পরপর একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ! মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখায় আতঙ্ক ছড়াল গোটা এলাকায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছারখার আনুমানিক চারটি বাড়ি। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও স্বস্তির বিষয়, কোনও হতাহতের খবর নেই।

ঘটনাটি কাকদ্বীপের ৮ নম্বর কালীনগরের দাসেরচক এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া অংশে হঠাৎই আগুন লাগে। আর সেই আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর বিস্ফোরণ হয় একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারের।

জানা যায়, ঘটনার সময় মূল বাড়ির মালিক পরিবারের সদস্যরা কেউই বাড়িতে ছিলেন না। তাঁরা সকলেই বেড়াতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যরা কাজের সূত্রে সকলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু এরপর কীভাবে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

প্রথমে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরপর কিছুক্ষণের ব্যবধানে পরপর আরও প্রায় তিনটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এদিকে, দাসেরচকের রাস্তা অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সেখানে দমকলের গাড়ি প্রবেশ করা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারাই আগুন নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন।

প্রথমেই নিরাপত্তার স্বার্থে দাসেরচক এবং কাকদ্বীপ ইয়ং ফাইটার্স ক্লাব সংলগ্ন, নোনামাঠের কাছে থাকা দুটি ট্রান্সফর্মারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ দপ্তরকেও খবর দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুর থেকে বালতিতে করে জল তুলে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান।
অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া বাড়ি থেকে আগুন জানলা দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে মূল বাড়িতেও। যার জেরে মূল বাড়ির একটি ঘরের ভিতরে থাকা সমস্ত আসবাবপত্র পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। ভাড়াটিয়া ঘরের আসবাবপত্রই নয়, ঘর সহ ঘরে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নথিপত্রও আগুনে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কার্যত গোটা ঘরটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

পরবর্তীকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনিক পুলিশকর্তারা। দমকল কর্মীদের প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুনের বাকি অংশটুকুও সম্পূর্ণভাবে নেভানো সম্ভব হয়।

সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত না থাকায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে পরপর একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট পরিবার।

কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাকদ্বীপের ৮ নম্বর কালীনগরের দাসেরচক এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours