October 2026

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে যেসমস্ত বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটাররা আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে আগেই একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। পোলিং অফিসার নীলাদ্রি শেখর পন্ডা জানান, সেই তালিকা অনুসারেই কমিশন নির্দেশিত পদ্ধতি মেনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।


 প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই নন্দীগ্রামে ভোটপ্রক্রিয়া শুরু করল নির্বাচন কমিশন
নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ শুরু

আসন্ন ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমস্ত রাজনৈতিক দল যখন জোরকদমে প্রচারে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এক ধাপ এগিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবীণ এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।


নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে যেসমস্ত বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটাররা আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে আগেই একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। পোলিং অফিসার নীলাদ্রি শেখর পন্ডা জানান, সেই তালিকা অনুসারেই কমিশন নির্দেশিত পদ্ধতি মেনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাথরুমে তুমুল ঝগড়া! রাজবীরকে 'স্বার্থপর' বললেন নন্দিনী, ভাঙল প্রেম?
কমিশনের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণে বুথে যেতে অসমর্থ ভোটাররা। স্থানীয় বাসিন্দা আভারানী ও প্রসেনজিৎ পট্টনায়ক জানান, “ভীষণ অসুস্থতার কারণে আমাদের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব ছিল না। কমিশন কর্মীরা বাড়িতে এসে ভোট নিয়ে যাওয়ায় আমাদের খুব সুবিধা হল।”


এদিকে নন্দীগ্রামে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকা জুড়ে টহলদারি শুরু করেছে নিরাপত্তা কর্মীরা। ভোটগ্রহণের ঠিক দু’দিন আগে এলাকায় আরও অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।



বস্তুত, প্রায় ১৯ জনের মতো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাইবুন্যালে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে বিভিন্ন বিচারপতি নানা অসুবিধার কথা দেখিয়ে ট্রাইবুন্যাল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর আগে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমও ট্রাইবুন্যালের কাজ থেকে ইস্তফা নিয়েছেন।


 রাস্তার দশা অত্যন্ত খারাপ, বিরক্ত হয়ে ট্রাইবুন্যাল থেকে ইস্তফা প্রাক্তন বিচারপতির
কলকাতা হাইকোর্ট

 বেহাল রাস্তার দশা। খানা-খন্দে ভরা। আর তাতেই বিরক্ত হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই কারণে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। খারাপ রাস্তা ও দীর্ঘ যাত্রার কারণ দেখিয়ে SIR ট্রাইব্যুনাল থেকে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি।


প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি সল্টলেকে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। বর্তমানে এসআইআর (SIR) ট্রাইবুনাল চলছে। সেখানে বিচারকরা থাকছেন। প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও ট্রাইব্যুনালের অংশ। আর ট্রাইবুন্যাল সেন্টার পড়েছে জোঁকাতে। প্রাক্তন বিচারপতির বক্তব্য, সল্টলেক থেকে জোঁকার দূরত্ব অনেক। আর সেই রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। আড়াই ঘণ্টার উপর সময় লাগে। ট্রাফিক জ্যামে অপেক্ষা করতে হয়। এই যাতায়াতে তাঁর সমস্যা হচ্ছে। তাই ইস্তফার সিদ্ধান্ত।


 বাথরুমে তুমুল ঝগড়া! রাজবীরকে 'স্বার্থপর' বললেন নন্দিনী, ভাঙল প্রেম?
তবে প্রাক্তন বিচারপতি এও জানিয়েছেন, যদি সল্টলেকে বসে তাঁকে কাজের সুযোগ দেওয়া হয় তিনি ভেবে দেখতে পারেন। সূত্রের খবর, আগামী ২ নভেম্বর থেকে তাঁর ইস্তফার সিদ্ধান্ত কার্যকত হতে পারে। সেই অনুযায়ী যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বস্তুত, প্রায় ১৯ জনের মতো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাইবুন্যালে কাজ করছেন। বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে বিভিন্ন বিচারপতি নানা অসুবিধার কথা দেখিয়ে ট্রাইবুন্যাল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর আগে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমও ট্রাইবুন্যালের কাজ থেকে ইস্তফা নিয়েছেন। ফলে,ট্রাইবুন্যালের কাজ কীভাবে দ্রুত হবে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।




জানা গিয়েছে, স্মিথ মাচ্ছরের বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ১৩ বছরেরও বেশি। তিনি ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। তার আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। বোয়িং ৭৩৭ বিমানে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে।


 'ইজরায়েলের PM বলেছেন, একজন ভারতীয় দ্বিতীয় ৯/১১ হওয়ার থেকে রক্ষা করেছেন', ক্যাপ্টেন স্মিথের ভূয়সী প্রশংসা মোদীর
নরেন্দ্র মোদী প্রশংসা


মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাইয়ের’ বিমানের ককপিটে আচমকাই শুরু হয় পাইলট ও কো-পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ। অভিযোগ, কো-পাইলট ছুরি নিয়ে হামলা করেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ মাচ্ছরের উপর। গুরুতর আহত হয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। তাঁর সাহসিকতার জেরেই বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন স্মিথ মাচ্ছরকে ‘হিরো’ বলে প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)।


বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে উড়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমান। বিমানে প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড়ানের মাঝপথে ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলটের মধ্যে আচমকা সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক কো-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ মাচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে হামলা করেন। ঘটনায় গুরুতর জখম হন স্মিথ।





পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন যাত্রীদের প্রাণ রক্ষার্থে বিমানটি থেকে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরপর দু’টি সঙ্কেত পাঠানো হয়েছিল। বিমানকে সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য ক্রু সদস্যরা কো-পাইলটকে সাহায্য করে। এরপর বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলটের সহায়তায় বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানের সমস্ত যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে ছিল।

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত হওয়ার পরেও স্মিথ পাল্টা প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাপ্টেন স্মিথ মাচ্ছরের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিথ একজন হিরো।” মোদি জানান, ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং গুরুতর আহত অবস্থাতেও অন্যদের জীবন রক্ষায় স্মিথ যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর সাহসিকতার কারণে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেন তিনি।

মোদী এ দিন এও বলেন, “গতকাল যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে ভারতের ক্যাপ্টেন স্মিথ অসাধারণ ধৈর্য, উপস্থিত বুদ্ধি এবং সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, একজন ভারতীয় দ্বিতীয় ৯/১১-এর মতো ঘটনা হওয়ার থেকে বাঁচিয়েছেন।”



কে এই স্মিথ?

জানা গিয়েছে, স্মিথ মাচ্ছরের বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা ১৩ বছরেরও বেশি। তিনি ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন। তার আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। বোয়িং ৭৩৭ বিমানে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ককপিটে ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত, তার তদন্ত চলছে।



 বৈঠকে বিরোধী ঐক্যের রূপরেখা বোঝাতে গিয়ে কেরলের উদাহরণ টেনে আনেন রাহুল গান্ধী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেরলে কংগ্রেস ও বামেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়লেও দিল্লিতে তারা একজোট। জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর দায়বদ্ধতার কথা যেন কোনও রাজনৈতিক দলই ভুলে না যায়, সেই বার্তাই দেন রাহুল।


প্যাঁচে পড়েছেন মমতা, সব হারিয়ে শেষে বামদেরই প্রস্তাবে সাড়া মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকে এক তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হল। বৈঠকে বাম নেতাদের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে নিজের নমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি সিভিল সোসাইটি ও বুদ্ধিজীবীদেরও একজোট করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


বাম প্রস্তাব সমর্থন ও মমতার উদ্যোগ


বৈঠকে সিপিআই(এম) নেতা এম এ বেবি প্রস্তাব দেন, বিজেপি বিরোধী সব দল, সিভিল সোসাইটি ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের একসঙ্গে আনা দরকার। এই প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে সমর্থন জানিয়ে মমতা জানান, তিনি ইতিমধ্যেই বিরোধী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং গত মঙ্গলবার ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গেও কথা বলেছেন। এর পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন অভিযানের বিষয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা জি দেবরাজনের প্রস্তাবকে অত্যন্ত ভাল বলে সমর্থন করেন মমতা। সমর্থন করেন রাহুলও।


প্রসঙ্গত, বাংলায় ৩৪ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর থেকে মমতার রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানো। ক্ষমতায় আসার পরও বামেদের বিরুদ্ধে আক্রমণের শান বাড়িয়েছেন। এমনকি কয়েক মাস আগে পর্যন্তও বিজেপি বিরোধিতায় যখন দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হল তখন বিরোধী ঐক্যের স্বার্থে এক মঞ্চে থাকলেও সিপিএম নিয়ে বরাবর আপত্তি ছিল মমতার। আর এখন! বিজেপি বিরোধিতায় অতীত বৈরিতা ভুলে বাম ও অতিবাম দলগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান এর আগেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর অবশ্য খোঁচা, “আসলে প্যাঁচে পড়লে তো অনেকেই অনেক কিছু করেন। এখন তো আর তৃণমূল দলটা নেই। যেটা আছে, তিনি যে তৃণমূলের নেত্রী, সেটা প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা চলছে।” তবে তিনি এটাও বলেছেন, “জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন, তার বিরুদ্ধে দল মত নির্বিশেষে সকলকে একজোট হয়ে দাঁড়াতে হবে।”



‘ বৈঠকে বিরোধী ঐক্যের রূপরেখা বোঝাতে গিয়ে কেরলের উদাহরণ টেনে আনেন রাহুল গান্ধী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেরলে কংগ্রেস ও বামেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়লেও দিল্লিতে তারা একজোট। জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর দায়বদ্ধতার কথা যেন কোনও রাজনৈতিক দলই ভুলে না যায়, সেই বার্তাই দেন রাহুল।


আমার কোনও ইগো নেই', রাহুল গান্ধীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধী

রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রিত্বে আপত্তি নেই মমতার! ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে সরাসরি বুঝিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। আঁচটা মিলেছিল বুধবার সকালেই। যখন বৈঠকের মাঝে ভোটচুরির প্রতিবাদ প্রসঙ্গে মমতার মুখে শোনা গিয়েছিল রাহুলের নাম। যেখানে একবারও ওঠেনি অভিষেক প্রসঙ্গও। এতদিন ঠিক যে জায়গায় উঠেছে যাবতীয় টানাপোড়েন, আপত্তি, দর কষাকষি, ঠিক সেই জায়গাতেই কয়েক মাসের ব্যবধানে নমনীয় হতে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিশ্লেষকদের মতে, লড়াকু নেত্রী যেন মাথা ঝোকালেন পরিস্থিতির চাপে!


ঠিক কী আলোচনা হয়? 


 বিগ বসের ঘরে যা বলা যায়নি, বাইরে এসে সেটাই বললেন সায়ক-সোহিনী-অ্যালেক্স?
সূত্রের খবর, ইন্ডিয়া জোটের কনস্টিটিউশন ক্লাবের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘কংগ্রেসই প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে পারে। এ বিষয়ে আমার কোনও ইগো নেই। শুধু সকলের সহমত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে তখন পাল্টা বলেন, “কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর পদ বা ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে না। কংগ্রেস দেশ এবং গণতন্ত্র বাঁচাতে চায়।”


মমতার ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতি

কখনও NDA, কখনও আবার সুবিধা বুঝে UPA! নিজের কেরিয়ারে একাধিকবার অবস্থান বদলাতে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু তৃণমূলের এই অবস্থান বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিচার করতে গেলে, ঠিক কয়েকটা দিন পিছিয়ে যেতে হবে। ইন্ডিয়া জোট গঠনের শুরুর দিনগুলিতে তৃণমূলের স্পষ্ট সুর ছিল—নরেন্দ্র মোদীর মুখোমুখি দাঁড়াতে গেলে বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হওয়া উচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। অর্থাৎ মমতাই ‘বিকল্প’ মুখ। তৃণমূল নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি ছিল, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং জাতীয় স্তরে সর্বজনগ্রাহ্য পপুলারিটির বিচারে রাহুল গান্ধীর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক এগিয়ে। এমনকি SIR-এর সময়ে রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক পারদর্শিতা-বিচক্ষণতা নিয়ে কার্যত প্রশ্ন তুলতেই দেখা যায় অভিষেককে। সেই সময় জোটে কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্য কিংবা রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী মুখ হিসেবে তুলে ধরার প্রশ্নে তৃণমূলের তীব্র আপত্তি ছিল। কিন্তু এখন বদলে গিয়েছে গোটা সমীকরণটাই।

প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “মমতা বুঝতে পেরেছেন, বিরোধী দলগুলিকে যদি একজোট করে এক ছাতার তলায় আনতেই পারে, কিংবা বিরোধীদের মধ্যে এখনকার পরিস্থিতিতে যে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী, সেটাই জাতীয় কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীই প্রথম ভোটচুরির স্লোগান দিয়ে সারা ভারতের মানুষকে বুঝিয়েছিলেন। তাই মমতাকে সেটা মানতেই হল।”

সহানুভূতি আদায় মমতার

পশ্চিমবঙ্গে SIR এবং তৃণমূলের ভাঙ্গনকে ইস্যু করেছে সব বিরোধী দলই। বাংলায় ভোটচুরির অভিযোগে রাহুল-সহ একাধিক বিরোধী নেতার সহানুভূতি আদায় করেছেন মমতা। দক্ষিণ কলকাতায় আগুন লেগে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে মমতার ভোট চুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন রাহুল।

রাহুলের বার্তা ও ভোটচুরির অভিযোগ

বৈঠকে বিরোধী ঐক্যের রূপরেখা বোঝাতে গিয়ে কেরলের উদাহরণ টেনে আনেন রাহুল গান্ধী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেরলে কংগ্রেস ও বামেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়লেও দিল্লিতে তারা একজোট। জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর দায়বদ্ধতার কথা যেন কোনো রাজনৈতিক দলই ভুলে না যায়, সেই বার্তাই দেন রাহুল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় ও SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মমতা দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজে ‘বিগেস্ট সাফারার’ বা সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। মমতার ভোটচুরির অভিযোগ সমর্থন করেন বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী মমতার বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, “বিরোধী দলগুলি সাফারার ঠিকই, তবে এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।”

তৃণমূল ভাঙন ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের অবস্থান

তৃণমূলের অভ্যন্তরে ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলে শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) নেতা উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “আমার পার্টির সঙ্গে যেভাবে ছক কষে দল ভাঙা হয়েছিল, এখন তৃণমূলের সঙ্গেও ঠিক সেটাই করা হচ্ছে।” পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রায় চার মিনিট বক্তব্য রাখেন ওমর আব্দুল্লা। পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করে সমাজবাদী পার্টির নেতা হরেন্দ্র মালিক বলেন, বিরোধী ঐক্যকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে এবার কংগ্রেসকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে।

SIR প্রক্রিয়ায় ‘Biggest sufferer’ বা সবথেকে বড় ভুক্তভোগী হিসেবে নিজেকে দাবি করেন মমতা। পরে নিজের বক্তব্যের সময় রাহুল গান্ধী বলেন, “সব বিরোধী দলই ভুক্তভোগী। সব থেকে বেশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।” তখন মমতার ভোট চুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন তেজস্বী যাদব।

কথার মাঝেই তৃণমূলকে টুকরো করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন উদ্ধব ঠাকরে। তাঁর দাবি, “আমার পার্টির সঙ্গে যা করা হয়েছিল, এখন তার তৃণমূলের সঙ্গে হচ্ছে।” পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে টানা চার মিনিট বক্তব্য রাখেন ওমর আব্দুল্লা।

মমতার বক্তব্যকে সমর্থন করে সমাজবাদী পার্টির নেতা হরেন্দ্র মালিক বলেন, বিরোধী ঐক্য সুসংহত করতে কংগ্রেসকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। গতকালের বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীকে আলাদাভাবে একটি ‘স্টোলও’ গিফট করেছেন মমতা।



সন্দীপ দাস,কাকদ্বীপ: রেলের ধাক্কায় মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা স্টেশন সংলগ্ন সীমাবাঁধ এলাকায়। মৃতার নাম পারুল দাস (প্রায় ৭১)। তিনি ওই এলাকারই বাসিন্দা।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডাউন শিয়ালদহ–নামখানা গামী ট্রেনটি সীমাবাঁধ এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, বাড়ির গবাদি পশুর জন্য খাবার সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছিলেন পারুল দাস। সেই সময় রেললাইনের কাছে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পারুল দাস দীর্ঘদিন ধরে কানে কম শুনতেন। ফলে ট্রেন আসার শব্দ তিনি ঠিকমতো শুনতে পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে রেল পুলিশ।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেল পুলিশের কর্মী এবং কাকদ্বীপ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বৃদ্ধার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পাশাপাশি রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা মমতা তৃণমূলের।কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। জাতীয় নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নাম, প্রতীক বাজেয়াপ্ত করার পর, কোন পক্ষ আসল তা প্রথম নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপ্রতি প্রসন্ন ভি ভারালের বেঞ্চের নির্দেশ।


কোন পক্ষ আসল তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন', অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা মমতার

তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা মমতা তৃণমূলের।কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। জাতীয় নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নাম, প্রতীক বাজেয়াপ্ত করার পর, কোন পক্ষ আসল তা প্রথম নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়ে দিয়েছে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপ্রতি প্রসন্ন ভি ভারালের বেঞ্চ। বস্তুত, সুপ্রিম কোর্টে মমতা তৃণমূলের তরফ থেকে আবেদন করা হয়েছিল, তাদের দলের দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রত্যেক মাসে ১২.১৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। তার জন্য ইডি যে চারটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে, তার থেকে আর্থিক লেনদেন করার অনুমতি দেওয়া হোত। কারণ সামনেই নির্বাচন রয়েছে। এ দিন ছিল মামলার শুনানি।


এ দিন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি কোর্টে সওয়াল করেন, বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। ১১ অগস্ট কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের মাধ্যমে পুরো খরচ বহন করা হবে। এতে কিছু টাকা তারা পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সামনেই পুরসভা নির্বাচন রয়েছে। ভোটের জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা আসছে। অথচ চারটি অ্যাকাউন্টে ২১২ কোটি টাকা আছে। সেই টাকাই যাতে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় তা জানানো হয় কোর্টে।

পাল্টা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, এক্ষেত্রে কোন পক্ষ আসল তা আগে নিশ্চিত হতে হবে। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়ের প্রসঙ্গও এ দিন টেনে আনেন। জানান, জমি বিক্রির বেআইনি টাকা ঢুকেছে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তাই তারা যাতে এই বেআইনি অর্থ ব্যবহার না করে তার আবেদন করেন তুষার মেহতা।


আবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনজীবী জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই দলের অ্যাকাউন্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের কর্তৃত্ব বা অধিকার থাকা উচিত নয়। সব পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর সুপ্রিম কোর্ট জানায় তারা কলকাতা হাইকোর্টের কোনও রায়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

বস্তুত, তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছিল তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলিতে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং প্রভাবশালী সংস্থার বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।

ইডি-র বক্তব্য ছিল, তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী ধাপে ধাপে ১০ কোটি টাকা করে জমা করেছেন, বিতর্কিত সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা করেছেন। এর আগে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। কলকাতা হাইকোর্টে ওই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহার করার আর্জি জানিয়েছিল মমতা তৃণমূল। সেই সময়ে ওই অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল আদালত।

এদিনের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যেহেতু তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে তাই এই অবস্থায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ নয়। আসলে রাজ্য পুলিশই ওই চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেনি।



 বিমানবন্দরের অন্দরে মসজিদে নমাজ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, "সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে।"


৫০ বছরের মসজিদে বন্ধ নমাজ, কলকাতা এয়ারপোর্টের মামলায় উঠল বিমান হাইজ্যাক প্রসঙ্গ
রানওয়েতে নমাজ সংক্রান্ত মামলা

 প্রায় ৪০-৫০ বছর ধরে দমদমে কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে মসজিদে রয়েছে নমাজ পড়ার ব্যবস্থা। গত ১১ জুলাই থেকে সেই নমাজ বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকি থাকার কথা জানিয়ে নমাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেই মসজিদে ধর্মাচরণের অনুমতি পেতে মামলা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় সওয়াল-জবাব শেষে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ।


বিমানবন্দরের অন্দরে মসজিদে নমাজ পড়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “সরকার কাউকে ধর্মপালনে কোনওরকম বাধা দিচ্ছে না। তবে জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আগে দেখতে হবে।”



চোখের থেকে ঠিক কতটা দূরে মোবাইল রাখলে ক্ষতি হয় না জানেন?
বন্দে ভারতের দিকে বন্দুক তাক করে জওয়ান! হাওড়া স্টেশন ঘিরে ফেলল NSG, উত্তেজনায় বাড়ছে রক্তচাপ, কী হল তারপর?
৫০ বছরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হলে, এখন কেন: কিশোর দত্ত
কলকাতা বিমানবন্দরে ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে নমাজ পড়তে যেতে হত। সেই নমাজই আপাতত বন্ধ রয়েছে। বুধবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে আইনজীবী কিশোর দত্ত উল্লেখ করেন, যে মসজিদে ৪০-৫০ বছর ধরে প্রার্থনা হয়, সেখানে নমাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই জমি এখনও অধিগ্রহণ হয়নি বলে দাবি করেছেন কিশোর দত্ত।


একেবারে প্রার্থনা বন্ধ করে দেওয়া অন্যায় বলে দাবি করেন কিশোর দত্ত। তাঁর বক্তব্য, গত ৫০ বছরে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হলে, এখন কেন সেই প্রশ্ন উঠছে! নিয়ন্ত্রণ রেখেই আপাতত যাতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা
বিমানবন্দরের তরফে আইনজীবী গোপাল মুখোপাধ্যায় জানান, ওই মসজিদে শুধুমাত্র প্রার্থনা নয়, হয় বৈঠকও। রানওয়েতেও লোক ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। নিরাপত্তার সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। কেন্দ্রের তরফেও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা বলা হয় হাইকোর্টে।

এরপরই বিচারপতি রাও ইজরায়েলের বিমান হাইজ্যাক হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “এখন এই নিরাপত্তার ফাঁক গোটা বিশ্বে। কাল দুবাইয়ের ফ্লাইটের ঘটনা দেখুন।” আপাতত এই মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আগামী ৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।



দীপক বর্মণের স্পষ্ট বার্তা, স্কুলগুলিতে যেন কোনওভাবেই মিড-ডে মিল বন্ধ না হয়। তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে। মিড ডে মিলের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত স্কুলে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছে টাকা। এছাড়া, রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোরও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।


ফান্ডের অভাব', 'ভাতা বন্ধ'...মিড-ডে মিল নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী, দিলেন কড়া বার্তাও
দীপক বর্মণ

 রাজ্যের কোনও স্কুলেই যেন বন্ধ না হয় মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal)। কড়া নির্দেশ দিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ (Dipak Barman)। বরাদ্দ করা হল কোটি কোটি টাকাও। দিন কয়েক আগেই গড়িয়ার একটি স্কুলে মিড-ডে মিল বন্ধের খবর সামনে আসে। ফান্ডের অভাবে মিড-ডে মিল বন্ধের অভিযোগ উঠেছিল। প্রথম এই খবর টিভি৯ বাংলাতেই সম্প্রচারিত হয়। শুধু গড়িয়া (Garia School Mid-Day Meal) নয় দমদমের একটি স্কুলেও একইভাবে মিড-ডে মিল বন্ধের খবরে শোরগোল পড়ে যায়। এরপরই তৎপর হয় প্রশাসন। সঙ্গে সঙ্গে মিড-ডে মিল চালুর ব্যবস্থা করা হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। তবে, রাজ্যে এখনও এমন বহু স্কুল রয়েছে যেখানে মিড-ডে মিল নিয়ে নানারকম সমস্যার অভিযোগ উঠে আসছে। যেমন- বরাদ্দ, রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা ইত্যাদি। মিড-মিল নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নের এবার উত্তর দিলেন মন্ত্রী দীপক বর্মণ। একইসঙ্গে যাতে মিড-ডে মিল নিয়ে আর কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া বার্তা দিলেন তিনি।


পুজোর আগেই রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা 
দীপক বর্মণের স্পষ্ট বার্তা, স্কুলগুলিতে যেন কোনওভাবেই মিড-ডে মিল বন্ধ না হয়। তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে। মিড ডে মিলের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত স্কুলে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছে টাকা। এছাড়া, রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোরও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। দীপক বর্মণ জানিয়েছেন, পুজোর আগেই সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৯০০ কোটির বেশি বরাদ্দ করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর।


বন্দে ভারতের দিকে বন্দুক তাক করে জওয়ান! হাওড়া স্টেশন ঘিরে ফেলল NSG, উত্তেজনায় বাড়ছে রক্তচাপ, কী হল তারপর?
কী বললেন দীপক বর্মণ?
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, “আমাদের পিএম পোষণ যে প্রকল্পটি আছে, সেই প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আমার হাতে যা তথ্য রয়েছে, তাতে নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের রাঁধুনিদের যে অর্থের প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য সেই অর্থ আমরা বরাদ্দ করেছি। সেটা হল ৪২৪ কোটি টাকা। রান্নার যে খরচ রয়েছে তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছে। তা হল ৫৭৩ কোটি টাকা। সর্বসাকুল্যে ৯৯৭ কোটি টাকা আমাদের দফতর থেকে দেওয়া হয়েছে। তাতে অক্টোবর পর্যন্ত সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”


উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই টিভি৯ বাংলা পৌঁছে গিয়েছিল গড়িয়ার বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠে। দেখা যায়, সেখানে টানা তিনদিন ধরে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ করেছিলেন,তিন মাস ধরে স্কুলে আসছে না ফান্ড। ধার করেই এতদিন ধরে মিড-ডে মিলের রান্না চলছিল। কিন্তু, ধার এতটাই বেড়ে যায় যে শেষপর্যন্ত মিড-ডে মিল (Garia School Mid-Day Meal) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। টিভি৯ বাংলায় এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপরই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলা আধিকারিক। স্কুল কর্তৃপক্ষকে তারা জানায়, দুই-তিনদিনের মধ্যে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে, এখনই যেন মিড-ডে মিল চালু করে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারপরই চালু হয় মিড-ডে মিল। আবারও হাসি ফোটে পড়ুয়াদের মুখে। এই পরিস্থিতি যাতে রাজ্যের কোনও স্কুলে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই কড়া পদক্ষেপ করল স্কুল শিক্ষা দফতর।



'দ্য চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনার্স অ্যাক্ট, ২০২৩'-এ বলা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কোনও পদক্ষেপের জন্য আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা গ্রহণ করতে পারবে না।


মেজোরিটি দিয়ে পাস হয়নি', নির্বাচন কমিশনারের রক্ষাকবচ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সাংবাদিক বৈঠক

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখন বিরোধীদের অস্ত্র। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সদস্যরা একযোগে কমিশনের বিরুদ্ধে সেই অস্ত্রে শান দিচ্ছে। আন্দোলনে নামার ডাকও দিচ্ছে তারা। বুধবার নয়া দিল্লিতে জোটের বৈঠকে উপস্থিত থাকার পর আজ, বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বড় প্রশ্ন তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যে বিলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, সেই বিল নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন তিনি।


২০২৩ সালে সংসদে একটি বিল পাশ হয়। সেই বিলে এক বিশেষ রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনারকে। ‘দ্য চিফ ইলেকশন কমিশনার অ্যান্ড আদার ইলেকশন কমিশনার্স অ্যাক্ট, ২০২৩’-এ বলা হয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কোনও পদক্ষেপের জন্য আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা গ্রহণ করতে পারবে না। সেই বিল নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা।


জানেন হোটেলের বিছানায় কেন তোয়ালের রাজহাঁস রাখা থাকে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি প্রশ্ন করতে চাই, হার্ট থাকলে তার ইমিউনিটির দরকার হয়। কিন্তু হার্ট কোলাপস হয়ে গেলে, তার আর ইমিউনিটির কী দরকার। ইমিউনিটির নামে আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।” তিনি আরও বলেন, “লোকসভা আর রাজ্যসভা থেকে সেইসময় ১৪৭ জন সাংসদকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই সময়ই ওই বিল পাশ হয়। জোর করে বিল পাশ করানো হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ওই বিল পাস হয়নি। গণতন্ত্রকে শেষ করতে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন।”


এসআইআর ইস্যুতে যে শুরু থেকেই সরব ছিলেন তিনি, সে কথা এদিন আরও একবার মনে করিয়ে দেন মমতা। তিনি বলেন, “আমরা আদালতেও গিয়েছি। কমিশনে গিয়েছি। কোথাও বিচার মেলেনি। আমাদের বেইজ্জতি করেছে। আমার দলের নেতাদের বলেছে গেট লস্ট। কী ভাবে এমনটা বলতে পারে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যপালও বদলে দেওয়া হয়েছিল। যিনি রাজ্যপাল ছিলেন, তাঁর ৫ বছর শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বিহারে কংগ্রেস, আরজেডি যখন এসআইআর বুঝেছে, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

ইভিএম মেশিনে আগুন লাগানোর অভিযোগ তুলে এদিন জেলা ধরে ধরে তথ্য প্রকাশ করেন মমতা। হিসেব কষে বুঝিয়ে দেন এসআইআরে কত নাম বাদ পড়েছে। কলকাতা ছাড়াও বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলির মতো একাধিক জেলার তথ্য দেন মমতা।

মমতা বলেন, অনেক নির্বাচন কমিশনার দেখেছি। এরকম কোনোদিন দেখিনি। যা দেখেছি, তা দেখানোর জন্যই নথি নিয়ে এসেছি। সব গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবিও জানান তিনি। উল্লেখ্য, কমিশনারের রক্ষাকবচ সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।



আগে থেকে সাক্ষাৎকারের সময় নিয়েই বুধবার নবান্নের পূর্ত দফতরে আসেন আকাঙ্খা বিদ্যার্থী। নিজেকে PMO-র আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তিনি দফতরের কর্তাদের কাছে বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য জানতে চান। তবে তাঁর কথা ও হাবভাবে সন্দেহ জাগে আধিকারিকদের।


আগে থেকে সাক্ষাতের সময় নিয়ে নবান্নে পৌঁছেছিলেন আকাঙ্খা, কিন্তু দেখেই সন্দেহ আধিকারিকদের! দিল্লিতে সেই মহিলাকে টানা জেরা! কে তিনি?
নবান্ন

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) ভুয়ো আধিকারিক পরিচয় দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে প্রবেশ! অভিযুক্ত মহিলার নাম আকাঙ্খা বিদ্যার্থী। নবান্নে পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের কাছে তথ্য জানার চেষ্টা করে চম্পট দিলেও শেষরক্ষা হয়নি—হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ টিম দিল্লি থেকে ওই মহিলাকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।


জানা যাচ্ছে, আগে থেকে সাক্ষাৎকারের সময় নিয়েই বুধবার নবান্নের পূর্ত দফতরে আসেন আকাঙ্খা বিদ্যার্থী। নিজেকে PMO-র আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তিনি দফতরের কর্তাদের কাছে বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য জানতে চান। তবে তাঁর কথা ও হাবভাবে সন্দেহ জাগে আধিকারিকদের। আধিকারিকদের সন্দেহের বিষয়টি টের পেয়েই ওই মহিলা দ্রুত নবান্ন ভবন থেকে বেরিয়ে যান। ভুয়ো পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হতেই পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে হাওড়া সিটি পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।


অভিযোগ পাওয়ার পরপরই হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বিশেষ টিম গঠন করে গতরাত থেকেই একাধিক স্থানে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়। তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে দিল্লিতে ওই মহিলার সন্ধান মেলে। বর্তমানে হাওড়া সিটি পুলিশের বিশেষ দল সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ওই মহিলা ঠিক কী উদ্দেশ্যে নবান্নে এসে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন এবং তাঁর পেছনে বড় কোনও আন্তঃরাজ্য চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।



 হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেননি। অত্যাচারের, অত্যাচারীর ধ্বংস চেয়েছেন। বলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার মুখ দিয়ে বলানো হচ্ছে। যে কোনও অহংকারীর পতন হয়। একতরফাভাবে অত্যাচার, জুলুম চালায় যারা, তাদের অবসান হবে, এটা পৃথিবীর ইতিহাসেও রয়েছে।"


আমি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করিনি', চাপে পড়ে এবার ডিগবাজি হুমায়ুনের?
হুমায়ুন কবীর


‘আমি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করিনি’। রেজিনগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) তোপ দাগতেই ডিগবাজি হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir)? দিন কয়েক আগেই হুমায়ুন মন্তব্য করেছিলেন, “আমি চাই মুখ্যমন্ত্রী থেকে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। শুক্রবারে নমাজ পড়ব, বলব, এ যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়, উপরওয়ালা যেন ওকে ওঁর টিকিট কাটিয়ে দেয়।” তাঁর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রেজিনগরের সভা থেকে হুমায়ুনকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে হুমায়ুনের বিচার রেজিনগরের জনগণের হাতে তুলে দেন তিনি। এরপরই নিজের মন্তব্য থেকে পুরো পাল্টি খেলেন হুমায়ুন। নওদার বিধায়কের পাল্টা আক্রমণ, “মুখ্যমন্ত্রীর মাথা ঠিক মতো কাজ করছে না।”


মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পাল্টা কী বললেন হুমায়ুন?
টিভি৯ বাংলাকে হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করেননি। তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। অত্যাচারের, অত্যাচারীর ধ্বংস চেয়েছেন। বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুকামনা করিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার মুখ দিয়ে বলানো হচ্ছে। যে কোনও অহংকারীর পতন হয়। একতরফাভাবে অত্যাচার, জুলুম চালায় যারা, তাদের অবসান হবে, এটা পৃথিবীর ইতিহাসেও রয়েছে। ক্ষমতাসীন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এরকম নয় যে শুভেন্দুর মৃত্যুকামনা করেছি। আমার যদি ধ্বংস চায়, তাহলে আমিও তো রসগোল্লা পাঠাব না, আমি তো উপরওয়ালার কাছে সেটাই চাইব।”

নওদার বিধায়কের আরও দাবি, “অত্যাচারী ধ্বংস হয়। অত্যাচারী শেষ কথা বলে না। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। ন্যায়ের পথে যাঁরা চলেন, তাঁদের সুখ্যাতি হয়। আমি বলেছি, যেভাবে রাজ্যের আগের মুখ্যমন্ত্রী মানুষের ক্ষমতা নিয়ে চাকরি বিক্রি করেছিল, দুর্নীতি করেছিল, এই শুভেন্দু অধিকারীদের মিটিং-মিছিল করতে দিতেন না। একই কৌশলে পুলিশমন্ত্রী হয়ে বিরোধীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছেন।”


রেজিনগর থেকে শুভেন্দুর কড়া বার্তা
রেজিনগরে ভোট প্রচারে গিয়ে হুমায়ুনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তিনি বলছেন অজিত পাওয়ার প্লেন অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেল, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী নাকি আততায়ীর হাতে খুন হয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রতি শুক্রবার ওপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করব যাতে পৃথিবী থেকে তুলে নেয়। এই লোককে ভোট দেবেন? আমরা শত্রু হলেও এই ধরনের কথা মুখে আনি না। রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয়, লড়াই হবে, বাক্য বিনিময় হবে, তর্ক হবে, আলোচনা-সমালোচনা হবে, একজন জিতবে, অন্যরা হারবে। আর এখানে হুমায়ুন সাহেব বলছেন, আমি প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করছি, যাতে ওপরওয়ালা তাড়াতাড়ি মুখ্যমন্ত্রীকে অজিত পাওয়ারের মতো তুলে নেয়। আমি বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার হাতে তুলে দিয়ে গেলাম।”



 রেজিনগরের উপনির্বাচন থেকে হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বার্তা, 'রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয়, কিন্তু এই ধরনের ভাষা কেউ ব্যবহার করে না।...আমি বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার হাতে তুলে দিয়ে গেলাম।'


মুখ্যমন্ত্রীর 'মৃত্যুকামনা' করেছিলেন, এবার হুমায়ুনের 'বিচারের ভার রেজিনগরের হাতে তুলে' দিলেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী

দিন কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনা করে ঘৃণ্য রাজনীতির নির্লজ্জ নজির গড়েছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ন কবীর (Humayun Kabir)। এবার হুমায়ুনের বিচারের ভার রেজিনগরের উপর ছেড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। আজ উপনির্বাচনের প্রচারে রেজিনগরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, ‘রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয়, কিন্তু এই ধরনের ভাষা কেউ ব্যবহার করে না।…আমি বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার হাতে তুলে দিয়ে গেলাম।’


কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর? 
দিন কয়েক আগে সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমাদের অসম্মান করলে ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে। আমি চাই মুখ্যমন্ত্রী থেকে উনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যান। শুক্রবারে নমাজ পড়ব, বলব, এ যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়, উপরওয়ালা যেন ওকে ওঁর টিকিট কাটিয়ে দেয়। ছত্তিশগঢ়ের একজন কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর কীভাবে মৃত্যু হয়েছে? মহারাষ্ট্রের শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের কীভাবে মৃত্যু হয়েছে? ইন্দিরা গান্ধী-রাজীব গান্ধীকে কীভাবে যেতে হয়েছে? এর এত অহংকার? অহংকারের পতন হবে। ওইভাবে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে।”


এবার কি অনুষ্কা আউট হবেন বিগ বসের ঘর থেকে? কোন ইঙ্গিত দিয়ে ফেললেন রাজবীর?
হুমায়ুনকে কড়া আক্রমণ শুভেন্দুর
রেজিনগরের উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা, ‘শাখারভ সরকারের জয় কেউ আটকাতে পারবেন না।’ রেজিনগরে বিজেপির জয় কীভাবে নিশ্চিত, সেই বিষয়ে বলতে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরে সিপিএম, কংগ্রেস বা তৃণমূল কেউ এতটুকু জমি পাবে না দাবি করেছেন শুভেন্দু। এরপরই হুমায়ুনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “বাকি থাকল একজন। তিনি বলছেন অজিত পাওয়ার প্লেন অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেল, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী নাকি আততায়ীর হাতে খুন হয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রতি শুক্রবার ওপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করব যাতে পৃথিবী থেকে তুলে নেয়। এই লোককে ভোট দেবেন? আমরা শত্রু হলেও এই ধরনের কথা মুখে আনি না। রাজনীতির ময়দানে লড়াই হয়, লড়াই হবে, বাক্য বিনিময় হবে, তর্ক হবে, আলোচনা-সমালোচনা হবে, একজন জিতবে, অন্যরা হারবে। আর এখানে হুমায়ুন সাহেব বলছেন, আমি প্রতি শুক্রবার প্রার্থনা করছি, যাতে ওপরওয়ালা তাড়াতাড়ি মুখ্যমন্ত্রীকে অজিত পাওয়ারের মতো তুলে নেয়। আমি বিচারের ভার রেজিনগরের গণদেবতার হাতে তুলে দিয়ে গেলাম।”


হুমায়ুনকে আক্রমণ করে বলেন,”আপনার লোকরাই আপনার কাছ থেকে সরে গিয়েছে। কংগ্রেসকে ছুরি মেরেছেন অধীর চৌধুরীকে। আপনি যখন মন্ত্রী ছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল বলেছি বিধায়ক চাইছেন নাকি মন্ত্রী চাইছেন, সেদিন রেজিনগরের লোক আপনাকে হারিয়েছিল। আপনাকে আশ্রয় দিয়েছিল মুকুল রায়। আপনি বিজেপির সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। শেষ আশ্রয় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আপনিও বিভাজনের রাজনীতি করে ধর্মীয় স্থানকে সামনে রেখে আপনি আপনার রাজনীতি করেছেন। বিধানসভায় উনি গিয়েছেন নওদা থেকে। এই পাঁচ মাসে নওদা থেকে একটা ইটও দিতে পারেননি। আগামী ৫৫ মাসও পারবেন না। ভোট দেবেন কেন?” তাঁর দাবি, ‘মানুষের মৃত্যুকামনা যাঁরা করেন, তাঁদের পতন অনিবার্য।’

পাঁচ মাস সরকারে এসে বিজেপির কাজের খতিয়ানও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। আবাস থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধার কথা তুলে ধরেন। রেজিনগরে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, রেজিনগর শিল্প তালুক হবে। রেজিনগর মডেল বিধানসভা হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে দুই কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। নওদা ও রেজিনগরের প্রার্থী হন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি। দুই কেন্দ্র থেকেই জয়লাভ করেন হুমায়ুন। নিয়ম মেনে রেজিনগরের আসন ছেড়ে দেন হুমায়ুন। সেই আসনেই উপনির্বাচন হবে ৬ অক্টোবর।



বুধবারই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুল ও মমতা একে অপরকে সমর্থনও করেন এদিনের বৈঠকে। সেই বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় বার্তা দিলেন অধীর চৌধুরী।


'শুধু ঝঞ্ঝাটটা বাদ দিয়ে আসুন', মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বও মেনে নেবেন অধীর
মমতাকে আহ্বান অধীরের

 দিল্লিতে যাই হোক না কেন, সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সখ্যের নজির খুব একটা নেই। বিশেষত প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী কোনোদিনই চাননি রাজ্যে মমতার হাত ধরতে। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক নতুন নতুন সমীকরণ দেখছে বাংলা। একদিকে যখন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অন্যদিকে তখন তাঁকেই দলে আহ্বান জানালেন অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)।


বুধবারই দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে কথা হয় তাঁর। বিভিন্ন ইস্যুতে রাহুল ও মমতা একে অপরকে সমর্থনও করেন এদিনের বৈঠকে। সেই বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় বার্তা দিলেন অধীর চৌধুরী।


এবার কি অনুষ্কা আউট হবেন বিগ বসের ঘর থেকে? কোন ইঙ্গিত দিয়ে ফেললেন রাজবীর?
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা বলেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “তৃণমূলের বিধায়ক- সাংসদ যা বেঁচে আছে, মমতা সহ সবাই সামিল হয়ে কংগ্রেসে নেতৃত্ব দিন বাংলায়। আমরা মেনে নেব।” তাঁর কথায়, কংগ্রেসের মতো বটগাছের ছায়ায় যখন মমতা আশ্রয় নিয়েছেন, তখন তাঁর উচিৎ সরাসরি যোগ দেওয়া। তবে মমতাকে অধীরের বার্তা, “শুধু আপনার ব্যাগেজটা নেবেন না, যাকে নিয়ে আপনার ঝঞ্ঝাট তাকে বাদ দিয়ে সবাই কংগ্রেসে চলে আসুন।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ক্ষেত্রে ব্যাগেজ বলতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা বলতে চেয়েছেন তিনি।


এদিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মমতাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর দিতে চাননি। তিনি জানিয়ে দেন, এগুলি স্থানীয় বিষয়, এই নিয়ে কলকাতায় ফিরে জবাব দেবেন তিনি।



 গায়ক-নেতা ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে পুজোর পাস নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পুজোর পাস দেওয়ার নামে ও ইউনেসকোর নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রকাশ্য়ে আনল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।


প্রথমবার সামনে এল মমতার নাম, সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল লক্ষ লক্ষ টাকা!
মমতার বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ

ইন্দ্রনীল সেনের (Indranil Sen) মামলায় এবার বড় অভিযোগ সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। প্রথমে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়, পরে দফতরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইন্দ্রনীলকে। ক্ষমতায় থাকাকালীন যে দলের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতা হারানোর পর সেই দলের নেতার বিরুদ্ধে আরও একটা নতুন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে অস্বাভাবিক বলে মনে করেননি অনেকেই। তবে এবার প্রথম সরাসরি সামনে এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।


গায়ক-নেতা ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে পুজোর পাস নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পুজোর পাস দেওয়ার নামে ও ইউনেসকোর নামে টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রকাশ্য়ে আনল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

ইডি-র তরফে যে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানেই রয়েছে মমতার নাম। ইডি উল্লেখ করেছে, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ‘অকটেভ রেকর্ডস’ নামক সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল, এমন প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, ‘অকটেভ রেকর্ডস’ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে ৩০ লক্ষ। ইডি-র দাবি, ইন্দ্রনীল সেন তাদের বলেছেন যে, মমতাকে ওই টাকা রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।


কীসের রয়্যালটি, তা অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি এই প্রেস বিবৃতিতে। তবে মমতা এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, গান গেয়ে বা ছবি এঁকে রয়্যালটির টাকা পেতেন তিনি। এই প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা তথা মদন মিত্র বলেন, “মমতা ইন্দ্রনীল সেনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, এটা ভাবতে আমার অসুবিধা হচ্ছে।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের দাবি, এটা রয়্যালটি না বলে কাটমানি বলাই ভালো। এর আগে এই বিষয়ে আমি বারবার বলেছি যে, এই ঘটনার পিছনে মমতার হাত আছে, মাথা আছে।”



ট্রাফিক আইন ভাঙার পর দিনের পর দিন ই-চালানের (e-Challan) টাকা না মেটানোর দিন হয়তো এবার শেষ হতে চলেছে। বকেয়া জরিমানার বিপুল টাকা আদায় করতে এবার ইলেকট্রিক বিলের সঙ্গে তা জুড়ে দেওয়ার এক অভিনব প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে ট্রাফিক আইন অমান্য ও বকেয়া জরিমানা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে শীর্ষ আদালত লক্ষ্য করে, সারা দেশে নিয়মভঙ্গকারীদের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকার ই-চালান বকেয়া পড়ে আছে, যা দিনের পর দিন জমা পড়ছে না।

এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া কীভাবে আদায় করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রাখে। বেঞ্চ প্রস্তাব দেয়, যাঁরা ট্রাফিক ফাইন দিচ্ছেন না, তাঁদের বকেয়া জরিমানার অঙ্ক সরাসরি ইলেকট্রিক বিলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারে কর্তৃপক্ষ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ইলেকট্রিক বিল না মেটালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় থাকে। তাই বাড়িতে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকার ভয়ে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই জরিমানার টাকা মিটিয়ে দেবেন।
তবে সাধারণ মানুষের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপাতত এটি সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ বা প্রস্তাব মাত্র। সরকারিভাবে এখনো কোনো নির্দেশিকা বা আইন হিসেবে এটি দেশে কার্যকর হয়নি। তা ছাড়া, এই নিয়ম বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি ও পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। কারণ, যে ব্যক্তির নামে গাড়ি রয়েছে, বাড়ির ইলেকট্রিক মিটার তাঁর নামে নাও থাকতে পারে। পাশাপাশি, বহু মানুষ ভাড়াবাড়িতে থাকেন, যেখানে মিটার থাকে বাড়িওয়ালার নামে। এই বিষয়গুলির কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া মনোভাব থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার— আগামী দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বকেয়া আদায়ে প্রশাসনকে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিচ্ছে দেশের শীর্ষ আদালত।



হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই মহালয়ার পবিত্র তিথি। এই পুণ্যতিথিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান ও কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিতে প্রতি বছরই লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামে। প্রতিবারের মতো এবারও ভক্তদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বছর মহালয়ার পুণ্যস্নানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কা।

কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ও পূর্ণিমার কোটালের যৌথ প্রভাবে গঙ্গাসাগরের ১ থেকে ৬ নম্বর স্নানঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমুদ্রের জলের প্রচণ্ড তোড়ে ঘাটের মূল কাঠামো ধসে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা কংক্রিটের স্ল্যাব ও সাল বল্লার খুঁটি। জোয়ারের জলে এগুলি ডুবে গেলে পুণ্যার্থীদের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়াও কোথাও পড়ে রয়েছে বিদ্যুতের ভারী খুঁটি, আবার কোথাও উপড়ে পড়া বিশাল গাছ। ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে ঢালাইয়ের রাস্তা। ফলে পুরো এলাকা কার্যত চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মহালয়ার মতো বড় জনসমাগমে পুণ্যার্থীদের নিরাপদে স্নান করানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘাটগুলির এই দুরবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও চিন্তায় রয়েছেন।
তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির মণ্ডল-৪-এর সভাপতি পিনাকী মণ্ডল। খুব শীঘ্রই স্থায়ী সমাধান করে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সুগম করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

এখন দেখার বিষয়, মহালয়ার পুণ্যলগ্নে প্রশাসনের তৎপরতায় এই সংকট কতটা দ্রুত মোকাবিলা করা যায় এবং লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়।

“আমার অঙ্গনওয়াড়ি, আমার দায়িত্ব—খেলা, শিক্ষা ও পুষ্টি, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের ধসপাড়া সুমতিনগর-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ কর্মসূচি।

প্রায় ৩৮ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের কাছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে স্কুলমুখী করার পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও সচেতন করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বার্তা ছিল বাল্যবিবাহ ও কম বয়সে মাতৃত্ব রোধ। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী মধুমিতা দাস জানান, কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—১৮ বছরের আগে কোনো কিশোরীর বিয়ে নয় এবং ২১ বছরের আগে মাতৃত্ব নয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সাগর ব্লকের বিজেপি মণ্ডল-২ সভাপতি ভোলানাথ মাইতি। উপস্থিত ছিলেন মনোজ বাগসহ স্থানীয় একাধিক কার্যকর্তা এবং এলাকার বহু গ্রামীণ মহিলা। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা এই সচেতনতার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।


প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সার্ভে করতে গিয়ে উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের পয়লাঘেরী এলাকায়। অভিযোগের তির বিজেপির বুথ সভাপতি-সহ দুই বিজেপি কর্মী ও এক পঞ্চায়েত কর্মীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নামখানা বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।


অভিযোগ, আবাস যোজনার বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নামে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা একটি ভিডিওতে বিজেপি কর্মী বলে অভিযোগ ওঠা মনসুর আলি খাঁকে এক উপভোক্তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা চাওয়ার কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। টাকা না দিলে তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

অভিযোগে বিজেপির বুথ সভাপতি সুশীল প্রধান, কর্মী মনসুর আলী খাঁ ও আজিজ খাঁ এবং পঞ্চায়েত কর্মী শেখ কওসরের নাম রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে সুশীল প্রধান দাবি করেছেন, তিনি বিষয়টি জানতেন না এবং রাজনৈতিক চক্রান্ত করে তাঁকে ও বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে। মনসুর ও আজিজ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

বিজেপি নেতা নারায়ণ পড়্যার দাবি, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি বিজেপির কেউ নন। কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নামখানার বিডিও সুব্রত মল্লিক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দুর্গোৎসবের মুখে পুজোমণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কাকদ্বীপ থানা এলাকার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে যৌথ পরিদর্শন চালাল প্রশাসন। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্ব চাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে এই যৌথ প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসন, ব্লক প্রশাসন, দমকল এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকেরা।


পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে কথা বলে মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়। পরিদর্শন শেষে প্রতিটি পুজো কমিটিকে একাধিক জরুরি দিকনির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট বা ভিড় নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বিদ্যুতের নিরাপদ ব্যবহার এবং সার্বিক নিরাপত্তার ওপর। দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে ‘ইমার্জেন্সি এক্সিট’ বা জরুরি বেরোনোর পথ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে মণ্ডপ চত্বরে বিদ্যুতের তার খোলা অবস্থায় না রাখার এবং সঠিকভাবে ওয়্যারিং ও সংযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। উৎসবের দিনগুলিতে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং দর্শনার্থীরা নিরাপদে পুজো দেখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই আগাম যৌথ পরিদর্শন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সন্দীপ দাস,গঙ্গাসাগর: দেশকে কাছ থেকে দেখার এবং মানুষের সঙ্গে মিশে ভারতের বৈচিত্র্যকে জানার এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের যুবক রুদ্রা। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে পায়ে হেঁটে ভারত দর্শন অভিযানে বেরিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই দেশের ১৮টি রাজ্য পরিদর্শন করেছেন রুদ্রা।

নিজের এই দীর্ঘ যাত্রায় রুদ্রার সঙ্গী বলতে মূলত তাঁর স্কেচিং বুট এবং অদম্য ভ্রমণ-ইচ্ছা। পায়ে হেঁটেই একের পর এক রাজ্য পেরিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনযাত্রাকে কাছ থেকে দেখছেন তিনি। পথ চলতে চলতে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা স্কেচের মাধ্যমে তুলে ধরাও তাঁর এই অভিযানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৯ বছরের এই ভারত দর্শন অভিযানের ধারাবাহিকতায় এবার রুদ্রা এসে পৌঁছেছেন পবিত্র গঙ্গাসাগরে। গঙ্গাসাগরে এসে তিনি পুণ্যস্নান করবেন এবং এরপর কপিলমুনি মন্দিরে পূজা দেবেন।

রুদ্রার এই দীর্ঘ ভারত দর্শন শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং দেশকে জানার, মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার এবং ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে উপলব্ধি করার এক ইতিবাচক প্রচেষ্টা। নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তকে কাছ থেকে দেখার এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে আলাদা আগ্রহ।

জব্বলপুর থেকে শুরু করে পায়ে হেঁটে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য অতিক্রম করে গঙ্গাসাগরে পৌঁছনো রুদ্রার এই যাত্রা নিঃসন্দেহে দীর্ঘ অধ্যবসায়, ধৈর্য এবং দেশকে জানার আগ্রহের এক অনন্য উদাহরণ।


দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুজোর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কাকদ্বীপ বিধানসভার কাকদ্বীপ ও নারায়ণপুর এলাকার একাধিক বড় পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন পুলিশ জেলা পুলিশ সুপার ও বিডিও ইলেকট্রিএশিয়ান সহ একটি পরিদর্শনকারী টিম।


পরিদর্শনকালে পুলিশ আধিকারিকরা মণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের যাতায়াত এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি পুজো কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে মণ্ডপের প্রস্তুতি ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও খোঁজখবর নেওয়া হয়।

পুজোর দিনগুলিতে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই পুলিশ প্রশাসন ও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন ও পুজো কমিটির যৌথ উদ্যোগে সুষ্ঠুভাবে দুর্গাপুজো পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।