মহিলাদের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও, বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। সময় এসেছে সতর্ক হওয়ার।
পুরুষদের স্তন ক্যান্সার ! অনেকে হয়ত জানেনই না, পুরুষের স্তনেও কর্কটরোগ হতে পারে। না, এটা শুধুমাত্র মহিলাদের রোগ নয়, পুরুষদের স্তন ক্যান্সার একটি বিরল অসুখ যা পুরুষদের স্তনের টিস্যুতে তৈরি হয়।মহিলাদের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও, বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। সময় এসেছে সতর্ক হওয়ার।
পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সারের ঘটনা বাড়ছে
স্তন ক্যান্সার বলতেই অনেকে মনে করেন, এটি এক্কেবারে মেয়েদের সমস্যা। এটা ঠিকই স্তন ক্যান্সারে মহিলারাই আক্রান্ত হন বেশি। কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষদের মধ্যেও এই ক্যান্সারের ঘটনা বাড়ছে। বিভিন্ন কারণে পুরুষদের ব্রেস্ট ক্যান্সার অনেক বেশি প্রাণঘাতী !
চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি হয়ে যায়
পরিসংখ্যান বলছে, বেশিরভাগ আক্রান্তই প্রাথমিক স্তরে লক্ষণগুলি বুঝতে পারেন না। তাই চিকিৎসকের কাছে আসতে দেরি হয়ে যায়, তাই বিষয়টি বিপজ্জনক জায়গায় পৌঁছে যায়। দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বয়স্ক পুরুষের মধ্যো এমন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে। অবশ্য যে কোনও বয়সেই ব্রেস্ট ক্যান্সার আক্রমণ করতে পারে ছেলেদের।
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন অঙ্কোলজিস্ট ও টেকনো ইন্ডিয়া ডামা হাসপাতালের মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডা. সৌরভ ঘোষ।
পুরুষ স্তন ক্যান্সারের উপসর্গগুলি কী কী
• স্তনের উপর থেকে লাম্প বা ফোলা ভাব দেখা যেতে পারে।
• স্পর্শ করলে লাম্পের অস্তিস্ব বোঝা যেতে পারে।
• মহিলাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণগুলির সঙ্গে পুরুষদের উপসর্গ খুব আলাদা নয়। যেমন ব্রেস্ট-এর ত্বকের রঙে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসতে পারে।
• কোনও কোনও সময় ত্বকের উপর তল বা টেক্সচার কমলালেবুর খোসার মতো মনে হতে পারে।
• স্তনবৃন্তে পরিবর্তন আসতে পারে। স্তনবৃন্তের রঙে পরিবর্তন আসে।
• স্তনবৃন্ত থেকে তরল বের হতে পারে। কখনও আবার রক্তপাতও ঘটতে পারে।
• লিভার সিরোসিস থাকলে তা পুরুষ হরমোন হ্রাস করে এবং মহিলা হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
• অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে দেহের ইস্ট্রোজেনের মাত্রার। এই হরমোন বেশি হয়ে গেলে , তা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
কীভাবে ধরা পড়বে
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ব্রেস্ট স্ক্রিনিং করাতে হবে মহিলাদের মতোই। তাতে স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়। আর যাঁদের পরিবারের স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, তাদের তো করাতেই হবে। পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে ম্যামোগ্রাম, ইউএসজি, নিপল ডিসচার্জের পরীক্ষা এবং বায়োপ্সির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার নির্ণয় করা হয়।
পুরুষদের স্তন ক্যান্সার কেন হয়
প্রত্যেকেই অল্প পরিমাণে ব্রেস্ট-টিস্যু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। স্তনের টিস্যুতে দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থি (লোবিউল), স্তনবৃন্তে দুধ বহনকারী নালী এবং চর্বি থাকে। বয়ঃসন্ধির সময়, মহিলাদের আরও স্তনের টিস্যু তৈরি হয় এবং পুরুষদের হয় না। কিন্তু যেহেতু পুরুষরা অল্প পরিমাণে স্তন টিস্যু নিয়ে জন্মায়, তাই তাদেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে।
ঝুঁকির কখন ?
পুরুষ স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, যখন -
- বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। পুরুষ স্তন ক্যান্সার ৬০-এর পরে হয়ে থাকে সাধারণত।
- ইস্ট্রোজেন-ধরনের ওষুধ গ্রহণ করলে এর ঝুঁকি বাড়ে। যেমন প্রস্টেট ক্যান্সারে হরমোন থেরাপির জন্য ব্যবহৃত হয় এই ওষুধ, যা পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় ।
- স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে সতর্ক হতে হবে। আপনার পরিবারের কারও আগে এই রোগ হয়ে থাকলে, আপনার তা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ে পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নির্ণয় হলে নিরাময় হতে পারে দ্রুত। ক্যান্সার কতদূর ছড়িয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে হয় চিকিৎসা। রেডিয়েশন থেরাপি, ম্যাস্টেকটমি , কেমোথেরাপি, হরমোনাল থেরাপি, টার্গেটেড সেল থেরাপির মতো অনেক চিকিৎসা রয়েছে।
সকাল-বিকেল ভাত খেলে কী হতে পারে জানা আছে? সে সম্পর্কে আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাঙ্কিপক্স থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনা কম , তবে রোগ ছড়ায় খুব দ্রুত ।
মাঙ্কিপক্স (Monkeypox ) কি?
করোনা-উদ্বেগের মধ্যেই বাড়ছে মাঙ্কি পক্সের সংক্রমণ। আগেই বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যভিত্তিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এবার সেই পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও । ভারতেও মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কী এই রোগ ? মাঙ্কিপক্স হল একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা স্মলপক্স ভাইরাসের মতো। এটি একটি নতুন ভাইরাস নয়।
বিশেষক্ষদের কেউ কেউ বলছেন, মাঙ্কিপক্স ভাইরাসটি প্রথম ১৯৫৮ সালে বানরের মধ্যে এবং তারপর ১৯৭০ এর দশকের শুরুতে মানুষের মধ্যে দেখা যায় ৷ যদিও মাঙ্কিপক্স এবং গুটিবসন্তের একই উপসর্গ , তবে মাঙ্কিপক্স থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনা অনেক কম বলে মনে করা হয়।
মাঙ্কিপক্সের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
- ফুসকুড়ি
- জ্বর
- ঠান্ডা লাগা
- শরীরে ব্যথা
- ক্লান্তি
- মাথাব্যথা
- শ্বাসকষ্টের লক্ষণ
- গলা ব্যথা, কাশি এবং নাক বন্ধ
- ফোলা লিম্ফ নোড
দেখা যাচ্ছে, ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে: - মুখ
- যৌনাঙ্গ
- মুখ
- হাত
- পা
- বুক
- মলদ্বার
ফুসকুড়ি ফোসকা বা পিম্পলের মতো হয় এবং তারপরে তরল এবং পুঁজ বের হতে পারে। ফুসকুড়ি খুব যন্ত্রণাদায়ক।
কীভাবে ছড়ায়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের প্রাথমিক মোড হল ত্বক থেকে ত্বকের যোগাযোগ। মাঙ্কিপক্স ফুসকুড়ি, বা শরীরের তরলগুলির সাথে সরাসরি যোগাযোগ থেকে এই রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস প্রশ্বাসের নিঃসরণ থেকে ছড়াতে পারে। যৌন ক্রিয়াকলাপ, আলিঙ্গন, চুম্বন থেকেও ছড়াতে পারে। কোনও কোনও চিকিৎসকের দাবি, গর্ভবতীর প্লাসেন্টার মাধ্যমে তাদের ভ্রূণে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে।
উপোস করার আগে ও পরে বেশ কিছু নিয়ম না মেনে চললে শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্য়কর উপায়েও আলুর চিপস তৈরি করা সম্ভব। আর তা নিজে বাড়িতেই তৈরি করতে পারবেন।
কলকাতা: অম্বল গোলমাল বহু মানুষেরই থাকে। অনেকেই আবার হজমের সমস্যা রয়েছে মনে করে মুঠো মুঠো ওষুধ (Antacid) খেয়ে থাকেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে অম্বল ওষুধ কিনে খেয়ে থাকেন। কিন্তু জানেন কি, এর ফলে স্বাস্থ্যের কী মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে? অকারণে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টাসিড খেলে কী হতে পারে, সে সম্পর্কে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অত্যধিক হজমের ওষুধ খাওয়ার ফলে কী হবে?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অত্যধিক মাত্রায় অম্বলের ওষুধ খেলে হার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে হৃদপিণ্ডে (Heart)। তাতে প্রদাহর সমস্যা দেখা দেয়, হার্ট বার্নের (Heart Burn) সমস্যা দেখা দেয়। হৃদরোগের (Heart Disease) ঝুঁকি বাড়ায় অত্যধিক পরিমাণে অ্যান্টাসিড সেবন। তাঁরা আরও জানাচ্ছেন, অত্যধিক পরিমাণে অ্যান্টাসিড সেবনে হৃদরোগ ছাড়াও দেখা দেয় স্বাস্থ্যের আরও নানা সমস্যা। ডায়রিয়া, কিডনির জটিল রোগ, কিডনিতে পাথর, শরীরে বি১২ কমে যাওয়া, স্মৃতিভ্রংশ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, মাথার যন্ত্রণা, তলপেটে ব্যথা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
হৃদরোগের লক্ষণ-
১. হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং আরও নানা প্রকার হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়েছে বর্তমান যুগে। এর মুখ্য উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে বুকে ব্যথা।
২. তলপেটে ও পিঠে ব্যথা হতে পারে এই সময়ে।
৩. বুকে ব্যথা ছাড়াও বুকে চাপ অনুভব, শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা
8.শরীর অত্যধিক মাত্রায় কমে গেলে কিংবা হাত পা নাড়াচাড়া করতে সমস্যা হলে তা বেশ চিন্তার।
৫. ঘাড়ে, চিবুকে. গলায় ব্যথা দেখা দিতে পারে।
৬. অত্যধিক মাত্রায় যদি হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
৭. ঝাপসা দেখা, চোখে ব্যথা, চোখ ঘোলা হয়ে যাওয়া এগুলিও হৃদরোগের লক্ষণ।
৮. মাথা ঘোরা, ত্বকে সমস্যা, শুকনো কাশি, মাঝে মধ্যেই বুকে কষ্ট অনুভব হলে তা চিন্তার।
শসার রয়েছে নানাবিধ গুণ। রূপচর্চা থেকে শুরু করে মেদ নিয়ন্ত্রণসহ নানা উপযোগিতা আছে এই সহজলভ্য সবজিটির। ভিন্নভাবে রান্না করেও খেতে পারেন এই সবজিটি। তাছাড়া খেতে পারেন শসার ক্ষীর যা খুব সহজেই বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারেন।
যা লাগবে
শসা কুড়োনা- ৫০০ গ্রাম
দুধ- ২ লিটার
চিনি ৪০০ গ্রাম
ঘি- ২ চামচ
কাজুবাদাম কুচি- আধা কাপ
কিশমিশ- আধা কাপ
ছোট এলাচ- ৫টি
সুন্দর পরিবেশনের জন্য কাঠবাদাম পেস্তা
যেভাবে তৈরি করবেন
প্রথমেই শসা খুব মিহি করে কুড়িয়ে নিতে হবে। তারপর কুড়ানো শসাগুলোকে ভালো করে ধুইয়ে নিন। নিংড়ে নিতে হবে এর সঙ্গে লেগে থাকা জল। তারপর দুধ ভালো করে ফুটিয়ে ঘন করে নিতে হবে। পরে কড়াইতে ঘি গরম করে কুচানো কাজু বাদামগুলোকে হালকা ভেজে তুলে নিতে হবে। এবার আগে থেকে ঘি দেওয়া এই কড়াইতেই শসাগুলোকে হালকা আঁচে ভালো করে ভেজে নিয়ে তাতে ফোটানো দুধ দিয়ে ভালো করে ফুটতে দিতে হবে।
এর মধ্যে চিনি, ভাজা কাজুবাদাম কুচানো এবং কিশমিশ দিয়ে ভালো করে নেড়ে গোটা এলাচ দিয়ে ইচ্ছেমতো ঘন করে নামিয়ে নিলেই তৈরি হবে শসার ক্ষীর। পরে ঠান্ডা হয়ে এলে এর উপরে কিছুটা কাঠবাদাম ও পেস্তা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
অবশ হয়ে গিয়েছে হাত। চামচ তুলতে পারছে না বছর ষোলোর পারমিতা। দিন সাতেক ধরে সোমদত্তার কনুইতে চিনচিনে ব্যথা। এমন সব অসুখ নিয়ে ভিড় বাড়ছে শহরের হাসপাতালে। রোগীদের পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা বলছেন, স্নায়ুর (Nerve) অসুখ। মাত্র ষোলো -সতেরোয়? সূত্র খুঁজতে গিয়ে ‘ভিলেন’ চিনতে পেরেছেন অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞরা। তা হল হাতের স্মার্ট ফোন (Smart Phones)। করোনা আবহে বন্ধ স্কুল-কলেজ। মোবাইলেই চলছে পড়াশোনা। বাইরে বেরনো বন্ধ। ঘরবন্দি কিশোর-কিশোরীর মোবাইল আসক্তির মাশুল দিচ্ছে স্নায়ু।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, স্মার্ট ফোনে রাত-দিন আঙুলের নাড়াচাড়া, শরীরের মারাত্মক অসুখ নিয়ে আসছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাঞ্চনকুমার সাবুইয়ের কথায়, মোবাইল ব্যবহারে তিনটি আঙুলের ওপর চাপ পড়ে সবচেয়ে বেশি। বুড়ো আঙুল আর তর্জনি দিয়ে টাইপ/স্ক্রল চলে সারাদিন। আর হাতের সবচেয়ে ছোট আঙুলটা মোবাইলটা হাতের তালুতে ধরে রাখার সাপোর্ট দেয়। এই তিন আঙুলের মাধ্যমেই শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিন স্নায়ুর চলাচল। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে ওই স্নায়ুগুলোয় চাপ পড়ছে। একসময় তা স্থিতিস্থাপকতা হারাচ্ছে। তাতেই বাসা বাঁধছে অসুখ।
চিকিৎসকের বক্তব্য, সারাক্ষণ মোবাইলে লিখলে বুড়ো আঙুল, তর্জনির অতিরিক্ত ব্যবহার হয়। আঙুল দুটির কাছাকাছি থাকা স্নায়ুর ওপরে বাড়তি চাপ পড়ে। এর জেরে প্রথমে আঙুল অসাড় লাগে। তারপর থেকে শুরু হয় কনুইয়ে চিনচিনে ব্যথা। ডাক্তারি পরিভাষায় এ সমস্যার নাম কিউবিটাল টানেল সিনড্রোম। ছাত্র-ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারের সময়সীমা জানতে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এক গবেষণা চালিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ। সেই গবেষণার তথ্য বলছে, কলেজে পড়া ছাত্ররা দিনে অন্ততপক্ষে দেড়শোবার নিজের মোবাইল চেক করে। লকডাউন আবহে তা দ্বিগুণ হয়েছে বলেই মত অভিভাবকদের। অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাবুই জানিয়েছেন, অনেকেই বলছেন হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘক্ষণ হাতে কোনও সাড় থাকছে না। চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে নাম্বনেস। বুড়ো আঙুল আর তর্জনির ভিতরকার ‘মিডিয়ান’ আর ‘রেডিয়াল’ নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলেই এমনটা হয়। এমআর বাঙুর হাসপাতালের অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জগৎ জ্যোতি ধারা জানিয়েছেন, শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নন, হাসপাতালে স্নায়ুরোগীর তালিকায় রয়েছেন প্রবীণ-মধ্যবয়স্করাও।
ঘরবন্দি অবস্থায় সকলেই বিভিন্ন সোশ্যাল সাইটে মেসেজ আদান প্রদান করছেন। যত কথা মোবাইলের মাধ্যমে বলছেন এত কথা তাঁরা সারাদিনে মুখোমুখি কারও সঙ্গে বলেন না। দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে টাইপ করা থেকেই বাড়ছে পিঠের ব্যথা-সহ মেরুদণ্ডের নানা সমস্যাও। ডা. ধারার কথায়, মোবাইলে লেখার সময় আমাদের পিঠে অজান্তেই একটা বোঝা চেপে যায়। কীভাবে? চিকিৎসকের ব্যখ্যা, টেক্সট করার সময় সকলে মোবাইলটা হাতে নিয়ে একটু ঝুঁকে পড়ে। এতে মেরুদণ্ডটা একটা বিশেষ কোণে বেঁকে থাকে। এবং এর ফলে মেরুদণ্ডে যে পরিমাণ চাপ তৈরি হয় তার ওজন ৫০ পাউন্ড। অর্থাৎ বছর সাতেকের একটা বাচ্চার সমান। কেউ দিনে পাঁচ ঘণ্টা টেক্সট করছেন মানে টানা পাঁচ ঘণ্টা একটা ৫০ পাউন্ডের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে রয়েছেন। এই জন্য অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার জন্ম দিচ্ছে পিঠব্যথারও। কোভিডের কারণে সব কাজ হচ্ছে বাড়ি থেকে। মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে মোবাইল ব্যবহার। চিকিৎসকদের পরামর্শ, পিঠের ব্যথা ও স্নায়ুর রোগ থেকে মুক্তি পেতে অকারণে মোবাইল ব্যবহার করবেন না।
বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে মত্স্যজীবীদের ইলিশে ইলিশে হয় ছয়লাপ। সেই ইলিশের ঝোলে ডুব দিতে দিতে মেলে একেবারে পরম তৃপ্তি। শুধু ঝোল কেন সর্ষে ইলিশ সহ নানা রেসেপি সেই যাকে ইংরেজিতে বলে 'ফুডগ্যাজম'।
তবে মাছটি দামি হওয়ায় বেশিরভাগ সময়ই অনেক বাঙালি তা ছুঁতে গিয়েও ছুঁতে পারেন না । কিন্তু এবার মাছটির গুরুত্ব একটি অন্য কারণেই বেড়ে গিয়েছে।আনন্দের বিষয় হল যে বিশেষজ্ঞরাও নাকি বর্ষাকালে রোজ আমাদের পাতে রাখতে বলেছেন টাটকা ইলিশ মাছ কিন্তু কেন?
এর একমাত্র কারণ হল তা করোনাকালে নাকি বিশেষ কার্যকরী (covid-19)।
নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন উঠেছে যে কীভাবে করোনাতে কাজে দিতে পারে এই রুপোলি রঙের ইলিশ?
১।পুষ্টিবিদরা বলছেন ইলিশ মাছে রয়েছে এক বিশেষ ধরনের ফ্যাটি এসিড যা পলিআনস্যাচুরেটেড (fatty acid)। এই ফ্যাটি এসিড (fatty acid) ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মত মারণ রোগকেও আমাদের থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
২।একই সঙ্গে হার্টের রোগ থাকে দূরে। আমাদের শরীর থেকে ব্যাড কোলেস্টেরলকে (cholesterol) দূরে রেখে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সেটি।
৩।আবার এই মাছে রয়েছে ফসফরাস যা আমাদের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। এমনকি ডিমেনশিয়ার মত রোগও পাত্তা পায় না আমাদের শরীরে।তাই এবার থেকে গিন্নিকে বলুন রোজ যেনো আপনার পাতে থাকে ৫০ গ্রাম থেকে ১০০ গ্রামের একটি ইলিশ মাছ। রোজ টাটকা কিনে খেতে পারলে তো খুবই ভালো।তবে চাইলে প্রতিদিনের বদলে সপ্তাহে দুদিনও তা খেতে পারেন। যারা মাছটি গন্ধের জন্যে খান না তারাও এবার শরীরের কথা ভেবে লেগে পড়ুন।কিন্তু এই বিষয়ে আবার একটি বিশেষ পরামর্শও রয়েছে। যাদের কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে তারা ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ না করে ইলিশ মাছ খাবেন না।তাই সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে তবেই ইলিশ মাছকে এবার আপন করে নিন।


