দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত বকখালি। একসময় কলকাতা ও তার বাইরে বা দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু এলাকা থেকে প্রতিবছর বহু পর্যটকের আনাগোনা ছিল এই সমুদ্র সৈকতে কিন্তু আজ সেই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। আগে নামখানাতে ব্রিজ না থাকায় গাড়ি পারাপারে অসুবিধা হত, সেখানে নামখনায় ব্রিজ এবং ট্রেনের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পর্যটক কমছে বকখালীতে। 

কি কারণ রয়েছে এর পেছনে? কেনই বা দিঘা বা মন্দারমনির মত ভিড় নেই বকখালীতে ? জেনেনিন বিস্তারিত...

বকখালির প্রধান আকর্ষণ ছিল সমুদ্রের ঢেউ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৈকতে বিশাল এলাকা জুড়ে চর জেগে ওঠায় সমুদ্রের ঢেউ আর আগের মতো উপকূলে আছড়ে পড়ে না । পর্যটকদের জল ছুঁতে প্রায় ১ কিমি পথ বালির ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়, যা অনেক পর্যটককেই নিরুৎসাহিত করছে । আমফান ও ইয়াস-এর মতো ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৈকতের ঝাউবন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমফান ও ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ে সৈকতের ঝাউবন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝাউ গাছ কমে যাওয়ায় পিকনিক স্পটগুলো আগের মতো মনোরম নেই।

আধুনিক পর্যটন সুবিধার অভাব, দিঘা বা মন্দারমণির তুলনায় বকখালিতে আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থা সীমিত। এছাড়া অনেক সময় সৈকত এলাকায় আবর্জনার স্তূপ ও দুর্গন্ধ পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছে । 

রক্ষণাবেক্ষণের অভাব পর্যটক কমার অন্যতম বড় কারণ। বকখালি সমুদ্র সৈকতে বানানো বসার চেয়ার গুলি আজ ভাঙ্গা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বকখালি সমুদ্র সৈকতে থাকা ওয়াচ টাওয়ার তারও বেহাল অবস্থা। বকখালীতে রাস্তার ধারে কিছু কিছু জায়গায় লাইট টাও এখনো ভেঙে রয়েছে। সমুদ্র সৈকতে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি শুধু মাত্র রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে। বিচের মধ্যেই কিছু জায়গায় পরে রয়েছে ময়লা বা আবর্জনা। এছাড়াও দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, এটিএম পরিষেবার অভাব এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নমানের হোটেল পরিষেবা পর্যটকদের অভিজ্ঞতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

শুধু বকখালি সমুদ্র সৈকতই নয় বকখালি খুব কাছেই রয়েছে হেনরি আইল্যান্ড সেখানেও খুবই বেহাল অবস্থা। সমুদ্র সৈকতেই ভেঙে পড়ে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, সমুদ্র সৈকতের পাশে থাকা বনের গাছের ডাল পালা ইত্যাদি। 
এছাড়াও বকখালি পর্যটন কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বকখালি বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া ডিয়ার পার্ক বা হরিণ প্রকল্প দীর্ঘ সময় ধরেই দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রয়েছে। যেখানে পর্যটকদের জন্য হরিণ ও কুমির দর্শনের ব্যবস্থা। ঘূর্ণিঝড় আমফান  এবং ইয়াস -এর তান্ডবে পার্কটির পরিকাঠামো এবং হরিণদের থাকার জায়গা বা এনক্লোজারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জলোচ্ছ্বাসের নোনা জল ঢুকে যাওয়ায় এই পার্কের ঘাস ও গাছপালাও নষ্ট হয়ে যায়। পার্কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানকার অধিকাংশ হরিণকে অন্যত্র, যেমন লথিয়ান আইল্যান্ড বা সজনেখালি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে কোনো হরিণ না থাকায় এটি পর্যটকদের জন্য কার্যত বন্ধ। 


এই সমস্ত বিভিন্ন কারণে কার্যত পর্যটক হারাচ্ছে বকখালি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটক দের জন্য মনোরম পরিবেশ আবারও বকখালীর পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


ষ্টাফ রিপোর্টার মুন্না সর্দার
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours