ট্রাফিক আইন ভাঙার পর দিনের পর দিন ই-চালানের (e-Challan) টাকা না মেটানোর দিন হয়তো এবার শেষ হতে চলেছে। বকেয়া জরিমানার বিপুল টাকা আদায় করতে এবার ইলেকট্রিক বিলের সঙ্গে তা জুড়ে দেওয়ার এক অভিনব প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বিচারপতি জে. বি. পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে ট্রাফিক আইন অমান্য ও বকেয়া জরিমানা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে শীর্ষ আদালত লক্ষ্য করে, সারা দেশে নিয়মভঙ্গকারীদের কাছে হাজার হাজার কোটি টাকার ই-চালান বকেয়া পড়ে আছে, যা দিনের পর দিন জমা পড়ছে না।

এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া কীভাবে আদায় করা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রাখে। বেঞ্চ প্রস্তাব দেয়, যাঁরা ট্রাফিক ফাইন দিচ্ছেন না, তাঁদের বকেয়া জরিমানার অঙ্ক সরাসরি ইলেকট্রিক বিলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারে কর্তৃপক্ষ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ইলেকট্রিক বিল না মেটালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয় থাকে। তাই বাড়িতে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকার ভয়ে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই জরিমানার টাকা মিটিয়ে দেবেন।
তবে সাধারণ মানুষের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপাতত এটি সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণ বা প্রস্তাব মাত্র। সরকারিভাবে এখনো কোনো নির্দেশিকা বা আইন হিসেবে এটি দেশে কার্যকর হয়নি। তা ছাড়া, এই নিয়ম বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনি ও পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। কারণ, যে ব্যক্তির নামে গাড়ি রয়েছে, বাড়ির ইলেকট্রিক মিটার তাঁর নামে নাও থাকতে পারে। পাশাপাশি, বহু মানুষ ভাড়াবাড়িতে থাকেন, যেখানে মিটার থাকে বাড়িওয়ালার নামে। এই বিষয়গুলির কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া মনোভাব থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার— আগামী দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে বকেয়া আদায়ে প্রশাসনকে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিচ্ছে দেশের শীর্ষ আদালত।

Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours