হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই মহালয়ার পবিত্র তিথি। এই পুণ্যতিথিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান ও কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিতে প্রতি বছরই লক্ষাধিক মানুষের ঢল নামে। প্রতিবারের মতো এবারও ভক্তদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বছর মহালয়ার পুণ্যস্নানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কা।
কয়েকদিন আগে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ও পূর্ণিমার কোটালের যৌথ প্রভাবে গঙ্গাসাগরের ১ থেকে ৬ নম্বর স্নানঘাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সমুদ্রের জলের প্রচণ্ড তোড়ে ঘাটের মূল কাঠামো ধসে পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা কংক্রিটের স্ল্যাব ও সাল বল্লার খুঁটি। জোয়ারের জলে এগুলি ডুবে গেলে পুণ্যার্থীদের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও কোথাও পড়ে রয়েছে বিদ্যুতের ভারী খুঁটি, আবার কোথাও উপড়ে পড়া বিশাল গাছ। ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে ঢালাইয়ের রাস্তা। ফলে পুরো এলাকা কার্যত চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মহালয়ার মতো বড় জনসমাগমে পুণ্যার্থীদের নিরাপদে স্নান করানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘাটগুলির এই দুরবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও চিন্তায় রয়েছেন।
তবে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির মণ্ডল-৪-এর সভাপতি পিনাকী মণ্ডল। খুব শীঘ্রই স্থায়ী সমাধান করে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত সুগম করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
এখন দেখার বিষয়, মহালয়ার পুণ্যলগ্নে প্রশাসনের তৎপরতায় এই সংকট কতটা দ্রুত মোকাবিলা করা যায় এবং লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours