লরিটিকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই পাচারকারীকেও তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। পরে নাটকীয়ভাবে কোতুলপুর নেতাজী মোড়ে ওই বিজেপির মন্ডল সভাপতির হাতেই ধরা পড়ে লরি থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও চার পাচারকারী।


সাঁই সাঁই করে ছুটে আসছিল ট্রাক, ফিল্মি কায়দায় বাইক নিয়ে দাঁড়ালেন বিজেপি নেতা, ডালা খুলতেই বেরিয়ে এল...
গরু পাচার রুখে দিলেন মন্ডল সভাপতি।

হলগরু পাচারের খবর আসতেই দ্রুত সেই খবর দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিয়েছিল পাচারকারীরা। তবে শেষ রক্ষা হল না। বিজেপির মন্ডল সভাপতি কার্যত ফিল্মি কায়দায় বমাল সমেত পাচারকারীদের হাতেনাতে ধরে তুলে দিলেন পুলিশের হাতে। ঘটনাটি বাঁকুড়ার কোতুলপুরের।


সরকারি নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত গরুর হাট বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে গরু কেনাবেচাও। তা সত্ত্বেও গোপনে বাঁকুড়ার কোতুলপুর থানার দেশড়া কোয়ালপাড়া অঞ্চলের পুয়োলগেড়ে গ্রাম থেকে প্রায়শই গরু পাচার হচ্ছে। এমন খবর আসছিল বিজেপির স্থানীয় কোতুলপুর মন্ডল নেতৃত্বের কাছে।


প্রধান শিক্ষককে মারধর করে আটক ১, স্কুলে গিয়ে অভিযুক্ত ৪ ছাত্রকে 'ছুটি' দিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

 ৭ বছর পর ভারতে শি জিনপিং, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে
গতকাল রাতে সেভাবেই খবর আসে যে পুয়োলগেড়ে গ্রাম থেকে একটি লরিতে ১২টি গরু চাপিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে পাচারকারীরা। খবর পাওয়ার পরই কোতুলপুর থানায় খবরটি জানান বিজেপির মন্ডল সভাপতি কেশবী নাগা। কিন্তু পুলিশ গ্রামে পৌঁছানোর আগেই ১২টি গরু চাপিয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় পাচারকারীরা।


বিষয়টি জানার পর নিজে তৎপর হন মন্ডল সভাপতি তথা প্রাক্তন সেনাকর্মী কেশবী নাগা। দলের কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে বাইকে চড়ে লরিটির সন্ধান শুরু করেন তাঁরা। বেশ কিছুক্ষণ সন্ধান চালানোর পর দেখতে পান বেপরোয়া গতিতে লরিটি ছুটে আসছে। গরু নিয়ে ওই লরিটিকে পালিয়ে যেতে দেখে পুরো ফিল্মি কায়দায় রাস্তায় আড়াআড়িভাবে নিজের বুলেট বাইকটিকে দাঁড় করিয়ে দেন বিজেপির মন্ডল সভাপতি।

বাধ্য হয়ে লরিটিকে থামতে হয়। লরিটি থামতেই অন্ধকারে গা ঢাকা দেয় লরির চালক, খালাসি সহ কয়েকজন। পালানোর সময় বিজেপি নেতা কেশবী নাগা নিজেই দুই পাচারকারীকে জাপটে ধরে ফেলেন। পরে বিজেপির মন্ডল সভাপতি দুই পাচারকারীকে ফের লরিতে চাপিয়ে, গরু সহ লরিটিকে নিজে চালিয়ে হাজির হন কোতুলপুর থানায়।

লরিটিকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই পাচারকারীকেও তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। পরে নাটকীয়ভাবে কোতুলপুর নেতাজী মোড়ে ওই বিজেপির মন্ডল সভাপতির হাতেই ধরা পড়ে লরি থেকে পালিয়ে যাওয়া আরও চার পাচারকারী। তাদেরও তুলে দেওয়া পুলিশের হাতে। পুলিশ ওই লরির চালক, খালাসি ও পাচারকারী মিলিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

কোতুলপুরের বিজেপির মন্ডল সভাপতি কেশবী নাগা বলেন, “চার তারিখ সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে কেউ যেন অবৈধ কোনও কাজ না করেন। আমরাও সেই অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে বলেছি। অনেকদিন ধরেই খবর আসছিল যে রাত ১২টা-১টার সময় গরু পাচার হচ্ছে। আজ যখন খবর এল। আমি ফিরছিলাম, তখন ট্রাকটিকে দেখে পথ আটকে দাড়াই।”

মহম্মদ কারিমুল্লা নামক পাচারকারী জানিয়েছে, এই গরুগুলিকে নিয়ে তারা কলকাতায় যাচ্ছিল।


Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours