মমতার দাবি, রাজনীতির শিকার হয়ে দুটি নামজাদা প্রকাশনা সংস্থা নাকি তাঁর লেখা বইয়ের রয়্যালটির টাকা আটকে দিয়েছে! যেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বইয়ের রয়্যালটি ও আঁকা ছবির আয় থেকেই তাঁর সংসার চলত, সেখানে এই বকেয়া রয়্যালটি বিতর্ক ফের এক মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সাধারণ পাঠক ও সাহিত্য সমাজকে— আদতে কী এই 'রয়্যালটি'? এটি কীভাবে কাজ করে এবং লেখক ও প্রকাশকের আইনি বা নৈতিক সম্পর্কটাই বা ঠিক কী?
রয়্যালটির টাকায় নাকি সংসার চলে মমতার! কী এই রয়্যালটি? কত টাকা পাওয়া যায়?
আকাশ মিশ্র
সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক বিস্ফোরক অভিযোগে বইপাড়া থেকে রাজনৈতিক অলিন্দ— সর্বত্র নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে ‘বইয়ের রয়্যালটি’ (Book Royalty)। মমতার দাবি, রাজনীতির শিকার হয়ে দুটি নামজাদা প্রকাশনা সংস্থা নাকি তাঁর লেখা বইয়ের রয়্যালটির টাকা আটকে দিয়েছে! যেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বইয়ের রয়্যালটি ও আঁকা ছবির আয় থেকেই তাঁর সংসার চলত, সেখানে এই বকেয়া রয়্যালটি বিতর্ক ফের এক মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সাধারণ পাঠক ও সাহিত্য সমাজকে— আদতে কী এই ‘রয়্যালটি’? এটি কীভাবে কাজ করে এবং লেখক ও প্রকাশকের আইনি বা নৈতিক সম্পর্কটাই বা ঠিক কীরকম?
সহজ কথায়, কোনও লেখকের সৃষ্ট মেধা স্বত্ব (Intellectual Property) যখন কোনও প্রকাশক বাণিজ্যিকভাবে ছেপে বিক্রি করেন, তখন প্রতি কপি বিক্রির বিপরীতে যে নির্দিষ্ট শতাংশ টাকা লেখক লাভ করেন, সেটাই রয়্যালটি। কিন্তু এই ব্যবস্থা একদিনে গড়ে ওঠেনি। অতীতে এই খাতাটি ছিল অত্যন্ত অসংগঠিত। জানা যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই চরম জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর সময় চিকিৎসাসঙ্কট ও চরম আর্থিক অনটনে কেটেছে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ভুগেছেন অর্থকষ্টে! সে যুগে অনেক সময় লেখকদের থেকে এককালীন (Lump sum) কিছু টাকায় পাণ্ডুলিপি কিনে নেওয়া হতো।
আরবিআই-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ঈশান কিষান, জানেন কত বেতন পান ভারতীয় তারকা ব্যাটার?
ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৪৪০-এর দশকে জোহানেস গুটেনবার্গের ছাপাখানা উদ্ভাবনের আগে ও ঠিক পরে লেখকদের আয়ের কোনও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। লেখকরা মূলত রাজা, জমিদারি কিংবা বিত্তশালীদের অনুদানের ওপর নির্ভর করতেন। ছাপাখানা আসার পর প্রকাশকরা লেখকদের কাছ থেকে খুব সামান্য মূল্যে পাণ্ডুলিপিটি চিরতরে কিনে নিতেন । বই ছাপিয়ে প্রকাশক প্রচুর লাভ করলেও লেখক আর এক পয়সাও পেতেন না। ১৭১০ সালে ব্রিটেনে ‘স্ট্যাটিউট অব অ্যান’ (Statute of Anne) পাস হয়, যা বিশ্বের প্রথম মেধা স্বত্ব বা কপিরাইট আইন হিসেবে পরিচিত। এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয় যে— একটি লেখার আসল স্বত্ব বা মালিকানা লেখকের, কোনও ছাপাখানা বা প্রকাশকের নয়। এই আইনটিই পরবর্তীতে রয়্যালটি ব্যবস্থার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours