Articles by "Kakdwip news"
Showing posts with label Kakdwip news. Show all posts

ঘূর্ণিঝড় 'মান্থা'-র ভ্রুকুটি: দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ঝড়ের পূর্বাভাস, সাগরে মাইকিং প্রচার


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মান্থা'-র প্রভাবে আগামী ২৮ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া অফিস। এই সময়ের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিমধ্যে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সমুদ্র সৈকতে মাইকিং প্রচার শুরু করেছে। মৎস্যজীবীদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে বা উপকূলে ফিরে আসার কথা বলা হচ্ছে। একইসঙ্গে, সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, যার নামকরণ করা হয়েছে 'মান্থা'। এটি সরাসরি অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার কাছে স্থলভাগে আছড়ে পড়লেও, এর প্রভাবে বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইবে। প্রশাসন উপকূলীয় এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

ইতিহাসের সাক্ষী গঙ্গাসাগর! ভয়ঙ্কর ভাঙন রুখতে কোমর বাঁধল প্রশাসন, মেলা শুরুর আগেই জরুরি বাঁধ-মেরামত কাজ খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা


২০২৫: আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর আগে সাগরতটে যুদ্ধকালীন তৎপরতা। সমুদ্রের ভয়ঙ্কর ভাঙন রোধে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্র বাঁধ ও সি-বিচ মেরামতির কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছরই ভাঙন বাড়ে, ফলে এবারের প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে নারাজ সেচ দপ্তর।
ভাঙন রুখতে বিশেষ উপায়ে মাটি সংগ্রহ করে তা সমুদ্র সৈকতে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। সেই মাটি বাঁধ মেরামতির জন্য ঠিকঠাক কিনা, তা মঙ্গলবার স্বয়ং সরেজমিনে এসে খতিয়ে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তিনি কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশদ খোঁজ নেন।

জানুয়ারির ৮ তারিখ থেকে পুণ্যার্থীদের জন্য গঙ্গাসাগর মেলার দরজা খুলে যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের জন্য জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছে। নিরাপত্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ সমস্ত পরিকাঠামো প্রস্তুত করতে চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ভেঙে যাওয়া সমুদ্র বাঁধ দ্রুত মেরামত করাই এখন প্রশাসনের কাছে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা নিয়মিত কাজের তদারকি করছেন।

পুজো ও সংহতির ডবল ধামাকা! গঙ্গাসাগরে কাল থেকে 'ছয়-এর ঘেরি'-তে জমছে জগদ্ধাত্রী মেগা-উত্সব


পুজো মানেই কেবল দেবী আরাধনা নয়, এ হল মহামিলনের ক্ষেত্র। আর সেই সংহতির বার্তা নিয়েই আগামীকাল থেকে গঙ্গাসাগরের বুকে শুরু হচ্ছে এক অভূতপূর্ব মহাযজ্ঞ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তীর্থভূমি গঙ্গাসাগরের 'ছয়-এর ঘেরি'তে কাল থেকে ধুমধাম করে শুরু হতে চলেছে জগদ্ধাত্রী পুজো ও সংহতি মেলা ২০২৫। এই যুগলবন্দী উৎসবে এখন সাজো সাজো রব।
আগামীকাল থেকে শুরু করে টানা পাঁচ দিন ধরে চলবে এই বিশেষ মেলা। ইতিমধ্যেই উৎসবের প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। বিশাল তোরণ, আলোর সজ্জা আর মেলার বিভিন্ন স্টল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এই পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের জন্য।

এই সংহতি মেলা শুধু জগদ্ধাত্রী পুজোর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যই বহন করবে না, বরং এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ঐক্য স্থাপনের বার্তা দেওয়া হবে। পাঁচ দিনের এই মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকনৃত্য, নাটক এবং বহিরাগত শিল্পীদের পরিবেশনা।


গঙ্গাসাগরের পবিত্র ভূমি জগদ্ধাত্রী পূজা এবং সংহতি মেলার মাধ্যমে এক ভিন্ন মাত্রার ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে চলেছে। উদ্যোক্তাদের আশা, এই মেগা-উত্সব দেখতে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে এবং এটি এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হয়ে উঠবে। গঙ্গাসাগরের ছয়-এর ঘেরি এখন উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা।

পুজোয় প্রাণের সঞ্চার! রক্তদান শিবিরে মন্ত্রী দিলেন চারাগাছ, সবুজ বার্তা গঙ্গাসাগরে


কালীপুজো মানে শুধু আলোর রোশনাই নয়, এ যেন প্রাণের উৎসব! সেই উৎসবের আবহে সেবাই পরম ধর্ম - এই বার্তা নিয়ে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানায় হয়ে গেল স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। বৃহস্পতিবার এই জনহিতকর কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।
শিবিরটি শুধু রক্তদান করেই থেমে থাকেনি, মানবসেবার সঙ্গে প্রকৃতি সুরক্ষার এক অভিনব মেলবন্ধন ঘটল এখানে। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা প্রত্যেক রক্তদাতার হাতে উপহার হিসাবে একটি করে চারাগাছ তুলে দেন। রক্তদানের মাধ্যমে প্রাণ বাঁচানোর অঙ্গীকার এবং চারাগাছ দিয়ে পরিবেশ রক্ষার শপথ - একই মঞ্চ থেকে দুই মহৎ কাজের প্রেরণা দেওয়া হয় এদিন।



এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। মন্ত্রী ছাড়াও শিবিরে উপস্থিত ছিলেন সাগর এসডিপিও সুমন কান্তি ঘোষ, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সাহা, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, গঙ্গাসাগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান হরিপদ মণ্ডল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
কোস্টাল থানার এই অভিনব শিবিরটি প্রমাণ করল, উৎসবের দিনেও জনসেবার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। রক্তদান ও বৃক্ষরোপণের এই যুগলবন্দী আগামী দিনে আরও বহু মানুষকে এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগে সামিল হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা যায়।


প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে সতর্কবার্তা মূলক মাইকিং প্রশাসনের। 

আজ অর্থাৎ রবিবার নামখানা মৎস্য বন্দরে এফআইভি বোর্ড নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে সতর্কবার্তা মূলক মাইকিং প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আজ নামখানা মৎস্য বন্দরে সুন্দরবন পুলিশ জেলা

 এবং নামখানা থানা পক্ষ থেকে সমস্ত মৎস্যজীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা নিয়ে মাইকিং করলেন। আজ থেকে গভীর সমুদ্র মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞাএর পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বইবে এবং জলোচ্ছ্বাসের হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে নামখানা থানার পক্ষ থেকে।

সেই ছবি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কাকদ্বীপ ডট কম এর মাধ্যমে। 



স্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার 

উৎসব শেষ হতে না হতেই ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

উৎসবের আবহে নিম্নচাপ ও সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনে নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।


 যার প্রভাবে এই জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঘন্টায় ৫০কিমি বেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। সেই কারণে আজ সকাল থেকেই জেলার উপকূল থানাগুলির পক্ষ থেকে মাইক প্রচারের মাধ্যমে সতর্কতা শুরু হয়েছে। সমুদ্রে থাকা সব মৎস্যজীবী ট্রলারকে আগামীকাল সন্ধের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার

নিষেধ থাকা সত্ত্বেও সমুদ্র থেকে হাঙরের বাচ্চা ধরে নিয়ে আসছে কিছু ট্রলার। প্রশাসনের চোখে বুড়ো আঙুল দিয়ে বেআইনিভাবে চলছে হাঙ্গর বাচ্চা মাছ নিধন।




গভীর সমুদ্র থেকে হাঙরের বাচ্চা (স্থানীয় ভাষায় বলা হয় কামট) ধরে নিয়ে আসছে ট্রলার গুলি। অথচ এই জলজ প্রাণীটিকে ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মৎস্যবন্দর গুলিতে ছবি দিয়ে সাইনবোর্ডে পরিষ্কার করে তা লেখা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে স্থানীয় বাজার গুলিতেও বিক্রি হচ্ছে হাঙরের বাচ্চা। যা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবিদরাও। তবে মৎস্যজীবীদের বক্তব্য, সমুদ্রে জাল পাতলে মাঝে মধ্যে এই বাচ্চা গুলি জড়িয়ে পড়ে। এগুলি ধরার জন্য সমুদ্রে জাল পাতা হয় না।

                 এবিষয়ে এক মৎস্যজীবী পিন্টু দাস বলেন, "মাঝে মধ্যে সমুদ্রে পাতা জালে হাঙরের বাচ্চা গুলি জড়িয়ে পড়ে। উপরে জাল টেনে তুললে সেগুলি মারা যায়। তখন ওই গুলি নদীতে না ফেলে দিয়ে নিয়ে চলে আসা হয়।"
                   সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, "অতীতে এক সময় দক্ষিণ ভারতে হাঙরের চাহিদা ছিল। সেই সময় এখান থেকে হাঙর ওখানে পাঠানো হতো। তখন মৎস্যজীবীরা হাঙর ধরার লক্ষ্য নিয়ে সমুদ্রে জাল ফেলত। কিন্তু এখন আর সেই সময় নেই। বর্তমান কেউ আর হাঙর ধরার জন্য সমুদ্রে জাল ফেলা না। এক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে অন্য মাছ ধরার সময় মাঝেমধ্যে দুই একটি হাঙরের বাচ্চা জালে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এগুলিও ধরা উচিত নয়। প্রশাসনের আরও বেশি নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।"

               স্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার

মহিলাদের স্বনির্ভরতায় ছাগল বিতরণ: সাগর ব্লকে নতুন দিশা

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগ কর্তৃক গৃহীত এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগর ব্লকের মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) হাতে তুলে দেওয়া হলো ছাগল। ‘ছাগল পালন প্রশিক্ষণ, ২০২৫-২৬’ প্রকল্পের অধীনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথকে আরও মসৃণ করবে। সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সহযোগিতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাগর ব্লকের দশটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মধ্যে মোট ১০০টি ছাগল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপে ১০টি করে উন্নত জাতের ছাগল প্রদান করা হয়েছে, যা মহিলাদের পশুপালনের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সহায়ক হবে।

সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা সাগর ব্লকের বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাগল তুলে দেন। তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুসারে, সুন্দরবনের মহিলাদের স্বনির্ভর করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ছাগল পালনের এই প্রশিক্ষণ ও বিতরণ কর্মসূচি মহিলাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।" মন্ত্রী আরও বলেন, "সরকার এই এলাকার মহিলাদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের আরও প্রকল্প নিয়ে আসা হবে।"
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, সহ-সভাপতি স্বপন কুমার প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষবৃন্দ এবং অন্যান্য সদস্যরা। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে মহিলাদের ছাগল পালনের উপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে, যাতে তারা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পশুপালন করে অধিক লাভবান হতে পারেন। স্থানীয় স্তরে মহিলাদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে সরকারের এই ধরনের প্রকল্প নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণামূলক পদক্ষেপ।

গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারে গিয়ে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে উল্টে যায় মাছ ধরার ছোট ট্রলার। ট্রলারে থাকা সাত মৎস্যজীবীর মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা গেলেও এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবী। 


পুলিশ সূত্রে খবর গতকাল বেলা তিনটের সময় নামখানার হরিপুর ঘাট থেকে প্রায় ২২ জন মৎস্যজীবী ৩ টি মাছ ধরার ছোট ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এরই মধ্যে গতকাল গভীর রাতে বকখালি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে মা মঙ্গলা নামে ট্রলার সাত জন মৎস্যজীবী নিয়ে উল্টে যায়। পাশে থাকা ট্রলারের মৎস্যজীবীরা দুর্ঘটনা গ্রস্ত ট্রলারের মৎস্যজীবীদের উদ্ধারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাঁচজন মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করা গেলেও দুজন মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খবর দেওয়া হয় ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানায়। 


ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীর ফ্রেজারগঞ্জ ঘাঁটির সহযোগিতায় ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পক্ষ থেকে এফআইবি বোট এবং কোস্ট গার্ডের হোভারক্রাফ্ট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই মৎস্যজীবী নামখানার দেবনিবাস ও বিজয়বাটির বাসিন্দা দেবনাথ কর বয়স ২৮,  অমল জানা বয়স ৩৮। গোটা ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছে নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারের লোকজন। ডুবো ট্রলারটিকে ইতিমধ্যেই টেনে আনার কাজ শুরু করা হয়েছে।
নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি শ্রীমন্ত কুমার মালি।


স্টাফ  রিপোর্টার মুন্না সর্দারের

রেকর্ড গড়তে চলেছে গঙ্গাসাগরের কয়লাপাড়া: ২৫ বছরে ৩৫ ফুটের কালী প্রতিমা


 কালীপুজো মানেই মায়ের আরাধনা আর সেই সঙ্গে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের কয়লাপাড়া সেই উৎসবকে নিয়ে যাচ্ছে এক নতুন উচ্চতায়। স্থানীয় ফুটবল মাঠে গ্রামবাসীদের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে এক বিশাল কালী প্রতিমা, যার উচ্চতা প্রায় ৩৫ ফুট। উত্তর হারাধনপুর ও দেবী মথুরাপুর যুব গোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনায় এই পুজো এবার রজত জয়ন্তী বর্ষে, অর্থাৎ ২৫ তম বছরে পা রাখল।


২৫ বছর ধরে এই পুজো তার সাবেকিয়ানা বজায় রেখেও প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের জন্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়। প্রতিমার উচ্চতা বৃদ্ধিই তাদের মূল আকর্ষণ। পুজো কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই তারা প্রতিমার উচ্চতা বাড়াচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে ২৫ ফুট, আর গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে সেই উচ্চতা বেড়ে হয় ৩২ ফুট। আর এ বছর ২৫ তম বর্ষে তা আরও ৩ ফুট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ ফুটে। এই সুউচ্চ কালী প্রতিমা দেখতে বহু মানুষের ভিড় হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
পুজোকে ঘিরে উৎসবের আমেজ এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে কয়লাপাড়ায়। কালীপূজার ক'টা দিন শুধু পুজো-আর্চা নয়, মনোরঞ্জনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। থাকছে চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা। ছোটদের জন্য ফুটবল মাঠের একপাশে বসানো হচ্ছে নাগরদোলা সহ বিভিন্ন ধরনের রাইড। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে বিভিন্ন ধরনের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা দূর-দূরান্তের মানুষকে আকর্ষণ করবে। পুজোর উদ্যোক্তারা আশা করছেন, রেকর্ড উচ্চতার এই কালী প্রতিমা দেখতে এবার উপচে পড়া ভিড় হবে কয়লাপাড়ায়। সব মিলিয়ে, কয়লাপাড়ার এই কালীপুজো এবার জেলার অন্যতম সেরা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।

*গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর প্রস্তুতি শুরু, প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক সাগরে* 



আর মাত্র কয়েকমাস। আগামী ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাসাগর মেলা। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জোরদার প্রস্তুতি শুরু করে দিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। মেলার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর মেলা অফিসে অনুষ্ঠিত হলো আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬-এর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক।
এদিনের বৈঠকে পৌরহিত্য করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জি বিডি এ চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার মালি সহ সুন্দরবন পুলিশ জেলার এসপি এবং বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। মেলার নিরাপত্তা, পরিবহণ, জনস্বাস্থ্য, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ও উপকূল সুরক্ষার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয় এই প্রথম প্রস্তুতিমূলক সভায়। বিশেষত, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা মসৃণ রাখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে তৈরি হয় প্রাথমিক রূপরেখা।


জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা সাংবাদিকদের জানান, "পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্য আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। আবহাওয়া এবং পরিবেশের কথা মাথায় রেখে সমস্ত ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে। আগামীতে আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। এবারের মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।"
প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি, জেলাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকেরা এদিন সাগরদ্বীপের সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি সাগরের উপকূলবর্তী একাধিক এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙনকবলিত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। ভাঙন প্রতিরোধের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ ও মেলার সময় পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, ভাঙন মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে মেলার কাজে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে নৈহাটির 'বড়মা'-এর আদলে ২১ ফুটের কালী প্রতিমা


ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সমাজসেবার বার্তা নিয়ে এ বছর ১১তম বর্ষে পদার্পণ করল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের খানসাহেব আবাদ এলাকার ‘শ্রী শ্রী শ্যামা পুজো কমিটি’-র পুজো। প্রতি বছরই এই কমিটির পুজোতে থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। কিন্তু এ বছর তাদের প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে নৈহাটির সুপ্রসিদ্ধ 'বড়মা'-এর আদলে তৈরি কালী প্রতিমা।
পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বছর তাদের কালী প্রতিমা তৈরি হচ্ছে প্রায় ২১ ফুট উচ্চতার। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী 'বড়মা' কালীর বিশাল আকৃতির প্রতিমার আদলে প্রতিমা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু গঙ্গাসাগর নয়, দূর-দূরান্তের বহু ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করছেন পুজো উদ্যোক্তারা।
পুজো ক'টা দিন ধরে কেবল আরাধনাই নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যেও একাধিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে শ্রী শ্রী শ্যামা পুজো কমিটি। 

পুজোর সময়ে রক্তদান শিবির এবং দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণের মতো নানা ধরনের সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষজন আশা করছেন, ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি এমন মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে পুজোটি অন্য এক মাত্রা যোগ করবে। এইভাবেই উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হবে এলাকার সকলের সাথে।

নামখানার রাধানগরে ধরা পড়ল বাঘরোল(ফিশিং ক্যাট)। যার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এই বাঘরোলটিকে দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন স্থানীয়রা। 


বর্তমানে বাঘরোলটিকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে বনদফতরের কর্মীরা। 

বাঘরোল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-প্রাণী। বাঘরোল ভারতীয় বন্যপ্রাণ (সংরক্ষণ) সংশোধন আইন, ২০২২-এর তফসিল ১-এর তালিকাভুক্ত। ফলে বাঘরোল সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি।

জানা গিয়েছে স্থানীয় সেখ আবিদ এর মুরগি ফার্ম থেকে রোজ মুরগি নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল বাঘের মত একটি প্রাণী। ফলে সেই প্রাণী ধরতে পাতা হয় খাঁচা।
খাঁচাতেই ধরা পড়ে বাঘরোলটি, তারপর খবর দেওয়া হয় বকখালি বনদপ্তরে।  বনদপ্তর এর কর্মীরা এসে বাঘরোলটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বনদপ্তরের  বকখালি রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার তন্ময় চ্যাটার্জি জানান  যে   বাঘরোলটিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে, বকখালি রিজার্ভ  ফরেস্টে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে গঙ্গাসাগরের চৌরঙ্গীতে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও ছানি অপারেশন শিবির


বিশ্ব দৃষ্টি দিবস (World Sight Day) উপলক্ষে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা গঙ্গাসাগরের চৌরঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হলো এক বৃহৎ বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা শিবির। এসবিআই ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সবুজ সংঘের ব্যবস্থাপনায় এই বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
এদিন সকালে চৌরঙ্গীর ক্যাম্পে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ এই পরিষেবা গ্রহণ করেন। শুধু চোখ পরীক্ষা নয়, এই শিবিরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন, মেডিসিন ফি প্রদান করা হয়। এছাড়াও, সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে সুগার টেস্ট, প্রেশার টেস্ট সহ বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক পরিষেবা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারবাবুরা রোগীদের পরীক্ষা করার পর, যাদের চোখে ছানি (Cataract) পড়েছে, তাদের স্বর্ণলতা সবুজ সেবা সদন, রায়দিঘি নন্দকুমারপুরে বিনামূল্যে অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
সবুজ সংঘের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের মানুষের জন্য এটি একটি নিয়মিত পরিষেবা। এর আগেও শুধু গঙ্গাসাগরের প্রায় দেড় হাজার মানুষের ছানি অপারেশন বিনামূল্যে করানো হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, এই বিশেষ ক্যাম্প ছাড়াও সারা বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে এই এলাকায় বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষার পরিষেবা চালু থাকে। প্রত্যন্ত সুন্দরবনের গঙ্গাসাগরের মতো এলাকায় এমন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষজন সবুজ সংঘ এবং এসবিআই ফাউন্ডেশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
উপকূলীয় এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষজন, যারা অর্থাভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না, তাদের জন্য এই শিবিরটি এক বিরাট ভরসা ও আশার আলো দেখালো।

ফিরে এলেন ইরাকে আটকে থাকা নামখানার শ্রমিক

ইরাকে আটকে থাকা নামখানার শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, এমনটাই জানালেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার


ইরাকে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে  আটকে পরে বাংলার ১২ জন শ্রমিক। যার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা  জেলার ১০ জন। ভিসা শেষ হয়ে গেলেও বাড়ি ফেরার কোন ছাড়পত্র মেলেনি কোম্পানির পক্ষ থেকে। অবশেষে শ্রমিকরা নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফেরানোর কাতর আর্জি জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সামাজিক মাধ্যমে। এরপরই  ইরাকে আটকে থাকা শ্রমিক গুলির পরিবারের সাথে মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার নামখানায় দেখা করতে আসেন। এমনকি পরিবারের সামনেই আটকে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার কথাও বলেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন সাংসদ বাপি হালদার।
সেই মতো ইতিমধ্যে মফিজুল মন্ডল নামে একজন শ্রমিক ৫ই অক্টোবর বাড়িতে ফিরে এসেছেন। এবং আগামী ১১ই অক্টোবর শনিবার আরো তিনজন শ্রমিক ফিরে আসার জন্য রওনা দিচ্ছেন বলে জানান সাংসদ বাপি হালদার। এবং তিনি আরো জানান বাকিদেরও কাগজপত্র করে আনতে যেটুকু সময় লাগবে যত শীঘ্রই সম্ভব দ্রুততার সাথে কাজটি সম্পন্ন করা হবে। আজ মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার নিজ অফিসে ওই শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনদের সাথে কথা বলেন তাদের আশ্বস্ত করেন। সাধারণ মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে দ্রুততার সাথে এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য সাংসদ বাপি হালদার, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুর্নিশ জানিয়েছেন। 

মথুরাপুর থেকে কাকদ্বীপ ডট কম নিউজ টিম

*গঙ্গাসাগরে স্বনির্ভরতার নতুন দিশা,মহিলাদের হাতে তৈরি রুটি-কেক* 

সুন্দরবনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গঙ্গাসাগরে এবার পিছিয়ে পড়া মহিলাদের স্বনির্ভর করার এক নতুন উদ্যোগ শুরু হলো। 'সবুজ সংঘ' নামক একটি সংস্থা কমলপুর এলাকায় চালু করেছে 'সাগর ইউরো বেকারি'। এই বেকারিতে স্থানীয় মহিলারা রুটি, কেক এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট তৈরি করছেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে দুর্বল মহিলাদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা। বেকারির তৈরি পণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং মজার বিষয় হলো এগুলি তুলনামূলকভাবে অল্প দামে পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতারা জানিয়েছেন, এই রুটি ও কেক

 বাজারে উপলব্ধ অন্যান্য পণ্যের তুলনায় শুধু দামেই কম নয়, স্বাদেও অনেক বেশি সুস্বাদু। এলাকার মানুষজন এই প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, যা মহিলাদের সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করছে।।

সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ, রুদ্রনগরে প্রতিবাদ মিছিল বিজেপির 



বন্যা কবলিত উত্তরবঙ্গে ত্রাণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদে নামল বিজেপি। মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগরে একটি প্রতিবাদ মিছিল করে গেরুয়া শিবির।

সোমবার উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটার বামনডাঙা চা বাগানে বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে জনবিক্ষোভের মুখে পড়েন সাংসদ খগেন মুর্মু এবং বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, তাঁদের লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছোড়া হয়। ইটের আঘাতে সাংসদ খগেন মুর্মুর মাথা ফেটে যায় এবং তাঁর চোখের নীচের হাড় ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদেই রাজ্যজুড়ে রাস্তায় নামে বিজেপি। রুদ্রনগরের প্রতিবাদ মিছিলে বিজেপি নেতৃত্বরা অভিযোগ করেন, এটি কোনো সাধারণ বিক্ষোভ নয়, বরং তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে বিজেপি সাংসদকে আক্রান্ত করেছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, ত্রাণ বিতরণের কাজে বাধা দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। সাংসদের উপর এই "প্রাণঘাতী" হামলার তীব্র নিন্দা করে তাঁরা দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

গঙ্গাসাগরের মহিষামারিতে নদী বাঁধ ভেঙে গ্রামে জল,পরিদর্শনে মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের মহিষামারি বাগু মোড় সংলগ্ন এলাকায় জল নিকাশ শুলিস গেটের পাশে নদী বাঁধে বড়সড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের বেশ কিছুটা অংশ ভেঙে যাওয়ায় নোনা জল এলাকায় ঢুকতে শুরু করেছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ভাঙনের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে যান সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং সেচ দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকেরা। মন্ত্রী ও বিডিও ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলার পর মন্ত্রী দ্রুত নদী বাঁধ মেরামতির আশ্বাস দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যত শীঘ্র সম্ভব যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
এর পাশাপাশি, মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা এবং বিডিও কানাইয়া কুমার রাও গঙ্গাসাগরের ১ নম্বর স্নানঘাটও পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি সমুদ্রের প্রভাবে সেই ঘাটটিরও বেশ কিছুটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ মেরামতির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত স্নানঘাটটিরও দ্রুত সংস্কার করা হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে আগামীতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে। প্রশাসনের আশ্বাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

লক্ষ্মী পুজোয় দুর্গাপুজোর আনন্দ: গঙ্গাসাগরের 'জাগরণ উৎসব'


দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের খান সাহেব আবাদ সুদর্শন মোড়ে প্রতি বছর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোতে সেজে ওঠে উৎসবের বাতাবরণ। স্থানীয় 'জাগরণ উৎসব কমিটি' আয়োজিত এই পুজো এবছর ৩২তম বছরে পদার্পণ করল। এই পুজোকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্দীপনা তুঙ্গে, কারণ গ্রামে কোনো দুর্গাপুজো হয় না।

কমিটির সদস্যরা জানান, এই এলাকায় দুর্গাপুজোর আনন্দ সেভাবে উপভোগ করা সম্ভব হয় না। তাই লক্ষ্মীপুজোকেই তাঁরা দুর্গাপুজোর বিকল্প হিসেবে দেখেন। এই পুজোতে প্রতি বছরই সন্ধ্যাকালীন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুর্গাপুজোর আমেজ ও আনন্দ এই লক্ষ্মী পুজোতেই সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করেন খান সাহেব আবাদ সুদর্শন মোড়ের বাসিন্দারা। গ্রামের সবার মিলিত উদ্যোগ ও অংশগ্রহণে এই 'জাগরণ উৎসব' এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ফের জোড়া খুনে চাঞ্চল্য। 

ঢোলা থানার অন্তর্গত চণ্ডীপুর অঞ্চলের জামালপুর গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো মা ও ছেলের রক্তাক্ত দেহ। মৃতদের নাম মানোয়ারা বিবি বয়স আনুমানিক৪০ এবং তাঁর ছেলে আনোয়ার হালদার বয়স আনুমানিক ৮ বছর।

রবিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির বারান্দার কাছে ছেলের দেহ এবং ঘরের ভেতর মায়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরে খবর যায় ঢোলা থানায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দুই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

প্রাথমিক অনুমান, শ্বাসরোধ করে খুন করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নৃশংস ঘটনার পিছনে হাত রয়েছে মৃত মানোয়ারা বিবির স্বামী ফিরোজ হালদারের। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক।

কি কারণে এই খুন—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পারিবারিক অশান্তি নাকি অন্য কোনো রহস্য, সবদিক খতিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ঢোলা থানার পুলিশ। এলাকায় এই জোড়া খুনকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।