WEATHER

Top News


সরকারি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ত্রাণ সামগ্রী ব্যক্তিগত দোকানে মজুত করে রাখার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গঙ্গাসাগরের খাস রামকর চর এলাকা। 


রামকর চর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৫ নম্বর বুথের তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতির দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই দোকানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি ত্রিপল, ১১ বস্তা মাছের খাবার, ১৩ বস্তা চুন এবং ২ বস্তা মিস। উদ্ধার হওয়া এই সামগ্রীগুলির গায়ে সরকারি এবং বিভিন্ন এনজিওর সিলমোহর ও নাম রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তীব্র বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতি সাফাই দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, "এই সামগ্রীগুলি আমার নয়। ওই এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি ভোটের আগে নিজের দায়িত্বে এই জিনিসগুলো আমার দোকানে রেখে গিয়েছিলেন।"

বিপর্যয় মোকাবিলা বা দুঃস্থদের সাহায্যের জন্য আসা সামগ্রী রাজনৈতিক নেতার মদতে ব্যক্তিগত দোকানে কেন মজুত রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই ত্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না করে রাজনৈতিক স্বার্থে আটকে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর বিরোধীরা একে বড়সড় দুর্নীতি বলে অভিহিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, বুথ সভাপতির নাম জড়ানোয় অস্বস্তিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


​সাগর গ্রামীণ হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং রোগী রেফার সংক্রান্ত বিষয়ে কড়া অবস্থান নিলেন বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল। বৃহস্পতিবার সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং বিএমওএইচ-এর উপস্থিতিতে রোগী কল্যাণ সমিতির এক জরুরি বৈঠকে এই কড়া নির্দেশ দেন তিনি।


​এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাগর থানার ওসি, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি সহ হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা। বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল স্পষ্টভাবে জানান, সাধারণ মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা চলবে না।
​হাসপাতালে যাতে ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক।


​রোগী রেফার করার প্রবণতা নিয়ে বিধায়ক চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নির্দেশ দেন, কোনো রোগীকে রেফার করলে তিনি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছালেন এবং চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, তার সম্পূর্ণ ট্র্যাকিং রিপোর্ট রাখতে হবে।
​রোগী রেফার করার পর তার দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। যদি কোনো রোগীর যথাযথ চিকিৎসা না হয়, তবে তার দায়ভার রোগী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।​হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত পরিষেবা আরও উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিধায়ক। সাগরবাসীর জন্য সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল।


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। আজ গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণনগর মধ্যপল্লী এলাকায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এলাকার মহিলাদের হাতে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র তুলে দেন সাগর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল এবং বিডিও কানাইয়া কুমার রাও।


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে আরও সুবিধাযুক্ত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু হলো।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল বলেন, "মায়েদের মধ্যে এই যোজনা নিয়ে বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশা করছি, আগামী ৩ জুনের মধ্যেই প্রচুর সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়বে।" তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তা মহিলারা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।


সরকারি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে স্থানীয় মহিলারা এদিন ভিড় জমান। বিধায়ক ও বিডিওর উপস্থিতিতে ফর্ম বিলি প্রক্রিয়ার সূচনা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে খুশির হাওয়া দেখা যায়। দ্রুত ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর সাগর থানার অন্তর্গত মুড়িগঙ্গা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মন্দিরতলা গ্রামে ৩১ নম্বর বুথে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এক বিজেপি কর্মীর পানের বরজ নষ্ট করার অভিযোগ উঠল। 


ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও নেতাদের দিকে। ভুক্তভোগী বিজেপি কর্মী গণেশ দাসের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার পানের বরজে প্রবেশ করে। সেখানে থাকা প্রচুর পানের গাছ তারা নির্বিচারে কেটে ফেলে। এর ফলে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। গণেশবাবুর অভিযোগ, এটিই প্রথম নয়, এর আগেও তাকে একাধিকবার শাসক দলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, নির্বাচনের ঠিক আগে তার আরেকটি পানের বরজে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। ক্রমাগত এই ধরনের আক্রমণের ফলে তিনি এবং তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনার পর সাগর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন গণেশ দাস। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগরদ্বীপের রাজনৈতিক উত্তাপ যে বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।

দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত। এরপর আজ অর্থাৎ বুধবার পুরীর হোটেল 'ব্লু লিলি' থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, পুরীতে প্রায় তেরো দিন লুকিয়ে ছিলেন তিনি। একটি হোটেল নয়, একাধিক হোটেলে তিনি ছিলেন। সর্বশেষে তাঁর লোকেশন ট্রাক করে বেঙ্গল STF গ্রেফতার করেছে তাঁকে। ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে তাঁকে। তবে শুধু দিলীপ একা নয়, একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ছেলেও।

 ১৩ দিন পুরীতে ঘাপটি মেরেও হল না লাভ, হোটেল থেকে STF তুলে নিল 'রাজপ্রাসাদের' মালিক তৃণমূলের দিলীপকে
দিলীপ মণ্ডল, তৃণমূল বিধায়ক

বাড়ির ভিতর গুহা। যদিও বাড়ি বলা ভুল, এক কথায় তাঁর রয়েছে রিসর্ট। যার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ধাঁধিয়ে গিয়েছিল চোখ। কিন্তু এটা যার বাড়ি সেই তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ছিলেন বেপাত্তা। খোঁজ চলছিল তাঁর। অবশেষে পুরী থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে।


দিলীপের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?


অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্মে কী কী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আপনাকে?
বিধানসভা ভোটের পর একটি বিজয় মিছিল বা প্রকাশ্য সভা থেকে তিনি বিরোধীদের (বিশেষত বিজেপি নেতাদের) উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযোগ, এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর এবং সম্পত্তি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকী, যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বা বিজেপির হয়ে কাজ করেছে,তাঁদের বিষ্ণুপুর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তারপর অভিযোগ দায়ের হয় থানায়। কিন্তু খোঁজ পাওয়া যায়নি তাঁর।


কোথা থেকে কীভাবে গ্রেফতার?

দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত। এরপর আজ অর্থাৎ বুধবার পুরীর হোটেল ‘ব্লু লিলি’ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, পুরীতে প্রায় তেরো দিন লুকিয়ে ছিলেন তিনি। একটি হোটেল নয়, একাধিক হোটেলে তিনি ছিলেন। সর্বশেষে তাঁর লোকেশন ট্রাক করে বেঙ্গল STF গ্রেফতার করেছে তাঁকে। ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে তাঁকে। তবে শুধু দিলীপ একা নয়, একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ছেলেও।

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, কীভাবে তিনি এই সম্পত্তি করলেন, কোথা থেকে এত সম্পত্তি তাঁর হল, কেন তিনি এই উস্কানিমূলক মন্তব্য করলেন সবটাই তদন্ত করা হবে।


চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভাইরাস সংক্রমণকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি বলে ঘোষণা করেছে।


 ভারতেও ঢুকে পড়ল ইবোলা ভাইরাস? উগান্ডা থেকে আসা মহিলার শরীরে উপসর্গ, এখন কী অবস্থা?
ফাইল চিত্র।

 ভারতেও কি ঢুকে পড়ল ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus)? আফ্রিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা ভাইরাস। এবার উগান্ডা (Uganda) থেকে এক যাত্রী ভারতে আসতেই ছড়াল আতঙ্ক। আপাতত ওই যাত্রীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইবোলা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। বেঙ্গালুরুতে এক মহিলাকে আইসোলেশনে (Isolation) রাখা হয়েছে ইবোলার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর। সম্প্রতি ওই মহিলা উগান্ডা থেকে এসেছেন।



পুরনো অভ্যাস এখনও বদলায়নি...', এক রাতেই অপসারিত BDO প্রশান্ত বর্মনের জামিন হওয়ার পিছনে কার হাত? সরাসরি নাম বললেন মন্ত্রী
চালক ছাড়াই এবার ছুটবে ট্রেন! কোথা থেকে কতদূর চলবে, ভাড়া কত, জানুন সব ডিটেইল
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ওই মহিলার শরীরে যন্ত্রণা ছিল, বাকি কোনও উপসর্গ নেই। তাঁকে বেঙ্গালুরুর এপিডেমিক ডিজিজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণের জন্য। তাঁর নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, ওই মহিলার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে তাঁকে আইসোলেশন থেকে এখনই ছাড়া হবে কি না, তা এখনও জানানো হয়নি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভাইরাস সংক্রমণকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি বলে ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ্য, কঙ্গো, উগান্ডা, সুদান সহ আফ্রিকার একাধিক দেশে মারণ রূপ নিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-তে এখনও পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। শতাধিক আক্রান্ত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে। অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে এই অতিমারি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

এরপরই দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে ইবোলা নিয়ে। কঙ্গো, উগান্ডা, সাউথ সুদানকে ‘হাই রিস্ক’ দেশ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই দেশ থেকে আসা বা ট্রানজিট করা যাত্রীদের অবিলম্বে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। যদি কারোর জ্বর, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, পেশিতে যন্ত্রণা, বমি, ডায়ারিয়া, আচমকা রক্তপাত বা গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৩ সালে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তিনি পরিচালনা করেন ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ (Ascharya Pradeep)। আধুনিক মধ্যবিত্তের সীমাহীন লোভ আর কর্পোরেট দুনিয়ার মায়াজালকে এক ফ্যান্টাসি-স্যাটায়ারের মোড়কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন তিনি।


বুধবার যে টলিপাড়া এমন একটা দিন দেখবে তা যেন সকাল থেকে আন্দাজ করতে পারেননি কেউ। হঠাৎই শোকের খবর। প্রয়াত টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক অনীক দত্ত। তাঁর মৃত্যু ঘরে রহস্যের ধোঁয়া। বুধবার প্রথমে খবর পাওয়া যায়, ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন অনীক। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় পরিচালকের।

সমকালীন বাংলা চলচ্চিত্রে যখন ফর্মুলা ছবির একঘেয়েমি আর সস্তা মেলোড্রামার ভিড়, ঠিক তখনই এক ঝলক টাটকা বাতাসের মতো আগমন ঘটেছিল অনীক দত্তর ছবির। টলিউডের মূলধারার চেনা ছকটাকে ভেঙে চুরমার করে, তীক্ষ্ণ রসবোধ আর বুদ্ধিমত্তার মিশেলে যিনি বাঙালি দর্শককে নতুন করে সিনেমা হলে টানতে বাধ্য করেছিলেন। কেবল একজন পরিচালক হিসেবে নন, চিত্রনাট্যকার এবং গীতিকার হিসেবেও বাংলা সিনেমার আঙিনায় তিনি নিজের এক স্বতন্ত্র ঘরানা তৈরি করেছেন।


রহস্যজনক! ছাদ থেকে পড়েগুরুতর আহত বাংলার প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্ত
Parambrata Chattopadhyay: এবার গ্রেফতারির ভয়! আদালতে দৌঁড়লেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়
২০১২ সালে এক অভাবনীয় ধামাকা দিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে অনীক দত্তের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তাঁর প্রথম ছবি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ (Bhooter Bhabishyat) রাতারাতি ‘কাল্ট ক্লাসিক’-এর মর্যাদা পায়। কলকাতার এক পুরনো ভুতুড়ে বাড়িকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক কমেডিটি বক্স অফিসে ইতিহাস তৈরি করেছিল। ছবির সংলাপ থেকে শুরু করে প্রতিটি চরিত্রের নামকরণ এবং বাঙালি নস্টালজিয়ার সঙ্গে আধুনিক পুঁজিবাদের সংঘাত— অনীক দত্ত দেখিয়ে দিয়েছিলেন কীভাবে স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গকৌতুককে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৩ সালে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তিনি পরিচালনা করেন ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ (Ascharya Pradeep)। আধুনিক মধ্যবিত্তের সীমাহীন লোভ আর কর্পোরেট দুনিয়ার মায়াজালকে এক ফ্যান্টাসি-স্যাটায়ারের মোড়কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন তিনি। এই ছবির গানগুলোর গীতিকারও ছিলেন তিনি নিজেই, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেয়। ২০১৭ সালে তিনি উপহার দেন থ্রিলার ছবি ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ (Meghnad Badh Rahasya)। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্যের আবহে বোনা এই রহস্য-রোমাঞ্চ ছবিটিতে পরিচালকের মগজাস্ত্রের পরিচয় আরও একবার স্পষ্ট হয়।

২০১৯ সালে মুক্তি পায় ‘ভবিষ্যতের ভূত’ (Bhobishyoter Bhoot), যা নানা রাজনৈতিক বিতর্কের মুখোমুখি হলেও পরিচালকের আপসহীন মানসিকতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এর ঠিক পরের বছরই, ২০২০ সালে মুক্তি পায় ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ (Borunbabur Bondhu)। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত এই ছবিটিতে এক একাকী, নীতিবান বৃদ্ধের জীবনের জটিল সামাজিক ও পারিবারিক মনস্তত্ত্বকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছিলেন পরিচালক।

তবে অনীক দত্তের চলচ্চিত্র জীবনের অন্যতম সেরা কীর্তি হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ২০২২ সালের ‘অপরাজিত’ (Aparajito) ছবিটি। কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের শতবর্ষে এটি ছিল পরিচালকের এক পরম শ্রদ্ধার্ঘ্য। সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির নেপথ্য লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সাদা-কালো বায়োগ্রাফিক্যাল ড্রামাটি দেশ-বিদেশে বিপুল প্রশংসা কুড়োয়। জীতু কামালের মধ্যে ‘অপরাজিত রায়’ হিসেবে সত্যজিৎ রায়কে পুনরুজ্জীবিত করার যে সাহস ও মুন্সিয়ানা অনীক দত্ত দেখিয়েছেন, তা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয়।

থামবার পাত্র যে তিনি ছিলেন না, তা প্রমাণিত হয় ২০১৫ সালে তাঁর নতুন গোয়েন্দা থ্রিলার ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ (Joto Kando Kolkatatei)-এর হাত ধরে। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই এই ছবিটি নিয়ে সিনেমা-অনুরাগীদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়। এই ছবিতেও নিজের স্টাইলের স্বাক্ষর রেখেছিলেন অনীক দত্ত।

অনীক দত্তের সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার মাটির কাছাকাছি থাকা শিকড়ের টান এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সিনেমাটিক ল্যাঙ্গুয়েজ। তাঁর প্রতিটি ছবিই যেন সমাজকে আয়না দেখায়, কিন্তু তা কখনও মেলোড্রামাটিক বা একঘেয়ে উপদেশমূলক হয়ে ওঠে না; বরং তা হয় বুদ্ধিমত্তার রসে সিক্ত। বাঙালি সংস্কৃতির রেনেসাঁকে সেলুলয়েডে ধরে রাখার এই যে অনলস প্রয়াস, তা অনীক দত্তকে সমসাময়িক টলিউডের অন্যতম সেরা এবং ব্যতিক্রমী ‘অট্যুর’ (Auteur) বা চলচ্চিত্রকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। সেই অধ্যায়ই যেন আচমকা শেষ হয়ে গেল।

মেয়র পারিষদ তারক সিং টিভি ৯ বাংলাকে বলেন, "আমি এটা ভাঙন বলে মানি না। এখন দলের যাঁরা নেতৃত্বে আছেন তাঁদের বসা উচিত বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে। আলোচনা করা উচিত এই বিক্ষুব্ধরা তৃণমূলে থাকবেন কি থাকবেন না। দল দ্বিধা বিভক্ত নিশ্চয়। এই নেতৃত্বকে মানব কি মানব না এটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে।"


মঙ্গলে মমতা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজের নির্দেশ দিয়েছিলেন, বুধের সকালে ইস্তফা দিতে হাজির অরূপ-সুশান্ত
অরূপ চক্রবর্তী-সুশান্ত

তৃণমূলের রক্তক্ষরণ অব্যাহত। এবার ভাঙন কলকাতা পুরসভায়। জানা যাচ্ছে, পুরসভার দায়িত্বে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূরণ পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে দেবলীনা বিশ্বাস এই চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। আর এবার পদ ছাড়লেন সুশান্ত ও অরূপরা।


কী কী পদ ছাড়লেন?


 প্রকাশিত হল অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম, করে ফেলুন অ্যাপ্লাই
জানা যাচ্ছে, ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত। পাশাপাশি ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির’ পদ ছাড়ছেন অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে ৯ নম্বর বোরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা। তবে সূত্রের খবর, শুধু দেবলীনা-অরূপ কিংবা সুশান্ত নয় আরও অনেকেই পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর।


গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। তাঁদের ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে পরের দিনই দেখা গেল উল্টো ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেছিলেন, “আপনারা বসে আছেন কেন? কেন এখনও রাস্তায় নামছেন না? আপনারা ভুলে যাচ্ছেন কেন, আপনাদের বোর্ড এখনও নির্বাচিত। তাই মানুষের পরিষেবা দিন। রাস্তায় নামুন।” ঠিক এই ভাষাতেই পুনরায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মেয়র পারিষদ তারক সিং টিভি ৯ বাংলাকে বলেন, “আমি এটা ভাঙন বলে মানি না। এখন দলের যাঁরা নেতৃত্বে আছেন তাঁদের বসা উচিত বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে। আলোচনা করা উচিত এই বিক্ষুব্ধরা তৃণমূলে থাকবেন কি থাকবেন না। দল দ্বিধা বিভক্ত নিশ্চয়। এই নেতৃত্বকে মানব কি মানব না এটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে।”

সজল ঘোষের কী বক্তব্য

তিনি বলেন, “খবর হওয়ার জন্য এইসব করছেন। যদি ছাড়ার থাকে তবে কাউন্সিলর পদ ছাড়ুন। তৃণমূল ছাড়ুন। মরার চুল কেটে কি আর মরার ওজন কমানো যায়?”

সুশান্ত ঘোষ বলেন, "সুশান্ত ঘোষ: কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতারা এখন কোথায়? গত পনেরো বছর দলের সঙ্গে লড়েছি। ২০ সালে আমার উপর আক্রমণ হয়। চব্বিশ সালে আক্রমণ হয়। অবাক ব্যাপার, আমার সরকার ঠিকল করে তদন্ত করেনি। অদ্ভুত ভাবে প্রধান দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি নিজের পার্সোনাল আইনজীবীর সাহায্য় নিয়ে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব এই তদন্তটা দেখতে।"

বড় বড় মন্ত্রীরা Z প্লাস নিয়ে ঘুরতেন এখন কই? কেষ্ট-বিষ্টুরা কই?', পদ ছাড়ার পর প্রশ্ন অরূপ-সুশান্তদের
অরূপ চক্রবর্তী ও সুশান্তর বৈঠক


কলকাতা পুরনিগমের গুরুত্বপূরণ পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। জানা যাচ্ছে, ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত। পাশাপাশি ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির’ পদ ছাড়ছেন অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে ৯ নম্বর বোরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা।


কেন পদ ছাড়লেন সুশান্ত-অরূপরা? কী কী বললেন একনজরে?



প্রকাশিত হল অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম, করে ফেলুন অ্যাপ্লাই
ভারতেও ঢুকে পড়ল ইবোলা ভাইরাস? উগান্ডা থেকে আসা মহিলার শরীরে উপসর্গ, এখন কী অবস্থা?
সুশান্ত ঘোষ: অন্য় রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে। যাঁদের মানুষ ক্ষমতায় এনেছেন তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। এখনও আমরা পরিষেবা দিচ্ছি। তাঁদের জন্যই কাউন্সিলর পদ রেখে দিলাম।

সুশান্ত ঘোষ: এই রেজাল্ট কাম্য ছিল না। আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১৫০ ছেলে পাড়া ছাড়া। গত কয়েকদিনে যে সকল বড় বড় মন্ত্রীরা Z প্লাস-Y প্লাস নিয়ে ঘুরে বেড়াতে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এক-একজনের বড় বড় জেলার দায়িত্ব ছিল। এদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। বিজেপিকে ধন্যবাদ। ওদের জন্য অনেককে ঘরে ফেরাতে পেরেছি। বাকিদের ফিরিয়ে আনলে আমাদের দায়িত্ব শেষ।

সুশান্ত ঘোষ: আমি এখনও দলের কর্মী। দল আন্দোলনের ডাক দিলে এখনও আছি।

অরূপ চক্রবর্তী: দল মানে কারা? মমতাদি অভিষেক ছাড়া বাকি নেতৃত্ব কই? বাকি কেষ্টু-বিষ্টুরা কই?যাঁদের কনভয়ের আগে চারটে পাঁচটা করে গাড়ি থাকে? তাঁরা কই। আজ জনাদেষ আমাদের বিপক্ষে গেছে আমাদের মানতে হবে। হার স্বীকার করতে হবে। ছাব্বিশের হার না মানা মানে বাকি জয়গুলো মিথ্যা হয়ে যায়। এটাই মানতে হবে। গণতন্ত্রে মানুষের রায় মান্যতা দিতে হবে।

অরূপ চক্রবর্তী: আমি কয়েকটা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। কেউ ক্ষমতায় সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। সিপিএম ভেবেছিল থাকবে এখন নেই। মমতার বাড়িতে রবীন্দ্র-জয়ন্তী অনুষ্ঠান হচ্ছে, তখন সেই সেলিব্রেটিরা কোথায়? নিচুতলার কর্মীরা মুখ বুজে দাঁড়িয়েছি।

অরূপ চক্রবর্তী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ হেরেছেন। কিন্তু মমতাদিকে মূল্যায়ন করার ধৃষ্টতা আমাদের নেই। ওঁর প্রতি এখনও মানুষের আবেগ আছে।

সুশান্ত ঘোষ: কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতারা এখন কোথায়? গত পনেরো বছর দলের সঙ্গে লড়েছি। ২০ সালে আমার উপর আক্রমণ হয়। চব্বিশ সালে আক্রমণ হয়। অবাক ব্যাপার, আমার সরকার ঠিকল করে তদন্ত করেনি। অদ্ভুত ভাবে প্রধান দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি নিজের পার্সোনাল আইনজীবীর সাহায্য় নিয়ে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব এই তদন্তটা দেখতে।


 গুরুতর আহত হন অনিক। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় পরিচালকের। সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার স্ত্রীয়ের গড়িয়াহাটের বাড়িতেই ছিলেন অনিক। সেই বাড়ির ৬ তলার ছাদ থেকেই পড়ে গুরুত আহত হন।


টালিগঞ্জে শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনী চলচ্চিত্রের পরিচালক অনীক দত্ত। ভূতের ভবিষ্যৎ সিনেমার মাধ্যমে ফিচার ফিল্মে আত্মপ্রকাশ অনীকের । তার আগে বিজ্ঞাপনী জগতে তাঁর উজ্জ্বল অতীত রয়েছে অনীক দত্তর। সম্প্রতি সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালীর নির্মাণের গল্প নিয়ে অপরাজিত পরিচালনা করে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।


বুধবার প্রথমে খবর পাওয়া যায়, ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন অনীক। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় পরিচালকের। সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার গড়িয়াহাটের বাড়িতেই ছিলেন অনীক । সেই বাড়ির ৬ তলার ছাদ থেকেই পড়ে গুরুত আহত হন এবং হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। যেখানে পড়েছেন সেই জায়গা কর্ডন হয়েছে। পড়ে গিয়েছেন নাকি কেউ ঠেলে দিয়েছে তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। জানা গিয়েছে, পরিচালকের মেয়ে থাকেন বিদেশে। তিনি এলেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।



আমার সবচেয়ে বেশি বিঁধছে ...',কী বললেন অনীক দত্তর শেষ ছবির নায়ক আবির?
কেরিয়ারের শুরু থেকে অবশ্য সরাসরি ফিচার ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তিনি। বিজ্ঞাপনের জন্যই ছবি বানাতে বানাতেন। তবে বড়পর্দায় পরিচালক হিসেবে প্রথম ব্রেক তাঁর ভূতের ভবিষ্যৎ। প্রথম ছবিতেই অনীক বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর পরিচালনার মুন্সিয়ানা। ভূতের ভবিষ্যত বাংলা ছবির ক্ষেত্রে মাইলস্টোন। স্যাটারায়কে সঙ্গী করে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতিকে তুলে ধরেছিলেন অনীক । এরপর অনীক তৈরি করেন আশ্চর্য প্রদীপ, মেঘনাদবধ রহস্য, ভবিষ্যতের ভূত, বরুণ বাবুর বন্ধু, অপরাজিত। গত পুজোতে মুক্তি পায় অনীকের শেষ ছবি, যত কাণ্ড কলকাতাতেই।


 সাক্ষাৎকারে বললেন, "আমি ভোট রাজনীতিতে আর থাকবো না। ভোট এ দাঁড়াব না। বিশেষ করে চন্দননগরে এই ঘটনার পর...আমার কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ভোট রাজনীতি সম্বন্ধে। শিল্পীরা অনেক সেনসিটিভ। অল্পেতে তাঁরা কেঁদের ফেলেন অল্পে তাঁরা হাসেন। এটা আজ পর্যন্ত অন্তত তাই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কাল কি হবে জানি না (হেসে ) 

অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে...আজ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত, কাল কী হবে জানি না', কী সিদ্ধান্ত ইন্দ্রনীলের?
কী বক্তব্য ইন্দ্রনীলের?

 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যতদিন প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন, ততদিন তাঁর ঠিক আশপাশে যাঁদের দেখা যেত তাঁদের মধ্যে অন্যতম চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। গানের জগত থেকে এসে তাঁক রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে। তারপর টানা দু’বার চন্দননগরের বিধায়ক ছিলেন। হয়েছেন মন্ত্রীও। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে মমতা-ইন্দ্রনীলকে একসঙ্গে গান গাইতে বহুবার শুনেছেন বাংলার মানুষ। তবে, এবারের ভোটে জিততে পারেননি তিনি।রাজ্যের অন্য জায়গার মতোই চন্দননগরও দখল করেছে বিজেপি। এবার কী করবেন ইন্দ্রনীল? আজ টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করলেন সেই কথাই।


বাংলার রাজনীতিতে সরকার বদল হতেই দলের নেতাদের অনেকেই বেসুরো গাইছেন। নিচুতলার অনেক কর্মী প্রশ্ন করেছেন, কেন আগের বড়-বড় মন্ত্রী নেতাদের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না? তাঁরা কোথায় গেলেন? এই রকমই চর্চার কেন্দ্রেও রয়েছেন ইন্দ্রনীল নিজেও। তবে তিনি জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তবে, আপাতত, গান নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন তিনি।




ইন্দ্রনীল বলেন, “আমি রাজনীতিতে রয়েছি, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই। । দুটোতে তফাৎ আছে। আমায় বাংলার মানুষ গায়ক হিসাবে চেনে, শিল্পী হিসাবে চেনে। আমি যখন ভোটে দাঁড়াই তখন আমায় মানুষ বিধায়ক করেছেন। এই সম্মান আমায় দল দিয়েছে। আমি উপভোগ করেছি।” তাঁর আরও সংযোজন, “আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। হয়ত কিছু পেরেছি, হয়ত অনেকটা পারিনি। কাউকে দোষারোপ করব না। আমি শিল্পী হিসাবে গান বাজনা চালাব। শিল্পী হিসাবে লেখক-সাহিত্যিক-কবি-নাট্যকার-গায়কের দায়িত্ব আছে। আমি তাই করব।”

ভোটে কি আর লড়াই করবেন না ইন্দ্রনীল?

 দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, “আমি ভোট রাজনীতিতে আর থাকবো না। ভোট এ দাঁড়াব না। বিশেষ করে চন্দননগরে এই ঘটনার পর…আমার কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ভোট রাজনীতি সম্বন্ধে। শিল্পীরা অনেক সেনসিটিভ। অল্পেতে তাঁরা কেঁদে ফেলেন অল্পে তাঁরা হাসেন। এটা আজ পর্যন্ত অন্তত তাই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কাল কি হবে জানি না (হেসে )

তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ থাকবে?

ইন্দ্রনীল বলেন, “আমার সকলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। ছোটবেলার বন্ধ যাঁরা রাজনৈতিক ভাবে অন্য মতবাদে বিশ্বাসী তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। এটা তো আত্মিক ব্যাপার।”

চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি আন্তর্জাতিক স্তরের শৈল্পিক মঞ্চে একজন রাজনীতিক তথা মুখ্যমন্ত্রীর এমন অতি-প্রচারে তীব্র আপত্তি জানান অনীক দত্ত। তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন, চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার কলাকুশলী বা চলচ্চিত্র জগতের দিকপালদের ছবি থাকা উচিত, কোনও রাজনৈতিক নেত্রীর নয়। পরিচালকের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি নবান্ন এবং শাসক শিবিরের অন্দরমহল।

মমতার ছবি দেখে চটে গিয়েছিলেন অনীক, কী ঘটেছিল পরিচালকের 'ভবিষ্যৎ' ঘিরে?
আকাশ মিশ্র


টলিউডের চলচ্চিত্র মহলে পরিচালক অনীক দত্ত বরাবরই এক স্পষ্টবক্তা এবং আপসহীন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বামপন্থী মনস্ক এই পরিচালকের সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংঘাতের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং বহুল চর্চিত। কেবল সিনেমার পর্দা নয়, একাধিকবার প্রকাশ্য মঞ্চেও সরাসরি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পিছপা হননি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ খ্যাত এই পরিচালক। আর সেই প্রতিবাদের জেরেই বারবার প্রাক্তন শাসকদলের কুনজরে পড়তে হয়েছে তাঁকে, যার খেসারত দিতে হয়েছিল তাঁর সিনেমাকেও। যদিও অনীককে নিয়ে কখনই একটা শব্দও খরচ করেননি মমতা।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনীক দত্তর এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ২০১৮ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নন্দন চত্বরে চলচ্চিত্র উৎসবের সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চারিদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল বিশাল ছবি এবং হোর্ডিং দেওয়া হয়েছিল। চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি আন্তর্জাতিক স্তরের শৈল্পিক মঞ্চে একজন রাজনীতিক তথা মুখ্যমন্ত্রীর এমন অতি-প্রচারে তীব্র আপত্তি জানান অনীক দত্ত। তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন, চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার কলাকুশলী বা চলচ্চিত্র জগতের দিকপালদের ছবি থাকা উচিত, কোনও রাজনৈতিক নেত্রীর নয়। পরিচালকের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি নবান্ন এবং শাসক শিবিরের অন্দরমহল।


 পুলিশের হাতে অনীক দত্তর সুইসাইড নোট, হাতের লেখা মেলাতে পাঠানো হল ফরেন্সিকে, কী লেখা ছিল?
এই বিতর্কের আঁচ গিয়ে পড়ে পরিচালকের কর্মজীবনেও। অন্তত পরিচালকের ঘনিষ্ঠরা এটাই মনে করেন। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় অনীক দত্তর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। ছবিটির বিষয়বস্তু ছিল তীব্র রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্যাটায়ার, যেখানে পরোক্ষভাবে সমকালীন রাজনীতির নানা দিককে তীব্র ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। কিন্তু মুক্তির মাত্র একদিন পরেই কলকাতার প্রায় সমস্ত মাল্টিপ্লেক্স এবং সিনেমা হল থেকে রহস্যজনকভাবে নামিয়ে দেওয়া হয় ছবিটি। অগ্রিম টিকিট কেটেও দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই এভাবে ছবি প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে।

সে সময় সায়নী ঘোষ ছবিটির ওপর এই অনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে চলচ্চিত্র প্রেমী ও বুদ্ধিজীবীদের আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে সায়নী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে শিল্পের টুঁটি চিপে ধরা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি কোনও ছবি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে আইনিভাবে মুক্তি পায়, তবে কোন অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে হল মালিকেরা রাতারাতি সেই ছবি নামিয়ে দিতে বাধ্য হন? তবে সেই সময় তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেও, সেই সায়নী ঘোষ, সময় এগোতেই পট পরিবর্তন করেন। তিনি এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।

সিনেমা মহল থেকে শুরু করে আমজনতা— সকলেই একযোগে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন এবং একে ‘ফ্যাসিবাদী মানসিকতা’ ও ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগের তির সরাসরি ওঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের দিকে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল থেকে ছবি নামানোর পেছনে কোনও অফিসিয়াল কারণ দেখানো হয়নি, তবে ওয়াকিবহাল মহলের বুঝতে বাকি ছিল না যে চলচ্চিত্র উৎসবে মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টার নিয়ে অনীক দত্তর করা মন্তব্য এবং ছবির ভেতরের রাজনৈতিক চাবুকই এই ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’র আসল কারণ।

পরবর্তীকালে এই জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে এবং ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটির প্রদর্শন পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রযোজকদের কুড়ি লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও আদেশ দেয়। আইনি লড়াইয়ে অনীক দত্ত জয়ী হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তাঁর এই সংঘাত টলিউডের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে থেকে গিয়েছে।

মঙ্গলবার শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্যের অভিযোগ। ‘গন্দা’ ধর্ম বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবি। সেই কারণেই দায়ের হয়েছিল মামলা।


 মমতার পর ফের একবার অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হল FIR
অভিযোগ দায়ের


এবার ভবানীপুর থানায় (bhowanipur) তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে এফআইআর। উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে থানায় এফআইআর করলেন অর্ণবকান্তি দাস নামে জনৈক এক ব্যক্তি। তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় অপব্যবহারের অভিযোগ। এর আগেও উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।


অর্ণবকান্তি দাস ভবানীপুরের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারে এই ধরনের কাজ করেছেন অভিষেক। সমাজ-মাধ্যমে তিনি ঘৃণা ছড়িয়েছেন। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় এই ধরনের মন্তব্য় করেছেন তার একটি প্রতিলিপিও অর্ণবাবু দিয়েছেন।



 বড় খবর, মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের থানায়
অভিষেকের কোন মন্তব্যের জন্য FIR?

অর্ণবকান্তি দাসের মতে ২ মে অভিষেক নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, “১০ বার জন্মালেও আপনাদের ‘বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করতে পারবে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জন্যই এবার ভবানীপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।


ভোটের প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি প্রধান এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৬টি ধারায় অভিযোগ আনা হয়। রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মী বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

মমতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের

মঙ্গলবার শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্যের অভিযোগ। ‘গন্দা’ ধর্ম বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবি। সেই কারণেই দায়ের হয়েছিল মামলা।