কলকাতা: বিধ্বস্ত আনন্দপুর, দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ১০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আনন্দপুরের ওই কারখানা। এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয়েছে তিন কর্মীর। নিখোঁজ ১৩ জন। এবার সেই আনন্দপুরেই পৌঁছলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস।
৩ দগ্ধ, ১৩ নিখোঁজ! জতুগৃহ কলকাতায় ১০ ঘণ্টা পর অকুস্থলে অরূপ, দেখা নেই সুজিতের
অকুস্থলে অরূপ বিশ্বাস
শুধুই হাহাকার, বিধ্বস্ত আনন্দপুর। দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। ১০ ঘণ্টার অধিক সময় ধরে জ্বলছে আনন্দপুরের ওই কারখানা। এখনও পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের জেরে মৃত্যু হয়েছে তিন কর্মীর। নিখোঁজ ১৬ জন। এবার সেই আনন্দপুরেই পৌঁছলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু দেখা গেল না দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে। কটাক্ষ করে রাজ্য়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘সরকার ছুটিতে গিয়েছে’।
সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছেই ওই জ্বলন্ত কারখানার পরিদর্শন করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তারপর সেখানে উপস্থিত ‘নিখোঁজ কর্মীদের’ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য নিতে দেখা যায় মন্ত্রীকে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘ধোঁয়াটা বের করতে হবে। এত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি, দু’টো গোডাউন। সেখানে এমন ভয়াবহ আগুন। আমি বলতে পারি, অনেকটা তাড়াতাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে। কিন্তু ধোঁয়াটা বের করা কঠিন।’
বিজেপির অফিশিয়াল লাইনের বাইরে কথা বলছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? সতর্ক করলেন শমীক
কলকাতার বুকে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশ্ন ওই কারখানার অগ্নিনির্বাপক ব্য়বস্থা নিয়েও। সংশ্লিষ্ট কারখানা থেকে ড্রাম-ড্রাম পাম তেল উদ্ধার হয়েছে। দমকলবাহিনী মনে করছে, ওই পাম তেলের জেরেই কারখানা জুড়ে দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে লেলিহান শিখা। কিন্তু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্য়বস্থা থাকলে তা কি হত? এই প্রশ্ন করা হয়েছিল বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও। কিন্তু তিনি চটে গিয়ে উত্তর দেন, ‘এই প্রশ্ন কীভাবে করছেন? আমি কীভাবে এর উত্তর দেব? পুলিশ-প্রশাসন-দমকল ঢুকবে, তারপর তো উত্তর পাওয়া যাবে। এখনই বলে দিতে হবে কী ছিল, কী ছিল না? তা হলে তো আমাকেই তদন্তে নেমে পড়তে হবে।’
রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে আনন্দপুরের এই কারখানায়। সেই থেকে টানা ১০ ঘণ্টার উপর জ্বলছে কারখানাটি। ঘটনাস্থলে কাজ করছে ১২টি দমকলের ইঞ্জিন। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বেশ কয়েকটি জায়গায় বিচ্ছিন্ন ভাবে আগুন রয়েছে। কিন্তু বরাবর এই ধরনের ঘটনায় উদ্য়ত্ত হয়ে অকুস্থলে পৌঁছে যাওয়া দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে এবার দেখা যায়নি। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ টিভি৯ বাংলার তরফে দমকলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘দমকল কাজ করছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।’ এই বলেই সার — বেলা গড়ালেও দেখা যায়নি তাঁকে। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য়ের বিরোধী দলনেতা। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সরকার থাকলে তো আগুন নেভাবে। সরকার নেই, প্রজাতন্ত্র দিবসের ছুটি কাটাচ্ছে। সরকার না থাকলে যা হয়, তাই হচ্ছে।’


Post A Comment:
0 comments so far,add yours