বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে ২৭৫ ভোট পাবে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়কও বিজেপির পক্ষেই হাত তুলবেন। এমনটাই দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এদিকে, তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক চাপান-উতর শুরু হয়েছে। পাল্টা আক্রমণ করেছে মমতা তৃণমূল ও সিপিআইএম। 


 মুখ্যমন্ত্রীর বড় চ্যালেঞ্জ। বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হলে ২৭৫ ভোট পাবে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়কও বিজেপির পক্ষেই হাত তুলবেন। এমনটাই দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এদিকে, তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক চাপান-উতর শুরু হয়েছে। পাল্টা আক্রমণ করেছে মমতা তৃণমূল ও সিপিআইএম।


কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে বিজেপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভর করে জেতেনি। সনাতনীদের সরকার গঠন হয়েছে। ৪৯ বছরের আবর্জনা তো ৬ মাসে পরিষ্কার করা যাবে না। তিনি বলেন, “সজল ঘোষ জিতেছে কি সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে? বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। কাল যদি ফ্লোর টেস্ট করান, তাহলে আমি ২৭৫টা ভোট পাবো। ওদের মধ্যে ৬৪ জনও তো আমার পক্ষে হাত তোলার জন্য বসে আছে। ন্যারেটিভ সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে নয়, আমাদের সনাতনীদের সরকার গঠন হয়েছে। আমরা যা করার করব। ৪৯ বছরের আবর্জনা আপনি তো ৬ মাসে পরিষ্কার করতে পারবেন না। মানুষ ভরসা করেছে, পরিবর্তন হবে।”


লাখ লাখ টাকার বই বিক্রির হিসেব দিল দল বামেরা
বিরোধীরা কী বলছে?
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই মমতা-তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা যা যা বলেছি, উনি তা প্রমাণ করে দিলেন। কিছু বিধায়ককে রেখেছেন, আমরা বলছি, এরা বিজেপির বি টিম। আমরা বলছি বিধানসভার বিরোধী দল বিজেপির দালাল। মুখ্যমন্ত্রী নিজের কথাতেই তা প্রমাণ করে দিলেন।”


এদিকে, ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান এর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাদের যদি উনি ধরে থাকেন, আমরা বিজেপিকে কোনওদিন সমর্থন করব না। আমাদের আইডেন্টিটি, লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। সেহেতু বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না।”

অন্যদিকে, সিপিআইএমের নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “আদালত বলে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রোবেশনারি বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যকে আমরা আদালতের নোটিসে আনব। শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে প্রমাণ হিসাবে ধরে যেন বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি সরে যায় এবং শাসক বিধায়ক হিসাবে ধরা হয়। সত্যিকারের বিরোধী বিধায়কদের মধ্যে থেকে যেন বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া হয়। এই দাবি নিয়ে আমরা আদালতে যাব। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে রেকর্ড হিসাবে পেশ করব।”

কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিরোধীকে একেবারে শূন্য করে দেওয়ার যে রাজনীতি, সেটা করছে। তৃণমূল বিরোধী শূন্য করত, এরা একেবারেই শূন্য করে দেওয়ার রাজনীতি করছে। এই রাজনীতিটা গণতন্ত্রের জন্য খুব একটা সুখকর নয়।”

২৭৫ সমর্থনের দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির ২০৯ বিধায়ক। বিরোধী ঋতব্রত শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক থাকলেও, দুইজনের সমর্থন কম হচ্ছে। তাহলে এই দুইজন বিধায়ক কে, যারা বিজেপিকে সমর্থন করবে? এই নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্র বলেন, “রাজ্যে নির্বাচন হয়, তারপর কেউ ক্ষমতায় আসে, ২০৯টি আসন তারা পেয়েছেন। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বলে একে। তারপর এই নিয়ে আলোচনা হবে কেন? এই যে অঙ্ক এবং সেই অঙ্কের নিরিখে আদালতের কাছে ব্যবস্থা নেওয়া-এই বিষয়গুলি একদম মিলছে। একটা মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজে, খাবার খায়, পড়াশোনা করে, অফিস যায়। সেখানে কেউ একজন যদি ঘুম থেকে উঠে বলে আমি ডিগবাজি খাব। তাহলে সমাজ যেদিকে যায়, এই তৃণমূল-বিজেপি সেটাই করছে।”


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours