May 2026


ওই ক্রুজ শিপে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে হান্টাভাইরাসের অ্যানডেস স্ট্রেইনের হদিস মিলেছে। বহু যাত্রীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে গিয়েছে, সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।


করোনা এসেছিল বিমানে করে, Hantavirus কি জাহাজে করে আসছে?
কীভাবে ছড়ায় হান্টাভাইরাস?


যত কাণ্ড ক্রুজ শিপে। প্রমোদতরীতে আরামে কটা দিন কাটাবেন, বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখবেন বলেই উঠেছিলেন যাত্রীরা। কিন্তু সেখানে যা হল, তাতে এখন গোটা বিশ্বই আতঙ্কে। ফের লকডাউন হবে না তো? আবার ঘরবন্দি জীবনে ফিরতে হবে? এই আতঙ্কের নাম হান্টাভাইরাস (Hantavirus)। ইতিমধ্যেই একটি ক্রুজ শিপে, যেখানে বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা রয়েছেন, ভারতীয়রাও রয়েছেন, সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে হান্টাভাইরাস। মৃত্যু হচ্ছে আক্রান্ত যাত্রীদের। করোনার মতো এই ভাইরাসও ছড়িয়ে পড়বে না তো?

নেদারল্যান্ডের জাহাজ এমভি হন্ডিয়াস (MV Hondius)। ওসানওয়াইড এক্সপেডিশন এই প্রমোদতরী পরিচালন করে। গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া (Ushuaia) থেকে সাউথ আটলান্টিক সাগর ভ্রমণে বেরিয়েছিল ক্রুজ শিপটি। দক্ষিণ আটলান্টিকের আন্টার্কটিকা, সাউথ জর্জিয়া, সেন্ট হেলেনা, নাইটেঙ্গেল আইল্যান্ড ঘুরছিল জাহাজটি, আচমকাই গত ৬ এপ্রিল এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর পেটের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। মে মাস শুরু হতে হতে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে ক্রুজ শিপে, অন্তত তিনজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম যে ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছিলেন, তার যেমন মৃত্যু হয়েছে, তেমনই তাঁর স্ত্রী মৃতদেহের সংস্পর্শে আসার পর তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মারা যান। আরেক জার্মান নাগরিকের মৃত্য়ুও হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত কমপক্ষে আটজন। সংক্রমণ আরও ছড়াতে পারে।



কী এই হান্টাভাইরাস?
হান্টাভাইরাস হল ইঁদুর বাহিত ভাইরাস, যা থেকে গুরুতর সংক্রমণ হয়। সাধারণত ইঁদুরের মল,মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। এছাড়া সংক্রমিত জায়গার সংস্পর্শে এলেও, বা ওই জায়গা পরিষ্কার করতে গিয়ে হান্টাভাইরাস ছড়াতে পারে। জঙ্গল, মাঠ বা ক্ষেত থেকেও মানবদেহে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে বা তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ থাকলে এক মানবদেহ থেকে আরেক মানবদেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।

 কত দিন শরীরে থাকে হান্টা ভাইরাস?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, মানবদেহে এক থেকে ছয় সপ্তাহ থাকে এই সংক্রমণ। তার থেকে বেশি সময়ও থাকতে পারে হান্টা ভাইরাস। সাধারণত আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গ দেখা যায়।

উপসর্গ কী কী?
হান্টাভাইরাসের প্রাথমিক উপসর্গ হল জ্বর, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, শরীরে কাঁপুনি, পেশিতে ব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, পেটে যন্ত্রণা, বমি, ডায়ারিয়া, তলপেটে ব্যথা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রবল শ্বাসকষ্ট ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা যায়।

ওই ক্রুজ শিপে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে হান্টাভাইরাসের অ্যানডেস স্ট্রেইনের হদিস মিলেছে। বহু যাত্রীদের দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্পে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে গিয়েছে, সেখানে যাত্রীদের নামিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

হান্টাভাইরাস নিয়ে চিন্তা কেন?
হান্টাভাইরাস নিয়ে চিন্তার সবথেকে বড় কারণ হল এই ভাইরাসের কোনও চিকিৎসা নেই। কোনও টিকাও আবিষ্কার হয়নি হান্টাভাইরাস প্রতিরোধের। তাই পর্যবেক্ষণ, সাধারণ চিকিৎসা বা সেবা ছাড়া কোনও আলাদা চিকিৎসা করা যায় না। এশিয়া ও ইউরোপে হান্টাভাইরাসে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কম হলেও, আমেরিকায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যু হার রয়েছে এই হান্টাভাইরাসের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস অ্যাধানম গ্রেবিয়াসিল জানিয়েছেন, এই ভাইরাস বিরল। ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে মানবদেহ থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে এই ভাইরাস। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ছয় সপ্তাহ থাকতে পারে এই ভাইরাস। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি হেলথ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর ডঃ এ মাহামুদ বলেছেন, “২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় এমন পরিস্থিতি দেখেছিলাম যেখানে একজন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি জমায়েতে অংশ নিয়েছিলেন এবং তারপরে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়েছিলেন। এখনও একই পরিস্থিতি। সীমাবদ্ধ জায়গায় নিকটবর্তী কনট্যাক্টের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। যদি কনট্যাক্ট ট্রেসিং ও আইসোলেশনের মতো পদক্ষেপ করা হয়, তাহলে সংক্রমণের চেইন ভাঙা যাবে।”

এই ক্রুজ শিপে আক্রান্তরা বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা। আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইৎজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও সেন্ট হেলেনার বাসিন্দা। আবার এই ক্রুজ শিপে দুইজন ভারতীয় ক্রু সদস্যও রয়েছেন। এরপরই আরও শঙ্কা বেড়েছে, ভারতেও ছড়িয়ে পড়বে না তো এই মারণ ভাইরাস?

চন্দ্রনাথের মাও তৃণমূলকেই দায়ী করেছিলেন। খুনের পরই তিনি বলেছিলেন, "গরম গরম বক্তব্য রেখেছিল, শাসকদলে যারা ছিল, ৪ তারিখের পর কোনও দিল্লির বাবাও রক্ষা করতে পারবে না। তার পরিণতি এটা। জীবন বলি দিতে হল আমার ছেলেকে। ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ অনেকগুলো বিধানসভার দায়িত্বে ছিল আমার ছেলে।"

 'চন্দ্রনাথ খুনে অভিষেকের হাত, গ্রেফতার হবেই', বিস্ফোরক অর্জুন সিং
চন্দ্রনাথ রথ


শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের নেপথ্যে কার হাত? এবার বিস্ফোরক নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। তাঁর অভিযোগ, চন্দ্রনাথ রথকে খুন করিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলায় মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবেই। অভিষেক যে কোনও দিন গ্রেফতার হবেন।


অর্জুন বলেন, “সিমেন্ট-বালি-পাথর বিক্রি করেছে। যে পরিমাণে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে, সরকার যখন পড়বে, তার মাথা তো খারাপ হবেই। ২০০০ পুলিশ হাত থেকে চলে যাবে। চোরকে তো গ্রেফতার করবেই। প্রধানমন্ত্রী তো ইঙ্গিত দিয়েই দিয়েছেন। মহাজঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। অভিষেক তো যে কোনও দিনই গ্রেফতার হতে পারে। এই তো সেদিনই খুন করিয়ে দিল চন্দ্রনাথকে। চন্দ্র খুনে অভিষেক দায়ী। হতাশা থেকে করিয়েছে।”



চন্দ্রনাথের মাও তৃণমূলকেই দায়ী করেছিলেন। খুনের পরই তিনি বলেছিলেন, “গরম গরম বক্তব্য রেখেছিল, শাসকদলে যারা ছিল, ৪ তারিখের পর কোনও দিল্লির বাবাও রক্ষা করতে পারবে না। তার পরিণতি এটা। জীবন বলি দিতে হল আমার ছেলেকে। ভবানীপুর, চণ্ডীপুর, নন্দীগ্রাম-সহ অনেকগুলো বিধানসভার দায়িত্বে ছিল আমার ছেলে। তবে পর্দার আড়ালেই কাজ করত। রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় যোগ ছিল না।” উল্লেখ্য, এই ‘৪ তারিখের পর দিল্লির বাবা রক্ষা করতে পারবে না’ এহেন হুমকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দিতে শোনা গিয়েছিল।


প্রচারের সময়ে হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক বলেছিলেন, “আমি সবসময় উদারতায় বিশ্বাস করি না। যারা ৫ বছর ধরে বাংলার মানুষকে অত্যাচার করেছ। আইন সবার জন্য এক। যেখানে যেখানে এরা বেশি লাফালাফি করবে, শান্তি সম্প্রীতি বজায় রেখে এবার রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে একটু ডিজেও বাজবে। কেউ শালীনতার গণ্ডি পেরোবেন না। ” যদিও অর্জুন সিংয়ের এই বিস্ফোরক দাবির প্রেক্ষিতে তৃণমূলের তরফ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। এরপর একাধিক কর্মসূচি সেরে রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে তিনি পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রীতে বাড়িতে আসার পর এদিন সকালে শান্তিকুঞ্জের সামনে মানুষের ঢল নামে। ভিড় সামাল দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
 

দুপুরে কব্জি ডুবিয়ে খেলেন শুভেন্দু, পাতে কী কী ছিল জানেন
মধ্যাহ্নভোজে কী কী খেলেন শুভেন্দু অধিকারী?


বাড়ির মেজো ছেলে আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গত কয়েকমাস রাজ্যজুড়ে দৌড়ে বেড়িয়েছেন। ফলে পরিবারের সঙ্গে তেমন সময় দিতে পারেননি। আর শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বিকেল পর্যন্ত বাড়িতেই কাটালেন। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরের দিন শান্তিকুঞ্জের সামনে মানুষের ভিড়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম দিন বাড়িতে কীভাবে কাটালেন শুভেন্দু?

শান্তিকুঞ্জের বাইরে জনতার ঢল-



শনিবার সকালে ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। এরপর একাধিক কর্মসূচি সেরে রাতে কাঁথির শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে তিনি পৌঁছন। মুখ্যমন্ত্রীতে বাড়িতে আসার পর এদিন সকালে শান্তিকুঞ্জের সামনে মানুষের ঢল নামে। শুভানুধ্যায়ীদের ভিড় সামাল দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।


শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী এবং দুই ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী ও সৌমেন্দু অধিকারী শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে দেখা করলেন দফায় দফায়। বিভিন্ন সরকারি অধিকারিকরাও মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে আসেন। ফুল, মিষ্টি-সহ কচি কাঁচাদের আনা উপহার গ্রহণ করলেন দিব্যেন্দু, সৌমেন্দুরা। সারা শান্তিকুঞ্জ পদ্মফুলের উপহারে ভর্তি হওয়ার অবস্থা।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সকাল থেকে কোনও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে দেখা করেননি। বিগত এতদিনের শারীরিক ধকলের জন্যই তিনি এদিন সকাল থেকে বিশ্রাম নেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে মা গায়ত্রী দেবী, বাবা শিশির অধিকারী ও মাসি মুক্তি ভট্টাচার্যকে প্রণাম করেন বাড়ির মেজো ছেলে শুভেন্দু। আজ বিশ্ব মাতৃ দিবস উপলক্ষে আলাদাভাবে উদযাপন হয়নি অধিকারী বাড়িতে।

দুপুরে কী খেলেন শুভেন্দু?

শুভেন্দুর জন্য এদিন মা ও মাসি মিলে একাধিক পদের আয়োজন করেন। জানা গিয়েছে, এদিন মধ্যাহ্নভোজে মুখ্যমন্ত্রীর পাতে ছিল মোচার তরকারি, সর্ষে ইলিশ ভাপা, পোনা কালিয়া, করলা সেদ্ধ, মুরগির মাংস। শেষ পাতে ছিল টক দই। বিকেলে শান্তিকুঞ্জ থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।



ব্রোঞ্জের চিতা নিয়ে হাজির তৃণমূল কর্মীএদিন শান্তিকুঞ্জের সামনে এক বিজেপি কর্মী ব্রোঞ্জের তৈরি চিতা নিয়ে হাজির হন। উত্তম দাস নামে ওই বিজেপি কর্মী দমদমের বাসিন্দা। তিনি মনে করেন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার বাঘ। তাই এই মূর্তিটি মুখ্যমন্ত্রীকে উপহার স্বরূপ দেবেন। আবার কেউ শঙ্খ নিয়ে হাজির হন শুভেন্দুর বাড়ির সামনে।

কোহিনূর, ঋজুরা যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তোপ দেগে চলেছেন, তখন দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতাদের এই তোপ দাগাদাগির চ্যাট প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। এখন এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার। 


 তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ ফাঁস, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে 'কুত্তা' শব্দ, চ্যাটে আর কী লেখা?
সামনে এল তৃণমূলের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট

ভোটে ভরাডুবি হতেই কোন্দল প্রকট হচ্ছে তৃণমূলে। টিকিট পেতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কেউ। আবার ভোটে হারের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন কেউ। ঋজু দত্ত, কোহিনূর মজুমদারদের মতো মুখপাত্রদের সাসপেন্ড করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু, কোন্দল যে থামানো যাচ্ছে না, আরও একবার স্পষ্ট হল। এবার তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কাউন্সিলর, নেতারা বাদানুবাদে জড়ালেন। আর সেই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়লেন সাংসদ তথা তৃণমূলের উত্তর কলকাতার চেয়ারপার্সন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সামনে চলে এসেছে। আর তাতেই অস্বস্তি বাড়ল ঘাসফুল শিবিরের। 

তৃণমূলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বাদানুবাদ-


বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে মুখ খুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। কলকাতাতেও একাধিক আসনে হেরেছে তারা। ভোটে হারার পর একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। আবার ভোটে হারার জন্য অভিষেকের বিরুদ্ধেও অনেকে মুখ খুলছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের উত্তর কলকাতার অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন কলকাতা পৌরনিগমের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের উত্তর কলকাতার চেয়ারপার্সন সুদীপকে নিশানা করে তিনি বলেন, “সুদীপদা, আপনি উত্তর কলকাতার অঘোষিত সম্রাট। আপনার তো উচিত ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকানো। সেই জায়গায় আপনি তো নিজেই ঘরে ঢুকে আছেন। অনেক দিন ধরে পদ আঁকড়ে বসে আছে‌ন। অনেক হয়েছে, এ বার ছাড়ুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।’’

১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের এই মেসেজের পর পাল্টা আসরে নামের সুদীপ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলররা। বিধানসভা ভোটে শ্যামপুকুরের পরাজিত প্রার্থী শশী পাঁজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার জবাব দেন কাউন্সিলর সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই তোপ দাগাদাগির মধ্যেই একটি মেসেজ লেখেন স্বয়ং সুদীপ। একজনকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘‘এদের একটাই উত্তর। হাতি চলে বাজার, কুত্তা ভোকে হাজার। জবাব দিও না। আমি দিয়ে দেব।’’ তখন সুব্রত পাল্টা লেখেন, ‘‘দাদা, আমি দলের সৈনিক। ‘কুত্তা’ নই। আমরা দলের সৈনিক আর আপনি আমারই চেয়ারম্যান। আমি তো আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করেছি।’’ এরই মধ্যে কেউ একজন লেখেন, দলের মধ্যে এখন এই দলাদলি ঠিক নয়।

কোহিনূর, ঋজুরা যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তোপ দেগে চলেছেন, তখন দলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতাদের এই তোপ দাগাদাগির চ্যাট প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলের। এখন এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।

বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছিলেন, এইভাবে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প মমতা সরকার বাংলায় চালু হতে দেননি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়েই। সেক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন রাজ্যের বাসিন্দারাও। মমতা সরকারের পত্তনের পর থেকেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা প্রায় অবলুপ্তির পথে।


মহিলারা ৩০০০ টাকা করে পাবেন? শুরু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে আলোচনা
মহিলা টাকা প্রদানে সিদ্ধান্ত হতে পারে নবান্নে


সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাবিনেট বৈঠক। স্থান নবান্নের সভাঘর। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম বৈঠকে শুভেন্দু। সেখানে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হবে। তারপর পাঁচ জন শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের নিয়ে ক্যাবিনেট বৈঠক করবেন। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের প্রকল্পের যেগুলো আগের সরকার গ্রহণ করেনি,তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আয়ুষ্মান ভারত এখানে গ্রহণ করা হয়নি। নির্বাচনী প্রচারেও এসে বারবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই নিয়ে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।


বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ করেছিলেন, এইভাবে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প মমতা সরকার বাংলায় চালু হতে দেননি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়েই। সেক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন রাজ্যের বাসিন্দারাও। মমতা সরকারের পত্তনের পর থেকেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের গ্রহণযোগ্যতা প্রায় অবলুপ্তির পথে। কারণ সেই কার্ড অনেক বেসরকারি হাসপাতালই নেওয়া বন্ধ করে গিয়েছে। প্রশ্নের মুখে পড়ে লক্ষ্মীর ভান্ডারও।



সেই বিষয়টি নিয়েও শুভেন্দুর বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। মহিলারা যাতে আর্থিক সুবিধা পান, তার জন্য এই প্রকল্পে অন্য নাম দিয়ে চালু করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।

আগেই বিজেপি ঘোষণা করেছিল, বলা ভালো তাঁদের সংকল্প পত্রেও উল্লেখিত ছিল, অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করা হবে বাংলায়। তাতে মহিলারা মাথা পিছু ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। সেই বিষয়েই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় নাকি এদিনের বৈঠকে, সেটাই দেখার।

*শুভেন্দুর ক্যাবিনেটে কি সাগরের সুমন্ত? সোশ্যালে ভাইরাল ‘মৎস্য ও সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী’র নাম; আশায় বুক বাঁধছেন মা ও সাগরবাসী*


বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। শুক্রবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পাঁচজন পূর্ণ মন্ত্রীর নাম ঘোষণা হলেও, সাগরের মানুষের নজর এখন আটকে রয়েছে তাঁদের ঘরের ছেলে সুমন্ত মণ্ডলের দিকে। যদিও প্রথম দফায় তাঁর নাম ঘোষণা হয়নি, তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক অলিন্দে জোরালো খবর— সুন্দরবন উন্নয়ন ও মৎস্য দপ্তরের দায়িত্ব পেতে চলেছেন এই উচ্চশিক্ষিত শিক্ষক-বিধায়ক।
শুক্রবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন ফ্রেজারগঞ্জের বাড়িতে টিভির পর্দার সামনে এক মুহূর্তের জন্যও সরেননি সুমন্ত মণ্ডলের মা ও পরিবারের সদস্যরা। প্রথম দফার পাঁচ মন্ত্রীর তালিকায় ছেলের নাম না থাকলেও আশা ছাড়েননি তাঁরা। সাগরের মানুষের বিশ্বাস, শুভেন্দু অধিকারীর বিশ্বস্ত এবং শিক্ষিত ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে সুমন্ত মণ্ডলের জায়গা মন্ত্রিসভায় পাকা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুমন্ত মণ্ডল কেবল একজন বিধায়ক নন, তিনি একজন পেশাদার শিক্ষক এবং দীর্ঘদিনের সমাজসেবী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো কঠিন জমিতে বিজেপির সংগঠনকে ধরে রাখা এবং উপকূলীয় মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁর স্পষ্ট জ্ঞানই তাঁকে মন্ত্রিসভার দৌড়ে এগিয়ে রাখছে। বিশেষ করে সুন্দরবন উন্নয়ন এবং মৎস্য দপ্তরের জন্য তাঁর মতো স্থানীয় ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে দলের অন্দরমহল।
প্রাথমিক পাঁচ মন্ত্রীর নাম ঘোষণার পর এখন জল্পনা তুঙ্গে পরবর্তী তালিকা নিয়ে। সাগরবাসীর প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সময় সুমন্ত মণ্ডলের নাম ঘোষণা হবেই।


গঙ্গাসাগর থেকে কাকদ্বীপ ডট কম নিউজ টিম

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি শপথ গ্রহণের পর এই কাকদ্বীপ বিধানসভায় বিজেপির তরফ থেকে দেখা গেল এক অভিনব উদ্যোগ। 


এই দিন সমাজের কাকদ্বীপ বিধানসভায় সকল ব্যবসায়ী বৃন্দদের কাছে গিয়ে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার পক্ষ থেকে যুব মোর্চার নেতৃত্ব ও সদস্যরা প্রত্যেকের কাছে কাকদ্বীপ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক শ্রী দীপঙ্কর জানার পক্ষ থেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ রূপে ও অভিনন্দন জানায়। 
এর সাথে সকল ব্যবসায়ীদের কাকদ্বীপ বাজারের ভয়ে আউট, ভরসা ইনের স্লোগানের মধ্য দিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। 
আজও জনতা পার্টির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রবীন মজুমদার জানান আমাদের কাকদ্বীপ বিধানসভার শ্রদ্ধেয় সম্মানীয় দীপঙ্কর জানা মহাশয়ের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি যদি কেউ নষ্ট করতে চায় তাহলে তারা এখনো মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। 
কোন ব্যবসায়িক আছে যদি কোন অসাধু ব্যক্তি গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি তথা কাকদ্বীপ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক শ্রী দীপঙ্কর জানা মহাশয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আইনা নৌক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এই দিন একই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির কাকদ্বীপ বিধানসভার মন্ডল এর সভাপতি রাজিব দাস ও অন্যান্য নেতৃত্ববৃন্দ। 
কাকদ্বীপ বাজার ব্যবসায়ীরা এই রূপ কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানায়।

মমতার ফেসবুক খুললে দেখা যাবে তাঁর বায়ো সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। লেখা,অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন। তারপরই লেখা চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। ব্র্যাকেটে লেখা ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম বিধানসভা। কিন্তু, বায়োতে প্রাক্তন শব্দটা জুড়তে পারলেন না।


প্রাক্তন' হয়েও মমতা 'মুখ্যমন্ত্রী'! সোশ্যাল মিডিয়ার বায়োতে কী লিখলেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


ভাঙলেন, তবু মচকালেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জন্য এই প্রবাদটাই হয়তো এখন প্রযোজ্য। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক সমালোচকরা। দুই দিন আগেও জোর গলায় বলেছিলেন তিনি হারেননি। ইস্তফা কেন দেবেন? এখনও পর্যন্ত যা খবর তিনি ইস্তফা দেননি। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্তও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে প্রাক্তন শব্দটাও ছিল না। জ্বলজ্বল করছিল চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল (Chief Minister Of West Bengal)। আজ শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। কিন্তু তারপরেও তাঁর প্রোফাইলের বায়োতে যুক্ত হল না ‘প্রাক্তন’ শব্দটা। তাহলে কী লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


বায়োতে কী লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
মমতার ফেসবুক খুললে দেখা যাবে তাঁর বায়ো সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। লেখা,অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন। তারপরই লেখা চিফ মিনিস্টার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল। ব্র্যাকেটে লেখা ১৫তম, ১৬তম, ১৭তম বিধানসভা। কিন্তু, বায়োতে প্রাক্তন শব্দটা জুড়তে পারলেন না। সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলের বায়োতেও একইভাবে লেখা পরিবর্তন করেছেন। এখনও নিজেকে প্রাক্তন মানতে নারাজ মমতা।



20 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া বায়ো

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী, ৭ মে পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু, প্রথা অনুযায়ী, সব রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করার কথা ভোটের রেজাল্টের দিনই। ২০১১ সালে ঠিক সেই ছবিই দেখা গিয়েছিল। তখনও ভোটের ফল ঘোষণা হয়নি। কিন্তু, ট্রেন্ড দেখেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেখানে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করলেন না। এমনকী, নতুন সরকার গঠনের পরও প্রাক্তন শব্দটা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে জুড়তে পারছেন না। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বদলে গেল শুভেন্দুর বায়ো   
আজ ব্রিগেড মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী তিনি। গতকালই বিধানসভার পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয় শুভেন্দুকে। আর আজ ব্রিগেড মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। কিছুক্ষণ আগেও যখন শুভেন্দুর সোশ্যাল মিডিয়ার বায়োতে লেখা ছিল বিরোধী দলনেতা। আর এখন বায়োতে তিনি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী।

জঙ্গলমহলেই পড়েছে একের পর এক লাশ। এই এলাকা একটা সময়ে পুরোপুরিই সিপিএমের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই এলাকায় বহুদিন ধরেই সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ক্ষুদিরাম টুডু। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন প্রত্যেক বিধানসভা নির্বাচনেও। কিন্তু হেরে যেতেন। তারপরও তিনি তাঁর লড়াই ছাড়েননি। 

সমাজ গড়ার কারিগর তিনি, একের পর এক হারেও দাঁত কামড়ে লড়াই করেছেন, জঙ্গলমহলের সেই ক্ষুদিরাম টুডুকেই মন্ত্রী করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার বিজেপির
শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু

আজ, ব্রিগেডে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম টুডু! জঙ্গলমহলে আজ উৎসবের আমেজ। জঙ্গলমহলে ক্ষুদিরাম টুডু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুখ। বাঁকুড়ার রানিবাঁধ একেবারেই আদিবাসী অধ্যুষিত বিধানসভা এলাকা। এই জঙ্গলমহলে একসময়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে মাওবাদীরা। এই জঙ্গলমহলেই পড়েছে একের পর এক লাশ। এই এলাকা একটা সময়ে পুরোপুরিই সিপিএমের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই এলাকায় বহুদিন ধরেই সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন ক্ষুদিরাম টুডু। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন প্রত্যেক বিধানসভা নির্বাচনেও। কিন্তু হেরে যেতেন। তারপরও তিনি তাঁর লড়াই ছাড়েননি।

মূলত ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল (BJMPM) নামক সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং আদিবাসী সমাজের অধিকার ও সাঁওতালি ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। আদিবাসী সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। তিনি পেশায় একজন স্কুলশিক্ষকও। আদিবাসী মহলে সমাজ গড়ার কারিগর তিনি। সেই ক্ষুদিরাম টুডু আজ মঞ্চে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন। অর্থাৎ জঙ্গলমহলে বার্তা গেল, পিছিয়ে পড়া জনসমাজের কাছে বার্তা গেল, যে তাঁদের ওপরেও নজর রেখেছে বিজেপি। তাঁদের উন্নয়নের ওপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে। তাই আপাতত যে পাঁচ জন আজ মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ক্ষুদিরাম টুডু। এদিন ব্রিগেডে জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি হিসাবে অলচিকি ভাষাতেই শপথ নিলেন ক্ষুদিরাম।


মমতাকে ‘আনফলো’, মোদীকে 'ফলো' করা শুরু করল কলকাতা পুলিশ
20 

এবারের নির্বাচনে ক্ষুদিরামের বিপরীতে তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন তনুশ্রী হাঁসদা। ক্ষুদিরাম টুডু পেয়েছেন ১,৩১,১৪৫ ভোট। তিনি এই নির্বাচনে ৫২,২৬৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে এসে কিন্তু নিজেকে 'গ্ল্যামার' দুনিয়াতেই আটকে রাখেননি। তিনি তখন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। গ্ল্যামার ছেড়ে বেরিয়ে একেবারে আমপোশাকে, এক্কেবারেই পাশের বাড়ির 'দিদির' ভূমিকায় নেমে মাটি চষে বেরিয়েছিলেন।

ফ্যাশন জগৎ থেকে কীভাবে রাজনীতির আঙিনায় এলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল?
অগ্নিমিত্রা পাল


একটা সময়ে শো স্টপারের সঙ্গে র‌্যাম্পে হেঁটেছেন। তাঁর প্রিয় রঙ ছিল সাদা। তাঁর ডিজাইন করা পোশাকে সাদার ছোঁয়া থাকতই। তা সে ইন্ডিয়ান হোক কিংবা ওয়েস্টার্ন! সেই রঙে লাগল গেরুয়ার ছোঁয়া। রেড কার্পেট থেকে সোজা রাস্তায় তিনি। মিশেছেন মাটির সঙ্গে। দাঁত কামড়ে লড়াই করেছেন। ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল আজ রাজ্যের মন্ত্রী। শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পর যে পাঁচ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, তাঁদের এক জন অগ্নিমিত্রা পাল। তবে তিনি কোন দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 


২০১৯ সালের মার্চ মাসে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনীতিতে এসে কিন্তু নিজেকে ‘গ্ল্যামার’ দুনিয়াতেই আটকে রাখেননি। তিনি তখন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী। গ্ল্যামার ছেড়ে বেরিয়ে একেবারে আমপোশাকে, এক্কেবারেই পাশের বাড়ির ‘দিদির’ ভূমিকায় নেমে মাটি চষে বেরিয়েছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং ২০২৬ সালেও নিজের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হন।



যে মানুষটা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় ডিপ্লোমা করেছেন এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেছেন, তাঁকে এরপর থেকে দেখা যায় রাস্তাতেই। যে কোনও আন্দোলনে-প্রতিবাদে রাস্তায় ছিলেন তিনি। গ্ল্যামার দুনিয়ার যে মানুষটি ছিলেন নিতান্ত গ্রামের বাসিন্দাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, তিনি বারংবার পৌঁছে গিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামের নির্যাতনের শিকার যে কোনও তরুণীর বাড়ি। মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন বিচার আনতে। আজ অগ্নিমিত্রাকে মন্ত্রী করে তারই স্বীকৃতি দিল বিজেপি।

প্রসঙ্গত, এবারের ভোটে একাধিকবার উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী প্রচারে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তুলেছিল বিজেপি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও হয়। এবার বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস।

মতুয়া ভোট এককাট্টা করে ধরাশায়ী করেছেন তৃণমূলকে, নতুন সরকারে মন্ত্রিত্বের স্বাদ পেলেন অশোক কীর্তনিয়া
উচ্ছ্বসিত অশোক

জিতেছিলেন ২০২১ সালেও। জিতেছেন ছাব্বিশেও। মতুয়াগড়ে ফের ফুটিয়েছেন পদ্ম। এসআইআর ইস্যু উঠলেই বারবার ফিরে ফিরে আসে তাঁর নাম। তিনি বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক। তিনি এবার শপথ নিলেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী হিসাবে। প্রসঙ্গত, এসআইআরের সময় অশোক কীর্তনিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর চাপানউতোর হয়। কিন্তু মতুয়া ভোট ব্যাঙ্কে যে বিজেপির নজর শুরু থেকেই ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়েছে শান্তনু ঠাকুরের। এবার মতুয়াদের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা অশোক কীর্তনিয়াকে মন্ত্রী করা অবশ্যই যে মতুয়াদের জন্য একটা বড় প্রাপ্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  


প্রসঙ্গত, এবারের ভোটে একাধিকবার উত্তেজনার ছবি দেখা গিয়েছে অশোক কীর্তনিয়ার নির্বাচনী প্রচারে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তুলেছিল বিজেপি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোরও হয়। এবার বনগাঁ উত্তরে তৃণমূলের টিকিটে লড়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। সিপিএমের হয়ে লড়েছিলেন পীযূষকান্তি সাহা। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন অশোক কীর্তনিয়াই। তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩১৭ ভোট। তাঁর ভোট শেয়ার ৫৬.৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে তৃণমূলের বিশ্বজিৎ দাস পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৪৭ ভোট। তাঁর প্রাপ্ত ভোট শেয়ার ৩৭.২১ শতাংশ। অন্যদিকে সিপিএম পেয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৫৫৪ ভোট। 



এদিন ব্রিগেডে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই এক এক করে শপথ নেন ৫ মন্ত্রী। তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল। তখনই রাজ্যের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন অশোক কীর্তনিয়া। তবে এখনও বণ্টন হয়নি দফতর। 

মুখ্যমন্ত্রীর নাম বাছতে বিশেষ দেরী হয়নি বিজেপির। শুভেন্দু অধিকারীর নাম বেছে নিয়েছেন অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই আজ, শনিবার শপথ নিলেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে একাধিক মন্ত্রীরও শপথ গ্রহণও সম্পন্ন হল এদিন।

সঙ্ঘের ছোঁয়া, মহিলা মুখ, আদিবাসী-রাজবংশী-মতুয়ার রসায়নে তৈরি হচ্ছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা
মন্ত্রী হিসেবে কে কে শপথ নিলেন



বাংলায় তৈরি হচ্ছে নতুন সরকার। তৈরি হবে নতুন মন্ত্রিসভা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তবে মন্ত্রীদের নামও বিশেষ বিবেচনা করেই বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো একাধিক তাবড় নেতা উপস্থিত রয়েছেন। এদিন সেই বৃহত্তর মঞ্চে একাধিক মন্ত্রীও শপথ নিলেন।

দিলীপ ঘোষ
শুভেন্দু অধিকারীর পরই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই দিলীপ ঘোষ, যিনি বঙ্গ বিজেপির নতুন করে উত্থানের অন্যতম কাণ্ডারী বলেই মনে করা হয়। আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি, এহেন গ্রাফ হঠাৎ করেই থেমে গিয়েছিল একপ্রকার।


বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোদীর মঞ্চে দেখা যায় সেই দিলীপ ঘোষকে। ফিরিয়ে দেওয়া হয় পুরনো মাটি। খড়গপুর সদর থেকে নিজেকে প্রমাণ করে এবার দিলীপের স্থান হতে চলেছে বাংলার মন্ত্রিসভায়। এক্ষেত্রে সঙ্ঘ পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে দিলীপকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অগ্নিমিত্রা পাল
বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। সেই দিন শেষ। নতুন মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা মুখ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। তবে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হয়ে গেল মহিলা মন্ত্রীর নাম। শুভেন্দু ও দিলীপের পরই তৃতীয় নাম অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক।

একসময় ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বাংলার জনপ্রিয় মুখ ছিলেন অগ্নিমিত্রা। পরে বিজেপির হাত ধরেই রাজনৈতিক জীবন শুরু। নিজের কেন্দ্র থেকে বিধানসভা, মিটিং-মিছিল-প্রতিবাদে দিনে দিনে নিজের রাজনৈতিক-সত্ত্বাকে চিনিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এবার তিনি মন্ত্রী।

ক্ষুদিরাম টুডু
প্রথম দিন যে কজন মন্ত্রী শপথ নিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম টুডু। রাজ্য-রাজনীতিতে খুব পরিচিত মুখ নয়, দাপুটে নেতাও নয়। দিলীপ-অগ্নিমিত্রার পরই তাঁর নাম ঘোষণা হয়। গোটা দেশের তাবড় নেতাদের সামনে শপথ নিলেন আদিবাসী নেতা। শপথ নিলেন অলচিকি ভাষায়। জঙ্গলমহলের প্রতিনিধি, রানিবাঁধের বিধায়ককে পূর্ণমন্ত্রী করল বিজেপি। ক্ষুদিরামের শপথ যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অশোক কীর্তনিয়া
মন্ত্রিসভায় চমকের পর চমক। রানিবাঁধের পরই বনগাঁ উত্তর। মন্ত্রী হচ্ছেন অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। এবার সেই অশোকই শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসেবে। এর পিছনেও বিজেপির বিশেষ বিবেচনা আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তৃণমূল থেকে বিজেপি, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক সবার কাছেই বরাবর আলাদা গুরুত্ব রেখেছে। ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুরকে আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করে মতুয়াগড়ের মন পেয়েছে বিজেপি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রিসভায় সেই এলাকারই প্রতিনিধি অশোক।

নিশীথ প্রামাণিক
শুভেন্দু অধিকারীর মতোই নিশীথও তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা। তবে উত্থান উল্কাগতিতে। উত্তর গড় ধরে রাখতে নিশীথের উপর ভরসা রেখেছে তৃণমূল। ভরসা রেখেছেনও তিনি। তাই উত্তরের প্রতিনিধি হিসেবেই নিশীথকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হল? বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এ ক্ষেত্রে মর্যাদা দেওয়া হল রাজবংশী সমাজকেও। রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের জনপ্রিয়তা বিজেপির শক্তি বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। এর আগে অমিত শাহের ডেপুটি হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন তিনি। আর এবার রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, দক্ষিণে যেমন মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বরাবরের নজর ছিল বিজেপির, তেমনই উত্তরে রাজবংশী ভোট। বিগত কয়ের বছরে রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উত্তরে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির পথে অনেকটাই সহায়ক হয়েছে।

ছিলেন শাহের ডেপুটি, পুরনো অভিজ্ঞতার কাঁধে ভর করেই এবার শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় নিশীথ
বাংলার মন্ত্রী হলেন নিশীথ

আগে ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ডেপুটি ছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের। এবার বাংলায় বিজেপির সরকার তৈরি হতেই বড় দায়িত্ব সেই নিশীথ প্রামাণিকের কাঁধে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরপরই ৫ মন্ত্রী শপথ নেন। সেই তালিকাতেই রয়েছেন মাথাভাঙার বিধায়ক। যদিও এখনও দফতর বণ্টন হয়নি। অনেকেই বলছেন শীঘ্রই বড় কোনও দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।   

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, দক্ষিণে যেমন মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে বরাবরের নজর ছিল বিজেপির, তেমনই উত্তরে রাজবংশী ভোট। বিগত কয়ের বছরে রাজবংশী সমাজের মধ্যে নিশীথের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা উত্তরে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির পথে অনেকটাই সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ বলছেন, তাঁরই পুরষ্কার পেলেন নিশীথ। কেউ আবার বলেছেন, অতীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে তরুণ বিধায়কের। সে ক্ষেত্রে রাজ্যপাট সামলানোর ক্ষেত্রেও তা কাজে লাগতে পারে। 



যদিও নিশীথের রাজনীতির শুরুটা তৃণমূলের হাত ধরে। পরে ফুল বদল। ২০১৯ সালে বিজেপির টিকিটে সাংসদ হন কোচবিহারের এই তরুণ। তারপর শুধুই উত্থান। এবার মাথাভাঙায় নিশীথ পান ১ লক্ষ ৪৩ হাজারের বেশি ভোট। ভোট শেয়ার ৫৯.২৭ শতাংশ। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী পান ৮৬ হাজারের কিছু বেশি ভোট। আর বামেদের খাতায় মাত্র ৪ হাজার ৩০ ভোট। 

 ১৯৬৭ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সেই মেদিনপুর থেকেই এবার বাংলার সিংহাসনে শুভেন্দু। মেদিনীপুরের মেঠোপথ থেকে উঠে আসা সেই ‘বুবাই’ জাতীয় রাজনীতির শিরোনামে।

 মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ, কতটা হাঁটলে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী


মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র থেকে বঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু, শুভেন্দু অধিকারীর যাত্রাপথ যেন এক মহাকাব্যিক বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। ব্রিগেডের জনজোয়ারের মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথও নিয়ে ফেলেছেন। ১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর কাঁথির করকুলিতে জন্ম। পরিবার থেকে পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবদের কাছে ছোট থেকেই বুবাই নামে পরিচিত। বাবা বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারীর আদর্শে বড় হওয়া শুভেন্দুর শিক্ষা থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি মেদিনীপুরেই। ১৯৮৭ সালে কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে কমার্সে ভর্তি হাওয়ার পরেই তাঁর ছাত্র রাজনীতির অভিষেক ঘটে। সেই সময়ে কলেজে কলেজে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রবল দাপট। কিন্তু প্রবল বাম ঝড়ের মাঝে দাঁড়িয়েও লড়াকু শুভেন্দু দু-বার কলেজের জেনারেল সেক্রেটারি (GS) নির্বাচিত হন। রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশোনাও পুরোদমে চালিয়ে গিয়েছেন। ভাল ছাত্র হিসাবে সুনাম ছিল। তাঁর প্রখর স্মৃতি শক্তির কথা এখনও ঘোরে বন্ধুদের মুখে মুখে। ২০১১ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন।

গ্রামের বুবাই আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী  
শুভেন্দুর উত্থানের দ্বিতীয় সোপান ছিল অবশ্যই পুরসভা ও সমবায় আন্দোলন। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর হয়েই তাঁর সংসদীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর কাঁথি কার্ড ব্যাঙ্ক ও কাঁথি কো-অপারেটিভ-সহ একাধিক সমবায় ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদে থেকে জনভিত্তি মজবুত করেন তিনি। ২০০৯ সালে কিছুদিনের জন্য কাঁথি পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলান শুভেন্দু। যদিও ২০০১ সালের বিধানসভা ভোটে মুগবেড়িয়া কেন্দ্রে তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই হার তাঁকে দমাতে পারেনি।



'প্রায় মা হতে চলেছিলাম...', অস্ত্রোপচারের আগে আচমকা পোস্ট অন্বেষার, অভিনেত্রীর সঙ্গে কী ঘটল?



২০০৬ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তাঁর জয়যাত্রা শুরু হয়। ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে তিনি তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে তাঁর রাজনীতির প্রধান ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৬—টানা তিনবার তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে তিনি কেবল নন্দীগ্রামেই নয়, কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়লাভ করে নতুন ইতিহাস তৈরি করেন। বিশেষত, ২০২১ এবং ২০২৬ সালে পরপর দু’বার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে যেভাবে তিনি পরাজিত করেছেন তাতে তিনি নিজের রাজনৈতিক উচ্চতাকে যে এক অন্য শিখরে নিয়ে গিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

মেদিনীপুরের মেঠোপথ থেকে উঠে আসা সেই ‘বুবাই’ আজ কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে লিখে ফেলেছেন বাংলার নতুন অধ্যায়। শুভেন্দুর হাত ধরেই দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী পেল পূর্ব মেদিনীপুর। ১৯৬৭ সালে অবিভক্ত মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র অজয় মুখার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সেই মেদিনপুর থেকেই এবার বাংলার সিংহাসনে শুভেন্দু। 
শিশির অধিকারী বললেন, "১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী শুভেন্দু অধিকারীকে হেলিকপ্টারে তুলে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় বরকত সাহেব তিন বার ওকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছিলেন, কাছে রেখে পড়াশোনা করাবেন, বড় করবেন। দুই ভাই... বড় ভাই একটু শ্যামলা। আর ও একটু ফর্সা। কিন্তু তার মা তো তাকে কখনও ছাড়বে না। মা কখনও বাড়ি থেকে ছাড়বে না।"


 'ও একটু ফর্সা, ওকে হেলিকপ্টারে তুলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী', আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কী বললেন শিশির?
শিশির অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারী

বাংলায় নবম মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শ্যামাপ্রসাদের বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী তিনি। আজ, আবেগে ভাসল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড! আর খুশির আবহে কার্যত উৎসবের মেজাজ পূর্ব মেদিনীপুরে। জেলা জুড়ে সাজো সাজো রব। ছেলে শপথ নিলেন, বাড়ির লিভিং রুমে বসে সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন বাবা শিশির অধিকারী। টিভিতে দেখলেন গোটা পর্ব। আর আবেগে ভাসলেন। তারপরই সাংবাদিকরা ঘিরে ধরলেন তাঁকে। হাজারও প্রশ্ন। সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন শিশির। তুলে ধরলেন শুভেন্দুর ছোটবেলার বহু অজানা কথাও।

শিশির অধিকারী বললেন, “১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী শুভেন্দু অধিকারীকে হেলিকপ্টারে তুলে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় বরকত সাহেব তিন বার ওকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছিলেন, কাছে রেখে পড়াশোনা করাবেন, বড় করবেন। দুই ভাই… বড় ভাই একটু শ্যামলা। আর ও একটু ফর্সা। কিন্তু তার মা তো তাকে কখনও ছাড়বে না। মা কখনও বাড়ি থেকে ছাড়বে না।”


শুভেন্দু যে ছোট থেকেই অধিকারী পরিবারের ধ্যানধারণা নিয়ে বড় হয়েছেন, সেটা আজ পর্যন্তও বহন করে নিয়ে চলেছেন বলে জানালেন বাবা। শিশির অধিকারী বলেন, ” আমাদের পরিবারের যে ধরন, সেটা ওর মধ্যে রয়েছে। কতটা এগোতে হবে, কতটা পিছোতে হবে, সেটা ও জানে।”

কিন্তু ছেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কেন ব্রিগেডে গেলেন না? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “আমি যেতেই পারতাম। কিন্তু এই ভিড়ের মধ্যে কোথায় কী হবে, কে আবার আমাকে টার্গেট করে নেবে, আমি টিভিতেই দেখছি।” তাঁর মতে, বাংলাকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অনেক শ্রম দিতে হবে, সব থেকে বেশি প্রয়োজন দিল্লির শুভেচ্ছা।

 বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার পরিচালনা করবেন মহাকরণ থেকে। কিন্তু, মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বিধানসভায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম ফলকও বসেছে। তবে আগামী সপ্তাহেই নবান্নে যাচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতার ছেড়ে যাওয়া নবান্নেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুভেন্দুর, বড় সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা
শুক্রবার নবান্নে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা


প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নবান্ন থেকে সরকার পরিচালনা করবেন না তিনি। মহাকরণে বসবেন। কিন্তু, যতদিন মহাকরণের সংস্কারের কাজ শেষ না হচ্ছে, ততদিন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার পরিচালনা করবেন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘর থেকে। তবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে মমতার ছেড়ে যাওয়া নবান্নেই। আগামী শুক্রবার নবান্নে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখানে ওইদিন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

বুধ ও বৃহস্পতিবার বিধায়কদের শপথ গ্রহণ-



এদিন ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি ছাড়াও শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। তবে কে কোন দফতরের মন্ত্রী হবেন, এদিন তা স্পষ্ট হয়নি। বাকি মন্ত্রীরা পরে শপথ নেবেন। আর নবনির্বাচিত বিধায়করা আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন। তার আগে মঙ্গলবার রাজ্যপাল আরএন রবি প্রোটেম স্পিকার হিসেবে তাপস রায়কে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। পরের ২ দিন তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। তাপসকে সাহায্য করবেন শঙ্কর ঘোষ ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

নবান্নে যাবেন শুভেন্দু-

বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করবেন মহাকরণ থেকে। কিন্তু, মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বিধানসভায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম ফলকও বসেছে। তবে আগামী সপ্তাহেই নবান্নে যাচ্ছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নবান্ন সভাঘরে প্রথম বড় বৈঠক করবেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, রাজ্যের ডিজিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) থেকে শুরু করে সব জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিকেল ৫টায় এই বৈঠক হবে।

এরপর শুক্রবার নবান্নেই বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের সম্ভাবনা। শুক্রবার নবান্নে যাবেন শুভেন্দু। নবান্নেই বসবে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রাজ্যে এতদিন চালু করেননি সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারতকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। শুক্রবার সেই নিয়ে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেবে বলে সূত্রের খবর। আর একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

 ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রশংসা করে বিভিন্ন মহল। এবার বাংলায় নতুন সরকার গঠন হতেই বড় দায়িত্ব পেলেন সুব্রত গুপ্ত। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগ করলেন রাজ্যপাল আরএন রবি।


ছাব্বিশের নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বাংলায় ভোট-পর্ব অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বাংলায় মাটি কামড়ে পড়েছিলেন সুব্রত গুপ্ত। এবার বাংলায় রক্তপাতহীন ভোট হয়েছে। ভোট-পর্বে কারও মৃত্যু হয়নি। ভোট লুঠের কোনও অভিযোগ উঠেনি। ভোটাররা এর জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট-পর্ব শেষ করার পিছনে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল ও বিশেষ পর্যবেক্ষকেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।



 'বাম ও অতিবামরাও আসতে পারেন...আমার কোনও ইগো নেই', বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা হাত ধরতে চাইতেই কী বলল লাল পার্টি?

ভোট-পর্বের পর সুব্রত গুপ্তর সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর-

ভোট-পর্বের পর শুভেন্দু অধিকারী দেখা করেছিলেন সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে। জানা গিয়েছে, সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। তখন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা হওয়ার প্রস্তাব দেন। গত ৭ মে নির্বাচন কমিশন সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তারপরই এদিন রাজ্যপালের আদেশানুসারে সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

ভোটের প্রচারের সময় নাম না করে একাধিকবার সুব্রত গুপ্তকে নিশানা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন আবার ব্রিগেডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত গুপ্ত। টিভি৯ বাংলাকে ব্রিগেডে এসে বলেছিলেন, “এটা গণতন্ত্রের অন্যতম ধাপ। এখানে আসতে পেরে ভালো লাগছে।” সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির সদ্য জয়ী বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “আগের সরকার তাঁকে কাজে লাগায়নি।”

​সাগরে নবনির্বাচিত বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর ব্লক জুড়ে বিজয় উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে এই উৎসব যেন সাধারণ মানুষের জন্য বিড়ম্বনার কারণ না হয়, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন সাগর ব্লক বিজেপির মুখপাত্র অরুনাভ দাস।


​তিনি সাফ জানান, জয় উদ্‌যাপনের নামে কোনোভাবেই জনজীবন বিপর্যস্ত করা যাবে না। মানুষের আনন্দ যাতে নিরানন্দে পরিণত না হয়, সেদিকে কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। 


বিশেষ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাত ১০টার মধ্যেই সমস্ত বিজয় সম্মেলন ও অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। মাইকের ব্যবহার এবং জমায়েতের ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের এই শৃঙ্খলাপরায়ণ মনোভাবকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনীতির কারবারিরা বলেন, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরের মাঠে’ জিতেছেন। দলের এই জয়ের তাঁর বড় অবদান রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকবছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শেষপর্যন্ত শুভেন্দুকে নিয়ে জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।

অধিকারীর হাতেই অধিকারের রাশ, শুভেন্দুতেই আস্থা পদ্মফুলের
মুখ্যমন্ত্রী পদে শনিবার শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী

সব জল্পনার অবসান। কাঁথির শান্তিকুঞ্জের মেজো ছেলেই বসছেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামিকাল ব্রিগেড ময়দানে শপথ নেবেন শুভেন্দু।

বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে আসেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। এদিন বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে বৈঠক শুরুর আগে বিজেপির কোনও বিধায়ক-নেতাই মুখ খোলেননি। ফলে জল্পনা ক্রমশ বাড়ে। নানা নাম সামনে আসে।



একাধিক নাম নিয়ে আলোচনা হলেও শুভেন্দু যে দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই রাজনীতির কারবারিদের। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনীতির কারবারিরা বলেন, শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরের মাঠে’ জিতেছেন। দলের এই জয়ের তাঁর বড় অবদান রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে বেশ কয়েকবছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। শেষপর্যন্ত শুভেন্দুকে নিয়ে জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল। বাংলায় শাসকদল হতে চলেছে বিজেপি। এদিন সেই দলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু। আর শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা স্বাভাবিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হবেন।

কী বললেন অমিত শাহ?

শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করে অমিত শাহ বলেন, “আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ছিল। দ্বিতীয় কোনও নাম প্রস্তাব করার কথা বলা হয়েছিল। সেজন্য সময়ও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, দ্বিতীয় কোনও নাম কেউ প্রস্তাব করেননি। তাই, শুভেন্দুকেই পরিষদীয় দলনেতা করা হল।”

শনিবার শপথ গ্রহণ-

শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

 ব্রিগেড গ্রাউন্ডকে নিরাপত্তার খাতিরে মোট ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি করে ব্লক। প্রতিটি ব্লকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন একজন করে আইপিএস (IPS) পদমর্যাদার অফিসার। নিরাপত্তার এই সামগ্রিক ব্যবস্থার তদারকি করবেন স্বয়ং কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

নিরাপত্তার চাদরে ব্রিগেড, মোতায়েন আইপিএস অফিসার ও কেন্দ্রীয় বাহিনী, নজরদারিতে ড্রোন
ব্রিগেডে জোর প্রস্তুতি


কলকাতা: ব্রিগেডে আয়োজিত মেগা অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। শপথ গ্রহণ ও বিজয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে গোটা ময়দান চত্বরে। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ব্রিগেড গ্রাউন্ডকে নিরাপত্তার খাতিরে মোট ৩৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। কয়েকটি সেক্টর নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি করে ব্লক। প্রতিটি ব্লকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন একজন করে আইপিএস (IPS) পদমর্যাদার অফিসার। নিরাপত্তার এই সামগ্রিক ব্যবস্থার তদারকি করবেন স্বয়ং কলকাতা পুলিশের কমিশনার।


অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনের দিকের ব্লকগুলি মূলত ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত থাকছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ৪০ জন ভিভিআইপি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এবং ব্রিগেডের বাইরে ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হবে। এছাড়া মাঠের চারপাশের বহুতল ভবনগুলির ছাদে মোতায়েন থাকবেন পুলিশ কর্মীরা।



অনুষ্ঠানে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে কড়া চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। আমন্ত্রিত অতিথি হোক বা সাধারণ দর্শক—নিরাপত্তা তল্লাশি সবার জন্য বাধ্যতামূলক। পুলিশ সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মাঠে কোনোভাবেই ছাতা, ব্যাগ বা জলের বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। কেউ এই ধরনের সামগ্রী নিয়ে এলে তাঁকে গেট থেকেই ফেরত পাঠানো হবে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষকে এই সামগ্রীগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুরো মাঠ এবং তার সংলগ্ন এলাকা বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে রয়েছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে শহরজুড়ে।
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার এই প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়া চলছে। বকেয়া বরাদ্দের পাশাপাশি, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে রাজ্যের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে

বড় খবর! শুভেন্দু শপথ নেওয়ার আগেই কোটি কোটি বকেয়া টাকা পাওয়া শুরু
অমিত শাহ ও শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী

 নতুন সরকার গঠনের পরেই বকেয়া টাকা পাচ্ছ বাংলা। জল জীবন মিশন প্রকল্পের ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে বিজেপির নতুন সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের পরেই রাজ্যের কোষাগারে ঢুকবে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, গত ২ বছর ধরে জল জীবন মিশনের টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। কিন্তু নতুন সরকার আসতেই কোষাগারের মুখ খুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।


জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের সচিব ভি এল কান্থা রাও এর সঙ্গে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই কেন্দ্র থেকে রাজ্যের জন্য বড় অঙ্কের বকেয়া বরাদ্দ মঞ্জুর করা হয়েছে।জলজীবন মিশনের অধীনে রাজ্যের জন্য প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার বকেয়া বরাদ্দ অনুমোদন করেছে কেন্দ্র।


বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার এই প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের দ্রুত চুক্তি স্বাক্ষর করার প্রক্রিয়া চলছে। বকেয়া বরাদ্দের পাশাপাশি, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে রাজ্যের বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছ। মূলত, নতুন করে সরকার গঠন ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হতেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।

সরকারের মতে, সময়মতো লিকুইড ফান্ড বা আর্থিক সহায়তা পেলে ব্যবসাগুলি কর্মসংস্থান বজায় রাখতে পারবে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া এই অতিরিক্ত ঋণ ভারতীয় ব্যবসা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।


 ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেবে SBI, কারা লোন নিতে পারবেন?
ফাইল চিত্র।

চারিদিকে যুদ্ধের হাওয়া। তার মাঝেই বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (State Bank of India)। ভারতের বৃহত্তম সরকারি ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবার প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কারা এই ঋণ পাবেন?

কেন্দ্রীয় সরকারের ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (Emergency Credit Line Guarantee Scheme)-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসবিআই (SBI)। এই বিষয়টি নিয়ে এসবিআইয়ের চেয়ারম্যান সি.এস শেট্টি জানিয়েছেন, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এই প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু হয়ে যাবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই প্রকল্প সবার জন্য উন্মুক্ত এবং এতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।



মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিকে সহজে ঋণ দিতে বিভিন্ন এমএসএমই (MSME) সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এসবিআই (SBI)। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সি.এস শেট্টি বলেছেন, এই স্কিমের প্রযুক্তিগত ও প্রক্রিয়াগত সমস্ত জটিলতা খুব শীঘ্রই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। শুধুমাত্র SBI-ই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৭০,০০০ কোটি থেকে ৮০,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারে।

২.৫৫ লক্ষ কোটি পর্যন্ত ঋণের সুবিধা-
গত বুধবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ECLGS 5.0 অনুমোদন করেছে। এমএসএমই (MSME) এবং বিমান পরিবহণ খাতে আর্থিক স্বস্তি দিতেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের মাধ্যমে যোগ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি মাপের ব্যবসাগুলি প্রায় ২.৫৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ পেতে পারবে। এর মধ্যে বিমান সংস্থাগুলির জন্য আলাদাভাবে ৫,০০০ কোটি টাকার সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সঙ্কটে ভোগা এয়ারলাইন সংস্থাগুলি কিছুটা স্বস্তি পায়।

এয়ারলাইন সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ সুবিধা-
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় MSME সংস্থাগুলি মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ব্যবহৃত সর্বোচ্চ ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ২০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণ পেতে পারবে। MSME-র জন্য ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, বিমান সংস্থাগুলি তাদের সম্পূর্ণ ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সমান পরিমাণ ঋণ পেতে পারে, যার সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে প্রতি ঋণগ্রহীতা পিছু ১,৫০০ কোটি টাকা। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

কী কী শর্ত-
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSME) ক্ষেত্রের জন্য ঋণের মেয়াদ হবে ৫ বছর।
প্রথম এক বছর কিস্তি শোধে ছাড় মিলবে।
বিমান সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ ৭ বছর, যার মধ্যে প্রথম ২ বছর থাকবে মোরাটোরিয়াম সুবিধা।
সরকার জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের প্রভাব যেসব খাতে পড়েনি—যেমন শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, উদ্যান পালন, বিদ্যুৎ এবং চিনি শিল্প—তাদের এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতেই এই উদ্যোগ-
ইমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (Emergency Credit Line Guarantee Scheme) 5.0-এর মূল লক্ষ্য হল পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং ইরান সঙ্কটের কারণে তৈরি হওয়া আর্থিক সমস্যার মোকাবিলায় ব্যবসাগুলিকে সহায়তা করা। এমএসএমই (MSME) এবং এয়ারলাইন সেক্টরকে অতিরিক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল জোগান দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, সময়মতো লিকুইড ফান্ড বা আর্থিক সহায়তা পেলে ব্যবসাগুলি কর্মসংস্থান বজায় রাখতে পারবে, সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকবে এবং উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া এই অতিরিক্ত ঋণ ভারতীয় ব্যবসা ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

এসবিআই রিসার্চ (SBI Research)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ECLGS 5.0 প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১.১ কোটি MSME অ্যাকাউন্ট উপকৃত হতে পারে, যা মোট MSME পোর্টফোলিওর প্রায় ৪৫ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রত্যেক অ্যাকাউন্টে গড়ে ২ লক্ষ থেকে ২.৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ঋণ পেতে পারে

পরিবারতন্ত্র নিয়ে আক্রমণ করতে গিয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম টেনে এনেছেন রামায়ণ ও মহাভারতের প্রসঙ্গ। দুই মহাকাব্যের তুলনা টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অতীতেও পরিবারতন্ত্রের কারণে বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে। মমতাকে দেওয়া তাঁর এই খোঁচা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

'চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না...', এবার মমতাকে ধৃতরাষ্ট্র বলে খোঁচা ফিরহাদের মেয়ের
প্রিয়দর্শিনী হাকিম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়




 দলের ‘বিপর্যয়ে’র সময়ে তৃণমূলের একের পর এক নেতার তোপের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কোচবিহারের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, মালদহের কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী সহ একাধিক নেতা অভিষেকের ‘কর্পোরেট’ স্টাইল ও আইপ্যাক নির্ভরতার সমালোচনা করে সরাসরি তোপ দেগেছেন। তা নিয়ে অবশ্য তাঁদের কপালে নেমে এসেছে শাস্তির খাড়া। এবার মুখ খুললেন ফিরহাদ হাকিমের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি মহাকাব্যের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতাকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’,
অভিষেককে ‘দুর্যোধন’ বলে খোঁচা দিলেন। লিখলেন, “চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না। কান দিয়ে দেখো না।” দুই মহাকাব্যের তুলনা টেনে মমতাকে খোঁচা দিলেন পরিবারতন্ত্র নিয়ে।



প্রিয়দর্শিনীর ইঙ্গিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অতিরিক্ত দুর্বল, আর সেই কারণেই আজ দলের এই বেহাল দশা। এখানেই শেষ নয়, তিনি নেত্রীকে বিঁধে বলেন, মমতা এখন অন্যের কথায় ওঠেন বসেন। দলের দীর্ঘদিনের সেনাপতিদের চেয়েও নবীন প্রজন্মের কথাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন


চাবি দিয়ে তালা খুলে TMC পার্টি অফিসে ঢুকে পড়লেন লোকজন, ঘরের ভিতর থেকে যা পাওয়া গেল ভাবনার বাইরে


পরিবারতন্ত্র নিয়ে আক্রমণ করতে গিয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম টেনে এনেছেন রামায়ণ ও মহাভারতের প্রসঙ্গ। দুই মহাকাব্যের তুলনা টেনে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অতীতেও পরিবারতন্ত্রের কারণে বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে। মমতাকে দেওয়া তাঁর এই খোঁচা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের অন্দরে ববি হাকিম যে কোনওদিনও অভিষেক ঘনিষ্ঠ ছিলেন না, তা রাজনৈতিক মহলে ওপেন সিক্রেট। তবে সম্প্রতি সংঘাত চরমে পৌঁছয় বয়সের সীমারেখা নিয়ে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দলে ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ এবং বয়সের উর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়ার সওয়াল করেছিলেন, তখন সেই ফতোয়ার বিরুদ্ধে সবথেকে সোচ্চার ছিলেন ববি হাকিমই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ববি হাকিমের মেয়ের এই ‘বিদ্রোহ’, দলের খারাপ সময়ে সংগঠনের দুর্বলতাকেই প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আরও একটি বিষয় উঠে আসছে। আগামী দিনে নতুন কোনও মেরুকরণের ইঙ্গিতও হতে পারে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।


নিউটাউনে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন হলে বঙ্গবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতা রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বাংলার হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এদিন তাঁর কথায়, বারবার উঠে এল একটাই শব্দবন্ধ, 'আমরা'। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই 'আমি' নয়, 'আমরা'তেই জোর দিলেন শুভেন্দু।


'আমি নই, আমরা'য় বিশ্বাসী শুভেন্দু, শপথের আগে করলেন কী কী শপথ?
শুভেন্দু অধিকারী


জল্পনা ছিলই। সেটাই বাস্তবায়িত হল। শুভেন্দুই মুখ্য়মন্ত্রী। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাত পোহালেই তাঁর শপথগ্রহণ। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকার শপথ নেবে।


তার আগে নিউটাউনে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন হলে বঙ্গবাসীর উদ্দেশে বক্তৃতা রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বাংলার হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এদিন তাঁর কথায়, বারবার উঠে এল একটাই শব্দবন্ধ, ‘আমরা’। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’তেই জোর দিলেন শুভেন্দু। এই জয়ের কৃতিত্ব ‘দলের জন্য প্রাণপাত করা প্রত্যেক বিজেপি কর্মী’কে দিলেন শুভেন্দু। পাশাপাশি তাঁর কথায় বারবার উঠে এল, অমিত শাহ, শমীক ভট্টাচার্য, বাংলার বিচারধারা সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “আগামী বিধায়ক দল বিচারধারা সঙ্গে যুক্ত লোক সংকল্পপত্রের প্রত্যেকটা সংকল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে। আমাদের মন্ত্র সবকা সাথ, সবকা বিকাশ।” বিশ্লেষকদের কথায়, শপথ নেওয়ার আগে শুভেন্দু আমিতে নয়, আমরা শব্দে বিশ্বাসী।



মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। তিনি যেভাবে পর পর দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেছেন, সে কৃতিত্ব এদিন শুভেন্দুকেই দিলেন শাহ।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই শুভেন্দু কী কী করবেন, সেটাও এদিন স্পষ্ট করেন। তিনি প্রথমেই বলে দেন, “বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যারা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত বিচাবক কমিশন গঠন করা হবে। যারা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।” সন্দেশখালি, আরজি করকাণ্ডের তদন্তে কমিশন বসবে বলেও তিনি জানিয়ে দেন।

উত্তরবঙ্গেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। মালদা ও দুই দিনাজপুরেও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।


আজ বিকেলেই 'বদলের হাওয়া' বাংলায়, হলুদ অ্যালার্ট জারি
জারি হলুদ সতর্কতা


 বাংলায় আজ সত্যিই বদলের হাওয়া। শপথ নিচ্ছেন নবগঠিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর এদিনই ফের ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস বঙ্গে। সকাল থেকে পরিষ্কার আকাশ, রোদ ঝলমলে আবহাওয়া থাকলেও বিকেলের পর থেকেই হাওয়া বদলের সম্ভাবনা। ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হবে কলকাতা সহ একাধিক জেলায়। জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।


ঝড়বৃষ্টির দাপটে বৈশাখের শেষেও স্বাভাবিকের নীচেই রইল শহরের তাপমাত্রা। এখনও ছুঁল না ৪০ ডিগ্রি। শুক্রবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। এদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদও কমেছে। শুক্রবার রাতে স্বাভাবিকের থেকে ৩.২ ডিগ্রি নীচে নেমে যায় শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, যা ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।



আজ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া।

উত্তরবঙ্গেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। মালদা ও দুই দিনাজপুরেও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তবে রবিবার থেকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে।

 শুক্রবার দিনভর নাটকীয়তার পর জানা গিয়েছিল যে অবশেষে ১১৮ বিধায়কের সই সংগ্রহ করতে পেরেছেন বিজয়। কংগ্রেস ছাড়াও সিপিআই, সিপিআই(এম) ও ভিসিকে দল তাঁর টিভিকে সরকারকে সমর্থন জানাচ্ছে। ইন্ডিয়ন ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML)-ও সমর্থন জানায়।


রাজ্যপাল রাজি নন, আজও মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিতে পারছেন না বিজয়!
বিজয়ের শপথ গ্রহণ নিয়ে জট।

ধরি ধরি করেও ধরা হচ্ছে না! শুক্রবার বিকেলেই শোনা গিয়েছিল, জোট নিয়ে জট কেটেছে। ১১৮ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ছেন বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তিনি। তবে শেষ মুহূর্তে ফের উঠল প্রশ্ন। সত্যিই বিজয়ের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থন আছে তো? অনিশ্চিত সরকার গঠন। আজ বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানও হচ্ছে না।


ম্যাজিক ফিগারের অঙ্কের গেরোতেই বারবার আটকা পড়ছেন বিজয়। দুই বছর আগে দল গড়ে, এবারের প্রথম নির্বাচনেই যে বিপুল জনসমর্থন পেয়েছেন, তা অকল্পনীয়। ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জয়ী হয়েছে বিজয়ের দল। তবে সরকার গড়ার জন্য ম্যাজিক ফিগার হল ১১৮। এই ১০ আসনের গেরোতেই যাবতীয় সমস্যা।


চাবি দিয়ে তালা খুলে TMC পার্টি অফিসে ঢুকে পড়লেন লোকজন, ঘরের ভিতর থেকে যা পাওয়া গেল ভাবনার বাইরে
20 
শুক্রবার দিনভর নাটকীয়তার পর জানা গিয়েছিল যে অবশেষে ১১৮ বিধায়কের সই সংগ্রহ করতে পেরেছেন বিজয়। কংগ্রেস ছাড়াও সিপিআই, সিপিআই(এম) ও ভিসিকে দল তাঁর টিভিকে সরকারকে সমর্থন জানাচ্ছে। ইন্ডিয়ন ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML)-ও সমর্থন জানায়। এই দাবি অনুযায়ীই যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয় বিজয়ের সরকার গঠন ও মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার।

তবে শেষ মুহূর্তে সংশয় তৈরি হয় ভিসিকে দলকে নিয়ে। তাদের সমর্থনের চিঠি এখনও মেলেনি। ফলে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারও নারাজ বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ পাঠ করাতে।

লোকভবন সূত্রে খবর, শুক্রবার বিকেলে বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থনের স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন। তবে রাজ্যপাল এখনও তাঁর অবস্থানে অনড়। ১১৮ বিধায়কের সই-ই চাই তাঁর। এদিকে, আইইউএমএল, যারা বিকেলেই টিভিকে-কে সমর্থনের কথা জানিয়েছিল, তারা জোট সমর্থনে অস্বীকার করে এবং জানায় যে তারা ডিএমকে-র সঙ্গেই থাকবেন।

বিজয় যখন শপথ নিতে পারছেন না, সেই সুযোগের ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে অন্য দল। টিটিভি দিনাকরণের এএমএমকে (AMMK) রাজ্যপালকে চিঠি লিখে জানিয়েছে, এআইএডিএমকে-কে সরকার গঠন করতে দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তাই-ই দেখার।

 ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতির পর তিনি সাম্বায় ১৬৮ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের দায়িত্বে ছিলেন। আর্মি হেডকোয়ার্টারে ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর পদে ছিলেন। এরপরে তাঁকে প্রোমোশন দিয়ে ইস্টার্ন কম্যান্ডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স্টাফ (অপারেশন) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ঘোষণা করল কেন্দ্র, কে এই লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি?
ফাইল চিত্র।
দেশ পেল নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ। কেন্দ্রের তরফে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণির নাম পরবর্তী চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসাবে ঘোষণা করা হল। লেফটেন্যান্ট জেনারেল অনিল চৌহানের জায়গায় দায়িত্ব নেবেন তিনি।


আগামী ৩০ মে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ পদে মেয়াদ শেষ হচ্ছে জেনারেল অনিল চৌহানের। তার আগেই পরবর্তী সিডিএসের নাম ঘোষণা করল কেন্দ্র। এনএস রাজা সুব্রমণি ভারত সরকারের মিলিটারি বিষয়ক বিভাগের সেক্রেটারি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করবেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।


কে এই এনএস রাজা সুব্রমণি?
ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি থেকে এই উর্দির যাত্রা শুরু। ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে গারওয়াল রাইফেলসে তিনি নিয়োগ হন। এরপর তিনি ব্রিটেনের ব্রাকনেলে জয়েন্ট সার্ভিসেস কম্য়ান্ড স্টাফ কলেজে পড়েন। ভারতে ফিরে আসার পর তাঁকে মাউন্টেন ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পড়াশোনা-
দিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে এমফিল করেছেন। ৩৫ বছরের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি নানা যুদ্ধ-সংঘর্ষের সাক্ষী থেকেছেন। কাজাকিস্তানের আস্তানায় ভারতীয় দূতাবাসেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

মিলিটারিতে সাফল্য়-
কর্নেল র‌্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি। সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে অ্যাসিস্টেন্ট মিলিটারি সেক্রেটারি র দায়িত্বও সামলান। এরপর ইস্টার্ন কম্যান্ড হেডকোয়ার্টারে কর্নেল জেনারেল স্টাফ (অপারেশন) পদে ছিলেন। জম্মু-কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় রাইফেল সেক্টরের ডেপুটি কম্যান্ডার পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতির পর তিনি সাম্বায় ১৬৮ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের দায়িত্বে ছিলেন। আর্মি হেডকোয়ার্টারে ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের ডেপুটি ডিরেক্টর পদে ছিলেন। এরপরে তাঁকে প্রোমোশন দিয়ে ইস্টার্ন কম্যান্ডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স্টাফ (অপারেশন) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৩ সালে সুব্রমণি সেন্ট্রাল কম্যান্ডের জেনারেল অফিসার কম্যান্ডিং ইন চিফ দায়িত্ব নেন। এক বছর পরে তাঁকে আর্মি স্টাফের ৪৭তম ভাইস চিফ করা হয়। সক্রিয় মিলিটারি সার্ভিস থেকে অবসরের পর তাঁকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েটের মিলিটারি অ্যাডভাইসর পদে বসানো হয়েছিল। এবার তিনি তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ পদ, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফের দায়িত্ব পেলেন।

দীর্ঘ এই সেনাবাহিনীর কেরিয়ারে তিনি পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল, সেনা মেডেল ও বিশিষ্ট সেবা মেডেল পেয়েছেন।

  এএমএমকে-র অভিযোগ, বিজয়ের পার্টি নকল সমর্থন পত্র তৈরি করে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। এএমএমকে-র একজনই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, কামারাজ। টিভিকে গতকালই দাবি করেছিল যে কামারাজ তাদের দলকে সমর্থন করতে রাজি হয়েছে।

সরকার গড়তে বিধায়ক 'চুরি' করেছেন বিজয়? TVK-র বিরুদ্ধে দায়ের FIR
কামারাজের সই করার ভিডিয়ো ভাইরাল। বিজয় কি সরকার গড়তে পারবেন?
 তামিলনাড়ুর লড়াই আরও কঠিন হচ্ছে। বিজয়ের টিভিকে সরকার গঠন নিয়ে যেখানে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেখানেই এবার পুলিশে অভিযোগ জানাতে ছুটল আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজ়াগাম (AMMK)। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দলের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করেছে তারা। কী অভিযোগ?


এএমএমকে-র অভিযোগ, বিজয়ের পার্টি নকল সমর্থন পত্র তৈরি করে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। এএমএমকে-র একজনই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, কামারাজ। টিভিকে গতকালই দাবি করেছিল যে কামারাজ তাদের দলকে সমর্থন করতে রাজি হয়েছে। এরপরই এএমএমকে পাল্টা দাবি করে যে তারা টিভিকে-কে সমর্থন করার কথা বলেনি। ভুয়ো চিঠি জমা দিচ্ছে বিজয়ের দল।




একদিকে, এএমএমকে প্রধান টিটিভি দীনাকরণ যখন পুলিশে অভিযোগ জানাচ্ছে, তখন টিভিকে আবার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে কামারাজ বিজয়ের দলকে সমর্থনের চিঠিতে স্বাক্ষর করছেন। ভিডিয়োয় তাঁকে বলতেও শোনা যাচ্ছে যে দীনাকরণের সম্মতি নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



টিভিকে-র অভিযোগ, দীনাকরণ মিথ্যা খবর ও ভুয়ো তথ্য প্রচার করছেন। কামারাজের কাছ থেকে জোর করে সমর্থন আদায়ের অভিযোগও অস্বীকার করেছে তারা।

তবে ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে না পারায়, গতকাল সরকার গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়নি টিভিকে-কে। আজ বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণের কথা থাকলেও, তা হচ্ছে না। এই ফাঁকে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোট বেঁধে সরকার গড়ে কি না, তা-ও দেখার। সবমিলিয়ে টানটান উত্তেজনা এখন তামিলনাড়ুতে।
শুধু যে খাওয়া-দাওয়াই চলছে তাই নয়। লাগাতার উঠছে জয় শ্রী রাম স্লোগানও। অন্যদিকে নতুন আঙ্গিকে বাঙিলায়ানায় শপথ নিয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ব্রিগেডে মহাসমারোহে আয়োজন করা হয়েছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের।


 ঘুরছে হাতে হাতে, সকাল থেকে ব্রিগেডে ঝালমুড়ির চাহিদা তুঙ্গে
ব্রিগেডে ঝড় তুলছে ঝালমুড়ি


প্রচারে ঝড় তুলেছিল ঝালমুড়ি। এবার বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণের দিনও ব্রিগেডে হটকেক সেই ঝালমুড়িই। দিকে দিকে বিক্রি হচ্ছে ঝালমুড়ি। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ঢোকার মুখে মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে ঝালমুড়ি। ঝালমুড়ি খেয়ে সেলিব্রেশনে মুডে বিজেপি কর্মীরা। রীতিমতো উচ্ছ্বাসের সুরে এক পদ্ম সমর্থক বললেন, প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। এবার আমরাও খাচ্ছি। পাশে দাঁড়িয়ে আর একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে উদ্দেশ্যে করে রীতিমতো কটাক্ষের সুরে বললেন, ঝালমুড়ি খেয়ে খুব আনন্দ পাচ্ছি। ঝালে দিদি জ্বলুক। আমরা দিদির উদ্দেশ্যেও ঝালমুড়ি পাঠাতে চাই। 


শুধু যে খাওয়া-দাওয়াই চলছে তাই নয়। লাগাতার উঠছে জয় শ্রী রাম স্লোগানও। অন্যদিকে নতুন আঙ্গিকে বাঙিলায়ানায় শপথ নিয়ে রবীন্দ্র জয়ন্তীতে ব্রিগেডে মহাসমারোহে আয়োজন করা হয়েছে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের। শুধু ঝালমুড়ি নয় স্টলে স্টলে সীতাভোগ, মিহিদানারও ছড়াছড়ি। সব স্টলেই ভিড়। 




অন্যদিকে রবীন্দ্র জয়ন্তীতে রবি ঠাকুরকে স্মরণ করতে দেখা গিয়েছে খোদ রাজ্যপালকেও। লোকভবনের এক্সহ্যান্ডেল থেকে করা হয়েছে পোস্ট। লেখা হচ্ছে, ‘গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে সমগ্র জাতি আজ তাঁর চরণে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছে। তাঁর সেই কালজয়ী দূরদৃষ্টি আমাদের পাথেয় হয়ে থাকুক। এই নবজাগরণই প্রতিফলিত করবে ‘সোনার বাংলা’র প্রকৃত স্বরূপ এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর মহান লক্ষ্যে উপনীত হতে ভারতকে চালিত করবে।’ অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফেও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত প্রভাতফেরির আয়োজন করা হয়। 

 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে যেতেও বিজেপি সমর্থকরা তুলছেন জয় শ্রী রাম স্লোগান। মমতার বাড়ির সামনে ইতিউতি ঘুরতে দেখা যাচ্ছে কিছু পুলিশ কর্মীকে। কয়েক জন আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানেরও দেখা মিলল।


 শুভেন্দুর শপথে ব্রিগেডে জনসমুদ্র, খাঁ খাঁ করছে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট! মমতার বাড়ির সামনেই জয় শ্রী রাম স্লোগান
খাঁ খাঁ করছে গোটা এলাকা


 বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর শপথগ্রহণে ব্রিগেডে জনসমুদ্র। কিন্তু ঠিক উল্টো ছবি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। কার্যত খাঁ খাঁ করছে গোটা এলাকা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির রাস্তাজুড়ে শুধুই শূন্যতা। এরই মাঝে ব্রিগেডগামী বিজেপি সমর্থকদের ছোট বড় মিছিল চলছে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট জুড়ে।  


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে যেতে যেতেও বিজেপি সমর্থকরা তুলছেন জয় শ্রী রাম স্লোগান। মমতার বাড়ির সামনে ইতিউতি ঘুরতে দেখা যাচ্ছে কিছু পুলিশ কর্মীকে। কয়েক জন আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানেরও দেখা মিলল। এরইমধ্যে আবার তৃণমূল নেত্রীকে সমবেদনা জানাতে বাড়ির সামনে উপস্থিত কিছু তৃণমূল কর্মী। তাঁরা মমতার পাশে আছে এই বার্তা দিতে চান নেত্রীকে। বিজেপি সমর্থকদের জয় শ্রীরাম স্লোগান এর বদলে তাঁদের অনেককেই জয় বাংলা স্লোগানও তুলতে দেখা গেল।


অন্যদিকে বদলের বাংলায় ফের কলকাতায় এসে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রেসকোর্সে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড থেকে সোজা গেলেন ব্রিগেডের পথে। আজ সেখানেই শপথ নিতে চলেছেন বাংলায় বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বসেছে একেবারে চাঁদের হাট। ইতিমধ্যে ব্রিগেডের পথে রওনা হয়েছেন অমিত শাহ থেকে নিতিন নবীন। থাকছেন ২০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ইতিমধ্যেই মঞ্চে এক এক করে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপ মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। আসছেন বাংলার রাজ্যপালও। 

 মাখনলাল সরকার ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অন্যতম পুরনো কর্মী। ১৯৫২ সালে যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কাশ্মীরে ভারতীয় ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলনের আন্দোলন করছিলেন, তখন মাখনলাল সরকার তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং গ্রেফতার হয়েছিলেন।


৯৭ বছরের বৃদ্ধের লড়াই আজ সফল! বাংলায় বিজেপি শাসন প্রতিষ্ঠার দিন শিলিগুড়ির মাখনলালকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মোদীর
মাখনলাল সরকারকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রীর

শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্ন সফল হল আজ। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে বঙ্গে বিজেপি সরকার। ব্রিগেডে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ। শ্যামাপ্রসাদের সহযোগী মাখনলালকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী প্রণাম করলেন মাখনলাল সরকারকে। ৯৭ বছর বয়সের মাখনলালের চোখেমুখে পরিভাষায় বলে দিচ্ছিল আত্মতুষ্টির কথা!

মাখনলাল সরকার ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অন্যতম পুরনো কর্মী। ১৯৫২ সালে যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কাশ্মীরে ভারতীয় ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলনের আন্দোলন করছিলেন, তখন মাখনলাল সরকার তাঁর সঙ্গে ছিলেন এবং গ্রেফতার হয়েছিলেন। দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য। তখন সরকার কংগ্রেসের। বিচারালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারপতি বলেন ক্ষমা চাইতে। মাখনলাল বলে ক্ষমা চাইব না, কোনও অপরাধ করিনি। বিচারপতি এরপর নির্দেশ দেন, এনাকে ফার্স্ট ক্লাস টিকিট কেটে দিন, সঙ্গে ১০০ টাকা দিন।


তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির সবচেয়ে প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। আজ বঙ্গে যখন বিজেপি শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তখন তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

ব্রিগেডে এদিন মোদী-শাহর উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেড গ্রাউন্ড এদিন আক্ষরিক অর্থেই বাঙালিয়ানায় পরিপূর্ণ। মঞ্চে আছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি, শিবরাজ সিংহ চৌহান, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ, মিঠুন চক্রবর্তী-সহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।

গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে গেল একটি আস্ত বাইক গ্যারেজ। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের মুড়িগঙ্গা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত পাশে এই ঘটনাটি ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্যারেজটি স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মুকুলের বলে জানা গিয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল গভীর রাতে হঠাৎই শেখ মুকুলের গ্যারেজ থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি ছুটে এসে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। তাদের দীর্ঘক্ষণের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে গ্যারেজে থাকা সমস্ত সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাগর থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর আধিকারিকরা। তবে আগুনের উৎস নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্যারেজ মালিকের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তার কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ভোটপর্ব মিটে গেলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগর এলাকায় রাজনৈতিক হিংসার রেশ কাটছে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুক্রবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপি নেতা অরুণাভ দাস। সেখান থেকেই তিনি অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি 

অরুণাভ দাস স্পষ্ট জানান, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার খবর আসছে। দল কোনোভাবেই এই ধরনের বিশৃঙ্খলা বরখাস্ত করবে না। তিনি এলাকায় শান্তি বজায় রাখার কড়া বার্তা দেন।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দলকে কালিমালিপ্ত করতে তৃণমূল থেকে আসা কিছু কর্মী গেরুয়া রঙ ও ঝান্ডা ব্যবহার করে এই সমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে। এদের সঙ্গে দলের আদর্শের কোনো মিল নেই।পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের হিংসার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, প্রশাসন যেন আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ভোট-পরবর্তী এই হিংসা বন্ধ করে জনজীবন স্বাভাবিক করতে বিজেপি নেতৃত্ব প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা দাবি করেছে এবং কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।