covid 19 Update

Top News

ঘরের মধ্যেই জমা জলে (Water Logging) বিদ্যুত্‍ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হল একই পরিবারের তিনজনের ((Three members of same family electrocuted in Khardah))। মৃতদের মধ্যে এক দম্পতি সহ তাঁদের এগারো বছরের সন্তানের। আর এই মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পরিবারের সবথেকে ছোট সদস্য চার বছরের পুত্রসন্তান।

এ দিন দুপুরে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর চব্বিশ পরগণার খড়দহের পাতুলিয়ার গভর্মেন্ট কোয়ার্টারে। প্রবল বৃষ্টির (Rainfall in West Bengal) জেরে ওই দম্পতির ঘরের ভিতরে জল জমেছিল। ঘরের মধ্যে জল জমে থাকা ফ্রিজের বিদ্যুত্‍ সংযোদ বিচ্ছিন্ন করতে যান গৃহকর্তা রাজা দাস (৩৯)। তখনই বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হন তিনি। স্বামীকে বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হতে দেখে তাঁকে বাঁচাতে যান স্ত্রী পৌলমী দাস (৩৫)। বাবা- মাকে বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হতে দেখে এবারে এগিয়ে যায় তাঁদের বড় ছেলে এগারোর বছরের শুভ দাস। বাবা- মায়ের মতো একই পরিণতি হয় ওই বালকেরও।

চোখের সামনে বাবা মা এবং দাদাকে বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হতে দেখে ওই দম্পতির চার বছরের ছোট ছেলে। সে তখন খাটের উপরে বসেছিল। ওই শিশুটির কান্নাকাটির শব্দেই প্রতিবেশীরা এসে রাজা, পৌলমী এবং তাঁদের বড় ছেলে শুভকে ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রতিবেশীরাই ততক্ষণাত্‍ তিনজনকে উদ্ধার করে ব্যারাকপুরের বি এন বসু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিত্‍সকরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

মর্মান্তিক এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবা, মা, দাদা যে আর কোনওদিন ফিরবে না, তা বুঝতে না পারলেও গোটা ঘটনায় হতভম্ব হয়ে গিয়েছে ছোট্ট শিশুটি। অনাথ শিশুটির ভবিষ্যত্‍ নিয়েই এখন উত্‍কণ্ঠায় তার আত্মীয় এবং প্রতিবেশীরা।

উত্তর চব্বিশ পরগণার টিটাগড়েই বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হয়ে চোদ্দ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। দিদিকে পড়াতে দিয়ে ফেরার পথে রাস্তায় জমা জলের মধ্যে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুত্‍স্পৃষ্ট হয় ওই কিশোর। জলের মধ্যে যে বিদ্যুতের তার পড়ে রয়েছে, তা বুঝতেপারেনি সে। তার ছিঁড়ে পড়লেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেন বিদ্যুত্‍সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হল না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
প্রতিবেশীরা রোজই তাঁদের বাড়ি থেকে চিত্কার চেঁচামেচি শুনতে পেতেন। আচমকাই একদিন সব স্তব্ধ। বাড়ির বাইরে দেখাও যাচ্ছে না কর্তাকে! সন্দেহ হয়। স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু কথাতেও ছিল বেশ মারপ্যাঁচ। প্রতিবেশীদের সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। খোঁজ করতে নিজেরাই চলে যান বাড়িতে।


সিঁড়ির নীচে চোখ পড়তেই শিউরে ওঠেন তাঁরা। প্লাস্টিক প্যাঁচানো কী যেন একটা পড়ে রয়েছে। আরে ওই তো বাড়ির কর্তা! হাত পা পিছমোড়া করে বাঁধা, মাথার একাংশ থেঁতলে গিয়েছে। বিভত্স ঘটনা মালদার (Maldah) হরিশ্চন্দ্রপুরের ডেইলি মার্কেট এলাকায়। বাড়িতে সিঁড়ির নীচ থেকে উদ্ধার হল বছর চৌত্রিশের রাম মসোহার দেহ। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্ত্রী ও মৃতের পিসতুতো দাদাকে। জিজ্ঞসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে ছেলেকেও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাম রঙের মিস্ত্রি ছিলেন। নিয়মিত মদ্যপান করায় স্ত্রী পঞ্চমীর সঙ্গে তাঁর বিবাদ লেগেই থাকত। ছেলে বাপী মুসোহরের সঙ্গেও বিবাদ ছিল বাবার। এরইমধ্যে তাঁর পিসতুতো দাদা মনোজ রাম দিল্লি থেকে হঠাত্‍ হরিশ্চন্দ্রপুরে এসে রঙের কাজ শুরু করেন।

মনোজের ব্যবসাও বেশ জমে ওঠে। পরবর্তীতে রাম পঞ্চমীদের সঙ্গেই এক বাড়িতে থাকতে শুরু করে মনোজ। এরপরেই পঞ্চমীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে মনোজের। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে বিবাদ আরও জোরদার হয়। নিয়মিত অশান্তি লেগেই থাকত।

প্রতিবেশীদের বক্তব্য, মদ্যপান আরও বেড়ে গিয়েছিল রামের। কাজকর্ম কিছুই করতেন না। মূলত সংসার চালাতেন মনোজ। তাঁকে সাহায্য করতেন বাপি। এরপরে তাঁদের বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে পঞ্চমী ও মনোজ। আর সেখানেই বাধা হয়ে দাঁড়ান রাম। এই নিয়ে কদিন ধরেই অশান্তি আরও তীব্র হয়।

মঙ্গলবার রাতে তাঁদের বাড়ির সিঁড়ির নীচ থেকে হাতপা ভাঙা, মাথা থ্যঁতলানো রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় রামের। সেই দেহ লোপাটের জন্যে একটি গাড়ির খোঁজ করছিলেন মনোজ। রামের ছেলে বাপীকেও একটি গাড়ি ভাড়া করে আনতে বলা হয়। কিন্তু খুনের সময়ে বাড়িতে ছিলেন না বাপি। সম্ভবত সম্পূর্ন বিষয়েটি তাঁর কাছে স্পষ্ট ছিল না বলেই মনে করছে পুলিশ।

হয়ত তাঁর বাবা পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছেন, তাঁকে এমন বলা হয়ে থাকতে পারে। গাড়ির খোঁজ করতে গেলে প্রতিবেশীদের সন্দেহ প্রবল হয়। কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে গেলেই, সিঁড়ির নীচে লুকানো রামের দেহ দেখতে পান। এরপরেই উত্তেজনা ছড়ায়। গভীর রাতে যায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। শাবল,গাঁইতি, দা উদ্ধার হয়েছে ঘর থেকে।

মুখ চেপে ধরে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা টিপে শ্বাসরোধও করা হয় বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। পুলিশ পঞ্চমী ও মনোজকে গ্রেফতার করেছে। আটক করা হয়েছে ছেলে বাপীকেও।এলাকার কিছু ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ি থেকে ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে। পারিবারিক অশান্তি ছিল, বিবাহ বহির্ভূত একটা সম্পর্কের বিষয়ও প্রকাশ্যে আসছে। তদন্ত চলছে।
সাপে ভয় পান না এমন মানুষ খুব কমই আছেন। তা সে বিষধরই হোক বা নির্বিষ। তবে কখনও যদি শঙ্খচূড়ের মুখোমুখি হন, তাও আবার ১২ ফুটের, তা হলে কী অবস্থা হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুর এক ব্যবসায়ী শ্রীধর ভেম্বু একটি ছবি নেটমাধ্যমে ছেড়েছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে ঝোপ থেকে মুখ বাড়িয়ে আছে একটা শঙ্খচূড়।

শ্রীধর জানিয়েছেন, ঘর থেকে বেরোতেই আচমকা বিশালাকায় সরীসৃপটির মুখোমুখি হন। এ যেন ঠিক হঠাত্‍ 'অতিথি' সাক্ষাতের মতো।

১২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই সাপটির মুখোমুখি হয়ে যেন শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত নেমে এসেছিল তাঁর। কিন্তু একই সঙ্গে এই সরীসৃপের দেখা মেলায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং উচ্ছ্বসিত বলেও জানিয়েছেন শ্রীধর। টুইটে তিনি লেখেন, 'শুভ দিন। ১২ ফুটের বিশাল এক শঙ্খচূড় আমাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। বন দফতরের কর্মীরা এসে সেটিকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে। কাছেই পাহাড়ি জঙ্গলে সাপটিকে ছেড়ে দিয়ে এসেছেন তাঁরা।'

সাপের সঙ্গে ছবিও তুলেছেন শ্রীধর। এ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'সাপটিকে ছোঁয়ার সাহস দেখিয়েছি।' এর পরই শ্রীধর জানিয়েছেন, এটা ভেবেই ভলা লাগছে যে এই এলাকায় শঙ্খচূড়ের অস্তিত্ব মিলেছে। সুস্থ পরিবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রীধর বলেন, 'যদি বাস্তুতন্ত্রকে ভাল ভাবে রক্ষা করতে পারি, এ রকম সুন্দর প্রাণীদের আমরা চিরতরে হারাব না।' হঠাত্‍ বিশালাকায় সাপের মুখোমুখি হওয়াটা তিনি খুব উপভোগ করেছেন বলেই দাবি শ্রীধরের।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, মালদা সহ একাধিক জেলায় অসুস্থতা বাড়ছে শিশুদের। কখনও কখনও মৃত্যুও ঘটছে। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে পেডিয়াট্রিক বেড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেইমতো চিকিত্‍সার পরিকাঠামোর উন্নতি ও বেডের সংখ্যাবৃদ্ধির কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাল সরকার।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রাজ্যে ৭৭টি সরকারি হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক বেডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৮১৬। SNCU -র সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪৩৮। NICU -র সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬৪, PICU -র সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৯।
শুধুমাত্র মেডিক্যাল কলেজ নয়, মহকুমা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতালেও বেড বাড়ানো হয়েছে।


শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রভাসপ্রসূন গিরি জানালেন, 'শুধু বেড বাড়ালেই হবে না, বেড পিছু কার্যকর চিকিত্‍সা পরিষেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত চিকিত্‍সক , নার্স , স্বাস্থ্যকর্মী থাকতে হবে।



রাজ্যে শিশু চিকিত্‍সার সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে পরিকাঠামোর দিক থেকে সবথেকে এগিয়ে বিসি রায় শিশু হাসপাতাল। এই হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক বেডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫০। SNCU রয়েছে ১৫৪টি।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, পেডিয়াট্রিক বেডের সংখ্যার নিরিখে এর পরেই রয়েছে এসএসকেএম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। সেখানে ১২৯টি পেডিয়াট্রিক বেড আছে।

১২০টি করে পেডিয়াট্রিক বেড রয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস ও মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে SNCU সংখ্যার নিরিখে ১ নম্বরে রয়েছে বিসি রায় হাসপাতাল। সেখানে SNCU-র সংখ্যা ১৫৪। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ১১০টি SNCU।

৯০টি SNCU রয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
গত কয়েক দিন ধরে রাজ্য জুড়ে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা! হাসপাতালে হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক বিভাগে উপচে পড়ছে ভিড়! বাড়ছে উদ্বেগ। এই পরিস্থিতিতে ৪৪পাতার একটি নির্দেশিকা-তালিকা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। অসুস্থতা এড়াতে অভিভাবকদের আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে।বলা হয়েছে, বাড়িতে কারও জ্বর বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দিলে তাঁর থেকে বাড়ির শিশুটিকে দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমন কোনও সমস্যা দেখা দিলে রোগীকে ও বাড়ির শিশুদের মাস্ক পরিয়ে রাখা ও দূরত্ববিধি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাড়ির শিশুটিকে চোখে-চোখে রাখার পরামর্শও দিচ্ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।
ও ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ছেলের মাথায় গভীর ক্ষত। মায়ের শাড়ি কাপড়ের রক্তের চাপ চাপ দাগ! ওই অবস্থাতেই দু’জনে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। প্রতিবেশীরা দেখে স্তম্ভিত। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছেলেকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছেন খোদ মা-ই।বাঁশদ্রোণীর (Bansdroni Crime) এই ঘটনার তদন্তে নেমে স্তম্ভিত দুঁদে পুলিশ কর্তারাও।

দোতলার বাড়ির লাগোয়া একটা একতলা বাড়ি। শ্যাঁওলা, আগাছা-জঙ্গলে পূর্ণ। অপরিচ্ছন্নতার ছাপ তাতে স্পষ্ট। দরজা জানলা বন্ধ থাকে বেশিরভাগ সময়ই। বাড়ির ভিতরেই নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় থাকেন মা কাবেরি দাস ও ছেলে শুভজিত্। পাড়ায় খুব একটা বিশেষ মেলামেশাও করতেন না, জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। ওই বাড়িতেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঘটে ভয়ঙ্কর ঘটনা।

এদিন রাতেও বাড়ি থেকে মা ও ছেলের চিত্কার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু প্রতিদিনের অশান্তি ভেবে বিশেষ আমল দেননি তাঁরা। কাবেরির স্বামী পোর্ট ট্রাস্টে করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর পেনশনের টাকায় সংসার চলত। কাবেরি তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী।

কাবেরি দুই ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, ছোট ছেলের মানসিক অবস্থা ঠিক নেই। বড় ছেলে বাইরে কাজ করতেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন। কিন্তু এই বড় ছেলেই মা ও ছোট ভাইয়ের ওপর অত্যাচার করতেন।

মঙ্গলবার রাতেও অশান্তি হয়েছিল ওই বাড়িতে। কিন্তু এমন ঘটনা যে ঘটে যেতে পারে তা কেউই আঁচ করেননি। এক প্রতিবেশীর কথায়, “অশান্তি তো রোজই হত ওঁদের বাড়িতে। আমি সকালে ফুল তুলতে গেছিলাম। তখন দেখি ওঁদের বাড়ির বাইরে পুলিশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। তখনও বুঝিনি এমনটা হয়েছে। পরে পুলিশকে জিজ্ঞাসা করতেই জানি মা নাকি ছেলের ঘাড়ে কোপ দিয়েছে।”

অন্য আরেক প্রতিবেশীর কথায়, “ওঁদের বাড়ির ব্যাপারে কেউই বিশেষ কিছু জানেন না। ওঁরা নিজেদের মতোই থাকতেন। তবে মানসিক দিক থেকে যে ওঁরা প্রত্যেকেই বিরক্ত ছিলেন, তা বাইরে দেখে বোঝা যেত। বড় ছেলে মায়ের ওপর অত্যাচার করত বলে শুনেছি।”

আপাতত ছেলে দুজনেই এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। মাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছেলের ঘাড়ে কোপ দিয়েছেন মা।

পুলিশ জানিয়েছে, কাবেরি দাসকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেন এমনটা করলেন, কেবলই কি ছেলের অত্যাচার নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আহত ছেলে শুভজিত আপাতত হাসপাতালে ভর্তি। তাঁকেও পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

 




THE WALL

রাজ্য জুড়ে একটানা বৃষ্টিতে (Rain) বিপর্যস্ত ট্রেন (Train) পরিষেবা। গতকালের পর আজও একাধিক ট্রেন বাতিল হয়েছে হাওড়া, কলকাতা (Kolkata) স্টেশন থেকে। যার ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে।  সূত্রের খবর হাওড়ার টিকিয়াপাড়া কারশেড বৃষ্টিতে জলমগ্ন। তাই একাধিক ট্রেন হাওড়া স্টেশনের পরিবর্তে সাঁতরাগাছি আর শালিমার স্টেশন থেকে ছাড়ছে। আজ সকালে হাওড়া থেকে অনেক ট্রেন ছাড়েনি। এদিকে কলকাতা স্টেশন থেকে লালগোলা-কলকাতা স্পেশাল, কলকাতা-হলদিবাড়ি স্পেশাল, এবং কলকাতা-বালুরঘাট স্পেশাল ট্রেনগুলি বাতিল করা হয়েছে। সীতামারী কলকাতা স্পেশাল ট্রেন আজ কাঁকিনাড়া পর্যন্ত চলবে। বৃষ্টির জন্য রুট ছোট করে দেওয়া হয়েছে রাধিকাপুর কলকাতা স্পেশালেরও। ট্রেনটি চলবে বেলঘড়িয়া পর্যন্ত। গাজিপুর কলকাতা স্পেশাল আসবে দমদম স্টেশন পর্যন্ত। কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়ার কথা ছিল গোরখপুরের ট্রেন। সেটি ছাড়বে শিয়ালদহ থেকে। গোরখপুর থেকে কলকাতা আসার গাড়িও শিয়ালদহে আসবে। কলকাতা থেকে জম্মু-তাওয়াই স্পেশ্যাল বেলা ১১.৪৫ এর বদলে ছাড়বে ২.৪৫ মিনিটে। কলকাতা-অমৃতসর স্পেশ্যাল বেলা ১২.১০ এর বদলে ছাড়বে দুপুর ৩.২০ তে। হাওড়া মালদহ স্পেশ্যাল দুপুর ৩.২৫ এর পরিবর্তে ছাড়বে বিকেল ৪.৩০-এ। হাওড়া সেকেন্দ্রাবাদ এক্সপ্রেস স্পেশ্যাল হাওড়ার পরিবর্তে সকাল ৯.৩৫ মিনিটে ছেড়েছে শালিমার স্টেশন থেকে। 

  


ত্রিপুরারয় (Tripura) গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। সেখানে গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।ত্রিপুরার আগরতলায় এনসিসি থানায় হাজিরা দিতে যান তিনি। সূত্রের খবর, সেখানে গিয়ে তাঁর শরীর খারাপ হয়েছে। কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন তাঁকে প্রথমে খোয়াই থানায় হাজিরার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পরে আবার জানানো হয়, আগরতলায় এনসিসি থানায় হাজিরা দিতে যেতে হবে কুণাল ঘোষকে। সেই থানায় গিয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। এদিকে ত্রিপুরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের র‍্যালিকে কেন্দ্র করে চাপানউতোর চলছে। আগামীকাল অভিষেকের পদযাত্রার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। কুণাল ঘোষ টুইটারে বিপ্লব দেব সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। বলেছেন, ত্রিপুরা বিজেপি ভয় পেয়ে এসব করছে। কিন্তু তৃণমূলকে এভাবে আটকানো যাবে না।

 


দেওয়াল লিখন স্পষ্ট ছিল। দ্য ওয়ালেও তা আগেই লেখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হলও তাই। বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতির পদ থেকে দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) সরিয়ে দিলেন মোদী-শাহ। দিলীপের পরিবর্তে নতুন রাজ্য সভাপতি হলেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। বাংলায় ভোট বিপর্যয় হতেই দিলীপের বিরুদ্ধে দলের মধ্যে থেকে আঙুল উঠেছিল। ব্যর্থতার দায় সরাসরি দিলীপ ঘোষের উপর চাপিয়েছিলেন অনেকেই। সূত্রের মতে, নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে বাবুল সুপ্রিয়ও পষ্টাপষ্টি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সভাপতি পদ থেকে দিলীপকে সরানো হোক। বরং বিরোধী দলনেতা ও রাজ্য সভাপতি দুটি পদের দায়িত্বই শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হোক। বিজেপিতে এক ব্যক্তি দুই পদের ব্যবস্থা নেই। তবে বিজেপির শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছিল, এমন কাউকে রাজ্য সভাপতি করা হবে যাঁর রাজনৈতিক ওজন শুভেন্দুর তুলনায় কম। অর্থাত্‍ যিনি শুভেন্দুর সঙ্গে তালমিল রেখেই কাজ করবেন। বাংলার বিধানসভা ভোটকেই এবার পাখির চোখ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। ২০০ আসন জেতার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন। রাজ্য নেতৃত্বও ভাঙা ক্যাসেটের মতো একই কথা বলেছিল বারবার। কিন্তু সেখানে একেবারে ভরাডুবি হয়েছে। মাত্র ৭৭ আসনে পদ্ম ফুটেছে। এই পরাজয়কে স্বীকার না করে বিজেপির একটা অংশ বলতে শুরু করেছিল তিন থেকে সাতাত্তর হওয়াই তাদের বড় প্রাপ্তি। দিলীপ ঘোষকে একথা একাধিকবার বলতে শোনা গিয়েছিল জোর গলাতেই। তবে এই দলের মধ্যেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপির যা সাফল্য ছিল বিধানসভার তার প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। একটা সাংগঠনিক দুর্বলতা যে প্রকট হয়েছে, তা নিয়ে অস্বস্তি ছিলই। অনেকেই বলছিলেন, লোকসভা ভোটের পর বিজেপির মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করেছে। উত্তরবঙ্গে বিধানসভায় বিজেপির ফল মন্দের ভাল। কিন্তু ধ্বস নেমেছে জঙ্গলমহলে। পশ্চিমাঞ্চলে বিজেপি কার্যত ধুয়েমুছে গেছে। এই সাংগঠনিক গাফিলতির জন্য অনেকেই দায়ী করেছেন দিলীপ ঘোষকে। তাঁর কথাবার্তায় দলের অনেকেই বিরক্ত। তবে সেসব পাত্তা না দিয়ে দিলীপ ঘোষকে বারবার বলতে শোনা গেছে আমি এই ধরনের গরম গরম কথা বলি বলেই দলের অনেকে উজ্জীবীত হয়। আমার এই ভোকাল টনিক বিজেপির বৃদ্ধিতে কার্যকরী। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে হটনা পরম্পরায় আজকের মোদী-শাহের এই সিদ্ধান্ত একপ্রকার নিশ্চিতই হয়ে গিয়েছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।












 

সংগ্রহ  FACBOOK  FROM  ATANU 
ভারতের প্রসিদ্ধ কালীক্ষেত্রগুলির মধ্যে দক্ষিণেশ্বর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই মন্দিরের দেবী কালী "ভবতারিণী" নামে পূজিত হন। শ্রীরামকৃষ্ণ-রাণী রাসমণির স্মৃতি বিজড়িত দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির হিন্দুদের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান।
কলকাতার নিকটবর্তী উত্তর ২৪ পরগণার কামারহাটি শহরের প্রান্তে হুগলি নদীর তীরে এই মন্দিরটি অবস্থিত। ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দের ৩১শে মে মানবদরদী বিধবা জমিদারপত্নী রাণী রাসমণি কতৃর্ক দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। কথিত আছে, তীর্থযাত্রা উপলক্ষ্যে কাশী যাবার পূর্ব্বে রাণী রাসমণি জগজ্জননী মহাকালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে গঙ্গাতীরে এই সুবিশাল মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৪৭ খ্রীষ্টাব্দে শুরু হয়ে মন্দিরের নির্ম্মানকার্য সম্পূর্ণ হয় ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দে।

রাণী রাসমণির দলিল থেকে জানা যায়, ১৮৪৭ খ্রীষ্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টের এটর্ণী হেস্টিং সাহেবের দক্ষিণেশ্বরের ৬০ বিঘা জমি ৫৫ হাজার টাকায় খরিদ করা হয়। মন্দিরের নকশা, পরিকল্পনা ও নির্ম্মাণকাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিলেতের ম্যাকিন্টস বার্ন কোম্পানীকে। দীর্ঘ আট বছরের পরিশ্রমে নয় লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্ম্মিত হয় এই সুরম্য মন্দির।

গঙ্গাতীরে মনোরম পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হল নবরত্ন চূড়া কালীমন্দির। তারই পাশে রাধাকৃষ্ণের মন্দির ও দ্বাদশ শিব মন্দির। দক্ষিণ দিক থেকে বারোটি শিবলিঙ্গের নামকরণ করা হল: যজ্ঞেশ্বর, জলেশ্বর, জগদীশ্বর, নাদেশ্বর, নন্দীশ্বর, নরেশ্বর, যোগেশ্বর, যত্নেশ্বর, জটিলেশ্বর, নকুলেশ্বর, নাগেশ্বর ও নির্জরেশ্বর।


যে-সময়ে এই মন্দিরটি নির্মিত হয় সে-সময়ে বাঙলার মন্দিরের সূত্রধর, শিল্পী সব অবলুপ্তির পথে। মূল মন্দিরের স্থাপত্য, মনোমুগ্ধকারী গঠননৈপুণ্য ও বিন্যাস-লালিত্যের অন্তরালে কোন স্থপতির প্রতিভা সেদিন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল তার পরিচয় জানা যায় না।

সমস্ত কাজ সমাপ্ত হলে উপযুক্ত দিনে মন্দির প্রতিষ্ঠা ও দেবীকে অন্নভোগ দেওয়ায় যখন রাণী রাসমনি সচেষ্ট তখনই তিনি কঠিন বাধার সম্মুখীন হলেন। রাণী জাতিতে কৈবর্ত হওয়ায় সামাজিক প্রথা অনুযায়ী কোনো ব্রাহ্মণ দেবীকে অন্নভোগ দিতে রাজী ছিলেন না। তখন কলকাতার ঝামাপুকুর চতুষ্পাঠীর পণ্ডিত রামকুমার চট্টোপাধ্যায় তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা গদাধরকে (শ্রীরামকৃষ্ণ) নিয়ে ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দের ৩১শে মে স্নানযাত্রার পুণ্য তিথিতে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

তৎকালীন সামাজিক প্রেক্ষাপটে যখন চারিদিকে অবক্ষয়ের চূড়ান্ত, সেখানে একটি সাম্যের বাতাবরণ রচনা করেছিলেন রাণী রাসমণি। তিনি শ্যামার পাশে বসালেন শ্যামকে, বসালেন দেবাদিদেব মহাদেবকেও। শৈব-শাক্ত-বৈষ্ণবদের মধ্যের দূরত্ব নিবারণের যে প্রচেষ্টা রাসমণি শুরু করেছিলেন তার প্রচার কাজ চালালেন শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ স্বয়ং এবং সেই বার্তাকে বিশ্বজনীন করে তুললেন বিবেকানন্দ।































 একনাগাড়ে বৃষ্টি পড়ে চলেছে। জল থৈ-থৈ কলকাতা। টানা বৃষ্টি ও পূর্ণিমার জোয়ারের জন্য গঙ্গার জলস্তরও বেড়েছে। যার জেরে শহরের সব লকগেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাতে গঙ্গার জল ঢুকতে না পারে। রবিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে শহরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে বই কমেনি। একাধিক এলাকাই জলমগ্ন। একই পরিস্থিতি যাদবপুর সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত ভাঙরে। জমা জলে নাজেহাল এলাকাবাসী। আর সেই প্রেক্ষিতেই নিজস্ব সংসদীয় এলাকা পরিদর্শন করে এলেন মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty)।

সোমবার বিকেলে বৃষ্টি কিছুটা কমতেই বিপর্যস্ত ভাঙর (Waterlogged Bhangar) পরিদর্শনে যান যাদবপুরের সাংসদ মিমি। ভাঙরবাসীর নানা অভাব-অভিযোগ শুনলেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে কথা বললেন আট থেকে আশির সঙ্গে। পাশাপাশি ত্রিপল, ছাতা, মাস্কের মতো প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রীও তাঁদের হাতে তুলে দিলেন মিমি। আর এসবের মাঝেই রাজ্যের শাসকদলের তারকা সাংসদকে দেখা গেল জুতো খুলে রীতিমতো খালি পায়ে হাঁটতে।

প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে সাংসদ-অভিনেত্রী ভোজেরহাট, নলমুড়ি, মরিচা, পাইকান, চারিশ্বরের মতো বেশ কিছু জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করে আসেন। ভারী বর্ষণের জেরে বেশ কিছু মাটির বাড়িও ভেঙে পড়েছে। সেই সমস্ত পরিবারগুলির জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করেছেন মিমি। অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত সচিবসূত্রে খবর, ত্রাণ শিবিরে রাতে রান্নার আয়োজন করেছেন তিনি। সেখানেই দু-মুঠো খাবেন জলমগ্ন এলাকার দুর্গতরা।

উল্লেখ্য, সদ্য অরিন্দম শীলের খেলা যখন সিনেমার শুটিং শেষ করে ফিরেছেন কলকাতায়। এসেই সংসদীয় এলাকার কাজে নেমে পড়েছেন অভিনেত্রী। অনুরাগীদের কথায়, শুটিং ফ্লোর থেকে সংসদীয় এলাকা, সবেতেই কড়া নজর সাংসদ-অভিনেত্রীর।


 


কেএলও-র সক্রিয়তা কতটা বেড়েছে, তার খোঁজে এ বারে উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে বাড়তি নজর রাখতে শুরু করলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। একই সঙ্গে তাঁরা খোঁজ করে দেখতে চাইছেন, উত্তরবঙ্গের কোথাও কোনও তত্‍পরতা শুরু করার চেষ্টা হচ্ছে কি না। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অসম সীমানায় আলিপুরদুয়ারের বেশ কিছু সন্দেহভাজন এলাকায় কেন্দ্র ও রাজ্য দুই তরফের গোয়েন্দারাই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে ভুটান সীমান্তে। অসমের কোথায় কোথায় একসময় কেএলও-র শক্ত ঘাঁটি ছিল, সেই জায়গাগুলি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে বর্তমানে কী অবস্থা, ওই এলাকার কাদের সঙ্গে কেএলও-র যোগাযোগ ছিল, তা নিয়েও বিশদে খোঁজ নিচ্ছেন গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক অফিসার বলেন, 'এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে কোনও

তথ্য আমরা পাইনি। তবে সর্বত্র নজরদাররি চলছে।'

গত কিছু দিন ধরে কেএলও প্রধান জীবন সিংহ বার কয়েক সমাজমাধ্যমে তাঁর বার্তা দিয়েছেন। সেই সব বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, এ বারে ফের নিজেদের দাবিতে সক্রিয় হয়ে উঠবেন তাঁরা। শেষ ভিডিয়ো বার্তায় জীবন সিংহ আলাদা রাষ্ট্র গড়ার ডাক দেন। রাষ্ট্রের মানচিত্র কেমন হবে, তা-ও তিনি স্পষ্ট করে দেন। এর পরেই জীবন সিংহ নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দাদের একাংশের কথায়, বিশেষ করে তালিবান আফগানিস্তান দখল করার পরে জীবন সিংহের আলাদা রাষ্ট্র গড়ার ডাককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। কেএলও-র সঙ্গে কোনও তালিব যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও খোঁজ শুরু করেন গোয়েন্দারা। কিন্তু জীবন কোথায় বা তিনি নতুন করে কী ভাবে তাঁর সংগঠনের জাল বিস্তার করতে চাইছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গোয়েন্দারা যতটুকু জানতে পেরেছেন, তাতে উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা মায়ানমারের কোনও জঙ্গলে ঘাঁটি করে জীবন জাল বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তবে এখনও তাঁর লোকবল বেশি নয় বলেই গোয়েন্দাদের দাবি। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, জীবনের ভিডিয়ো বার্তায় তাঁর পুরনো এলাকায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বের উপরে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে।

 


কয়েকদিন ধরেই কোলাঘাটের একাধিক গ্রামে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে কয়েকটি হনুমান। পবনপুত্রের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। গত কয়েক দিনে ২৫ জনেরও বেশি মানুষকে কামড়েছে হনুমান। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরোতেই ভয় পাচ্ছেন বাসিন্দারা। হনুমান ধরার দাবিতে সোমবার সকাল থেকে পথ অবরোধ করেন এলাকাবাসী। শেষমেশ ফাঁদ পেতে একটি হনুমানকে ধরে ফেলেন বনকর্মীরা। এলাকায় আরও কয়েকটি হনুমান ঘুরছে বলে দাবি বাসিন্দাদের।

হনুমানের হানায় ঘুম ছুটেছে কোলাঘাটের কুমারহাট গ্রামের বাসিন্দাদের। শুধু এই গ্রামেই নয়, পার্শ্ববর্তী ধর্মবেড়, পয়াগ, যোগীবেড় গ্রামেও তাণ্ডব চালাচ্ছে পবনপুত্রের দল। কয়েকদিন ধরেই বেশ কয়েকটি হনুমান এলাকায় ঘুরছে। পথচলতি কাউকে দেখলেই অতর্কিতে হামলা চালাচ্ছে হনুমান। আঁচড়ে, কামড়ে রক্তাক্ত করছে বাসিন্দাদের।

হনুমানের ভয়ে অধিকাংশ সময়েই ঘরের দরজা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকাবাসী। ভয় বাড়ছে খুদেদের নিয়েও। গত কয়েকদিনে একের পর এক বাসিন্দা হনুমানের কামড়ে জখম হয়েছেন। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোচ্ছেন না অনেকে। আতঙ্কে রযেছেন প্রবীণ নাগরিকরা। রাস্তায় কাউকে হাঁটতে দেখলেই আচমকা তাঁর উপর আক্রমণ চালাচ্ছে হনুমান। রবিবার রাতেও ৩ গ্রামবাসী হনুমানের কামড়ে জখম হয়েছেন।

রবিবার রাতেই কুমারহাট গ্রামে একটি দোকানে ঢুকে পড়েছিল একটি হনুমান। এই ঘটনার পর ক্ষোভ আরও বাড়ে। এলাকা থেকে হনুমান তাড়ানোর দাবিতে সরব হন বাসিন্দারা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয় পথ অবরোধ। সোমবার সকাল ৭ টা থেকে দেউলিয়া-খন্যাডিহি রাস্তা অবরোধ করেন কুমারহাট গ্রামের বাসিন্দারা। একটানা প্রায় ঘণ্টা চারেক ধরে চলে অবরোধ। পরে কোলাঘাট থানার পুলিশ এসে অবরোধ তোলে। দোকানে ঢুকে পড়া হনুমানটি উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। এলাকায় ঘুরে বেড়ানো বাকি হনুমানগুলিকেও ধরার আশ্বাস দিয়েছেন বনাধিকারিকরা।

মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হলো নাবালিকা মেয়ের মৃতদেহ।

নাবালিকা মেয়েকে শশুর- শাশুড়ি ও দেওর মিলে খুন করেছে বলে অভিযোগ মায়ের।ঘটনার ১০ দিন পরে থানায় অভিযোগ জানান মা তাজকেরা খাতুন।ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার মিলনগড় কোচপুকুর এলাকায়।মেয়েকে খুন করেছে শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেওর। এই বিষয়ে মা তজকেরা শশুর মাহতাব আলি, শাশুড়ি উজলেফা বিবি,দেওর তরিকুল ইসলামের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই খুন হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন মৃত নাবালিকার মা।

মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার লোকাল ম্যাজিস্ট্রেট ও হরিশ্চন্দ্রপুর থানা আইসির উপস্থিতিতে সখিনা খাতুনের মেয়ের মৃতদেহ কবর থেকে তোলা হয়। এবং ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। মৃত নাবালিকার মায়ের সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরীর নাম ডলি খাতুন। ১০ সেপ্টেম্বর কিশোরীর মা তাজকেরা বিবি ও বাবা সাহাবুদ্দিন শেখ মাঠে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একা ছিল ডলি। ঘন্টাখানেক বাদে তাদের ফোন করে জানানো হয় যে ডলি মারা গিয়েছে। মা তাজকেরার অভিযোগ, মেয়ে পুরোপুরি সুস্থ ছিল। বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন যে মেয়ে খাটে মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সে ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে জানানো হয়। এরপরেই পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাকে কবরস্থ করেন। কিন্তু মেয়ের মৃত্যু নিয়ে এরপরেই সরব হন তাজকেরা। কিন্তু পরিবারের হুমকিতে মুখ বুজে ছিলেন। তারপর শুক্রবার বড় মেয়ের মতো তাকে ও ছোট মেয়েকে খুন করা হবে বলে দেওর হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

তাজকেরা বলেন, ওরা আমাকে ও ছোট মেয়েকেও খুন করার কথা বলে। তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে ডলিকে ওরাই খুন করেছে। আমি নিজেও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি।তাই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।

কবর থেকে কিশোরীর দেহ তুলে ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।