WEATHER

Top News



বেসরকারি সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে থাকা একটি বাড়িতে বসবাস করছেন এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার। এই বিষয়টি পুরনিগমকে অবগত করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে।

 ৫টা ১০-এ অভিষেকের বাড়িতে সাঁটানো নোটিস ৫টা ১১-তেই ছিঁড়ে ফেলল বাউন্সার! কী ব্যবস্থা নেবে পুরনিগম
অভিষেকের বাড়িতে নোটিস ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগেই নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরনিগম। ‘শান্তিনিকেতন’ নামে ওই বাড়িতে দেওয়া নোটিস নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে সব মহলে। আর এবার দ্বিতীয় নোটিস সাঁটানোর ১ মিনিটের মধ্যেই ফের তা ছিঁড়ে ফেলা হল। বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুরনিগমের অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের তরফে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছিল অভিষেকের ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ির দেওয়ালে। পরে দেখা যায়, সেখানে নোটিসটি নেই, লেগে রয়েছে শুধুই আঠার দাগ।


১ মিনিট পরই ছিঁড়ে ফেলা হয় নোটিস
জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে পুরনিগমের দু’জন অ্য়াসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শান্তিনিকেতন বাড়ির সামনেই সাঁটিয়ে দেওয়া হয় সেই নোটিস। আর ঠিক এক মিনিট পর, ৫টা ১১ মিনিটে অভিষেকের বাড়ি থেকে বাউন্সার বেরিয়ে এসে সেই নোটিস ছিঁড়ে ফেলেন। আপাতত বাড়ির সামনে আঠার দাগ স্পষ্ট। শুধু তাই নয়, অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নামে কালীঘাট রোডের যে বাড়িতে নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেটিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।



কী পদক্ষেপ করবে পুরনিগম
পুরসভার আইন বলছে, কোনও সম্পত্তি সংক্রান্ত নোটিস দেওয়া হলে, তা এভাবে ছেঁড়া যায় না। পর পর দুবার সেই নোটিস ছেঁড়া হয়েছে। এরপর নিয়ম মেনে পুরসভা কড়া পদক্ষেপ করতে পারে। নোটিস ছেঁড়ার জন্য অভিযোগও দায়ের করা হতে পারে।

বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, প্রয়োজন হলে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। প্রাক্তন মেয়র কথা বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “পুরসভা আইন অনুযায়ী নোটিস দিয়েছে, এবার নির্দেশ না মানলে প্রয়োজন পুরসভা নিয়ম মেনে ভেঙে দিতে পারে। গরিব মানুষের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে, দেখি বুলডোজার দিয়ে কী করে অভিষেকের বাড়ি ভাঙে।”

কী আছে নোটিসে?
হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িটি আদতে বেসরকারি সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে রেজিস্টার করা আছে। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, বেসরকারি সংস্থা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে সম্পত্তি থাকলেও, আদতে সেখানে বসবাস করছেন এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার। এই বিষয়টি পুরনিগমকে অবগত করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে। তাই সেই সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পুরনিগমে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভার মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লক এলাকায় সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, কোম্পানির ঠেক বাণীতলা পোল এলাকার নিমাই পুরকাইতের বন্ধ রাইস মিলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাঁড়ি, স্টোভ ও বিভিন্ন ত্রাণ কিটস মজুত করে রাখা হয়েছিল। 


বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পেরে মিল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়দিঘি থানা এবং ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়দিঘির বিজেপির প্রার্থী পলাশ রানা, তিনি ওই গোডাউনে গিয়ে দেখেন বস্তা বস্তা কিডস মজুদ করা আছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ও ঘূর্ণিঝড় আমফান-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পাঠানো সরকারি ত্রাণের একটি বড় অংশ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়নি। অভিযোগ, সেই সমস্ত সামগ্রী ৪০ হাজার কিটস গোপনে মজুত করে রাখা হয়েছিল বন্ধ মিলের ভিতরে।
এদিন বিজেপি নেতা পলাশ রানার দাবি , ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি চাল, কেরোসিন তেল, ত্রিপল এবং রান্নার সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সমস্ত রান্না ঘরের সরকারি কিটস গরিব মানুষের মধ্যে বিলি না করে মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের ওই বন্ধ রাইস মিলে প্রায় ৬ বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছে, যার ফলে বহু সামগ্রী নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশে ওই সামগ্রী সরিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বিজেপি সূত্রে দাবি, শিলিগুড়ি ও মালদা মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার সরকারি কিটস ওই গোডাউনে মজুত ছিল। ঘটনার বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন পলাশ রানা। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


চলচিত্র উৎসব, বইমেলা, হস্তশিল্প মেলা, পাড়ার রাস্তা, বিশ্রামাগার, নর্দমা, পায়খানা- সবই তৈরি হয়েছিল ‘অনুপ্রেরণায়’। এমন কোনও বাঙালি নেই, এই ‘অনুপ্রেরণা’ শব্দটির সঙ্গে পরিচয় হননি। বাংলা অভিধানে এই অনুপ্রেরণা শব্দের অর্থ কাউকে উৎসাহ দেওয়া। কিন্তু পায়খানা তৈরিতেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ‘অনুপ্রেরণা’! 


বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বুঝিয়ে দিয়েছে আর অনুপ্রেরণার প্রয়োজন নেই। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আর কোনও নামী-দামি ব্র্যান্ডের অনুপ্রেরণা থাকবে না, বাংলার জনতা জনার্দনই সর্বাগ্রে।” কিন্তু তৃণমূলের কেন প্রয়োজন পড়েছিল ‘অনুপ্রেরণা’ শব্দ? কেন এই শব্দ রাজ্যের জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠে ব্যবহার করা হত? এর পিছনে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে?

কখন থেকে শুরু অনুপ্রেরণা?


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর একটা শব্দ ভীষণ ব্যবহার করত তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সততার প্রতীক। বিভিন্ন ব্যানারে, পোস্টারে সততার প্রতীক শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হত। তারপর ঘটে সারদার মতো দেশের অন্যতম তছরুপ দুর্নীতি। যেখানে তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতা-মন্ত্রীদের নাম জড়ায়। তার সঙ্গে নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। অভিযোগ ওঠে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা একটি ছবি মোটা অঙ্কের মূল্যে কিনেছিলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। এরপর থেকে আস্তে আস্তে ‘সততার প্রতীক’ লেখা বিলীন হয়ে যায় বিভিন্ন পোস্টারে। আর তখন থেকেই শুরু হয় ‘অনুপ্রেরণা’ শব্দ।

মমতার পছন্দের শব্দ?

তৃণমূল মমতা কেন্দ্রিক একটি দল। অনেকে ঠাট্টা করে বলেন, একটিই পোস্ট বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট। তৃণমূলও বিশ্বাস করে এটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে তৃণমূল দল একটা দিনের জন্য ভাবতে পারেন না কোনও কর্মী। তাই মেলা উদ্বোধনের ফিতে কাটা থেকে শুরু করে দুঃস্থদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া— সর্বত্রই অনুপ্রেরণা শব্দটি এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, পাড়ার ক্লাব যদি নিছক দৌড় প্রতিযোগিতাও আয়োজন করত, তবে সেখানেও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আর ‘অনুপ্রেরণা’ লেখা ব্যানার ছাড়া যেন উৎসবের আমেজ ঠিক জমে উঠত না। নাহ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কখনই এই অনুপ্রেরণার কথা বলেননি, তবে বারণও করেননি। অন্তত, তেমনটা রেকর্ড নেই। তৃণমূলের অন্দরের খবর, এই অনুপ্রেরণা, মমতার পছন্দের শব্দ। যা ব্যবহার করলেই এলাকার বিধায়কের লেটার মার্কস প্রাপ্তি। পুরোটাই একটা আবছায়া মন জেতার খেলা।

অনুপ্রেরণা মানেই স্বীকৃতি!

তবে এই অতি-ব্যবহারের ফলে শব্দটির গাম্ভীর্য কতটা অক্ষুণ্ণ রইল, তা নিয়ে চায়ের দোকানে হাসাহাসিও কম হত না। আড্ডায় রসিকতা করে বলা হত, বৃষ্টির দিনে বাঙালির ঘরে খিচুড়ি রান্না হলেও বুঝি তার নেপথ্যে নবান্নের ডিরেক্ট অনুপ্রেরণা কাজ করছে। যদিও রসিকতা সরিয়ে রাখলে দেখা যায়, এই একমুখী ক্রেডিট দেওয়ার সংস্কৃতি বাংলার রাজনীতির এক নতুন ঘরানা তৈরি করেছিল। ব্যক্তিপুজো আর প্রশাসনিক সাফল্য একাকার হয়ে গিয়েছিল ওই অনুপ্রেরণা শব্দের মোড়কে। শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষের কাছে ‘অনুপ্রেরণা’ মানে শুধুই উৎসাহ ছিল না, এটি ছিল উন্নয়নের এক নীল-সাদা সিলমোহর, যা না থাকলে হয়তো বাংলার কোনও কাজই সরকারি স্বীকৃতি পেত না। অন্তত, ওয়াকিবহল মহল এমনই মনে করেন।

অনুপ্রেরণা যখন ব্যুমেরাং

বিধায়ক বা সাংসদ যখন কোনও শিলান্যাস করেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা ব্যবহার করার একটা যুক্তি থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু পাড়ার কেষ্টু-বিষ্টুরা যখন খেলা-মেলা করেন, সেখানে লুকিয়ে থাকত কাটমানির অঙ্ক কিংবা ভয়, হুমকি। আর সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণা শব্দ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ উঠত। উন্নয়ন আর কাটমানি যখন একই শব্দবন্ধে জড়িত থাকে, তখন অনুপ্রেরণা শব্দটির ব্যাখ্যা বদলে যায়।

সময় বদলেছে। গত ৪ মে-র পর থেকে বাংলা আপাতত এই সাদা-নীলের সর্বব্যাপী অনুপ্রেরণা থেকে মুক্ত। এমতাবস্থায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি তবে বাংলার উন্নয়নের নেপথ্যে কোনও অনুপ্রেরণা থাকবে না? বিজেপির গেরুয়া শিবিরের নেতারা কি এই জাদুকরী ‘অনুপ্রেরণা’ ছাড়াই বাংলার জেলায় জেলায় উন্নয়নের চাকা ঘোরাতে পারবেন? উত্তর খুঁজতে গিয়ে ক্ষমতার নতুন অলিন্দে কান পাতলে অবশ্য বেশ চমৎকার ব্যাখ্যা মিলছে। কাঁথির বিজেপি সাংগঠনিক সহসভাপতি অসীম মিশ্র যেমন বেশ চওড়া হেসে সাফ জানিয়ে দিলেন, এবার থেকে সাধারণ মানুষই নাকি তাঁদের অনুপ্রেরণা।

একই সুর শোনা গেল তমলুকের বিজেপি সাংগঠনিক সভাপতি প্রলয় পালের গলায়। তিনি তো আরও এক কদম এগিয়ে একেবার রাষ্ট্রবাদের তত্ত্ব আউড়ে বললেন, তাঁদের সরকার নাকি ‘রাষ্ট্রবাদী সরকার’, তাই ওই চেনা ছকের ‘অনুপ্রেরণা’র বালাই এখানে থাকবে না, জনগণের সরকার শুধু জনগণের জন্যই কাজ করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি বিধায়ক অরূপ কুমার দাস তো বেশ অবাক হয়েই জানালেন, তাঁদের নয়া মুখ্যমন্ত্রী তো এরকম কোনও জাদুকরী শব্দ ব্যবহার করার নিয়ম জারি করেননি। তাই ব্যবহারের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

বোঝা যাচ্ছে, নয়া জমানায় ‘অনুপ্রেরণা’ শব্দটির ভবিষ্যৎ অভিধানের সেই পুরনো মেজাজেই ফিরবে। এদিকে এই দলবদলের বাজারে ‘অনুপ্রেরণা’র আসল কারিগর কারা, তা জানতে বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তাঁরা যেন হঠাৎ করেই মৌনব্রত ধারণ করেছেন। একসময়ের সেই অতি-উৎসাহী গলায় এখন শুধুই থমথমে নীরবতা। সুতরাং, বাঙালি এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এটা দেখার জন্য যে, দেওয়ালে ‘অনুপ্রেরণা’র সিলমোহর না থাকলে পাড়ার রবীন্দ্রজয়ন্তী বা সুলভ শৌচালয়গুলো আগামী দিনে ঠিক কতটা সাড়ম্বরে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।


এদিন বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকের বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সূত্রের খবর, বৈঠকের মধ্যেই মেয়রের ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভের কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, এর আগেও তিলজলায় বুলডোজার চলা নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে রীতিমতো তিরস্কার করেছিলেন মমতা।

অভিষেকের বাড়িতে নোটিসের কথা কেন আগে জানা গেল না?’ ফিরহাদের উপর বেজায় চটলেন মমতা
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর

 অভিষেকের বাড়িতে কলকাতা পুরনিগমের নোটিস। এদিকে এই পুরনিগম এখন তৃণমূলের হাতে। কিন্তু তারপরেও কীভাবে কেউ কিছু জানতে পারলো না? চিন্তায় কার্যত ঘুম উড়ে গিয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সূত্রের খবর, বেজায় চটেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের উপর। কেন জানতে পারলেন না ফিরহাদ, পুরনিগমের ক্ষমতায় বসেও এই খবরগুলো কেন পাওয়া যাচ্ছে না, তা নিয়ে রীতিমত ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকের বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সূত্রের খবর, বৈঠকের মধ্যেই মেয়রের ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভের কথা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, এর আগেও তিলজলায় বুলডোজার চলা নিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে রীতিমতো তিরস্কার করেছিলেন মমতা। এবার ফের একবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরহাদ হাকিমের উপর।  


একইসঙ্গে ৯ নম্বর বরো থেকে সবক’টি নোটিস ইস্যু হয়েছে। বরো চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস আদৌও কি নিজের দায়িত্ব পালন করেছে চেয়ারে বসে? কেন জানতে পারলেন না নোটিস ইস্যুর ব্যাপারে? সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দলীয় সুপ্রিমো। 

নোটিস ঘিরে বোরো চেয়ারপার্সন যে চাপে ছিলেন তা আগেই স্পষ্ট হয়েছিল। সূত্রের খবর, এদিন দিনভর দলীয় নেতৃত্ব বারবার ফোন করে বরো চেয়ারপার্সনকে নানা কথা বলতে থাকে। রীতিমতো কাঠগড়ায় তোলা হয় দেবলীনাকে। সাংগঠনিকভাবে বরো চেয়ারপার্সন দুর্বল বলেও নেতৃত্ব দাগিয়ে দিতে শুরু করে। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জলঘোলাও হয়। তাতে অপমানিত বোধ করে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন দেবলীনা। তিনি যদিও বলছেন, নোটিস বিল্ডিং বিভাগ পাঠায়। এতে চেয়ারপার্সনের কিছু করার নেই। একইসঙ্গে রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, “অনৈতিক কাজ করব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দেখে রাজনীতি করেছি। কর্পোরেট স্টাইলে দল চলে না।”  

সম্প্রতিই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে যেখানে পাকিস্তানি সেনা অফিসার মুনিব জামাল বুক ফুলিয়ে দাবি করছেন যে ১০ মে-র হামলায় ভারতের দুটি এয়ারবেস ধ্বংস করেছে ইসলামাবাদ। মজার বিষয় হল, ওই দুটি এয়ারবেস বাস্তবে নেই-ই!

বাস্তবে অস্তিত্বই নেই, সেই ২ এয়ারবেস ধ্বংস করে গর্বে বুক ফোলাচ্ছে পাকিস্তান!
পাকিস্তানের মিথ্যাচার ফাঁস।

দিবাস্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে পাকিস্তান। তার প্রমাণ মিলল আবারও। পহেলগাঁও হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর ভারত-পাকিস্তানের (India-Pakistan Clash) মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তাতে দুই দেশই একে অপরের উপরে ড্রোন-মিসাইল দিয়ে হামলা শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে অলীক দাবি পাকিস্তানের।

অপারেশন সিঁদুরের পাল্টা জবাবে পাকিস্তান অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস (Operation Bunyan Ul Marsoos) শুরু করেছিল। জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের সীমান্তে হামলা করেছিল। ফতেহ-১ আর্টিলারি রকেটও ব্যবহার করেছিল তারা। তবে ভারত প্রতিটি হামলাই রুখে দিয়েছিল।



সম্প্রতিই একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে যেখানে পাকিস্তানি সেনা অফিসার মুনিব জামাল বুক ফুলিয়ে দাবি করছেন যে ১০ মে-র হামলায় ভারতের দুটি এয়ারবেস ধ্বংস করেছে ইসলামাবাদ। মজার বিষয় হল, ওই দুটি এয়ারবেস বাস্তবে নেই-ই! সাক্ষাৎকারে ওই পাক সেনা অফিসারকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের দুটো টার্গেট দেওয়া হয়েছিল, রাজৌরি এয়ারবেস ও মামুন এয়ারবেস। এবং আমরা সাফল্যের সঙ্গে সেই কাজে সফল হয়েছিলাম।”



মজার বিষয় হল, জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরিতে কোনও এয়ারবেস নেই বায়ুসেনার। অন্যদিকে মামুন পঞ্জাবের পাঠানকোটে অবস্থিত, এখানে একটি মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট রয়েছে, এয়ারবেস নয়।

পাকিস্তানের এই মিথ্যাচার সহজেই ধরা পড়ে যায়। তারপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই ভিডিয়ো। আমজনতা ট্রোল করতেও ছাড়ছে না পাকিস্তানকে।

দিনদিন বৈভবকে দেখে শ্রদ্ধা হচ্ছে। নির্বাচকরা চাইলে নিঃসন্দেহে সচিনের রেকর্ড ভেঙে দেবেন এই বিস্ময় বালক। আজ মারলেন ১০টি ছক্কা। একই সঙ্গে আইপিএলে কোনও সিজনে রাজস্থানের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়লেন বৈভব।


লখনৌয়ের মাঠে 'বিষাক্ত' বৈভব, শেষ চারের আরও কাছে রাজস্থান!

১৫ বছর বয়সে আমি-আপনি কী করতাম? পড়াশোনা, মাধ্যমিকের প্রস্তুতি, নিদেনপক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলবেলা মাঠে গিয়ে বল পেটানো? ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীও (Vaibhav Suryavanshi) বল পেটান। সাধারণ বোলারদের নয়, আইপিএলে (IPL 2026) খেলতে নেমে। ক্রমাগত, প্রতি ম্যাচে তাঁর ব্যাটে রান থাকবেই। শুধু রান নয়, থাকবে কিছু মাঠ পার করে দেওয়া বিশাল বিশাল ছক্কা। আজ ৭ রানের জন্য নাহয় সেঞ্চুরি পেলেন না বৈভব, কিন্তু এই ছেলে যে নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আইকন হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই যায়।

রাজস্থানের ঘরের মাঠ সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় রাজস্থান। আজ খেলেননি অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। দলকে নেতৃত্ব দিলেন যশস্বী জয়সোয়াল। লখনৌয়ের হয়ে প্রথম থেকেই ঝড় তোলেন মিচেল মার্শ। ৫৭ বলে ৯৬ রানের ইনিংস খেললেন মার্শ, মারলেন ১১টি বাউন্ডারি ও ৫টি ওভার বাউন্ডারি। ২৯ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেললেন জোস ইংলিসও। তাঁরা আউট হওয়ার পর যেন রানের গতি কমে যায় লখনৌয়ের। নিকোলাস পুরান করলেন ১১ বলে ১৬ রান। অধিনায়ক ঋষভ পন্থি ৩৫ রানের বেশি করতে পারেননি। আয়ুষ বাদোনিকে গোল্ডেন ডাক করেন জোফ্রা আর্চার। ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২২০ রান তোলে লখনৌ।



জবাবে ব্যাটে নেমে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই খেলা শুরু করেন বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সোয়াল। একসময় ধীরগতিতে শুরু করলেও যশস্বীর (৪৩) উইকেটের পর ঝড় তোলেন বৈভব। ৩৮ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেললেন এই ১৫ বছরের বালক। দিনদিন বৈভবকে দেখে শ্রদ্ধা হচ্ছে। নির্বাচকরা চাইলে নিঃসন্দেহে সচিনের রেকর্ড ভেঙে দেবেন এই বিস্ময় বালক। আজ মারলেন ১০টি ছক্কা। একই সঙ্গে আইপিএলে কোনও সিজনে রাজস্থানের হয়ে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়লেন বৈভব। অতীতে এই রেকর্ড ছিল জোস বাটলারের। চার বছর পর তাঁর রেকর্ড ভাঙলেন বৈভব।

বৈভবের আউট হওয়ার পর একটু হলেও ম্যাচে ফিরেছিল লখনৌ কিন্তু তাঁদের সব আশায় জল ঢেলে দিলেন ধ্রুব জুৱেল (৫৩ নট আউট)। আজকেই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন ধ্রুব। সেই আনন্দেই কি ম্যাচ শেষ করে এলেন তিনি? ৫ বল বাকি থাকতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান তুলে ফেলে রাজস্থান রয়্যালস।

এই জয়ের ফলে সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামে প্রথম জয় পেল রাজস্থান। একই সঙ্গে আজ জিতে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্টস টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এল রাজস্থান। পঞ্চম স্থানে নেমে গেল পাঞ্জাব কিংস। রাজস্থানের এখনো বাকি একটি ম্যাচ। সেই ম্যাচ জিতলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসবেন যশস্বীরা। তবে বৈভব যে ফর্মে আছেন, তাঁকে যে কোনওদিন জাতীয় সিনিয়র দলের জার্সিতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

প্রসঙ্গত, বাংলায় ক্ষমতার হস্তান্তর হওয়ার পর থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। নেওয়া হচ্ছে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নতুন সরকার পথচলা শুরু করতেই পঞ্চায়েতের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকেরও দায়িত্ব এসেছে দিলীপের কাঁধে।

রাজ্যে চালু হচ্ছে গোকুল মিশন প্রকল্প? কী থাকছে এতে? কী বললেন মন্ত্রী দিলীপ?
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

 রাজ্যে শুরু হবে গোকুল মিশন প্রকল্প। যেখানে গোমাতা পালন থেকে দুগ্ধ শিল্প বিষয়ের নানা কর্মসূচি থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। বাংলার মানুষ যাতে অল্প দামে দুধের পরিষেবা পেতে পারে সেটা দেখা হবে। পাশাপাশি বেআইনিভাবে গো হত্যা বা বাংলাদেশের গরু পাচারও বন্ধ করা হবে গোকুল মিশন প্রকল্পের হাত ধরে। আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক প্রকল্পই রাজ্যে রূপায়ণ হতো না। এখন কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো স্বচ্ছন্দে রূপায়িত হবে। এদিন গোশালা মালিকদের সঙ্গে একটি বৈঠকের পর এ কথা জানান মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ আরও বলেন, “দেশের যে আইন আছে ওটাকেই আমরা সামনে রাখছি। নতুন কিছু নয়। সর্বত্র আইনের শাসন হওয়া দরকার। পুলিশ কাজ শুরু করে দিয়েছে।” প্রসঙ্গত, বাংলায় ক্ষমতার হস্তান্তর হওয়ার পর থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি সরকার। নেওয়া হচ্ছে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নতুন সরকার পথচলা শুরু করতেই পঞ্চায়েতের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকেরও দায়িত্ব এসেছে দিলীপের কাঁধে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি। 



শুরুতেই দিলীপ জানিয়েছিলেন ৬ হাজার কর্মী নিয়োগের কথা। সাফ বলেছিলেন, “কথা হয়েছে বিভাগের অনেকের সঙ্গে। চাকরির নিয়োগের জন্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজারের শর্ট লিস্ট করা হয়েছিল। আপাতত সেইটাই তৈরি হচ্ছে। কর্মচারি নেই, সেই কারণে কাজগুলো পড়ে আছে। এক-একজন চারটে পঞ্চায়েত দেখেন। কাজ দেরি হচ্ছে। আপাতত ক্লিয়ার করব।” একইসঙ্গে মা ক্যান্টিন নিয়েও বড় কথা বলেছিলেন তিনি। ৫ টাকা ডিম ভাতের পাশাপাশি মাছ ভাতের কথাও শোনা গিয়েছিল। এবার গোশালা নিয়ে দেখা যাচ্ছে নতুন আশার আলো। 

 অভিষেকের কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে ক’টি সম্পত্তি রয়েছে, তার নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে সব কটি সম্পত্তিতে নোটিস গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি। এছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল রয়েছে।

 অভিষেকের সম্পত্তি নিয়ে নোটিস ফিরহাদের পুরনিগমের, হাকিম সাহেবের যুক্তি কী?
কী বললেন ফিরহাদ হাকিম?

অভিষেকের সম্পত্তি পুরনিগমের স্ক্যানারে। আলোচনা না করেই নোটিস, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তেমনটাই দাবি করেছেন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্যুতে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদিও বিল্ডিং বিভাগ কী সিদ্ধান্ত নেবে, কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙবে, সেটা মেয়র স্থির করে না। পুরসভার কমিশনার পদাধিকার বলে এটা করতে পারেন।”

প্রসঙ্গত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ টি সম্পত্তির খতিয়ান চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে পুরনিগম। অনুমোদন ও নির্মাণের সঙ্গতি যাচাইয়ে নোটিস দিয়েছে পুরনিগম। দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগাধ সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরেন।



অভিষেকের কোম্পানি ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে ক’টি সম্পত্তি রয়েছে, তার নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে সব কটি সম্পত্তিতে নোটিস গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি। এছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল রয়েছে।

কলকাতাপুরনিগম সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০০(১) ধারায় এই নোটিসটি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, শনিবার ফলতার নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী তোপ দেগেছিলেন, “ভাইপোবাবু আপনার প্রপার্টির লিস্টটা আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ২৪ টি প্রপার্টি কলকাতায়, আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস।” তারপরই নোটিস।

কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠতেই পারে, কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাট রোডের বাড়িটি ‘লিপস এন্ড বাউন্স’ এর নামে নোটিস দেওয়া হল? কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে দেওয়া হল না? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত লোকসভা নির্বাচনের হলফনামায় দাবি করেছিলেন, তাঁর বাড়ির ঠিকানা ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। যেটা খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। যে দুটি বাড়িতে তিনি থাকেন বা অফিস করেন, সেটা তাঁকে তাঁর কোম্পানি দিয়েছে। কোম্পানির নাম ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস’। যে কারণে নোটিস দেওয়া হয়েছে কোম্পানিকে। যে কোম্পানির কর্ণধার অভিষেক নিজেই! তাই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে নোটিস।

বিতর্ক তৈরি হয়েছে ওই শৌচাগারের সামনে থাকা চারটি শিশুর মূর্তি নিয়ে। শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি। উলঙ্গ শিশু মূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এভাবে শিশুদের মূর্তি কোন সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই নিয়ে পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিলেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, "তৃণমূলের কাছ থেকে আর কী আশা করতে পারেন। তাদের রুচি বলে কি কোনও জিনিস রয়েছে?"

 'অনুপ্রেরণায়' তৈরি সাধারণ শৌচাগারের সামনে শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি, অগ্নিমিত্রা বললেন...
শিশুদের এই মূর্তিগুলি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন


অনুপ্রেরণা’। গত ১৫ বছরে বাংলার প্রান্তে প্রান্তে নজরে পড়েছে এই শব্দ। বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী প্রতীক্ষালয় হোক কিংবা বিশ্রামাগার। যেখানেই যা কিছুর উদ্বোধন হয়েছে, উদ্বোধকের নাম যেমন রয়েছে, তেমনই তার উপরে লেখা রয়েছে ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়’। বর্তমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার অনুপ্রেরণায় কী কী হয়েছে, তা নিয়ে অনেক সময়ই আলোচনার ঝড় উঠে চায়ের ঠেকে। এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তৈরি সাধারণ শৌচাগারের সামনে উলঙ্গ শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি নিয়ে বিতর্ক বাধল। দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া শ্মশানের সামনে শিশুদের ওই মূর্তিগুলি নিয়ে আগের সরকারকে খোঁচা দিলেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।  


দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া শ্মশানের সামনে রয়েছে একটি পাবলিক শৌচাগার। শৌচাগারের সামনে বড় ফলকলিপি রয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী (বর্তমানে প্রাক্তন) মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে এই শৌচাগার। সেই শৌচাগারের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন বিদ্যুৎ, আবাসন, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।




বিতর্ক তৈরি হয়েছে ওই শৌচাগারের সামনে থাকা চারটি শিশুর মূর্তি নিয়ে। শিশুদের শৌচকর্মের মূর্তি। উলঙ্গ শিশু মূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এভাবে শিশুদের মূর্তি কোন সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই নিয়ে পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিলেন বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “আমি ছবিটা দেখেছি। আসলে তৃণমূলের কাছ থেকে আর কী আশা করতে পারেন। তাদের রুচি বলে কি কোনও জিনিস রয়েছে? পাবলিক টয়লেটের মধ্যে বাচ্চাদের ওই ধরনের মূর্তি, খুবই নিম্নরুচির। কোটি টাকা খরচ করে পাবলিক টয়লেট করেছে। আমরা তো এবার অডিট করব, কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে।”

এই নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য

ছাব্বিশের ভোটে ভাঙড় থেকে লড়াই করেছিলেন শওকত মোল্লা। তাঁর বিপরীতে টক্কর দিয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার সেখান থেকে জয়ী হন নওশাদ। এ দিকে, শওকতের হারের পর তাঁকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। কিন্তু কেন? কোথায় গেলেন তিনি? এইসবের মধ্যেই জল্পনা চলছে।


মাছের ভেড়ি দিয়ে ঘেরা বাগান, ভোটের পর কোথায় গেলেন শওকত?
শওকত মোল্লার বাড়ি

ছাব্বিশের ভোটের আগে একটি গান খুবই ভাইরাল…’মাছ চোর..মাছ চোর শওকত তো মাছ চোর’ তবে, তিনি মাছ চোর কি না সেটা অভিযোগ। এর কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি যে মাছের ভেড়ি দিয়ে ঘেরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। জানেন শওকত মোল্লার ঠিক কত বড় বাড়ি?

শওকতের বাংলো কেমন?


শওকত মোল্লার বিলাসবহুল বাংলো। আর তাঁর বাগান মাছের ভেড়িতে ঘেরা। এলাকাবাসী বলছেন, নির্বাচনে হারের পর দাপুটে তৃণমূল নেতাকে আর দেখাই যায়নি সেখানে। এক সময় অনুগামীদের ভিড় লেগে থাকত বাড়িতে। তবে, শুনশান চত্বর। কেউ বলছেন গা ঢাকা দিয়েছেন শওকত, আবার কেউ বলছেন বাংলোতেই রয়েছেন এক সময়ের বেতাজ বাদশা।

জীবনতলা থানা এলাকায় মৌখালিতে অবস্থিত শওকতের বাড়ি বা বাংলো যাই বলুন। ঢুকলেই লম্বা লন। দুদিকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। তারপর দো’তলা বাড়ি। ভিতরে গ্রিলে ঝুলছে তালা। এলাকার শওকত ঘনিষ্ঠ বলেন, “রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে। মানুষ ভোট দেয়নি। এখানে আমরা পরাজিত হয়েছি। আগামি দিনে আমরা ক্যানিং পূর্বে জিতব। মানুষের সার্বিক উন্নয়নে আমরা নজর রাখব।”

ছাব্বিশের ভোটে ভাঙড় থেকে লড়াই করেছিলেন শওকত মোল্লা। তাঁর বিপরীতে টক্কর দিয়েছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিপুল ভোটে দ্বিতীয়বার সেখান থেকে জয়ী হন নওশাদ। এ দিকে, শওকতের হারের পর তাঁকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। কিন্তু কেন? কোথায় গেলেন তিনি? এইসবের মধ্যেই জল্পনা চলছে।

মঙ্গলবার হঠাৎই দুপুর নাগাদ জাহাঙ্গির খান বসে সাংবাদিক বৈঠকে। সেখান থেকে তিনি বলেন, "ফলতার উন্নয়নের জন্য, ফলতার সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য আগামী ২১ মে পুনর্নিবাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে দিলাম।" এই সিদ্ধান্ত কার? সাংবাদিকের প্রশ্নে জাহাঙ্গীর এর উত্তর দেননি।

জাহাঙ্গির লড়ছেন না কেন? অবশেষে মুখ খুলল তৃণমূল
জাহাঙ্গির খান

মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ সাংবাদিক বৈঠক করে ফলতার (Falta) তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan) জানান তিনি ভোটে লড়াই করছেন না। এরপর থেকেই প্রশ্ন ওঠে, কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত। তবে কি দল থেকেই তাঁকে নিষেধ করা হয়েছে? নাকি এটা সম্পূর্ণ তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ভোটে না লড়ার? অবশেষে সেই বিষয়টিই বিবৃতি দিয়ে জানাল তৃণমূল (TMC)। এ দিন, এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল লেখে,”নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জাহাঙ্গির খানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত । দলের সিদ্ধান্ত নয়।”


আজ কী ঘটেছে?



মঙ্গলবার হঠাৎই দুপুর নাগাদ জাহাঙ্গির খান বসে সাংবাদিক বৈঠকে। সেখান থেকে তিনি বলেন, “ফলতার উন্নয়নের জন্য, ফলতার সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্য আগামী ২১ মে পুনর্নিবাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে দিলাম।” এই সিদ্ধান্ত কার? সাংবাদিকের প্রশ্নে জাহাঙ্গীর এর উত্তর দেননি। তবে, আতর লাগানো, ইভিএম-এ টেপ লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কে বা কারা এই কাজ করেছে তার উত্তর দেননি।



এরপর কুণাল ঘোষ এই নিয়ে বিবৃতি দেন। বেলেঘাটার বিধায়ক বলেন, “পুষ্পা সে তো ঝুকেগা নেহি। পুষ্পা ভয় পাবেই বা কেন? তাহলে কি ভয়ের প্রশ্ন তৈরি করেছিল কি না সেটা প্রশ্ন। আর ভয়ের পরিবেশ তৈরি করলে সে কেন ভয় পেল এটাও একটা প্রশ্ন। এটা ডায়মন্ড হারবার মডেল এরিয়ার অন্তর্গত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুল ভোটে জিতেছিলেন। ব্যাপারটা উনি বলতে পারবেন। এই প্রার্থী হাঁটাচলা করলে যেখানে বস…বস ভিডিয়ো আসত সে কেন ভয় পেলেন এটা তো দলের জন্য ভাল বিজ্ঞাপন নয়।”
ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরনিগমের স্ক্যানারে চলে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সম্পত্তি। কয়েকদিন আগেই অভিষেকের বাড়িতে ইন্সপেকশনে গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, সেই সময়েই তাঁরা হরিশ মুখার্জি রোডে ‘শান্তিনিকেতন’ ও তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণের খোঁজ পান।

‘এসব করে আমার মাথা নত করা যাবে না’, ফিরহাদের পুরনিগম থেকে নোটিস পেয়ে মুখ খুললেন অভিষেক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

গিয়েছে ক্ষমতা। খোদ ভাবনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন মমতা। কিন্তু দমতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে ফের একবার বৈঠক করে ফেললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মমতা যে পরিষদীয় দলের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করছেন সেই খবর আগেই মিলেছিল। শোনা গিয়েছিল থাকতে পারেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দিনে শেষে বিজেপির বঙ্গ উত্থানের মধ্যেই দলের শীর্ষ মহল থেকে কী বার্তা আসে সেদিকে নজর ছিল ঘাসফুল শিবিরের, নজর ছিল রাজনীতির কারবারিদের। বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা হতেই সবটা পরিষ্কার। অবৈধ নির্মাণ নিয়ে কলকাতা পুরনিগমের নোটিস ইস্যুতে মুখও খুললেন দলের সেনাপতি। 

‘এসব করে আমার মাথা নত করা যাবে না’
বৈঠকে অভিষেককে পুরসভার নোটিসের প্রসঙ্গ যেমন উঠল তেমনই নির্বাচনের মুখে চর্চা ফলতা নিয়েও, চর্চা ‘খেলার মাঠ ছেড়ে’ চম্পট দেওয়া জাহাঙ্গিরকে নিয়েও। সূত্রের খবর, বৈঠকেই রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গেই অভিষেক বলেন, “আমার বাড়িতে নোটিস পাঠিয়েছে। এসব করে আমার মাথা নত করা যাবে না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “আগামী দিনে কেন্দ্রে বিজেপি থাকবে না। বিজেপি ক্ষমতা থেকে সরে যাবে।” 



প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরনিগমের স্ক্যানারে চলে এসেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সম্পত্তি। কয়েকদিন আগেই অভিষেকের বাড়িতে ইন্সপেকশনে গিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, সেই সময়েই তাঁরা হরিশ মুখার্জি রোডে ‘শান্তিনিকেতন’ ও তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে বেশ কিছু অবৈধ নির্মাণের খোঁজ পান। ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠিয়ে ওই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিষেক নিজে না ভাঙলে পুরনিগম নিজের উদ্যোগেই তা ভাঙবে। 

যদিও কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্যুতে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদিও বিল্ডিং বিভাগ কী সিদ্ধান্ত নেবে, কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙবে, সেটা মেয়র স্থির করে না। পুরসভার কমিশনার পদাধিকার বলে এটা করতে পারেন।”

জাহাঙ্গির ইস্যুতে উত্তাল বৈঠক 
অন্যদিকে এদিনের বৈঠকে উঠে আসে স্বঘোষিত পুষ্পা ওরফে জাহাঙ্গিরের প্রসঙ্গও। ইতিমধ্যেই ফলতায় ওয়াকওভার দিয়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গির। সরে দাঁড়িয়েছেন লড়াই থেকে। ফলে তাঁকে নিয়ে দলের অন্দরে অস্বস্তি যে বেড়েই চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর প্রসঙ্গ উঠতেই উত্তাল হয় বৈঠক। কেন এমন করা হল এই প্রশ্ন তুলে জাহাঙ্গিরকে দল থেকে বহিষ্কারেরও দাবি তোলেন বিধায়কদের একাংশ। সূত্রের খবর, বহু বিধায়ক বলেন, জাহাঙ্গির এই সিদ্ধান্ত কী দলের সঙ্গে আলোচনা করে করছে? যদি না হয় এভাবে ভাবমূর্তি নষ্ট করা হল কেন? যদিও দলের তরফে জাহাঙ্গির ইস্যুতে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ জানতে চায়, "নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল? ⁠হাজারো মাদ্রাসা রয়েছে। রাজ‍্যে সবার পরিচালন কমিটি নিজের মতো নিয়োগ করবে, আর সরকার তার টাকা মেটাবে?" নিয়োগকারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত বলে, "⁠কারা নিয়োগকারী? তাঁদের কি যোগ্যতা রয়েছে?"


পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর', মাদ্রাসা মামলায় কেন বলল সুপ্রিম কোর্ট?
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

 গত কয়েক বছরে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে নিয়ে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি গিয়েছে ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। এই আবহে মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ নিয়ে মামলায় মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি ও পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ বলল, “গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর।” একইসঙ্গে বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।

তৃণমূল সরকারের আমলে প্রধানত ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে প্রচুর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি এই নিয়োগ করেছিল। অভিযোগ উঠে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ’-র মাধ্যমে নিয়োগ হয়। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।



সেই মামলারই শুনানিতে এদিন শীর্ষ আদালত মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি ও বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।” এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করার দায়িত্ব নিতে পারে? মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন যখন কার্যকর নয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া উচিত। কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করতে পারে? হাইকোর্ট কি এব্যাপারে কোনও নির্দেশ দিয়েছে?”

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ জানতে চায়, “নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল? ⁠হাজারো মাদ্রাসা রয়েছে। রাজ‍্যে সবার পরিচালন কমিটি নিজের মতো নিয়োগ করবে, আর সরকার তার টাকা মেটাবে?” নিয়োগকারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত বলে, “⁠কারা নিয়োগকারী? তাঁদের কি যোগ্যতা রয়েছে?”

নিয়োগ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ বলেন, “⁠আপনারা আপনাদের ব্লু আইড বয়েজদের নিয়োগ করেছেন। আর কেন তাঁদের নিয়োগ করেছেন, সেটাও আমরা জানি।” বিচারপতিরা জানতে চান, “⁠সরকারের কোনও মনোনীত ব্যক্তি ছিলেন পরিচালন কমিটিতে?” মামলার বিস্তারিত শুনানি আগামিকাল হবে।