WEATHER

Top News


বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান, তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। আর এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ঋতব্রত।


জেতার দলে ভিড় জমানো সহজ, হেরোদের দলে টিকে থেকে লড়াই চালাতে দমের প্রয়োজন', অনেক কিছুই বলে ফেললেন ঋতব্রতর স্ত্রী
ডান দিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী


তাঁর স্বামী তৃণমূলের বিধায়ক। বিক্ষুদ্ধ। তাঁর হাত ধরেই তৈরি হয়েছে নতুুন তৃণমূল। যার পোশাকি নাম তৃণমূল ব্লক। তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে পাঠিয়েছিলেন। এরপর বিধায়কের টিকিট। আর দলের বিপর্যয়ের সময়ে সেই তিনিই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে নয়া অস্তিত্ব স্থাপনের চেষ্টায় মত্ত! তৃণমূল এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাঁর নামের আগে বসেছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা। এহেন পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী দুর্বা সেন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সামাজিক মাধ্যমে করলেন একটি পোস্ট। যা শেয়ার করলেন কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যা যথেষ্টই ইঙ্গিতবাহী। দুর্বা মায়া অ্যাঞ্জেলুর বিখ্যাত পংক্তি উল্লেখ করে লিখলেন, “সাহস সব গুণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাহস ছাড়া অন্য কোনও গুণকে ধারাবাহিকভাবে চর্চা করা যায় না।”


আর এর ব্যাখ্যা দিতে দিয়ে এক ‘সাধু’ ও এক ‘যুবকের’ নীতিগল্পও উল্লেখ করেছেন তিনি।

থাকবে না 'এপাং, ওপাং' থেকে 'হাম্বা', রাজ্যের সব লাইব্রেরি থেকে সরছে মমতার বই, ঘোষণা মন্ত্রীর



বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান, তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। আর এই অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ঋতব্রত। এখন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ত্রয়োদশ বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর এই দাবি ও সমর্থনের ভিত্তিতে স্পিকার বিধানসভায় তাঁর ঘরও খুলে দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই এখন বিরোধীদের দখলে মমতার পরিষদীয় দল। কিন্তু এই হাজারও বিতর্কের মাঝে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত রাজনৈতিক কেরিয়ার নতুন করে দিশা দেখেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই। নির্বাচনের আগে ঋতব্রতকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সহযোদ্ধা’ হিসাবে পাশে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেই ঋতব্রতই দলের দুঃসময়ে সুর চড়িয়েছেম দলের একনায়কতন্ত্র-দুর্নীতির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের অন্দরেই সমান্তরাল একটি অক্ষরেখা তৈরি করেছেন।

এবার প্রশ্ন, তাহলে তাঁর স্ত্রী এই পোস্ট কার উদ্দেশে? যদিও পোস্টের নীতি তিনি লিখেছেন, “এই পোস্টটি একান্ত ব্যক্তিগত এবং এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।” 
এই পোস্টটাই শেয়ার করেছেন কুণাল ঘোষ। তিনি বললেন, “পড়লাম, ভাল লাগল।”

 বিদ্যুৎ বণ্টনজনিত আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং ডিসকমগুলির (DISCOMs) আর্থিক হাল ফেরানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (WBSEDCL) ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ে তাদের ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের (CCC) মধ্যে ১০৩টি এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাকি এলাকাগুলিতেও ধাপে ধাপে এই মিটার স্থাপন করা হবে।


অনেক দিন ধরেই কথা চলছিল, এবার বাধ্যতামূলক, করতেই হবে! সরকারি কর্মীদের জন্য বড় নির্দেশিকা নবান্নের
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

 বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থা সংস্কার ও আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। কেন্দ্রীয় সরকারের আরডিএসএস (RDSS) প্রকল্পের আওতায় এবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোর নির্দেশ দিলেন মুখ্য সচিব। এই নির্দেশিকার আওতায় কেবল মূল সরকারি দফতরের কর্মীরাই নন, রয়েছেন প্যারাস্টেটাল, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), কর্পোরেশন এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও।


বিদ্যুৎ বণ্টনজনিত আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং ডিসকমগুলির (DISCOMs) আর্থিক হাল ফেরানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (WBSEDCL) ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ে তাদের ৫৫৪টি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের (CCC) মধ্যে ১০৩টি এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাকি এলাকাগুলিতেও ধাপে ধাপে এই মিটার স্থাপন করা হবে।


সেক্টর ফাইভে বিজেপির পার্টি অফিসে হাজির বিতর্কিত সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:


বিলিং ব্যবস্থা: নতুন স্মার্ট মিটারগুলি আপাতত বর্তমানের মতো পোস্ট-পেইড পদ্ধতিতেই চলবে। বিলিং ব্যবস্থায় এখনই কোনও বদল আসছে না।

প্রি-পেইড বিকল্প: মিটার স্থাপনের পর কোনও গ্রাহক যদি চান, তবে তিনি স্বেচ্ছায় প্রি-পেইড ব্যবস্থায় স্যুইচ করতে পারবেন।

যে সমস্ত সরকারি কর্মী WBSEDCL এলাকার বাসিন্দা, তাঁদের এই মিটার স্থাপনের কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত দফতর প্রধান, জেলাশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং পুলিশ কর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা নিজ নিজ কর্মীদের দ্রুত এই বিষয়ে অবগত ও সচেতন করেন।

টেসলা প্রধান এলন মাস্ক জানিয়েছেন, মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট পাঠানো ও বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের স্থায়ী বসতি বা কলোনি গড়ে তোলার স্বপ্নের জন্যই স্পেস-এক্সের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।

বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নার’ ইলন মাস্ক! শেয়ার বাজারে Space-X এসেই লিখল ইতিহাস
বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক (Elon Musk)। এবার তিনি আরও এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়লেন। পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ‘ট্রিলিয়নার’ (Trillionaire) হলেন ইলন মাস্ক। মাস্কের সম্পত্তি এখন ১ লক্ষ কোটি বা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক। শেয়ার বাজারে তাঁর রকেট ও মহাকাশযান সংস্থা ‘স্পেস-এক্স’ (SpaceX) পা রাখতেই এই ম্যাজিক ঘটল।


লক্ষ কোটির সম্পত্তি মাস্কের–
শেয়ার মার্কেটে এসেছে স্পেস-এক্সের আইপিও। প্রথম দিনেই কোম্পানির শেয়ারের দাম ১১ শতাংশ লাফিয়ে ১৫০ ডলারে পৌঁছয় এবং পরে তা আরও বেড়ে প্রায় ১৭২ ডলার হয়ে যায়। স্পেস-এক্স কোম্পানির মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২.১৮ ট্রিলিয়ন ডলার।


'কল্যাণদা খুবই ইমোশনাল...', পুরনো ঝগড়া টেনে দুঃসময়ের বাস্তবতা বোঝালেন মহুয়া
প্রাথমিক পাবলিক অফার বা আইপিও (IPO)-তে স্পেস-এক্সের শেয়ারের দাম ১৩৫ ডলার থেকে সরাসরি ১৫০ ডলারে উঠে যাওয়ার পরেই, মাস্কের মোট সম্পত্তি ট্রিলিয়নের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলে।


বর্তমানে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের মূল উৎস হল স্পেস-এক্স এবং গাড়ি তৈরির কোম্পানি টেসলা (Tesla)-র শেয়ার। এ ছাড়াও নিউরোলিঙ্ক (মস্তিষ্কের প্রযুক্তি তৈরির কোম্পানি) এবং দ্য বোরিং কোম্পানির (টানেল তৈরির সংস্থা) মতো বড় বড় সংস্থায় তাঁর মালিকানা রয়েছে।

২০২১ সালের জানুয়ারি মাসেই অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তির স্থান দখল করেন ইলন মাস্ক। সেই সময় টেসলার শেয়ারের দাম বেড়ে তাঁর মোট সম্পদ ১৮৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

কেন হঠাৎ শেয়ার বাজারে এল স্পেস-এক্স?
টেসলা প্রধান এলন মাস্ক জানিয়েছেন, মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট পাঠানো ও বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের স্থায়ী বসতি বা কলোনি গড়ে তোলার স্বপ্নের জন্যই স্পেস-এক্সের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আর সেই কারণেই কোম্পানিটিকে শেয়ার বাজারে আনা হয়েছে।

মঙ্গল গ্রহে ১০ লাখ মানুষের কলোনি বানানোর পরিকল্পনা মাস্কের। পাশাপাশি মহাকাশে ফুটবল মাঠের মতো বিশাল আকৃতির ডেটা সেন্টার চালু করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবসায় ওপেনএআই (OpenAI) ও অ্যানথ্রপিক (Anthropic)-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেস-এক্স।

তবে এই আকাশছোঁয়া স্বপ্ন পূরণ করতে স্পেস-এক্সের আরও শত শত কোটি ডলারের প্রয়োজন, যা তাদের বর্তমান রকেট ও স্যাটেলাইট ব্যবসা থেকে পাওয়া আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির প্রায় ৮.৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে।

টাকা-পয়সা আর লাগবে না, চাকরি হবে কেবল ‘শখ’-
গত বছরই এক সাক্ষাৎকারে ইলন মাস্ক দাবি করেছিলেন যে ভবিষ্যতে মানুষের কাছে টাকা-পয়সার কোনও মূল্য থাকবে না এবং চাকরি করাটা বাধ্যতামূলক থাকবে না। মাস্কের মতে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং মানুষের মতো দেখতে রোবটরা (Humanoid Robots) ভবিষ্যতে এতটাই উৎপাদনশীল ও দক্ষ হয়ে উঠবে যে সমাজে আর কোনও দারিদ্র্য থাকবে না। ফলে টাকা-পয়সার আর কোনও প্রয়োজন থাকবে না এবং বেশিরভাগ চাকরি তখন মানুষের জন্য বাধ্যতামূলক কাজ না হয়ে কেবল একটি শখ বা অবসরের বিনোদন হয়ে দাঁড়াবে।

গতকাল, শুক্রবারই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিল সিআইডি। '৪ তারিখ ডিজে বাজবে'- এই মন্তব্যের তদন্তে অভিষেকের বাড়িতে নোটিস দিতে আসে সিআইডি। তখন অভিষেক বাড়ি ছিলেন না।

ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সাতসকালে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকল শালবনী থানার পুলিশ, কী কারণে?
সাতসকালে অভিষেকের বাড়িতে পুলিশ।

টানটান উত্তেজনা। সাতসকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে গিয়ে কড়া নাড়ছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশ নয়, সুদূর শালবনী (Salboni) থেকে এসেছেন পুলিশ আধিকারিকরা। কোন মামলায় অভিষেকের বাড়িতে আসতে হল জেলার পুলিশকেও, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অভিষেকের বাড়িতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পুলিশ চলে যাওয়ার পর তিনি চলে যান।


ঝাড়গ্রাম থেকে এল পুলিশ-
আজ অভিষেকের বাড়িতে এল শালবনী থানার পুলিশ। কী কারণে তারা হঠাৎ অভিষেকের বাড়িতে এসেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় থানার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উপস্থিত রয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে। গোটা বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

সেক্টর ফাইভে বিজেপির পার্টি অফিসে হাজির বিতর্কিত সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য
জানা গিয়েছে, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা এদিন তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে ঢোকেন। ভিতরে যান ঝাড়গ্রামের শালবনী থানার পুলিশ। কিছুক্ষণ পর শালবনী থানার পুলিশ বেরিয়ে এসে মিনিট পাঁচেক কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বাড়ির ভিতরে অভিষেক আছেন বলেই অনুমান। বাড়িতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বাড়ির বাইরে ভিভিআইপি গাড়ি দেখা যায়, যেটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করেন। পুলিশ চলে যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বেরিয়ে যান।


কীসের তদন্তে এল শালবনী থানার পুলিশ?
সূত্রের খবর, অর্থের বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করতে এসেছিল শালবনী থানার পুলিশ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। সেই সূত্রেই অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তারা অভিষেকের বাড়ির ভিতরে ছিলেন। পরে তারা বেরিয়ে গেলেও, এখনও কলকাতা পুলিশ উপস্থিত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন রয়েছে।

গতকাল, শুক্রবারই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিল সিআইডি। ‘৪ তারিখ ডিজে বাজবে’- এই মন্তব্যের তদন্তে অভিষেকের বাড়িতে নোটিস দিতে আসে সিআইডি। তখন অভিষেক বাড়ি ছিলেন না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর সিআইডি যখন চলে যায়, তখন আসেন অভিষেক। পরে আবার আসেন সিআইডির আধিকারিকরা। তবে নোটিস গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন অভিষেক। জানা গিয়েছে, ১৬ তারিখ সকাল ১১টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু এই দুই জায়গাই নয়, জোকা, দক্ষিণেশ্বর সহ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিন সকাল থেকেই একযোগে ৮ জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। ফলে চাপানউতোর চলছে পুরোদমে। বেলেঘাটা মেন রোডে ঠিকাদার সঞ্জীব ঘোষের বাড়িতেও যায় ইডি-র টিম।

সাতসকালে ঘুম থেকে তুলে তল্লাশি, তিন ফ্ল্যাটে ইডির হানা! বিছানার তলা থেকে উদ্ধার নথি-টাকা
চাপানউতোর চলছে

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার ফের জোরদার অ্যাকশন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকরা। সাতসকালেই তল্লাশি চলেছে মদনের দক্ষিণেশ্বরের ফ্ল্যাটে। একইসঙ্গে জোকাতে মদনের পুরনো ফ্ল্যাটেও হানা দিয়েছে ইডি। যদিও বিগত ১০ থেকে ১২ বছর এই ফ্ল্যাটে আসেন না মদন মিত্র, এমনটাই দাবি প্রতিবেশীদের।  


এদিন একেবারে কাকভোরে সেন্ট্রাল ফোর্সের জওয়ানদের নিয়ে মদনের ফ্ল্যাটে চলে যান ইডি-র ৫ থেকে ৬ জন আধিকারিকরা। যদিও গিয়েই ঢুকতে পারেননি তাঁরা। জোকা মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ওই ফ্ল্যাট তালা বন্ধ থাকায় বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাঁরা সেখানেই অপেক্ষা করেন। খোঁজ-খবর শুরু হয় চাবির জন্য। অন্যদিকে হানা দেওয়া হয় মদন মিত্রের ভবানীপুরের ফ্ল্যাটেও। 

 'শুভেন্দুদাকে সম্মান করি, ওঁর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক', বলার পরই বড় বোম ফাটালেন মহুয়া মৈত্র
প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে একাধিক হেভিওয়েটকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়। এবার আচমকা মদন মিত্রের বাড়িতে রেইড থেকে নতুন আর কী কী পাওয়া যায় সেটাও দেখার। ইতিমধ্যেই বিছানার তলা থেকে বেশ কিছু নথি ও টাকা মিলেছে বলে ইডি সূত্রের খবর। ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেরও হদিশ মিলেছে। 


তবে শুধু এই জায়গাগুলিও নয়, জোকা, দক্ষিণেশ্বর সহ পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিন সকাল থেকেই একযোগে ৮ জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। ফলে চাপানউতোর চলছে পুরোদমে। বেলেঘাটা মেন রোডে ঠিকাদার সঞ্জীব ঘোষের বাড়িতেও যায় ইডি-র টিম। তিনি আবার এলাকার কাউন্সিলরের বেশ ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। এলাকার একের পর এক কাজের টেন্ডার শুধু তাঁর হাতে যাওয়া নিয়েও চলছে চর্চা। খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অভিষেকের বাড়িতে যখন শালবনি থানার পুলিশ আসে, তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এসে তালা ভাঙে। এরপরে শালবনি থানার সাতজনের টিম বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। তল্লাশি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।



কলকাতা: কালীঘাটে ও (Abhishek Banerjee) বাড়িতে শালবনী থানার পুলিশ। সকাল থেকে টানটান উত্তেজনা। বাড়ি ঘিরে রাখল কেন্দ্রীয় বাহিনী, কলকাতা পুলিশ। শালবনীর পুলিশ চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ অভিষেক নিজেই বললেন, “তালা ভেঙে পুরো বাড়ি তল্লাশি করেছে পুলিশ“। কিন্তু  কীসের জন্য এসেছিল পুলিশ?


কার খোঁজে এল পুলিশ?

এ দিন সকাল থেকেই উত্তেজনা কালীঘাটে। সকাল ৭টা নাগাদ জানা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এসেছে শালবনী থানার পুলিশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জানা গেল, অভিষেক নয়, তাঁর আপ্তসহায়কের খোঁজেই এসেছিল পুলিশ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। অভিষেকের ছায়াসঙ্গী তিনি।

জানা গিয়েছে, আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অপর একটি সূত্রে খবর,  জমি কেলেঙ্কারিতে নাম রয়েছে সুমিতের। মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। সেই কেসে শালবনি থানা পুলিশ ওয়ারেন্ট নিয়ে আসে।

অভিষেকের বাড়িতেই কেন এল পুলিশ?

সূত্রের খবর, সুমিত রায়ের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল অভিষেকের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতেই। গতকাল রাত আড়াইটে পর্যন্ত সুমিতের লোকেশন এখানে পাওয়া যায়। এরপরই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয় শালবনি পুলিশ।

কী বললেন অভিষেক?

অভিষেকের বাড়িতে যখন শালবনি থানার পুলিশ আসে, তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এসে তালা ভাঙে। এরপরে শালবনি থানার সাতজনের টিম বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। তল্লাশি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

পুলিশ চলে যাওয়ার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এসে জানান যে তদন্তে সবরকমের সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “লুকিয়ে রেখেছি কি না, আমার পুরো বাড়ি সার্চ হয়েছে। উত্তর তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসা করুন।”


 তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাককে নিশানা করে জগদীশ বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলা এবং ভাবের আদানপ্রদান করা খুবই কঠিন ব্যাপার ছিল। উনি এমনিতেই কম কথা বলতেন। এবং কথা শুনতেন না। অভিষেক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের সিনিয়র নেতাদের সরানো হয়েছে। আইপ্যাক ও অভিষেক মিলে যে প্রার্থী বাছাই হয়েছিল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ফলে অনেক জায়গায় হেরে গিয়েছি।"


তৃণমূলের লোগো, টাকা কার? বড় ইঙ্গিত দিলেন বিক্ষুব্ধ জগদীশ বসুনিয়া
কী বললেন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া?

১৮ মে না ৮ জুন? তৃণমূলের লোকসভার বিক্ষুব্ধ সাংসদরা চিঠিতে কবে সই করেছেন? কবে জমা দিয়েছেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লার কাছে? এই নিয়ে চাপানউতোর বাড়ছে। তখন মুখ খুলছেন লোকসভার বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ বলে দিলেন, ১৮ মে নয়, ৮ জুন তাঁরা চিঠিতে সই করেছেন। সেখানে তাঁরা কী জানিয়েছেন, তাও জানালেন। টিভি৯ বাংলায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে আর কী বললেন জগদীশ বসুনিয়া?


অধ্যক্ষের কাছে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের চিঠি নিয়ে-


 ১৮ মে নয়, কবে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা? জানালেন জগদীশ বসুনিয়া
একটি সংবাদসংস্থা বলছে, বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সই করা চিঠি ১৮ মে জমা পড়েছে, তা কি ঠিক? প্রশ্ন শুনে কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ বলেন, “১৮ মে নয়। এটা ভুল। ৮ জুন স্পিকারের অফিসে জমা পড়েছে। আমরা দাবি জানিয়েছি, আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের আলাদা লবি। এবং প্রকৃত তৃণমূল হয়ে লোকসভায় বসতে চাই। ইস্যু ভিত্তিক উন্নয়নে আমরা এনডিএ-কে সমর্থন করব। দেশ ও রাজ্যের উন্নয়ন যাতে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সেজন্য সবসময় তাদের সঙ্গে থাকব।”


তিনি আরও বলেন, “চিফ হুইপ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছিলেন। এবং ডেপুটি চিফ হুইপ ছিলেন শতাব্দী রায়। সেই হিসেবে কাগজটা তাঁরা জমা দিয়েছেন। এই সই আমরা সম্ভবত তিনদিন আগে করেছি। যেটা স্পিকারের কাছে জমা পড়েছে। সেটা আজকে সামনে এসেছে।”

কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে চিপ হুইপ করা নিয়ে তৃণমূলের চিঠি-

তৃণমূল বলছে, কল্যাণকে চিপ হুইপ করার চিঠি ২০ মে দেওয়া হয়েছিল। এবং ২৯ মে তা গৃহীত হয়। এই নিয়ে জগদীশ বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে যে ওরা করেছে, তা তো লোকসভায় গৃহীত হয়নি।” এরপরই তিনি বলেন, “এই বিষয়টি আমি জানি না। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায় দেখছেন।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা প্রকৃত তৃণমূল হিসেবেই দাবি করব। পার্টির লোগো, ফান্ডের বিষয়টি ধাপে ধাপে জানতে পারবেন। সেই প্রক্রিয়া চলছে। আগে সংসদের কাজটা শেষ হোক।”

ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কেন তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন?

এই নিয়ে জগদীশ বসুনিয়া বলেন, “এই ক্ষোভটা একদিনের নয়। উনিশের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে জেতে বিজেপি। কিন্তু, আমার সিতাই আসনে আমরা ৩৪ হাজারের বেশি লিড দিয়েছিলাম। তারপর বিজেপি সিতাইয়ে আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ শুরু করে। এমনকি, আমার বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়। তিনমাস আলিপুরদুয়ারে ছিলাম। আমি সেইসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলাম। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী চাইলেই ব্যবস্থা করতে পারতেন।”

তিনি আরও বলেন, “২০২১ সালের বিধানসভার আগে প্রকাশ্য সভায় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম। বলেছিলাম, দল সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। প্রকাশ্য সভায় সরব হয়েছিলাম। দল আমাকে কলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছিল। প্রকাশ্যে কেন একথা বলছি, জানতে চেয়েছিল। আমার কথা জানিয়েছিলাম। একুশে সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কোচবিহারে আমি আর পরেশ অধিকারী ছাড়া কেউ জেতেনি।”

অভিষেক ও আইপ্যাক নিয়ে বিস্ফোরক জগদীশ-

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাককে নিশানা করে জগদীশ বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলা এবং ভাবের আদানপ্রদান করা খুবই কঠিন ব্যাপার ছিল। উনি এমনিতেই কম কথা বলতেন। এবং কথা শুনতেন না। অভিষেক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দলের সিনিয়র নেতাদের সরানো হয়েছে। আইপ্যাক ও অভিষেক মিলে যে প্রার্থী বাছাই হয়েছিল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। ফলে অনেক জায়গায় হেরে গিয়েছি।” টাকা নিয়ে বিধানসভায় টিকিট দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি চাই দুর্নীতির তদন্ত হোক। দুর্নীতিতে যারা যুক্ত, তাদের শাস্তি হোক।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, "আমি ও সন্দীপন আমরা সমষ্টির প্রতিনিধিত্ব করছি। সুতরাং ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই। ব্যক্তিগত একটা ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে উনি একটা মন্তব্য করেছেন। আমাদের কাছে যে বিষয়টা মনে হয়েছে, আমরা সমষ্টিগতভাবে যে কথাটা অনেকদিন ধরে বলছি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে সেই কথাগুলো বলেছেন।"

ফিরহাদ এখন কাদের সঙ্গে? প্রশ্ন শুনেই ঋতব্রত বললেন...
ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে কী বললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?

ফিরহাদ হাকিমের অবস্থান কী? তিনি কি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন? নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘নব তৃণমূল ব্লকে’ যোগ দিয়েছেন? কলকাতা বন্দরের বিধায়ক তথা কলকাতা পৌরনিগমের প্রাক্তন মেয়রকে নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় আসার কথা থাকলেও আসেননি তিনি। ফিরহাদের অবস্থান নিয়ে কী বলছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?


শুক্রবার বিধানসভায় শপথ নিলেন দুই বিধায়ক। ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা এবং চণ্ডীতলার তৃণমূল বিধায়ক স্বাতী খন্দকার। দুই বিধায়কের শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ‘নব তৃণমূল ব্লকের’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। সেই শপথ অনুষ্ঠানের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হল ঋতব্রত ও সন্দীপন। সেখানেই একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন ঋতব্রত।


‘নব তৃণমূল ব্লকে’ বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের সংখ্যা বাড়বে?


ঋতব্রত বলেন, “সংখ্যা বাড়বে কি না, সেটা সোমবার বলতে পারব। মঙ্গলবার বলতে পারব। নম্বর বাড়লে অবশ্যই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দেব। সোম-মঙ্গলে কী হবে, এখন বলতে পারব না।”

স্বাতী খন্দকার কি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে?

প্রশ্ন শুনেই ঋতব্রত বলেন, “আজকে দু’জন বিধায়ক শপথ নিয়েছেন। একজন বিজেপির দেবাংশু পণ্ডা আর অন্যজন আমাদের স্বাতী খন্দকার। যেহেতু আমাদের বিধায়ক, তাই আমি ও সন্দীপন শপথ গ্রহণে ছিলাম।” এরপরই তিনি বলেন, “আমরাই তো এখানে মূল ফোর্স। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়কের সমর্থন। আমার এটা নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের ব্লককে সমর্থন করছেন কি না, তার সঙ্গে এটার কোনও সম্পর্ক নেই।”

ফিরহাদ হাকিম কি আপনাদের ব্লকে যোগ দিয়েছেন নাকি যোগ দেবেন?

এই নিয়ে ঋতব্রত বলেন, “আমি ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না। আমি সংখ্যায় যাব। আমি ও সন্দীপন ছাড়া এবং যাঁদের কথা বলেছি, তাঁদের ছাড়া কারও কথা বলব না। যখন বিধানসভার অধিবেশন হবে, তখন দেখা যাবে।” প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন বিধানসভায় এসেছিলেন ফিরহাদ। তখন সন্দীপন সাহা তাঁর হাত ধরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঘণ্টাখানেক সেখানে ছিলেন ফিরহাদ। ফলে তাঁকে নিয়ে জল্পনা বাড়ে। গতকাল বিধানসভায় যাওয়ার কথা থাকলেও যাননি ফিরহাদ।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, “আমি ও সন্দীপন আমরা সমষ্টির প্রতিনিধিত্ব করছি। সুতরাং ব্যক্তিগত মতামত নিয়ে আমাদের আগ্রহ নেই। ব্যক্তিগত একটা ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে উনি একটা মন্তব্য করেছেন। আমাদের কাছে যে বিষয়টা মনে হয়েছে, আমরা সমষ্টিগতভাবে যে কথাটা অনেকদিন ধরে বলছি, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে সেই কথাগুলো বলেছেন।”


প্রসঙ্গত, চণ্ডীতলা আসনের জয়ী তৃণমূল প্রার্থী স্বাতী খন্দকারের শপথগ্রহণ দুর্ঘটনার কারণে পিছিয়ে গিয়েছিল। তাঁর পা ভেঙে যাওয়ায় গত ১৩ ও ১৪ মে অন্য বিধায়কদের সঙ্গে শপথ নিতে পারেননি তিনি। সেইসময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এদিন দেবাংশু পণ্ডার সঙ্গে শপথ নিলেন।

সূত্রের খবর, মমতার বিরুদ্ধে হেয়ারস্ট্রিট থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যবসায়ী। পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্তও শুরু করে ফেলেছে বলে জানা যাচ্ছে। এখন দেখার এই কেসে পুলিশ মমতাকে ডেকে পাঠায় কিনা।


 ‘একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না..’, মমতার ‘১ সেকেন্ড’ মন্তব্যে এবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনাতেই তাঁর নামে দায়ের হয়েছিল এফআইআর। শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন এক আইনজীবী। এবার মমতার বিরুদ্ধে আরও চাপ বাড়ছে। এবার আরও এক উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে মমতার নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে এক ব্যবসায়ী। 


এই বছরের শুরুর দিকেই ভোটের আবহে ধর্মতলার মঞ্চ থেকেই ওই বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল মমতাকে। মঞ্চ থেকেই বলেছিলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।” মুহূর্তেই তাঁর এই মন্তব্য ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিতর্কের ঝড় উঠেছিল রাজনীতির আঙিনায়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে থাকার পরেও একজন কীভাবে এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে পারেন সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল নাগরিক মহলে। 



অবশেষে দায়ের অভিযোগ। সূত্রের খবর, মমতার বিরুদ্ধে হেয়ারস্ট্রিট থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যবসায়ী। পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্তও শুরু করে ফেলেছে বলে জানা যাচ্ছে। এখন দেখার এই কেসে পুলিশ মমতাকে ডেকে পাঠায় কিনা। অন্যদিকে ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে মমতার করা মন্তব্য নিয়েও চাপে রয়েছে তৃণমূল। 

রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতার সঙ্গে 'হারাধনের' যে কয়েকজন নেতা রয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম মদন। তৃণমূল সুপ্রিমোর দীর্ঘদিনের সঙ্গী কামারহাটির বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মমতার সঙ্গেই তিনি রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সিআইডি-র নোটিস পাওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। 

মমতার আর এক 'হারাধন' মদনের কাছেও এল সিআইডি-র নোটিস
বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে সিআইডি-র নোটিস পেলেন মদন মিত্র

বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে এবার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে নোটিস সিআইডি-র। শুক্রবার মদনের কামারহাটির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিস দেন সিআইডি আধিকারিকরা। তিনি যে নোটিস পেয়েছেন, তা স্বীকার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী মদন। নোটিস পেয়ে কী বলছেন কামারহাটির বিধায়ক?


তৃণমূল বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে পুরোদমে তদন্তে নেমেছে সিআইডি। গতকালই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিআইডি আধিকারিকরা। অভিষেক একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেননি বলে জানা গিয়েছে। সিআইডি আধিকারিকদের প্রশ্নে মেজাজও হারান।


ঘুম থেকে উঠেই এই জিনিস দেখলে দিনটা খারাপ যাবে
অভিষেককে নিয়ে চর্চার মধ্যেই মদনকে নোটিস দিল সিআইডি। এই নিয়ে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, “আজ সকালে আমাকে একটা নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমি নোটিস পেয়েছি। তবে আমায় এখনও তলব করা হয়নি। সিআইডি শুধু জানিয়ে গিয়েছে, আমাকে নোটিস দেওয়া হল।” জানা গিয়েছে, সই জালকাণ্ডে মদনকে তদন্তে সাহায্যের জন্য বলা হয়েছে।


রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতার সঙ্গে ‘হারাধনের’ যে কয়েকজন নেতা রয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম মদন। তৃণমূল সুপ্রিমোর দীর্ঘদিনের সঙ্গী কামারহাটির বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মমতার সঙ্গেই তিনি রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সিআইডি-র নোটিস পাওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে এমনিতে তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোল বাড়ছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে তৃণমূলের ৬০ বিধায়ক ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠন করেছেন। লোকসভায়ও তৃণমূল সাংসদরা দু’ভাগ হয়ে গিয়েছেন। রাজ্যসভায় একের পর এক সাংসদ ইস্তফা দিচ্ছেন। এরই মধ্যে বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে সিআইডি। বিধায়কদের সই জাল করে বিধানসভায় জমা দেওয়ার অভিযোগে অভিষেককে একাধিকবার তলব করা হয়েছে। প্রথম তিনবার সিআইডি-র তলবে সাড়া দেননি তিনি। এরপর গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর ভবানীভবনে হাজির হন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিবিএস প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন,"আমার কাছে তালিকা রয়েছে। বিজিবিএস করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন। এরও তদন্ত হবে। শুধু তদন্ত নয়, মামলা করব। প্রয়োজনে আর্থিক তছরূপের যাঁরা তদন্ত করে, তাঁদের দায়িত্ব দেব।"



কলকাতা: তৃণমূলের সরকারের (TMC Government) বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS) নিয়ে বিজেপির (BJP) অভিযোগ বহুদিনের। মানুষকে ঠকানোর মঞ্চ তৈরি করেছিল তৃণমূল, এমনও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিল তৎকালীন বিরোধী দল। তবে, এবার বাংলায় সরকার বদল হতেই বিজিবিএস নিয়ে কড়া পদক্ষেপ শুভেন্দুর সরকারের (Suvendu Adhikari Government)। তৃণমূলের আমলের এই বাণিজ্য সম্মেলনে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির (BGBS Corruption) অভিযোগ তুললেন। বিরোধী দল থাকাকালীনও দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। এবার ক্ষমতায় এসে বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজনে দুর্নীতির তদন্তও হবে বলে ঘোষণা 


আজ নরেন্দ্র মোদীর সরকারের ১২ বছর পূর্ণ উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক সাংবাদিক সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কী কী উন্নতি হয়েছে দেশে,তার খতিয়ান তুলে ধরেন। পরে, সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিবিএস প্রসঙ্গে বলেন,”আমার কাছে তালিকা রয়েছে। বিজিবিএস করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে গিয়েছেন। এরও তদন্ত হবে। শুধু তদন্ত নয়, মামলা করব। প্রয়োজনে আর্থিক তছরূপের যাঁরা তদন্ত করে, তাঁদের দায়িত্ব দেব। আমরা ছাড়ব না। ছাড়ার জন্য তো লোক বসাইনি। পুষ্পাদের পরিস্থিতি তো দেখতেই পাচ্ছেন।” শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই টাকা কোন কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট নিয়ে প্রয়োজনে তদন্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হত। এই মঞ্চ থেকেই শিল্পে বিনিয়োগ এসেছে বলে বহুবার দাবি করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, প্রথম থেকেই বিজিবিএস-এর বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি। সবটাই তৃণমূলের লোক দেখানো বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বারবার এই নিয়ে সরব হয়েছিল তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি। তবে, সরকার বদলে যেতেই বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্যের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল রাজনৈতিক মহলে। এবার সেই সম্মেলনেই এবার আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু।


 বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার নামে জনৈক এক ব্যক্তি তিনি বিধানগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। প্রথমে এই মামলার তদন্তভার নিয়েছিলেন বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার শাখা। গত বুধবার সিআইডি তদন্তভার হাতে নেয়।

 কালীঘাটের দরজার এপারে CID, ওপাশে অভিষেকের উকিলরা! রক্ষাকবচের 'ফাঁক' দিয়েই কি 'যুবরাজে'র গ্রেফতারি?
বাঁ দিকে, অভিষেকের লিগ্যাল টিম, ডান দিকে সিআইডি


সই মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে বৃস্পতিবারই ভবানী ভবনে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক। একটি মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছেন, কিন্তু ফাঁক তো রয়ে গিয়েছে আরও। কারণ অভিষেকের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলার দায়িত্ব নিয়েছে সিআইডি। সেটি ডিজে মামলা। অর্থাৎ নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয় বিধাননগর থানায়। গত বুধবার রাতেই সেই মামলা নিজের হাতে নেয় সিআইডি। শুক্রবার সেই মামলারই নোটিস দিতে আসেন তদন্তকারীরা। বিধানসভার সই জালিয়াতির পর এবার উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে ডাক পড়ল অভিষেকের।


বৃহস্পতিবারই অভিষেকের সিআইডি দফতরে হাজিরা নিয়ে এক প্রস্থ নাটক দেখেছে বাংলা। প্রথমে বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো, তারপর হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের অভিষেককে হাজিরা দেওয়ার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া, সঙ্গে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ। সন্ধ্যা ৬টায় অভিষেকের হাজিরা, আর তার মাঝেই অভিষেকের ডিজে মামলার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে নেওয়া।


মমতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন? আজ সবটা জানিয়ে দিলেন শতাব্দী
আর সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার দুপুরে সিআইডি-র টিম যায় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে। ডিজে হুমকি মামলার তদন্তে আসেন তাঁরা। গেটের বাইরে থাকেন সিআইডি আধিকারিকরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। এক মহিলা আইনজীবী-সহ তিন জনের টিম পৌঁছন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তাঁরা। এক আইনজীবী বলেন, “সংবিধানের লোক, তিনি সংবিধান মেনেই চলবেন। তিনি তো বারবার করে বলেছেন, আমি সহযোগিতা করব। হাইকোর্টের নির্দেশে গতকালও তিনি গিয়েছিলেন। তিনি নির্দেশকে মান্যতা দিয়েছেন। আগামী দিনেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইন মাফিকই কাজ করবেন।”


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু সে সময়ে বাড়িতে ছিলেন না, তাই নোটিস দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার নামে জনৈক এক ব্যক্তি তিনি বিধানগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। প্রথমে এই মামলার তদন্তভার নিয়েছিলেন বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার শাখা। গত বুধবার সিআইডি তদন্তভার হাতে নেয়।

নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক বলেছিলেন, ‘৪ তারিখ বেলা বারোটার পর কোন জহ্লাদের কত ক্ষমতা, কার দিল্লির বাবা কাকে বাঁচাতে আসে, আমি ৪ তারিখ দেখব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যতই উদার হোক, ৪ তারিখ আরামবাগের স্টিয়ারিং আমার হাতে থাকবে। ডিজে বাজবে, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব।’

অভিযোগকারী রাজীব সরকার বলেন, “এমন কিছু শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন, যা অসাংবিধানিক। জনপ্রতিনিধি আইন অনুসারে, এক জন জনপ্রতিনিধি এরকম কোনও শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না, যা মানুষকে উত্তেজিত করে। সেটাই উনি করেছিলেন।”

গঙ্গাসাগরের নটেন্দ্রপুর এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় নটেন্দ্রপুর ঘেরির ভেতর থেকে সোলার প্লেট বসানোর কাজে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, লোহার চ্যানেলসহ বিভিন্ন পরিকাঠামোর সরঞ্জাম খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি, ওই এলাকা থেকেই কয়েকশো আধার কার্ড উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



অভিযোগের তির তৃণমূল নেতার ছেলে দীনেশ মাইতির দিকে। স্থানীয়দের দাবি, ঘেরির ভেতর সোলার প্যানেল বসানোর পরিকাঠামোগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যার ফলে সরকারি প্রকল্পের সরঞ্জাম খোয়া যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে কয়েকশো আধার কার্ড উদ্ধার হওয়া নিয়ে। এত বিপুল সংখ্যক সরকারি পরিচয়পত্র কেন একটি ঘেরির ভেতরে ফেলে রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

এই ঘটনার পেছনে কোনো বড়সড় জালিয়াতি চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করতে পুলিশ প্রশাসন কতটা তৎপর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।