Articles by "Kakdwip News"
Showing posts with label Kakdwip News. Show all posts

জল নিকাশির স্থায়ী সমস্যা এবং বাজারের আবর্জনা ফেলার জেরে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ে আজ দুপুরে গঙ্গাসাগরের বামনখালি বাজারে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ ওই রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজারের বেশ কিছু দোকানদার নালার পেছনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রাকৃতিক নিকাশি পথটি বন্ধ করে দিয়েছেন। এর জেরে সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে নদী ও খালের জল উপচে পড়ার উপক্রম হয়। বর্ষার মরশুমে এই জমা জলের কারণে চরম সমস্যার মুখে পড়েন বামনখালি গ্রামের সাধারণ মানুষ। বহুবার প্রশাসন ও দোকানদারদের জানিয়েও সুরাহা না মেলায় আজ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। পথ অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

 পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে নালার আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয়। প্রশাসনের আশ্বাসের পর অবশেষে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান চলাচল পুনরায় চালু হয়েছে।

পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল সুন্দরবন পুলিশ জেলার কাকদ্বীপ ট্রাফিক গার্ড। এবার থেকে মাথায় হেলমেট না থাকলে এবং নম্বর প্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে আর পেট্রোল দেওয়া যাবে না— এই মর্মে কাকদ্বীপ এলাকার সমস্ত পেট্রোল পাম্পে সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে মালিক ও কর্মীদের হাতে সরকারি নির্দেশিকা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাম্প চত্বরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে সচেতনতামূলক ফ্লেক্স ও নোটিশ। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, "No Helmet, No Fuel" এবং "No Number Plate, No Fuel" নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।
ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। হেলমেট ব্যবহার না করলে কিংবা নম্বর প্লেট ছাড়া মোটরসাইকেলে পেট্রোল সরবরাহ করা যাবে না। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিন বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা মালিক, ম্যানেজার ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বোঝান এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাইক চালকদেরও হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার এই উদ্যোগে পথ নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপদ যান চলাচল সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়বে বলেই প্রশাসনের আশা।


ককদ্বীপ থেকে মুন্না সর্দারের রিপোর্ট ককদ্বীপ ডট কম

পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের দ্বিতীয় দিনে কাকদ্বীপে নেওয়া হল এক ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক উদ্যোগ। সুন্দরবন পুলিশ জেলার কাকদ্বীপ ট্রাফিক গার্ডের উদ্যোগে ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কাকদ্বীপ চৌরাস্তার মোড় সংলগ্ন এলাকায় সাইকেল, মেশিন ভ্যান, টোটো এবং প্যাডেল ভ্যানসহ বিভিন্ন ধীরগতির যানবাহনে রেডিয়াম স্টিকার লাগানো হয়।

ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাতের অন্ধকারে বা কম আলোতে চলাচলের সময় এই রেডিয়াম স্টিকারগুলিতে অন্য যানবাহনের হেডলাইটের আলো পড়লে সেগুলি উজ্জ্বলভাবে প্রতিফলিত হবে। ফলে পিছন বা বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালক সহজেই সামনে থাকা সাইকেল বা ভ্যানকে দেখতে পারবেন এবং সময়মতো সতর্ক হয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে পারবেন।
বিশেষ করে যেসব সাইকেল বা ভ্যানে নিজস্ব আলোর ব্যবস্থা নেই, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাকদ্বীপ ট্রাফিক গার্ড। পথ দুর্ঘটনা রোধ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পথচারী, সাইকেল আরোহী, টোটো ও ভ্যানচালকসহ কাকদ্বীপের সাধারণ মানুষ। অনেকের মতে, এমন উদ্যোগ নিয়মিত গ্রহণ করা হলে রাতের সময় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।


কাকদ্বীপ থেকে মুন্না সর্দারের রিপোর্ট ককদ্বীপ ডট কম।

শিক্ষক জাতির মেরুদন্ড,আর সেই শিক্ষককের শিক্ষা দপ্তরকে দেওয়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুর-২ ব্লকের কাশীনগর উচ্চ মাধ্যমিক হাই স্কুলের এক ইংরেজি শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট টিউশনের অভিযোগ। 

 অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শিক্ষা দপ্তর, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বিধায়কের কাছে মুচলেকা দেওয়ার পরও প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করেননি।অভিযোগ কাশীনগর প্রাইভেট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের।
অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা দপ্তরের এসআই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছ থেকে মুচলেকা লিখে নেয় তিনি আর বাড়িতে প্রাইভেট টিউশনি করবেন না।এমন দাবি অভিযোগকারী এবং ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সুরজিৎ পুরকাইত এর। এমনকি রায়দিঘি বিধানসভা বিধায়ক তাপস মণ্ডলও ফোনে ওই শিক্ষককে প্রাইভেট টিউশন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারি নির্দেশ ও

বিধায়কের নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে প্রাইভেট টিউশনি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ কারীদের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনে অবিলম্বে প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করে প্রশাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক চাঁদ রতন মণ্ডলের বক্তব্য, তিনি সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। শিক্ষাবর্ষের মাঝপথে পড়ানো বন্ধ করে দিলে ছাত্রছাত্রীরা সমস্যায় পড়বে। তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন পড়ুয়াদের একাংশও।
এ প্রসঙ্গে অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স সার্ভিসের রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন যেসব শিক্ষক বিনা পারিশ্রমিককে পড়াতে চায় তাদের কথা সরকারের চিন্তা করা উচিত।


রাতের রাস্তায় গাড়িতে অতিরিক্ত উজ্জ্বল ফগ লাইট, স্পটলাইট ও সার্চলাইটের ব্যবহার রুখতে বিশেষ উদ্যোগ নিল সুন্দরবন পুলিশ জেলার কাকদ্বীপ ট্রাফিক গার্ড। শুক্রবার কাকদ্বীপ চৌরাস্তার মোড় সংলগ্ন এলাকায় চালানো হয় একটি বিশেষ সচেতনতা ও নজরদারি অভিযান।


এই অভিযানে মূলত বাইক, ট্রাক, বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত চারচাকা গাড়ির চালকদের লক্ষ্য করে সচেতনতা প্রচার চালানো হয়। যেসব গাড়িতে নির্মাতা সংস্থার নির্ধারিত লাইটের বাইরে অতিরিক্ত ফগ লাইট, স্পটলাইট বা সার্চলাইট লাগানো হয়েছে, সেইসব গাড়ির চালক ও মালিকদের সতর্ক করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অতিরিক্ত উজ্জ্বল আলো বিপরীত দিক থেকে আসা চালকদের দৃষ্টিশক্তিতে সাময়িক সমস্যা তৈরি করে, যার ফলে রাতের বেলায় পথ দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই সকল গাড়িচালককে নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত আলোর ব্যবহার বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়।
অভিযান চলাকালীন বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে মোটর ভেহিকেলকে (এম.ভি. Act) আইনের আওতায় নিয়মভঙ্গের অভিযোগে জরিমানাও করা হয়। পাশাপাশি পথচলতি সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত উজ্জ্বল লাইটের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এই কারণকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। তাই কাকদ্বীপ ট্রাফিক গার্ডের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ গাড়িচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চললে সড়কে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং রাতের দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমবে।

কাকদ্বীপ থেকে মুন্না সর্দারের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম


ইসকনের হাতে মিড ডে মিল রান্নার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে কাকদ্বীপ। সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের ডাকে চলা প্রতিবাদ সপ্তাহের অংশ হিসেবে আজ কাকদ্বীপ মহকুমা অফিসে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও ডেপুটেশন অনুষ্ঠিত হয়। 


এদিন সকাল ১১টায় কাকদ্বীপ ৮ নম্বর নতুন রাস্তার মোড়ে মিড ডে মিল কর্মীরা জমায়েত হন। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে এসডিও অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীরা ইসকনকে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। ইসকনের হাতে রান্নার দায়িত্ব দেওয়া চলবে না।
মিড ডে মিল কর্মীদের ১০ মাসের পরিবর্তে ১২ মাসের বেতন দিতে হবে। দিতে হবে পুজোর বোনাস। রান্নার কাজে নিযুক্ত কোনো কর্মী বা গ্রুপকে ছাঁটাই করা যাবে না। অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকাদের মতো সমান মজুরি দিতে হবে।


দুপুরে মহকুমা শাসক অফিসে পৌঁছে মাননীয় SDO-র হাতে নিজেদের দাবিপত্র তুলে দেন কর্মীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়ায়।

আজ মোহনবাগান দিবস উপলক্ষে কাকদ্বীপ মোহনবাগানের উদ্যোগে সুন্দরবন আদর্শ বিদ্যামন্দিরে অনুষ্ঠিত হল একাধিক সমাজসেবামূলক কর্মসূচি। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির এবং বিভিন্ন বিনামূল্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

রক্তদান শিবিরে সহযোগিতা করে কাকদ্বীপ ব্লাড ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে হৃদরোগ নির্ণয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সহযোগিতা করে বি.পি. পোদ্দার হাসপাতাল, নিউ আলিপুর। এছাড়াও বিনামূল্যে রক্তের TSH (থাইরয়েড) পরীক্ষা করা হয়, যার সহযোগিতায় ছিল ডাঃ লালপ্যাথ ল্যাবস।
শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবাই নয়, অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের জন্যও ছিল বিশেষ আয়োজন। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘মোহনবাগান’ অথবা ‘সবুজ মেরুন পাল তোলা নৌকা’। এছাড়াও মোহনবাগান বিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।
মোহনবাগান দিবসকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সমাজসেবামূলক এই উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।



কাকদ্বীপ থেকে সৌম্য সুন্দর দাসের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ রেল স্টেশন চত্বরে শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান। স্টেশন এলাকা দখলমুক্ত করতে প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নামানো হয়েছে বুলডোজার। দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরে গড়ে ওঠা অবৈধ অস্থায়ী দোকান, নির্মাণ ও দখলদারি সরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে জোরকদমে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্টেশন এলাকার বিভিন্ন অংশে অবৈধ দখলের কারণে যাত্রীদের চলাচলে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা হচ্ছিল। পাশাপাশি স্টেশনের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছিল। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই এই উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। উপস্থিত রয়েছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং রেল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা। যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
হঠাৎ শুরু হওয়া এই অভিযানে স্টেশন চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বহু স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। একাংশের দাবি, যাত্রীদের স্বার্থে এবং স্টেশনকে দখলমুক্ত রাখতে এই অভিযান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা অনেক দোকানদার তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

কাকদ্বীপ থেকে ক্যামেরায় সৌম্য সুন্দর দাসের সঙ্গে প্রীতম সাঁতরার রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম।

বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া নিখোঁজ ‘এফবি জয় মা কালী’ ট্রলারে রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলে তল্লাশি অভিযান। উদ্ধারকাজ চলাকালীন সীতারামপুর ঘাটে পৌঁছান সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী তথা কাকদ্বীপের বিধায়ক দীপঙ্কর জানা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে গোটা পরিস্থিতির খোঁজ নেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর।

তল্লাশি চালিয়ে ট্রলারের ভেতর থেকে ৯ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারটি নিখোঁজ হয়েছিল। দীর্ঘ ৯ দিন পর রক্তেশ্বর চরের কাছে ট্রলারটির সন্ধান মেলে এবং সেটিকে টেনে আনা হয় সীতারামপুর ঘাটে।
উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দেহ শনাক্ত করতে প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষাও করা হবে। এখনও ৬ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগণা থেকে সৌম্য সুন্দর দাসের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম

নিজস্ব সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: সমুদ্রে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ‘জয় মাকালী’ ট্রলারের ৯ জন মৃত মৎস্যজীবীর দেহ কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। 


মৃতদেহগুলি বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকা থেকে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃতদেহগুলির আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ করা হবে।
শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোতায়েন রয়েছে সুন্দরবন জেলা পুলিশ। পরিবারগুলির আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় উপকূল জুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার উদ্যোগে কাকদ্বীপ থানায় বৃহস্পতিবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাফিক বিভাগের সেই সমস্ত অফিসার, কনস্টেবল ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের সম্মান জানানো, যারা প্রচণ্ড গরম কিংবা বর্ষার প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিয়মিত রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
সুন্দরবন পুলিশ জেলার কাকদ্বীপ ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে কর্মরত পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের হাতে সামার কিট ও মনসুন কিট তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচন্দ্র ঠাকুর (আইপিএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল এসপি (হেডকোয়ার্টার), কাকদ্বীপের এসডিপিও, ডিএসপি ট্রাফিক-সহ ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ট্রাফিক কর্মীদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও জনসেবার মনোভাবের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পুলিশকর্মীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।


কাকদ্বীপ থেকে ক্যামেরায় কপিল দাসের সাথে সৌম্য সুন্দর দাসের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম

নামখানা টোল প্লাজা সংলগ্ন একটি চায়ের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 


গতকাল সন্ধ্যায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নথিগুলি উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে রয়েছে ৩৫টি আধার কার্ড, ৯টি ভোটার পরিচয়পত্র, ৩৮টি এলআইসি বন্ড এবং ২৬টি এটিএম কার্ড ও ব্যাংক পাসবুক। 


এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও আর্থিক নথি কীভাবে একটি চায়ের দোকানে এল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে নথিগুলি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজন হলে নথিতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ মহাকুমার কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নতুন সিটি স্ক্যান ইউনিটের উদ্বোধন করলেন কাকদ্বীপের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। 

হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তোলার লক্ষ্যেই এই নতুন ইউনিট চালু করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপ এর বিধায়ক দীপঙ্কর জানা, হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। নতুন সিটি স্ক্যান পরিষেবা চালু হওয়ায় কাকদ্বীপ ও সংলগ্ন এলাকার রোগীদের উন্নত মানের রোগ নির্ণয়ের জন্য আর দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তুলতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানান মন্ত্রী। নতুন এই সিটি স্ক্যান ইউনিট চালু হওয়ায় সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকার বহু মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন কাকদ্বীপ হাসপাতাল থেকে। 

ব্যুরো রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। প্রার্থীরা যখন উন্নয়নের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়ছেন, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ঘোড়ামারায়। 


এই দ্বীপের মানুষের কাছে এবারের নির্বাচনে একমাত্র ইস্যু রাস্তা, পানীয় জল বা আলো নয়, বরং ‘অস্তিত্ব রক্ষা’। লাগাতার নদী ভাঙনের ফলে এক সময়ের ৯-১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বীপ আজ সংকুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩.৫ থেকে ৪.৮ বর্গ কিলোমিটারে। আয়লা, আমফান থেকে ইয়াস—একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত আজও টাটকা দ্বীপবাসীর মনে। বিঘের পর বিঘে চাষের জমি আর বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে নদীগর্ভে। গত কয়েক বছরে সরকারি উদ্যোগে দ্বীপে কংক্রিটের রাস্তা ও পানীয় জল পৌঁছালেও, নদী ভাঙন রোধ না হলে এই সব উন্নয়নই একদিন জলের তলায় চলে যাবে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের। 



এই জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে জানান, রাজ্য সরকার সীমিত ক্ষমতায় বাঁধ মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাল্টা আক্রমণে বিজেপি প্রার্থী সুমন্ত মন্ডল ‘কাটমানি’ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিজ্ঞানসম্মত কংক্রিটের বাঁধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ভোটের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় যাই হোক, নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া থেকে নিজেদের ভিটেমাটিটুকু রক্ষা করতে এখন একজোট ঘোড়ামারার মানুষ। নির্বাচনের পর তাঁদের এই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত বকখালি। একসময় কলকাতা ও তার বাইরে বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু এলাকা থেকে প্রতিবছর বহু পর্যটকের আনাগোনা ছিল এই সমুদ্র সৈকতে কিন্তু আজ সেই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। আগে নামখানাতে ব্রিজ না থাকায় গাড়ি পারাপারে অসুবিধা হত, সেখানে নামখনায় ব্রিজ এবং ট্রেনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পর্যটক কমছে বকখালীতে। 

কি কারণ রয়েছে এর পেছনে? কেনই বা দিঘা বা মন্দারমনির মত ভিড় নেই বকখালীতে ? জেনেনিন বিস্তারিত...

বকখালির প্রধান আকর্ষণ ছিল সমুদ্রের ঢেউ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৈকতে বিশাল এলাকা জুড়ে চর জেগে ওঠায় সমুদ্রের ঢেউ আর আগের মতো উপকূলে আছড়ে পড়ে না । পর্যটকদের জল ছুঁতে প্রায় ১ কিমি পথ বালির ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়, যা অনেক পর্যটককেই নিরুৎসাহিত করছে । আমফান ও ইয়াস-এর মতো ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৈকতের ঝাউবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমফান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ে সৈকতের ঝাউবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝাউ গাছ কমে যাওয়ায় পিকনিক স্পটগুলো আগের মতো মনোরম নেই।

আধুনিক পর্যটন সুবিধার অভাব, দিঘা বা মন্দারমণির তুলনায় বকখালিতে আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা সীমিত। এছাড়া অনেক সময় সৈকত এলাকায় আবর্জনার স্তূপ ও দুর্গন্ধ পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছে । 

রক্ষণাবেক্ষণের অভাব পর্যটক কমার অন্যতম বড় কারণ। বকখালি সমুদ্র সৈকতে বানানো বসার চেয়ার গুলি আজ ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বকখালি সমুদ্র সৈকতে থাকা ওয়াচ টাওয়ার তারও বেহাল অবস্থা। বকখালীতে রাস্তার ধারে কিছু কিছু জায়গায় লাইট টাও এখনো ভেঙে রয়েছে। সমুদ্র সৈকতে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি শুধু মাত্র রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে। বিচের মধ্যেই কিছু জায়গায় পরে রয়েছে ময়লা বা আবর্জনা। এছাড়াও দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, এটিএম পরিষেবার অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের হোটেল পরিষেবা পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

শুধু বকখালি সমুদ্র সৈকতই নয় বকখালি খুব কাছেই রয়েছে হেনরি আইল্যান্ড সেখানেও খুবই বেহাল অবস্থা। সমুদ্র সৈকতেই ভেঙে পড়ে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, সমুদ্র সৈকতের পাশে থাকা বনের গাছের ডাল পালা ইত্যাদি। 
এছাড়াও বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বকখালি বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া ডিয়ার পার্ক বা হরিণ প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরেই দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রয়েছে। যেখানে পর্যটকদের জন্য হরিণ ও কুমির দর্শনের ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড় আমফান  এবং ইয়াস -এর তান্ডবে পার্কটির পরিকাঠামো এবং হরিণদের থাকার জায়গা বা এনক্লোজারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জলোচ্ছ্বাসের নোনা জল ঢুকে যাওয়ায় এই পার্কের ঘাস ও গাছপালাও নষ্ট হয়ে যায়। পার্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার অধিকাংশ হরিণকে অন্যত্র, যেমন লথিয়ান আইল্যান্ড বা সজনেখালি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে কোনো হরিণ না থাকায় এটি পর্যটকদের জন্য কার্যত বন্ধ। 


এই সমস্ত বিভিন্ন কারণে কার্যত পর্যটক হারাচ্ছে বকখালি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটক দের জন্য মনোরম পরিবেশ আবারও বকখালীর পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


ষ্টাফ রিপোর্টার মুন্না সর্দার

কাকদ্বীপ পোস্ট অফিসে বোমাতঙ্কের ইমেল, চাঞ্চল্য মহকুমাজুড়ে।


বৃহস্পতিবার সকালে কাকদ্বীপ পোস্ট অফিস ও পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে বোমাতঙ্ককে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো। একটি উড়ো ইমেলকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকে কার্যত আতঙ্কের চেহারা নেয় এলাকা।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১:১০ নাগাদ কলকাতার রিজিওনাল পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে একটি হুমকি মেইল আসে। সেখানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং এবং কাকদ্বীপ পোস্ট অফিস ও পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে বোমা রাখা আছে বলে জানানো হয়। খবর পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়। কাকদ্বীপের ক্ষেত্রে পোস্ট অফিস ও পাসপোর্ট অফিস একই ভবনে হওয়ায় আতঙ্ক বহুগুণ বেড়ে যায়। ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই কাকদ্বীপ থানার আইসি এবং এসডিপিও বিশ্বজিৎ নস্করের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সুন্দরবন জেলা পুলিশের ডিআইবি ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুত অফিস খালি করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পৌঁছায় বম্ব স্কোয়াড। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা ধরে ভবনের প্রতিটি কোণ তল্লাশি চালানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।

বোমাতঙ্কের খবর চাউর হতেই সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে অফিসের কাজকর্ম। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, "হঠাৎ পুলিশ এসে অফিস খালি করতে বলায় আমরা খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।"
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এটি একটি ভুয়ো ইমেল বা 'হক্স কল'। তবে সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা আদালত এবং প্রধান পোস্ট অফিসগুলোতে একই ধরণের হুমকি মেইল আসায় চিন্তিত প্রশাসন। এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এবং সাইবার ক্রাইম দপ্তর।

*পাকিস্তানে বন্দি নামখানার ৩ মৎস্যজীবী, স্বদেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে পরিবারের পাশে সাংসদ ও বিধায়ক।* 


দীর্ঘ তিন বছর ধরে পাকিস্তানের জেলে বন্দি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার তিন মৎস্যজীবী। কোনরকম সুরাহা না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারগুলোর। বুধবার ওই তিন মৎস্যজীবীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সাহায্যের আশ্বাস দিলেন মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার এবং কাকদ্বীপের বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নামখানা ব্লকের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাদাভাঙ্গা এলাকার তিন বাসিন্দা— তপন মহাপাত্র (৫০), কাশীনাথ মন্ডল (৫৮) এবং দিলীপ বাগ (৪৮) অভাবের তাড়নায় গুজরাটে মৎস্যজীবীর কাজ করতে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের শুরুতে গুজরাট থেকে ট্রলারে করে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে পথ ভুলে আন্তর্জাতিক জলসীমা পেরিয়ে ফেললে তাঁদের আটক করে পাকিস্তানের উপকূল রক্ষী বাহিনী।
পরিবার সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি চিঠিতে জানানো হয় যে তাঁরা পাকিস্তানে বন্দি আছেন। তবে তাঁরা ঠিক কোন জেলে বা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। দীর্ঘ কয়েক বছর পার হলেও পরিজনদের ফিরে পাওয়ার কোনো উপায় মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।

বুধবার সকালে সাংসদ ও বিধায়কের পাশাপাশি কাকদ্বীপের এসডিপিও সহ পুলিশ আধিকারিকরা নাদাভাঙ্গা এলাকায় গিয়ে পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন। প্রিয়জনদের ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিজনরা সাংসদ ও বিধায়ককে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাংসদ বাপি হালদার তাঁদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,
"আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।" বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরাও দুস্থ পরিবারগুলোর পাশে সবরকমভাবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন প্রশাসনের এই তৎপরতায় ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে কি না, সেই আশায় বুক বাঁধছেন তাঁদের স্বজনরা।

*দেদার লুঠ হচ্ছে নদীর চর, নামখানায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অবৈধ সাদাবলী পাচার চক্র। কাঠগোড়ায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য।* 


দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় মুড়িগঙ্গা ও ঘিয়াবতী নদীর চর থেকে অবৈধভাবে সাদা বালি কেটে এনে তোলার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নামখানা ও নারায়ণপুর সংলগ্ন এলাকায় এই বেআইনি কারবার দীর্ঘদিনের হলেও, সম্প্রতি নামখানা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৭ নম্বর বুথের তৃণমূল সদস্য সমীর প্রধানের নাম জড়িয়ে পড়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়শই নদীর চর কেটে বালি তুলে নৌকায় করে নামানো হচ্ছে ডাঙায়। এরপর সেই বালি ইঞ্জিনভ্যানে করে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে। নামখানা থানার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পুরাতন খেয়াঘাট ও সুলিশ গেট এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে এই কারবার। সম্প্রতি পুরাতন খেয়াঘাটে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সমীর প্রধানের উপস্থিতিতেই বালি খালাস করতে দেখা যায়। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে কলকাতা টিভির ক্যামেরা দেখে শ্রমিকরা রীতি মতন নৌকা নিয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেয়। এলাকাবাসীদের দাবি, শাসকদলের

 জনপ্রতিনিধি হওয়ায় সমীরবাবু প্রভাব খাটিয়ে এই চক্র চালাচ্ছেন। যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গুরুপদ মালি জানিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শুধুমাত্র সমীর প্রধান নয়, এই অবৈধ বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নামখানা ব্লকের আরো বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। সূত্রের খবর, শনিবার অভিযুক্ত সমীর প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সমীর প্রধানের কোন বিবৃতি পাওয়া যায়নি।নামখানা থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এই অবৈধ বালী কারবার সক্রিয় হয়ে ওঠায় পুলিশের নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।




ষ্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার

মানববন্ধন সেবা সমিতির ব্যবস্থাপনায় নামখানা ব্লকের অনুষ্ঠিত হলো ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এবং মেডিক্যাল এডুকেশন এন্ড রিসার্চ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় নামখানা ব্লকের নামখানা অ্যাকাডেমিতে মহিলাদের স্বাস্থ্য ও ক্যান্সার বিষয়ক এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

এই ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গাইনোকোলজিস্ট তথা মেডিকেল এডুকেশন এন্ড রিসার্চ সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট ডক্টর প্রমথেস দাস মহাপাত্র, উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত গাইনোকোলজিস্ট ডক্টর অসিত বরন সরকার (সেক্রেটারি: মার্সি)। উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজের


 মেডিকেল অফিসার ডক্টর পরেশ চন্দ্র ওঝা, উপস্থিত ছিলেন নামখানা ব্লকের বিশিষ্ট সমাজসেবী পরমেশ্বর মন্ডল, ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা জিবিডি এর চেয়ারম্যান শ্রীমন্ত কুমার মালি, ছিলেন ডঃ অরূপ লাহা, সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছিলেন সুপ্রিতি খুটিয়া এবং সুশান্ত খুটিয়া।
গঙ্গাসাগরে উন্নয়ন জোয়ার: একদিনে তিন-তিনটি কংক্রিট রাস্তার উদ্বোধন করলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী


সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ভোলবদল করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় 'পথশ্রী-৪' প্রকল্পের অধীনে শুক্রবার গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কংক্রিট রাস্তার শুভ উদ্বোধন করলেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা।
এদিন মন্ত্রী প্রথমেই উদ্বোধন করেন কীর্তনখালী পদ্মাবতী স্কুল থেকে মেইন রোড পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৫৭০ মিটার দীর্ঘ একটি কংক্রিট রাস্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে মন্ত্রীর নজরে পড়ে পদ্মাবতী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ দশা। বিদ্যালয়ের ভগ্নদশা দেখে তিনি দ্রুত তা মেরামতির আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, স্থানীয় ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিয়ে ওই এলাকায় পদ্মাবতী মায়ের একটি স্ট্যাচু নির্মাণের ঘোষণাও করেন তিনি। উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে মন্ত্রী এরপর আরও দুটি রাস্তার ফিতে কাটেন

রুদ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কীর্তনখালী সুকুমার বিশাল থেকে বিভূতি ভূষণ দাস ভায়া পশ্চিমপাড়া বিশালক্ষী মন্দির পর্যন্ত প্রায় ২৮০০ মিটার দীর্ঘ রাস্তা। কমলপুর অনাথবন্ধু মাইতি থেকে হৃষিকেশ মাইতির বাড়ি পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫৫০ মিটার কংক্রিটের রাস্তা। মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং মানুষের যাতায়াত সুগম করতে মুখ্যমন্ত্রী গ্রামবাংলার প্রতিটি কোণায় উন্নয়নের আলো পৌঁছে দিচ্ছেন। এই রাস্তাগুলি নির্মাণের ফলে স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষ এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে প্রভূত সুবিধা হবে। এদিনের এই মেগা উদ্বোধনী কর্মসূচিতে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ প্রদীপ বালেশ্বর, শিক্ষা স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ অমলেন্দু পাল এবং জেলা পরিষদের সদস্যা অনিতা মাইতি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট যুব নেতা মিলন সিট সহ অন্যান্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনিক এই তৎপরতায় খুশির হাওয়া গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগর এলাকায়।