কুণালের মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়ল না গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "এটা ওদের ঘরের বিষয়। যা ইচ্ছা বলতেই পারে। ঋত অথবা মৃত, কোনও তৃণমূল নিয়ে আমাদের কোনওরকম মাথাব্যথা নেই।"


হঠাৎ করে নন্দীগ্রাম নিয়ে 'বেসুরো' কুণাল, নিজের দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন
কী বললেন কুণাল ঘোষ?
 তিনি একসময় নন্দীগ্রামে তৃণমূলের দায়িত্বে ছিলেন। তবে ছাব্বিশের নির্বাচনের সময় সেই দায়িত্বে তিনি ছিলেন না। এই নিয়ে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের আগে দলের বিরুদ্ধেই একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একাধিক নেতার নাম নিলেন। আইপ্যাকের কথাও উল্লেখ করলেন। বললেন, “ক্ষতি করার জন্য আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে।”


কী বললেন কুণাল ঘোষ?

 ৭ বছর পর ভারতে শি জিনপিং, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে
বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তৃণমূল। তবে এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন কুণাল। তারপরও এদিন নন্দীগ্রাম নিয়ে দলের বিরুদ্ধে সরব হলেন তিনি। বললেন, “নন্দীগ্রামে যদি তৃণমূলের খারাপ অবস্থা হয়ে থাকে, বাস্তব কথা হচ্ছে, ওটা শুভেন্দু অধিকারীর যতটা না কৃতিত্ব, আমাদের কিছু বিশিষ্ট নেতৃত্ব, যাঁরা কলকাতায় বসে ভেবেছিলেন, অঙ্গুলিহেলনে তাঁরা সব জেলা চালাবেন। নন্দীগ্রামটা নন্দীগ্রামের কর্মীরা যথেষ্ট গুটিয়ে এনেছিলেন। তার ক্ষতি করার জন্য আমাদের আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে।”


এরপরই একাধিক নেতার নাম নিয়ে কুণাল বলেন, “রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, তন্ময় ঘোষ, প্রার্থী তাঁরা করেছিলেন। তাঁরা বুঝবেন। যতদিন আমার হাতে দায়িত্ব ছিল, আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করেছি। পজিটিভ দিকে আসছিল। এবং তারপর যদি কারও মনে হয়ে থাকে, বিনা নোটিসে কুণাল ঘোষকে সরিয়ে দিয়ে বিশিষ্ট জননেতাদের সেখানে পাঠিয়েছেন। তাঁরা বুঝবেন। হঠাৎ আমাকে কিছু না বলে আইপ্যাক এবং অন্য কেউ বসে পৃথিবীর সমস্ত কিছু বুঝে গিয়েছেন, তাহলে তাঁদের কৈফিয়ত দেওয়া উচিত কেন দুর্বল।” কিন্তু, সেই নেতাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠিয়েছিলেন? প্রশ্ন শুনে কুণালের জবাব, “সেইসব বলার সময় এখনও আসেনি। কিছু সময় বাকি থাক।”

কী বললেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়?

কুণালের মন্তব্য নিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নন্দীগ্রামে আমাকে কোনওদিন নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়নি। বরং কুণালদা আমাকে দু-একবার নিয়ে গিয়েছিলেন সভা করার জন্য। পরবর্তীকালে লোকসভা নির্বাচনের সময় তমলুকের লোকসভার প্রার্থীকে সাহায্য করার জন্য যেটুকু আমি গিয়েছি। কুণালদাকে স্মরণ করিয়ে দিই, দল আমাকে যখন যতটুকু নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে, আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি।”

জবাব দিলেন তন্ময় ঘোষ-

কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, “আমি যতদূর মনে করতে পারছি, বিষয়টা কোনওদিন এমনটা ছিল না। যখন পূর্ব মেদিনীপুরের দায়িত্বে আমি ছিলাম, তখন পঞ্চায়েত-সহ ওখানকার ফল দেখতে পারেন। পরে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। নন্দীগ্রাম কুণালদা দেখতেন। নন্দীগ্রামে দল কুণালদাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর আমি ওখানে কাজ করিনি।”

কুণালের মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়ল না গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “এটা ওদের ঘরের বিষয়। যা ইচ্ছা বলতেই পারে। ঋত অথবা মৃত, কোনও তৃণমূল নিয়ে আমাদের কোনওরকম মাথাব্যথা নেই। কারণ, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে তৃণমূল গৃহীত, পরীক্ষিত এবং পরিত্যক্ত বিষয়।”


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours