November 2020
একদিকে দলের বেসুরো নেতাদের বার্তা, অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে হুঙ্কারে ভরা ছিল অভিষেকের প্রচারসভার বক্তব্য৷
#বজবজ: দল মায়ের সমান, তাই মায়ের সঙ্গে যদি কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাঁকে ছেড়ে কথা বলা কি উচিৎ? প্রচারসভায় উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের কাছে সরাসরি সেই প্রশ্নই রাখলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শুরু থেকেই মনে করা হচ্ছিল যে, রবিবারের সভা থেকে দলের 'বেসুরো' নেতাদের প্রতি বার্তা দেবেন দলের তরুণ তুর্কী৷ সেই মতই কারও নাম না করেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে দল এবং দল নেত্রীই তৃণমূলের শেষ কথা বলেন৷ কেউ যদি দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁকে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না৷ 'বেসুরো' নেতাদের প্রতি দলের মনোভাবই একপ্রকার নিজের বক্তব্যে তুলে ধরলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ৷ পাশাপাশি কোনও নেতার নাম না করে তিনি আরও বলেন যে উচ্চাক্ষাঙ্কার ফলে যদি কেউ দল ছাড়েন, তিনি আসলে মেরুদন্ডহীন৷ মূলত শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করে তাঁকে কটাক্ষ করেন অভিষেক৷ তাঁর কথায় 'রাতারাতি কেউ নেতা হয়নি, কেউ প্যারাশ্যুটে নামেনি, লিফ্টে ওঠেনি৷ লিফ্টে উঠলে আমি দক্ষিণ কলকাতায় দাঁড়াতাম'৷গত কয়েকদিন নানা পরিবর্তন ঘটেছে দলে৷ মন্ত্রত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন শুভেন্দু৷ তিনি দল ছাড়তে পারেন, এই জল্পনাও চলছে জোরদার৷ দল থেকে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন মিহির গোস্বামী৷ দল ছাড়ছেন শীলভদ্র দত্ত৷ কিছুটা অন্য সুর জটু লাহিরীর গলায়৷ তাঁদের প্রতি দলের মনোভাব কী, সেটা অভিষেকের বক্তব্য আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল৷
২০২১-কে সামনে রেখে যে প্রচারসভা শুরু করলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক, তাতে বিজেপির প্রতিও তাঁর ঝাঁঝালো বক্তব্য আরও একবার বুঝিয়ে দিল যে আগামিদিনে এভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে অলআউট সুর চড়াবে দল ৷ আজ, রবিবার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম নামলেন ময়দানে৷ এবং বুঝিয়ে দিলেন যে খোলাখুলি বিজেপির বিরোধের সুরই থাকবে তাঁদের এই প্রচার ঘিরে৷ রবিবার নিজের লোকসভা কেন্দ্রে সভায় বিজেপির বিরুদ্ধে হুঙ্কার দেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷দুপুর ২টোর সময় মুচিশা হাইস্কুল মাঠে শুরু জনসভায় তিনি বলেন যে বাংলায় তৃণমূলকে আটকানো বিজেপির কাজ নয়৷ এবং একের পর এক বিজেপি নেতাদের নাম তুলে ধরে তিনি বলেন যে, সকলেই তৃণমূলের ভাইপোকে নিয়ে কথা বলছে, তবে কারও সাহস নেই সরাসরি নাম করা৷ অভিষেকের মতে বিজেপি নেতাদের বুকের পাটা নেই৷ তিনি বলেন যে বিজেপি দেশ ভাগের রাজনীতি করলেও তৃণমূল উন্নয়নের রাজনীতি করে৷ সাধারণের পাশে থাকাই তৃণমূল দলের একমাত্র লক্ষ্য৷ এর উদাহরণ দিতে গিয়ে গত ১০ বছরের তৃণমূল সরকারের একের পর এক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছেন অভিষেক৷ সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কথা উল্লখে করেন তিনি৷ পাশাপাশি ১ তারিখ থেকে দুয়ারে সরকার শুরু হচ্ছে৷ জনমুখী প্রকল্পে নাম বাদ গেলে সেখানে যোগাযোগ করলে নাম উঠে যাবে৷ জানান সাংসদ৷
মহিষাদল থেকে শুভেন্দু অধিকারীর স্মরণসভা প্রকৃতার্থে স্মরণসভাই থাকল।
#মহিষাদল: মন্ত্রীত্ব ছাড়ার পর প্রথম সভা। নিজেই বলছেন অরাজনৈতিক সভা। ফলে শুভেন্দু অধিকারী কী বলেন তা জানতে কান পেতেছিল গোটা রাজ্য। বিরাট মিছিল করে সভামঞ্চে পৌঁছতে দেখা যায় শুভেন্দুর অনুগামীদের। মহিষাদল থেকে শুভেন্দু অধিকারী কিন্তু সভাকে রাজনীতির রঙ দিলেন না। দেখা গেল না স্বরের সেই ওঠাপড়াও, স্মরণসভা প্রকৃতার্থে স্মরণসভাই থাকল।শুভেন্দু অধিকারী যখন মহিষাদলের সভামঞ্চে উঠছেন, ঘড়ি ধরে তাঁর কয়েক মিনিট আগে শুভেন্দুর নাম না করেই বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। বলেছেন,"লিফটে উঠলে পতন অনিবার্য, বিশ্বাসঘাতকতা করলে কড়ায় গণ্ডায় জবাব দেওয়া হবে। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনার সঞ্চার হয়, শুভেন্দু কি উত্তর ফিরিয়ে দেবেন? যে ফাটল দিনের আলোয় পরিষ্কার তা কি ভাঙনের আকার নেবে? শুভেন্দু কিন্তু একবারের জন্যেও সুর চড়ালেন না।
হাততালি দিতে থাকা অনুগামীদের থামিয়ে বললেন, "স্মরণসভায় হাততালি কাম্য নয়।"
সভার শুরুতেই তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সভাস্থলে উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের। অতীতচারণা দিয়ে সভা শুরু করেন শুভেন্দু। জানান নন্দীগ্রাম পর্বের পরেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয় কুমুদিনী ডাকুয়া, সুশীল ধারাদের সঙ্গে। রণজিৎ বয়াল, সুশীল ধারাদের বীরগাথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, "রণজিৎবাবুরা যে কাজ আমার হাতে দিয়ে গিয়েছে তা সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করব।"বাংলা বাঙালির সেবক হিসেবে কাজ করে যাব", অঙ্গীকার শুভেন্দুর। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন অরাজনৈতিক কর্মসূচিও। ক্ষুদিরামের জন্মদিন ও তাম্রলিপ্ত দিবসে পথে নামার কথা জানালেন শুভেন্দু। তততদিন কি বিধায়ক পদে বহাল থাকবেন? শুভেন্দু আজ নীরব, মৌন, শান্ত, ঝড়ের আগে যেমন থাকে আকাশ।
ধর্মান্তকরণের জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক ওয়াজিদ খানের স্ত্রী কমলরুখ খান। তাঁর অভিযোগের তির ওয়াজিদের পরিবারের বিরুদ্ধে। কমলরুখের অভিযোগ, তিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত না হতে চাওয়ার কারণে, তাঁর ১৬ বছরের মেয়ে ও ৯ বছরের ছেলের উত্তরাধিকার তাঁকে দিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্টে এই প্রথমবার কমলরুখ খান নিজের অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন। এমনকি ধর্মান্তকরণ বিরোধী বিল আনার সপক্ষেও মুখ খুলেছেন কমলরুখের। তাঁকে সমর্থন করেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। 

কমলরুখ খান জানিয়েছেন, কলেজে পড়ার সময় থেকেই প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক ওয়াজিদ খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। ১০ বছর আগে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট-এ তাঁদের বিয়ে হয়। তিনি পার্সী আর ওয়াজিদ মুসলিম ছিলেন। বিয়ের পরও তাঁরা নিজ নিজ ধর্মে থাকবেন এই মর্মেই তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁকে ধর্মান্তকরণের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয় বলে অভিযোগ করেছেন কমলরুখ খান। তিনি ধর্মান্তরিত না হতে চাইলে তাঁর ও ওয়াজিদের সম্পর্কে অবনতি হতে শুরু করে। এমনকি ওয়াজিদের মত্যুর পরও তাঁর পরিবারের তরফে এখনও তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কমলরুখ। এমনকি বর্তমানে ধর্মন্তকরণ বিরোধী বিল নিয়ে যে বিতর্ক চলছে সে বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালকের স্ত্রী, যিনি পেশায় একজন হিপনোথেরাপিস্ট।

এদিকে কমলরুখের কথার প্রসঙ্গ ধরে পার্সীদের মত সংলঘুদের সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন কঙ্গনা রানাউত। তাঁর কথায়, পার্সীরা এদেশে আক্রমণকারী হিসাবে আসেনি, তাঁরা এদেশটাকে ভালোবেসেই এসেছিল। এদেশের অর্থনীতিতে তাঁদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
তথাকথিত ‘লাভ জেহাদ’ বিতর্কের মধ্যেই জোর করে ধর্মান্তর রুখতে অর্ডিন্যান্স আনল উত্তরপ্রদেশ সরকার। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পাঠানো খসড়া বিলটিতে সই করে অনুমোদন দিয়ে দিলেন রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল শুক্রবার রাতে অনুমোদন দেওয়ার পরে শনিবারই গেজেট নোটিফিকেশন করে অধ্যাদেশটি কার্যকর করা হয়েছে।
আইনের নাম যাই থাক, বিয়ের জন্য ধর্মান্তর রোখাই যে অর্ডিন্যান্সটির প্রধান লক্ষ্য, তা স্পষ্ট। এই আইন প্রয়োগের পরে ধর্মান্তর করে বিয়ে শুধু বাতিল গণ্যই হল না, ১০ বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানাও গুনতে হতে পারে পাত্রকে। সরকারি কর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ হিসেবে আইনটি প্রয়োগ করা হলেও পরে বিধানসভায় পাশ করিয়ে পূর্ণাঙ্গ ধর্মান্তর-বিরোধী আইনে পরিণত করা হবে এ’টিকে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সরকারের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, বিধানসভায় তাঁদের সদস্যরা এর বিপক্ষেই ভোট দেবেন।
হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মুসলিম ছেলেদের বিয়ের বিরোধিতায় সরব কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। তাঁদের অভিযোগ, হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ছলে ভুলিয়ে ধর্মান্তর করে বিয়ে করাটা আসলে মুসলিম জেহাদিদের কৌশল। এরই নাম দেওয়া হয়েছে ‘লাভ জেহাদ’। অনেক সময়ে গরিব হিন্দু মেয়েদের বিয়ে ও সংসারের লোভ দেখিয়েও ধর্মান্তর করা হচ্ছে।বিজেপি হরিয়ানা, কর্নাটক ও মধ্যপ্রদেশও এই ‘লাভ জেহাদ’-এর বিরুদ্ধে আইন আনার কথা বলেছে। উচ্চ আদালত সম্প্রতি স্বেচ্ছা-বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মকে গুরুত্ব দিয়ে না-দেখার কথা বললেও
কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা যে তাঁদের অবস্থানে অনড়, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ প্রমাণ।
নতুন অর্ডিন্যান্সে ‘জোর করে, প্রভাব খাটিয়ে, ভয় বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তর’-কে শুধু বেআইনিই করা হয়নি, ধর্মান্তরিত কোনও নারী বা পুরুষের ‘স্বধর্মে ফিরে আসা’-র পথও খোলা রাখা হয়েছে। এ জন্য ওই নারী বা পুরুষকে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে।কেউ স্বধর্মে ফিরে এলে ভিন্নধর্মের বিয়ে আর ধর্মান্তরের জন্য বাতিল বিবেচিত হবে না। রাজ্যের বিজেপি নেতাদের ব্যাখ্যা— এই সুযোগ রাখায় প্রমাণ হল, কেবল ধর্মান্তরের উদ্দেশ্যে বিয়েকেই বাতিল করতে চায় যোগী সরকার। তাঁদের প্রশ্ন, প্রকৃত স্বেচ্ছা-বিয়েতে ধর্মান্তরই বা কেন হবে?
আইন অনুযায়ী কেউ যদি অভিযোগ করেন জোর করে, প্রলোভন দেখিয়ে বা ভুল বুঝিয়ে তাঁকে ধর্মান্তর করা হয়েছে, তবে অভিযুক্তদের শাস্তি ছাড়া ক্ষতিপূরণও তিনি পেতে পারেন। এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। মন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিংহ আগেই জানিয়েছিন, জোর করে বা ছল করে ধর্মান্তর প্রমাণ হলে সাধারণ ক্ষেত্রে ১ থেকে ৫ বছরের কারাবাসের সাজা হবে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত নারী বা পুরুষ নাবালক অথবা তফসিলি জাতি বা জনজাতিভুক্ত হলে শাস্তি বেড়ে ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সঙ্গে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ধর্মান্তরিত নিজে ছাড়াও তাঁর রক্তের সম্পর্কের যে কেউ প্রশাসনের কাছে এই আইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
উত্তরপ্রদেশে হিন্দুত্ববাদীরাও বহু জায়গায় অনুষ্ঠান করে ভিন্‌ ধর্মীদের হিন্দু ধর্মে ফেরান।তা-ও কি নিষিদ্ধ হচ্ছে নয়া আইনে? এই প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতাদের জবাব— জোর করে কাউকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করানো হয় না। যাঁরা আসেন, তাঁরা স্বেচ্ছায়। আর দেশের সব মানুষই এক সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলেন। স্বধর্মে ফেরার পথ তো খোলাই রাখা হয়েছে আইনে।
নিজস্ব প্রতিবেদন: করোনাভাইরাস কোথা থেকে ছড়িয়েছে? উহানের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে ছড়ায় কোভিড-১৯। শুরু থেকে তা মানতে নারাজ ছিল চিন। কোভিড প্রাদুর্ভাবের দায় ঝাড়ার চেষ্টা করছে বেজিং। প্রথমে ইউরোপকে দায়ী করেছিল তারা। সে দাবি ধোপে টেকেনি। আর এবার তো অবাককাণ্ড! চিনা গবেষকরা দাবি করলেন, কোভিড-১৯-র জন্ম ভারতে।
চাইনিজ অ্যাকাডেমি ও সায়েন্সের একদল গবেষকের দাবি, ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে ভারতে জন্ম হয় করোনাভাইরাসের। পশুর থেকে জলবাহিত হয়ে মানুষের শরীরে ঢুকে পড়ে ভাইরাস।চিনে কীভাবে এল? গবেষকদের যুক্তি, ভারত থেকে ভাইরাস গিয়েছে উহানে। ইন্দো-চিন সীমান্ত বিবাদের মাঝে এমন দাবি ঘিরে স্বাভাবিকভাবে উঠছে নানা প্রশ্ন। 
কোভিড-১৯-র বংশানুক্রমিক (phylogenetic) বিশ্লেষণ করেছে চিনা গবেষক দল। কোষের মতোই ভাইরাস পরিবর্তিত হলে সামান্য বদল হয় ডিএনএ-তে। চিনা বিজ্ঞানীদের দাবি, বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেছেন, উহানে ভাইরাসের উৎপত্তি হয়নি। বরং ৮টি দেশে হতে পারে। তার মধ্যে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, চেক প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া অথবা সার্বিয়া।গবেষকদের যুক্তি, ভারত ও বাংলাদেশে নমুনা পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভাইরাসের পরিবর্তন একেবারে সামান্য হয়েছে। ভৌগলিকভাবে দুই দেশ চিনের প্রতিবেশী। ওই দুই দেশ থেকে ভাইরাস চিনে আসতেই পারে।
গবেষকদের যুক্তি, গরম কালে জলের অভাব হয়। একটু জলের জন্য বাঁদররা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে। তখনই মানুষ ও পশুর মধ্যে সংস্পর্শের সম্ভাবনা বাড়ে। পশুর থেকে মানবশরীরে  SARS-CoV-2-র সংক্রমণে প্রচণ্ড গরম কারণ হতে পারে।
কিন্তু ভারতে ছড়ালে তা চিনে কেন ধরা পড়ল? গবেষকদের ব্যাখ্যা, ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। কয়েক মাস ধরে কমবয়সিদের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়।স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় সনাক্তকরণ সম্ভব হয়নি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানের একটি বাজার থেকে ছড়িয়েছিল কোভিড-১৯। চিনা গবেষকরা দাবি করেছিল, ইউরোপে প্রথম ছড়িয়েছে কোভিড-১৯। চিন তার জন্মস্থল নয়। 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ মাইক রায়ান শুক্রবার জানান,'আমার বিশ্বাস, চিনে এই রোগের জন্ম হয়নি, এটা কল্পনা করা বেশ দুঃসাধ্য।' উহানের সামুদ্রিক খাবারের (সি ফুড) বাজারে হু বিশেষজ্ঞদের পাঠাতে পারে বলে জানান রায়ান।কোভিড প্রাদুর্ভাবে চিনকে দোষারোপ করেছিলেন বিদায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন,'এটা চিনা ভাইরাস।' হু-র বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও এনেছিলেন। তাঁর অভিমত ছিল, চিনের হয়ে কথা বলছে হু। 
জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হলেন ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মহসেন ফকরিজাদেহ। শুক্রবার রাতে রাজধানী তেহরানের অদূরে প্রথমে তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালানো হয়। পরে মহসেনের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে গুলিযুদ্ধ শুরু হয় জঙ্গিদের। গুলিবিদ্ধ হন মহসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহসেনকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৩/৪ জন জঙ্গিও নিহত হয়েছে গুলিযুদ্ধে। তেহরান জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ইজরায়েল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রওহানি শনিবার বলেছেন, ‘‘ইরানের শত্রুরা যে মহসেনকে ঘৃণা করত, মহসেনকে থামানো যাচ্ছে না দেখে যে চরম হতাশা তাদের গ্রাস করেছিল, এই শহীদের রক্তে হাত ভিজিয়ে তা তারা প্রমাণ করে দিল। মহসেনের চলে যাওয়া আমাদের এগিয়ে যাওয়ার গতি কমাতে পারবে না।’’
ইরানের বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ জাভাদ জরিফ এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এই ঘটনার নিন্দা করার জন্য তিনি অন্য দেশগুলির কাছে আর্জি জানিয়েছেন। ও দিকে, বড় ধরনের প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা হোসেন দেহঘান। ইজরায়েল এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।
ইরানের পরমাণু গবেষণা ও উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে ছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী মহসেন ফকরিজাদেহ। ইরানের যাবতীয় পরমাণু কর্মসূচি তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। তিনি ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসেরও সিনিয়র অফিসার ছিলেন।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শুক্রবার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সশস্ত্র জঙ্গিরা প্রথমে গুলি চালাতে শুরু করে মহসেনের গাড়ি লক্ষ্য করে। তখন মহসেনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালায়। জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিযুদ্ধের সময়ই বুলেটবিদ্ধ হন মহসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায়  মহসেনকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় তেহরান থেকে কিছুটা দূরে দামাবন্দ কাউন্টির আবসার্দ এলাকার একটি হাসপাতালে। সেখানে কিছু ক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীর।
স্পষ্টই প্রত্যাঘাতের হুমকি ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা হোসেন দেহঘান বলেছেন, ‘‘এ বার বজ্রাঘাত হবে।’’
ওয়াকিবহাল মহল জানাচ্ছে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ভেঙে ইরানের পরমাণু গবেষণা ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাণ্ডারি পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মহসেন গত কয়েক বছর ধরেই চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন ইজরায়েলের। ২০১৮ সালে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘‘ওঁর নামটা মনে রাখছি।’’ সেই সময় থেকেই পরমাণু অস্ত্রপ্রসার বন্ধ করার জন্য ইজরায়েল তো বটেই, আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাপ আসতে শুরু করে তেহরানের উপর। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সে দেশের অনেক নেতাই ঠারেঠোরে বোঝাতে শুরু করেন, পরমাণু অস্ত্রে ইরানের স্বয়ম্ভর হয়ে ওঠার চেষ্টাকে সুনজরে দেখা হচ্ছে না। কিন্তু তার পরেও নিরস্ত হননি মহসেন। দেশের প্রধান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রটির মানোন্নয়নে আরও তৎপর হয়ে ওঠেন তিনি। পরমাণু অস্ত্রে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠার জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার বাড়িয়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মহসেন। তেহরান যে কোনও চাপের কাছে মাথা নোয়াবে না, সম্প্রতি তা আরও এক বার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সি (আইএইএ)-তে ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত আলি আসঘর সোলতানেই। বলেছিলেন, ‘‘আমরা আর পিছিয়ে আসতে পারছি না।’’
ইরানের বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ জাভাদ জরিফ শুক্রবার তাঁর টুইটে এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে নিন্দা করেছেন। এই ঘটনার নিন্দা করার জন্য তিনি অন্য দেশগুলির কাছে আর্জি জানিয়েছেন। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেন সালামি বলেছেন, ‘‘বিজ্ঞানকে আধুনিক পর্যায়ে উন্নীত করার চেষ্টা করেছিলেন যিনি, তাঁকে হত্যা করা হল। এর চেয়ে নিন্দনীয় আর কী হতে পারে?’’

শুভেন্দু মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিলেন আর এক বিধায়ক। তিনি ডায়মন্ড হারবারারে সাংসদ দীপককুমার হালদার। একটি ফেসবুক পোস্টে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন বিধায়ক নিজেই।

ফেসবুকে দীপককুমার লিখেছেন,''বারবার সংবাদ শিরোনাম দেখে নিশ্চিত হলাম যে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভায় নতুন বিধায়ক তৈরী হয়েছেন। খুব ভালো। বিধায়ক মহাশয় চালিয়ে যান। ডায়মন্ড হারবাবের গণদেবতারা সব দেখছেন, ঠিক সময়ে উত্তর পেয়ে যাবেন।'' (বানান ও বাক্যগঠন অসম্পাদিত)
শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী হিসেবে পরিচিত দীপককুমার হালদার। ফেসবুকে কারও নাম না করে ক্ষোভ উগরে দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবে উঠছে প্রশ্ন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন তিনি বলেন,''যা বলার ফেসবুকে লিখেছি। মানুষ সব জানেন।''শুভেন্দু অধিকারী নিয়ে দীপককুমারের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া,''এটা দুঃখজনক ঘটনা।

কিন্তু তাঁর কেন্দ্রে 'নতুন বিধায়ক' কে?  দীপক হালদারের ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পান না বিধায়ক। এনিয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া আসেনি। প্রতিক্রিয়া আসলেই তা প্রতিবেদনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হবে।

গতকাল, শুক্রবার বারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত মন্তব্য করেছিলেন,''আমি শুভেন্দুর ফ্যান। যা করেছে একেবারে ঠিক।''
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হলেন ৩,৪৫৯ জন। অন্যদিকে, সুস্থ হলেন ৩,৪৮৭ জন। ফলে সংক্রমণের গতি লক্ষ্যনীয়ভাবে না কমলেও সুস্থতার হার চোখে পড়ার মতো।

রাজ্য সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৪,৭৭,৪৪৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪,৪৪,৫৮৭ জন। সুস্থতার হার ৯৩.১২ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনার শিকার হয়েছেন ৫২ জন। এনিয়ে এখনও পর্যন্ত করোনার বলি হলেন মোট ৮,৩২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ২৪ পরগনায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এখনও পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনায় করোনা আক্রান্ত হলেন ৯৯,৩৩১ জন।
ঘরের বাইরে উৎসব পালনে দিনকয়েক আগেও তেমন আপত্তি ছিল না ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের। কিন্তু এক ছাদের তলায় কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান নৈব নৈব চ।
সপ্তাহখানেক আগেও ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন চাইছেন বড়দিনের সময় এক মাস সারা দেশে যাবতীয় করোনাবিধির ফাঁস খুলে দিতে। মানুষকে উৎসবের আনন্দে মাতার সুযোগ দিতে। আর শুক্রবার তাঁর প্রশাসনেরই এক পদস্থ কর্তা জানালেন, আগামী এপ্রিল পর্যন্ত গোটা ব্রিটেনে কার্যত নিষিদ্ধ হতে চলেছে এক ছাদের তলায় কোনও সামাজিক অনুষ্ঠান। জটলা, জমায়েত। এপ্রিলেই ইস্টারের উৎসব।
কেন? জনসন প্রশাসনের ওই কর্তার কথায়, ‘‘করোনা সংক্রমণ প্রত্যাশিত ভাবে রোখা যায়নি। পরিস্থিতি জটিল।সংক্রমণ মোকাবিলায় দেশের যে এলাকাগুলিতে ‘টায়ার-২’ এবং ‘টায়ার-৩’ পর্যায়ের কড়াকড়ি রয়েছে, আগামী বসন্তে সেই এলাকাগুলিতে কড়াকড়ি কমিয়ে এনে ‘টায়ার-১’ পর্যায়ের নিয়মকানুন ফের চালু করা যাবে, এমন আশা করাটা অসম্ভবই মনে হচ্ছে।’’
এই নিয়ম চালু হলে ব্রিটেনে জনসংখ্যার ৯৯ শতাংশই চলে যাবেন টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ পর্যায়ের নিরাপত্তার কড়াকড়ির আওতায়। যা ‘কার্যত দেশ জুড়ে লকডাউনই’।
টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ পর্যায়ের নিরাপত্তায় কোনও বিবাহ অনুষ্ঠানে ১৫ জনের বেশি জমায়েত করা নিষিদ্ধ। আর কোনও অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠানে সেই সংখ্যার ঊর্ধ্বসীমা ৩০ জন।তা হলে কেন বড়দিনের উৎসবের সময় আগামী এক মাস আমজনতার জন্য যাবতীয় করোনাবিধি শিথিল করার ভাবছেন বলে গত সপ্তাহেও জানিয়েছিল ডাউনিং স্ট্রিট, তার জবাব মেলেনি অবশ্য।
জনসন প্রশাসনের ওই সূত্র এও জানিয়েছেন, সারা দেশে টায়ারগুলিকে ঢেলে সাজার কথা ভাবা হচ্ছে। আরও বেশি সংখ্যক এলাকাকে টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ পর্যায়ের নিরাপত্তার কড়াকড়ির আওতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে। এমনকী, বিজ্ঞানীদের একাংশ যে দাবি কিছু দিন ধরে তুলেছেন, সেই টায়ার-৪ পর্যায়ের কড়াকড়ি চালুর কথাও ভাবা হচ্ছে কয়েকটি এলাকায়। টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ পর্যায়ে থাকা কোনও কোনও এলাকার কড়াকড়ি টায়ার-৪ পর্যায়ে উন্নীত করার কথাও প্রশাসনের মাথায় রয়েছে।
জনসনের দল কনজারভেটিভ পার্টি (টোরি)-রই একাংশের মধ্যে এই পদক্ষেপ ও ভাবনাচিন্তা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘‘লকডাউনের ফলে দেশের অর্থনীতি খুবই বেহাল হয়ে পড়েছে। এ বার এই কড়াকড়িতে তা আরও বেহাল হয়ে পড়বে।’’
টোরি দল সূত্রে খবর, এর প্রতিবাদে আগামী সপ্তাহে রাস্তায় নামতে চলেছেন ৫০ জন টোরি এমপি।ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এর ফলে পার্লামেন্টে কড়াকড়ি জারির প্রস্তাব পাশ করাতে বিরোধী লেবার পার্টির এমপি-দের উপরেই ভরসা করতে হতে পারে প্রধানমন্ত্রী জনসনকে।’’এই মুহূর্তে ব্রিটেনের দক্ষিণ-পূর্বের ১টি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের ২টি এলাকা ছাড়া সারা দেশেই জারি রয়েছে টায়ার-২ এবং টায়ার-৩ পর্যায়ের কড়াকড়ি।সরকারি পরিসংখ্যান জানাচ্ছে এক মাস আগের তুলনায় শুক্রবার ব্রিটেনে দিন-পিছু সংক্রমিতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে দিন-পিছু মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।
করোনাভাইরাস প্রতিষেধক ভ্যাকসিন তৈরি করছে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক। শনিবারে হায়দরাবাদের জেনোম ভ্যালি-তে ভারত বায়োটেকের উত্পাদন ইউনিট খুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভ্যাকসিনের ট্রায়াল এখন কোন পর্যায়ে ও তা কতটা কার্যকরী তা জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে।

সংস্থার তরফে এক বিবৃতিতে জানান হয়েছে, ভ্যাকসিন সম্পর্কে খোঁজখবর করতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ইউনিটে আসা আমাদের কাছে এক অনুপ্ররণা। দেশে করোনার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে এই সফর সংস্থার কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে।
উল্লেখ্য, ভারত বায়োটেকের করোনা প্রতিষেধক COVAXIN™ বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় ধাপে রয়েছে। দুনিয়ার ২৫টি জায়গায় এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। ভারতের COVAXIN™ এর ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন ২৬,০০০ স্বেচ্ছেসেবক।

ভারত বায়োটেকের তরফে ওই বিবৃতিতে জানান হয়েছে, ভ্যাকসিন তৈরিতে যেভাবে কেন্দ্র, চিকিত্সক মহল, হাসপাতালগুলি আমাদের সাহায্য করে চলেছেন তার জন্য অনেক ধন্যবাদ।  যেসব স্বেচ্ছাসেবক এই ভ্যাকসিন নিতে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। একটি নিরাপদ ও কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরিতে নিরন্তর কাজ করে চলেছে ভারত বায়োটেক।
এই পরিস্থিতিতে আপনি যদি গোয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিতে চান, তাহলে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন নতুন ট্যুরিজম পলিসিতে।
করোনা আর দীর্ঘ লকডাউনে পর্যটন স্থানগুলি প্রায় জনশূন্য ছিল এতদিন। এবার ধীরে ধীরে সবকিছু খুলছে। নিউ-নর্ম্যালে বাঁচতে শুরু করেছে মানুষজন। নানা বিধি-নিষেধ বহাল রেখেই সাধারণের জন্য খুলে যাচ্ছে পর্যটন স্থানগুলির দ্বার। এই পরিস্থিতিতে আপনি যদি গোয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিতে চান, তাহলে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন নতুন ট্যুরিজম পলিসিতে। এক্ষেত্রে গোয়ার ইতিহাস, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সহ সামগ্রিক ক্ষেত্রের স্বাদ পাবেন আপনি। শুধু সমুদ্রের তট নয় গোয়াকে উপভোগ করবেন সম্পূর্ণরূপে। বলা ভালো এক নতুন আঙ্গিকে।
পর্যটন দপ্তর সূত্রে খবর, গোয়া ট্যুরিজমকে রিব্র্যান্ড ও রিমার্কেট করতেই এই নতুন নিয়ম-নীতির রূপায়ণ। গোয়ার ইতিহাস হোক বা সংস্কৃতি সমস্ত দিক থেকে আকর্ষণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ স্থানগুলিকে তুলে ধরা হয়েছে নতুন এই পলিসিতে। এর পাশাপাশি সস্তা, নির্ভরযোগ্য, দ্রুত ও আরামদায়ক পরিবহন পরিষেবা নিয়েও তথ্য দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অতি-পরিচিত সমুদ্র তটগুলি থেকে একটু সরে গিয়ে গোয়ার জঙ্গল, ইকো-ট্যুরিজমের উপর বেশি করে নজর দেওয়া হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে গোয়ার ঐতিহ্যশালী স্থানগুলিকে এবং উপকূলবর্তী বহু অজানা এলাকাকে।গোয়া পর্যটন দপ্তরের একাংশ জানাচ্ছে, নতুন এই নীতি রূপায়ণের মূল লক্ষ্য হল, আগামী চার বছর গোয়াকে পর্যটন স্থান হিসেবে জনপ্রিয় করে তোলা এবং অধিকাংশ মানুষ যাতে গোয়ার প্রতি আকর্ষিত হয়, সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করা। বেশ কয়েকটি নতুন পর্যটন স্থানকেও এবার সামনে আনা হচ্ছে। যাতে ভ্রমণ পিপাসুরা গোয়াকে আরও নতুন করে ও বিস্তৃত পরিসরে জানতে পারে। এর পিছনে আরও একটি উদ্দেশ্য হল, কর্মসংস্থান। নতুন পর্যটন স্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের দরজাও খুলে যাবে। এক্ষেত্রে শুধু গোয়াই নয়, আশপাশের রাজ্যের মানুষজনও কাজে যোগ দিতে পারবেন। এতে করোনা পরবর্তী বিধ্বস্ত পর্যটন কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াবে।
প্রসঙ্গত, শিয়রে করোনা থাকলেও গোয়ার উৎসবে বা উদযাপনে তেমন কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। গোয়া পর্যটনের একাংশ জানাচ্ছে, এবার ছোটো করেই বড়দিনের আয়োজন করা হবে গোয়ায়। করোনায় সামাজিক দূরত্ববিধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি সর্বোপরি স্থানীয় মানুষজনের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই স্থানীয় প্রশাসন ও চার্চগুলির তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যটকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ বা গাইডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়নি।
ভারতে করোনায় আক্রান্ত শনিবার (২৮ নভেম্বর) ৯৩.৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১,৩২২ জন। দেশজুড়ে সুস্থ ৮৭,৫৯,৯৬৯ জন। ফলে সুস্থতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩.৬৮ শতাংশ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের শনিবার সকালের বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে মোট করোনা আক্রান্ত ৯৩,৫১,১১০। এ পর্যন্ত সারা দেশে মারা গিয়েছেন ১,৩৬,২০০ জন। দৈনিক মৃত্যু ৫০০-র নীচে নেমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৪৮৫ জন। দেশে সুস্থতার হার বাড়ার উলটো দিকে মৃত্যুহার নিম্নমুখী। বর্তমানে করোনায় মৃত্যুহার ১.৪৬ শতাংশ।কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৫৪,৯৪০। যা দেশের মোট করোনা আক্রান্তের ৪.৮৭ শতাংশ।
৭ অগস্ট ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লক্ষের গণ্ডি অতিক্রম করে। ২৩ অগস্ট কোভিড আক্রান্ত ছাড়িয়ে যায় ৩০ লক্ষ। ৫ সেপ্টেম্বর সংক্রামিত বেড়ে হয় ৪০ লক্ষ। ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ লক্ষ। ২৮ সেপ্টেম্বর ৬০ লক্ষের গণ্ডি অতিক্রম করে। ১১ অক্টোবর ছাড়িয়ে যায় ৭০ লক্ষ। ২৯ অক্টোবর করোনা আক্রান্ত বেড়ে হয় ৮০ লক্ষ।দেশজুড়ে কোভিড টেস্টও ১৩ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মোট টেস্টের সংখ্যা ১৩ কোটি ৮২ লক্ষ ২০ হাজর ৩৫৪। ভারত প্রথম থেকেই কোভিড টেস্ট বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিয়েছে। কী ভাবে ধাপে ধাপে কোভিড টেস্ট বেড়েছে তার জন্য একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট। ৭ জুলাই পর্যন্ত ছিল ১ কোটি। ৩ অগস্টে বেড়ে হয় ২ কোটি। ১৭ অগস্টে ৬ কোটির গণ্ডি অতিক্রম করে। ৭ কোটি পূর্ণ করতে সময় লাগে ২৬ সেপ্টেম্বর। ৬ অক্টোবর ৮ কোটি ছাড়িয়ে যায়। ১৪ অক্টোবর ৯ কোটির সীমা অতিক্রম করে। ১০ কোটিতে পৌঁছতে সময় লাগে ২৩ অক্টোবর। ২ নভেম্বর মোট টেস্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ কোটি। ১১ নভেম্বর ১২ কোটি পূর্ণ হয়। ২১ নভেম্বর ১৩ কোটি অতিক্রম করে।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের লাইভ ট্র্যাকার অনুযায়ী, দেশে মোট আক্রান্ত ৯৩,৫১,২২৪। এর মধ্যে সুস্থ ৮৭,৫৮,৮৮৬। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪১,৩৫৩, মৃত্যু ৪৮৬ জনের। সবমিলিয়ে ভাইরাসের বলি ১,৩৬,২৩৮ জন। অ্যাক্টিভ আক্রান্ত ৪,৫৬,১০০। প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় টেস্ট হয়েছে ৯৮,৯২৪ জনের।

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কে চিঠি লিখে রাজ্যের পরিবহণ, সেচ এবং জনসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে পদত্যাগ করলেন তিনি। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘রাজ্যের মানুষের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ’।  রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কেও ইমেলে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি শুভেন্দু।
শুভেন্দুর ইস্তফা গ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী তা রাজ্যপালের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, শুভেন্দুর হাতে যে ৩টি দফতর ছিল (পরিবহণ, সেচ এবং জলসম্পদ উন্নয়ন) সেগুলি আপাতত মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতেই রাখবেন।
শুভেন্দুর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন রাজ্যপাল। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ১টা বেজে ৫ মিনিটে শুভেন্দু অধিকারীর দফতর থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা পদত্যাগ পত্র আমাকে ফরোয়ার্ড করা হয়। সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট থেকে বিষয়টি দেখা হবে’।শনিবার শুভেন্দু দিল্লি যাচ্ছেন বলে শুরুতে শোনা গিয়েছিল। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, এখনই দিল্লি যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই শুভেন্দুর। তাই তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরাল হচ্ছে। তবে এখনও তৃণমূল ছাড়েননি তিনি। এ নিয়ে তৃণমূলের তরফে সৌগত রায় বলেন, ‘‘এখনও বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেননি উনি। দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেননি। যত ক্ষণ বিধায়ক আছেন, তত ক্ষণ দলের সদস্য উনি। মন্ত্রিত্ব ছাড়া একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ওঁর। আমি এতে দুঃখিত। ওঁর সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে,  দল ছাড়বেন না। আমি এখনও আশাবাদী। যত ক্ষণ দলে আছেন,  আমি আশা করব এবং চেষ্টা চালিয়ে যাব ওঁকে দলে রাখার।’’
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ শুভেন্দুকে বিজেপিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই। তিনি বলেন, ‘‘আমি আগেই বলেছিলাম তৃণমূলের মুষলপর্ব শুরু হয়েছে। এটা শেষের শুরু হল। এর পর দলটাই উঠে যাবে। শুধু শুভেন্দু নন, বাংলায় পরিবর্তনের জন্য যাঁরা আসবেন, তাঁদের সকলকে বিজেপিতে স্বাগত।’’ বাংলায় বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘‘শুধু রাজ্যবাসীই নন, তৃণমূলের  উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন দলের নেতারাও।’’ শুভেন্দুর পদত্যাগ তৃণমূলের পক্ষে অশনি সঙ্কেত বলে মন্তব্য করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীও।নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেখানকার বিধায়কও তিনি। তৃণমূলে তাঁর বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ আবু তাহের। তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রিত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। নন্দীগ্রামের আন্দোলনকারীরা আগামী দিনে কী সিদ্ধান্ত নেবে তা আলোচনার পর জানানো হবে। তবে রাজ্যে যেমন মমত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প নেই, তেমনই শুভেন্দু অধিকারীরও বিকল্প নেই।’’
যদিও শুভেন্দুর সিদ্ধান্ত ভাল ভাবে নেননি নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের আর এক নেতা শেখ সুফিয়ান। তিনি বলেন, ‘‘উনি মানুষের কথা না ভেবে নিজের স্বার্থের কথা ভেবেছেন। উনি দল ছাড়ছেন, মন্ত্রিত্ব ছাড়ছেন এতে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না। তবে এই সিদ্ধান্তে নন্দীগ্রামের আন্দোলনকে অপমান করলেন।’’
তবে শুভেন্দুর প্রতি দলের আচরণেও ক্ষুব্ধ তৃণমূলের অনেকেই। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূলের সম্পাদক কনিষ্ক পন্ডা  বলেন, ‘‘মেঘনাদ যখন যুদ্ধ করছিলেন, তখন  সবাই তাঁকে ব্যবহার করে। শুভেন্দুকে যে আঘাত করা হল, তাতে পূর্ব মেদিনীপুরের মানুষকে আঘাত করা হয়েছে। এই জেলার মানুষ হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখেছি আমরা। প্রতিনিয়ত শুভেন্দুকে যেভাবে আঘাত করা হচ্ছে, তার যোগ্য জবাব দেবে জেলার মানুষ। লড়াইয়ের জন্য কোনও নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই শুভেন্দুর। নিরাপত্তা ছাড়াই লড়াই করতে পারবেন উনি।’’
শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ এবং সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচিত তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলির  নির্বাচনী পর্যবেক্ষক আনন্দময় অধিকারী এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এর আগে, বৃহস্পতিবার হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশন (এইচআরবিসি) চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু। তার পর রাতারাতি সেই জায়গায় নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যাঁর সঙ্গে শুভেন্দুর মতভেদের কথা কারও কাছেই চাপা ছিল না। তাতেই শুভেন্দু পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন বলে জানা গিয়েছে।

শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলে বেশ কিছু দিন ধরেই কাছের লোকজনের কাছে আক্ষেপ করছিলেন শুভেন্দু। ভবিষ্যতে দলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখবেন না বলে তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

পদত্যাগপত্র পাওয়ার আগে  এ দিন সকালে রাজ্য সরকারের দেওয়া জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তাও ছাড়েন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের পাইলট কার এবং এসকর্টও ছেড়ে দেন। তার কিছু ক্ষণ পরেই পদত্যাগপত্র পাঠান মুখ্যমন্ত্রীকে।

অন্য দিকে, দলবদলের জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়ে এ দিন সকালে কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দিল্লি যাচ্ছেন কোচবিহারের দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীও।

ফের অস্থির সোনা ও রুপোর দাম। শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দামে নিস্তরঙ্গ ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। যার সরাসরি প্রভাব পড়ল ভারতের বাজারে। এদিন সকালে ভারতে মূল্যবান এই ধাতু ঘিরে লগ্নিকারীদের মধ্যে উৎসাহে ঘাটতি দেখা গিয়েছে। ফলশ্রুতিতে দর সামান্য নীচের দিকে নেমে যায়।
মাল্টি-কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ সোনার ফিউচার মূল্য ০.০৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ১০ গ্রামে দাঁড়িয়েছিল ৪৮ হাজার ৪৯২ টাকা। রুপোর ক্ষেত্রেও ছবিটা একই রকম। দিনের প্রারম্ভিক বেচাকেনায় এর দর ০.০৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রতি কিলো রুপোর দাম ৫৯ হাজার ৬০৮ টাকায় নেমে এসেছে। এই দিন ন্যূনতম ৪৮,৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৮,৮০০ টাকার মধ্যে সোনার দর থাকলে লগ্নিকারীদের তাতে টাকা ঢালার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

থ্যাংকস গিভিং ডে-র কারণে গতকাল মার্কিন বাজার বন্ধ ছিল। যে কারণে বিশ্ব বাজারে সোনা ও রুপোর দামে সে অর্থে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। সামান্য পড়ে গিয়ে প্রতি আউন্স সোনার ডিসেম্বর ফিউচার প্রাইজ দাঁড়ায় ১,৮০৫.৫০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, রুপোর মূল্য প্রতি আউন্সে ২২.৩৬ মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়ায়।

এদিকে, সপ্তাহের শেষ বেচাকেনার দিনে দুপুরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে লগ্নির রেখাচিত্রের আভাস নিম্নমুখী। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স সূচক সামান্য নীচে নেমে গিয়েছে। অন্যদিকে, ১৩,০০০ পয়েন্ট থেকে পড়ে গিয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি। তবে দিনের শেষে সূচক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সে দিকেই তাকিয়ে আছে বিভিন্ন মহল।
উপত্যকায় ফের বন্দি করা হয়েছে তাঁকে। গৃহবন্দি করা হয়েছে তাঁর মেয়েকেও। নিজেই টুইট করে জানালেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। জেলা উন্নয়ন পরিষদের (ডিডিসি) নির্বাচনের আগে সন্ত্রাস সংযোগের অভিযোগে সম্প্রতি পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিপি) নেতা ওয়াহিদ পারাকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। ওয়াহিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাওয়াতেই তাঁদের বন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পিডিপি নেত্রী।
শুক্রবার সকালে নিজের টুইটার হ্যান্ডলে মেহবুবা লেখেন, ‘ফের বেআইনি ভাবে আটক করা হয়েছে আমায়। গত দু’দিন ধরে পুলওয়ামায় ওয়াহিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিচ্ছিল না জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন। বিজেপির মন্ত্রী এবং তাঁদের অনুচরদের কাশ্মীরে অবাধ বিচরণের অনুমতি রয়েছে। শুধু আমার বেলাতেই নিরাপত্তার দোহাই’।
ওয়াহিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়ায় তাঁর মেয়েকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেহবুবা। তিনি লেখেন, ‘এদের নিষ্ঠুরতার কোনও সীমা নেই। ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে ওয়াহিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওঁর পরিবারকে সমবেদনা জানানোর অধিকারটুকুও নেই আমার। এমনকি আমার মেয়ে ইলতিজাকেও গৃহবন্দি করা হয়েছে। ওয়াহিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল বলে আমার মেয়ে ইলতিজাকেও গৃহবন্দি করা হয়েছে’। এই মুহূর্তে তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছে, তা যদিও খোলসা করেননি মেহবুবা। দুপুর ৩টেয় সাংবাদিক বৈঠক করে বিশদে সব কিছু জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলা পরিষদের নির্বাচন ঘিরে উপত্যকায় প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় বুধবার ওয়াহিদ পারাকে গ্রেফতার করে এনআইএ।জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজাহাদিনের কমান্ডার নভীদ বাবুর সঙ্গে তাঁর সংযোগ ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু কাশ্মীরের বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, মেহবুবা-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ওয়াহিদ। দক্ষিণ কাশ্মীরে পিডিপি-র ভিত মজবুত করাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। পুলওয়ামা থেকে জেলা পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়নও জমা দিয়েছিলেন তিনি। 
ভারতে প্রতি বছর ১০ কোটি ‘স্পুটনিক ভি’ কোভিড টিকা বানাবে রাশিয়া। তাদের বানানো এই টিকা এ দেশে উৎপাদনের জন্য ভারতীয় ওষুধ সংস্থা ‘হেটেরো’র সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)’-এর। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার স্পুটনিক ভি টুইটার অ্যাকাউন্টে এ কথা জানানো হয়েছে।আরডিআইএফ-ই রুশ কোভিড টিকা বানানোর গবেষণায় অর্থসাহায্য করেছে।
রুশ সংস্থার তরফে দেওয়া বিবৃতিতে এও জানানো হয়েছে, ভারতে তাদের উদ্ভাবিত কোভিড টিকার উৎপাদনে দেরি হবে না। টিকা উৎপাদন আগামী বছরের গোড়ার দিক থেকেই শুরু হয়ে যাবে।ভারতে রুশ স্পুটনিক ভি টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছে ওষুধ সংস্থা রেড্ডি’জ ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী বছরের মার্চেই ট্রায়ালের ফলাফল জানা সম্ভব হবে। আর তা সম্ভব হবে হলে আগামী বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ভারতে বানানো রুশ কোভি়ড টিকার বাজারে এসে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।প্রায় একই সময়ে ভারতের বাজারে এসে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে বানানো কোভিড টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’-এরও। আইসিএমআর-এর সহযোগিতায় ওই টিকা বানাচ্ছে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক। অক্সফোর্ডের টিকাও ওই সময়ের মধ্যে ভারতে এসে যাবে, জানিয়েছে পুণের সেরাম ইন্সটিটিউট।