সুন্দরবনের দুর্গম ও নদীমাতৃক এলাকার মানুষের সুরক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সাংবাদিকতার নানা দিক নিয়ে কাকদ্বীপের বিডিও অফিসে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর কীভাবে আরও দায়িত্বশীল ও গুরুত্ব সহকারে মূলধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরা যায় এবং চরম সংকটের দিনে সাংবাদিকদের ভূমিকা ঠিক কেমন হওয়া উচিত, মূলত সেই রূপরেখা তৈরিতেই এই সভার আয়োজন করা হয়।


এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী তথা কাকদ্বীপের বিধায়ক দীপঙ্কর জানা, ইউনিসেফের প্রতিনিধি সুচরিতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত বসু দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উপদক্ষ অনিমেষ মন্ডল জয়েন বিডিও সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একাধিক নামী সাংবাদিকেরা। সুন্দরবনের অবহেলিত মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের নিত্যদিনের সংগ্রাম এবং প্রশাসনিক ত্রুটি ও বিপদের দিনে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কার্যকর উপায় নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সুন্দরবনের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জলবেষ্টিত অঞ্চলগুলি—যেমন গোসাবা, কুলতলী, গঙ্গাসাগর, পাথরপ্রতিমা, ঘোড়ামারা দ্বীপ এবং মৌসুনি দ্বীপ। প্রতি বছর বর্ষা বা বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই সমস্ত এলাকার মানুষ কীভাবে সর্বস্বান্ত হন এবং চরম বিপদের মুখে পড়েন, তার নিখুঁত ও বস্তুনিষ্ঠ চিত্র তুলে ধরার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কেবল ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান দেওয়াই নয়, বরং দুর্গত মানুষের কণ্ঠস্বর যাতে যথাযথভাবে প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও সংবাদকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও, বৈঠকে সাংবাদিকতার পেশাগত নৈতিকতা, মাঠপর্যায়ে খবর সংগ্রহের সময় নিরাপত্তা এবং শিশুদের সুরক্ষার মতো বিষয়গুলি নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় করেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি ও প্রবীণ সাংবাদিকরা। সুন্দরবনের প্রতিটি দ্বীপের নিজস্ব সমস্যা এবং তার স্থায়ী সমাধানের পথগুলি গণমাধ্যমের মাধ্যমে বারবার তুলে ধরে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এই বৈঠক এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টমহল।
Share To:

kakdwip.com

Post A Comment:

0 comments so far,add yours