November 2026

পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, "এরা ভাবছে দিল্লিতে গেলে ওদের সুবিধা হবে। আর কলকাতায় এলে জনতা মারবে। দিল্লির জনতা তো আর এদের মারে না। দিল্লিতে বিজেপি ছাড়া আর কোনও রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা নেই একটা মিছিল বের করার।" মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দিল্লিতে টাকা দিলেই ঝাণ্ডা ধরার লোক পাওয়া যায়।


'দিল্লিতে টাকা দিলেই ঝাণ্ডা ধরার লোক পাওয়া যায়, কলকাতায় এলে জনতা মারবে', বিরোধীদের নিশানা অর্জুনের
অর্জুন সিং

দিল্লিতে বিক্ষোভ নিয়ে বিরোধী দলগুলিকে এবার তোপ পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের (Arjun Singh)। জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে গতকাল অর্থাৎ রবিবার ইন্ডি জোটের (INDIA) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয় দিল্লি। বাংলা থেকে সেই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অধীর চৌধুরী, সুজন চক্রবর্তীরা। এই প্রসঙ্গেই অর্জুনের মন্তব্য, বিরোধীদের জন্য দিল্লিতে বিক্ষোভ অনেক সহজ। কারণ বাংলায় বিক্ষোভ দেখালে জনতার হাতে মার খাবেন তাঁরা। মন্ত্রীর আরও দাবি, দিল্লিতে বিজেপি ছাড়া আর কোনও রাজনৈতিক দলের মিছিল বের করার ক্ষমতা নেই।


কী বললেন অর্জুন সিং?
পরিবহন মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, “এরা ভাবছে দিল্লিতে গেলে ওদের সুবিধা হবে। আর কলকাতায় এলে জনতা মারবে। দিল্লির জনতা তো আর এদের মারে না। দিল্লিতে বিজেপি ছাড়া আর কোনও রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা নেই একটা মিছিল বের করার।” মন্ত্রীর আরও অভিযোগ, দিল্লিতে টাকা দিলেই ঝাণ্ডা ধরার লোক পাওয়া যায়। এই বিষয়ে অর্জুন বলেন, “ওখানে এক হাজার টাকা দিয়ে লোক পাওয়া যায়। শুধু ঝান্ডা ধরতে হয়, আর খাওয়া-দাওয়া দিতে হয়। কত লোক ওখানে যায়। ওখানে ব্যবসা রয়েছে। ওখানে পার্টির লোক এখন বিজেপির সংগঠনের কাছে আছে, আর কারও কাছে নেই।”


এসপি ম্যাডাম, খুঁজে আনতে হবে আপনাকে..আমি ওকে জেলে দেখতে চাই', SP পাপিয়া সুলতানাকে বড় দায়িত্ব দিলেন শুভেন্দু

এরা তো ইতরশ্রেণির লোক...', মমতার জমানা নিয়ে বিস্ফোরক সুখেন্দু শেখর
মমতারে আক্রমণ অর্জুনের
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দেগে পরিবহন মন্ত্রী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাল খুব খারাপ, তাই আরশোলাদের সঙ্গে হাত মেলাতে হচ্ছে। আমরা তৈরি রয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এগোতে দেব না।”


অর্জুনের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে মমতা তৃণমূল নেতা প্রদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আসলে উনি খুব ভালো ঝান্ডা ধরতে পারেন। বারংবার ঝান্ডা বিভিন্ন সময় বিভিন্নরকমভাবে ধরেছেন। প্রকৃত পরিবহন মন্ত্রী। তৃণমূল থেকে বিজেপি, বিজেপি থেকে তৃণমূল, তৃণমূল থেকে বিজেপি…পরিবহনের জার্নিটা খুব ভালো বুঝেছেন।”



এখানেই শেষ নয়,বীজপুরের বিজেপি বিধায়কের আরও দাবি, "এখানে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসলেও তার জন্য বীজপুর তৈরি আছে। বর্ষাকাল ছিল তাই বীজপুরের মানুষ কাদা ছুঁড়েছেন। তবে এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলে মানুষ কী ছুড়বে বোঝা যাচ্ছে না।"

অর্জুন সিং আমাদের রাজনৈতিকভাবে তৈরি করেছেন, এবার পরীক্ষা নিন' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে মন্তব্য বিজেপি বিধায়ক
বিজেপি বিধায়ক

ডায়মন্ড-হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) হুঁশিয়ারি বিজেপি বিধায়কের। তাঁর বক্তব্য, অভিষেককে শায়েস্তা করতে অর্জুন সিংকে লাগবে না। বলেছেন, “আমরা ওঁর (অর্জুন) ট্রেনিং প্রাপ্ত শিষ্য। বীজপুরে যে ভাষা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝেছিল, সেই ভাষাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বুঝিয়ে দেব।” হুংকার বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের ।


সম্প্রতি, অর্জুন সিং বলেছিলেন, “কে কত লুট করেছে, কে কত গুন্ডামি করেছে এই সব আমাদের জানা আছে।” তারপর অর্জুন সিংয়ের সংযোজন ছিল,মুখ্যমন্ত্রী অনুমতি দিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বুঝে নিতে তাঁর মাত্র ২ ঘণ্টা সময় লাগবে। অর্জুনের সেই কথারই সূত্র ধরে মন্তব্য করেছেন বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক।

 'এসপি ম্যাডাম, খুঁজে আনতে হবে আপনাকে..আমি ওকে জেলে দেখতে চাই', SP পাপিয়া সুলতানাকে বড় দায়িত্ব দিলেন শুভেন্দু
বাবা পাঠিয়েছিল মাকে ডেকে আনতে, সরল বিশ্বাসের চরম মূল্য চোকাতে হল...ঘরে ঢুকে যা দেখা গেল, বর্ণনারও অতীত!
সুদীপ্ত কী বলেছেন?


বিধায়ক বলেন, “অর্জুন সিং তো ব্যস্ত রাজ্যের উন্নয়ন করতে। তাই আমি মন্ত্রীকে বলব, উনি তো মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ২ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। আমি বলব, অর্জুনদাকে উনি আমাদের হাতে ছেড়ে দিন। আমরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে নেব। আমাদের রাজনৈতিকভাবে তৈরি করেছেন অর্জুন সিং।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বকলমে কী বোঝাতে চাইলেন বিজেপি বিধায়ক?

এখানেই শেষ নয়,বীজপুরের বিজেপি বিধায়কের আরও দাবি, “এখানে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসলেও তার জন্য বীজপুর তৈরি আছে। বর্ষাকাল ছিল তাই বীজপুরের মানুষ কাদা ছুঁড়েছেন। তবে এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলে মানুষ কী ছুড়বে বোঝা যাচ্ছে না।” তাঁর দাবি, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে প্রচুর মানুষের উপর অত্যাচার হয়েছে। তাই এখানকার মানুষ ক্ষুব্ধ বলেও দাবি করা হয়েছে।



নিতিন নবীনের কথায়,"আপনারা যখন জেতেন, তখন বলেন লোকতন্ত্রের জয় হয়েছে। আর যখন হেরে যান, তখন বলেন লোকতন্ত্র বিপন্ন।" এরপরই এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ তুলে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, এসআইআর-এর পর তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হয়েছে। কেরলেও নির্বাচন হয়েছে। সেখানে যখন জিতলেন, তখন লোকতন্ত্র বিপন্ন হয়নি। কিন্তু বাংলায় ভোটে হেরে যাওয়ার পরই লোকতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

ভোটে হারলেই লোকতন্ত্র বিপন্ন? রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ নিতিন নবীনের, নিশানায় মমতাও
নিতিন নবীন-রাহুল গান্ধী-মমতা
আজ কলকাতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচি রয়েছে বিজেপির (BJP)। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। তবে, কলকাতায় আসার আগে এবার বিহারের ভাগলপুর থেকে রাহুল-মমতাকে (Rahul Gandhi-Mamata Banerjee) একযোগে আক্রমণ করলেন তিনি। ভোটে জিতলে লোকতন্ত্রের জয়, আর হারলেই লোকতন্ত্র বিপন্ন? এমনই প্রশ্ন তুলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করলেন নিতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে হারলেই বিরোধীরা ভোটপ্রক্রিয়া ও গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। এই প্রসঙ্গে তামিলনাড়ু ও কেরলের নির্বাচনের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে নিশানা করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।


রাহুলকে নিশানা নিতিন নবীনের
নিতিন নবীনের কথায়,”আপনি যখন জেতেন, তখন বলেন লোকতন্ত্রের জয় হয়েছে। আর যখন হেরে যান, তখন বলেন লোকতন্ত্র বিপন্ন।” এরপরই এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ তুলে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, এসআইআর-এর পর তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হয়েছে। কেরলেও নির্বাচন হয়েছে। সেখানে যখন জিতলেন, তখন লোকতন্ত্র বিপন্ন হয়নি। কিন্তু বাংলায় ভোটে হেরে যাওয়ার পরই লোকতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

 'এসপি ম্যাডাম, খুঁজে আনতে হবে আপনাকে..আমি ওকে জেলে দেখতে চাই', SP পাপিয়া সুলতানাকে বড় দায়িত্ব দিলেন শুভেন্দু


দায়িত্ব নিয়েই চর্চায় ভারতীয় বায়ুসেনার নয়া প্রধান, নজরে আশুতোষ দীক্ষিতের গাড়ি, জানেন কী বিশেষত্ব?
এখানেই থেমে থাকেননি নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরে যাওয়ার পর সেই মমতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে লোকতন্ত্র বিপন্ন বলে সরব হচ্ছেন। রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেন,”লোকতন্ত্র বিপন্ন নয়। বরং আপনাদের বিরোধী দলের কুর্সিই টলমল করছে। আগামী দিনে জনতা আপনাদের বিরোধী দলের আসনে বসার যোগ্যতাও রাখবে না।”


মমতাকেও নিশানা
শুধু রাহুল গান্ধী নন, ইন্ডি জোটের অন্যান্য নেতাদেরও আক্রমণ করেছেন নিতিন নবীন। তাঁর মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিতিন নবীনের কথায়, “বিরোধীদের মধ্যে বিহারের তেজস্বী যাদব হোন, উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদব হোন কিংবা বাংলার মমতা দিদি-সকলেরই লক্ষ্য ক্ষমতা পাওয়া।”

গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নিতিন নবীন। তাঁর বক্তব্য,”আমাদের কাছে লোকতন্ত্রকে বাঁচানোই প্রথম কর্তব্য। দেশের সংবিধান আমাদের কাছে সর্বোপরি। দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাস আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”এরপরই বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, দেশের মানুষের আস্থা যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের উপর থাকে, তাহলে বিরোধীরা কেন সেই বিশ্বাস অর্জন করতে পারছেন না, তা তাঁদেরই ভেবে দেখা উচিত।



সামনেই কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগমে নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজ্যে পরিবর্তনের পর ফলতা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, "আগামিদিনে কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগম নির্বাচনে ওদের সাফ করে যোগ্য জবাব দিয়ে দেব।"


SIR মানে কী? বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

এসআইআর নিয়ে বিরোধীরা যখন সরব হয়েছে, তখন দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা শুরু করেছে বিজেপি। সোমবার কলকাতাতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হল মিছিল। আর মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীরা কেন একজোট হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিলেন। একইসঙ্গে জানালেন, এসআইআর আসলে কী। কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগমের আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল কী হতে চলেছে, সেই নিয়েও ভবিষ্যদ্বাণী করলেন মুখ্যমন্ত্রী।


কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?


এরা তো ইতরশ্রেণির লোক...', মমতার জমানা নিয়ে বিস্ফোরক সুখেন্দু শেখর
এদিন কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ মিছিল করে বিজেপি। সেই মিছিলে নিতিন নবীনের দু’পাশে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিছিলে আগত সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তারপরই বিরোধীদের নিশানা করেন।


দিল্লিতে বিরোধীদের একজোট হওয়া নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, দুর্নীতি থেকে বাঁচতে, তোষণের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে বিরোধীরা এক হয়েছে। এরপরই তিনি বলেন, “দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য। জেলে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য। পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য। আর তোষণের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যারা এক হয়েছে, তাদের বলে রাখি, ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে।”

এরপরই এসআইআর নিয়ে তাঁর বক্তব্য, “আর এসআইআর মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও। তাই আজকে এরা অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে। দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী, ভ্রষ্টাচারী, এইসবকে উপড়ে ফেলার কাজ আমাদের করতে হবে। আরশোলা, ছারপোকা, টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে সাবধান থাকবেন।”

সামনেই কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগমে নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজ্যে পরিবর্তনের পর ফলতা, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “আগামিদিনে কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগম নির্বাচনে ওদের সাফ করে যোগ্য জবাব দিয়ে দেব।”



 রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, "বছরে মাত্র তিন-চার মাস ভারতে থেকে, তারপর বিদেশে চলে গেলে নির্বাচনে জেতার আশা করা যায় না। রাহুলের উচিত আরও বেশি সময় দেশে থাকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানে কাজ করা।"

কখনও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না’, রাহুলকে কটাক্ষ শাহর, SIR নিয়েও দিলেন হিসাব
হায়দরাবাদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

বিজেপির বিরুদ্ধে যখন সুর চড়াচ্ছেন রাহুল গান্ধী, তখন পাল্টা তাঁকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তেলঙ্গানারা হায়দরাবাদে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপির এই পদযাত্রায় অংশ নিয়ে রাহুলকে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-র বিরোধিতা নিয়েও কংগ্রেসকে নিশানা করেন তিনি।


কী বললেন অমিত শাহ?

দু’দিন আগে রাহুল গান্ধীর উদ্যোগে আয়োজিত মক পার্লামেন্টের প্রসঙ্গ তুলে এদিন তাঁকে কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই কর্মসূচিতে রাহুলের প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করা উচিত ছিল। কারণ, বাস্তব সংসদে কখনও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ তিনি পাবেন না। অন্তত ওই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেলে সনিয়া গান্ধী কিছুটা খুশি হতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্য, “বছরে মাত্র তিন-চার মাস ভারতে থেকে, তারপর বিদেশে চলে গেলে নির্বাচনে জেতার আশা করা যায় না। রাহুলের উচিত আরও বেশি সময় দেশে থাকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যার সমাধানে কাজ করা।”

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে SIR-র বিরোধিতা করা নিয়ে কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দলগুলিকে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস ও তাদের জোটসঙ্গীরা।

এর আগে একদিন আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের নেতারা যে সভা করেছিলেন, সেখানেও ভোট চুরির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধীরা। সেই সভাকে কটাক্ষ করে রাহুলকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, “এটা ‘ভোট বাঁচাও’ সভা ছিল না। এটা ছিল ‘অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাও’ সভা।” অমিত শাহের আরও অভিযোগ, SIR-এর বিরোধিতা করে ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম রাখতে চাইছে কংগ্রেস।

SIR ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে কী বললেন অমিত শাহ?

SIR নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুরো কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দলগুলি SIR বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কারণ, এই অনুপ্রবেশকারীরাই তাদের ভোটব্যাঙ্ক। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীরা দৃঢ়ভাবে SIR-এর পাশে রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, দেশের ভোটাধিকার শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই থাকা উচিত। রাহুল গান্ধী এবং তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু বিজেপি নিশ্চিত করবে, ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হবে এবং তাঁদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।

কলকাতাতেও বিজেপির একই কর্মসূচি-

এদিন কলকাতাতেও একই ধরনের পদযাত্রায় অংশ নেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। উল্লেখ্য, ভোট চুরির অভিযোগ তুলে ইন্ডি জোটের প্রতিবাদের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবেই দেশজুড়ে এই প্রচার অভিযান শুরু করেছে বিজেপি। ভোটার তালিকা এবং SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেই এই পদযাত্রার আয়োজন।



সোমবার হায়দরাবাদের জনসভায় রাহুল গান্ধীর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন শাহ, "রাহুল গান্ধী বলছেন, ১৩ কোটি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা বলছেন। ১৩ কোটির মধ্যে ৬ কোটির বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছেন। ২.৮ কোটি বা প্রায় ৩ কোটি ভোটার মৃত।"


এসআইআর (SIR) ইস্যুতে দেশ জুড়ে এককাট্টা হয়েছেন বিরোধীরা। নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের ‘মক পার্লামেন্টে’ ডেকে নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে কংগ্রেস। কীভাবে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এবার সেই ১৩ কোটির হিসেব দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় এসে সেই হিসেব দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও।


‘যাঁরা বেঁচেই নেই, তাঁরা ভোট দেবেন কী করে!’ প্রশ্ন শাহের।
সোমবার হায়দরাবাদের জনসভায় রাহুল গান্ধীর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন শাহ, “রাহুল গান্ধী বলছেন, ১৩ কোটি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা বলছেন। ১৩ কোটির মধ্যে ৬ কোটির বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছেন। ২.৮ কোটি বা প্রায় ৩ কোটি ভোটার মৃত। যে বেঁচেই নেই, তার ভোট কে দেবে? ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারীর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী যাই করুন, ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারীকে সরিয়েই ছাড়ব।” রাহুল গান্ধীকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।



৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি, শুধু পুজোর মাসে ১০০০ কোটি গেল সরকারের ঘরে
‘মৃত ভোটারের ভরসায় আপনারা ভোটে লড়বেন?’ কটাক্ষ নিতিনের
কলকাতার কর্মসূচি থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন উল্লেখ করেন, “১৩ কোটির মধ্যে ৬ কোটি নাম স্থানান্তরিত, ৩ কোটি মৃত, ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারী।” রাহুলের উদ্দেশে নিতিন নবীন বলেন, “এই ১৩ কোটির ভরসায় আপনারা ভোটে লড়তে চেয়েছিলেন? দেশের মানুষ আপনাদের ইচ্ছাপূরণ হতে দেবে না।”


তিনি আরও বলেন, “দেশের শক্তি ১৪০ কোটির বিশ্বাসে আছে। ভারতকে অস্থির করলে জেনে রাখুন দেশের গণতন্ত্র অনেক পোক্ত। আগে যারা এই কাজ করেছে, তাদের শিক্ষা হয়েছে।” তাঁর দাবি, কংগ্রেসকে একদিন পুরোপুরি শেষ করতে সক্ষম হবেন রাহুল গান্ধী।



দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম-সহ উপকূলবর্তী বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কোথাও হালকা ছিটেফোঁটা, আবার কোথাও দু-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেও।
হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে স্বস্তি ফিরতে পারে গরমের হাত থেকে। তবে বৃষ্টির জেরে দৈনন্দিন যাতায়াতে কিছুটা অসুবিধার আশঙ্কাও রয়েছে।





শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিটি ঘর। আর্থিক প্রতিবন্ধকতা যেন কোনও মেধাবী পড়ুয়ার শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে এল ঢাকুরিয়ার মানসী দা হিলিং টাচ। সংস্থার পক্ষ থেকে সুন্দরবনের নামখানা ও সাগর ব্লকের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হল ‘অবিস্মরণ মেধা বৃত্তি’। পাশাপাশি এলাকার দুস্থ মানুষদের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার নজিরও গড়ল সংস্থাটি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নামখানার সাতমাইলে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বৃত্তি প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এদিন মোট ১৬ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রীর হাতে বৃত্তির অর্থ ও সম্মান তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার পড়ুয়াদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানো এবং আগামী দিনে তাঁদের আরও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
শুধু মেধাবী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোই নয়, সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেও উদ্যোগী হয় সংস্থাটি। এদিন অনুষ্ঠানে দুস্থদের হাতে নতুন জামাকাপড় তুলে দেওয়া হয়। উৎসবের আবহে নতুন পোশাক পেয়ে খুশি হন উপভোক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নামখানা ব্লকের উদ্যান পালন ক্ষেত্রের আধিকারিক মলয় কুমার দাস, শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষক তাপস কান্তি করণ, সাংবাদিক ও সমাজসেবী তাপস পাল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

উপস্থিত অতিথিরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে বহু প্রতিভাবান পড়ুয়া রয়েছে। উপযুক্ত সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তারাও আগামী দিনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। তাই এই ধরনের বৃত্তি প্রদান কর্মসূচি পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষা ও মানবসেবাকে একসূত্রে বেঁধে হিলিং টাচের এই উদ্যোগ এলাকার মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।


ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ফের এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর এল।কেরালার একটি এলাচ বাগানে কাজ করার সময় গাছের ডাল ভেঙে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে গঙ্গাসাগরের ধবলাট শিবপুর এলাকার এক যুবকের। মৃত যুবকের নাম চন্দন পাত্র (বয়স আনুমানিক ৪২ বছর )। 


এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে গত কয়েক মাস আগে কেরালার একটি এলাচ বাগানে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়েছিলেন চন্দন পাত্র। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলেও স্ত্রী। গত শনিবার সকাল আটটা নাগাদ যথারীতি বাগানে কাজ করছিলেন তিনি।

 সেই সময় একটি গাছের ডাল কাটার সময় সেটি হঠাৎ ভেঙে তাঁর ওপর হুড়মুড়িয়ে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে তাঁর ১৬ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের অন্য সদস্যরা। আজ মৃতদেহ তাঁর গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে। দেহ পৌঁছানোর আগেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আড়াইশো বছরেরও বেশি সময় আগে যে অরণ্যে ছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের অবাধ রাজত্ব, জীবন বাজি রেখে কাঠ ও মধু সংগ্রহ করতে আসা সেই বিপদসঙ্কুল জঙ্গলের হিংস্র পশুদের হাত থেকে রক্ষা পেতেই কাঠুরেরা বটগাছের তলায় শুরু করেছিলেন মা কালীর আরাধনা। 

কালের নিয়মে সেই জঙ্গলঘেরা বটতলার পুজোই আজ সাগরদ্বীপের বিখ্যাত ‘ধসপাড়া আদিকালী মন্দির’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। সাড়ে চারশো বছরের প্রাচীন ইতিহাস এবং প্রায় আড়াইশো বছর ধরে মন্দিরে চলা এই পুজোকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সাগরদ্বীপের উৎসাহ ও উদ্দীপনা তুঙ্গে।

আসন্ন কালীপুজো ও কার্তিক মাসের অমাবস্যার মহাসন্ধিক্ষণকে কেন্দ্র করে এখন ধসপাড়া আদিকালী মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে চরম কর্মব্যস্ততা। প্রাচীন এই মন্দিরটির সংস্কার, জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা এবং শেষ মুহূর্তের মাঙ্গলিক প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। অতীতে পুরোহিতহীন স্বহস্তে পুজোর প্রাচীন রীতি এবং পশুবলি প্রথা বন্ধ হয়ে গেলেও, সাত্ত্বিক উপায়ে চলা এই জাগ্রত মন্দিরের কৌলীন্য ও জৌলুস আজও অমলিন। প্রতি মঙ্গল ও শনিবার কয়েকশ পুণ্যার্থীর ভিড়ে মুখরিত হওয়া এই মহাপবিত্র তীর্থক্ষেত্র এখন নতুন করে উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা। 

আসন্ন কালীপুজো ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাগর ব্লক বিডিও কার্যালয়ে রবিবার এক প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে এলাকার সমস্ত কালীপুজো কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও অনন্ত কুমার গোস্বামী, সাগর থানার ওসি অর্পণ নায়ক, গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সরকার-সহ দমকল বিভাগের আধিকারিকরা।
বৈঠকে পুজো উদ্যোক্তাদের একাধিক নির্দেশিকা দেওয়া হয়। মণ্ডপ ও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাউন্ড লিমিটার ছাড়া উচ্চমাত্রার সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি নিষিদ্ধ শব্দবাজির পরিবর্তে শুধুমাত্র অনুমোদিত সবুজ বাজি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও সরকারি অনুমতি নিয়ে পুজো করা, মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে পুজো সম্পন্ন করতে হবে। নির্দেশিকা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শারদোৎসবের অনাবিল আনন্দ, মৈত্রী ও সম্প্রীতির রেশ বজায় রেখে সুন্দরবন পুলিশ জেলার সাগর থানা এবং গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার উদ্যোগে পৃথকভাবে অত্যন্ত সাড়ম্বরে পালিত হলো ‘বিজয়া সম্মিলনী’ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। দুর্গাপূজার দিনগুলিতে সাগর দ্বীপের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় পুজো কমিটিগুলির যে অসামান্য অবদান ছিল, তাকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসন।


এলাকার সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের যৌথ মেলবন্ধনে এই অনুষ্ঠানগুলি এক অনন্য মাত্রা পায়। প্রথমে সাগর থানার উদ্যোগে স্থানীয় রুদ্রনগর ছবি মহলের প্রেক্ষাগৃহে এক বর্ণাঢ্য বিজয়া সম্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুসজ্জিত প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এরপর একে একে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার উদ্যোগে থানার পাশের মাঠে আরেকটি আকর্ষণীয় ও বড় আকারের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এই দুটি পৃথক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো সাগর জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দারুণ উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। উভয় অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও মঙ্গলদ্বীপ জ্বেলে সশুভ সূচনা করা হয়। সাগর ও গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার এই দুই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও অনন্ত কুমার গোস্বামী, সাগরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) সুমন কান্তি ঘোষ, সাগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অর্পণ নায়ক এবং গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সরকার।এছাড়া দুই থানারই একাধিক সাব-ইন্সপেক্টর ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠানটির সুচারু পরিচালনা নিশ্চিত করেন।প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি এই দুই অনুষ্ঠানে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা আরও সুদৃঢ় করতে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ, ইসকনের বিশিষ্ট মহারাজগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মণ্ডলের মণ্ডল সভাপতিবৃন্দ, জেলার বিশিষ্ট নেতৃত্ব এবং সাগর থানা ও গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার অন্তর্গত প্রায় ৩২ টি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আসা বিশিষ্ট গুণীজনদের এই উপস্থিতি অনুষ্ঠান দুটির গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পুজো কমিটিগুলিকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন। গত শারদোৎসবে নিরলসভাবে কাজ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসচেতনতা বজায় রাখতে এই কমিটিগুলি যে সচেষ্ট সহযোগিতা করেছিল, তার স্বীকৃতি স্বরূপ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রতিটি দুর্গোৎসব কমিটির হাতে বিজয়া সংবর্ধনা হিসেবে বিশেষ স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের এই সম্মানজ্ঞাপন পুজো কমিটির সদস্যদের উৎসাহিত করে।

সংবর্ধনা পর্বের পাশাপাশি দুই জায়গাতেই স্থানীয় প্রতিভাবান শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চে একের পর এক গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়, যার সুরের মূর্ছনা ও ছন্দের তালে মেতে ওঠেন উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা ও সাধারণ দর্শকরা। পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় গুরু এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আগামী দিনে সুন্দরবনাঞ্চলে শান্তি, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আরও বেশি সহায়তা করবে বলেই আশাপ্রকাশ করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। পরিশেষে, প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে অত্যন্ত আনন্দঘন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই বিজয়া সম্মিলনীগুলির সফল সমাপ্তি ঘটে।

নেশামুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান চালাল সুন্দরবন পুলিশ জেলার নামখানা থানা। নেশার কুফল সম্পর্কে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে রবিবার নামখানা ব্লকের রাজনগর বিশম্ভর উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়।

বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নেশার প্রবণতা ক্রমশ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কম বয়সিদের মধ্যে নেশার প্রতি আসক্তি তাদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের নেশার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করে তোলা এবং নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা পৌঁছে দিতেই পুলিশের এই উদ্যোগ।
এদিনের শিবিরে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নেশাদ্রব্য সেবনের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি নেশা থেকে দূরে থাকার প্রয়োজনীয়তা, সুস্থ জীবনযাপনের গুরুত্ব এবং সমাজে নেশামুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু আইন প্রয়োগ করেই নেশার মতো সামাজিক সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে আগামী প্রজন্মকে নেশার কবল থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে।

নামখানা থানার এই উদ্যোগে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশের এই ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।