প্রজাদের মঙ্গল কামনায় জমিদাবাবু হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীর অদূরে শুরু করেছিলেন দুর্গাপূজা। নিজের জমিতে দুর্গামন্দির স্থাপন করেছিলেন। তারপর পুজো শুরু। বর্তমানে জমিদারি নেই। সে বাড়ির বংশধরেরাও সেখানে থাকেন না। কিন্তু জমিদারের প্রজারা স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে দুর্গাপুজোর ভার নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পুজো চলছে মহাসমারোহে।


জমিদারের প্রজাদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও এখন পুজোয় যুক্ত হয়েছেন। এভাবেই নামখানা ব্লকের নারায়ণপুরে প্রথম ঘেরির দুর্গাপুজো সার্বজনীন হয়ে ওঠে। একসময় নামখানা ব্লকের নারায়ণপুর ছিল জঙ্গলে ঘেরা। কোনো জনবসতি ছিল না। তখন জমিদার ধনঞ্জয় গায়েন জঙ্গল কেটে লাট পত্তন করেছিলেন। জঙ্গল কাটার আগে বিশালাক্ষী দেবীর পুজো করা হয়েছিল। 


কারণ তখন সুন্দরবনের ওই এলাকায় বাঘের ভয়ঙ্কর দাপট। বিশালাক্ষী দেবীর বাহন হল বাঘ। তাই বাঘের হাত থেকে বাঁচতে বিশালাক্ষী দেবীর পুজো শেষ করে কুড়ুল দিয়ে প্রথমেই গাছের গায়ে কোপ মারা হয়েছিল। তারপর জমিদার ধনঞ্জয় জমি দান করেন কিছু মানুষকে। তাঁরাই হয় প্রজা। তাঁরা বসতি স্থাপন করেন। তারপর জমিদারি যায় ধনঞ্জয়ের পুত্র নারায়ণ গায়েনের হাতে। তাঁর নাম অনুসারেই অঞ্চলের নাম হয় 'নারায়ণপুর'।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours