গঙ্গাসাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার কচুবেড়িয়া ঘাটের ঠিক পাশেই অবস্থিত কশতলা গ্রামে মুড়িগঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই প্রায় ৮০ থেকে ১০০ মিটার নদীবাঁধ ধসে সোজা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও শত শত বিঘা চাষের জমি হারানোর আশায় বিনিদ্র রজনী কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও অভিযোগ, গত প্রায় তিন বছর ধরে এই এলাকায় দফায় দফায় ভাঙন শুরু হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো স্থায়ী ও টেকসই সমাধান মেলেনি। স্থানীয়দের দাবি, এই বাঁধের পাশ দিয়েই ভারী বাংলাদেশি জাহাজ যাতায়াত করে, যার ফলে তৈরি হওয়া ঢেউ ও স্রোতের টানে ভাঙন আরও তীব্রতর হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি ঘোড়ামারা দ্বীপের বিস্তীর্ণ অংশ ভেঙে যাওয়ার কারণে নদীর গতিপ্রকৃতি বদলে গেছে এবং জলের মূল স্রোত এসে সরাসরি ধাক্কা মারছে এই দুর্বল বাঁধটিতে।
আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি রিং বাঁধ তৈরি করা হলেও তাতে গ্রামবাসীদের ভরসা একবিন্দুও নেই। তাঁদের স্পষ্ট কথা, এই রিং বাঁধটি সম্পূর্ণ মাটির তৈরি এবং অত্যন্ত দুর্বলভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে এই রিং বাঁধটিও ভেঙে গিয়ে পুরো গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সর্বস্ব হারানোর আশায় দিন কাটানো অসহায় মানুষগুলো এখন দ্রুত কোনো অস্থায়ী জোড়াতাপ্পি নয়, বরং একটি স্থায়ী ও মজবুত নদীবাঁধ নির্মাণের দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours