Articles by "covid 19 news"
Showing posts with label covid 19 news. Show all posts
শেষমেশ কি কাটল করোনার কালো মেঘ ? মারণ ভাইরাসের একের পর এক ওয়েভের ধাক্কা, প্রাণহানি, মহামারির পর্ব কি পাকাপাকিভাবে অতীত হল ? সেই সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে তুলল দেশের করোনা পরিসংখ্যান।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মঙ্গলবারের (৮ নভেম্বর) বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা শূন্য। ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়া শুরু থেকে এই প্রথমবার। মাঝে কেটে গিয়েছে প্রায় আড়াই বছর।

একেবারে নিচে সংক্রমণও

কেন্দ্রীয় সরকারের ৮ নভেম্বরের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬২৫ জন। যা ২০২০ সালের ৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। আর ২০২০-র মার্চের পর এই প্রথমবার দৈনিক মৃত্যু নামল শূন্যতে। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৯ এপ্রিলের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী তার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৪০ জন।
কাছের মানুষ হারানো...

২০২০ সালের মার্চে কর্ণাটকের কালাবুর্গীর ৭৬ বছরের এক বৃদ্ধ দেশের প্রথম করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। তারপর থেকে গোটা দেশজুড়ে থাবা করাল হয়েছিল মারণ ভাইরাসের। করোনা কেড়ে নিয়েছে অনেকেরই কাছের মানুষকে। 

শুধু প্রাণ নিয়েই থেমে থাকেনি করোনা। শরীরে থাবা বসিয়ে একাধিক মানুষকে অসুস্থ করে দেওয়া থেকে দেশ তথা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটের এক কালো সময় তৈরি করেছিল।

করোনা ভ্যাকসিনের হাত ধরে আস্তে আস্তে যে কঠিন লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত সহ গোটা বিশ্ব। প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত ভারতে প্রায় ২২০ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে।
দেশে ফের বাড়ল করোনায় দৈনিক সংক্রমণ (Daily Case)। একইসঙ্গে বাড়ল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare, Government of India) শনিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ২১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের।

দেশের করোনা আপডেট: দেশজুড়ে করোনার (Corona) প্রকোপ কমতে থাকলেও এখনও সতর্ক থাকার পরামর্শই দিচ্ছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহারের মতো একান্ত পালনীয় কোভিড বিধি মেনে চললার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। যাবতীয় বিধি মেনে চললেই করোনাকে জয় করা যাবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ ২৭ হাজার ৯৫৭ জনের। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭২৬। গতকাল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৬৮। গতকাল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২১। দেশে একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, ৯ হাজার ৬৫১। সুস্থতার হার ৯৮.৬৮ শতাংশ। মোট সুস্থতার সংখ্যা ৪ কোটি ৩৮ হাজার ৬৫ হাজার ০১৬। অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৭৭৫। দৈনিক পজিটিভিটি রেট ১.৯৮ শতাংশ। 
রাজ্যের করোনা আপডেট: গোটা দেশের পাশাপাশি সামান্য বেড়েছে বাংলার কোভিড গ্রাফও (West Bengal Corona)। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের শনিবারের (২ সেপ্টেম্বর) করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০০-র গণ্ডি পেরিয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে হল ২১,০৭, ৫১৪ জন। একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ২৫৪ জনের। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এ নিয়ে রাজ্যে করোনা সংক্রমিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১,৪৭০ জন। এ নিয়ে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বেড়ে হল ২১,০৭, ৫১৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনামুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩১০ জন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ২০, ৮৩,৬৮৪ জন। রাজ্যে সুস্থতার হার ৯৮.৮৭ শতাংশ। 

 করোনা আক্রান্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। রবিবার বিকেলে তাঁর করোনা রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে।

জাপানে বাড়ছে করোনার প্রকোপ। এর মাঝেই করোনা আক্রান্ত হলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। রবিবার প্রধানমন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি তাঁর কোভিড পজ়িটিভ হওয়ার খবর দেন। করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে কিশিদা তাঁর টিউনিসিয়া সফর বাতিল করলেন বলেও জানানো হয়েছে।

রবিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। তিনি আপাতত তাঁর সরকারি বাসভবনেই রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এক সপ্তাহ ছুটি কাটিয়ে এসে তিনি সদ্য় ফিরেছেন। সোমবার থেকেই তাঁর পুনরায় কাজে ফেরার কথা ছিল। তবে তার আগেই কোভিড রিপোর্ট পজ়িটিভ এল প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর ক্য়াবিনেটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, শনিবারই তাঁর জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। রবিবার সকালেই তাঁর পিসিআর পরীক্ষা করানো হয়। আর বিকেলেই
কিশিদার টিউনিসিয়া যাওয়ার কথা ছিল। আফ্রিকার উন্নয়ন নিয়ে টোকিও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে () তাঁর যোগদানের কথা ছিল। তবে করোনা আক্রান্ত হওয়ার কারণে তিনি এই কনফারেন্সে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি জাপানে করোনার চোখ রাঙানি বেড়েছে। জুলাই ও অগস্টে ফের বেড়েছে করোনার প্রকোপ। ফলে বিশ্বের তৃতীয় অর্থনীতির ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা কমই রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


স্বস্তি দিয়ে আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই কমেছে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ। পাশাপাশি, দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ খানিকটা কমল রাজ্যের দৈনিক কোভিড সংক্রমণ। স্বস্তি দিয়ে আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই কমেছে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ। পাশাপাশি, দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। শুক্রবারের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে নতুন কোভিড সংক্রমণের সংখ্যা নেমে এসেছে পাঁচশোরও নীচে। দৈনিক পজিটিভিটি রেট থেকে হোম আইসোলেশন, সবই কমেছে গত ২৪ ঘণ্টায়।

রাজ্যের কোভিড-গ্রাফ:

বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে (West Bengal) গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রমিত ৪৭২ জন।
আগের দিন নতুন সংক্রমিত ছিল ৫৯৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ মুক্ত হওয়ার সংখ্যা অবশ্য নতুন আক্রান্তের থেকে অনেকটাই বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সংক্রমণ মুক্ত হয়েছে ৭৭৫ জন।
রাজ্যে সুস্থতার হার ৯৮.৬৯ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৯ হাজার ৮৪২টি কোভিড (Covid) নমুনার।
১২ অগস্টের বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে পজিটিভিটি রেট (Positivity Rate) ৪.৮০ শতাংশ।
এখন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ৫ হাজার ৯৩৮ জন কোভিড আক্রান্ত।
হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৪ জন কোভিড আক্রান্ত।
বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে এ দিন ৭৬ হাজার ৭২০টি কোভিড টিকা দেওয়া হয়েছে।
 
শুক্রবার মারা গিয়েছেন ৩ জন। যদিও একদিন আগে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪। অন্যদিকে এদিন রাজ্যে পজিটিভিটি হার দাঁড়িয়েছে ৪.৮ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার দৈনিক করোনা আক্রান্তের (Daily Coronavirus infection) সংখ্যা ছিল ৫৯৮। তবে শুক্রবার তা এক ধাক্কায় ফের অনেকটাই কমে গেল। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের (Health Department) তরফে প্রকাশিত করোনা বুলেটিনে দেখা যাচ্ছে শুক্রবার রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭২ জন। মারা গিয়েছেন ৩ জন। যদিও একদিন আগে মৃতের সংখ্যা ছিল ৪। অন্যদিকে এদিন রাজ্যে পজিটিভিটি হার দাঁড়িয়েছে ৪.৮ শতাংশ। 

রাজ্যের জেলাওয়াড়ি করোনা পরিস্থিতি এক নজরে…

কলকাতা – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১৫৪ জন। 

উত্তর ২৪ পরগনা – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১২১ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১০৬ জন। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৩১ জন। 

হাওড়া – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ২৩ জন। 

নদিয়া – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৮ জন। 

পশ্চিম বর্ধমান – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১৬ জন। 

পশ্চিম মেদিনীপুর- শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৪২ জন। 

দার্জিলিং- শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১৯ জন। 

বীরভূম- শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৮৩ জন। 

পূর্ব বর্ধমান- শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১২ জন। 

পূর্ব মেদিনীপুর – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১১ জন। 

জলপাইগুড়ি – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৬ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৭ জন। 

মুর্শিদাবাদ- শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৫ জন। 

মালদহ – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৫ জন। 

উত্তর দিনাজপুর – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৯ জন। 

আলিপুরদুয়ার – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৭ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৪ জন। 

বাঁকুড়া – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৩ জন। 

দক্ষিণ দিনাজপুর – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৭ জন। 

পুরুলিয়া – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ১২ জন। 

ঝাড়গ্রাম – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৫ জন। 

কোচবিহার – শুক্রবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৪ জন। 

কালিম্পং – শুক্রবার আক্রান্ত ০। বৃহস্পতিবার আক্রান্ত ৩ জন। 

মঙ্গলবার রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা খানিক বেড়ে হল ৫২৫। মারা গিয়েছেন ৫ জন। অন্যদিকে এদিনের পজেটিভিটি রেট দাঁড়িয়েছে ৪.৭ শতাংশ।

বর্তমানে রাজ্যে করোনা আক্রান্তের (Coronavirus infected Number) সংখ্যা রয়েছে নিম্নমুখী। বিগত কয়েকদিন ধরেই হাজেরের নীচে ঘোরাফেরা করছে আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার রাজ্যে করোনার (Coronavirus) কবলে পড়েছিলেন ৩৭৭ জন। মৃত্যু হয়েছিল ৫ জনের। যদিও মঙ্গলবার তা খানিকটা বেড়ে হল ৫২৫। মারা গিয়েছেন ৫ জন। অন্যদিকে এদিনের পজেটিভ রেট (Positivity Rate) দাঁড়িয়েছে ৪.৭ শতাংশ।

রাজ্যের জেলাওয়াড়ি করোনা পরিস্থিতি এক নজরে…

কলকাতা – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৬ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১২১ জন। 

উত্তর ২৪ পরগনা – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১১১ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ জন। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৬ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ জন। 

হাওড়া – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ২১ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। 

নদিয়া – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। 

পশ্চিম বর্ধমান – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন । 

পশ্চিম মেদিনীপুর- মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন । 

দার্জিলিং- মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন। 

বীরভূম- মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪ জন। 

পূর্ব বর্ধমান- মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন। 

পূর্ব মেদিনীপুর – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন। 

জলপাইগুড়ি – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। 

মুর্শিদাবাদ- মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন। 

মালদহ – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন। 

উত্তর দিনাজপুর – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ০ জন। 

আলিপুরদুয়ার – মঙ্গলবার আক্রান্ত ০। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন। 

বাঁকুড়া – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ২ জন। 

দক্ষিণ দিনাজপুর – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন। 

পুরুলিয়া – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ৬ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন। 

ঝাড়গ্রাম – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন। 

কোচবিহার – মঙ্গলবার আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩ জন। 

কালিম্পং – মঙ্গলবার আক্রান্ত ০। সোমবার আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন। 

সোমবার রাজ্যে করোনার সংক্রমণ নেমে এসেছিল ৪৩৬ এ। কিন্তু দুশ্চিন্তা বজায় রেখে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের। সেই তুলনায় মঙ্গলবার রাজ্যে সংক্রমণ (Corona New Cases) কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮৮৩। তবে গত কদিন ধরে মৃত্যুসংখ্যা (Death) নিয়ে যে উদ্বেগ চলছিল, তাতে এদিন কিছুটা লাগাম পরেছে। 

এদিন মৃত্যুসংখ্যা কমে হয়েছে ৪। ফলে সামগ্রিকভাবে করোনা-চিত্রের প্রবণতা কিছুটা হলেও নিম্নমুখী। যদিও এতে স্বস্তির কিছু নেই। কারণ, একজনেরও মৃত্যু কাঙ্খিত নয়। তাই একদিকে যেমন সংক্রমণ কমছে, অন্যদিকে মৃত্যুসংখ্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনাটাই রাজ্যের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে করোনা-চিত্রে স্বস্তিদায়ক জায়গা হয়ে উঠছে সুস্থতা (Recovery)। গত কদিনে একদিকে যেমন সংক্রমণের হার কমছে, পাশাপাশি সুস্থতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলেছে। তার জেরে সক্রিয় আক্রান্তের (Active Cases) সংখ্যা আশা জাগিয়ে ভালোরকমই কমে আসছে। মনে থাকতে পারে, কদিন আগেও এই সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছিল ৩০ হাজারে। সেটা কমতে কমতে মঙ্গলবার হয়েছে ১২২৫৪। কারণ, মঙ্গলবারই যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৮৩, সেখানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা ২১১৮।

আরও একটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে গত কদিনে। তা হল হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও কমেছে। যেমন এদিনের ১২২৫৪ জন সক্রিয় আক্রান্তের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মাত্র ৩৩৪ জন। বাকি ১১৯২০ জনই বাড়িতে থেকেই চিকিত্সা করাচ্ছেন। কারণ, বিশেষজ্ঞরা আগাগোড়াই বলে আসছেন, এবারের করোনা ততটা প্রাণঘাতী নয়।

সোমবার করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেই জায়গায় এদিন তা বেড়ে ১২ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এদিন পজিটিভিটি রেট ছিল ৭.৪৮ শতাংশ।

দেশে করোনা-গ্রাফের ( coronavirus ) ওঠানামা চলছেই। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭৩৪ জন।
গতকাল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪৬৪।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের।
গতকাল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৪।
এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ ২৬ হাজার ৪৩০ জনের। 
মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ কোটি ৪০ লক্ষ ৫০ হাজার ৯। 

অন্যদিকে, রাজ্যে গত ২৪ ঘন্টায় কমল কোভিড ( Covid 19 ) আক্রান্তের সংখ্যা (Covid Postive)। সোমবার রাজ্যের কোভিড বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, (WB Covid Bulletin) 
আগের ২৪ ঘন্টায় সারা বাংলায় কোভিডে সংক্রমিত হয়েছেন ৪৩৬ জন। যেখানে গত ৪৮ ঘন্টায় কোভিডে আক্রান্তের সংখ্য়া ছিল, ১০১১ ।
পাশাপাশি এদিন কোভিডে মৃত্যু শূন্য না হলেও গত ৪৮ ঘন্টার থেকে কমেছে। গত ৪৮ ঘন্টায় কোভিডে মৃত্যু হয়েছিল ৭ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের।
পাশাপাশি কমেছে পজিটিভিটি রেটও। গত ২৪ ঘন্টায় সারা বাংলায় পজিটিভিটি রেট (Positivity Rate) ৭.৭৮ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৬.৩৪ শতাংশ। 
চোখ রাঙাচ্ছে মাঙ্কি পক্সও 
উপসর্গ নিয়ে একদিন আগেই মারা গিয়েছেন এক রোগী (Monkeypox Symptoms)। কেরলে (Kerala) ফের এক মাঙ্কিপক্স আক্রান্তের (Monkeypox Infection) হদিশ মিলল। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ফিরেছেন ওই ব্যক্তি। তাঁর শরীরে মাঙ্কিপক্স ধরা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কেরল সরকার। এই নিয়ে কেরলে মাঙ্কিপক্স আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ জনে ঠেকল। মঙ্গলবার কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ পঞ্চম মাঙ্কিপক্স আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, নতুন করে যে ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাঁর বয়স ৩০ বছর।
শনিবার রাজ্য়ে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাঁ দাড়াল ১ হাজার ১১৩। মারা গিয়েছেন ৭ জন। অন্যদিকে এদিন করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪১০ জন।

TV9 Bangla
x
CHOOSE YOUR LANGUAGE
বাংলা
हिन्दी
ಕನ್ನಡ
తెలుగు
मराठी
ગુજરાતી
मनी9
ENG
Know This
5
লেটেস্ট নিউজCWG 2022শেয়ার মার্কেটক্রিকেটকলকাতাপশ্চিমবঙ্গদেশবিনোদনখেলাবিশ্বপ্রযুক্তিফটো গ্যালারিলাইফস্টাইলস্বাস্থ্য সংবাদব্যবসাআধ্যাত্মিক
#পার্থ ও অর্থ#শ্রী-হীন লঙ্কা#কমনওয়েলথ গেমস#করোনা কড়চা#Covid Tracker#Book Your Vaccine#FuelTracker
Bangla News » Kolkata » The number of coronavirus cases in West Bengal crossed 1,000 on Saturday
COVID 19: হাজারের উপরেই রাজ্যের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে উদ্বেগ
COVID 19: শনিবার রাজ্য়ে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাঁ দাড়াল ১ হাজার ১১৩। মারা গিয়েছেন ৭ জন। অন্যদিকে এদিন করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪১০ জন।

COVID 19: হাজারের উপরেই রাজ্যের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে উদ্বেগ
TV9 Bangla Digital
TV9 Bangla Digital | Edited By: জয়দীপ দাস

Jul 30, 2022 | 9:10 PM

কলকাতা: চতুর্থ ঢেউ (Covid Fourth Wave) হানা দিলেও সংক্রমণের ভয়াবহতা এখনও ঘরবন্দি করেনি বঙ্গবাসীকে। তবে শুক্রবারের পর শনিবারও রাজ্যে করোনা আক্রান্তের (Corona infected) সংখ্যা ১ হাজারের উপরেই রইল। শনিবার রাজ্য়ে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাঁ দাড়াল ১ হাজার ১১৩। মারা গিয়েছেন ৭ জন। অন্যদিকে এদিন করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪১০ জন। বর্তমানে রাজ্যে সুস্থতার হার ৯৮.১৮ শতাংশ।  
রাজ্যের জেলাওয়াড়ি করোনা পরিস্থিতি একনজরে…
কলকাতা – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ২৩২ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৫ জন। 

উত্তর ২৪ পরগনা – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৮২ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৭ জন। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬ জন। 

হাওড়া – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। 

নদিয়া – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ জন। 

পশ্চিম বর্ধমান – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ জন। 

পশ্চিম মেদিনীপুর- শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ জন। 

দার্জিলিং- শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন। 

বীরভূম- শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৭ জন। 

পূর্ব বর্ধমান- শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ জন। 

পূর্ব মেদিনীপুর – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন। 

জলপাইগুড়ি – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ জন। 

মুর্শিদাবাদ- শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৯ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন। 

মালদহ – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। 

উত্তর দিনাজপুর – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। 

আলিপুরদুয়ার – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ জন। 

বাঁকুড়া – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। বৃহস্পতিবার 

দক্ষিণ দিনাজপুর – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন। 

পুরুলিয়া – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন। 

ঝাড়গ্রাম – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ জন। 

কোচবিহার – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন।

কালিম্পং – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯ জন। 

হুগলি – শনিবার আক্রান্ত হয়েছেন ৪৭ জন। শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪ জন।
পরপর তিনদিন ২০ হাজারের উপরে রয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৪০৮ জন।

মাঝে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া ২০ হাজারের নীচে নেমেছিল। কিন্তু শনিবার পরপর তিনদিন ২০ হাজারের উপরে রইল দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ হাজার ৪০৮ জনের দেহে করোনার ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। আর করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্য়ু হয়েছে ৫৪ জনের। গত কয়েক দিনের বুলেটিন থেকে এটা স্পষ্ট যে, করোনা গ্রাফ ওঠা-নামা করলেও সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। বর্তমানে দেশে সুস্থতার হার রয়েছে ৯৮.৪৮ শতাংশ। দৈনিক পজ়িটিভিটি রেট রয়েছে ৫.০৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪ লক্ষ ৪ হাজার ৩৯৯ টি নমুনা পরীক্ষাল হয়েছে।

বিভিন্ন রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি :

করোনা সংক্রমণের নিরিখে কেরল, মহারাষ্ট্রকে ছাপিয়ে গিয়েছে কর্নাটক। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১৩০ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে ১ হাজার ৯৯৭ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের হদিশ মিলেছে। তারপরেই রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসের কবলে পড়েছেন ১ হাজার ৬২৪ জন। সংক্রমণের নিরিখে চতুর্থ স্থানে থাকলেও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে কেরল। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ জন মৃতের মধ্যে ১১ জনই কেরল থেকে।

পশ্চিমবঙ্গে করোনা পরিস্থিতি :

রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া কিছুটা কমলেও এখনও হাজারের উপরে রয়েছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৪৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্য়ু হয়েছে ৬ জনের। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে সুস্থতার হার রয়েছে ৯৮.১২ শতাংশ।

টানা ৩দিন ২০ হাজারের ঘরে দেশের করোনা সংক্রমণ। পুজোর আগে বাংলা সহ গোটা দেশে ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ।

 শুক্রবার সামান্য কমলেও সংক্রমণ, শনিবার ফের কিছুটা বেড়েছে দেশের দৈনিক গ্রাফ। মৃত্যুসংখ্যা ও অ্যাকটিভ কেসের হার বেড়েছে এদিন। চিন্তা বজায় রাখছে মারণ ভাইরাসের নয়া ভ্যারিয়েন্ট। বিশেষ করে চিন্তায় রাখছে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির পরিস্থিতি।

শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২০ হাজার ০৪৪ জন। যা শুক্রবার ছিল ২০ হাজার ০৩৮ জন। গতকালের তুলনায় কিছুটা বেশি। একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। শুক্রবার যেখানে মৃত্যুসংখ্যা ছিল ৪৭ । ফলে মৃত্যুসংখ্যা যে ঊর্ধ্বমুখী, তা পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬৬০ জন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ হাজার ৩০১ জন। সুস্থতার হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৪৮ শতাংশ। এখনও পর্যন্ত দেশে ৪ কোটি ৩০ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৫১ জন করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন। এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৭৬০ জন। দেশে অ্যাকটিভ কেসের হার ০.৩২ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে। পজিটিভিটি রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৮০ শতাংশ।

উল্লেখ্য, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, বাংলার মতো রাজ্যগুলিতে। গত ২৪ ঘণ্টাতেই যেমন মহারাষ্ট্রে সংক্রমিতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২,৩০০-র গণ্ডি। প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। বাংলাতেও পরপর দু’দিন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। তামিলনাড়ুতে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ২০০০-এর বেশি। দেশে ইতিমধ্যেই ১৯৯ কোটি ৭১ লক্ষ ডোজ করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা পেয়েছেন ২৩ লক্ষের বেশি মানুষ।

Booster Dose: দুদিন আগেই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানান, স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে করোনা টিকাকরণের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করছে ভারত সরকার। বিনামূল্যে বুস্টার টিকাকরণের জন্য ৭৫ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র

নয়া দিল্লি: সাধারণ মানুষের মধ্যে ফের একবার অসচেতনতা, মাস্ক পরার অনীহা বাড়তেই চুপিসাড়ে বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণও। বিগত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মারণ ভাইরাসের প্রভাবে জনজীবন যেভাবে প্রভাবিত হয়েছিল, তা যাতে আর না হয় সেই লক্ষ্যেই নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে ২০২০ সালের শেষ ভাগেই আবিষ্কার করা হয়েছিল করোনা টিকা। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ় দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্য মিললেও, সাধারণের মধ্যে অনীহা দেখা দিয়েছে প্রিকশন বা বুস্টার ডোজ় নিয়ে। বুস্টার টিকাকরণে জোর দিতেই কেন্দ্রের নয়া উদ্যোগ। আজ থেকে আগামী ৭৫ দিনের জন্য সমস্ত প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য বিনামূল্যে দেওয়া হবে বুস্টার ডোজ।

দুদিন আগেই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানান, স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে করোনা টিকাকরণের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করছে ভারত সরকার। বিনামূল্যে বুস্টার টিকাকরণের জন্য ৭৫ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এতদিন কেবল ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদেরই করোনার প্রিকশন বা বুস্টার ডোজ় দেওয়া হত। তবে কেন্দ্রের নতুন ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলেই করোনা টিকার বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন। জুন মাসেই কেন্দ্রের তরফে ন্যাশনাল টেকনিক্যাল অ্যাডভাইসরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশনের সুপারিশ মেনে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ় ও বুস্টার ডোজের মধ্যে ব্যবধান ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছিল।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ষাটোর্ধ্ব নাগরিক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা মিলিয়ে প্রায় ১৬ কোটি মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে মাত্র ২৬ শতাংশ বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বুস্টার ডোজ নিতে অনীহা দেখা যাচ্ছে অনেকের মধ্যেই। কিন্তু করোনার নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট থেকে সুরক্ষিত থাকতে বুস্টার ডোজ় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে অন্যান্য করোনাবিধিগুলিও মেনে চলা জরুরি। কারণ ফের বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ।
রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, তারপরেই কলকাতা। উত্তর ২৪ পরগনায় একদিনে করোনা আক্রান্ত ৭৩২ জন। পাশাপাশি কলকাতায় একদিনে ৫৭৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়ছেন।
রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার পার, বাড়ল মৃতের সংখ্যাও
রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, তারপরেই কলকাতা। উত্তর ২৪ পরগনায় একদিনে করোনা আক্রান্ত ৭৩২ জন। পাশাপাশি কলকাতায় একদিনে ৫৭৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে।    
রাজ্যে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা! বেশ কিছুদিন সংক্রমণের গ্রাফ ২ হাজারের কোটায় ঘোরাফেরা করলেও উদ্বেগ বাড়িয়ে একদিনে ৩ হাজার পার করল আক্রান্তের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে একদিনে ৩ হাজার ২৯জন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। উদ্বেগ বাড়িয়ে রাজ্যে একদিনে করোনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। গতকাল ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। রাজ্যে দৈনিক সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, তারপরেই কলকাতা। উত্তর ২৪ পরগনায় একদিনে করোনা আক্রান্ত ৭৩২ জন। পাশাপাশি কলকাতায় একদিনে ৫৭৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়পর্বে রাজ্যে করোনামুক্ত হয়েছেন ১,৬৬৪ জন।
দেশেও উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতি। এক ধাক্কায় দেশে করোনায় দৈনিক সংক্রমণ অনেকটা বাড়ল।২০ হাজার ছাড়াল আক্রান্তের সংখ্যা। একদিনে সংক্রমণ বাড়ল ১৯ শতাংশের বেশি। পাশাপাশি, দেশে ফের লাফিয়ে বাড়ছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ১৩৯ জন। গতকাল দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৯০৬। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। গতকাল দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪৫। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৫৭ জনের। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৮৯। এর পাশাপাশি, দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭৬।


দেশে দৈনিক সংক্রমণ সামান্য কমলেও চিন্তা বাড়াচ্ছে মৃতের সংখ্যা।

তবে অ্যাকটিভ কেসও নিম্নমুখী। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৫১ হাজার ২০৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬২৭ জনের।

যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় অনেকটাই বেশি। একদিনে মারণ ভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত হয়েছেন ৩ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৪৩ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে দেশে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ২১ লক্ষের সামান্য বেশি। পজিটিভিটি রেট ১৫.৮৮ শতাংশ। এখনও কেরল, মহারাষ্ট্রের সংক্রমণ চিত্র চিন্তায় রেখেছে। কেরলে আবার সংক্রমিতদের ৯৪ শতাংশই ওমিক্রনে আক্রান্ত। পাশাপাশি দেশে দাপট দেখাচ্ছে ওমিক্রনের সাব-স্ট্রেনও।
এদিকে ধীরে ধীরে স্কুল, কলেজ খুলতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রও। ছোটদের পড়াশোনার স্বার্থে স্কুলগুলি খোলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হচ্ছে কেন্দ্রের তরফে। এ বিষয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তিও জারি হতে পারে খুব শীঘ্রই। পাশাপাশি দেশে চলছে টিকাকরণ। ইতিমধ্যেই দেশের ১৬৪ কোটিরও বেশি দেশবাসী পেয়েছেন টিকা।

কোরোনার আক্রমণে গোটা বাংলা জুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি। এই উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি হওয়া সত্ত্বেও মানুষ যেন পাত্তাই দিচ্ছেন না করোনাকে। বিশেষজ্ঞরা বার বার ভিড় এড়ানোর কথা বললেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজিত হচ্ছে মেলা।

মেলার তালিকায় রয়েছে গঙ্গা সাগরের মেলা, জয়দেব কেঁদুলির মেলা,চলবে পৌষ সংক্রান্তির মেলাও।


তাই আশংকা করা হচ্ছে যেখানে ভিড় বাড়বে সেখানেই বাড়তে পারে সংক্রমণ। তাই এরকম পরিস্থিতি জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। বাড়ি থেকে বের হবার আগে ১০ বার ভাবুন আপনার বের হবার নিতান্তই প্রয়োজন আছে কি না। কারণ সবথেকে যেটা চিন্তার বিষয় আঁকড়ামান ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেলে রাজ্যের হাসপাতাল গুলি পরে যাবে সমস্যায় ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে চিকিত্‍সা ব্যবস্থায়।

প্রসঙ্গত, সারা দেশে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ।বড় দিন ও নতুন বছরের লাগাম ছাড়া আনন্দের পর কলকতায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে একাধিক ব্যক্তিদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে জারি করেছে বিধিনিষেধ।

তবে বিধিনিষেধ জারি হলেও রাস্তায় দেখা যাচ্ছে মানুষ এখনো মাস্ক ছাড়াই বেড়িয়ে পড়ছেন বাইরে। একসাথে জটলা বেঁধে চলছে খোশ গল্প। বাজার হাটে দেখা যাচ্ছে প্রচন্ড ভীড়। যা করোনার ভীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সংক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

করোনার সময়, পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা সাগর মেলা  মাঘ মেলা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গঙ্গা সাগর মেলায় আসা চার সাধু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে নতুন বিপদ সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, গতকাল শর্তসাপেক্ষে গঙ্গাসাগর মেলার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট।

পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা সাগর মেলায় গত সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনার যে 112টি নমুনা নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে 4 জন সাধু পজিটিভ পাওয়া গেছে অর্থাত্‍ করোনায় আক্রান্ত পাওয়া গেছে।


এই মুহূর্তে এখানে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন কী অবস্থা হবে তা বলা যাচ্ছে না।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে মেলা আয়োজনে অনড় ছিলেন- অন্যদিকে করোনার সময় চিকিত্‍সকের স্বল্পতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, "কোভিড যেভাবে আসছে, যদি হাসপাতালে 75 জন ডাক্তার কোভিড আক্রান্ত হন, তবে আমরা কীভাবে চিকিত্সা করব।"

গঙ্গাসাগর মেলায় নিষেধাজ্ঞার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার আগে মমতার সরকার হলফনামা দিয়ে আদালতে বাধা দেয় এবং বলে যে মেলায় পরীক্ষা থেকে টিকা পর্যন্ত সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। করোনা ছড়াতে দেবে না, পরে শর্তসাপেক্ষে এই মেলার অনুমতি দেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছে যে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব নিশ্চিত করবেন যে মেলা চলাকালীন করোনার বিধি সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করা হয়েছে। আদালত তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যা নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নজর রাখবে।

করোনার সময়, গঙ্গা সাগর মেলা নিয়ে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, একই রকম উদ্বেগ রয়েছে মাঘ মেলা নিয়েও, যা 14 জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজ, ইউপিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচনের মরসুমে রাজ্য সরকার মেলা পিছিয়ে দেওয়ার সাহস দেখাতে না পারলেও এবার হাত তুলছেন মেলার আয়োজনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় হরিদ্বার মহাকুম্ভে করোনার প্রাদুর্ভাবের ঘটনা কে ভুলতে পারে! কিন্তু অনেকেই মনে করছেন ইউপি সরকার বা বাংলা সরকার কেউই এর থেকে কোনও শিক্ষা নেয়নি।


রাজ্যের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোটেই সুখকর নয়। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে থেকে অনেকে আসার কারণ সংক্রমণ আরও বাড়ছে বলে আগেই দাবি করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষিতেই এবার RT-PCR টেস্ট নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন তিনি।

জানিয়ে দিলেন, পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে গেলে করতেই হবে RT-PCR টেস্ট।

বাইরের রাজ্য থেকে অনেকেই আসছেন বাংলায়। কোভিড আবহে এইভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা অনেকেরই। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই RT-PCR টেস্ট বাধ্যতামূলক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের জন্য এই টেস্ট আবশ্যিক। যদিও যারা করোনা টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন, তাদেরও ক্ষেত্রেও RT-PCR টেস্ট বাধ্যতামূলক কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানান হয়নি। তবে মমতা জানিয়েছেন, আন্তঃরাজ্য যে সীমান্তগুলি আছে, সেখানে এই টেস্ট বাধ্যতামূলক। বেশি লোক না পাওয়া গেলেও ভলান্টিয়ার্স, স্থানীয় ছেলেমেয়েদের নিয়োগ করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।




এদিকে আজ রাজ্যের কোভিড আবহ নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অনেকেই কথা শুনছেন না, মাস্ক পরছেন না। রাস্তায় মাস্ক ছাড়া ঘুরছেন, শুধু কোথাও খেতে যাওয়ার আগে বা ঢোকার আগে মাস্ক পরে নিচ্ছেন নাহলে ঢুকতে পারবেন না। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বাংলার করোনা গ্রাফে যদি আগামী কয়েকদিনে উন্নতি না হয় তাহলে আরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। মমতার কথায়, আগামী ১৫ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মমতা অনুরোধ করে বলেন, হাতে গ্লাভস পরুন। গ্লাভস না থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। ছেলেরা যদি বাজারে বা কোথাও বেরোন তাহলে টুপি পরুন, মেয়েরা কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন।

দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে রাজ্যে। আগের দিন ১০ হাজার থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না দৈনিক সংক্রমণ। বুধবার সেটাই ১৪ হাজারে উঠে এল। তবে তাত্‍পর্যপূর্ণ ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃতের সংখ্যায় তেমন কোনো বড়োসড়ো পরিবর্তন ঘটেনি। এ দিন রাজ্যের ১৬টি জেলা মৃত্যুহীন।

স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ২২ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩২৩।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৪৩৮ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট কোভিডজয়ীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৪৫৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৯ হাজার ৮২৭ জন। রাজ্যে মৃত্যুহার রয়েছে ১.১৮ শতাংশে।

রাজ্যে বর্তমানে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৩৩ হাজার ৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ১৪৮ জন সক্রিয় রোগী বেড়েছে রাজ্যে। রাজ্যে সুস্থতার হার রয়েছে ৯৬.৮৫ শতাংশ।

দৈনিক সংক্রমণের হার সামান্য কমল

সংক্রমণের দাপট কতটা রয়েছে সেটা ভালো করে বুঝতে গেলে দৈনিক সংক্রমণের হারের দিকে তাকাতে হয়। প্রতি ১০০ টেস্টে কত জনের রিপোর্ট পজিটিভ হচ্ছে, সেটাকেই সংক্রমণের হার বলে।

গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সংক্রমণের হার অনেক বেড়েছে। এই সময়সীমায় রাজ্যে ৬০ হাজার ৫৫১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ফলত, এ দিন সংক্রমণের হার ছিল ২৩.১৭ শতাংশ।

কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণার পরিস্থিতি

কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণা, দু'জায়গাতেই এ দিন সুস্থতা বেড়েছে। অন্য দিকে, কলকাতায় নতুন করে আক্রান্ত এ দিন ৬ হাজারের বেশি।

মহানগরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ১৭০ এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২ হাজার ৫৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই দুই জেলায় সুস্থ হয়েছেন যথাক্রমে ৩ হাজার ২১৯ এবং ১ হাজার ২০ জন। কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ জন করে কোভিডরোগীর মৃত্যু হয়েছে।

কলকাতায় এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৯, উত্তর ২৪ পরগণায় মোট আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৬১। কলকাতায় বর্তমানে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ১৫ হাজার ৬৮৫ জন এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ৫ হাজার ৫৫৩ জন। দুই জেলায় মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ৫৩৩৭ এবং ৫০৩৩ জনের।

রাজ্যের বাকি জেলার চিত্র

গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের বাকি ২১টি জেলায় সংক্রমণ কেমন ছিল, দেখে নিন।

১) আলিপুরদুয়ার

নতুন করে আক্রান্ত -৯

সুস্থ হলেন -৭

২) কোচবিহার

নতুন করে আক্রান্ত -১২

সুস্থ হলেন -২০

৩) দার্জিলিং

নতুন করে আক্রান্ত -১৯৩

সুস্থ হলেন -৫৪

৪) কালিম্পং

নতুন করে আক্রান্ত -৩

সুস্থ হলেন -৫

৫) জলপাইগুড়ি

নতুন করে আক্রান্ত -৬১

সুস্থ হলেন -৩৪

৬) উত্তর দিনাজপুর

নতুন করে আক্রান্ত -৪৫

সুস্থ হলেন -১৩

৭) দক্ষিণ দিনাজপুর

নতুন করে আক্রান্ত -৩৫

সুস্থ হলেন -১৮

৮) মালদহ

নতুন করে আক্রান্ত -১২৫

সুস্থ হলেন -৬১

৯) মুর্শিদাবাদ

নতুন করে আক্রান্ত -১৮৭

সুস্থ হলেন -৩৩

১০) নদিয়া

নতুন করে আক্রান্ত -২৪৯

সুস্থ হলেন -১১১

১১) বীরভূম

নতুন করে আক্রান্ত -৩৯২

সুস্থ হলেন -১৪৫

১২) পশ্চিম বর্ধমান

নতুন করে আক্রান্ত -৫৫৬

সুস্থ হলেন -২৭৩

১৩) পূর্ব বর্ধমান

নতুন করে আক্রান্ত-২৩৩

সুস্থ হলেন -৬৬

১৪) বাঁকুড়া

নতুন করে আক্রান্ত -১০৮

সুস্থ হলেন -৪০

১৫) পুরুলিয়া

নতুন করে আক্রান্ত -১০৪

সুস্থ হলেন -২০

১৬) পূর্ব মেদিনীপুর

নতুন করে আক্রান্ত -১০০

সুস্থ হলেন -৪৪

১৭) পশ্চিম মেদিনীপুর

নতুন করে আক্রান্ত-১৬৩

সুস্থ হলেন -৬৮

১৮) ঝাড়গ্রাম

নতুন করে আক্রান্ত -২৪

সুস্থ হলেন- ১৫

১৯) দক্ষিণ ২৪ পরগণা

নতুন করে আক্রান্ত -৭৬৩

সুস্থ হলেন -৩২৫

২০) হুগলি

নতুন করে আক্রান্ত -৬৭০

সুস্থ হলেন -২৯৫

২১) হাওড়া

নতুন করে আক্রান্ত -১,২৮০

সুস্থ হলেন -৫৫২

উল্লিখিত জেলাগুলির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ জন করে কোভিডরোগীর মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং হুগলিতে। হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২ জন করে কোভিডরোগী মারা গিয়েছেন।

 


ফের লাগামছাড়া গতিতে করোনা সংক্রমণ (Covi 19 in Europe) ছড়িয়ে পড়ছে ইংল্যান্ড ও আমেরিকা-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। যে সংক্রমণের পিছনে কাজ করছে করোনার ওমিক্রন প্রজাতি (Omicron Variant)। শুক্রবার এক দিনে ব্রিটেনে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৯৫ হাজারে।

লন্ডন ও স্কটল্যান্ডে এখন ডেল্টার সংক্রমণকে অতিক্রম করে গিয়েছে ওমিক্রনের সংক্রমণ। বৃহস্পতিবারে যেখানে দৈনিক ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৯১ সেখানে শুক্রবার দৈনিক ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০১। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৬৫ জন ওমিক্রন আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন। যদিও এই প্রজাতির সংক্রমণে তেমন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রিটেনে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য কমে হয়েছে ১১১।

ভয়ানক অবস্থা আমেরিকাতেও। সেখানেও ওমিক্রনের সংক্রমণ মাথাচাড়া দিয়েছে। সামনেই শীতের ছুটি, তার মুখে এই বিপুল সংক্রমণ নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। আমেরিকার সরকারের তরফ থেকে সকলকে টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, যেন ২০২০ সালের শেষের মতো একই চিত্র তৈরি হচ্ছে ২০২১ সালেও। ইতিমধ্যে এনএফএল-এর ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে। একাধিক বড়দিন সঙ্গীতানুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। ইতিমধ্যে আমেরিকার ৩৮টি প্রদেশে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটেনের মতো আমেরিকাতেও ডেল্টা প্রজাতির থেকেও অত্যাধিক শক্তিতে ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন ভাইরাস। নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে ওমিক্রনের অত্যাধিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে, মোট আক্রান্তের ১৩ শতাংশই আক্রান্ত হচ্ছেন ওমিক্রন প্রজাতিতে।

এ দিকে শুক্রবার ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, জার্মানি ও ডেনমার্ক করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির দেশ। এসেই কারণে ওই দেশগুলি থেকে আগতদের কোয়ারেন্টিন করার বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়মও করেছে ফ্রান্স। এ ছাড়াও সে দেশে নরওয়ে, লেবানন থেকে আগত যাত্রীদেরও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

 





ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন। গবেষণায় এমনটাই দাবি রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। রুশ বিজ্ঞানীদের মত, ওমিক্রন ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন নিষ্ক্রিয় করতে পারবে স্পুটনিক ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিলে কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে।শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে শরীরে। ওমিক্রনকে ঠেকাতে ভ্যাকসিনও পিছু হটছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, করোনার এই প্রজাতি যেভাবে রূপ বদলাচ্ছে তাতে আগামী দিনে ভ্যাকসিন কার্যকর নাও হতে পারে। তবে মেসেঞ্জার আরএনএ টেকনোলজিতে তৈরি ভ্যাকসিন ওমিক্রন ঠেকাতে পারবে বলে আশা করেছেন বিজ্ঞানীরা। রাশিয়ার গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে স্পুটনিক ভি। এই সংস্থার দাবি, দুই ডোজের স্পুটনিক ভি এবং সিঙ্গল ডোজ স্পুটনিক লাইট ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। সেক্ষেত্রে যদি বুস্টার ডোজ নেওয়া হয় তাহলে কাজ হবে আরও দ্রুত। অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি হবে শরীরে। কীভাবে কাজ করতে পারে রুশ টিকা? অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন। শরীরে ঢুকলে করোনার মতো স্পাইক প্রোটিন তৈরি করে শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে তোলে। মোডার্না ও ফাইজারের ভ্যাকসিনের ডোজও শরীরে ঢুকলে স্পাইক প্রোটিনের অনুরূপ প্রোটিন তৈরি করে কিন্তু স্পুটনিকের মতো নয়। কারণ মোডার্না-ফাইজারের ভ্যাকসিন শরীরে ঢুকে আরএনএ (সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড) প্রোটিন তৈরি করে আর স্পুটনিক বানায় ডিএনএ (ডবল-স্ট্র্যান্ডেড)। স্পুটনিক ভ্যাকসিন যে প্রোটিন বানায় তার মধ্যে ভাইরাসের জেনেটিক ইনফরমেশন বা জিনগত তথ্য থাকে। এই প্রোটিনের খোঁজ পেলেই শরীরের ইমিউন কোষ (বি-কোষ বা টি-কোষ) সক্রিয় হয়ে প্রোটিনের আগাগোড়া ভাল করে চিনে রাখে। সংক্রামক ভাইরাল প্রোটিন ঠিক কেমন, তার বিরুদ্ধে কেমনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে তার একটা ছকও সাজিয়ে নেয়। রুশ ভাইরোলজিস্টরা দুরকম অ্যাডেনোভাইরাস (মামুলি সর্দি-কাশির ভাইরাস, কম সংক্রামক)দিয়ে ভেক্টর ভ্যাকসিন বানিয়েছেন। এডি২৬ (AD26) ও এডি৫ (AD5)—এই দুই রকম অ্যাডেনোভাইরাসের ডিএনএ-র সঙ্গে করোনার স্পাইক প্রোটিনের টুকরো বিশেষভাবে মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। করোনার স্পাইক প্রোটিন প্রাণঘাতী, তাই এই প্রোটিন সরাসরি শরীরে ঢুকলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। ভাইরাল প্রোটিন সংখ্যায় বেড়ে কোষগুলোকে আক্রমণ করবে। তাই অ্যাডেনোভাইরাসের সঙ্গে যদি ভাইরাল প্রোটিন মিশিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তার সংক্রামক ক্ষমতা কমে যাবে। আর অ্যাডেনোভাইরাসকেও নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয় যাতে তারও কোনওরকম খারাপ প্রভাব মানুষের শরীরে না পড়ে। দু'রকম অ্যাডেনোভাইরাস আর করোনার স্পাইক মিলে যে ভ্যাকসিন ডিজাইন করেছেন রুশ ভাইরোলজিস্টরা তার কাজ দুটো—প্রথমত শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করা, দ্বিতীয়ত—অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ করা। বিজ্ঞানীদের আশা ওমিক্রনের মতো অতি সংক্রামক স্ট্রেনকে নিষ্ক্রিয় করতে স্পুটনিক ভি বিশেষভাবে কার্যকরী হবে।