পুজোয় ঠিক আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান জনমুখী ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলো। সোমবার নবান্ন সভাঘর থেকে এই বর্ধিত ভাতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের এই রাজ্যস্তরীয় সূচনার পাশাপাশি সুন্দরবনের সাগর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) অফিস থেকেও অত্যন্ত গুরুত্ব ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
এদিনের এই ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মারফত মোট ৮২ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন উপভোক্তা এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন ২০ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৮৯ জন এবং নারী ও শিশু বিকাশ ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে ভাতা পেয়েছেন ৬১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২৩০ জন। মূলত সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই তিন ভাতার ক্ষেত্রে মাসিক ১ হাজার টাকার পরিবর্তে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বয়স বাড়িয়ে বার্ধক্য ভাতা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শুধু ভাতা দেওয়া সরকারের কাজ হতে পারে না, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের হাতেই সমস্ত সাহায্য পৌঁছে দেওয়া সুনিশ্চিত করা হবে। এছাড়া বহু জায়গায় পুরুষদের অ্যাকাউন্টে ভুলবশত বিধবা ভাতার টাকা ঢুকে যাওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে তবেই নতুনভাবে দেওয়া হবে। বিগত সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সমস্ত পুরানো ও ত্রুটিপূর্ণ ওয়েটিং লিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার কথাও জানান তিনি।
যাতে কোনও প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তা এই সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য আগামী দিনে পঞ্চায়েত স্তরে দুদিনের বিশেষ 'জনকল্যাণ শিবির' করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে বাদ পড়া বা বঞ্চিত যোগ্য ব্যক্তিরা আবেদন জানানোর সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বা অন্যায়ভাবে এতদিন ভাতা ভোগ করে আসছেন, তাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বইচ্ছায় সেই সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার বা 'সারেন্ডার' করার আহ্বান জানান। সাগর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অফিসে এদিনের এই প্রশাসনিক সূচনা পর্বকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উপভোক্তারা এই বর্ধিত ভাতা পাওয়ার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সরকারের এই পদক্ষেপে উপকূলীয় এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours