May 2022





সারা হয়ে গিয়েছিল বাগদান পর্ব (Engagement)। বিয়ের বাকি ছিল আর মাত্র কয়েকটা দিন। কিন্তু তার আগে, আজ শেষযাত্রায় (last rite) পাড়ি দিলেন পঞ্জাবের  (Punjab) জনপ্রিয় গায়ক ও রাজনীতিক সিধু মুসেওয়ালা (Sidhu Moosewala)। 

সামনেই ছিল সিধুর বিয়েগত ২৯ মে, রবিবার, প্রকাশ্যে নিজেরই গ্রামে গুলি করে খুন করা হয় সিধু মুসেওয়ালাকে। ২৮ বছর বয়সী এই গায়কের বাগদান হয়ে গিয়েছিল। পাত্রী সঙ্গরুর জেলার সঙ্ঘরেরি গ্রামের। পরের মাসে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। চারহাত এক করে, সুখে সংসারের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। 

পরিবার সূত্রে খবর, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাগদত্তা আমনদীপ কৌরের (Amandeep Kaur) সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সিধুর। কিন্তু মার্চে পঞ্জাব বিধানসভা ভোটে সিধু লড়বেন বলে বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া হয়। মানসা থেকে কংগ্রেসের হয়ে লড়েন সিধু কিন্তু আম আদমি পার্টির বিজয় সিংলার কাছে পরাজিত হন।সূত্রের খবর, বিয়ের কথা দুই পরিবারই গোপন রেখেছিলেন। তবে সিধুর মৃত্যুর পর সেই খবর প্রকাশ্যে আসে। সিধুর মা একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে শীঘ্রই বিয়ে করবেন গায়ক। এখন সেই ভিডিওই ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সূত্রের আরও খবর, সিধু মুসেওয়ালার বাগদত্তা আমনদীপ কৌর কানাডায় থাকেন এবং ২ বছর আগে তাঁরা বাগদান সেরেছেন। দুই পরিবারে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি।

 







বোমা তৈরির পর তা ছবি তুলে পাঠানো হতো গ্রাহকের কাছে। গ্রাহকের পছন্দ হলে চলত দরাদরি। পুলিশ সূত্রে খবর, একবারে বেশি পরিমাণে কিনলে থাকত বিশেষ ছাড়ও।এ যেন অনলাইন খাবার ডেলিভারির কাজ। তফাৎ একটাই, খাবারের বদলে ডেলিভারি হয় বোমা। কাটোয়ার মুলটিতে এমনই এক নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস পুলিশের। জালে এক অভিযুক্ত। ধৃতের নাম মকবুল শেখ। 

কী অভিযোগ? 
নানা ধরনের বোমা (Bomb)। এক এক বোমার, এক একরকম আয়তন, এক একরকম কাজ। বোমা তৈরির পর তা ছবি তুলে পাঠানো হতো গ্রাহকের কাছে। গ্রাহকের পছন্দ হলে চলত দরাদরি। পুলিশ সূত্রে খবর, একবারে বেশি পরিমাণে কিনলে থাকত বিশেষ ছাড়ও। 

কীভাবে বেচাকেনা:
পুরো প্রক্রিয়া চলত অনলাইনেই (Online)। অনলাইনের বরাত পাঠাত ক্রেতা। দরদামও হতো। তারপর পার্সেল করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হতো বোমা। টাকাও পাঠানো হতো অনলাইনেই। 

কোন বোমার কত দাম? 
২৫০ টাকায় সুতলি বোমা, ৪৫০ টাকায় কৌটো বোমা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ধৃতকে জেরা করে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য পুলিশের হাতে।

বহুদিন ধরেই বোমার ব্যবসার খবর ছিল জেলা পুলিশের কাছে। কিন্তু কীভাবে বেচাকেনা চলছে তা বোঝা যাচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বোমা উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্তের বাড়ির শৌচালয়ের ছাদ থেকে বোমা উদ্ধার করা হয়। সুতলি বোমা, কৌটো বোমা উদ্ধার হয়। বম্ব স্কোয়াডকে ডাকা হয়েছে। অভিযুক্তের ফোন দেখতেই অভিনব পদ্ধতির পর্দা ফাঁস। সেখান থেকে তথ্য খুঁজছে পুলিশ। কোথায় তৈরি হতো বোমা, আর কারা কারা যুক্ত, কারা এসব কিনত, সেগুলো খোঁজা হবে। অর্ডার পেয়েই কী বোমা তৈরি হতো? সেক্ষেত্রে কারা বরাত দিত সেটাও খোঁজা হচ্ছে।    

কী বলছেন প্রাক্তন পুলিশকর্তারা:
রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন আইজি পঙ্কজ দত্ত বলেন, 'এটা আর তাজ্জব হওয়ায় বিষয় নয়। আমি আর অবাক হই না। এবার তো মেশিন গানও অনলাইনে পাওয়া যাবে। পুলিশ ধরেছে তাও ভাল। কারা কিনত, কীভাবে কিনত, সবই দেখতে হবে।' প্রাক্তন পুলিশ কর্তা সলিল ভট্টাচার্য বলেন, 'আর সত্যিই বলার কিছু নেই। বোমা অফুরন্ত। নতুন নতুন ঘটনা ঘটছে। বোমা তৈরি, অস্ত্র ব্যবসা, এখন কুটির শিল্প হয়ে গিয়েছে।'

শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও:
বিজেপি (BJP) নেতা রাহুল সিনহা বলেন,  'এর চেয়ে চমৎকৃত খবর সারা বিশ্বে হয়েছে কিনা জানি না। দুয়ারে রেশন, দুয়ারে সরকারের পর দুয়ারে বোমও পৌঁছে যাচ্ছে।' পাল্টা তোপ দেগেছে তৃণমূলও। তৃণমূল (TMC) নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, 'পুলিশ কাজ করছে বলেই এগুলো উদ্ধার হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হিংসা দূর করার কথা বলছেন। বিজেপির কতটা ইন্ধন রয়েছে দেখতে হবে।'

 





তখন ভোরের আলো সবেমাত্র ফুটেছে। ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) বাটা পেট্রোল পাম্পের কর্মীদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এই পেট্রোল পাম্পের সামনে পড়ে রয়েছেন খাকি উর্দিধারী এক ব্যক্তি। পরে জানা যায় তিনি ডায়মন্ড হারবার থানার এএসআই (ASI) সমীর দাস।

ঠিক যেন চোখের সামনেই ঘটে চলছে ভুল ভুলাইয়া ছবির গল্প। হঠাত্‍ করে এক ব্যক্তির শরীর থেকে অন্য মানুষের গলা বেরিয়ে আসছে, আর বলছে, "আমি অতৃপ্ত আত্মা"! আধুনিক যুগেও যেন অবাক করা কান্ড! একেবারে জল জ্যান্ত মানুষকে খেতে দেখা গেল জুতো! আর সেই জুতো খেয়ে জল খাওয়ার পর তার হুঁশ ফিরতে দেখা গেল!ভাবছেন, এই ব্যক্তির কোনও সমস্যা? নাকি গ্রামের সালিশি সভায় এইরকম নিদান দেওয়া হয়েছে? এমন আজব ঘটনা ঘটতে দেখা যায় মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার অন্তর্গত ময়ূরাক্ষী নদীর মাঝে অবস্থিত চৌতপুর বেলতলা শ্মশানে। এখানে রয়েছেন এক বাবাজি। সেই বাবাজির দরবারেই রবিবার এমন অবাক করা কান্ড দেখা যায়।

রবিবার ওই বাবাজির দরবারে রাজু দাস নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। ওই ব্যক্তির বাড়ি কান্দি শহরের ভোলানাথপুর এলাকায়। তাকে বাবাজির কাছে নিয়ে আসার কারণ হিসেবে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তার শরীরে নাকি ভর করেছে আত্মা! দাবি, একটি নয়, দু-দুটি আত্মা ভর করেছে রাজুর শরীরে। তারপর থেকেই সে বাড়িতে তাণ্ডব শুরু করে, এমন দাবি পরিবারের। তার এই ব্যাপক তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা এবং শেষমেষ ভূত তাড়াতে নিয়ে আসেন বাবাজির দরবারে।

স্থানীয়দের কথায়, ময়ূরাক্ষী নদীর মধ্যে অবস্থিত ওই বাবাজির দরবারের তলায় নাকি আত্মাদের পীঠস্থান! সেখানেই বসবাস করেন নানু সাধু। সেই নানা সাধুর মন্ত্র পড়া, জল পড়া ইত্যাদির ফলে অশরীরী আত্মার থেকে মুক্তি মেলে। রবিবারও সেই একই অবাক করা কান্ড ঘটতে দেখা গেল। রবিবার দেখা যায় রাজু দাসের ভিতরে থাকা দুই অশরীরী আত্মাকে টেনে বের করার জন্য কার্যত মুখে জুতো দিয়ে বটগাছের তলায় ছেড়ে দেন ওই সাধু। তারপরই এমন সব ঘটতে থাকে, যা ফিল্মের স্ক্রিপ্টকেও হার মানাবে!

বর্তমানে অত্যাধুনিক এবং বিজ্ঞানের যুগে এসব যে কুসংস্কার তা ভুলে গ্রাম গঞ্জের মানুষেরা এই কান্ড দেখতে হাজির হন এবং তা দেখে হতভম্ব হয়ে যান। যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞান মঞ্চের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশের (Bangladesh) কক্সবাজারে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা বৃথা। দুই রোহিঙ্গা পরিবারের মোট সাত সদস্যকে আটক করল পুলিশ। উখিয়া উপজেলার কুতুপালংয়ের লাম্বাশিয়া ক্যাম্প-১ থেকে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তাদের আটক করেছে বলে খব।১৪-এপিবিএনের এসপি নইমুল হক জানান, আটক হওয়া রোহিঙ্গারা ভারতের জম্মু-কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) থেকে পালিয়ে এসেছেন কক্সবাজারে। ধৃতদের নাম সাজান, হামিদা বেগম, ইব্রাহিম, মোহাম্মদ তাহির, আনোয়ার কলিম, সাইমা, রমিনা। এদের মধ্যে সাইমা ও রমিনা শিশু।

ধৃতরা ভারত হয়ে পালিয়ে আসার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলে দাবি। তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) মাধ্যমে কুতুপালংয়ের ট্রানজিট ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, ভারত থেকে কোনও রোহিঙ্গাকে (Rohingya) বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না। এলেও তাদের পুশব্যাক করা হবে। বিজিবিকে এ ব্যাপারে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। ভারত সরকারকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেইমতোই ভারত থেকে কক্সবাজারে (Cox's Bazar) পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ২ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন ১৬ এপিবিএন। উনচিপ্রাং ক্যাম্পের ডি ব্লকের পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উনচিপ্রাং ক্যাম্প-২৩ এর ব্লক-ডি/৩ এর ৮ বছরের এক রোহিঙ্গা শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধৃতরা লম্বাবিল এলাকায় নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। বিকেলে শিশুটি ঘরে এসে তার মাকে ঘটনা জানায়।

 

এছাড়া টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও গুলি-সহ একজনকে আটক করেছে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। এ সময় তার কাছ থেকে একটি একটি এলজি ও দুটিগুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিনেত্রী, মডেলের পর এবার মেকআপ আর্টিস্টের রহস্য মৃত্যু। শনিবার রাতে কসবায় উদ্ধার হল মেক-আপ আর্টিস্টের ঝুলন্ত দেহ। মৃতার নাম সরস্বতী দাস। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, কাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল সরস্বতীর। মেকআপের পাশাপাশি ফটোশ্যুটও করতেন তিনি। এই মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধেছে।পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায়। রিপোর্ট বলছে, আত্মহত্যা। তবুও আসল কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে আত্মহত্যা। আসল কারণ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। এদিকে উঠতি মডেল মঞ্জুষা নিয়োগীর ময়না তদন্তের রিপোর্টে আত্মহত্যার সম্ভাবনাই আরও জোরালো হল। রিপোর্টে গলায় ফাঁস লেগে শ্বাসরোধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পল্লবীদের রহস্য মৃত্যুর তদন্তে তাঁর লিভ ইন পার্টনার সাগ্নিক চক্রবর্তীর বান্ধবী ঐন্দ্রিলাকে রবিবার তলব করা হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে এদিন হাজিরা এড়িয়ে যান ঐন্দ্রিলা। তাঁর আইনজীবী হাজির হয়ে তদন্তে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরীক্ষা শেষের ৪০ দিনের মাথায় প্রকাশিত হাই মাদ্রাসার ফলাফল। প্রথম স্থানে মালদহের ছাত্রী সারিফা খাতুন। শুধু তাই নয়, প্রথম দশের ৬ পড়ুয়াই মালদহের। তবে পাশের নিরিখে প্রথম স্থানে পূর্ব মেদিনীপুর। উত্তীর্ণদের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।করোনার প্রকোপ কমতেই চলতি বছরে অফলাইনে হয়েছে হাই মাদ্রাসার পরীক্ষা। ২১ মার্চ শেষ হয়েছিল পরীক্ষা। সোমবার ৩০ এপ্রিল অর্থাত্‍ পরীক্ষা শেষের ঠিক ৪০ দিনের মাথায় প্রকাশিত হল হাই মাদ্রাসার ফল। এদিন মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ সভাপতি আবু তাহের কামরুদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। চলতি বছরে পাশের হার ৮৭.০২ শতাংশ। প্রথম স্থানে মালদহের বটতলা আদর্শ হাই মাদ্রাসার ছাত্রী সারিফা খাতুন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৭৮৬। দ্বিতীয় হয়েছেন ইমরানা আফরোজ। তিনি পেয়েছেন ৭৭৫। তৃতীয় স্থানে মহম্মদ ওয়াকিল আনসারি । তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৭৭৩।

মাদ্রাসা পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে ছাত্রীদের পাশের হার ৮৬.৭৪ শতাংশ। ছাত্ররা পাশ করেছেন ৮৭.৬০ শতাংশ। আজ অর্থাত্‍ সোমবার বেলা সাড়ে বারোটা থেকে মাদ্রাসায় দেওয়া হবে রেজাল্ট। তবে পরীক্ষার্থীরা অনলাইনেও জেনে নিতে পারবেন রেজাল্ট। wbbme.org, wbresults.nic.in ও exametc.com এই তিনটি ওয়েবসাইটে দেখা যাবে রেজাল্ট। এছাড়া এসএমএসের মাধ্যমেও রেজাল্ট জানতে পারবেন আপনি।

চলতি বছরে পাশের হারের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুর এগিয়ে থাকলেও প্রথম দশে স্থান করে নিয়েছেন মূলত মালদহ ও মুর্শিদাবাদের পড়ুয়ারাই। উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে বেশ খানিকটা কমেছে পাশের হার। ২০২১ সালে পাশ করেছিলেন ১০০ শতাংশ পড়ুয়া। এবছর তা কমে হয়েছে ৮৭.০২ শতাংশ। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী এবার বেশ খানিকটা বেড়েছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা।
ছুটিতে বকখালি তে বেড়াতে এসে আর বাড়ি ফেরা হলো না বছর ১১ নাবালকের । 
স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে গরমের ছুটিতে বকখালি তে বেড়াতে এসে সমুদ্রে তলিয়ে গেল ক্লাস ফাইভের নাবালক। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা এরিয়ার সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার হয় নাবালকের মৃতদেহ। 

পরিবার এবং প্রশাসন সূত্রে জানা যায় মৃত নাবালকের নাম সাকিব হোসেন লস্কর, সাকিবের বাড়ি দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার উস্তি থানা এলাকায়। সাকিব উস্তি এলাকার জিনিয়াদি মাদ্রাসার ক্লাস ফাইভের ছাত্র ছিল। গত দিন স্কুলের বন্ধু এবং শিক্ষকদের  সঙ্গে বকখালি বেড়াতে আসে। তারপরেই বিপত্তি ঘটে, বকখালির সমুদ্র সৈকত স্নান করতে নেমে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে যায় ১১ বছরের সাকিব দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরও সাকিবের কোনরকম খোঁজ মেলেনি, খবর দেওয়া হয় শাকিবের পরিবার কে। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি বকখালিতে ছুটে আসে সাকিবের পরিবার এবং পুনরায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ সকাল থেকেই খোঁজ চালানো হয় শাকিবের।অবশেষে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা এরিয়ার সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয় শাকিবের মৃতদেহ। সাকিবের এই অকাল মৃত্যুতে একদিকে যেমন কান্নায় ভেঙে পড়েছে সাকিবের পরিবার অপরদিকে ক্লাস ফাইভের তরতাজা একটি নাবালকের মৃত্যুতে শোকোস্তব্ধ স্কুলের বন্ধু বান্ধব থেকে শুরু করে শিক্ষকরা। 

 এসএসসিতে দুর্নীতি করে চাকরি। আদালতের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতার। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই কলেজ সার্ভিস কমিশনের তািলকায় নাম উঠল পরেশ কন্যার। তাঁকে ইন্টারভিউতেও কল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাবার ক্ষমতা ব্যবহার করে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও চাকরি পেয়েছিলেন অঙ্কিতা এমনই অভিযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রেও কি তাই ঘটল। এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


কলেজ সার্ভিস কমিশনের তালিকায় অঙ্কিতা

কলেজ সার্ভিস কমিশনে নাম উঠেছে পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতার। কয়েকদিন আগেই আদালতের নির্দেশে শিক্ষকতার চাকরি হারিয়েছেন তিনি। তার কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন সুযোগ এসে হাজির। এবার যদিও বাবার পদের ব্যবহার না করেই তিনি সুযোগ পেেয়ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইন্টারভিউ-র জন্য ডাকও এসে গিয়েছে তাঁর। অঙ্কিতা এসএসসির চাকরির ক্ষেত্রে পার্সোনািলটি টেস্ট দেননি। বাবার মন্ত্রী পদের ব্যবহার করেই তিনি সরাসরি চাকরিতে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ।

কী বলছে কলেজ সার্ভিস কমিশন

কলেজ সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে অঙ্কিতার যোগ্যতা রয়েছে। সেই হিসেবেই তিনি পরীক্ষা দিয়ে সুযোগ পেয়েছেন। এবং সেই যোগ্যতার হিসেবেই তঁাকে ডাকা হয়েছে ইন্টারভিউয়ের জন্য। ২৬ এপ্রিলই অঙ্কিতার কাছে ইন্টারভিউ-র জন্য ডাক এসেছে। মেরিট থাকলে ইন্টরভিউতে ডাকা হবেই চাকরি প্রার্থীকে এমনউ জানানো হয়েছে কলেজ সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে। অ্যালফাবেটিকালি সধারণত ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়ে থাকে। অঙ্কিতার যেহেতু এ দিয়ে নাম শুরু সেকারণে তাঁকে আগে ডাকা হয়েছে।

শিক্ষকতার চাকরি থেকে বরখস্ত

কয়েকদিন আগেই হাইকোর্টের নির্দেশে শিক্ষকতার চাকরি হারিয়েছেন মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতা। বাবা পরেশ অধিকারী শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। এসএসসিতে সুযোগ পেলেও পার্সোনালিিট টেস্ট দেননি তিনি। তরপরেও কীভাবে অঙ্কিতা চাকরি পেলেন তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলে। বাবা মন্ত্রী হওয়ার সুবাদেই এই সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এই অভিযোগে হাইকোর্ট অঙ্কিতার চাকরি খারিজের নির্দেশ দেয়। এবং যত টাকা বেতন তিনি পেয়েছেন শিক্ষকতা করে সেটা রাজ্য সরকারকে ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসএসসি কাণ্ডে জেরা পরেশ অধিকারী

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে অঙ্কিতার বাবা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। তঁাতে তলব করা হয়েছিলে। কিন্তু প্রথমে সিবিআই হাজিরা এড়াতে এক প্রকার মেয়েকে নিয়ে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন পরেশ অধিকারী। তারপর জানা যায় তিনি উত্তরবঙ্গে রয়েছে। আদলত অবমাননার অভিযোগে এবং এসএসসি দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে পরেশ অধিকারীকে পর পর ৩ বার জেরা করেছে সিবিআই। প্রয়োজনে আরও জেরা করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

পার্থকে জেরা

এসএসসি দুর্নীতি কাণ্ডে পরেশ অধিকারী ছড়ার তত্‍কালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও জের করেছে সিবিআই। পর্থ চট্টোপাধ্যায়কে অঙ্কিতার চাকরি নিয়েও জের করা হয়েছে। কীভাবে অঙ্কিতাকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল তা নিয়েও জেরা করা হয়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে অঙ্কিতার চাকরি নিয়েও জানতে চেয়েছিলেন তদন্তকারীরা।

 





 বাড়িতে স্বামীর জন্য খাবার রেখেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু অবুঝ ছাগল সেই খাবারটাই খেয়ে ফেলে। সেই সামান্য কারণ নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগে যায়। রাগের মাথায় স্ত্রীকে মারতে উদ্ধত হলে আটকাতে যায় মেয়ে! কিন্তু বাবার রাগের থেকে রেহাই পেলেন না মেয়ে।

চ্যালাকাঠ দিয়ে পিটিয়ে মেয়েকেই খুন (Murder) করে বসল বাবা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধূপগুড়ি (Dhupguri) ঠাকুরপাঠ এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন দুপুরে ভাত খেতে গিয়ে ধূপগুড়ির নিরঞ্জন পাল দেখে তার খাবার বাড়ির ছাগল খেয়ে নিয়েছে। রাগের মাথায় স্ত্রীকে ধরে মারতে শুরু করে নিরঞ্জন। বাবার হাত থেকে মাকে বাঁচাতে দৌড়ে আসেন বছর উনিশের মেয়ে ললিতা। কিন্তু নিরঞ্জনের রাগ তখন বাগে আনা দায়। স্ত্রীয়ের ওপর রাগ গিয়ে পড়ল মেয়ের ওপর।

কাছেই পড়ে থাকা একটি চ্যালাকাঠ দিয়ে মেয়েকে বেধড়ক মারতে শুরু করে নিরঞ্জন। মেয়েকে বাঁচাতে এসে স্বামীর হাতে মার খান স্ত্রীও। কিন্তু নিরঞ্জনের মারের চোটে ললিতা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আর তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনা ঘটার পরই বাড়ি থেকে জঙ্গলে পালিয়ে যায় নিরঞ্জন। পরে পুলিশ লুকিয়ে থাকা নিরঞ্জনকে গ্রেফতার করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, নিরঞ্জন পাল পেশায় মৃত্‍শিল্পী। বরাবরই রগচটা মানুষ। এমনকি মানসিক বিকারগ্রস্থ বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আরও খবর, প্রায়শই স্ত্রীয়ের সঙ্গে নানা কারণে ঝামেলা লেগে থাকত। কিন্তু সেই ঝামেলার পরিমাণ যে এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।





 মন্নতে বোধহয় ফ্রাইডে নাইটে সেলিব্রেশন হবে। মাদক মামলায় নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর চার্জশিটে নেই শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের নাম (Aryan Khan)। জানা গিয়েছে, আরিয়ান- সহ মোট ছ'জনকে এই মামলা থেকে মুক্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যা খান পরিবারের জন্য সুখবর বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই মামলায় ১৪ জনের নাম চার্জশিটে রেখেছে এনসিবি। তারা বলেছে, আরিয়ান-সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এমন কোনও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি যাতে এটা প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁরা মাদক নিচ্ছিলেন বা কাউকে দিচ্ছিলেন।গত বছর শেষ দিকে মুম্বই থেকে গোয়াগামী প্রমোদতরীতে মাদক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল আরিয়ানকে। দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন আরিয়ান। যদিও সেই সময়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা নবাব মালিক বলেছিলেন, শাহরুখের অনেক প্রতিপত্তি। তাই ওঁর ছেলেকে ফাঁসিয়ে এনসিবি অফিসার টাকা লুঠের ষড়যন্ত্র করেছেন। অনেকে এই ঘটনাকে মারাঠা মুলুকের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গেও জুড়ে দেখাতে চেয়েছিলেন।

এদিন আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে এনসিবি। সূত্রের খবর ২৯ মে-র শুনানিতে আরিয়ানদের মুক্তি হবে। ঘটনা হল, এই মামলায় শাহরুখের ছেলেসের গ্রেফতারি নিয়ে যখন রাজনীতির অভিযোগ উঠেছিল তখন এনসিবি-র সদর দফতর আর মুম্বইয়ের হাতে বিষয়টি রাখেনি। দিল্লি থেকে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গড়ে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তার মাথায় ছিলেন সঞ্জয় কুমার নামের অফিসার। এত মাস পর চার্জশিট দেওয়া হল, আরিয়ানদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন বা পাচারের কোনও অভিযোগই নেই।





হায়দরাবাদ থেকে গ্রেফতার ডি বাপির কাণ্ডের (D Bapi Biriyani) শ্যুটার! ওই ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে একই জায়গা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ওই শ্যুটারের (Shooter) নাম সোনু রাজভর। সে কাকিনাড়ার বাসিন্দা। শুক্রবার তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হয়।

কয়েকদিন আগেই ব্যারাকপুরের প্রসিদ্ধ বিরিয়ানির দোকান ডি বাপিতে শ্যুট আউটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার মাস্টার মাইন্ড সুজিত রায়কে দমদম সেন্ট্রাল জেল থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে মণীশ শুক্ল খুনের মামলাতেও অভিযুক্ত। সেখানে বন্দি ছিল সুজিত। জেল থেকেই বিরিয়ানির দোকানের মালিক বাপি দাসকে খুন করার ছক কোষে ছিল সে। তাই কাকিনাড়ার বাসিন্দা সোনুকে খুনের সুপারি দেয় সুজিত। গত ১৬ মে সোনু দুই সঙ্গীকে নিয়ে ওই বিরিয়ানির দোকানের সামনে গিয়ে এলোপাথারি গুলি চালায়। তারপরে হায়দারবাদে পালিয়ে যায়।সুজিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই সোনুর কথা জানতে পারে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তদন্তকারীরা। সোনুকে গ্রেফতার করতে হায়দরাবাদে যায় তদন্তকারীদের একটি দল। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদ থেকে ধরা পড়েছে সোনু ও তার তিন সঙ্গী।






 
মহেশতলা থেকে বাসন্তীর শ্মশানে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী এক যুবতী। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দাদার মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অনন্যা নস্কর। বাসন্তীতে খুড়তুতো দাদার বিদ্যুত্‍পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে কাউকে না জানিয়ে ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের চট্টা কালিকাপুর রায়পাড়া থেকে বাসন্তীতে যান অনন্যা, একাই রওনা দেন বাসন্তীতে আদি বাড়ির উদ্দেশ্যে।

বাসন্তীতে পৌঁছে দাদার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের কাজ মিটিয়ে শ্মশানে যান অনন্যা। দাদার দেহ দাহ করার কাজ চলাকালীন শ্মশানেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন অনন্যা নস্কর। বাসন্তী থানার পুলিশ শ্মশান থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্‍সকরা মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার ভোরবেলা অনন্যার মহেশতলার বাড়িতে খবর পৌঁছনো মাত্রই গোটা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে । দাদার মৃত্যুতে কেন এহেন চূড়ান্ত ঘটনা ঘটাল অনন্যা, হতবাক গোটা পরিবার।

অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভূপতিনগরে মহিলার অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য! ঠিক কী কারণে মহিলার মৃত্যু, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক! বৃহস্পতিবার সকালে ভূপতিনগরে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ফাঁকা মাঠ থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকা ওই দেহ ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভুপতিনগর থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, স্বামী পরিত্যক্তা ওই মহিলা ভূপতিনগরের বাসুদেববেড়িয়া গ্রামে বাপের বাড়িতে থাকতেন। বুধবার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন তিনি, তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। রাতে খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে ফাঁকা মাঠ থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় মহিলার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার খবর পেয়ে হাজির হয় ভুপতিনগর থানার পুলিশ। মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় তাঁরা। বাপের বাড়ির সদস্যরা এসে মৃতদেহটি শনাক্ত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহিলাকে ধর্ষণ করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য খুন করা হয়েছে। মহিলার গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ছিল। যদিও পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত ধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

ফের জেলায় উদ্ধার বোমা। এক ব্যাগ বোমা উদ্ধার হল মালদায়। তাও আবার তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত দফতরের পিছনে। জানা গিয়েছে, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত দপ্তরের পেছনে তিনশো মিটার অদূরে কলা বাগান থেকে উদ্ধার হয়েছে তাজা বোমাগুলি।

মঙ্গলবার দুপুরের ঘটনা। মালদার চাঁচল থানার মহানন্দাপুর পঞ্চায়েত দফতরের পিছন দিক থেকে উদ্ধার হয়েছে বোমাগুলি।জানা গিয়েছে, স্থানীয়দের নজরেই প্রথম পড়েছে ওই এলাকায় বোমা পড়ে রয়েছে। তারপরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সেখানেই। জানা গিয়েছে, কয়েকটি বোমা ব্যাগের ভিতর ছিল, কয়েকটি বাইরে।


খবর পেয়ে চাঁচল থানার আই.সি সুকুমার ঘোষের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মালদা থেকে বোমস্কোয়াড রওনা দিয়েছে। দিনে-দুপুরে এমন ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে মহানন্দাপুর এলাকায়। এই ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘কলাবাগানে বোমা উদ্ধার হয়েছে। কীভাবে কোথা থেকে আসল। তা কেউ জানে না। বোম স্কোয়্যাডকে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশকেও জানানো হয়েছে। তাঁরা খতিয়ে দেখবে।’


বস্তুত, কয়েকদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নাতে বোমা উদ্ধার হয়। সাতটি ড্রামে আনুমানিক ৩০০ টি বোমা থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে যান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আবু বক্কর টিটি। নতুন করে ময়নায় বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের গোড়ামাহাল গ্রামে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি জঙ্গল থেকে ১০ টি প্লাস্টিক ড্রামের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ তাজা বোমা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এলাকায় আগে থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড, ময়না থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এবং তমলুকের এসডিপিও আলি আবু বক্কর টিটি। এলাকা নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রেখে বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করা হয়। পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, আনুমানিক ৫০০ টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। তারই মধ্যে আরও ৩০০ টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক নতুন করে দানা বেঁধেছে।

বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক দুধ ব্যবসায়ীর। মৃতদেহ আনা হলো ময়নাতদন্তে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বৈষ্ণব নগর থানা ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জরলাহী পাড়া এলাকায়। মৃত ওই দুধ ব্যবসায়ীর নাম গজেন ঘোষ বয়স(৪৬) বছর।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় প্রত্যেক দিনের মতো গতকাল বিকেলে ও ব্যক্তি বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে মাঠে গরু চরাতে যায়। সেই সময় হঠাত্‍ই ঝড় বৃষ্টি নেমে আসে। ঝড় বৃষ্টির সময় হঠাত্‍ই বাজ পড়ে তার শরীরে। সেখানে ওই দুধ ব্যবসায়ী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বৈষ্ণব নগর থানার পুলিশ। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃত ব্যক্তির পরিবার সহ গোটা গ্রামে।

দশ হাজার টাকা হাতে দিলেই সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে কোটি কোটি টাকার সোনা। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেলেন বিএসএফ- এর সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের কর্তারা। আর তাতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরও কড়া নজরদারির নির্দেশ জারি।

সোমবার সকালে ১৭৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের এক কর্তার কাছে গোপন সূত্রে খবর আসে, মোটা অঙ্কের টাকার সোনা ঢুকছে সীমান্ত পেরিয়ে।শুধু তাই নয়, যখন খবর আসে, ততক্ষণে বাংলাদেশ থেকে অনেক লরি রপ্তানি সেরে ফিরেছে এ দেশে। তাহলে কি পাচারকারী হাতছাড়া হল?


বিলম্ব না করেই বিএসএফ জওয়ানরা আইসিপি পেট্রাপোল প্যাসেঞ্জার গেটের কাছে বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশি শুরুর পর হরিয়ানার একটি লরির চালকের সঙ্গে কথা বলে জওয়ানদের সন্দেহ হয়। গাড়ি থেকে ওই চালককে নামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। চালকের আসনের পিছনের অংশে কালো কাপড়ে মোড়া অবস্থায় একটি প্যাকেট বেরিয়ে আসে। আর ওই প্যাকেট খুলতেই মেলে ৭০টি সোনার বিস্কুট ও তিনটি সোনার বার। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ছ'কোটি টাকা।চালককে গ্রেফতার করে শুরু হয় জেরা।


বিএসএফ সূত্রে খবর, বনগাঁর জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা পেশায় লরি চালক রাজ মণ্ডল এ দিন বাংলাদেশের বেনাপোলে সামগ্রী রপ্তানি করে ফেরার সময় সাহাবুদ্দিন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি রাজকে বলেন পিন্টু নামে এক ব্যক্তি একটি প্যাকেট দেবেন। সেই প্যাকেট পৌঁছে দিতে হবে বনগাঁ-চাকদহ শেফালি ট্রাক পার্কিংয়ে। বিনিময়ে দশ হাজার টাকার রফা হয়েছে বলে বিএসএফ- এর জেরায় দাবি করেছে ধৃত রাজ।


এরপর ধৃত ওই প্যাকেট নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢোকে। ধরা পড়ে সীমান্ত রক্ষীদের হাতে। ডিআইজি বিএসএফ সুরজিত্‍ সিং গুলেরিয়া জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময় খবর এসেছিল। আমাদের জওয়ানরা অভিযান চালিয়ে লরি চালককে গ্রেফতার করেছেন। সোনা উদ্ধারের পর শুল্ক দফতরকে তুলে দেওয়া হয়েছে।


এই ভাবে টাকা টোপ দিয়ে ওপার বাংলা থেকে সোনা পাচারের যে কারবার চলছে, তা ভাবাচ্ছে বিএসএফ কর্তাদের।শুধু ১৭৯ ব্যাটেলিয়ন নয়, এদিন জয়ন্তীপুরেও ১৫৮ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা তল্লাশি চালানোর সময় একটি বাইক থেকে সোনা উদ্ধার করেছেন। একই সঙ্গে উঠে এসেছে চোরাকারবারীর মূল পাণ্ডাদের নামও।







সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেবার নাম করে যুবতিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই যুবতিকে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি প্রকল্প পাইয়ে দেবার নাম করে যুবতিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই যুবতিকে একাধিকবার ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।আরও অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে জোর করে সাদা কাগজে সই করিয়ে রেজিস্ট্রি করে অভিযুক্ত। অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা পূর্ব বর্ধমানের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি।

পুলিশকে দেওয়া যুবতির অভিযোগ, ওই তৃণমূল নেতা শাসকদলের হেভিওয়েট বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেয়। সংসাদে দারিদ্রতা থাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওই নেতা যুবতিকে নানা জায়গায় নিয়ে যেতেন। তারপর সারাদিন ধরে জোর করে ধর্ষণ চালাতেন তিনি। এমনকি এই কথা প্রকাশ্যে আসলে বিপদ হবে, হুমকিও দেওয়া হয় ওই তৃণমূল নেতার তরফে। নির্যাতিতার অভিযোগ, বারবার তাঁকে , তাঁর বাবা-মাকে খুনের হুমকি দেওয়া অভিযোগ উঠেছে।জোর করে একাধিক সাদা পেপারে, সই করিয়ে নেয় অভিযুক্ত। এমনকি ওই যুবতিকে স্ত্রী সাজিয়ে ছবিও তুলে রাখা হয়। যাতে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ না করতে পারে। খোলামেলা পোষাক পরিয়ে তারপর ধর্ষণ করা হত। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তৃণমূল নেতার হাত থেকে বাঁচার জন্য, ওই যুবতি পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসেন নদিয়ার হাঁসখালিতে। গত ২২ মে দুই অপরিচিত ব্যাক্তি এসে তাঁদের নিজের জায়গায় ফিরে যেতে বলেন। ওই ঘটনার পর হাঁসখালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা যুবতি। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।রাজ্যে ফের আরও একটা ধর্ষণকাণ্ডে উদ্বেগ বাড়ল প্রশাসনের। বিশেষ করে এই ঘটনায় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠায় কার্যত চাপের মুখে দল। এদিকে রাজ্যে একের পর এক ধর্ষণ, গর্ভপাতের ঘটনা লেগেই আছে। সম্প্রতি বনগাঁ এলাকাতেও একটি নাবালিকার সঙ্গে একই ঘটনা ঘটেছে। তফাত্‍ শুধু এটুকুই যে, সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না দিয়েই ঘনিষ্ঠ হয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে প্রেমিকাকেই। কিন্তু কথা হচ্ছে আর কত এই ধরণের ঘটনা হবে পশ্চিমবঙ্গের বুকে। কেন এই নৃশংসঘটনাগুলিতে যবনিকা টানা যাচ্ছে না, কেন রাজ্যের অপরাধ মনষ্কদের লাগাম পড়ানো যাচ্ছে না, ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে সমাজের স্তরে।পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে ছাত্রী-মহিলা-গৃহবধূ একা বাইরে বের হতে রীতিমতো আতঙ্কে থাকছে। গ্রাম বাংলা, মফস্বলে শুনশান এলাকাগুলিকেই টার্গেট করছে ধর্ষণকারীরা। তবে পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনার হাজারো উদাহরণ রয়েছে কলকাতার বুকে। গোবরডাঙা, দেগঙ্গা, মালদহ, মাটিয়া, হাঁসখালি, ময়নাগুড়ি, শান্তিনিকেতন একের পর এক ধর্ষণ হয়েই চলেছে রাজ্যে। প্রায় প্রতিসপ্তাহেই একাধিক গণধর্ষণের ঘটনা উঠে আসছে। কোথাও খুনের হুমকি, কোথাও ধর্ষণের পর হত্যা, কোথাও আবার ধর্ষণের পর দেহ দাহ করা হচ্ছে। ভয়াবহ একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে পশ্চিমবঙ্গে।

মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে দিনের পর দিন টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে একেবারে তুলকালাম কাণ্ড। তৃণমূল নেতা অতনু গুছাইত ও তার ভাই শান্তনু গুছাইতের বিরুদ্ধে অভিযোগ।

এসএসসি, গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, প্রাথমিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা কর্মপ্রার্থীদের কাছ থেকে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগকিন্তু আদপে কি চাকরি দিতে পারতেন অতনু? স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েকজন অতনুর হাত ধরে চাকরি পেয়েছিলেন। এতে মানুষের বিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। জমি, জায়গা, সর্বস্ব বিক্রি করেও তাঁরা অতনুর হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন।তবে পরে তাঁরা বুঝতে পারবেন চাকরি আর জুটবে না।


এদিকে ২০০৩ সালে কোলা ১ পঞ্চায়েত সদস্য ও ২০০৮ সালে পঞ্চায়েত সমিতির বিদ্যুত্‍ কর্মাধক্ষ হয়েছিলেন তিনি। কোলাতে তার বিশাল বাড়িও রয়েছে। তবে সেসব তালাবন্ধ করা বর্তমানে। বর্তমান গা ঢাকা দিয়েছেন তিনি। এক কর্মপ্রার্থী বলেন, অতনু গুছাইত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। আমার কাছ থেকেও বাড়িতে এসে আড়াই লাখ টাকা নিয়েছেন। তত্‍কালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা বলে তিনি টাকা নিয়েছেন। যারা টাকা দিতে পারত না তাদের কাছ থেকে সোনা নিত।


বিপুর প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার মেয়ে আর সম্বন্ধীর চাকরির জন্য ১৮ লক্ষ টাকা নিয়ে গেল। অতনু বলত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ওর যোগাযোগ আছে। প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল।কিন্তু টাকাও ফেরত্‍ দিল না, চাকরিও হল না।তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ওর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। বিজেপির দাবি, ওই লোকটা টাকা মারার ক্লাবের দালাল।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রাক্তন পুলিশ কর্মীকে গুলি করে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন। গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে একজন মৃতের ভাইপো। তিনি পেশায় পুলিশ কর্মী।গতকাল সন্ধ্যায় নদিয়ার কল্যাণী থানা গয়েশপুরে প্রাক্তন পুলিশকর্মী জনার্দন কর্মকারকে বাড়ির সামনে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন ওই পুলিশ কর্মী।

পরে উদ্ধার করে কল্যাণী জে এন এম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্‍সকরা মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে কল্যাণী থানার পুলিশ।
ধৃতদের মধ্যে একজন মৃত ব্যক্তির ভাইপো।

গোটা ফ্ল্যাট জুড়ে বিষাক্ত গ্যাস (Toxic Gas) আর তাতেই তিনজনের মৃত্যু(Death)। আত্মহত্যা করার এমন ব্যবস্থায় রীতিমতো হতবাক প্রতিবেশীরা।এই হাড় হিম করা ঘটনার জেরে রাজধানী দিল্লি(Delhi) আবার শিরোনামে।

রবিবার দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত বিহার (Basant Bihar in South Delhi) এলাকায় একটি বিলাসবহল ফ্ল্যাট থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে নিজেদের ঘরকে বিষাক্ত গ্যাস চেম্বার এ পরিণত করে একই পরিবারের তিনজন আত্মহত্যা (Suicide) করেছেন। ফ্ল্যাট থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। সুইসাইড নোটে লেখা ছিল, দয়া করে ঘরে ঢুকে কেউ দেশলাই জ্বালবেন না। এতে আগুন লেগে যেতে পারে। খুবই বিষাক্ত গ্যাস. ভিতরে ভর্তি কার্বন মনোক্সাইড। এটা দাহ্য। ঘরে প্রবেশ করে জানালা খুলে নেবেন এবং ফ্যান চালাবেন। এমন হাড়হিম করা ঘটনায় অবাক পুলিশ।


দুই মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা, এমনটাই বলছেন প্রতিবেশীরা। মৃতার নাম মঞ্জু ও তাঁর দুই মেয়ে অংশিকা-অঙ্কু। পরিচারিকা ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত বছর করোনায় স্বামীর মৃত্যু হয়। সেই অবসাদ থেকেই এহেন সিদ্ধান্ত কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের সমস্তা জানালা, দরজা, ভেন্টিলেটর প্লাস্টিক দিয়ে আটকানো ছিল। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের নব খোলা রাখা ছিল এবং কয়লা দিয়ে জ্বলে এমন একটি রান্নার সরঞ্জাম জ্বালিয়ে রাখা ছিল।তার ফলে ঘরে বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ভরে জায়গায় কোন মানুষের পক্ষেই বেশিক্ষণ বেঁচে থাকা সম্ভব ছিল না । ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান আগে থেকে পরিকল্পনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

চোখের সামনে ঘটতে দেখে খুব খারাপ লাগছে। বারবার বলেছিলাম, কক্স ও রেসকিউ টিমকে, ওদের ফিরে আসতে বলুন।" বলছিলেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দেবাংস চক্রবর্তী।

রবীন্দ্র সরোবর লেকে রোয়িং করতে গিয়ে দুই নাবালকের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী ওই বোটের সওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন এক্সক্লুসিভ নিউস এইন্টিন বাংলার প্রতিনিধিকে।দেবাংস চক্রবর্তী বলেন, "আমরা টুর্নামেন্টর জন্য প্র্যাক্টিস করতে শনিবার রোয়িং করছিলাম। হঠাত্‍ যখন দেখি আকাশে কালো মেঘে করে এল, কক্স (যিনি বোটের দিক নির্দেশ করেন) বললেন, পাড়ের দিকে চলো। কিন্তু এতটাই ঝোড়ো হাওয়া দিতে শুরু করে যে বোট উল্টে যায়। আমার পা আটকে গিয়েছিলো ওই বোটে। কোনওমতে পা বের করি টেনে।দেবাংস আরও বলেন, "এর পর বোট সোজা করতে বলেন কক্স। বোট আমরা সোজা করি যখন, তখনও পুষণ সাধুখাঁ ও সৌরদীপ চ্যাটার্জী ছিল আমাদের সঙ্গে। কক্স বলেন, সাঁতার কেটে চলে যেতে পারো পাড়ের দিকে। আর যে পারবে না সে বোট ধরে দাঁড়িয়ে থাকো। এর পর আমরা চারজন বেরোই সাঁতার কেটে পাড়ের দিকে। আমি হাফিয়ে যাই, বোটে ফিরে আসি। আমি কক্সকে বলি ওদেরকে ফিরে আসতে বলুন। কক্স বলেন, ওরা সাঁতার জানে চলে যাবে। ওই তিন জনের মধ্যে পুষণ, সৌরদীপ ছিল। ওরা হাফিয়ে যায় সাঁতার কাটতে গিয়ে সম্ভবত।"


দেবাংস বলেন, "আমরা তার আগে থেকে প্র্যাক্টিস করে হাফিয়ে গিয়েছিলাম। চোখের সামনে যা হল ভাবতে পারছি না। আমি ও কক্স বোট ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অন্য একটা বোট প্রাকটিস করছিল। তাঁরা এসে আমাদেরকে উদ্ধার করে। আমি বারবার বলেছিলাম, রেসকিউ যাঁরা করতে আসে ও কক্সকে, ওদেরকে ডেকে নিন। কিন্তু তাঁর মাঝে ওদের দম ফুরিয়ে যায়, একজন ফিরে যায় পাড়ের দিকে। বাকি পুষণ, সৌরদীপ তলিয়ে যায়। ঘটনার পর আমারও ভয় লাগছে। চোখের সামনে বন্ধুরা হারিয়ে গেল, ভাবতে পারছিনা।"


দেবাংস বলছিলেন, "প্র্যাক্টিসে সময় কোনো দিনই ফলো বোট থাকে না। টুর্নামেন্টের দিন থাকত। শনিবার প্র্যাক্টিসের দিনও ছিল না ফলো বোট"।দেবাংস জানান, "চোখের সামনে যা ঘটল, জাস্ট ভাবতে পারছিনা। এরকম হবে স্বপ্নেও ভাবিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই বোটের সওয়ারি ছিল দেবাংস চক্রবর্তী। অভিশপ্ত ঘটনা দুঃস্বপ্নর মতো মনে হচ্ছে তাঁর। এরকম আর যেন না ঘটে কারো সঙ্গে... বলতে বলতেই গলা বুজে এলো।


ব্যাপক ঝড় বৃষ্টির জন্য গত শনিবার রীতিমতো প্লাবিত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের বেশকিছু জেলা। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে এবং কলকাতা লাগোয়া বেশ কিছু অঞ্চল যেমন বারাসাত ব্যারাকপুর সমস্ত জায়গায় বৃষ্টি হয়েছিল ব্যাপক। তার সঙ্গী ছিল ৯০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ো হাওয়া। আবহাওয়া দপ্তর এর নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী চার দিন দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং অন্যান্য জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগর থেকে মৌসুমী বায়ু পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন তাপমাত্রা কমেছে পশ্চিমবঙ্গের, এমনি বৃদ্ধি পেয়েছে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। তবে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সঙ্গেই আদ্রতা জনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাবে বাংলায়। অন্যদিকে গতকাল এর তুলনায় আজকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। সব মিলিয়ে আদ্রতা জনিত অস্বস্তি আরও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান,বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে বজ্রবিদ্যুত্‍-সহ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তার পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কলকাতা সহ বেশ কিছু জায়গায় আজকেও এরকম তাপমাত্রা রয়েছে। গতকালের মতই আজকেও কলকাতা এবং আশেপাশের বেশকিছু জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকছে।

বঙ্গতনয়ার অসাধ্যসাধন। কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয় হুগলির বাসিন্দা পিয়ালি বসাকের (Piyali Basak)। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এভারেস্ট জয় করলেন তিনি। উচ্ছ্বসিত অন্যান্য পর্বতারোহীরা। আপাতত শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন পর্বতারোহী।

চন্দননগরের কাঁটাপুকুরের বাসিন্দা পিয়ালি।বারবারই তাঁর চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। তবুও এতটুকু দমেননি তিনি। আর্থিক সংকটকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে চলতি মাসেই এভারেস্টের বেস ক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ১-এর উদ্দেশে রওনা দেন পিয়ালি। রবিবার ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় স্বপ্নপূরণ হয়। অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয় পিয়ালির। আপাতত ক্যাম্প ফোরে ফিরছেন তিনি। সামান্য বিশ্রামের পর অক্সিজেন ছাড়াই লোত্‍সে জয়ের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার কথা পিয়ালির।আপাতত শুভেচ্ছার জোয়ারে ভাসছেন বঙ্গতনয়া। অক্সিজেন ছাড়া পিয়ালির এভারেস্ট জয়ের বিষয়টি ভাবতেই পারছেন না পর্বতারোহী বসন্ত সিংহ রায়। তিনি বলেন, 'আমি ভাবতেই পারছি না এটা সম্ভব। একজন ভারতীয় মহিলা পর্বতারোহী যা করেছেন, তা অসাধ্য সাধন ছাড়া কিছুই নয়।' আগামিদিনে পিয়ালির আরও সাফল্য কামনা করেছেন পর্বতারোহী সত্যরূপ সিদ্ধান্ত।

 

আর পাঁচজনের মতো চেনা স্রোতে কোনওদিনই গা ভাসাননি পিয়ালি। অঙ্ক নিয়ে স্নাতক। তারপর তিনি দেখেন বন্ধুবান্ধবরা রুজিরুটির টানে ইঁদুর দৌড়ে শামিল হয়েছেন। কিন্তু সেই দৌড়ে শামিল হতে মন সায় দেয়নি পিয়ালির। কারণ, ততক্ষণে তাঁর মনের দখল নিয়েছে পাহাড়। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে 'হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট'-এ নাম লেখালেন পিয়ালি। এরপর আর ফিরেও তাকাননি। ২০১৮ সালে মানাসলু শৃঙ্গে পা রেখে ইতিহাস গড়েছিলেন। মানাসলু বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। তারপর স্কুলশিক্ষিকা পিয়ালির লক্ষ্য ছিল সপ্তম উচ্চতম শৃঙ্গজয়। প্রথম ভারতীয় পর্বতারোহী অক্সিজেন ছাড়া নেপালের আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো ৮,১৬৭ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট ধৌলাগিরি জয় করেন পিয়ালি। এবার অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্ট জয়। এ নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায় দ্বিতীয়বার পা রাখলেন বাংলার মেয়ে।
হাসপাতালে শৌচালয়ে ঢুকে আঁতকে উঠলেন অন্যরা। চোখের সামনে ঝুলছেন এক রোগী। কিছু আগেও তাঁকে পুরুষ ওয়ার্ডে দেখা গিয়েছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় কাটোয়া হাসপাতালের এই ঘটনায় হইচই পড়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবারই সঞ্জীব পাল (৪২) নামে ওই যুবককে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা ছিল।তার আগের সন্ধ্যায় এমন ঘটনায় কপালে হাত পরিবারের লোকজনের। মঙ্গলকোটের বনকাপাসির বাসিন্দা সঞ্জীব কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। তাঁর স্ত্রী তাঁর সঙ্গে ছিলেন। একটি গামছা নিয়ে শৌচাগারের দিকে যান তিনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও স্বামী না আসায় খোঁজ নিতে যান স্ত্রী। এরপরই নজরে আসে ভয়াবহ সেই দৃশ্য।

সঞ্জীব পালের স্ত্রী দেবিকা পাল বলেন, “আমার স্বামী অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাটোয়া হাসপাতালের ১৩ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয় ওকে। শনিবার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ারও কথা ছিল। এরমধ্যে আজ সন্ধ্যায় বাথরুম যাব বলে আমার কাছ থেকে গামছা নিয়ে গেল। অনেকক্ষণ সময় পার হয়ে গেলেও আসছে না দেখে আমি এগোই। বাথরুমের দরজা ঠেলতেই দেখি গামছার ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে।”

দেবিকার চিত্‍কার শুনে বাকিরাও ছুটে আসেন। হাসপাতালের কর্মীদেরও খবর দেওয়া হয়। তাঁরা এসেই দেহ নামিয়ে আনেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জীব পালের মানসিক সমস্যার ওষুধ চলছিল। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতাল সুপার সৌভিক আলম বলেন, “শুনেছি হাসপাতালে এক চিকিত্‍সাধীন রোগী হাসপাতালেরই শৌচালয়ে গিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। মানসিক কিছু সমস্যার কারণে তিনি ভর্তি ছিলেন। তবে কেন এই ঘটনা ঘটল তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” স্বামীর এই পরিণতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী। এখনও ভাবতেই পারছেন না স্বামী এমন কাণ্ড করতে পারেন। বারবারই বলছেন, “মানুষটা গামছা চেয়ে নিয়ে গেল, এমনটা করবে কখনও যেতে দিতাম না।”
২৯ টি ব্লক নিয়ে গঠিত সুন্দরবন।প্রায় ৫০ হাজারেরও অধিক মানুষের বসবাস।মূলত চাষবাসের উপর নির্ভরশীল এলাকার মানুষ। বিগত কয়েক বছর যে ভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে চলেছে এবং নদীবাঁধ ভেঙে এলাকা লবণাক্ত জলে প্লাবিত হচ্ছে তাতে করে পিছিয়ে পড়া সুন্দরবন এলাকায় চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।ফলে বর্তমানে ধান সহ অন্যান্য ফসলের চাষের পাশাপাশি মাছ চাষ সুন্দরবনবাসীদের জীবন জীবিকার অন্যতম অবলম্বন।আর আধুনিক পদ্ধতিগতভাবে মাছ চাষ না করার জন্য সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার মাছ চাষের উপর নির্ভরশীল মানুষদের কে বিপদের সম্মুখীনহতে হচ্ছে।যাতে করে সুন্দরবনবাসীরা কোন প্রকার বিপদের সম্মূখীন হতে না হয় তার জন্য তাদের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে এলো কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মত্‍স্য গবেষণা কেন্দ্র।আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ চাষ করার জন্য বিগত এক বছর পূর্বে ৫০০ পরিবার কে মাছের চারা চুন ও মাছের খাদ্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।সেই সমস্ত চাষীদের নিয়ে গত তিনদিন ধরে কুলতলী মিলনতীর্থ সোসাইটির সহযোগীতায় এক সচেতনতা শিবির আয়োজন করেছিল কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মত্‍স্য গবেষণা কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অন্তঃস্থলীয় মত্‍স্য গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ডঃ বসন্ত কুমার দাস।উপস্থিত ছিলেন কুলতলি মিলনতীর্থ সোসাইটির কর্ণধার লোকমান মোল্লা,আরিফ সরদার,অচিন্ত্য দিন্দা সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা।
ডঃ দাস বলেন, সুন্দরবনের মত্‍স্য চাষীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রযুক্তি ও মাছের চারা, ফ্লোটিং ফিশ ফিড, চুন দেওয়া হয়েছিল গত এক বছর আগে। বর্তমানে আমাদের বিভাগীয় বিজ্ঞানীগণ সার্ভে করে রিপোর্ট তৈরি করেছেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি, আগামী দিনে সহযোগিতা করার জন্য হাত বাড়িয়ে দেবো। কারণ সুন্দরবনের অর্থনৈতিক মান উন্নয়নে মাছ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকারী ফসল হতে।যা আগামী দিনে সুন্দরবনবাসীদের কে জীবনজীবিকা নির্ধারণে অন্যতম দিশা হিসাবে দেখা দেবে।'
বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা কুলতলী মিলনতীর্থ সোসাইটির কর্ণধার লোকমান মোল্লা বলেন, প্রতিবছর বন্যা,ঘূর্ণিঝড় এবং অতিবর্ষণে সুন্দরবন এলাকার মাছ চাষীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অন্যান্য চাষও।বারে বারে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সম্মূখীন হয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় ও মত্‍স্য গবেষণা সংস্থার অধিকর্তা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা বাস্তবায়িত করতে পারলে আগামী দিনে সুন্দরবনের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন হতে পারে l তিনি আরো বলেন, মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায় তখন সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া কোন বিকল্প পথ থাকে না। সুন্দরবনবাসীদের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই পরিস্থিতি। সুতরাং, ধান চাষ যখন ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে সে ক্ষেত্রে মাছ চাষই একমাত্র অন্যতম অবলম্বন।'
ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার একের পর এক দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণ। শুক্রবার এই ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়াতেও। এরপরই, নড়ে চড়ে বসল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য় মন্ত্রক। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (National Centre for Disease Control) এবং আইসিএমআর-কে (ICMR) ‘মাঙ্কিপক্স’ মহামারি পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশে বলা হয়েছে, ‘বিদেশে ‘মাঙ্কিপক্স’ পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখুন, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি থেকে আসা অসুস্থ যাত্রীদের বিচ্ছিন্ন করুন এবং পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা এনআইভি পুনে-তে পাঠান’। বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

শুক্রবারই জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ইটালি, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণের প্রথম ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। স্পেন ও পর্তুগালে আগেই বহু মানুষ আক্রান্ত ছিলেন। স্পেনে এদিনই আবার ২৩ টি নতুন কেস পাওয়া গিয়েছে। ব্রিটেন, এখনও পর্যন্ত ২০ জনের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত বলে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার, প্রথম সংক্রমণের ঘটনা সনাক্ত করা হয়েছিল আমেরিকায়। ম্যাসাচুসেটস-এর বাসিন্দা ওই ব্যক্তির কানাডা থেকে সম্প্রতি আমেরিকায় ফিরেছিলেন। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকা জুড়ে এই রোগের সাম্প্রতিক বিস্তার দেখে বিস্মিত হয়েছেন ‘মাঙ্কিপক্স’ নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা। আফ্রিকায় অসংখ্যবার এই রোগের প্রাদুর্ভাব তাঁরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁদের দাবি, এর আগে শুধুমাত্র আফ্রিকা থেকেই অন্য দেশে মাঙ্কিপক্স ছড়াতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু আফ্রিকার বাইরের কোনও দেশ থেকে অন্য দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, এমনটা এর আগে দেখা যায়নি।

ক্রমবর্ধমান ‘মাঙ্কিপক্স’ সংক্রমণের ঘটনার মধ্যেই, শুক্রবার এই প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে এক জরুরী বৈঠক ডেকেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’। এর আগে, ‘হু’-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আক্রান্তদের অধিকাংশই সমকামী বা উভকামী পুরুষ। অর্থাত্‍, যেসব পুরুষ অন্য পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই রোগ ছড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ‘হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি’ও তাদের দেশের সাম্প্রতিক সংক্রমণগুলির ক্ষেত্রে একই ধরনের রিপোর্ট করেছে। স্পেনে এই রোগ ছড়াচ্ছে প্রধানত মাদ্রিদ অঞ্চলে। অধিকাংশ সংক্রমণই একটি ‘অ্যাডাল্ট সনা’র সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। পর্তুগালেরও ১৪ টি সংক্রমণের ঘটনা সেখানকার বিভিন্ন যৌন স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলিতে সনাক্ত করা হয়েছে। তারা সকলেই সমকামী বা উভকামী পুরুষ।

বিজ্ঞানীরা অবশ্য বলছেন, ‘মাঙ্কিপক্স’ বিশেষভাবে যৌন সংসর্গের মাধ্যমেই সংক্রমিত হয়, তা বলার মতো সময় আসেনি। সকলেই জানেন, ঘনিষ্ঠ শারীরিক যোগাযোগ থেকে এই ভাইরাস সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। তবে, যৌন সংসর্গের বিষয়টি একেবারে নতুন তথ্য। এই সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন। এর ফলে, স্থানীয় স্তরে ‘মাঙ্কিপক্স’ রোগের বিস্তার কীভাবে ঘটছে, সেই সম্পর্কেও আরও ভাল ধারণা করা যাবে।
সীমান্তে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উত্তেজনা সব সময় চরমে। এই পরিস্থিতিতে লাদাখের অবস্থা ইউক্রেনের মতো হতে পারে। লন্ডনের একটি অনুষ্ঠানে এমনটাই মন্তব্য করলেন রাহুল গান্ধি। আইডিয়াস ফর ইন্ডিয়া নামক একটি অনুষ্ঠানে লাদাখে ইন্দো-চিন সংঘর্ষের কথা তুলে ধরেন রাহুল গান্ধি।পাশাপাশি তিনি বলেন, ভারতে যে কোনও মুহূর্তে আগুন জ্বলতে পারে। তাতে পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার থেকেও খারাপ হবে।

তিনি বলেন, বিজেপি দেশে কেরোসিন ছড়ানোর কাজ করছে। যারফলে ভারতে যে কোনওদিন আগুন লেগে যেতে পারে। দেশ জুড়ে অশান্তির বাতাবরণের সৃষ্টি হবে। তখন ভারতের অবস্থা শ্রীলঙ্কার থেকেও খারাপ হবে। ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতীর বাতাবরণ রাখা জরুরি। জনগণের স্বার্থে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। বিশ্বের সব থেকে গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। বিশ্বের কাছে ভারত একটা নজির সৃষ্টি করেছে। সেই গণতন্ত্র ভারতে ব্যহত হলে সারা বিশ্বে সমস্যার সৃষ্টি হবে। আমেরিকা ইতিমধ্যে তা বুঝতে পেরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

লন্ডনে রাহুল গান্ধি বলেন, রাশিয়াও বলত, তারা ইউক্রেন দখল করতে চায় না। তবে দুটো জেলাকে ইউক্রেনের বলে স্বীকার করেনি রাশিয়া। ইউক্রেন যাতে ন্যাটোর সদস্য না হয়, সেই কারণেই দুটো জেলা দখল করতে চেয়েছিল রাশিয়া। আর তাতেই ইউক্রেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনের যা পরিস্থিতি তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। পাশাপাশি রাহুল গান্ধি মনে করেছেন, LAC সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। না হলে লাদাখের অবস্থা ইউক্রেনের মতো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের জনগণ সব দেখছে। তাঁরা সব দিকে খেয়াল রাখেন।

এদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক হাত নিয়ে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সব সময় দেশের জনগণের কথা শোনা উচিত। অন্তত শোনার মানসিকতা থাকা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর দফতর যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আমরা মনে করি, আমাদের দেশ ভারত সকলের। দেশের প্রতিটি নাগরিকের এই দেশে সমান অধিকার রয়েছে। বিজেপি বা আরএসএস তা মনে করে না। তারা দেশটাকে কয়েকটি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ করে দিতে চায়।
নিজের সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী বিএসএফ জওয়ান। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায়। মৃত জওয়ানের নাম হরিচন্দ্রন, বয়স ৪২ বছর।

পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টে নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাগদার ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তে ৬৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের চোয়াটিয়া বিওপীর পাহারারত জওয়ান হরিচন্দ্রন- ৪২ বছর নিজের ইনসাস রাইফেল থেকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় জওয়ানের।


জানা গিয়েছে, মৃত জওয়ানের বাড়ি উড়িষ্যাতে। মৃত জওয়ানের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগদা থানার পুলিশ।

বাসন্তী থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বোমা। গ্রেফতার করা হয় এক জনকে। বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাসন্তী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাসন্তীর ভরতগর এলাকা থেকে শামিম হোসেন শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ডবল ব্যারেল লং পাইপগান, একটি সিক্স চেম্বার লং পাইপগান, দুটি লং পাইপ গান, তিনটি ওয়ান শাটার বন্দুক ও একটি সেভেন এমএম পিস্তল।উদ্ধার হয়েছে ২৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১০ রাউন্ড তাজা বোমা। ধৃতের বিরুদ্ধে ২৫/২৭ অস্ত্র আইন ও ৩/৪ এক্সক্লুসিভ ধারায় মামলা রুজু করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ। ধৃতকে আজ আলিপুর আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেবে বাসন্তী থানার পুলিশ।

ব্যাগ ভর্তি বোমার হদিশ মেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা মালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ পানিখালিতে। কয়েকদিন আগে সেখানে সর্দার পাড়ায় বাড়ির মধ্যে মজুত রাখা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় মৃত্যু হয়েছিল ফারুক সর্দার নামের এক যুব তৃণমূল কর্মীর। এই ঘটনায় হায়দার গাজি নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে কুলতলির ১৪ নম্বর রাধা বল্লভপুর এলাকায় হানা দিয়ে পুলিশ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে। জাকির নামের ওই দুষ্কৃতীর বাড়ি থেকে একটি একটি এক নলা পাইপগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়। জাকিরের বিরুদ্ধে খুন-সহ একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল।

গত সপ্তাহে ৬ নম্বর সোনাখালির বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডলের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি মজুত রাখার খবর প্রকাশ্যে আসে। খবর পেয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে অবৈধ অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত। পাশপাশি এও জানায় ওই অস্ত্রগুলি সে তার ভাই সুশান্ত মণ্ডলের কাছে রাখতে দিয়েছে। সুশান্তকেও আটক করা হয়। একটি বাক্স থেকে একটি দেশি বন্দুক ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। পুলিশ অবৈধ অস্ত্র ও গুলি বাজেয়াপ্ত করে দুই ভাইকে গ্রেফতার করে।


উত্তর ২৪ পরগনা থেকে গ্রেফতার বাংলাদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকা তছরুপের নায়ক

তাঁর বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে। কিন্তু তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে নাম পাল্টে ছিলেন পিকে হালদার ওরফে প্রশান্ত কুমার হালদার।নাম পাল্টে ফেলে শিবশঙ্কর হালদার নামে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে গেলেন তিনি।

কয়েক হাজার কোটি টাকা তছরুপে অভিযুক্ত বাংলাদেশের এনআরবি গ্লোবাল ব্যাঙ্কের প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর পিকে হালদারকে গ্রেফতার হল অশোকনগরে থেকে। পিকে হালদার সহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ইডি । যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন পিকে হালদারের স্ত্রী ও ভাই। শনিবার ওই ছজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি ।

জানা গিয়েছে, ৪২৬ কোটি টাকার আয় বহির্ভূত সম্পদ ছাড়াও কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে যুক্ত পিকে হালদার । এর পরিমান ৭ হাজার কোটি টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার ৮০ কোটি টাকা লেনদেন করার মামলা করায় প্রশান্ত কুমার হালদার সহহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে। তাদের নামে চার্জশিট জমা পড়ে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে। পিকে হালদারসহ ১০ জন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

 

উল্লেখ্য, পিকে হালদারের আয়কর আইনজীবী ছিলেন সুকুমার মৃধা। পিকে হালদারের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সুকুমার মৃধাকে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের দুই মামলায় আসামি করা হয়। এরপর দুদক তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। অশোকনগর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুকুমার মৃধার বিশাল বিলাসী বাড়ির সন্ধান পেয়েছে ইডি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সুকুমারকে তারা মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে চিনতেন। পিকে হালদার ও সুকুমার মৃধা অশোকনগরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী। ইডি ধারণা করছে, দীর্ঘদিন ধরে এই দুইজনের যোগসাজশে এনআরবির বিপুল অর্থ আত্মসাত্‍ করা হয়েছে।

সুকুমারকে গ্রেফতার করার পরেই পিকের কথা জানা যায়।

তারপরেই ওই টাকা তছরুপের ঘটনায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে ইডি। শুক্রবার অশোকনগরের তিনটি জায়গাতে একসঙ্গে তল্লাশি চালানো হয়। অশোকনগরে সুকুমার মৃধা-সহ প্রণব হালদার ও স্বপন মিশ্রের বাড়িতে একযোগে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। সেখানেই শিবশঙ্কর হালদার নামে ছিলেন ওই পিকে হালদার। তিনি সেখানে রেশন কার্ড, ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড, প্যান ও আধার কার্ড জোগাড় করেছিলেন।ইডি জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে প্রশান্ত কুমার হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার, প্রানেশ কুমার হালদার ও তাদের সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত সম্পদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। পিকে হালদার ভুয়ো পরিচয়ে ভারতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছিলেন। তিনি কলকাতার অভিজাত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্পত্তি কিনেছেন। তার নামে-বেনামে সম্পত্তির খোঁজে ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। তিনি অন্যদের ওই ব্যাঙ্কের বিভিন্ন পদে বসিয়ে ওই টাকা তছরুপ করেন। লোনের নামে টাকা নিয়ে তা পাচার করেন তিনি। পিকের আত্মীয়দেরও জেরা করছে ইডি। এবার পিকে হালদারকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় চলছে। এই কাজ করতে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে দুদক।
রান্নার করা গ্যাসের লাগাম ছাড়া দাম!আর সেই কারণে মাটির উনুনে হাত দিতেই কেউটের ছোবল খেলেন এক গৃহবধু। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া থানার অন্তর্গত আটপুকুর গ্রামে। বর্তমানে ওই গৃহবধু ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন রয়েছেন।দীর্ঘ প্রায় এক মাসের অধিক সময় বাড়িতে মাটির তৈরী উনুনের মধ্যে বাসা বেঁধে আশ্রয় নিয়ে ছিলো বিশাল এক বিষধর কেউটে।সকলের অলক্ষ্যেই নিশ্চিন্তে বসবাস করছিল ওই যমদূত।ইদানিং রান্নার গ্যাসের দাম অত্যধিক হারে বেড়ে গিয়েছে।পরিবারের রান্নার গ্যাস ও শেষ। অগত্যা কাঠের জ্বালানী ব্যবহার করে বুধবার সকালে রান্নার তোড়জোড় করছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়ার আটপুকুর গ্রামের গৃহবধু রাইদা বিবি।মাটির তৈরী উনুনের ছাই পরিষ্কার করার জন্য সবেমাত্র উনুনে হাত দিয়েছেন।হাত দেওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাঁর ডান হাতে ছোবল মারে বিষধর কেউটে।ছোবল মারার পর উনুনের মধ্যে গর্জন করতে থাকে সাক্ষাত্‍ ওই যমদূত।এদিকে সাপের কামড় খেয়ে যন্ত্রণায় চিত্‍কার করে কান্নাকাটি শুরু করেন ওই গৃহবধু।পরিবারের অন্যান্যরা গৃহবধুর কান্নার আওয়াজ শুনে দৌড়ে আসেন।বিপদের কথা পরিবারের সকল কে বলেন।এরপর পরিবারের লোকজন ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে বাইকে চাপিয়ে চিকিত্‍সার জন্য তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।চার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ভুষিঘাটা এলাকার বিদ্যাধরী নদীর খেয়া পারাপার হয়ে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তড়িঘড়ি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছায়। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে তখন রোগী দেখচ্ছিলে চিকিত্‍সক ডেসান্ড মোদী।
তিনি তড়িঘড়ি ওই গৃহবধুর প্রাথমিক চিকিত্‍সা শুরু করেন। এরপর ফোন করে ডেকে নেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্পবিশেষঞ্জ চিকিত্‍সক সমরেন্দ্র নাথ রায় কে।
বিষধর কেউটে কামড় দিয়েছে ওই মহিলার ক্ষতস্থান পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হয়ে যায় সর্প বিশেষঞ্জ চিকিত্‍সক সমরেন্দ্র নাথ রায়।শুরু হয় চিকিত্‍সা।তাঁর শরীরে সাপে কামড়ানো প্রতিষেধক অ্যান্টি ভেনাম সেরাম(এভিএস) ৩০ টি প্রয়োগ করা হয়।বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে আক্রান্ত গৃহবধু রাইদা বিবি জানিয়েছেন 'বিগত দিনে বাড়িতে মাটির উনুনে রান্না করতাম। গ্যাসে তাড়াতাড়ি রান্না করা যায় বলে মাটির উনুন ব্যবহার করতাম না।ইদানিং রান্না গ্যাসের দাম অত্যধিক হারে বেড়ে গিয়েছে।তারপর গ্যাসও শেষ হয়ে গিয়েছিলো। যার ফলে মাটির উনুনে রান্না করার জন্য পরিষ্কার করছিলাম। উনুনের মধ্যে বাসা বেঁধেছিল একটি বিষধর কেউটে।উনুনে হাত দিতেই ছোবল মারে।'
বাড়ির কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না নিয়ে গিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিত্‍সা করাতে আসার কারণ সম্পর্কে গৃহবধুর ভাইপো হাবিবুল্লা মোল্লা জানিয়েছেন 'ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে বহু দুরদূরান্ত থেকে সাপে কামড়ানো রোগীরা চিকিত্‍সা করাতে আসেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। এমন খবর অনেক আগে থেকেই জানতাম। বিশেষ করে হুগলি,বর্ধমান এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কুলতলি,গোসাবা,বাসন্তী,বারুইপুর,জয়নগর এলাকা থেকে সাপে কামড়ানো রোগীরা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল থেকে চিকিত্‍সা পরিষেবা পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন।যার কারণে কোন রকম ঝুঁকি না নিয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।'
চলতি বছরে অত্যধিক হারে সাপে কামড়ানো ঘটনা প্রসঙ্গে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সর্পবিশেষঞ্জ চিকিত্‍সক সমরেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন 'বিগত ২০২১ সালে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ১১০ জন সাপে কামড়ানো রোগী চিকিত্‍সার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে এসেছিলেন।সংখ্যা চলতি বছরে অনেকাংশ বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রবোড়া,এবং কেউটে সাপের প্রচুর উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায়, সাপের কামড়ের ঘটনা অত্যধিক হারে বেড়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই সাপে কামড়ানো রোগীরা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে আসছেন চিকিত্‍সার জন্য।এছাড়াও আমদের কে সচেতন ভাবে চলাফেরা করতে হবে। তাহলে সাপে কামড়ানোর মতো ঘটনা কমবে।প্রথমত আমাদের কে সচেতন ভাবে পথ চলতে হবে।ঘাসের উপর কিংবা নোংরা আবর্জনা থাকলে সেখানে সাবধানে কাজ করতে হবে। এছাড়াও বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরী,প্রয়োজন চুন ও ব্লিচিং মিশিয়ে বাড়ির চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে।রাতে অবশ্যই টর্চ ব্যবহার করা এবং মুসারি টাঙিয়ে ঘুমানো উচিত্‍। সাবধানতার পর সাপে যদি কামড় দেয় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিত্‍সার সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া জরুরী। কারণ সাপে কামড়ানো প্রতিষেধক এভিএস একমাত্র সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই পাওয়া যায়। "
হাবড়া গুলি কাণ্ডে গ্ৰেফতার ষষ্ঠ অভিযুক্ত। শুক্রবার গভীর রাতে অশোকনগর থানা এলাকা থেকে শম্ভু দে নামে এক যুবককে গ্রেফতার করল অশোকনগর থানার পুলিশ। তৃণমূল কর্মীকে গুলি চালানোর ঘটনায় শম্ভু দে যুক্ত ছিল। বাড়ি হাবড়া শ্রীনগর এলাকায়, এমনই জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার মধ্য রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়ার শ্রীনগর এলাকায় রাজু ঘোষ নামে এক ব্যবসায়ী ও তার সঙ্গী শান্তনু রায়কে লক্ষ্য করে গুলি-বোমাবাজির ঘটনা ঘটে।এরা দুজন তৃণমূল কর্মী বলেই দাবী হাবড়া পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সিতাংশু দাসের।


পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছিল এক আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখান থেকেই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই শম্ভু গুলি কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, এই শম্ভুই ওইদিন রাতে সবথেকে বেশি গুলি চালিয়েছিল।শুক্রবার গভীর রাতে শুম্ভুকে অশোকনগর থেকে গ্রেফতারের পরে রাতেই হাবড়া পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।


প্রসঙ্গত, এই গুলি কাণ্ডে হাবড়া পুলিশ আগেই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছিল। ধৃত পাঁচজনের নাম সঞ্জয় মন্ডল(৪২)- বাড়ি হাবড়া হিজল পুকুর তিন নম্বর রেল কলোনি এলাকায়, সন্তু সাহা(২৮)- হাবড়া শ্রীনগর গোয়ালবাটি এলাকায়, লক্ষণ সাহা(৩৪)- বাড়ি হাবরা শ্রীপুর এলাকায়, কালা সরকার(৩০)- অশোকনগর মানিকতলা, দেবাশীষ দে(৪২)-গোবরডাঙ্গা থানা এলাকায়।

এসএসসি দুর্নীতি মামলায় ম্যারাথন সিবিআই জেরার মুখোমুখি পরেশ অধিকারী (Paresh Adhikari)। শুক্রবার একটানা প্রায় ১০ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করেন সিবিআই আধিকারিকরা। কার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতা, সেই তথ্যের খোঁজে তদন্তকারীরা।শনিবার সকাল এগারোটায় নিজাম প্যালেসে ফের পরেশ অধিকারীকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা পরেশ অধিকারীর কাছ থেকে জানতে চান কীভাবে চাকরি হল তাঁর মেয়ে অঙ্কিতার। মন্ত্রীকন্যাকে চাকরি পাওয়ার নেপথ্যে আরও বহু লোক জড়িত রয়েছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সে কারণেই মধ্যস্থতাকারীর খোঁজে তত্‍পর সিবিআই।

উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ায় শিক্ষাদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। অভিযোগ, মেধা তালিকায় না থেকেও মন্ত্রীর মেয়ে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। ববিতা সরকার নামে এক পরীক্ষার্থী মামলা করেছিলেন। ববিতার দাবি, তাঁর চেয়ে নম্বর কম ছিল মন্ত্রীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। তারপরেও নিয়োগপত্র হাতে পাননি ববিতা। অথচ ২০১৮ সাল থেকে মেখলিগঞ্জের একটি স্কুলে চাকরি করছেন অঙ্কিতা। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন চাকরিপ্রার্থী ববিতা। সেই মামলাতেই সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। বর্তমানে চাকরি খুইয়েছেন মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতা। দুই কিস্তিতে বেতনের টাকাও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ হাই কোর্টের।

মঙ্গলবার রাত আটটার মধ্যে নিজাম প্যালেসে তাঁকে সিবিআইয়ের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। তবে রহস্যজনকভাবে 'উধাও' হয়ে যান পরেশ অধিকারী। বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠে। ওইদিন বিকেল সাড়ে তিনটের মধ্যে সিবিআই দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও হাজিরা দেননি রাজ্যের শিক্ষাদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী। এরপর সিবিআই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। ওইদিনই সন্ধেয় কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছন পরেশ। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী সোজা নিজাম প্যালেসে পৌঁছন তিনি। সেদিনও জেরা করা হয় তাঁকে।

এরপর বৃহস্পতিবার প্রায় তিন ঘণ্টা এবং শুক্রবার একটানা প্রায় দশ ঘণ্টা জেরা করা হয় মন্ত্রীকে। শনিবারও ফের পরেশ অধিকারীকে তলব করা হয়েছে। সকাল এগারো নাগাদ নিজাম প্যালেসের হাজিরা দিতে হবে তাঁকে। মন্ত্রীকে জেরা করে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।

 






বর্তমান শিক্ষা প্রতি মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর (Paresh Adhikari) মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর স্কুলের চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায় শুক্রবার শুনানির পর জানিয়েছেন, অবিলম্বে অঙ্কিতার চাকরি বাতিল ঘোষণা করতে হবে।

সেই সঙ্গে গত ৪১ মাস ধরে অঙ্কিতা অধিকারী যে বেতন পেয়েছেন, তা দুটি কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই টাকা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা থাকবে। পরেশ অধিকারীর মেয়ে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সহকারী শিক্ষিকা পদে চাকরি পেয়েছিলেন। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সময়ে বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, গোটা বিষয়টি শুনে মনে হচ্ছে অঙ্কিতা অধিকারীর মাথায় কিছু ক্ষমতাশালী ব্যক্তির অদৃশ্য হাত ছিল। এখানে দুর্নীতি হয়েছে মনে হচ্ছে। নইলে এ ভাবে একজন প্রার্থীকে মেধা তালিকায় আমদানি করে তাঁকে প্রথম স্থানে বসানো যায় না। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্টে পরেশের মেয়ে অঙ্কিতা পেয়েছিলেন ৬১ নম্বর। এবং এই মামলায় মামলাকারী ববিতা সরকার পেয়েছিলেন ৭৭ নম্বর। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর রায়ে বলেছিলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এই নম্বরের ফারাক আসলে অনেকটা। তা ছাড়া ববিতা পারসোনালিটি টেস্ট দিয়ে ৮ নম্বর পেয়েছিলেন। কিন্তু অঙ্কিতা পারসোনালিটি টেস্টেই বসেননি। এর থেকে সাফ বোঝা যাচ্ছে যে অঙ্কিতাকে মেধা তালিকায় আমদানি করা হয়েছিল। এই অনিয়মের নেপথ্যে অবধারিত ভাবেই বড় কেউ রয়েছেন। বস্তুত হাইকোর্টের নির্দেশে সেই বড় কেউ তথা অদৃশ্য হাতের সন্ধানে এখন নেমেছে সিবিআই। আর সেই তদন্তের উপর প্রতি মুহূর্তে নজরদারি চালাচ্ছে কলকাতা হাইকোর্ট। যাতে তদন্তে কোনও ঢিলেমি না হয়।