচে থাকব, একুশে জুলাই শহিদ তর্পণ করে যাব। একুশে জুলাই শহিদ পরিবাররা থাকবে, যারা শহিদদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করেছে, তারা থাকবে।”

একুশে জুলাইয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে মমতার নাম। কিন্তু, এবার তাঁর সঙ্গে একমঞ্চে দেখা যাবে না ফিরহাদকে। কলকাতা বন্দরের বিধায়ককে প্রশ্ন করা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিস করবেন এবার? প্রশ্ন শুনেই শুধু দুটো শব্দ বললেন। ‘মিটিংয়ে বলব।’ তারপরই মুখ ঘুরিয়ে চলে যান ফিরহাদ।

অন্যদিকে অরূপ রায় বলেন, “আমাদের একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে সব শহিদ পরিবার আসবে। শহিদ পরিবারের লোকজনদের সামনের সারিতে বসানো হবে। তারপর নেতৃত্ব বসবে। আমরা কতটা বিজেপি বিরোধী, সেটা বক্তব্যের মাধ্যমে এবং কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেব।” মমতার ছবি তাঁদের মঞ্চে থাকবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অরূপ বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর ছবি রয়েছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি রয়েছে, নজরুল ইসলাম এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের ছবি রয়েছে। এই চারজনের ছবি রেখেছি আমরা।”

ভাষা ও চিন্তাভাবনার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, "সাধারণত মানুষ ভাবে মানুষই ভাষার জন্ম দিয়েছে, কিন্তু আসলে ভাষাই মানুষকে তৈরি করে। মানুষের মধ্যে ভাবনা তৈরি হলেই সে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে, আর ভাষার মূলেই রয়েছে শব্দ।"


আমি আমার মনের একটা কথা চিঠিতে শুভেন্দুকে লিখেছিলাম', এতদিনে তা কলকাতায় এসে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী


 কলকাতায় তৈরি হল ভারতীয় ভাষা বিষয়ক দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘মিউজিয়াম অফ ওয়ার্ড’। জাতীয় গ্রন্থাগারে (ন্যাশনাল লাইব্রেরি) এই বিশেষ মিউজিয়ামের উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই জাদুঘর তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। ৯টি গ্যালারি নিয়ে গঠিত এই জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ ‘ভাষার সময়রেখা’, যা দেশের সবচেয়ে বড় গ্যালারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মূলত ২২টি ভারতীয় ভাষার বিবর্তনের ইতিহাস এই সংগ্রহশালায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে সংকীর্ণতার কোনও জায়গা নেই। সংকীর্ণতা ভারতীয় সংস্কৃতির চিহ্ন হতে পারে না। আমরা কারোর বিচারধারায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজ সব স্কুলে বন্দেমাতরম পুরো গান গাওয়া হয়। এর থেকে বড় বছর আর কিছুই হতে পারে না। আর এই বিশেষ বছরেই এই মিউজিয়াম তৈরি হল।” তিনি আরও একবার উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাকে শাস্ত্রীয় ভাষার মর্যাদাও দিয়েছেন। বাংলা সবসময় পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লেখার কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমার মনের একটা কথা আমি শুভেন্দুকে চিঠিতে লিখেছি। আমার বিশ্বাস, শুভেন্দু আমার সেই স্বপ্ন নিশ্চয়ই পূরণ করবে।”

এটিও পড়ুন
Firhad Hakim: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিস করবেন? প্রশ্ন শুনেই দুটো শব্দ বললেন ফিরহাদ
Ashoknagar: 'আগে আমি নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে শাস্তি দিয়েছিলাম, আমি ভুলে যাব আমার মা বেঁচে আছে', সিআইডি-র হাতে মা গ্রেফতার হতেই মুখ খুললেন মেয়ে
Anuradha Paudwal's LGBTQ comments: 'সমকামী সম্পর্ক সমাজের কী ভালো করছে?', বিস্ফোরক অনুরাধা পাড়োয়াল
ভাষা ও চিন্তাভাবনার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, “সাধারণত মানুষ ভাবে মানুষই ভাষার জন্ম দিয়েছে, কিন্তু আসলে ভাষাই মানুষকে তৈরি করে। মানুষের মধ্যে ভাবনা তৈরি হলেই সে প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে, আর ভাষার মূলেই রয়েছে শব্দ।”


এই মঞ্চ থেকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাষার বিকাশে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রথম পাঠশালা: পরিবারের ভাষাই শিশুর প্রথম পাঠশালা হওয়া উচিত। মায়ের কাছ থেকে শেখা ভাষাই শিশুর মনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।

মৌলিক চিন্তাভাবনা: বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু অনুবাদ বা কপি করার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে মৌলিক চিন্তাভাবনা তৈরির মূল কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার: দেশের প্রতিটি ভারতীয় ভাষাকে এআই (AI) প্রযুক্তি সক্ষম এবং ডিজিটাইজ করতে হবে, যাতে সেগুলির আয়ু আরও অন্তত ১০০০ বছর বৃদ্ধি পায়।

যুবসমাজের অংশগ্রহণ: লাইব্রেরি ও মিউজিয়াম যেন শুধু চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা যুবসমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে।

বহুভাষী হওয়া: প্রত্যেক ভারতীয় যুবকের উচিত নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি দেশের অন্য যে কোনো একটি ভারতীয় ভাষা অবশ্যই শেখা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই পাঁচটি বিষয় যদি আগামী প্রজন্মের মধ্যে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে ভারতীয় ভাষার বিকাশ ও সংরক্ষণ অবশ্যম্ভাবী।

ফের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর। অমাবস্যার কোটালের প্রভাবে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে কপিল মুনির আশ্রমের সামনে সমুদ্রের বাঁধে বড়সড় ধস নেমেছে। বর্তমানে আশ্রমের সম্মুখভাগ থেকে ১ থেকে ৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।



দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ভাঙন স্থানীয় অর্থনীতির মেরুদণ্ড—পর্যটন ব্যবসাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই ভাঙনের কবলে পড়ে গঙ্গাসাগরের এই বাঁধ। বারবার প্রশাসনিক দপ্তরে স্থায়ী সমাধানের আবেদন জানানো হলেও, এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কেবল সাময়িক মেরামতির আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থেকেছে প্রশাসন।

 ব্যবসায়ীদের কথায়, “সাময়িক মেরামতিতে কাজ হচ্ছে না। ভাঙন রুখতে দরকার বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই ব্যবস্থা।” আসন্ন বিপদের কথা মাথায় রেখে, স্থানীয়রা নতুন সরকারের কাছে দ্রুত কংক্রিটের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পুণ্যার্থীদের প্রধান গন্তব্য ও ঐতিহাসিক এই স্থানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাগরদ্বীপবাসী।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় এই প্রথমবার লাল ঝান্ডার বিশাল সমাবেশ! শুক্রবার নামখানার সাতমাইল বাজারে সিপিআইএম এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় বাম কর্মী-সমর্থকদের ভিড় এবং উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিনের সভা থেকে বিগত তৃণমূল সরকারের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের ঔদ্ধত্যকে তীব্র ভাষায় তুলোধোনা করলেন বামেদের দুই যুব নেতা শতরূপ ঘোষ এবং সায়ন ব্যানার্জি।


এদিনের জনসভায় শতরূপ ঘোষ এবং সায়ন ব্যানার্জি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বামেদের জেলা নেতৃত্বের একাধিক পরিচিত মুখ। একের পর এক ঝাঁঝালো বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মী সমর্থকদের উৎসাহিত করেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের মাধ্যমে
বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতি এবং বর্তমান সরকারের একনায়কতন্ত্র ও ঔদ্ধত্যের কড়া সমালোচনা করেন শতরূপ এবং সায়ন। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, রাজ্যজুড়ে তীব্র বেকারত্ব এবং কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই নিয়ে সরব হন তাঁরা। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের হকের দাবিতে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও সংগঠিত আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় এই মঞ্চ থেকে।

জনসভার পাশাপাশি এদিন নামখানায় বড়সড় রাজনৈতিক দলবদলের ছবিও দেখা গিয়েছে। নামখানার বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থক এদিন লাল ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিপিআইএম-এ যোগদান করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নামখানায় বামেদের এই বিশাল জনসভা এবং যোগদান কর্মসূচি প্রমাণ করছে যে তারা ময়দান ছাড়তে নারাজ।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে এই প্রথম বিপুল সাড়া জাগাল বামেদের লাল ঝান্ডা। শনিবার সাগরের রুদ্রনগর বাজারে সিপিআইএম এরিয়া কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় বাম কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

এই সভা থেকে বিগত তৃণমূল সরকারের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের একনায়কতন্ত্র ও ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান বামেদের দুই জনপ্রিয় যুব নেতা মীনাক্ষী মুখার্জি ও সায়ন ব্যানার্জি।
জেলা নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এদিনের সভা থেকে রাজ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র বেকারত্ব এবং কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলো তুলে ধরা হয়। 


মঞ্চ থেকে মীনাক্ষী ও সায়ন স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষের হকের দাবি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাগরের এই বিশাল জনসভা প্রমাণ করছে যে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বামেরা ময়দান ছাড়তে নারাজ, বরং তারা শক্ত হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছে।

সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসাবে ভারতে প্লাস্টিকের নোট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই আরবিআই তার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। শীঘ্রই প্লাস্টিকের নোট তৈরির কাজও শুরু হবে।   

২০২৭ সালেই RBI আনছে পলিমার নোট, প্রথম কত টাকার নোট চালু করা হবে?
প্রতীকী চিত্র।

 আর কাগজের নোট নয়, এবার হাতে আসবে প্লাস্টিকের নোট (Plastic Notes)। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India) আনতে চলেছে পলিমার (Polymer Note) বা প্লাস্টিকের নোট। আগামী বছর, ২০২৭ সাল থেকেই ভারতে প্লাস্টিকের নোট চালু হবে। কীভাবে দেশ জুড়ে চালু হবে এই প্লাস্টিকের নোট, তা নিয়েও পরিকল্পনা এল সামনে।


সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, আপাতত পাইলট প্রকল্প হিসাবে ভারতে প্লাস্টিকের নোট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই আরবিআই তার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। শীঘ্রই প্লাস্টিকের নোট তৈরির কাজও শুরু হবে।


অভিষেকের পার্টি অফিস ভাঙতেই উদ্ধার ট্রাঙ্ক, ভিতরে কী আছে জানেন?
'সপ্তপদী'র ওথেলোর দৃশ্যে সুচিত্রার জন্য কণ্ঠ দিয়েছিলেন কে জানেন? তাঁর সঙ্গে রয়েছে কাপুর বংশের যোগ
পাইলট প্রকল্প-
সূত্রের খবর, প্রাথমিক স্তরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ছোট নোট অর্থাৎ ১০ টাকা, ২০ টাকার প্লাস্টিকের নোট চালু করার পরিকল্পনা করছে। এই দুটি নোট-ই প্লাস্টিকের তৈরি করে বাজারে আনা হবে, কারণ ছোট নোটের চাহিদা বেশি। এর আগে ১০ টাকা, ২০ টাকার কয়েন আনা হলেও, তাতে জনগণের বিশেষ সাড়া মেলেনি।


এই নোট কতটা টেকসই হচ্ছে এবং জনগণ তা কতটা গ্রহণ করছে, তার প্রতিক্রিয়ার উপরে নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। যদি পরীক্ষামূলক নোটে ভালো সাড়া মেলে, তাহলে ২০২৭ সাল থেকেই বাকি সমস্ত নোট-ও পরিবর্তন করে বাজারে আনা হবে।

কেন প্লাস্টিকের নোট আনা হবে?
অনেকেরই প্রশ্ন, কেন কাগজের নোটের বদলে প্লাস্টিকের নোট আনা হবে? এর প্রধান কারণ হল, টেকসই। কাগজের নোট ভিজে গেলে ছিঁড়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেখানেই প্লাস্টিকের নোট ভিজলেও নষ্ট হয় না, আবার ভাঁজ করলেও কোনও ক্ষতি হয় না। এর আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি হয়। এছাড়া কাগজের নোট তৈরির তুলনায় প্লাস্টিকের নোট তৈরির খরচও অনেকটা কম। বারবার নোট ছাপানোর ঝামেলাও থাকে না।

১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম পলিমার ব্যাঙ্ক নোট নিয়ে আসে। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট ব্যবহার করা হয়।

কমিশন সূত্রে খবর পশ্চিমবঙ্গই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জ্ঞানেশ কুমারের কাছে। প্রথম দফা নির্বাচন উতরে গেলেও ২৯ এপ্রিলের নির্বাচন নিয়ে তাঁর টেনশন কিছু কম ছিল না। একটাও হিংসার ঘটনা না ঘটিয়ে কি নির্বাচন সম্ভব? বারবার ভেবেছেন সে কথা।


 সেদিন জ্ঞানেশ কুমারের চোখে জল এসে গিয়েছিল, বাংলার ভোটের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল
জ্ঞানেশ কুমার

সম্প্রতি একসঙ্গে পাঁচ রাজ্যের ভোট হলেও, গোটা দেশের নজর ছিল পশ্চিমবঙ্গের দিকে। বিশেষত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তা নজিরবিহীন। একের পর এক সভা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ভোট শেষ হয়েছে, রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হয়েছে। তবে বাংলার ভোট নিয়ে মুখ খোলেননি জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।


রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে যাঁকে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পালাবদলের পর বাংলার জন্য একটাও শব্দ খরচ করেননি সেই জ্ঞানেশ কুমার। মুখে শব্দ খরচ না করলেও কেমন অভিজ্ঞতা ছিল জ্ঞানেশ কুমারের?


কমিশন সূত্রে খবর পশ্চিমবঙ্গই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল জ্ঞানেশ কুমারের কাছে। প্রথম দফা নির্বাচন উতরে গেলেও ২৯ এপ্রিলের নির্বাচন নিয়ে তাঁর টেনশন কিছু কম ছিল না। একটাও হিংসার ঘটনা না ঘটিয়ে কি নির্বাচন সম্ভব? বারবার ভেবেছেন সে কথা।


সম্প্রতি দিল্লিতে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে কিছু না বললেও, জ্ঞানেশ কুমার ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যের পর রক্তপাত শূন্য নির্বাচন আর ৯৩ শতাংশের বেশি ভোটের খবরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল কমিশিন।

সংবাদমাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভোটের সেই ছবি দেখে সেদিন তাঁর চোখে জল এসে গিয়েছিল। জ্ঞানেশ কুমারের কথায় যাবতীয় সমালোচনা তখন ‘ভ্যানিশ’। মনে মনে ভেবেছিলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর বার্তাই সমালোচকদের জন্য সবচেয়ে বড় উত্তর। বাকি কথার উত্তর ভোটাররাই দেবেন বলে বিশ্বাস ছিল তাঁর।

উল্লেখ্য, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসে কে আসল, কে নকল, সেই উত্তরের জন্য জ্ঞানেশ কুমারের দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়- দুই শিবিরই নিজেদর যুক্তি জমা দিয়েছে।

 স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই অফিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রবেশ করতেন, তার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে থেকে সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হত। ছাড় পেতেন না প্রসূতিরাও। কেউ প্রতিবাদ করলে এনডিপিএস আইনে গারদের পিছনে তাঁর স্থান হত। অত্যাচার চরম মাত্রায় ওঠায় মানুষের অভিযোগ ছিল এই অফিস এবং তার ভিতরে চলা যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ে। 

আমতলায় কীভাবে পাউরুটি কারখানায় আগুন লাগিয়ে তৈরি হয়েছিল অভিষেকের কার্যালয়? সামনে আসছে হাড়হিম করা কাহিনি
আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় ভাঙা শুরু হয়েছে

 পাঁচতলা ঝাঁ চকচকে পার্টি অফিস। বড় করে লেখা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলার এই পার্টি অফিসেই শনিবার বুলডোজার নিয়ে পৌঁছে যান প্রশাসনের আধিকারিকরা। অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে অভিষেকের আমতলার কার্যালয় ভাঙা শুরু হয়। প্রশাসন এই কার্যালয় ভাঙা শুরু করতেই সামনে আসে একের পর এক অভিযোগ। কীভাবে একটি পাউরুটির কারখানাকে সরিয়ে এই কার্যালয় তৈরি হয়েছে, সেই কাহিনি শোনালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


ওই কার্যালয় তৈরির পিছনে হাড়হিম কাহিনি-


'মমতাদিকে জানিয়ে দিয়েছি...', হঠাৎ কল্যাণ আবার কী বললেন?
২০১৪ সালে প্রথমবার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা থেকে নির্বাচিত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই এলাকায় তাঁর ‘রাজত্ব’ কায়েম হতে শুরু করে। বিষ্ণুপুরের আমতলা এলাকাকে নিজের সংসদীয় এলাকার কেন্দ্রীয় এলাকা হিসেবে বেছে নেন অভিষেক।আমতলা মোড় থেকে ২০০ মিটার দূরে একটি বেকারির উপরে নজর পড়ে এলাকার তৃণমূলের নেতা থেকে কর্মীদের। প্রায় ৫ কাঠা ৬ ছটাক জমিতে এই পাউরুটির কারখানা চলত। প্রায় ৪০ জন কর্মী সেখানে কাজ করতেন। বেকারির মালিক ছিলেন মতিউর রহমান মল্লিক নামে এক ব্যক্তি।


অভিযোগ, ওই বেকারিকে সরাতে শুরু হয় ষড়যন্ত্র। আচমকাই ২০১৪ সালের শেষের দিকে সেই বেকারিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায় বেকারি। সেই সময় অভিযোগ ওঠে, বেকারিতে আগুন লাগিয়ে জমি দখল করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এরপর শুরু হয় অত্যাচার। মতিউর রহমান মল্লিককে ভয় দেখানোর পালা শুরু হয়। ওই জমি ছেড়ে দিতে হবে। কারণ সাংসদের অফিস তৈরি হবে। প্রায় ২.৩০ কোটি টাকার জমি সামান্য কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময় এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব জোর করে কিনে নেয়।মতিউর রহমান মল্লিককে পুলিশ এবং স্থানীয় সমাজবিরোধীদের দ্বারা ভয় দেখিয়ে ওই জমি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

ক্যামাক স্ট্রিটের আগে এই অফিস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য চালানোর অফিস হিসেবে বিবেচিত হত বলে অভিযোগ। বেকারির জমিতে কোনওরকম নির্মাণ নকশা অনুমোদন ছাড়াই প্রথম দু’বছরে দুই তলা, তারপর পর পর আরও তিনতলা তৈরি হয়ে যায়। জমি দখল থেকে বাড়ি দখল বা একাধিক অপরাধমূলক কার্যকলাপের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয় এই সুবিশাল কার্যালয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই অফিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রবেশ করতেন, তার অন্তত আধ ঘণ্টা আগে থেকে সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হত। ছাড় পেতেন না প্রসূতিরাও। কেউ প্রতিবাদ করলে এনডিপিএস আইনে গারদের পিছনে তাঁর স্থান হত। অত্যাচার চরম মাত্রায় ওঠায় মানুষের অভিযোগ ছিল এই অফিস এবং তার ভিতরে চলা যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ে।

রাজ্যে পালাবদলের আগেই সুশান্ত মণ্ডল নামে জনৈক এক ব্যক্তি নির্মাণ নকশা ছাড়া এই পাঁচতলা ভবন তৈরি করা হয়েছে বলে জেলা পরিষদে অভিযোগ করেন। আদালতের দ্বারস্থ হন। যার কারণে তাঁকেও নানা অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল বলে এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সেই সময় যাবতীয় অভিযোগের বিষয়টি প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়।

পালাবদলের পর জেলা পরিষদে ফের সুশান্ত মণ্ডলের অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয় এবং নোটিস পাঠানো শুরু করেন জেলা পরিষদের কর্তারা। গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রশাসনের তরফে নোটিস পাঠানো হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর হিসাবে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানো হয়। কারণ, এই সম্পত্তিও লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে। একইসঙ্গে জেলা পরিষদের তরফে নোটিস পাঠানো হয় সুশান্ত মণ্ডল এবং মতিউর রহমান মল্লিককে।

১৫ জুলাই দুপুর ২টোর সময় হাজির হতে বলা হয়েছিল অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত সব পক্ষকেই। নোটিসে জানানো হয়েছিল, সুশান্তের অভিযোগের ভিত্তিতে সকলকে তলব করা হচ্ছে। সব পক্ষকে নিজেদের দাবি কিংবা অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় নথি-প্রমাণ নিয়ে যেতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু নোটিস পেয়েও নির্দিষ্ট দিনে, অর্থাৎ গত বুধবার কার্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে হাজিরা দেননি অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপরই ফের জেলা পরিষদের তরফে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দিয়ে জানানো হয়, আমতলার এই সুবিশাল কার্যালয় ভেঙে ফেলা হবে। সেই মতো শনিবার সকাল থেকে সম্পূর্ণ অ্যাকশনে নামে জেলা পরিষদ এবং জেলা ভূমি রাজস্ব দফতর। এদিন কার্যালয়টি ভাঙা শুরু হতেই জড়ো হতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা একের পর এক অভিযোগ তুলে সরব হন।

আমতলার অভিষেকের কার্যালয় ভাঙা নিয়ে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আগে শাসকের আইন চলত। রাজ্যকে নিজেদের জমিদারির অংশ ভাবতেন। সেজন্য অবৈধ নির্মাণ হয়েছে। এখনের আইনের শাসন চলছে। সেজন্য অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে।” যদিও তাঁর কার্যালয় ভাঙা নিয়ে অভিষেক বর্তমান শাসকদলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এসব করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন।