June 2026

বাংলা টেলিভিশনের এক যুগের অবসান! দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিকেল সাড়ে চারটের সঙ্গে যার নাম একাকার হয়ে গিয়েছিল, সেই 'দিদি নম্বর ১'-এর মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াতে হল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই খবরে যেমন অবাক দর্শকরা, তেমনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন স্বয়ং রচনাও।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রচনা জানান, 'দিদি নম্বর ১' শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ। তিনি বলেন, যখন তাঁর ছেলে মাত্র তিন বছরের, তখন থেকেই এই শো-এর সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। নিজের সন্তানের মতোই যত্ন, ভালোবাসা আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানকে বড় করেছেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রচনা বলেন, এমনও দিন গেছে যখন ছেলেকে সময় দেওয়া এবং শুটিং—দুটোই একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। কখনও মেট্রো চেপে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরেছেন, আবার কখনও রাতের শুটিং শেষে পরিচয় গোপন রাখতে বোরখা পরে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। তাঁর কথায়, দিদি নম্বর ১' শুধু একটি শো নয়, অসংখ্য স্মৃতি আর আবেগের নাম।

তাঁর এই বিদায়ের পিছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে রচনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন না এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ রয়েছে। তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।

রচনা আরও বলেন, পরিবর্তন জীবনের নিয়ম। একজন আসবেন, একজন যাবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বছরের সম্পর্কের ইতি টানার ক্ষেত্রেও একটি সম্মানজনক ও সুন্দর সমাপ্তি থাকা উচিত ছিল। তাঁর আক্ষেপ, যেভাবে তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে সরানো হয়েছে, তা তিনি একেবারেই আশা করেননি। 

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিকেল সাড়ে চারটার সময়স্লটটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল তাঁর হাত ধরেই। তাঁর মতে, সেই জায়গায় নতুন করে লড়াইয়ের বদলে চ্যানেল হয়তো দর্শক ও সময়স্লট—দুটোই বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সব মিলিয়ে, 'দিদি নম্বর ১' থেকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি বলেই মনে করছেন দর্শকরা।



দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম দ্বারিকাপুর আদিবাসী কলোনির ১১৭ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের বেহাল চিত্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে সরকারি পরিষেবার মান। খাতা-কলমে এই কেন্দ্রে প্রায় ৯০ জন শিশু ও একাধিক প্রসূতি ও গর্ভবতী মা নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ দিন কেন্দ্রে দেখা যায় মাত্র দু-একজন শিশুকে। তবে মিড-ডে মিলের খাবার নিতে মায়েদের উপস্থিতিই চোখে পড়ে বেশি।



স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত আইসিডিএস ভবন না থাকায় অভিভাবকেরা ছোট শিশুদের কেন্দ্রে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।কারণ উনানের ধোঁয়ায় পড়াশোনার বদলে চোখে জল ঝরে শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের। বর্তমানে মাত্র ১৬ ফুট × ১২ ফুটের একটি দরমার ঘরে চলছে কেন্দ্রের সমস্ত কার্যক্রম। মাথার উপর রয়েছে ত্রিপলের ছাউনি। সেই ঘরের মধ্যেই জ্বলছে রান্নার উনুন, একপাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে জ্বালানি কাঠ। রান্না শুরু হলেই শিশুদের বসার মতো জায়গা থাকে না। উনুনের ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ঘর, ফলে ছোট ছোট শিশুদের সেখানে পড়াশোনা করানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কেন্দ্রের সহায়িকার দাবি, স্থায়ী আইসিডিএস ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই এই প্রতিকূল পরিবেশে পরিষেবা চালাতে হচ্ছে। রান্নার ধোঁয়া, সংকীর্ণ পরিসর ও অনুপযুক্ত পরিবেশের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি—দুইয়েরই সঠিক ব্যবস্থা হওয়া উচিত। বর্তমানে পড়াশোনার চেয়ে খাবার পাওয়াই যেন এই কেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন একটাই—পশ্চিম দ্বারিকাপুর আদিবাসী কলোনির ১১৭ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের জন্য কবে তৈরি হবে একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত ভবন? সেই উত্তরই এখন অপেক্ষায় এলাকার মানুষ।


আজ সকাল প্রায় ৯টা ১০ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের নারায়ণপুর ফেরিঘাটের কাছে একটি ফিশিং ট্রলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনটি খালি যাত্রীবাহী নৌকায় ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে তিনটি নৌকাই ভেঙে নদীতে ডুবে যায়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রলারটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে স্বস্তির বিষয়, দুর্ঘটনার সময় নৌকাগুলিতে কোনও যাত্রী বা মাঝি উপস্থিত ছিলেন না। ফলে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা নিখোঁজের খবর মেলেনি।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পরবর্তীতে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খোলা হয়। তারপরও দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের মোসারফ হোসেন, বীরভূম জেলা থেকে নির্বাচিত বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস, পান্নালাল হালদার, মুরারইয়ের মুসারফ হোসেন - যাঁরা প্রত্যেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। তাঁরা সকলেই বিধানসভা অন্দরে বসে থাকলেন।


ঋতব্রত শিবিরেই ফাটল? বিধানসভার নজিরবিহীন দৃশ্যে জোর জল্পনা
বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বিধায়করা


OBC বিলের সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটিতে ঋতব্রত-শিবিরের মধ্যে বিভ্রান্তি। বেশিরভাগ বিধায়ক ওয়াক-আউট করলেও অধিবেশন কক্ষেই রয়ে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন। সোমবার বিধানসভায় এই বিল পাশ হওয়া নিয়ে বেশ কয়েকটি নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেখা যায়, বিল পাশের সময়ে ঋতব্রত শিবিরের প্রায় সকলেই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। তারপরই দেখা যায়, বেশ কয়েকজন আটকে পড়েন। কারণ ভোটাভুটির সময়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে কারণে বেরোতে পারছিলেন না শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহার মতো বেশ কয়েকজন। GeographicReference


পরবর্তীতে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খোলা হয়। তারপরও দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের মোসারফ হোসেন, বীরভূম জেলা থেকে নির্বাচিত বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস, পান্নালাল হালদার, মুরারইয়ের মুসারফ হোসেন – যাঁরা প্রত্যেকেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের। তাঁরা সকলেই বিধানসভা অন্দরে বসে থাকলেন। দেখা যায়, কুণাল ঘোষ তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বেরোবেন না, আপনারা এটাই ঠিক করেছেন।” এরপরই দেখা গেল, বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাসরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। অন্যদিকে, তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের বিধায়করা অর্থাৎ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়রা সেখানে থাকেন। বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, কেবল দরজা বন্ধ ছিল বলেই কি বেরোতে পারলেন না? নাকি বেরোতে চাননি বলে দরজা খোলা হলেও বেরোলেন না? তাহলে কি ঋতব্রত শিবিরেই ধরল ফাটল, এদিনের দৃশ্যে সে প্রশ্নই ঘোরপাক খাচ্ছে। এই বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৮৬ টি। বিপক্ষে ১৭ টা। ভোটদান থেকে বিরত থেকেছেন ৬ জন।


 প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, "এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন।"


 'এনাফ ইজ় এনাফ!' আর ১ সপ্তাহ! ভরা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কোন বিধায়ককে 'ডেডলাইন' দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী


সবক শেখানোর সময় এসেছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি দিলেন হুঁশিয়ারিও। বললেন, ‘এনাফ ইজ় এনাফ’। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বলেন, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দুটি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক বক্তব্য রেখেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিষদীয় মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ যোগাযোগ করেছিলেন।


‘এনাফ ইজ় এনাফ’

প্রথমে বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুটো জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগরের বলা বক্তব্য ও ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বলেন, “এই দুটো ঘটনার পর মনে হয়েছে, এনাফ ইজ় এনাফ। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে শিক্ষা দেওয়ার। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য়মন্ত্রী নন। আগে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন, যা খুশি করেছেন।”


হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা? 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ টো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেজিনগরে কেস নম্বর ২১৯, ২২৬। BNS, 152, 192, 196,197, 224, 299, 351 (2), 352, 353 ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাতেও শক্তিপুর থানায় BNS ১৭৬/২২৬ এ মামলা রুজু রয়েছে।

হুমায়ুন কবীরের এজেন্ডা কী?

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি।” কেন হুমায়ুন কবীর এই ধরনের কথা বলছেন? তাঁর এজেন্ডা কী, সেটাও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনি কেন এসব করছেন আমি জানি। আপনার প্রথম এজেন্ডা ছিল ভরতপুর-রেজিনগর-নওদায় সব নির্বাচিত পঞ্চায়েত ভেঙে আপনার পার্টিতে নিয়ে যাওয়া। আপনি সেটা করতে পারছেন না। দ্বিতীয়, ২টো সিটে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগরে রিজাইন করেছেন। ২-৩ মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে, আপনি আপনার ছেলেকে জিতাতে চাইছেন। ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। আর সেটাকে টানতেই এই খেলাটা খেলছেন।”

‘এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন’

হুমায়ুনকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান খুলে শুনে রাখুন, এইভাবে ধমক-হুমকি, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেব না—দেব না—দেব না।” আর এক্ষেত্রে তিনি তিনটে উদাহরণও দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সন্দেশখালিতে একজন ছিল, জীবনতলার গুন্ডা,আরেকজন পুষ্পা- এমন ঝুঁকেছেন, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে ওঠবোস করতে করতে যাচ্ছেন।”

আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ যাচ্ছেন। তিনি জানিয়ে রাখলেন, আগে তিনি যাঁরা হুমায়ুনকে ওই সভায় ডেকেছিলেন, তাঁদের কাছে যাবেন। পরে হুমায়ুনের কাছে যাবেন। তিনি আবারও বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গুন্ডাদের নয়।” শুভেন্দু বলেন, “এই ধরনের কথা বলার আগে এরপর থেকে ২৫ বার ভাবুন।”

কী বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর? 

২৬ জুন দুপুরে হুমায়ুন কবীর কাশীপুরের রেজিনগরে তাঁর দলীয় কর্মসূচিতে বলছেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরে মনে করছেন আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে, আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫০০০ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ধরে না। লাখে লাখে লোক রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর স্যাটা ভাঙা মার দেব আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন?”

শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে গত ২৮ তারিখে কথা বলার সময়ে বেশ কয়েকটি শব্দও প্রয়োগ করেছেন হুমায়ুন কবীর, যা অশ্রাব্য। তার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ।

মুখ্য়মন্ত্রীর বিবৃতি প্রসঙ্গে হুমায়ুন বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী কে কিছু বলিনি । কিছু তৃণমূলের গুণ্ডা এখন বিজেপি হয়েছে । ওদের নিয়ে বলেছি । জাহাঙ্গির, শওকত, শাহজাহানদের সঙ্গে আমার তুলনা হয় না । আমি ৪৫ বছর রাজনীতি করছি।” 

 বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, "তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় সংরক্ষণ বাড়ানো হয়। সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন সংক্রান্ত ভাবনা ছিল না বিলে। আগের সরকার বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করেনি। সামাজিক সমীক্ষা না করেই বিলে সংশোধনী এনেছিল তৃণমূল সরকার। অনগ্রসর শ্রেণী যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিল আনা হয়েছে।"

 'তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় OBC সংরক্ষণ বাড়ানো হয়', আক্রমণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্করের
গৌরীশঙ্কর ঘোষ

বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল OBC সংক্রান্ত জোড়া সংশোধনী বিল। আজ বিধানসভায় বিল দু’টি পেশ করেন অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বিল দু’টি হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। আরেকটা হল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি (তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ব্যতীত) (সরকারি চাকরি ও পদে সংরক্ষণ) (সংশোধনী) বিল, ২০২৬। বিল নিয়ে আলোচনার সময় পূর্বতন সরকারে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর। 


বিগত তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, “তোষণের জন্যই তৃণমূল জমানায় সংরক্ষণ বাড়ানো হয়। সংখ্যালঘুদের প্রকৃত উন্নয়ন সংক্রান্ত ভাবনা ছিল না বিলে। আগের সরকার বিল নিয়ে কোনও আলোচনা করেনি। সামাজিক সমীক্ষা না করেই বিলে সংশোধনী এনেছিল তৃণমূল সরকার। অনগ্রসর শ্রেণী যাতে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই বিল আনা হয়েছে।”

জবাবি ভাষণে মন্ত্রী আরও বলেন, “আগের সরকার অতিরিক্ত যে জাতি তালিকা ভুক্ত করেছিল, সেটা শুধু রাজনৈতিক লাভের জন্য করেছিল। কলকাতা হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এই আইন। আগের সরকার ১১৩ জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। শুধুমাত্র রাজনীতির জন্য কমিশন মনে করলে তারা সুপারিশ করতে পারবে। সেই অনুসারে পদক্ষেপ করা হবে। যাঁরা বলছেন একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে, যখন নিয়ম না মেনে একটি সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল? তখন বলেননি কেন?হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে এই বিল এনেছি।”


ওবিসি চিহ্নিতকরণে কমিশন গঠন
এদিন বিলের পক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বলেন, “সময় মাত্র ১৩ মিনিট। কিন্তু ১৪ বছরের যুদ্ধের ইতিহাস। বুদ্ধিজীবী সুলভ মিথ্যাচারের দুর্দান্ত উদাহরণ হতে পারে আইনজগতের ও সংসদের সামনে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিরও কালো অধ্যায়, যাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী লড়াই শুরু করেছেন।” ওবিসি চিহ্নিতকরণের ইতিহাস উল্লেখ করে বিধায়ক বলেন, ” সুপ্রিম কোর্ট প্রত্যেকটা রাজ্যে অনগ্রসর শ্রেণির চিহ্নিত করার জন্য ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন গঠনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস। এই কমিশন গঠিত হওয়ার পর ১৯৯৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকাভুক্তর যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যার মধ্যে ৫৪টি জনগোষ্ঠী হিন্দু ও ১২টি মুসলিম।”

বাম সরকারকে তুলোধনা
বাম সরকারের আমলে ওবিসি সংরক্ষণের তথ্যকে তুলে ধরে অরিজিৎ বলেন, “২০১১ বিধানসভা নির্বাচন হয়। ঠিক তার আগে, ২০১০ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন, সরকারি চাকরিতে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা দেবে। এটা হওয়ার পর আচমকা দেখা যায়, যে কমিশন মাত্র ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে পেরেছিল, সেই কমিশন ৮ মার্চ ২০১০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১০ পর্যন্ত আরও ৪২টি জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে। কী পদ্ধতিতে হল, তা নিয়ে বিস্ময়ের অবকাশ রয়েছে। সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, কোন জাদুবলে ৪২টার মধ্যে ৪১টি মুসলিম, মাত্র একটি হিন্দু জনগোষ্ঠী ওবিসি তালিকাভুক্ত করার যোগ্যতা অর্জন করল?”

বিধানসভায় এই বিলের বিরোধিতা করেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর মতে, “এই বিল পাশ হলে জাতিগত বৈষম্য বাড়বে। রঙ্গনাথ কমিশনের সুপারিশ মেনে সংরক্ষণ দেওয়া হোক। বিল পাশ হলে উচ্চশিক্ষায় বঞ্চিত হবেন মুসলিমরা। সামাজিক ন্যায়বিচারের কাঠামো ধ্বংস হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী: বিগত দিনের সরকার যদি ব্যবস্থা নিত, সংবিধানের শপথ নেওয়ার পর কোনটা মুখ্যমন্ত্রী কর্তব্য আর কোনটা ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি এই দুয়ের মধ্যে ভাগ থাকলে বাংলার এই অবস্থা হত না।"


বিধানসভায় বিল নিয়ে সওয়াল মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। গুণ্ডা দমন বিল নিয়ে জবাবি ভাষণ তাঁর। সোমবার সকালেই বিল পেশ করলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। এই বিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ এক নজরে।

সর্বশেষ তথ্য উপরে

  1. মুখ্যমন্ত্রী: ভিক্টোরিয়ার সামনে ফিতা নিয়ে চলে যাবেন। এবারে চলুন ব্রিগ্রেডে যাই। যাকে তোলার তুলেছি। আপনারা ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গেলেন। কে দিলো অনুমতি । আপনাদের তো অনেক লোক। চলুন না ব্রিগেডে। যাকে তোলার তুলেছি। আর একজন বলছেন- কালী তো গেছে,দোয়াত আর পেন নেয়নি গেছে। আরে পেন ফিরহাদ হাকিম হয় তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে পেন যায় তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না। NIA তোলার আগে চার বার মেসেজ করেছে। আমি বলেছি ক্ষমা করার কেউ নই। অতএব একই পরিণতি নওদার এমএলএ-র হবে। ও মমতাকে ডিল করেছে, আমায় করেনি। এমন অ্যাকশন নেব বুঝবে আইনের শাসন কাকে বলে। সবাই মিলে গুণ্ডা মুক্ত বাংলা পাশকরুন।
  2. মুখ্যমন্ত্রী: অনুমতি চেয়ে রাজনৈতিক সভা করবেন। আমাকে 104 বার হাইকোর্ট এ যেতে হয়েছিল।
  3. মুখ্যমন্ত্রী: এই আইন না মানতে চাইলে, ইন্ডি জোটের রাজ্যে বিরোধিতা করুন। এখানে নয়। হরগোবিন্দ দাসের পরিবারের গেছিল সেলিম আর মীনাক্ষী বোন গেলেন। বলেন আমাদের পরিবার। সিপিএম বলল দাঙ্গা আটকাতে গেছিল মারা গেছে। আরে ভোট কাকে দেন? কাস্তে-হাতুড়িতে। বলল-আমরা হিন্দু বলে মেরেছে। আমি বিজেপির চেক নিয়ে গেলাম-আমাদের চেক নিল। এই লোকগুলো জেল থেকে আবার বেরবে, আবার বুক ফুলিয়ে ঘুরবে, পঞ্চায়েতে লড়বে। কাজ করবে। তাই আইন। ভিটা-মাটি ছাড়া করব। কোনও দাঙ্গাবাজের স্থান নেই। যার পাস্ট রেকর্ড খারাপ থাকবে, এক বছর প্রিভেন্টিং অ্যারেস্ট।
  4. মুখ্যমন্ত্রী: নওদার এমএলএ-র নিদির্ষ্ট এজেন্ডা আছে। মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের হবে, উনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন এখন যেটা বলেছেন, ছেলেকে জেতাবার জন্য এসব বলছেন। এগুলো জানি ওনার মনের কথা না। দরিদ্র সব থেকে বেশি মুসলিম
  5. মুখ্যমন্ত্রী: আতঙ্কের জায়গা প্রিভেন্টিং অ্যারেস্ট তাই তো? সন্দেশখালি আর না। এই প্রথম ভোট। ভাঙড়ে তো কোনও মৃত্যু নেই। বিজেপির ওইখানে ৭০ হাজার ভোট আছে। আমরা ভাঙড়টাকে ছেড়ে দিতে পারতাম। ছেড়ে দিলে যিনি জেলে ছিলেন তিনি এখানে আসতেন। আর বিলের যিনি বিরোধিতা করেছেন তিনি এখানে আসতে পারতেন না।
  6. মুখ্যমন্ত্রী: বিচার দেবো , সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করব। আগের আইনে ফাঁক ফোকর ছিল। বর্তমান আইনে ফাঁক-ফোকড় রাখা হল না। এই আইন গুণ্ডা দের জন্য প্রযোজ্য।
  7. মুখ্যমন্ত্রী: যা হয়ে গেছে অতীত । আর কিছু করতে দেবো না । এই আইনের কঠোর কঠোর কঠোর পদক্ষেপ হবে। শুধু জেল খাটাব না। পার্ক-সার্কাসে পুলিশকে ঢিল মারা বের করব। আমার দায়িত্ব পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়া। সরকারি বেসরকারি যাই ভাঙুন এগোতে দেব না।
  8. মুখ্যমন্ত্রী:আমি জয়নাল আবেদিন, গনি খান চৌধুরী, নরুল ইসলামকে খারাপ বলি না। এই আইন কেন প্রয়োজন। সরকারি সম্পত্তির সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
  9. মুখ্যমন্ত্রী: ধুলিয়ানে বড় বড় দোকান শো রুম সব নষ্ট করেছে। দেড়-দুকোটির সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। কতবার ভুল পথে পরিচালিত করছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে। আপনাদের ফারাক্কার প্রাক্তন এমএলএ , প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তদন্তে বাধা দিয়েছিল। আপনারা কেন সিভিলের লোককে রাজ্য সভায় পাঠান। কেন সিদ্দিকুল্লা খাগড়াগড় বিস্ফোরণে বাধা কেন দেয়?
  10. মুখ্যমন্ত্রী: ২০২৪ সালের পর ওয়াকফ বিল। এখানে এখানে যিনি বসতেন দুবার হেরেছেন আমার কাছে । ( মমতার নাম না করে মন্তব্য )। উনি বলেছিলেন, প্রাণ থাকতে এই বিল কার্যকর করতে দেব না। উনি ১৭০০ হাজার কমিটিকে পোর্টালে আপলোডের সুযোগ দেননি। তিনটে হিন্দুর দোকান লুট। মুসলমানের দোকান ছাড়লেন। এটা রাজনীতি? শক্ত হাতে ধরতেন, আধা সেনা চাইতেন। গুণ্ডারা এই সব করতে পারতেন না। এই যে নওদার এমএলএ যে ভাষায় কথায় বলে-আপনাদের পাপের পর। আপনাকে কেমন সবক শেখাকে হয় এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শেখাবে। ভাষা সংযত করুন। আচরণ সংযত করুন। সামশেরগঞ্জের এমএলএ আছেন? আরে নুন রাখার বাটি রাখেননি। এরা কারা? কী করেছেন?
  11. মুখ্যমন্ত্রী: গোটা ভারতে কোথাও অশান্তি নেই। উনি প্রথম মিছিল করলেন। উনি আগুন লাগালেন। বাংলা জ্বলল। একটু আগেই প্রসূণ বাবু বললেন, রেললাইন উপড়ে দিয়েছিল। রেললাইনে কি হিন্দুরা শুধু চড়েন, মুসলমানরা চড়ে না? সামসির রেল লাইন উপড়ালেন। রেজি নগরের আগুন। সাঁতরাগাছি তে বাস পুড়ল। ফোন করলাম আমি পরিবহন মন্ত্রী। সরকারি সম্পত্তি পুড়ছে। বলল , পুলিশকে বলেছি কথা বলতে, ওদের সঙ্গে। এরপর নন স্টপ নুপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্য। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল রাজনৈতিক দল। গোটা হাওড়া জেলা অবরুদ্ধ করলেন ৩৬ ঘণ্টা। একজন প্রসূতিকে সেবা দিল গ্রামের লোক। ৩৬ ঘণ্টা জাতীয় সড়ক বন্ধ। বিজেপির পার্টি অফিস জ্বলল। বেথুয়াডহরি, নাকাশিপাড়ার রেললাইন পুড়িয়ে দিলেন। করমণ্ডল এক্সপ্রেস-রোগী
  12. মুখ্যমন্ত্রী: ২০১৯ সালে CAA আইন লাগু, আইন কার্যকর, ১৯ হাজার নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট। আগের সরকারের একজন মন্ত্রী ছিল যিনি মন্তেশ্বরে হেরেছেন ( সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী)। উনি একজন ধর্মীয় নেতা। তাঁর অনেক মাদ্রাসা আছে। প্রথমে ধর্মীয় পোশাক পরিয়ে বাচ্চাগুলো নামালেন। বললেন এটা এটা সিএএ নয়, এনআরসি। এটা শুনে মুখ্যমন্ত্রী বললেন ক্যা ক্যা ছি ছি।
  13. মুখ্যমন্ত্রী: কিন্তু গোষ্ঠী সংঘর্ষ, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, ভুল বুঝিয়ে একটি সম্প্রদায়কে রাস্তায় নামিয়ে এই রাজ্যে ২০১৯ সাল থেকে যে ঘটনা গুলো পরপর ঘটেছে। তার ফলে এক সময় কাস্তে হাতুড়িতে ভোট দেওয়া  হরগোবিন্ড দাসের পরিবারকে পোহাতে হয়েছে।
  14. মুখ্যমন্ত্রী: রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন কখনও কেউ দেখেছেন ? এই অধঃপতন আমরা দেখিনি। পলিটিক্সে ক্রিমিনালদের আমদানি হলো সিপিএম-এর হাত ধরে। ১৯৯৯ এর আগে এগুলো ছিল না। ২০০০ সালে পাশকুড়া লোকসভা ছিল সেখানে গুরুদাস দাসগুপ্ত হারে বিক্রম সরকারের কাছে। তারপর গেল গেল রব। সরকার পরিবর্তন হবে ২০০১। সেই হাওয়াকে আটকাতে তৈরি করা হল সংগঠিত হার্মাদ বাহিনী। একে নেতৃত্ব দিলেন গোঘাটের অভয় বাবু, আরামবাগের মোজাম্মেল বাবু, হলদিয়ার লক্ষ্মণবাবু। আর বলতে চাই না। ক্যালেন্ডারে পরিণত এখন। যদিও, ডোমকল থেকে ভদ্রলোক জিতে এসেছেন।
  15. মুখ্যমন্ত্রী: তৃণমূলকে জনতা বর্জন করেছে। এর জন্য আপনারা বিরোধী। কেউ বেরচ্ছে কেউ জামা ধরে টানছে। কেউ বলেছে আমি তৃণমূল, কেউ বলছে ওরা ল্যাম্পপোস্ট। তাই এই অবস্থা।
  16. মুখ্যমন্ত্রী: ডায়মন্ড হারবারের রাজু সামন্তকে খুন করা হয়েছিল, মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাসের পরিবার গ্যালারিতে। আমায় ভোট দেওয়ার অপরাধে রথীবালা আড়ির পরিবার পক্ষে-বিপক্ষের কথা শুনলেন।
  17. মুখ্যমন্ত্রী: বিগত দিনের সরকার যদি ব্যবস্থা নিত, সংবিধানের শপথ নেওয়ার পর কোনটা মুখ্যমন্ত্রী কর্তব্য আর কোনটা ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি এই দুয়ের মধ্যে ভাগ থাকলে বাংলার এই অবস্থা হত না।

 ‘এখানে উল্লেখ্য, শওকত বর্তমানে গ্রেফতার হয়েছেন। ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) গ্রেফতার করেছে তাঁকে। শওকতের সেই প্রসঙ্গ তুলেই শুভেন্দু বলেন,"ওর অবস্থাও শওকতের মতো হবে। এমন ব্যবস্থা নেব। ও মমতাকে ডিল করেছে,আমায় করেনি। এমন অ্যাকশন নেব বুঝবে আইনের শাসন কাকে বলে।"


ও মমতাকে দেখেছে আমায় দেখেনি', স্যাটাভাঙা মারবেন বলেছিলেন হুমায়ুন,'সবক শেখানোর' বার্তা শুভেন্দুর
হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ


বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন মুর্শিদাবাদের নওদাঁর বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য় ছিল, “এমন স্যাটাভাঙা মার দেব, বিজেপির পতাকা বইবার লোক থাকবে না।” সেই নিয়েই এবার হুমায়ুনকে চাচাছোলা ভাষায় আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। City& Local Guides


এ দিন গুণ্ডাদমন বিল নিয়ে বিধানসভায় মন্তব্য করতে গিয়ে বারেবারে হুমায়ুনের প্রসঙ্গে তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “এই যে নওদার এমএলএ যে ভাষায় কথায় বলেন…।” তৃণমূলের পাপের ফল বলে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, “আপনাকে কেমন সবক শেখাতে হয় এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শেখাবে। ভাষা সংযত করুন। আচরণ সংযত করুন।”


বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামে হবে রাস্তা? যা জানালেন কার্তিক মহারাজ...
হুমায়ুনের বিতর্কিত মন্তব্য নতুন কিছু নয়। তাঁর করা মন্তব্য এর আগেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। পালা বদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার একবার নয় বারেবারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইনের শাসন কেউ যদি ভঙ্গ করেন, তাহলে তার ফল ভাল হবে না। সেই মর্মেই এই গুণ্ডা দমন বিল পাশ হল বিধানসভায়।


এ দিন, এই বিল কেন জরুরি সেই নিয়ে জবাবি ভাষণ দিচ্ছিলেন শুভেন্দু। সেই সময়ই প্রসঙ্গ তোলেন হুমায়ুনের। বুঝিয়ে দেন অশান্তি তৈরির চেষ্টা করলে তা বরদাস্ত কোনওভাবেই করা হবে না। তিনি বলেন, “আসলে নওদার বিধায়কের নিদির্ষ্ট এজেন্ডা আছে। উনি ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের হবে,উনি উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন। এখন যেটা বলেছেন, ছেলেকে জেতানোর জন্য এসব বলছেন। এগুলো জানি ওঁর মনের কথা না।”

এই বক্তব্যের পর ফের বিল প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেই সময়ই আবারও হুমায়ুনকে বুঝিয়ে দেন,না শুধরোলে তাঁর অবস্থা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার মতো হবে। এখানে উল্লেখ্য, শওকত বর্তমানে গ্রেফতার হয়েছেন। ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) গ্রেফতার করেছে তাঁকে। শওকতের সেই প্রসঙ্গ তুলেই শুভেন্দু বলেন,”ওর অবস্থাও শওকতের মতো হবে। এমন ব্যবস্থা নেব। ও মমতাকে ডিল করেছে,আমায় করেনি। এমন অ্যাকশন নেব বুঝবে আইনের শাসন কাকে বলে।“

 অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "আমরা চাই, ইউসিসি কার্যকর হোক। দ্রুত কার্যকর হোক। এবং সর্বসম্মতিক্রমে কার্যকর হোক। কারণ, ইউসিসি-র দাবি শুধু বিজেপির নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ইউসিসি-র জন্য লড়াই করেছেন।"


 কারা UCC-র বাইরে থাকবে? বিধানসভায় স্পষ্ট করে জানালেন শুভেন্দু
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?


ক্ষমতায় এলে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু হবে। বিধানসভা নির্বাচনের সংকল্পপত্রে জানিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই তা নিয়ে উদ্যোগী হয় শুভেন্দু-সরকার। সোমবার বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করা হতে পারে বলে জল্পনা বেড়েছিল। তবে এদিন একাধিক বিল পেশ হলেও ইউসিসি বিল পেশ করেনি শাসকদল। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানালেন, বিলটি নিয়ে সুপারিশের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবেই। এই বিলের আওতার বাইরে কারা থাকবেন, তাও এদিন জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। GeographicReference


ইউসিসি নিয়ে বিধানসভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?


বজরংবলী নিকাল দো ইহাঁসে...', তারাতলার হাড়হিম করা ভিডিয়ো প্রকাশ্যে, হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যা বললেন মানিকচাঁদ
এদিন অধিবেশনের শেষ লগ্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা এই বিল আনব। আমরা সংকল্পপত্রে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সবসময় বলেছেন, এক দেশ, এক প্রধান, এক বিধান। আমরা পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনব। আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভায় এই বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য আনব। উত্তরাখণ্ড, অসম এবং গুজরাটের অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনা হবে। এই রাজ্যে একটা আইন চলবে। ধর্মের ভিত্তিতে দুটো বিল চলবে না।”


এরপরই তিনি জানান, “এক্ষেত্রে মূলবাসী, আদিবাসী এবং কুড়মি-সহ আরও যাঁরা আমাদের প্রাচীন জনজাতি, তাঁরা এই প্রস্তাবিত বিলের আওতার বাইরে থাকবে। আমি উত্তরাখণ্ড, গুজরাটকে অনুসরণ করে একটি কমিটি গঠন প্রস্তাব করেছি। সেই কমিটির চেয়ারপার্সন হবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনাপ্রকাশ দেশাই। এর সঙ্গে সদস্য হিসেবে থাকবেন একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, একজন আইনি বিশেষজ্ঞ, একজন শিক্ষাবিদ, একজন সমাজকর্মী এবং একজন অতিরিক্তি সচিব থাকবেন। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব, দত্তক-সহ মোট ৯টি বিষয় এই কমিটি খতিয়ে দেখবে। এই কমিটিকে চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। অগস্টে এই কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে আমরা ইউসিসি বিল আনব। এবং এই বিল পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হবে। আপনাদের কিছু বলার থাকবে, কমিটির কাছে বক্তব্য রাখবেন। তবে শুনে রাখুন, আমরা এই ইউসিসি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।”

ইউসিসি নিয়ে কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য?

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা চাই, ইউসিসি কার্যকর হোক। দ্রুত কার্যকর হোক। এবং সর্বসম্মতিক্রমে কার্যকর হোক। কারণ, ইউসিসি-র দাবি শুধু বিজেপির নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ ইউসিসি-র জন্য লড়াই করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে সমাজের একজন স্কুলশিক্ষক পর্যন্ত ইউসিসি-র পক্ষে রয়েছেন। যেটা মানুষ চাইছেন, জনমনে যে দাবি প্রতিষ্ঠিত, সেটাকে মর্যাদা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।”

পরক্ষণেই আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। জোগাড় করছি প্রমাণ থাকলে কাউকে ছাড়ব না। আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না।" শুভেন্দুর এই কালী-দোয়াতের মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে জল্পনা।

কালীর পর 'দোয়াত' মমতাও জেলে যাবেন? বিধানসভায় বড় কথা বলে দিলেন শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মুখ্য়মন্ত্রী

আগেই তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। আর তারপর একুশে জুলাই কারা পালন করবে, সেই নিয়ে দুই তৃণমূলের মধ্যেই তরজা অব্যাহত। এর মধ্যে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আগেভাগেই চলে গিয়েছিল ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের সভার জন্য। উপস্থিত ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ছিলেন দোলা সেনরা। কার অনুমতি নিয়ে সেখানে তাঁরা গিয়েছিলেন এই নিয়ে সোমবার বিধানসভা অধিবেশেনে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও দিলেন বার্তা। ঘুরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন 


এ দিন, তারাতলায় কারখানা বিপর্যয়ে নাম জড়ায় ফিরহাদ হাকিম ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বর্তমানে তিনি জেলে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। এই নিয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষ আবার ববি হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন। সোমবার কটাক্ষের সুরে অধিবেশন চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী সেই কুণালকেই বলেন, “একজন আবার বলছে বিকেল পাঁচটার মধ্যে ববিকে গ্রেফতার করতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী তখন কুণালের দিকে তাকিয়ে বলেন যে তাহলে কুণাল এসে শুভেন্দুর চেয়ারে বসুন।


৫কোটির গাড়ি চড়েন, তামান্না ভাটিয়ার সঙ্গে সফর! তৃণমূলের এই কাউন্সিলর কোথা থেকে উঠে এসেছেন জানেন?
এরপরই কথায়-কথায় তিনি বলতে শুরু করেন, “আর একজন বলছেন- কালী তো গেছে, দোয়াত আর পেন যায়নি কেন? আরে পেন যদি ফিরহাদ হাকিম হয়, তাহলে দোয়াতের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীর সঙ্গে যদি পেনও যায়, তাহলে দোয়াতকেও যেতে হবে। এক সঙ্গে সবাইকে যেতে হবে।”


পরক্ষণেই আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিন্তু এই সরকার প্রমাণ ছাড়া কিছু করবে না। জোগাড় করছি প্রমাণ। থাকলে কাউকে ছাড়ব না। আমরা কোনও ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে কিছু করব না।” শুভেন্দুর এই কালী-দোয়াতের মন্তব্যের পরই শুরু হয়েছে জল্পনা।

 মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছেন পুরাতন ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কদমতলি গ্রামের বাসিন্দা সারিফ শেখ (৩০)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী, দুই সন্তান এবং বৃদ্ধা বাবা-মা ও এক ভাই ।



পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবিকার তাগিদে গত মাসে মহারাষ্ট্রে কাজে গিয়েছিলেন সারিফ। কয়েকদিন আগে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তাঁকে মহারাষ্ট্র স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি।পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
 শেষ পর্যন্ত তাঁরা ইংলিশবাজার থানার পাশাপাশি জিআরপি-তে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছেন। পরিবারের আবেদন, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে সারিফ শেখকে খুঁজে বের করুক।ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সদস্য পিন্টু শেখ। তিনি জানান, প্রশাসনের ওপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে নিখোঁজ যুবকের সন্ধান দেবে বলেই আশা করছেন।


বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য রাজু মণ্ডলকে মারধরের একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গঙ্গাসাগর। 


অভিযোগ, চার নম্বর মণ্ডলের সভাপতি পিনাক্ষী মণ্ডল ও তাঁর লোকজন রাজু মণ্ডলকে মারধর করেছেন। রাজুর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পিনাক্ষী এলাকায় তোলাবাজি চালাচ্ছিলেন, যার প্রতিবাদ করায় তাঁকে নিগ্রহের শিকার হতে হয়।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। এক জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি বার্তা দেন, যারা এলাকায় তোলাবাজি ও মারপিট করছে, তাদের বরদাস্ত করা হবে না। বিধায়ক বলেন, “যারা এলাকা থেকে টাকা তুলছে, মারপিট করছে, তাদের ধোলাই দিতে হবে।”
বিধায়ক আরও বলেন, “মায়েরা একসঙ্গে জোট বাঁধুন। যে বেশি দাদাগিরি করবে, তাকে মহিলা মোর্চার হাতে দায়িত্ব দেব। আপনারা নাম বলবেন, আমরাই তাদের ধোলাই দিয়ে ঘরে ঢুকিয়ে দেব।” গঙ্গাসাগরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ডাক দিয়ে বিধায়ক সাফ জানিয়ে দেন, এলাকায় কোনোভাবেই অস্থির পরিবেশ তৈরি করা যাবে না। বিধায়কের এই মন্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে গঙ্গাসাগরবাসী। কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ কমাতে অবশেষে তৈরি হতে চলেছে মাথার উপরে স্থায়ী ছাউনি বা যাত্রী শেড। এই যাত্রী শেড নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।


সাগরদ্বীপের বাসিন্দা ও গঙ্গাসাগরে আসা পুণ্যার্থীদের জন্য এই শেড অত্যন্ত জরুরি ছিল। ভাটায় জল কমে যাওয়ায় টানা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ভেসেল পরিষেবা বন্ধ থাকে। এছাড়া স্বাভাবিক সময়েও প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অন্তর ভেসেল পাওয়া যায়। এই দীর্ঘ সময় যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, যা চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।


 বিজেপি বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সুমন্ত মণ্ডল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে তিন লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই যাত্রী শেডটি নির্মাণ করা হবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, সাগর থানার ওসি অর্পণ নায়েক সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। যাত্রী শেড তৈরির খবরে খুশি স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের আশা, খুব শীঘ্রই এর নির্মাণকাজ শেষ হলে রোদ-বৃষ্টির দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

সাগরের ধবলাট শিবপুরে অবস্থিত কালীমাতার মন্দিরে আজ পুজো দিলেন সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল। এলাকায় শান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনায় বিধায়ক বিশেষ পুজো অর্পণ করেন। 


মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার সমস্যা ও অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন তিনি। এরপর ধবলাট শিবপুর এলাকায় বিজেপির স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা বিধায়ককে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান। 


বিধায়কের সঙ্গে স্থানীয় দলের নেতৃত্বদের এই সাক্ষাৎ ও সংবর্ধনা ঘিরে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধায়ক জানান, দলমত নির্বিশেষে মানুষের সেবাই তার প্রধান লক্ষ্য।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ব্লকের চকফুলডুবি মহরম মাঠে শুরু হলো ৫৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী মহরম মেলা। দীর্ঘদিনের পুরনো রীতিনীতি মেনে শুক্রবার সন্ধ্যায় মেলার শুভ সূচনা হয়। রাতের অন্ধকার নামতেই আলোর রোশনাই আর মানুষের ভিড়ে ফুলডুবির মাঠ এক অন্য রূপ ধারণ করে।


এবারের মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল প্রায় ৪০ ফুট উচ্চতার এক সুদৃশ্য তাজিয়া। শুক্রবার রাতে মানুষের ভিড়ে গোটা মাঠ উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে। মেলার অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলাটি শুক্রবার রাতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রতিযোগীদের নিপুণ হাতের লাঠি খেলার কসরত দেখার জন্য মাঠে উপচে পড়েছিল দর্শকের ভিড়।

মেলার আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে এই মেলা অত্র অঞ্চলের মানুষের কাছে কেবল একটি উৎসব নয়, বরং ঐতিহ্যের প্রতীক। সব মিলিয়ে শুক্রবারের রাতে ফুলডুবির মাঠ ছিল দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ। আগামী দিনেও মেলার ঐতিহ্য বজায় রাখতে আয়োজকরা বদ্ধপরিকর।

পূর্ণব্রত হাজরা, পাথরপ্রতিমা: দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্যতম প্রধান সড়ক। যুধিষ্ঠির জানার ফেরিঘাট থেকে ত্রিপাঠী ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পিচ রাস্তা বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ বছর আগে নির্মিত এই রাস্তাটি দু'বছর আগে একবার সংস্কার করা হলেও বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নদী-বেষ্টিত ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের কাছে এই সড়কই যাতায়াতের প্রধান ভরসা। টোটো বা মেশিনভ্যানে করে যুধিষ্ঠির জানার ফেরিঘাটে পৌঁছে সেখান থেকে খেয়া পার হয়ে পাথরপ্রতিমা ব্লক অফিস, থানা, কলেজ, ব্যাঙ্ক, মাধবনগর গ্রামীণ হাসপাতাল, কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং কলকাতায় যাতায়াত করেন সাধারণ মানুষ। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে রোগী, প্রবীণ নাগরিক, নিত্যযাত্রী এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে যুধিষ্ঠির জানার ফেরিঘাটের শৌচাগারের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয় বলে অভিযোগ। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শৌচাগারটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
-----------------------------------------
ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) নেতা সুকান্তি মান্না অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তা সংস্কারের কাজ হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বর্ষার আগে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য সত্যব্রত সাউ অভিযোগ করেন, আগে এই রাস্তা ডাবল সলিং ছিল। পরে পিচ রাস্তা নির্মাণের সময় ক্যালভার্টের পরিবর্তে সিমেন্টের পাইপ বসানো হয় এবং নির্মাণকাজে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলেও তাঁর দাবি।

অন্যদিকে তৃণমূল পরিচালিত ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান খোকন দাস জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়াররা রাস্তা পরিদর্শন করে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন ও পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে সেই কাজ আর এগোয়নি।

জেলা পরিষদের সদস্য মতিলাল মাইতি জানিয়েছেন, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্ষার মুখে এলাকার প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ব্রজবল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তা ও ফেরিঘাটের শৌচাগারের দ্রুত সংস্কার না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

নারী সুরক্ষা ও সম্মানের বার্তা নিয়ে আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের চৌরঙ্গীতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। 

গঙ্গাসাগরের টেকো সোসাইটিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রায় ১০০ জন ছাত্রী অংশ নেয়।
বর্তমান সময়ে নারীদের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বক্তারা বলেন, "অস্ত্র যদি না ওঠাও, তবে নিজের রাষ্ট্র হারিয়ে ফেলবে; আর শাস্ত্র যদি না পড়ো, তবে সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলবে।"

 অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার পাশাপাশি নিজের অধিকার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ইমার্জেন্সির ৫০ বছর পূর্তিতে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি (NCERT) প্রথমবার পড়ুয়াদের পাঠক্রমে ইমার্জেন্সির এই অধ্যায় যুক্ত করা হল। বইতে জয় প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

NCERT-র বড় সিদ্ধান্ত, দেশের 'অন্ধকারতম অধ্যায়' যুক্ত হল পাঠ্যবইয়ে, কী পড়বে ছাত্র-ছাত্রীরা?
প্রতীকী চিত্র।


 ৫০ বছর আগে দেশে জারি হয়েছিল ইমার্জেন্সি। 
১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন মধ্যরাতে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi)-র নির্দেশে, রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ ভারতীয় সংবিধানের ৩৫২ নম্বর ধারা অনুযায়ী জরুরি অবস্থা (Emergency) জারি করেন। ১৯৭৭ সালের ২১শে মার্চ পর্যন্ত ইমার্জেন্সি জারি ছিল ভারতে। এটিকে দেশের অন্ধকারতম এক অধ্যায় বলা হয়। ইমার্জেন্সির ৫০ বছর পূর্তিতে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি (NCERT) প্রথমবার পড়ুয়াদের পাঠক্রমে ইমার্জেন্সির এই অধ্যায় যুক্ত করা হল।


এনসিইআরটি নবম শ্রেণির বিজ্ঞানের বইতে ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থার অধ্যায় যোগ করা হয়েছে। নতুন বইতে এই অধ্যায়ের নাম দেওয়া হয়েছে, “আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোস্যাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড”। এই অধ্যায়ে ইমার্জেন্সি-কে ভারতীয় গণতন্ত্রের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে এর কী প্রভাব পড়েছিল, তাও লেখা হয়েছে। এই প্রথম ইমার্জেন্সি-কে কোনও পাঠ্যবইতে যোগ করা হল।


লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের 'ফিলোজফি' আলাদা, তফাৎটা বুঝিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী
'দিদি নম্বর ওয়ান' থেকে বাদ পড়লেন রচনা! শোয়ের রেটিং কত জানেন?
বইতে লেখা আছে, “ভারতের গণতন্ত্রের অন্য়তম চ্যালেঞ্জ ছিল ইমার্জেন্সি, যা ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত জারি ছিল। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের উপরে জনগণের অসন্তোষ বাড়ছিল, দেশের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও অপশাসনের অভিযোগ বাড়ছিল, যার জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। ১৯৭৫ সালে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দেশে ইমার্জেন্সি জারি করা হয়েছিল। এই সময়ে অধিকাংশ মৌলিক অধিকার কেড়ে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সংবাদ মাধ্যমের অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল, নাগরিকদের অধিকারও খর্ব করা হয়েছিল।” News


বইতে জয় প্রকাশ নারায়ণের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে বিহার ও গুজরাটে তার নেতৃত্বে কীভাবে ছাত্র-যুবরা আন্দোলনে পথে নেমেছিল, তা লেখা হয়েছে।

মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় প্রথম যে ভূমিকম্পটি হয়, রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৭.২। এর ৩৯ সেকেন্ড বাদেই ফের আরও জোরাল ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭.৫। ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ত্রিনিদাদ, টোবাগো, পর্তু রিকোর মতো ক্যারিবিয়ান দ্বীপেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। 

 ৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ ভেনেজুয়েলা! কী এই বিরল 'ডাবলেট ভূমিকম্প', কেন এত ভয়ঙ্কর?
কী এই ডাবলেট ভূমিকম্প?

ভূমিকম্প মানেই ভয়াবহতা। তবে ভেনেজুয়েলার বিপর্যয় যেন ভয়ঙ্করের থেকেও বেশি কিছু। বুধবার ভেনেজুয়েলার উপকূলে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প (Earthquake) হয়। দেশের বাসিন্দারা যখন ওই ভূমিকম্পের ধাক্কা বুঝতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়েই আবার একটা ধাক্কা। এবার ভূমিকম্পের মাত্রা আরও বেশি। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৫। পরপর এই দুটি ভূমিকম্পে ক্যারিবিয়ান সাগরের বিভিন্ন অংশে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) জারি করা হয়েছে ইমার্জেন্সি।


ডাবলেট ভূমিকম্প-
সিসমোলজিস্টরা এই জোড়া ভূমিকম্পকে ডাবলেট ভূমিকম্প (Doublet Earthquake) বলে উল্লেখ করেছেন। এই ডাবলেট ভূমিকম্প কী? যখন পরপর দুটি বড় ভূমিকম্প হয়, সাধারণত একই মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প একই অঞ্চলে, খুব কম সময়ের মধ্যে যখন হয়, তখন তাকে ডাবলেট ভূমিকম্প বলে।  


বিধানসভায় 'এপাং ওপাং ঝপাং' বলে কী বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রুদ্রনীল?
মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় প্রথম যে ভূমিকম্পটি হয়, রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৭.২। এর ৩৯ সেকেন্ড বাদেই ফের আরও জোরাল ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭.৫। ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি ত্রিনিদাদ, টোবাগো, পর্তু রিকোর মতো ক্যারিবিয়ান দ্বীপেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।


বিগত প্রায় এক দশকে এই প্রথম এত জোরাল ভূমিকম্প হল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, জোড়া ভূমিকম্পে বিল্ডিংগুলি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, রাস্তাঘাটও ভেঙে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে সরকারি সূত্রে। আহত ৭০০-রও বেশি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলা প্রশাসন ইমার্জেন্সি জারি করেছে। সংবাদপত্রডিজিটাল সংস্করণ

কখন ডাবলেট ভূমিকম্প হয়?
ডাবলেট ভূমিকম্প কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। যখন দুটি বড় ভূমিকম্প, যার মাত্রা বা ম্যাগনিটিউড তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়, তা একই সময়ে, একই জায়গায় হয়, তখন ডাবলেট ভূমিকম্প হয়। সাধারণ ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে বড়সড় ভূমিকম্পের পর ছোট ছোট আফটারশক হয়। সেখানেই ডাবলেট ভূমিকম্পে দুটি ভূমিকম্পই একই মাত্রার হয়, যার ফলে দ্বিগুণ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

সাধারণত ডাবলেট ভূমিকম্প সেই সময় হয়, যখন প্রথম ভূমিকম্পে স্ট্রেস বা চাপ রিলিজের পর, তা পাশের ফল্ট সেগমেন্টে ট্রান্সফার হয়ে যায়। এর ফলে আবার ভাঙন বা কম্পন ধরে মাটির নীচে থাকা প্লেটে। এই ঘটনাটি বিরল, কারণ অধিকাংশ ভূমিকম্পে সঞ্চিত টেকটনিক প্লেটের চাপের বেশিরভাগই মুক্ত হয়ে যায়, ফলে তার পরপরই একই মাত্রার আরেকটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই কেন দ্বিতীয় ভূমিকম্প হল? 
এর মূল কারণ হল চাপ বা স্ট্রেস ট্রান্সফার। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-র মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্প আশপাশের ফল্ট লাইনে চাপের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে, যার ফলে কখনও কখনও আরেকটি ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রভাবের ফলে ছোট ছোট আফটারশক দেখা যায়, তবে বিরল কিছু ক্ষেত্রে স্থানান্তরিত চাপ এতটাই বেশি হতে পারে যে তা অন্য একটি বড় ফল্ট অংশকে সক্রিয় করে তুলতে পারে।

একটি বড় ভূমিকম্প কাছাকাছি থাকা ফল্ট লাইনে নতুন ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। এমনকী, কখনও কখনও অনেক দূরে অবস্থিত ফল্ট লাইনগুলিকেও প্রভাবিত করতে সক্ষম।

ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রথম ভূমিকম্পের ফলে ফল্ট সিস্টেমের সংলগ্ন একটি অংশে চাপের পরিবর্তন ঘটে, যার জেরেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয় বড় ধরনের ভূমিকম্পটি ঘটেছে।

পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল জমানায় সরকারের দুর্নীতি কীভাবে জড়িত, তারও তথ্য প্রমাণ পেশ করেন। তিনি দেখান, কীভাবে তৃণমূল জমানায় ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র থাকাকালীন ক্রটিপূর্ণ থাকাকালীন অনুমোদিত হয়ে গিয়েছিল। 


এই দেখুন...' ভরা বিধানসভায় কাগজটা বার করে দেখিয়ে ফিরহাদের পর্দাফাঁস করলেন মুখ্য়মন্ত্রী
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ফিরহাদ হাকিম


তারাতলার বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। এখনও পর্যন্ত এসএসকেএম-এ ভর্তি রয়েছেন ২০ জন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা স্থিতিশীল, এক জন আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ ও আহতদের ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে শোকপ্রকাশ করেন। কিন্তু পাশাপাশি, এই ঘটনার নেপথ্যে তৃণমূল জমানায় সরকারের দুর্নীতি কীভাবে জড়িত, তারও তথ্য প্রমাণ পেশ করেন। তিনি দেখান, কীভাবে তৃণমূল জমানায় ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র থাকাকালীন ক্রটিপূর্ণ থাকাকালীন অনুমোদিত হয়ে গিয়েছিল।


এদিন বিধানসভায় ভরা অধিবেশনে একটি নথি দেখান। সেটি ওই গোডাউনের বিল্ডিংয়ের প্ল্যান। শুভেন্দু বলেন, “দেখুন এতে সই রয়েছে প্রাক্তন মেয়রের।” মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, “প্রাক্তন মেয়র জড়িত। দেখুন মাননীয় ফিরহাদ হাকিমের সই। দেখুন কীভাবে স্ট্রাকচারে ডিফেক্ট থাকা অবস্থাতেও প্ল্যান অ্যাপ্রুভ করেছেন।” মুখ্য়মন্ত্রী এও জানান, ওই প্ল্যানেই সই রয়েছে, আর্কিটেক্ট, EAC, GTE, জমির ওনার, আবেদনকারীর। কীভাবে ডিজাইনে ভুল থাকা সত্ত্বেও প্ল্যান অনুমোদিত হয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।





'রেলিং-এর একটাও খুঁটি থাকবে না', হেলমেট ছাড়াই আরাবুলের সঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়লেন সমর্থকরা
কলকাতা পৌরসভার ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাতেই তৈরি হচ্ছিল অভিশপ্ত গোডাউন। ওই এলাকার কাউন্সিলর আনোয়ার খান। তিনি আবার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। বুধবারই ওই কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে গেলে ঘাড়ধাক্কা খান। নাম জড়ায় ফিরহাদেরও। এদিন বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আপনার KMC তে কী হয়েছে, জানি না! আপনার কালীকে তুললেই সব হয়ে যাবে। KMC তে কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। আর কালী ক্যামাক স্ট্রিটের দ্বারা নিযুক্ত। এই কালী বাইপাসের পাশে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে। আমরা সব বার করেছি।”

 বিধাননগর আদালতের নির্দেশ ছিল, ৩০ জুন বিধাননগর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। সিআইডি সেই সংক্রান্ত নোটিস দিতে বুধবার রাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিল।

আমি তো অস্বীকার করিনি...', নোটিস জারি হতেই শেষমেশ বিচারপতির কাছে স্বীকারই করে ফেললেন অভিষেক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

 কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “ওই কণ্ঠস্বর আমার। আমি তো অস্বীকার করিনি যে আমার কণ্ঠস্বর নয়। তার পরেও কেন কণ্ঠস্বর নমুনার প্রয়োজন রয়েছে?” মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে আদালত। বিচারপতি কৌশিক চন্দ জানান, আগামী সোমবার ওই মামলার শুনানি হবে।


ডিজে মামলায় এ বার সিআইডি-র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলার তদন্তে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চাইছে সিআইডি।


প্রাক্তন মেয়রের দায় থাকলে গ্রেফতার করা হোক', শুভেন্দুর কাছে দাবি কুণাল ঘোষের
বিধাননগর আদালতের নির্দেশ ছিল, ৩০ জুন বিধাননগর আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। সিআইডি সেই সংক্রান্ত নোটিস দিতে বুধবার রাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়েছিল।


প্রসঙ্গত, নির্বাচনের প্রচারপর্বে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরেই অভিষেক বলেছিলেন ৪ তারিখ ডিজে বাজবে। তাঁর সেই বক্তব্যকে হাতিয়ার করেই বিধাননগরের সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল অভিষেকের বিরুদ্ধে। এই সংক্রান্ত বিষয়ে যে সমস্ত ফেসবুক লিঙ্ক, ভিডিয়ো লিঙ্ক সবই সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেস ডায়েরিও হস্তান্তর হয়ে গিয়েছে।  

অন্যদিকে সই জালিয়াতি কাণ্ডে জল গড়িয়েছিল আদালতে। কিন্তু হাজিরা দিতেই হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে যেতে হবে ভাবনীভবনে সিআইডি-র দফতরে। 

ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রে খবর, বড়সড় বিপর্যয়ে যখন সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভারতীয় সেনা এই ধরনের মেশিন ব্যবহার করে থাকে। তারাতলা বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে উদ্ধার কার্য নানান সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। মূলত ভিতরে যে অন্ধকার অবস্থা, সেই কারণে এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।


তারাতলার বিপর্যয়ে সেনা নামাল রেসকিউ র‌্যাডার, কীভাবে প্রাণের খোঁজ দিচ্ছে এই যন্ত্র?
উদ্ধারকাজে সেনার হাতে রেসকিউ র‌্যাডার

বুধবার থেকে চলেছে উদ্ধারকাজ। সেনা-এনডিআরএফ-দমকল-পুলিশ মিলে সকলে একযোগে চালিয়ে যাচ্ছে তারাতলায় উদ্ধার কাজ। এখনও (বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৩০) পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। বুধবারের পর থেকে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে সেনা। আর এবার ভারতীয় সেনার তরফে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে উদ্ধারকার্যে। নামানো হলো বিশেষ প্রযুক্তি সম্পন্ন স্ক্যানার মেশিন। এই মেশিনের নাম ‘রেসকিউ র‌্যাডার।’


কীভাবে কাজ করে এই র


বিধানসভায় 'এপাং ওপাং ঝপাং' বলে কী বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রুদ্রনীল?
ধ্বংসস্তূপের উপরে এই মেশিন বসিয়ে ভিতরের যাবতীয় ছবি নিজেদের ডিসপ্লে বোর্ডে তুলে আনছেন সেনারা। যেখানে-যেখানে শ্রমিকদের আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে এই মেশিন বসানো হচ্ছে। তারপর ডিস-প্লে বোর্ডের ভিতরের সম্পূর্ণ ছবি ওই অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এরপর ছবি হাতে পাওয়া মাত্রই শাবল এবং হাতুড়ি নিয়ে সেই ঢালাই ব্রিজের ভাঙার কাজ শুরু করেছে সেনারা।


ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রে খবর, বড়সড় বিপর্যয়ে যখন সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন ভারতীয় সেনা এই ধরনের মেশিন ব্যবহার করে থাকে। তারাতলা বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে উদ্ধার কার্য নানান সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। মূলত ভিতরে যে অন্ধকার অবস্থা, সেই কারণে এই ধরনের অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনার সূত্রে খবর, উত্তর কাশীতে যখন বিপর্যয় হয়েছিল তখন এই রেসকিউ র‌্যাডার ব্যবহার করে শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয়েছিল। সংবাদপত্রডিজিটাল সংস্করণ

এখানে উল্লেখ্য, তারাতলায় নির্মীয়মান গোডাউনের ছাদ ভেঙে বুধবার বিপর্যয় ঘটে। এই ঘটনার রিপোর্ট জমা পড়েছে পৌরনিগমের কাছে। কলকাতা পৌরনিগমের কাছে যে রিপোর্ট জমা পড়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই ৫৪ কাঠা জমির উপরে নির্মাণ নকশা অনুমোদন হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গুদামে তিনতলা কাঠামো তৈরি হয়ে গিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একতলা থেকে ঢালাই দিতে হয়। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনতলা থেকে ঢালাই দেওয়ার কাজ শুরু হয়। সেই ভার রাখতে পারেনি নির্মাণ কাঠামো। তারপরই এমন বিপর্যয়।

 জমি দুর্নীতির মামলায় আগেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই সুজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সুমিতের নাম উঠে আসে বলে খবর। সুজয়ের সঙ্গে মিলেই জমি দুর্নীতির টাকা নিতেন বলে অভিযোগ সুমিতের বিরুদ্ধে।


একটা ঘটনা নয়, ৩০০টা প্লট', হাইকোর্টে কোনও স্বস্তি পেলেন না অভিষেকের পিএ
হাইকোর্টে স্বস্তি পেলেন না সুমিত

যে সুমিত রায়কে খুঁজতে কাকভোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে হাজির হয়েছিল পুলিশ, সেই সুমিতকে কোনও স্বস্তি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ দাবি করেছিল, ওই বাড়িতেই অভিষেকের আপ্তসহায়কের শেষ টাওয়ার লোকেশন মিলেছিল। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি সুমিতকে। তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দিল আদালত।


সুমিতের আগাম জামিনের আর্জি আগেই জানানো হয়েছিল হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার ছিল সেই মামলার শুনানি। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী সোমবার হলফনামা আকারে যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে আদালতে।


আমি তো অস্বীকার করিনি...', নোটিস জারি হতেই শেষমেশ বিচারপতির কাছে স্বীকারই করে ফেললেন অভিষেক
এক ব্যক্তি জমি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শালবনী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই সুমিতের খোঁজ চলছে। অভিযোগ, জমি দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন সুমিত রায়। তারপর আর কোনও জমি দেননি। এভাবে জাল দলিল বা ডিড বানিয়ে অনেকের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ।


বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের পর্যবেক্ষণ, “এটা মাত্র একটা ঘটনা নয়। ৩০০টা প্লট। একাধিক ব্যক্তি জড়িয়ে আছে। একজনের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে।”

মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, তৃণমূলের পার্টি অফিস, জেনারেল সেক্রেটারির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সুমিতকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। টাকা নিয়ে থাকলে সুমিতের যাবতীয় ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট দেখা হোক বলে দাবি করেছেন আইনজীবী। অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল জানিয়েছেন, ড্রাইভার জানিয়েছে মূল অভিযুক্তের কাছে টাকা যেত। অভিযুক্তের বাড়ি থেকে জাল ডিড পাওয়া গিয়েছে।

জমি দুর্নীতির মামলায় আগেই মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই সুজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সুমিতের নাম উঠে আসে বলে খবর। সুজয়ের সঙ্গে মিলেই জমি দুর্নীতির টাকা নিতেন বলে অভিযোগ সুমিতের বিরুদ্ধে।

পুর গড়াতেই ব্যাপক বৃষ্টি কলকাতার একাংশ। তারপর পরপর বাজ পড়তে শুরু করে। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হয়ে গেলেও, বাজ পড়া থামেনি। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে একাধিক জেলায় মুহুর্মুহু বাজ পড়া শুরু হয়।


 একদিনে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা, হড়পা বানের বড় আশঙ্কা, পরপর বজ্রপাতে অস্থির কলকাতা
কলকাতায় জমে গেল জল


সকাল থেকে ছিল ঝলমলে রোদ, পরিষ্কার আকাশ। কিন্তু দুপুরের মধ্যেই এক লহমায় বদলে গেল গোটা শহরের ছবিটা। অন্ধকারে ঢেকে যায় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি। শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। তবে শুধু বৃষ্টিই নয়, মুহুর্মুহু বজ্রপাতে রীতিমতো আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয় শহরে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জল জমে গিয়েছে শহরের একাধিক জায়গায়। থমকে যান চলাচল।


আবহাওয়াবিদদের অনুমান, একদিনে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বৃষ্টি শুরু হয়। বাঁকুড়া, নদিয়া মেদিনীপুর সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া। রীতিমতো দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একনাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, স্ট্র্যান্ড রোড, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি চত্বর, সল্টলেক, সেক্টর ৫ সহ একাধিক জায়গায় জল জমে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।


এদিকে, উত্তরবঙ্গে নতুন করে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরের পাঁচ জেলায় এবার লাল সতর্কতা জারি করা হল আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়িতে চরম ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারেও চরম ভারী বৃষ্টির সতর্কতা। একদিনে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা আগামী রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার। সিকিম, বাংলার পাহাড়ে আরও ধস নামতে পারে। পাহাড়ি নদীতে হড়পা বানের সতর্কবার্তা। সিকিম, ভুটানের জলে জলস্ফীতির আশঙ্কা ডুয়ার্সে। জুনের শেষে দক্ষিণের সব জেলায় বৃষ্টি বাড়তে পারে

রেল সূত্রে খবর, শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে রবিবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়ার ব্লক থাকবে। সেইকারণে সপ্তাহান্তে শিয়ালদহ শাখায় অন্তত ১৫টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সেই কারণে সপ্তাহান্তে পাওয়ার ব্লকের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সপ্তাহান্তে ভোগান্তি, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় একগুচ্ছ লোকাল ট্রেন বাতিল
প্রতীকী ছবি

ফের ট্রাফিক ব্লক। ফের বাতিল একগুচ্ছ লোকাল ট্রেন। পরিকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য সপ্তাহান্তে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় ট্রাফিক ব্লক থাকবে। শিয়ালদহ ডিভিশনের বালিগঞ্জ স্টেশন এলাকায় ডাউন প্যাসেঞ্জার লাইনে মোট ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট (৩৯০ মিনিট) ট্রাফিক ব্লক থাকবে। ব্লকের জেরে আগামী ২৭ জুন ও ২৮ জুন আপ ও ডাউন মিলিয়ে একগুচ্ছ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। GeographicReference


রেল সূত্রে খবর, শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে রবিবার ভোর ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়ার ব্লক থাকবে। সেইকারণে সপ্তাহান্তে শিয়ালদহ শাখায় অন্তত ১৫টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সেই কারণে সপ্তাহান্তে পাওয়ার ব্লকের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রবিবার ছুটি থাকায় নিত্যযাত্রী ও অফিসযাত্রীদের উপর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়বে।


সিনেমায় কথায় কথায় কেন জামা খুলে দেন সলমন? কারণটা জানলে অবাক হয়ে যাবেন
কবে, কোন কোন ট্রেন বাতিল থাকছে, কোন ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, একনজরে দেখে নিন তালিকা


শনিবার (২৭ জুন) বাতিল ট্রেনগুলি হল
শিয়ালদহ – লক্ষ্মীকান্তপুর শাখা

৩৪৭৫২ ডাউন ৩৪৭৫৪ ডাউন ৩৪৭৫৫ আপ ৩৪৭৫৭ আপ

শিয়ালদহ – ক্যানিং শাখা

৩৪৫৫৪ ডাউন ৩৪৫৫৫ আপ

শিয়ালদহ – ডায়মন্ডহারবার শাখা

৩৪৮৫৮ ডাউন ৩৪৮৬০ ডাউন ৩৪৮৫৭ আপ ৩৪৮৫৯ আপ

শিয়ালদহ – বজবজ শাখা

৩৪১৬২ ডাউন ৩৪১৬১ আপ

শিয়ালদহ – সোনারপুর শাখা

৩৪৪৩৬ ডাউন

রবিবার (২৮ জুন) বাতিল ট্রেনগুলি হল
শিয়ালদহ – সোনারপুর শাখা

৩৪৪১২ ডাউন ৩৪৪১১ আপ

আংশিকভাবে যে ট্রেনগুলি চলবে, সেগুলি হল
শনিবার

৩৪৭৫৩ আপ (লক্ষ্মীকান্তপুর-শিয়ালদহ) সোনারপুর পর্যন্ত চলবে। ৩৪৫৫৩ আপ (ক্যানিং-শিয়ালদহ) সোনারপুর পর্যন্ত চলবে। ৩৪৫৫০ ডাউন (শিয়ালদহ-ক্যানিং) সোনারপুর থেকে ছাড়বে। ৩৪৫৫৭ আপ (ক্যানিং-শিয়ালদহ) সোনারপুর পর্যন্ত চলবে ও ৩৪৫৫২ ডাউন ট্রেন (শিয়ালদহ-ক্যানিং) সোনারপুর থেকে ছাড়বে। ৩৪৮৫৫ আপ (ডায়মন্ড হারবার-শিয়ালদহ) ট্রেন সোনারপুর পর্যন্ত চলবে। ৩৪৮৫৬ ডাউন (শিয়ালদহ-ডায়মন্ড হারবার) ট্রেন সোনারপুর থেকে ছাড়বে। বজবজ শাখার ৩৪১৫৯ আপ ও ৩৪১৬৩ আপ ট্রেন নিউ আলিপুর পর্যন্ত চলবে। বজবজ শাখার ৩৪১৬৪ ডাউন ট্রেন নিউ আলিপুর থেকে ছাড়বে।

রবিবার

৩৪৭১১ আপ লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার ট্রেন সোনারপুর পর্যন্ত চলবে। ৩৪৭১২ ডাউন লক্ষ্মীকান্তপুর শাখার ট্রেন সোনারপুর থেকে ছাড়বে। ৩৪৮১১ আপ ডায়মন্ড হারবার শাখার ট্রেন সোনারপুর পর্যন্ত চলবে। ও ৩৪৮১২ ডাউন ডায়মন্ড হারবার শাখার ট্রেন সোনারপুর থেকে ছাড়ূবে। ৩৪১১২ ডাউন ও ৩৪১১৪ ডাউন বজবজ শাখার ট্রেন নিউ আলিপুর পর্যন্ত চলবে। ৩৪১১১ আপ বজবজ শাখার ট্রেন নিউ আলিপুর থেকে ছাড়বে।

রেল জানিয়েছে, ব্লক শুরু হওয়ার আগে শেষ ট্রেন হিসেবে চলবে ৩৪৭৫০ ডাউন ও ৩৪৫৫৩ আপ। ব্লক শেষ হওয়ার পর প্রথম ট্রেন হিসেবে চলবে ৩৪৫১১ আপ ও ৩৪৮১৪ ডাউন।

 বৃষ্টির দুপুরে জোর আলোচনা বিধানসভায়, শুভেন্দুর সঙ্গে এত কী কথা কুণালের! সকালের ঘটনাটাও কারও নজর এড়ায়নি
কুণালের সঙ্গে কথা শুভেন্দুর


এমনিতেই বিধানসভায় (WB Assembly) অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিরোধীরাই একে অপরের বিরোধী। শাসক দল এক বিরোধীকে আক্রমণ করলে খুশি হচ্ছে অপরপক্ষ। বক্তৃতা দিতে উঠে শাসক ভুলে দ্বিতীয়পক্ষের বিরোধীদের দুষতেই ব্যস্ত থাকছেন বিরোধী বিধায়করা। এহেন বাজেট অধিবেশনের মাঝেই বৃষ্টির দুপুরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিধানসভায়। কয়েক মিনিটের সাক্ষাৎ নিয়েই যারপরনাই কৌতূহল বিধায়কদের।


সকালে বিধানসভায় গিয়ে তারাতলার ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। অধিবেশনে বক্তব্য রেখে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। পা বাড়িয়েছেন নিজের ঘরের দিকে। হঠাৎই দেখা গেল কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বিরোধী বিধায়ককে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। বেশ কিছুক্ষণ কুণাল ঘোষের সঙ্গে কথা হয় মুখ্যমন্ত্রীর। আর তারপরই গোটা বিধানসভা জুড়ে একটাই আলোচনা শুরু হয়ে যায়।


আমি তো অস্বীকার করিনি...', নোটিস জারি হতেই শেষমেশ বিচারপতির কাছে স্বীকারই করে ফেললেন অভিষেক

বেআইনি নির্মাণ ভাঙছিলাম বলে কত লোক হা হা করে তেড়ে এসেছিল, এখন দেখতে পাচ্ছেন?'
কী কথা হল কুণালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর? কী এমন কথা! যার জন্য ঝাড়া কয়েক মিনিট বিধানসভার অলিন্দে বেলেঘাটার বিধায়ককে সময় দিলেন শুভেন্দু অধিকারী? চর্চা জোরদার হয়েছে। তবে এর পিছনে রয়েছে আরও একটা কারণ।


বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে একটি দৃশ্য কারও নজর এড়ায়নি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সকালে যখন অধিবেশন কক্ষে ভাষণ রাখছিলেন, তখন তারাতলা-কাণ্ড নিয়ে বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আক্রমণ করেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে। ফিরহাদের স্বাক্ষর করা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের কাগজ দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যখন বলেন, ‘একজনকেও ছাড়ব না। উপযুক্ত ব্যবস্থা হবে।’ সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থনে টেবিল চাপড়াতে থাকেন কুণাল। এই দৃশ্য এদিন সবার নজর কেড়েছে।

উল্লেখ্য, ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। সম্প্রতি অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূলে যারা এখন বাঁচার চেষ্টা করছে, ওদের ছাড়বেন না স্যার।” তারপরই ফিরহাদের বিরুদ্ধে আক্রমণে কুণালের এই সমর্থন। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত আলোচনা। এই ইস্যুতেই বিধানসভা সরগরম।

বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, "সিবিআই এই মামলায় গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। চার্জশিট দাখিলের পর ১ বছর ৭ মাস কেটে গিয়েছে। তদন্ত কবে শেষ হবে ? তাহলে এই মামলা আমরা সিবিআইয়ের হাত থেকে নিয়ে নিচ্ছি। আর নির্দেশে এটাও লিখব যে সিবিআইয়ের আধিকারিকরা হাইকোর্টের ঊর্ধ্বে।"


তদন্তে গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে CBI', ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, আরজি কর মামলা CID-কে দেওয়া হোক, সওয়াল তিলোত্তমার পরিবারের
কলকাতা হাইকোর্ট


আরজি কর মামলায় (RG Kar Case) সিবিআই তদন্ত (CBI Investigation) নিয়ে ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। চার্জশিট দাখিলের প্রায় দেড় বছর পরেও কেন তদন্ত শেষ হয়নি? সিবিআই তদন্তে গা ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। আজ আরজি কর মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর মামলার রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিবিআই। গত ২১ মে সিবিআইকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই মতো এদিন রিপোর্ট জমা দিয়ে আদালতে সিবিআই জানিয়েছে, নির্দেশ অনুযায়ী তিন সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। কিন্তু, বিচারপতি শম্পা সরকারের মন্তব্য, আদালতের নির্দেশই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে সিবিআই।


কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর মামলা


একটা চক্র কাজ করছে', বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তদন্ত চাইলেন কুণাল ঘোষ
আজ আরজি কর মামলার শুনানি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছে। এদিন, সিবিআই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দুই বিচারপতি। আজ সিবিআই রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, “সিবিআই তদন্তে হস্তান্তরে দেরি, তথ্য প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য কারা দায়ী ? কারণ এটাও তো একটা অপরাধ।” একইসঙ্গে তাঁর মন্তব্য,”পরিবারের কী অভিযোগ রয়েছে? কেউ অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে সেটাও তো সিবিআইকে খুঁজে বের করতে হবে।”


বিচারপতির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিবিআই জানিয়েছে, তাঁরা একাধিকবার সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেছেন, পরিবারের সব বক্তব্য শুনে উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু, মায়ের বক্তব্য কোথায়, প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি শম্পা সরকার। সিবিআই জানিয়েছে, তাঁরা বক্তব্য লিখে রেখেছেন। এরপরই তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।

বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ : সিবিআই এই মামলায় গা-ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। চার্জশিট দাখিলের পর ১ বছর ৭ মাস কেটে গিয়েছে। তদন্ত কবে শেষ হবে ? তাহলে এই মামলা আমরা সিবিআইয়ের হাত থেকে নিয়ে নিচ্ছি। আর নির্দেশে এটাও লিখব যে সিবিআইয়ের আধিকারিকরা হাইকোর্টের ঊর্ধ্বে, তারা আদালতের নির্দেশ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা উপযুক্ত তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিচারপতি শম্পা সরকার : আমাদের নির্দেশের মানেই ছিল যে আগের তদন্তকারী অফিসারদের মামলা থেকে সরিয়ে নতুন গঠিত সিটকে দেওয়া। সেটাই আপনারা বুঝতে পারছেন না? আপনারা আপনাদের সহকর্মীদের প্রতি এত সহানুভূতিশীল?

এরপরই তদন্ত সিআইডির হাতে দেওয়ার বিষয়ে সওয়াল করেন তিলোত্তমার পরিবার। আদালতে তাঁদের দাবি,”সিবিআই না পারলে মামলা সিআইডিকে দিয়ে দেওয়া হোক। তবে, বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই আধিকারিকদের তদন্তে আস্থা রেখেছেন। আদালতে বিচারপতি জানিয়েছেন, তাঁরা সিবিআইয়ের আধিকারিকদের প্রতি আস্থা রাখছেন। আশা করছেন যে তাঁরা সঠিক তদন্ত করবে। তবে, একইসঙ্গে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পুরানো কোনও তদন্তকারী আধিকারিক নবগঠিত সিটে থাকবেন না। মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ৬ অগস্ট।

তারাতলার ওই নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "কালীকে তুললেই সব বেরিয়ে যাবে। কালী না বললে কোনও প্ল্য়ানে অনুমোদন হয় না। এই কালী ক্যামাক স্ট্রিটের অ্যাপয়েন্ট করা। বাইপাসের ধারে ২০০ কোটি টাকায় তৃণমূলর ভবন বানাচ্ছে এই কালী। এখান থেকে টাকা তুলে পাঠায়।"

কালীকে তুললেই সব বেরিয়ে আসবে...', কে এই কালী? কী এমন ক্ষমতা তাঁর?
কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়


তারাতলার ঘটনায় শিউরে উঠেছে শহর কলকাতা। মৃতদের পরিবারে হাহাকার। কার গাফিলতিতে এতগুলো মানুষ প্রাণ হারাল, চলছে কাটাছেঁড়া। বেআইনি প্ল্যানিং-এর অভিযোগ আগেই সামনে এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আর সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উঠে এলে ‘কালী’র নাম। ‘কালীকে তুললেই সব বেরিয়ে যাবে’, বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।


কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
তারাতলার ওই নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “কালীকে তুললেই সব বেরিয়ে যাবে। কালী না বললে কোনও প্ল্য়ানে অনুমোদন হয় না। এই কালী ক্যামাক স্ট্রিটের অ্যাপয়েন্ট করা। বাইপাসের ধারে ২০০ কোটি টাকায় তৃণমূলর ভবন বানাচ্ছে এই কালী। এখান থেকে টাকা তুলে পাঠায়।”



৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে তছনছ ভেনেজুয়েলা! কী এই বিরল 'ডাবলেট ভূমিকম্প', কেন এত ভয়ঙ্কর?
কে এই কালী?
কালী আসলে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরনিগমের চিফ ম্যানেজার। ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন তাঁর ওএসডি ছিলেন কালীচরণ। মেয়রের পাশেই বসে থাকতে দেখা যেত তাঁকে। ফিরহাদ ইস্তফা দেওয়ার পর সাংসদ তহবিল সংক্রান্ত বিভাগে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।


কালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়
ফিরহাদের পাশে পাশেই থাকতেন কালীচরণ। পুরসভার অন্দরে আলোচনা হত, কালীর চোখ দিয়েই নাকি কলকাতা দেখতেন মেয়র। পুরনিগমের অফিসারদেরও অনেক অসন্তোষ রয়েছে ছিল এই কালীকে ঘিরে। সবথেকে বড় কথা, সেক্সপীয়র সরণি থানায় এই কালীচরণের বিরুদ্ধে ভাতা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর আইনজীবী সঞ্জয় বসু। আর এবার সেই কালীচরণের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন শুভেন্দুর মুখে কালীর কথা শুনে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এটা কেন বলল আমি জানি না। ক্যামাক স্ট্রিট তো কালীর বিরুদ্ধেই।” এই বিষয়ে কথা বলতে কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে চাননি।

রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরাট পদক্ষেপ। আনা হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল। আগামী সোমবার বিশেষ অধিবেশন রাখা হয়েছে। ওই দিনই পেশ করা হবে এই বিল। এমনটাই সূত্রের খবর। কী কী থাকবে এই বিলে?

 রাজ্যেও চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি? সোমবার আসছে বিল
রাজ্যেও চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি?

পশ্চিমবঙ্গেও চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code)? রাজ্যের বিজেপি (BJP) সরকারের বিরাট পদক্ষেপ। আনা হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল (Uniform Civil Code)। আগামী সোমবার বিশেষ অধিবেশন রাখা হয়েছে। ওই দিনই পেশ করা হবে এই বিল। এমনটাই সূত্রের খবর। উত্তরাখণ্ড, গুজরাটে ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হয়েছে। অসমে গত মে মাসেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ কি চতুর্থ রাজ্য হতে চলেছে, যেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে? কী কী নিয়মবিধি থাকবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে?


দেশজুড়েই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। ‘এক দেশ, এক আইন’ চালু করার লক্ষ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পরিকল্পনা, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের জন্য আলাদা আইন থাকবে না। সকলের জন্য একই নিয়ম হবে।


লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের 'ফিলোজফি' আলাদা, তফাৎটা বুঝিয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী
ইতিমধ্যেই দেশের কয়েকটি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হয়েছে। দেশের মধ্যে উত্তরাখণ্ড প্রথম রাজ্য, যেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি এই বিধি চালু হয়। উত্তরাখণ্ডে ইউসিসি-তে বহুগামিতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, লিভ ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সম্পত্তিতে সন্তানদের সমান অধিকার, লিভ ইন সম্পর্কে জন্মানো সন্তানকেও আইনি স্বীকৃতির মতো বিধান চালু করা হয়েছে।


একই পথে হেঁটে গুজরাটেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হয়েছে। অসমে ইতিমধ্যেই বিধানসভায় বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। কী কী আইনি বিধান থাকবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে বিল আনা হচ্ছে।

ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন যে ক্ষমতায় আসলেই রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে।

আগামী সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। তবে বিলে কী কী বিধান থাকবে, তা এখনও জানা যায়নি। এই অধিবেশনে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল যেমন পেশ করা হবে, তেমনই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর বিল আনা হবে। এ কথা জানিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিলে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি দুর্নীতিগ্রস্থ প্রমাণিত হলে, শুধু আইনি শাস্তিই নয়, তার সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করতে পারবে সরকার। এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে কী কী বিধান থাকে, তাই-ই দেখার।

 বেআইনি আয়ের উৎস থেকে সম্পত্তি দখল রুখে 'গুণ্ডাদমনে' আরও কড়া আইন আনছে রাজ্য সরকার। গুন্ডামি, ঘুষ নিয়ে বেআইনি সম্পত্তিকে আইনি বানানোর মতো অপরাধকে সামনে রেখে এই বিল তৈরি হয়েছে। তাতে ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী আইনের সমস্ত ধারা প্রয়োগ করা যাবে।


থাকছে 'গুণ্ডা' শব্দটিও, সোমবার কড়া বিল আনছে শুভেন্দু-সরকার

 ক্ষমতায় আসায় দেড় মাসের মধ্যেই পরপর নতুন বিল আনছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। আগামী সোমবার একদিনের জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে রাজ্য বিধানসভায়। সেখানেই আনা হচ্ছে নয়া বিল। দুর্নীতি দমনে কড়া বিল আনা হবে বলে আগেই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সোমবার আসছে সেই দুর্নীতি-বিরোধী বিল।


মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। আমরা শপথ নিয়েছি, কোনও চোর জেলের বাইরে থাকবে না। অনেকে ভাবছেন জেলে গিয়ে, ২ মাস জামিনে বেরিয়ে এলাম। তা হবে না। বিল আনছি। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অকশন করব।”


বৃষ্টির দুপুরে জোর আলোচনা বিধানসভায়, শুভেন্দুর সঙ্গে এত কী কথা কুণালের! সকালের ঘটনাটাও কারও নজর এড়ায়নি
কী থাকছে এই বিলে?
বেআইনি আয়ের উৎস থেকে সম্পত্তি দখল রুখে ‘গুণ্ডাদমনে’ আরও কড়া আইন আনছে রাজ্য সরকার। গুন্ডামি, ঘুষ নিয়ে বেআইনি সম্পত্তিকে আইনি বানানোর মতো অপরাধকে সামনে রেখে এই বিল তৈরি হয়েছে। তাতে ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী আইনের সমস্ত ধারা প্রয়োগ করা যাবে।


গুন্ডামি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে ‘গুণ্ডা’ শব্দকে বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। শাস্তি হিসেবে ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হচ্ছে। ন্যায় সংহিতাতেও এই নিয়ে কড়া শাস্তির বিধান রয়েছে।

দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে কেউ বাধা দিলে তাকে রুখতে সবরকমের আইনি পথে যেতেও যাতে প্রশাসন পিছপা না হয় তার জন্য ‘গুণ্ডা’ শব্দটিকে বিলে রেখে তাকে আইনে পরিণত করতে চাইছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। চলতি অধিবেশনেই সেই বিল আসার কথা।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত ইস্যু বা শাস্তিও থাকবে ওই বিলে। রাজ্য সরকারি, কেন্দ্র সরকারি, বেসরকারি সবরকম সম্পত্তির ক্ষেত্রেও একই ধারা, একই শাস্তি বহাল হবে।

বেআইনিভাবে দখলদারি, ভাঙচুর রুখে পাল্টা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি বিধান থাকছে।

আনলফুল জমায়েত দাঙ্গা, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ দমন করবে সরকার। ভাঙচুরের ৩ মাসের মধ্যে সম্পত্তি দখলের দাবি জানানো যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালী-কে তুলে নিল পুলিশ। কালীর পুরো নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি ছিলেন কালীচরণ। এবার সেই কালী-কেই আটক করল পুলিশ। আপাতত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 


শুভেন্দুর কড়া বার্তা, তারাতলা বিপর্যয়ে আটক ফিরহাদের প্রাক্তন OCD কালীচরণ
শুভেন্দু-কালীচরণ

 বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘কালীকে তুললেই সব বেরিয়ে আসবে’। মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই কালী-কে তুলে নিল পুলিশ। তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল পুলিশ। আপাতত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

​আদালতের কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে আইনজীবী নিগ্রহের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা মীরদা সহ মোট দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সাগর থানার পুলিশ। ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাকদ্বীপ আদালতের এক আইনজীবী আদালতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি যখন গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটে পৌঁছান, ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ তাঁর ওপর চড়াও হন বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা মীরদা এবং আরও এক ব্যক্তি। 


প্রকাশ্য দিবালোকে আইনজীবীর ওপর এই হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। ​ঘটনার পরই আক্রান্ত আইনজীবী সাগর থানায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নামে সাগর থানার পুলিশ। পুলিশি অভিযানে অভিযুক্ত বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা মীরদা সহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
​আইনজীবীর ওপর এহেন হামলার ঘটনায় স্থানীয় আইনজীবী মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে সাগর থানার পুলিশ।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার উদ্যোগে কাকদ্বীপ থানায় বৃহস্পতিবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ট্রাফিক বিভাগের সেই সমস্ত অফিসার, কনস্টেবল ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের সম্মান জানানো, যারা প্রচণ্ড গরম কিংবা বর্ষার প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিয়মিত রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
সুন্দরবন পুলিশ জেলার কাকদ্বীপ ট্রাফিক গার্ডের পক্ষ থেকে কর্মরত পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের হাতে সামার কিট ও মনসুন কিট তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচন্দ্র ঠাকুর (আইপিএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল এসপি (হেডকোয়ার্টার), কাকদ্বীপের এসডিপিও, ডিএসপি ট্রাফিক-সহ ট্রাফিক বিভাগের অন্যান্য আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ট্রাফিক কর্মীদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও জনসেবার মনোভাবের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পুলিশকর্মীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।


কাকদ্বীপ থেকে ক্যামেরায় কপিল দাসের সাথে সৌম্য সুন্দর দাসের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম