January 2026

ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের নামে হেয়ারিং নোটিশ, বাবার নামের বানান ভুল ঘিরে বিতর্ক।
  

ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামের নামে হেয়ারিং নোটিশ জারি হয়েছে। বাবার নামের বানানে ভুল থাকার কারণ দেখিয়ে আগামী ৩১শে জানুয়ারি হেয়ারিংয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একসময়ে ভাঙড়ের ‘বেতাজ বাদশা’ হিসেবে পরিচিত আরাবুল ইসলাম বর্তমানে গোটা বাংলারই পরিচিত মুখ। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। বিধায়ক পদ ছাড়ার পর টানা তিনবার তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

এবার সেই আরাবুল ইসলামের নামেই হেয়ারিং নোটিশ আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নোটিশ প্রসঙ্গে আরাবুল ইসলাম দাবি করেন, শুধুমাত্র বাবার নামের বানান ভুলের কারণ দেখিয়ে এই হেয়ারিং নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সাধারণ মানুষকে অকারণে হয়রানি করা হচ্ছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে এই চক্রান্ত করছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।”

অল্পের জন্য রক্ষা তিন প্রাণ, হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল অপোক্ত বাড়ি—আবাস যোজনার ঘর না পাওয়ার অভিযোগ

সোনারপুরঃ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেল তিনটি মানুষ। মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি অপোক্ত বাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে সোনারপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের মথুরাপুর পূর্ব ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায়, মথুরাপুর প্রাইমারি স্কুলের পিছনে। ভেঙে পড়া বাড়িটিতে বসবাস করতেন পিনাকী ভট্টাচার্য (পিতা: ধীরাজ ভট্টাচার্য), তাঁর স্ত্রী সোমা ভট্টাচার্য ও সন্তান।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে বাংলার আবাস যোজনার তালিকাভুক্ত ছিলেন পিনাকী ভট্টাচার্য।
 কিছুদিন আগে সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা বাড়ি পরিদর্শনের পর অজ্ঞাত কারণে তাঁর নাম তালিকা থেকে বাতিল হয়ে যায় বলে অভিযোগ। বাড়িটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় বর্তমানে বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গায় প্লাস্টিক টাঙিয়ে কোনওরকমে থাকছিল পরিবারটি। ঘটনার সময় তাঁরা ঘরের মধ্যেই ছিলেন। দুপুরের দিকে আচমকাই বাড়িটি ভেঙে পড়ে, কোনওরকমে প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। সোমা ভট্টাচার্য জানান, ভাড়া দেওয়ার সামর্থ্য নেই বলেই আপাতত অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চলে, কাজ না পেলে খাবারও জোটে না। বারবার পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর। প্রতিবেশী শুভঙ্কর কয়াল জানান, বাড়িটি পাকাবাড়ি ছিল না, ইটের উপর কাদা দিয়ে তৈরি। পঞ্চায়েতকে জানানো হলেও সেটিকে পাকাবাড়ি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে সোনারপুর–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রবীন সরদার জানান, কেন তাঁর নাম তালিকা থেকে কাটা গিয়েছিল তা তিনি জানেন না। তবে পিনাকী ভট্টাচার্য প্রকৃত উপভোক্তা বলেই স্বীকার করেন তিনি। নতুন করে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আপাতত ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ঘটনাচক্রে আজই বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তাদের হাতে বাড়ি তৈরির চেক তুলে দেওয়া হবে। সিঙ্গুর থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুর ব্লক সহ প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতেও এই উপলক্ষে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

গঙ্গাসাগরে পুণ্যার্থী বোঝাই গাড়ি উল্টে বিপত্তি: শিশু বাঁচাতে গিয়ে জখম ৫


গঙ্গাসাগরে কপিল মুনির আশ্রম দর্শন সেরে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন পুণ্যার্থীরা। আজ সকাল ১০টা নাগাদ সাগর থেকে কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাটের দিকে যাওয়ার পথে সূর্য বৃন্দা মোড়ের কাছে একটি যাত্রীবোঝাই ‘ম্যাজিক’ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এই ঘটনায় অন্তত ৫ জন পুণ্যার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত গতিতে থাকা গাড়িটির সামনে আচমকাই একটি শিশু সাইকেল নিয়ে চলে আসে। শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে চালক সজোরে ব্রেক কষলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর উল্টে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে সাগর কোস্টাল থানার পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই মোড়ে কোনও স্পিড ব্রেকার বা বাম্পার না থাকায় প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। বড়সড় বিপদ এড়াতে অবিলম্বে সেখানে বাম্পার বসানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সুরক্ষিত তট, সমৃদ্ধ ভারত’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ সকালে সিআইএসএফের উদ্যোগে বন্দেমাতরম কোস্টাল সাইক্লোথন–২-এর সূচনা হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির উপকূল থেকে। 


সকালেই পতাকা নাড়িয়ে সাইক্লোথনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রখ্যাত ফুটবলার গৌতম সরকার এবং গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবসরপ্রাপ্ত সিএমডি পি. আর. হরি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআইএসএফের আইজি নীলিমা রাণী, ডিআইজি কে. প্রতাপ সিং-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। পাশাপাশি ফ্রেজারগঞ্জ কোস্ট গার্ড ঘাঁটির আধিকারিকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

এই কোস্টাল সাইক্লোথন আগামী ১লা এপ্রিল কন্যাকুমারিতে গিয়ে শেষ হবে। মোট ২৫ দিনে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের ৯টি রাজ্যের প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতট অতিক্রম করবেন সিআইএসএফের জওয়ানরা। বকখালি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন মোট ১৩০ জন জওয়ান, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ জন মহিলা জওয়ান।

যাত্রাপথে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন অভিযাত্রীরা। উপকূলের স্বচ্ছতা রক্ষা, নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সাইক্লোথনের মূল উদ্দেশ্য। সাইকেল চালিয়ে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই সিআইএসএফের এই বিশেষ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।



লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে শুনানিতে ডাক, আতঙ্কে কেরোসিন খেয়ে আত্মঘাতী চেষ্টার অভিযোগ ভাঙড়ে

মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙ্গড়ের উত্তর কাশীপুর থানার শোনপুর এলাকায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে বর্তমানে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম ইসরাফিল খান। তাঁর বাড়ি শোনপুর এলাকায়। পরিবার সূত্রে খবর, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ইসরাফিলের নাম না থাকলেও তার বাবা- মায়ের নাম আছে। তবে তাঁর পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র কারণ দেখিয়ে ইসরাফিলকে শুনানিতে ডাকা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের দাবি, শুনানির নোটিস পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইসরাফিল। মঙ্গলবার আচমকাই তিনি বাড়িতে কেরোসিন তেল পান করেন বলে অভিযোগ। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে জিরেনগাছা ব্লক হসপিটাল তারপর নলমুড়ি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য একরামুল মোল্লা বলেন, হেয়ারিং এর নোটিশ পাওয়ার পর আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ইসরাফিল খান, ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে তার বাবা মায়ের নাম আছে সমস্ত ডকুমেন্ট আছে স্থানীয় বাসিন্দা তারা, কিন্তু ইয়ারিং এর নোটিশ পাওয়ার পর আতঙ্কে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বাইট 

১ তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য একরামুল মোল্লা

২ নাজিমা বিবি, আক্রান্ত ইসরাফিলের বৌদি 

৩ রবিউল মোল্লা, আত্মীয়

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আনন্দপুর এলাকায় মমো তৈরির কারখানা এবং প্যান্ডেলের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন এর ঘটনায় বেসরকারি মতে অনেকের মৃত্যুর ঘটনা উঠে এলেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি, এতে বাদে বেশ কিছু মেশিন ডায়েরি করা হয়েছে,

তবে প্রশাসনিক মতে আটজনের মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশে আনা হয়েছে।তবে অধিকাংশ ভিতর দেওয়া সনাক্ত করা স্বভাব হয়নি। 
ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি সাংবাদিকদের মুখোমুখি বলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তিনি এসেছেন, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ টিম আসছে আগামীকাল, এমনকি মৃত্যুর পরিবারের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করা হবে। 

ইতিমধ্যে প্যান্ডেলের মালিক গঙ্গাধর দাসকে বারাইপুর থেকে হয়েছে। 
ঘটনাস্থল আনন্দপুর থেকে ফিরহাদ হাকিম এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা খেয়াদা দু'নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে পৌছালেন। কিছুক্ষণের বাদেই সাংবাদিক সম্মেলন করবেন।

চলছে এসআই আর হেয়ারিং, হেয়ারিং এ আসা মানুষ জনের কাগজ জমা নেওয়ার্র পর রিসিভ না দেওয়ায় ভাঙচুর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য নেতৃত্বে,পঞ্চায়েত সদস্যের নাম আশিক ইকবাল, নির্দল পঞ্চায়েত সদস্য। 
ঘটনাটি দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার জয়নগর মজিলপুর বোর্ড অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
এস আই আর এর নোটিস পেয়ে সকাল থেকে দেখা যায় শতাধিক মানুষের লম্বা লাইন হেয়ারিং এর কাগজ জমা দেওয়ার পর কোন রিসিভ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল এলাকা, রিসিভ কেন দেওয়া হচ্ছে না তাই নিয়ে বিতর্ক শুরু,ক্ষিপ্ত লোকজন ভাঙচুর করে বলে বলে অভিযোগ। নির্বাচন আধিকারিকের কাজকর্মে বাধা এবং স্কুলের সম্পত্তি ভাঙচুর করার অভিযোগ এলাকার বিরোধী দলনেতা পবিত্র পাত্রর, তার দাবি এটা শাসকদলের কাজকর্ম শাসকদলের কালচার। 

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য আশিক ইকবাল সরদার এই ভাঙচুরের নেতৃত্ব দেন। 
এই ব্যাপারে আশিক ইকবাল এর সঙ্গে ফোনে কথা বলা হলে তিনি জানান নির্বাচন কমিশনারের নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কোনরকম রিসিভ দেওয়া হচ্ছে না ঘটনাটি কি বিডিও কে জানান, তবু কোন কাজ হয়নি লাইনে দাঁড়ানো মানুষ যখন জেরক্স কাগজ নিয়ে এসে তারা নিয়ে যান। তিনি কোন ভাঙচুরের মদত দেননি। লাইনে দাঁড়ানো মানুষ তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরূপ ভাঙচুর চালান।তিনি আরো স্বীকার করেন তিনি সক্রিয় তৃণমূলের সমর্থক, এমনকি সাংসদ ঘনিষ্ঠ, তবেই তিনি তৃণমূলের কাছ থেকে টিকিট না পাওয়ায় নির্দল হয়ে যেতেন। 
তুমি আরো বলেন মানুষের পাশে ছিলেন মানুষের পাশে আছেন অন্যায়ের প্রতিবাদ তিনি করেছেন। তবে তিনি কোন ভাঙচুর করেন নি সাধারণ মানুষই মানুষের চালিয়েছে।
সাগরের ফুটবল ময়দানে বিতর্কের ছায়া: ভাইরাল ভিডিওকে 'ফেক' বলে ওড়ালো তৃণমূল, ধিক্কার সন্দীপ পাত্রের


গত ২৫শে জানুয়ারি, রবিবার গঙ্গাসাগরের বঙ্কিমনগর ভাতৃ সঙ্ঘের পরিচালনায় আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে। মেগা ফাইনালের দিন মাঠে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টলিউড কুইন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। অভিনেত্রীকে হুডখোলা জিপে নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করার সময় "জয় শ্রীরাম" ধ্বনি দেওয়া হয়েছে বলে একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ 'ভুয়ো' বা 'এডিটেড' বলে দাবি করা হয়েছে। এদিন মাঠে অভিনেত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার এবং স্থানীয় বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধী পক্ষ সুপরিকল্পিতভাবে অন্য জায়গার শব্দ ব্যবহার করে এই ভিডিওটি এডিট করেছে যাতে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা যায়। এই বিতর্ক প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের সদস্য তথা জিবিডিএ এর ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ কুমার পাত্র তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান: "এই খেলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এই টুর্নামেন্ট কমিটির মধ্যে যেমন তৃণমূলের লোক আছে, তেমনি বিজেপি ও সিপিএমের কর্মীরাও রয়েছেন। মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই খেলা আজ এক বিশাল আকার ধারণ করেছে। গত বছর সায়নী ঘোষ এসেছিলেন, এবার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এসেছেন।

 যারা এই ধরনের নির্লজ্জ ফেক ভিডিও তৈরি করে প্রচার করছে, তারা জীবনে কোনোদিন বড় কিছু করতে পারবে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সাগরদ্বীপের মানুষের কাছে এই ফুটবল টুর্নামেন্ট একটি আবেগের জায়গা। সেই প্রাণের খেলাকে নিয়ে যারা রাজনীতি করছে, তাদের তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানান তিনি। শাসকদলের স্পষ্ট দাবি, সেদিনের অনুষ্ঠানে এরকম কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে এখন প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি এই ঘটনাকে 'জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ' বলে দাবি করলেও, তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি—মানুষের এই জমায়েত ছিল নিছকই ফুটবল প্রেম ও প্রিয় অভিনেত্রীকে দেখার জন্য, সেখানে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক স্লোগান ওঠেনি। সব মিলিয়ে সাগরের খেলার মাঠ এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রবিন্দুতে।

গঙ্গাসাগরে কৃষকদের মুখে হাসি: বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করলেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা 


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সুন্দরবনের প্রান্তিক কৃষকদের স্বনির্ভর করতে এক বিশেষ উদ্যোগ নিল সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তর। মঙ্গলবার সুন্দরবন উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে গঙ্গাসাগরের রুদ্রনগরে কয়েকশো কৃষকের হাতে বিনামূল্যে আধুনিক কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রপাতি তুলে দেওয়া হয়। উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা কৃষকদের হাতে ধান ঝাড়াই মেশিন, অত্যাধুনিক স্প্রে মেশিন, এসি নেট এবং ওল বীজসহ একাধিক সরঞ্জাম তুলে দেন।
 প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করা সুন্দরবনের কৃষকরা যাতে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে চাষবাস করে লাভের মুখ দেখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লকের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, সহকারী সভাপতি স্বপন কুমার প্রধান সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। "মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সব সময় কৃষকদের পাশে আছি। এই আধুনিক সরঞ্জামগুলো ব্যবহারের ফলে কৃষকদের শ্রম কমবে এবং ফলন বৃদ্ধি পাবে। সুন্দরবনের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করাই আমাদের লক্ষ্য।"
বিনামূল্যে এই সব মূল্যবান যন্ত্রপাতি হাতে পেয়ে খুশি এলাকার কৃষকরা। তাদের মতে, সরকারি এই সাহায্য আগামী মরসুমে চাষের খরচ অনেকটা কমিয়ে দেবে।
 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-তে সাফল্যের মুখ দেখল নামখানার শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। এই পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৪০০টি পরিবারের হাতে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির চেক তুলে দেওয়া হলো। 


এতদিন সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর নিয়ম থাকলেও, এবার গ্রাহকদের স্বচ্ছতা ও নিশ্চয়তা দিতে সরাসরি হাতে চেক প্রদানের অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।


সরাসরি প্রথম কিস্তির চেক হাতে পেয়ে দীর্ঘদিনের পাকা বাড়ির স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে দেখে শিবরামপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক খুশির হাওয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। উপভোক্তারা জানিয়েছেন, হাতে চেক পাওয়ায় তাঁরা দ্রুত নির্মাণ সামগ্রী কিনে কাজ শুরু করতে পারবেন। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম কিস্তির কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।


বুধবার শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে এই চেক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান অর্চনা বারুই মাইতি, উপপ্রধান দেবাশিস দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য অখিলেশ বারুই। এ ছাড়াও পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যরা এই প্রক্রিয়ায় তদারকি করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ব্লকে এদিন চেক বিলি করা হলেও, শিবরামপুরের উদ্যোগ ছিল চোখে পড়ার মতো।
পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুসারে গ্রামবাংলার প্রতিটি মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা। সরাসরি চেক প্রদানের মাধ্যমে উপভোক্তাদের সঙ্গে পঞ্চায়েতের যোগাযোগ আরও নিবিড় হলো এবং দুর্নীতির ফাঁকফোকর বন্ধ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সম্ভব হলো।

সুরক্ষিত তট, সমৃদ্ধ ভারত’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আজ সকালে সিআইএসএফের উদ্যোগে বন্দেমাতরম কোস্টাল সাইক্লোথন–২-এর সূচনা হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির উপকূল থেকে। 


সকালেই পতাকা নাড়িয়ে সাইক্লোথনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রখ্যাত ফুটবলার গৌতম সরকার এবং গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর অবসরপ্রাপ্ত সিএমডি পি. আর. হরি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিআইএসএফের আইজি নীলিমা রাণী, ডিআইজি কে. প্রতাপ সিং-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। পাশাপাশি ফ্রেজারগঞ্জ কোস্ট গার্ড ঘাঁটির আধিকারিকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এই কোস্টাল সাইক্লোথন আগামী ১লা এপ্রিল কন্যাকুমারিতে গিয়ে শেষ হবে। মোট ২৫ দিনে পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের ৯টি রাজ্যের প্রায় ৬,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতট অতিক্রম করবেন সিআইএসএফের জওয়ানরা। বকখালি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন মোট ১৩০ জন জওয়ান, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৬৫ জন মহিলা জওয়ান।

যাত্রাপথে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবী পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন অভিযাত্রীরা। উপকূলের স্বচ্ছতা রক্ষা, নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধিই এই সাইক্লোথনের মূল উদ্দেশ্য। সাইকেল চালিয়ে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই সিআইএসএফের এই বিশেষ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।



 দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ভারতীয় জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক হওয়া ১১৫ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী অবশেষে মুক্তি পেয়ে নিজেদের দেশে ফিরছেন।



বুধবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দর থেকে পাঁচটি ট্রলারসহ তাঁদের বাংলাদেশের উদ্দেশে বিদায় জানানো হয়। ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে ভারতীয় অংশে ঢুকে পড়ার অভিযোগে এই মৎস্যজীবীদের আটক করেছিল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (Indian Coast Guard)। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতীয় জলসীমায় মাছ ধরার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কয়েক মাস ভারতীয় জেলে বন্দি থাকার পর সম্প্রতি আদালত তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেয়।

বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের বিদায় জানানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন
কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা। নামখানার বিডিও সুব্রত মল্লিক। ফ্রেজারগঞ্জ থানার ওসি সুদীপ মণ্ডল ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর পদস্থ আধিকারিকগণ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফ্রেজারগঞ্জ থেকে রওনা হওয়া এই মৎস্যজীবীদের আজ বিকেলে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমানায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাতে তুলে দেবে। দীর্ঘদিন পর ঘরের ছেলেরা দেশে ফেরায় খুশি মৎস্যজীবীদের পরিবার। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, দুই দেশের আইনি ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দ্রুত এই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে। পাঁচটি বাংলাদেশি ট্রলারও যথাযথ মেরামতির পর তাঁদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


বকখালি থেকে মুন্না সরদারে রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম

ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, গোপন ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল,সোনারপুর থানার পুলিশে গ্রেফতার অমিত দে

ভূমি সংস্কার দপ্তরের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল সোনারপুরে। এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আধিকারিক অমিত দে-কে গ্রেফতার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। ধৃতকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, ২০১৯ সালে তাঁর বাবা অভিযুক্তের বাড়িতে পাইপলাইনের কাজে যাওয়ার সূত্রে দুই পরিবারের মধ্যে পরিচয় ও যাতায়াত গড়ে ওঠে। অভিযুক্তকে তিনি ‘কাকু’ বলে ডাকতেন। সে সময় তিনি নাবালিকা ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ। পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত মাঝেমধ্যেই তাঁকে নিয়ে যেতেন বলে দাবি।
অভিযোগ , ওই সময় জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং ছবি ও ভিডিও তুলে রেখে তা ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে বারবার নির্যাতন চালানো হয়। পরে তরুণীর বিয়ে ঠিক হলে অভিযুক্ত তাঁর হবু বরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে ভেঙে দেয় এবং হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে তরুণী ও তাঁর পরিবার সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ সকাল থেকে সারা দেশ জুড়ে ব্যাঙ্ক কর্মীরা ধর্মঘটে শামিল হওয়ায় কার্যত স্তব্ধ ব্যাঙ্ক পরিষেবা। 


ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নসের ডাকে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালুর দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি বহু ব্যাঙ্কের শাখায় কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। চেক ক্লিয়ারিং, নগদ লেনদেন,


 কাউন্টার পরিষেবা সহ একাধিক পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বহু জায়গায় সকাল থেকেই ব্যাঙ্কের শাখার সামনে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। যদিও অনলাইন ব্যাঙ্কিং ও এটিএম পরিষেবা কিছু ক্ষেত্রে চালু থাকলেও নগদ তুলতে সমস্যার মুখে পড়ছেন গ্রাহকরা। ব্যাঙ্ক কর্মীদের দাবি মানা না হলে আগামী দিনেও আন্দোলন জারি থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মোটোভ্যানের, গুরুতর আহত ২

 নামখানা থেকে বকখালি যাওয়ার পথে ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একটি দ্রুতগামী ইঞ্জিন চালিত ভ্যান (মোটোরভ্যান)। মঙ্গলবার নামখানার ৮ মাইল ও ১০ মাইলের মাঝামাঝি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় চালকসহ ভ্যানে থাকা আরও একজন গুরুতর জখম হয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নামখানার দিক থেকে বকখালির দিকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসছিল ওই মোটোরভ্যানটি। ৮ মাইল এলাকা পার করার সময় আচমকাই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর ভ্যানটি সজোরে রাস্তার পাশে থাকা একটি গাছে ধাক্কা মারে এবং উল্টে যায়।

দুর্ঘটনাটি ঘটার পরই বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা। তাঁরাই তড়িঘড়ি চালক ও অন্য এক আরোহীকে উদ্ধার করেন। তাঁদের দ্রুত নামখানার দ্বারিকনগর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভ্যানটিতে কোনও পণ্য বা জিনিসপত্র বোঝাই না থাকায় এবং পেছনে অন্য কোনও গাড়ি না থাকায় একটি বড়সড় প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে।


ষ্টাফ রিপোর্টার মুন্না সরদার

ফের অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্য, গভীর রাতে সোনারপুরের মিশনপল্লীতে দোকানে আগুন


ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল সোনারপুরের মিশনপল্লী এলাকায়। গভীর রাত প্রায় ১টা নাগাদ একটি দোকানে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের একাধিক দোকানে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।
কী কারণে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে দমকল ও পুলিশ। গভীর রাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়ায়।


 এরপর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ভারতে অবশেষে পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা হলে ফিকে হয়ে যায় এই ২৬ জানুয়ারি দিনটি। তখন ২৬ জানুয়ারিকে বাঁচিয়ে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নেয় গণপরিষদ। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, ভারতের সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর গঠিত হয় গণপরিষদ


নভেম্বরে তৈরি হয়ে গিয়েছিল সংবিধান, তাও কার্যকর করতে দেরি হয়েছিল কেন?
ভারতের সংবিধান

১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর তৈরি হয়ে গিয়েছিল ভারতের সংবিধান। কিন্তু তা কার্যকর করতে এতটা সময় কেন লেগেছিল? কেনই বা দু’মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল গণপরিষদকে? সোমবার ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করছে ভারতবর্ষ। দিল্লির কর্তব্যপথ থেকে বাংলার রেড রোড। আয়োজন হয়েছে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। আর সেই দিনেই আবার ফিরে এল এই দু’মাসের বিরতির প্রশ্ন।


এই দু’মাসের বিরতির সঙ্গে যোগ রয়েছে ভারতের পূর্ণ স্বরাজের। ব্রিটিশ শাসনকালে নিজস্ব সংবিধান তৈরির দাবি মাথা চাড়া দিয়েছিল সেই ১৯ শতকের শেষের দিকে। যা বাস্তবিক রূপ পেয়েছিল স্বাধীনতা ঘোষণার পর। তবে এর আগেও একটি ঘটনা ঘটেছিল। ১৯২৯ সালে লাহোর অধিবেশনে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ‘পূর্ণ স্বরাজ’-এর দাবি তুলেছিলেন। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে ‘প্রথম স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে পালন করা হয়েছিল।


গিয়েছিলেন পিকনিকে, জলজ্যান্ত সেই ছেলেগুলোই এখন 'শেষ'
স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দেখা কি অশুভ?শাস্ত্র যা বলছে তা অবাক করার মতো
এরপর ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট ভারতে অবশেষে পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা হলে ফিকে হয়ে যায় এই ২৬ জানুয়ারি দিনটি। তখন ২৬ জানুয়ারিকে বাঁচিয়ে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নেয় গণপরিষদ। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা প্রয়োজন, ভারতের সংবিধান তৈরির জন্য ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর গঠিত হয় গণপরিষদ। এই পরিষদের প্রথম অস্থায়ী সভাপতি ছিলেন সচ্চিদানন্দ সিনহা। পরবর্তীতে রাজেন্দ্র প্রসাদকে স্থায়ী সভাপতি করা হয়।

এই গণপরিষদের হাত ধরে রূপ পেয়েছিল ভারতের সংবিধান। বিআর অম্বেদকর নেতৃত্বাধীন সাত সদস্য়ের খসড়া কমিটি তৈরি করেছিল ভারতের সংবিধানকে। দু’বছরের অধিক সময় নিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর সেই সংবিধান তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর দু’মাস পর। ঐতিহাসিকরা বলেন, এই সময় ভারতের স্বরাজ অর্জনের দিনকে চিরকাল টিকিয়ে রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পূর্ণ স্বরাজের দিন অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি ধার্য হয় সংবিধান কার্যকরের জন্য। যেহেতু একটি দেশের দু’টি স্বাধীনতা দিবস হতে পারে না, তাই সেই কথাকে মাথায় রেখেই ২৬ জানুয়ারি হয়ে যায় প্রজাতন্ত্র দিবস। যে দিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের গণতন্ত্র।
 এরপরই অবশ্য শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, "রাজ্যের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটার পর একটা স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে ফাইল ছিনতাই করছেন, সেই রাজ্যে গণতন্ত্র কি অবশিষ্ট রয়েছে? আমাদের এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের কাছে। একইসঙ্গে এই প্রশ্ন রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির কাছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি আক্রান্ত হচ্ছে। রাজ্যে আদৌ সংবিধান রয়েছে কি না, রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি দেখুন।" 


বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে কথা বলছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? সতর্ক করলেন শমীক
শমীক ভট্টাচার্য (বাঁদিকে), অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (ডানদিকে)

বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে গিয়ে কি কথা বলছেন প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? বিজেপি নেতারা এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, তৃণমূলের শাসনে রাজ্যে মহাজঙ্গলরাজ চলছে। আর একধাপ এগিয়ে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পক্ষে সওয়াল করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু, তাঁর এই মন্তব্যেই ঘোর আপত্তি বঙ্গ বিজেপির। প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে স্বয়ং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলে দিলেন, বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে গিয়ে কথা বলছেন তমলুকের সাংসদ।


রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনও বাকি নেই। নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন নেতারা। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল হারবেই বলে দাবি বঙ্গ বিজেপির। কথায় কথায় তৃণমূলের দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া নিয়ে তোপ দাগছেন বিজেপি নেতারা। এরইমধ্যে গতকাল অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আমার মনে হয় এই সরকারের আর একদিনও ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। যদিও আইনগতভাবে তারা রয়ে যাচ্ছে। আশা করি এর মধ্যেই কিছু কেলেঙ্কারি ফাঁস হবে। তখন আবার একটা জোরদার আওয়াজ উঠবে। আমার মতে কয়েকদিনের মধ্যে এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে, ৭২ ঘণ্টা বনধ ডাকা উচিত। যতক্ষণ না মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, যতক্ষণ না রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলা উচিত।”



অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যখন রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা বলছেন, তখন প্রজাতন্ত্র দিবসের এক অনুষ্ঠানে এদিন শমীক বলেন, “অনেকে আসছেন। আমাদের বলছেন, কিছু তো করুন। আপনাদের এত কর্মী খুন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, বিশ্বাস করুন, আমরা দলগতভাবে কোনও নির্বাচিত সরকারকে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করে ফেলে দেওয়ার পক্ষে নই। একাজ আমরা কোনওদিন করিনি। কংগ্রেস কিন্তু, একাধিক জায়গায় সরকার ফেলে দিয়েছিল। দিনের পর দিন ৩৫৬ ধারাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেস বুলডোজার চালিয়েছে।”


এরপরই অবশ্য তাঁর বক্তব্য, “রাজ্যের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটার পর একটা স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে ফাইল ছিনতাই করছেন, সেই রাজ্যে গণতন্ত্র কি অবশিষ্ট রয়েছে? আমাদের এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের কাছে। একইসঙ্গে এই প্রশ্ন রাজ্যপাল ও রাষ্ট্রপতির কাছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি আক্রান্ত হচ্ছে। রাজ্যে আদৌ সংবিধান রয়েছে কি না, রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি দেখুন।” 
 ভোট এলেই বাংলায় বারবার ফিরে ফিরে এসেছে থার্ড ফ্রন্টের ছবিটা। লড়াইয়ে থেকে বাম কংগ্রেস। একুশের বিধানসভায় বাংলা দেখেছে বাম কংগ্রেস আইএসএফের সংযুক্ত মোর্চা। কিন্তু এবার ছাব্বিশের ভোটে কী ফের সেই জোটের ছবি দেখা যাবে? জল কোন দিকে গড়াচ্ছে? চলুন একবার ৩৬০ ডিগ্রি অ্য়াঙ্গেলে ঘুরে দেখি কী বলছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে ফুরফুরা শরিফ।

এবার কি একলা হাঁটবে সিপিএম?
চাপানউতোর রাজনৈতিক মহলে



তৃণমূল বনাম বিজেপি– লড়াইটা যে মূলত দ্বিমুখী সেটা স্পষ্ট হতে আর কিছুই বাকি নেই। এগারোর আগেও বাংলা দেখেছিল সেই দ্বিমুখী লড়াইয়ের ছবিটাই। এগারোর পরিবর্তনের পর বাংলার মসনদে বসেছে তৃণমূল। তখন বিরোধীদের আসনে বামেরা। যদিও ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকে অঙ্কটা ধীরে ধীরে বদলে যায়। তারপর শুধুই গেরুয়া উত্থান। ২০১৯ এর লোকসভা থেকে ছবিটা একেবারে জলের মতো স্পষ্ট। কিন্তু ভোট এলেই বাংলায় বারবার ফিরে ফিরে এসেছে থার্ড ফ্রন্টের ছবিটা। লড়াইয়ে থেকে বাম কংগ্রেস। একুশের বিধানসভায় বাংলা দেখেছে বাম কংগ্রেস আইএসএফের সংযুক্ত মোর্চা। কিন্তু এবার ছাব্বিশের ভোটে কী ফের সেই জোটের ছবি দেখা যাবে? জল কোন দিকে গড়াচ্ছে? চলুন একবার ৩৬০ ডিগ্রি অ্য়াঙ্গেলে ঘুরে দেখি কী বলছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে ফুরফুরা শরিফ। 


পদ্ম পাতায় জল 


বরানগর থেকে কল্যাণীতে পিকনিক করতে গিয়ে বাবা-মায়ের সামনেই শেষ শিশু
'পিস পিস করে কেটে পুড়িয়ে দেব', মহিলাকে হুমকি তৃণমূল নেতার
এসআইআর শেষ হতে আর মাত্র কটা দিন। তারপরেই ভোট ঘোষণা! এরইমধ্যে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর সঙ্গে মাসখানেক আগে প্রাথমিক আলোচনা করেছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। কোথায় কোথায় তাঁরা দাঁড়াতে চান মানে তাঁদের প্রার্থী দিতে চান তার এক খসড়া লিস্টও জমা দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। কংগ্রেসের কাছেও সেই লিস্ট পৌঁছেছিল। কিন্তু তারপর? তার আর পর নেই। মানে এই মুহূর্তে যা খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে জোটের ভবিষ্যৎ যেন ওই পদ্ম পাতায় জলের মতো। টলমল টলমল করছে। নওশাদ থেকে বিমান বসু, সবাই বলছেন জোট চাই, আলোচনা চলছে। কিন্তু করবে কে?


বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলছেন, আলোচনা চলছে। বাইরে বলার মতো কোনও অবস্থা তৈরি হয়নি বলে বাইরে কিছু বলছি না। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলছেন, কংগ্রেস সিপিএম-কে তো আমরা আনুষ্ঠানিক বার্তা অনেক আগেই দিয়েছি। 

‘একলা চলোর’ পক্ষে কংগ্রেস? 

আমরা যদি একুশের বিধানসভা ভোটের দিকে একবার নজর ঘোরাই তাহলে দেখব সেইবার জোট করতে অনেক বেশি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। তারপর গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। হাতের হাত ধরে বিধানসভায় খাতাই খুলতে পারেনি বামেরা। তৃণমূলের ধাক্কায় হাতের হাতেও ফোস্কা। উল্টে ভাঙড় জিতে কোনওমতে মুখ রক্ষা করেছিলেন বাম-কংগ্রেসের সবেধন নীলমনি নওশাদ সিদ্দিকী। এখন আবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বে শুভঙ্কর সরকার। সূত্র মারফত যা খবর পাওয়া যাচ্ছে শুভঙ্কর শিবির সওয়াল করছে একলা চলো নীতির পক্ষেই। অর্থাৎ, জোটা তাঁরা নিমরাজি। অন্যদিকে অধীর শিবির চাইছে জোট হোক। ও, এর মধ্যে একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? কিছুদিন আগে মৌসম বেনজির নুরের যখন কংগ্রেসে ঘরওয়াপসি হল তখন তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল গোলাম মীর, জয়রাম রশেমদের। ছিলেন শুভঙ্করও। তাঁদের বাংলায় জোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁদের একটা কথা ছিল ‘আমরা এখন নিজেদের উদ্বুদ্ধ করতে চাইছি’। ওদের ভাবগতিক দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তো বলতে শুরু করেছিলেন কংগ্রেস এখন অন্যের ঘর ভেঙে নিজেদের ঘর গোছাতে অনেক বেশি তৎপর। উল্টে কংগ্রেস নেতারা নির্বাচন পরবর্তী জোটের দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ভোটের পর কার কেমন ক্ষমতা সেই বুঝে একসঙ্গে চলা, কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে কিন্তু অধীর চৌধুরীকে দেখা যায়নি। দলীয় সূত্রে খবর, তিনি অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। 

অর্থাৎ কংগ্রেস এখন কী করবে তা এখনও খুব একটা স্পষ্ট নয়। চাপানউতোর পুরোদমে চলছে দলের অন্দরে। অন্যদিকে আলোচনার রাস্তাও যে পুরোমাত্রায় খোলা আছে তা নেতাদের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে। কংগ্রেস মুখপাত্র সৌম্য আইচ বলছেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত উপরে যায়। সেখান থেকেই সিলমোহর আসে। আমাদের সিদ্ধান্ত এখান থেকে হয় না। আমাদের আলোচনা চলছে। কারণ আমরা এখান থেকে কিছু সিদ্ধান্ত নিই না। জোট হবে কী হবে না সেটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি।” 

একে লড়ে লাভ নেই আইএসএফের? 

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন আগেরবারের ভোটে আইএসএফের জন্য মাঠ অনেকটাই খোলা ছিল। কিন্তু এবার যেন খেলাটা অনেকটাই আলাদা। একা লড়লে মুসলিম ভোট টানতে অনেকটাই বেকায়দায় পড়তে হতে পারে নওশাদদের। পকেটে পকেটে বাম-কংগ্রেসের যে মুসলিম ভোট ব্যঙ্ক রয়েছে সেটা অনেকটাই আসে আইএসএফের খাতায়। কিন্তু একা লড়লে সেই অঙ্ক অনেকটাই ঘেঁটে যেতে পারে। তার উপর এবার এবার হুমায়ুন কবীর নতুন দল খুলে মাঠে নেমেছেন। মুসলিম অধিকার রক্ষার দায়িত্ব এক্কেবারে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে জোট নিয়েও বামেরাও এখনও দোলাচলে। আর সব অঙ্ক বুঝেই নওশাদরা মনে হয় বারবার জোটের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন। নওশাদ যেমন বলছেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। দ্রুততার সঙ্গে এই জোট প্রক্রিয়াকে এই মাসের মধ্যে যাতে শেষ করা যায় সেই চেষ্টা করব। বামেদের উগ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছেন, আমরা ফিডব্যাক নিই মানুষের কাছ থেকে। তাঁরা কী চাইছে বোঝার চেষ্টা করি। সেই অনুযায়ী কাজ করি। 

একটা জিনিস মনে হয় আপনাদের মনে আছে, চব্বিশের লোকসভা ভোটেও বামেদের সঙ্গে আইএসএফের জোট নিয়ে জোরদার তরজা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর আসন সমঝোতা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গিয়েছিল। নওশাদ এখন যদিও বারবার বলছেন ৩০ জানুয়ারির ডেডলাইনের কথা। জোট হবে কি না জানা নেই, তার আগে জানুয়ারি ডেডলাইন কি বামের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল ISF-র? নওশাদ বলছেন, বামেদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করতে চাইছে তাঁদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বামেদের উদ্যোগ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। 

মহম্মদ সেলিম বল ঠেলছেন কংগ্রেসের কোর্টে। তিনি বলছেন, কংগ্রেসকে ঠিক করতে হবে। এখনও ওরা কিছু ঠিক করেনি। কংগ্রেসের সমর্থকরা চায়, জেলা স্তরের নেতারা চায় জোট হোক। কিন্তু উপরতলাকে ঠিক করতে হবে। 

শূন্যের শাপ ঘুচবে বামেদের? 

গত দুবারের লোকসভা নির্বাচন হোক কি বিধানসভা নির্বাচন, খাতা খুলতে পারেনি বামেরা। এ রাজ্যে ক্রমেই ফিকে হয়েছে লাল। শিবরাত্রির সলতে হয়ে জ্বলছে শুধুমাত্র তাহেরপুর পুরসভা। এখন শূন্য মুছতে মরিয়া বামফ্রন্ট আবার খানিক নিজের শক্তি বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। শরীক দলগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে বৈঠক করছে সিপিএম। জেলায় জেলায় নিজেদের ভোটব্যাঙ্কের সমীক্ষা চালিয়ে নিজেদের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করেছে সিপিএম। সূত্রের খবর, খাতা খুলতে প্রবল সম্ভাবনাময় আসনগুলোতে হেভিওয়েট প্রার্থী দেওয়ার অঙ্ক কষছে আলিমুদ্দিন। অর্থাৎ, যাঁরা দলের অত্যন্ত পরিচিত মুখ তাঁদেরকেই শক্তিশালী আসনগুলিতে দাঁড় করিয়ে এনে জয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা। অর্থাৎ যে করেই হোক শূন্যের শাপ ঘোচাতে মুখিয়ে রয়েছে বিমান ব্রিগেড। আলিমুদ্দিনে প্রায় রোজই চলছে বৈঠক। 

বামেদের তরুণ নেতাদের পরিচিত মুখ হিসাবে বরাবরই উঠে আসে মীনাক্ষী মুখার্জি, দীপ্সিতা ধর, সৃজন ভট্টাচার্য, শতরূপ ঘোষ, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়দের নাম। অন্যদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীরাও হেভিওয়েট নাম। সূত্রের খবর, এঁদের দিয়েই শূন্য মোছার প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু বামেদের অন্দরমহলে। ২০২১ বিধানসভায় চারটে আসনে দ্বিতীয় হয়েছিল সিপিএম। বাকি আসনগুলিতে তৃতীয়। ভগবানগোলা এসেছিল ২১.১৫ শতাংশ ভোট। ডোমকলে ৩৫.৫৭ শতাংশ ভোট। জলঙ্গিতে ২০.০৬ শতাংশ ভোট। যাদবপুরে ২৭.৫ শতাংশ ভোট। এছাড়াও আলাদা করে বালি, উত্তরপাড়া, দমদম উত্তর, রানিনগরের মতো আসনগুলিতে জোর দিচ্ছে সিপিএম। জোর দেওয়া হচ্ছে মানিকচক, হরিশচন্দ্রপুর, পাণ্ডুয়া, কামারহাটিতেও। সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ স্পষ্টতই বলছেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন সংখ্যক বিধায়ক নিয়ে বিধানসভায় যাওয়া যাতে সামনের ৫ বছর আমাদের বাদ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে সরকার চলতে না পারে।” 

ছাব্বিশের মহাযুদ্ধে জোট, সমঝোতা, কথা চালাচালি এই দলগুলিকে ঘিরেই। কিন্তু দল গঠনের পর থেকেই হুমায়ুন জোটের জন্য নিয়মিত বার্তা দিচ্ছেন। কখনও সংবাদমাধ্যমের সামনে। কখনও নেতার বাড়ি গিয়ে। ঘুরে এসেছেন ফুরফুরা শরিফ থেকেও। তবে নওশাদ বা আব্বাস কারও দেখাই পাননি।

হুমায়ুনের ‘ডেডলাইন’ 

JUP মানে জাপের সঙ্গে জোটের জন্য ভরতপুরের বিধায়কের আহ্বানকে পত্রপাঠ খারিজ না করলেও, তার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ বাম নেতা। জাপের সঙ্গে জোটের বিষয় নাকি বামফ্রন্টের আলোচনাতেই আসেনি! কিন্তু, জোটের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন হুমায়ুন। প্রায় একই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন নওশাদও। হুমায়ুন বলছেন ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত কংগ্রেস, আইএসএফ, বাম, মিম সবার জন্য দরজা খোলা।  

এদিকে জাপ, আইএসএফের বাইরে, বিহারের সীমাঞ্চলে ফের সাফল্য পাওয়া আরও একটা দল ভোটমুখী বাংলায় জোটচর্চায়। তা হল মিম। মিমের দাবি তাঁরা নাকি জোটের বিষয়ে বামেদের সঙ্গে কথা বলে তেমন সাড়া পায়নি। তা মানছেন না সেলিম। ভাব বুঝে মিম বলছে, হুমায়ুনই তাদের বন্ধু! এদিকে অন্য় একাধিক রাজ্যের ভোট সমীকরণে নজর দিলে দেখা যাবে পকেট ভোটের খেলায় বারবারই সিদ্ধহস্ত মিম। একবার যে আসনে পা রেখেছে জিতে এসেছে সেখানে অন্যদের নাক গলানো বড্ড কঠিন হয়ে যায়। যে হুমায়ুনকে নিয়ে এত গদগদ মিম, সেই হুমায়ুনই আবার বলছেন বিজেপির সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী হতে আপত্তি নেই। এবার বিজেপির ছাপ মারা হুমায়ুনকে নিয়ে চললে চাপে পড়বে না তো বামেরা? অস্বস্তি বাড়বে না তো? প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। 

এদিকে জোট নিয়ে জাপ, মিম, আইএসএফ, বামের এমন মতিগতি দেখে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ নয, যেন বিদ্রুপে ব্যস্ত জোড়াফুল ও পদ্মফুল। তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ যেমন হুমায়ুনের আইডেন্ডিটি পলিটিক্সের কথা মনে করাচ্ছেন বামেদের। অন্যদিকে শুভেন্দু আবার বামেদের বলছেন তৃণমূলের বি টিম। তাঁর সাফ কথা, সিপিএম তো হিন্দু পাড়ায় ভোট কাটে। একই সুর সজল ঘোষ, শঙ্কর ঘোষদের গলাতেও। তাহলে তৃণমূল বিজেপির কথায় কি কান দেবেন বিমান-নওশাদ-হুমায়ুনরা? নাকি জোটের রাস্তায় হাঁটবেন? আর জোট যদি হয় তাহলে কবে? ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে নাকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুটের আওয়াজ শোনা গেলে? প্রশ্ন ঘুরলেও এখনও উত্তর নেই।

পরিত্যক্ত ওয়ারহাউস থেকে ৯ হাজার ৫৫০ কেজি অ্য়ামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করা হয়। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের পাশাপাশি পুলিশ নয় কার্টুন ডিটোনিটর, ১২ কার্টুন নীল তার ও ৫ বান্ডিল লাল তার উদ্ধার হয়েছে। এগুলি বিস্ফোরক তৈরিতেই ব্যবহার করা হত বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান।

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই ১০ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার, কোন ভয়ঙ্কর প্ল্যান ছিল?
উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক।

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার। প্রায় ১০ হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয় একটি পরিত্যক্ত ওয়ারহাউস থেকে। কোথা থেকে এল এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক? কী-ই বা উদ্দেশ্য ছিল? বড়সড় কোনও নাশকতার ছক ছিল কী? একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।


জানা গিয়েছে, ২৪ জানুয়ারি, শনিবার রাতে রাজস্থানের নাগৌর জেলায় হারসৌর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত ওয়ারহাউস থেকে ৯ হাজার ৫৫০ কেজি অ্য়ামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করা হয়। মোট ১৮৭টি বস্তায় এই বিস্ফোরক ভরা ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই অভিযান চালায় পুলিশ। সুলেমান খান নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগে তিনটি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।


কলেজের ছেলেদের মারামারি, মধ্য রাতে ছুটে আসতে হল রত্নাকে
প্রসঙ্গত, এর আগে একাধিক বিস্ফোরণে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছিল। সম্প্রতি গত নভেম্বর মাসে লালকেল্লার কাছে যে বিস্ফোরণ হয়েছিল গাড়িতে, সেখানেও অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটই ব্যবহার করা হয়েছিল।

অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের পাশাপাশি পুলিশ নয় কার্টুন ডিটোনিটর, ১২ কার্টুন নীল তার ও ৫ বান্ডিল লাল তার উদ্ধার হয়েছে। এগুলি বিস্ফোরক তৈরিতেই ব্যবহার করা হত বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান।

তবে অভিযুক্ত জেরায় জানিয়েছে, রাজস্থানে বেআইনি খননের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদেরই এই বিস্ফোরক সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল।

গঙ্গোত্রী কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ ও মুখবা, যেখানে শীতকালে মা গঙ্গাকে এনে রাখা হয়, সেখানে অ-হিন্দুদের ঢোকা নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রী গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান সুরেশ সেমওয়ালও জানিয়েছেন যে তিন ধাম ও মুখবা-তে অ-হিন্দুদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।   

 কেদারনাথ-বদ্রীনাথ-গঙ্গোত্রীতে ঢুকতে পারবেন না অ-হিন্দুরা, সিদ্ধান্ত মন্দির কমিটির
কেদারনাথ, বদ্রীনাথ ও গঙ্গোত্রীতে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ।

দেবভূমিতে ফতোয়া। উত্তরাখণ্ডের গঙ্গোত্রীতে ঢুকতে পারবেন না কোনও অ-হিন্দু ব্যক্তি। কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ মন্দিরেও ঢুকতে পারবেন না কোনও অ-হিন্দু ব্যক্তি। রবিবার, ২৫ জানুয়ারি শ্রী গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটির তরফে সর্বসম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


গঙ্গোত্রী কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ ও মুখবা, যেখানে শীতকালে মা গঙ্গাকে এনে রাখা হয়, সেখানে অ-হিন্দুদের ঢোকা নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। শ্রী গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান সুরেশ সেমওয়ালও জানিয়েছেন যে তিন ধাম ও মুখবা-তে অ-হিন্দুদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হবে।



ঘুমালেও ক্লান্ত লাগে কেন? জানাচ্ছেন চিকিৎসক, লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর কারণ
বিজেপি নেতা তথা বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী জানিয়েছেন, আগামী বোর্ড মিটিংয়ে অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ করার প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, উত্তরাখণ্ডের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সর্বোত্তম। আগে কেদারনাথ ও মানা অঞ্চলের সমস্ত মন্দিরে কেবলমাত্র হিন্দুদেরই প্রবেশের অধিকার ছিল। যখন বিজেপি সরকার ছিল না, তখন এই সমস্ত ঐতিহ্য প্রথাকে অমান্য করা হয়। এবার এই নিয়ম মানতে কড়া ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী রাজ্যজুড়ে সমস্ত বেআইনি মন্দির সরানোর নির্দেশ দেন।

বিডিও দ্বারা নিযুক্ত সেই 'অতিরিক্ত এইআরও'দের সমস্ত প্রকারের কর্মকাণ্ড এবং সিদ্ধান্ত — যা তাঁরা এতদিন নিয়েছেন, সেগুলিকেও 'বাতিল' করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে সিইও দফতর ও মুখ্যসচিবের কাছেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্য়ে রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।

বাংলার SIR-এও 'ক্ষমতা বহির্ভূত নিয়োগ', কড়া পদক্ষেপ কমিশনের
বাঁদিকে নবান্ন, ডানদিকে নির্বাচন কমিশন

বাংলার ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন পর্বে বিতর্ক সেই নিয়োগ ঘিরে। যা নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। এবার সেই ‘বেআইনি নিয়োগের’ বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনস্থ বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও তথা AERO সুমিত প্রতিম প্রধানকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। পাশাপাশি, তাঁকে সমস্ত রকমের ভোটার পরিমার্জন সংক্রান্ত কাজ থেকেও অব্যাহতি দিয়েছে কমিশন।


রবিবার এই ‘অনিয়ম’ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী ভট্টাচার্যকে চিঠি পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই চিঠিতে অভিযুক্ত বিডিও তথা এইআরও-র বিরুদ্ধে ১১ জন ‘অতিরিক্ত এইআরও’-র বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ তুলল তারা। নির্বাচন কমিশনের মতে, তাঁর এমন নিয়োগের কোনও ক্ষমতাই নেই। তারপরেও অভিযুক্ত বিডিও ‘স্বতঃপ্রণোদিত’ নোটিস জারি করে শুনানি পর্ব পরিচালনা করছিলেন।



জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছে, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০এর ১৩সি ধারার সম্পূর্ণ ভাবে লঙ্ঘন করেছেন বিডিও সুমিত প্রতিম প্রধান। ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এই নিয়োগকে ‘অনিয়ম’ বলেই দাগিয়েছে তারা। এমনকি বিডিও দ্বারা নিযুক্ত সেই ‘অতিরিক্ত এইআরও’দের সমস্ত প্রকারের কর্মকাণ্ড এবং সিদ্ধান্ত — যা তাঁরা এতদিন নিয়েছেন, সেগুলিকেও ‘বাতিল’ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে সিইও দফতর ও মুখ্যসচিবের কাছেও ৪৮ ঘণ্টার মধ্য়ে রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।

কমিশনের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন বিজেপি সজল ঘোষ। এদিন টিভি৯ বাংলাকে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠ ভাবে এসআইআর করার জন্য এই প্রথম কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। সব কিছু সুষ্ঠভাবে করতে গেলে কঠিন হওয়া প্রয়োজন। এটা সেই কঠিনতার প্রথম ধাপ। এবার দেখার বিষয় রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ করে। ‘



স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অন্ততপক্ষে ভিতরে ৩০ জন আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কাল ধোঁয়ায় ঢেকেছে এলাকা, নাক ঝাঝিয়ে দেওয়া পোড়া গন্ধ, কঙ্কালসার কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, এক রাশ উৎকন্ঠা নিয়ে নিখোঁজদের পরিজনদের ভিড়- আনন্দপুরে ফিরল বাগরি-নন্দরাম মার্কেটের ছবি!

আনন্দপুরে ফিরল বড়বাজারের স্মৃতি! শেষ ১৮ বছরে জতুগৃহ কলকাতায় প্রাণ হারিয়েছেন ক'জন?
জতুগৃহ কলকাতা!


ভোর রাত থেকে জ্বলছে আনন্দপুরের মোমো কারখানা। সোমবার বেলা ২ টো পর্যন্তও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দমকল আধিকারিকরাই বলছেন, ভিতরে আরও তিন জায়গায় পকেট ফায়ার দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা। আগুনে ঝলসে ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃ্ত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজের সংখ্যা বাড়ছে ক্রমেই। এখনও পর্যন্ত ১৬ জন নিখোঁজের নাম নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অন্ততপক্ষে ভিতরে ৩০ জন আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কাল ধোঁয়ায় ঢেকেছে এলাকা, নাক ঝাঝিয়ে দেওয়া পোড়া গন্ধ, কঙ্কালসার কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, এক রাশ উৎকন্ঠা নিয়ে নিখোঁজদের পরিজনদের ভিড়- আনন্দপুরে ফিরল বাগরি-নন্দরাম মার্কেটের ছবি!


২০০৮ সালের পর শেষ কয়েক বছরের কলকাতা বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী!


কলেজের ছেলেদের মারামারি, মধ্য রাতে ছুটে আসতে হল রত্নাকে
Survey Park: ফেসিয়াল করাতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখে সাইকোলজির অধ্যাপক, গায়ে কাঁটা দেবে আপনার...
১২ জানুয়ারি, ২০০৮ সাল


বড়বাজারের নন্দরাম মার্কেটে বিধ্বংসী আগুন

ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় বাড়ির সাতটি , পুড়ে ছাই হয়ে যায় হাজারেও বেশি দোকান।

১৬ অগস্ট, ২০০৮

সোদপুর রেডিমেড গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড। প্রায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন শ্রমিক, বেশ কয়েকজন দোকানের ক্রেতাও ছিলেন।

২৩ মার্চ, ২০১০

স্টিফেন কোর্টে ভয়াবহ আগুন লাগে। বেরোতে না পেরে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৪৩ জনের।

৯ ডিসেম্বর, ২০১১

দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ায় আমরি হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড। ৯০ জনেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সূর্য সেন স্ট্রিট (নন্দরাম মার্কেট) আগুন। ১৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। মার্কেটের গুদামে শর্ট সার্কিটের জেরে আগুন লাগে বলে দমকল জানায়।

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

বাগরি মার্কেটে চার দিন ধরে চলে ভয়াবহ আগুন, প্রায় ১০০০টি দোকান পুড়ে ছাই।

২৯ এপ্রিল, ২০২৫

বড়বাজার (মেছুয়া বাজার)-এ একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন লেগে কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে শিশুও ছিল। প্রায় ৫০ জন অতিথি ভবনে ছিলেন, বহু লোক ধোঁয়ায় আটকা পড়ে, সেখানে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু।

রবিবার বনগাঁ নয়াগ্রামে একটি অনুষ্ঠান ছিল মিমি চক্রবর্তীর। উদ্যোক্তা নয়াগোপাল গুঞ্জ যুবক সঙ্ঘ ক্লাব। স্টেজে উঠেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মাঝেই তনয় শাস্ত্রী নামে এক ব্যক্তি স্টেজে উঠে পড়েন। মিমির গানের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মিমিকে তিনি স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলেন।


মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, আয়োজক বললেন, 'রাত ১২ টা পর্যন্ত সময় ছিল'
বাঁদিকে ঘটনার মুহূর্তের ছবি!

 লগ্নজিতা, স্নিগ্ধজিৎ, এবার মিমি! এবার স্টেজে লাইভ পারফরম্যান্সের মাঝেই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে হেনস্থার অভিযোগ। স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলা হল তাঁকে। অভিযোগ, এক উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে, যিনি পেশায় একজন জ্যোতিষী।

রবিবার বনগাঁর নয়াগ্রামে একটি অনুষ্ঠান ছিল মিমি চক্রবর্তীর। উদ্যোক্তা নয়াগোপাল গুঞ্জ যুবক সঙ্ঘ ক্লাব। রাত পৌনে বারোটায় স্টেজে উঠেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিযোগ, অনুষ্ঠানের মাঝেই তনয় শাস্ত্রী নামে এক ব্যক্তি স্টেজে উঠে পড়েন। মিমির গানের মাঝে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মিমিকে তিনি স্টেজ থেকে নেমে যেতে বলেন। তাতে অপমানিত বোধ করেন মিমি। অভিযুক্ত তনয় শাস্ত্রী ক্লাবেরই কর্মকর্তা বলে জানা গিয়েছে। বনগাঁ থানায় এফআইআর দায়ের করেন মিমি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


ফেসিয়াল করাতে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার মুখে সাইকোলজির অধ্যাপক, গায়ে কাঁটা দেবে আপনার...
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ বছর ধরে ধর্ষণ পরিচারিকাকে, গ্রেফতার ‘ধুরন্ধর’ অভিনেতা
ঠিক কী ঘটেছিল?


 প্রতিনিধি যোগাযোগ করেছিলেন মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে। মিমির কথায়, “আমি স্টেজে পারফর্ম করছিলেন, হঠাৎ তিনি এসে বলেন, আপনি চলে যান। আমি প্রথমে বুঝতেই পারিনি, উনি আমাকে বলছিলেন। আমি ওনার দিকে তাকাই, উনি আবারও বলেন, হ্যাঁ, আপনি চলে যান। নেমে যান স্টেজ থেকে। আমি তখন সবে পারফর্ম করা শুরু করেছিলাম, তখনই এসে বলে। আমি বেরিয়ে থানার আইসি-কে ফোন করি। এফআইআর করা হয়।”

মিমির প্রতিক্রিয়া

ফোনে মিমি বলেন, “আমার কেরিয়ারে এটা প্রথমবার হল। এতটা ঔদ্ধত্য আমি আমার কেরিয়ারে কোনও কর্মকর্তার মধ্যে দেখিনি। একজন শিল্পী যখন আজকাল স্টেজে ওঠেন, তখন মানুষ ভাবতে শুরু করেছেন, সেই শিল্পী তাঁর প্রপার্টি হয়ে গিয়েছেন। চুপ করে থাকার প্রশ্নই নেই।” তাঁর বক্তব্য, তিনি যদি এই পদক্ষেপ না করতেন, তাহলে তাঁদের মতো বাকি কর্মকর্তারাও একই ধরনের আচরণ করতে পারেন। মিমির বার্তা, “আমি যদি এটা ফেস করতে পারি, অন্য কোনও মেয়ে যদি শো করতে যান, তাহলে একটু সচেতন হন।”

ক্লাবের কর্মকর্তার বক্তব্য

তবে আয়োজক সংস্থার বক্তব্য, নির্ধারিত সূচির ১ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠান। আর সেই কারণেই শিল্পীকে নামতে বলা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের আয়োজক অজয় বণিক বলেন, “আমরা আসলে প্রশাসন থেকে সময় পেয়েছিলাম ১২ টা পর্যন্ত। ম্যাডাম এসেছেন, সাড়ে ১১টায়, স্টেজে উঠেছিলেন পৌনে ১২টায়। আমাদের যেহেতু ১২ টা পর্যন্ত সময় ছিল, তাই বলতে হয়েছে। পাড়ায় কমপ্লেন যেতে পারত। ম্যাডাম প্রোগ্রাম করেছেন, সময় কমেছে।” মিমিকে বলা অভিযুক্তের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, “উনি যদি বলে থাকেন, সেটা ঠিক নয়। আমি পাশেই ছিলাম। তবে হয়তো উনি ওভাবে বলতে চাননি। তবে অত বড় একজন শিল্পী, ব্যক্তিত্ব, ওঁর খারাপ লাগতেই পারে। অসম্মানজনক হতেই পারে। তবে আমার মনে হয় না ওরকম কিছু হয়েছে। তবে যাই হয়েছে, আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্ষমাপ্রার্থী।”

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই পূর্ব মেদিনীপুরে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী। অভিযুক্ত উদ্যোক্তাদেরই একজন, যিনি আবার এলাকার তৃণমূল নেতা। তারপর মেদিনীপুরে একইরকম ভাবে স্টেজে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধাক্কা মারার অভিযোগ ওঠে। স্টেজেই ফুঁসে উঠেছিলেন স্নিগ্ধজিৎ!




কলকাতা: বিধ্বস্ত আনন্দপুর, দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ১০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আনন্দপুরের ওই কারখানা। এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয়েছে তিন কর্মীর। নিখোঁজ ১৩ জন। এবার সেই আনন্দপুরেই পৌঁছলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস।

 ৩ দগ্ধ, ১৩ নিখোঁজ! জতুগৃহ কলকাতায় ১০ ঘণ্টা পর অকুস্থলে অরূপ, দেখা নেই সুজিতের
অকুস্থলে অরূপ বিশ্বাস


শুধুই হাহাকার, বিধ্বস্ত আনন্দপুর। দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ১০ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে জ্বলছে আনন্দপুরের ওই কারখানা। এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয়েছে তিন কর্মীর। নিখোঁজ ১৬ জন। এবার সেই আনন্দপুরেই পৌঁছলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু দেখা গেল না দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। কটাক্ষ করে রাজ্য়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘সরকার ছুটিতে গিয়েছে’।

সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছেই ওই জ্বলন্ত কারখানার পরিদর্শন করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তারপর সেখানে উপস্থিত ‘নিখোঁজ কর্মীদের’ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য নিতে দেখা যায় মন্ত্রীকে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘ধোঁয়াটা বের করতে হবে। এত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি, দু’টো গোডাউন। সেখানে এমন ভয়াবহ আগুন। আমি বলতে পারি, অনেকটা তাড়াতাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। কিন্তু ধোঁয়াটা বের করা কঠিন।’



বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে কথা বলছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? সতর্ক করলেন শমীক
কলকাতার বুকে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশ্ন ওই কারখানার অগ্নিনির্বাপক ব্য়বস্থা নিয়েও। সংশ্লিষ্ট কারখানা থেকে ড্রাম-ড্রাম পাম তেল উদ্ধার হয়েছে। দমকলবাহিনী মনে করছে, ওই পাম তেলের জেরেই কারখানা জুড়ে দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে লেলিহান শিখা। কিন্তু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্য়বস্থা থাকলে তা কি হত? এই প্রশ্ন করা হয়েছিল বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও। কিন্তু তিনি চটে গিয়ে উত্তর দেন, ‘এই প্রশ্ন কীভাবে করছেন? আমি কীভাবে এর উত্তর দেব? পুলিশ-প্রশাসন-দমকল ঢুকবে, তারপর তো উত্তর পাওয়া যাবে। এখনই বলে দিতে হবে কী ছিল, কী ছিল না? তা হলে তো আমাকেই তদন্তে নেমে পড়তে হবে।’

রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে আনন্দপুরের এই কারখানায়। সেই থেকে টানা ১০ ঘণ্টার উপর জ্বলছে কারখানাটি। ঘটনাস্থলে কাজ করছে ১২টি দমকলের ইঞ্জিন। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বেশ কয়েকটি জায়গায় বিচ্ছিন্ন ভাবে আগুন রয়েছে। কিন্তু বরাবর এই ধরনের ঘটনায় উদ্য়ত্ত হয়ে অকুস্থলে পৌঁছে যাওয়া দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে এবার দেখা যায়নি। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ টিভি৯ বাংলার তরফে দমকলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘দমকল কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।’ এই বলেই সার — বেলা গড়ালেও দেখা যায়নি তাঁকে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য়ের বিরোধী দলনেতা। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সরকার থাকলে তো আগুন নেভাবে। সরকার নেই, প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটি কাটাচ্ছে। সরকার না থাকলে যা হয়, তাই হচ্ছে।’


এদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সরব হয়েছেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের। সোমবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকের কিষান মান্ডি শুনানি কেন্দ্রে।

শুনানি ক্যাম্পে গিয়ে মাইক্রো-অবজারভারকে প্রাভাবিত করার অভিযোগ, কাঠগড়ায় তৃণমূল বিধায়ক
অভিযুক্ত বিধায়ক

এসআইআর (SIR) শুনানি ক্যাম্পে মাইক্রো অবজারভার ও বিএলওকে প্রাভাবিত করার অভিযোগ তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে। ঘটনায় জেলা নির্বাচনী অধিকারিকের কাছে মেল মারফত লিখিত অভিযোগ জানালেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। শুনানি কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক রেখা রায় রয়েছেন জানতে পেরেই সেখানে যান বিজেপি নেতৃত্বরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এমনকী, এ নিয়ে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। এদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সরব হয়েছেন। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের। সোমবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকের কিষান মান্ডি শুনানি কেন্দ্রে।


জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো সোমবারও স্থানীয় কিষাণমান্ডির ভোটার নিবিড় সহায়তা কেন্দ্রে শুনানি চলছিল। সেই ক্যাম্পের ঘরে সশরীরে হাজির হন এলাকার বিধায়িক তৃণমূলের রেখা রায় ও তাঁর অনুগামীরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে এসআইআর ক্যাম্পে ঘরের ভিতরে উপস্থিত থেকে অধিকারিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে বিজেপির অভিযোগ। এ নিয়ে, বিজেপি নেতা তাপস রায়ের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা প্রতিবাদ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যদিও, বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়িক। উল্টে রেখা রায় বলেন, “বিজেপি সাধারণ মানুষদের হেনস্থা করছে। শুনানি কেন্দ্রে কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে মাইক্রো অবজারভাররা রয়েছে। আমরাও জন প্রতিনিধি। তারা ঠিকমত কাজ করছেন কি না সেটাও তো আমাদের দেখা উচিত। বিজেপি যে অভিযোগ করছে তা মিথ্যে ভিত্তিহীন।”



বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে কথা বলছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? সতর্ক করলেন শমীক
প্রসঙ্গত, গত শনিবারই জেলার কুমারগঞ্জ ব্লক অফিসে শুনানি চলাকালীন এক মাইক্রো অবজারভাকে চড়, কিল ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় আক্রান্ত মাইক্রো অবজারভার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের কুশমণ্ডিতে বিএলও ও অবজারভারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল বিধায়িকার বিরুদ্ধে।

জেলা বিজেপি সম্পাদক তাপস রায় বলেন, “শুনানির সময় ঘরের ভিতর বসে থাকছে। আর তারপর তা প্রাভাবিত করছে। এই বিষয়টিই আমার চোখে পড়েছে। আমরা তো শুনানি কেন্দ্রের ভিতর বসে থাকছি না।” তৃণমূল বিধায়ক রেখা রায় বলেন, “আমাদের কাজ জনগণকে পরিষেবা দেওয়া। সেইটাই করছি। জনগণ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। আমরা সেইটাই দেখছি।”

কাউকে বলতে পারছে না, ‘স্বজন’-দের খোঁজে আনন্দপুরে অগ্নিদগ্ধ গুদামে দৌড়ে বেড়াচ্ছে সারমেয়

এখনও পর্যন্ত ৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২১ জন। নিখোঁজদের আত্মীয়রা ঘন ঘন গুদামঘরের সামনে ভিড় করছেন। যতটা যাওয়া সম্ভব, ততটা ভিতরে গিয়ে দেখছেন। এমনকি, পুলিশ-প্রশাসনের কাছে কাছে খোঁজ নিচ্ছেন। নিখোঁজ আত্মীয়দের নাম লেখাচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে ক্ষোভও উগরে দিচ্ছেন অনেকে।


কাউকে বলতে পারছে না, 'স্বজন'-দের খোঁজে আনন্দপুরে অগ্নিদগ্ধ গুদামে দৌড়ে বেড়াচ্ছে সারমেয়
বারবার গুদামের চারদিকে ঘুরেফিরে আসছে সারমেয়টি


আগুন লাগার পর কেটে গিয়েছে ১২ ঘণ্টার বেশি। নিখোঁজদের খোঁজে বারবার পুলিশ-প্রশাসনের কাছে ছুটে যাচ্ছেন পরিজনরা। কিন্তু, সে কাউকে কিছু বলতে পারছে না। তারও ‘স্বজন’-রা যে সেখানে থাকত। এখন কোথায় তারা? সবাই ঠিক রয়েছে তো? পুলিশ-প্রশাসনের কাছে গিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানাতে পারছে না সে। তাই, সকাল থেকে বারবার আনন্দপুরের অগ্নিদগ্ধ গুদামের চারপাশে দৌড়ে বেড়াচ্ছে একটি সারমেয়।   

আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ওই গুদামে রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আগুন লেগেছিল। গুদামটিতে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। ছিল ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। দমকল আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওই এলাকায় মোট দুটো সংস্থা ছিল। একটি মোমো কারখানা, আর তার পাশে ডেকরেটর্সের গোডাউন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, রবিবার রাতে ওই গোডাউনেই পিকনিক ছিল। ২০ জন তো বটেই, অন্ততপক্ষে ৩০ জনের মতো ভিতরে থাকার কথা।



এখনও পর্যন্ত ৩ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২১ জন। নিখোঁজদের আত্মীয়রা ঘন ঘন গুদামঘরের সামনে ভিড় করছেন। যতটা যাওয়া সম্ভব, ততটা ভিতরে গিয়ে দেখছেন। এমনকি, পুলিশ-প্রশাসনের কাছে কাছে খোঁজ নিচ্ছেন। নিখোঁজ আত্মীয়দের নাম লেখাচ্ছেন। দীর্ঘক্ষণ প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে ক্ষোভও উগরে দিচ্ছেন অনেকে। উদ্ধারকাজে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বাড়ছে নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের ক্ষোভ।

এরইমধ্যে ওই সারমেয়কে বারবার দেখা যাচ্ছে গুদামঘরের আশপাশে। সকাল থেকেই অনেকে বিষয়টি খেয়াল করেছেন। আর পাঁচজনের মতই মোমো ও ডেকরেটর্সের গুদামঘরে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু কেন? স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এখানে অনেক কুকুর ছিল। আর তাদেরই বোধ হয় খোঁজার চেষ্টা করছে ওই কুকুরটি। পুলিশের কাছে গিয়ে ‘স্বজনদের’ নাম লেখানোর উপায় নেই তার। তাই নিজেই খোঁজ চালাচ্ছে। সে কি খোঁজ পাবে অন্য সারমেয়দের? সেই আশাতেই সকাল থেকে অগ্নিদগ্ধ গুদামের আশপাশে দৌড়ে বেড়াচ্ছে সে।


আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই গুদামটিতে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। ছিল ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। দমকল আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওই এলাকায় মোট দুটো সংস্থা ছিল। একটি মোমো কারখানা, আর তার পাশে ডেকরেটর্সের গোডাউন-ওয়্যারহাউজ়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, রবিবার রাতে ওই গোডাউনেই পিকনিক ছিল। 


পুড়ে সব ছাই হয়ে গিয়েছে, মাথাগুলো পড়ে রয়েছে লাইন দিয়ে...', দেওয়াল ভেঙে বাঁচতে চেয়েছিলেন...আনন্দপুরের দগ্ধ গুদামে এখন চামড়া পোড়া গন্ধ
আনন্দপুরে কারখানায় আগুন

কেউ ভোর রাতেই স্বামীর ফোনটা পেয়েছিলেন, কেউ পাননি, লোকের মুখে খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন স্বামীর কর্মস্থলে। যতক্ষণে তাঁরা পৌঁছতে পারেন, ততক্ষণে স্বামীর ফোন বন্ধ! কোনওভাবেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তাঁদের সঙ্গে। চারদিকে পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া কালো কালো ছাই, কঙ্কাল বেরিয়ে আসা গোডাউন-কারখানার জিনিসপত্র, নাক ঝাঁঝিয়ে যাওয়া পোড়া গন্ধ, আর দমকল পুলিশ কর্মীদের ভিড়, পুলিশের ‘লাইন ডন্ট ক্রস’এর ফিতা! আর সেই ফিতের ওপারেই ওঁদের স্বজন! ১২ ঘণ্টা পেরিয়েছে। রাতে ১টায় আগুন লেগেছিল। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, সোমবার বেলা সাড়ে তিনটে নাগাদও সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

ভিতরে তিন জায়গায় তখন পকেট ফায়ার রয়েছে। আর যাঁরা ভিতরে ছিলেন, তাঁদের কোনও খোঁজ নেই। তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। আর ২০ জনের নাম নিখোঁজের তালিকায়! তাঁরা কি আদৌ জীবিত রয়েছেন? পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া, ঝলসে যাওয়া গোডাউনের মধ্যে হাতড়েও তাঁদের হদিশ মেলেনি! দমকলকর্মীরাও এখনও কোনও সদুত্তর দিতে পারছেন না, একরাশ উৎকন্ঠায় পরিজনরা। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বললেন, তা শিউরে ওঠার মতো।



আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই গুদামটিতে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। ছিল ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। দমকল আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ওই এলাকায় মোট দুটো সংস্থা ছিল। একটি মোমো কারখানা, আর তার পাশে ডেকরেটর্সের গোডাউন-ওয়্যারহাউজ়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, রবিবার রাতে ওই গোডাউনেই পিকনিক ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, ২০ জন তো বটেই, অন্ততপক্ষে ৩০ জনের মতো ভিতরে থাকার কথা! সেরকমই একজন সুব্রত খাঁড়া। তাঁর এক আত্মীয় ওই ডেকরেটর্সের গোডাউনে কাজ করেন। সুব্রত খাঁড়া বললেন, “আমি যেতে পারিনি। আমার সম্বন্ধী গিয়েছিল দেখতে। ভিতরে ঢুকে দেখে, পুড়ে সব ছাই হয়ে গিয়েছে। মাথাগুলো পড়ে রয়েছে লাইন দিয়ে। বলছে সবাই ৩০ জন ছিল ভিতরে। দমকল কর্মীদের আগে ওরা গিয়েছিল। ওরা তো এখানে কাজ করত, তাই রাস্তা চিনত। ওরাই পিছনের রাস্তা দিয়ে গিয়েছিল।”

যখন তিনি একথা বলছেন, তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এক দাদা! তাঁর ভাই, নাম পঙ্কজ হালদার। তিনি সেখানে কাজ করেন। রাতে ডিউটি ছিল। ভোর রাতে তাঁর ভাই নিজেই ফোন করে স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, আগুন লেগেছে… ফোন পেয়ে ভাই-বউকে নিয়ে চলে আসেন তিনি। কিন্তু ভাইয়ের কোনও খোঁজ নেই। বললেন, “বাইকটা বাইরে পড়ে রয়েছে। ভাই বৌমাকে ফোন করেছিল। এসে বাইকটা দেখতে পেলাম, ভাইকে এখনও দেখিনি। স্যরদের (দমকল আধিকারিক) জিজ্ঞাসা করলাম, বলছেন, কিছু জানাতে পারছি না এখনই।”

বাইরে তখন বছর পঁচিশ-তিরিশের দুই মহিলা প্রায় অচৈতন্য হয়ে পড়েছেন, স্বামীর কথা ভেবে দাঁতে দাঁত লেগে যাচ্ছে তাঁদের। খোঁজ নেই, আদৌ খোঁজ মিলবে কিনা, সেই অনিশ্চয়তা তাড়া করে ফিরছে… যখনই জ্ঞান ফিরছে বুক ফাটা কান্না! গুদামের এক কর্মী বলেন, ‘‘শেষ বার ওদের সঙ্গে যখন কথা হয়েছে, ওরা বলেছিল দেওয়াল ভেঙে বেরোনোর চেষ্টা করছে। তার পর আর যোগাযোগ করা যায়নি।’’

সোমবার বেলা সাড়ে পর্যন্ত তিন জনের দেহ উদ্ধার ছাড়া আর বাকিদের কোনও খোঁজ নেই। কারখানার ভিতরে ঝলসে যাওয়া সবকিছুর ভিড়ে তা খুঁজে পাওয়াও এখন দমকলকর্মীদের কাছে চ্যালেঞ্জ। নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
আবারো এস আই আর আতঙ্কে মৃত্যু হল এক ব্যক্তি। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাটের অন্তর্গত মুলটি অঞ্চলে কামদেবপুর গ্রামের ৯৬ নম্বর বুথে এক বয়স্ক সরল সাদাসিধে মানুষ পিয়ার আলী খান এস আই আর আতঙ্কে মারা যায়। মূলত নামের বানান ভুল থাকায় কাগজ নিয়ে মানুষের কাছে এবং বিভিন্ন স্থানে দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার পর এম আর এস হসপিটালে ভর্তি করে দুই দিন পর মারা যায়।

পিয়ার আলী খানের হেয়ারিং এর ডেট ছিল আগামী ২৯/০১/২৬ তারিখে। আর এই মৃত্যুর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করলো ও কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিবারের লোক দায়ী করে।
দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সাগরের কমলপুরে এক অনন্য শিক্ষা-সহায়ক কর্মসূচি পালিত হলো। প্রয়াত যোগেন্দ্রনাথ দাস ও প্রয়াতা রেণুবালা দাসের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এলাকার দুস্থ ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী হিসেবে বই, খাতা ও পেন তুলে দেওয়া হয়।



যোগেন্দ্র রেণুবালা বুক ব্যাংকের সহযোগিতায় এবং সাগর কমলপুর শহীদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি সংঘ ও পাঠাগার ও কমলপুর গোবিন্দ সারদা শিশুতীর্থ কে.জি. স্কুলের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। ২০১০ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই বুক ব্যাংক এলাকার অভাবী পড়ুয়াদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে আসছে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।


এলাকার বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের হাতে এই উপহার তুলে দেওয়ার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আর্থিক অনটনের কারণে যেন কোনো শিশুর পড়াশোনা থমকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই প্রয়াস চালানো হচ্ছে। প্রজাতন্ত্র দিবসের পুণ্যলগ্নে শিক্ষার প্রসারে এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঢোলাহাট থানার মতিলাল এলাকায় খড়ের গাড়িতে বিধ্বংসী আগুন


কয়েকদিন আগে মথুরাপুর থানার কালিতলা এলাকায় একটি খড়ের গাড়িতে আগুন লেগেছিল। মথুরাপুরের পর এবার ঢোলাহাট থানার মতিলালে খড়ের গাড়িতে ধরল আগুন , স্থানীয় সূত্রে জানা যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমা ব্লকের ঢোলাহাট থানা মতিলাল পাইকপাড়ার মাদ্রাসার কাছাকাছি বিদ্যুৎ তারে লেগে খড়ের গাড়িতে আগুন লাগে। চোখের নিমেষে সম্পূর্ণ গাড়িটি ভশীভূত হয়। 

ঘটনাস্থলে পৌঁছা ঢোলাহাট থানার পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে আগুন নেভাবার চেষ্টা করলেও বিফল হয়।

সাগরে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন: জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা


দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। এই উপলক্ষ্যে আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগর বিডিও অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

পতাকা উত্তোলনের পর বিডিও অফিস চত্বরে অবস্থিত দেশের বীর সন্তানদের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মন্ত্রী ও আধিকারিকরা একে একে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
এদিন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা তাঁর বক্তব্যে দেশের সংবিধান ও সংহতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সাগরের বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করা হয়। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।