December 2025

খালেদার আদি বাড়ির এক অংশে এখন থাকেন চক্রবর্তী ও গোপ পরিবার। সবটা মিলিয়েই ছিল খালেদাদের বাড়ি। বর্তমানে খালেদা জিয়াদের জলপাইগুড়ির বাগান বাড়ির একটা অংশ কিনে নিয়ে বাড়ি বানিয়েছে গোপ পরিবার। ওই পরিবারের দুই সদস্য ঝর্না গোপ এবং নীলকন্ঠ গোপও এখন খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণা করছেন।

উত্থান-পতন, টানাপোড়েন, বিতর্ক সবকিছুই পাক খেয়ে তাঁকে ঘিরে। দু’দফায় হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। সে দেশে ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে চলে গেলেন খালেদা জিয়া। প্রিয়জনরা ডাকতেন পুতুল বলে। জানেন এই পুতুলের জন্মের সঙ্গে রয়েছে এপার বাংলার যোগ। জলপাইগুড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের নয়াবস্তি পাড়ায় থাকা শতাব্দী প্রাচীন ফ্রেন্ডস ব্যাপটিস্ট চার্চের ঠিক পাশের গলিতে ছিল তাঁদের বাগান বাড়ি। নয়াবস্তি পাড়ায় কেটেছিল খালেদার শৈশবের বেশ কয়েকটা বছর। 

শহরের প্রবীণ ব্যাক্তি ও ইতিহাসবিদের থেকে পাওয়া তথ্য় বলছে, ছোটবেলায় জলপাইগুড়িতেই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন খালেদা। জলপাইগুড়ির সাহিত্যিক ও লেখক প্রয়াত কামাখ্যা চক্রবর্তীর বিখ্যাত বই ‘সেকালের জলপাইগুড়ি শহর এবং সামাজিক জীবনের কিছু কথা’ থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে দেশভাগের পর খালেদার পরিবার এখানের মুখার্জি পরিবারের সঙ্গে সম্পত্তি বিনিময় করে ওপারে চলে যায়। খালেদার মৃত্যুতে এখন শোকের ছায়া জলপাইগুড়ির নয়াবস্তিতেও।


খালেদার আদি বাড়ির এক অংশে এখন থাকেন চক্রবর্তী ও গোপ পরিবার। সবটা মিলিয়েই ছিল খালেদাদের বাড়ি। বর্তমানে খালেদা জিয়াদের জলপাইগুড়ির বাগান বাড়ির একটা অংশ কিনে নিয়ে বাড়ি বানিয়েছে গোপ পরিবার। ওই পরিবারের দুই সদস্য ঝর্না গোপ এবং নীলকন্ঠ গোপও এখন খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণা করছেন। দু’জনেই গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ঠিক উল্টোদিকে বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ভোলা মণ্ডলের। DSA সচিব ভোলা মন্ডলের দাবি, তাঁর মায়ের কোলে-পিঠে বড় হয়েছেন খালেদা। অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন তিনি। গত বছর পর্যন্ত খালেদার আত্মীয়রা এসে এই ভিটে দেখে গিয়েছেন। 

ইতিহাসবিদ ডক্টর আনন্দ গোপাল ঘোষ বলছেন, খালেদার বাবা ইসকিন্দার মিঁঞা চায়ের ব্যবসার সূত্রে নোয়াখালি থেকে জলপাইগুড়ি আসেন। ১৯৫০ সালের পর খালেদার পরিবার জলপাইগুড়ি ছেড়ে চলে যায়। অন্যদিকে বিখ্যাত ফুটবলার ফজলার রহমানের ছেলে পুটু রহমান বলছেন, তাঁর বাবার সঙ্গেও খালেদার পরিবারের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। খালেদার বাবা চাকরি সূত্রে জলপাইগুড়ি এসেছিলেন। পরে চাকরি ছেড়ে চায়ের ব্যবসায় যুক্ত হন। খালেদা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ওপার বাংলাতেও গিয়েছিলেন। 


দক্ষিণবঙ্গে আগামী দু’দিন সকালের দিকে হালকা কুয়াশা থাকবে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব কমে যাবে। আগামী ১ তারিখ থেকে অর্থাৎ নতুন বছর থেকে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই আবার কুয়াশার দাপট বাড়বে।


কাঁপুনি ধরাচ্ছে শীত। একটানা রেকর্ড করেই চলেছে কলকাতার ঠান্ডা। আবহাওয়া দফতর বলছে আগামী সাতদিন গোটা দক্ষিণবঙ্গে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকছে। তবে আগামী তিনদিনে দার্জিলিংয়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সঙ্গে তুষারপাতের সম্ভাবনাও থাকছে।হালকা বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে। আগামী চারদিন গোটা উত্তরবঙ্গেই কুয়াশার দাপট চলবে। কোথাও হালকা, আবার কোথাও ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে ঘন কুয়াশার দাপট থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে হালকা কুয়াশা দেখা যাবে। তবে আগামী চারদিন উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রায় তেমন কোনও বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। 


অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে আগামী দুদিন সকালের দিকে হালকা কুয়াশা থাকবে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার প্রভাব কমে যাবে। আগামী ১ তারিখ থেকে অর্থাৎ নতুন বছর থেকে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই আবার কুয়াশার দাপট বাড়বে। একইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনের তাপমাত্রাই ঊর্ধ্বমুখী হবে। 


বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর বুধবার কলকাতাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। ১ থেকে ৩ তারিখের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে পারে। কলকাতাতেও আগামী তিনদিন সকালের দিকে কুয়াশার প্রভাব বজায় থাকবে থাকবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে কুয়াশার দাপট চললেও আপাতত দক্ষিণবঙ্গের কোনও জেলাতেই বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা থাকছে না। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কুয়াশা বেশি থাকবে। 

এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হলে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ তৃণমূল। পাল্টা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বন্ধ নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন তৃণমূল নেতারা, সুর চড়াচ্ছেন বাংলার বঞ্চনা নিয়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলছেন, “বাংলায় ওরা কেন্দ্রীয় সব প্রকল্প কেন বন্ধ করে রেখেছে? এই টাকা কী বিজেপির টাকা?”

বিজেপি ক্ষমতায় এলেও চলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না, আশ্বাস শাহের
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ

বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে চলা কোনও প্রকল্প বন্ধ হবে না। স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যে বর্তমানে চলা সব প্রকল্পই চালু থাকবে, সেই সঙ্গে নতুন প্রকল্পও চালু করবে বিজেপি, আশ্বাস অমিত শাহের। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলে তৃণমূল অপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর। একদিন কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরি হওয়ার পরেও এখনকার বর্তমান সরকার যে সমস্ত প্রকল্প চালাচ্ছে তার মধ্যে একটা স্কিমও বন্ধ হবে না। আর তাছাড়া আমাদের ইস্তেহারে আমরা যে সমস্ত প্রকল্পের কথা বলব তা বাস্তবের রূপ পাবে। এটা গোটা দেশেই আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড।” 

এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হলে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ তৃণমূল। পাল্টা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বন্ধ নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন তৃণমূল নেতারা, সুর চড়াচ্ছেন বাংলার বঞ্চনা নিয়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলছেন, “বাংলায় ওরা কেন্দ্রীয় সব প্রকল্প কেন বন্ধ করে রেখেছে? এই টাকা কী বিজেপির টাকা? এটা তো জনসাধারণের টাকা, করদাতাদের টাকা। জিএসটি-তে সব টাকা নিয়ে যাচ্ছেন আর কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সব টাকা কোন অধিকারে বন্ধ করা হয়েছে? হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট অর্ডার দিলেও পশ্চিমবঙ্গকে খেতে দেব না, গরিব মানুষের পেটে লাথি মারব, এই মানসিকতা নিয়ে বিজেপি ভোট চাইছে।” 


এখানেই না থেমে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপের পর তোপ দাগতে দেখা যায় জয়প্রকাশ মজুমদারকে। চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট বললেও ওরা মানবে না। বিজেপি এমন একটা দল যাঁরা ভারতের সংবিধান মানে না, যা ইচ্ছে তাই করে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হেরে ওদের বাড়ি যেতে হবে।”  

ইতিমধ্যেই উত্তর পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে আগত হিমশীতল হাওয়ার স্রোত অর্থাৎ জেড স্ট্রিম কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হবে আগামী কয়েকটা দিন। ফলে শনিবার রাত পর্যন্ত সামান্য হলেও পারদ উত্থানের পূর্বাভাস মৌসম ভবনের।

দমদমে পারদ নামল ১০ ডিগ্রিতে, সত্যিই বরফ পড়বে কলকাতায়? ৫ জানুয়ারি শীতের বড়দিন
প্রতীকী ছবি


বছর শেষে রাজ্য জুড়ে দাপিয়ে ব্যটিং করছে কনকনে শীত। জেলাজুড়ে হাড়কাঁপানো শীত। বছর শেষে উত্তরের ঠান্ডাকে সমানে সমানে টেক্কা দিচ্ছে পশ্চিমের জেলাগুলি। দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি ঠান্ডা বীরভূমে। দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শ্রীনিকেতনে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামল কল্যাণীর পারদ। এরমধ্যে পশ্চিমের জেলা বাঁকুড়ায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাপমাত্রার ক্রমাগত পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৮ ডিগ্রিতে বাঁকুড়া, বর্ধমানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। 

অন্য়দিকে বর্ষশেষে জাঁকিয়ে শীতের রেকর্ড দেখা গেল শহর কলকাতায়। ৭ বছরে ডিসেম্বরের শীতলতম দিন দেখল কলকাতা। ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেল কলকাতার পারদ। তাতেই তৈরি হয়ে গেল নতুন রেকর্ড। ২ দশকের ‘শীতলতম বর্ষশেষ’ দেখা গেল মহানগরে। উত্তর শহরতলির দমদমে পারদ নামল ১০ ডিগ্রিতে। ৯ ডিগ্রিতে ক্যানিং, ঝাড়গ্রামের পারদ। সাগরপাড়ের দিঘাতেও ১০ ডিগ্রির ঠান্ডা। 


এদিকে ইতিমধ্যেই উত্তর পশ্চিম ভারতে প্রবেশ করেছে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে আগত হিমশীতল হাওয়ার স্রোত অর্থাৎ জেড স্ট্রিম কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হবে আগামী কয়েকটা দিন। ফলে শনিবার রাত পর্যন্ত সামান্য হলেও পারদ উত্থানের পূর্বাভাস মৌসম ভবনের। রাজ্যজুড়েই আগামী ৩ দিনে ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে তাপমাত্রা। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে সাময়িক ভাবে কমবে ঠান্ডা। ৫ জানুয়ারির পর আবার স্বমেজাজে ফিরবে শীত, তেমনটাই মনে করছে আবহাওয়া দফতর।

আগামী রবিবার রাত থেকে নিম্নমুখী হতে পারে পারদ। সোমবার ৫ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী সোমবার ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র নতুন করে তৈরি হতে পারে শৈত্য বলয়। যার পোশাকি নাম পাহাড়ি। এর প্রভাবেই রাজ্যের উত্তর এবং পশ্চিমের কম করে ৬ জেলা পড়তে পারে শৈত্য প্রবাহের কবলে চলে আসতে পারে। 

 এর আগে ভুয়ো ভোটার নিয়ে রাজ্যকে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তখন সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, কেন সিইও এবং কমিশনকে দায়ী করা হচ্ছে? ইআরও এবং বিএলও শুনানির জন্য ডেকেছেন। তাঁদের কাছে গিয়ে অসুবিধার কথা জানাতে পারতেন। এখানে কমিশন কী করবে? শুনানির কাজ করার দায়িত্ব ইআরও-র।

আইন ভেঙে FIR দায়ের হলে পদক্ষেপ, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মৃতের পরিবারের FIR-এর পাল্টা এফআইআর করতে পারেন কমিশন!
জ্ঞানেশ কুমার


মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেউ অভিযোগ জানাতেই পারেন। তা যে কোনও ব্যক্তির গণতান্ত্রিক অধিকার। সংসদীয় আইন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যায় না। ধারা ১৬ অনুযায়ী তা বলা হয়েছে। তারপরেও পুলিশ এফআইআর দায়ের করলে তা আইনের বিরুদ্ধে হবে।

এর আগে ভুয়ো ভোটার নিয়ে রাজ্যকে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তখন সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, কেন সিইও এবং কমিশনকে দায়ী করা হচ্ছে? ইআরও এবং বিএলও শুনানির জন্য ডেকেছেন। তাঁদের কাছে গিয়ে অসুবিধার কথা জানাতে পারতেন। এখানে কমিশন কী করবে? শুনানির কাজ করার দায়িত্ব ইআরও-র।


আইন ভেঙে এফআইআর দায়ের হলে পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। লোকপাল আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং প্রমাণ থাকলে এফআইআর দায়ের করা যায়। এ ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কী বলছে? কী কারণে মৃত্যু খতিয়ে দেখা উচিত বলে মন নির্বাচন কমিশনের।

কমিশনের প্রশ্ন, এই ধরনের অভিযোগকে কেন আইনের অপব্যবহার হিসাবে দেখা হবে না? এফআইআর খারিজের আবেদন করা হবে কমিশনের তরফে। কমিশনের তরফ থেকেও পাল্টা এফআইআর করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হবে। কাউকে বদনাম করার জন্য যে কোনও অভিযোগ করা যায় না। নির্বাচন কমিশনারদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার পুরুলিয়ার পারা এলাকার চৌতালা গ্রামের বাসিন্দা দুর্জন মাঝির দেহ উদ্ধার হয় রেললাইনের ধার থেকে। সেদিনই তাঁর শুনানির দিন ছিল। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য টোটো ডাকতে গিয়েছিলেন দুর্জন। তারপরই দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, শুনানির আতঙ্কেই আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি। মঙ্গলবার চিফ ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও রাজ্যের চিফ ইলেক্ট্রল অফিসার মনোজ আগারওয়ালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন দুর্জনের ছেলে।


মানুষের ঘরে ঘরে, কাছাকাছি পৌঁছতে হবে। তাঁদের সমস্যায় পাশে থাকার পাশাপাশি আনন্দ উৎসবে সামিল হওয়া, সংস্কৃতির সঙ্গে সংপৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সেকারণেই বর্ষবিদায় আর বর্ষ বরণের উৎসবের মধ্যে বিজেপিও নেমে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায় করা হচ্ছে উৎসবের আয়োজন।


পাখির চোখ মালদহ। মালদহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ১৮ জানুয়ারি জনসভা রয়েছে মালদহের সাহাপুরে। বিজেপির দাবি, সবুজ সঙ্কেত মিলে গিয়েছে। ১৮ তারিখ বা ১৭ তারিখ মালদায় নরেন্দ্র মোদী। শুধু নরেন্দ্র মোদী নয়, সাংগঠনিক বৈঠকে আগে পরে আসতে পারেন অমিত শা। দলের চার বিভাগ নিয়ে বৈঠক। ২ জানুয়ারি শুভেন্দু অধিকারী মালদহের চাঁচলে সভা। ৪ বা ৬ জানুয়ারি সভা করবেন মিঠুন চক্রবর্তী। বিছরের প্রথম মাসেই আসতে পারেন রাজনাথ সিংও।অমিত শাহের বাংলা সফরের পরেই বিজেপির নেতাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে একেবারে মাঠে নেমে গ্রাস রুট লেবেলে গিয়ে ভোটের লড়াই করতে হবে।


মানুষের ঘরে ঘরে, কাছাকাছি পৌঁছতে হবে। তাঁদের সমস্যায় পাশে থাকার পাশাপাশি আনন্দ উৎসবে সামিল হওয়া, সংস্কৃতির সঙ্গে সংপৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সেকারণেই বর্ষবিদায় আর বর্ষ বরণের উৎসবের মধ্যে বিজেপিও নেমে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায় করা হচ্ছে উৎসবের আয়োজন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অঙ্কন-সহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রতিযোগিতা। আনা হচ্ছে বঙ্কিম, রবীন্দ্র, নজরুলদের। টার্গেট ৮ থেকে ১০ টা আসন। প্রচন্ড শীতে যখন কাবু মালদহ, পাহাড়ের শীতকে টেক্কা দিচ্ছে মালদহের তাপমাত্রা। তখন ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এবং দুই রাজ্যের সীমানা লাগোয়া এই জেলায় উত্তাপ বাড়াতে নেমে পড়েছে তৃণমূল সহ বাকি দলগুলোও।


৮ জানুয়ারি মালদায় জনসভা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরে পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা। বসে নেই কংগ্রেসও। হাই প্রোফাইল নেতাদের মালদহে নজর দিতেই টনক নড়েছে কংগ্রেসের। রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে কথাও বলেছেন। রাহুল,প্রিয়াঙ্কা দুজনেই মালদহে আসার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন বলে দাবি কংগ্রেস সাংসদ তথা মালদা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইসা খান চৌধুরীর।

গনিখান চৌধুরীর মালদহে মাঠে লড়াইয়ে থাকতে ঘন ঘন কর্মী বৈঠক সহ জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মালদহ জেলা কংগ্রেস। এত কিছুর মধ্যে জেলায় উদীয়মান মিমও বসে নেই। মিম এখন সকলেরই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে। জানুয়ারিতেই আসতে পারেন আলাউদ্দিন ওয়েইসি মিম সূত্রের খবর।


শান্তনু বলছেন, “ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারে। তাতে কারও কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে একটা ফোর্স দেখাতে আসে। এভাবে যদি ও আসে ওকে আমরা পুজো দিতে দেব না। ভোটের আগে ও কেন ঢুকতে চাইছে?”

 ‘ঠাকুরবাড়িতে পুজো দিতে দেব না, কত পুলিশ আনবে দেখব’, অভিষেককে চ্যালেঞ্জ শান্তনুর
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর

মতুয়াদের পাশে দাঁড়াতে ঠাকুরবাড়ি যাবেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁকে পুজো দিতে হবে না বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে চাপানউতোর। আগামী ৯ জানুয়ারি তাহেরপুুরে সভার পর ঠাকুরবাড়ি যাওয়ার কথা অভিষেকের। হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথা রয়েছে অভিষেকের। এরইমধ্যে এবার খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শান্তনু। সাফ বললেন, “ভোটের রাজনীতি করতেই ঠাকুরনগরে আসছেন অভিষেক। কত পুলিশ নিয়ে আসতে পারে আমিও দেখব। হাজার হাজার মতুয়ার জমায়েত হবে সেদিন, ধিক্কার মিছিল বেরবে।” এ ভাষাতেই হুঙ্কার দিলেন শান্তনু।  

তবে তৃণমূল বলছে ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক। পাল্টা শান্তনুর দিকেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে শাসকদল। জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলছেন, ঠাকুরবাড়িতে ওইদিন দুপুর ২টো নাগাদ যাবেন। যে কোনও তীর্থস্থানে সবার যাওয়ার অধিকার আছে।  


যদিও শান্তনু বলছেন, “ঠাকুরবাড়িতে যে কেউ আসতে পারে। তাতে কারও কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে একটা ফোর্স দেখাতে আসে। এভাবে যদি ও আসে ওকে আমরা পুজো দিতে দেব না। ভোটের আগে ও কেন ঢুকতে চাইছে? ও ওইদিন কত পুলিশ নিয়ে আসতে পারে আমিও দেখব।” পাল্টা শান্তনুর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ নিয়ে কেন যাবেন, মানুষ নিয়ে যাবেন। ঠাকুরবাড়ি কী শান্তনুর পৈতৃক সম্পত্তি নাকি? হরিচাঁদ ঠাকুর মানুষের মনের মিলের কথা বলেছেন, ভক্তির কথা বলেছেন। সংঘর্ষের কথা বলেলনি কখনও। শান্তনু ঠাকুর আসলে বংশের একটা কলঙ্কময় অধ্যায় তৈরি করেছেন।”   

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ পাননি রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

বলেছিলেন, ‘‘পদাধিকারী নই। তাই ডাক পাইনি।" এর আগে গত মে মাসে অমিত শাহর সফরেও দিলীপের আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়ে জলঘোলা তৈরি হয়েছিল। কেন তিনি ডাক পাননি, তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপির কোনও নেতাই মুখ খুলতে চাননি সেসময়ে।

 ৬ মাস পর শাহর সভায়, বিধানসভা নির্বাচনে বড় ভূমিকা দিলীপের?
দিলীপ ঘোষ


বেশ কয়েকটা মাস, বলতে গেলে বছর খানেক তাঁকে সেভাবে দলের কোনও বৈঠক-কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। সামনেই মহারণ। ছাব্বিশের নির্বাচনের দামামা কার্যত এসআইআর আবহে বঙ্গে বেজে গিয়েছে। বঙ্গে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যদিও এবারের তাঁর সফর কলকাতাকেন্দ্রিক। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকের পর দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কোর কমিটির বৈঠক। আজ ফের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক শাহ। আর সেই বৈঠকেই দেখা গেল দিলীপ ঘোষকে। ছ’মাস পর বিজেপির বৈঠকে দিলীপ ঘোষ। লোকসভা নির্বাচনের পর জুনে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ। তারপর ৬ মাস আর কোনও দলীয় সাংগঠনিক বৈঠকে ডাক পাননি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। এবার অমিত শাহর বঙ্গ সফরে দেখতে পাওয়া গেল তাঁকে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ পাননি রাজ্য বিজেপি-র প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বলেছিলেন, ‘‘পদাধিকারী নই। তাই ডাক পাইনি।” এর আগে গত মে মাসে অমিত শাহর সফরেও দিলীপের আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়ে জলঘোলা তৈরি হয়েছিল। কেন তিনি ডাক পাননি, তা নিয়ে প্রকাশ্যে বিজেপির কোনও নেতাই মুখ খুলতে চাননি সেসময়ে। অথচ রাজ্য স্তরের নেতা এবং রাজ্য কমিটির সদস্যদের কাছে বিজেপি-র রাজ্য দফতর থেকেই আমন্ত্রণ-ফোন যায়। সক্রিয় রাজনীতি থেকে কার্যত কিছুটা গুটিয়ে নিতেই দেখা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষকে। তবে গত দু’মাসে হাওয়ার কিছুটা হলেও বদল হয়েছে।


কিছুদিন আগেই রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখে দিলীপ ঘোষের প্রসঙ্গ শোনা গিয়েছিল। ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে তাঁর যোগদানের পিছনে দিলীপের কী ভূমিকা ছিল, সেদিন ব্যক্ত করেছিলেন শুভেন্দু। পাশাপাশি তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখেও দিলীপ ঘোষের প্রশংসা শোনা যায়। তাঁকে ফের অমিত শাহর বৈঠকে ডাকা, তাঁকে কীভাবে সাংগঠনিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপি অন্দরে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক অভিজ্ঞদের। সূত্রের খবর, হতে পারে অমিত শাহ এই নিয়েই এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট কোনও দিগ দিতে পারেন। বাংলায় বিজেপির ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফল দিলীপ ঘোষের সভাপতিত্বেই হয়েছিল।


মুখ্যমন্ত্রী সফরের আগে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী ও কলকাতা পৌর কমিশনার 

২০২৬-এর গঙ্গাসাগর মেলা হবে ঐতিহাসিক—এই লক্ষ্য নিয়েই কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১টা নাগাদ গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ভেসেলঘাটে পৌঁছান রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কচুবেড়িয়া পয়েন্ট ঘুরে দেখার পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণের প্রতিটি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। এবারের মেলার বিশেষ আকর্ষণ ও চ্যালেঞ্জ হলো উপচে পড়া ভিড় সামলানো, কারণ এ বছর কুম্ভ মেলা না থাকায় রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী সাগরে পুণ্যস্নানে আসবেন বলে মনে করছে প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। 

এবারের মেলা প্রস্তুতির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রাক্তন জেলাশাসক বর্তমান কলকাতা পৌর কমিশনার সুমিত গুপ্তা এদিন সাগরে উপস্থিত ছিলেন। বিগত কয়েক বছর ধরে গঙ্গাসাগর মেলার সফল ব্যবস্থাপনার কারিগর ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, বর্তমান জেলাশাসক অরবিন্দু কুমার মিনার কাছে এটিই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা। নবাগত জেলাশাসককে মেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক মারপ্যাঁচ বুঝিয়ে দিতেই সুমিত গুপ্তাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিন কচুবেড়িয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করেন এবং সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও সহ একাধিক দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন। আগামী ৫ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগর সফরে আসছেন। তিনি নিজেই মেলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন এবং একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগেই যাতে সমস্ত পরিকাঠামো নিখুঁত থাকে, তা নিশ্চিত করতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন কর্মীরা। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ‘জিরো ক্যাজুয়ালিটি’। অর্থাৎ, মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নান সেরে প্রতিটি পুণ্যার্থী যাতে সুস্থভাবে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। কচুবেড়িয়া ও মুড়িগঙ্গা নদীতে ভেসেল পরিষেবা সচল রাখতে পরিবহন মন্ত্রী বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। রেকর্ড ভিড়ের আশঙ্কায় বাফার জোন এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণে পানীয় জল, শৌচালয় এবং অস্থায়ী হাসপাতালের কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, কুম্ভ মেলা না থাকায় এবার সাগরে জনজোয়ার নামবে। সেই কথা মাথায় রেখেই জলপথ ও স্থলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, তিলোত্তমা থেকে শুরু করে কপিল মুনির আশ্রম—সর্বত্রই এখন সাজ সাজ রব।


শুরু থেকেই যে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া শত্রু ছিলেন, এমনটা নয়। আওয়ামী লিগ ও বিএনপি আলাদা আলাদা করে নানা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল, কথায় কথায় ডাকা হত হরতাল। বাংলাদেশে সেই সময় এক চরম অশান্ত পরিবেশ। ১৯৮০-র দশকে যখন হুসেন মহম্মদ ইরশাদ বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯৮২ সালে মার্শাল ল জারি 
করে দেশের শাসন শুরু করেন।

একসঙ্গেই জেলে গিয়েছেন হাসিনা-খালেদা, কবে থেকে শুরু হল দুই বেগমের লড়াই?
ফাইল চিত্র।

প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)। দীর্ঘ চার দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির ছবিতে ছিলেন দুইজন মুখ। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। দুই নেত্রীর মধ্যে বিরোধ, দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই দেখেছিল সবাই। তবে বাংলাদেশের দুই বেগমের লড়াই কিন্তু শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে সরকারের অচলাবস্থা, বাংলাদেশের রাস্তায় হিংসা- সবই জড়িয়ে ছিল।





মেয়ে অসুস্থ, হাসপাতালেই বসে কাজ সারছেন BLO বাবা
শুনানি চলছে, তার মাঝেই বিশেষ কোন কারণে কলকাতায় জ্ঞানেশ ভারতী?
খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার লড়াই অনেকটাই ছিল পরিচয়ের লড়াই। দুজনেই নিজেদের এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কারণ তারা দুজনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াইকে দেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে শুরু থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুজিবর। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৫ সালে পাকিস্তান সেনা নৃশংসভাবে হত্যা করে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর গোটা পরিবারকে। দেশে না থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন রেহানা।

অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার জীবনও ট্রাজেডি ভরা ছিল। তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সেনা জেনারেল। মুজিবরের মৃত্যুর পরই তিনি বাংলাদেশে আরও উল্লেখযোগ্য মুখ হয়ে ওঠেন। পরে প্রেসিডেন্ট হন। জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা ইসলামিক ধারণায় অনুপ্রাণিত ছিল, যা মুজিবরের ধর্মনিরপেক্ষ ধারণার উল্টো ছিল। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়। এরপরই খালেদা জিয়া রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বরং বলা ভাল, এর প্রকার বাধ্য হন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির দায়িত্বভার নিতে।

৮০-র দশকে একতা-
শুরু থেকেই যে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া শত্রু ছিলেন, এমনটা নয়। আওয়ামী লিগ ও বিএনপি আলাদা আলাদা করে নানা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল, কথায় কথায় ডাকা হত হরতাল। বাংলাদেশে সেই সময় এক চরম অশান্ত পরিবেশ। ১৯৮০-র দশকে যখন হুসেন মহম্মদ ইরশাদ বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৯৮২ সালে মার্শাল ল জারি করে দেশের শাসন শুরু করেন। এরপরই গণ গ্রেফতারি শুরু হয়। জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। তবে জনগণের মধ্য়ে ক্ষোভ বাড়ছিলই। এই পরিস্থিতিতে জোট বাঁধেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। কারণ তারা দুজনেই বুঝেছিলেন যে এরশাদকে সরাতে শক্তিশালী বিরোধী ক্ষমতার দরকার। ১৯৯০-র দশকে লাগাতার বিক্ষোভে দেশ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ইস্তফা দেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অধ্যায়ে এটা একটা উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল।

দুই বেগমের শত্রুতা-
১৯৯০-র শেষ ভাগ থেকে ২০০০ সালে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দূরত্ব রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়। নির্বাচন অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়। বাংলাদেশের রাস্তা কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় লাগাতার সংঘর্ষ, বনধ ও বিক্ষোভে।

যখন খালেদা জিয়া বা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছেন, তাদের একটাই লক্ষ্য ছিল। প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা। সেই জন্য দুর্নীতির অভিযোগ এনে, গ্রেফতার করানো হয় উল্লেখযোগ্য মুখদের। দেশের নীতি নির্ধারণের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় ক্ষমতা থেকে সরানোর লড়াই। বিশ্বাস কমতে থাকে নির্বাচনের উপরে। যখন তত্ত্ববধায়ক সরকার গঠিত হয়, তখন খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন এই সরকার থাকুক। তত্ত্ববধায়ক সরকার না থাকলে বাংলাদেশে মুক্ত ও স্বাধীন নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্যদিকে হাসিনার দাবি ছিল এই সিস্টেম অগণতান্ত্রিক। নির্বাচন প্রভাবিত হবে এই প্রক্রিয়ায়।

২০০৭ সালে যখন বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি হয় এবং কেয়ারটেকার সরকার গঠিত হয়, তখন দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। এক বছর পর রাজনৈতিক ও আইনি চাপেই মুক্তি দেওয়া হয় তাদের।

২০১১ সালে হাসিনা সরকার তত্ত্ববধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধনী করে। বিএনপি এর তীব্র বিরোধিতা করে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে বয়কট, রিগিংয়ের অভিযোগের মাঝেই নির্বাচন হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লিগ সরকার থাকাকালীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতির মামলায় ১৭ বছরের সাজা হয় খালেদা জিয়ার। দুই বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর অসুস্থতার কারণে আওয়ামী লিগ সরকার বিভিন্ন শর্তে তাঁকে মুক্তি দেয়। ২০০৮ সালে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিলেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। 

খালেদা জিয়া যেখানে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেখানেই বাংলাদেশের সবথেকে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এরপরে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়, পরিকাঠামোর উন্নতি হয়। অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করে আওয়ামী লিগ ক্ষমতা কুক্ষিগত করছে, বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। তবে নেত্রীর অনুপস্থিতিতে বিএনপি ঠিক সুবিধা করে নিতে পারছিল না। আওয়ামী লিগের হাতেই যাবতীয় ক্ষমতা ছিল।

ছবিটা বদলায় আবার ২০২৪ সালে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লিগ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ গণ-অভ্যুত্থানের রূপ নেয়। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার গড়লেও, রাজনীতির চালিকাশক্তি হিসাবে বিএনপি-ই প্রধান মুখ হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। ঠিক তার আগেই দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানও। বিএনপি নেত্রীর প্রয়াণে দলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। তবে শেখ হাসিনাও বাংলাদেশে না থাকায়, রাজনীতির ময়দান দুই বেগমের যে লড়াই দেখেছিল প্রতিবার, তা এবার দেখবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




ত্বহা বলেন, "দুর্গাঙ্গন হচ্ছে। জগন্নাথ মন্দির হয়েছে। কোনও হিন্দু ভাই কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন্দির করতে বলেননি। কিন্তু আমরা সংখ্যালঘুরা মসজিদ চেয়েছিলাম। সেটা কেন হবে না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবছেন, মন্দির করে হিন্দুদের মন জয় করবেন, যে ভোট তাঁর থেকে চলে গিয়েছে, সেগুলো ফিরে আসবে"

সোমবার নিউ টাউনে দুর্গাঙ্গনের শিলান্যাস করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী জানুয়ারিতেই উত্তরবঙ্গে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। ভোটের আগে মন্দির-মসজিদ নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে চর্চা কম হচ্ছে না। এরই মধ্যে মুখ খুললেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। তাঁর দাবি, মন্দির হোক, গীর্জা হোক, কিন্তু মসজিদও হোক। শুধু তাই নয়, মন্দির গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল করছেন বলেও দাবি করেছেন পীরজাদা।


দুর্গাঙ্গনের শিলান্যাসের পর পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী বলেন, যে আশা নিয়ে হিন্দুদের জন্য মন্দির করে যাচ্ছেন, সেটা সফল হবে না। তাঁর মতে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন, তাতে মন্দির-মসজিদ করার তাঁর দরকার ছিল না। কিন্তু হিন্দু ভোট যেগুলো এদিক-ওদিক হয়ে গিয়েছে, তা বাড়াতে চাইছেন।”


হিয়ারিং-এ ঢুকেই অজ্ঞান, তরুণীকে নিয়ে যেতে হল হাসপাতালে
ত্বহা বলেন, “দুর্গাঙ্গন হচ্ছে। জগন্নাথ মন্দির হয়েছে। কোনও হিন্দু ভাই কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মন্দির করতে বলেননি। কিন্তু আমরা সংখ্যালঘুরা মসজিদ চেয়েছিলাম। সেটা কেন হবে না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবছেন, মন্দির করে হিন্দুদের মন জয় করবেন, যে ভোট তাঁর থেকে চলে গিয়েছে, সেগুলো ফিরে আসবে। সেটা মনে হয় ভুল করছেন তিনি। অন্যদিকে সংখ্যালঘুরাও এই বিষয়টায় ক্ষিপ্ত হয়ে আছে।”

ত্বহা সিদ্দিকী উল্লেখ করেছেন, হিডকোতে একটা মসজিদ গড়ার কথা বলেছিলেন তিনি। কারণ সেখানে বহু উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়ের বাস হওয়া সত্ত্বেও নমাজ পড়ার জন্য মসজিদ নেই বলে দাবি পীরজাদার। ওয়াকফের টাকায় সেই মন্দির করা গেল না কেন! সেই প্রশ্ন তুলেছেন ত্বহা। তাঁর দাবি, ১৩টি মন্দির হয়ে গেল, অথচ বলা সত্ত্বেও মসজিদ তৈরি করা গেল না।

খালেদা জিয়ার সময়কালে বাংলাদেশে গুরুত্ব পেয়েছিল নারী শিক্ষা। নিজের লেখা সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ইউনূস। তাঁর কথায়, 'তিনি মেয়েদের বিনামূল্য শিক্ষা, ভাতা প্রকল্পের সূচনা ঘটিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তৎকালীন সময়ে যা ছিল বেনজির।'


গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদার ভূমিকা অপরিসীম', বললেন হাসিনা! স্মৃতির পাতা উল্টালেন মোদী-ইউনূসও


৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্য়াগ করেছেন তিনি। তারপরই বাংলাদেশ জুড়ে নেমেছে শোকের ছায়া। ইতিমধ্যে বিএনপি নেত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মোদী লিখেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।’ এদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম আলাপের একটি ছবি পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালের সেই আলাপের কথা তুলে ধরে মোদী লেখেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজ ২০১৫ সালে তাঁর সঙ্গে ঢাকায় হওয়া সাক্ষাতের কথা মনে পড়ছে।’


নমাজ পড়ার জায়গা নেই...',ত্বহা সিদ্দিকীর দাবি, 'মমতা ভুল করছেন'
গত ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্কটময় শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানাজানি হতে পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিল ভারত। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লিখেছিলেন, ‘ আমি প্রতি মুহূর্তে তাঁর সুস্থতার কামনাই করি। পাশাপাশি, এটাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ভারত সকল প্রকার সহায়তার জন্য প্রস্তুত।’



ইউনূসের বার্তা
তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এদিন নিজের ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘এই জাতি তাঁর অন্যতম অভিভাবককে হারাল। খালেদা জিয়ার মৃত্য়ুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।’

খালেদা জিয়ার সময়কালে বাংলাদেশে গুরুত্ব পেয়েছিল নারী শিক্ষা। নিজের লেখা সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন ইউনূস। তাঁর কথায়, ‘তিনি মেয়েদের জন্য বিনামূল্য শিক্ষা, ভাতা প্রকল্পের সূচনা ঘটিয়েছিলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তৎকালীন সময়ে যা ছিল বেনজির।’



হাসিনার শোকপ্রকাশ
দু’জনেই প্রাক্তন। দু’জনেই দুই মেরুর। কিন্তু সময়ের কালে এসেছে সৌজন্য। মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সমাজমাধ্যম মারফৎ হাসিনা লেখেন, ‘প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান অপরিসীম। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হল।’

 ২০১৭ সাল থেকে ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করা হয়। আগামী ২০২৬ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পড়েছে রবিবার। এরপরই জল্পনা তৈরি হয়েছে যে রবিবারে কি বাজেট অধিবেশন হবে নাকি একদিন পিছিয়ে যাবে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ?  

২০২৬ সালে ১ ফেব্রুয়ারি কি বাজেট পেশ হবে না?
ফাইল চিত্র।

প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হয় কেন্দ্রীয় বাজেট। ২০১৭ সাল থেকে এই ধারাই চলছে। এবার কি তার ব্যতিক্রম হবে? আগামী ২০২৬ সালে ১ ফেব্রুয়ারি পড়েছে রবিবার। এরপরই জল্পনা তৈরি হয়েছে যে রবিবারে কি বাজেট অধিবেশন হবে নাকি একদিন পিছিয়ে যাবে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ?



 তবে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজুকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, “সংসদীয় বিষক ক্যাবিনেট কমিটি সঠিক সময়ে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”

১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করা হয় কেন?
এবার অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে ১ ফেব্রুয়ারিই কেন বাজেট পেশ করা হয়? নতুন বছর ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হলেও, নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয় ১ এপ্রিল থেকে। ৩১ মার্চ চলতি অর্থবর্ষের শেষদিন হয়। সেই কারণেই ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করা হয়, যাতে ১ এপ্রিল, নতুন অর্থবর্ষ থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হতে পারে।

২০১৭ সালের আগে বাজেট ফেব্রুয়ারিই শেষদিনে বাজেট পেশ করা হত। সংসদে ভোট অন অ্যাকাউন্ট করে সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে টাকা তুলে নেওয়া হত নতুন অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের খরচ চালানোর জন্য। ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলীই বাজেটের নতুন নিয়ম চালু করেন। ১ ফেব্রুয়ারিতে বাজেট পেশ করা হয় এবং মার্চের শেষভাগের মধ্যে বাজেট মঞ্জুর করা হয়।

বিগত কয়েক বছরে মাত্র একবারই প্রথা ভেঙে রবিবারে অধিবেশন হয়েছে। ২০২০ সালে করোনাকালে রবিবারও অধিবেশন হয়েছিল। তার আগে ২০১২ সালের ১৩ মে সংসদের প্রথম অধিবেশনের ৬০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে রবিবারে বিশেষ অধিবেশন হয়েছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের এক রাজনৈতিক সভা থেকে কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি আক্রমণ করেন শওকত। শওকত মোল্লার অভিযোগ, বর্তমান ইলেকশন কমিশনারের ভূমিকার জেরেই রাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেই আতঙ্ক থেকেই একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

 রক্তের দায় এড়াতে পারে না, মঞ্চ থেকে কমিশনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শওকতের


নির্বাচন কমিশন তথা কমিশনারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে ‘অপদার্থ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের ঘটকপুকুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক সভা থেকে এই ভাষাতেই কথা বলেন বিধায়ক। বাংলায় এসআইআর (SIR) আতঙ্কে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তার সম্পূর্ণ দায় ইলেকশন কমিশনের ওপর চাপিয়েছেন তিনি।


তৃণমূল কংগ্রেসের এক রাজনৈতিক সভা থেকে কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি আক্রমণ করেন শওকত। শওকত মোল্লার অভিযোগ, বর্তমান ইলেকশন কমিশনারের ভূমিকার জেরেই রাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেই আতঙ্ক থেকেই একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের আবেগ, সংস্কৃতি ও বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই ইলেকশন কমিশন একের পর এক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে, যার ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”


তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষার নামে মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।” এসআইআর নিয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করে নির্বাচন কমিশন বাংলার মানুষকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে বলে অভিযোগ তোলেন শওকত মোল্লা। তাঁর কথায়, “যাঁরা আতঙ্কে মারা গিয়েছেন, তাঁদের রক্তের দায় ইলেকশন কমিশনার এড়াতে পারেন না।” এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত রয়েছে তৃণমূলের। এখনও বিএলএ ইস্যুতে চলছে সেই সংঘাত। দফায় দফায় কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল। মঙ্গলবার বিএলএ ২ দের প্রবেশের দাবিতে বেশ কিছুক্ষণের জন্য হিয়ারিং বন্ধও করে দেন বিধায়কর অসিত মজুমদার।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর দুই সন্তান। এক ছেলে ও এক মেয়ে। রাইহান বড়। ২০০০ সালের ২৯ অগস্ট জন্ম তাঁর। দেহরাদুনের দুন স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন রাইহান। এই স্কুল থেকেই পড়াশোনা করেছিলেন দাদু রাজীব গান্ধী ও মামা রাহুল গান্ধীও।

গান্ধী পরিবারে খুশির হাওয়া, কার সঙ্গে বাগদান সারলেন প্রিয়ঙ্কার ছেলে?
প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর ছেলে রাইহান ও প্রেমিকা আভিভা।

গান্ধী পরিবারে খুশির খবর। বিয়ের হাওয়া গান্ধী পরিবারে। নাহ, রাহুল গান্ধী নয়, বাগদান সারলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী-রবার্ট বঢ়রার ছেলে রাইহান বঢ়রা। ২৫ বছর বয়সে রাইহান তাঁর প্রেমিকা আভিভা বেগের সঙ্গে বাগদান সারলেন।


সূত্রের খবর, দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন রাইহান ও আভিভা। দুই পরিবারের সম্মতিতেই সম্প্রতি তাঁরা আঙ্টি বদল করেছেন। তবে কোনও অনুষ্ঠান করে নয়, রাইহান তাঁর প্রেমিকাকে প্রোপোজ করে, এবং আভিভা-ও বিয়েতে হ্যাঁ বলে।

জানা গিয়েছে, আভিভার পরিবার দিল্লিতে থাকে। গান্ধী-বঢ়রা পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও খুব ভাল।

রাইহান বঢ়রার পরিচয়-
প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর দুই সন্তান। এক ছেলে ও এক মেয়ে। রাইহান বড়। ২০০০ সালের ২৯ অগস্ট জন্ম তাঁর। দেহরাদুনের দুন স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন রাইহান। এই স্কুল থেকেই পড়াশোনা করেছিলেন দাদু রাজীব গান্ধী ও মামা রাহুল গান্ধীও। স্কুল পেরোনোর পর লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্য়ান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে পড়তে যান। যেহেতু ছোট থেকেই আঁকা, ছবি তোলার মতো সৃজনশীল কাজকে ভালবাসত রাইহান, তাই লন্ডন থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর আর্টস নিয়ে কেরিয়ার শুরু করেন। বর্তমানে রাইহান একজন প্রফেশনাল ইন্সটলেশন-ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট। রঙ, বিভিন্ন গঠন ও ছবি দিয়ে শিল্পকলা তুলে ধরেন। একাধিক এগজিবিশনও করেছেন।

পাশাপাশি পশুপাখির প্রতিও বিশেষ টান রয়েছে রাইহানের। মায়ের অনুপ্রেরণাতেই ১০ বছর বয়স থেকে ছবি তোলেন রাইহান। এখনও ওয়াইল্ডলাইফ ফোটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত রাইহান। মুম্বইয়ের কোলাবায় একটি আর্ট গ্যালারিতে তাঁর আঁকা ও তোলা ছবি রয়েছে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও রাইহানের দাদু রাজীব গান্ধীও ছবি তুলতে ভালবাসতেন।

আভিভা বেগের পরিচয়-
দিল্লির মর্ডান স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন আভিভা। এরপর ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি থেকে মিডিয়া কমিউনিকেশন ও জার্নালিজমে ডিগ্রি অর্জন করেন। আভিভাও পেশায় ফোটোগ্রাফার। পাশাপাশি তিনি প্রোডিউসারও। জাতীয় স্তরে ফুটবলও খেলত আভিভা।

কোনও যুদ্ধে বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তথ্যের আদান-প্রদান অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শত্রুর নজর থেকে আড়ালে রাখতে প্রয়োজন শক্তিশালী এনক্রিপশন। আইআইটি-মাদ্রাজের গবেষণা এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞতা মিলে তৈরি করবে বিশেষ অ্যালগরিদম।


ভারতীয় বায়ু সেনা এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে পদক্ষেপ করল বায়ু সেনা। ভারতকে স্বনির্ভর করতে ভারতীয় বায়ু সেনার সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট ও আইআইটি-মাদ্রাজ এবার হাত মেলাল। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থেকে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, সব কিছুকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে মুড়ে ফেলতে এই দুই সংস্থা একটি সমঝোতা স্মারক বা মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষর করেছে।

কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?
যে কোনও যুদ্ধে বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তথ্যের আদান-প্রদান অত্যন্ত সংবেদনশীল। সেই যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শত্রুর নজর থেকে আড়ালে রাখতে প্রয়োজন শক্তিশালী এনক্রিপশন। আইআইটি-মাদ্রাজের গবেষণা এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞতা মিলে তৈরি করবে বিশেষ অ্যালগরিদম। যা বর্তমান ডিজিটাল যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ভারতীয় বায়ুসেনাকে শত্রুর থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখবে।


নেপথ্যে কারা?
এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের এয়ার ভাইস মার্শাল আর গুরুহরি। সঙ্গে ছিলেন আইআইটি-মাদ্রাজের ডিরেক্টর অধ্যাপক ভি কামাকোটি এবং প্রবর্তক টেকনোলজিস ফাউন্ডেশনের সিইও ডঃ এম জে শঙ্কর রমন।

আগামীতে কী হবে?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি চুক্তি নয়। এটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার পথে এক বিরাট বড় লাফ। আমদানিকৃত প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেস তৈরি করাই ভারতের আসল উদ্দেশ্য। প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন আগামী দিনে ভারতের আকাশযুদ্ধের নিরাপত্তাকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।


শ্রাবণীর শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ রোগ ক্যান্সার। টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেও, আর্থিক সঙ্গতি ছিল না চিকিৎসার। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার জন্য অভিনেত্রীর প্রয়োজন ছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। উপায় না পেয়েই সোশাল মিডিয়ার হাত ধরে বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের কাছে সাহায্য চাইতে এগিয়ে এসেছিল অভিনেত্রীর পরিবার। লম্বা পোস্টে অভিনেত্রীর ছেলে লিখছিলেন, মাকে বাঁচানোর জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।


ক্যান্সার কেড়ে নিল প্রাণ, প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক



প্রয়াত হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবণী বণিক। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সোমবার সকালে টলিপাড়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। শোকের ছায়া পুরো ইন্ডাস্ট্রিতে। শ্রাবণীর মৃত্যুতে পরিচালক বাবু বণিক লিখলেন, ”কিছু পরিচয় কাজের সূত্রে হয়,কিন্তু সেই পরিচয় যখন কোনও চাওয়াপাওয়া, বা কোনও শর্ত বা কোনও স্বার্থ ,সবকিছু ছাড়িয়ে একটা অন্য মাত্রা নেয়। দুটো পরিবারকে অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে ফেলে, সেটাকেই বোধ হয় প্রকৃত বন্ধুত্ব বলে। আজ শ্রাবণীকে হারিয়ে আমি,আমার পরিবার, আমরা সবাই বাকরুদ্ধ। চিরকাল কেউ থাকে না। কিন্তু শ্রাবণী যে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে…. বিশ্বাস করতে পারছি না। শুনেছি ,আত্মার কোনও মৃত্যু নেই। তাই ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

শ্রাবণীর শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ রোগ ক্যান্সার। টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেও, আর্থিক সঙ্গতি ছিল না চিকিৎসার। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার জন্য অভিনেত্রীর প্রয়োজন ছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। উপায় না পেয়েই সোশাল মিডিয়ার হাত ধরে বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের কাছে সাহায্য চাইতে এগিয়ে এসেছিল অভিনেত্রীর পরিবার। লম্বা পোস্টে অভিনেত্রীর ছেলে লিখছিলেন, মাকে বাঁচানোর জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সাহায্য করুন। এই ঘটনা নভেম্বরের। সেই কারণে বছর শেষ হওয়ার আগেই শ্রাবণীর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তাঁর প্রিয়জনরা।


স্বামী বিখ্যাত পরিচালক তরুণ মজুমদারের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলেন শ্রাবণী। তাঁর শরীরে যখন ক্যান্সার বাসা বাঁধে, তখন সেই বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। 
জানিয়েছিলেন, ”আমি এখন একটু চাপের মধ্যে আছি। ফ্রি হয়ে ফোন করব।” তবে সেই ফোন আর আসেনি।
সোনার এই রকেট গতির পর্বে পিছু নিয়েছিল রুপো। সোমবার রাতে ওই নির্ভরতাই কাল হয়ে দাঁড়াল এই মূল্যবান ধাতুর জন্য। এক বছরে এই ধাতুর রিটার্ন প্রায় ১৪০ শতাংশ। কিন্তু যখন তা পড়ল, তখন ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেল সেই 'লভ্য়াংশের' ১০ শতাংশ।

রুপো এক ধাক্কায় কমল ২১ হাজার টাকা, টলে গেল সোনাও
একেবারে টলমল অবস্থা


স্বপ্নময় যাত্রার স্বপ্নভঙ্গ, ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। ‘বুঁদবুদের’ মতো ফুলে ওঠা সোনা-রুপোর দাম এবার ঠেকল তলানিতে। এক ধাক্কায় বিরাট পতন। মঙ্গলবার সকালে বিনিয়োগকারীদের দুঃসংবাদ শোনাল এই দুই মূল্যবান ধাতু। যদিও একাংশের কাছে বিনিয়োগ শুরুর পথও খুলে গেল।

পড়ল সোনার দর
বড় অংশের বিনিয়োগকারীদের লভ্য়াংশ তুলে নেওয়া, বিশ্ব বাজারে বহমান অনিশ্চয়তায় দাঁড়ি পড়ার প্রত্যাশার জেরে গত কয়েক মাসে এই প্রথমবার নজিরবিহীন ভাবে পড়ল সোনার দাম। MCX-এর চার্ট অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাতের একটু আগে থেকে পড়তে শুরু করে সোনার দর। সেই সময় বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনা ৪ হাজার ৫৪০ ডলারের গন্ডি ছুঁয়ে ফেলেছিল। দেশের বাজারেও ছবিটা প্রায় এক ছিল। ১০ গ্রাম সোনার দর ছিল প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকার ঘরে। তবে সোমবার MCX গোল্ডে বা সহজ কথা বিশ্ব বাজারে ৪ শতাংশ পড়ে যায় এই মূল্যবান ধাতুর দাম। এক ধাক্কায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজারের গন্ডিতে নেমে আসে সোনা। সাম্প্রতিক অতীত অনুযায়ী, এমন দৃশ্য কার্যত বিরল।


তলানিতে রুপো
সোনার এই রকেট গতির পর্বে পিছু নিয়েছিল রুপো। সোমবার রাতে ওই নির্ভরতাই কাল হয়ে দাঁড়াল এই মূল্যবান ধাতুর জন্য। এক বছরে এই ধাতুর রিটার্ন প্রায় ১৪০ শতাংশ। কিন্তু যখন তা পড়ল, তখন ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেল সেই ‘লভ্য়াংশের’ ১০ শতাংশ। এক ধাক্কায় ২১ হাজার টাকা দাম কমল রুপোর। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, MCX-এর গত সেশনে রুপোর দাম ছুঁয়ে গিয়েছিল ২ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা। প্রতি আউন্স অতিক্রম করেছিল ৮০ ডলারের গন্ডি। সোমবার তাতেই ঘটল পতন।

বলে রাখা প্রয়োজন, সোনা-রুপো ছাড়াও দাম পড়েছে প্ল্য়াটিনামের। এক ধাক্কায় ১৪ শতাংশ পড়ে গিয়েছে এই মূল্যবান ধাতুর দাম। এবার প্রশ্ন, আচমকা এই পতনের কারণ কী? সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ফ্লোরিডায় তাঁদের শান্তি আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। ২০ দফা শান্তি আলোচনার ৯০ শতাংশ বিষয়েই সমঝোতা হয়েছে। একাংশের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এবার ইতি টানতে চলেছেন ট্রাম্প। ফলত বিশ্ব বাজারে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ার সম্ভবনাই বেশি। তাই ‘প্রফিট বুকিংয়ের’ হিড়িক লেগে যায় মূল্য়বান ধাতুর বাজারে। দরে পড়ে প্রভাব। MCX-চার্টে কমে দাম। যা ‘ফিজ়িক্য়াল’ সোনা-রুপোর ক্ষেত্রেও এবার দেখা যাবে বলেই মত একাংশের।
গত ২৩ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে আচমকা উধাও হয়ে যান ওই বিএলও। তাঁর খোঁজ না পেয়ে কাটোয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল পরিবার। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে। BLO-কে খোঁজার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের তরফেও। তাঁর বাড়ি থেকে একটি চিঠি উদ্ধার হয় বলেও জানা গিয়েছে।

৬ দিন নিখোঁজ, পুরী থেকে পুলিশ উদ্ধার করতেই BLO বললেন...
বিএলও অমিত কুমার মণ্ডল

 এসআইআর প্রক্রিয়ায় চাপের অভিযোগ তুলে একদিকে সরব বিএলও-দের একাংশ। আবার একাধিক বিএলও-র আত্মহত্যায় কাজের চাপের অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বেড়েছে। এই আবহে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় ৬ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন এক বিএলও। বাড়িতে কিছু না জানিয়েই ‘উধাও’ হয়ে যান। চিন্তায় পড়ে পরিবার। নিখোঁজ ডায়েরি করে। এসআইআর-র কাজের চাপেই ওই বিএলও উধাও হয়ে গেলেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠে। অবশেষে অমিত কুমার মণ্ডল নামে ওই বিএলও-কে ওড়িশার পুরী থেকে উদ্ধার করল পুলিশ।     


সোমবার পুরী থেকে ওই বিএলও-কে কাটোয়ায় আনে পুলিশ। কিন্তু, হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন কেন তিনি? এই নিয়ে প্রথমে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাইছিলেন না বিএলও অমিত কুমার মণ্ডল। তারপর তিনি বলেন, “বেড়াতে গিয়েছিলাম।” কোথায় গিয়েছিলেন জানতে চাওয়া হলে বিশেষ কিছু বলতে চাননি। শুধু বললেন, “একটু বাইরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। আর কিছু নয়।” বাড়িতে না বলে বেড়াতে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “বাড়িতে কাউকে কিছু বলে যাইনি। একটু মানসিক হতাশা ছিল।” এসআইআর-র কাজের চাপেই কি তিনি বেড়াতে চলে যান? ওই বিএলও বলেন, “না, না। এসআইআর-র কাজের চাপে নয়। এমনি গিয়েছিলাম।” তিনি আরও বলেন, “আমাকে পুলিশ ধরে আনেনি। আমি ফোন করেছিলাম। পুলিশ গিয়েছিল।”



প্রসঙ্গত, গত ২৩ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে আচমকা উধাও হয়ে যান পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক ওই বিএলও। তাঁর খোঁজ না পেয়ে কাটোয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল পরিবার। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে। BLO-কে খোঁজার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের তরফেও। তাঁর বাড়ি থেকে একটি চিঠি উদ্ধার হয় বলেও জানা গিয়েছে। তিনি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছেন। আর্থিক কারণে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান বলে অনুমান। যদি এদিন ওই বিএলও জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িতে না জানিয়ে চলে যাওয়ার পিছনে আর্থিক কোনও বিষয় নেই। জানা গিয়েছে, ২৩ তারিখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ২ দিন কলকাতায় ছিলেন ওই বিএলও। তারপর পুরী গিয়েছিলেন। 

সোমবার সকাল থেকেই এই ইস্যুতে সরন হন বিধায়ক অসিত মজুমদার। তাঁর দাবি ছিল, বিএলএ ২-দের শুনানিতে রাখতে হবে। না হলে বন্ধ থাকবে শুনানি। এমনকী শুনানি বন্ধও করে দেন তিনি। বিডিও-র সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয় বিধায়কের। এরপরই নির্দেশ দিল কমিশন।

ঘণ্টাখানেক হিয়ারিং বন্ধ থাকার পর কড়া নির্দেশ কমিশনের, কোনও BLA2 প্রবেশ করতে পারবেন না
শুনানি নিয়ে নির্দেশ কমিশনের

আজ, সোমবার এসআইআর-এর শুনানির তৃতীয় দিন। এদিন সকাল থেকেই বিএলএ-২ দের প্রবেশাধিকার দেওয়ার দাবিতে সরব হন বিধায়ক অসিত মজুমদার। শুধু তাই নয়, শুনানি বন্ধও করে দেন তিনি। এরপরই বড় নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়ে দিল, শুনানিতে ঢুকতে পারবেন না বিএলএ ২-রা। রবিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠকে, তাঁদের হিয়ারিংয়ে থাকার নির্দেশ দেন। প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার কথাও বলেন তিনি। এরপরই তৎপর হতে দেখা যায় অসিত মজুমদারকে।

এদিন অসিত মজুমদার দাবি করেন, কোনও লিখিত নির্দেশ না আসা পর্যন্ত হিয়ারিং করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “লিখিত দিন। আমি চলে যাব।” বিডিও-র সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বিধায়কের। আর তারপরই তিনি শুনানি বন্ধ করে দেন। ফিরে এসে নিজের অফিস থেকে সরাসরি ফোন করেন এসডিও-কে। শুনানি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেন। বিধায়কের দাবি, সাধারণ মানুষের নাম বাদ চলে গেলে সাহায্য করবেন বিএলএ-রা।


সেই একই দাবি, মেদিনীপুরেও বন্ধ শুনানি প্রক্রিয়া
সকাল থেকেই এই বচসা চলার পর কড় নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী যেহেতু বিএলএ-২ রা বসতে পারেন না, তাই তাদের বাইরে রেখেই কাজ করতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হল কমিশনের তরফে। প্রয়োজন হলে শুনানি কেন্দ্রের বাইরে ক্যাম্প করে বসতে পারবেন বিএলএ-২ রা। হুগলির জেলা শাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে অবিলম্বে শুনানি শুরু করা হয়।

তবে তৃণমূল তাদের যুক্তিতে অনড়। শাসক দলের নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলছেন, পুরনো সব নিয়ম ভেঙে ফেলে কমিশন এই নিয়মগুলো তৈরি করছে কমিশন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সমস্যা হলে অবজেকশন দেবে বিএলএ-২ রা। এভাবে তাঁদের অধিকার হরণ করা যাবে না বলে দাবি করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “নিয়ম পরিবর্তন করলে নোটিফিকেশন করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠালে হবে না।”

গাড়ির দরজা খুলে চালককে টেনে বার করার চেষ্টা। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চালক। গোটা বিষয়টি কমিশনের কাছে রিপোর্ট করবেন বলে জানিয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান। তাঁর বক্তব্য, 'কমিশন নির্দিষ্ট একটা দায়িত্ব দিয়েছে। কাজ করতে এসেছি। কার করেই ছাড়ব।'

কোনও প্রোটেকশন দেয়নি', গাড়ির কাচ ভাঙা হল মুরুগানের, 'কাজ করেই ছাড়ব', পাল্টা চ্যালেঞ্জ
পর্যবেক্ষকের গাড়িতে হামলার অভিযোগ

এসআইআর-এর শুনানি চলাকালীন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের গাড়িতে হামলা। উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট। বিশেষ পর্যবেক্ষকের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ। গাড়ির দরজা খুলে চালককে টেনে বার করার চেষ্টা। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চালক। গোটা বিষয়টি কমিশনের কাছে রিপোর্ট করবেন বলে জানিয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান। তাঁর বক্তব্য, ‘কমিশন নির্দিষ্ট একটা দায়িত্ব দিয়েছে। কাজ করতে এসেছি। কার করেই ছাড়ব।’ গোটা বিষয়টি তিনি রিপোর্ট আকারে কমিশনের কাছে জানাবেন বলে জানান মুরুগান।

সোমবার সকালে মগরাহাটের একটি স্কুলের হিয়ারিং সেন্টারে নথিপত্র খতিয়ে দেখতে এসেছিলেন বিশেষ পর্যবেক্ষক। মাইক্রো অবজারভারদের সঙ্গে তাঁর কথা বলার ছিল। বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এসেছিলেন তিনি। সে সময়েই শতাধিকের মতো মানুষ ওই স্কুলের কাছে পৌঁছে যান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উস্থি থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিষয়টি তখনকার মতো মিটমাট হয়ে যায়।



ঘণ্টাখানেক হিয়ারিং বন্ধ থাকার পর কড়া নির্দেশ কমিশনের, কোনও BLA2 প্রবেশ করতে পারবেন না
এরপর মগরাহাট ২ নম্বর ব্লক থেকে বেরিয়ে তিনি আইটিআই কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, পথেই তাঁর গাড়ির ওপর চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা। গাড়ির লক ভেঙে চালকে টেনে বার করে আনার চেষ্টা চলে। তার আগে গোটা বিডিও অফিস ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

কিন্তু গোটা বিষয়টিতে বিশেষ পর্যবেক্ষকের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে একাধিক। সকাল থেকে একাধিক জায়গায় ঘুরছেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না। সেখানে তাঁর জন্য কোনও পাইলট কার ছিল না। মুরুগান বলেন, “আমি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কাজ করতে এসেছি। তারপর ওরা যা করল, সেটা তো আমি রিপোর্ট করব।” তবে আতঙ্কিত তাঁর গাড়ি চালক। তিনি বলেন, “মগরাহাট ২ ব্লকের কাছে মহিলারা জড়ো হয়ে গেলেন। যেভাবে গাড়ির কাচে মেরেছেন, লক ভেঙে ফেলেছে। পুলিশ ফোর্স ছিল না। কোনও প্রোটেকশন দেয়নি। যেটা এসপি দেওয়া দরকার, সেখানে এখানে দেওয়া হয়নি।”


কয়েক মাস আগেই এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। আজ সোমবার নিউ টাউনে সেই দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই তাঁর প্রশাসনিক আধিকারিকদের দিকে তাকিয়ে মমতা বললেন, 'টেন্ডার হয়েছে তো?'


টেন্ডার ফাইনাল', দুর্গা অঙ্গনের জমি বদলের কারণও বুঝিয়ে দিলেন মমতা

 গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজো নিয়ে বাঙালির আবেগ এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মণ্ডপে গিয়ে চক্ষুদান করা থেকে শুরু করে, পুজো শেষে কার্নিভাল। একের পর এক উদ্যোগ। আর এবার আস্ত এক মন্দির। মন্দির বললে ভুল হবে। এটি দুর্গা অঙ্গন, শাসক দল বলছে ‘দুর্গাপীঠ’। ঘোষণার পর থেকেই এই মন্দির নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। বিরোধীদের সব প্রশ্নের জবাব দিলেন খোদ মমতাই।


দুর্গা অঙ্গনের টেন্ডার হয়েছে?


কয়েক মাস আগেই এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। আজ সোমবার নিউ টাউনে সেই দুর্গা অঙ্গনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরুতেই তাঁর প্রশাসনিক আধিকারিকদের দিকে তাকিয়ে মমতা বললেন, ‘টেন্ডার হয়েছে তো? ফাইনাল হয়ে গিয়েছে তো?’ মঞ্চে বসেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। ছিলেন, উপদেষ্টা হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। তিনি উঠে উত্তর দেন ‘হ্যাঁ’। এরপর মমতা বলেন, ‘আজ কাজ শুরুর পালা।’

এই দুর্গা অঙ্গন নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, টেন্ডারই হয়নি। এই প্রজেক্ট আসলে ভুয়ো। টেন্ডারও হয়নি, ওয়ার্ক অর্ডারও নেই। এদিন সেই অভিযোগ কার্যত নস্যাৎ করে দিলেন মমতা।

জমি বিতর্ক

দুর্গা অঙ্গনের জমি নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি। প্রথমে অন্য জায়গায় মন্দির তৈরি করার কথা হলেও, পরে সেই স্থান পরিবর্তন হয়। নিউ টাউনে ইকোপার্কের কাছে, নিউ টাউন বাসস্ট্যান্ডের উল্টোদিকে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এই নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, স্বাস্থ্য ভবনের জায়গা প্রথমে বেছে নেওয়া হয়েছিল, পরে তা তুলে শিল্পের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুদের কথায় জায়গা সরানো হয়েছে, এমন দাবিও করেছিলেন শুভেন্দু।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর জানান, আগে যে জায়গাটা দেখা হয়েছিল, সেটি ১২ একরের। মমতা বলেন, “পরে ভাবলাম যদি করতেই হয়, তাহলে ভাল করে করা দরকার। তাই এই জমিটি নেওয়া হয়েছে। এটি ১৭.২৮ একর।”

 আরেক ব্যবসায়ী ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। চোখের নিজের দোকান জ্বলতে দেখে তিনি কাতর স্বরে বলে ওঠেন, 'এ তো শ্মশান'। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাজারের প্রতিটি দোকানই টিনের ছাউনি দেওয়া। ছিল না কোনও অগ্নি নির্বাপক ব্য়বস্থাও। ফলত, সোমবার রাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়েছে নিজের মর্জিতে। গিয়ে খেয়েছে গোটা বাজার।

এ তো শ্মশান...', এক রাতে পুড়ে ছাই যদুবাবুর বাজারের শতাধিক দোকান
ভয়াবহ আগুন

 প্রায় প্রত্য়েকের চোখেই জল। নিজের জীবনের অন্যতম সম্বল পুড়তে দেখছিলেন তাঁরা। কিছুই করার নেই, যতক্ষণে তাঁদের কাছে খবর পৌঁছেছে, ততক্ষণে সবটাই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে বললেই চলে। এক রাতে ভস্মীভূত ২০০-এর অধিক দোকান। সর্বস্বান্ত হলেন ব্যবসায়ীরা। ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন যদুবাবুর বাজারের।

সোমবার গভীর রাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে সেখানে। যার পরিণতিও ভয়াবহ। কিন্তু কীভাবে আগুন লাগল? তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্য়বসায়ীরা। এদিন ওই বাজারেই বসতেন, এমন এক ব্য়বসায়ী — নুপুর চক্রবর্তী, তিনি বলেন, ‘আমাকে একজন ফোন করলেন। বললেন, তাড়াতাড়ি চলে আসতে, ওখানে নাকি সব শেষ হয়ে গিয়েছে। সব পুড়ে গিয়েছে। এখানে প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি দোকান রয়েছে। আমার নিজের ইলেকট্রিকের দোকান ছিল।’



আরেক ব্যবসায়ী ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। চোখের সামনে নিজের দোকান জ্বলতে দেখে তিনি কাতর স্বরে বলে ওঠেন, ‘এ তো শ্মশান!’। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাজারের প্রতিটি দোকানই টিনের ছাউনি দেওয়া। ছিল না কোনও অগ্নি নির্বাপক ব্য়বস্থাও। ফলত, সোমবার রাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়েছে নিজের মর্জিতে। গিলে খেয়েছে গোটা বাজার। দমকল বাহিনী সময় মতো এসেছে বলেই জানিয়েছেন ব্য়বসায়ীরা। মোট সাতটি ইঞ্জিনের তৎপরতায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। কিন্তু ততক্ষণে সবটাই শেষ।

এদিন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন উত্তর দমদম পুরসভার প্রধান বিধান বিশ্বাস। বেশ কয়েকজন পুর প্রতিনিধিদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। ব্যবসায়ীদের অকাল পরিণতি দেখে পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর কথায়, ‘আমরা ওদের পাশে রয়েছি। এই বাজার পুরসভার অন্তর্গত, আমরা অবশ্যই ওদের দেখব। চেষ্টা করব পুনর্বাসন দেওয়ার।’ পাশাপাশি, গোটা দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

 তিনদিনের এই সফরে এক গুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে অমিত শাহর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল তৈরিতেই যে তাঁর এই বঙ্গ সফর, কলকাতায় পা রেখেই বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডেপুটি। বছরের শেষ দিনেরও বেশ কয়েকঘণ্টা বাংলায় থাকবেন তিনি। ওইদিন সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি থেকে রাজ্যস্তরের নেতাদের সঙ্গে সম্মেলনে যোগ দেবেন।


পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত', কলকাতায় পা দিয়েই বললেন শাহ
তিনদিনের সফরে কলকাতায় অমিত শাহ



এসআইআর-র হিয়ারিং পর্বকে ঘিরে বাংলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই আবহেই তিনদিনের সফরে সোমবার সন্ধেয় কলকাতায় পা রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এবারের বঙ্গ সফর পুরোপুরি রাজনৈতিক। তিনদিনে বিজেপির একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি থেকে রাজ্যস্তরের নেতাদের সঙ্গে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে সম্মেলনে যোগ দেবেন। আর মাস চারেক পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এদিন কলকাতায় পা দিয়েই শাহ বলে দিলেন, “পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।“

এদিন সন্ধেয় কলকাতা বিমানবন্দরে শাহকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিমানবন্দরের বাইরে শাহকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেছিলেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। কলকাতায় পা দিয়েই এক হ্যান্ডলে শাহ লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ পরিবর্তনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। তিনদিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে কলকাতায় পৌঁছেছি। বিমানবন্দরে কর্মী সমর্থকদের ভালবাসায় অভিভূত। আগামিকাল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের কোর গ্রুপের বৈঠকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পরের দিন রাজ্য বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করব এবং কলকাতা মহানগরের উদ্যমী ও শক্তিশালী দলীয় কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করব।’ তাঁর এবারের সফরের লক্ষ্য যে বিধানসভার রণকৌশল তৈরি, কলকাতায় পা দিয়েই তা বুঝিয়ে দিলেন শাহ।  



ভারতের মানচিত্রে ‘চিকেনস নেক’ কী? চিন সীমান্তের ঘনিষ্ঠ এই ‘দুর্বল’ যোগসূত্র কতটা প্রভাবশালী?
এদিন বিমানবন্দর থেকে সল্টলেকে বিজেপির দফতরে পৌঁছন শাহ। সেখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, ওই বৈঠক দুটিতে বঙ্গে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে কোন পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে দল, বুঝতে চাইলেন অমিত শাহ। সদস্যতা অভিযান, দলীয় সাংগঠনিক নির্বাচন, সভাপতি নির্বাচন, বুথ সশক্তিকরণ, এই সব পর্ব পেরিয়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থা কী, তা জানতে চান।

জানা গিয়েছে, বিজেপির পথসভাগুলিতে কেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো জানতে চেয়েছেন নরেন্দ্র মোদীর ডেপুটি। জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রচারের জন্য কী কী করছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব, তাঁদের কী ভাবনা রয়েছে, তাও জানলেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে রথযাত্রা কীভাবে হবে, কোন রুটে হবে, মানুষের সাড়া কেমন মিলতে পারে, কোথায় সুবিধা হবে, কোথায় অসুবিধাও হতে পারে, এসব সম্পর্কে শাহকে নিজেদের ভাবনা জানালেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। আগামিকাল ও ৩১ ডিসেম্বর একাধিক কর্মসূচি সেরে বছরের শেষ দিন বাংলা ছাড়বেন শাহ। 




১৯৪৫ সালে ১৫ আগস্ট। জন্ম হয় খালেদা খানম পুতুলের। সেই পুতুলই পরবর্তীতে হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের রাজনীতির 'নম্বর ২'। রংপুরের দিনাজপুরের অন্তর্গত মুদিপাড়ায় জন্ম হয় তার। বাবা জনাব ইস্কান্দর ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে ওই দিনাজপুরেই পড়াশোনা। ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন খালেদা জিয়া। ওই বছরই তাঁর বিয়ে হয় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে।

 সংসার-প্রিয়, রাজনীতি-বিমুখী! দিনাজপুরের পুতুল কীভাবে হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া?
একনজরে খালেদা জিয়ার জীবন

তাঁকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে, অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির কথা চিন্তা করলে, তা খালেদা জিয়া ব্যাতীত নয়। মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বড়দিনে ১৭ বছর পর ছেলে তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা। তারপর ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় প্রয়াত হলেন খালেদা জিয়া। বিএনপি সূত্রে খবর, তাঁর মৃত্য়ুর সময় পাশেই ছিলেন ছেলে তারেক। দীর্ঘ চার দশকের রাজনীতি, উত্থান-পতন, জেল যাত্রা — সব ফেলে ৮০ বছর বয়সে চলে গেলেন খালেদা জিয়া।


১৯৪৫ সালে ১৫ আগস্ট। জন্ম হয় খালেদা খানম পুতুলের। সেই পুতুলই পরবর্তীতে হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের রাজনীতির ‘নম্বর ২’। রংপুরের দিনাজপুরের অন্তর্গত মুদিপাড়ায় জন্ম হয় তাঁর। বাবা জনাব ইস্কান্দর ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে ওই দিনাজপুরেই পড়াশোনা। ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন খালেদা জিয়া। ওই বছরই তাঁর বিয়ে হয় জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। বলে রাখা প্রয়োজন, বিয়ের পর নিজের স্নাতকের পড়াশোনা সেরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া, তাও আবার কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে। এই শহরের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বেশ মসৃণ সম্পর্ক ছিল। রাজনীতিতে পা রাখার পূর্বে কলকাতা আসা-যাওয়া ছিল তাঁর।


একবার দেখুন কী কষ্ট করে ১০৯ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা এসেছেন শুনানি কেন্দ্রে
খাস কলকাতায় গেস্ট হাউসে রহস্যজনক ঘটনা
রাজনীতিতে খালেদা জিয়া
জিয়াউর রহমানের গোটা জীবনপর্বটাই রাজনৈতিক। কিন্তু তা খালেদা জিয়ার ছিল না। বলা চলে, রাজনীতি বিমুখী ছিলেন তিনি। একাংশের মতে, খালেদা জিয়া ভালবাসতেন ঘর-সংসার। দেশ-দুনিয়ার খবর রাখতেন, কিন্তু তাতে নিজে মাততেন না। তবে তাঁর জীবন হয়তো অন্য পরিকল্পনা রেখেছিল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে। সামরিক অভ্য়ুত্থানে জিয়াউর রহমানের মৃত্যু। সেই প্রেক্ষাপটে বিপর্যস্ত বিএনপিকে টিকিয়ে রাখতে ব্য়াটম ধরলেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে থেকে জেনারেল এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনে নামেন তিনি। এই সময়কালে নির্বাচন হয়েছিল, আওয়ামী লিগ, জামতরা তাতে অংশগ্রহণ করলেও, খালেদা জিয়া হাঁটেন বয়কটের পথে। এই রাজনৈতিক লড়াইকে পেরিয়ে খালেদা জিয়ার প্রথম সাফল্য ছিল ১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচন। একক সংখ্য়াগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা বিএনপি, খালেদা জিয়া হন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে একাধিক বার বিএনপি-কে জয় ছিনিয়ে দিয়েছেন খালেদা জিয়া, কখনও একক ভাবে। কখনও বা জোটের মাধ্য়মে। তবে একটা বড় অংশ নির্বাচন বিমুখীও থাকতে হয়েছে এই বিএনপিকেই। তিনি দেখেছিলেন উত্থান, দেখেছিলেন পতন। আজ খালেদা জিয়া নেই, রয়েছে তাঁর দল। রয়েছে বাংলাদেশ। রয়েছে সেই অনিশ্চিয়তা, সেই ভয়ের আবহ। যা ছিল আশির দশকে, তা রয়েছে আজও।

২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচন। বাংলাদেশে নৌকার ঝড়। হারিয়ে গেল ধানের শিষ। মুখ হয়ে ফিরলেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দুই মহিলা নেত্রীর লড়াই অনন্য। যা কখনও লঙ্ঘন করেছে সীমা, কখনও আবার গড়েছে রাজনৈতিক নজির। ওই বছর খালেদা জিয়া ক্ষমতাচ্যুত হয়েই একের পর এক মামলায় জড়িয়ে গেলেন। যার মধ্য়ে অন্যতম জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, এই ট্রাস্টের মাধ্য়মে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণ হল। এরপর সোজা কারাগার। এই মামলায় ১৭ বছরের সাজা হয়েছিল তাঁর। তবে দু’বছরের সামান্য বেশি সময় জেলে খেটে অসুস্থতার কারণে শর্তসাপেক্ষ জামিন পান তিনি। অবশ্য, ইউনূসের আমলে এই সকল মামলা থেকে নিষ্পত্তি পেয়েছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু নিষ্পত্তি পাননি শারীরিক কষ্ট থেকে।

২০২১ সালের মে মাসে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তারপর থেকেই শুরু হয় যাতনা। একাধিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন তিনি। ২০২২ সালে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় তাঁর। একেবারে শেষ বারের মতো। চলতি বছরেও লন্ডনে চিকিৎসার জন্য় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। কথা ছিল এই বারও নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তা আর হল না।

দিন তিনেক আগেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য় তৈরি মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত জটিল। অবশেষে সেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হার মানলেন খালেদা জিয়া। ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত জটিল। দিন তিনেক আগেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য় তৈরি মেডিক্যাল বোর্ডের অন্যতম সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। অবশেষে সেই জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে হার মানলেন খালেদা জিয়া। ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর নিজেদের সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। তাঁরা লিখেছে, ‘সকাল ৬টায় প্রয়াত হয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।’




ছুটছে 'জ্বলন্ত ট্রেন', রাতবিরেতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ঘুমের মধ্যেই ঝলসে মৃত্যু যাত্রীর
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্য়ম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার খালেদা জিয়ার শেষ কৃত্য (জানাজা) পালন করা হবে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এই সংক্রান্ত আয়োজন হতে পারে বলেই জানিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য় সালাহউদ্দিন আহমেদ।

বড়দিনের দিন মায়ের জন্য সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন ছেলে তারেক রহমান। নিজ দেশে ফিরে ১৬ মিনিটে রাজনৈতিক কর্মসূচি মিটিয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন তারেক। মেডিক্যাল বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক পরিস্থিতি তখনও বেশ জটিল ছিল। কিন্তু প্রত্যয়ী তারেক আশা জুগিয়েছিলেন ‘নতুন ভোরের’।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সময় তাঁর ছেলে তারেক রহমান, বৌমা জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-সহ দল ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ওই হাসপাতালেই উপস্থিত ছিলেন। দোরগোড়ায় নির্বাচন। এই ‘কালবেলা’য় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রয়াণ, সব মিলিয়ে বিএনপি-র নেতাকর্মীদের মধ্য়ে ‘উৎকণ্ঠা’ তৈরি হয়েছে বলেই খবর। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সামনেও জমেছে ভিড়।

প্রসঙ্গত, একুশ সালে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তারপর থেকেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শরীরে ধীরে ধীরে ক্ষয় ধরতে থাকে। একাধিক বার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া, তার মধ্য়েই বার্ধক্যের কারণে তৈরি হওয়া দুর্বলতা — সব মিলিয়ে জীবনের কাছে যেন মাথা ঝোঁকাতে শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। এমনকি, নভেম্বর খালেদা জিয়া ফের অসুস্থ হতেই তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি জটিল হওয়া তা সম্ভব হয়নি।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনার সভায় চেয়ার থাকলেও সমর্থকদের দেখা নেই বিরোধীদের ভয়ে চেয়ার শূন্য দাবি রাহুল সিনার


২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বিজেপি নির্ধারিত পরিবর্তন সংকল্প সভা অনুষ্ঠিত হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পাথরপ্রতিমা ব্লকের দিগম্বর পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ দুর্গাপুর রথতলায়।
তবে এটা বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভা না পথসভা সমর্থক দেখে বোঝা গেল না। প্রায় ২০০০ চেয়ার থাকলেও ৫০০ সমর্থকের দেখা মেলে নি। 
উল্লেখ্য পাথরপ্রতিমা ব্লক তৃণমূলের দুর্ভেদ্দ গড়, আর যেখানেই সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেই গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূমিপুত্র চারবারের বিজয়ী শাসক দলের বিধায়ক সমীর কুমার জানার নিজের এলাকা। সেই এলাকায় আজ রাহুল সিনহার সভা সম্পূর্ণ ফ্লপ দাবির শাসক দলের।

গত জগদ্ধাত্রী পূজার সময় পাশের গ্রাম পঞ্চায়েতে শুভেন্দু অধিকারীর সভায় বিজেপির সমর্থকদের উপস্থিত হয়েছিল চোখে পড়ার মতো,তখন উপস্থিতি দেখে বিজেপি কর্মীরা মন বল বাড়িয়ে লড়াই শুরু করে। তবে আজকের সভা দেখে বিজেপি নেতৃত্ব এবং কর্মীদের মনবল কিছুটা হলেও যে নিতে চলেছে সমর্থকদের হাবভাবে বোঝা যায়।
তবে রাহুল সিনার দাবি শাসকদলের হুমকির ভয়ে বিজেপি সমর্থকরা আসেনি,তিনি আরো বলেন যেহেতু এটি একটি মন্ডলকে নিয়ে মিটিং সেহেতু সংখ্যা কম হয়েছে। এত কম কেন সে প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
তবে লোক কম হলে কি হবে আজকের সভায় রাহুল সিনহা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ শাসক দলের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। তিনি বলেন রাষ্ট্রপতি শাসন না চাইলে, তাহলে নির্বাচন কমিশনারের সহযোগিতা করতে হবে, আর নির্বাচন কমিশনারের কাজে বাধা দিলে অবশ্যই রাজ্যের রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। আর ফল ভুগবে শাসক দল।
তবে শাসক দলের নেতৃত্ব রাহুল সিনাহর কথায় পরিষ্কার বলেন পাগলে সমস্ত কিছু পাগলের প্রলাপ। 
একটা মিটিংয়ে ৫০০ সমর্থক জোগাড় করতে না পারায় মস্তিষ্ক বিকৃত হয়েছে। 
অন্যদিকে বিজেপির দাবি শাসক দল যাই বলুন না কেন আগামী ২৬ শে বিধানসভা নির্বাচনে বৃক্ষ তোমার কি নাম ফলে পরিচয় বুঝিয়ে দেওয়া হবে। 
তবে রাহুল সিনার সভাঘিরে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো।

গঙ্গাসাগর মেলা শুরুর আগেই কপিলমুনির আশ্রমে প্রধান পুরোহিত জ্ঞানদাস মহন্ত, ফুলের তোড়ায় স্বাগত জানাল প্রশাসন।

আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখনই পুণ্যভূমিতে পা রাখলেন আশ্রমের প্রধান পুরোহিত জ্ঞানদাস মহন্ত মহারাজ। মেলা শুরুর প্রাক্কালে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অন্দরে এবং ভক্ত মহলে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা গেছে। সোমবার দুপুর ঠিক একটা নাগাদ মহারাজ কাকদ্বীপ থেকে এলসিটিতে চড়ে গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটে এসে পৌঁছান। ঘাটে পা রাখতেই তাঁকে রাজকীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও এবং সাগর থানার ওসি অর্পণ নায়েক। তাঁরা মহারাজকে ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানান।
আশ্রমের পথে মহারাজ


সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশি নিরাপত্তায় মহারাজ গাড়িতে করে সরাসরি কপিল মুনির আশ্রমের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, মেলা চলাকালীন পূজা-পার্বণ এবং পুণ্যার্থীদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের সমস্ত দিক তিনি নিজে তদারকি করবেন।
প্রশাসনের তৎপরতা
মহারাজের আগমনের সাথে সাথেই মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিডিও কানাইয়া কুমার রাও জানান, পুণ্যার্থীদের জন্য পানীয় জল, বাসস্থান এবং যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। জ্ঞানদাস মহন্ত মহারাজের উপস্থিতিতে মেলার ধর্মীয় মাহাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাগর ব্লকে শুরু হলো ভোটার তালিকা সংশোধনের মেগা ড্রাইভ: ময়দানে বিডিও, প্রথম দিনেই ছয় পঞ্চায়েতে শোরগোল

গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগর ব্লক প্রশাসন। সোমবার থেকে সাগর ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া। ব্লক প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন সকাল থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রাও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকায় যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে এবং প্রতিটি যোগ্য নাগরিক যাতে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই শিবির। বিডিও নিজে উপস্থিত থেকে সরকারি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে সাগর ব্লকে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৬০ জন। 
তবে তালিকা পর্যালোচনার সময় দেখা যায়, বহু ভোটারের নথিতে কিছু যান্ত্রিক বা তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে। এই ভুল সংশোধনের লক্ষ্যে মোট ১১৩০ জনকে আগেভাগেই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সাগর ব্লকের মোট ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে আজ প্রথম ধাপে ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে এই সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। যাদের কাছে নোটিশ পৌঁছেছিল, তাঁরা আজ নির্দিষ্ট কেন্দ্রে এসে নিজেদের নথিপত্র জমা দেন। নাম সংশোধন, ঠিকানা পরিবর্তন বা ভোটার কার্ডের ছবি সংক্রান্ত সমস্যাগুলি আজকের এই শিবিরে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। বিডিও কানাইয়া কুমার রাও জানান, "ভোটার তালিকা নির্ভুল করা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। যাদের তালিকায় সমস্যা ছিল, তাদের প্রত্যেককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের প্রক্রিয়ায় মানুষের ভালো সাড়া মিলেছে।" বাকি ৩টি পঞ্চায়েতেও দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনারের মাইক্রো অবজার্ভারকে ধরে বিক্ষোভ।


দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মগরাহাট সিরাকল হাই স্কুলে আজকের এস আই আর এ হেয়ারিং ছিলো আর সেই খানে নির্বাচন কমিশনারের মাইক্রো ওফ জারভারকে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে গ্রামবাসীরা। মূলত গ্রামবাসীদের যেটা অভিযোগ বাড়িতে বাড়িতে না গিয়ে তারা স্কুলে বসে এস আই আর এর কাজ করছে যার ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে বয়স্ক লোকেদের এবং বিনা কারণে মানুষের হেনস্থা করছে। 

এবং ১০০ দিনের বকেয়া কাজের টাকার দাবিতে এলাকাবাসীরা নির্বাচন কমিশনারের প্রতিনিধিদের ধরে বিক্ষোভ দেখায়। প্রতিবন্ধীদের গাড়ি করে এনে তারা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তার জন্য বিক্ষোভ দেখায়। এলাকাবাসীদের যেটা অভিযোগ যে বয়স্ক লোকেদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে hairing করতে হবে সেটা না করে স্কুলে বসে হেয়ারিং করছিল। এস আই আর নিয়ে মানুষের নাজেহাল করছে কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনার তাই তার এই প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা।


ক্যানিং থানার কোয়াটার থেকে উদ্ধার হল মহিলা হোম গার্ডের দেহ! থানার সাব ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের পরিবারের



ক্যানিং: মহিলা হোম গার্ডের দেহ উদ্ধার কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ক্যানিং থানার ক্যানিং পুলিশ কোয়াটারের মধ্যেই। নিহত ওই পুলিশ কর্মীর নাম গুলজান পারভীন মোল্লা ওরফে রেশমি। বয়স ২২ বছর। নিহত ওই হোম গার্ড পুলিশকর্মীর বাড়ি জীবনতলা থানা উত্তর মৌখালী এলাকায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর শুক্রবার ডিউটি ছেড়ে ক্যানিং থানার পেছনে থাকা কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন। তারপর বাড়ির থেকেই বারবার ফোন করার পরও ফোনে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। সারাদিন ফোন করার পর যখন তার সাথে যোগাযোগ না করতে পেরে বাড়ির লোকজন চলে আসে ক্যানিং থানাতে। বোন রুকসানা খাতুন কোয়ার্টারে চলে যায়। কোয়াটারের দরজা তখন ভেতর থেকে ভজানো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখে ওড়না গলায় পেঁচিয়ে সিলিং এর সঙ্গে ঝুলছে ওই মহিলা হোম গার্ড। দিদির এই অবস্থা দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন বোন। এরপর ক্যানিং থানা থেকে পুলিশ গিয়ে দেহটিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোন কারণ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ক্যানিং থানার তরফ থেকে।
খুন না আত্মহত্যা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দু'বছর আগে পঞ্চায়েত ভোটের সময় ভাঙ্গরে গিয়ে খুন হয় বাবা রশিদ মোল্লা। তারপর হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছিল বাড়ির বড় মেয়েকে। আর এদিনের এই মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারের। মৃত হোম গার্ডের বাড়ি জীবনতলা থানার উত্তর মৌখালী এলাকায়। 
এদিকে মৃতের পরিবারের তরফ থেকে ক্যানিং থানার সাব ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য্য নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের দাবি সায়নের বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক ছিল গুলজানের সাথে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সে খুন করেছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে ক্যানিং এসডিপিও রামকুমার মন্ডল তিনি জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে তদন্ত শুরু হয়েছে

 হুমায়ুনের পুত্র রবীন এখনও তৃণমূল পরিচালিত বেলডাঙার দুই নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। বাবার দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেননি। রবীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হুমায়ুন বলেন, "দীর্ঘদিন সিপিএমের মোকাবিলা করে এসেছি। আজকে আবার শাসকদলের বিরুদ্ধে গিয়েছি। এসব ছোটখাটো ঘটনা হবে। ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এসবে আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।"


৭ ঘণ্টা পর থানা থেকে হুমায়ুনের ছেলেকে ছাড়ল পুলিশ, পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে FIR দায়ের
থানা থেকে ছাড়া পেলে বাড়ি ফিরছেন হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ

তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। কয়েকদিন আগে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন দল গঠন করেছেন তিনি। সেই হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবীন আজও তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। আর এই রবীনকে ঘিরেই রবিবার রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল চলল দিনভর। হুমায়ুনের নিরাপত্তারক্ষী পুলিশকর্মীকে মারধরের অভিযোগে রবীনকে থানায় নিয়ে যায় শক্তিনগর থানার পুলিশ। প্রায় ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ছাড়া পেলেন হুমায়ুন পুত্র। তবে পুলিশকর্মীকে মারধরের ঘটনায় হুমায়ুন ও তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল পুলিশ।

হুমায়ুনের নিরাপত্তারক্ষী পুলিশ কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রবীনের বিরুদ্ধে। এদিন পুলিশ তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন। বাড়ি থেকে শক্তিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় হুমায়ুনের ছেলেকে। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর রবীনকে ছাড়া হলেও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে হুমায়ুন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় FIR দায়ের হয়েছে। বাবা ও ছেলেকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।


ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার মহিলার দেহ, হোমগার্ডকে খুন নাকি আত্মহত্যা?
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য হুমায়ুনের বাড়ি গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু, কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য ফুটেজ সংগ্রহ করা যায়নি। তাই, আগামিকাল পুরো ডিভিআর ও স্টোরেজ সাইবার ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হবে।

হুমায়ুনের পুত্র রবীন এখনও তৃণমূল পরিচালিত বেলডাঙার দুই নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ। বাবার দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেননি। রবীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে হুমায়ুন বলেন, “দীর্ঘদিন সিপিএমের মোকাবিলা করে এসেছি। আজকে আবার শাসকদলের বিরুদ্ধে গিয়েছি। এসব ছোটখাটো ঘটনা হবে। ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এসবে আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।”

এই নিয়ে সিপিএম, বিজেপি নিশানা করেছে তৃণমূলকে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গোটা রাজ্যে পিসি-ভাইপোর বিরুদ্ধে যে কথা বলবে, তার বিরুদ্ধে পুলিশ লেলিয়ে দেবে। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক।” সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “এটা বিজেপি-তৃণমূলের রাজনীতি। যদি ওদের কথায় সায় দাও, তাহলে কেন্দ্র ও রাজ্যের পুলিশ পাহারা দেবে। আর বিরোধিতা করলে মামলায় জড়াবে।”

বিরোধীদের জবাব দিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “উনি (হুমায়ুন কবীর) নিজে স্বীকার করেছেন, পুলিশকর্মী মারেননি। ছেলে পুলিশকর্মীকে মেরেছেন আর উনি ঘাড় ধাক্কা দিয়েছেন। অন ডিউটি পুলিশকর্মীকে মারলে পুলিশ কি রসগোল্লা খাওয়াবে?”   


সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, "মানুষ সুযোগ পেলেই নৈরাজ্যের ঘটনার জবাব দিয়েছেন। এখানে জিতে যাই, ওখানে জিতে যাই বলে সব অপরাধ মাফ, তৃণমূলের এই রাজনীতিরই জবাব দিয়েছেন মানুষ। সুযোগ পেলেই বোমার জবাব ব্যালটে দিচ্ছেন ভোটাররা। ভবিষ্যতেও তাই দেবেন।"

তামান্নার এলাকায় সমবায় ভোটে শূন্য তৃণমূল, সব আসন পেল বামেরা
সমবায় সমিতির নির্বাচনে সব আসন পেল বামেরা

সবে মাস ছয়েক কেটেছে। নদিয়ার কালীগঞ্জের নাম বললেই উঠে আসে নাবালিকা তামান্না খাতুনের নাম। গত ২৩ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে ফল ঘোষণার পর বোমাবাজিতে প্রাণ হারায় তামান্না। সেই কালীগঞ্জেই এবার সমবায় সমিতির নির্বাচনে শূন্য হল তৃণমূল। খাতাই খুলতে পারল না। সব আসনে জিতল বামেরা। আর সমবায় সমিতির ফল ঘোষণার পর রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধল সিপিএম। জবাবে তৃণমূলের বক্তব্য, বাংলায় গণতন্ত্র রয়েছে বলেই বিরোধীরা জিতেছে।

কালীগঞ্জের বৈরামপুর-পলাশী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন হয় রবিবার। দীর্ঘদিন ধরে এই সমবায়ে নির্বাচন হয়নি। এদিন হাইকোর্টের নির্দেশে সিসিটিভি ক্যামেরা ও উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ হয়। এই সমবায় সমিতির নির্বাচনে ন’টি আসনেই জয়ী হন বাম সমর্থিত প্রার্থীরা। খাতা খুলতে পারেনি তৃণমূল। সমবায় সূত্রে জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৫৪৬ জনের নাম ছিল। তার মধ্যে ৪৬৪ জন ভোট দেন। সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্য বলেন, স্বচ্ছ নির্বাচনে মানুষ প্রগতিশীল শক্তিকেই বেছে নিয়েছেন।



'২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি, ৩-০ গোলে এগিয়ে শতদ্রু'
৬ মাস আগে বিধানসভা উপনির্বাচনে কালীগঞ্জে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তৃণমূল প্রার্থী আলফা আহমেদ। এরপরই তৃণমূলের বিজয়োৎসবের সময় বোমাবাজিতে মৃত্যু হয় তামান্নার। সেই ঘটনার উল্লেখ করে এদিন সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, “মানুষ সুযোগ পেলেই নৈরাজ্যের ঘটনার জবাব দিয়েছেন। এখানে জিতে যাই, ওখানে জিতে যাই বলে সব অপরাধ মাফ, তৃণমূলের এই রাজনীতিরই জবাব দিয়েছেন মানুষ। সুযোগ পেলেই বোমার জবাব ব্যালটে দিচ্ছেন ভোটাররা। ভবিষ্যতেও তাই দেবেন।”

কী বলছে তৃণমূল?

বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র রয়েছে। ফলে বিরোধীরা থাকবে। ভারতবর্ষের সংসদীয় গণতন্ত্রের শক্তি হচ্ছে বিরোধী স্বর। আমরা সবসময় বলি, গণতন্ত্রে বিরোধী স্বরকে দমন করে দেওয়াই গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করে দেওয়া। এখানে একটা সমবায়ে বিরোধীরা জিতেছে, এটা স্বাভাবিক। আমরা মানুষের কাছে যাব। তৃণমূলের উন্নয়ন তুলে ধরব। বিরোধীদের শুভেচ্ছা। একশো শতাংশ জিতে গেলে সেটা তো স্বৈরতন্ত্র হয়। আমরা গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।”