স্বস্তি দিয়ে আগের দিনের তুলনায় অনেকটাই কমেছে কোভিড সংক্রমণের গ্রাফ। পাশাপাশি, দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে।
সোমবার রাজ্যে করোনার সংক্রমণ নেমে এসেছিল ৪৩৬ এ। কিন্তু দুশ্চিন্তা বজায় রেখে রাজ্যে মৃত্যু হয়েছিল ৬ জনের। সেই তুলনায় মঙ্গলবার রাজ্যে সংক্রমণ (Corona New Cases) কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮৮৩। তবে গত কদিন ধরে মৃত্যুসংখ্যা (Death) নিয়ে যে উদ্বেগ চলছিল, তাতে এদিন কিছুটা লাগাম পরেছে।
এদিন মৃত্যুসংখ্যা কমে হয়েছে ৪। ফলে সামগ্রিকভাবে করোনা-চিত্রের প্রবণতা কিছুটা হলেও নিম্নমুখী। যদিও এতে স্বস্তির কিছু নেই। কারণ, একজনেরও মৃত্যু কাঙ্খিত নয়। তাই একদিকে যেমন সংক্রমণ কমছে, অন্যদিকে মৃত্যুসংখ্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনাটাই রাজ্যের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে করোনা-চিত্রে স্বস্তিদায়ক জায়গা হয়ে উঠছে সুস্থতা (Recovery)। গত কদিনে একদিকে যেমন সংক্রমণের হার কমছে, পাশাপাশি সুস্থতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে চলেছে। তার জেরে সক্রিয় আক্রান্তের (Active Cases) সংখ্যা আশা জাগিয়ে ভালোরকমই কমে আসছে। মনে থাকতে পারে, কদিন আগেও এই সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছিল ৩০ হাজারে। সেটা কমতে কমতে মঙ্গলবার হয়েছে ১২২৫৪। কারণ, মঙ্গলবারই যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৮৩, সেখানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন, এমন মানুষের সংখ্যা ২১১৮।
আরও একটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে গত কদিনে। তা হল হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও কমেছে। যেমন এদিনের ১২২৫৪ জন সক্রিয় আক্রান্তের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন মাত্র ৩৩৪ জন। বাকি ১১৯২০ জনই বাড়িতে থেকেই চিকিত্সা করাচ্ছেন। কারণ, বিশেষজ্ঞরা আগাগোড়াই বলে আসছেন, এবারের করোনা ততটা প্রাণঘাতী নয়।
সোমবার করোনার নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেই জায়গায় এদিন তা বেড়ে ১২ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এদিন পজিটিভিটি রেট ছিল ৭.৪৮ শতাংশ।
Booster Dose: দুদিন আগেই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানান, স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে করোনা টিকাকরণের বিশেষ কর্মসূচি শুরু করছে ভারত সরকার। বিনামূল্যে বুস্টার টিকাকরণের জন্য ৭৫ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র
দেশে দৈনিক সংক্রমণ সামান্য কমলেও চিন্তা বাড়াচ্ছে মৃতের সংখ্যা।
তবে অ্যাকটিভ কেসও নিম্নমুখী। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৫১ হাজার ২০৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬২৭ জনের।
এদিকে ধীরে ধীরে স্কুল, কলেজ খুলতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রও। ছোটদের পড়াশোনার স্বার্থে স্কুলগুলি খোলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হচ্ছে কেন্দ্রের তরফে। এ বিষয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তিও জারি হতে পারে খুব শীঘ্রই। পাশাপাশি দেশে চলছে টিকাকরণ। ইতিমধ্যেই দেশের ১৬৪ কোটিরও বেশি দেশবাসী পেয়েছেন টিকা।
মেলার তালিকায় রয়েছে গঙ্গা সাগরের মেলা, জয়দেব কেঁদুলির মেলা,চলবে পৌষ সংক্রান্তির মেলাও।
প্রসঙ্গত, সারা দেশে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ।বড় দিন ও নতুন বছরের লাগাম ছাড়া আনন্দের পর কলকতায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে একাধিক ব্যক্তিদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে জারি করেছে বিধিনিষেধ।
তবে বিধিনিষেধ জারি হলেও রাস্তায় দেখা যাচ্ছে মানুষ এখনো মাস্ক ছাড়াই বেড়িয়ে পড়ছেন বাইরে। একসাথে জটলা বেঁধে চলছে খোশ গল্প। বাজার হাটে দেখা যাচ্ছে প্রচন্ড ভীড়। যা করোনার ভীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সংক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা সাগর মেলায় গত সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনার যে 112টি নমুনা নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে 4 জন সাধু পজিটিভ পাওয়া গেছে অর্থাত্ করোনায় আক্রান্ত পাওয়া গেছে।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে মেলা আয়োজনে অনড় ছিলেন- অন্যদিকে করোনার সময় চিকিত্সকের স্বল্পতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, "কোভিড যেভাবে আসছে, যদি হাসপাতালে 75 জন ডাক্তার কোভিড আক্রান্ত হন, তবে আমরা কীভাবে চিকিত্সা করব।"
গঙ্গাসাগর মেলায় নিষেধাজ্ঞার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি পিটিশন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার আগে মমতার সরকার হলফনামা দিয়ে আদালতে বাধা দেয় এবং বলে যে মেলায় পরীক্ষা থেকে টিকা পর্যন্ত সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। করোনা ছড়াতে দেবে না, পরে শর্তসাপেক্ষে এই মেলার অনুমতি দেন হাইকোর্ট।
আদালত বলেছে যে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র সচিব নিশ্চিত করবেন যে মেলা চলাকালীন করোনার বিধি সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করা হয়েছে। আদালত তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে, যা নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নজর রাখবে।
করোনার সময়, গঙ্গা সাগর মেলা নিয়ে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, একই রকম উদ্বেগ রয়েছে মাঘ মেলা নিয়েও, যা 14 জানুয়ারি থেকে প্রয়াগরাজ, ইউপিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্বাচনের মরসুমে রাজ্য সরকার মেলা পিছিয়ে দেওয়ার সাহস দেখাতে না পারলেও এবার হাত তুলছেন মেলার আয়োজনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় হরিদ্বার মহাকুম্ভে করোনার প্রাদুর্ভাবের ঘটনা কে ভুলতে পারে! কিন্তু অনেকেই মনে করছেন ইউপি সরকার বা বাংলা সরকার কেউই এর থেকে কোনও শিক্ষা নেয়নি।
বাইরের রাজ্য থেকে অনেকেই আসছেন বাংলায়। কোভিড আবহে এইভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা অনেকেরই। তাই সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই RT-PCR টেস্ট বাধ্যতামূলক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের জন্য এই টেস্ট আবশ্যিক। যদিও যারা করোনা টিকার দুটি ডোজ নিয়েছেন, তাদেরও ক্ষেত্রেও RT-PCR টেস্ট বাধ্যতামূলক কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানান হয়নি। তবে মমতা জানিয়েছেন, আন্তঃরাজ্য যে সীমান্তগুলি আছে, সেখানে এই টেস্ট বাধ্যতামূলক। বেশি লোক না পাওয়া গেলেও ভলান্টিয়ার্স, স্থানীয় ছেলেমেয়েদের নিয়োগ করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে আজ রাজ্যের কোভিড আবহ নিয়ে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অনেকেই কথা শুনছেন না, মাস্ক পরছেন না। রাস্তায় মাস্ক ছাড়া ঘুরছেন, শুধু কোথাও খেতে যাওয়ার আগে বা ঢোকার আগে মাস্ক পরে নিচ্ছেন নাহলে ঢুকতে পারবেন না। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বাংলার করোনা গ্রাফে যদি আগামী কয়েকদিনে উন্নতি না হয় তাহলে আরও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। মমতার কথায়, আগামী ১৫ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মমতা অনুরোধ করে বলেন, হাতে গ্লাভস পরুন। গ্লাভস না থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। ছেলেরা যদি বাজারে বা কোথাও বেরোন তাহলে টুপি পরুন, মেয়েরা কাপড় দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন।
স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় গোটা রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ২২ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩২৩।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৪৩৮ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট কোভিডজয়ীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ লক্ষ ২৫ হাজার ৪৫৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৯ হাজার ৮২৭ জন। রাজ্যে মৃত্যুহার রয়েছে ১.১৮ শতাংশে।
রাজ্যে বর্তমানে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৩৩ হাজার ৪২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ১৪৮ জন সক্রিয় রোগী বেড়েছে রাজ্যে। রাজ্যে সুস্থতার হার রয়েছে ৯৬.৮৫ শতাংশ।
দৈনিক সংক্রমণের হার সামান্য কমল
সংক্রমণের দাপট কতটা রয়েছে সেটা ভালো করে বুঝতে গেলে দৈনিক সংক্রমণের হারের দিকে তাকাতে হয়। প্রতি ১০০ টেস্টে কত জনের রিপোর্ট পজিটিভ হচ্ছে, সেটাকেই সংক্রমণের হার বলে।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সংক্রমণের হার অনেক বেড়েছে। এই সময়সীমায় রাজ্যে ৬০ হাজার ৫৫১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ফলত, এ দিন সংক্রমণের হার ছিল ২৩.১৭ শতাংশ।
কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগণার পরিস্থিতি
কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণা, দু'জায়গাতেই এ দিন সুস্থতা বেড়েছে। অন্য দিকে, কলকাতায় নতুন করে আক্রান্ত এ দিন ৬ হাজারের বেশি।
মহানগরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ১৭০ এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২ হাজার ৫৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই দুই জেলায় সুস্থ হয়েছেন যথাক্রমে ৩ হাজার ২১৯ এবং ১ হাজার ২০ জন। কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ জন করে কোভিডরোগীর মৃত্যু হয়েছে।
কলকাতায় এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৯, উত্তর ২৪ পরগণায় মোট আক্রান্ত ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৬১। কলকাতায় বর্তমানে সক্রিয় রোগী রয়েছেন ১৫ হাজার ৬৮৫ জন এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ৫ হাজার ৫৫৩ জন। দুই জেলায় মৃত্যু হয়েছে যথাক্রমে ৫৩৩৭ এবং ৫০৩৩ জনের।
রাজ্যের বাকি জেলার চিত্র
গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গের বাকি ২১টি জেলায় সংক্রমণ কেমন ছিল, দেখে নিন।
১) আলিপুরদুয়ার
নতুন করে আক্রান্ত -৯
সুস্থ হলেন -৭
২) কোচবিহার
নতুন করে আক্রান্ত -১২
সুস্থ হলেন -২০
৩) দার্জিলিং
নতুন করে আক্রান্ত -১৯৩
সুস্থ হলেন -৫৪
৪) কালিম্পং
নতুন করে আক্রান্ত -৩
সুস্থ হলেন -৫
৫) জলপাইগুড়ি
নতুন করে আক্রান্ত -৬১
সুস্থ হলেন -৩৪
৬) উত্তর দিনাজপুর
নতুন করে আক্রান্ত -৪৫
সুস্থ হলেন -১৩
৭) দক্ষিণ দিনাজপুর
নতুন করে আক্রান্ত -৩৫
সুস্থ হলেন -১৮
৮) মালদহ
নতুন করে আক্রান্ত -১২৫
সুস্থ হলেন -৬১
৯) মুর্শিদাবাদ
নতুন করে আক্রান্ত -১৮৭
সুস্থ হলেন -৩৩
১০) নদিয়া
নতুন করে আক্রান্ত -২৪৯
সুস্থ হলেন -১১১
১১) বীরভূম
নতুন করে আক্রান্ত -৩৯২
সুস্থ হলেন -১৪৫
১২) পশ্চিম বর্ধমান
নতুন করে আক্রান্ত -৫৫৬
সুস্থ হলেন -২৭৩
১৩) পূর্ব বর্ধমান
নতুন করে আক্রান্ত-২৩৩
সুস্থ হলেন -৬৬
১৪) বাঁকুড়া
নতুন করে আক্রান্ত -১০৮
সুস্থ হলেন -৪০
১৫) পুরুলিয়া
নতুন করে আক্রান্ত -১০৪
সুস্থ হলেন -২০
১৬) পূর্ব মেদিনীপুর
নতুন করে আক্রান্ত -১০০
সুস্থ হলেন -৪৪
১৭) পশ্চিম মেদিনীপুর
নতুন করে আক্রান্ত-১৬৩
সুস্থ হলেন -৬৮
১৮) ঝাড়গ্রাম
নতুন করে আক্রান্ত -২৪
সুস্থ হলেন- ১৫
১৯) দক্ষিণ ২৪ পরগণা
নতুন করে আক্রান্ত -৭৬৩
সুস্থ হলেন -৩২৫
২০) হুগলি
নতুন করে আক্রান্ত -৬৭০
সুস্থ হলেন -২৯৫
২১) হাওড়া
নতুন করে আক্রান্ত -১,২৮০
সুস্থ হলেন -৫৫২
উল্লিখিত জেলাগুলির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ জন করে কোভিডরোগীর মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং হুগলিতে। হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২ জন করে কোভিডরোগী মারা গিয়েছেন।
লন্ডন ও স্কটল্যান্ডে এখন ডেল্টার সংক্রমণকে অতিক্রম করে গিয়েছে ওমিক্রনের সংক্রমণ। বৃহস্পতিবারে যেখানে দৈনিক ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৯১ সেখানে শুক্রবার দৈনিক ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০১। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৬৫ জন ওমিক্রন আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি আছেন। যদিও এই প্রজাতির সংক্রমণে তেমন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রিটেনে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য কমে হয়েছে ১১১।
ভয়ানক অবস্থা আমেরিকাতেও। সেখানেও ওমিক্রনের সংক্রমণ মাথাচাড়া দিয়েছে। সামনেই শীতের ছুটি, তার মুখে এই বিপুল সংক্রমণ নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। আমেরিকার সরকারের তরফ থেকে সকলকে টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, যেন ২০২০ সালের শেষের মতো একই চিত্র তৈরি হচ্ছে ২০২১ সালেও। ইতিমধ্যে এনএফএল-এর ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে। একাধিক বড়দিন সঙ্গীতানুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। ইতিমধ্যে আমেরিকার ৩৮টি প্রদেশে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটেনের মতো আমেরিকাতেও ডেল্টা প্রজাতির থেকেও অত্যাধিক শক্তিতে ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন ভাইরাস। নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে ওমিক্রনের অত্যাধিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে, মোট আক্রান্তের ১৩ শতাংশই আক্রান্ত হচ্ছেন ওমিক্রন প্রজাতিতে।
এ দিকে শুক্রবার ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, জার্মানি ও ডেনমার্ক করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির দেশ। এসেই কারণে ওই দেশগুলি থেকে আগতদের কোয়ারেন্টিন করার বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়মও করেছে ফ্রান্স। এ ছাড়াও সে দেশে নরওয়ে, লেবানন থেকে আগত যাত্রীদেরও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
ভয়ানক অবস্থা আমেরিকাতেও। সেখানেও ওমিক্রনের সংক্রমণ মাথাচাড়া দিয়েছে। সামনেই শীতের ছুটি, তার মুখে এই বিপুল সংক্রমণ নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। আমেরিকার সরকারের তরফ থেকে সকলকে টিকা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, যেন ২০২০ সালের শেষের মতো একই চিত্র তৈরি হচ্ছে ২০২১ সালেও। ইতিমধ্যে এনএফএল-এর ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে করোনা সংক্রমণের কারণে। একাধিক বড়দিন সঙ্গীতানুষ্ঠান বাতিল হয়েছে। ইতিমধ্যে আমেরিকার ৩৮টি প্রদেশে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটেনের মতো আমেরিকাতেও ডেল্টা প্রজাতির থেকেও অত্যাধিক শক্তিতে ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন ভাইরাস। নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে ওমিক্রনের অত্যাধিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে, মোট আক্রান্তের ১৩ শতাংশই আক্রান্ত হচ্ছেন ওমিক্রন প্রজাতিতে।
এ দিকে শুক্রবার ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, জার্মানি ও ডেনমার্ক করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির দেশ। এসেই কারণে ওই দেশগুলি থেকে আগতদের কোয়ারেন্টিন করার বিষয়ে নির্দিষ্ট নিয়মও করেছে ফ্রান্স। এ ছাড়াও সে দেশে নরওয়ে, লেবানন থেকে আগত যাত্রীদেরও কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
ওমিক্রন ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন। গবেষণায় এমনটাই দাবি রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের। রুশ বিজ্ঞানীদের মত, ওমিক্রন ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন নিষ্ক্রিয় করতে পারবে স্পুটনিক ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিলে কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে।শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে শরীরে। ওমিক্রনকে ঠেকাতে ভ্যাকসিনও পিছু হটছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, করোনার এই প্রজাতি যেভাবে রূপ বদলাচ্ছে তাতে আগামী দিনে ভ্যাকসিন কার্যকর নাও হতে পারে। তবে মেসেঞ্জার আরএনএ টেকনোলজিতে তৈরি ভ্যাকসিন ওমিক্রন ঠেকাতে পারবে বলে আশা করেছেন বিজ্ঞানীরা। রাশিয়ার গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে স্পুটনিক ভি। এই সংস্থার দাবি, দুই ডোজের স্পুটনিক ভি এবং সিঙ্গল ডোজ স্পুটনিক লাইট ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে। সেক্ষেত্রে যদি বুস্টার ডোজ নেওয়া হয় তাহলে কাজ হবে আরও দ্রুত। অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি হবে শরীরে। কীভাবে কাজ করতে পারে রুশ টিকা? অ্যাডেনোভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে এই ভ্যাকসিন। শরীরে ঢুকলে করোনার মতো স্পাইক প্রোটিন তৈরি করে শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে তোলে। মোডার্না ও ফাইজারের ভ্যাকসিনের ডোজও শরীরে ঢুকলে স্পাইক প্রোটিনের অনুরূপ প্রোটিন তৈরি করে কিন্তু স্পুটনিকের মতো নয়। কারণ মোডার্না-ফাইজারের ভ্যাকসিন শরীরে ঢুকে আরএনএ (সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড) প্রোটিন তৈরি করে আর স্পুটনিক বানায় ডিএনএ (ডবল-স্ট্র্যান্ডেড)। স্পুটনিক ভ্যাকসিন যে প্রোটিন বানায় তার মধ্যে ভাইরাসের জেনেটিক ইনফরমেশন বা জিনগত তথ্য থাকে। এই প্রোটিনের খোঁজ পেলেই শরীরের ইমিউন কোষ (বি-কোষ বা টি-কোষ) সক্রিয় হয়ে প্রোটিনের আগাগোড়া ভাল করে চিনে রাখে। সংক্রামক ভাইরাল প্রোটিন ঠিক কেমন, তার বিরুদ্ধে কেমনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে তার একটা ছকও সাজিয়ে নেয়। রুশ ভাইরোলজিস্টরা দুরকম অ্যাডেনোভাইরাস (মামুলি সর্দি-কাশির ভাইরাস, কম সংক্রামক)দিয়ে ভেক্টর ভ্যাকসিন বানিয়েছেন। এডি২৬ (AD26) ও এডি৫ (AD5)—এই দুই রকম অ্যাডেনোভাইরাসের ডিএনএ-র সঙ্গে করোনার স্পাইক প্রোটিনের টুকরো বিশেষভাবে মিশিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। করোনার স্পাইক প্রোটিন প্রাণঘাতী, তাই এই প্রোটিন সরাসরি শরীরে ঢুকলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। ভাইরাল প্রোটিন সংখ্যায় বেড়ে কোষগুলোকে আক্রমণ করবে। তাই অ্যাডেনোভাইরাসের সঙ্গে যদি ভাইরাল প্রোটিন মিশিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তার সংক্রামক ক্ষমতা কমে যাবে। আর অ্যাডেনোভাইরাসকেও নিষ্ক্রিয় করে নেওয়া হয় যাতে তারও কোনওরকম খারাপ প্রভাব মানুষের শরীরে না পড়ে। দু'রকম অ্যাডেনোভাইরাস আর করোনার স্পাইক মিলে যে ভ্যাকসিন ডিজাইন করেছেন রুশ ভাইরোলজিস্টরা তার কাজ দুটো—প্রথমত শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করা, দ্বিতীয়ত—অ্যান্টিবডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ করা। বিজ্ঞানীদের আশা ওমিক্রনের মতো অতি সংক্রামক স্ট্রেনকে নিষ্ক্রিয় করতে স্পুটনিক ভি বিশেষভাবে কার্যকরী হবে।
