দুর্গোৎসবের আনন্দে যখন চারদিক মুখরিত, দেবীপক্ষের শুভ সূচনায় ঠিক তখনই এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির অন্ধকার জীবনে কাটল দীর্ঘদিনের অভিশাপ। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সাগর ব্লকের বেগুয়াখালী গ্রামের জীর্ণ ঘরে অবশেষে পৌঁছাল আধুনিক বিদ্যুতের আলো। দুর্গাপূজার মহাপঞ্চমীর বিশেষ তিথিতে সাগরদ্বীপের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল নিজে ওই দম্পতির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে সুইচ টিপে ঘর আলোয় ভরিয়ে দিলেন।

আর সেই আলোর সঙ্গে সঙ্গেই আনন্দে চোখের জল ও হাসিতে ভেসে উঠলেন দিনদরিদ্র বৃদ্ধ বাবলু পাইক ও তাঁর স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালেই সমগ্র সাগরদ্বীপে সরকারি উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছিল দ্বীপে আলো এলেও বেগুয়াখালী গ্রামের এই প্রত্যন্ত প্রান্তের দম্পতির ছোট কুঁড়েঘরটি আলো থেকে চিরতরে বঞ্চিতই রয়ে যায়।বাবলু পাইকের অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে বিগত বছরগুলিতে একাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তির দুয়ারে দুয়ারে তিনি বিদ্যুতের আলোর জন্য ধর্না দিয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁদের কাছে থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল। দিন এনে দিন খাওয়া এই নিঃস্ব দম্পতির সেই টাকা দেওয়ার বিন্দুমাত্র সামর্থ্য ছিল না। 


Oফলে বছরের পর বছর ধরে প্রদীপের শিখা আর কেরোসিনের কুপির আবছা আলোতেই চরম কষ্টে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি বিষয়টি বর্তমান বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডলের কানে পৌঁছায়। পুরো ঘটনাটি শোনার পরই তিনি আর কালবিলম্ব করেননি। অবিলম্বে বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এবং অতি দ্রুততার সঙ্গে ওই বাড়িতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।প্রশাসনিক তৎপরতায় দ্রুত সমস্ত কাজ শেষ হয় এবং দুর্গাপূজার পঞ্চমীর সন্ধ্যায় বিধায়ক নিজে বাবলু পাইকের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন। নিজের হাতে মিটার ও সুইচের বোতাম টিপে যখন পুরো ঘরটি আলোয় উদ্ভাসিত করে তোলেন, তখন দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ আর যন্ত্রণা মুছে গিয়ে ওই বৃদ্ধ দম্পতির মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির আলো।বিধায়কের এই মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগে বেগুয়াখালী গ্রামজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।দম্পতির মতে, "আজ আমাদের ঘরে আসল দুর্গাপূজা শুরু হলো।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours