নৌ-সেনা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল, খুব বড় কোনও বদল ছাড়াই আইএনএস বিক্রান্তের ডেক থেকে মেরিন রাফাল উড়বে। সেজন্য আইএনএস বিক্রান্তের স্টোবার প্ল্যানফর্মের প্রযুক্তিতে বদল আনা হয়। স্টোবার মানে শর্ট টেক অফ অ্যান্ড অ্যারেস্টেড রিকভারি। ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ এবং নৌ-সেনার সদস্যরাই স্টোবারের সাহায্যে প্রয়োজনীয় কাজটা করলেন।


নতুন মাইলস্টোন ভারতীয় নৌসেনার, এবার চিনের ফুজিয়ানকেও টেক্কা দেবে INS বিক্রান্ত
আইএনএন বিক্রান্তে সফল অবতরণ মেরিন রাফাল


মাইলস্টোন। আইএনএস বিক্রান্তের ডেক থেকে উড়ছে রাফাল। ভারতীয় নৌ-সেনা এটা সম্ভব করে এমন একটা সাফল্য অর্জন করেছে, যা এর আগে তিনটে দেশের বাইরে কেউ পারেনি। মেরিন রাফাল আসলে আইএনএস বিক্রান্তের কথা ভেবে তৈরিই হয়নি। সেটা হওয়ার কথাই নয়। চার্লস দ্য গলের কথা ভেবে মেরিন রাফাল তৈরি হয়েছে। অন্য দেশ মেরিন রাফাল কিনলে তাদের বিমানবাহী রণতরীগুলো রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করে পাল্টে নিতে হত। ভারতের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন হল না।


নৌ-সেনা কর্তারা বলছেন, এতদিন আইএনএস বিক্রান্তের ডেক থেকে সুখোই এমকে থার্টির মেরিন ভার্সন টেক অফ করত। সুখোই এমকে থার্টির মেরিন ভার্সনের ওড়ার জন্যই আইএনএস বিক্রান্তের ডিজাইন হয়েছিল। একটি বিশেষ যুদ্ধবিমানের জন্য যে বিমানবাহী রণতরী তৈরি, সেখানে একেবারে নতুন কোনও যুদ্ধবিমান টেক অফ করা যায় না। এজন্য জাহাজের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করতে হয়। জাহাজের ডেকও পাল্টে ফেলতে হয়। ফ্রান্সের থেকে ২৬টি মেরিন রাফাল কিনতে চুক্তি করেছে ভারত। সেই চুক্তির সময়ই ফ্রান্স আইএনএস বিক্রান্তের ডিজাইন পাল্টানোর পরামর্শ দিয়েছিল। ভারত মানেনি। কারণ তাতে অনেক সময় লাগবে। খরচও বিশাল।


নৌ-সেনা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল, খুব বড় কোনও বদল ছাড়াই আইএনএস বিক্রান্তের ডেক থেকে মেরিন রাফাল উড়বে। সেজন্য আইএনএস বিক্রান্তের স্টোবার প্ল্যানফর্মের প্রযুক্তিতে বদল আনা হয়। স্টোবার মানে শর্ট টেক অফ অ্যান্ড অ্যারেস্টেড রিকভারি। ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ এবং নৌ-সেনার সদস্যরাই স্টোবারের সাহায্যে প্রয়োজনীয় কাজটা করলেন।

নৌ-সেনা সূত্রে খবর, গত মাসের শুরুতে আরও একটা ধাপ পার করেছে ভারতে তৈরি বিমানবাহী রণতরী। বিক্রান্ত ফুললি অপারেশনাল মোডে এসেছে। এর অর্থ, একটা অস্ত্রের যতটা ক্ষমতা, তার একশো শতাংশ প্রয়োগ পারা। দুনিয়ার বড় শক্তিগুলির হাতে যে বিমানবাহী রণতরী রয়েছে, তার মাত্র ৫০ শতাংশ ফুললি অপারেশনাল। কারণ যে কোনও রণতরীরই সেই স্তরে পৌঁছনোটা প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। সেজন্য অনেক সময় লাগে। আর তাই আইএনএস বিক্রান্তের ফুললি অপারেশনাল মোডে পৌঁছনো সব অর্থেই ঐতিহাসিক সাফল্য।

১৮টি মিগ ২৯কে ফাইটার জেট, মাল্টি রোলার কপ্টার সহ একসঙ্গে ৩০টি বিমান অপারেট করতে পারে আইএনএস বিক্রান্ত। এবার এর বুক চিরে রাফালও উড়বে। মেরিন রাফালের অপারেশনাল কভারেজ এরিয়া প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। সুখোইয়ের ক্ষেত্রে ৭৫। অর্থাৎ বিক্রান্ত- রাফাল জুটি ভারতীয় জলসীমাকে অনেকটা সুরক্ষিত করবে।

নৌ-সেনার অবসরপ্রাপ্ত অফিসার অনিল জয় সিং জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরে চিনের কথা মাথায় রেখেই আইএনএস বিক্রান্তকে তৈরি করা হয়েছে। আইএনএস বিক্রান্ত ফুললি অপারেশনাল মোডে চলে আসায় ভারত মহাসাগরে দেশের জলসীমা অনেক সুরক্ষিত হল। তাঁর কথায়, চিন যদি তাদের নৌ-বাহিনীর সেরা অস্ত্র ফুজিয়ানকেও এগিয়ে দেয়, তা হলেও তার মহড়া নিতে তৈরি আইএনএস বিক্রান্ত। মনে রাখতে হবে, ফুজিয়ান ২০১৯ সালে জলে ভাসলেও এখনও ফুললি অপারেশনাল মোডে পৌঁছয়নি। সেটা হতে এখনও ২ বছর লাগবে। ক্ষমতা ও প্রযুক্তিতে বিক্রান্তের তুলনায় অনেক এগিয়ে ফুজিয়ান। তবে রাফাল যোগ হওয়ার পর ফুজিয়ানের মহড়া নিতে বিক্রান্তের খুব একটা সমস্যা হবে না বলেই মত নৌ-সেনা কর্তাদের।


Share To:
Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours