কিন্তু কোনওরকম সদর্থক পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের তরফে করা হয়নি। যে কারণে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া এই তিন জেলায় সবথেকে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে।সম্প্রতি, উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত পরিদর্শনে এলে তাঁকে পঞ্চায়েত প্রধান এবং বিগত প্রশাসনকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি বিএসএফ কর্তারা তাঁকে জানান।
অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশ থেকে ঢোকাত কারা জানেন? BSF-খুঁজে পেল 'সর্ষের মধ্যেই ভূত'
বিএসএফ
অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিতে পঞ্চায়েত প্রধানদের ভূমিকা নিয়ে বিগত তৃণমূল সরকারকে বারবার চিঠি বিএসএফের (BSF), উদাসীন বিগত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অমিত শাহকে অভিযোগ বিএসএফ কর্তাদের। জানা যাচ্ছে, একবার বা দু’বার নয়, অন্তত পাঁচবার বিএসএফের (BSF)-এর তরফে বিগত প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির পঞ্চায়েত প্রধানদের ভূমিকা নিয়ে।
বিএসএফ সূত্রে খবর, অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার জন্য এই পঞ্চায়েত প্রধানরা সই করতেন ফর্মে। বিগত পাঁচ বছরে যতজন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছেন, তাঁদের ৭৫ শতাংশের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভোটার কার্ড অথবা আধার কার্ড। কীভাবে এই কার্ড তাঁরা বের করেছে, সেই তদন্ত করতে গিয়েই পঞ্চায়েত প্রধানদের সইয়ের বিষয়টি উঠে আসে। এরপরই বিএসএফের তরফে রাজ্য প্রশাসনকে এবং পুলিশ প্রশাসনকে পঞ্চায়েত প্রধানদের এই কর্মকাণ্ড জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বিএসএফের তরফে বলা হয়েছিল।
কোথায় দাঁড়িয়ে নিম্নচাপ? কী বলছে আবহাওয়া দফতর?
কিন্তু কোনওরকম সদর্থক পদক্ষেপ রাজ্য প্রশাসনের তরফে করা হয়নি। যে কারণে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া এই তিন জেলায় সবথেকে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে।সম্প্রতি, উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত পরিদর্শনে এলে তাঁকে পঞ্চায়েত প্রধান এবং বিগত প্রশাসনকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি বিএসএফ কর্তারা তাঁকে জানান।
রাজ্যে পালা বদলের পর পঞ্চায়েত প্রধানদের সই এবং আনুষঙ্গিক বেশ কিছু ক্ষমতা বিল এনে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিএসএফ সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির পঞ্চায়েত প্রধানদের একাংশ আর্থিকভাবে সব থেকে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে এই প্রধানদের একাংশ সচেষ্ট হয়েছে বারবার।
বিষয়টি বিস্তারিত এবং উদাহরণ দিয়ে বিগত রাজ্য প্রশাসনকে জানানো হলেও ভোট ব্যাংকের কারণেই চুপ থেকেছে তৃণমূল শাসিত প্রশাসন, এমনই দাবি বিএসএফ কর্তাদের একাংশের।
BSF এর তথ্য – গত ৩ বছরের হিসাব
পশ্চিমবঙ্গের হিসাব-
২০২৩: ১,১৮১ জন
২০২৪: ১,৫১৬ জন
২০২৫: ১৩৮৪ জন
২০২৬: ৮৭৯ জন
এর মধ্যে দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার এলাকায় ৩ হাজার ৯৮৪টি কেস এবং উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার এলাকায় ৯৭৬টি কেস
একটি হিসাবও দেওয়া হয়েছে বিএসএফ-এর তরফে। ২০২৪-২০২৫ এর কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা 1. নভেম্বর ২০২৫: বসিরহাটে সীমান্তে মাত্র ৩ দিনে ৮৯ জন বাংলাদেশি আটক। এর মধ্যে ২ নভেম্বর ৩ জন ও ১ নভেম্বর ১৫ জন 2. ফেব্রুয়ারি ২০২৪: নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে BSF ৭ জন বাংলাদেশি ও ৩ জন ভারতীয় দালালকে ধরেছে 3. জানুয়ারি ২০২৪: BSF ১৩ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে পুশব্যাক করেছে ও ৩ জন গরু পাচারকারিকে ধরেছে 4. এপ্রিল ২০২৪: মালদহতে ৩ জন বাংলাদেশি ধরা পড়ে 5. অক্টোবর ২০২৪: মুর্শিদাবাদে ৩ জন ধরা পড়েছেন। অগস্টে একই জেলায় ৪ জন ধরা পড়েছিল।
প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন,”এটা ঠিক বাংলাদেশের লোক এখানে থাকবে কেন? যার ভিসা আছে সে থাকবে। কারা বেআইনি ভাবে আছে সেটা নিশ্চয়ই বিএসএফ-এর কাছে আছে। সেই তথ্য দিক।” দোলা সেন বলেন, “এখন তো ডাবল ইঞ্জিন গর্ভমেন্ট। তাই পুরনো সরকারকে দোষ দিয়ে লাভ কী?”


Post A Comment:
0 comments so far,add yours