May 2026

 কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের লুক নিয়ে নেটমাধ্যমে ধেয়ে আসা কটাক্ষের কড়া জবাব দিলেন মাধুরী দীক্ষিত। সহ-অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে বডি-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তৃপ্তি দিমরি এবং কঙ্গনা রানাওয়াতও।


গত দু’দশক ধরে ঐশ্বর্য রাই বচ্চন (Aishwarya Rai Bachchan) ছাড়া কান চলচ্চিত্র উৎসব ভাবতে পারেননা অনেকেই। অথচ, ২০২৬ সালের কান-এর রেড কার্পেটে হাঁটার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে এই বিশ্বসুন্দরীকে। তাঁর পোশাক থেকে শুরু করে বয়স ও ওজন, কোনও কিছুই বাদ যায়নি নিন্দুকদের চর্চা থেকে। তবে এবার এই অহেতুক বডি-শেমিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হলেন বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিত। ‘দেবদাস’-এর সহ-অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সোশাল মিডিয়ার বিষাক্ত সংস্কৃতিকে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে গলা মেলালেন তৃপ্তি দিমরি এবং কঙ্গনা রানাওয়াতও।


সোশাল মিডিয়ায় বর্তমানে কাউকে বিচার করার প্রবণতা যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, একটি সাক্ষাৎকারে সেই প্রসঙ্গেই কথা বলেন মাধুরী। তিনি জানান, আগেও মানুষের এমন মানসিকতা ছিল, কিন্তু তখন মন্তব্য করার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা ছিল না। এখন সোশাল মিডিয়ার দৌলতে যে কেউ যখন-তখন যা খুশি বলার প্ল্যাটফর্ম পেয়ে গিয়েছে। ঐশ্বর্যার হয়ে সওয়াল করে মাধুরী স্পষ্ট বলেন, “গত ২০ বছর ধরে কান-এর মঞ্চে সে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং গোটা দেশকে গর্বিত করেছে। তাকে কখনও শুধুমাত্র ওজনের কাঁটা, পোশাকের মাপ বা ক্যালেন্ডারের বয়সের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না।”



নিউ ইয়র্কের টাইমস স্ক্যোয়ারে বিলবোর্ডে 'মায়া সত্য ভ্রম', শমীক বললেন...
'এরপর মায়ের যদি কিছু হয়ে যায়...' নেটিজেনদের কাছে কাতর আর্জি সায়নীর দিদির
মাধুরীর মতে, ঐশ্বর্য শুধু বাইরে থেকে নয়, ভিতর থেকেও একজন অসম্ভব সুন্দর মানুষ। এই ধরনের কদর্য কটাক্ষ করে আজকের যুবসমাজের কাছে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষের যোগ্যতা তাঁর চেহারায় নয়, বরং তাঁর কৃতিত্বের ওপর নির্ভর করে।


এই বিতর্কে মুখ খুলেছেন তৃপ্তি দিমরিও। ঘরে বসে সহজেই অন্যের দিকে আঙুল তোলার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। তৃপ্তি বলেন, “বাড়িতে আরাম করে পাজামা পরে বসে অন্যের সমালোচনা করা খুব সহজ। কিন্তু যাঁরা নিজেদের জীবনে এতটা পরিশ্রম করে একটা জায়গায় পৌঁছেছেন, তাঁদের জায়গায় দাঁড়িয়ে পরিস্থিতিটা বোঝা উচিত।” তাঁর মতে, অনন্যা পাণ্ডে হোক বা ঐশ্বর্য, এঁরা প্রত্যেকেই কঠোর পরিশ্রমী, তাই তাঁদের সম্মান প্রাপ্য, কোনও কটাক্ষ নয়।

এর আগে কঙ্গনা রানাওয়াতও ঐশ্বর্যার সমর্থনে এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন যে, ঐশ্বর্য কান-এর মঞ্চে কাউকে খুশি করতে যাননি। বয়স্ক মহিলারা রেড কার্পেট বা জনসমক্ষে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করছেন, এটা দেখে যদি কারও অস্বস্তি হয়, তবে সেই অস্বস্তিতেই তাঁদের অভ্যস্ত হয়ে ওঠা উচিত বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা।

বলিউডের অভিনেত্রীদের এমন একজোট হয়ে প্রতিবাদ করাটা ডিজিটাল দুনিয়ায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রোলিংয়ের এই যুগে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই ছবি প্রমাণ করে দেয়, প্রতিভা ও বহু বছরের কঠিন পরিশ্রমের কাছে এই ধরনের সমালোচনা নিতান্তই অর্থহীন।

সবথেকে দুর্দান্ত অফার রয়েছে আইফোন ১৫-এর উপর। অ্যাপলের এই ফোনটি (১২৮জিবি) অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, আইফোন ১৬ এবং আইফোন ১৭ সিরিজ, ম্যাকবুক এবং আইপ্যাড মডেলের উপরেও অফার রয়েছে। কী কী অফার রয়েছে, কোথায়, কত দামে পাবেন, জেনে নিন


 দুর্দান্ত অফার, মাত্র ৩৬ হাজারেই পেয়ে যাবেন আইফোন ১৫!
প্রতীকী ছবি


আপনি কি আইফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন? কিন্তু, অতিরিক্ত দামের জন্য কিনতে পারছেন না? তাহলে আপনাদের জন্য দারুণ খবর। এবার একধাক্কায় অনেকটা কম দামে আইফোন পেয়ে যাবেন আপনি। দারুণ অফার দিচ্ছে ক্রোমা (Croma)। ‘এভরিথিং অ্যাপল’ ক্যাম্পেইনের তৃতীয় পর্ব চলছে। এই পর্বেই অ্যাপল (Apple IPhone) প্রোডাক্টের উপর নতুন অফার ঘোষণা করেছে ক্রোমা। অফারে আইফোন (Iphone Offer), ম্যাকবুক, আইপ্যাড এবং এয়ারপডে উল্লেখযোগ্য ছাড় ছাড়া এক্সচেঞ্জ অফার রয়েছে। ২৯ মে থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই এই অফার চালু থাকবে।


কী কী বিশেষ অফার রয়েছে?
সবথেকে দুর্দান্ত অফার রয়েছে আইফোন ১৫-এর উপর। অ্যাপলের এই ফোনটি (১২৮জিবি) অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। মাত্র ৩৬ হাজার ৮৯১ টাকায় আপনি এই আইফোন ১৫ পেয়ে যেতে পারেন। এক্সচেঞ্জ অফার থাকবে, ডিসকাউন্ট কুপনের সুবিধা রয়েছে। ক্যাশব্যাকও পাওয়া যাবে। এমনিতে আইফোন ১৫-র দাম ৬০ হাজারের আশেপাশে। সেক্ষেত্রে সব মিলিয়ে ২৪ হাজার টাকা ছাড় পাবেন আপনি। এছাড়া আইফোন ১৫ কিনলে গ্রাহকরা ২ হাজার ১৯০ টাকার অরিজিনাল অ্যাডাপ্টার বিনামূল্যে পাবেন। ক্রোমা স্টোরগুলিতে এই বিশেষ অফারটি পাওয়া যাবে।



কানে ঐশ্বর্যর সাজ নিয়ে ট্রোল! মুখ খুললেন ড্রিম গার্ল
Mamata Banerjee: অভিষেককে কেন বাইপাসের হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিয়ে গেলেন? কী বললেন মমতা?
আর কী কী অফার দিচ্ছে ক্রোমা?
ক্রোমা আইফোন ১৬ এবং আইফোন ১৭ সিরিজের উপরও অফার ঘোষণা করেছে। আইফোন ১৬ (১২৮জিবি) ৪০ হাজার টাকায় পেতে পারেন। আইফোন ১৭ (২৫৬জিবি) ৪৪ হাজার ৭৬৮ টাকায় কেনা যাবে। অফারে এক হাজার টাকা ক্যাশব্যাক, ১,৬৫৮ টাকার ডিসকাউন্ট কুপন, ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ বোনাস এবং ২৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ ভ্যালু বেনিফিট দিচ্ছে। ম্যাকবুক এবং আইপ্যাড মডেলের উপরেও অফার রয়েছে।

ঘটনার পর দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই টাকা ফেরতও দেওয়া হয়। শতদ্রু বলেন, "ঠিক তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম। আমার কাছে এমন কিছু ফোন, মেসেজ, ফেসবুকে মেসেজ আসত, যাঁরা টিকিটের দাম ফেরত চেয়ে আমাকে জানাতেন, তাঁদের নাম কিন্তু অনলাইন টিকিট ক্রেতাদের নামের তালিকায় ছিল না। 


আমার অনলাইন টিকিট বিক্রি হয়েছিল ৩৪ হাজারের কিছু বেশি।"


'তোকে দেব কেন? আমার...', মেসিকে কাছে পেতে সেদিন কী কী করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস? বিস্ফোরক তথ্য
মেসির সঙ্গে অরূপ বিশ্বাস (ফাইল ছবি)

 মেসি কাণ্ডে এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাঁচ ধারায় এফআইআর রুজু করেছেন ইভেন্ট ম্যানেজার শতদ্রু দত্ত। সেদিন মাঠে ঠিক কী কী ঘটেছিল, কীভাবে গোটা বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, কীভাবে সেদিন মাঠে কেবল মন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রভাব খেটেছিল, কীভাবে মেসির কাছে গিয়েছিলেন সকলে, যাতে দর্শকরা বঞ্চিত হলেন, সবটা TV9 বাংলাকে বলতে গিয়ে বিস্ফোরক শতদ্রু। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এই ইভেন্টের আগে থেকে গা-জোয়ারি করে টিকিট নিয়ে কালোবাজারি করেছেন বলে দাবি করেন শতদ্রু।


তিনি বলেন, “প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী আর পুলিশের গাফিলতির জন্য আমার ইভেন্টটা ন্যাচাকার হয়। এই ইভেন্টের অনেক আগে থেকে ক্রীড়া মন্ত্রী আমাকে থ্রেট দিতেন। উনি গা-জোয়ারি করে আমার থেকে ২২ হাজারের ওপর টিকিট নিয়েছিলেন। সেই টিকিট বিক্রি করেছেন, সেটা আমার কাছে ১০০ শতাংশ খবর রয়েছে।” নিজের দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক ভাগ্নীর জন্য অরূপ বিশ্বাস প্রভাব খাটিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন শতদ্রু।




যুবভারতীর মেসি কাণ্ডের জল গড়িয়েছিল অনেক দূর। এই ঘটনার পর দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই টাকা ফেরতও দেওয়া হয়। শতদ্রু বলেন, “ঠিক তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম। আমার কাছে এমন কিছু ফোন, মেসেজ, ফেসবুকে মেসেজ আসত, যাঁরা টিকিটের দাম ফেরত চেয়ে আমাকে জানাতেন, তাঁদের নাম কিন্তু অনলাইন টিকিট ক্রেতাদের নামের তালিকায় ছিল না। আমার অনলাইন টিকিট বিক্রি হয়েছিল ৩৪ হাজারের কিছু বেশি।”

BSNL জানিয়েছে, নতুন গ্রাহকরা কানেকশন নিলে বিনামূল্যে একটি সিম পাবেন। সেইসঙ্গে প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা, আনলিমিটেড কল, প্রতিদিন ১০০ SMS-এর সুবিধা পাবেন। এই ৫১ টাকার প্ল্যানে ২৮ দিনের মেয়াদ থাকছে। তবে, এই অফার পেতে গেলে কী কী শর্ত মানতে হবে?


 রিচার্জ প্ল্যানের দাম ক্রমশ বাড়াচ্ছে জিও(Jio), এয়ারটেল (Airtel)। এই আবহে গ্রাহকদের জন্য দুর্দান্ত অফার দিচ্ছে বিএসএনএল। রিচার্জ প্ল্যানে আনলিমিটেড কল (Unlimited Call), ডেটা সব যদি একসঙ্গে পেতে চান, তাহলে অন্তত ২৫০-র বেশি খরচ করতে হয়। কোনও কোম্পানির রিচার্জের (Recharge Plan) দাম আবার ৪০০-৫০০-র বেশি। কিন্তু, এবার ৫১ টাকার রিচার্জেই সব পেয়ে যাবেন। দুর্দান্ত অফারের ঘোষণা করেছে বিএসএনএল (BSNL)। তবে, এই অফার বেশিদিনের জন্য থাকবে না।


বিএসএনএল স্পেশ্যাল রিচার্জ
বিএসএনএল যে রিচার্জ অফারটি দিয়েছে, তা নতুন গ্রাহকদের জন্য। পুরনো গ্রাহকরা কিন্তু বিশেষ সুবিধা পাবেন না। মূলত, গ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্যই ৫১টাকার বিশেষ রিচার্জ প্ল্যানের ঘোষণা করা হয়েছে। ৫১ টাকার অফারে কী কী থাকছে জেনে নিন


BSNL জানিয়েছে, নতুন গ্রাহকরা কানেকশন নিলে বিনামূল্যে একটি সিম পাবেন। সেইসঙ্গে প্রতিদিন ২ জিবি ডেটা, আনলিমিটেড কল, প্রতিদিন ১০০ SMS-এর সুবিধা পাবেন। এই ৫১ টাকার প্ল্যানে ২৮ দিনের মেয়াদ থাকছে।


অফার সীমিত
বিএসএনএল জানিয়েছে, ২২মে থেকে শুরু হয়েছে এই বিশেষ অফার। চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। বিশেষ অফারটি পাওয়ার জন্য কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে যেতে পারেন কিংবা নিকটবর্তী রিটেল স্টোরে গেলেও অফারের সুবিধা পাবেন।

চেন্নাই মানেই চিপক, কেকেআর মানেই ইডেন এবং পাঞ্জাব মানেই মোহালি, কিন্তু স্রেফ 'ব্যবসা'র দোহাই দিয়ে প্রতি বছর যদি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে একটি শহরেই বন্দি করে ফেলা হয়, তাহলে আইপিএল তার আঞ্চলিক বৈচিত্র হারিয়ে ফেলবে।


টাকার কাছে আবেগ মূল্যহীন? কেন বারবার আহমেদাবাদেই অনুষ্ঠিত হয় কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনাল?

আইপিএল হোক বা বিশ্বকাপ, সব প্রতিযোগিতার ফাইনাল ম্যাচের জন্যই বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধে ছুটতে হয় একটাই স্টেডিয়াম – নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম আহমেদাবাদ। ২০২৬ সালের আইপিএল ফাইনালের ম্যাচ আহমেদাবাদে সরানোর পরেই ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভ চরমে উঠে গিয়েছিল। এই এক মাঠেই কেন বারবার ফাইনাল ম্যাচ হচ্ছে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ক্রিকেটমহলে।


কেন বেঙ্গালুরু থেকে সরল ফাইনাল?



 আজ আইপিএল ফাইনালে বৃষ্টি হলে কী হবে? রিজার্ভ ডে নিয়ে কী জানাল বোর্ড?
এবারের ফাইনাল ম্যাচটি বেঙ্গালুরু থেকে সরানোর পিছনে অবশ্য বিসিসিআইয়ের আঙুল সরাসরি কর্ণাটকের রাজনীতিবিদদের দিকে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছিলেন, কর্নাটকের রাজনৈতিক মহল থেকে এই হাই-প্রোফাইল ম্যাচের জন্য প্রায় ১৫ হাজার ফ্রি টিকিটের দাবি তুলেছিল। এই দাবি অস্বীকার করেছিল বিসিসিআই। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্য সংস্থাকে দেওয়া হয় ১৫% টিকিট, সেখানে সাধারণ মানুষের কাছে টিকিট পৌঁছানোর আগেই যদি প্রায় দশ হাজারের বেশি টিকিট উধাও হয়ে যায়, তবে বোর্ড এই ম্যাচ দেখাবে কেন? তাছাড়া ২০২৬ আইপিএল শুরুর আগেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আরসিবির ১১ জন সমর্থকের ঘটনায় সতর্ক ছিল বোর্ড।


কলকাতার ইডেনকে ‘অন্যায্য’ ভাবে বাদ দেওয়া :

২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল কেকেআর। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বছর যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে, পরের বছর সেই দলের ঘরের মাঠেই উদ্বোধনী ম্যাচ ও ফাইনাল হবে। কিন্তু সেই নিয়ম অনুযায়ী কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে হওয়া উচিত ছিল আইপিএল ২০২৫ ফাইনাল। স্রেফ বৃষ্টির দোহাই দিয়ে ম্যাচটি আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফাইনালের দিন কলকাতায় বৃষ্টি হতে পারে, এমন বলা হয়েছিল রিপোর্টে কিন্তু ভগবানের মার দেখুন, ৩ জুন ২০২৫ এ কলকাতায় একফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি। উল্টোদিকে, ২০২৩ সালে আহমেদাবাদের ফাইনালে বৃষ্টির কারণে দর্শকদের ভোগান্তি ও দুই দিনে ম্যাচ শেষের কথা আজও মনে রেখেছে দেশবাসী।

বিসিসিআই-এর কাছে ‘পাবলিক ইমোশন’, ‘সেন্টিমেন্ট’ এর কোনও জায়গা নেই। সেই কারণে তাঁদের যুক্তি হল,”বিশ্বের বড় বড় ম্যাচে একটি নির্দিষ্ট স্টেডিয়ামকে ফাইনালের কেন্দ্র করার উদাহরণ নয়।” কিন্তু আসল কারণ আলাদা। এই মাঠে আসন সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি, যার কারণে স্পনসর, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্টেকহোল্ডারদের ফ্রি টিকিট দেওয়ার পরেও বেঁচে যায়, যার ফলে রেকর্ড পরিমাণ আয় হয় বোর্ডের।

ব্রডকাস্টারের কাছে আহমেদাবাদ এক দারুন আকর্ষণ। সব দিক থেকেই এই স্টেডিয়াম ঝলমলে, যা বিজ্ঞাপনের বাজার আরও উন্মুক্ত করে দেয় বোর্ডের কাছে। এর ফলে যা হারিয়ে যাচ্ছে, তা হল কোনও একটি শহরের আঞ্চলিক পরিচয়। চেন্নাই মানেই চিপক, কেকেআর মানেই ইডেন এবং পাঞ্জাব মানেই মোহালি, কিন্তু স্রেফ ‘ব্যবসা’র দোহাই দিয়ে প্রতি বছর যদি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে একটি শহরেই বন্দি করে ফেলা হয়, তাহলে আইপিএল তার আঞ্চলিক বৈচিত্র হারিয়ে ফেলবে। ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (পূর্ব নাম মোতেরা) হওয়ার পর থেকেই মোট ৪ বার (২০২২, ২০২৩, ২০২৫, ২০২৬) ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আহমেদাবাদে। এবং সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটলেই দেখা যাবে, সাধারণ দর্শক বিসিসিআই-য়ের এই ‘গুজরাট মডেল’ নিয়ে যারপরনাই বিরক্ত।

রাতে হুগলির গ্রামীণ পুলিশের পান্ডুয়া থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন জাহাঙ্গির। তবে এ জাহাঙ্গির ফলতার জাহাঙ্গির নয়। মহম্মদ জাহাঙ্গিরের বাড়ি পান্ডুয়ার পশ্চিম বালিহাট্টায়। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত্রে পান্ডুয়ার বোসো এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে বেশ কয়েকজন নিয়ালার বোসো এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল।

হুগলিতে গ্রেফতার জাহাঙ্গির, উদ্ধার দেশি বন্দুক ও কার্তুজ
আদালতে পেশা করা হচ্ছে জাহাঙ্গির খান

এবার হুগলিতে গ্রেফতার জাহাঙ্গির! তার কাছ থেকে উদ্ধার দেশি বন্দুক ও কার্তুজ। ছাব্বিশের নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছিল জাহাঙ্গির খানকে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল এলাকাবাসীদের। জাহাঙ্গির নিজেকে দক্ষিণী নায়ক অল্লু অর্জুনের চরিত্র ‘পুষ্পা’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। এবং তাঁর মুখে গিয়েছিল পুষ্পা ছবির সংলাপ ‘ঝুকেগা নেহি।’ কিন্তু শেষমেশ পুনঃনির্বাচনের কয়েক ঘন্টা আগেই নিজেকে গুটিয়ে নেন পুষ্পা। ওই কেন্দ্রেই পুনঃনির্বাচনে আগেই প্রার্থী পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল জাহাঙ্গির।


রাতে হুগলির গ্রামীণ পুলিশের পান্ডুয়া থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়েন জাহাঙ্গির। তবে এ জাহাঙ্গির ফলতার জাহাঙ্গির নয়। মহম্মদ জাহাঙ্গিরের বাড়ি পান্ডুয়ার পশ্চিম বালিহাট্টায়। পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাত্রে পান্ডুয়ার বোসো এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গতকাল রাতে বেশ কয়েকজন নিয়ালার বোসো এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল।



'বন্ধু অনীকদাকে ব্লক করে দিয়েছিলেন', দাবি দেবলীনার, প্রাক্তন স্ত্রী কী বললেন
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, পান্ডুয়া থানার পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে মহম্মদ জাহাঙ্গির এবং তাঁর ছেলে মহম্মদ সেলিম তাঁকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া শেখ ভোম্বল, শেখ রাজু এবং শেখ সাদ্দামকে গ্রেফতার করে। বাকিরা চম্পট দেয়। পুলিশি জেরায় ধৃতরা স্বীকার করে তাঁরা সেখানে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল।

X Category Security: ২০১৫ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে সভা সময় এক ব্যক্তির হামলার পরই অভিষেকের নিরাপত্তা বাড়িয়ে জেড প্লাস ক্যাটেগরির করে দেওয়া হয়েছিল। পালাবদলের পর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত এক্স ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাবেন।


মাথায় ডিম পড়তেই বাড়ল অভিষেকের নিরাপত্তা! জানেন কী এই X- Y-Z সুরক্ষা?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে হামলা।

ভোটের ভরাডুবির পর রাস্তায় বের হতেই জনরোষের মুখে পড়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার সোনারপুরে এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে দেখা করতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হন অভিষেক। তাঁকে দেখে ক্ষিপ্ত জনতা চোর চোর স্লোগান দেয়। ছোড়া হয় ডিম, কাদা। এমনকী অভিষেকের জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই বর্তমানের রাজ্যে বিজেপির সরকার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক্স ক্যাটেগরির (X Category Security) নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন কী ধরনের নিরাপত্তা পাবেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড, জানেন?

কেন্দ্র বা রাজ্যের তরফে গুরুত্বপূর্ণ বা বিশেষ কোনও ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। মূলত ভিভিআইপি (VVIP), ভিআইপি (VIP), ক্রীড়াবিদ, সেলিব্রিটি বা যেকোনো হাই-প্রোফাইল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এই নিরাপত্তার বিভিন্ন ভাগ থাকে। মূলত ৫ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এক্স, ওয়াই, জেড, জেড প্লাস।



৮০ লাখ মহিলার নাম বাদ পড়ল, মাসে মাসে ১৫০০ টাকা আর পাবেন না!
'এরপর মায়ের যদি কিছু হয়ে যায়...' নেটিজেনদের কাছে কাতর আর্জি সায়নীর দিদির
কোনও ব্যক্তি এক্স (X) থেকে শুরু করে জেড প্লাস (Z+) এবং এসপিজি (SPG) -কোন স্তরের নিরাপত্তা পাবেন, তা মূলত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Home Ministry) এবং রাজ্য সরকারগুলির ঝুঁকি পর্যালোচনার (Threat Assessment) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

২০১৫ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে সভা সময় এক ব্যক্তির হামলার পরই অভিষেকের নিরাপত্তা বাড়িয়ে জেড প্লাস ক্যাটেগরির করে দেওয়া হয়েছিল। পালাবদলের পর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আপাতত এক্স ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাবেন। এক্স ক্যাটেগরিতে কী কী সুরক্ষা দেওয়া হয়?

১. এক্স ক্যাটাগরি নিরাপত্তা (X Category Security)-
এক্স ক্যাটাগরি হল ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যক্তিগত সুরক্ষার সবচেয়ে প্রাথমিক স্তর, যা সাধারণত কোনও ব্যক্তির ওপর কম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য হুমকি বা হামলার আশঙ্কা থাকলে প্রদান করা হয়।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায়:
কর্মী (Personnel): এই ক্যাটাগরিতে ৪ থেকে ৫ জন কর্মী থাকেন। এর অধীনে ২ জন সশস্ত্র পুলিশ অফিসার (পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার বা পিএসও) থাকেন।
কম্যান্ডো (Commandos): এই স্তরের নিরাপত্তায় কোনও কম্যান্ডো মোতায়েন করা হয় না।
গাড়ি (Vehicles): সাধারণত কোনও এসকর্ট বা পাইলট গাড়ি দেওয়া হয় না।
২. ওয়াই ক্যাটাগরি (Y Category):
এটি সাধারণত কম পরিচিত বা মাঝারি প্রোফাইলের ব্যক্তিদের দেওয়া হয়।
এই ক্যাটাগরিতে মোট ১১ জন কর্মী থাকেন, যার মধ্যে ১ বা ২ জন কম্যান্ডো এবং বাকিরা পুলিশ কর্মী থাকেন।
৩. জেড ক্যাটাগরি (Z Category):
এটি তুলনামূলক কম হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের দেওয়া হয়।
এই ক্যাটেগরিতে ২২ জন কর্মী থাকেন, যার মধ্যে ৪ বা ৫ জন এনএসজি কম্যান্ডো এবং বাকিরা পুলিশ কর্মী থাকেন।
এই নিরাপত্তা বলয়ে দিল্লি পুলিশ অথবা আইটিবিপি (ITBP) বা সিআরপিএফ (CRPF) কর্মী এবং একটি এসকর্ট গাড়ির সমন্বয়ে গঠিত হয়।
৪. জেড প্লাস সিকিউরিটি ক্যাটাগরি (Z Plus Security):
জেড প্লাস নিরাপত্তা মূলত ভিভিআইপি এবং ভিআইপিদের (যেমন ভারতের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী) প্রদান করা হয়।
জেড প্লাস ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫ জন কর্মী থাকেন, যার মধ্যে ১০ বা তার বেশি কম্যান্ডো এবং পুলিশ কর্মী থাকেন।
এই স্তরের নিরাপত্তা মূলত এনএসজি (NSG – National Security Guard) কম্যান্ডোরা দিয়ে থাকেন।
এই কম্যান্ডোদের কাছে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ‘হেকলার অ্যান্ড কক এমপি৫’ (Heckler & Koch MP5) সাবমেশিন গান থাকে। পাশাপাশি তাঁরা খালি হাতে লড়াই (Unarmed Combat) এবং বিভিন্ন মার্শাল আর্টেও অত্যন্ত পারদর্শী হন। ২৪ ঘণ্টা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
৫. এসপিজি ক্যাটাগরি (Special Protection Group):
এটি ভারতের সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী।
এসপিজি-র নিজস্ব বাহিনীতে কম করে ৪,০০০ কর্মী রয়েছেন।
পদ ছাড়ার পর (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে) সাধারণত এক বছরের বেশি এই নিরাপত্তা বাড়ানো যায় না, যদি আলাদাভাবে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো এর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে।
এই নিরাপত্তা বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা বা শক্তি ‘গোপন’ (Classified) রাখা হয়।
এটি ভারতের সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল।
বর্তমানে দেশের মাত্র ৬ জন ব্যক্তিকে এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
এসপিজি (SPG) কী?
এটি হল ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ’। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা (Proximate Security) দেওয়ার জন্য ১৯৮৮ সালে এটি গঠন করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই বিশেষ সুরক্ষা গোষ্ঠীর তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ করে।

এনএসজি (NSG) কী?
এনএসজি বা ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড’ হল ভারতের একটি বিশেষ কম্যান্ডো ইউনিট, যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) অধীনে কাজ করে। কালো পোশাক এবং পোশাকে থাকা কালো বিড়ালের প্রতীকের কারণে এই কম্যান্ডোদের সাধারণত ‘ব্ল্যাক ক্যাট কম্যান্ডো’ (Black Cat Commandos) বলা হয়।

এনএসজি এবং এসপিজি কেবল নির্দিষ্ট নেতাকেই নয়, তাঁর পরিবারকেও সুরক্ষা দেয়। তবে বর্তমান বা প্রাক্তন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে এই জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

আইটিবিপি (ITBP)-
এটি হল ‘ইন্দো-তিব্বতিয়ান বর্ডার পুলিশ’ (Indo-Tibetan Border Police)। এটি ভারতের পাঁচটি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) একটি, যা ১৯৬২ সালের ২৪ অক্টোবর সিআরপিএফ আইনের অধীনে গঠিত হয়। চিন সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তে মোতায়েনের জন্য মূলত এটি তৈরি করা হয়েছিল।

সিআরপিএফ (CRPF) –
এটি হল ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’ বা কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী। এটি ভারতের বৃহত্তম কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। এই বাহিনীর প্রাথমিক কাজ হল ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উগ্রপন্থা দমন অভিযানে পুলিশি সহায়তা প্রদান করা।

নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নেন?
কোনও ব্যক্তি নিরাপত্তা পাবেন কি না এবং পেলে তা কোন ক্যাটাগরির হবে, তা নির্ধারণের মূল দায়িত্ব থাকে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সুপারিশের ভিত্তিতেও এই নিরাপত্তা প্রদান করা হয়ে থাকে।

আজ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোথাও যেতে হয়নি। নিজের এলাকায় নিগ্রহের শিকার তিনি। এটা দেখে প্রথমে সুকান্ত মজুমদার বলেন, "আমরা গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই বলেই মনে করি। এটা কাম্য নয়। তদন্ত করে দেখব।


কল্যাণের কাঁদো-কাঁদো মুখ, মনে করালেন সেই ডায়লগ, 'আয় সুকান্ত আয়...'
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুকান্ত মজুমদার

আয় শ্রীরামপুরে…তারপর তুই ঘরে ফিরিস কীভাবে দেখব…’ ঠিক এই ভাষাতেই খুব বেশি দিন নয়, গত বছরের অক্টোবর মাসে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumdar) হুমকি দিয়েছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। নিজের সংসদীয় কেন্দ্র শ্রীরামপুরে সুকান্ত (Sukanta) এলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন কল্যাণ। বছর ঘুরেছে, পালা বদলেছে। আজ নিজের এলাকাতেই মার খেলেন সেখানকারই সাংসদ কল্যাণ। তা শুনে সুকান্ত বললেন, “সুকান্ত তো বহাল তবিয়তে ঘুরছে, ওইখানকার জনতাই মনে হয় কল্যাণের কল্যাণ করে দেব।”

আজ কী ঘটেছে?




মার খেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন কাঁচুমাচু কল্যাণ, কেঁদে কেঁদে বললেন, 'BJP ডিউজ বল ছুড়েছে কি না জানি না'
তৃণমূল কর্মীদের উপর আক্রান্তের ঘটনায় হুগলির চণ্ডিতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়েছিল তৃণমূল। সেখানে পৌঁছন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তখনই তাঁকে দেখে ‘চোর-চোর’ স্লোগান ওঠে। কালো পতাকা দেখানো হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি এই ঘটনার পিছনে বিজেপি রয়েছে। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে গেরুয়া শিবির। সাংসদ কল্যাণের অভিযোগ, তিনি হেঁটে আসছিলেন। সেই সময় জনা পাঁচ ছ’জন তাঁকে লক্ষ্য করে বল ছোড়ে। তিনি পড়ে যান। আহত সাংসদ কাঁদতে শুরু করেন।

একটা সময় ছিল যখন রাজ্যের ক্ষমতার বদল হয়নি, তৃণমূল ছিল ক্ষমতায়। সেই সময় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাংসদ তথা কেন্দ্রের মন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছিলেন। যা নিয়ে কম শোরগোল পড়েনি। অশ্রাব্য ছিল তাঁর মুখের ভাষা। সামান্য সৌজন্য বোধটুকু নজরে আসেনি। তুই-তু কারি করে মন্তব্য করেছিলেন সুকান্তর উদ্দেশ্যে। সর্বশেষে বলেছিলেন, “বাংলার মানুষকে চিনিস না…ওই দু’চারটে সুকান্ত…হাওয়া দিয়ে উড়ে যাবে। আয় না একবার বক্তৃতা দিতে আমাদের এখানে। আয় তুই শ্রীরামপুরে। তারপর তুই ঘরে ফিরিস কীভাবে দেখব।”

আজ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোথাও যেতে হয়নি। নিজের এলাকায় নিগ্রহের শিকার তিনি। এটা দেখে প্রথমে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই বলেই মনে করি। এটা কাম্য নয়। তদন্ত করে দেখব। কারণ অভিষেকের বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তো দেখা গেল সবটাই তৃণমূলেরই গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব তাহলে কি কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বেলায় কি অন্য কেউ। এক সময় উনি বলেছিলেন আয় সুকান্ত আয়…সুকান্ত তো বহাল তবিয়তে ঘুরছে আর জনতা কল্যাণের কল্যাণ করছে।”

 
বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দু'জন চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা হচ্ছে তৃণমূল সাংসদের। আপাতত, স‍্যালাইন চলছে তাঁর। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ব‍্যথার ওষুধ (Pain killer)। খাবার আগে গ্যাসের ওষুধ খেতে হয়েছে। আর রাতের খাবারের ব্যথার ওষুধ।

গা বমি-বমি ভাব ছিল রাতে, চলেছে অক্সিজেন, বাড়িতেই চিকিৎসা অভিষেকের
হাসপাতালে অভিষেক

প্রথমে বাইপাসের ধারের বেসরকারি হাসপাতাল, পরে আরও একটি বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। কিন্তু ২ ঘণ্টা ইনটেনশিভ থেরাপি ইউনিট (ITU)-এ রাখার পর সাধারণ কিছু ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও, তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, বিজেপির চাপেই কোনও হাসপাতাল অভিষেককে ভর্তি নেয়নি।


বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দু’জন চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা হচ্ছে তৃণমূল সাংসদের। আপাতত, স‍্যালাইন চলছে তাঁর। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ব‍্যথার ওষুধ (Pain killer)। খাবার আগে গ্যাসের ওষুধ খেতে হয়েছে। আর রাতের খাবারের ব্যথার ওষুধ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, রাতেও অভিষেকের গা বমি ভাব ছিল। বেশ কিছুক্ষণ ধরে অক্সিজেন চলেছে ডায়মন্ড-হারবারের অভিষেকের। জানা যাচ্ছে, গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শুধু একা নন, রাত পর্যন্ত ছিলেন শোভন চট্টোপাধ‍্যায়ও।


কল্যাণের কাঁদো-কাঁদো মুখ, মনে করালেন সেই ডায়লগ, 'আয় সুকান্ত আয়...'
অভিষেকের ভর্তি নিয়ে কী অভিযোগ মমতার?


“আমি যখন ওই হাসপাতালের কর্তার সঙ্গে বসেছিলাম। তিনি আমাকে বলছিলেন, বিভিন্ন পুলিশের কাছ থেকে থ্রেট কল পাচ্ছেন। বিশেষ করে ডিসি সাউথ। সঙ্গে বিজেপি নেতারা। অভিষেককে ভর্তি না নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। চিকিৎসকরা দুঃখিত।” তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “অভিষেককে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাড়ির মধ্যে হাসপাতালের মতো করা হচ্ছে। বাড়িই হাসপাতাল হবে।”

সোনারপুরে কী হয়েছে?

শনিবার সঞ্জু কর্মকার নামে মৃত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পথেই কামালগাছি সিগন্যালে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ডিম-কাদা ছোড়া হয় তাঁকে লক্ষ্য করে।

ইংরেজিতে প্রবাদ রয়েছে, "ওয়ান্স ইন অ্যা ব্লু মুন"। বিরল ঘটনাকে বোঝাতেই এই কথা বলা হয়। তাই বোঝাই যাচ্ছে এটা অতি সাধারণ কোনও ঘটনা নয়, বরং মহাজাগতিক বিরল ঘটনা। আজ, ৩১ মে আকাশে দেখতে পাবেন নীল চাঁদ বা ব্লু মুন (Blue Moon)।


বিরল রবিবার আজ, আকাশে দেখা দেবে 'Blue 

আজ বিরল রবিবার। আজ, ৩১ মে আকাশে দেখতে পাবেন নীল চাঁদ বা ব্লু মুন (Blue Moon)। শুধু ব্লু মুন বললেও ভুল হবে, আজ আকাশে দেখা দেবে মাইক্রোমুন (micromoon)-ও। নাসা জানিয়েছে কখন, কোথায় দেখা যাবে এই বিরল চাঁদ?


ইংরেজিতে প্রবাদ রয়েছে, “ওয়ান্স ইন অ্যা ব্লু মুন”। বিরল ঘটনাকে বোঝাতেই এই কথা বলা হয়। তাই বোঝাই যাচ্ছে এটা অতি সাধারণ কোনও ঘটনা নয়, বরং মহাজাগতিক বিরল ঘটনা। ব্লু মুনের সংজ্ঞা বলতে নাসা (NASA) বলে, যখন এক মাসে দুইবার পূর্ণ চাঁদ অর্থাৎ পূর্ণিমা হয়, তখন ব্লু মুন দেখা যায়। মুন সাইকেল সাধারণত ২৯.৫ দিন থাকে, অর্থাৎ চাঁদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে ২৯.৫ দিন সময় লাগে। যদি মাসের শুরুতেই পূর্ণিমা হয়, তাহলে মাসের শেষে, ৩০ বা ৩১ তারিখে আবার পূর্ণ চাঁদ দেখা দিতে পারে।



ব্লু মুন কিন্তু প্রতি মাসে দেখা যায় না। প্রতি দুই-তিন বছর অন্তর একবার দেখা যায় ব্লু মুন। বাতাসে ধুলো বা ধোঁয়ার জন্য অনেক সময় লাল আলোর ওয়েভলেন্থ তৈরি হয়, যার কারণে চাঁদ আরও বেশি নীলচে দেখায়। আজকের পর আগামী ২০২৮ সালে ব্লু মুন দেখা যাবে। নাসা জানিয়েছে, এরপরে ২০৫৩ সালে ব্লু মুন দেখা দেবে।

কোথায়, কখন দেখা যাবে ব্লু মুন?
আজ, ৩১ মে বিশ্বজুড়েই দেখা যাবে ব্লু মুুন। আমেরিকায় সূর্যোদয়ের ঠিক আগে অর্থাৎ সকাল ৪টে ৪৫ মিনিটে সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতায় পৌঁছবে চাঁদ। ভারতেও ব্লু মুন দেখা যাবে। গোটা এশিয়া মহাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ব্লু মুন যাবে।

 শনিবার বিকাল থেকে এলাকায় পচা গন্ধ বেরোচ্ছিল। গন্ধের উৎস সন্ধানে এলাকাবাসীরা রবিবার সকালে খোঁজ শুরু করেন। তখন জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটের ভিতর থেকেই গন্ধ আসছিল। থানায় খবর দেওয়া হলে, পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে দুটি দেহ উদ্ধার করে। 

 গল্ফগ্রিনে লিভ ইন পার্টনারের পচাগলা দেহর সঙ্গে একঘরে নেশাগ্রস্ত দুই সঙ্গী
গল্ফ গ্রিনে ফ্ল্যাট থেকে যুগলের দেহ উদ্ধার


গল্ফ গ্রিনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার যুগলের দেহ। পুলিশ সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে বছর ছাব্বিশের এম ডি দিলশাদ নামে এক যুবকের সঙ্গে একুশ বছরের এক যুবতী লিভ ইন করতেন। রবিবার দুপুরে গল্ফগ্রিনের অরবিন্দ নগরের ফ্ল্যাট থেকে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। দেহতে পচন ধরেছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে প্রচুর পরিমাণ মাদক উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকাল থেকে এলাকায় পচা গন্ধ বেরোচ্ছিল। গন্ধের উৎস সন্ধানে এলাকাবাসীরা রবিবার সকালে খোঁজ শুরু করেন। তখন জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটের ভিতর থেকেই গন্ধ আসছিল। থানায় খবর দেওয়া হলে, পুলিশ গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে দুটি দেহ উদ্ধার করে।


পেট্রোল-ডিজ়েলের রফতানি শুল্ক কমাল কেন্দ্র, আবারও কি দাম বাড়বে?
'বন্ধু অনীকদাকে ব্লক করে দিয়েছিলেন', দাবি দেবলীনার, প্রাক্তন স্ত্রী কী বললেন
জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া এসেছিলেন দুুই যুবক-যুবতী। ছেলেটির বাড়ি তিলজলা ও মেয়ের বাড়ি রামগড়ে। ঘরের মধ্যে একাধিক মাদক জাতীয় জিনিস উদ্ধার হয়েছে। লিভ ইন করতেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন। এই ঘটনায় ওই যুবক যুবতীর দুই বন্ধু ও এক বান্ধবীকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য, ওই দুজনের পচাগলা দেহ সঙ্গে বাকি এই তিন জনও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘরের মধ্যে ছিল।


এলাকার প্রবীণ সদস্য বলেন, “এখানে যে দুটি ছেলেমেয়ে থাকত, শুনেছি ওরা লিভ ইন করত। ছেলেমেয়ে দু’জনই চরম নেশাগ্রস্ত থাকত। কাল রাতে সম্ভবত দুটি ছেলে, দুটি মেয়ে ছিল। একটি মেয়ের মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছি, আরেকজন ছেলের বাবার সঙ্গেও কথা বলেছি। ওরা অর্ধউলঙ্গ ছিল। ছেলেটার মুখটা দেখার মতো ছিল না। পুরো কালো হয়ে গিয়েছিল। ওদের সঙ্গে বাকি দুজন ছিল, একটা ছেলে, একটি মেয়ে ছিল, তাদের পুলিশকে নিয়ে গিয়েছে।”

পুলিশ যে বাড়িতে হানা দিয়েছে, তার নাম উদয় ভিলা। ওই ভিলাটি মূলত, মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটি ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই জায়গা। বেশ কয়েক বছর ওই ভিলাটি বন্ধ ছিল। পরে ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ওই ভিলাটি মদন মিত্র বেআইনিভাবে দখল নেয় বলে অভিযোগ।


মদন মিত্রের বাড়িতে এবার পুলিশের হানা! চলত বেআইনি কাজকর্ম?
মদন মিত্র

বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) বাড়িতে পুলিশের হানা। রবিবার দুপুর নাগাদই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকরা। পুলিশি হানার বিষয়ে মদন মিত্র (Police Raid at Madan Mitra’s House) নিজেই জানিয়েছেন। তবে, কী কারণে বাড়িতে হানা দেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। মদনের দাবি, পুলিশ তাঁকে এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে, পুলিশ সূত্রে খবর, মদনের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, গতকালই অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল করেছিলেন বিধায়ক মদন মিত্র। সেইসময়ই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তার মধ্যেই মদন মিত্রের বাড়িতে পুলিশের হানা তাৎপর্যপূর্ণ।


বেআইনি ‘দখল’ মদনের
পুলিশ যে বাড়িতে হানা দিয়েছে, তার নাম উদয় ভিলা। ওই ভিলাতে মূলত, মহিলা কো-অপারেটিভ সোসাইটি ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই জায়গা। বেশ কয়েক বছর ওই ভিলাটি বন্ধ ছিল। বিজেপির অভিযোগ, ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর ওই ভিলাটি মদন মিত্র বেআইনিভাবে দখল নেয়। জানা গিয়েছে, ভিলাতে প্রায়ই যাতায়াত করতেন মদন। মাঝে মাঝে ওই ভিলাতে গিয়ে থাকতেনও। বিজেপির অভিযোগ, মদনের বেশ কয়েকজন অনুগামী ওই ভিলার মধ্যে বেআইনি কাজকর্ম চালাতেন।



শনিতে সঞ্জুকে 'সমাজসেবক' বলেছিলেন অভিষেক, রবিতে বেরল অন্য পরিচয়
বিজেপির অভিযোগ
গতকালই উদয় ভিলায় বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ তুলে বেলঘরিয়া থানায় দারস্থ হন বিজেপি কর্মীরা। তারপরই আজ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি সাউথ দ্রুতিমান ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বেলঘরিয়া ও কামারহাটি থানায় পুলিশ অভিযান চালায়। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। জানা গিয়েছে, ঘর তালাবন্ধ ছিল। তালাভেঙে ভিতর ঢোকে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথিও উদ্ধার করা হয়।

 অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে মাঝ রাস্তায় অসিতের নেতৃত্বে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। অসিত নিজেও রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেইসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশকে ধাক্কাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।


প্রথমে আটক, এবার গ্রেফতার অসিত মজুমদার, কী অভিযোগ প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে?
অসিত মজুমদার

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে অ্যাকশন শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। একের পর এক তৃণমূল নেতা, কাউন্সিলরকে (TMC Councillor) গ্রেফতার করা হচ্ছে। এবার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে (Asit Majumdar) গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উপর হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অসিত মজুমদার-সহ মোট ১০ তৃণমূল নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


অসিত মজুমদারের বিক্ষোভ
শনিবার চুঁচুড়ার পিপুল পাতিতে কর্মসূচি ছিল অসিত মজুমদারের। নিত্যনৈমিত্তিক জিনিসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভে বসেন বিধায়ক। তবে অভিষেকের উপর হামলা হতেই পরে বিক্ষোভের ইস্যু বদলে যায়। তারপরই অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে মাঝ রাস্তায় অসিতের নেতৃত্বে বসে পড়েন তৃণমূল কর্মীরা। অসিত নিজেও রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেইসময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশকে ধাক্কাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।




পুলিশ সূত্রে খবর,এই ঘটনায় প্রথমে অসিত মজুমদারকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ,ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা,কাউন্সিলর রঞ্জন রাহা,নির্মল চক্রবর্তী,সমীর সরকার সহ মোট দশজন তৃণমূল কর্মী। অসিত মজুমদারের দাবি, গতকাল প্রতিবাদ করার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কাটছাট করা হয় অভিষেকের নিরাপত্তায়। গতকাল সোনারপুরে মারধর খাওয়ার পর পুনরায় X ক্যাটাগরির নিরাপত্তা তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছিলেন, "এই ঘটনা ঘুরপথে তৃণমূলকে দম দেওয়ার বা অভিষেকের Z ক্যাটেগরি ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয় নয় তো?"


অভিষেককে 'যুবরাজ' সম্বোধন করে বড় মন্তব্য বিকাশের, লিখলেন কল্যাণকে নিয়েও
অভিষেককে নিয়ে কী বললেন বিকাশ?


তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) মারধর। কাদা ছোড়াছুড়ি। জামা ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ। এরপর রবিবার আবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারধরের অভিযোগ। পরপর দু’দিন মার খেলেন তৃণমূল সাংসদরা। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (bikash bhattacharya)। কী বললেন তিনি?


সম্প্রতি, প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি মামলা লড়েন বিকাশবাবু। সেই নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। দলেরই একাংশ কর্মীরা তাঁর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তারই মধ্যেই ঘৃতাহুতি পড়ে যখন বিকাশ মন্তব্য করে বসেন, “মমতার যখন কেউ থাকবে না, তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আমি থাকব।” এই সকল চর্চার মধ্যেই এবার তিনি অভিষেক ও কল্যাণের উপর নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন।



'বন্ধু অনীকদাকে ব্লক করে দিয়েছিলেন', দাবি দেবলীনার, প্রাক্তন স্ত্রী কী বললেন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘যুবরাজ’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, “এভাবে শারীরিক আক্রমণ সুস্থ ও স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।” তাঁর দাবি, বিজেপি ও তৃণমূল দুই দলই কমিউনিস্টদের আটকাতে চাইছে। সেই কারণেই চক্রান্ত করে এই সব চলছে। বিকাশ লিখেছেন, “বিজেপি ওতৃণমূল দুটি দলই অন্ধ কমিউনিস্ট বিরোধী আচরণ করে গুন্ডামি কে লালন করার পরিণতির কুচিত্র প্রকাশ পাচ্ছে।”

এদিন বিকেল ৪টে থেকে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। দেখা গেল, এক এক করে আসেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোককুমার দেব এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিন্তু, সেই সংখ্যাটা ২০-তে আটকে যায়। তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। সেখানে মাত্র ২০ জন কেন বৈঠকে এসেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।


২০-৬০! কালীঘাটে অনাস্থা প্রকাশ? বিধায়করা কোথায় যুক্তি দিলেন কুণাল
তৃণমূল বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক কেন বাতিল হল?

দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেল ৪টে থেকে বৈঠক। সময় গড়িয়ে গেল। এক এক করে বিধায়করা মমতার কালীঘাটের বাড়িতে আসছেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সেই সংখ্যাটা দেখেই শোরগোল পড়ল রাজ্য রাজনীতিতে। মমতার ডাকা বৈঠকে মাত্র জনা কুড়ি বিধায়ক হাজির। তাঁদের বেশিরভাগই প্রবীণ বিধায়ক। বাকিরা আসেননি কেন? এই নিয়ে জল্পনা বাড়তে লাগল। তাহলে কি তৃণমূলে ভাঙন ধরল? সেই জল্পনার মধ্যেই মমতার কালীঘাটের বাড়ির বাইরে এসে দলের ‘ঐক্য’ তুলে ধরার চেষ্টা করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সাংবাদিকদের জানালেন, বেশিরভাগ বিধায়ক নিজের এলাকায় কর্মসূচিতে ব্যস্ত। তাই, এদিনের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে।


গতকাল সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিগৃহীত হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে সই জালের অভিযোগ ঘিরে তদন্তে নেমেছে সিআইডি। এই আবহে বিধায়কদের নিয়ে এদিন মমতার বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এদিন বিকেল ৪টে থেকে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। দেখা গেল, এক এক করে আসেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোককুমার দেব এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কিন্তু, সেই সংখ্যাটা ২০-তে আটকে যায়। তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। সেখানে মাত্র ২০ জন কেন বৈঠকে এসেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।


শনিতে সঞ্জুকে 'সমাজসেবক' বলেছিলেন অভিষেক, রবিতে বেরল অন্য পরিচয়
'এরপর মায়ের যদি কিছু হয়ে যায়...' নেটিজেনদের কাছে কাতর আর্জি সায়নীর দিদির
কী বললেন কুণাল ঘোষ?


দলের সুপ্রিমো বৈঠক ডাকার পরও মাত্র কেন ২০ জন বিধায়ক উপস্থিত হলেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তখনই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বললেন, “গতকাল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। আজ আবার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারই প্রতিবাদে তৃণমূলের বিধায়করা নিজের এলাকায় কর্মসূচি পালন করছেন। পুলিশ অনেককে আটক করেছে। সেইসব কর্মীদের ছাড়াতে ব্যস্ত বিধায়করা। তাই, দলের কাছে তাঁরা ফোনে অনুরোধ করেন, এদিনের বৈঠক স্থগিত করার জন্য। এদিনও ফোন এসেছে। তাই, এদিনের বৈঠক স্থগিত করা হল। আর যাঁরা এসেছেন, সবাই মিলে ঘরোয়া বৈঠক করলাম।”

এরপরই তিনি জানান, আগামিকাল ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিল করবেন তৃণমূল কর্মীরা। আর ২ জুন রানি রাসমণি রোডে অভিষেকের উপর হামলা ও হকার উচ্ছেদ-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে একদিনের ধরনায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধায়কদের নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর বৈঠক বাতিল নিয়ে কটাক্ষ করলেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। তিনি বলেন, “মমতার উপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল বিধায়করা।”

​সাগর গ্রামীণ হাসপাতালের ক্যান্টিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। হাসপাতালের ভেতরে ক্যান্টিনের অস্বচ্ছতা এবং ক্লাব চালানোর মতো ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


​বিধায়কের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে একটি ক্যান্টিন চলার কথা থাকলেও, বাস্তবে তার কোনো হদিস মিলছে না। ক্যান্টিনের মালিক কে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। এই অসংলগ্নতার কারণে ওই মালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। পাশাপাশি, হাসপাতালের চত্বরকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ক্লাব হিসেবে ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। ​


এদিন স্থানীয় প্রশাসনের একাংশকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "রং বদলেছে, সময় বদলেছে, দিনটাও বদলেছে। অতএব, মানুষের পরিষেবাও বদলাতে বাধ্য।" ​পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান সহকারী সভাপতিকে নিশানা করে বিধায়ক সরাসরি বলেন, "আপনার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা পরিষ্কার। আপনার জন্য খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। আপনি সুন্দরভাবে ঘুমিয়ে নিন, কারণ আগামী দিনে ঘুমানোর সুযোগ আর পাবেন না।"


​হাসপাতালের মতো জনপরিষেবার জায়গায় এই ধরনের অনিয়ম তিনি কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। বিধায়কের এই মন্তব্যের পর স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ত্রাণ সামগ্রী ব্যক্তিগত দোকানে মজুত করে রাখার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল গঙ্গাসাগরের খাস রামকর চর এলাকা। 


রামকর চর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৫ নম্বর বুথের তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতির দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই দোকানটিতে তল্লাশি চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৪৩টি ত্রিপল, ১১ বস্তা মাছের খাবার, ১৩ বস্তা চুন এবং ২ বস্তা মিস। উদ্ধার হওয়া এই সামগ্রীগুলির গায়ে সরকারি এবং বিভিন্ন এনজিওর সিলমোহর ও নাম রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তীব্র বিতর্কের মুখে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতি সাফাই দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, "এই সামগ্রীগুলি আমার নয়। ওই এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি ভোটের আগে নিজের দায়িত্বে এই জিনিসগুলো আমার দোকানে রেখে গিয়েছিলেন।"

বিপর্যয় মোকাবিলা বা দুঃস্থদের সাহায্যের জন্য আসা সামগ্রী রাজনৈতিক নেতার মদতে ব্যক্তিগত দোকানে কেন মজুত রাখা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এই ত্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না করে রাজনৈতিক স্বার্থে আটকে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি সামনে আসার পর বিরোধীরা একে বড়সড় দুর্নীতি বলে অভিহিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, বুথ সভাপতির নাম জড়ানোয় অস্বস্তিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


​সাগর গ্রামীণ হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং রোগী রেফার সংক্রান্ত বিষয়ে কড়া অবস্থান নিলেন বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল। বৃহস্পতিবার সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং বিএমওএইচ-এর উপস্থিতিতে রোগী কল্যাণ সমিতির এক জরুরি বৈঠকে এই কড়া নির্দেশ দেন তিনি।


​এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাগর থানার ওসি, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি সহ হাসপাতালের সমস্ত চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা। বিধায়ক সুমন্ত মন্ডল স্পষ্টভাবে জানান, সাধারণ মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা চলবে না।
​হাসপাতালে যাতে ২৪ ঘণ্টাই নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক।


​রোগী রেফার করার প্রবণতা নিয়ে বিধায়ক চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি নির্দেশ দেন, কোনো রোগীকে রেফার করলে তিনি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে পৌঁছালেন এবং চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, তার সম্পূর্ণ ট্র্যাকিং রিপোর্ট রাখতে হবে।
​রোগী রেফার করার পর তার দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। যদি কোনো রোগীর যথাযথ চিকিৎসা না হয়, তবে তার দায়ভার রোগী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।​হাসপাতালের বর্তমান পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত পরিষেবা আরও উন্নত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিধায়ক। সাগরবাসীর জন্য সার্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল।


নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। আজ গঙ্গাসাগরের কৃষ্ণনগর মধ্যপল্লী এলাকায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এলাকার মহিলাদের হাতে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র তুলে দেন সাগর বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল এবং বিডিও কানাইয়া কুমার রাও।


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে আরও সুবিধাযুক্ত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু হলো।
অনুষ্ঠানে বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল বলেন, "মায়েদের মধ্যে এই যোজনা নিয়ে বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশা করছি, আগামী ৩ জুনের মধ্যেই প্রচুর সংখ্যক আবেদনপত্র জমা পড়বে।" তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তা মহিলারা সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।


সরকারি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে স্থানীয় মহিলারা এদিন ভিড় জমান। বিধায়ক ও বিডিওর উপস্থিতিতে ফর্ম বিলি প্রক্রিয়ার সূচনা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে খুশির হাওয়া দেখা যায়। দ্রুত ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর সাগর থানার অন্তর্গত মুড়িগঙ্গা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মন্দিরতলা গ্রামে ৩১ নম্বর বুথে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এক বিজেপি কর্মীর পানের বরজ নষ্ট করার অভিযোগ উঠল। 


ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও নেতাদের দিকে। ভুক্তভোগী বিজেপি কর্মী গণেশ দাসের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার পানের বরজে প্রবেশ করে। সেখানে থাকা প্রচুর পানের গাছ তারা নির্বিচারে কেটে ফেলে। এর ফলে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। গণেশবাবুর অভিযোগ, এটিই প্রথম নয়, এর আগেও তাকে একাধিকবার শাসক দলের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, নির্বাচনের ঠিক আগে তার আরেকটি পানের বরজে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। ক্রমাগত এই ধরনের আক্রমণের ফলে তিনি এবং তার পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনার পর সাগর থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন গণেশ দাস। তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগরদ্বীপের রাজনৈতিক উত্তাপ যে বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।

দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত। এরপর আজ অর্থাৎ বুধবার পুরীর হোটেল 'ব্লু লিলি' থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, পুরীতে প্রায় তেরো দিন লুকিয়ে ছিলেন তিনি। একটি হোটেল নয়, একাধিক হোটেলে তিনি ছিলেন। সর্বশেষে তাঁর লোকেশন ট্রাক করে বেঙ্গল STF গ্রেফতার করেছে তাঁকে। ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে তাঁকে। তবে শুধু দিলীপ একা নয়, একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ছেলেও।

 ১৩ দিন পুরীতে ঘাপটি মেরেও হল না লাভ, হোটেল থেকে STF তুলে নিল 'রাজপ্রাসাদের' মালিক তৃণমূলের দিলীপকে
দিলীপ মণ্ডল, তৃণমূল বিধায়ক

বাড়ির ভিতর গুহা। যদিও বাড়ি বলা ভুল, এক কথায় তাঁর রয়েছে রিসর্ট। যার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই ধাঁধিয়ে গিয়েছিল চোখ। কিন্তু এটা যার বাড়ি সেই তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল ছিলেন বেপাত্তা। খোঁজ চলছিল তাঁর। অবশেষে পুরী থেকে গ্রেফতার করা হল তাঁকে।


দিলীপের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?


অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্মে কী কী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে আপনাকে?
বিধানসভা ভোটের পর একটি বিজয় মিছিল বা প্রকাশ্য সভা থেকে তিনি বিরোধীদের (বিশেষত বিজেপি নেতাদের) উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। অভিযোগ, এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘর এবং সম্পত্তি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমনকী, যাঁরা বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বা বিজেপির হয়ে কাজ করেছে,তাঁদের বিষ্ণুপুর এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তারপর অভিযোগ দায়ের হয় থানায়। কিন্তু খোঁজ পাওয়া যায়নি তাঁর।


কোথা থেকে কীভাবে গ্রেফতার?

দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত। এরপর আজ অর্থাৎ বুধবার পুরীর হোটেল ‘ব্লু লিলি’ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, পুরীতে প্রায় তেরো দিন লুকিয়ে ছিলেন তিনি। একটি হোটেল নয়, একাধিক হোটেলে তিনি ছিলেন। সর্বশেষে তাঁর লোকেশন ট্রাক করে বেঙ্গল STF গ্রেফতার করেছে তাঁকে। ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হয়েছে তাঁকে। তবে শুধু দিলীপ একা নয়, একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর ছেলেও।

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, কীভাবে তিনি এই সম্পত্তি করলেন, কোথা থেকে এত সম্পত্তি তাঁর হল, কেন তিনি এই উস্কানিমূলক মন্তব্য করলেন সবটাই তদন্ত করা হবে।


চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভাইরাস সংক্রমণকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি বলে ঘোষণা করেছে।


 ভারতেও ঢুকে পড়ল ইবোলা ভাইরাস? উগান্ডা থেকে আসা মহিলার শরীরে উপসর্গ, এখন কী অবস্থা?
ফাইল চিত্র।

 ভারতেও কি ঢুকে পড়ল ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus)? আফ্রিকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা ভাইরাস। এবার উগান্ডা (Uganda) থেকে এক যাত্রী ভারতে আসতেই ছড়াল আতঙ্ক। আপাতত ওই যাত্রীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ইবোলা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। বেঙ্গালুরুতে এক মহিলাকে আইসোলেশনে (Isolation) রাখা হয়েছে ইবোলার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর। সম্প্রতি ওই মহিলা উগান্ডা থেকে এসেছেন।



পুরনো অভ্যাস এখনও বদলায়নি...', এক রাতেই অপসারিত BDO প্রশান্ত বর্মনের জামিন হওয়ার পিছনে কার হাত? সরাসরি নাম বললেন মন্ত্রী
চালক ছাড়াই এবার ছুটবে ট্রেন! কোথা থেকে কতদূর চলবে, ভাড়া কত, জানুন সব ডিটেইল
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ওই মহিলার শরীরে যন্ত্রণা ছিল, বাকি কোনও উপসর্গ নেই। তাঁকে বেঙ্গালুরুর এপিডেমিক ডিজিজ হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণের জন্য। তাঁর নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, ওই মহিলার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে তাঁকে আইসোলেশন থেকে এখনই ছাড়া হবে কি না, তা এখনও জানানো হয়নি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা ইবোলা সংক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই ভাইরাস সংক্রমণকে গ্লোবাল ইমার্জেন্সি বলে ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ্য, কঙ্গো, উগান্ডা, সুদান সহ আফ্রিকার একাধিক দেশে মারণ রূপ নিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-তে এখনও পর্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। শতাধিক আক্রান্ত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে। অনেক রোগীর মৃত্যুও হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে এই অতিমারি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।

এরপরই দিল্লি ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে ইবোলা নিয়ে। কঙ্গো, উগান্ডা, সাউথ সুদানকে ‘হাই রিস্ক’ দেশ হিসাবে চিহ্নিত করেছে। এই দেশ থেকে আসা বা ট্রানজিট করা যাত্রীদের অবিলম্বে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। যদি কারোর জ্বর, মাথা ব্যথা, দুর্বলতা, পেশিতে যন্ত্রণা, বমি, ডায়ারিয়া, আচমকা রক্তপাত বা গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৩ সালে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তিনি পরিচালনা করেন ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ (Ascharya Pradeep)। আধুনিক মধ্যবিত্তের সীমাহীন লোভ আর কর্পোরেট দুনিয়ার মায়াজালকে এক ফ্যান্টাসি-স্যাটায়ারের মোড়কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন তিনি।


বুধবার যে টলিপাড়া এমন একটা দিন দেখবে তা যেন সকাল থেকে আন্দাজ করতে পারেননি কেউ। হঠাৎই শোকের খবর। প্রয়াত টলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক অনীক দত্ত। তাঁর মৃত্যু ঘরে রহস্যের ধোঁয়া। বুধবার প্রথমে খবর পাওয়া যায়, ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন অনীক। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় পরিচালকের।

সমকালীন বাংলা চলচ্চিত্রে যখন ফর্মুলা ছবির একঘেয়েমি আর সস্তা মেলোড্রামার ভিড়, ঠিক তখনই এক ঝলক টাটকা বাতাসের মতো আগমন ঘটেছিল অনীক দত্তর ছবির। টলিউডের মূলধারার চেনা ছকটাকে ভেঙে চুরমার করে, তীক্ষ্ণ রসবোধ আর বুদ্ধিমত্তার মিশেলে যিনি বাঙালি দর্শককে নতুন করে সিনেমা হলে টানতে বাধ্য করেছিলেন। কেবল একজন পরিচালক হিসেবে নন, চিত্রনাট্যকার এবং গীতিকার হিসেবেও বাংলা সিনেমার আঙিনায় তিনি নিজের এক স্বতন্ত্র ঘরানা তৈরি করেছেন।


রহস্যজনক! ছাদ থেকে পড়েগুরুতর আহত বাংলার প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্ত
Parambrata Chattopadhyay: এবার গ্রেফতারির ভয়! আদালতে দৌঁড়লেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়
২০১২ সালে এক অভাবনীয় ধামাকা দিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে অনীক দত্তের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তাঁর প্রথম ছবি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ (Bhooter Bhabishyat) রাতারাতি ‘কাল্ট ক্লাসিক’-এর মর্যাদা পায়। কলকাতার এক পুরনো ভুতুড়ে বাড়িকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক কমেডিটি বক্স অফিসে ইতিহাস তৈরি করেছিল। ছবির সংলাপ থেকে শুরু করে প্রতিটি চরিত্রের নামকরণ এবং বাঙালি নস্টালজিয়ার সঙ্গে আধুনিক পুঁজিবাদের সংঘাত— অনীক দত্ত দেখিয়ে দিয়েছিলেন কীভাবে স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গকৌতুককে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৩ সালে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তিনি পরিচালনা করেন ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ (Ascharya Pradeep)। আধুনিক মধ্যবিত্তের সীমাহীন লোভ আর কর্পোরেট দুনিয়ার মায়াজালকে এক ফ্যান্টাসি-স্যাটায়ারের মোড়কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন তিনি। এই ছবির গানগুলোর গীতিকারও ছিলেন তিনি নিজেই, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দেয়। ২০১৭ সালে তিনি উপহার দেন থ্রিলার ছবি ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ (Meghnad Badh Rahasya)। মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্যের আবহে বোনা এই রহস্য-রোমাঞ্চ ছবিটিতে পরিচালকের মগজাস্ত্রের পরিচয় আরও একবার স্পষ্ট হয়।

২০১৯ সালে মুক্তি পায় ‘ভবিষ্যতের ভূত’ (Bhobishyoter Bhoot), যা নানা রাজনৈতিক বিতর্কের মুখোমুখি হলেও পরিচালকের আপসহীন মানসিকতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এর ঠিক পরের বছরই, ২০২০ সালে মুক্তি পায় ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ (Borunbabur Bondhu)। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত এই ছবিটিতে এক একাকী, নীতিবান বৃদ্ধের জীবনের জটিল সামাজিক ও পারিবারিক মনস্তত্ত্বকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছিলেন পরিচালক।

তবে অনীক দত্তের চলচ্চিত্র জীবনের অন্যতম সেরা কীর্তি হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ২০২২ সালের ‘অপরাজিত’ (Aparajito) ছবিটি। কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের শতবর্ষে এটি ছিল পরিচালকের এক পরম শ্রদ্ধার্ঘ্য। সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির নেপথ্য লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সাদা-কালো বায়োগ্রাফিক্যাল ড্রামাটি দেশ-বিদেশে বিপুল প্রশংসা কুড়োয়। জীতু কামালের মধ্যে ‘অপরাজিত রায়’ হিসেবে সত্যজিৎ রায়কে পুনরুজ্জীবিত করার যে সাহস ও মুন্সিয়ানা অনীক দত্ত দেখিয়েছেন, তা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে স্মরণীয়।

থামবার পাত্র যে তিনি ছিলেন না, তা প্রমাণিত হয় ২০১৫ সালে তাঁর নতুন গোয়েন্দা থ্রিলার ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ (Joto Kando Kolkatatei)-এর হাত ধরে। ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই এই ছবিটি নিয়ে সিনেমা-অনুরাগীদের মধ্যে তুমুল উন্মাদনা তৈরি হয়। এই ছবিতেও নিজের স্টাইলের স্বাক্ষর রেখেছিলেন অনীক দত্ত।

অনীক দত্তের সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি হল তার মাটির কাছাকাছি থাকা শিকড়ের টান এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সিনেমাটিক ল্যাঙ্গুয়েজ। তাঁর প্রতিটি ছবিই যেন সমাজকে আয়না দেখায়, কিন্তু তা কখনও মেলোড্রামাটিক বা একঘেয়ে উপদেশমূলক হয়ে ওঠে না; বরং তা হয় বুদ্ধিমত্তার রসে সিক্ত। বাঙালি সংস্কৃতির রেনেসাঁকে সেলুলয়েডে ধরে রাখার এই যে অনলস প্রয়াস, তা অনীক দত্তকে সমসাময়িক টলিউডের অন্যতম সেরা এবং ব্যতিক্রমী ‘অট্যুর’ (Auteur) বা চলচ্চিত্রকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। সেই অধ্যায়ই যেন আচমকা শেষ হয়ে গেল।

মেয়র পারিষদ তারক সিং টিভি ৯ বাংলাকে বলেন, "আমি এটা ভাঙন বলে মানি না। এখন দলের যাঁরা নেতৃত্বে আছেন তাঁদের বসা উচিত বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে। আলোচনা করা উচিত এই বিক্ষুব্ধরা তৃণমূলে থাকবেন কি থাকবেন না। দল দ্বিধা বিভক্ত নিশ্চয়। এই নেতৃত্বকে মানব কি মানব না এটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে।"


মঙ্গলে মমতা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজের নির্দেশ দিয়েছিলেন, বুধের সকালে ইস্তফা দিতে হাজির অরূপ-সুশান্ত
অরূপ চক্রবর্তী-সুশান্ত

তৃণমূলের রক্তক্ষরণ অব্যাহত। এবার ভাঙন কলকাতা পুরসভায়। জানা যাচ্ছে, পুরসভার দায়িত্বে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূরণ পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে দেবলীনা বিশ্বাস এই চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। আর এবার পদ ছাড়লেন সুশান্ত ও অরূপরা।


কী কী পদ ছাড়লেন?


 প্রকাশিত হল অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম, করে ফেলুন অ্যাপ্লাই
জানা যাচ্ছে, ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত। পাশাপাশি ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির’ পদ ছাড়ছেন অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে ৯ নম্বর বোরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা। তবে সূত্রের খবর, শুধু দেবলীনা-অরূপ কিংবা সুশান্ত নয় আরও অনেকেই পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর।


গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। তাঁদের ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে পরের দিনই দেখা গেল উল্টো ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেছিলেন, “আপনারা বসে আছেন কেন? কেন এখনও রাস্তায় নামছেন না? আপনারা ভুলে যাচ্ছেন কেন, আপনাদের বোর্ড এখনও নির্বাচিত। তাই মানুষের পরিষেবা দিন। রাস্তায় নামুন।” ঠিক এই ভাষাতেই পুনরায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মেয়র পারিষদ তারক সিং টিভি ৯ বাংলাকে বলেন, “আমি এটা ভাঙন বলে মানি না। এখন দলের যাঁরা নেতৃত্বে আছেন তাঁদের বসা উচিত বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে। আলোচনা করা উচিত এই বিক্ষুব্ধরা তৃণমূলে থাকবেন কি থাকবেন না। দল দ্বিধা বিভক্ত নিশ্চয়। এই নেতৃত্বকে মানব কি মানব না এটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে।”

সজল ঘোষের কী বক্তব্য

তিনি বলেন, “খবর হওয়ার জন্য এইসব করছেন। যদি ছাড়ার থাকে তবে কাউন্সিলর পদ ছাড়ুন। তৃণমূল ছাড়ুন। মরার চুল কেটে কি আর মরার ওজন কমানো যায়?”

সুশান্ত ঘোষ বলেন, "সুশান্ত ঘোষ: কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতারা এখন কোথায়? গত পনেরো বছর দলের সঙ্গে লড়েছি। ২০ সালে আমার উপর আক্রমণ হয়। চব্বিশ সালে আক্রমণ হয়। অবাক ব্যাপার, আমার সরকার ঠিকল করে তদন্ত করেনি। অদ্ভুত ভাবে প্রধান দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি নিজের পার্সোনাল আইনজীবীর সাহায্য় নিয়ে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব এই তদন্তটা দেখতে।"

বড় বড় মন্ত্রীরা Z প্লাস নিয়ে ঘুরতেন এখন কই? কেষ্ট-বিষ্টুরা কই?', পদ ছাড়ার পর প্রশ্ন অরূপ-সুশান্তদের
অরূপ চক্রবর্তী ও সুশান্তর বৈঠক


কলকাতা পুরনিগমের গুরুত্বপূরণ পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। জানা যাচ্ছে, ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত। পাশাপাশি ‘মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির’ পদ ছাড়ছেন অরূপ চক্রবর্তী। এর আগে ৯ নম্বর বোরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা।


কেন পদ ছাড়লেন সুশান্ত-অরূপরা? কী কী বললেন একনজরে?



প্রকাশিত হল অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম, করে ফেলুন অ্যাপ্লাই
ভারতেও ঢুকে পড়ল ইবোলা ভাইরাস? উগান্ডা থেকে আসা মহিলার শরীরে উপসর্গ, এখন কী অবস্থা?
সুশান্ত ঘোষ: অন্য় রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে। যাঁদের মানুষ ক্ষমতায় এনেছেন তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। এখনও আমরা পরিষেবা দিচ্ছি। তাঁদের জন্যই কাউন্সিলর পদ রেখে দিলাম।

সুশান্ত ঘোষ: এই রেজাল্ট কাম্য ছিল না। আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১৫০ ছেলে পাড়া ছাড়া। গত কয়েকদিনে যে সকল বড় বড় মন্ত্রীরা Z প্লাস-Y প্লাস নিয়ে ঘুরে বেড়াতে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। এক-একজনের বড় বড় জেলার দায়িত্ব ছিল। এদের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। বিজেপিকে ধন্যবাদ। ওদের জন্য অনেককে ঘরে ফেরাতে পেরেছি। বাকিদের ফিরিয়ে আনলে আমাদের দায়িত্ব শেষ।

সুশান্ত ঘোষ: আমি এখনও দলের কর্মী। দল আন্দোলনের ডাক দিলে এখনও আছি।

অরূপ চক্রবর্তী: দল মানে কারা? মমতাদি অভিষেক ছাড়া বাকি নেতৃত্ব কই? বাকি কেষ্টু-বিষ্টুরা কই?যাঁদের কনভয়ের আগে চারটে পাঁচটা করে গাড়ি থাকে? তাঁরা কই। আজ জনাদেষ আমাদের বিপক্ষে গেছে আমাদের মানতে হবে। হার স্বীকার করতে হবে। ছাব্বিশের হার না মানা মানে বাকি জয়গুলো মিথ্যা হয়ে যায়। এটাই মানতে হবে। গণতন্ত্রে মানুষের রায় মান্যতা দিতে হবে।

অরূপ চক্রবর্তী: আমি কয়েকটা পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। কেউ ক্ষমতায় সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবে না। সিপিএম ভেবেছিল থাকবে এখন নেই। মমতার বাড়িতে রবীন্দ্র-জয়ন্তী অনুষ্ঠান হচ্ছে, তখন সেই সেলিব্রেটিরা কোথায়? নিচুতলার কর্মীরা মুখ বুজে দাঁড়িয়েছি।

অরূপ চক্রবর্তী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ হেরেছেন। কিন্তু মমতাদিকে মূল্যায়ন করার ধৃষ্টতা আমাদের নেই। ওঁর প্রতি এখনও মানুষের আবেগ আছে।

সুশান্ত ঘোষ: কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতারা এখন কোথায়? গত পনেরো বছর দলের সঙ্গে লড়েছি। ২০ সালে আমার উপর আক্রমণ হয়। চব্বিশ সালে আক্রমণ হয়। অবাক ব্যাপার, আমার সরকার ঠিকল করে তদন্ত করেনি। অদ্ভুত ভাবে প্রধান দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি নিজের পার্সোনাল আইনজীবীর সাহায্য় নিয়ে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব এই তদন্তটা দেখতে।


 গুরুতর আহত হন অনিক। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় পরিচালকের। সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার স্ত্রীয়ের গড়িয়াহাটের বাড়িতেই ছিলেন অনিক। সেই বাড়ির ৬ তলার ছাদ থেকেই পড়ে গুরুত আহত হন।


টালিগঞ্জে শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনী চলচ্চিত্রের পরিচালক অনীক দত্ত। ভূতের ভবিষ্যৎ সিনেমার মাধ্যমে ফিচার ফিল্মে আত্মপ্রকাশ অনীকের । তার আগে বিজ্ঞাপনী জগতে তাঁর উজ্জ্বল অতীত রয়েছে অনীক দত্তর। সম্প্রতি সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালীর নির্মাণের গল্প নিয়ে অপরাজিত পরিচালনা করে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।


বুধবার প্রথমে খবর পাওয়া যায়, ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন অনীক। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় পরিচালকের। সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বুধবার গড়িয়াহাটের বাড়িতেই ছিলেন অনীক । সেই বাড়ির ৬ তলার ছাদ থেকেই পড়ে গুরুত আহত হন এবং হাসপাতালে নিয়ে যেতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। যেখানে পড়েছেন সেই জায়গা কর্ডন হয়েছে। পড়ে গিয়েছেন নাকি কেউ ঠেলে দিয়েছে তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। জানা গিয়েছে, পরিচালকের মেয়ে থাকেন বিদেশে। তিনি এলেই দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।



আমার সবচেয়ে বেশি বিঁধছে ...',কী বললেন অনীক দত্তর শেষ ছবির নায়ক আবির?
কেরিয়ারের শুরু থেকে অবশ্য সরাসরি ফিচার ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তিনি। বিজ্ঞাপনের জন্যই ছবি বানাতে বানাতেন। তবে বড়পর্দায় পরিচালক হিসেবে প্রথম ব্রেক তাঁর ভূতের ভবিষ্যৎ। প্রথম ছবিতেই অনীক বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর পরিচালনার মুন্সিয়ানা। ভূতের ভবিষ্যত বাংলা ছবির ক্ষেত্রে মাইলস্টোন। স্যাটারায়কে সঙ্গী করে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতিকে তুলে ধরেছিলেন অনীক । এরপর অনীক তৈরি করেন আশ্চর্য প্রদীপ, মেঘনাদবধ রহস্য, ভবিষ্যতের ভূত, বরুণ বাবুর বন্ধু, অপরাজিত। গত পুজোতে মুক্তি পায় অনীকের শেষ ছবি, যত কাণ্ড কলকাতাতেই।


 সাক্ষাৎকারে বললেন, "আমি ভোট রাজনীতিতে আর থাকবো না। ভোট এ দাঁড়াব না। বিশেষ করে চন্দননগরে এই ঘটনার পর...আমার কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ভোট রাজনীতি সম্বন্ধে। শিল্পীরা অনেক সেনসিটিভ। অল্পেতে তাঁরা কেঁদের ফেলেন অল্পে তাঁরা হাসেন। এটা আজ পর্যন্ত অন্তত তাই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কাল কি হবে জানি না (হেসে ) 

অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে...আজ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত, কাল কী হবে জানি না', কী সিদ্ধান্ত ইন্দ্রনীলের?
কী বক্তব্য ইন্দ্রনীলের?

 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যতদিন প্রশাসনিক প্রধান ছিলেন, ততদিন তাঁর ঠিক আশপাশে যাঁদের দেখা যেত তাঁদের মধ্যে অন্যতম চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। গানের জগত থেকে এসে তাঁক রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে। তারপর টানা দু’বার চন্দননগরের বিধায়ক ছিলেন। হয়েছেন মন্ত্রীও। বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে মমতা-ইন্দ্রনীলকে একসঙ্গে গান গাইতে বহুবার শুনেছেন বাংলার মানুষ। তবে, এবারের ভোটে জিততে পারেননি তিনি।রাজ্যের অন্য জায়গার মতোই চন্দননগরও দখল করেছে বিজেপি। এবার কী করবেন ইন্দ্রনীল? আজ টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করলেন সেই কথাই।


বাংলার রাজনীতিতে সরকার বদল হতেই দলের নেতাদের অনেকেই বেসুরো গাইছেন। নিচুতলার অনেক কর্মী প্রশ্ন করেছেন, কেন আগের বড়-বড় মন্ত্রী নেতাদের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না? তাঁরা কোথায় গেলেন? এই রকমই চর্চার কেন্দ্রেও রয়েছেন ইন্দ্রনীল নিজেও। তবে তিনি জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তবে, আপাতত, গান নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন তিনি।




ইন্দ্রনীল বলেন, “আমি রাজনীতিতে রয়েছি, কিন্তু আমি রাজনীতিবিদ নই। । দুটোতে তফাৎ আছে। আমায় বাংলার মানুষ গায়ক হিসাবে চেনে, শিল্পী হিসাবে চেনে। আমি যখন ভোটে দাঁড়াই তখন আমায় মানুষ বিধায়ক করেছেন। এই সম্মান আমায় দল দিয়েছে। আমি উপভোগ করেছি।” তাঁর আরও সংযোজন, “আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। হয়ত কিছু পেরেছি, হয়ত অনেকটা পারিনি। কাউকে দোষারোপ করব না। আমি শিল্পী হিসাবে গান বাজনা চালাব। শিল্পী হিসাবে লেখক-সাহিত্যিক-কবি-নাট্যকার-গায়কের দায়িত্ব আছে। আমি তাই করব।”

ভোটে কি আর লড়াই করবেন না ইন্দ্রনীল?

 দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, “আমি ভোট রাজনীতিতে আর থাকবো না। ভোট এ দাঁড়াব না। বিশেষ করে চন্দননগরে এই ঘটনার পর…আমার কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে ভোট রাজনীতি সম্বন্ধে। শিল্পীরা অনেক সেনসিটিভ। অল্পেতে তাঁরা কেঁদে ফেলেন অল্পে তাঁরা হাসেন। এটা আজ পর্যন্ত অন্তত তাই সিদ্ধান্ত। কিন্তু কাল কি হবে জানি না (হেসে )

তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ থাকবে?

ইন্দ্রনীল বলেন, “আমার সকলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। ছোটবেলার বন্ধ যাঁরা রাজনৈতিক ভাবে অন্য মতবাদে বিশ্বাসী তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। এটা তো আত্মিক ব্যাপার।”

চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি আন্তর্জাতিক স্তরের শৈল্পিক মঞ্চে একজন রাজনীতিক তথা মুখ্যমন্ত্রীর এমন অতি-প্রচারে তীব্র আপত্তি জানান অনীক দত্ত। তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন, চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার কলাকুশলী বা চলচ্চিত্র জগতের দিকপালদের ছবি থাকা উচিত, কোনও রাজনৈতিক নেত্রীর নয়। পরিচালকের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি নবান্ন এবং শাসক শিবিরের অন্দরমহল।

মমতার ছবি দেখে চটে গিয়েছিলেন অনীক, কী ঘটেছিল পরিচালকের 'ভবিষ্যৎ' ঘিরে?
আকাশ মিশ্র


টলিউডের চলচ্চিত্র মহলে পরিচালক অনীক দত্ত বরাবরই এক স্পষ্টবক্তা এবং আপসহীন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে বামপন্থী মনস্ক এই পরিচালকের সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংঘাতের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং বহুল চর্চিত। কেবল সিনেমার পর্দা নয়, একাধিকবার প্রকাশ্য মঞ্চেও সরাসরি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পিছপা হননি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ খ্যাত এই পরিচালক। আর সেই প্রতিবাদের জেরেই বারবার প্রাক্তন শাসকদলের কুনজরে পড়তে হয়েছে তাঁকে, যার খেসারত দিতে হয়েছিল তাঁর সিনেমাকেও। যদিও অনীককে নিয়ে কখনই একটা শব্দও খরচ করেননি মমতা।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনীক দত্তর এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ২০১৮ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (KIFF) একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নন্দন চত্বরে চলচ্চিত্র উৎসবের সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চারিদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশাল বিশাল ছবি এবং হোর্ডিং দেওয়া হয়েছিল। চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি আন্তর্জাতিক স্তরের শৈল্পিক মঞ্চে একজন রাজনীতিক তথা মুখ্যমন্ত্রীর এমন অতি-প্রচারে তীব্র আপত্তি জানান অনীক দত্ত। তিনি প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেন, চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমার কলাকুশলী বা চলচ্চিত্র জগতের দিকপালদের ছবি থাকা উচিত, কোনও রাজনৈতিক নেত্রীর নয়। পরিচালকের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই ভালোভাবে নেয়নি নবান্ন এবং শাসক শিবিরের অন্দরমহল।


 পুলিশের হাতে অনীক দত্তর সুইসাইড নোট, হাতের লেখা মেলাতে পাঠানো হল ফরেন্সিকে, কী লেখা ছিল?
এই বিতর্কের আঁচ গিয়ে পড়ে পরিচালকের কর্মজীবনেও। অন্তত পরিচালকের ঘনিষ্ঠরা এটাই মনে করেন। ২০১৯ সালে মুক্তি পায় অনীক দত্তর বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। ছবিটির বিষয়বস্তু ছিল তীব্র রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্যাটায়ার, যেখানে পরোক্ষভাবে সমকালীন রাজনীতির নানা দিককে তীব্র ব্যঙ্গ করা হয়েছিল। কিন্তু মুক্তির মাত্র একদিন পরেই কলকাতার প্রায় সমস্ত মাল্টিপ্লেক্স এবং সিনেমা হল থেকে রহস্যজনকভাবে নামিয়ে দেওয়া হয় ছবিটি। অগ্রিম টিকিট কেটেও দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই এভাবে ছবি প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে।

সে সময় সায়নী ঘোষ ছবিটির ওপর এই অনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস-এর সামনে চলচ্চিত্র প্রেমী ও বুদ্ধিজীবীদের আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে সায়নী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে শিল্পের টুঁটি চিপে ধরা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি কোনও ছবি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়ে আইনিভাবে মুক্তি পায়, তবে কোন অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে হল মালিকেরা রাতারাতি সেই ছবি নামিয়ে দিতে বাধ্য হন? তবে সেই সময় তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেও, সেই সায়নী ঘোষ, সময় এগোতেই পট পরিবর্তন করেন। তিনি এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।

সিনেমা মহল থেকে শুরু করে আমজনতা— সকলেই একযোগে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন এবং একে ‘ফ্যাসিবাদী মানসিকতা’ ও ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগের তির সরাসরি ওঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের দিকে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হল থেকে ছবি নামানোর পেছনে কোনও অফিসিয়াল কারণ দেখানো হয়নি, তবে ওয়াকিবহাল মহলের বুঝতে বাকি ছিল না যে চলচ্চিত্র উৎসবে মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টার নিয়ে অনীক দত্তর করা মন্তব্য এবং ছবির ভেতরের রাজনৈতিক চাবুকই এই ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’র আসল কারণ।

পরবর্তীকালে এই জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। দেশের সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে এবং ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবিটির প্রদর্শন পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রযোজকদের কুড়ি লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও আদেশ দেয়। আইনি লড়াইয়ে অনীক দত্ত জয়ী হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তাঁর এই সংঘাত টলিউডের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে থেকে গিয়েছে।

মঙ্গলবার শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্যের অভিযোগ। ‘গন্দা’ ধর্ম বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবি। সেই কারণেই দায়ের হয়েছিল মামলা।


 মমতার পর ফের একবার অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হল FIR
অভিযোগ দায়ের


এবার ভবানীপুর থানায় (bhowanipur) তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে এফআইআর। উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে থানায় এফআইআর করলেন অর্ণবকান্তি দাস নামে জনৈক এক ব্যক্তি। তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় অপব্যবহারের অভিযোগ। এর আগেও উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।


অর্ণবকান্তি দাস ভবানীপুরের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারে এই ধরনের কাজ করেছেন অভিষেক। সমাজ-মাধ্যমে তিনি ঘৃণা ছড়িয়েছেন। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় এই ধরনের মন্তব্য় করেছেন তার একটি প্রতিলিপিও অর্ণবাবু দিয়েছেন।



 বড় খবর, মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের থানায়
অভিষেকের কোন মন্তব্যের জন্য FIR?

অর্ণবকান্তি দাসের মতে ২ মে অভিষেক নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, “১০ বার জন্মালেও আপনাদের ‘বাংলা বিরোধী গুজরাটি গ্যাং’ আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলের ছিটেফোঁটাও ক্ষতি করতে পারবে না।” অভিষেকের এই মন্তব্যের জন্যই এবার ভবানীপুর থানায় নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।


ভোটের প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি প্রধান এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৬টি ধারায় অভিযোগ আনা হয়। রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মী বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

মমতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের

মঙ্গলবার শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ সালে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্যের অভিযোগ। ‘গন্দা’ ধর্ম বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলে দাবি। সেই কারণেই দায়ের হয়েছিল মামলা।

বুধবার কাউন্সিলরদের পদত্যাগ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল যখন সংসদ নির্বাচনে ভালো ফল করেছিল, তখন বিজেপির কোনও নেতা পদত্যাগ করেননি। একই সঙ্গে ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।


কার মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল কে জানে!' সরাসরি 'অভিষেকই দায়ী...', বলে দিলেন কল্যাণ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

দল হেরে যাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের (TMC) অভ্যন্তরে মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেকে। শুধু বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করাই নয়, ইতিমধ্যেই দলের বিভিন্ন পদে ইস্তফা দিতে শুরু করেছেন নেতা-নেত্রীরা। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের সব পদ ছেড়ে দিয়েছেন। বরো চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছেন সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর মতো নেতারা। দলের এই পরিস্থিতি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে সরাসরি দায়ী করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়।


‘ওরা তো পদত্যাগ করেনি’
বুধবার কাউন্সিলরদের পদত্যাগ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূল যখন সংসদ নির্বাচনে ভালো ফল করেছিল, তখন বিজেপির কোনও নেতা পদত্যাগ করেননি। কার্যত তুলনা টেনে কল্যাণ বলেন, “পাঁচ বছরের জন্য মানুষ নির্বাচিত করে। ২০২৪-এ যখন আমরা অনেক সিট পেয়েছিলাম, তখন কি বিজেপি কেউ পদত্যাগ করেছিল? নেতা তো আমরা ছিলাম না, নেতা তো ওরা ছিল।”


অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে...আজ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত, কাল কী হবে জানি না', কী সিদ্ধান্ত ইন্দ্রনীলের?


মঙ্গলে মমতা ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজের নির্দেশ দিয়েছিলেন, বুধের সকালে ইস্তফা দিতে হাজির অরূপ-সুশান্ত
‘অভিষেকই দায়ী’
দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে অভিহিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হাবেভাবে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এবার সরাসরি তাঁর দিকে দায় ঠেললেন কল্যাণ। নেতাদের এই পদত্যাগের হিড়িক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, “আসলে রাজনীতির সঙ্গে জীবনে এদের কোনওদিন সম্পর্ক ছিল না। সুশান্ত অনেক পুরনো লোক। বাকি সব ২০১১-র পর বড় বড় নেতা হয়েছে। এদের বড় নেতা করার জন্য অভিষেক দায়ী।”


একই সঙ্গে ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। কল্যাণ বলেন, “দলে অবজারভার পদ তুলে দিয়ে, আইপ্যাক নিয়ে এসে দলের সব গেল। এই আইপ্যাক নিয়ে আসা কার মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল কে জানে! ২০২১-এর পর অবজারভার পদ তুলে দিয়ে আইপ্যাকের হাতে সব তুলে দেওয়া হল।” তিনি এও জানান, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় তিনি ও মহুয়া মৈত্র আইপ্যাকের সাহায্য নেননি।

 তাড়াহুড়ো করে ফর্ম ফিল আপ করার প্রয়োজন নেই। সময় নিয়ে ফর্ম ফিল আপ করার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনলাইনে ও অফলাইনে ফর্ম ফিল আপ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম পূরণের একটা প্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম ফিল-আপ করানো হবে, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করলেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী (ফাইল ছবি)


বেআইনিভাবে প্রায় ৩০ লক্ষ সুবিধাভোগী রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে। অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) ফর্ম প্রকাশ করতে গিয়ে এই তথ্য জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খতিয়ে দেখে সেই সব নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে, সিএএ আওতাধীন ও ট্রাইবুনালে আবেদনকারীরা ব্যতিক্রম বলে জানিয়েছেন তিনি।


তাড়াহুড়ো করে ফর্ম ফিল আপ করার প্রয়োজন নেই। সময় নিয়ে ফর্ম ফিল আপ করার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনলাইনে ও অফলাইনে ফর্ম ফিল আপ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম পূরণের একটা প্রক্রিয়া চলবে বলে জানানো হয়েছে।


প্রকাশিত হল অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম, করে ফেলুন অ্যাপ্লাই
Annapurna Bhandar Scheme: যত তাড়াতাড়ি ফর্ম ফিল-আপ, তত তাড়াতাড়ি ঢুকবে ৩০০০ টাকা! অন্নপূর্ণা নতুন ফর্ম কোথায় পাবেন? বড় ঘোষণা নবান্নের


মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্কিমে অনেক ‘বেনোজল’ ঢুকে আছে। এমনকী অনেক পুরুষও ওই যোজনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ শুভেন্দুর। সেই সব গ্রাহকদের বাদ দেওয়ার কাজ করছে প্রশাসন। শুভেন্দু বলেন, “একদিনেই সবাই ফর্ম ফিল আপ করতে পারবেন না। যতক্ষণ ফর্ম ফিল আপ না করবেন, ততক্ষণ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। এনরোলমেন্ট করা হয়ে গেলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার শুরু হবে।”


যাঁরা অতিরিক্ত ইনকাম ট্যাক্সের আওতার মধ্যে পড়েছেন, তাঁরা বাদ যাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, কোনওভাবেই প্রকৃত প্রাপক ছাড়া যাতে সুবিধা না পায়, সেটা নিশ্চিত করতে চাই।”

কবে থেকে মিলবে টাকা
বুধবার নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠক আছে, তারপরই দেওয়া হবে টাকা। তবে ১ জুন থেকেই আদতে পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ৩ জুনের মধ্যেও ফর্ম পূরণ মা হলে, যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢোকে, সেটা ঢুকবে।

কোথায় পাবেন ফর্ম
বুধবার সন্ধ্যায় অনলাইনে ফর্ম দিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া অফলাইনেও ফর্ম পূরণ করা ।যাবে। পরে ৩০ দিন ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিল আপ করানোর একটা প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি আরও বলেন,”আমাদের যে জনকল্যাণ শিবির হচ্ছে ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন তারিখে, সেখানেও ফর্ম ফিল আপ করার বা সহযোগিতা করার জায়গা থাকবে। কেউ যদি এই ফর্মের কোনও একটি ক্লজ বা কোনও একটি বিষয়ে কনফিউশনে থাকেন, সেটাও ঠিক করতে পারবেন।”

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই নিয়ে তিনখানা কবিতা লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এর আগে 'দখল' কবিতায় উল্লেখ ছিল বুলডোজার প্রসঙ্গ। আর এবার 'গিরগিটি' কবিতায় একদল নেতাকেই বার্তা দিলেন তিনি? প্রশ্ন উঠছে।

কত নেবে চরিত্র বদলাতে?... ফল পাবে', এবার 'গিরিগিটি'দের উদ্দেশে কবিতা লিখলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

পরাজয়ের পর লেখা দ্বিতীয় কবিতায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় যে বিজেপি ছিল, তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয়নি। তবে এবার নতুন কবিতা লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যাঁদের নিয়ে এতদিল দল চালিয়েছেন, যাঁদের সৈনিক হিসেবে সামনে রেখেছেন, তাঁদেরই ‘গিরগিটি’ বললেন মমতা? বুধবার সন্ধ্যায় যে কবিতা তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, তাতে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


‘গিরগিটি’ শিরোনামে লেখা ওই কবিতা পোস্ট করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথম লাইনেই লেখা, ‘গিরগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর।’ কবিতার ছত্রে ছত্রে তাঁদেরকেই বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাঁরা ঘণ্টায় ঘণ্টায় ভোল বদলায়। এমনকী কেউ কেউ টাকা নিয়ে ভোলবদল করছেন, এমন ভাবনাও জায়গা পেয়েছে তাঁর কলমে। কবিতায় তিনি লিখছেন, ‘আর কত নেবে চরিত্র বদলাতে?/ আর কত চাও? নিজেদের ভোল বদলাতে?’

পরপর নেতাদের বিস্ফোরক মন্তব্য, পদ ছাড়ার হিড়িক দেখেই কি এই কবিতা লিখলেন মমতা? দলের সব পদ ছেড়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বরো চেয়ারম্যান পদে আজ, বুধবারই ইস্তফা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের নেতা তথা মেয়র পারিষদ সুশান্ত ঘোষ। ওই একই পদ ছেড়েছেন তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও। যে নেতাকে গত কয়েক বছর ধরে সংবাদমাধ্যমে তৃণমূলের হয়ে গলা ফাটাতে দেখা গিয়েছে, সেই নেতার গলাতেই আজ দলের তীব্র সমালোচনা শোনা গিয়েছে। তাই কি অভিমানী মমতা?


তবে কবিতার শেষে সতর্ক করেছেন মমতা। একদিন যে ফল পেতেই হবে, সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ‘ফল পাবে, ধৈর্য ধর, শীঘ্রই উত্তর পাবে’, এমনটাই লিখেছেন তিনি। এর আগে দখল নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন। তাতে মূলত বুলডোজার, অত্যাচারের কথা উল্লেখ করেন মমতা। প্রশ্ন তোলেন, ‘শতশত গ্রেপ্তার কেন? মানুষ কেন আতঙ্কিত?’ আর এবার রঙ বদলানো নেতাদের জন্য কার্যত খোলা চিঠি লিখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।