September 2026

ক্যানিংঃ ক্যানিংয়ের দাঁড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তেজনা ছড়ায়। পঞ্চায়েতে উন্নয়ন বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা যোগ দিতে এলে বাধা দেয় বিজেপি কর্মীরা। অভিযোগ সেই সময় বিজেপির মহিলা কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশের সামনেই সেই হামলা চালানো হয়। এমনকি পুলিশও সেই হামলায় মদত দিয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিজেপির মহিলা কর্মী জখম হয়েছে। 

তাঁরা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাও করিয়েছেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা বিকেলে ক্যানিং থানায় বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের বিরুদ্ধেই তাঁরা শ্লোগান দেন। পুলিশের উপস্থিতিতে ও মদতে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। 
পাশাপাশি এদিন ক্যানিং থানার আই সি তুষার বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি আই সি দিনের পর দিন তোলাবাজি করছেন। বিজেপি কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন। তৃণমূলের সাথে সেটিং করে চলছেন। এমনকি তোলাবাজির জন্য নিজের জামাইকে নিয়ে এসেছেন থানায় যিনি কোন পুলিশ কর্মীই নন। আইসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে এদিন সন্ধ্যায় থানায় সরব হন বিজেপি কর্মীরা। বিজেপির এবারের ক্যানিং পশ্চিমের প্রার্থী প্রশান্ত বায়েন ও জেলা সম্পাদক সমীর মন্ডলের নেতৃত্বে হয় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি। আরও অভিযোগ আইসির বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণে থানা থেকে বিজেপি কর্মীদের ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়।


দুই পরিবারের মারামারিতে গুরুতর জখম হলেন উভয় পক্ষের ৮ জন। জখমদের মধ্যে ৪ জন মহিলা রয়েছেন।ঘটনাটি ঘটেছে বাসন্তী থানার অন্তর্গত ভরতগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ ও ৩ নম্বর ভরতগড় গ্রামে।ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 


ঘটনার বিষয়ে উভয় পরিবার বাসন্তী থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। 
 দুই পরিবারের কয়েকজন শিশু খেলা করছিল। সেই সময় শিশুদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। মোসিবুর সেখ নামে এক শিশুর পায়ে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ।সেই ঘটনা নিয়ে আক্রান্ত শিশুর পরিবারের লোকজন অপর শিশুর বাড়ির লোকজনদের কাছে হাজীর হয়। কেন এমন ঘটনা ঘটেছে জানতে চায়।

 তারপরেই মারামারি। অন্যান্য প্রতিবেশীরা তাদের কে রক্তাক্ত অবস্থা উদ্ধার করে। চিকিৎসার জন্য প্রথমে বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়।প্রত্যেকের মাথায় আঘাত লাগায় সকলের অবস্থার অবনতি হয়।রাতেই তাদের কে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন আক্রান্ত সকলেই। সাত সকালে পুলিশ এলাকায় তদন্ত চালাচ্ছে।



বুধবার, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে রায়দিঘী বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা অভিযান চালানো হয়।

এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও, খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিকরা।

অভিযানের সময় বাজারের বিভিন্ন খাবারের দোকান এবং খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। তল্লাশিতে একাধিক দোকানে বেশ কিছু মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য চিহ্নিত করা হয়। পরে সেগুলি ফেলে দিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি, ব্যবসায়ীদের বৈধ লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়।
অভিযানে কয়েকটি দোকানে বেশ কিছু সন্দেহজনক ও লেবেলবিহীন খাদ্যদ্রব্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কোথাও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার মজুত করা, অপরিষ্কার জায়গায় বাসনপত্র ধোয়া, দেওয়াল ও ছাদে ময়লা জমে থাকা এবং রান্না করা খাবার ঢেকে না রাখার মতো অনিয়মও নজরে আসে আধিকারিকদের।

এছাড়াও খাবারে অনুমোদনহীন বা সন্দেহজনক রং ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়।

খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে এফএসএসএআই নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, ‘বেস্ট বিফোর’ এবং ‘এক্সপায়ারি ডেট’-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা।

অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট একাধিক খাদ্য ব্যবসায়ীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পৌঁছে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও এই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে।

আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-কে ঐতিহাসিক ও সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে ইতিমধ্যেই জোরকদমে আসরে নেমে পড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। মেলা প্রাঙ্গণের সার্বিক পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার ব্লু-প্রিন্ট প্রস্তুত করতে বুধবার দুপুরে গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করলেন শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। 


এদিনের এই মেগা পরিদর্শনের মধ্য দিয়েই মূলত ২০২৭ সালের মেলার আনুষ্ঠানিক ও দাফতরিক প্রস্তুতির বড় পদক্ষেপ শুরু হয়ে গেল।
বুধবার দুপুরে প্রথমে সাগর ব্লক অফিসে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রাথমিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে মেলার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর প্রশাসনিক প্রতিনিধিদল সোজা পৌঁছে যান গঙ্গাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বেনুবনঘাট, ঐতিহাসিক কপিলমুনির আশ্রম এবং প্রধান স্নানঘাটগুলিতে।


 পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত রাখা যায়, তা খতিয়ে দেখতে প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় পর্যবেক্ষণ করেন আধিকারিকরা।
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সাগরের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনন্ত কুমার গোস্বামী, পূর্ত দফতর বা পিডব্লিউডি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা, বিএলআরও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, ভারতীয় জনতা পার্টির ব্লক কনভেনার ও বিভিন্ন মণ্ডলের সভাপতিরা এবং একাধিক দাফতরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক আধিকারিকরা। গঙ্গাসাগর পয়েন্ট ও মূল মেলা চত্বর পরিদর্শনের পর কচুবেড়িয়া ঘাট থেকে শুরু করে সাগর অভিমুখী যাতায়াতের প্রধান সড়ক এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিও পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন তাঁরা। চলতি প্রস্তুতি পর্বের সবথেকে উল্লেখযোগ্য এবং চর্চিত বিষয় হলো গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার পরিকল্পনা। ২০২৭ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জিত হলে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী, সাধু-সন্ন্যাসী এবং বিদেশি পর্যটকদের ঐতিহাসিক ঢল নামবে এই সাগরদ্বীপে।
আর সেই সম্ভাব্য বিশাল জনস্রোত এবং রেকর্ড ভাঙা ভিড়কে সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং পুণ্যার্থীদের যাতায়াত পথ সম্পূর্ণ জ্যামমুক্ত, নিরাপদ ও সুগম করতে এখন থেকেই একাধিক কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে, যাতায়াতের রাস্তা প্রশস্ত করা এবং যানজট রোধ করার উদ্দেশ্যে বড়সড় বুলডোজার বা ভাঙার নীতি নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর মেলা চত্বর এবং যাতায়াতের মূল রাস্তার ধারে থাকা প্রায় তিনশোটিরও বেশি দোকানদারকে ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রাস্তার দু'ধারের অবৈধ জবরদখল হটাতে এবং চলাচলের রাস্তা সম্পূর্ণ পরিষ্কার রাখতে এই তিনশোরও বেশি দোকান অবিলম্বে ভেঙে বা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের এই মেলাকে সফল করতে এবং দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষাধিক পুণ্যার্থীয়ের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই মাঠে নেমে দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন।

গঙ্গাসাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার কচুবেড়িয়া ঘাটের ঠিক পাশেই অবস্থিত কশতলা গ্রামে মুড়িগঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিটার নদীবাঁধ ধসে সোজা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শত শত বিঘা চাষের জমি হারানোর আশায় বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও অভিযোগ, গত প্রায় তিন বছর ধরে এই এলাকায় দফায় দফায় ভাঙন শুরু হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো স্থায়ী ও টেকসই সমাধান মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, এই বাঁধের পাশ দিয়েই ভারী বাংলাদেশি জাহাজ যাতায়াত করে, যার ফলে তৈরি হওয়া ঢেউ ও স্রোতের টানে ভাঙন আরও তীব্রতর হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ঘোড়ামারা দ্বীপের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে নদীর গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে এবং জলের মূল স্রোত এসে সরাসরি ধাক্কা মারছে এই দুর্বল বাঁধটিতে।

আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি রিং বাঁধ তৈরি করা হলেও তাতে গ্রামবাসীদের ভরসা একবিন্দুও নেই। তাঁদের স্পষ্ট কথা, এই রিং বাঁধটি সম্পূর্ণ মাটির তৈরি এবং অত্যন্ত দুর্বলভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে এই রিং বাঁধটিও ভেঙে গিয়ে পুরো গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সর্বস্ব হারানোর আশায় দিন কাটানো অসহায় মানুষগুলো এখন দ্রুত কোনো অস্থায়ী জোড়াতাপ্পি নয়, বরং একটি স্থায়ী ও মজবুত নদীবাঁধ নির্মাণের দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

কাকদ্বীপ মহকুমা রক্ষা আধিকারিক (SDPO) কার্যালয়ের ঠিক পাশেই অবস্থিত ব্যস্ত স্টাইল বাজারের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে এক অভিনব ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠিত হলো। জনবহুল এই বিপণীকেন্দ্রে হঠাৎ আগুন লাগার মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা কীভাবে তা মোকাবিলা করবেন, তা হাতে-কলমে দেখাতে ময়দানে নামে 'অর্জুন বাহিনী' ও সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবী দল।


বর্তমান সময়ে শহরের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা রোধ করতে এবং সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখতে এই মক ড্রিলের আয়োজন করা হয়। মহড়ার সময় সিলিন্ডারের আগুন নিয়ন্ত্রণ, ধোঁয়াভরা পরিবেশ থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসা এবং প্রাথমিক উদ্ধারকাজের বিভিন্ন কৌশল খুব নিখুঁতভাবে প্রদর্শন করা হয়।

 এদিনের এই সচেতনতামূলক মহড়া দেখতে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বেশ ভিড় জমেছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু বড় বড় বহুতল বা শিল্পাঞ্চলই নয়, সাধারণ শপিং মল ও বাজারের মতো জনবহুল এলাকাতেও অগ্নিকাণ্ড এড়াতে এ ধরনের মহড়া অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন আতঙ্ক কমবে, অন্যদিকে তেমনই যেকোনো বিপদের মুহূর্তে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার আত্মবিশ্বাসও অনেকটা বাড়াবে।

তারুণ্যের উন্মাদনায় মুখরিত সাগরদ্বীপের হরিণবাড়ি। ক্রীড়াপ্রেমী তরুণদের উৎসাহিত করা এবং গ্রামীণ প্রতিভা তুলে ধরার লক্ষ্যে শুরু হলো ‘বিবেকানন্দ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ফুটবল প্রতিযোগিতা ২০২৬’। 


সাগরমঙ্গলের উদ্যোগে হরিণবাড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ফুটবলে প্রতীকী শট মেরে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। বক্তব্যে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সুস্থ শরীর ও মন গঠনে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলের ছাত্ররা নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে দর্শক ও ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। আগামী চার দিন ধরে হরিণবাড়িতে চলবে ফুটবলের এই জমজমাট লড়াই।

গঙ্গাসাগর থেকে সৌরভ নস্করের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম

সুন্দরবনের নামখানার দুস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াল ঢাকুরিয়ার ‘মানসী দা হিলিং টাচ’। সংস্থার পক্ষ থেকে নামখানায় আয়োজিত হল বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে এলাকার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থেকে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নামখানা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক প্রলয় ধর, শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষক তাপসকান্তি করণ, শিবানি মণ্ডল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যাপক পুলকরঞ্জন দাস-সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে দুস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে এই আর্থিক সহযোগিতা তাদের আগামী দিনের পথচলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানে বক্তারা ছাত্রছাত্রীদের মন দিয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী পড়ুয়াদের শিক্ষার সুযোগ আরও সুগম করতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। আগামী দিনেও সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে থেকে শিক্ষা ও মানবিকতার প্রসারে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয় সংস্থার পক্ষ থেকে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বকখালীর বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় যৌথ অভিযান চালাল প্রশাসন। বকখালী সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একাধিক অস্থায়ী খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় হঠাৎ এই অভিযান চালানো হয়।

এই বিশেষ টিমটিতে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য দফতর, এগ্রিকালচার মার্কেটিং বিভাগ, কাকদীপ মহকুমা প্রশাসন, নামখানা ব্লক প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

অভিযানকারী দলটি অস্থায়ী খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলির বিভিন্ন খাবারের গুণগত মান, রান্নার মশলা, সংরক্ষিত কাঁচা মাছ-মাংস এবং শাকসবজি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। পরিদর্শনকালে একাধিক দোকান থেকে বাসি খাবার, পচন ধরা মাছ, ক্ষতিকর রঙ মেশানো সবজি এবং ভেজাল মশলা সহ ব্যবহারের অযোগ্য প্রচুর খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সমস্ত বাজেয়াপ্ত অযোগ্য ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ঘটনাস্থলেই নষ্ট করে দেয় যৌথ অভিযানকারী দল। স্বাস্থ্যবিধির চরম লঙ্ঘনের অভিযোগে এবং পর্যটকদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে, যে যে দোকান ও রেস্তোরাঁ থেকে এসব ক্ষতিকর সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে সংশ্লিষ্ট দফতরের পক্ষ থেকে শোকজ করা হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রের ভাবমূর্তি রক্ষা ও খাদ্যের মান বজায় রাখতে আগামী দিনেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।