পেটের টানে ভিনরাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের এক যুবকের। কেরালায় কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭ বছরের পরিযায়ী শ্রমিক সুব্রত ভূঁইয়ার।
গঙ্গাসাগরের মনসা দ্বীপ এলাকার এই বাসিন্দার আকস্মিক প্রয়াণে শুধু তাঁর পরিবারই নয়, গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। সেই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, পেটের দায়ে এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে বিগত প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছিলেন সুব্রত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হিসেবে সংসার টানতে তাঁকে বারবার ভিনরাজ্যের পথে পা বাড়াতে হতো। গত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পরেই তিনি কেরালার তালেশ্বরী এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি নিয়মিত কাজও করছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
কিন্তু কে জানত যে এই যাত্রা তাঁর শেষ যাত্রা হয়ে থাকবে! কর্মস্থলে থাকাকালীন হঠাৎই গুরুতর অসুস্থ বোধ করেন সুব্রত ভূঁইয়া। তাঁর আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখে স্থানীয় সহকর্মীরা আর সময় নষ্ট না করে তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। এরপর চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে দ্রুত আইসিইউতে স্থানান্তরিত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার মাত্র দু-একদিন পরেই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদ এসে পৌঁছায় গঙ্গাসাগরের মনসা দ্বীপের বাড়িতে। হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর বাড়িতে এসে পৌঁছতেই শোকে পাথর হয়ে যায় পরিবারটি। সুব্রতের পিছনে রয়েছেন তাঁর শোকস্তব্ধ স্ত্রী এবং দুই নাবালক ছেলে। রুটি-রুজির সন্ধানে ভিনরাজ্যে যাওয়া যুবকের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার-পরিজনরা। কয়েকদিন পর যখন কেরালার ওই কর্মস্থল থেকে তাঁর কফিনবন্দি দেহ শেষবারের মতো গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন গোটা এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিজনদের আর্তনাদ এবং সমবেত প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে মনসা দ্বীপের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় স্থানীয় স্তরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।ৎবারবার কেন ভিনরাজ্যে গিয়ে এভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের বেঘোরে প্রাণ হারাতে হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। সরকারি সহায়তা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষার দাবি তুলে সরব হয়েছেন তাঁরা।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours