Articles by "west Bengal news"
Showing posts with label west Bengal news. Show all posts
শুভঙ্কর বসু: স্কুলছুটদের ফের স্কুলে (School Reopen) ফেরানোর দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় মামলায় আবেদন করেছেন, লকডাউনে দীর্ঘ দিন স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকার কারণে অনেক পড়ুয়াই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে।

বাধ্য হয়েই তাদের এই পথ বেছে নিতে হয়েছে। তাদের পুনরায় স্কুলমুখী করার ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির কথা রয়েছে।

কোভিড পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি দীর্ঘদিন বন্ধ। ভারচুয়াল মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা থাকলেও মোবাইল ফোন, ওই জাতীয় ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেক আর্থিক ভাবে অনগ্রসর পরিবারের পড়ুয়াই তাতে অংশ নিতে পারেনি। এর ফলে ওই সময় থেকে পাকাপাকি ভাবে অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। যোগ দিয়েছে কাজে। ফলে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।


মামলাকারীর দাবি, পরিস্থিতিই তাদের ওই অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, 'এইসব পড়ুয়াদের জন্য সরকার থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকী, এখনও তাদের কাছে স্কুল ছুটদের পরিসংখ্যান নেই। অথচ এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার ফলে সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে। তাই এখন সরকারের উচিত তাদের স্কুলমুখী করা।'

মঙ্গলবার মামলাটি গৃহীত হয়েছে। আগামী শুক্রবার প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। করোনার জেরে ২০২০ সাল থেকে বারবারই থাবা বসছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কচিকাঁচারা যেতে পারছে না স্কুলে। বাধ্য হয়ে অনলাইনে পড়াশোনা করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। নবম-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য স্কুল খুললে বাকিদের জন্য বন্ধই রয়েছে স্কুলের দরজা। নবান্নের বর্তমান নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফের তালা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ।




বাইজিদ মন্ডল,ডায়মন্ড হারবার:-ঝড়ের গতিতে বাড়ছে করোনা তান্ডব, মহামারীর আশাঙ্কা!
প্রতি ২৪ ঘন্টায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। আর সেই করোনা সতর্কতা  করতে ডায়মন্ড হারবার ১নম্বর ব্লকের যুব সভাপতি গৌতম অধিকারীর নেতৃত্বে সাড়া ব্লক জুড়ে প্রথম থেকে মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন ও অবগত করার ব্যাপারে সদা জাগ্রত I সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশে আজ পারুলিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে পথে নেমে পথ যাত্রী থেকে শুরু করে দোকানের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের  করোনা বিষয়ক সচেতনতা পত্র বিলি ও সাথে সাথে মানুষকে মাস্ক স্যানিটাইজার ব্যাবহার করার পরামর্শ দেয়।পাশাপাশি করোনা বিধি নিষেধ চলার পরামর্শ দেন,পারুলিয়া বাজারে যেখানে প্রায় হাজার মানুষের সমাগম ঘটে, সেখানে তারা মাস্ক বিতরণের মাধ্যমে ওমিক্রন ও করণা এর জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করেন। সাধারণ মানুষ কে এই পরিস্থিতিতে কি করা উচিত আর কি করা অনুচিত সেই নিয়ে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। ব্লক সভাপতি গৌতম অধিকারী বলেন ওমিক্রণ বা করোনা রাজ্য সরকারের কঠোর বিধি নিষেধ অনুযায়ী ধীরে ধীরে অনেকটা নিম্নমুখী I


 "করোনা পরিস্থিতির পর সমাজের সকল স্তরের মানুষই খুব সমস্যার মধ্যে আছে, এই করুন অবস্থাতে যদি এখনই আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন না করতে পারি তাহলে আগামী দিনে আমাদের জন্য আরো ভয়ঙ্কর কিছু অপেক্ষা করছে।যে কোনো পরিস্থিতিতেই তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। কারণ তাদের মূল মন্ত্রই হচ্ছে বাঁচার জন্য লড়াই, তার জন্যই যত বাহানা, সব মিলিয়ে বাঁচার বাহানা। তবে এমন উদ্যোগ কে প্রশংসা করেছেন সচেতন মানুষজন।
ময়নাগুড়িতে ট্রেন দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করলেন কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (North Bengal Train Accident)। তদন্তের প্রথমেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রেনের চালক, সহকারী চালক ও গার্ডকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় (North Bengal Train Accident)।

যে কয়েকটি বিষয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটির তদন্তে সামনে উঠে আসে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল। দুই টন ওজনের ট্র‍্যাকশন মোটর ভেঙে পড়ল কী করে? ট্র‍্যাকশন মোটর অ্যাক্সেল থেকে ঝোলানো থাকে। কোনও কারণে একটি ট্র‍্যাকশন মোটরের এই ভাবে খুলে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার নজির সে অর্থে নেই (North Bengal Train Accident)।

সূত্রের খবর, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ট্রেনটি রওনা হয় বিকেল ১৬ঃ০৫ মিনিটে। ট্রেন এর পর এসে স্টপেজ না থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে যায় জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে। এমারজেন্সি কারণে ট্রেন দাঁড় করানো হয়। কারণ রাণিনগর স্টেশন পেরনোর সময়ে ইঞ্জিন ও জেনারেল কামরার নীচে আগুনের ফুলকি দেখতে পেয়েছিলেন লাইনে কর্মরত কর্মীরা। চালক ও গার্ডকে অবহিত করা হয়। কন্ট্রোল রুমেও রিপোর্ট করা হয়। সেখানে এক দফায় ট্রেন পরীক্ষা করা হয়। তবে সেভাবে কিছু নজরে পড়েনি বলে ট্রেন ছোটান চালক। দোমহনির যে অংশে দূর্ঘটনা ঘটেছে সেই আপ লাইন দিয়ে তার আগেই দুটি ট্রেন অতিক্রম করেছে। তার মধ্যে একটি ছিল কয়লা বোঝাই মালগাড়ি। একটি ছিল খালি মালগাড়ি।

এই দুই পণ্যবাহী রেলের চালক ও গার্ড কোনও লাইনের সমস্যা কথা পরবর্তী স্টেশন বা কন্ট্রোল রুমেও জানাননি। ব্লক সেকশনে দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের লাইন পরীক্ষার কাজে নিযুক্ত কর্মীরাও জানিয়েছেন, তারা লাইনে কোনও ত্রুটি দেখেননি। কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি খতিয়ে দেখতে চাইছে রাণিনগর স্টেশনের সমস্যা কি ছিল? কেন সেখানে ট্রেন দাঁড়িয়ে গেল? কর্মীরা কী দেখেছিলেন?

রেল বিশেষজ্ঞদের অনেকের অনুমান, আইসিএফ কোচের ব্রেক শু, কোনও ভাবে দীর্ঘ সময় ধরে ঘসা খাচ্ছিল। জেনারেল কামরার চাকা 'হট অ্যাক্সেল' এর কারণে লক হয়ে যায়। তাই দু'বার এমারজেন্সি ব্রেক কষেন চালক। ইঞ্জিন দাঁড়িয়ে গেলেও, বগিগুলি চলন্ত থাকায়, প্রচন্ড গতিতে একে ওপরের উপর উঠে যায়। লাইন থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। আর তার জেরেই এই দূর্ঘটনা। আজকেও পরীক্ষা করা হবে ট্রেনের ইঞ্জিন। আগামীকাল আসছে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।

জয়দেবের মেলা আছে নেই মনের মানুষ। রাত পোহালেই জয়দেবের মেলা, তার প্রস্তুতি চলছে জোড় কদমে (Joydev Kenduli Mela 2022)। পুলিশ প্রশাসন থেকে আখড়া তৈরি করতে ব্যস্ত মেলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলার এক সপ্তাহ আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে এ বছর হবে না জয়দেবের কেন্দুলি মেলা (Joydev Kenduli Mela 2022) কিন্তু চারদিনের মাথায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে জয়দেব কেন্দুলি মেলা।

আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল পূণ্য স্নান করার যাবে কভিদ বিধি মেনে মেলা হচ্ছে কভিদ বিধি মেনে করা হবে পূর্ণ স্নান (Joydev Kenduli Mela 2022)।

কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর জয়দেবের মেলার পরিসর অনেকটাই ছোট করা হয়েছে। যে তুলনায় বাইরে থেকে আক্ষারা আসতো সেই তুলনায় এবছর আক্রা সংখ্যা অনেকটাই কম। জয়দেব মেলার মূল আকর্ষণ যদি হয়ে থাকে জয়দেবের মন্দির হয়ে থাকে তাহলে মনের মানুষ বাউল আখড়া আকর্ষণ ও কম নয়। বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষজন বাউল গান শোনার জন্য মনের মানুষ আখড়াই এসে উপস্থিত হয় । কিন্তু এবছর করো না পরিস্থিতির জন্য জয়দেব মেলা থেকে বিরত থাকতে চলেছে মনের মানুষ বাউল আখড়া। তারা জানিয়েছে যেভাবে করোনা পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে মানুষের জীবন সংশয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে আর তাই তারা এ বছর জয়দেব মেলায় কোনভাবেই অংশ নেবে না অর্থাত্‍ সম্পূর্ণভাবে মনের মানুষ আকরাম বন্ধ থাকবে।

  পুলিশের প্রস্তুতি

মনের মানুষ আখড়ার বাইরে পোষ্টার দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে কোন ভক্ত বা পর্যটক এসে যেন আখড়াখোলা জন্য বিনা করে। তবে অন্যান্য কীর্তন গানের আখড়া গুলিও থাকছে এ বছর। যদিও অন্য বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। প্রশাসনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ কিভাবে জয়দেব মেলা কে গো বিধি মেনে মেলা করানো। কারণ মেলার মধ্যে অনেকেই হয়তো বা ছাড়াই ঘোরাঘুরি করবে তাদেরকে কিভাবে চিহ্নিত করন করা যায় সেই বিষয়টিও প্রশাসন মাথায় রেখেছে।

অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আনুমানিক ২০০০ পুলিশকর্মী সাদা পোশাকে পোশাকে নামানো হয়েছে তা ছাড়াও বসছে অগুনতি সিসি ক্যামেরা। আকাশে থাকবে ড্রনে নজরদারি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জয়দেব মেলার প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। শুধু সময়ের অপেক্ষা এবার। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্যান্য বছর জয়দেব মেলায় যে সরকারই বাউল মঞ্চ তৈরি করা হয় তা এবছর করো না পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা হয়নি। শুধুমাত্র কীর্তন গানের বেশ কিছু আখড়া নিয়েই মেলা সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।

কয়েকদিন ধরেই আকাশ মেঘলা। তার উপরে অকাল বর্ষণে মাথায় হাত কৃষকদের (Farmers)। বৃষ্টির (Rainfall) জেরে আলু চাষে (Potato Cultivation) ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষকদের আশঙ্কা বৃষ্টির জেরে আলু জমিতে ব্যাপকভাবে ধসা রোগ দেখা দিতে পারে।



বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে সব আলু নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ডিসেম্বর (December) মাসে আলু বসানোর পর তিনদিনের বৃষ্টিতে (Rainfall) আলু জমিতে জল দাঁড়িয়ে যায়। যার ফলে বেশিরভাগ আলু পচে গিয়েছিল। ফের নতুন করে চাষ করেছিলেন অনেকেই। বৃষ্টিতে সেই আলু গাছ ফের নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান (East Burdwan) জেলায় ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। তবে এবারে এখনও পর্যন্ত্ ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে।

জেলার মেমারি,শক্তিগড়, জামালপুরে ব্যাপকভাবে আলু চাষ হয়। এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও শোষক পোকার আক্রমণে জেলার ধান চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তারপরেও ধার দেনা করে আলু চাষ করেছিলেন কৃষকরা। প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেই চাষ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। অনেক জমিতে এখনও গাছ বের হয়নি। সেসব জমির আলু গাছ ফের নষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা কৃষকদের। এই পরিস্থিতিতে সরকার পাশে না দাঁড়ালে সমস্যায় পড়বেন বলে দাবি কৃষকদের।

এদিকে অকাল বৃষ্টিতে রবি শস্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন নদীয়ার কৃষকরা। ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা সবজি থেকে একাধিক শীতকালীন ফসলের। নদিয়ার একাধিক ব্লকের কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। কল্যাণী, হরিণঘাটা, চাকদা, রাণাঘাট, কৃষ্ণগঞ্জ সহ বেশ কিছু ব্লকে শীতকালীন সবজি ব্যাপক হারে চাষ হয়। তবে চলতি বছর নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চাষের। আর তাতেই ক্ষতির সিঁদুরে মেঘ দেখছেন কল্যাণী ব্লকের কৃষকরা।

করিমপুর থানার অন্তর্গত কলাবেরিয়া গ্রামে একই দড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী প্রেমিক যুগল। পরিবার সূত্রে জানা যায় কলাবেরিয়া দাসপাড়া তে বাড়ি সবিতা দাসের বিবাহ হয় পেশায় অটোচালক স্বপন দাসের সাথে। পাড়ারই অমিয় ধরের সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক অনেকদিন ধরেই।



সবিতা দেবীর স্বামী স্বপন দাস এ বিষয়ে জানান তার স্ত্রীর ফোনে বিবাহ বহির্ভূত প্রেমালাপের কথা জানতে পেরে তার স্ত্রীকে সংসার না ভাঙার অনুরোধ করেছিলেন বহুবার। তার স্ত্রী রাত্রি এগারোটার দিকে বাথরুম করতে যাবে বলে বাইরে বের হয়, বেশ কিছুটা সময় পার হয়ে যাওয়ার পর খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায় না। প্রেমিক অমিয় ধরের বাড়িতে জানতে চাইলে তার উপস্থিতি সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেন না পরিবারের পক্ষ থেকে। অবশেষে এলাকাবাসী কিছুটা দূরে অমিয় ধরের নির্মীয়মান নতুন বাড়িতে একই দড়িতে অমিয় ধর ও সবিতা দাসের ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান। তাদের চেচামেচিতে আত্মীয়-স্বজন ও পুলিশ গিয়ে দেহ দুটিকে উদ্ধার করে করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতাল নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে কর্তৃপক্ষ মৃতদেহ বলে ঘোষণা করলে করিমপুর থানার পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য জোড়া মৃতদেহ কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ওই তিন পরিবারসহ গোটা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বিপদের ইঙ্গিত ছিল ফেসবুকে পোস্টেই! সেই পোস্ট দেখে তড়িঘড়়ি বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন বন্ধুরা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করলেন তৃণমূল যুবনেতা (TMC leader)। ঘটনাকে কেন্দ্র চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে (Naihati)।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সৌম্যকান্তি বিশ্বাস। বাড়ি, নৈহাটির পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যামসুন্দরী তলায়। ভাটপাড়া পুরসভার এক জল প্রকল্পে ঠিকাদারী সংস্থার হয়ে কাজ করতেন। পরিবারের লোকের দাবি, রবিবার বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক করতে যান সৌম্যকান্তি। সন্ধ্যায় যখন পিকনিক থেকে ফেরেন, তখনও খোসমেজাজেই ছিলেন তিনি। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বসে চা খাওয়াই শুধু নয়, বাড়িতে এসেও অন্যদের সঙ্গে গল্পও করেন।

তাহলে? বন্ধুরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা আটটা দশ নাগাদ সৌম্যকান্তি ফেসবুকে পোস্টে লেখেন, 'ফিরিবার পথ নাহি, দূর হতে যদি দেখ চাহি,পারিবে না চিনিতে আমায়,হে বন্ধু বিদায়।' এরপরই তড়িঘড়ি তাঁর বাড়িতে যান সকলে। ঘরের দরজা ভেঙে ওই তৃণমূল যুবনেতাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। নৈহাটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সৌম্যকান্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিত্‍সকরা।


কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের লোকেরা। কাকা সুব্রত বিশ্বাস জানিয়েছেন, 'বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিল ও। কী এমন ঘটল যে আত্মহত্যা করল'! দলের যুবনেতা যে এই কাণ্ড ঘটাবে, ভাবতে পারেননি নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিকও। তাঁর কথায়, 'অনেক দিন ধরে ওঁকে চিনি। ওঁদের মতো ছেলেরা বন্ধুর মতো আমার সঙ্গে সমস্ত বিষয় আলোচনা করে। দিন তিনেক আগে একটা সমস্যা হয়েছিল, আমি নিজে বসে মিটিয়ে দিয়েছিলাম'। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিস।

মাত্র দশ বছর বয়সেই চমক। ১১টি বিভিন্ন ধারার নাচ আয়ত্ত করে নজির গড়লেন অশোকনগরের হিরণ চক্রবর্তী। তার এই অসামান্য প্রতিভা তাকে এনে দিল ডক্টরেট উপাধি। তার ঘরে শুধুই পুরস্কারের ছড়াছড়ি। ৪০০টিরও বেশি পুরস্কার শোভা পাচ্ছে তার ঘরে। নাচকে মননে আত্মস্থ করে একাধিক শিরোপা অর্জন করেছে এই দশ বছরের খুদে।

নানা সম্মান সে পেয়েছে গত দু'বছরে লকডাউনের মত পরিস্থিতির মধ্যে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের ১৫টি রাজ্য থেকে দু'শোর উপরের প্রথম পুরস্কার পেয়েছে সে। কয়েকমাস আগেই পেয়েছে ইন্ডিয়ান বুক অব রেকর্ডের খেতাব। সম্প্রতি সেই তালিকায় যোগ হয়েছে ডক্টরেট উপাধি। সরকার অনুমোদিত হরিয়ানার একটি সংস্থা এই উপাধি তাকে দিয়েছে। মাত্র ১০ বছর বয়সেই ১১টি ডান্স ফর্ম শিখে ফেলেছে সে। সেই তালিকায় আছে ভরতনাট্যম, সালসা, বলিউড হিপহপ, ক্রিয়েটিভ, রিজিওনাল, ফোক ইত্যাদি নৃত্য কৌশল। তার প্রতিভা মুগ্ধ করেছে সকলকে। পরিবারের সাহায্যে সে তার প্রতিভাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। এখানেই থেমে থাকতে নারাজ সে। ভবিষ্যতে আরও ভাল নৃত্য পরিবেশন করতে বদ্ধ পরিকর। তাঁর কথায়, 'বড় হয়ে ভালো নৃত্যশিল্পী হব।' সন্তানের এই সাফল্যে স্বভাবতই খুশি পরিবার। মা রুমকি চক্রবর্তীর গলাতেও সেই আনন্দের রেশ। 'করোনায় যখন গৃহবন্দি হয়ে পড়েছিল সবাই তখন মনে হয়েছিল ছেলে কিভাবে নাচটা এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু অনলাইনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একের পর সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছে সে।' দেড় বছর বয়স থেকেই নাচের প্রতি আগ্রহ হিরণের। সেই আগ্রহের খোঁজ পেতেই পিছিয়ে আসেননি বাবা-মা। যখনই সুযোগ পেয়েছে মঞ্চের দরজা খুলে দিয়েছেন তার সামনে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছে এই খুদে।
আগামীকাল দীর্ঘদিন পর সরকারি অনুষ্ঠানে মুখোমুখি হবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। তবে এবার ভার্চুয়ালি মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার, বেলা ১ টার সময় চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের (Chittaranjan National Cancer Institute) নবনির্মিত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

দেশের চিকিত্‍সা পরিষেবায় উন্নতির স্বার্থে কাজ করার যে বার্তা হামেশাই প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা যায়, তার অঙ্গ হিসেবেই এই ক্যান্সার হাসপাতালের উদ্বোধন। বিবৃতি জারি করে এমনটাই জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। হাজরা মোড়ে অবস্থিত চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতেই হাসপাতালে নতুন একটি শাখা খোলার পরিকল্পনা করা হয়।

বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেও তিনি এই নতুন ক্যান্সার হসপিটাল উদ্বোধনের কথা জানিয়েছেন। “কাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত রঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় কেন ক্যাম্পাস উদ্বোধনে আমি উপস্থিত থাকব। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ভার্চুয়ালি হবে। এই হাসপাতাল তৈরিতে রাজ্য সরকারও ২৫ শতাংশ টাকা দিয়েছে”, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরি করতে মোট ৫৩০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। মোট খরচের ৭৫ শতাংশ, ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাকি ১৩০ কোটি টাকার ব্যয়ভার বহন করেছে রাজ্য। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তত্ত্বাবধানে নয় একটি সংস্থা এই হাসপাতাল তৈরির কাজে যুক্ত ছিল। জানা গিয়েছে এই হাসপাতলে ক্যান্সার রোগীদের চিকিত্‍সার জন্য ৪৬০ টি বেড রয়েছে। এই ক্যাম্পাসে নিউক্লিয়ার মেডিসিন, ৩.০ টেসলা এমআরআই, ১২৮ স্লাইস সিটিস্ক্যানর, রেডিও নিউক্লাইড থেরাপি ইউনিট, এন্ডোস্কোপি সুটের মত অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা মিলবে।

যাবতীয় অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি হাসপাতালে এই ক্যাম্পাসে আধুনিক ক্যান্সার গবেষণা চলবে এবং এর ফলে মূলত পূর্ব উত্তর পূর্ব ভারতের অসংখ্য ক্যান্সার রোগী উপকৃত হবেন। কলকাতার হাজরা মোড়ে চিত্তরঞ্জন ক্যান্সার হাসপাতালের প্রথম যে শাখাটি রয়েছে সেখানে ২০৭ টি বেড রয়েছে।

সামুদ্রিক কাঁকড়া খেয়ে গত এক বছরে দিঘায় মৃত্যু হয়েছে চার পর্যটকের। যার মধ্যে গত দু'মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন দু'জন। এই খবরে উদ্বিগ্ন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। শুধুমাত্র অ্যালার্জির কারণেই কি এই মর্মান্তিক ঘটনা না কি খাবারের গুণগত মানও দায়ী? তা জানতেই এ বার ময়দানে নামলেন খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা।বুধবার সকালে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দিঘার হোটেল এবং রেস্তরাঁগুলিতে অভিযান চালিয়েছেন খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। দিঘার প্রতিটি স্টলে গিয়ে তাঁরা খাবারের মান পরীক্ষা করেন। ফ্রিজে রাখা সামগ্রীর গুণগত মানও পরীক্ষা করা হয়। খাদ্য দফতরের এমন ঝটিতি অভিযানে কিছুটা চমকে যান হোটেল এবং রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা।

নন্দীগ্ৰাম স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকরা দিঘার সৈকতে থাকা প্রতিটি হোটেল এবং রেস্তরাঁয় অভিযান চালান। সেই সঙ্গে খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করেছেন তাঁরা। রামনগর ১ নম্বর ব্লকের খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিক মণিকা সরকার বলেন, 'রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভিড় জমান দিঘায়। তাঁদের সুরক্ষার দিকটি খতিয়ে দেখতেই খাদ্য দফতর অভিযান শুরু করেছে।''

গত ২১ নভেম্বরে দিঘায় বেড়াতে এসে সামুদ্রিক কাঁকড়া খেয়ে মৃত্যু হয়েছিল বেহালার বাসিন্দা সৌম্যদীপ শিকদারের। এর এক মাসের ব্যবধানে গত ২৪ ডিসেম্বর একই ভাবে সামুদ্রিক কাঁকড়া খেয়ে মৃত্যু হয় বীরভূমের রামপুরহাটের বাসিন্দা ঋত্বিকা ভকতের। দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার সন্দীপ বাগ পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছেন, গত এক বছরে কাঁকড়া খেয়ে চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।