দীপক বর্মণের স্পষ্ট বার্তা, স্কুলগুলিতে যেন কোনওভাবেই মিড-ডে মিল বন্ধ না হয়। তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে। মিড ডে মিলের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত স্কুলে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছে টাকা। এছাড়া, রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোরও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।


ফান্ডের অভাব', 'ভাতা বন্ধ'...মিড-ডে মিল নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী, দিলেন কড়া বার্তাও
দীপক বর্মণ

 রাজ্যের কোনও স্কুলেই যেন বন্ধ না হয় মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal)। কড়া নির্দেশ দিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ (Dipak Barman)। বরাদ্দ করা হল কোটি কোটি টাকাও। দিন কয়েক আগেই গড়িয়ার একটি স্কুলে মিড-ডে মিল বন্ধের খবর সামনে আসে। ফান্ডের অভাবে মিড-ডে মিল বন্ধের অভিযোগ উঠেছিল। প্রথম এই খবর টিভি৯ বাংলাতেই সম্প্রচারিত হয়। শুধু গড়িয়া (Garia School Mid-Day Meal) নয় দমদমের একটি স্কুলেও একইভাবে মিড-ডে মিল বন্ধের খবরে শোরগোল পড়ে যায়। এরপরই তৎপর হয় প্রশাসন। সঙ্গে সঙ্গে মিড-ডে মিল চালুর ব্যবস্থা করা হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। তবে, রাজ্যে এখনও এমন বহু স্কুল রয়েছে যেখানে মিড-ডে মিল নিয়ে নানারকম সমস্যার অভিযোগ উঠে আসছে। যেমন- বরাদ্দ, রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা ইত্যাদি। মিড-মিল নিয়ে ওঠা সব প্রশ্নের এবার উত্তর দিলেন মন্ত্রী দীপক বর্মণ। একইসঙ্গে যাতে মিড-ডে মিল নিয়ে আর কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া বার্তা দিলেন তিনি।


পুজোর আগেই রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা 
দীপক বর্মণের স্পষ্ট বার্তা, স্কুলগুলিতে যেন কোনওভাবেই মিড-ডে মিল বন্ধ না হয়। তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে। মিড ডে মিলের জন্য নভেম্বর পর্যন্ত স্কুলে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছে টাকা। এছাড়া, রাঁধুনিদের বকেয়া টাকা দ্রুত মেটানোরও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। দীপক বর্মণ জানিয়েছেন, পুজোর আগেই সব বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৯০০ কোটির বেশি বরাদ্দ করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর।


বন্দে ভারতের দিকে বন্দুক তাক করে জওয়ান! হাওড়া স্টেশন ঘিরে ফেলল NSG, উত্তেজনায় বাড়ছে রক্তচাপ, কী হল তারপর?
কী বললেন দীপক বর্মণ?
স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, “আমাদের পিএম পোষণ যে প্রকল্পটি আছে, সেই প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আমার হাতে যা তথ্য রয়েছে, তাতে নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের রাঁধুনিদের যে অর্থের প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য সেই অর্থ আমরা বরাদ্দ করেছি। সেটা হল ৪২৪ কোটি টাকা। রান্নার যে খরচ রয়েছে তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছে। তা হল ৫৭৩ কোটি টাকা। সর্বসাকুল্যে ৯৯৭ কোটি টাকা আমাদের দফতর থেকে দেওয়া হয়েছে। তাতে অক্টোবর পর্যন্ত সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”


উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই টিভি৯ বাংলা পৌঁছে গিয়েছিল গড়িয়ার বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠে। দেখা যায়, সেখানে টানা তিনদিন ধরে মিড-ডে মিল (Mid-Day Meal) বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ করেছিলেন,তিন মাস ধরে স্কুলে আসছে না ফান্ড। ধার করেই এতদিন ধরে মিড-ডে মিলের রান্না চলছিল। কিন্তু, ধার এতটাই বেড়ে যায় যে শেষপর্যন্ত মিড-ডে মিল (Garia School Mid-Day Meal) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। টিভি৯ বাংলায় এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই আশ্বাস দিয়েছিলেন। তারপরই স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলা আধিকারিক। স্কুল কর্তৃপক্ষকে তারা জানায়, দুই-তিনদিনের মধ্যে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে, এখনই যেন মিড-ডে মিল চালু করে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারপরই চালু হয় মিড-ডে মিল। আবারও হাসি ফোটে পড়ুয়াদের মুখে। এই পরিস্থিতি যাতে রাজ্যের কোনও স্কুলে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই কড়া পদক্ষেপ করল স্কুল শিক্ষা দফতর।


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours