তাই লাদেন আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আগাম জামিনের চেষ্টা করছিল সে।তবে হাঁসখালি-কাণ্ডের তদন্তভার নেওয়ার পর থেকে সিবিআই হন্যে হয়ে খুঁজছিল রঞ্জিতকে। তার পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল। ফোনের সূত্র ধরেই তদন্তকারী আধিকারিকরা জানতে পারেন, শনিবার দুপুরে পরিবারের দুই সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে রানাঘাট আদালতে আসবে লাদেন। সেখানেই পাতা হয় ফাঁদ।
আদালত চত্বর থেকেই তাকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। হাঁসখালির ঘটনার তদন্তভার নেওয়ার পর এটাই সিবিআইয়ের প্রথম গ্রেফতার। মূল এফআইআরে নাম না থাকলেও তদন্তে বার বার উঠে আসছিল তাঁর নাম। ওই ঘটনাকে ঘিরে যে অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছিল তাতে তিন যুবকের কথোপকথনেও উঠে আসে লাদেনের নাম।
এ ছাড়া রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া প্রভাকর পোদ্দারকে জেরা করে তদন্তকারীরা এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যান যে ব্রজগোপাল গয়ালির জন্মদিনের পার্টিতে লাদেন উপস্থিত ছিল। লাদেন ব্রজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ব্রজের পাড়াতেই তার বাড়ি। ব্রজ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বেপাত্তা হয়েছিল সে এবং তার পরিবার। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রজ জেরায় স্বীকার করেছে যে, রঞ্জিত গত ৪ এপ্রিল তার বাড়িতে উপস্থিত ছিল।
তদন্তকারীদের সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রভাকর জেরায় বলেছে, ''আমি ব্রজের বাড়িতে বমি করেছিলাম। লাদেন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় আমি ওর কাছে জল চাই। এর পর জল দিতে ও ব্রজের বাড়িতে ঢোকে।'' এই তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসতেই তাঁরা লাদেনের খোঁজ শুরু করেন। দফায় দফায় তারা লাদেনের বাড়িতে তার খোঁজ যান। তবে এত দিন অধরা ছিল সে। শনিবার দুপুরে সেই লাদেন সিবিআইয়ের জালে।
বুধবার সকালেই রামনগরের এক ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। রাতে আর তিন মৃত্যুর খবর এলো। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের দাপটে মৃত্যু হয়েছে মন্দারমনি ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার দুই বাসিন্দার। অন্য দিকে ভরা কোটালে গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছেন ভোলা দাস নামের নৈহাটির এক তরুণ। মন্দারমনির মৃত ব্যক্তির নাম কানাই গিরি। ঘোড়ামারার মৃত ব্যক্তির নাম বৃন্দাবন জানা। এছাড়াও গুরুতর আহত হয়ে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি এক ব্যক্তি।
মন্দারমনির বাসিন্দা কানাই গিরি মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ায় আচমকাই তলিয়ে যান তিনি। গতকাল, বুধবার ইয়াসের দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মন্দারমনি -সহ গোটা পূর্ব মেদিনীপুরেই। সমুদ্রের জল ঢুকে নষ্ট হয়েছে চাষের জমি। অন্তত চার লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।
একই চিত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার। মুড়িগঙ্গার জলোচ্ছ্বাসই সেখানে প্রাণ নিল বৃন্দাবন জানা নামের ওই ব্যক্তি। সাইক্লোন সেন্টারে উঠে এলেও ঝড় বৃষ্টি মাথায় তিনি বাড়ির পরিস্থিতি দেখতে যান। পরে বিপর্যয় কমলে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায় নিকটবর্তী এক পানের বরজে। মনে করা হচ্ছে তীব্র জলোচ্ছ্বাসেই ভেসে গিয়েছিলেন তিনি।
অন্য দিকে নৈহাটিতে ভরা কোটালের সময়ে গঙ্গা পারাপার না করার কথা বারংবার বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর নৈহাটির যুবক ভোলা দাস নোঙরে নৌকো বাঁধতে জলে নেমেছিলেন সব নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েই। জলে তলিয়ে যান তিনি।
ইয়াস আসার আগের দিন বিকেলে মিনি টর্নেডোয় দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। ইয়াসের আছড়ে পড়ার দিন, বুধবার দুপুরে রামনগরের এক বাসিন্দা মাছ ধরতে সব জলে তলিয়ে গিয়েছিলেন। ক্রমে আরও তিনটি মৃত্যুর খবর এলো। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৬ জনের প্রাণ নিল ঘাতক সাইক্লোন ইয়াস। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অক্সিজেনের (Oxygen) প্রয়োজন হলেই এবার বাড়ির দরজায় পৌঁছে যাবে অক্সি এক্সপ্রেস । আজ সোমবার নিউ আলিপুর সুরুচি সঙ্ঘ ও অন্যান্য কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির উদ্যোগে ৫টি গাড়ি উদ্বোধন করা হয়। এই গাড়িগুলির নাম দেওয়া হয়েছে অক্সি এক্সপ্রেস। আজ এই অক্সি এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেন সুরুচি সঙ্ঘের সভাপতি তথা বিদ্যুৎ, যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আবেদনে সাড়া দিয়েই সুরুচি সঙ্ঘ এই প্রয়াস নিয়েছে।
মূলত দক্ষিণ কলকাতার মানুষের জন্যই এই পরিষেবা দেবে অক্সি এক্সপ্রেস। বেহালা, টালিগঞ্জ সহ দক্ষিণ কলকাতায় যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার বা কনসেন্ট্রেটরের প্রয়োজন পড়বে সেখানে এই অক্সি এক্সপ্রেস পৌঁছে যাবে। সঙ্গে একজন চিকিৎসকও থাকবেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার ও কনসেন্ট্রেটর ছাড়াও ফ্রি টেলি মেডিসিন পরিশষেবা অর্থাৎ ডাক্তারি পরামর্শ পাবে মানুষ। আক্রান্ত যাঁরা বাড়িতে আছেন তাঁদের নার্সিং কনসালটেন্ট দেওয়া হবে। এছাড়াও সুরুচি সঙ্ঘ নার্সিং ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গেও কনসাল্ট করার ব্যবস্থা করেছে।
একটি টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করলেই গাড়ি পৌঁছে যাবে বাড়িতে। নম্বরটি হল ১৮০০ ৩০৯ ৯০৯৯। প্রথমে পাঁচটি গাড়ির ব্যবস্থা করা হলেও, চাহিদা বেশি থাকলে আগামীতে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানান অরূপ বিশ্বাস।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে সংক্রমণ এমন জায়গায় পৌঁছয় যে অক্সিজেনের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। সেই অবস্থায় সুরুচি সঙ্ঘের এমন উদ্যোগে মানুষ উপকৃত হবে বলেই মনে করছে। করোনায় অধিকাংশ রোগীরই অক্সিজেনের দরকার পড়ছে। আর তাই উল্লিখিত টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করলেই অক্সি এক্সপ্রেস বাড়িতে পৌঁছে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দেবে।
করোনা সংক্রমণের (Coronavirus Update) পারদ পতন বজায় রইল সোমবারও। সঙ্গে নতুন রেকর্ড করল দৈনিক সুস্থতা। তবে রাজ্যে দৈনিক মৃত্যুর (Corona Death) সংখ্যা রইল ১৫০-র ওপরেই। শুধুমাত্র উত্তর ২৪ পরগনাতেই মৃত্যু হয়েছে ৪৭জনের। সোমবার রাজ্যে (West Bengal) করোনা আক্রান্তের (Daily Covid Cases) সংখ্যা নামল ১৮ হাজারের নিচে। ২ দিনে দৈনিক সংক্রমণ কমল প্রায় ১,০০০। তবে এদিন পরীক্ষাও হয়েছে কিছু কম।
রবিবার সকাল ৯টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে করোনা পরীক্ষা হয়েছে প্রায় ৬৬,৩০০। তার মধ্যে ১৭,৮৮৩ জন সংক্রমিতের খোঁজ মিলেছে। যার ফলে মোট সংক্রমণের সংখ্যাহয়েছে ১২,৮৪,৯৭৩। এদিন রাজ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৯,৬৭০ জন। যা এক নতুন রেকর্ড। এর ফলে মোট সুস্থতা বেড়ে হয়েছে ১১,৪১,৮৭১।
সোমবারের বুলেটিন অনুসারে রাজ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৫৩ জনের। যার ফলে মোট মৃত্যু বেড়ে হয়েছে ১৪,৫১৭। এদিন উত্তর ২৪ পরগনায় ৪৭ জন ও কলকাতায় ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও রাজ্যে লক্ষণীয় ভাবে কমেছে অ্যাক্টিভ কেস। সোমবার রাজ্যে ১,৯৪০টি অ্যাক্টিভ কেস কমেছে। যার ফলে মোট অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,২৮,৫৮৫। রাজ্যে সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৮৮.৮৬ শতাংশ। প্রতি শতকে সংক্রমণের হার বেড়ে হয়েছে ১০.৭২।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রবিবার বেশ কিছু পরীক্ষাগার বন্ধ থাকায় সোমবার সাধারণত সংক্রমণ একটু কম দেখায়। সোমবারের পরীক্ষার ফল মঙ্গলবার জানা গেলে বোঝা যাবে সংক্রমণের আসল চেহারা। তবে রাজ্য প্রশাসনের মতে কাজে দিচ্ছে রাজ্যজুড়ে করোনা মোকাবিলায় কড়া বিধি নিষেধ। প্রসঙ্গত, সংক্রমণ ঠেকাতে ১৬ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত রাজ্যে কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে জোর দেওয়া হয়েছে টিকাকরণেও। ঘূর্ণিঝড় যশের প্রস্তুতির মাঝেও করোনা টিকাকরণ যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্যও বিশেষ বন্দোবস্ত করছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশেষ বিদ্যুৎ পরিষেবারও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর এরই মধ্যে করোনার দৈনিক সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় সামান্য হলেও স্বস্তিতে রাজ্য সরকার।
পূর্ব মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগণা তো বটেই, গত বছর এই মে মাসেই ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল কলকাতা৷ ফিরিয়ে এনেছিল ২০০৯ সালের মে মাসের আর এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আয়লার স্মৃতি৷ এবার ইয়াসকে নিয়েও একই আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল বাংলায়৷ যদিও আলিপুর আবহাওয়া দফতরের যা পূর্বাভাস, তাতে সম্ভবত দুই চব্বিশ পরগণা বা কলকাতায় আমফানের মতো প্রলয় চালাবে না ইয়াস৷ তবে প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখছে না রাজ্য প্রশাসন৷
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, আয়লা, আমফানের সঙ্গে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে ইয়াসের৷ আয়লা এবং আমফান দু'টি সরাসরি এ রাজ্যে আঘাত হেনেছিল৷ কিন্তু ইয়াস আছড়ে পড়তে চলেছে ওড়িশার বালাসোরের কাছে৷ ফলে ওড়িশা লাগোয়া পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ইয়াস বিধ্বংসী রূপ নিলেও রাজ্যের বাকি অংশে তা আয়লা, আমফানের মতোই ধ্বংসলীলা চালাবে না বলেই আশাবাদী আবহবিদরা৷ পূর্ব মেদিনীপুরে অবশ্য ইয়াসের সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার৷ কিন্তু দুই চব্বিশ পরগণা, কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলির মতো জেলাগুলিতে তার সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার৷ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের আরও ভিতরের জেলাগুলিতে আরও কম থাকবে ঝড়ের গতিবেগ৷
সঞ্জীববাবু বলেন, 'গতি দিয়ে পুরোটার বিচার হয়না৷ আয়লা, আমফান সরাসরি আমাদের রাজ্যে আঘাত এনেছিল৷ সেখান ইয়াস ওড়িশা হয়ে এ রাজ্যে ঢুকবে৷ আয়লার ক্ষেত্রে পুরোটা আমাদের রাজ্যের উপর দিয়ে গিয়েছিল৷ আমফানের ক্ষেত্রেও আমরা যদি দেখি সাগরের কাছে আছড়ে পরার পর কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগণা হয়ে তা বাংলাদেশের দিকে চলে গিয়েছিল৷ বলা যায়, কলকাতার বুক চিড়ে চলে গিয়েছিল আমফান৷ আর ইয়াস সেখানে চলে যাবে ঝাড়খণ্ডের উপরের দিকে৷ ফলে ঝাড়খণ্ডেও কিছুটা দুর্যোগ হবে৷'
সঞ্জীববাবু আরও বলেন, ওড়িশার বালাসোরে যেখানে ইয়াসের আঘাত হানার কথা, সেখান থেকে দিঘার দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার৷ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সাগরের দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার৷ আর কলকাতার দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার৷ ফলে কলকাতা বা দুই চব্বিশ পরগণায় ইয়াসের দাপট অনেকটাই কম হবে বলেই মত আবহবিদদের৷
তবে ইয়াসের দাপটে এ দিন থেকেই পূর্ব মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগণা, কলকাতা. হাওড়ায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে৷ বৃষ্টি হয়েছে আরও কয়েকটি জেলায়৷ মঙ্গলবার এবং বুধবার দুই চব্বিশ পরগণা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর৷
হাওয়া অফিসের তরফে এ দিন জানানো হয়েছে, আগামী বুধবার দুপুরের দিকে ওড়িশার বালাসোরের কাছাকাছি স্থলভাগে প্রথম আঘাত হানবে ইয়াস৷ বালাসোরের সঙ্গে ভদ্রক, কেন্দুপাড়া, জগৎসিংহপুরে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে৷ একই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে এ রাজ্যের পূর্ব মেদিনীপুরকে নিয়ে৷ কারণ এই সমস্ত জায়গাতেই ইয়াস আছড়ে পড়ার সময় হাওয়ার গতিবেগ থাকতে ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটারের মধ্যে৷ যা সর্বোচ্চ ১৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছতে পারে৷
আবহবিদদরা জানিয়েছেন, ইয়াসের দাপটে পূর্ব মেদিনীপুরে সমুদ্রে ২ থেকে ৪ মিটার জলস্ফিতি ঘটতে পারে৷ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় তা থাকবে ১ থেকে ২ মিটারের মধ্যে৷
যদিও রাজ্য প্রশাসনের তরফে ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতিতে কোনওরকম ফাঁক রাখা হচ্ছে না৷ উপকূলবর্তী এলাকাগুলি থেকে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ গোটা পরিস্থিতির উপরে নিজে নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কলকাতাতেও সবরকম সতর্কতা নিচ্ছে কলকাতা পুরসভা৷
দিঘা থেকে ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শক্তিশালী সাইক্লোন ইয়াসের অভিমুখ এখন ঝাড়খণ্ডের দিকে। তাই শুধুই দুই মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগণাই নয়, ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লগোয়া জেলাগুলিতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিল নবান্ন।
আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ১, গোপীবল্লভপুর ২, সাঁকরাইল, নয়াগ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর, কেশিয়াড়ি,দাঁতন, পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর ২, রামনগর ২ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরের অংশগুলোতে বেশি ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সব দিক মাথায় রেখে জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
এখনও পর্যন্ত য়া স্থির হয়েছে তাতে পুরুলিয়ার নির্দিষ্ট কিছু অংশে মানুষকে স্থানান্তরিত করা হবে। অন্য দিকে ইয়.স ঝাড়খণ্ডের দিকে গেলে, বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি হলে পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূমের একাংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, এমন আশঙ্কাও থাকছে । তাই তড়িঘড়ি সেচ দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের, নবান্ন সূত্রে খবর। মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছেন জেলাশাসকরাও।
এর পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনায় ৫১৫৫৪ জনকে নিরাপদ আশ্রয় এ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ইয়াসের কথা মাথায় রেখে বসিরহাট পুলিশ জেলাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার গোরামারা, নামখানা, গঙ্গাসাগরে এক লক্ষ ৯৫ হাজার মানুষকে ত্রাণ শিবিরে সরানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত ক্রমেই স্থলভাগের সঙ্গে দূরত্ব কমছে সাইক্লোন ইয়াসের।বুধবার দুপুরে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ইয়াস দিঘা ও পারাদ্বীপের মাঝামাঝি অঞ্চল অতিক্রম করবে। কিন্তু আজ মঙ্গলবার থেকেই প্রকৃতির রোষের মুখে পড়েছে বহু অঞ্চল। ফ্রেজারগঞ্জ থেকে শুরু করে হলদিয়া বহুজায়গাতেই জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে।
রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রথম বলি। কলকাতার শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে মৃত হরিদেবপুরের এক মহিলা। করোনায় আক্রান্ত ছিলেন তিনি। সঙ্গে শরীরে বাসা বাঁধে মারণ ছত্রাক ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। এই মারণ ছত্রাক নিয়ে ইতিমধ্যে অ্যাডভাইজারি প্রকাশ করেছে রাজ্য।
মৃতার স্বামী রাজু চক্রবর্তী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ভরতি ছিলেন তাঁর স্ত্রী। করোনার চিকিৎসা চলছিল। সুগারও ছিল তাঁর। হঠাৎই চিকিৎসকরা জানান, তাঁর স্ত্রীর শরীরে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। চোখ ফুলে গিয়েছে, চোখ ও মাথা ব্যথা করছে, নাক দিয়ে জল বেরোচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রোগীকে অ্যাম্পোটিরিসিন বি দেওয়া হচ্ছিল। তবে শেষ রক্ষা করা যায়নি। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে মহিলার মৃত্যু হয়। এমনটাই পরিবারের দাবি।
দেশ জুড়ে এখন একটাই নাম- করোনাভাইরাস! এই মারণ ভাইরাসের আতঙ্ক যেন ঘুম কেড়ে নিয়েছে দেশবাসীর। কবে এই মহামারী থেকে রক্ষা পাবে দেশ, সেই চিন্তায় দিন কাটছে সকলের। তার মধ্যে রয়েছে ভ্যাকসিনের আকাল। সব মিলিয়ে যেন করোনা আক্রান্ত না হয়েই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জোগাড়। এই পরিস্থিতিতে ‘ইয়ং ওয়ারিয়র’ (Young Warrior) নামে একটি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE)।
এই অভিযানের অংশ হিসাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ড কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে মোট ৫০ লক্ষ্য তরুণকে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। যার লক্ষ্য ৫ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করা।
এই অভিযানের অংশ হিসাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা বোর্ড কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে মোট ৫০ লক্ষ্য তরুণকে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। যার লক্ষ্য ৫ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করা।
যোগদানের জন্য, এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করতে পারেন:
স্টেপ ১: WhatsApp-এ টাইপ করুন YWA এবং এটি +৯১ ৯৬৫০৪১৪১৪১ নম্বরে পাঠিয়ে দিন। এছাড়া আপনি মিসড কল করেও যোগদান করতে পারেন। মিসড কল নম্বর হল, ০৮০-৬৬০১৯২২৫
স্টেপ ২: একবার কেউ যোগ দিলে, তাঁরা ১০ বছর বা তার বেশি বয়সের তরুণদের (১০-৩০ বছর) এই মুভমেন্টে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন
স্টেপ ৩: ৫ জন বন্ধুকে ট্যাগ করে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আমি একজন তরুণযোদ্ধা’ (I am a #youngwarrior) এই বাক্যটি সহ একটি মেসেজ পোস্ট করে কোভিড ১৯-এর এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।
প্রথমটি প্রযুক্তি ভিত্তিক চ্যাট-বট (Chat-Bot) প্ল্যাটফর্ম যা UReport (WhatsApp YWA-থেকে +৯১ ৯৬৫০৪১৪১৪১) নামে পরিচিত। দ্বিতীয়টি হল ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স (IVR) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম (০৮০৬৬০১৯২২৫ নম্বরে মিসড কল দিন), WhatsApp/Internet না থাকতে পারে এমন যুবসম্প্রদায়ের জন্য এবং তৃতীয়টি ফোন বা ইন্টারনেটের পরিষেবা নেই তাঁদের জন্য কমিউনিটি রেডিওর (Community Radio) মাধ্যমে হবে।
যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, YuWaah-UNICEF এবং ৯৫০-এর বেশি অংশীদারদের সঙ্গে এই প্রচার শুরু করেছে।








