জয়শঙ্কর বলেন, “বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে একসঙ্গে চলতে পারে না।” সন্ত্রাসবাদের মতো কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি বোঝাপড়াগুলিও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে জানান তিনি। বিদেশমন্ত্রীর কথায়, সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নেওয়া পক্ষকেই নিজেদের আচরণ বদলাতে হবে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ফের কড়া বার্তা দিল ভারত। শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম আপস করা যাবে না। যে সমস্ত সরকার সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয় বা কোনওভাবে সাহায্য করে, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে দাবি জানান।


বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া রাষ্ট্রগুলিকে দায়ী করতে হবে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানোর যে নেটওয়ার্ক রয়েছে, সেগুলিও চিহ্নিত করে ভেঙে দিতে হবে। সন্ত্রাসবাদের আর্থিক দিকটি প্রকাশ্যে আনা এবং তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি।”

এটিও পড়ুন
বাংলাদেশে ড্রামের ভিতরে মিলল হিন্দু ব্যবসায়ীর দেহ! দেখে তসলিমার প্রশ্ন, 'হিন্দুকে কি মেরে ফেলবে?'
Nandigram: ২০০৭-র মামলায় ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা, নেতাদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ-বাহিনী
Ranbir-Alia: 'বহুত বোল রাহা হ্যায় তু', আলিয়ার কোমর জড়িয়ে কার দিকে আঙুল তুললেন রণবীর?
নাম না করে পাকিস্তানকে নিশানা?
বক্তব্যে সরাসরি পাকিস্তানের নাম না নিলেও বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের মন্তব্য যে প্রতিবেশী দেশের প্রসঙ্গেই ছিল, তা স্পষ্ট। শুক্রবারও তিনি বলেছিলেন যে ‘সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিক অনুশীলনকারী’ রাষ্ট্রপুঞ্জের সামনে তথ্যকে ভুলভাবে তুলে ধরেছেন।


জয়শঙ্করের অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখানোর এবং তার পরিণতি থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারত তা মেনে নেবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে।”

‘সন্ত্রাসবাদ ও বন্ধুত্ব একসঙ্গে চলতে পারে না’-
সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টিও জুড়ে দেন জয়শঙ্কর। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “কোনও দেশ যদি সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে, তাহলে সেই দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আগের মতো চলতে পারে না।”

জয়শঙ্কর বলেন, “বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে একসঙ্গে চলতে পারে না।” সন্ত্রাসবাদের মতো কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে তৈরি বোঝাপড়াগুলিও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে জানান তিনি। বিদেশমন্ত্রীর কথায়, সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নেওয়া পক্ষকেই নিজেদের আচরণ বদলাতে হবে।

প্রসঙ্গত, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, সীমান্তে সন্ত্রাসবাদকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থেকে আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। যে দেশগুলি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সমর্থন, অর্থ বা নিরাপদ আশ্রয় দেয়, তাদেরও দায়বদ্ধ করতে হবে বলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাবি করে আসছে নয়াদিল্লি।


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours