প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "ভারতে একটা সময় ছিল, যখন সিরিয়াল বিস্ফোরণ হত। ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সিরিয়াল বিস্ফোরণে বহু নির্দোষের প্রাণ গিয়েছিল। তার কয়েক সপ্তাহ পরই, মুম্বইতে ২৬/১১ হামলা হয়েছিল। আগেও পাকিস্তানের উপরে তদন্তের দাবি করা হত, কিন্তু তা গুরুত্ব দেওয়া হত না।"


ঝড়খালির বাঘ-বিধবাদের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর, কী বললেন তাঁদের সম্পর্কে?

সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আরও একবার ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। ‘মন কি বাত’ (Mann ki Baat) অনুষ্ঠানের ১৩৮ তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী মোদী সার্জিকাল স্ট্রাইক থেকে শুরু করে ৯/১১ মুম্বই হামলার ঘটনা এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের কথা তুলে ধরেন। এরপরই ভারতের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করে দেন। আর কী কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, দেখে নিন একনজরে-


এ দিন শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আজ সার্জিকাল স্ট্রাইকের সাফল্যের কথা বলতে হয়। ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের ২৮-২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা পাকিস্তানে জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিতে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল। নিয়ন্ত্রণ রেখার ওই পারে গিয়ে আমাদের সেনা যে সাহসিকতা, বীরত্ব দেখিয়েছিল, তা দেখে গোটা বিশ্ব অবাক হয়েছিল।”
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থানের এক নতুন উদাহরণ তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গি হামলায় ভারতকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। সার্জিকাল স্ট্রাইক তার জবাব ছিল। বিগত এক দশকে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক থেকে শুরু করে অপারেশন সিঁদুর পর্যন্ত অভিযানে ভারতীয় সেনা বীরত্ব দেখিয়েছে। বারবার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে জঙ্গিরা ভারতের দিকে তাকালে, তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
ভারতে একটা সময় ছিল, যখন সিরিয়াল বিস্ফোরণ হত। ২০০৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সিরিয়াল বিস্ফোরণে বহু নির্দোষের প্রাণ গিয়েছিল। তার কয়েক সপ্তাহ পরই, মুম্বইতে ২৬/১১ হামলা হয়েছিল। আগেও পাকিস্তানের উপরে তদন্তের দাবি করা হত, কিন্তু তা গুরুত্ব দেওয়া হত না। আজকের ভারত সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলে।
আমেরিকায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় মার্কিন নাগরিকদের পর সবথেকে বেশি ভারতীয়দের প্রাণহানি হয়েছিল। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মার্কিন সফরে গিয়ে আমি এই নির্দোষ মানুষদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিলাম।

জনগণনা হচ্ছে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। ইতিমধ্যেই জনগণনার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে, ৩২ কোটি মানুষের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। জনগণনা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নিজেদের তথ্য জানান। নিজেদের মোবাইল থেকেই এই তথ্য আপলোড করতে পারবেন। অনলাইন পোর্টালে গিয়ে তথ্য় আপলোড করুন। এর কোনও কোনও ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে না। জনগণনার কর্মীরা এলে আইডি নম্বর বলুন।
২৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি কারণে বিশেষ। আজ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অশোক সিংঘলজির জন্মবার্ষিকী। উনি রাম জন্মভূমি আন্দোলনকে যে দিশা দিয়েছিলেন, তার জন্যই আজ অযোধ্যায় রাম মন্দির দেখতে পাচ্ছি।
আজ থেকে এক হাজার বছর আগে, ১০২৬ সালে মহম্মদ গজনি প্রথমবার সোমনা মন্দিরে হামলা চালিয়েছিল। যারা সোমনাথ মন্দিরকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, আজ তাদের অস্তিত্বও নেই। এই বছর সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব পালিত হচ্ছে। গুজরাটের মোদেরা মন্দিরও ধ্বংস করা হয়েছিল এক হাজার বছর আগে।
২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। বাপু আমাদের জীবনের নানা মন্ত্র দিয়েছেন। স্বচ্ছতা তার অন্যতম অংশ। মধ্য প্রদেশে কিছু যুবক নদী পরিষ্কার করছে। সকলে সেই উদ্যোগে অংশ নিচ্ছেন। মুম্বইতেও কয়েকশো যুবক-যুবতী প্রতি সপ্তাহে কোনও না কোনও সমুদ্র সৈকত সাফাই অভিযান চালাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও স্থানীয় বাসিন্দা ও যুবকরা পিকনিক স্পট পরিষ্কার করছে। এটাই তো জনগণের অংশীদারিত্ব।
  আমরা যখন পরিবেশকে রক্ষা করি, তখন শুধু গাছ নয়, পুরো ইকোসিস্টেমকে রক্ষা করি। অসমের সোনাই রুপাইতে জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল। তিন বছর আগে তা মুক্ত করা হয়। অদ্ভুতভাবে সেখানে আবার হাতির পাল ফিরে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ঝড়খালির মহিলারা মানগ্রোভ রোপণ ও সংরক্ষণ করে উদাহরণ তৈরি করছে। তারা নতুন করে মানগ্রোভ অরণ্য তৈরি করছেন। এই মহিলাদের মধ্যে অধিকাংশই বাঘ-বিধবা, যাদের স্বামীকে বাঘ টেনে নিয়ে বা খেয়ে নিয়েছে।
দেশে নেশামুক্তি অভিযান চলছে। হাজার হাজার পডুয়া, যুবক অংশগ্রহণ করেছে।
ক্রীড়াজগতে ভারত একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে।

Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours