শারদোৎসবের অনাবিল আনন্দ, মৈত্রী ও সম্প্রীতির রেশ বজায় রেখে সুন্দরবন পুলিশ জেলার সাগর থানা এবং গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার উদ্যোগে পৃথকভাবে অত্যন্ত সাড়ম্বরে পালিত হলো ‘বিজয়া সম্মিলনী’ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। দুর্গাপূজার দিনগুলিতে সাগর দ্বীপের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় পুজো কমিটিগুলির যে অসামান্য অবদান ছিল, তাকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে পুলিশ প্রশাসন।


এলাকার সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের যৌথ মেলবন্ধনে এই অনুষ্ঠানগুলি এক অনন্য মাত্রা পায়। প্রথমে সাগর থানার উদ্যোগে স্থানীয় রুদ্রনগর ছবি মহলের প্রেক্ষাগৃহে এক বর্ণাঢ্য বিজয়া সম্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুসজ্জিত প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এরপর একে একে গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার উদ্যোগে থানার পাশের মাঠে আরেকটি আকর্ষণীয় ও বড় আকারের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এই দুটি পৃথক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো সাগর জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দারুণ উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। উভয় অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও মঙ্গলদ্বীপ জ্বেলে সশুভ সূচনা করা হয়। সাগর ও গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার এই দুই প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও অনন্ত কুমার গোস্বামী, সাগরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) সুমন কান্তি ঘোষ, সাগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অর্পণ নায়ক এবং গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার ওসি পার্থ সরকার।এছাড়া দুই থানারই একাধিক সাব-ইন্সপেক্টর ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠানটির সুচারু পরিচালনা নিশ্চিত করেন।প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি এই দুই অনুষ্ঠানে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা আরও সুদৃঢ় করতে উপস্থিত ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ, ইসকনের বিশিষ্ট মহারাজগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মণ্ডলের মণ্ডল সভাপতিবৃন্দ, জেলার বিশিষ্ট নেতৃত্ব এবং সাগর থানা ও গঙ্গাসাগর কোস্টাল থানার অন্তর্গত প্রায় ৩২ টি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে আসা বিশিষ্ট গুণীজনদের এই উপস্থিতি অনুষ্ঠান দুটির গুরুত্ব ও গাম্ভীর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল পুজো কমিটিগুলিকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন। গত শারদোৎসবে নিরলসভাবে কাজ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসচেতনতা বজায় রাখতে এই কমিটিগুলি যে সচেষ্ট সহযোগিতা করেছিল, তার স্বীকৃতি স্বরূপ অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে প্রতিটি দুর্গোৎসব কমিটির হাতে বিজয়া সংবর্ধনা হিসেবে বিশেষ স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের এই সম্মানজ্ঞাপন পুজো কমিটির সদস্যদের উৎসাহিত করে।

সংবর্ধনা পর্বের পাশাপাশি দুই জায়গাতেই স্থানীয় প্রতিভাবান শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মঞ্চে একের পর এক গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়, যার সুরের মূর্ছনা ও ছন্দের তালে মেতে ওঠেন উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিরা ও সাধারণ দর্শকরা। পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় গুরু এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন আগামী দিনে সুন্দরবনাঞ্চলে শান্তি, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আরও বেশি সহায়তা করবে বলেই আশাপ্রকাশ করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। পরিশেষে, প্রীতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে অত্যন্ত আনন্দঘন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই বিজয়া সম্মিলনীগুলির সফল সমাপ্তি ঘটে।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours