দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম দ্বারিকাপুর আদিবাসী কলোনির ১১৭ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের বেহাল চিত্র দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে সরকারি পরিষেবার মান। খাতা-কলমে এই কেন্দ্রে প্রায় ৯০ জন শিশু ও একাধিক প্রসূতি ও গর্ভবতী মা নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ দিন কেন্দ্রে দেখা যায় মাত্র দু-একজন শিশুকে। তবে মিড-ডে মিলের খাবার নিতে মায়েদের উপস্থিতিই চোখে পড়ে বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপযুক্ত আইসিডিএস ভবন না থাকায় অভিভাবকেরা ছোট শিশুদের কেন্দ্রে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।কারণ উনানের ধোঁয়ায় পড়াশোনার বদলে চোখে জল ঝরে শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের। বর্তমানে মাত্র ১৬ ফুট × ১২ ফুটের একটি দরমার ঘরে চলছে কেন্দ্রের সমস্ত কার্যক্রম। মাথার উপর রয়েছে ত্রিপলের ছাউনি। সেই ঘরের মধ্যেই জ্বলছে রান্নার উনুন, একপাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে জ্বালানি কাঠ। রান্না শুরু হলেই শিশুদের বসার মতো জায়গা থাকে না। উনুনের ধোঁয়ায় ভরে যায় গোটা ঘর, ফলে ছোট ছোট শিশুদের সেখানে পড়াশোনা করানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
কেন্দ্রের সহায়িকার দাবি, স্থায়ী আইসিডিএস ভবন না থাকায় বাধ্য হয়েই এই প্রতিকূল পরিবেশে পরিষেবা চালাতে হচ্ছে। রান্নার ধোঁয়া, সংকীর্ণ পরিসর ও অনুপযুক্ত পরিবেশের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও পুষ্টি—দুইয়েরই সঠিক ব্যবস্থা হওয়া উচিত। বর্তমানে পড়াশোনার চেয়ে খাবার পাওয়াই যেন এই কেন্দ্রের প্রধান উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন একটাই—পশ্চিম দ্বারিকাপুর আদিবাসী কলোনির ১১৭ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রের জন্য কবে তৈরি হবে একটি স্থায়ী ও উপযুক্ত ভবন? সেই উত্তরই এখন অপেক্ষায় এলাকার মানুষ।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours