রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০১১ সালে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথম গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাগরদ্বীপে পা রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর নিরাপদ থাকা এবং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্যই জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে প্রায় দুই কোটি কুড়ি লক্ষ টাকা ব্যয়ে সাগরের বুকে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি সুদৃশ্য শাল কাঠের বাংলো। স্থানীয় সচেতন মহলে এটি ‘মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের কাঠের বাংলো’ হিসেবে সমাদৃত। পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা ইকো-টুরিজমের বিকাশ এবং সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতেই ইট-কংক্রিটের পরিবর্তে উন্নতমানের টেকসই শাল কাঠ দিয়ে এই নান্দনিক কটেজটি ডিজাইন করা হয়েছিল। একসময়ের এই ব্যস্ত প্রশাসনিক ও পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু আজ দীর্ঘকাল ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে বেওয়ারিশ ও বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সৈকত সংলগ্ন এলাকায় তীব্র সমুদ্র ভাঙনের জেরে বাংলোটির সামনের দিকে মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যেভাবে সমুদ্রের ভাঙন বাড়ছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি এই ঐতিহাসিক কাঠামোটি পুরোপুরি সমুদ্রের গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি এভাবে চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলে এই ঐতিহ্যবাহী পরিকাঠামোটিকে রক্ষা করার জন্য এখন জোরালো দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours