শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা বা ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW) প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। গ্রেফতারির আগে মুম্বইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত ডিনোর বাসভবনে টানা ৮ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালান তদন্তকারী আধিকারিকেরা।



আইনি বিপাকে বলিউড অভিনেতা তথা মডেল ডিনো মোরিয়া। মুম্বইয়ের মিঠী নদীর পলি অপসারণ ও সংস্কার প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা বা ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW) প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।


পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারির আগে মুম্বইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত ডিনোর বাসভবনে টানা ৮ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালান তদন্তকারী আধিকারিকেরা। মুম্বই পুরসভা অর্থাৎ বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (BMC) অধীনস্থ মিঠী নদী সংস্কার প্রকল্পের পলি পরিষ্কারের কাজে চরম অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই আর্থিক কারচুপির জেরে পুরসভার আনুমানিক ৬৫.৫৪ কোটি টাকার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


জ্যোতি বসু আমার অনুপ্রেরণা', হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাক লাগিয়ে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলশাদার
প্রসঙ্গত, এই হাই-প্রোফাইল মামলায় বেশ কিছুদিন ধরেই ডিনো মোরিয়ার নাম ঘোরাফেরা করছিল। গত বছর জুন মাসেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল অভিনেতার মুম্বইয়ের বাসভবনে টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল। শুধু ডিনোর বাড়িই নয়, সেই সময় মুম্বই ও কোচির প্রায় ১৪টি বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। যার মধ্যে ডিনোর ভাইয়ের বাসভবন সহ একাধিক ঠিকাদার ও মধ্যস্থতাকারীদের ডেরা অন্তর্ভুক্ত ছিল।


মূলত মিঠী নদীর পলি অপসারণ সংক্রান্ত চুক্তি বণ্টন এবং অর্থ লেনদেনের জটিল পথ অনুসরণ করেই এই তদন্ত এগোচ্ছে। ঠিকাদার, মধ্যস্থতাকারী ও পুর আধিকারিকদের মধ্যে কীভাবে টাকা হাতবদল হয়েছিল, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে EOW। তদন্তে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে যে, দুর্নীতির একটি অংশ হিসেবে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ‘ইউবিও রাইডজ়’ (UBO Rides) নামে একটি সংস্থায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। বিশেষ বিষয় হল, এই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে রয়েছেন ডিনোর ভাই স্যান্টিনো মোরিয়া। ইওডব্লিউ-এর দাবি, মামলার অন্যতম মূল চক্রান্তকারী কেতন কদম এই অর্থ পাচার করেছিলেন। উল্লেখ্য, মিঠী নদী কেলেঙ্কারিতে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালেই গ্রেফতার হন কেতন কদম।

তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, ডিনো মোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগই বর্তমানে বিচারাধীন ও তদন্তসাপেক্ষ। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এখনও আদালতে কোনও অভিযোগ চূড়ান্ত প্রমাণ হয়নি।


Share To:
Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours