বাংলা টেলিভিশনের এক যুগের অবসান! দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিকেল সাড়ে চারটের সঙ্গে যার নাম একাকার হয়ে গিয়েছিল, সেই 'দিদি নম্বর ১'-এর মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াতে হল রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই খবরে যেমন অবাক দর্শকরা, তেমনই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন স্বয়ং রচনাও।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রচনা জানান, 'দিদি নম্বর ১' শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ। তিনি বলেন, যখন তাঁর ছেলে মাত্র তিন বছরের, তখন থেকেই এই শো-এর সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। নিজের সন্তানের মতোই যত্ন, ভালোবাসা আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি এই অনুষ্ঠানকে বড় করেছেন।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রচনা বলেন, এমনও দিন গেছে যখন ছেলেকে সময় দেওয়া এবং শুটিং—দুটোই একসঙ্গে সামলাতে হয়েছে। কখনও মেট্রো চেপে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফিরেছেন, আবার কখনও রাতের শুটিং শেষে পরিচয় গোপন রাখতে বোরখা পরে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। তাঁর কথায়, দিদি নম্বর ১' শুধু একটি শো নয়, অসংখ্য স্মৃতি আর আবেগের নাম।
তাঁর এই বিদায়ের পিছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে রচনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন না এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ রয়েছে। তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।
রচনা আরও বলেন, পরিবর্তন জীবনের নিয়ম। একজন আসবেন, একজন যাবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এত বছরের সম্পর্কের ইতি টানার ক্ষেত্রেও একটি সম্মানজনক ও সুন্দর সমাপ্তি থাকা উচিত ছিল। তাঁর আক্ষেপ, যেভাবে তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে সরানো হয়েছে, তা তিনি একেবারেই আশা করেননি।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিকেল সাড়ে চারটার সময়স্লটটি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল তাঁর হাত ধরেই। তাঁর মতে, সেই জায়গায় নতুন করে লড়াইয়ের বদলে চ্যানেল হয়তো দর্শক ও সময়স্লট—দুটোই বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সব মিলিয়ে, 'দিদি নম্বর ১' থেকে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি বলেই মনে করছেন দর্শকরা।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours