সময়ের আগেই শৈশব ও কৈশোর কেড়ে নেওয়ার মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি বাল্যবিবাহকে সমাজ থেকে চিরতরে নির্মূল করতে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের ঐতিহ্যবাহী খান সাহেব আবাদ উচ্চতর বিদ্যালয়ে আয়োজিত হলো এক সুবৃহৎ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সচেতনতামূলক শিবির।
মূলত ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের আইনবিরুদ্ধ বিয়ে এবং এর ফলে সৃষ্ট কম বয়সে গর্ভধারণের মতো মারাত্মক শারীরিক জটিলতা ও ঝুঁকি রোধ করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রশাসনের শীর্ষমহলের নির্দেশক্রমে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও সচেতনতা লক্ষ্য করা যায়। এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক শিবিরটিকে সর্বাঙ্গীন সফল করে তুলতে উপস্থিত ছিলেন একদল বিশিষ্ট প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য আধিকারিক। সাগর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) অনন্ত কুমার গোস্বামী, সাগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ নায়েক এবং সাগর গ্রামীণ হাসপাতালের ব্লক মেডিক্যাল অফিসার অফ হেলথ (বিএমওএইচ) ডা. তন্ময় ঘোষের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রা পায়।
এছাড়াও এদিনের এই বিশেষ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সাগর থানার অন্যান্য দক্ষ পুলিশ আধিকারিকেরা, গ্রামীণ হাসপাতালের সিনিয়র নার্সবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীরা। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী ও কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।প্রশাসনিক আধিকারিক ও চিকিৎসকরা অত্যন্ত সহজ, সাবলীল এবং মনস্তাত্ত্বিক ভাষায় ছেলেমেয়েদের সামনে তুলে ধরেন কেন ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কীভাবে অল্প বয়সে বিয়ে বা মাতৃত্ব একজন কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে চিরতরে থামিয়ে দেয়, তা বিস্তারিতভাবে তাদের সামনে আলোচনা করা হয়।খোলামেলা এই আলোচনার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের মনে সচেতনতার বীজ বুনে দেওয়া হয়, যাতে তারা নিজেদের পাশাপাশি সমাজকেও এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে।সবমিলিয়ে, গঙ্গাসাগরের এই স্কুল প্রাঙ্গণের সচেতনতামূলক শিবিরটি কেবল একটি সাধারণ প্রশাসনিক বৈঠক বা সভা হয়ে থাকেনি, বরং সরাসরি বার্তা ও ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে এটি হয়ে উঠেছিল এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার এক সুরক্ষিত অঙ্গীকার নেওয়ার মঞ্চ। এদিনের এই সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী উদ্যোগকে একবাক্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সমস্ত সচেতন নাগরিক ও অভিভাবক মহল।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours