WEATHER

Top News


বিয়েবাড়ি ভাড়া দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন, তৃণমূল তো ছাড়ছেই না! আশঙ্কায় আদালতে ছুটছেন মেট্রোপলিটনের ওই বাড়ির মালিক
তৃণমূল ভবন

বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে বিশাল বাড়ি। পেল্লায় গেট, পাঁচিল ঘেরা, কাচের জানালা দেওয়া সাজানো ফ্লোর। সম্পত্তির মূল্য যে অনেকটাই, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর সেই সম্পত্তি নিয়েই বিপাকে পড়েছেন বাড়ির মালিক। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়িটি পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে চুক্তি হলেও সেই বাড়ি নিয়ে এবার নতুন বিপত্তি। দুই তৃণমূলের মধ্যে টানাটানি। আর তাতেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মন্টু সাহা।

এবার আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তৃণমূল ভবনের মালিক মন্টু সাহা ওরফে মনোতোষ সাহা। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিজের সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ করতে পারেন মন্টু সাহা। শুক্রবার সকাল থেকে তৃণমূল ভবনের অধিকার নিয়ে টানাপোড়েনের পর রাতে প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্টু সাহার ছেলে অমিত সাহা।


চন্দ্রচূড় সিংয়ের বাড়ির দিকে ধেয়ে এল বুলডোজার! আচমকা কী ঘটল অভিনেতার সঙ্গে?
ঠিক কী অভিযোগ?
কালীঘাটপন্থী তৃণমূল জুলাই মাসে মেট্রোপলিটনের বাড়ি খালি করে দেবে বলেছিল। কিন্তু ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল নতুন করে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন অভিযোগ সামনে আসতেই বাড়ির মালিকের চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে। চুক্তি খেলাপি করা হচ্ছে তৃণমূলের তরফে, এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তাঁরা।

মালিকের অভিযোগ, এই বাড়ি নেওয়ার সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল চুক্তিতে। সেই চুক্তির বয়ান অনুযায়ী কাজ করছে না তৃণমূল। তাঁর অভিযোগ দুই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই। এই ভবনের বাড়ি দেওয়ার সময় যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে সই করেছিলেন তৎকালীন মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। আবার সেই ফিরহাদ হাকিম এখন তৃণমূলের নতুন ব্লকে জায়গা পেয়েছেন।

স্বাভাবিকভাবেই যে বাড়িটিকে নিয়ে বিয়েবাড়ি ভাড়া দেওয়া বা অন্য কাজে ভাড়া দেওয়ার চিন্তা করে রেখেছেন মন্টু সাহা, সেটা নতুন করে দখল এবং পুনর্দখলের রাজনীতি শুরু হওয়ায় চিন্তিত বাড়ির মালিক।

ভবন ঘিরে যা ঘটেছে…
শুক্রবার আচমকাই মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান। তাঁদের দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল। তাই অফিসও তাঁদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পাশে চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের ছবি দেওয়ার ব্যানারও লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছয় পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টার পর ধীরে ধীরে ঋতব্রতপন্থীরা কার্যালয় ছাড়েন। গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে যান। ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে মেট্রোপলিটনে পৌঁছয় কালীঘাট তৃণমূল। তালা খুলে দখলমুক্ত করতে যান কুণাল ঘোষরা। পরে ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কুণাল ঘোষরা।

বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠার পরই মন্দির চত্বরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্ত কমিটি সমস্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করবে এবং বয়ান রেকর্ড করবে।  

অযোধ্যার রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথ মন্দিরের অনুদান চুরির অভিযোগ! কী হচ্ছে সেখানে?
বদ্রীনাথ মন্দিরেও অনুদান চুরি?

অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে যখন ক্রমশ জলঘোলা হচ্ছে, সেখানেই এবার আরও ধামে টাকা চুরির অভিযোগ। এবার কেদারনাথ-বদ্রীনাথ মন্দিরেও অনুদান চুরির অভিযোগ। বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের অনুদানে গরমিল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় হতেই শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির তরফে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, কমিটির তরফে একটি তদন্তকারী প্য়ানেল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তথ্যনিষ্ঠ তদন্ত হয়। মন্দিরে অনুদানের হিসাব করার দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের সকলের কাছ থেকে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। যদি কোনও কর্মী দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।


আমরা কি তবে বাড়ির ছাদে গাড়িটা চালাব?', এবার বাংলার টোটো চালকের জন্য বড় নির্দেশ, শুনেই রাস্তায় নেমে পড়লেন চালকরা
'পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে বাবা হতে চাইলে, আমাদের মতো ভাবতে পারেন', বলছেন রাজা
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, তাতে দাবি করা হয়েছে যে বদ্রীনাথ মন্দিরে যে আর্থিক অনুদান জমা পড়ছে, তা নিয়ে কারচুপি হচ্ছে। বিপুল অঙ্কের আর্থিক প্রতারণা হচ্ছে। এরপরই মন্দির কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করে। গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে, কারণ লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর আস্থা ও বিশ্বাস এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠার পরই মন্দির চত্বরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তদন্ত কমিটি সমস্ত তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করবে এবং বয়ান রেকর্ড করবে।

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই রাম মন্দিরে আর্থিক অনুদান চুরি নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, মন্দিরের দানবাক্স থেকে কমপক্ষে সাড়ে আট কোটি টাকা চুরি গিয়েছে। কুম্ভমেলার সময় সবথেকে বেশি টাকা চুরি গিয়েছে।

১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাজ চলছে। যদিও তা চালু করতে সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন হাওড়া ডিভিশনের কর্তারা। এছাড়া, হাওড়া স্টেশনে বসানো হচ্ছে নতুন Route Relay 

 সামনের মাসেই নতুন প্ল্যাটফর্ম, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও! হাওড়া লাইনের নিত্যযাত্রীদের জন্য বড় খবর
ফাইল ছবি

 হাওড়া ডিভিশনে নতুন ট্রেনের সংখ্যা বাড়ছে। ট্রেনের গতি আর সময়কে গুরুত্ব দিতে জুলাই মাসের মধ্যে নয়া প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রেন বাড়ছে। আসছে নতুন বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসও। যেকারণে হাওড়া স্টেশন ও হাওড়া ডিভিশনের রেল পরিকাঠামোয় একাধিক বড় উন্নয়নের ঘোষণা করল পূর্ব রেল।

প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারিত এবং চওড়া করার পাশাপাশি নতুন প্ল্যাটফর্ম চালুর সিদ্ধান্ত হাওড়া ডিভিশনের। হাওড়া ডিভিশনে দেরিতে চলার ট্রেনের যে রোগ, তা কিছুটা নিরাময় করতেই নয়া প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা। শুক্রবার পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, হাওড়া স্টেশনে চালু হচ্ছে নতুন ২৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম।


আমিরের তৃতীয় বিয়েতে শুভেচ্ছা জানালেন সলমনের প্রাক্তন প্রেমিকা, খোঁচা দিলেন বলিউডের ভাইজানকে?
৬৩৫ মিটার দীর্ঘ এই প্ল্যাটফর্মটি ২.৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে এবং জুলাই মাসেই চালু হতে চলেছে। হাওড়া ডিভিশন সূত্রে খবর, এখানেই শেষ নয়, দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন পরিচালনার সুবিধার্থে ১০-১১ এবং ১২-১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাজ চলছে। যদিও তা চালু করতে সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন হাওড়া ডিভিশনের কর্তারা। এছাড়া, হাওড়া স্টেশনে বসানো হচ্ছে নতুন Route Relay Interlocking (RRI) ব্যবস্থা, যা ট্রেন চলাচলকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করবে।

হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর জানান, দক্ষিণ-পূর্ব রেল এবং পূর্ব রেলের লাইন এক জায়গায় এসে সংযোগ হচ্ছে। মূলত সেই জংশন পয়েন্টের জন্যই হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়তে এবং বের হতে দেরি হচ্ছে।

সেই অংশের পৃথকীকরণের কাজ চলছে। সেই কাজ শেষ হলে ট্রেনের এই দেরিতে চলার রোগ কার্যত নিরাময় হয়ে যাবে। এছাড়া এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে, হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ ব্যাখ্যা দেন তিনি।

তারকেশ্বর, লিলুয়া, আজিমগঞ্জ, ডানকুনি, রামপুরহাট ও কাটোয়ায় কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে একাধিক স্টেশনে লিফট বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৮টি স্টেশনে ১৫টি লিফট চালু হয়েছে।

পরবর্তী পর্যায়ে হাওড়া, তারকেশ্বর, সাঁইথিয়া, বালি, রিষড়া, বেলুড়, শেওড়াফুলি, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, লিলুয়া-সহ আরও বিভিন্ন স্টেশনে লিফট বসানো হবে। প্রায় ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯টি স্টেশনে এস্কেলেটর (চলমান সিঁড়ি) বসানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বালি, শেওড়াফুলি, চন্দননগর, বর্ধমান, বোলপুর, রামপুরহাট, অম্বিকা-কালনা, কাটোয়া ও আজিমগঞ্জ।

 হকার্স সংগঠনকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। এমনটাই দাবি করে গেলেন হকার্স সংগঠনের নেতা অসিত সাহা। উনি হকার্স জয়েন্ট একশন কমিটির রাজ্য সভাপতি। হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান।


 দুর্গাপুজো! হকারদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য
নবান্ন


 আসন্ন দুর্গাপুজো পর্যন্ত রাজ্যের কোনও প্রান্তেই হকার উচ্ছেদ করা হবে না। আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির রাজ্য সভাপতি অসিত সাহা নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি জানান।

তিনি বলেন, “রাজ্য জুড়ে হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবিকতার খাতিরে উৎসবের মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো হকারকে সরানো হবে না।” রেলের অধীনে থাকা হকারদের উচ্ছেদ প্রসঙ্গে অসিত বলেন, রেলের বিষয়টি সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। তা সত্ত্বেও মানবিকতার দিক বিবেচনা করে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


 অভিষেককে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন, দুই তৃণমূলের দ্বন্দ্বে এবার কোন পথে শোভন চট্টোপাধ্যায়?
রবিনহুডকে 'আশ্রয় দেওয়া' ১২০০ বছরের গাছ আজ 'প্রাণহীন'
হকার পুনর্বাসন এবং পরবর্তী নীতি নির্ধারণের জন্য আগামী সপ্তাহেই পুর দপ্তরের সচিবের সঙ্গে হকার্স সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হকারদের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে রাজ্য জুড়ে লক্ষাধিক হকার পরিবার আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।

গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে চলেছে হকার উচ্ছেদ। কোথাও কোথাও মার্কেটগুলোতেও নোটিস পড়েছে। তা নিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন হকাররা। তাঁরা পুনর্বাসনেরও দাবি জানাচ্ছিলেন। এবার হকার জন্য বড় ঘোষণা রাজ্যের।

বাড়িটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পাশাপাশি চেয়ারম্যান হিসেবে ঋতব্রত-ব্লক অরূপ রায়ের ছবি দেওয়া একটি ব্যানারও লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল অর্থাৎ কুণাল ঘোষরা।

নাম বলব না', বলেই তৃণমূল অফিসের চাবি খুলে চারতলায় উঠে গেলেন এই ব্যক্তি
চাবি খুললেন কে?

মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন যেন নাট্যমঞ্চ। শুক্রবারই শো শেষ হল না। দিনভর নাটকের পর শনিবার সকাল থেকে ফের শুরু। মেট্রোপলিটনে ভাড়ায় নেওয়া তৃণমূলের (Trinamool Congress) কার্যালয় নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে আগেই। তৃণমূলের কোন শিবিরের অধিকারে থাকবে ওই অফিস, কারা তালা লাগাবে, এই নিয়ে টানাটানির মধ্যেই শনিবার সকালে দেখা গেল, এক ব্যক্তি চাবি খুলে ভিতরে প্রবেশ করছেন।

ওই ব্যক্তিকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “অমিত সাহা আমাকে পাঠিয়েছিলেন। আমাদের যে পজিশন আছে, সেখানে যাওয়ার কথা বলেছে।” হাতে একটি জিডি-র কাগজ নিয়ে এসেছেন তিনি। পুলিশের সঙ্গে কথা বলেই এসেছেন বলে জানালেন ওই ব্যক্তি। উল্লেখ্য, অমিত সাহা হলেন ওই বাড়ির মালিক মন্টু সাহার ছেলে। 


বায়োলজি পড়ানোর নাম করে ফাঁকা ভাড়াবাড়িতে স্যারের 'স্পেশাল ক্লাস'! সহ্য় করতে না পেরে সবটা সামনে আনল ছাত্রী
আমিরের তৃতীয় বিয়েতে শুভেচ্ছা জানালেন সলমনের প্রাক্তন প্রেমিকা, খোঁচা দিলেন বলিউডের ভাইজানকে?
প্রশ্ন হল, যে তালা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছেন, সেই তালার চাবি এই ব্যক্তি পেলেন কোথা থেকে? ওই ব্যক্তির উত্তর, ‘চাবিগুলো স্যর দিয়েছেন।’ কে আপনার স্যর? উত্তর এল, “বলতে পারব না।” কী নাম আপনার? আবারও উত্তর এল, “নাম বলব না।”

মেট্রোপলিটনের ওই বাড়ির উপরের অংশ অর্থাৎ ৪ ও ৫ তলা মালিকেরই নামে রয়েছে। ওই ব্যক্তি সেখানেই যাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। বাড়িটির তিনটি তলা ভাড়ায় দেওয়া আছে।

বাড়িটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পাশাপাশি চেয়ারম্যান হিসেবে ঋতব্রত-ব্লক অরূপ রায়ের ছবি দেওয়া একটি ব্যানারও লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একদিকে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল অর্থাৎ কুণাল ঘোষরা। পাশাপাশি, বাড়ির মালিকও একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

দিনকয়েক আগেই তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ দেওয়া হয়েছিল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় সব কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছিল চন্দ্রিমাকে। এবার সেই নেত্রীও দিলেন ইস্তফা। সোমবারের আগেই এই সিদ্ধান্ত।


তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

একে একে হাত ছেড়েছেন অনেকেই। তবুও যে কয়েকজনের আনাগোনা ছিল কালীঘাটে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশে যে সব নেতা-নেত্রীদের দেখা যাচ্ছিল, তাঁদের সংখ্যাও এবার কমছে? ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের পর এবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও? তৃণমূলের সব পদে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয় ও বিক্ষুব্ধদের নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ব্লক গঠনের পর মমতা যে নতুন কমিটি তৈরি করেছিলেন, তাতে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ দেওয়া হয়েছিল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় সব কর্মসূচিতেই দেখা যাচ্ছিল চন্দ্রিমাকে। এবার সেই নেত্রীও দিলেন ইস্তফা। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে তৃণমূল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।


 'ওর অনেক লাগেজ-ব্যাগেজ আছে', চন্দ্রিমার ছেলের কথা টেনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মমতার
দিনকয়েক আগে নিউ টাউনের হোটেলে তৃণমূলের বিধায়ক-কাউন্সিলদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ। তারপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয়, কিন্তু কালীঘাটে তারপরও চন্দ্রিমার উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার কর্মীদের নিয়ে একটি কর্মিসভায় নেতৃত্বও দেন চন্দ্রিমা। তারপরই এই সিদ্ধান্ত।

আগামী সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মমতা ও ঋতব্রত, দুই পক্ষেরই উত্তর দেওয়ার কথা। আসল তৃণমূল হিসেবে প্রমাণ দিতে হবে তাঁদের। তার ঠিক আগেই তৃণমূলের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করলেন চন্দ্রিমা।

পেশায় আইনজীবী চন্দ্রিমা শুধুমাত্র রাজ্য়ের একজন মন্ত্রীই ছিলেন না, কার্যত মমতার ছায়াসঙ্গী, অন্যতম ভরসার মুখ হয়ে উঠেছিলেন চন্দ্রিমা। স্বাস্থ্য, অর্থ, আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব তাঁকে দিয়েছিলেন মমতা। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে পরাজিত হওয়ার পর ২০১৭ তে দক্ষিণ কাঁথি থেকে জয়ী হন চন্দ্রিমা। ২০২১-এ দক্ষিণ দমদম বিধানসভা থেকে জয়ী হন তিনি। ২০২৬-এ ওই কেন্দ্রে বিজেপির কাছে পরাজিত হন।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, ছেলে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে যাওয়ার পর, তিনি ছেলের সঙ্গে দেখা করাও কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সব বৈঠক, সম্মেলনে নিয়মিত যাচ্ছিলেন তিনি। আনুগত্য প্রদর্শনে কোনও খামতি রাখেননি। তারপরও এই সিদ্ধান্ত!


২৪ ঘণ্টা আগেও ছিলেন পার্টি অফিসে, শুধু মমতার এই একটা কথাতেই সব সম্পর্ক ত্যাগ চন্দ্রিমার
তৃণমূল-ত্যাগ চন্দ্রিমার


৩ জুন তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী পদ দেওয়া হয়েছিল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে (Chandrima Bhattacharya)। শনিবার সেই পদ সহ সব পদে ইস্তফা দিলেন নেত্রী। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রশ্ন উঠেছে, পরাজয়ের পরও যে নেত্রী দিনের পর দিন মমতার পাশে থেকেছেন, নিয়মিত কালীঘাটে গিয়েছেন, তৃণমূলের (Trinamool Congress) পার্টি অফিসে বসেছেন, তাঁর হঠাৎ কী এমন হল?

২৪ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ শুক্রবারও মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের পার্টি অফিসে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা। ঋতব্রত শিবিরের নেতারা যখন ওই ভবনে প্রবেশ করেন, তখনও ছিলেন চন্দ্রিমা। পরে বেরিয়ে যান তিনি। আর শনিবারই ইস্তফা। এর মধ্যে কী এমন ঘটল?

'তারিখ দিয়ে স্কুলের মেয়ে-বাড়ির বউদের তালিকা রেডি থাকত, কোন দিন কাকে লাগবে, গাড়ি পাঠিয়ে তুলে আনত শওকত', কী চলত জীবনতলা-ক্যানিংয়ে? ভয়ঙ্কর অভিযোগ
চন্দ্রচূড় সিংয়ের বাড়ির দিকে ধেয়ে এল বুলডোজার! আচমকা কী ঘটল অভিনেতার সঙ্গে?
কী বললেন চন্দ্রিমা?
“আমি আনুগত্য দেখানোর চেষ্টা করেছিলাম। কোথাও খামতি ছিল না। আমি এ ব্যাপারে নিজের কাছে পরিষ্কার। কিন্তু দেখলাম, সেটাই প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ল। তৃণমূল ভবনে গতকাল যা ঘটেছে, সেটা নিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বললাম, উনি আমাকে বললেন, ‘ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে?’ আমি তো কিছুই তুলে দিই নি। প্রতিদিন যতক্ষণ থাকি, ততক্ষণই ছিলাম। আমার কাছে কেউ আসেনি। আমার সঙ্গে ওদের দেখাও হয়নি।”

চন্দ্রিমার কথায়, “ওরা ঢুকেছে, আমি দেখিনি। আমার ঘরে কেউ আসেনি। আমাকে বলা হল, আমি ওদের হাতে তুলে দিয়েছি। আমার দুঃখ লেগেছে।” তাঁর দাবি, এই কথায় তাঁর আনুগত্য প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন চন্দ্রিমা। তবে ঋতব্রত শিবিরে যাওয়ার ব্যাপারে কোনও কথা বলেননি তিনি।

গত ২২ জুন ঋতব্রত শিবিরের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা-পুত্র সৌরভ বসু। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চন্দ্রিমা বলেন, “আমার ছেলের বয়স ৪৭। এটা ওর নিজের সিদ্ধান্ত। এখন বললে আর কেউ বিশ্বাস করবে না যে ওই মিটিং-এ ছেলে যাওয়ার পর বাড়িতে রাজনৈতিক বিষয়ে ছেলের সঙ্গে আমি কোনও কথাই বলিনি। এমনকী ওর অফিসে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। পার্টি অফিস থেকে সোজা বাড়ি চলে যেতাম।”

কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ১৯৭২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম এবং ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন । ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি একজন সমাজকর্মী এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কর্মরত।


লকারে ঠিক কী কী রয়েছে? চন্দ্রিমার সম্পত্তি কত জানেন? কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী?
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য


একটা ফোন আর কয়েকটা ঘণ্টা। মমতার সমস্ত সঙ্গ ত্যাগ করলেন তাঁর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী চন্দ্রিমা। শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনে ঢোকেন, তখন নাকি সেখানে অনান্য দিনের মতো উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা। নিজের ঘরে বসেছিলেন। কিন্তু তিনি নাকি টেরও পাননি ঋতব্রতরা ঢুকেছেন। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোনে বলেন, ‘তুই ঋতব্রতদের ঢুকতে দিলি?’ আর এই একটা কথাতেই খারাপ লেগেছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। আর সেই কারণেই তিনি মমতা শিবির ছাড়লেন বলে দাবি করলেন সাংবাদিকদের কাছে। শনিবার দুপুর দেড়টার ঘটনা। আর ঠিক তার আধ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি পৌঁছলেন বিধানসভায়, এবারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি। শনিবার দিনভর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চন্দ্রিমা। কীভাবে মমতার ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠা চন্দ্রিমার, কত তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ জানেন?

একাধারে একজন দক্ষ আইনজীবী, অন্যদিকে দক্ষ রাজনীতিক। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পেশায় আইনজীবী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২০১১ সালে পরিবর্তনের জমানায় প্রথমবার রাজনীতির মূল স্রোতে উঠে আসেন। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার দমদম উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। তাঁর আইনি জ্ঞান এবং বাগ্মিতা তাঁকে দ্রুত দলের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। প্রথমবার বিধায়ক হয়েই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পান।



'তারিখ দিয়ে স্কুলের মেয়ে-বাড়ির বউদের তালিকা রেডি থাকত, কোন দিন কাকে লাগবে, গাড়ি পাঠিয়ে তুলে আনত শওকত', কী চলত জীবনতলা-ক্যানিংয়ে? ভয়ঙ্কর অভিযোগ


ক্লাস সেভেনের ছাত্রীকে ‘সিঁদুর’ পরিয়ে দিল ইলেভেনের পড়ুয়া, দেখা মাত্রই স্কুল কী করল দেখুন
২০১৬ সালের নির্বাচনে সাময়িক ধাক্কা খেলেও, ২০১৭ সালের উপ-নির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি পুনরায় বিধানসভায় ফেরেন। বর্তমানে তিনি উত্তর দমদম কেন্দ্রের বিধায়ক। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য দলের মহিলা সংগঠনকে শক্তিশালী। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবারও দমদম উত্তর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। চন্দ্রিমার সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন?

কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুসারে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ১৯৭২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.কম এবং ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন । ১৯৭৮ সাল থেকে তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে তিনি একজন সমাজকর্মী এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কর্মরত।

২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে তাঁর বার্ষিক আয় প্রদর্শিত হয়েছে ২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫৫০ টাকা। তাঁর স্বামী সমীর বসুর একই সময়ের বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার ১১০ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে চন্দ্রিমার বার্ষিক আয় ছিল ২ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। অর্থাৎ সে অর্থে শেষ চার-পাঁচ বছরে চন্দ্রিমার বার্ষিক আয়ে সেরকম কোনও পরিবর্তন আসেনি। এই মুহূর্তে চন্দ্রিমার হাতে ১ লক্ষ ২০ হাজার ২৪০ টাকা রয়েছে।

চন্দ্রিমার এসবিআই- কলকাতা হাইকোর্ট SPB ব্রাঞ্চে দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। একটি অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯২২ টাকা রয়েছে। আরেকটি অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। দুটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ১ কোটি ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৬২ টাকা রয়েছে চন্দ্রিমার।

চন্দ্রিমার স্বামীরও ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ও এসবিআই-তে একটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। দুটি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে তাঁর ২ লক্ষ ৮ হাজার ১৪০ টাকা রয়েছে।

পোস্ট অফিসে তাঁদের কোনও অ্যাকাউন্ট নেই। মার্কেটে কোথাও কোনও বিনিয়োগ নেই তাঁর। তাঁর একটা স্করপিও গাড়ি রয়েছে। আর সোনা বলতে চন্দ্রিমার রয়েছে ১২ গ্রামের একটা সোনার গলার হার, একটা সোনার আংটি, ৮ গ্রামের সোনার পেন, ৮ গ্রামের সোনার ব্যাঙ্গেল, হীরের আংটি। সব মিলিয়ে চন্দ্রিমার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৪ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৯ টাকা। গড়চা রোডে চন্দ্রিমার বাড়ি। এটাই তাঁর বাসস্থান

একগুচ্ছ নেতা-নেত্রী অন্য পথে হেঁটেছেন আগেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার মুখ চন্দ্রিমাও এবার অন্য শিবিরে। মমতা জমানায় একের পর এক বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সাংবাদিক বৈঠক থেকে মিছিল, সব জায়গায় সামনের সারির মুখ হয়ে উঠেছিলেন এই চন্দ্রিমা।


শপথ নিয়েছিলাম বলে এতদিন বলিনি', মমতার বাজেট নিয়ে বিস্ফোরক কথা বলে দিলেন চন্দ্রিমা
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য


একবার নয়, মমতার জমানায়ট পাঁচবার বাজেট পেশ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও অর্থ দফতরের মন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করেন চন্দ্রিমা। এবার তৃণমূল ছেড়ে আসার পর সেই বাজেট নিয়েই বিস্ফোরক দাবি করলেন নেত্রী।

একগুচ্ছ নেতা-নেত্রী অন্য পথে হেঁটেছেন আগেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার মুখ চন্দ্রিমাও এবার অন্য শিবিরে। ইস্তফাপত্র দিয়ে সোজা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। মমতা জমানায় একের পর এক বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সাংবাদিক বৈঠক থেকে মিছিল, সব জায়গায় সামনের সারির মুখ হয়ে উঠেছিলেন এই চন্দ্রিমা। সেই নেত্রীর মুখেই এবার বড় অভিযোগ।


ওর অনেক লাগেজ-ব্যাগেজ আছে', চন্দ্রিমার ছেলের কথা টেনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মমতার


তারিখ দিয়ে স্কুলের মেয়ে-বাড়ির বউদের তালিকা রেডি থাকত, কোন দিন কাকে লাগবে, গাড়ি পাঠিয়ে তুলে আনত শওকত', কী চলত জীবনতলা-ক্যানিংয়ে? ভয়ঙ্কর অভিযোগ
শনিবার দলের সব পদে ইস্তফা দেওয়ার পর চন্দ্রিমা দাবি করেছেন, মন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করলেও, বাজেট সম্পর্কে নাকি তিনি কিছুই জানতেন না। চন্দ্রিমা বলেন, “আমাকে যেখানে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি করেছি। আমার সঙ্গে ডিসকাশন করে বাজেট তৈরি হত না। সাধারণ মানুষ যখন বাজেট শুনত, আমি তার কয়েক ঘণ্টা আগেই জানতে পারতাম।”

কে বাজেট তৈরি করতেন? চন্দ্রিমার উত্তর, “আমি জানি না। বলতে পারব না।” তিনি আরও বলেন, “সব কথা তো বলতে পারতাম না। ওথ (শপথ) নিয়েছিলাম গোপনীয়তা বজায় রাখার। সেটা বজায় রাখতে হবে বলে এতদিন কিছু বলিনি।” 

অর্থ দফতরের মন্ত্রীই জানতেন না, বাজেটের পাতায় কী আছে। চন্দ্রিমার এই অভিযোগ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “রাজ্যের ৮ লক্ষ কোটি টাকার উপর ঋণ রয়েছে। দায় ও (চন্দ্রিমা) এড়িয়ে যেতে পারে না। আর অর্থ দফতরকে যে ক্যাবিনেট স্টেটাসই দেওয়া হয়নি, রাষ্ট্রমন্ত্রীর স্টেটাস ছিল। সেটা কেউ বলছে না। তাই যা হওয়ার তাই হয়েছে।”

২০২৫ সালের জুন মাসে সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করে মেয়াদ ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে এবার চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্ত ছিল—মালিক চাইলে মেয়াদ শেষের আগেই বাড়ি খালি করিয়ে নিতে পারবেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জয়ের আবহে তৃণমূল নেতৃত্ব এই শর্তে তেমন আমল দেয়নি।

মেট্রোপলিটনের কার্যালয়ের জন্য কত টাকা ভাড়া দিত তৃণমূল জানেন? চমকে উঠবেন
তৃণমূলের কার্যালয় (ফাইল ছবি)

মেট্রোপলিটন! তৃণমূল কার্যালয় কার? তা নিয়ে এখন টানটান উত্তেজনা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর কলকাতার তপসিয়ার মূল কার্যালয়টি সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সময় দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি অস্থায়ী ভবনের খোঁজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে তৎকালীন পুরমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসসহ চার নেতার ওপর উপযুক্ত জায়গার সন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

খোঁজখবর চালিয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বাইপাস সংলগ্ন ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকায় একটি ছয় তলা ভবনের সন্ধান মেলে, যার মালিক ‘মডার্ন ডেকোরেটার্স’-এর মন্টু সাহা। অনুষ্ঠান বাড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি ওই ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ ওপরের দুটি তলা ভাড়া নেওয়ার জন্য ২০২২ সালের এপ্রিল-মে নাগাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খোদ ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরিত সেই চুক্তিতে মাসিক ১ লক্ষ টাকা ভাড়ার (১০ হাজার টাকা টিডিএস কেটে চেকে দেওয়া হতো) বিনিময়ে ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য জায়গাটি নেয় তৃণমূল।

ওর অনেক লাগেজ-ব্যাগেজ আছে', চন্দ্রিমার ছেলের কথা টেনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মমতার
২০২৫ সালের জুন মাসে সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণ করে মেয়াদ ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে এবার চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্ত ছিল—মালিক চাইলে মেয়াদ শেষের আগেই বাড়ি খালি করিয়ে নিতে পারবেন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জয়ের আবহে তৃণমূল নেতৃত্ব এই শর্তে তেমন আমল দেয়নি।

কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চুক্তির সেই শর্তকেই হাতিয়ার করে মালিক মন্টু সাহা খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে বাড়ি খালি করার অনুরোধ জানান। কালীঘাট পন্থী নেতৃত্ব তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যেই ভবনটি ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মাঝে সম্প্রতি ঋতব্রত পন্থী অংশ তৃণমূল ভবনের ওই তিনটি তলা নতুন করে দখল করায় পরিস্থিতি চরম জটিল আকার ধারণ করেছে বলে দাবি করছে ডেকোরেটার্স কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া হওয়া নিয়ে এখন তীব্র অস্বস্তিতে ঘাসফুল
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল বলেন, " আগেও ওঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ওইদিকে গিয়েছেন, এগুলো দেখেছি। তা সত্ত্বেও ওঁকে শ্রদ্ধা করতাম, ভালবাসতাম। কিন্তু কাল যখন এরকম একটা ঘটনা ঘটল, তখন দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যদি আর কিছুক্ষণ বসে থাকতেন, আমরা পৌঁছে যেতাম।"

যখন এতগুলো দফতর হাতে ছিল, তখন অভিমান হয়নি?' চন্দ্রিমাকে কটাক্ষ কুণালের
কুণাল-চন্দ্রিমা


 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে নাম লিখিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের আক্রমণ করতে ছাড়েননি কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। কখনও গদ্দার, কখনও বিশ্বাসঘাতক বলে আক্রমণ করেছেন। এবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কুণাল। তৃণমূল বিধায়কের প্রশ্ন, যখন এতগুলো দফতর তাঁর হাতে ছিল, তখন কেন অভিমান হয়নি? আজ কেন হঠাৎ খারাপ লাগছে চন্দ্রিমার (Kunal Ghosh attacks Chandrima Bhattacharya)? গতকাল তৃণমূল ভবন থেকে চন্দ্রিমার বেরিয়ে যাওয়া নিয়েও মন্তব্য করেছেন কুণাল।

তৃণমূল ভবন থেকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে গিয়েছিলেন চন্দ্রিমা?
কিছুদিন আগেই দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল চন্দ্রিমাকে। গতকালও দলের সভানেত্রী হিসেবে তৃণমূল ভবনে বসেছিলেন। কিন্তু, আজ সকালেই হঠাৎ দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা। মমতার হাত ছেড়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী। মমতার দলের ভরসার মুখ ছিলেন তিনি। অথচ সেই চন্দ্রিমার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই নাকি প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন বিধায়ক। তবে, কুণালের দাবি, গতকাল তৃণমূল ভবন থেকে তড়িঘড়ি বেরিয়ে গিয়েছিলেন চন্দ্রিমা। তাঁকে কিছুক্ষণ থাকার জন্য অনুরোধ করা হলেও নাকি শোনেননি।


 কড়া প্রশাসন, এবার নিষিদ্ধপল্লিতে ওড়ানো হল ড্রোন! যা করা হল
কুণাল ঘোষ কী বললেন?
এই বিষয়ে কুণাল বলেন, ” আগেও ওঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ওইদিকে গিয়েছেন, এগুলো দেখেছি। তা সত্ত্বেও ওঁকে শ্রদ্ধা করতাম, ভালবাসতাম। কিন্তু কাল যখন এরকম একটা ঘটনা ঘটল, তখন দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। যদি আর কিছুক্ষণ বসে থাকতেন, আমরা পৌঁছে যেতাম। এমনকী, ওখানে কর্মীরাও অনুরোধ করেছিলেন দিদি আর কিছুক্ষণ বসে যান। তিনি বললেন আমি এসবে থাকব না। তারপরই গাড়ি ডেকে বেরিয়ে গেলেন। এটা তো প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কাম্য নয়।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার তৃণমূল ভবনের দখল নিয়েছিলেন ঋতব্রতরা। সেইসময় সেখানে ছিলেন চন্দ্রিমা। এই বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, “তৃণমূল ভবনে গতকাল যা ঘটেছে, সেটা নিয়ে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বললাম, উনি আমাকে বললেন, ‘ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিলে?’ আমি তো কিছুই তুলে দিই নি।” চন্দ্রিমার দাবি, মমতার এই কথাতেই খারাপ লেগেছে তাঁর। চন্দ্রিমার দাবি, এই কথায় তাঁর আনুগত্য প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চন্দ্রিমাকে কটাক্ষ কুণালের
এরপরই কুণালের আক্রমণ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন অনেকগুলো মন্ত্রীর পদ পেয়েছিলেন। সেইসময় কেন মনে হয়নি। এত দফতর যখন হাতে ছিল, তখন কেন অভিমান হয় এখন একটাই কথা নাকি দুঃখ লাগছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যখন দেওয়ার জায়গায় ছিলেন, তখন আমি আঁচল পেতে নেব, আর এখন যখন প্রাক্তন, তখন অন্য শিবিরের দিকে যাচ্ছে। ভয়ঙ্কর অকৃতজ্ঞতার রাজনীতি বাংলার মানুষ মেনে নেবে না।” প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য, অর্থ, আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব চন্দ্রিমাকে দিয়েছিলেন মমতা।

দলের প্রতি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তিনি কতটা অনুগত ছিলেন, পদত্যাগ করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্য়েই সে কথা অনেকবার বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, মমতার একটা প্রশ্নেই খারাপ লেগে যায় তাঁর। কুণাল ঘোষরা প্রশ্ন তুলছেন, একের পর এক দফতরের মন্ত্রী হওয়ার সময় অভিমান কোথায় ছিল চন্দ্রিমার?

আমি স্বীকার করছি...', সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন চন্দ্রিমা
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য


এতদিন যাঁদের মুখে মমতা-স্তুতি শোনা যেত, আজ তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ তুলছে। দলের মধ্য়ে যে কতটা দমবন্ধ করা পরিস্থিতি ছিল, সেটাও এতদিনে শোনা গিয়েছে কাকলি, রচনাদের মুখ থেকে। এবার তালিকায় নতুন নাম চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। ইস্তফা দেওয়ার পরই তিনি দাবি করেছেন, অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট সম্পর্কে কিছু জানতেও পারতেন না তিনি। আর এবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষমা চাইলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।

দলের প্রতি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তিনি কতটা অনুগত ছিলেন, পদত্যাগ করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্য়েই সে কথা অনেকবার বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, মমতার একটা প্রশ্নেই খারাপ লেগে যায় তাঁর। কুণাল ঘোষরা প্রশ্ন তুলছেন, একের পর এক দফতরের মন্ত্রী হওয়ার সময় অভিমান কোথায় ছিল চন্দ্রিমার?



কলা খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটা জানেন?
সাংবাদিক বৈঠকে চন্দ্রিমা উল্লেখ করেন, মন্ত্রী হলেও গুরুত্ব ছিল না তাঁর। বাজেট নিয়েও তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হত না। গোপন রাখা হত তাঁর কাছ থেকেও। প্রাক্তন মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আমার বিশ্বাসযোগ্যতা কী, আনুগত্য কতটা, তা আপনারা জানেন। আপনাদের সঙ্গে আমি রূঢ় ব্যবহার করেছি। আমি স্বীকার করছি। আপনাদের বলেছি, বলব না, মন্ত্রগুপ্তি আছে, মমতার নির্দেশ ছাড়া কিছু বলব না। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিইনি। আপনাদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।”

দলের সদস্যপদ ছেড়েছেন কি না, সে ব্যাপারে কোনও সদুত্তর দেননি শুক্রবার পদত্যাগ করার পর চন্দ্রিমা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেই ছবি সামনে এসেছে। তারপরও শিবির বদলের কথা নিজে মুখে স্বীকার করেননি চন্দ্রিমা। শুধু বলেছেন, “কালের নিয়মে চলতে হয়। সময় যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকে যাব।”

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক-সাংসদদের নিশানা করে মমতা বলেন, "সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার, আমার সই করা প্রতীকে জিতে তাঁরা আজ বলছেন, ২০২৩ সালের পর এই দলের অস্তিত্ব নেই। আমাদের দলের ২০২৭ সালের অক্টোবরে আবার সাংগঠনিক নির্বাচন করার কথা। কারণ, ২০২২ সালে দলের সাংগঠনিক সংবিধানে এটা বলা রয়েছে। ২০২৩ সালেই যদি দলের স্বীকৃতি চলে যায়, তাহলে ২০২৬ সালে নির্বাচনে দাঁড়ালেন কী করে?"


কালীঘাট তৃণমূল' কি দলের প্রতীক হারাবে? এবার মুখ খুললেন স্বয়ং মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। নিঃসঙ্গ হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে শনিবার ফেসবুকে এসে একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখলেন মমতা। ঋতব্রত শিবিরের কাছে তৃণমূলের প্রতীক কি হারাবে কালীঘাট তৃণমূল? কয়েকদিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠছে। ঋতব্রতরা পৌঁছে গিয়েছেন নির্বাচন কমিশনে। দলের প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা নিয়েও এদিন মুখ খুললেন মমতা।

কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?


 লকারে ঠিক কী কী রয়েছে? চন্দ্রিমার সম্পত্তি কত জানেন? কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী?
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা জানিয়ে দেন, এবার থেকে তাঁর যা বলার সোশ্যাল মিডিয়ায় বলবেন। বেশ কিছুদিন পর এদিন ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, “আশা করি, বাংলার সকলে ভালো আছেন। আমার অরিজিনাল তৃণমূলের কংগ্রেসের যাঁরা ছেড়ে চলে যাননি, এখনও বিজেপির আশ্রয়ে চলে যাননি, তাঁদের স্যালুট। কয়েকদিন যাবদ আপনারা লক্ষ্য করছেন, আমার সহকর্মীরা বলছেন। মুখপাত্ররা বলছেন। আমি খুব কম কথা বলছি। কারণ আমি মনে করি, নীরবতাই আসল কথা বলে। আজকে অনেকদিন পর কিছু কথা বলতে এসেছি।”

বিজেপি ভোট লুঠ করে ক্ষমতায় এসেছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “একটা সরকার যেভাবেই আসুক, আমরা ভাবলাম, একটা নতুন সরকার এসেছে, তারা কাজ করুক। কিন্তু, কাজের বদলে সুস্থ মানুষকে অসুস্থ করা হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের নানারকম মামলা দিয়ে লকআপে পোরা হচ্ছে। অনেক সাধারণ মানুষ, তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া।”

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক-সাংসদদের নিশানা করে মমতা বলেন, “সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার, আমার সই করা প্রতীকে জিতে তাঁরা আজ বলছেন, ২০২৩ সালের পর এই দলের অস্তিত্ব নেই। আমাদের দলের ২০২৭ সালের অক্টোবরে আবার সাংগঠনিক নির্বাচন করার কথা। কারণ, ২০২২ সালে দলের সাংগঠনিক সংবিধানে এটা বলা রয়েছে। ২০২৩ সালেই যদি দলের স্বীকৃতি চলে যায়, তাহলে ২০২৬ সালে নির্বাচনে দাঁড়ালেন কী করে? প্রতীক তো আমি দিয়েছিলাম। আপনাদের নামগুলো অফিস থেকে গিয়েছে। কমিশন তা স্বীকার করেছে। তবেই তো প্রার্থী হয়েছেন।” প্রসঙ্গত, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূলের দাবি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরনো ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর তৃণমূল আর কোনও নির্বাচন বা নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়নি।

বিদ্রোহীদের আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, “২ মাসও ধৈর্য ধরতে পারলেন না। এত তাড়াতাড়ি বেইমানি করে চলে গেলেন। আপনারা তো এখন সরাসরি বিজেপি করেন। আর তৃণমূলের আদর্শ বিজেপি বিরোধী। আপনারা যাঁরা বিজেপির কথায় চলছেন, যদি সাহস থাকে, বিজেপিতে গিয়ে যোগ দিন। এখানে থেকে দল ভাঙানোর চক্রান্ত। ভাবেন কী, আমি মরে গিয়েছি। ভাবেন কী, আমাদের কর্মীরা মারা গিয়েছে।”

দলের প্রতীক নিয়ে মুখ খুললেন মমতা-

তৃণমূলের প্রতীক ঋতব্রত শিবিরের কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন মমতা। বলেন, “সরকার আপনার পক্ষে রয়েছে বলে তাকে দিয়ে কমিশনকে বলে আপনি প্রতীক কেড়ে নিতে পারেন। যদিও আমি জানি, প্রতীক আপনার পক্ষে যাবে না। তবুও, ধরে নিলাম, যদি ভ্যানিশ কুমার বাবু আমাদের দলকে ধ্বংস করতে আপনাদের প্রতীক দিয়ে দেয়, তাতে কী যায় আসে। প্রতীক সেটাই হয়, যেটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করে, তৃণমূল কর্মীরা গ্রহণ করে। আমি যখন প্রথম প্রতীক পাই, ১ মাস ২২ দিনের মাথায় লড়াই করি। তখন প্রতীক চেনাতে পারিনি। এখন দরকার হলে প্রতীক গলায় ঝুলিয়ে মানুষের কাছে বেরব, আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন? অত সস্তা নয়। কণ্ঠরোধ করতে আমায় প্রাণে মেরে ফেলতে হবে। তার চেষ্টা কম করেননি। মহুয়া, কল্যাণ, অভিষেকের উপর হামলা করেছেন। আমার বাড়িতে হামলা করেছেন। কর্মীদের উপর নানা রকম জিনিস ছুড়ছেন।”

বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “বিজেপির নিজস্ব সংগঠন নেই। আইসিকে দিয়ে ব্লক সভাপতির কাজ করাচ্ছেন। পুলিশ সুপারকে দিয়ে জেলা সভাপতির কাজ করাচ্ছেন। প্রায় ২ কোটি ৪৬ লক্ষ লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। আজকে দেড় কোটির উপর মা-বোনের নাম কেটে দিয়েছে শুনছি। তারা হাহাকার করছে। ভালো করে সরকারটা চালান, এটুকুই বলব। আমি মাথা নত করব না। আমার দলও মাথা নত করবে না।”