তবে, ঐতিহ্য ও আবেগ অটুট রেখেই এবার নিরাপত্তায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভক্তদের উন্মাদনা বজায় রেখে যাতে নির্বিঘ্নে দেখা যায় ছোট বামা মায়ের সেই বিখ্যাত নৃত্য, এখন সেদিকেই নজর উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের। বামা কালী মাতার সভাপতি সুখেন্দু চৌধুরী বলেন, "এখন তো প্রচুর লোক আসছেন। তাই মানুষের ভিড় হচ্ছে। যেখানে নৃত্য প্রদর্শন করা হয় সেইখানে এত মানুষের ভিড় হয়। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার খেলার মাঠে হবে।"


মায়ের নাচ দেখতে ভিড় করেন কাতারে-কাতারে মানুষ, এবার আর রাস্তায় নয়,বামা কালীর নাচ হবে এখানে...
বামা কালীর পুজো


শান্তিপুরের দুই বামা কালী—শুধু পুজো নয়, হাজার হাজার মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই দুই দেবীর ইতিহাস। প্রতি বছর পুজো ও বিসর্জনকে ঘিরে বাড়তে থাকে ভক্তদের ভিড়। আর ছোট বামা কালীর নিরঞ্জনের নৃত্য এখন শুধু শান্তিপুর নয়, দেশ-বিদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়। মশালের মায়ের নাচ এক অদ্ভুত মায়াময় পরিবেশ তৈরি করেন। এবারও সেই ধর্মীয় আচার হবে। তবে পরিবর্তন করা হবে সেই স্থান।


দুই বামা মায়ের পুজো নিয়েই মানুষের আবেগ প্রবল। বিশেষ করে ছোট বামা কালীর বিসর্জনের সময় মানুষের কাঁধে প্রতিমা নিয়ে নাচ দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। এই নৃত্য দেখতে প্রতিবছরই বাড়ছে দর্শনার্থীদের সমাগম। তবে বিপুল জনসমাগমের চাপে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছিল। এতদিন চার রাস্তার মোড়ে রাস্তায় এই নৃত্য পরিবেশিত হত। ফলে ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হওয়া বা অন্য কোনও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছিল। তারপর দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই সব বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শান্তিপুরের চর জাজিরার বামা কালীর নৃত্যের স্থান পরিবর্তন করে মন্দির সংলগ্ন একটি খেলার মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থাকা তিনটি খেলার মাঠকে কাজে লাগিয়ে ভিড় সামলানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বামা কালীর ইতিহাস


কথিত আছে, ১৯৪৬ সালে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে কয়েকজন উৎসাহী যুবকের উদ্যোগে শান্তিপুরের কালী মুখার্জি মাঠে শুরু হয় বামা কালীপুজো। পরবর্তীকালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে ১৯৬৯ সালে শান্তিপুরের চর জাজিরা এলাকায় শুরু হয় আর এক বামা মায়ের আরাধনা। প্রতিবছর নিরঞ্জনের সময় এই মায়ের নৃত্য প্রদর্শন দেখতে ভিড় করেন প্রচুর মানুষ।

তবে, ঐতিহ্য ও আবেগ অটুট রেখেই এবার নিরাপত্তায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভক্তদের উন্মাদনা বজায় রেখে যাতে নির্বিঘ্নে দেখা যায় ছোট বামা মায়ের সেই বিখ্যাত নৃত্য, এখন সেদিকেই নজর উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের। বামা কালী মাতার সভাপতি সুখেন্দু চৌধুরী বলেন, “এখন তো প্রচুর লোক আসছেন। তাই মানুষের ভিড় হচ্ছে। যেখানে নৃত্য প্রদর্শন করা হয় সেইখানে এত মানুষের ভিড় হয়। তাই প্রশাসনের সহযোগিতায় এবার খেলার মাঠে হবে।”


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours