আরেক ব্যবসায়ী ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। চোখের নিজের দোকান জ্বলতে দেখে তিনি কাতর স্বরে বলে ওঠেন, 'এ তো শ্মশান'। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাজারের প্রতিটি দোকানই টিনের ছাউনি দেওয়া। ছিল না কোনও অগ্নি নির্বাপক ব্য়বস্থাও। ফলত, সোমবার রাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়েছে নিজের মর্জিতে। গিয়ে খেয়েছে গোটা বাজার।
এ তো শ্মশান...', এক রাতে পুড়ে ছাই যদুবাবুর বাজারের শতাধিক দোকান
ভয়াবহ আগুন
প্রায় প্রত্য়েকের চোখেই জল। নিজের জীবনের অন্যতম সম্বল পুড়তে দেখছিলেন তাঁরা। কিছুই করার নেই, যতক্ষণে তাঁদের কাছে খবর পৌঁছেছে, ততক্ষণে সবটাই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে বললেই চলে। এক রাতে ভস্মীভূত ২০০-এর অধিক দোকান। সর্বস্বান্ত হলেন ব্যবসায়ীরা। ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন যদুবাবুর বাজারের।
সোমবার গভীর রাতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে সেখানে। যার পরিণতিও ভয়াবহ। কিন্তু কীভাবে আগুন লাগল? তা এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ব্য়বসায়ীরা। এদিন ওই বাজারেই বসতেন, এমন এক ব্য়বসায়ী — নুপুর চক্রবর্তী, তিনি বলেন, ‘আমাকে একজন ফোন করলেন। বললেন, তাড়াতাড়ি চলে আসতে, ওখানে নাকি সব শেষ হয়ে গিয়েছে। সব পুড়ে গিয়েছে। এখানে প্রায় ২০০-এর কাছাকাছি দোকান রয়েছে। আমার নিজের ইলেকট্রিকের দোকান ছিল।’
আরেক ব্যবসায়ী ভেঙে পড়েছেন কান্নায়। চোখের সামনে নিজের দোকান জ্বলতে দেখে তিনি কাতর স্বরে বলে ওঠেন, ‘এ তো শ্মশান!’। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাজারের প্রতিটি দোকানই টিনের ছাউনি দেওয়া। ছিল না কোনও অগ্নি নির্বাপক ব্য়বস্থাও। ফলত, সোমবার রাতে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়েছে নিজের মর্জিতে। গিলে খেয়েছে গোটা বাজার। দমকল বাহিনী সময় মতো এসেছে বলেই জানিয়েছেন ব্য়বসায়ীরা। মোট সাতটি ইঞ্জিনের তৎপরতায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। কিন্তু ততক্ষণে সবটাই শেষ।
এদিন ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন উত্তর দমদম পুরসভার প্রধান বিধান বিশ্বাস। বেশ কয়েকজন পুর প্রতিনিধিদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। ব্যবসায়ীদের অকাল পরিণতি দেখে পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর কথায়, ‘আমরা ওদের পাশে রয়েছি। এই বাজার পুরসভার অন্তর্গত, আমরা অবশ্যই ওদের দেখব। চেষ্টা করব পুনর্বাসন দেওয়ার।’ পাশাপাশি, গোটা দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours