মশাল মিছিল ও কুশপুতুল পোড়ানোকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিবাদের পদ্ধতি বলে দাবি পড়ুয়াদের। তাঁদের প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে আপত্তি কোথায়? স্লোগান, প্রতিবাদ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের একজোট হওয়াকে কি হুমকি হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ?


ফের শিরোনামে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইন্সটিটিউট (SRFTI)। পরপর সংঘর্ষের ঘটনার পর এবার মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে ঢুকল পুলিশ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রায় ৬০ জনের বেশি অফিসার ও কর্মীকে দেখা গিয়েছে ক্যাম্পাসে।


জানা গিয়েছে, ২৭ অক্টোবর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে পুলিশকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। উপাচার্যের অনুরোধেই পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকেছিল বলে অভিযোগ ছাত্র সংসদের। পড়ুয়াদের হস্টেলের পিছনে গেস্ট হাউসের কাছে জড় হন পুলিশকর্মীরা। পুলিশ মোতায়েন কেন হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পড়ুয়ারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি ও ভয়ের পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে পড়ুয়াদের।

বাবার মৃত্যু হয়েছিল দুর্ঘটনায়, ছেলেও অকালে চলে গেল 'অ্যাক্সিডেন্টে'
অন্যদিকে, উপাচার্যের দাবি, পড়ুয়াদের মশাল মিছিল তাঁকে আতঙ্কিত করেছিল। ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ হয় পড়ুয়াদের মশাল মিছিল। মিছিলের শেষে ক্যাম্পাসের বাইরে একটি কুশপুতুল পোড়ানো হয়। ছাত্র সংসদের দাবি, মিছিল শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে ক্যাম্পাসে ঢোকে পুলিশ।


শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জেরে মধ্যরাতে ৬০ জনের বেশি পুলিশ মোতায়েনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন পড়ুয়াদের। ছাত্র সংসদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে নিরাপত্তার অজুহাতে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

মশাল মিছিল ও কুশপুতুল পোড়ানোকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিবাদের পদ্ধতি বলে দাবি পড়ুয়াদের। তাঁদের প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে আপত্তি কোথায়? স্লোগান, প্রতিবাদ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের একজোট হওয়াকে কি হুমকি হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ?

পড়ুয়াদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠার সময় পুলিশ কোথায় ছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছে ছাত্র সংসদ। পড়ুয়াদের নিরাপত্তার অভিযোগে কেন একই তৎপরতায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি, প্রশ্ন ছাত্র সংসদের।

উপাচার্য নিজের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিশ মোতায়েনের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুলিশি ব্যারাকে পরিণত করার বিরোধিতা করছে ছাত্র সংসদ। স্থায়ী পুলিশি উপস্থিতি পড়ুয়াদের স্বাধীন মত প্রকাশ ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে বাধা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা। ছাত্র সংসদের দাবি, নিরাপত্তার নামে পুলিশি ক্ষমতার বিস্তার নয়, হামলার তদন্ত ও হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের প্রত্যেক সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।


Share To:
Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours