গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে কী ঘটেছিল, তা স্মরণ করে দন্তচিকিৎসক মুসায়েভ জানান, বিমানের মধ্যে চিৎকার ও চিকিৎসকের জন্য আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। স্মিতের শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। রক্তপাত বন্ধ করতে নিজের কাছে থাকা একাধিক টি-শার্ট দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেন তিনি।


 বিশ্বজুড়ে তাঁকে নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাধারণ মানুষ থেকে রাষ্ট্রনেতারা। তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সহকারী পাইলটের ছুরির আঘাতের পরও সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। সেই সময় বিমানে থাকা এক দন্তচিকিৎসক তাঁর রক্তপাত বন্ধ করে প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে সেই লড়াই। স্মিতকে বারবার ওই দন্তচিকিৎসক বলেছিলেন, “দয়া করে ঘুমিয়ে পড়বেন না, আমাদের আপনাকে প্রয়োজন।” সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৪৭ বছর বয়সি দন্তচিকিৎসক শোটা মুসায়েভ। তাঁর কথায়, স্মিতের মাথা ও বাঁ হাতে গভীর ক্ষত ছিল। প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল।


মুসায়েভ বলেন, “আমি ওঁকে বলেছিলাম, দয়া করে ঘুমিয়ে পড়বেন না, আমাদের আপনাকে প্রয়োজন। ওঁর কতগুলি সন্তান রয়েছে, তাদের নাম কী, সেসব জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বারবার বলছিলাম, ভয় পাবেন না। আপনি পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই অবতরণ করব।” ওই দন্তচিকিৎসক আরও জানান, স্মিত তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি ভারত থেকে এসেছেন।


‘নাড়ির গতি অত্যন্ত কমে গিয়েছিল, ঠোঁট নীল হয়ে যাচ্ছিল’


গত সপ্তাহে দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে কী ঘটেছিল, তা স্মরণ করে মুসায়েভ জানান, বিমানের মধ্যে চিৎকার ও চিকিৎসকের জন্য আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। স্মিতের শরীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। রক্তপাত বন্ধ করতে নিজের কাছে থাকা একাধিক টি-শার্ট দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেন তিনি। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বরফ চেয়ে পাঠান।

মুসায়েভের কথায়, “ওঁর ক্ষতগুলি খুব গভীর ছিল। অনেকগুলি বরফের প্যাকেটের প্রয়োজন হয়েছিল। কিন্তু রক্তপাত কতটা হচ্ছে, তা দেখতে যখনই টি-শার্ট সরাচ্ছিলাম, তখনই আরও রক্ত বেরিয়ে আসছিল। তাই খুব জোরে না চেপে বরফ দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরেছিলাম। টানা ৪৫ মিনিট এভাবেই চাপ দিয়ে রেখেছিলাম।”

সেই সময় স্মিতের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছিল। দন্তচিকিৎসক জানান, একসময় তাঁর নাড়ির গতি অত্যন্ত কমে যায়। তখন স্মিতের পা দু’টি উপরে তুলে ধরেন তিনি। তাতে নাড়ির গতি ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করে। মুসায়েভ বলেন, “একসময় দেখলাম, ওঁর ঠোঁট নীল হয়ে যাচ্ছে। তখন বিমানকর্মীকে বলেছিলাম, যত দ্রুত সম্ভব বিমান অবতরণ করাতে হবে। ওঁর হাতে আর বেশি সময় নেই।”

‘আমাকে সাহায্য করুন’, স্মিতের আর্তি মনে রেখেছেন দন্তচিকিৎসক-

এর আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন মুসায়েভ। তাঁর কথায়, ছুরির আঘাতে জখম হওয়ার পর স্মিত তাঁর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। মুসায়েভ বলেন, “আমি ওঁকে বলেছিলাম, সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন উনি আমাকে বলেছিলেন, ‘দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। আমাকে বাঁচান। আমি এখানে মরতে চাই না।’”

ভবিষ্যতে স্মিতের সঙ্গে আবার দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন ওই দন্তচিকিৎসক। তাঁর কথায়, স্মিত নিজে আহত হয়েও বিমানের যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা হলে কৃতজ্ঞতা জানাতে চান তিনি। মুসায়েভ বলেন, “আমরা ওঁকে বলব, সবকিছুর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।”


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours