May 2026
 
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আইসএফের রুচি নেই, ধর্ষক নেতার রুচি কি হবে! ভোট পর্ব শেষ হতে  সওকত মোল্লা সাংবাদিকদের সামনে সরাসরি আইএসএফকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “আইএসএফের নেতারা এমন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত যে, তাদের রুচি নিয়ে বলার কিছু নেই। এক নেতা মহিলার সঙ্গে তিন বছর মেলামেশা করার পর ছেড়ে দিয়েছে এবং ধর্ষণের অভিযোগেও জড়িত।”



শওকত মোল্লা আরও বলেন, দলের নেতাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। “আমার মাথা এসব নিয়ে ব্যথিত নয়, আমি জনগণের জন্য কাজ করতে চাই,” তিনি বলেন।

তিনি আইএসএফের সমর্থকদের নাচানাচি ও বিতর্কিত প্রচার কৌশলকেও লক্ষ্য করেছেন। “মাছচোর নিয়ে গান গাওয়া এবং প্রকাশ্যে নাচানো—এগুলো দলের শোভা বৃদ্ধি করে না, বরং তাদের রুচি ও নৈতিক মানের প্রশ্ন তোলে,” সওকত মোল্লা উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে চাই না, তবে জনগণ যেন বুঝতে পারে, কোন দলের নেতারা কি ধরনের আচরণে লিপ্ত। আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র সুষ্ঠু নির্বাচন এবং জনগণের স্বার্থ।”

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের চারটি বুথে পুনর্নির্বাচন চলছে। গত ২৯শে এপ্রিল ভোট চলাকালীন বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছিল যে,


ইভিএম মেশিনে তাদের প্রতীকের ওপর টেপ মেরে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোটাররা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে পারছিলেন না। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ওই চারটি বুথের ভোট বাতিল করে আজ নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেয়।


 সকাল থেকেই বুথগুলির সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়ছে। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি বুথে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশন জানিয়েছে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।

ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও অবজার্ভার। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন বলে জানালেন স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত। 


ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, ফলতা ও মগরাহাট পশ্চিমের স্ক্রুটিনি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং সেই প্রক্রিয়া আজ রাতেও চলবে। বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 



সমস্ত ফুটেজ পর্যবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে আগামীকাল সকালেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ফলতা, মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবারের কিছু এলাকায় সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলি যাচাই করে বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশনে পাঠানো হবে।


ভোটের আবহে ফের উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। বিজেপির এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হলো ফলতার হাসিম নগরে। 


ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়কের ওপর বিশালাকার কাঠের গুঁড়ি ফেলে পথ অবরোধে শামিল হন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, হাসিম নগর এলাকায় এক বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগের তির শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা।

 অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা হাসিম নগরে রাস্তার ওপর কাঠের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর ফলে জাতীয় সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। তিনি সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন যে, এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি সাফ জানান, দোষীদের শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

কালবৈশাখী ঝড়ে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের বিস্তীর্ণ কৃষি এলাকা। গতকাল রাতে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে চলা বজ্রবিদ্যুৎসহ মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন স্থানীয় ধান ও পান চাষীরা। 


বর্তমানে সাগরে বোরো ধান কাটার মরসুম চলছে। চাষীদের অভিযোগঅনেক চাষী ধান কেটে শুকানোর জন্য মাঠেই রেখেছিলেন। আকস্মিক বৃষ্টিতে সেই ধান এখন জলের তলায়।
মাঠের দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ধানের গাছ ঝোড়ো হাওয়ায় নুইয়ে পড়েছে। জমিতে জল জমে যাওয়ায় পাকা ধানে মই পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা দ্রুত না সরালে ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 


শুধু ধান নয়, ঝড়ের দাপটে সাগরের একাধিক পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় বরজের কাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং বৃষ্টির জলে পানের লতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে চাষীদের। "বছরের এই সময়টার রোজগারের ওপর আমাদের সারা বছর চলে। এক রাতের বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল," আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এক স্থানীয় কৃষক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে দ্রুত সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন ঋণের দায়ে পড়ার দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে সাগরের কয়েকশ পরিবারের।