বিয়েবাড়ি ভাড়া দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন, তৃণমূল তো ছাড়ছেই না! আশঙ্কায় আদালতে ছুটছেন মেট্রোপলিটনের ওই বাড়ির মালিক
তৃণমূল ভবন
বাইপাসের ধারে মেট্রোপলিটনে বিশাল বাড়ি। পেল্লায় গেট, পাঁচিল ঘেরা, কাচের জানালা দেওয়া সাজানো ফ্লোর। সম্পত্তির মূল্য যে অনেকটাই, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আর সেই সম্পত্তি নিয়েই বিপাকে পড়েছেন বাড়ির মালিক। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়িটি পার্টি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে চুক্তি হলেও সেই বাড়ি নিয়ে এবার নতুন বিপত্তি। দুই তৃণমূলের মধ্যে টানাটানি। আর তাতেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন মন্টু সাহা।
এবার আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তৃণমূল ভবনের মালিক মন্টু সাহা ওরফে মনোতোষ সাহা। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিজের সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ করতে পারেন মন্টু সাহা। শুক্রবার সকাল থেকে তৃণমূল ভবনের অধিকার নিয়ে টানাপোড়েনের পর রাতে প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্টু সাহার ছেলে অমিত সাহা।
চন্দ্রচূড় সিংয়ের বাড়ির দিকে ধেয়ে এল বুলডোজার! আচমকা কী ঘটল অভিনেতার সঙ্গে?
ঠিক কী অভিযোগ?
কালীঘাটপন্থী তৃণমূল জুলাই মাসে মেট্রোপলিটনের বাড়ি খালি করে দেবে বলেছিল। কিন্তু ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল নতুন করে মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন অভিযোগ সামনে আসতেই বাড়ির মালিকের চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে। চুক্তি খেলাপি করা হচ্ছে তৃণমূলের তরফে, এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের দ্বারস্থ হতে চলেছেন তাঁরা।
মালিকের অভিযোগ, এই বাড়ি নেওয়ার সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল চুক্তিতে। সেই চুক্তির বয়ান অনুযায়ী কাজ করছে না তৃণমূল। তাঁর অভিযোগ দুই তৃণমূলের বিরুদ্ধেই। এই ভবনের বাড়ি দেওয়ার সময় যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে সই করেছিলেন তৎকালীন মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। আবার সেই ফিরহাদ হাকিম এখন তৃণমূলের নতুন ব্লকে জায়গা পেয়েছেন।
স্বাভাবিকভাবেই যে বাড়িটিকে নিয়ে বিয়েবাড়ি ভাড়া দেওয়া বা অন্য কাজে ভাড়া দেওয়ার চিন্তা করে রেখেছেন মন্টু সাহা, সেটা নতুন করে দখল এবং পুনর্দখলের রাজনীতি শুরু হওয়ায় চিন্তিত বাড়ির মালিক।
ভবন ঘিরে যা ঘটেছে…
শুক্রবার আচমকাই মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের কার্যালয়ে পৌঁছে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সঙ্গে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান। তাঁদের দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল। তাই অফিসও তাঁদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পাশে চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের ছবি দেওয়ার ব্যানারও লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছয় পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টার পর ধীরে ধীরে ঋতব্রতপন্থীরা কার্যালয় ছাড়েন। গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে যান। ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে মেট্রোপলিটনে পৌঁছয় কালীঘাট তৃণমূল। তালা খুলে দখলমুক্ত করতে যান কুণাল ঘোষরা। পরে ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কুণাল ঘোষরা।


Post A Comment:
0 comments so far,add yours