বিয়ের পর ধর্মান্তরের চাপ ও দীর্ঘদিন অত্যাচারের অভিযোগ, স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মহুয়ার
বসিরহাট: প্রেম করে বিয়ের পর স্বামীর ধর্মপরিচয় গোপন করা এবং পরবর্তীতে জোর করে ধর্মান্তরের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল বসিরহাটে। প্রায় আট বছর ধরে শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মহুয়া সরকার নামে এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম পরিবর্তনে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হত।
ঘটনাটি বসিরহাট পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেওড়া এলাকার বলে জানা গিয়েছে। মহুয়ার দাবি, ২০১২ সালে পরিবারের অমতে পাশের এলাকার বাসিন্দা মুস্তাফিজুর গাজীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের সময় মুস্তাফিজুর নিজেকে ‘বাপ্পা ব্যানার্জি’ নামে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিয়ের প্রায় পাঁচ মাস পর বিভিন্ন নথি দেখে স্বামীর আসল পরিচয় জানতে পারেন তিনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই তাঁর উপর অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ।
মহুয়ার আরও অভিযোগ, তাঁকে বারবার ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হত। রাজি না হওয়ায় মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ির চাপে তাঁকে ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি তাঁর। এমনকি তাঁর নাম বদলে ‘তানিয়া গাজী’ রাখা হয় এবং সমাজমাধ্যমেও ওই নাম ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
২০১৬ সালে তাঁদের এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। মহুয়ার অভিযোগ, এরপরও তাঁর স্বামী একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় ২০২৩ সালে রাতের অন্ধকারে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে কলকাতায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
মহুয়ার দাবি, সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য স্বামীকে ফোন করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর শুক্রবার বসিরহাট থানায় মুস্তাফিজুর গাজীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পাশাপাশি বসিরহাট আদালতেরও দ্বারস্থ হয়েছেন মহুয়া।
মহুয়ার আইনজীবী কালীচরণ মণ্ডলের দাবি, এ ধরনের ঘটনা বর্তমানে সামাজিক ব্যাধির আকার নিচ্ছে। যদিও মহুয়ার স্বামীর বক্তব্য বা পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
মহুয়ার কথায়, “আমি চরম শাস্তি চাই। যে ভাবে অত্যাচার সহ্য করেছি, তা আর কাউকে যেন করতে না হয়।”
অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সৌরভ নস্করের রিপোর্ট কাকদ্বীপ ডট কম


Post A Comment:
0 comments so far,add yours